All language subtitles for The.Monk.And.The.Gun.(2023).WEBRip.BSub by SAYEM

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali Download
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

ভুটান রাজ্য, ২০০৬। পরিবর্তন আসছে। টেলিভিশন এবং ইন্টারনেটও অবশেষে চলে এসেছে। এবং মহামান্য রাজাও সবাইকে দিলেন সবচেয়ে সেরা পুরস্কারটা। জনগণ এখন নিজেরাই নিজেদের শাসক বেছে নিতে পারবে।

কিন্তু জনগণ এর আগে কখনো গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় থাকেনি, অতএব, এটা সরকারেরই দায়িত্ব জনগণকে শিখিয়ে দেওয়া...

অনুবাদক: মোহাম্মদ সায়েম। সম্পাদনায়: আইনুল মান্নান, মোহাম্মদ সায়েম।

মক ইলেকশনের ক্ষেত্রে, আমরা তিনটা কাল্পনিক দল দেখবো।

প্রথমটা হলো 'নীল'। নীল হলো গিয়ে স্বাধীনতা এবং সমতার প্রতীক।

তারপর 'লাল'। লাল হলো শিল্পোন্নয়নের প্রতীক।

আর হলুদ মানে সংরক্ষণের প্রতীক।

আপনারা যেটায় ইচ্ছে সেটায় নিজের ভোট দিতে পারবেন।

THE MONK AND THE GUN

মহামহিম রাজা ঘোষণা দিলেন যে তিনি পদত্যাগ করবেন..

..যাতে আমরা 'গণতান্ত্রিক' হতে পারি।

জনগণ এখন 'নির্বাচন' প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের নতুন শাসক বেছে নিতে পারবে।

যেহেতু আমাদের দেশে এর আগে কখনো নির্বাচন হয়নি,

সেজন্য সরকার একটা 'মক ইলেকশন'-এর আয়োজন করবে।

যেন সবাই প্রক্রিয়াটা সহজে বুঝতে পারে।

ব্যাখ্যা করার জন্য সাথে আছেন নির্বাচন কমিশন প্রধান শেরিং ইয়াংডেন।

ধন্যবাদ আপনাকে।

এ এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত আমাদের সকলের জন্য।

সারাদেশেই আমাদের নির্বাচনী কর্মকর্তাগণ নিয়োজিত আছেন।

আমি নিজেও 'উরা' নামক একটা গ্রামে রওনা দিব..

..নিজের সেরাটা দিয়ে দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকার জন্য।

আশা করি, জনগণও গুরুত্বপূর্ণ এই প্রক্রিয়ায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে।

তাশি, আমার বন্দুক লাগবে কিছু।

ব্যবস্থা করে দিতে পারবি?

জানি না, লামা। বন্দুক কখনো দেখিনি।

দুটো হলেও চলবে।

পূর্ণিমার আগে লাগবে।

পুনরায় কিছু জিনিসকে ঠিক করতে হবে।

ব্যাপারটা খুব দুঃখের।

কোনটা, লামা?

এই যে আমাদের দেশটা দিন-দিন বদলে যাচ্ছে।

[পূর্ণিমার বাকি চারদিন]

ডায়ালাইসিস মেশিনটা আজ ফ্রি আছে, নিয়ে যেতে পারবে?

এই!

মনে হয় না সময় হবে, কিছুদিনের জন্য দূরে যেতে হবে।

একা যেতে পারবে না?

নাস্তা করবে না? বসো, কিছু বানিয়ে দিই।

দেরি হয়ে যাবে, এখনিই বের হওয়া লাগবে।

ওষুধ খেয়ো সময়মতো।

আপ দর্জি নতুন টিভি এনেছে!

আমাদের গ্রামের সবচেয়ে বড়ো টিভি।

গতবার সে ইয়াকের রান দেখিয়ে বেড়িয়েছিল...

সেদিন রাতে ইয়াকের মাংস খাচ্ছিল সেটা দেখানোর জন্য।

দর্জি! অভিনন্দন!

ধন্যবাদ! ধন্যবাদ!

সবাই জানে সে দুটো গোরু বেচে এই টিভি কিনেছে।

আমাদেরও পুরোনো একটা আছে।

কিন্তু আমরা কি লোক দেখিয়ে বেড়াই?

চলছে তো দেখি!

আরে! বিশ্বাসই হচ্ছে না।

আমাদের দেশের টিভি চ্যানেল! ভুটানের টিভি চ্যানেল।

এই না হলাম আধুনিক দেশ!

প্রিয় উরাবাসী, শিখে রাখুন, কীভাবে মক ইলেকশনে ভোট দিবেন।

যাতে এই লড্রো-কে জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন।

মনে রাখবেন, কীভাবে আমার পরিবার আপনাদের পাশে ছিল।

বিশ্বাসই হচ্ছে না, এই বলদেই 'নীল' দলের প্রতিনিধিত্ব করছে।

ভাবো তো, ও জিতলে দেশের কী হালটাই না হবে!

তারচেয়েও খারাপ খবর হলো, তোমার মা একেই ভোটটা দিবে।

ওরা যে দুটো শূকর মোটাতাজাকরণ করছে জানো?

নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর জন্য সেগুলো বলি দিয়ে সে ভূরিভোজনের আয়োজন করবে।

গ্রামবাসী তো যেদিকে ফ্রিতে শূকর পাবে সেদিকেই আছে।

যেমনটা হাগু পেলে মাছি ভোঁ-ভোঁ করে।

খুব ধাপ্পাবাজ শালারা।

আহ।

থিনলেকে নির্বাচনে জিততেই হবে।

লড্রোর পরিবারের দাসত্ব অনেক করা হয়েছে।

এই যুগে এসে এমন সামজতন্ত্র চলতে পারে না।

তোমার মায়ের সাথে এই ব্যাপারে একদমই একমত হতে পারব না।

এসব নিয়ে আমি ভাবি-ই না।

নির্বাচন প্রধান আগামীকাল আসছেন।

গ্রাম প্রধান চাচ্ছেন আমি যাতে উনার সহকারী হই।

ওররে! আমাদেরও টিভি আছে?

হ্যাঁ, আছে। থিনলে আংকেল এটা আমাদের দিয়েছিলেন।

আপ দর্জি যে ইয়া বড়ো একটা এনেছে, জানো সেটা?

ওটা কেনার জন্য ওর দুটো গোরু বেচতে হয়েছে, বুঝলে?

থিনলে আংকেলকে ধন্যবাদ। আমাদের আর গোরু বেচা লাগবে না।

ওহ আচ্ছা, বাবা, আমার রাবার এনেছ তো?

ধুর, একদমই ভুলে গেছি।

নির্বাচন আসছে না? সেটা নিয়ে বাবা অনেক দৌড়ের উপর আছি।

বাবা, 'নির্বাচন' মানে কী?

এই ধরো, বাবা যে আজ দৌড়াদৌড়ি করছি ফলে তুমিও একদিন 'প্রধানমন্ত্রী' হতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী হতে চাই না, আমার রাবার চাই।

ঠিক আছে, ভুটানের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীর জন্য অবশ্যই রাবার আনব।

আচ্ছা।

যাহোক, থিনলেকে নির্বাচনী প্রচারণায় সাহায্য করতে যেতে হবে।

পরে দেখা হবে।

লামা, এগুলো রাখুন আমি না আসা অবধি।

পূর্ণিমার আগেই যাতে ব্যবস্থা হয়।

জি, লামা, নিশ্চিন্তে থাকুন।

হ্যালো, হ্যাঁ, ফুরবা, আমিও সেদিকে যাচ্ছি।

ওখানের ভোটার নিবন্ধন অবস্থা একেবারেই যাচ্ছেতাই।

করছিলেনটা কী আপনারা?

বুঝলেন, আমাদের নির্বাচন CNN, BBC, এমনকি Al Jazeera-ও কভার করছে।

ভাবুন তো, পুরো পৃথিবী এমন ফাঁকা ফাঁকা ভোটকেন্দ্র দেখলে কতটা বিব্রতকর হবে!

