Akan
Albanian
Amharic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Indonesian
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
--মিন্সক, বেলারুশ--
কী হয়েছিলো, শুরু থেকে বলো।
আমরা একডা বারে গেসিলাম...
হুন্দর জায়গা। মুই কথা কইতেছিলাম...
এক্ মাইয়া ওয়েটারের লগে। আর ক্যারেন এইডা পসন্দ করে নাইকা।
হোডেলে গেলাম। শ্যাষ ম্যাষ আরো বেশি কাইজা লাইগা গেল।
আর কী?
আমারে হুদু হুদু খোঁচাইতেসিলো। কইতেসিলো, মুই নাকি আসল মরদ হই না।
আসল মরদ না।
- কী? - "হই না" না, "না" হবে।
ও...
তারপর...
এরপর জানি না, ক্যামনে কী হইলো...
কিন্তু আচানক দেহি, আমার হাতে একডা চাক্ক্যু...
আর আমার বাপজান কসাই আসিলো, তাই মুই জানি ক্যামনে চাক্ক্যু চালাইতে হয়।
- হ্যায় জানায়ছিল, ক্যামনে গরু-হাগোল কাডতে হয়। - শিখিয়েছিল।
- কী? - শিখিয়েছিল, কীভাবে পশু কাটতে হয়।
হ, তহনি মুই কইরা হইছিল।
- করে ফেলেছিলাম। - করে ফেলেছিলাম! দিল্লাম ঢুহাইয়া!
বার বার, বার বার, তাক্যাইয়া দেহি, হেই আবারো...
...আর...
...নড়ন-চড়ন করে না।
করতাছিল না।
হায় ঈশ্বর, জানিনা ক্যামনে কী হইলো, কিন্তু পুরাটাই একডা অ্যাকসিডেন্ট আছিলো, কিরা কাটতাছি!
আফনের আমাক সাহায্য করন লাগবে, মিঃ হোমস!
সবাই কয় আফনিই নাকি বেস্ট!
আফনে না থাকলে...
...আমাক ঝুলাইতে দেয়া হইত।
কক্ষণো না, মিঃ বিউইক।
তবে ঝুলিয়ে অবশ্যই দেয়া হবে।
Bangla Subtitel by -- rEzWaNuR rAsHiD --
সাবটাইটেল বাংলা অনুবাদ --"রেজওয়ানুর রশিদ"--
ভেনেডিক ক্যাম্বারব্যাচ মার্টিন ফ্রিমেন
রচনাঃ- মার্ক গ্যাটিস্
সহ-নির্মাণঃ- স্টিভেন মোফাট
স্যার আর্থ্যার কোনাল ডয়েল- এর সৃষ্টির উপর ভিত্তি করে নির্মিত।
"দ্যা গ্রেট গেম"
প্রযেজনাঃ- সিউ ভারচু
পরিচালনাঃ- পল মে'গুইগ্যান
কী পাগলামি শুরু করলে তুমি?!
- বিরক্ত। - কী?!
- বিরক্ত! - না...
বিরক্ত!
কে জানে, অপরাধী সংগঠনগুলোর কী হয়েছে!
- ভালোই হয়েছে, আমি ওদের দলে নই! - তাই দেয়ালের ওপর বদলা তুলছো?
সব দেয়ালেরই দোষ!
ঐ রাশিয়ান কেসের কী খবর?
বেলারুশ? একদম সহজ পারিবারিক খুন! আমার কাজের যোগ্য না।
দুঃখজনক!
কিছু আছে? আমার ক্ষিদে পেয়েছে...
ও, ম......
একটা মাথা!
- একটা কাটা মাথা! - আমার চা হলেই চলবে, ধন্যবাদ।
- না, একটা মাথা আছে ফ্রিজে। - হ্যাঁ!
একটা জঘন্য মাথা!
আর কোথায় রাখবো, বল তো? কিছু মনে করোনি নিশ্চয়ই?
- তো... - বার্ট এর মর্গ থেকে এনেছি।
মৃত্যুর পর লালার জমাট বাঁধার হার মাপছি।
দেখলাম, তুমি ট্যাক্সি ড্রাইভারের কেসটা লিখেছো!
হুম, হ্যাঁ...
"একটি গোলাপি অন্বেষণ"!
বেশ।
এই তো, গোলাপী মহিলা, গোলাপী স্যুটকেইস...
গোলাপী ফোন। গোলাপীর ছড়াছড়ি! পছন্দ হয়েছে?
- উমম, না। - কেন? আমি ভেবেছিলাম, তুমি খুশি হবে।
খুশি?! "শার্লক প্রতিটা ব্যক্তি প্রতিটা জিনিসকে এক সেকেন্ডেই দেখে ফেলে।"
"কিন্ত, অবিশ্বাস্য ব্যপার হচ্ছে সে কতটা বিস্ময়করভাবে অজ্ঞ...
- ...কিছু জিনিস সম্বন্ধে।" - দাঁড়াও, আমি এভাবে ওটা বোঝাতে...
ও, তুমি "বিস্ময়করভাবে অজ্ঞ" খুব সুন্দর অর্থে ব্যবহার করেছো !!
দেখ, এটাতে আমার কিছু আসে যায় না...
- কে প্রধানমন্ত্রী কে অথবা... - হ্যাঁ, আমি জানি।
...কে কার সাথে শুচ্ছে...
- কিংবা পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরে কিনা। - ওহ, আবার! এটা জরুরী না।
জরুরী না...?!
এটা প্রাইমারী স্কুলের পড়া! তুমি কিভাবে এটা জান না!
মনে হয়, কখনো জানলেও, মুছে ফেলেছি।
মুছে ফেলেছো?
শোনো এটা আমার হার্ড ড্রাইভ। আর এখানে,
শুধু সেই তথ্যগুলো রাখা মানায় যা কজে আসে এবং সত্যি সত্যি কাজে আসে।
সাধারণ মানুষ নানা ছাইপাঁশ দিয়ে তাদের ব্রেন ভর্তি করে রাখে।
তার ফলে সংকটকালে আসল প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো আর খুঁজে পাওয়া যায় না, বোঝা গেলো?
কিন্তু এটাতো আমাদের সৌরজগৎ!!
দূর ছাই, তো হয়েছেটা কী?
বুঝলাম, আমরা সূর্যের চারপাশে ঘুরি! যদি চাঁদের চারপাশে ঘুরতাম...
অথবা বাগানের চারপাশে টেডিবিয়ারের মত পাক খেতাম......
তাতে তফাৎটা কী হতো।
আমার কাছে মূল্য আছে, শুধু আমার কাজের! এইটা ছাড়া আমার ব্রেন পচে যায়!
এটা লিখো, তোমার ব্লগের মধ্যে।
আরো ভালো হয়, নিজের চিন্তা অন্য কারো মাথায় না ঢোকালে!
>দরজা খুলল আবার বন্ধ হল
- কোথায় যাচ্ছো তুমি? - বাইরে, একটু বাতাস খাবো।
দুঃখিত, সোনা!
ও! তোমাদের মধ্যে কি দাম্পত্য কলহ হয়েছে?
বাইরে কিন্তু কনকনে ঠাণ্ডা!
ও আরেকটু গরম কাপড় জড়ালে ভালো করত!
দেখুন, মিসেস হাডসন।
নিশ্চুপ!
শান্ত!
শান্তিময়!
কী ঘৃণ্য অবস্থা!
নিশ্চিত, সামনে কিছু একটা ঘটবে, শার্লক!
মনোরম একটা খুন দেখলেই তোমার মেজাজ ঠিক হয়ে যাবে!
উমম, তাড়াতাড়ি আসে না কেন!
হেই, আমার দেয়ালের কী করেছো?
তোমার ভাড়ার সাথে যোগ করবো, খোকা।
>বোমা বিস্ফোরণ
>গাড়ির সাইরেন বাজছে
- মর্নিং - হুম, মর্নিং।
বলেছিলাম না, লাইলোটা নেয়া উচিৎ ছিলো?
না, না, ঠিক আছে। ভালোই ঘুমিয়েছি।
তুমি অনেক লক্ষী!
হয়তো, পরেরবার তোমাকে আমার বিছানার এক কোণায় ঘুমাতে দেবো!
--টিভি সংবাদঃ- "...আবিষ্কৃত হয়েছে, ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায়!"--
আর তার পরেরবার?
--"...১৮ মাস আগে। বিশেষজ্ঞরা এটাকে আভিহিত করেছেন..."--
--"...শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ শিল্পসংক্রাত আবিষ্কার হিসেবে। আর কেউ..."--
- তো, ব্রেকফাস্ট চলবে? - অবশ্যই।
আচ্ছা, তুমি বানাও তাহলে। কারণ, আমি শাওয়ারে যাচ্ছি।
--"... এটার দাম ধরা হচ্ছে £২০ মিলিয়ন পাউন্ড।"--
--"আরো দাম ওঠার সম্ভাবনা আছে। ফিরে যাচ্ছি, মূল খবরে......"--
--"একটা আজ এক বিরাট বিস্ফোরণ হয়েছে, সেন্ট্রাল লন্ডনে।"--
--"এখনো কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি..."--
--"আর পুলিশ বলতে পারছেনা,"--
--"কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন এতে জড়িত আছে কিনা!"--
সারাহ!
--"পুলিশ একটা জরুরী নাম্বার চালু করেছে..."--
- সারাহ! --" ...বন্ধু আর আত্মীয়দের জন্য।"--
দুঃখিত! আমাকে যেতে হচ্ছে!
এক্সকিউজ মি, আমি কি ঢুকতে পারি? এক্সকিউজ মি, আমি কি ঢুকতে পারি?
আমি ওখানে থাকি।
শার্লক!
শার্লক!
জন...
টিভিতে দেখলাম। তুমি ঠিক আছো?
আমি? হুম, ঠিক আছি।
গ্যাস লিক, খুব সম্ভবত!
- আমি পারবোনা। - পারবেনা?
বড় একটা ব্যাপার নিয়ে বেশ ব্যস্ত আছি। আমার সময় হবেনা।
তোমার ঐসব আজেবাজে ব্যাপার বাদ দাও। এটা জাতীয় নিরাপত্তার ব্যাপার।
তোমার ডায়েট কেমন চলছে?
ভালো।
হয়তো, তুমি ওকে বোঝাতে পারবে। তাইনা, জন?
- কী? - আমার ভাইটা একটু...
... একটু বেশিই একরোখা।
এতো দরকার হলে, তুমি নিজে তদন্ত করছোনা কেন?
না, না, না, আমার পক্ষে অফিস ছেড়ে...
...এক মুহূর্ত বাহিরে থাকা সম্ভব না। অন্তত কোরিয়ায় নির্বাচনের সময় নয়...
...যাক, সেটা তোমাদের না জানলেও চলবে, তাই না।
আবার, এ ধরনের কেসে, একটু ঘুরাফেরা করতে হবে।
সারাহ কেমন আছে? লাইলোটা কেমন?
সোফা, শার্লক। ওটা সোফা ছিলো।
- ও, অবশ্যই। - তোমরা কীভাবে...? থাক, বাদ দাও।
যখন থেকে তোমরা "দোস্তি" পাতিয়েছো, তারপর থেকে শার্লকের ব্যবসা দেখছি ফুলে-ফেঁপে উঠেছে।
ওর সাথে থাকতে কেমন লাগে?
- দোজখের মত, নিশ্চয়ই? ওয়াটসনঃ- আমি সহজে বিরক্ত হইনা।
ভালো। বেশ ভালো, তাইনা?
অ্যান্ড্রু ওয়েস্ট, বন্ধুদের কাছে ওয়েস্টি নামে পরিচিত, সরকারী চাকুরিজীবি।
আজ সকালে ওর লাশ পাওয়া গেছে ব্যাটারসী স্ট্রেশনের লাইনে।
মাথা থ্যাঁতলানো অবস্থায়!
ট্রেনের সামনে লাফ দিয়েছিলো?
সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত কারণ মনে হচ্ছে।
- কিন্তু? - কিন্তু?
তুমি এখানে আসতেনা, যদি এটা নিতান্তই একটা দুর্ঘটনা হতো।
হাহ!
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটা নতুন মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম বানাতে কাজ করছে।
"ব্রুস-পার্টিংটন প্রোগ্রাম" নাম দেয়া হয়েছে সেটার।
ওটার প্লান একটা মেমোরী স্টিকে ছিলো।
কোন সচেতনতার কাজ হয়নি।
- এটা একমাত্র কপি না। ওয়াটসনঃ- ও...
কিন্তু জিনিসটা গোপন।
এবং হারিয়ে গেছে।
খুব গোপন?
খুবই। আমাদের ধারণা, ওয়েস্ট নিশ্চয়ই মেমোরি স্টিকটা নিয়ে গিয়েছিলো।
আমাদের পক্ষে ওটা ভুল হাতে পরার ঝুঁকি নেয়া সম্ভব না।
তোমাকে ঐ প্ল্যান উদ্ধার করতে হবে, শার্লক।
- আমাকে আদেশ করতে বাধ্য কোরোনা। - চেষ্টা করো দেখি!
ভেবে দেখো।
- বিদায়, জন। - হুম।
শীঘ্রই দেখা হবে।
তুমি কেন মিথ্যে বললে?
তোমার হাতে তো কিছুই নেই।
একটা কেসও না। এজন্য বেচারা দেয়াল বারোটা বাজল।
কেন তোমার ভাইকে বললে যে, তুমি ব্যস্ত?
কেন বলবোনা?
ও...
ভাল!
ভ্রাতৃযুদ্ধ! এইবার বুঝতে পারলাম!
