All language subtitles for Thalavan (2024) WEB-DL BSUB BY Soumik & Habib

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali Download
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian Download
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian Download
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

হায় ঈশ্বর! স্যার এসে গেছেন।

- শুভ অপরাহ্ন, স্যার। - শুভ অপরাহ্ন।

- সব প্রস্তুত তো? - হ্যাঁ... প্রায়।

আপনি একটু মেকাপ করে নিন। মুখটা তৈলাক্ত দেখাচ্ছে।

ওহ! সারাদিন আমার ট্রিপ সংক্রান্ত কাজ নিয়ে দৌঁড়ে ছিলাম।

- আপনার ফ্লাইট ৮.৩০, তাইনা? - হুম। - ফিরবেন কবে?

ফিরতি টিকিট করিনি। তবে ১০-১২ দিন লাগবে।

এটা আমাদের ২৫ তম বিবাহ বার্ষিকী।

আর সে ওখানে। সেজন্যই যাচ্ছি।

নাম বলতেই হাজির।

হ্যালো? হ্যাঁ, আমরা শুরু করছি।

শুধু একটা পর্ব। ফেরার পর বাকিগুলো হবে।

- স্যার, চা? - ধন্যবাদ।

আরে না, আগে থেকে প্রস্তুতি নেইনি।

সবগুলা মামলাই মাথায় তাজা হয়ে আছে।

আচ্ছা তাহলে। তোমাকে এয়ারপোর্টে গিয়ে ফোন দিবো।

এখন শুরু করতে দাও।

স্যার, যেরকম আমরা ভেবেছিলাম তার থেকে বেশি ভালো হচ্ছে।

৫ম পর্বের পর আমাদের ভিউ ২৫ লাখের কাছে পৌঁছেছে।

চমৎকার। আমাকে এখন গল্পকার বানিয়ে দিচ্ছো নাকি?

কিন্তু এগুলো তো গল্প না। আপনি সত্য কাহিনী বলছেন।

এর স্বচ্ছতার খাতিরেই লোকজন এটা দেখছে।

তারাই সেটা কমেন্ট বক্সে লিখছে।

ওখানে কিছু হুমকিও আছে। খেয়াল করেছো?

- আপনি সব পড়ে ফেলেছেন? - আমি না... আমার বউ।

আপনি আজ কোন ঘটনা বলবেন বলে মনস্থির করেছেন জানিনা।

যদি শেয়ানা না মনে করেন...

- তাহলে একটা অনুরোধ করতে পারি? - বলো।

- ওখানে একটু দ্রুত প্রস্তুতি নাও। - আচ্ছা।

স্যর... আজ চেপ্পানামথোট্টা কেস নিয়ে বলতে পারবেন?

- সেটা হবে না। - প্লিজ, স্যার।

- আমি আজ প্রস্তুত না। - দর্শকসংখ্যার দৃষ্টিভঙ্গিতে...

এই কেসের মারাত্মক দম আছে।

সেটা তোমার মাথাব্যাথা। এখানে আমার লাভ কী?

স্যার...

একজন সহজ সরল মানুষ হওয়া সত্ত্বেও...

আমি জানি কেসটা আপনার উপরও কালো দাগ ফেলেছে।

- কীভাবে জানলে? - হেমন্ত বললো।

তাহলে তাকে এসে বলো কথা বলতে।

আরে, স্যার... এত উত্তেজিত হবেন না।

আমি শুধু জিজ্ঞেস করেছি... এতটুকুই... আর সেজন্যই তো "অনুরোধ" শব্দটা বলেছিলাম।

নিজের ভাবমূর্তি পরিষ্কার করতে হলে...

চ্যানেল থেকে আর কোনো ভালো জায়গা হবে না।

এতটুকুই।

রাজি হলে বলবেন।

- শুনো... - স্যার?

আমি সব গুছিয়ে বলতে পারিনা।

কথা বলার সময় মুখ ফসকে কিছু বলে দেই...

তাই পর্বটা প্রচার করার পূর্বে...

আমি সেটা একবার দেখতে পারি?

কিছু অংশ কাটতেও পারি।

কোনো সমস্যা নেই, স্যার... আমি দেখে নিবো।

ধন্যবাদ, স্যার।

নমষ্কার... আমি উদয়ভানু।

আমি কেরালা পুলিশের ডিসিপি পদ হতে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করি।

আমি এই সত্যটা বলছি কারণ...

আজ একটা বিশেষ কেসের সম্পর্কে কথা বলবো।

এই গল্পটা একই থানার দুই পুলিশ অফিসারের...

কিন্তু তাদের পদ ছিলো ভিন্ন।

গল্প না আসলে... এই কেসে আমিও যুক্ত ছিলাম।

অনুবাদক সুশান্ত চক্রবর্ত্তী সৌমিক হাবীব সিয়াম

সম্পাদক সুশান্ত চক্রবর্ত্তী সৌমিক

দলনেতা

THALAVAN

সিআই স্যার না আসা অব্দি আমি কিছুই করতে পারবো না।

- শুভ সকাল। - শুভ সকাল। আমি কার্তিক।

- এখানে এসআই পদে এসেছি। - স্বাগতম, স্যার।

- শেখরান, স্যার? - হ্যাঁ? - উনি নতুন এসআই।

- নমষ্কার স্যার। - নমষ্কার। - স্যার, আপনি কোথাকার বাসিন্দা?

এখানের কাছেই ইরোর'এ থাকি।

আচ্ছা... আপনি দ্রুত ইউনিফর্ম পরে নিন।

সিআই স্যার শীঘ্রই এসে যাবেন।

- বুঝেছি। কাপড় পরার কক্ষটা কোথায়? - আমার সাথে আসুন, স্যার।

- আমি দেখাচ্ছি, স্যার। - তার সাথে যান, স্যার।

স্যার, আমি হারিস। আমি আগে থেকেই আপনাকে জানি।

- তাই? - আমার বাবা চেরুভাসেরী থানার লেখক।

- আপনি চিনেন ওনাকে... মাজেদ। - ওহ!

আমি ওখানে মাত্র তিনমাস ছিলাম।

আমি ভেবেছিলাম মাজেদের ছেলে এসআই।

সে আমার ভাই... ফারিস।

- এখন থিরোরে এসআই। - ওহ।

- এটাই কাপড় পাল্টানোর কক্ষ? - হ্যাঁ। - আচ্ছা, আমি তৈরি হয়ে আসছি।

- কেমন আছো? - স্যার, শান মাইকেলের জামিন পেয়ে গেছি।

তাকে দ্রুত ছাড়তে পারবেন? আমার আরো মিটিং আছে।

সে মহিলাদের ম্যাসেজ দিয়ে তাদের টাকা হাতিয়ে নিতো।

এরকম ধইঞ্চাদের জামিন করাতে তোমার লজ্জা করেনা?

ও জেলে তো যাবে নিশ্চিত। ততক্ষনে তুমি টাকার ঝামেলা শেষ করো।

কিছুক্ষণ অপেক্ষা করো। তাকে অন্তত কয়েক ঘা দিয়ে দিই।

- স্যার। - হ্যাঁ? - সিআই স্যার চলে এসেছেন।

আচ্ছা। আমি কফিটা শেষ করে নিই।

তিনি জানেন যে আপনি এসেছেন। উনি ডাকার আগেই আপনি চলে গেলে ভালো হবে।

- এরকম ভাব কেন করছো? - আরে না, ভাব দেখাচ্ছি না, স্যার।

আমি... অপরাধী না।

আমি একজন এসআই। বুঝেছো?

- আর তোমার নাম কি, স্যার? - "রঘু" স্যার।

- আচ্ছা, রঘু "স্যার"... চলুন। - হুম।

আপনাদের অপেক্ষা করতে হবে না। আমার সুমতি হলে তাকে ছেড়ে দিবো।

যেতে পারেন।

- স্যার। - হ্যাঁ?

- আমার এসআই পদে নতুন পোস্টিং। - আচ্ছা।

ডিসিপি কল করেছিলেন।

- কতদিন হলো চাকরীতে আছো? - প্রায় দেড় বছর।

আর এতদিনে কতবার ট্রান্সফার হয়েছো?

এটা আমার ৫ম বার, স্যার।

কোনো জায়গাতেই বেশিদিন থাকো না! তুমি যেভাবে দৌঁড়াচ্ছো...

পিটি উষার সাথে সম্পর্ক আছে নাকি? [পিটি উষা → ভারতীয় দৌঁড়বিদ]

আচ্ছা... নিজের মধ্যে কী সমস্যা আছে বের করেছো?

আমার আচরণেই সমস্যা, স্যার।

আমার চরিত্র পাল্টাতে পারবো না।

মনে হচ্ছে তোমার আচরণটা শোধরাতে হবে!

তাহলেই সমস্যা অটোম্যাটিক সমাধান হয়ে যাবে।

- সেজন্যই তোমাকে আমার কাছে পাঠানো হয়েছে। - স্যার, আমি...

দূর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছি বলে ট্রান্সফার হয়নি।

- ট্রান্সফার হয়েছি কারণ সেসবে জড়াইনি বলে। - বুঝেছি।

তাহলে কী আমরা সবাই এসব করছি?

আসলে, তোমার সমস্যাটা কী? মুখ চলে বেশি?

- বলো। - সেরকম না, স্যার।

আমার উত্তর।

কখনো কখনো তোমাকে চুপ থাকা শিখতে হবে।

অন্ততপক্ষে নিজের ঊর্ধ্বতনদের সামনে। তাহলেই এই দৌঁড় বন্ধ হবে।

এবং শিখতে পারবে। তোমার থেকে আরো বুদ্ধিমান...