মক ইলেকশনটা সফল হওয়া খুব জরুরি।

আচ্ছা, আচ্ছা।

আরে, তাশি গুরু দেখি! নিচে যাচ্ছেন নাকি?

জি, নিচে যাচ্ছি। আপনি?

আমি উপরে যাচ্ছি।

রন, প্লিজ।

তো শোন, রন, কেউ জিজ্ঞেস করলে..

বলবে, বৌদ্ধ মন্দির দেখতে এসেছ, আর আমি তোমার গাইড, কেমন?

বেশ, যদি তা-ই হয়, আশা করি দরটা ঠিকই আছে।

তুমি যে দরটা বলছ, তাতে ওরা বাতিল করতে উঠে পড়ে লাগবে।

শোমো, সব ঠিকঠাক তো?

কেমন আছিস?

ইদানীং, তুই আর ইউফেল আমায় দেখতেও যাস না।

- খাবার-দাবার আছে তো? - আমাদের নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।

চোফেল কই গেল?

ওর উচিত তোকে সাহায্য করা।

অকর্মা জামাই।

শুরুতেই সতর্ক করেছিলাম দুধ আর পানি মিশাইস না।

আমাদের ঐতিহ্য বজায় রাখা লাগবে।

লড্রোকে নির্বাচনে জিততেই হবে।

টাকা-পয়সা লাগবে?

আমাদের চলে যাচ্ছে।

এগুলো দিয়ে ইউফেলকে মিষ্টি কিনে দিস।

ধন্যবাদ, মা।

- আসি তাহলে। - দুঃখিত! আপনাকে সাহায্য করতে পারিনি।

ব্যাপার না। অন্য বাড়িতে দেখব।

আসলে, বন্দুক আমি জীবনেও দেখিনি।

আমিও দেখিনি।

আপ পেনজোর কাছে থাকতে পারে, উনার বাড়িতে গিয়ে দেখুন।

ধন্যবাদ, গিয়ে একবার দেখব।

- আসলাম। - আসুন...

- তো আজকের জন্য প্রস্তুত? - হ্যাঁ।

আমরা আমাদের কন্টাক্ট করা লোকটার বাড়িতে যাব।

পাঁচ ঘণ্টার পথ।

- সুপ্রভাত! - বসুন, বসুন..

সুপ্রভাত।

সুপ্রভাত, এখানে বসুন।

কিছু দেবো?

উমম.. একটা কোক।

বারান্দার কাস্টমারদের কী লাগছে দেখো।

তো, চাচারা..

আসন্ন মক ইলেকশন সম্পর্কে জানেন তো?

শুনেছি নতুন শাসককে নির্বাচন করা লাগবে।

কিন্তু কাজ কী তার?

আমাদের তো মহামহিম আছেন-ই।

আহ, এটা ভারতের ওই রাজনৈতিক ব্যবস্থাটা।

নেতারা একজন আরেকজনের চুল ছেঁড়াছিঁড়ি করে।

চেয়ার ছুড়াছুঁড়ি করে,

সেসব এখন আমাদের দেশেও?

এটা তাৎপর্যপূর্ণ একটা বিষয়।

এতদূর আসা কেবল আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে।

অন্যান্য দেশে এই অধিকারের জন্য খুনোখুনিও হয়ে যায়।

রাজা সে অধিকারটা আমাদের দিয়েছেন,

অধিকারটা কীভাবে উপভোগ করা যায়, সেটা অন্তত শেখা উচিত!

- হ্যাঁ। - নয় কি?

হ্যাঁ।

নিন, ধরুন।

মক ইলেকশনে অবশ্যই আসবেন কিন্তু।

এই, নায়কের নামটা কী?

এটা জেমস বন্ড।

ওরা ডাকে 007।

007

তোর বাবা একজন দেশদ্রোহী, বহিরাগতদের সমর্থন করে।

ভাগ আমাদের গ্রাম থেকে।

শুভ অপরাহ্ণ! আমার নাম ফুরবা।

আমরা নির্বাচন অফিস থেকে এসেছি আপনাদের ভোট দেওয়া শেখাতে।

মক ইলেকশনের আর ৩ দিন বাকি।

সেজন্য কাল্পনিক দল থেকে যেকোনো একটা দল বাছাইয়ের সুযোগ পাবেন।

সেগুলো হলো: লাল, নীল আর হলুদ।

যেটাতে আপনার মন চাইবে সেটাতে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

মক ইলেকশনের আগে, সবাইকে নিবন্ধন করা লাগবে।

- আদাব। - আদাব।

- আপনার নামটা বলুন.. - ওয়ান্ডা।

- ওয়ান্ডা কী? - শুধুই 'ওয়ান্ডা'।

শুধু 'ওয়ান্ডা'?

- জন্মতারিখ বলুন? - কাঠ খরগোশ।

না, না.. তারিখ-মাস-সাল।

তা ঠিক জানি না।

আব্বা-আম্মা বলেছে আমার জন্মের সময় রাজার বয়স ছিল পনেরো।

আচ্ছা, ঠিক আছে।

একজনও কি জানেন না?

এমনটা হলে, বাড়ি যান সবাই।

বাড়ি গিয়ে জন্মসাল জেনে আবার আসুন।

অবশ্যই আসবেন কিন্তু। যান, যান, যারা জানেন না তারা কষ্ট করে যান..

এই বালের দিন-তারিখ আমরা জানবটা কীভাবে?

ম্যাম, খুব জলদি এসে পড়লেন।

উনি শোমো।

গ্রাম প্রধান আমাদের সাহায্যের জন্য উনাকে পাঠিয়েছেন।

ফুরবা সাহেব, আসলেন আমার আগে..

অথচ সবকিছু তো দেখি এখনো অগোছালো।

আমি না থাকলে তো কিছুই করতে পারবেন না!

মনে তো হচ্ছে, ঘরে-ঘরে গিয়ে সবাইকে নিবন্ধন করানো লাগবে।

- কাল সকাল থেকে যাব। - জি, ম্যাম।

অকর্মা!

- উনি যে আসছেন, জানালে না কেন? - সরি, স্যার।

এখন বাকিদের নিবন্ধন করা শুরু কর।

জি, স্যার।

আদাব, আপনার নামটা?

আমি ভোট দিতে যাচ্ছি, আপনি যাচ্ছেন তো?

দেশের অর্থনীতি নিয়ে চিন্তিত? তাহলে যাবেন, গিয়ে ভোট দিবেন।

স্কুল কেমন কেটেছে, সোনা?

এ কী! কী হয়েছে?

বল, কী হয়েছিল?

কিছু না, খেলতে গিয়ে পড়ে গেছি।

জামা-কাপড় তো একদম ময়লায় ভরে গেছে।

- বল, কী হয়েছে? - কিছু হয়নি।

অবশ্যই কিছু একটা হয়েছে। লুকাবে না।

দেশকে ভালোবেসে থাকলে, অবশ্যই ভোটে অংশগ্রহণ করবেন।

মা, ম্যাম আজ আমাকে বকা দিয়েছে।

রাবার ছিল না বলে।

রুমাল দিয়ে ভুলগুলো মুছেছি।

এতে পেছনের পৃষ্ঠা ছিঁড়ে গেছে।

ম্যাম সেজন্য খুব বকা দিয়েছে।

সবগুলো পৃষ্ঠা ছিঁড়ে গেছে।

আচ্ছা, সোনা, কাল মার্কেট থেকে তোমাকে একটা রাবার কিনে দিব।

মা..

বন্ধুরা বলেছে বাবা নাকি 'লাল রং'-কে সমর্থন করছে।

ওরা যা ইচ্ছে বলুক। ওসবে কান দিও না।

কাজিনরা বলেছে, নানুর সাথে বাবার দ্বিমত আছে, সেজন্য তিনি দেশদ্রোহী।

আসলেই কি?

- আদাব! - আদাব, বেনজি সাহেব!