>মোবাইল ফোন বাজছে
শার্লক হোমস!
অবশ্যই। কীভাবে আমি তা প্রত্যাখ্যান করি?
লেসট্রাড। আমার ডাক পড়েছে।
তুমি আসছো?
- যদি চাও, তাহলে। - অবশ্যই।
আমার ব্লগার ছাড়া তো আমি দিশেহারা।
মজার কেসগুলো তোমার পছন্দ, তাইনা?
- চমকপ্রদগুলো। - নিঃসন্দেহে।
- তোমার এটা ভালো লাগবে। ঐ বিস্ফোরণটা... - গ্যাস লীক, তাইনা?
- না। - না?
- না, ওরকম দেখানো চেষ্টা করা হয়েছে। - কী?
ঐ জায়গাটায় আর কিছুই আস্ত ছিলো না, শুধু একটা শক্ত বাক্স ছাড়া।
খুবই শক্ত একটা বাক্স, আর ভেতরে ছিলো এটা।
- তোমরা এটা খোলোনি? - এটা তোমার নামে এসেছে।
আমরা এক্স-রে করেছি। কোনো ফাঁদ নেই।
আহ, কী স্বস্তিকর!
--শার্লক হোমস--
চমৎকার কাগজ!
বোহেমিয়ান।
কী?
চেক প্রজাতন্ত্রের। কোনো আঙ্গুলের ছাপ নেই?
না।
মেয়েটা ঝর্ণা কলম ব্যবহার করেছে। পার্কার ডুয়োফোল্ড, মেরিডিয়ান নিব।
- মেয়ে? - অবশ্যই।
অবশ্যই।
এটা, সেই ফোন। ঐ গোলাপী ফোন।
কী, "একটি গোলাপি অন্বেষণ" এর?
অবশ্যই ঐ ফোনটা না, তবে এটাকে ওরকম বানানো চেষ্টা করা হয়েছে।
"একটি গোলাপি অন্বেষণ", তুমি ওর ব্লগ পড়ো?
অবশ্যই পড়ি। সবাই পড়ে।
তুমি কি আসলেই জানো না যে, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে?
এটা সেই ফোন না, এটা একদম নতুন।
কেউ একজন অনেক কষ্ট করে, এটাকে ওরকম করে বানিয়েছে।
তার মানে, তোমার ব্লগের পাঠকসংখ্যা বেশ অনেকটাই বিস্তৃত।
>"আপনার একটি মেসেজ আছে।"
>পাঁচটি গ্রিনিচ সংকেত শব্দ
- এটুকুই? - না, এটুকুই না।
এটা দিয়ে কী "হাতির মাথা" বুঝবো আমরা?
একটা বাড়ির দালালের ছবি, আর মরার গ্রিনিচ সংকেত!
- এটা একটা সতর্কবার্তা। - সতর্কবার্তা?
আগে কিছু কিছু গোপন সংগঠন তরমুজের শুকনো বিচি...
...অথবা কমলার বিচি জাতীয় কিছু পাঠাতো--'পাঁচটা সংকেত'।
ওরা সাবধান করছে, ওটা আবার ঘটবে।
- এই জায়গা আমি আগেও দেখেছি। - দাঁড়াও।
- কী হবে আবার? - বুম্ম্ম্!
মিসেস হাডসন?
তুমি তো আগেও দেখেছিলে, শার্লক, যখন তুমি প্রথম এসেছিলে...
- ...এই ফ্ল্যাট দেখার জন্য? - এই দরজাটা আবার খোলা হয়েছে...
- ...ইদানীং। - না, হতেই পারেনা। এটাই একমাত্র চাবি।
কাউকে এই ফ্ল্যাটের ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলতে পারিনি।
স্যাঁতস্যাতে বলেই হয়তো! মনে হয় বেইজমেন্টের অভিশাপ এটাই।
বিয়ের পরে প্রথম প্রথম একটা বাসায় ছিলাম, পুরো দেয়াল জুড়ে কালো শ্যাওলা...
হে, ঈশ্বর...
জুতো।
ও একটা বোমাবাজ, মনে রেখ।
>মোবাইল ফোন বাজছে
--"নাম্বার ব্লক করা"--
হ্যালো...
হ্যালো, সেক্সী!
কে বলছেন?
আমি...তোমাকে একটা...ছোট্টো পাজল পাঠিয়েছি।
শুধু "হাই" বলার জন্য।
কে বলছে? কাঁদছেন কেন?
আমি... কাঁদছিনা।
আমি টাইপ করছি।
আর এই...কুত্তী...
...সেগুলো পড়ছে।
এবার পর্দা উঠেছে।
- কী? - কিছু না।
- না, এটার মানেটা কী? - আমি অনেকদিন ধরে এটার অপেক্ষা করছিলাম।
১২ ঘণ্টা দিলাম, সমাধান করো...
...আমার পাজলটা, শার্লক।
নয়তো, আমি...
...খুব...দুষ্টামি করবো।
- তো, ওটা কে ছিল বলে তোমার মনে হয়? - হুম?
ফোনের মহিলাটা, ঐ ক্রন্দনরত মহিলাটা।
ও জরুরী না, সে খালি একটা জিম্মি। ওদিকে কোন সূত্র নেই।
ঈশ্বরের দোহাই, আমি সূত্রের কথা বলছিনা।
তাহলে তোমাকে দিয়ে ওর কোনো লাভ হবেনা।
ওরা কি ওটার উৎস খুঁজছে? ঐ কলটার উৎস?
লাভ নেই, বোমাবাজ বেশ চালাক। >মোবাইলের বিপ
- আমার ফোনটা দাও। - কোথায় আছে?
জ্যাকেট।
সাবধানে!
তোমার ভাইয়ের টেক্সট।
- মুছে ফেলো। - মুছে ফেলবো?
মিসাইল প্ল্যান এরমধ্যেই দেশের বাইরে চলে গেছে।
শার্লকঃ- ওটা নিয়ে আমাদের কিছুই করার নেই।
বিষয়ঃ- "ব্রুস-পার্টিংটন প্লান" "অ্যান্ড্রু ওয়েস্ট মৃত্যু রহস্য সমাধানে কোন অগ্রগতি?" - মাইক্রফট ---------------------------------------------------------- শার্লকঃ- ওটা নিয়ে আমাদের কিছুই করার নেই।
বিষয়ঃ- "ব্রুস-পার্টিংটন প্লান" "অ্যান্ড্রু ওয়েস্ট মৃত্যু রহস্য সমাধানে কোন অগ্রগতি?" - মাইক্রফট ---------------------------------------------------------- ওয়াটসনঃ- মাইক্রফট মনে করে করার আছে, ও ৮টা মেসেজ দিয়েছে।
জরুরী হবে নিশ্চয়ই।
তাহলে নিজের দাঁতের ডাক্তারের আপ্যন্টমেন্ট বাতিল করল না কেন?
ওর কী?
মাইক্রফট কখনও মেসেজ দেয় না, কথা বলতে পারলে।
দেখ, এন্ড্রু ওয়েস্ট প্ল্যান চুরি করেছে, কারো কাছে বিক্রি করতে চেষ্টা করেছে।
ওরা ওর মাথা ট্রেনের তলে দিয়েছে, কাহিনী খতম।
রহস্য শুধু একটাই...
...কেন আমার ভাই আমাকে বিরক্ত করতে এতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ,
যখন অন্য আরেক জন এতো দারুণভাবে আগ্রহী?
মনে রেখো, একজন মহিলা কিন্তু মারা যেতে পারে।
কেন? হাসপাতালগুলো মৃত্যুপথযাত্রী মুমূর্ষু মানুষে ভর্তি, ডাক্তার সাহেব!
ওদের বিছানার পাশে গিয়ে কাঁদ আর দেখ, এতে কোনো লাভ হয় কিনা!
আহ!
- কিছু পেলে? - ওহ, হ্যাঁ!
- দুঃখিত, আমি... - জিম, হাই! এসো, এসো।
- জিম, ও শার্লক হোমস। - ও...
- আর...উম...দুঃখিত! - জন ওয়াটসন, হাই।
হাই, তো আপনি শার্লক হোমস।
মলি আপনার ব্যাপারে সব বলেছে। কোনো কেস নিয়ে আছেন?
জিম আইটিতে কাজ করে, ওপরতলায়।
এভাবেই আমাদের দেখা, অফিস রোমান্স।
"গে"
- দুঃখিত, কী? - কিছু না, হেই...
হাই।
দুঃখিত, দুঃখিত!
যাই হোক, আমার চলে যাওয়া উচিৎ...
তোমার সাথে "ফক্স"-এ দেখা হবে।
- ছয়টার দিকে? - আচ্ছা।
- বিদায়।
দেখা হয়ে ভাল লাগলো।
তোমার সাথেও।
>দরজা খুলল
"গে" মানে কী বলতে চাচ্ছ? আমরা প্রেম করছি।
আর সাংসারিক সুখ তোমাকে মানিয়েছে, মলি।
তিন পাউন্ড ওজন বেড়েছে তোমার, শেষবার দেখা হবার পর।
- আড়াই। - না, তিন।
- শার্লক। - ও "গে" না।
- কেন তুমি সবকিছু এভাবে নষ্ট......? ও না...। - ঐভাবে সাজসজ্জা করার পরেও?
কারণ, ও চুলে কিছু একটা লাগায়? আমিও তো লাগাই।
তুমি চুল পরিষ্কার করো। তোমাদের মধ্যে পার্থক্য আছে।
না, না চোখের পাতায় কাজল, বলিরেখায় স্পষ্ট টাওরীন ক্রিমের ছাপ।
ক্লান্ত চোখ, ক্লাবে ঘোরা।
- আর ওর আন্ডারওয়্যার! - ওর আন্ডারওয়্যার?
কোমরের ওপরে পরা, বেশ স্পষ্ট! একটা বিশেষ ব্র্যান্ডের।
আর অতীব ইঙ্গিতপূর্ণ বিষয়টা হচ্ছে, সে তার নাম্বার রেখে গেছে এই ডিশের নিচে।
আমার মতামত- তোমার এখনি ভেঙ্গে ফেলা উচিৎ, নিজেকে কষ্টের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য।
>দরজা খুলল মনোমুগ্ধকর, বেশ করেছো।
ওরই তো সময় বাঁচালাম। এটাই কি প্রীতিকর না?
প্রীতিকর? না, শার্লক। ওটাতে প্রীতির লেশ মাত্র ছিলোনা।
করো, তাহলে...
হুম?
তুমি জানো, আমি কী করি। শুরু করো।
- জ্বি না... - করো।
এখানে দাঁড়িয়ে থেকে তোমার অপমান হজম করব না...
- যখন আমি এটা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা... - আরেকটা ভিন্ন নজর, দ্বিতীয় মত...
- ...আমার খুব কাজে লাগে। - ও, তাই।
আসলেই!
আচ্ছা!
জাস্ট এক জোড়া জুতো! ট্রেইনার!
বেশ।
উমম...
বেশ ভালো অবস্থায় আছে। আমি নতুনই বলবো।
শুধু সোল অনেকটা ক্ষয়ে গেছে, অর্থাৎ, মালিকের কাছে অনেকদিন ধরে ছিলো।
আশির দশকের মত, সম্ভবত রেট্রো ডিজাইনের মত।
ফর্মের তুঙ্গে আছো। আর?
বেশ বড়, একটা পুরুষের।
কিন্তু...
কিন্তু একটা নামের আভাস দেখা যাচ্ছে, ভেতরের দিকে।
যেহেতু বয়স্করা নিজেদের নাম জুতোতে লেখেনা, তো এটা একটা ছেলের।
অসাধারণ, আর কী?
উমম...
- এই তো। - এটুকুই?
- আমি কেমন করলাম? - ভালো, জন।
আসলেই ভালো।
মানে, গুরুত্বপূর্ণ সবই বাদ দিয়ে গেছো। তবুও......
মালিক এটা ভালোবাসতো, ঘষে পরিষ্কার করতো।
সাদা করেছে, যেখানে রঙ উঠে গিয়েছিলো। ফিতে চেঞ্জ করেছে তিন...
না, চারবার। তারপরেও, এখানে আলগা চামড়া লেগে আছে...
যেখানে ওর আঙুল এর সাথে লেগেছিলো, অর্থাৎ, ওর চর্মরোগ ছিলো।
জুতোটা ভালোই ক্ষয়ে গেছে, ভেতরের দিকে একটু বেশিই...
অর্থাৎ, মালিকের পায়ে সমস্যা ছিলো।
বৃটেনে তৈরি, ২০ বছর পুরনো।
- ২০ বছর? - এগুলো রেট্রো না, এগুলো অরিজিনাল।
সীমিত সংস্করণ, ২টা নীল ডোরাকাটা, ১৯৮৯।
এখনো কাদা লাগানো, দেখতে নতুনই লাগছে।
কেউ এটাকে এভাবে রেখেছে।
বেশ একটু কাদা লাগানো রয়েছে সোলের মধ্যে।
বিশ্লেষণ বলছে, এটা সাসেক্সের। ওপরে লন্ডনের একটা স্তর আছে।
কীভাবে জানলে তুমি?
পরাগরেণু, আমার কাছে মানচিত্রের মত পরিষ্কার। নদীর দক্ষিণ দিকে।
তো, এই ট্রেইনারের মালিক ছেলেটা, ২০ বছর আগে সাসেক্স থেকে লন্ডনে এসেছিলো।
- আর এটা রেখে গিয়েছিলো। - কী হয়েছিলো ওর?