লোক আছে ডিপার্টম্যান্টে। তাদের কেউ তোমার মতো দৌঁড়াচ্ছে না।

যাইহোক... আমরা এ বিষয়ে কাজ করবো।

- এটা রাইটারের কাছে নিয়ে যাও। - স্যার।

হারিস...

স্যার, আমি বিনু।

শুনছিলাম আপনার কথা। আপনাকে শুধু কৌশলে থাকতে হবে।

উনি ঝামেলার লোক না। শুধু একটু বদমেজাজি।

পূর্বের এসআই... শরীফ স্যার।

খুব কষ্টে মিনিট খানেক বসার সুযোগ পেতেন। জানেনই তো কীরকম।

উনি খুবই বুদ্ধিমান লোক ছিলেন।

তুমি যা বলছো, বিনু... মনে হচ্ছে আমরা দুজন যমজ।

- শেখরান স্যার, রাইটার। কাজটা করিয়ে নিন। -আচ্ছা।

সেই থানায়, কেউ কেউ সিআই জয়শংকরের পক্ষে ছিলো...

আবার কেউ কেউ ওনাকে শত্রু ভাবতো।

যেহেতু এই কেস সম্পর্কে বলছি...

তাহলে কয়েক বছর পূর্বের...

আরো দুইটা ঘটনা বলা উচিত।

তোমরা অভিনেত্রীরা রাতের বেলাও সেজে থাকো নাকি?

তাও নিজেরই বাসায়?

তোমার গন্ধটা একদম চমলক্ক, প্রিয় গোলাপ!

গন্ধটা তোমার গোলাপের নাকি পারফিউমের?

আমার স্বামী মদ্য অবস্থায় আমাকে গালাগালি করে।

সেজন্য থানায় অভিযোগ করতে যাই।

সে এখন জাহাজে চলে গেছে।

এবং ফিরতে ছয় মাস বাকি।

ততদিন... আপনার আমাকে জ্বালাতনের উদ্দেশ্য আছে নাকি?

ধ্যাৎ!

গোলাপ... তোমার জানা নেই...

যে তুমি আমার কাছে কী!

এটা হলো একদম খাঁটি ক্ষুধা।

কিন্তু যখন মানুষ তোমাকে টিভিতে কামলোলুপ দৃষ্টিতে তাকায়...

সেটা আমাকে পাগল করে দেয়!

আপনি ফোন করায় আসার অনুমতি দিয়ে দিলাম....

কারণ আমি আজই এসবের ইতি টানতে চাই।

তাহলে যাও। দুইটা গ্লাস নিয়ে এসো।

আর সাথে কিছু বরফও আনবে। চলো মুড তৈরি করি।

- বসুন। - আচ্ছা।

- গোলাপ! এক মিনিট। - কী?

- কী? - আসলে...

লালপানি খাওয়ার পূর্বে বোধ থাকা অবস্থায় একবার....

তো স্যার, আজ রাতে আপনি...

আকাম করার জন্য মনস্থির করে এসেছেন, তাই না?

আমি এখন তোমাকে টাকাও দিতে পারবো।

- কীরে... কিছু আমাদেরও দে? - কী?

আমি তোকে দুবার সাবধান করেছি।

- এবার তোর ইউনিফর্মকে মাটি দিয়ে দে। - স্যার, স্যার... না...

- না স্যার, প্লিজ! - স্যার, প্লিজ, না স্যার!

- চল বলছি! - স্যার, প্লিজ! - এবারের মতো ছেড়ে দিন।

- আমার বাচ্চাদের দিব্যি দিচ্ছি, আর হবে না। - চল!

আর হবে না এসব... স্যার... আমার চাকরীর ১৪ বছর হয়ে গেছে...

আমার বড্ড অপমান হবে।

- ছাড়ুন, ছাড়ুন আমাকে স্যার! - চুপ, কুত্তার বাচ্চা!

তোর বউ আছে না! এসব করে গলা ঝাড়ছিস, লজ্জা করে না?

রঘুকে সেই কাজের ফলস্বরুপ ছয় মাসের জন্য সাসপেনশনে পাঠানো হয়।

তারপর সে আবার চাকরীতে প্রবেশ করে।

তখনই দ্বিতীয় ঘটনাটা ঘটে...

যেটা জয়শংকরের জীবন তছনছ করে দেয়।

- সন্ধ্যায় দেখা হবে। - আচ্ছা।

- শুভ সকাল! - শুভ সকাল! আজ এত জলদি যে?

আরে! সুনিতা! এই চন্দ্রা!

এদিকে এসো! অনর্থ হয়ে গেছে।

কেউ সাহায্য করো!

আক্রমণকারী জোশী নামের এক ভাড়াটে ছিলো।

জিজ্ঞাসাবাদে বলে সে নাকি ভুল মানুষকে আক্রমণ করেছে।

তাকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রায় আড়াই বছর লাগে...

সুনীতাকে নিজের পায়ে হেঁটে...

স্বাভাবিক জীবনে আসতে।

এবার আসল কেসে ফেরা যাক।

চেপ্পানামথোট্টা থানায় এসআই পদে কার্তিকের যোগ দেওয়ার...

তিন মাস হয়েছিলো।

স্যার... এই যে...

স্যার, মনু দাস নামের এক ছোকড়া সেলে বন্দি আছে।

সে বলছে স্কুলে নাকি ও আপনার সাথে ছিলো।

একবার আপনার সাথে কথা বলতে চাচ্ছে।

- মনু দাস? - হ্যাঁ।

ও আবার কে?

মনু দাস?

আরে! কী হয়েছে?

হত্যার চেষ্টা করেছে, স্যার।

- আমি কাউকে হত্যার চেষ্টা করিনি। - তাহলে কী করছিলি?

- আমি নিজের আত্মরক্ষা করছিলাম, স্যার। - হুমমম।

সে আমাকে বড় একটা পাথর দিয়ে মারতে যাচ্ছিলো তাই আমি সরে যাই।

এবং সে নিজের ভারসাম্য হারিয়ে ভাঙ্গা কাঁচে পরে যায়। তাতে আমার দোষ নেই।

আগামী বৃহস্পতিবারে আমার বিয়ে, স্যার।

- হারিস। হ্যাঁ, স্যার? - খুলো।

গত তেরো বছর ধরে আমার ক্যাবল টিভি সংযোগের ব্যবসা।

আমার বিরুদ্ধে কেস করা বিনায়ক লোকটা...

অন্য কোথাও থেকে এসে...

আমার এখানেই অফিস খুলে একই ব্যবসা চালু করে দেয়।

তার অনেক সংযোগ দেওয়ার সামর্থ ছিলো না।

কিন্তু গত তিন সপ্তাহ ধরে তার লোকেরা আমার ক্যাবল কাটতে শুরু করে দেয়।

- স্যার, একমিনিট আসুন। - আমরা ক্যাবল ঠিক করি তারা আবার কেটে দেয়।

চেপ্পানামথোট্টাতে সে ভাড়া নেয়। আমি সেখানে যাই।

গিয়ে জিজ্ঞেস করি... নিজের ইচ্ছেমতে আরেকজনের ব্যবসা নষ্ট কেন করছিস?

তখন বলে আমি তার বউয়ের সামনে তাকে অপমান করেছি এবং...

আমার উপর ঝাঁপিয়ে পেটে লাথি শুরু করে।

বেটার দেহ বলিষ্ঠ থাকায় প্রচন্ড মারে আমাকে।

ব্যাথা পেয়ে আমিও পাল্টা জবাব দেই।

আর যেরকমটা বললাম... বড় পাথর নিয়ে তেরে আসছিলো।

আমাকে তারা ফাঁদে ফেলছে।

বৃহস্পতিবারে বিয়ে করতে যাচ্ছি।

আমাদের ভালোবেসে বিয়ে হচ্ছে। মেয়ের পরিবার...

এতে তেমন খুশি না।

যদি কোনো গোলমাল হয় তাহলে ওরা পিছু হঠে যাবে।

আমাকে সাহায্য করো, কার্তিক।

বিয়ের পর দরকার হলে আমি আত্মসমর্পন করে ফেলবো।

প্লিজ!

- দিদি। - হ্যাঁ?

- আমি দুপুরের মধ্যে চলে আসবো। - কোথায় যাচ্ছো?

জোশিকে জেল থেকে ছাড়ানোর জন্য...

চেপ্পানামথোট্টাতে যাচ্ছি৷ আর...

আসার সময় উকেলের সাথেও দেখা করবো।

তোমার উচিত থান্নিসেরি গির্জায় ৭ দিনের প্রার্থনা করা...

জোশির জন্য।

- ওকে শুধু টিভিটা চালিয়ে দিয়ো। - আচ্ছা।

মা... আসার সময় তোমার জন্য মিষ্টি নিয়ে আসবো।

- ততক্ষন লক্ষী মেয়ে হয়ে থাকবে, বুঝেছো? - আচ্ছা, মা।

আসো, মা।

ডিলটা মারাউরে গাছ কাটা সম্বন্ধে।

ভালো টাকা মিলবে... কিন্তু সেখানে নিয়ন্ত্রন করার জন্য...

আমাদের ৪০ হাজার টাকা লাগবে।

- মনিমালায় আমার শেয়ার... - ওহ, ভার্গিস, স্যার।

- কী খবর? কিছু না... - অনেকদিন কোনো দেখা নেই।

শহরে শুধু ভাতার টাকাটা নিতে আসি।

সেসময় এখানেও ঢুঁ মেরে যাই।

- স্যার! - হ্যাঁ।

বিনু, ওই টেক্সটাইলের জায়গার মালিকের সঙ্গে দেখা করে....