এখানে বসুন।

আসছেন জানালে তো, মধ্যাহ্নভোজনের জন্য একটা ভালো আয়োজন করতাম।

বুমো, জিনিসটা আন।

আপনাকে এই বিদেশির কথাই বলেছিলাম।

আমার খুব কাছের বন্ধু, রন।

রনের পেশা মূলত বিভিন্ন ধরনের বন্দুক সংগ্রহ করা।

ওর কাছে বন্দুক বেচা নিয়ে ভাববেন না।

সে খুবই জ্ঞানী এবং সম্মানিত একজন মানুষ।

ওর কাছে বেচাটাই ভালো হবে।

বাপ-দাদাদের আমল থেকে এটা আমাদের কাছে।

এটা আমেরিকান গৃহযুদ্ধের একটা বন্দুক।

তবে, সিরিয়াল নাম্বারটা দেখ।

এরকমটা পাওয়া যায় না।

গত ত্রিশটা বছর ধরে সারা দুনিয়া জুড়ে এটা খুঁজছিলাম।

এই বন্দুকটা অনেকটা...

ওদের দেশের মানুষের জন্য হারিয়ে যাওয়া কোনো ধন।

উনাকে বল, পঁচাত্তর হাজার ডলার দিব।

পঁচাত্তর হাজার?

সৌভাগ্য মহানদের চরণে লুটিয়ে পড়ে একদম।

সে এই বন্দুকের জন্য..

৩৫ লাখ টাকা দিতে চাচ্ছে।

ওরে বাপরে...

এ তো অনেক টাকা!

এটা তো কোনো ডায়মন্ড-টায়মন্ড না।

- আমার ভালো ঠেকছে না। - না, না, শুনেন।

বুঝিয়ে বলছি, আপনার ঋণ সম্পর্কে তাকে বলেছি।

সে আপনার পরিস্থিতি বুঝতে পেরেছে। সেজন্যেই এত দাম দিচ্ছে।

সাহায্য করতে পারবে বলে বরং খুশি।

এতে হবে না?

সমস্যা নেই, পঁচাশি হাজার ডলার পর্যন্ত উঠতে পারবো।

না, না! উনি আরও ভাবছেন বেশি হয়ে গেছে।

আরও কম নিতে চাচ্ছেন।

কী?!

তাহলে, পনেরো লক্ষ হলেই চলবে?

আসলে, পনেরো লক্ষও অনেক বেশি, তাও নেয়া যায়।

- তাহলে এ কথাই থাকল? - হ্যাঁ।

এই, রন, চুক্তি হয়ে গেছে।

দাঁড়াও, কী বললে?

বত্রিশ হাজার ডলার।

- নিশ্চিত তো? - হ্যাঁ, নিশ্চিত।

তাহলে, সব ঠিকঠাক।

একটা ব্যাংক আছে এখান থেকে খানিকটা দূরে।

টাকা তুলে তারপর কাল সকালে আসব। কী বলো?

জনাব, কাল আপনাকে টাকা দিব, আর আপনি বন্দুকটা দিবেন।

ঠিক আছে।

আহ, হাঁ। ঠিক আছে।

ওকে, দাও আমাকে।

মনে রাখবেন, টাকা কিন্তু পনেরো লাখ।

দেখে-শুনে রাখবেন।

আসি তাহলে।

- আদাব, আপ পেনজোর। - আদাব।

- ভালো আছেন? - জি।

- ভালোই লাগছে। - হ্যাঁ।

- ঘরে চলুন। - জি।

বলো..

আমি আমাদের ভালোর জন্যেই এখন ব্যস্ত আছি।

কিন্তু বিল দিতে হবে।

টাকা লাগলে মেট্রেসের নিচে দেখ।

রাখা লাগবে।

- এটা বেনজি সাহেবের বাসা? - জি।

- ডাকুন উনাকে। - এখন বাসায় নেই।

কোথায় গেছেন?

জানি না, কয়েকদিন পর বাড়ি ফিরবে বলেছে।

- আপনি? - উনার স্ত্রী।

বেনজি সাহেব পুরোনো জিনিসপত্রের ব্যাবসা করে?

না, এটা তার মা-বাবা দিয়েছিল।

বেনজি সাহেব কোনো বিদেশি অতিথির সাথে আছে?

অনুমান করো তো, কী খুঁজে পেয়েছি।

হ্যাঁ, এটা এখানকার একজন ভুটানি কৃষকের কাছে ছিল।

না, উনার কোনো ধারণাই নেই এটার মূল্য সম্পর্কে।

বিশ্বাস হচ্ছে, কতগুলো বছর পর পেলাম?

হ্যাঁ।

ওকে, কালকের মধ্যে পেয়ে যাব।

কালকে কল দিও।

এই বিদেশি সম্ভবত অস্ত্র পাচারের সাথে জড়িত।

মনে হচ্ছে, সে ভুটানে ঢুকেছে।

চিন্তার বিষয় হলো উনার এখানে কাজ কী।

অনুসন্ধানে জানতে পেরেছি বেনজি সাহেব ছিলেন উনার গাইড।

- এই নিয়ে কিছু জানেন? - আমি এসবের কিছুই জানি না।

বেনজির অস্ত্র পাচারে জড়িত থাকার কোনো সম্ভাবনা নেই।

মানে, ভুটানে কি আদৌ বন্দুক আছে?

তো এটাকে খেলনা মনে হচ্ছে?

বেনজি সাহেব কল দিলে আমায় জানাবেন।

আচ্ছা।

ডায়ালকৃত নম্বরটি বন্ধ আছে।

এই নিন, গুরু।

বাপরে, বেশ ভারী।

হ্যাঁ, অনেক ভারী জিনিস।

এটা একটা মূল্যবান প্রাচীন বন্দুক।

শোনা যায়, এটা দিয়ে যুদ্ধে অনেক তিব্বতিকে হত্যা করা হয়েছিল।

এটার কথা আমরা ভুলেই গিয়েছিলাম।

সিন্দুকে এটা ফেলে রেখেছিলাম।

ওই বিদেশি আসা পর্যন্ত কেউ এটার কথা ভাবেওনি।

- এটা এখনো কাজ করে? - অবশ্যই করবে।

লামা এটা দিয়ে কী করবেন?

জানি না।

উনার ধ্যানের এখনো দু'বছর বাকি রয়েছে।

হঠাৎ করেই বন্দুক চাইলেন।

আমি লামার কাছে চিরঋণী।

আমরা গ্রামের সবাই সুখে-শান্তিতে আছি..

উনার প্রার্থনা আর আশীর্বাদের জন্যেই।

প্রয়োজন হলে, বিনা সংকোচে নিয়ে যান।

এভাবে নেয়া ঠিক না।

- এগুলো রাখুন, বাকিটা পরে দিব। - লাগবে না, লাগবে না।

- ন, এটা ঠিক না। - নিতে পারব না।

- না, নিতেই হবে, ধরুন। - না, ভিক্ষু থেকে একদমই নিতে পারব না।

তাহলে, এই সুপারিগুলো রাখুন।

এগুলো নিতে সমস্যা নেই।

তাহলে আমাদের মধ্যে আর কোনো দেনা-পাওয়া থাকলো না।

লামা পূর্ণিমার দিন একটা অনুষ্ঠান করবেন।

আপনি মেয়েকে অবশ্যই আসবেন।

যাব, যাব। লামার হয়তো বন্দুকের সাথে বুলেটও লাগবে।

হ্যাঁ, লাগবে, লাগবে।

[পূর্ণিমার আর দুইদিন বাকি]

ম্যাম, আমরা সবার ঘরে ঘরে গিয়েছিলাম কিন্তু...

গোটা পৃথিবী আমাদের উপর চোখ রাখছে।

মাত্র ১০% লোকের নিবন্ধন একদম কম হয়ে গেছে।

গণতন্ত্র-ই হলো GNH-এর শিখর। [Gross National Happiness]

অন্যান্য দেশের মতো আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে।

ওরা কারা?