খারাপ কিছু।
ও জুতোগুলো ভালোবাসতো, মনে আছে? ময়লা রাখতোনা কখনো।
ও নিরুপায় না হলে এগুলো ফেলে যেতোনা।
তো, একটা বড় পাওয়ালা ছেলে...
ও!
কী?
কার্ল পাওয়ার্স!
- দুঃখিত, কে? - কার্ল পাওয়ার্স, জন।
কী হলো?
ওটা দিয়েই আমি শুরু করেছিলাম।
১৯৮৯, বাচ্চা ছেলে, চ্যাম্পিয়ন সাঁতারু...
ব্রাইটন থেকে, স্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় এসে, পুলে ডুবে মারা গিয়েছিলো।
দুঃখজনক দুর্ঘটনা। তোমার মনে থাকার কথা না।
- কেন মনে রাখবে? - কিন্তু তুমি তো রেখেছো।
- হ্যাঁ - এটাতে কোনো ঘাপলা ছিলো?
কারো মনে হয়নি।
শুধু, আমি ছাড়া।
আমি নিজেও ছোট ছিলাম, পত্রিকায় পড়েছিলাম।
- তুমি কমবয়সেই শুরু করেছিলে, তাইনা? - কার্ল পাওয়ার্স, ছেলেটা...
পানির মধ্যে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলো।
কিন্তু বের করে আনতে আনতে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিলো।
একটা জিনিস মিলছিলো না, আর আমি সেটা মন থেকে বের করতে পারছিলাম না।
- কী? - ওর জুতো।
- ওগুলোর সম্বন্ধে কী? - ওগুলো সেখানে ছিলোনা। আমি হইচই করলাম।
আমি পুলিশকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম।
কিন্তু কেউই এটাকে জরুরী মনে করলোনা।
ওর বাকি সব জামা লকারে ছিলো,
কিন্তু জুতোর কোনো চিহ্ন ছিলোনা।
...আজকের আগে।
>৬ ঘণ্টা বাকি
আমি সাহায্য করতে পারি?
আমি সাহায্য করতে চাই।
মাত্র ৫ ঘণ্টা বাকি আছে। >মোবাইল বাজছে
"কোন অগ্রগতি" -মাইক্রফট ------------------------ ওয়াটসনঃ- এটা তোমার ভাই।
"কোন অগ্রগতি" -মাইক্রফট ------------------------ ওয়াটসনঃ- ও এখন আমাকে মেসেজ পাঠিয়েছে।
"কোন অগ্রগতি" -মাইক্রফট
- ও আমার নাম্বার জানল কীভাবে? - নিশ্চয়ই রুট ক্যানেল করেছে।
- দেখ, ও কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলেছে। - হুম!
- কী মনোরম! - কোনটা?
তুমি, দেশ আর রাণী।
- তুমি এটাকে অবহেলা করতে পারোনা। - আমি অবহেলা করছিনা।
আমি আমার সবচাইতে যোগ্য লোককে পাঠাচ্ছি।
বাহ, বেশ!
কে সে?
জন, চমৎকার! জানতাম, বেশি দেরি হবেনা আসতে। বলো, কী করতে পারি।
ধন্যবাদ।
আমি চাচ্ছিলাম...
তোমার ভাই পাঠিয়েছে, আরো তথ্য যোগাড় করতে...
...ঐ চুরি যাওয়া প্ল্যানের ব্যাপারে। মিসাইলের প্ল্যান...
- সে পাঠিয়েছে? - হ্যাঁ।
ও এখন তদন্ত করছে।
ও, বেশ তদন্ত করছে।
আমি জানতে চাচ্ছিলাম, মৃত ব্যক্তির ব্যাপারে আর কী জানো তুমি!
বয়স-২৭, ভক্সহল ক্রসের ক্লার্ক।
এম.আই ৬।
সে ব্রুস-পার্টিংটন প্ল্যানে খুব নিম্ন পর্যায়ে জড়িত ছিলো।
নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, সন্ত্রাসের সাথে কোন সংযোগ বা তার প্রতি কোন আগ্রহ নেই।
শেষবার ওকে দেখেছে ওর বাগদত্তা, গতকাল রাত ১০:৩০ এ।
লুসি সোনা, আমাকে একটু বেরুতে হবে।
একজনের সাথে দেখা করতে হবে।
ওয়েস্টি!
ওকে ব্যাটারসীতে পাওয়া গেছে। তার মানে, সে ট্রেনে উঠেছিলো?
- না। - কী?
ওর কাছে একটা অয়স্টার কার্ড ছিলো...
- ... কিন্তু ওটা ব্যবহার করেনি। - টিকেট কিনেছিল নিশ্চয়ই!
- ওর কাছে কোনো টিকেট পাওয়া যায়নি। - তাহলে...
তাহলে কীভাবে ব্যাটারসী এর লাইনে ওর মাথা থেঁতলে গেলো?
সেটাই প্রশ্ন...
আমি আশা করেছিলাম, শার্লক এটার উত্তর বের করবে।
ওর তদন্ত কেমন এগোচ্ছে?
ও ঠিক আছে।
আর এগোচ্ছে ভালোই।
সে... সে এটাতে পরিপূর্ণভাবে মনোনিবেশ করেছে।
>৩ ঘণ্টা বাকি
- বিষ! - তুমি কী সব বকবক করছো?
"ক্লসট্রিডিয়াম বটুলাইনাম"
পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাণঘাতী বিষগুলোর একটা।
কার্ল পাওয়ার্স।
তুমি বলতে চাচ্ছো যে, সে খুন হয়েছিল?
- জুতোর ফিতের কথা মনে আছে? - হুম
ঐ ছেলেটার চর্মরোগ ছিলো। অতি সহজেই যে কেউ...
...ওর ওষুধে বিষ মিশিয়ে দিতে পারত।
দুই ঘণ্টা পর সে লন্ডনে এলো...
বিষ কাজ শুরু করলো, ওর পেশী অকেজো করে দিলো, সে ডুবে মারা গেলো।
ওটা ময়না তদন্তে ধরা পড়লোনা কেন?
এটা চিহ্নিত করা প্রায় অসম্ভব। সম্ভবত কেউ এটা খোঁজেও নি।
--সিদ্ধান্তঃ- ট্রেইলার জোড়ার মালিক কার্ল পাওয়ার্স (১৯৭৮-১৯৮৯)--
--সিদ্ধান্তঃ- ট্রেইলার জোড়ার মালিক কার্ল পাওয়ার্স (১৯৭৮-১৯৮৯)-- ---------------------------------------------------------------------- শার্লকঃ- জুতোর সেই জায়গায় ঐ বিষের অল্প একটু অবশেষ আছে এখনো...
শার্লকঃ- জুতোর সেই জায়গায় ঐ বিষের অল্প একটু অবশেষ আছে এখনো...
--সিদ্ধান্তঃ- ট্রেইলার জোড়ার মালিক কার্ল পাওয়ার্স (১৯৭৮-১৯৮৯)-- বটুলাইনাম বিষ এখনো বিদ্যমান। ২২ ১বি বেকার স্ট্রিট। ---------------------------------------------------------------------- শার্লকঃ- ...পায়ের যেখানে সে ক্রীমটা লাগিয়েছিলো।
- এজন্যই এগুলো সরিয়ে ফেলা জরুরী ছিল। - তো, এখন আমরা বোমাবাজকে জানাবো কীভাবে?
ওর নজরে আসতে হবে, ঘড়ি থামাতে হবে।
খুনী এই জুতোগুলো রেখে দিয়েছে এতোগুলো বছর!
হ্যাঁ।
- অর্থাৎ... - সে আমাদের বোমাবাজ।
>মোবাইল ফোন বাজছে
ভালোই দেখিয়েছো।
এসে আমাকে নিয়ে যাও।
কোথায় আপনি?
বলুন, আপনি কোথায়।
>সাইরেন বাজছে
উনি কর্নওয়ালে থাকেন।
দুজন লোক মুখোশ পরে এসেছিলো...
তাকে বাধ্য করেছিলো, কার পার্কে ড্রাইভ করে যেতে...
আর ওনার গায়ে এতো বিস্ফোরক জড়িয়ে দিয়েছিলো যে তা দিয়ে গোটা একটা বাসা ধসিয়ে দেয়া যায়।
বলেছিলো, তোমাকে ফোন করতে।
আর এই পেজার থেকে দেখে দেখে পড়তে বলেছিলো।
একটা শব্দ ভুল বললেই, স্নাইপার ওকে উড়িয়ে দিতো।
- অথবা তুমি যদি কেসটা সমাধান না করতে। - বাহ, অতুলনীয়।
অতুলনীয়?
কারণটা কী? কেন কেউ এমন করবে?
আমিই পৃথিবীর একমাত্র ব্যক্তি নই, যে বিরক্ত হয়।
>মোবাইল ফোনের বিপ
--একটা নতুন মেসেজ আছে।--
>চারটা গ্রিনিচ সংকেত শব্দ
চারটা সংকেত।
প্রথম পরীক্ষায় পাস মনে হচ্ছে।
এটা দ্বিতীয়টা।
এটা পরিত্যক্ত, তাইনা?
দেখি, চুরির রিপোর্ট আছে কিনা।
এই যে পাগল, তোমার জন্য...
হ্যালো...
পুলিশের কাছে গেছো, অসুবিধে নেই।
কে বলছে?
ও তুমি আবারো?
কিন্তু ওদের ওপর ভরসা কোরোনা।
বেশ চালাক তুমি...
ধরে ফেলেছো কার্ল পাওয়ার্স এর ব্যাপারটা।
ওকে আমি কখনোই পছন্দ করতাম না।
কার্ল আমাকে উপহাস করতো...
তাই, ওর হাসি বন্ধ করে দিলাম।
তুমি আরেকটা কণ্ঠ চুরি করেছো, মনে হচ্ছে।
এটা তোমার আর আমার ব্যাপার।
কে তুমি? শব্দটা কীসের?
এটা জীবনের স্পন্দন, শার্লক।
চিন্তা কোরোনা, জলদিই থামিয়ে দেবো।
আগের পাজলটা নয় ঘণ্টায় সমাধান করেছো।
এবার সময় পাবে, ৮ ঘণ্টা।
খুব ভাল!
পেয়ে গেছি।
কাল সকালে ইয়ান মংকফোর্ড নামের এক ব্যাংকার গাড়িটা ভাড়া করেছিলো।
শহরের তরুণ, নগদ টাকা দিয়েছে।
স্ত্রীকে বলেছিলো, সে ব্যবসার কাজে বাহিরে যাচ্ছে, আর ফিরে আসেনি।
- এখনো ওর সাথে ঘুরছো? - হ্যাঁ, আসলে...
- বিপরীতের প্রতি আকর্ষণ, তাই না? - আমরা আসলে...
ডনোভানঃ- তোমার একটা শখ খুঁজে নেওয়া উচিৎ। এই যেমন, ডাকটিকিট সংগ্রহ, মডেল ট্রেন বা নিরাপদ কিছু।
জিজ্ঞেসা করার আগেই বলি, রক্ত মংকফোর্ডের। ডিএনএ মিলে গেছে।
- কোন লাশ নেই? - এখনো না।
আমার ল্যাবে নমুনা পাঠাও।
ওহ্!
মিসেস মংকফোর্ড...
হ্যাঁ, দুঃখিত, কিন্তু আমি ইতোমধ্যে, দুজন পুলিশের সাথে কথা বলেছি।
আমরা পুলিশ নই, আমরা...
শার্লক হোমস, আপনার স্বামীর, অনেক পুরনো বন্ধু।
আমরা...
আমরা একসাথে বড় হয়েছি।
দুঃখিত, কে?
কখনো আপনার নাম নিয়েছে বলেতো মনে পড়ছেনা।
ও নিয়েছে নিশ্চয়ই। ঘটনাটা...
ঘটনাটা ভয়ংকর। আমি বিশ্বাসই করতে পারছিনা।
আমি তো সেদিনই দেখলাম ওকে।
সেই পুরনো ইয়ান, জগতের সকল চিন্তা-ভাবনা থেকে মুক্ত...
দুঃখিত, আমার স্বামী অনেকদিন ধরেই দুশ্চিন্তায় ছিলো। কে আপনি?
কী আশ্চর্য! ও কেন গাড়ি ভাড়া করলো?
কেন করলো এমন সে? সন্দেহজনক, তাইনা?
না তো, সে কেবল গাড়ির ট্যাক্স দিতে ভুলে গিয়েছিলো, এটাই কারণ।
ও হ্যাঁ, ইয়ান এমনই ছিল।
- ইয়ান একদম এরকমই ছিল। - না, কখনোই ছিল না।
তাই ছিল না? ইন্টেরেস্টিং!
- কে ছিলো সে? - ওনাকে মিথ্যে কেন বললে?
মানুষ কিছু জানাতে না চাইলেও, সে তোমার বিরুদ্ধতা করতে ভালোবাসে।
অতীত কাল, খেয়াল করেছো?
- দুঃখিত, কী? - আমি ওর স্বামীর কথা...
...অতীতকালে বললাম। সেও সাড়া দিলো, কাঁচা কাজ।
- শুধু তো গাড়ি পাওয়া গেছে। - বলতে চাও, সে তার স্বামীকে খুন করেছে।
কখনো না। কোন খুনী এ ধরনের ভুল করবেনা।
- বুঝলাম। না, বুঝিনি। কী বোঝার কথা? ডনোভানঃ- মাছ ধরা।
ডনোভানঃ- মাছ ধরা শখ হিসেবে নিতে পার। - এখন কোথায়?