- স্বীকারোক্তি নাও। আবার যেনো পাল্টে না দেয়। - আচ্ছা।

- ক্যাবলের ছেলেটাকে নিয়ে এসো, ডিসিপি ফোন দিয়েছিলো। - স্যার...

হ্যালো? হ্যাঁ, স্যার?

আমি গুরুত্বটা বুঝতে পারছি স্যার। মাত্রই আসলাম।

আমাকে ঘন্টাখানেক দিলেই, প্রয়োজনীয় কাজ করে দিবো।

আচ্ছা। নিয়ে আসো তাকে।

- স্যার, কার্তিক স্যার তাকে ছেড়ে দিয়েছেন। - কী?

ওরা একে অপরকে চিনতেন।

আমি বলেছি নাকি! কেউ আমাকে না বলে কীভাবে ছেড়ে দেয়?

আমি ওনাকে বলেছিলাম... কিন্তু বললেন আমি নাক না গলাতে।

তিনি বললেন নিজেই সামলে নিবেন।

ধ্যাৎ!

কী মনে কর তাকে ছেড়ে দিলি? ও কী করেছে জানিস?

আমি আপনাকে ফোন করেছিলাম। ফোনে মিসডকল দেখতে পাবেন।

আমি হয়তো তখন ব্যস্ত ছিলাম! ফোন ধরিনি বলে...

- তাকে ছেড়ে দিবি? - স্যার, আগামী বৃহস্পতিবার সে বিয়ে করছে।

তো? তুই তার ঘটক? নাকি...

নাকি ডিপার্টম্যান্ট তোর টাকায় চলে?

স্যার, ভালো করে কথা বলুন।

যদি না বলি কী করবি? কী করবি?

- স্যার, এভাবে কথা বলবেন না। - আমি তোকে "স্যার" ডাকবো নাকি?

স্যার, তাকে ছেড়ে দিয়েছি কারণ সে আমাকে ভালোভাবে বুঝিয়েছে।

ও যাকে ছুরি মেরেছে সে আইসিউতে আছে।

যদি লোকটা মারা যায়... তাহলে জল কোথায় গড়াবে ধারনা আছে? গাধা!

স্যার, এই কেসটা সাজানো হয়েছে। আপনি কী শুনেছেন তা জানিনা।

- আমি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। - আমি এই থানার দায়িত্বে আছি।

- আমাকে টপকে যাবি ভাবছিস? - তাহলে আমার এখানে কাজ কী?

সবকিছুই যদি আপনাকে জিজ্ঞেস করা লাগে, তাহলে এসআই পদের মূল্য কোথায়?

- তুই শুধু একজন চাকর। - মুখ সামলে কথা বলুন।

এক হাতে তালি বাজে না, স্যার। আপনার টাকায়ও ডিপার্টম্যান্ট চলে না।

থাম! আমি যদি চাই তোকে ভস্ম করে দিতে পারি!

এভাবেই তোর ঊর্ধতনের সাথে কথা বলিস?

এখানেই থাক তুই!

তোকে এবার নিয়মানুবর্তিতা আর ভদ্রতা শিখাবো।

- ওই ছোকড়ার বাড়ি চিনো? - হ্যাঁ, স্যার। - গাড়ি বের করো।

- স্যার। - কী?

- সেই একই গান গাইতে চলে এসেছো? - স্যার, প্লিজ...

- তোমাকে আর কতবার বলতে হবে? - স্যার, শুধু আপনিই...

আমি ছাড়বো না! তাই নিজের সময় নষ্ট করো না!

- স্যার। - আবার কী?

আমার কাছে আর উপায় নেই তাই বলছি... আপনি টাকা চান?

আমি সেটা ব্যবস্থা করে দিবো।

তুমি মহিলা বলে কিছু বলছি না। যাও এখান থেকে।

চলো!

ও হলো গন্ডমূর্খ জোশির বউ।

এখন এই লোকের প্রিয়া।

- হুম। - তাদের অনেক জায়গায় একসাথে দেখা গেছে।

এসব শুধু দেখানোর জন্য।

যাতে আমরা কেউ সন্দেহ না করি।

হুম!

একজনকে মেরে এখানে বসে খোশগল্প করছিস?

- হাহ? - স্যার, আমাকে নিবেন না।

আমি কার্তিক স্যারকে সব বুঝিয়েছি।

- আমাকে এতে ফাঁসানো হচ্ছে। - চল!

- স্যার, দুইদিনের ভিতর ওর বিয়ে। - চল।

দয়া করে বিয়েটা হতে দিন। আমাদের জ্বালাবেন না, প্লিজ।

সে এরকম কাজ করতেই পারে না।

আমাদের কাজ কী জানেন? অপরাধীকে বের করা।

শাস্তির ব্যপারটা আদালত দেখবে। বুঝেছেন?

- চল! - স্যার! স্যার! - আমার ছেলেকে নিবেন না।

- আমি অপরাধ করলে আমাকে নিবেন। আমি কিছু করিনি। - চল!

- তাকে নিবেন না! - গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখান!

- তাকে এভাবে নিতে পারেন না। - সরাও এদের!

- দয়া করে নিবেন না! - সামনে তার বিয়ে।

মনু দাসের বিয়ে ভেঙ্গে যায় এবং সে জেলে যায়।

এদিকে থানায়, জয়শংকর এবং কার্তিকের সম্পর্ক...

দিন দিন আরো খারাপ হতে থাকে।

৩-৪ মাস চলে গেছে।

তারপর চেপ্পানামথোট্টা মন্দিরের উৎসবের শেষদিনে...

কিছু একটা ঘটে...

হ্যালো? এখন মন্দিরের উৎসব চলছে।

গত ৮দিন ধরে কিছুই শোনা যাচ্ছে না!

আজ শেষ দিন... উৎসব আজ শেষ হয়ে যাবে।

সুনীতার ভাই কুয়েত থেকে এসেছে।

তাদের সাথে সেও চলে যাবে।

ওর মাও এখানেই আছেন।

তুমি রাত ৮.৩০ নাগাদ চলে এসো।

না... শুধু আমরাই থাকবো... ঠিক আছে।

সন্ধ্যায় দেখা হবে।

কেন্দ্রীয় কারাগার এবং সংশোধনাগার, কান্নুর

- স্যার। - হ্যাঁ? - দুইদিন পর দেখা হবে।

সবাই দ্বিগুণ ডিউটি করছে আর তুমি ছুটি নিচ্ছো?

আরে না! সেরকম কিছু না!

কিছু জমি সংক্রান্ত কাজ আছে।

তাই আমাকে থাকতে হবে... মনিমালাতে...

গত কিছুদিন ধরে তো আপনি ঘুম, স্নানেরও সময় পাচ্ছেন না।

দ্বিগুণ ডিউটি করার দরকার নেই। এটা তো শুধু একটা উৎসব মাত্র।

শুধু একবার দর্শন দিয়ে আসলেই হবে।

কিন্তু সিআই স্যার তো সেটা মানবেন না।

ওনার সমস্যাটা কী জানেন, স্যার? উনি হলেন দুই মুখধারী সাপ।

যতই ওনাকে বোঝার চেষ্টা করুন সেটা পারবেন না।

- কোথায় যাচ্ছো বলছিলে? - পালাক্কাডে, মানে...

মনিমালা... মনিমালা...

দেখা হবে।

- স্যার, প্রসাদ। - তুমি খাও, হ্যারিস।

- আমি খেয়েছি। - তাহলে ওদের দাও। - হুম।

এইযে... প্রসাদ খাও...

- স্যার? - তুমি মন্দিরের ডিউটিতে আছো, তাই না?

- হ্যাঁ, স্যার। - আমি জয়শংকরের বাসায় আছি।

- স্যার। - ব্যস্ত না থাকলে ১০ মিনিটের জন্য একবার আসো।

আচ্ছা, স্যার।

- কেন এসব...? - তুমি নিচে যাও। - স্যার।

আসতে দাও। সব শেষ হয়ে গেলে ভালোই।

সে সোজাসাপ্টা ছেলে। বয়স অনুযায়ী একটু আবেগী।

ব্যস। তার বয়সে আমরা কীরকম ছিলাম?

আসুন, স্যার... ওনার উপরে আছেন।

- আসো। শুভ সন্ধ্যা, স্যার। - যখন শুনলাম তুমি এখানে...

এসেছো তাই ভাবলাম দেখা করি। জয়শংকর বললো...

তোমার উন্নতি হয়েছে। ভালো কথা।

কেন অপ্রয়োজনীয় কথা বলছো?

তার হাজার বছরেও উন্নতি হবে না।

- তুমি চুপ থাকো। - স্যার, আমি ঠিক আছি।

- আমি কী ভুলটা করেছি? - এক কাজ করো...

গিয়ে মুখে ঠান্ডা পানি ঢুকাও! তাহলেই সমস্যার সমাধান হবে।

জয়, বিষয়টা ঘোলাটে করো না। টুপি খুলো।

আমি জিজ্ঞেস করিনি তুমি কী চাও।

এখানে আপাতত এটাই আছে।

দুই খুটা খেয়ে কাজে চলে যাও।

স্যার, আমি ডিউটিতে আছি। খাবো না।

আমিই তোমার ডিউটি ঠিক করি।

না, স্যার। এখানে কখনোই না।

একই থানায় কাজ করাকালীন রাগ রাখতে নেই।

- সেজন্যই। - না, স্যার।

আমি... আমি ঠিক আছি।

যদি না খেতে চায়, যেতে দাও। জোর কেন করছো?