কিছু সরকারি বলদ জনগণকে ভোট দেওয়া শেখানোর চেষ্টা করছে।

জনগণকে ভোট দেয়া শেখানো লাগে নাকি?

চল, রন।

দেখুন, বন্দুক হাতে একজন ভিক্ষু না?

হ্যাঁ, তাশি গুরু। আমাদের লামার সেবক।

- আদাব, গুরু, কোথায় যাচ্ছেন? - আমাদের উরার মঠে যাচ্ছি।

কোনো সমস্যা হয়েছে?

আমরা সেদিকেই দিকে যাচ্ছি, উঠুন, নামিয়ে দিব।

আদাব, তাশি গুরু। কোথায় গিয়েছিলেন?

আপ পেনজোর বাড়িতে।

- উনি নির্বাচন অফিস প্রধান। উঠে পড়ুন। - ভিক্ষুর সেবা করে কিছু নাহয় পুণ্য অর্জন করি।

হ্যাঁ, হ্যাঁ, এখনো রাস্তায়। কিন্তু, কী এক ব্যাংক রে, বাবা!

হ্যাঁ, টাকা তুলেছি, ব্যাগে আছে।

ওহ, ওকে। এসে পড়েছি প্রায়। জানাব তোমাকে।

খাবেন?

চা?

এই নিন।

সব আপনার জন্য।

কষ্ট পেয়ো না, ওটা দিয়ে ফেলেছি।

কী বললেন?

কাউকে দিয়ে দিয়েছেন?

- উমম। - কী বললেন?

বুঝলাম না ব্যাপারটা।

আপনি টাকা নিবেন, আমরা গুলি নিব, এটাই তো কথা ছিল।

হ্যাঁ, কিন্তু দেরি করে ফেলছেন।

আমাদের তো কথা হয়েছিল।

কাকে দিয়েছেন?

তো, সাথে ওটা কেন?

- কোনটা? - এইযে এটা।

ওহ, এটা লামার জন্য।

কী করবেন উনি?

তা ঠিক জানি না।

লামা শুধু বলেছেন, পুনরায় কিছু জিনিসকে ঠিক করতে হবে।

আচ্ছা।

একজন ভিক্ষুকে?

আচ্ছা, শোনেন...

বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে দিলেন।

কোন ভিক্ষু?

ভিক্ষু কেন আমাদের বন্দুক নিয়ে যাবে?

উনি উরার মঠ থেকে এসেছিলেন।

লামা নাকি একটা বন্দুক চেয়েছেন।

তাই বিনামূল্যে দিয়েছি।

লামার কাছে বন্দুক?

লামা কেন বন্দুক চাইবে?

দেশে কী হতে যাচ্ছে?

তো, আপনারা এখানে কী করছেন?

দেশকে আধুনিকায়ন করতেই আমাদের আসা।

গ্রামের মানুষকে শেখাব কীভাবে ভোট দিতে হয়।

- এই সম্পর্কে জানেন? - কী সম্পর্কে?

- নির্বাচন। - তাইলে, জানি না।

- শূকরের ওই নতুন রোগটা নাকি? - শূকরের রোগ?

না! এটা নতুন শাসক বাছাইয়ের একটা প্রক্রিয়া।

ওহ, তাই।

মহামহিমের কী হয়েছে?

মহামহিম এখনো আছেন, তবে শাসন করার ক্ষমতা ছেড়ে দিচ্ছেন।

কেউ অযথা কেন এমন করবে?

কারণ গণতান্ত্রিক হওয়া মানেই আধুনিক হওয়া।

তাই...

আগে এসব কখনো শুনিনি।

কারণ ভুটানে এটা একদম নতুন।

এটা কি বুদ্ধর নতুন কোনো দীক্ষা?

না, তেমন না।

ওহ, তাহলে নিশ্চিত হব কীভাবে এটা যে আমাদের জন্য মঙ্গলজনক?

বুদ্ধ ২,৫০০ বছর আগে আমাদের কী শিক্ষা দিয়েছেন তাতে কিছু যায় আসে না।

এটা আধুনিক একটা ব্যাপার, অবশ্যই ভালো কিছু হবে।

তো, কোন দিকে গেছেন উনি?

মঠে।

- বের হয়েছিল কখন? - সকালে।

- গাড়িতে না কি হেঁটে? - হেঁটে।

হেঁটে গিয়েছেন?

রন, মনে হয় উনাকে ধরতে পারব। চল..

- গুরু! - জি?

লামাকে মক ইলেকশনে আসতে বলবেন।

উনার উপস্থিতি মানুষকে আরও স্বতঃস্ফূর্ত করবে।

না, পারব না।

লামা পূর্ণিমার দিন জরুরি কিছু করার প্ল্যান করছেন।

আর দুদিন বাকি, তাই না?

আমাদের মক ইলেকশনের দিন।

লামা কীসের প্ল্যান করছেন?

তা সঠিক জানি না।

শুধু বলেছেন, কিছু জিনিসকে ঠিক করার জন্য এটা লাগবে।

এখানে থামুন। আমি এখানেই নামব।

- নামিয়ে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। - পূর্ণিমার দিন দেখা হবে।

- লামার অনুষ্ঠানে আমরা সবাই আসব। - ঠিক আছে।

হুম.. একদম মিলে গেছে!

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়।

মক ইলেকশনটা সেখানেই করা যাক।

জি, ম্যাম। প্রচুর মানুষের সমাগম হয় এসব অনুষ্ঠানে।

গুরু, গুরু, দাঁড়ান। একটু দাঁড়ান।

জরুরি কথা আছে আপনার সাথে।

জি, বলুন।

আমার নাম বেনজি,

আর... ও আমার বন্ধু রন।

আমেরিকা চিনেন? অনেক দূরের দেশ।

সে অনেক ঝক্কি-ঝামেলা পার হয়ে এতদূর এসেছে এই বন্দুকটার জন্য।

গতকাল, আমরা আপ পেনজোর বাড়িও গিয়েছিলাম।

উনার ঋণের কথা জানালে আমি উনাকে সাহায্যের কথা বলি।

রনের সাথে উনার মধ্যে একটা চুক্তিতে আমি সাহায্য করি।

এই বন্দুকটা কেনার কথা সব ঠিকঠাক।

কিন্তু আপনি গিয়ে নিয়ে আসলেন।

- আমরা এটা ফেরত পেতে পারি? - কী বলেন?

রসিকতা করবেন না তো।

এটা খুঁজে বের করতে কতটা কষ্ট হয়েছে জানেন?

দাঁড়ান! ফ্রিতে না! কিনেই নিব।

থামুন! থামুন! একটু থামুন।

থামুন না!

আপনি আমার কথাটা ঠিক বুঝতেছেন না।

- এত টাকা দিয়ে কী করেন? - সব আপনার জন্য।

বিনিময়ে স্রেফ বন্দুকটা দিন।

না, না, এত টাকা দিয়ে কিইবা করব?

আমার টাকার প্রয়োজন নেই, বন্দুক প্রয়োজন।

- ভিক্ষুও-বা বন্দুক দিয়ে কী করবে? - এটা লামার জন্য।

অনেক খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে এটা পেয়েছি।

রন, মনে হচ্ছে উনি টাকা নিবেন না।

দেখ, উনাকে বল অনেক অনেক ডলার দিব।

কী বলে?

আপনাকে এটার জন্য অনেক অনেক ডলার দিবে বলছে।

দাঁড়ান, দেখাচ্ছি আপনাকে।

এই টাক মাথাওয়ালা লোকের সবুজ চকচকে নোটটা দেখছেন?

এটা বিশ্বের সবচেয়ে দামি মুদ্রা।

আজ আপনার সৌভাগ্যের দিন।

কতটা দামি সেটা নাহয় বাদ-ই দিলাম,

কিছু মানুষ তো এই ডলারের জন্য নিজের কিডনিও বেচে দেয়।

আচ্ছা, বন্দুকের জন্য কত চায় বলতে বল। যত লাগে দিব।

পায়ে পড়ার মতো অবস্থা বাচারার।

আপনি বৌদ্ধের পোশাক পরিধান করেন,

তাই বলা-ই যায় অত্যন্ত সহানুভূতিশীল একজন মানুষ।

দিয়ে দিন না, প্লিজ।

আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

জি, একজন ভিক্ষু হিসেবে আমি অন্যকে সাহায্য করতে বাধ্য।

কিন্তু এখন পারছি না, দুঃখিত।

স্যার এসে বলবেন, 'নীল চাই', কেমন?