"জ্যানাস কারস"
এইমাত্র এটা পেলাম, গ্লাভস কম্পার্টমেন্টে।
--৬ ঘন্টা বাকি--
বুঝতে পারছিনা, আমি কীভাবে আপনাদের সাহায্য করবো।
মিঃ মংকফোর্ড গতকাল আপনার এখান থেকে গাড়িটা ভাড়া করেছিলেন।
হ্যাঁ, চমৎকার গাড়ি, মাজদা আরএক্স ৮... আমারো একটা হলে মন্দ হতোনা।
ওটা নাকি?
না, এগুলো সব জাগুয়ার।
বোঝা যাচ্ছে, গাড়ি সম্বন্ধে আপনার ধারণা কম।
কিন্তু নিঃসন্দেহে আপনার সামর্থ্য আছে, মাজদা কেনার।
কথা সত্য, বোঝেনই তো...
জিনিসটা মিষ্টি দোকানে কাজ করার মত।
একবার স্বাদ নিতে আরম্ভ করলে থামবেন কোথায়, হুম?
- আপনি মিঃ মংকফোর্ডকে চিনতেন না? - না, তিনি শুধু একজন কাস্টোমার ছিলেন।
এখান থেকে একটা গাড়ী ভাড়া করেছিলেন, ব্যস।
তার সাথে কী হয়েছে সে সম্বন্ধে আমার কোন ধারণা নেই। বেচারা!
- কেমন ছুটি কাটালেন, মিঃ ইউয়ার্ট? - অ্যাঁ?
- দেশের বাইরে গিয়েছিলেন তাই না? - না! এগুলো কৃত্রিম সানবেড থেকে হয়েছে।
খুবই ব্যস্ত থাকতে হয়। আমার স্ত্রী অবশ্য রোদ পোহাতে ভালবাসে।
একটু ভাংতি হবে সিগারেট মেশিনের জন্য?
কী?
আসার পথে একটা সিগারেটের মেশিন দেখলাম। কিন্তু আমার কাছে ভাংতি নাই। এখনি না টানলেই নয়।
উম... ওহ!
দুঃখিত, নেই।
ঠিক আছে। সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ, মিঃ ইউয়ার্ট।
অনেক উপকার করলেন। চলো, জন।
আমার কাছে ভাংতি আছে... যদি এখন তোমার দরকার থাকে।
নিকোটিন প্যাচ বেঁধেছি। ভুলে গেছো? আমার লাগবে না।
- তাহলে অমন কেন করলে? - ওর মানিব্যাগের ভেতরটা দেখা দরকার ছিলো।
- কেন? - মিঃ ইউয়ার্ট একটা মিথ্যাবাদী।
>মোবাইল ফোন বাজছে
হ্যালো...
নামের ভেতরেই ইঙ্গিত দেওয়া আছে। "জ্যানাস কারস"
তুমি কেন আমাকে সুত্র দিচ্ছো?
কেন কেউ কোনো কিছু করে?
কারণ, আমি বিরক্ত!
আমরা জনম জনমের সাথী, শার্লক।
- তাহলে নিজে কেন কথা বলছ না? - ধৈর্য ধরো।
--৩ ঘণ্টা বাকি--
ড্রাইভিং সীটে কতোটুকু রক্ত ছিলো বলে তোমার মনে হয়?
কতোটুকু? প্রায়... এক পাইন্ট।
প্রায় নয়, পাক্কা এক পাইন্ট। আর এটাই ওদের প্রথম ভুল।
এটা অবশ্যই ইয়ান মংকফোর্ডেরই রক্ত। তবে হিমায়িত করা।
- হিমায়িত করা? - লক্ষণ দেখলেই বোঝা যায়।
সম্ভবত ইয়ান মংকফোর্ড কিছুদিন আগে এক পাইন্ট রক্ত দিয়েছিলো।
- আর ওরা সেটাই সীটের মধ্যে ছড়িয়েছে। - কারা ছড়িয়েছে?
জ্যানাস কারস। নামের মধ্যেই ইঙ্গিত দেওয়া।
- দুই মুখওয়ালা দেবতা? - একদম ঠিক।
ওরা একটা বিশেষ সেবা দেয়।
তোমার যেই সমস্যায়ই থাকুক না কেন, টাকা-পয়সার ঝামেলা,
বৈবাহিক সমস্যা... জ্যানাস কারস তোমাকে অদৃশ্য হতে সহায্য করবে।
ইয়ান মংকফোর্ডও কোনো ঝামেলায় ভুগছিলো...
হয়তো অর্থ সংক্রান্ত, কারণ সে ব্যাংকার। কোনো কূল-কিনারা করতে পারছিলো না।
কিন্তু সে যদি হারিয়ে যায়। যে গাড়ী সে ভাড়া করেছিলো...
...সেটা যদি ওর রক্তে মাখামাখি অবস্থায় পাওয়া যায়...
- তাহলে সে কোথায়? - কলাম্বিয়ায়।
- কলাম্বিয়ায়! - জ্যানাস কারসের মিঃ ইউয়ার্টের...
... মানিব্যাগে ২০,০০০ কলাম্বিয়ান পেসো দেখেছি।
কিছু ভাংতিও ছিলো।
সে বলেছিলো, দেশের বাহিরে কোথাও ঘুরতে যায় নি।
কিন্তু গাড়ীর কথা জিজ্ঞেস করার সময়, আমি ওর রোদে পোড়া চামড়া স্পষ্ট দেখেছি।
সানবেডে কেউ শার্ট পড়ে থাকে না।
- সাথে ওর বাহু। - ওর বাহু?
বারবার সে বাহু চুলকাচ্ছিলো। জায়গাটা ওকে ভোগাছিল, সেখান থেকে রক্তও পড়ছিলো।
কারণ, সে সম্প্রতি বুস্টার নিয়েছে।
যদূর মনে হয় হেপাটাইটিস-বি, এতদূর থেকে বোঝা মুশকিল।
উপসংহার, সে ইয়ান মংকফোর্ডকে কলম্বিয়ায়,
নতুন পরিচয়ে স্থায়ীভাবে থাকার বন্দোবস্ত করে এসেছে।
মিসেস মংকফোর্ড লাইফ ইনস্যুরেন্সের টাকা তুলবে, ভাগাভাগি করবে জ্যানাস কারস এর সাথে।
- মিসেস মংকফোর্ড? - ও হ্যাঁ, সেও জড়িত।
যান এখন ইন্সপেক্টর, ওদের গ্রেফতার করুন। এই কাজটাই তো আপনি সবচেয়ে ভালো পারেন।
আমরা বোমাবাজ বন্ধুকে জানাই, কেস সমাধান হয়ে গেছে।
আমি পুরাই জোসে আছি।
--ইয়ান মংকফোর্ডকে কলম্বিয়ায় তার নতুন আবাসস্থলে শুভকামনা--
>মোবাইল বাজছে
ও বলেছে...
এখন তুমি আমাকে উদ্ধার করতে পারো।
প্লিজ!
একটু সাহায্য করো!
ঠিক আছো?
সত্যি বলতে, এইসব শুরু হওয়ার পর থেকে শান্তিমত দম ফেলতে পারিনি।
- তোমার কি মনে হয়েছে...? - সম্ভবত।
না... তোমার কি মনে হয়েছে, বোমাবাজ তোমাকে নিয়ে খেলছে?
ঐ খাম কিংবা অন্য ফ্ল্যাটে গোপনে অনুপ্রবেশ করে...
মৃত ছেলেটার জুতো, সব তোমাকে উদ্দেশ্য করে।
হুম, আমি জানি...
এটাই তাহলে সে, ঐ মরিয়ার্টি?
সম্ভবত...
>মোবাইল বিপ
>তিনটা সংকেত শব্দ
- এটা তো যে কেউ হতে পারে। - হ্যাঁ, তা পারে।
তবে তুমি ভাগ্যবান যে আমি ভালোই বেকার ছিলাম।
- কী বলতে চাও? - তোমার ভাগ্য ভালো যে...
মিসেস হাডসন এবং আমি ভালই টেলিভিশন দেখি।
"... ধন্যবাদ, টায়রা। ওকে দেখতে চমৎকার দেখাচ্ছে, তাইনা, সবাই বলতো?"
>মোবাইল বাজছে
"যাই হোক..."
"রুপালী পার্সের কথায়..."
- হ্যালো? - এটা...
সামান্য...
...খুঁতযুক্ত!
দুঃখিত...
মহিলাটা অন্ধ...
এটা...
...বেশ মজার!
এবার তোমাকে দেবো...
...বারো ঘণ্টা।
এসব করার মানে কী?
আমি চাই...
...তোমাকে...
...নাচতে দেখতে।
"...তুমি দেখি আবার তোমার বাজে অভ্যাসে ফিরে গিয়েছো।"
টিভি রিপোর্টারঃ-"...আবারো আসি জনপ্রিয় টিভি ব্যক্তিত্ব..."
"...কনি প্রিন্সের আকস্মিক মৃত্যুর খবরে।"
"মিস প্রিন্স, যিনি তার রূপচর্চার অনুষ্ঠান দিয়ে বিখ্যাত হয়েছিলেন, তাকে দুইদিন আগে..."
"তাঁর ভাই মৃত অবস্থায় আবিষ্কার করেন। তারা দু'জন একসাথে থাকতেন হ্যাম..."
কনি প্রিন্স, ৫৪, রূপচর্চা বিষয়ক অনুষ্ঠান করতেন টিভিতে।
- দেখেছো এই অনুষ্ঠান? - না।
- খুবই জনপ্রিয়। বিখ্যাত হচ্ছিলেন। - আর নয়।
দুইদিন আগে মারা গেছেন।
রাউল দি স্যান্তোস নামের তার এক কর্মচারীর মতে...
বাগানে মরিচা পড়া পেরেকে লেগে ওর হাত কেটে গিয়েছিলো।
বিচ্ছিরি ক্ষত। ধনুষ্টংকারের জীবাণু ঢুকলো রক্তে...
..."শুভ বিদায়" পৃথিবী!
তাই তো মনে হচ্ছে।
কিছু একটা গড়বড় আছে এই কাহিনীতে।
মানে?
দেখে যত সহজ মনে হচ্ছে এতো সোজা না ঘটনাটা!
নইলে বোমাবাজ আমাদেরকে এটা করতে দিতোনা।
কিছু একটা সমস্যা আছে।
- জন! - হুম?
হাতের ক্ষতটা বেশ গভীর। অনেক রক্তপাত হওয়ার কথা, তাই না?
- হ্যাঁ। - কিন্তু ক্ষতটা পরিষ্কার।
একটু বেশীই পরিষ্কার আর টাটকা।
কতদিন লাগতো ব্যাকটেরিয়া ওনার শরীরে আক্রমণ করতে?
আট থেকে দশ দিন!
ক্ষতটা পরে তৈরী করা হয়েছে।
- ওনার মৃত্যুর পর? - নিঃসন্দেহে।
প্রশ্ন হলো, কীভাবে ধনুষ্টংকারের জীবাণু এই মহিলার শরীরে ঢুকলো?
- তুমি সাহায্য করতে চাও, তাই না? - অবশ্যই!
কনি প্রিন্সের অতীত, পারিবারিক ইতিহাস, সবকিছু যোগাড় করো, আমাকে তথ্য দাও।
করছি...
কিছু একটা আছে যেটা আমাদের চোখে পড়ছে না।
- তাই নাকি? - হ্যাঁ। কেন সে এমন করছে, ঐ বোমাবাজ?
মহিলার মৃত্যুটা সন্দেহজনক হলে, কেন সে এটা সামনে আনছে?
- মহৎ ত্রাণকর্তা। - যে আত্মঘাতী বোমাবাজি করতে বাধ্য করে?
- নিষ্ঠুর ত্রাণকর্তা। - আমি...আমি সিরিয়াস, শার্লক।
দেখ, আমি তোমাকে সব ছাড় দিয়েছি। তোমাকে বিশ্বাস করছি...
কিন্তু কোথাও কোনো হতভাগার গলায় বিস্ফোরক ঝুলানো আছে...
আর সে অপেক্ষা করছে তোমার পাজল সমাধানের জন্য। তো, বলো...
আমরা কী নিয়ে খেলছি?
একেবারে নতুন কিছু!
--৮ ঘণ্টা বাকি--
যোগসূত্র...যোগসূত্র...যোগসূত্র... এগুলোর মধ্যে একটা যোগসূত্র থাকার কথা।
কার্ল পাওয়ারস, খুন হয়েছিলো ২০ বছর আগে।
বোমাবাজ স্বীকার করেছে যে সে তাকে চিনতো।
বোমাবাজের আইফোন চেক প্রজাতন্ত্র থেকে নেয়া খামের ভিতর ছিল...
প্রথম জিম্মি ছিল কর্নওয়ালের, পরেরজন লন্ডনের,
আর তৃতীয়জন ইয়র্কশায়ারের। অন্তত উচ্চারণ শুনে তাই মনে হয়।
ব্যাটা করছে কী সারা পৃথিবী জুড়ে ঘুরে বেড়াছে? নিজেকে জাহির করছে?
>মোবাইল ফোন বাজছে
--নাম্বার ব্লক করা--
তোমার মজা লাগছে, তাই না?
সূতোগুলো জোড়া দিতে?
আর তিন ঘণ্টা বাকী।
তারপরই বুম... বুম!
আমরা সর্বস্বান্ত। আর আশা নেই।
আপনার কিছু লাগবে স্যার?