রাতের কুয়াশায় ওকে ফূর্তি করতে দাও। তোমার তাতে কী?

- স্যার। - হুম।

- ভেবেছিলাম ভালো কাজ করছি। - কেউ করতে বলেনি।

সব আমারই দোষ! তোমরা দুজনই জেদী!

স্যার।

স্যার, কী হয়েছে?

- গাড়ি চালাও! - স্যার!

কী?

মাত্রই আসলাম।

আমার ইউনিফর্ম ইস্ত্রি করা লাগবে। আসছি।

সাড়ে দশটা নাগাদ পৌঁছে যাবো। আর, বিনু...

আমি ওই উকিলের সাথে কথা বলবো না।

ওকে ভাগিয়ে দাও। আচ্ছা।

- স্যার! - কে?

- আমি। - ওহ! প্রশান্ত?

কাজ শেষ না অব্দি একে রাখুন। শেষ করতে না পারলে দুই ঘা দিবেন।

- গতকাল শেষ করলে না কেন? - গতকাল উৎসবের শেষ দিন ছিলো।

ক্রিয়াকালাপের জন্য জলদি চলে যাই।

আপনার স্ত্রীকে বলেছিলাম।

- আমাকে থানায় যেতে হবে। - আচ্ছা, স্যার। আমার শেষ হলে...

চাবি রেখে যাবো। দিদি বলেছেন কী করতে হবে।

- আমি যাই, স্যার। দোকান খুলতে হবে। - আচ্ছা।

- তাহলে শুরু করি? - চলে আসো।

ওহ!

স্যার?

স্যার?

- প্রশান্ত? - হেই!

প্রশান্ত! প্রশান্ত!

প্রশান্ত!

স্যার... সে... গতকাল... সে গতকাল...

কী? ছাদের উপর?

চেপান্নামথোট্টায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে...

- দ্রত সাড়া দেওয়ার জন্য তৈরি থাকবে। - স্যার। - গেট লাগাও।

- তুমি কে? - আমিই লাশটা প্রথম দেখি।

স্যার... প্লিজ উপরে আসুন।

- স্যার? - হ্যাঁ? - প্লামবার সঞ্জীবন।

প্রশান্ত... ও হলো প্রতিবেশি... তারাই লাশটা প্রথম দেখে।

আচ্ছা, আসো।

- আসো - আচ্ছা, স্যার।

- কোথায়? - এদিকে, স্যার।

এদিকে আসো।

এসপি স্যার শীঘ্রই আসবেন। আমি যে গতকাল এখানে ছিলাম বলবে না।

বুঝেছো?

দেখেই বুঝা যাচ্ছে, এখানে ৩-৪ জন ছিলো।

- তার উপর... - যেটা বলছি সেটা করো।

- বিনু, পরিষ্কার করো। - স্যার।

স্যার, যদি জিজ্ঞেস করেন তাহলে বলতেই হবে।

বলবে না!

আমার সমস্যা হতে পারে। এই তদন্তের ভারটাও হারাতে পারি।

তুমি যাতে ঝামেলায় না পরো সেটা দেখবো।

আমাকে গতকাল ফোন করে আনার বুদ্ধিটা কার ছিলো, স্যার?

- প্লিজ রাস্তা দিন। - তাদেরকে বাইরে আসতে দাও।

- দয়া করে সরুন। - প্লিজ।

ওহ!

অনেক মানুষ এবং গাড়ি এদিকে যাতায়াত করে।

এখানে হাতিসহ ট্রাক, কয়েকটা ক্রেনও...

গতকাল উৎসবের শেষ দিন থাকায় ছিলো।

গানের অনুষ্ঠান, আতশবাজি রাত আড়াইটা নাগাদ শেষ হয়।

- আচ্ছা। সন্দেহ জনক কিছু? - না, কিছুই না, স্যার।

স্যার, ছাদের অন্য কোথাও আর সিঁড়ি নেই।

- শুধু ভিতর থেকেই আসা যায়। - বুঝেছি।

বর্তমানে ফরেনসিক এবং ডগ স্কোয়াড কাজে আছে না?

তাদের অসুবিধা না করি। তদন্ত শুরু করা যাক।

- পাশের বাড়িতে সব ঠিক করো। - সব তৈরি, স্যার। - ভালো।

স্যার... এসপি স্যার এসেছেন।

- তোমার স্ত্রী'র সামনে প্রশ্ন করলে সমস্যা আছে? - না, স্যার।

উদয়।

- সরো... সরো। - জয়, তুমি তাকে কতদিন ধরে জানতে?

- প্রায় দেড় বছর ধরে। - কীভাবে জানতে?

সুনীতার উপর আক্রমনকারী জোশি'র...

স্ত্রী সে। নাম হলো রামেয়া।

ওর সাথে দেখা করতে?

তার সাথে হয়তো থানায় তিনবার দেখা হয়েছে।

একবার পাবলিক লাইব্রেরীর বাইরে এবং গতকাল।

- গতকাল? - হ্যাঁ। - খুলে বলো তো।

স্যার।

স্যার?

প্লিজ চলে যেতে বলবেন না। আমি বেশি সময় নিবো না।

অনেক্ষণ ধরে তাদের যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম।

- প্রথমে তুমি বাইরে যাও। - স্যার, প্লিজ...

বেশি সময় লাগবে না... দয়া করে কথাটা শুনুন।

আমি শুনতে চাইনা। যে আমার স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা করেছে...

তুমি চাও তার মামলা তুলতে? জেল থেকে ছাড়তে?

তোমার স্বামী একটা অপরাধী। জন্মগত অপরাধী।

আর বলে কিনা ভুল মানুষকে মেরেছে।

ও ভুল করেছে, স্যার... উকিল বলেছেন...

বাকি সব মামলা টাকা দিয়ে মীমাংসা করা যাবে।

আমারও একটা জীবন আছে, স্যার।

আমার পরিবারকে ছেড়ে তার সাথে এসেছি।

আমাদের একটা বাচ্চা আছে, আপনারই মতো।

- কী? - ব্যাগটা।

- ভুলে রেখে গেছে। - এটা দেখে ওকে ফোন করেছিলাম।

কিন্তু ফোনটা এর মধ্যে ছিলো।

তোমাকে ফোন দেওয়ায় আরবি ভাষায় কী বললো।

- মা? - হুম? - বাই।

পৌঁছে ফোন দিবো।

- টা টা। - আচ্ছা।

- স্যার। - এগুলো কী? - প্লিজ ভুল বুঝবেন না।

আমি এছাড়া কোনো পন্থা দেখছি না।

যদি এটা নিজের মধ্যে রাখেন...

তাহলে জোশী একটা কথা বলেছে...

- যেটা আপনাকে বলতে পারি। - আমি শুনতে চাইনা।

সে কী শুনিয়েছে সেটা নিয়ে আমার সামনে আসবে না।

সে তাকে মারতে চেয়েছিলো, চায়নি? যদি মরে যেতো তাহলে কী হতো?

সবাই তাদের নিজের হারানোটা ভাবে।

- স্যার... - যাও! এখনই বেরিয়ে যাও।

তো... ও স্বইচ্ছায় চলে গিয়েছিলো নাকি তুমি দিয়ে এসেছিলে?

কাঁদতে কাঁদতে চলে গেলো। আনুমানিক সাড়ে চারটা বা পাঁচটায়।

- আর ফিরে আসেনি? - না।

স্যার, এরাই প্রথম লাশটা দেখে।

এরা এখানে কিছু কাজ করছিলো। তোমার নামটা যেন কী?

- সঞ্জীবন। আমি একজন প্লাম্বার। - হ্যাঁ, সঞ্জীবন।

- আর তোমার নাম কী? - প্রশান্ত।

- কোথায় থাকো? - এটা আমারই বাসা, স্যার।

- তুমি এই মহিলাকে পূর্বে দেখেছো? - হ্যাঁ, স্যার।

গতকাল সন্ধ্যায় এখানে দাঁড়ানো দেখেছি। আনুমানিক ৬টা বা ৬.১৫ দিকে।

সে অটোতে করে এসেছিলো।

সঙ্গে একটা ছোট মেয়েও ছিলো।

না, স্যার... তার সঙ্গে কেউ ছিলো না।

- আর জানিনা সে কীভাবে আসলো। - তোমরা যা বলছো...

- তাতে তো অমিল আছে। - তুমি বলছো ও সাড়ে চারটায় চলে গেছে।

এবং দেড় ঘন্টা পর আবার চলে আসলো?

স্যার, আমি সেসময় বাসায় ছিলাম না।

মার্চেন্ট নেভিতে একজন বন্ধুর সাথে দেখা করে ৮.৩০ টার দিকে ফিরে আসি।

- ওর সাথে কেন দেখা করেছিলে? - দুইটা বোতল আনতে গিয়েছিলাম।

গতরাতে মদ্যপান করেছিলে?

হ্যাঁ, স্যার... উৎসব ছিলো বিধায় একটু।

সে রামেয়ার সম্পর্কে তোমাকে বলেছিলো, সুনীতা?

- গতকাল বলেছিলো। - ফোনে?

না, গতকাল যখন আমার ওখানে গিয়েছিলো।

ও গতকাল তোমার ওখানে গিয়েছিলো?