তারপর, আহ, এইযে কালো শাড়ি পরা দাদি..

জি, এখানে আসুন।

নিন, আপনি এটা ধরুন।

স্যার এসে জোরে বলবেন, 'নীল চাই,' বুঝেছেন?

যখন উনি বলবেন, 'নীল চাই,'

তখন এপাশের সবাই বলবেন, 'নীল নয়, লাল চাই!'

শুরু করার আগে, আমরা দু-ভাগে ভাগ হয়ে যাই।

মাঝখান থেকে, আপনারা ডানে, আর এপাশের সবাই বামে যান।

বামের সবাই নীল আর ডানের সবাই লাল, বুঝেছেন?

এবার শুরু করার জন্য বলুন, 'নীল চাই।'

আচ্ছা। নীল চাই।

- আরেকটু জোরে। - নীল চাই!

- আরো জোরে বলুন। - নীল চাই!

হ্যাঁ, এভাবেই। নীল চাই!

- লাল চাই! - নীল চাই!

হয়েছে, হয়েছে! অনেক হয়েছে!

আরেকটু বেশি করে জোশ দেখান!

যেন আপনারা একে-অপরের দুশমন!

আরও জোরসে! তেজ দেখিয়ে!

যেন এই বুঝি ঝাঁপিয়ে পড়বেন!

কিন্তু আসল মারামারি না, মারামারির হাবভাব আরকি!

চরম ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ করবেন। আরেকবার হোক!

- নীল চাই! - লাল চাই!

- লাল না, নীল চাই! - লালের হবে জয়!

আমাদের এত অভদ্র হতে শেখাচ্ছ কেন? আমরা তো এরকম নই।

দাঁড়ান, দাঁড়ান..

উনি টাকা নিতে চাচ্ছেন না কেন?

জানি না'রে, বদ্দা, উনার গুরু কিছু একটা করবে এটা দিয়ে।

গুরু?

এটা কী করছি?

একটু দাঁড়াবেন?

শোনেন! এটা পুরোনো একটা বন্দুক, কাজ নাও করতে পারে।

দেখুন, একদম পুরোনো।

আপনার কাজে আসবে না।

হোক, আপ পেনজোর বলেছে, যুদ্ধে এটা দিয়ে শত-শত তিব্বতিকে মারা হয়েছিল।

হ্যাঁ, তবে ওই যুদ্ধটা হয়েছিল কয়েক শতাব্দী আগে।

ওসব পুরোনো কথা।

লোহাটা দেখেন, একদম মরিচা পড়ে গেছে।

নতুন নিলে আরও ভালো হয় না?

হ্যালো, কী হচ্ছে?

বলেছি, এটা পুরোনো বন্দুক। একটা নতুন কিনলে আরও ভালো হবে।

আচ্ছা, উনাকে বল, আমি যে টাকা দিব, তা দিয়ে দশটা নতুন বন্দুক কেনা যাবে।

মনে হচ্ছে আগের জীবনে অনেক পুণ্য কামিয়েছেন।

তাকে বন্দুকটা দিন। সে যে টাকা দিবে তা দিয়ে এমন নতুন দশটা কিনতে পারবেন।

মানুষ মারা যাবে এমন বন্দুক! দারুণ চুক্তি!

আচ্ছা, আচ্ছা, বসুন। সত্যিটা বলছি।

মরিচা পড়া বন্দুকের জন্য এমন চুক্তি আর পাবেন না।

এই সুযোগ একদম স্বর্গ থেকে এসেছে।

আপনি একজন মহৎ ভিক্ষু বলে।

এই সুযোগ বিধাতা আপনাকে একদম নিজ হাতে দিয়েছেন।

আসলে, অতটা লাগবে না।

স্রেফ দুটো হলেই চলবে।

দিলাম নাহয় দুটো।

রন একজন বন্দুক বিশেষজ্ঞ।

ওর দেশে মানুষের চেয়ে বন্দুকের সংখ্যা বেশি।

- মানুষের চেয়েও বেশি? - হুম!

বাপরে, অদ্ভুত রকমের দেশ!

বন্দুক তাদের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ।

তাদের সংবিধানের...

দ্বিতীয় খণ্ডে নাগরিকগণের বন্দুক রাখার অধিকারের কথা বলাও আছে।

এখন সময় নষ্ট না করে, বন্দুকটা দিয়ে দিন।

আচ্ছা, সেজন্য দুটো বন্দুক লাগবে।

আপনাকে দুটো বন্দুক দিব, একদম নতুন থেকে।

চুক্তিটা ভালোই মনে হচ্ছে, তাই না?

অবশ্যই, ভালো চুক্তি।

- এই, রন, রন। - বল?

পুরোনো এই বন্দুকের বিনিময়ে দুটো নতুন বন্দুক, ঠিক আছে?

- দুটো বন্দুক এটার জন্য? - হ্যাঁ।

আচ্ছা, বল যে, এই লিস্টের যেটা পছন্দ হয় সেটাই উনি নিতে পারবে।

ঠিক আছে।

দেখুন, এগুলো দেখুন। যেটা মন চায় নিতে পারবেন।

এটা নিবেন?

- এটা কেমন? - না।

পছন্দ হচ্ছে না?

এটা? এটা আমেরিকান রাখালরা ব্যবহার করে।

এটা কড়া একখান জিনিস।

না, বেশি ছোটো।

- তাই? - একটু বেশিই ছোটো!

এটা লাগবে আমার!

টিভিতে জেমস বন্ড 007 এটাই ব্যবহার করেছিল।

এটাই লাগবে! বলুন উনাকে।

- এই বড়োটা? - হ্যাঁ, এটাই।

এটা কিন্তু সুযোগের অপব্যবহার হয়ে যাচ্ছে!

- ওহ! - না, না, আপনার নিরাপত্তার কথা ভাবছি।

যেমন বড়, তেমন ভারীও হবে।

আর ভারী হলে, বহন করতেও বেগ পেতে হবে।

ছোটো হলে, হালকা আর সহজ হবে।

- না, এটাই লাগবে! - এটা আরও ভালো হবে।

না, এটাই লাগবে। এটার কথা বলুন।

কী?

ও তো নাছোড়বান্দা, বদ্দা, বলছে দুটো লাগবে।

দুইটা AK-47?

AK-47 দিয়ে সে ভুটানে করবেটা কী?

ওকে।

হ্যালো, ছোট্ট একটা সমস্যা হয়েছে।

ভিক্ষুটা বন্দুকের বিনিময়ে দুটো AK-47 চাচ্ছে। দুটো..

গুরু, গুরু..

দুঃখিত, আপনি বেশি সময় নিচ্ছেন। আমাকে লামার কাছে ফেরা লাগবে।

না, না, দাঁড়ান।

আমরা আপনাকে বন্দুক দিব। কয়েকদিনের মধ্যে পেয়ে যাবেন।

কয়েকদিন? অত সময় নেই।

পূর্ণিমার আগেই লাগবে আমার।

পূর্ণিমার আগে?

পরশু দিন? এটা তো তাড়াহুড়ো হয়ে যাচ্ছে।

পূর্ণিমার দিন না পেলে, সেগুলো কোনো কাজেই আসবে না।

রন, উনি বলছেন, পরশুর মধ্যেই বন্দুক লাগবে।

- মজা করো নাকি? - না, উনি নাছোড়বান্দা।

মনে হচ্ছে না রাজি করানো যাবে।

ঠিক আছে, কোনো একটা উপায় বের করা লাগবে।

সম্ভবত ভারত থেকে আনা লাগবে।

ফোন ব্যবহার করেন?