উমম... না, ধন্যবাদ।
রাউলই আমার ভরসা। জানিনা, ও না থাকলে সামলাতে পারতাম কিনা।
তেমন একটা কথা হতোনা, কিন্তু বোনটা খুব প্রিয় ছিলো আমার।
জনগণের কাছেও, মিঃ প্রিন্স।
হ্যাঁ, সবাই ওকে ভালোবাসতো।
আমি তো দেখাছি সে পেত্নীর মতো মেয়েদের
রাজকন্যার মতো সুন্দরী বানিয়ে দিতো।
একটা সান্ত্বনার ব্যাপারটা হলো, এই দুঃখ কষ্টের পৃথিবী থাকে সে এখন থেকে অনেক দূরে।
ঠিক ঠিক!
দারুণ!
অনেক ধন্যবাদ।
খুবই দুঃখের ব্যাপার! আমি পছন্দ করতাম ওকে।
রঙ মিলানোটা আমি ওনার কাছ থেকে শিখেছি।
- রং মিলানো? - মানে কোন রঙের সাথে কোন রঙ যায়...
যেমন, চেরি রং-এ আমাকে ভাল দেখায় না।
- আমার সৌন্দর্য শুষে নেয়। - কে ছিল ফোনে?
- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। - স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়?
আরে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একটা পাওনা ছিলো ওনার কাছে।
মহিলাটা সুন্দর ছিলো কিন্তু তারপরও এতো হাবিজাবি কিছু মাখতো!
আজকাল সবাই করছে এমন, রূপচর্চার চোটে মুখ নাড়ানোই দায়!
বেশ মজার, তাই না?
- তুমি ওর শো দেখেছো কখনো? - এখনো না।
"তোমার চেহারাটা ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে, ডার্লিং!"
"প্রতিদিন বৃষ্টি হয়েছে, একদিন ছাড়া..."
এই তো ভাইটা, ওদের মধ্যে তেমন মিল ছিলো না...
- যদি পত্রিকার কথা বিশ্বাস করো। - তাই তো বুঝলাম।
একটু আড্ডা মারলাম, এই শো এর ফ্যানদের সাথে।
- ভক্তদের সাইটগুলো গুজবের জন্য অতুলনীয়! " ...সত্যি শুধু এটাই করা যায়..."
"...এই ড্রেসের সাথে। কী বলো, মেয়েরা?"
"খোলো, খোলো, খোলো, খোলো!"
এটা মানুষের ধারণার চেয়েও বেশি কমন।
ধনুষ্টংকারের জীবাণু মাটিতে থাকে।
মানুষের অনেক সময় কেটে যায়, গোলাপের কাঁটা, শাবল, এ ধরণের বস্তু দিয়ে।
এরপর যদি চিকিৎসা না করে...
- আমি জানিনা, এখন কী করবো! - হুম।
আমাকে একা রেখে চলে গেলো এখানে। জায়গাটা সুন্দর হলেও...
...ওকে ছাড়া এসব একবারে খালি-খালি।
এজন্যেই...
আমার পত্রিকা সরাসরি নিকট জনের কাছ থেকেই কাহিনী শুনতে চায়।
আপনি নিশ্চিত, তাড়াহুড়ো করছি না তো?
- একদম না। - আচ্ছা।
শুরু করে দাও তুমি।
>মোবাইল ফোন বাজছে
জন
হাই, তাড়াতাড়ি চলে এসো। কিছু একটা পেয়েছি মনে হচ্ছে।
তার আগে তোমাকে কিছু জিনিস যোগাড় করতে হবে। কাগজ কলম আছে?
আমি মনে রাখবো।
>দরজা বন্ধ হল
- ও এসে গেছে। - কে?
- আহ, মিস্টার প্রিন্স, তাইনা? - হ্যাঁ।
- ভাল লাগল, দেখা হয়ে। - হুম, ধন্যবাদ।
- আমি খুবই দুঃখিত... - হ্যাঁ, হ্যাঁ, আপনার দয়া!
তাহলে শুরু করি?
ঠিকই বলেছো। কনির দেহে জীবাণু আরেকভাবে ঢুকেছে।
- তাই নাকি? - হ্যাঁ।
- ঠিক আছে, শুরু করা যাক? - হ্যাঁ, ইয়ে মানে...
ক্লোজ ছবি তুলবেন না। কেঁদে কেটে আমার অবস্থা খারাপ।
ওঃ এটা কে?
সেখ্মেট, মিশরীয় দেবীর নামে নাম...
বাহ! কনির বিড়াল নাকি?
ছোট্টো উপহার, আমার তরফ থেকে।
শার্লক, আলোর অবস্থা কী?
উমম্...
- ধুরো মরা! কী করছো তুমি? - দুঃখিত!
তোমরা দেখি লওরেল আর হার্ডির মত জোকার। তোমরা করছোটা কী?
আসলে, আমাদের কাজ শেষ। যেতে হবে আমাদের। ক্ষমা করবেন।
- কী? - শার্লক।
- কী? - আমাদের ডেডলাইন আছে।
কিন্তু তোমরা তো কিছুই নিলেনা।
ইয়া, ও পাইছি...
তুমি ভাবছো, বিড়ালটার ফলে হয়েছে? কিন্তু না বিড়ালটা না...
কি? হ্যাঁ, অবশ্যই এটা তা।
নিঃসন্দেহে, এর মাধ্যমেই সে কনির দেহে ধনুষ্টংকার ঢুকিযেছে।
- ওটার থাবায় জীবাণুনাশকের দুর্গন্ধ। - ধারণাটা ভালোই।
না, মিঃ প্রিন্স জীবাণুটা বেড়ালের থাবায় লাগিয়েছিলো।
এটা নতুন বিড়াল একটু তো খামচাখামচি করবেই।
আঁচড় খাওয়াটা মোটেও অস্বাভাবিক না... ঐ মহিলা এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা...
মহিলার বাহুতে আঁচড় দেখে, আমিও সেটাই ভেবেছিলাম...
কিন্তু ওর ভাইয়ের মাথায় এতো বুদ্ধি নেই।
সে বোনকে টাকার জন্য খুন করেছে!
- তাই নাকি? - নয়তো কী?
এটা প্রতিশোধ ছিলো।
- প্রতিশো...? কে প্রতিশোধ নিয়েছে? - রাউল... কাজের ছেলেটা।
কেনি প্রিন্স ছিল তার বোনের কৌতুকের খোরাক, সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে।
একসময় তার সহ্যের বাঁধ ভেঙ্গে গেলো। খারাপভাবে তা শেষ হল।
ওয়েবসাইট থেকে জেনেছি।
সে হুমকি দিলো, কেনিকে উত্তরাধিকার না দেয়ার। কিন্তু রাউল এই বিলাসী জীবনে...
- ...অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। - দাঁড়াও, দাঁড়াও!
এক সেকেন্ড দাড়াও। তাহলে বিড়ালের থাবায় জীবাণুনাশক লাগানো কেন?
রাউল ঘর পরিষ্কার রাখার ব্যাপারে বেশ সচেতন। রান্নাঘর দিয়ে যখন ঢুকেছো...
মেঝে তো দেখেছোই, প্রতিটা ইঞ্চি একদম ঝকঝক-তকতক করা।
তোমার গায়েও জীবাণুনাশকের গন্ধ। আমি জানি বিড়ালের ভূমিকা নেই।
রাউলের ইন্টারনেট রেকর্ডের ভুমিকা আছে অবশ্য। দেখি, এখান থেকে ক্যাব পাই কিনা।
--১ ঘণ্টা বাকি--
রাউল দ্যা সান্তোস তোমার খুনী।
কেনি প্রিন্সের হাউজবয়...
দ্বিতীয় ময়না তদন্ত বলছে, ধনুষ্টংকারের জীবাণুতে কনি প্রিন্সের মৃত্যু হয়নি।
ও মেরেছিলো "বটুলাইনাম" বিষে।
আগেও পেয়েছিলাম, কার্ল পাওয়ারসের দেহে।
- আমাদের বোমাবাজ নিজের পুনরাবৃত্তি করছে। - কিন্তু সে এটা করল কীভাবে?
- বোটক্স ইনজেকশন। - বোটক্স?
বোটক্স হল বটুলাইনামের তরল অবস্থা।
ঘরের কাজ করার পাশাপাশি,
কনিকে ফেসিয়াল ইনজেকশন দেয়াও রাউল দ্যা সান্তোসের নিয়মিত কাজ ছিল।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমার সূত্রের কাছ থেকে,
রাউলের অনলাইন কেনাকাটার সমস্ত তথ্য পেয়েছি।
সে প্রচুর মাত্রায় বোটক্স অর্ডার করছে অনেকদিন ধরেই।
অপেক্ষা করছিল, যতদিনে একটা প্রাণঘাতী ডোজ দেয়ার মত বোটক্স জমানো যায়।
- তুমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত? - আমি নিশ্চিত!
আমার অফিসে এসো...
- কতক্ষণ ধরে, শার্লক? - কী?
- কত আগে থেকে তুমি জানতে? - এই কেসটা বেশ সহজ ছিল।
যেমনটা বলেছিলাম, বোমাবাজ নিজের পুনরাবৃত্তি করেছে। অনেক বড় ভুল ছিলো সেটা।
না, কিন্তু শার্লক, ঐ জিম্মি বৃদ্ধা এতোক্ষণ ধরে পড়ে আছে ওখানে।
জানতাম, আমি তাকে উদ্ধার করতে পারবো। জানতাম, বোমাবাজ আমাকে ১২ ঘণ্টা সময় দিয়েছে।
কেসটা দ্রুত সমাধান করেছি, আর তা আমাকে অন্য কাজে মনযোগ দেয়ার সুযোগ দিয়েছে।
দেখছ না, এবার আমরা এগিয়ে আছি?
--রাউল দ্যা সান্তোস, হাউজবয়, বোটক্স।--
>মোবাইল ফোন বাজছে
হ্যালো...
আমাকে বাঁচান!
আপনি কোথায় আছেন?
- ঠিকানা বলুন। - লোকটা অনেক...
লোকটার কণ্ঠ...
না না না না... ওর সম্পর্কে কিছু বলবেন না।
লোকটার গলা খুব নরম...
হ্যালো?
শার্লক?
কী হয়েছে?
রিপোর্টারঃ- "বিস্ফোরণটা..."
"কয়েক তলা জুড়ে হয়েছে, এতে বারো জন মারা গেছেন।"
- পুরনো ফ্ল্যাট। "...গ্যাস লাইনে সমস্যার কারণে।"
"গ্যাস কোম্পানির এক কর্মকর্তা..."
- সে পাকা কথার মানুষ! - হ্যাঁ, দেখাই যাচ্ছে, এইবার আমি হেরে গেলাম।
যদিও আমি কেসটা সমাধান করেছিলাম।
সে মহিলাকে হত্যা করলো, কারণ উনি তার বর্ণনা দিচ্ছিলেন।
শুধু এই একবার সে নিজেকে সামনে এনেছিলো...
কী বলতে চাইছো?
সচরাচর, সে নিজে কিছু করে না।
সে সবকিছু সমন্বয় করে। কিন্তু কারো সাথে ওর সরাসরি যোগাযোগ হয়না।
কি? যেমন কনি প্রিন্সের খুন, সেটা কি ও সমন্বয় করেছে?
মানে, লোকজন ওর কাছে আসে আর অপরাধমূলক কাজের পরামর্শ চায়?
- ছুটির প্ল্যান বানানোর মত? - অভিনব!
হাহ!
এবার দেখি, বেশী সময় নিচ্ছে।
জানা গেছে, কার্লের খুনী কে?
নাহ।
জীবিত ক্লাসমেটরা সবাই নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছে। কোনো সূত্র নেই।
- খুনী কার্লের সিনিয়র হতে পারে। - আগেই ভেবেছি।
তাহলে কেন সে এরকম করছে?
কেন তোমার সাথে এমন খেলছে? ও কি ধরা পড়তে চায় নাকি?
- মনে হয়, সে বিভ্রান্ত হতে চায়। - ও...
তোমাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হোক।
- দুঃখিত, কী? - মানুষের জীবন হুমকির মুখে, শার্লক।
সত্যিকারের মানুষের জীবন! আমাকে বল...
- ...তুমি কি আদৌ ওদের নিয়ে ভাবো? - ভাবলে কি ওদের বাঁচাতে সুবিধা হবে?
না।
তাহলে সেই ভুল না করাই চালু রাখি।
- আর তোমার কাছে এটাই সহজ বলে মনে হয়, তাই না? - হ্যাঁ, খুব।
- নতুন জানলে নাকি? - না, না।
আমি হতাশ করলাম তোমাকে?
বাহ ভাল, এটা তো একটা ভালো একটা পর্যবেক্ষণ।
মানুষকে বীর বানিও না, জন।
বীর বলে কিছু নেই। থাকলেও, আমি সেই দলে নেই।
>মোবাইল ফোন বিপ অসাধারণ!
টেমস নদীর দৃশ্য, দক্ষিণ তীর।
সাউথওয়ার্ক ব্রিজ এবং ওয়াটারলুর মাঝে কোথাও...
তুমি সংবাদপত্র দেখ, আমি অনলাইনে দেখছি।
ও, রেগে আছো, তাই সাহায্য করবে না।
এতো রেগে কোন লাভ নাই।
- তোরণদ্বারে আত্মহত্যা... - বিশেষ কিছু না।
দুটো শিশু কোপানো হয়েছে, স্টোক নিউইংটনে।
ট্রেন লাইনে লাশ, অ্যান্ড্রু ওয়েস্ট।
কিছুই নেই!
>রিং বাজছে
আমি বলছি। কিছু পেয়েছো দক্ষিণ তীরে? ওয়াটারলু ব্রিজ আর সাউথওয়ার্ক ব্রিজের মাঝে?