হ্যাঁ... গিয়েছিলো।

তুমি তো মাত্র গতকাল বিকেলেই গেলে।

সে বলে গিয়েছিলো?

বলে যাননি। হঠাৎ চলে গেলো।

নার্ভাস লাগছিলো তাকে? নাকি স্বাভাবিকই ছিলো?

আরে! তুমি তো বলেছিলে আসবে না।

মদ খেয়েছো?

তোমাকে চিন্তিত লাগছে কেন?

- ঘুম নষ্ট করো না। - ঘুমাও। - না।

আগে বলতে হবে কী হয়েছে?

সে এখানে যা বলেছে...

আমাকেও তাই বলেছে।

মন্দিরের ওই রাস্তাটা মেইন রাস্তা ছিলোনা বলে...

সেখানে কোনো ক্যামেরা ছিলো না।

ফরেনসিক এবং ডগ স্কোয়াডের রিপোর্ট...

ছিলো হতাশাজনক।

বাসার বাইরের দেয়ালে...

ঘরের দেয়ালে বা উঠানে কোনো সন্দেহজনক...

রক্তের চিহ্ন, আঙ্গুলের ছাপ বা অন্যকিছু পাওয়া যায়নি।

একই কথা গত সপ্তাহেও বলেছিলে।

স্যার, আমাদের সন্দেহভাজনের তালিকায় থাকা সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

কিন্তু আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারিনি।

- বছরখানেক লাগবে, তাই না? - ফরেনসিকের রিপোর্ট আপনিও তো দেখেছেন।

তো? কী বলতে চাও? তারমানে...

লাশটা আকাশ থেকে এসে ছাদে পরেছে? দেখো...

সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ... তারপর আমাদের ওকে গ্রেফতার করতেই হবে।

ডিপার্টম্যান্ট এটা মানবে না। সে পুলিশ হোক...

বা সহকর্মী... ওর সঙ্গ দেওয়া যাবে না।

- বুঝতে পেরেছি, স্যার। - সিআই জয়শংকর আজ...

গ্রেফতার হবেন। যেহেতু আসামি একজন পুলিশ... "প্রতিবাদের জন্য সম্মিলিত"

তাই গত দুই সপ্তাহে আসামীকে গ্রেফতারের জন্য...

কিছুই করা হয়নি।

পুলিশ যতোই বর্বরতাই করুক না কেন...

আমরা দেখছি যে সরকার এতে উদাসীন অবস্থায় আছে।

তারা ওকে গল্প বানিয়ে পালানোর জন্য সময় দিচ্ছে।

রামেয়ার হত্যাই এখানে মূখ্য বিষয় না।

একটা ৭ বছরের বাচ্চাও নিঁখোজ।

এই নিয়ে আমরা আর কত কথা বলবো?

- সরুন! - দেখি... দেখি... - সিআই জয়শংকরকে গ্রেফতার করো।

রামেয়ার হত্যাকারীকে গ্রেফতার করো! - স্যার, স্যার।

- সরুন! - স্যার, একজন মহিলাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।

উনি পুলিশের ঊর্ধতন কর্মকর্তা বলে কী গ্রেফতারে দেরি হচ্ছে?

স্যার...

আমাকে যেতে হবে, মা।

স্যার, আমদের এসব নিয়ম মানতে হবে? আদেশ অনুযায়ী...

দেখো, এখানে সংবাদ মহলের সবাই আছে। সাধারণ মানুষের মতো...

ছাড় দিলেই... মাথায় চড়ে বসবে।

- নিয়ে আসো। - স্যার।

সরাও!

আচ্ছা...

সর না!

জয়শংকর বলছেন যে তিনি এই হত্যা করেননি।

কিন্তু সেটা গ্রহণযোগ্য না। পুলিশ ডিপার্টম্যান্ট...

তাদের দূর্বলতা ঢাকার চেষ্টা করছে...

এবং আদালতকে ভুল পথে চালিত করছে।

এক্সিবিটস 6, ৭ এবং ৮...

প্লাম্বার সঞ্জীবন এবং...

প্রতিবেশী প্রশান্তের বিবৃতি অনুযায়ী...

এই হত্যাটা জয়শংকরই করেছেন।

শুধু তাই নয়, নিহত রামেয়ার...

সর্বশেষ মোবাইল টাওয়ারের ঠিকানা...

জয়শংকরের বাসার ঠিকানাই দেখাচ্ছে।

তার উপর, ভুলবশত ওনার স্ত্রীর উপর আক্রমনকারী...

জোশি নামের লোকটা এখন জেলে আছে।

নিহত রামেয়া সেই জোশিরা স্ত্রী। তাই অভিযুক্তের...

হত্যা করার উদ্দেশ্য একদম স্পষ্ট।

আমাদের সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী...

ওদের মধ্যে কিছুটা ফস্টিনস্টিও ছিলো।

কনস্টেবল রঘুর সাক্ষ্য অনুযায়ী রামেয়া এবং জয়শংকরকে...

অনেক জায়গায় সন্দেহজনকভাবে দেখা গিয়েছে।

সব দেখে, আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি যে...

জয়শংকরই আসল হত্যাকারী।

যার দরুণ জনগনও ক্ষেপে উঠেছে।

আর রামেয়ার মেয়ে কোথায়? মাত্র ৭ বছরের একটা বাচ্চা।

মেয়াটা কী আদৌ জীবিত নাকি মৃত।

পুলিশের কাছে এখনো কোনো প্রমাণ নেই।

সিআই পদধারী, ডিপার্টম্যান্টে সুপরিচিত...

জয়শংকরের তদন্তে বিলম্ব হবে...

সেটা আমরা জানি।

ক্রাইম ব্রাঞ্চ বা অন্য কোনো জাতীয় এজেন্সিকে...

এই কেসের দায়িত্ব দেওয়া উচিত। যতদিন সেই আদেশ না আসে...

ততদিন জয়শংকরের পুলিশি হেফাজত বা জামিন পাওয়া উচিত হবে না।

এটাই আমার বিনীত অনুরোধ।

এতটুকুই, মহামান্য আদালত।

অভিযুক্ত জয়শংকর...

পুলিশ ডিপার্টম্যান্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন।

পুলিশ ওনাকে সুরক্ষিত রাখতে...

হেফাজত চাচ্ছে। এ বিষয়ে আদালত নিশ্চিত।

সাক্ষীর বিবৃতি বা পরিস্থিতিগত প্রমাণ...

তার পক্ষে নয় সেজন্য...

আদালত ওনাকে জামিন দিবে না।

তাই অভিযুক্ত জয়শঙ্করকে...

১৪ দিনের রিমান্ডে রাখার নির্দেশ দিচ্ছে আদালত।

আরে! সরুন!

বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় সে আমাদের চোখের জল ফেলে যায়।

আর এখন... তুই খানখির বাচ্চা...

- তার সাথে কী করেছিস? - কেউ ওনাকে সরাও!

- ছাড়ুন ওনাকে! - ছাড়ুন!

- ছাড়ুন ওনাকে! - শুয়োরে বাচ্চা!

দেখিস! তোর পরিবারকে শেষ করে দিবো।

এই! এখান থেকে যা!

স্যার।

ডিএসপি স্যার বললেন আপনাকে খাবার দিতে।

কেউ নিয়ে আসবে... কিছু লাগলে বলবেন।

স্যার কয়েকবার আপনার কথা জিজ্ঞেস করছেন।

- আসার সময় মন্দির হয়ে আসলাম। - ওহ।

নমষ্কার।

- অনন্তের সাথে দেখা করো। - স্যার। - ভাইয়া।

- শেষ হলে যেতে পারেন। - আচ্ছা, স্যার।

- আচ্ছা। - যান।

বসো।

তাকে একবার ইউনিফর্মে দেখার ইচ্ছা ছিলো।

গতবার যখন এসেছিলো আপনি ছিলেন না?

না... জানোই তো নির্বাচন নিয়ে কত ব্যস্ত আছি।

- খুব কম বসার সুযোগ পাই। - ঠিকই। - কিন্তু আমি...

তোমার স্যালুট পেলাম না, বাবা।

- ললিতা। - তোমরা দুজন বসে কথা বলো।

ওর সাথে আমার কিছু কথা আছে। আসো।

- ওই সিআই কেসটা তোমার থানার? - হ্যাঁ।

এখন ডিএসপি সেটার আর তদন্ত করবে না।

এখন থেকে ও নীরব থাকবে।

তদন্তের ভার এখন থেকে তোমার।

সরাসরি এসপি হেমন্তকে খবর দিবে।

তুমি আমার ভাগ্নে বলে সে নিশ্চিন্ত হয়েছে।

কিন্তু সিআই এর কেস তো এসআই তদন্ত করতে পারে না।

ডিএসপি'র করা উচিত না? বা ঊর্ধতন কোনো কর্মকর্তার।

তদন্তটা অবশ্য তার নামেই হবে।

কিন্তু সেটা শুধু কাগজে।

সুযোগ পেয়েছো, লুফে নাও।

- আচ্ছা। - হেমন্ত বললো...

অভিযুক্ত সিআই এবং ডিসপি...

সহপাঠী এবং খুব কাছের বন্ধুও।

তাই ভালোভাবে তদন্তটা হবে না।

নিহত মহিলাটা সাধারণ নাগরিক ছিলো।

আর অভিযুক্ত একজন পুলিশ অফিসার।

যদি এটার সমাধান দ্রুত করতে না পারি...