চিন্তা করবেন না, এক কাজ করুন-

পূর্ণিমার দিন নিচের ওখানে আমার সাথে দেখা করবেন।

ওই বৌদ্ধস্তূপেই আমরা বন্দুক বিনিময় করব।

ওয়াদা রাখবেন কিন্তু।

চিন্তা করবেন না।

- মিথ্যা বলা মহা পাপ। - হ্যাঁ, জানি।

ওররে, আমার প্রিয় খাবার।

মুলা দিয়ে শুকরের মাংস!

তোমার মা এসেছিল নাকি?

আবারও ডজনখানেক অভিযোগ করে গেছে?

কালকে বাজারে ভোটার নিবন্ধন হবে।

ইউফেলকেও নিয়ে যাব।

ওর কাজ কী সেখানে?

ওর রাবার না থাকায় রুমাল দিয়ে খাতা মুছেছে।

পৃষ্ঠা ছেঁড়ায় ম্যামের বকা খেয়েছে।

ইউফেল..

সমস্যা নেই। কাল ম্যামের সাথে দেখা করব।

বলব, রাবার আনতে ভুলে গেছিলাম।

না, যেতে হবে না।

তোমার স্কুলে যাওয়া ঠিক হবে না।

নিজের মেয়ের স্কুলে যেতে সমস্যা কোথায়?

তুমি লড্রো আর থিনলের নির্বাচনের সাথে জড়িত আছ।

এতে আমাদের পরিবারের সমস্যা হচ্ছে।

এমনকি ইউফেলের স্কুলে সবাই এটা নিয়ে কথা বলাবলি করছে।

আমাদের সবার জন্যই তো এসব করছি; ইউফেলেও।

থিনলে যখন নির্বাচনে জয়ী হয়ে মন্ত্রীর পদ পাবে,

তখন সে আমাদের সমর্থনের কথা স্মরণ করবে।

সে ইউফেলকে শহুরে স্কুলে পড়াতেও সাহায্য করবে।

করুণ এই গ্রামীণ জীবন থেকে বের হতেও।

এখানে পুরো মাসজুড়ে মানুষ মেতে আছে...

এক টুকরো শূকরের মাংস খাওয়া নিয়ে।

কিছু আছে আমাদের জন্য এখানে? বলো! শুনি একটু!

রন..

আদাব।

শোনো, দুই কাপ চা...

বারবার কল দিচ্ছ কেন?

পুলিশ?

কী? কেন এসেছিল?

হ্যালো?

হ্যাঁ।

বিদেশির ছবি?

দেখতে কেমন ছিল?

হ্যাঁ, তারপর?

অস্ত্র?

অস্ত্রের সাথে জড়িত হব কেন? পাগল হয়েছি নাকি!

দুশ্চিন্তা কোরো না, আমি স্রেফ ওর গাইড, বুঝেছ?

আচ্ছা, শোন।

একশ রাউন্ডসহ দুইটা নতুন AK-47 পেয়েছি।

একশ রাউন্ড?

হ্যাঁ, ওই ভিক্ষু সেগুলো দিয়ে চাইলে গোটা পাহাড় ধসিয়ে দিতে পারবে।

ঠিক আছে? আবার করতে হবে নাকি?

কয়টা পেলে?

আপাতত এই একটা-ই।

আপ পেনজোর এটা আপনাকে উপহার-স্বরূপ দিয়েছেন।

এটা পেতেও কষ্ট কম হয়নি।

মনে হচ্ছিল, গোটা পৃথিবী এটার পেছনে লেগে আছে।

আপ পেনজোর এই বুলেটগুলোও দিয়েছেন।

উনি বললেন, এটা দিয়ে যুদ্ধে অনেক তিব্বতি মারা হয়েছিল।

এটার তাহলে অনেক তেজ, না?

জি।

ভালো, ভালো।

ওই ভদ্রমহিলা আমাকে গাড়ি করে নামিয়ে দিয়েছেন।

সেদিন রেডিয়োতে যার খবর শুনেছিলাম, তিনি।

- ওহ, এসে গেছে? - জি।

এটা দেখতে পেয়েছে?

জি, দেখেছে।

নির্বাচনী কাজকর্ম নিয়ে উনাকে ব্যস্ত দেখাচ্ছিল।

মনে হচ্ছিলো, সবাই অনেক দৌড়ের উপর আছে।

দারুণ, সব ঠিকঠাকই যাচ্ছে।

জি।

[পূর্ণিমার আর একদিন বাকি]

ইউফেল, এটা দিয়ে রাবার কিনে নাও।

তারপর সোজা স্কুলে যাবে, কেমন? আম্মুকে কাজে যেতে হবে।

আচ্ছা।

আবার এখানে আসতে কেমন সময় লাগবে?

পুরো একটা দিন।

সময় মতো ফিরতে পারব তো?

আমাদের নেমেই,

কালকের জন্য তৈরি হওয়া লাগবে।

- খুব একটা সময় নেই। - জি, লামা।

- বন্দুক এনেছ তো? - এনেছি।

- বুলেট? - জি, এনেছি।

শোমো, একটা ছোটো মেয়ে এসেছে।

ওহ, না, এখানে এসেছে?

আম্মু, এই মার্কেটটি একদম ভালো না। কারো কাছেই রাবার নেই।

- হাই, নাম কী তোমার? - আমার নাম ইউফেল।

আসলে আমি..

..জানতাম না তোমার যে মেয়ে আছে।

এই নাও, রাবার।

রাবারটা ছোট্ট ম্যামের জন্য।

তোমার সম্ভবত কলমও লাগবে, তাই না?

আম্মু, দেখ, বিদেশি কলম আর রাবার।

এগুলো আমার বন্ধুদেরকে দিব, এবার হয়তো ওরা কথা বলবে?

কারা কথা বলে না?

আসলে, ম্যাম, এই ব্যাপারে আপনাকে বলতে চেয়েছিলাম।

ইউফেল, বসো এখানে।

কিছু আঁক.. বসো, শোমো।

বসো।

আসলেই কি এসবের কোনো দরকার আছে?

বলেছিলাম তোমাকে,

যে পরিবর্তনের জন্য বিশ্বের সবাই লড়ে যাচ্ছে, সে সুযোগটা আমাদের উপহার দেওয়া হয়েছে।

ঠিক। তবে, যদি নাই-বা লড়তে হয়,

তাহলে সেটা নিশ্চয়ই আমাদের দরকারও নেই।

আমার মতো একজন গ্রামবাসীর কাছে,

পরিবারই হলো জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস।

যখন থেকে নির্বাচন আমাদের গ্রামে এসেছে,

আমার পারিবারিক জীবন একদম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

আমার স্বামী পুরোটা সময় প্রতিবেশীদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ব্যস্ত থাকে।

মা আর স্বামী কেউ কারো সাথে কথাও বলে না, শত্রু হয়ে গেছে।

এই সমস্যা ইউফেলের স্কুল পর্যন্তও পৌঁছে গেছে।

ওর বাবার কারণে ওর সাথে ওর সহপাঠীরা খেলাও করে না।

প্রক্রিয়াটা আমরা একদম নতুন শুর করেছি তাই।

খুব শীঘ্রই কেটে যাবে, তারপরেই সবাই সুখী-সমৃদ্ধ হবে।

কিন্তু, ম্যাম, আমরা সবসময় সুখেই ছিলাম।

চল, ইউফেল।

ম্যাম, ছবিটা আপনার জন্য।

ম্যাম, কলম আর রাবার দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

হ্যালো? জি, স্যার।

এখনো ট্র্যাক করতে পারিনি।

আমরা গাইডটাকে খুঁজছি।

জি, জি।

কোনো আপডেট পেলে জানাবো। জি, স্যার, জি, স্যার।

- দুবা, চল। - জি, স্যার।

হ্যাঁ, নুবস বলছি।

রাতেই বর্ডারে পৌঁছে যাবে, শুধু কাস্টমস্‌টা পারের ব্যাপারটা দেখ।

পেমেন্ট পেয়ে যাবে।

মাল আজ রাতেই পেয়ে যাবে।

৩০ হাজার ডলার খরচা হবে।

৩০ হাজার ডলার?