কী মনে হয়? এটাও বোমাবাজের সাথে যুক্ত?
নিশ্চয়ই। তবে ভেজাল হচ্ছে, সে আর যোগাযোগ করছে না।
তাহলে ধরে নেবো যে, কোনো হতভাগা কোথাও আবার উড়ে যেতে পারে, অ্যাঁ?
হ্যাঁ।
- কোনো আইডিয়া? - সাতটা, এখন পর্যন্ত।
সাতটা?
মৃত্যুর প্রায় ২৪ ঘণ্টা হয়েছে।
ওয়াটসনঃ- হয়তো আরেকটু বেশি।
ইন্টারপোল মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী সংগঠন আঞ্চলিক কর্মকান্ড ------------------------------------------ ওয়াটসনঃ- ও কি ডুবে গিয়েছিল?
ইন্টারপোল মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী সংগঠন আঞ্চলিক কর্মকান্ড ------------------------------------------ লেসট্রাডঃ- না, ওর ফুসফুসে পানি খুব অল্প। শ্বাসরোধে মরেছে।
ইন্টারপোল মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী সংগঠন আঞ্চলিক কর্মকান্ড ------------------------------------------ ওয়াটসনঃ- হুম, আমি একমত।
ইন্টারপোল আঞ্চলিক কর্মকান্ড ------------------------------------------ ওয়াটসনঃ- হুম, আমি একমত।
চেক রিপাবলিক --------------------------------------------- ওয়াটসনঃ- হুম, আমি একমত।
নাক আর মুখের আশেপাশে আঘাতের ভালোই চিহ্ন আছে।
চেক রিপাবলিক অপরাধী দল তথ্য মোস্ট ওয়ান্টেড যোগাযোগ ------------------------------------------- ওয়াটসনঃ- আরো কিছু আঘাত...
চেক রিপাবলিক মোস্ট ওয়ান্টেড ------------------------------------------ ওয়াটসনঃ- আরো কিছু আঘাত...
...এখানে আর এখানে।
আঙ্গুলের ডগার দাগ।
আমার মতে ওর বয়স চল্লিশের আশেপাশে, স্বাস্থ্য তেমন ভালো না।
আমার মতে ওর বয়স চল্লিশের আশেপাশে, স্বাস্থ্য তেমন ভালো না।
অনেকক্ষণ ধরে নদীতে ছিলো, পানি বেশির ভাগ প্রমাণ ধুয়ে-মুছে ফেলেছে।
কিন্তু একটা জিনিস বলি, ঐ হারানো ভার্মিয়ার পেইন্টিংটা নকল।
- কী? - আমাদের এই লাশ সনাক্ত করতে হবে...
ওর বন্ধুদের ব্যাপারে জানতে হবে এবং...
দাঁড়াও, দাঁড়াও। কোন পেইন্টিং? তুমি কী বলতে চাচ্ছো?
সব জায়গাতেই তো আছে। তুমি পোস্টারগুলো দেখনি?
বিশিষ্ট ডাচ শিল্পীর আঁকা, ধারণা ছিলো তা অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে।
সম্প্রতি আবার পাওয়া গেছে, দাম- £৩০ মিলিয়ন পাউন্ড।
তো, ওটার সাথে এর কী সম্পর্ক?
পুরোটাই...
- তোমরা গোলেমের কথা শুনেছো? - গোলেম?
ভৌতিক রূপকথা, তাইনা? কী বলতে চাও তুমি?
ইহুদীদের লোকগাথা, কাদার তৈরি এক দৈত্যাকার মানুষ। আবার এটা একটা গুপ্তঘাতকেরও নাম।
আসল নাম- অস্কার ডেজুন্দজা। পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর গুপ্তঘাতকদের একজন।
এটা ওর স্বতন্ত্র চিহ্ন।
- তো, এটা একটা খুন? - অবশ্যই।
গোলেম ওর খালি হাত দিয়ে চেপে ধরে ওর শিকারের প্রাণ বধ করে।
কিন্তু পেইন্টিং এর সাথে এটার সম্পর্ক কী? আমি এখানে কিছুই দেখছি না...
তুমি দেখ, কিন্তু পর্যবেক্ষণ করোনা।
ঠিক আছে, মেয়েরা! এই চুলাচুলি বন্ধ করো।
শার্লক, আমাদেরকে পুরোটা বলবে?
আমরা এই লাশের ব্যাপারে কী জানি?
খুনী তেমন কিছুই রাখেনি, শুধু শার্ট আর ট্রাউজার ছাড়া।
ফর্মাল পোশাক, হয়তো রাতে বাইরে যাচ্ছিলো।
ট্রাউজারটা টেকসই। পলিস্টার, ফালতু। শার্টের মতই, কমদামী।
দুটোই ওর মাপের চেয়ে বড়। নিশ্চয়ই নির্দিষ্ট কোন ইউনিফর্ম।
চাকরির জন্য পোশাক পরেছিল। কোন ধরনের চাকরি?
ওর বেল্টে একটা হুক আছে... ওয়াকি-টকির জন্য।
ট্রেন চালক?
- নিরাপত্তা প্রহরী? - বেশি যুক্তিযুক্ত।
- যেটা ওর নিতম্ব দেখলে বোঝা যায়। - নিতম্ব?!
থলথলে, ও চাকরিটা করতো বসে বসে।
কিন্তু ওর পায়ের তালু আর ফুলে ওঠা পদশিরা ভিন্ন কথা বলছে।
অর্থাৎ, অনেক হাঁটাহাঁটি, এবং অনেকক্ষণ বসে থাকা।
নিরাপত্তা প্রহরীই বেশি মানাচ্ছে। ঘড়িটাও সে কথাই বলছে।
এলার্ম বলছে, সে নিয়মিত রাতেই ডিউটি করতো।
নিয়মিত কীভাবে? হয়তো সে খুনের আগের রাতেই এলার্ম সেট করেছিলো।
না, না, না। বাটনগুলো শক্ত, ব্যবহারই হয়না ওগুলো।
এই এলার্ম সে অনেক আগে সেট করেছে, তার রুটিন পাল্টায়নি কখনো।
কিন্তু আরো কথা আছে। খুনী নিশ্চয়ই মাঝপথে বাধা পেয়েছিলো...
নইলে সে লাশের সব কাপড়ই খুলে ফেলতো।
শার্টের সামনে একটা ব্যাজ বা সাইন জাতীয় কিছু ছিলো...
যেটা সে ছিঁড়েছে। বোঝাই যাচ্ছে যে, মৃত ব্যক্তি কোনো সুপরিচিত জায়গায় কাজ করতো...
কোনো একটা প্রতিষ্ঠানে।
আমি এটা পেয়েছি, ওর ট্রাউজার পকেটে।
পানিতে ভিজে গেছে, কিন্তু তবুও বোঝা যাচ্ছে...
- টিকেট? - টিকেটের অংশ।
সে কোনো জাদুঘর বা গ্যালারিতে কাজ করতো। দ্রুত চেক করলাম।
হিকম্যান গ্যালারি তাদের এক কর্মচারীকে নিখোঁজ হিসেবে রিপোর্ট করেছে।
এলেক্স উডব্রিজ।
আজ, তারা এক পুনরাবিষ্কৃত মাস্টারপিস উন্মোচন করতে যাচ্ছে।
এখন, কেন কেউ গোলেমের মত কাউকে ভাড়া করবে,
এক সাধারণ গ্যালারি কর্মচারীকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করার জন্য?
অর্থাৎ, মৃত লোকটা এ ব্যাপারে কিছু একটা জানতো...
এমন কিছু, যা এটার মালিককে £৩০ মিলিয়ন পাউন্ড থেকে বঞ্চিত করতো।
- ঐ ছবিটা নকল। - অসাধারণ।
- চটকদার। - এবং শুভ নববর্ষ।
বেচারা !!
আমি আমার ছোকরাদের কাজে লাগাচ্ছি, এই গোলেমকে বের করার জন্য।
অর্থহীন, তুমি জীবনেও ওকে ধরতে পাবে না। তবে আমি একজনকে চিনি, যে পারবে।
- কে সে? - আমি।
সে কেন ফোন করেনি? সে নিজের কাজের ছক ভাঙছে। কেন?
- ওয়াটারলু ব্রিজ। - কোথায় যাব এখন, গ্যালারিতে?
কিছুক্ষণের মধ্যেই...
হিকম্যান এর সব চিত্র তো সমসাময়িক, তাই না?
কেন তারা একটা পুরনো সৃষ্টিকে বেছে নিলো?
জানিনা, না জেনে মন্তব্য করা ঠিক হবে না...
তথ্য দরকার...
দাঁড়াও!
একটু দাঁড়াও তো...
এখনই আসছি...
শার্লক?
খুচরো? খুচরো দেবেন?
- কেন? - এক কাপ চা আর কি...
এই নাও, পঞ্চাশ...
ধন্যবাদ।
- কী করছো তুমি? - বিনিয়োগ।
এবার গ্যালারিতে চলো...
নগদ টাকা আছে?
না, আমি চাই তুমি গ্যালারি কর্মচারীর ব্যাপারে সব খবর নাও।
- লেসট্রাড ঠিকানা দিয়ে দেবে। - আচ্ছা।
"হারিয়ে যাওয়া ভার্মিয়ার" -হিকম্যান গ্যালারি
প্রায় এক বছর ধরে আমরা একসাথে ছিলাম..
- শুধু রুমমেট হিসেবে। - হুম...
- একটু দেখি? - হ্যাঁ....
দুঃখিত...
নক্ষত্র প্রেমী, তাই না?
ও আর বলতে, একেবারে পাগলের মতো...
শুধু এটাই করতো, অবসর সময়ে।
ভালো মানুষ ছিলো এলেক্স...
আমার ভালোই লাগতো।
সে আসলে...
...ও আসলে এত ঝাড়ামুছা করতো না।
আর চিত্রকর্ম? ঐ ব্যাপারে কিছু জানতো?
চাকরি কেবল, বোঝেনই তো !!
হুম...
আর কেউ এসেছিলো, এলেক্সের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে?
না।
চোর ঢুকেছিলো, অবশ্য...
- কখন? - গত রাতে...
কিছুই নেয়নি...
ও, ল্যান্ডলাইনে এলেক্সের জন্য একটা মেসেজ আছে।
- কে পাঠিয়েছে? - আপনি চাইলে বাজিয়ে শোনাতে পারি।
- ফোনটা নিয়ে আসছি। - প্লিজ...
>ফোন বিপ
ও, এখন কথা বলবো, তাই না? এলেক্স?
বাছা, আমি প্রফেসর কেয়ার্নস।
শোনো, তুমি ঠিক ধরেছিলে। তুমি একদম ঠিক...
আমাদের একটা কল দিও যখন...
প্রফেসর কেয়ার্নস?
- চিনিনা, দুঃখিত। - হুম।
আর একবার রিং দেয়া যাবে?
লাভ নেই। পরেও আরো কল এসেছে। সমবেদনার, বোঝেনই তো।
>ফোনের বিপ
"ব্রুস-পার্টিংটন প্ল্যান" ওয়েস্ট এর বাগদত্তার সাথে কথা বলেছো? - মাইক্রফট
তোমার কোনো কাজ নেই?
দৃশ্যটা উপভোগ করছি কেবল...
বুঝলাম...
বেশ ভালো, এখন কাজে ফিরে যাও। রাতে খুলবো আমরা...
- জিনিসটা আপনাকে উদ্বিগ্ন করছেনা? - কী?
এই যে, পেইন্টিংটা নকল !!
- কী? - এটা ভুয়া, হতেই হবে।
এটাই একমাত্র যৌক্তিক ব্যাখ্যা।
আপনিই তো এটার দায়িত্বে আছেন, তাই না, মিস ওয়েন্সেসলাস?
কে তুমি?
এলেক্স জানতো, পেইন্টিংটা নকল।
তাই কেউ গোলেমকে পাঠালো, ওর ব্যবস্থা করতে। সেটা কি আপনি?
গোলেম? কী আবোল-তাবোল বলছো?
আপনি কি অন্য কারো হয়ে কাজ করছেন? ওদের হয়ে নকলটা বানিয়েছেন?
এটা নকল না।
এটা নকল।
আমি জানিনা কেন, কিন্তু কিছু একটা ভুল আছেই। থাকততেই হবে।
কী বলছো তুমি? জানো, আমি তোমাকে...
- এই মুহূর্তে বরখাস্ত করতে পারি। - কোন ব্যাপার না।
- তাই? - হুম, আমি এখানে চাকরি করিনা, জানেন না।
শুধু আপনাকে একটু বন্ধুসুলভ পরামর্শ দিতে এসেছি...
ঢুকেছো কীভাবে?
- প্লিজ! - আমি জানতে চাই।
ছদ্মবেশের রহস্য হলো, সবার সামনে লুকানোর বিদ্যা জানা থাকা।
- কে তুমি? - শার্লক হোমস।
এখন কি খুশিতে লাফানো উচিৎ?
হয়তো তাই।
দিনটা শুভ হোক...
না, ও এমন করতো না। ওর পক্ষে সম্ভব না...
- এর চেয়েও বিচিত্র ঘটনা ঘটে কিন্তু। - ওয়েস্টি বিশ্বাসঘাতক ছিলো না।
এভাবে বলা উচিৎ না!
আমি দুঃখিত। কিন্তু, চিন্তা করে দেখুন...
ওর বস-রা তাই মনে করে, তাইনা?
সে তরুণ, বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল, কিছু দেনা-ও ছিলো।
সবারই দেনা থাকে...