মিডিয়া জ্বলে উঠবে।

আর সব দায়ভার সরকারকে নিতে হবে।

পুলিশ ডিপার্টম্যান্ট হলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে।

আমরা সেখানে কোনো অপরাধী চাই না। শুধু পুলিশ চাই।

ঠিক আছে তাহলে। আমি কিছুক্ষণের মধ্যে বেরিয়ে পরবো।

আমার ফ্লাইট সাড়ে ছয়টায়।

তোমার মা কিছুদিন এখানেই থাকুক।

মন্ত্রী... তোমার মায়ের ভাই বা কাকু হয় নাকি?

যতদিন সরকার আছে ততদিন মন্ত্রী আছে।

কিন্তু ডিপার্টম্যান্ট সেরকম না।

সেটা ঠিক এমনই থাকবে।

তুমি তদন্তটা করার জন্য লড়াই করেছো জানি।

স্যার... আমি যদি ক্ষমতার ব্যবহার করতাম...

তাহলে দেড় বছরের মধ্যে ৫ বার ট্রান্সফার হতাম না।

এটা আমার প্রথম কেস, স্যার।

আমি অপরাধীর খুঁজে আছি।

সেটা জয়শংকর স্যারই হন না কেন।

যদি তদন্তের ফাইলটা আমাকে দিয়ে দেন...

আমি শুরু করতে পারি। আপনার আশীর্বাদ...

এবং সহায়তায়।

- বাইরে অপেক্ষা করো। - স্যার।

রামেয়ার পরিবারের সাথে তার কীরকম সম্পর্ক ছিলো?

সবই ঠিক ছিলো, স্যার... কিন্তু,

জোশী তাদের পছন্দ করতো না।

- ওর কোনো ভাই নেই? - আছে... অনিল।

দিল্লি না কোথাও থাকে জানি। সে...

রামেয়ার থেকে ১৪ বছরের বড়। রামেয়াকে মেয়ের মতো দেখতো।

সে জয়শংকর স্যার ব্যতীত...

পুলিশ ডিপার্টম্যান্টের অন্য কাউকে চিনতো?

হ্যাঁ... নামটা জানিনা... তার কারে করে বাড়িতে এসেছিলো।

একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম উনি কে। তখন বলেছিলো।

- কিন্তু আপনি ওকে দেখেননি? - না, স্যার।

এবং স্যার... কয়েকমাস পূর্বে...

ওই অফিসারের স্ত্রী এখানে এসেছিলো।

আমি ওর সাথে সিঁড়িতে বসে ছিলাম।

তারপর মহিলাটা ওকে ভিতরে নিয়ে অনেক্ষন কথা বললো।

ও আপনাকে বলেনি মহিলা কেন এসেছিলো?

জিজ্ঞেস করেছিলাম। কিন্তু এড়িয়ে গেলো।

হয়তো এমন কিছু যা আমাকে জানাতে চায়নি।

স্যার! স্যার!

স্যার, আমি।

ওহ! প্রশান্ত?

আসো।

এই!

- কী? - তুই পুলিশ বলে হয়তো এখানে আরাম পাচ্ছিস।

- কিন্তু আমরা তোকে বুঝাবো। - মেয়েদের উপর হাত তুলিস।

এখন যতক্ষন না ক্লান্ত হচ্ছি তোকে শুটিয়ে লাল করবো৷

তোর থানায় হয়তো অনেককেই মেরেছিস।

এখন আমরাই তোর ঔষুধের নমুনা দেখাবো।

- আমাকে ভালো করেই জানিস। - ওহ, তাই?

ঠিক বলেছিস। আমি হয়তো এখন পুলিশ না।

কিন্তু আমার সাথে টক্কর নেওয়ার পূর্বে...

ভালো করে ভেবে নে।

- নাহলে শুটিয়ে তোদের বিষ্ঠা বের করে দিবো। - এই!

মহিলাকে খুন করে তাকে বস্তায় ভরে এখানে পুরুষত্ব জাহির করছিস।

নিজের স্ত্রী পঙ্গু হওয়াতে কাজ হচ্ছিলো না?

সেজন্যই রামেয়ার সাথে ফস্টিনস্টি করেছিস?

- হেই! মার ওকে! - হেই!

এই!

স্যার! স্যার!

আসুন স্যার! দ্রুত আসুন!

জলদি, স্যার! স্যার!

আমার বাচ্চা কোথায়?

আমার বাচ্চা কোথায়, কুত্তার বাচ্চা!

তার সাথে কী করেছিস?

- এই! - মাথা ঠান্ডা কর!

সর!

- সবকটাকে ভিতরে ঢুকাও! - সবাইকে ঢুকাও।

নিজেদের সেলে যা।

- স্যার... স্যার! - যেতে দে আমাকে!

- কথা শুনবি না? ঢুক! এখনই। - টেনে ঢুকাও।

বলছি ভিতরে যেতে।

- ওহ! - তাকে কেন মারলি?

কেন মারলি?

আমার বাচ্চা কোথায়?

কী স্যার? ছুরি কেন মেরেছি জিজ্ঞেস করতে এসেছেন?

হ্যাঁ, আমি ওকে খুন করতে চেয়েছিলাম।

সেই তাকে মেরেছে, তাই না?

তারপর... আমার বাচ্চাকে...

আমার নাগালে তাকে পেলে শেষ করে দিবো!

যতই ভালো পুলিশওয়ালা হোক!

আমি ওকে ভালবাসতাম... আমার সাথে পালিয়ে এনেছিলাম।

আর এখন... সব শেষ।

আমার... তার...

এবং আমাদের বাচ্চাদের...

সবার জীবন শেষ।

কোনো দ্বিধা না করে যেকোনো কাজ করতাম।

যাতে ওর সাথে ভালো করে থাকতে পারি।

যখন তুমি একজন মহিলাকে মারতে যাচ্ছো...

সেটাও ভালো জীবন বয়ে আনে, জোশি?

আর গতকালের ছুরি মারা। আমি সেটার তদন্ত করছি না।

খুঁজতে এসেছি যে জয়শংকর স্যার...

- নাকি অন্য কেউ রামেয়াকে... - আপনার সন্দেহ থাকতে পারে...

কিন্তু আমার নেই। উনিই ছিলো।

দোষটা অন্যজনের উপর দিবেন না।

পুলিশরা কোন খেলা খেলে সেটা জানি।

এত উত্তেজিত হচ্ছো কেন, জোশি?

আমাদের উপসংহার দরকার, জোশী। অনুমান না।

- ১০ মিনিট একান্তে কথা বলতে চাই। - আচ্ছা, স্যার।

আমরা আসছি।

জয়শংকর স্যার কাজটা করেছেন কেন মনে হয়?

উনি ডেকেছিলো বলেই সে গিয়েছিলো।

সে ওনার বাসায় গিয়েছিলো...

ক্ষমা চাইতে। তারপর চলে আসে।

কী হয়েছিলো জানতে ওকে ফোন দিই।

- হ্যালো। - কী হচ্ছে?

- দেখা করেছিলে? - আধা ঘন্টা আগে চলে আসি।

এখন আমাকে নিতে অটো পাঠিয়েছেন।

উনি আমার সাথে দেখা করতে চান। জয়শংকর স্যার...

আগে আমার উপর চিৎকার করেছিলেন।

হয়তো খারাপ লেগেছে এখন।

তাই হয়তো উনি আমাদের কথায় রাজি হতে পারেন।

এটাই মনে হচ্ছে।

মেনে নিলেই ভালো।

মোনাফের অটোতে যাচ্ছো নাকি?

না... অটো। সিআই স্যার পাঠিয়েছেন।

মনে হয় ওনার নাম সিন্টো নাকি।

আমার নাম তো আপনাকে বলিনি, দিদি।

আপনি যে কলটা করলেন...

শুনলাম কেউ আপনাকে সিন্টো ডেকেছে।

তাই আমার নাম ভেবে নিলেন?

যাইহোক... বাদ দাও।

ঝামেলাটা যেভাবেই হোক...

শেষ করো। আমি পরে ফোন দিবো।

সিন্টো?

তার নামটা অন্য কাউকে বলেছো?

আমি ডিসিপি উদয়ভানু স্যারকে বলেছি।

কিন্তু নামটা তো ওনার ফাইলে দেখিনি।

তারমানে সে অটো করেই জয়শংকর স্যারের বাসায় যায়।

- তাইনা, হারিস? - হ্যাঁ, স্যার।

জয়শংকর স্যারের স্ত্রীকে মারতে কে বলেছিলো?

ওটাতো জয়...

মানে, বললামই তো ভুল মানুষকে মেরেছি।

যেতে পারো, জোশী।

স্যার, পুরো প্রদেশে সিন্টো নামের...

- অনেক লোক আছে। - আমরা আদৌ জানিনা...

- নামটা আসল কি না। - যদি এরকম হয়?

ভরসাযোগ্য প্রমাণ না পাওয়া অব্দি...

এই নামটাই আমাদের হাতিয়ার। - সিন্টো।

- স্যার! - স্যার!

ভাগ্য আপনার সহায় ছিলো। সেজন্যই এতটুকু আঘাত পেয়েছেন।

- বুঝেছেন? - কেমন চলছে?

- এখন তিনটা বাজলো? - নাদাপুরামে ছিলাম।

- বুঝেছি। - কেমন আছে বর্তমানে? - কোনো পুঁজ নেই।

যদি নিশ্চিত হয়ে যাই কোনো ইনফেকশন নেই...