ভাই, নুবস, কমাও।

আমি কোনো ভারতীয় কামের বুয়া আনতেছি না। অস্ত্র আনতেছি, অস্ত্র!

বুঝা গেল?

সে ৩০ হাজার ডলার চাচ্ছে।

এটাও লাগবে আমার।

আমার পরিদের ফটোশুট করতে লাগবে। রেখে যেও।

ও ক্যামেরাটাও চাচ্ছে।

নুবস, ডিল তাহলে পাক্কা?

পরে দেখা হবে।

বাবা, বাবা!

- দেখ, এগুলো কী! - বাহ্, অনেকগুলো!

এগুলো সবগুলো বিদেশি।

- বিদেশি? - হ্যাঁ।

নিশ্চয়ই এগুলোর জন্য অনেক টাকা খরচ করেছ।

আব্বু, এগুলো কিনিনি তো। নির্বাচনী অফিসার ম্যাম দিয়েছেন।

- নির্বাচনী অফিসার ম্যাম? - হুম।

সুযোগ পেলে,

থিনলের সম্পর্কে উনাকে বোলো!

এবার কিন্তু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে!

লন্ড্রো-থিনলে চুলোয় যাক! ওরা যেভাবে ইচ্ছে জিতুক।

ওকে শহরের স্কুলে পাঠাতে হবে না।

ইউফেল পরিবারের সাথে এখানেই ভালো আছে।

চাই শুধু আগের জীবনটা ফিরে পেতে।

যেখানে আমাদের পরিবার একসাথে সুখে-শান্তিতে ছিল।

যেখানে ইউফেলের অনেক খেলার সাথি ছিল।

মানে, তুমি বলছ,

সে কাউকে হত্যা করবে বলে মনে হচ্ছে না, তাই তো?

উনি একজন ভিক্ষু, ঠিক?

তাই এরকম কিছু করবে না, তাই না?

জানি না রে, বদ্দা।

অদ্ভুত একটা সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি।

হ্যাঁ, কারণটা হলো, বুঝই তো, এই বন্দুকগুলো বেশ বিপজ্জনক।

উল্টাপাল্টা ব্যবহার করলে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। জানো তো?

কাস্টমস্‌-এ দেখে সন্দেহ করেছিল; বেশ ভারী ব্যাগ।

কাজ হয়ে গেছে।

পুরো টাকা এটাতে আছে, গুণে নাও।

টাকা তো আছে, তবে, বেনজি, বুঝতে পারছি না কী করতে চলেছ।

ঝুঁকির কথা তো জানোই।

সাবধানে থেকো।

দারুণ ব্যাবসা।

[পূর্ণিমার দিন]

ম্যাম, ভালো খবর আছে।

অনেক কষ্টের পর...

৯৮% ভোটারকে নিবন্ধন করেছি।

হুম, দারুণ কাজ করেছেন। শুনে ভালো লাগছে।

অভিনন্দন সবাইকে।

দয়া করে রং তিনটার কথা সবাই মনে রাখবেন!

নীল হলো স্বাধীনতা এবং সমতার প্রতীক।

লাল হলো শিল্পোন্নয়নের প্রতীক।

আর হলুদ হলো সংরক্ষণের প্রতীক।

যেটাতে মন চাইবে সেটাতেই আপনার ভোট দিতে পারবেন।

মনে রাখবেন, লাল হলো শিল্পোন্নয়ন।

যেটা থিনলে আমাদের জন্য বয়ে আনবে।

বাচ্চারা, বাইরে যাও, বাইরে যাও।

এটা শুধু বড়োদের জন্য।

কথা শুনো না কেন? বয়রা-টয়রা নাকি তোমরা?

উনিই সেই মহিলা। উনিই মূলত করছেন সবকিছু।

হ্যাঁ, বেশ সাড়াই ফেলেছে।

- আদাব, লামা। - আদাব, আদাব।

ভাবলাম আপনার আবার কি না কি হলো,

চিকিৎসা-টিকিত্‌সাও দিতে আসেন না আজকাল।

হ্যাঁ, সুন্দর একটা ভবিষ্যতের জন্য আমাদের সকলেরই এগিয়ে আসতে হবে।

তোমার বন্দুকটা আজ আবারও কিছু জিনিসকে শোধরাবে।

সময় বেশি নেই, চল, তৈরি হই।

জি।

ঠিক করতে পারবে?

এই, এই! দাঁড়ান, দাঁড়ান।

গাড়িটা নষ্ট হয়ে গেছে, আমাদের উরা যাওয়া লাগবে।

আমাদেরও তাড়া আছে, সবাই লামার অনুষ্ঠানে যাচ্ছি।

ভোট দিতেও যাওয়া লাগবে, জলদি উঠুন।

অসংখ্য ধন্যবাদ!

রন, আস, আস, উঠে পড়ো। আস, আস!

ব্যাগটা দাও।

হয়ে গেছে, ম্যাডাম। ৯৮% লোক এসেছে ভোট দিতে।

বাহ! এ তো ইতিহাস।

দাঁড়ান, সবাই শুধু হলুদেই কেন ভোট দিয়েছে? দেখুন ভালো করে।

জি, ৯৫% ভোটই হলুদ দল পেয়েছে।

একটা দল ৯৫% পাওয়া অসম্ভব।

যখন জনগণকে জিজ্ঞেস করলাম, ওরা কাকে ভোট দিয়েছে,

বেশিরভাগই বলেছে 'হলুদে'।

কিন্তু কেন?

ম্যাম, হলুদ রংটা রাজাকে নির্দেশ করে।

এটা নিয়ে আমরা আগে ভাবিনি কেন?

মনে হচ্ছে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় গেলেও,

হলুদ রংটা জনগণকে রাজার সাথে সংযোগ করে ফেলছে।

এই পিচ্চি।

এই বিদেশিকে দেখেছ?

এই বিদেশিকে দেখেছ?

বুঝতে পেরেছি মহামহিমকে ওরা কতটা ভালোবাসে।

সেজন্যেই তারা তাকে হতাশ করতে পারছে না।

এত জোরে বাজানোর আদৌ দরকার আছে?

- শুভ অপরাহ্ণ। - শুভ অপরাহ্ণ।

- কীভাবে সাহায্য করতে পারি, অফিসার? - আমরা দুজন লোককে খুঁজছি।

আদাব।

- ম্যাডাম, লামা আপনাকে অনুষ্ঠানে চাচ্ছেন। - এখন সময় নেই।

জেতেই হবে বলেছেন।

আপনার জন্যই এতসব আয়োজন।

- আমার জন্য? - জি।

লামা বললেন, এসব পরিকল্পনা,

রেডিয়োতে আপনার উরাতে আসার কথা শোনা থেকেই।

তাই, দয়া করে চলুন আমার সাথে।

তাহলে, মক ইলেকশন শূকরের রোগে পরিণত হয়েছে।

শোমো, ফুরবা, চল তো।

দেখ, একজন বিদেশি আসছে।

আদাব।

পেরেছেন আপনারা।

ওখানে দেখি অনেক মানুষ। কী হচ্ছে?

কোনো অনুষ্ঠান হচ্ছে?

বন্দুক এগুলো?

আস্তে বলুন।

দারুণ! লামা এই বন্দুক দুটো দেখে বেশ খুশি হবেন।

এইযে, দাঁড়ান, দাঁড়ান!

বেনজি, ওরা কারা?

- বেনজি? মি. কোলম্যাম? - জি, অফিসার।

আমাদের সাথে একটু আসতে পারবেন?

ভুটানে আসার ব্যাপারে কয়েকটা প্রশ্ন করা লাগবে আপনাকে।

ওহ, আমি এখানে মন্দির দেখতে এসেছি।

হ্যাঁ, আজ একটা শুভ দিন। ঠিক সময়েই এসেছেন।

লামা, ধ্যান থেকে উঠে এসেছেন।

গ্রামবাসীরাও সবাই এসেছে।

সরকারি কর্মকর্তারাও এসেছে।

অবশেষে পুলিশ অফিসারও এসেছে।

স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবাই এসেছেন, কী শুভলক্ষণ!