আর ওয়েস্টি সেগুলো শোধ করার জন্য নিজের দেশকে বিক্রি করবে না।
আপনি কি......? বলতে পারবেন ঐ রাতে আসলে ঠিক কী হয়েছিলো?
আমরা একসাথে রাত কাটাচ্ছিলাম।
একটা ডিভিডি দেখছিলাম।
সে সাধারণত ঘুমিয়ে যায়। কিন্তু এটা পুরোটা দেখলো।
ও একদম চুপচাপ ছিলো।
হঠাৎ বললো, একজনের সাথে দেখা করতে যেতে হবে।
আর সেটা কে, আপনি জানেননা। তাই তো?
হেই, লিজ। ঠিক আছো তো?
- হ্যাঁ - কে উনি?
- জন ওয়াটসন, হাই। - ও আমার ভাই, জো...
জন বের করতে চাইছে, ওয়েস্টির কী হয়েছিলো বুঝলে জো।
- আপনি কি পুলিশ? - এক রকম, হ্যাঁ...
ওদেরকে বলেন, একটু গা ঝাড়া দিতে। বলবেন তো? এটা একদম বাজে অবস্থা !!
সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।
বেশ...
সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ। আবারো বলছি, আমি খুব খুব দুঃখিত।
সে ওগুলো চুরি করেনি, মিস্টার ওয়াটসন।
আমি চিনি ওয়েস্টি'কে, সে ভালো মানুষ ছিলো।
আমার পছন্দের মানুষ ছিলো সে।
- ভাংতি হবে? - না...
একটু ভাংতি হবে?
এলেক্স উডব্রিজ চিত্রকর্মের ব্যাপারে বিশেষ কিছু জানতো না।
- আর? - আর...
এটুকুই? কোনো অভ্যাস, শখ, ব্যক্তিত্ব?
বলতে তো দাও - ও শখের নক্ষত্রবিদ ছিলো...
- ক্যাবটা দাঁড় করাও। - ভাংতি হবে, স্যার?
- থাকলে কিছু মনে নিও না? ওয়াটসনঃ- একটু দাড়াবেন?
--ভক্সহল সুড়ঙ্গ--
সৌভাগ্যক্রমে আমি অলস বসে থাকিনি। এসো...
চমৎকার, তাইনা?
- ভেবেছিলাম, তুমি এসব পাত্তা দাও না... - তার মানে এই নয় যে, প্রশংসাও করতে পারবো না।
শোনো, এলেক্স উডব্রিজ এর ফ্ল্যাটের ফোনে একটা মেসেজ এসেছিলো।
- প্রফেসর কেয়ার্ন্স-এর। - এদিকে...
সুন্দর, শহরের সুন্দর একটা জায়গা...
- একটু ব্যাখ্যা করবে কি? - গৃহহীন নেটওয়ার্ক।
- আসলেই অপরিহার্য। - গৃহহীন নেটওয়ার্ক?
ওরাই পুরো শহর জুড়ে, আমার চোখ আর কান।
হুম, ভাল চালাকি।
- তো তুমি ওদের পিঠ চুলকাও আর......? - হ্যাঁ, তারপর নিজেকে জীবাণুমুক্ত করি।
শার্লক, এসো...
সে এখানে ঘুমাচ্ছে কেন?
কারণ, ওর আকৃতিটা বেশ একটু আলাদা। তাই ওকে এমন কোথাও থাকতে হবে....
...যেখানে লোক চলাচল কম...
- ও... - কী?
- ইস, আমি যদি... - বলার দরকার নাই।
না! না! না! না!
>টায়ারের শব্দ
আবার ওকে খুঁজে পেতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যাবে।
হয়তো না। আমি জানি ও কোথায় যাচ্ছে।
- কী? - আমি তো তোমাকে বলেছি,
কেউ একজন এলেক্স উডব্রিজকে একটা মেসেজ পাঠিয়েছে।
ফোনবুকে খুব বেশি প্রফেসর কেয়ার্নস থাকার কথা না। এসো...
ভাষ্যকারঃ- "জুপিটার, সৌরজগতের পঞ্চম গ্রহ, এবং বৃহত্তম।"
"জুপিটার একটা গ্যাসের দানব। এর ব্যাস পৃথিবীর চেয়ে ১১ গুন বেশি।"
হ্যাঁ, আমরা জানি...
"টাইটান হচ্ছে বৃহত্তম চাঁদ..." - নেপচুনটা কোথায়?
"এদের অনেকেই বেশ আগে মারা গেছে..."
- টম, ওটা কি তুমি? "...সুপারনোভাতে বিস্ফোরিত হয়েছে।"
"আবিষ্কার করেছেন আরবান লা তেরিয়ার, ১৮৪৬ সালে..."
"...এর মূল উপাদান হাইড্রোজেন।"
"এদের আলো পৃথিবীতে আসতে এতো সময় লাগে যে..."
- গোলেম! "...এদের অনেকেই বেশ আগে মারা গেছে,"
"বিস্ফোরিত হয়েছে..."
আমি ওকে দেখতে পাচ্ছিনা।
- আমি ওদিক দিয়ে যাচ্ছি। - এবার কার জন্য কাজ করছো, ডেজুনজা?
"নক্ষত্রের জন্ম হয় কেন্দ্রেধাবিত হওয়া পদার্থের গোলোক থেকে..."
- "যার মূল উপাদান..." - গোলেম!
ছেড়ে দাও ওকে...
নইলে তোমাকে খুন করে ফেলবো।
"সৌরজগতের চতুর্থ গ্রহের নামটা রাখা হয়েছে রোমান যুদ্ধের দেবতার নাম অনুসারে..."
"...একটা গ্যাসের দানব..."
"...এতো সময় লাগে যে..."
"...সুপারনোভাতে..."
"...সুপারনোভাতে বিস্ফোরিত হয়েছে..."
- এটা নকল। হতেই হবে। - পেইন্টিংটাকে যাচাই করা হয়েছে.....
- সম্ভাব্য সব রকম উপায়ে। - বেশ উৎকৃষ্ট মানের নকল তাহলে।
আপনি জানেন, তাই না? আপনিই করেছেন, ঠিক?
ইন্সপেক্টর, আমার সময় নষ্ট হচ্ছে।
দয়া করে আপনার বন্ধুবান্ধব সহ বিদেয় হন।
>মোবাইল বাজছে - পেইংটিংটা নকল।
এটা নকল, এজন্যেই উডব্রিজ আর কেয়ার্নস খুন হয়েছে।
ওহ, মেনে নাও, প্রমাণ হওয়াটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। ঐ পেইন্টিংটা নকল।
আমি সমাধান করেছি। বের করেছি আমি।
এটা নকল, সেটাই তো উত্তর। এজন্যেই তাদের খুন করা হয়েছে।
আচ্ছা, আমি প্রমাণ করছি। সময় দাও। দেবে একটু সময়?
- ১০ - এটা তো একটা বাচ্চা...
- ও ঈশ্বর, ছোটো একটা বাচ্চা। - কী বলেছে সে?
- ১০ - ০৯
সে সময় দিয়েছে।
- প্রভু... - এটা নকল, কিন্তু কীভাবে প্রমাণ করবো?
- কীভাবে?! কীভাবে?! - ০৮
বাচ্চাটা মারা যাবে। বলো, কেন এই পেইন্টিংটা নকল। বলো !!
- ০৭ - না, থামো...
কিছু বোলো না। আমি বের না করলে ও মানবে না।
এটা নিশ্চয়ই সম্ভব। নিশ্চয়ই আমার দিকে ড্যাব-ড্যাব করে তাকিয়ে আছে।
- ০৬ - কীভাবে?
উডব্রিজ জানতো, কিন্তু কীভাবে?!
- ০৫ - গতি বাড়াও! শার্লক!
- ০৪ - ঐ প্লানেটোরিয়ামে, তুমিও শুনেছিলে...
ও, অসাধারণ, চমৎকার!!
- ০৩ - কী চমৎকার? কী?!
সুন্দর...
০২
- শার্লক! - দ্যা ভ্যান বার্ন সুপারনোভা।
প্লিজ, কেউ কি শুনছেন? একটু সাহায্য করুন...
এই তো। দেখ, ও কোথায়। উদ্ধার করো ওকে।
তথাকথিত, "ভ্যান বার্ন সুপারনোভা"
বিস্ফোরিত নক্ষত্র। শুধু ১৮৫৮ সালেই, আকাশে দেখে গিয়েছিল।
তাহলে কীভাবে এটাকে...
১৬৪০ সালের পেইন্টিং-এ আঁকা হলো?
>ফোন বাজছে - ওহ...
আমার ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙ্গে যাচ্ছে। -মাইক্রফট হোমস ------------------------------------------------------ - ওহ।
ওহ, শার্ল...
ব্যাপারটা মজার, বুঝলেন? বোহেমিয়ান কাগজ...
একজন গুপ্তঘাতক যার নাম প্রাগের কিংবদন্তীর নামে, আর আপনি, মিস ওয়েন্সেসলাস।
পুরো মামলার মধ্যেই চেক-দের স্পষ্ট যোগাযোগ।
সেদিকেই কি যাচ্ছে কাহিনী?
কী ঘটবে এখন, ইন্সপেক্টর?
বেশ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, জালিয়াতি...
আনুষঙ্গিক আরো কিছু, কমপক্ষে।
বৃদ্ধ মহিলার খুন, ঐ ফ্ল্যাটে যারা ছিলো, সবার...
আমি ঐ ব্যাপারে কিছুই জানতাম না।
ঐ সবকিছু ব্যাপারে, প্লিজ, বিশ্বাস করুন।
আমি শুধু আমার ভাগ চেয়েছিলাম।
ত্রিশ মিলিয়ন এর।
আমি একজন বৃদ্ধকে পেয়েছিলাম, আর্জেন্টিনাতে।
জিনিয়াস, আসলেই...
ব্রাশের কাজ, নিখুঁত।
- যে কাউকে বোকা বানানোর মত। - উমম...
বেশ, প্রায় সবাইকে...
কিন্তু জানতাম না, পৃথিবীকে কীভাবে বোঝাবো...
...যে চিত্রকর্মটা আসল।
ছোট্টো একটা আইডিয়া...
একটা স্ফুলিংগ, যেটাকে সে শিখা বানিয়ে দিলো।
কে?
আমি জানিনা...
সত্যি!
অনেক সময় লেগেছে, কিন্তু অবশেষে আমাকে...
কিছু লোকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হলো।
তার লোকজন...
অবশ্য, কখনোই সরাসরি কোনো যোগাযোগ হয়নি।
শুধুই মেসেজ...
...ফিসফিস করে।
আর ঐ ফিসফিসানির পেছনে কি কোনো নাম ছিলো?
মরিয়ার্টি।
- তো এখানেই ওয়েস্টকে পাওয়া গিয়েছিলো? - হ্যাঁ।
- আপনার কি সময় লাগবে? - লাগতে পারে।
- আপনি কি পুলিশ তাহলে? - এক রকম।
- ঘৃণা করি ওদেরকে। - পুলিশকে?
না, লম্ফবাজদের...
যারা নিজেদেরকে ট্রেনের সামনে ঠেলে দেয়। স্বার্থপর বদমাশের দল।
হুম, ঘটনাটা বিশ্লেষণের এটাও একটা দৃষ্টিভঙ্গি।
ঠিকই তো। তাদের কিছু এসে যায় না।
মুহূর্তে সব শেষ, পুরো লাইনে স্ট্রবেরী জ্যাম ছড়িয়ে যায়।
আর ড্রাইভাররা?
তাদেরকে তো এটা স্মৃতিতে নিয়েই বাঁচতে হয়, নাকি?
হুম, স্ট্রবেরী জ্যামের কথা যখন তুললেনই !! রক্ত তো দেখিনা লাইনের ওপরে...
- পরিষ্কার করা হয়েছে? - না, তেমন বেশি ছিলো না।
বলছিলেন, ওর মাথা ভর্তা হয়ে গিয়েছিলো।
হয়েছিলো, কিন্তু তেমন রক্ত ছিলো না।
- আচ্ছা। - ঠিক আছে, আপনি তাহলে আপনার কাজ করুন।
- যাওয়ার আগে, একটু বলে যাইয়েন। - আচ্ছা।
তো, এন্ড্রু ওয়েস্ট... কোনো এক জায়গায় ট্রেনে উঠেছিলো। আসলেই কি?
শরীরে কোনো টিকেট তো ছিলো না।
এখানে এলো কীভাবে?
- রেলের সিগনাল পয়েন্ট। - হ্যাঁ!
জানতাম, ঠিকই বুঝবে একসময়।
ওয়েস্টের এখানে খুন হয়নি। তাই রক্ত এতো কম।
- কতক্ষণ ধরে পিছু নিয়েছো আমার? - শুরু থেকেই।
নিশ্চয়ই ভাবোনি যে আমি এমন একটা কেস ছেড়ে দেবো,
শুধু আমার ভাইকে ঘৃণা করি বলে, তাই না?
চলো, একটু সিঁদ কাটতে হবে...
মিসাইল প্রতিরক্ষা প্ল্যান, এখনো দেশ ছেড়ে যায়নি...
গেলে মাইক্রফটের লোকেরা খবর পেয়ে যেতো।
মানুষ যাই ভাবুক, আমাদের কিন্তু এখনো একটা গোয়েন্দা সংস্থা আছে।
হুম, জানি, দেখাও হয়েছে।
অর্থাৎ, যে মেমোরি স্টিকটা চুরি করেছে, সে বেচতে পারছে না...