তাহলে ওনাকে ৪ দিনের ভিতর ছেড়ে দিবো।

- সাবধান থাকবো, ডাক্তার। - আচ্ছা।

আমাকে দেখতে দিন... রাউন্ডের পরে।

- আবার আসবো। - আমিও যাচ্ছি। সন্ধ্যায় দেখা হবে।

অবশ্যই... আচ্ছা... জয়।

কতদিন পর রাতে ভালো করে ঘুম হলো জানো?

আমি এই কেসটা সমাধান করতে চাই, উদয়।

এই সুযোগটা কাজে লাগাবো।

একটা সাহায্য চাইতে পারি?

কী?

তার শারিরীক অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় তো?

- না, স্যার। - শুধু বিশ্রামের দরকার।

- সেজন্যই মনে হয় ১৮ দিনই যথেষ্ট। - স্যার।

এটা শর্তসাপেক্ষে জামিন। সে যেন জেলা ছেড়ে না যায়।

- বুঝানোর দরকার নেই তো? - না, স্যার।

এটার সুযোগ নিয়ে তদন্তে...

- কারসাজি করবে না। - স্যার।

- বাবা? - হুম?

তুমি ওই মহিলাকে চিনতে?

- আসলে... - এই, তোমাকে কী বলেছি?

- অন্য রুমে যাও। - মা, তোমার...

কিছুদিন স্কুলে যাওয়ার দরকার নেই।

শীঘ্রই প্রমাণ হবে যে বাবা অপরাধটা করিনি।

তারপর স্কুলে যেতে পারবে।

মা যাই বলুক... তোমার যা জিজ্ঞেস করার আমাকে করবে।

- বুঝেছো? - যাও।

দিদিমা ডাকছে তোমাকে।

দু-একদিনের মধ্যে এই ব্যাথা কমে গেলে বাড়ি চলে যাবো।

- আমরাও তোমার সাথে যাবো। - না।

কিছুদিন একা থাকতে চাই।

এই কেসের কাঁদায় না নামা অব্দি এর সমাধান হবে না, সুনীতা।

- এই! কে ওখানে? - এই, থাম!

- কী হয়েছে ভাই? - যেতে দিবে না।

- থাম! - কী? - কে তুই?

- কী চাস? - আরে না!

এই লোকদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলা করুন।

আমাকে মারার মতো কী করেছি? আমি তো সন্ত্রাসী না।

বোম দিয়ে তো বাসা উড়াইনি।

আমি চারপাশটা দেখে ছবি তুলতে চেয়েছিলাম।

হত্যার জায়গার ছবি লাগবে কেন?

এই তো আসল কথা। আপনাকে বুদ্ধিমান লাগছে।

স্যার, আমি এই কেসের সত্যটা বের করে...

তার ভিত্তিতে চিত্রনাট্য লিখতে চাচ্ছি। আমি একজন লেখক।

এখন পর্যন্ত তিনটা উপন্যাস লিখেছি।

আমার নাম হলো আলাপ্পান চন্দনথপু। এই লোকগুলো অনর্থক আমাকে মেরেছে।

এরা বলছে আমি নাকি খুনি? আমি কীভাবে খুনি হতে পারি?

যদি আমি খুনি হতাম তাহলে সেই বাসায় কেন আসবো?

দেশ ছেড়ে চলে যেতাম! আমি কেন ফিরে আসবো?

ঠিক বলছি?

আমার কয়েকটা দাঁত ভেঙ্গে গেছে।

অযথা অকারণে!

আমি যদি পশু হতাম... তাহলে মারধরের জন্য...

তাদের উপর মামলা করতেন না?

- আজকাল মানুষ হওয়াটাই পাপ। - এই!

- কী? - কম কথা বলো! - আচ্ছা।

কী হয়েছে সেটা শুধু জানালাম।

আমি পুলিশকে ভয় পাই, তাই।

কিন্তু আপনাকে দেখে ভদ্র লাগছে।

তাই প্লিজ এটা পড়ুন, স্যার... ইরাম্বিল রামেয়ার হত্যা রহস্য।

খুব কষ্টে লিখেছি... পড়বেন একবার।

আমি আপনাকে সত্যটা বলছি।

- এক মাথাযুক্ত রাবন? - হ্যাঁ।

এদেরকে মিনিট খানেকের জন্য বাইরে যেতে বলবেন?

একটু একা কথা বলতে চাই।

এতে আপনারই সহায্য হবে।

- বাইরে যাও। - স্যার!

যে ব্যক্তি হত্যা করেছে... বা করেছে,

সে এমন একজন যার কথা আপনি চিন্তাও করেননি, স্যার।

সিআই জয়শংকরের স্ত্রী, সুনীতা।

বাসার কাছেই যখন মন্দিরের উৎসব চলছিলো....

তখন সে বাসা থেকে চলে যাবে কেন?

কেউই তো এরকম যায়নি!

হয়তো কেউ তাকে বুঝিয়েছে যে...

তার স্বামী এবং রামেয়ার মধ্যে...

কোনো প্রকার ফস্টিনস্টি চলছে।

তাই ওর বাড়িতে আসা রামেয়ার সাথে অকল্পনীয় নৃশংসতা করে।

ও লাশটা একটা বস্তায় ঢুকিয়ে ছাদে নিয়ে যায়।

যখন ভাবছিলো লাশটা কিভাবে ঠিকানা লাগাবে...

তখনই জয়শংকর দেখে ফেলে এবং তাকে অন্যত্র পাঠিয়ে দেয়।

এটা পড়ার পর জানবেন যে কীভাবে হত্যাটা করেছে।

সে একদম রাবনের মতো... চতুর বুদ্ধিসম্পন্ন।

তাই শিরোনাম ''এক মাথাযুক্ত রাবন"।

আরে ভাই! প্রথমত, রাবন মহিলা না!

- একজন পুরুষ ছিলো! - জানি, স্যার।

কিন্তু "এক মাথাযুক্ত শূর্পণখা" তো লিখতে পারবো না। [ শূর্পণখা → রাবণের বোন]

নাহলে দর্শক খুনিকে শুরুতেই আন্দাজ করে নিবে।

দর্শক যাতে শেষদিকে ধাক্কাটা পায়।

শিরোনাম দিয়েই টুইস্টটা শুরু!

আপনি শুধু দেখতে থাকুন, স্যার। যেদিন এই কেস শেষ হবে...

তখন দেখবেন খুনি হলো সুনীতা।

আমি সে ব্যপারে নিশ্চিত, স্যার।

কিছুদিনের জন্য, এই রাবন লুকিয়ে থাকলো ঠিকই।

কিন্তু সে আবার দেখা দিলো। যেদিন জয়শংকর হাসপাতাল থেকে...

বের হলো ঠিক সেদিন রাতে।

- কেউ বাইকে আগুন দিয়েছে! - জলদি আসুন। আসছি।

সরুন!

স্যার! স্যার!

নিমন্ত্রণ পত্র

এই বিয়ের নিমন্ত্রণের কার্ড মনুর, তাইনা স্যার?

- ওই যে আটক হয়েছিলো? - অসম্ভব।

- ওটা তো একটা রেন্ডম কার্ড ছিলো। - না। রেন্ডম ছিলো না।

সবকিছুরই নিঁখুত পরিকল্পনা করা হয়েছিলো।

ওরা আমাদের শ্বাস নিতে দিবে না।

আমাদের গোলক ধাধায় ঘুরাচ্ছিলো।

- আমরা শুরু করতে পারি? - হ্যাঁ, স্যার।

- রেশমা। - হ্যাঁ?

আগামী মাসে, পর্বটা আমার দেওয়া...

তারিখ অনুযায়ী প্রচার করতে পারবে?

চেষ্টা করবো, স্যার।

না... আমরা করবো। আমরা করবো, স্যার।

ভালো।

তোকে হাতেনাতে ধরেছি আর তুই অন্যের কথা বলছিস?

- আমি না... ওটা আমি না। - বিনায়কান? বিনায়কানটা কে?

- আমাকে যেতে দিন! - কোথায়? - তারা আমার কথা শুনবে না, স্যার।

- বলেছিলাম ওটা আমি না। - তাই নাকি?

- ছাড়ুন, স্যার! - উনি তোর শত্রু নাকি?

ভেবেছিলি বাইক জ্বালিয়ে বেঁচে যাবি?

হেই! বিনু! থামো!

করছোটা কী?

থানায় এসবই করো?

তার উপর এত দয়া কেন দেখাচ্ছেন, স্যার?

আমি ডিসিপি উদয়ভানু স্যারকে জিজ্ঞেস করেছি।

আর উনি তাকে মারতে বলেছেন?

হুম? তোমাকে পুলিশ কে বানিয়েছে?

গাধা! একটা গরম কেসের জায়গায় গিয়ে...

বাইক জ্বালিয়ে নিজের বিয়ের কার্ডে ছবি এঁকে...

সেখানেই ফেলে আসবে? তাকে পাগল মনে হয় নাকি?

বাচ্চাদের মতো চিন্তা করবে না, বিনু!

যদি একজন কাজটা সে করেছে দেখিয়ে থাকে...

তারমানে ওই ব্যক্তি তাকে ফাঁসাতে চাচ্ছে!

আর তুমি এখন সেটাই করছো যেটা ওরা চাচ্ছে!

- এরা কারা? - ওর সাথে জেল থেকে বেরিয়েছিলো।

বিনু, এখন আমি এই থানার দায়িত্বে আছি।

- স্যার। - আবার এসব করে যদি বলো ডিসিপি স্যার বলেছেন...

যাও এখান থেকে!

তোমার কারো উপর সন্দেহ আছে?