চলুন সবাই, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।

চলুন, চলুন।

কোনো চালাকি করবেন না।

কোন দেশ থেকে এসেছেন, স্যার?

যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

ওহ! দারুণ গণতান্ত্রিক একটা দেশ। মুক্ত বিশ্বের পথপ্রদর্শক।

স্যার, ভুটানবাসীকে আমরা যে গণতন্ত্রের শেখাচ্ছি, জানেন তো?

দারুণ খবর।

এটাই কোনো আমেরিকানের সাথে আমার প্রথম সাক্ষাৎ।

অনুষ্ঠান শেষে, আমরা গণতন্ত্র নিয়ে একটু কথা বলতে পারি?

মনে হচ্ছে, আপনি আমাদের সাহায্য করতে পারবেন।

মক ইলেকশনটা আমাদের প্ল্যান অনুযায়ী কাজ করেনি।

না, সরি, পারব বলে মনে হয় না।

ওহ, অত লজ্জা পাবেন না, স্যার। আপনি হলেন Lincoln এবং JFK-এর স্বদেশি মানুষ।

সবাই শুনতে পাচ্ছেন?

আমি এসব আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে কিছুই জানি না।

জানি না, এসব আমাদের জন্য ভালো না কি খারাপ।

কিন্তু আমাদের কিছু জিনিস ঠিক করতে হবে।

বৌদ্ধস্তূপ বুদ্ধের আলোকিত মনের প্রতিনিধিত্ব করে।

প্রতিবন্ধকতা ঠেকাতে অতীতে আমরা এরকম অনেকগুলো নির্মাণ করেছি।

এখন নতুন একটা তৈরি করব, দেশের সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য।

যেহেতু আমরা একটা বড়ো পরিবর্তনের সাক্ষী হতে যাচ্ছি।

স্তূপগুলো আমরা শস্য দিয়ে পূর্ণ করে দিব যাতে দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধ করে।

ওষুধ দিব মহামারি প্রতিরোধের জন্য।

এবং ভিত্তির ঠিক মাঝখানে আমরা কিছু একটা পোড়াব।

যেটা হলো ঘৃণা, সংঘাত এবং পীড়ার প্রতীকী।

আর এটার উপরেই আমরা স্তূপ নির্মাণ করব,

যা কিনা এই তিনটি ক্ষতিকর প্রভাবের উপর,

কৃপা এবং শান্তির বিজয়ের প্রতীক।

বিশ্বের সব নেতিবাচকতার- স্বরূপ এই বন্দুকটা আমরা..

স্তূপের নিচে পুড়িয়ে ফেলব।

এই, বন্দুকটা নেন, নেন বলছি।

হচ্ছেটা কী? এই!

কী হচ্ছে এসব?

আপনার উপর দেশের প্রতি গুরু দায়িত্বের আস্থা রাখা হয়েছে।

দেশের মঙ্গল কামনা করে এটা ভিত্তির উপর রাখুন।

হয়তো...

কী? কী হচ্ছে এসব?

মঙ্গল হোক সবার!

মঙ্গল হোক সবার!

এইযে, আপনারা দুজন! চলুন এবার আমাদের সাথে, চলুন।

স্যার।

স্যার, স্যার।

দাঁড়ান, দাঁড়ান একটু...

আমরা এখানে এসেছিলাম মূলত..

স্তূপে একটা জিনিস দান করব বলে।

- কী সেটা? - জি।

তাশি গুরু, শুনেন দেখি।

শুনেছিলাম লামা এরকমই কিছু করার প্ল্যান করছিল।

সেজন্যেই কিছু দান করার জন্য এতদূর আসা। তাই না?

দুজন অনেক কষ্টে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং ভয়ংকর বন্দুকটা এনেছি...

এখানে দান করার জন্য।

এরকম একটা সুযোগ পেয়ে আমরা আনন্দিত।

জি, এটা জেমস বন্ড 007 সিনেমার বন্দুক।

- 007? - জি, ওই সিনেমার বন্দুকটাই!

কী, সত্যি নাকি?

জি, আমাদেরকে দুটো বন্দুক দানের কথা ছিল।

শক্তিশালী বন্দুক, মানুষ মারা যাবে এমন।

- মানুষ মারার বন্দুক? - জি।

আসলে, আমার বন্ধু মিস্টার কোলম্যান..

সে এতদূর এসেছে, স্তূপ নির্মাণের জন্য এই বন্দুক দুটো দানের জন্য।

দেখুন একবার।

এই যে।

ওহ! এগুলো তো AK-47! কোথায় পেলে এগুলো?

এগুলো তো সেনাবাহিনীর কাছেও নেই।

একটু জায়গা দিন দেখি।

আচ্ছা, শুনুন সবাই।

আমাদের বন্ধু সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে আমেরিকা থেকে এখানে এসেছে।

স্তূপের জন্য এই বন্দুক দুটো দান করতে।

তো, আসুন সবাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ/জ্ঞাপন করি।

এগুলো হলো বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর বন্দুক।

আমি নিজ চোখে দেখেছি এগুলো দিয়ে কীভাবে মারে।

আপনি নিজ হাতেই এগুলো এই ভিত্তির উপর রাখুন।

দেওয়ার সময় প্রার্থনা করবেন,

যাতে জ্ঞান এবং কৃপা..

সব ঘৃণা, আগ্রাসন আর কষ্টকে ধ্বংস করে দেয়।

রাখুন।

রাখুন এখানে।

ছুঁড়ে ফেলুন।

মঙ্গল হোক সবার!

মঙ্গল হোক সবার!

মঙ্গল হোক সবার!

আমি আমাদের এই বিদেশি বন্ধুকে..

প্রশংসা সূচক একটা উপহার দিতে চাই...

তার মূল্যবান দানের জন্য।

পুংজননেন্দ্রি আমাদের সংস্কৃতির একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আমরা বিশ্বাস করি এটা দ্বৈততাকে ধ্বংস করে।

আর, আমাদের জ্ঞানার্জনের কাছাকাছি নিয়ে যায়।

ধন্যবাদ।

সুখ বয়ে আসুক সবার জীবনে,

মুক্ত হোক সব দুঃখ-কষ্ট থেকে।

ধন্যবাদ।

অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার মহৎ অবদানের জন্য।

আহ, অবদান রাখতে পেরে খুশি।

বলা হয়ে থাকে, এমন পবিত্র ধর্মানুষ্ঠানে দান করলে, আসলে,

এটা অবিশ্বাস্য পুণ্য অর্জনে সহায়ক হবে।

- পুণ্য? - ভালো কাজ।

ওহ, তাই বুঝি?

হ্যাঁ, এটা মূলত আপনাকে নিজের ব্যক্তিগত অনুরাগ থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করবে।

অথচ আমরা কেউই সেসবের জন্য এখানে আসিনি, তাই না?

হ্যাঁ, একদমই না।

আমাদের এখানে আসার জন্য এবং সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ।

ভালো থাকবেন, ম্যাম।

সবকিছুর জন্য তোমাকেও ধন্যবাদ, শোমো।

ম্যাম, নিন, আপনার রাবারটা নিন।

আমার চেয়েও আপনার এটা বেশি প্রয়োজন।

আপনার অনেক অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।

অনুবাদক: মোহাম্মদ সায়েম। সম্পাদনায়: আইনুল মান্নান, মোহাম্মদ সায়েম।

অভূতপূর্ব শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ২০০৮ সালের ২৪শে মার্চ ভুটানে প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তখন থেকেই তারা বহির্বিশ্বের কাছে আত্মপ্রকাশ করে এবং আধুনিকায়নকে স্বাগত জানায়৷ তবে তারা প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল এই বিশ্বে নিজেদের স্বকীয়তা এখনো বজায় রেখে চলছে।

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.