...অথবা জানেনা, এটা নিয়ে করবেটা কী।
আমার বাজি, পরেরটাতে...
এসে পড়েছি।
কোথায়?
শার্লক! ভেতরে কেউ থাকলে কী হবে?
কেউ নেই।
প্রভু...
- কোথায় আমরা? - ও, দুঃখিত। তোমায় বলিনি, তাই না?
জো হ্যারিসনের ফ্ল্যাটে।
জো...?
ওয়েস্টের বাগদত্তার ভাই। সে মেমোরি স্টিকটা চুরি করেছে,
হত্যা করেছে তার হবু দুলাভাইকে।
কেন করেছে?
>চাবির শব্দ
চলো, ওকেই জিজ্ঞেস করি।
না... না...
এমন হবার কথা ছিলো না...
লুসি কী বলবে? ধুরো...
কেন খুন করেছো ওকে?
এটা ছিল একটা দুর্ঘটনা। কিরা কাটছি, সত্যিই...
কিন্তু মিসাইল ডিফেন্স প্রোগ্রামের প্ল্যান চুরি করাটা...
...তো দুর্ঘটনা ছিলো না, তাই না?
আমি মাদক ব্যবসা শুরু করেছিলাম।
সাইকেল বাহনটা একটা কার্যকর ছদ্মবেশ, তাই না?
জানিনা, কীভাবে শুরু হলো।
কিন্তু আমি অনেক গভীরে জড়িয়ে গেলাম।
হাজার হাজার টাকা দেনা হয়ে গেলো, সিরিয়াস মানুষদের কাছে...
এরপর ওয়েস্টের বাগদান হলো। সে নিজের চাকরির কথা বললো...
সাধারণত, সে খুবই সতর্ক থাকে।
কিন্তু সে রাতে, কয়েক গ্লাসের পর, সে সব উগরে দিলো।
সে আমাকে মিসাইল প্ল্যানের ব্যাপারে বললো।
একদম টপ সিক্রেট।
সে আমাকে মেমোরি স্টিকটা দেখালো, চোখের সামনে দোলালো।
জিনিস-পত্র তো সবসময়ই হারায়...
পরে পাওয়া যায় ডাস্টবিনে।
কিন্তু এটা আমার সামনেই ছিলো। মনে হয়েছিলো...
এটা নিশ্চয়ই আমার ভাগ্য ফিরাবে।
ওর কাছ থেকে নেয়া কোনো ব্যাপারই ছিলোনা। সে পুরাই মাতাল ছিলো।
পরেরবার যখন দেখা হলো,
ওর চেহারা দেখেই বুঝেছিলাম যে সে জানে।
- কী করছো এখানে? - তুমি ঐ প্ল্যানটা দিয়ে কী করেছো?
কী হয়েছে?
আমি এম্ব্যুলেন্স ডাকতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু দেরি হয়ে গিয়েছিলো।
আমার কোনো ধারণাই ছিলোনা কী করা উচিৎ।
তাই ওকে টেনে আনলাম এখানে...
অন্ধকারে বসে রইলাম, ভাবতে লাগলাম...
যখন ছোট্টো একটা আইডিয়া তোমার মাথায় উদয় হল।
এন্ড্রু ওয়েস্টকে অনেক দূরে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
ওর শরীর অনেকদিন ধরে দূরে যেতেই থাকতো।
যদি না ট্রেনটাকে এতোগুলো বাঁকের মুখোমুখি হতে হতো।
- আর সিগনাল পয়েন্টস। - একদম ঠিক।
তাহলে মেমোরি স্টিকটা এখনো তোমার কাছে আছে?
সমস্যা না হলে, নিয়ে এসো।
বিভ্রান্ত করা শেষ। আসল খেলা কিন্তু এখনো চলছে।
হয়তো সেটাও শেষ। বোমাবাজ তো আর যোগাযোগ করে নি।
পাঁচটা সংকেত, মনে আছে, জন?
এটা কাউন্ট-ডাউনের মত। আমরা কেবল চারটা পেয়েছি।
না, না, না! অবশ্যই সে ছেলেটার বাবা না।
ও জিন্স কীভাবে মুড়েছে দেখেছ!
- জানতাম, এটা বিপদজনক। - হুম?
তোমাকে টিভি সিরিয়াল দেখতে দেওয়া।
কনি প্রিন্সের ধারেকাছেও না।
মাইক্রফটকে মেমোরি স্টিকটা দিয়েছো?
হ্যাঁ, খুশিতে লাফা লাফি করছিল।
হুমকি দিয়েছে, আমাকে "নাইট" বানিয়ে দেবে, আবার।
- আমি এখনো অপেক্ষা করছি। - হুম?
তুমি কখন স্বীকার করবে যে, সৌরজগতের একটু জ্ঞান থাকলে
নকল পেইন্টিংটা আরো আগেই ধরে ফেলতে পারতে।
তোমারটা কোন কাজে লাগলো, শুনি?
না, কিন্তু আমি তো এই পৃথিবীর একমাত্র উপদেষ্টা গোয়েন্দা নই।
- একদম সত্যি। - আমি চায়ের সময়ে থাকবোনা।
সারাহ'র কাছে যাচ্ছি। এখনো কিছুটা রিজোটো ফ্রিজে রাখা আছে।
- দুধ। দুধ লাগবে। - নিয়ে আসবো।
- সত্যি? - সত্যি।
- আর কিছু শিম? - হুম।
>দরজা বন্ধ হল
"ব্রুস-পার্টিংটন প্ল্যান পেয়েছি। এসে নিয়ে যাও।"
"সুইমিং পুল, মাঝরাতে।"
একটা উপহার এনেছি তোমার জন্য, আমাদের নতুন বন্ধুত্বের সুবাদে।
এটার জন্যেই তো সবকিছু, তাইনা?
তোমার সব পাজল! আমাকে নাচানো!
শুধু আমাকে এটা থেকে দূরে রাখার জন্য।
শুভ সন্ধ্যা।
খেলা জমেছে, তাই না শার্লক?
- জন! কী হচ্ছে এসব? - বাজি লাগছি, এটা ভাবোনি তুমি।
কী... শুনতে চাও ওর মুখ থেকে... এরপর?
পাখি পাকা পেঁপে খায়, পাখি পাকা পেঁপে খায়,
- পাখি পাকা পেঁপে খায়। - থামো।
ভালোই ভেবেছো। এই পুলটা...
...যেখানে ছোট্টো কার্ল মারা গিয়েছিলো।
আমি ওকে ঠাণ্ডা করে দিয়েছিলাম। জন ওয়াটসনকেও ঠাণ্ডা করে দিতে পারি।
- থামাতে পারি ওর হৃদয়! - কে তুমি?
>দরজা খুলছে
তোমাকে আমার নাম্বার দিয়েছিলাম তো।
ভেবেছিলাম, তুমি হয়তো ফোন করবে।
ওটা কি ব্রিটিশ আর্মি ব্রাউনিং এল৯এ১ তোমার পকেটে?
নাকি আমাকে দেখার আনন্দে?
দুটোই...
জিম মরিয়ার্টি... হাই।
জিম?
হসপিটালের সেই জিম?
ও, আমি কি এতোই দুর্বল ছাপ ফেলেছিলাম?
অবশ্য, সেটাই তো উদ্দেশ্য ছিলো।
বেকুবি কোরোনা। রাইফেলটা আরেকজনের হাতে।
হাত নোংরা করাটা আমার পছন্দ নয়।
তোমাকে শুধু ঝলক দেখিয়েছি, শার্লক, সামান্য একটু ঝলক...
...আমার কর্মকাণ্ডের, যা আমি চালাচ্ছি, বড় জঘন্য এই দুনিয়াটাতে।
আমি একজন বিশেষজ্ঞ, বুঝলে?
তোমার মতই।
ডিয়ার জিম...
...প্লিজ ব্যবস্থা করুন যাতে আমার প্রেমিকের খবিশ বোনটা উধাও হয়ে যায়।
ডিয়ার জিম, প্লিজ ব্যবস্থা করুন যাতে আমি দক্ষিণ আমেরিকাতে পালাতে পারি।
ঠিক তাই।
অপরাধের উপদেষ্টা!
- চমৎকার। - তাই না?
কেউ আমাকে ধরতে পারেনি।
কেউ কোনদিন পারবেও না।
আমি পেরেছি।
তুমি সবচেয়ে কাছে এসেছো। এখন তুমি আমার পথের কাঁটা।
- ধন্যবাদ। - প্রশংসা হিসেবে বলিনি।
- হ্যাঁ, বলেছো। - আচ্ছা, ঠিক আছে, বলেছি।
কিন্তু আদিখ্যেতা শেষ, শার্লক।
ড্যাডির আর ধৈর্য নেই!!
আমি দেখিয়েছি, আমি কী করতে পারি।
আমি ছেড়ে দিয়েছি ওদের সবাইকে, সব সমস্যাগুলোকে...
এমনকি ৩০ মিলিয়ন পাউন্ডকেও, শুধু তোমাকে খেলায় আনার জন্য।
তাই, একটা বন্ধুসুলভ সাবধানবাণী দিচ্ছি, মাই ডিয়ার...
থামো এবার...
যদিও বেশ মজা হচ্ছিলো...
...আমাদের এই ছোট্টো খেলাটা নিয়ে।
আইটির 'জিম', সাজাটা।
খেললাম, গে হয়ে। পছন্দ হয়েছে তোমার, সেই আন্ডারওয়্যারের ইঙ্গিতটা?
- অনেক মানুষ মরেছে। - কারণ, সেটাই মানুষের নিয়তি!
- আমি থামাবো তোমাকে। - না, পারবে না।
তুমি ঠিক আছো?
মুখ খোলো, জনি বয়।
সমস্যা নেই...
- নাও। - উমম? ও...
...এটা?
মিসাইল প্ল্যান।
আজাইরা!
অন্য কোনো জায়গা থেকেও আমি এটা সহজেই যোগাড় করতে পারতাম।
- শার্লক, পালাও! - দারুণ!
আসলেই দারুণ!
তোমার নিশানাবাজ ট্রিগার চাপলেই, মিঃ মরিয়ার্টি, আমরা দুজনই মরবো।
মিষ্টি ছেলে, তাইনা? বুঝলাম, কেন ওকে আশেপাশে রাখো।
অবশ্য, মানুষ তার পোষা প্রাণীর প্রতিও খুব দুর্বল হয়ে পড়ে!
ওরা যে কী প্রভুভক্ত হয়!!
কিন্তু... ইস!
অবশ্য তোমার দুর্বলতা আমার জানা আছে, ডঃ ওয়াটসন!
বেচারা !!
ওয়েস্টউড। জানো, আমি কী করবো, যদি তুমি না থামো, শার্লক? জানো?
দাঁড়াও, ভেবে বলি...আমাকে মেরে ফেলবে?
মেরে ফেলবো?
এতোটা সরল না। মানে, এমনিতেই মারবো একদিন না একদিন।
এত তাড়াহুড়ো করার দরকার কী!
এটা জমিয়ে রাখবো বিশেষ উপলক্ষের জন্য।
না, না, না, না, না! তুমি বাগড়া দেওয়া বন্ধ না করলে, আমি পোড়াবো তোমাকে!
পুড়িয়ে ছাই করে দেবো তোমার হৃদয়।
বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়েছি, সেটা আমার নেই।
কিন্তু আমরা দুজনই জানি, কথাটা সত্যি নয়।
বেশ, চললাম তাহলে।
খুব ভালো লাগলো আলাপ করে।
যদি এখনি গুলি করি তোমাকে?
এখুনি?
তাহলে তুমি আমার চেহারায় আশ্চর্য হওয়ার অভিব্যক্তি উপভোগ করতে পারবে।
কারণ আমি আশ্চর্য হবো, শার্লক!
সত্যিই, আশ্চর্য হবো।
আর সামান্য একটু, একটুখানি...অসন্তুষ্টও!
আর এমনিতেও, বেশিক্ষণ তো উপভোগ করতে পারবেনা।
বিদায়, শার্লক হোমস।
দেখে নেবো... পরের বার!
মরিয়াটিঃ- না, পারবে না!
ঠিক আছো? তুমি ঠিক আছো?
হ্যাঁ, ভালো আছি। আমি ঠিক আছি, শার্লক...
শার্লক!
হে ঈশ্বর!!
- তুমি ঠিক আছো? - আমি? হ্যাঁ, ভালো। আমি ভালো আছি।
ঐ... যেটা তুমি... যেটা করলে তুমি...
ঐ যে, উমম... যা করতে চাইলে... ওটা, উমম... দারুণ!
- ভাগ্য ভালো, কেউ ওটা দেখেনি। - হুম?
তুমি আমার কাপড় খুলছো অন্ধকার সুইমিং পুলে !!
লোকে গুজব ছড়াবে।
আর অন্য কী কাজই বা ওরা করে!
- ও... - দুঃখিত, বাছাগণ। আমি ক্ষনে ক্ষনে মন পালটাই!
এটা আমার দুর্বলতা, সত্যি বলতে গেলে...
...এটা আমার একমাত্র দুর্বলতা!
তোমাকে এসব করতে দেয়া যাবেনা।
আর না।
তোমাকে বোঝানোর চেষ্টা করতে পারি...
...কিন্তু যাই বলবো, তা তুমি আগেই ভেবে রেখেছো!
খুব সম্ভবত আমারটা তুমিও ভেবে রেখেছো।
সাবটাইটেল বাংলা অনুবাদ --"রেজওয়ানুর রশিদ"--
Bangla Subtitel by rEzWaNuR rAsHiD
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.