বিনায়াকান... প্রথমেই বলেছিলাম।

- নিশ্চিত তো এই ঠিকানাই? - হ্যাঁ, স্যার।

কী হয়েছে, স্যার? আমিই এখানের মালিক।

- এটা খোলা না কেন? - বিনায়াকান নামের একজন ভাড়া নিয়েছে এটা।

গত ৬-৭ দিন ধরে সে আসেনি।

তার কয়েকটা অটো আছে। সে বলেছিলো অটোগুলো রাখার...

জন্য একটা জায়গা দরকার।

এই মাসের শেষে এখান থেকে চলে যাবে।

- ওর বাড়ি কোথায়? - সে মূলত...

ইদুক্কি'র পাট্টাডি থেকে। আর ঠিকানাটা...

ভাড়ার চুক্তিতে আছে। শেল্ফ থেকে কাগজটা নিয়ে আয়।

- কোনো সমস্যা নাকি, স্যার? - ওর নাম্বার আছে?

- হ্যাঁ। - ফোন দাও। - আচ্ছা।

- লাউডস্পিকারে দাও। - আচ্ছা।

লাগছে না, স্যার।

- পাট্টাডি বললে, তাইনা? - হ্যাঁ, স্যার।

আমার বেন্নি নামের এক সহপাঠী। সেও ইদুক্কির।

স্পেশাল স্কোয়াডে আছে ও। একবার ফোন করবো...

- আচ্ছা, করো। - আচ্ছা, স্যার।

- আপনারা সবাই নিচে যান। - আচ্ছা।

- তুমি না... এখানেই থাকো। - যান সবাই।

- যান! সবাই নিচে যান! - হুম, বেন্নি ভাই।

- হ্যাঁ, হারিস? - স্যার, দুঃখিত। জরুরী ছিলো।

ক্যাবল টিভির বিনায়াকান কে পেয়েছি।

পাট্টাডি'র বেন্নি ভাই লাইনে আছে।

- এড দিই তাকে! - হুম। - বলো বেন্নি ভাই।

স্যার, বেন্নি বলছি। সে হাসপাতালে...

ভর্তি আছে। ওর শ্বশুর বাড়ির কাছেই।

পেরিনগালাম নামের একটা জায়গা আছে। পাট্টাডি থেকে কিছুটা দূরে।

আমরা সকালে পৌঁছে যাবো। তুমি থাকবে তো?

আরে না, স্যরি... আমি এখন থেনিতে আছি। ভাক্কাচান হত্যা মামলার...

প্রমাণ সংক্রান্ত কাজে।

- থানা থেকে কাউকে পাঠিয়ে দিবো। - আচ্ছা।

পেরিনগালাম পৌর সহকারী হাসপাতাল, ইদুক্কি

কী বলছেন, স্যার? গত ৫-৬ দিন ধরে...

হাত পা নাড়াতে পারছিনা বলে শুয়ে আছি।

আমি কেন জয়শংকর স্যারের বাইকে জ্বালাবো।

আর সেই বাসায় যেটার এত বড় তদন্ত চলছে?

ক্যাবলের ব্যবসা ভালো চলছিলো না।

যদি আমাদের জমিটা বিক্রি করে তাহলে ব্যবসা উন্নত করতে পারবো।

এভাবেই ও আমার ক্ষতি করেছে।

আপনারা ওকে ভালো করে জানেন না।

ওর বিষয়ে তদন্ত করে দেখুন। তার মতো দুইটা বজ্জাত...

আর খুঁজে পাবেন না আপনি।

আমি যা বলছি যদি বিশ্বাস না করেন...

তাহলে এম্বুল্যান্স ডাকুন। আর এখনই গিয়ে...

তাকে জিজ্ঞেস করুন।

কথায় আছে জীবনে একবার হলেও খারাপ ভাগ্য আসে।

- দেয়ালে উঠে এসিতে সাহায্য করছিলাম। - হ্যালো?

স্যার, মনুকে ফোন দিয়েছি...

- হ্যালো? মনু? - না, আমি ওর মা বলছি।

- কে বলছেন? - আমি এসআই কার্তিক। - ওহ।

আপনাদের জ্বালা মিটেনি? সে এখান থেকে চলে গেছে।

যদি থাকতো তাহলে ওর বাকি জীবনটাও শেষ হয়ে যেতো।

- কোথায় গেছে ও? - জানি না, স্যার।

তাকে শান্তিতে থাকতে দিন! যদি পারেন তাহলে ওকে খুঁজে দিয়েন।

ধ্যাৎ! ভুল করে ফেলেছি, হ্যারিস।

- তাকে বের করে ফেলবো, স্যার। - স্যার?

- কী? - আপনারা সিআই জয়শংকর স্যারের...

হত্যার কেসটা তদন্ত করছেন?

বেন্নি আমাকে বলেনি। যখন জয়শংকর স্যার...

পাট্টাডি থানায় ছিলেন তখন...

ওনার উপর হামলা করা হয়। আশাকরি সেটা জানেন।

- না। - যদি ভুল না করে থাকি...

হামলাকারীর নাম সিন্টো ছিলো।

যদি থানায় আসেন তাহলে সেটার ফাইল দিতে পারবো।

এইযে... ও হলো সিন্টো।

এরা সবাই তার সাথে ছিলো।

এদের সাথে একটা ছেলে এবং মেয়েও ছিলো।

তাদের বিরুদ্ধে কোনো কেস হয়নি।

- কেসটার ব্যপারে খুলে বলবেন। - অবশ্যই, কেন না?

এই কেসে তখনকার এই থানার এএসাই শিবদাসানের...

ছেলে জড়িত ছিলো।

পাহাড়ের কাছে পৌঁছানোর প্রায় এক কিলোমিটার আগে...

আপনি তার বাড়ির পাশ দিয়ে যাবেন।

যদি সেখানে যান তাহলে উনি নিজেই সব বলে দিবেন।

শুধু এই যে.... জয়শংকর স্যার নিজেই ওই কেস ধামাচাপা দেন।

তাই সত্যিটা না জেনে কিছু বলা ঠিক হবে না।

ঠিক... ফাইলটাকে কপি করে দেওয়া যাবে?

অবশ্যই। আমি নিয়ে আসছি।

- বিনোদ? - স্যার।

সিন্টো...

কখনো কখনো ভুল ট্রেন আমাদের সঠিক গন্তব্যে পৌছে দেয়।

তাইনা, স্যার?

কেউ আমাদের সামনে সুতো ঝুলাচ্ছে।

সেটার অনুসরণ করেই দেখি কী হয়।

সেই ছিলো, স্যার... একদম বজ্জাত পাবলিক।

ভাড়াটে গুন্ডা।

তখনই ওর সাথে দেখা হয়েছিলো। এখন আমার...

- ছেলে ভালো জায়গায় চলে গেছে। - সে এখন কোথায়?

- আর তার নাম কী? - আয়ারল্যান্ডে আছে। অরুন।

- অরুন শিবদাস। - ঝামেলা কী হয়েছিলো?

আসলে... তুচ্ছ একটা ঘটনা ছিলো।

সিন্টো আর তার দলবলের সাথে একটা মেয়ে...

নদীর পাশে গিয়েছিলো।

বর্ষাকালের সময় ওখানে ছোট একটা জলপ্রপাত আছে।

একটা পর্যটন কেন্দ্র।

সেই দলে ভুলভাল কাজ দেখে...

ওখানে থাকা দুই পুলিশ...

খোঁচা দিয়ে কথা বলে ফেলে।

যেমন...

"এতগুলা ছেলের সাথে একটা মেয়ে?"

এরকম বলেছিলো। আর সেটা শুনে...

সিন্টো তাদের উপর হামলা করে দেয়।

ওরা যে পুলিশ সেটাও ভাবেনি।

এবং তারা যখন উন্মাদ হয়ে যায়...

- এটা আমারের বাইক না? - হ্যাঁ, স্যার। - থামো।

পিছনে যাও।

শালা কুত্তাকে মার! এর আগে মেয়েদের দেখিসনি?

আগে যা বলিছিলি আবার বল! শুয়োরের বাচ্চা!

- থাম! - অরুন! পুলিশ!

- ধরো সবাইকে! - ভাগ!

- চল! - পুলিশের গায়ে...

- হাত তুলিস? - থাম, শুয়োরের বাচ্চা!

- ধরো সবাইকে! - এই! এই!

- কী হয়েছে সেটা আগে জানুন, স্যার! - চুপ কর!

তো পুলিশ আমাদের যা ইচ্ছে বলতে পারে?

হ্যাঁ, বলতে পারি!

- কী? - টুকরো করে দিবো তোকে! - আয়! টুকরো কর!

হেই! এদিকে আয়।

থামুন!

আয়! আয়!

ছাড়ুন বলছি।

যখন শুনলাম সবাইকে থানায় নেওয়া হয়েছে...

আমি দৌঁড়ে গেলাম দেখতে।

সিন্টো ছেলেটা সেলে ছিলো। জয়শংকর স্যার খুব মেরেছিলেন ওকে।

আমি এবং অন্য পুলিশরা অনুনয় করার পর...

উনি খুশি মনে আমার ছেলে এবং মেয়েটাকে...

কোনো কেস না দিয়ে ছেড়ে দেন।

সাথেসাথেই ওকে ব্যাঙ্গালুরুতে পাঠিয়ে দিই।

তারপর ওর পড়া শেষ করে আয়ারল্যান্ড চলে যায়।

সিন্টো কয়েকদিন মদ খেয়ে এসে নাটক করেছিলো...

বলেছিলো অরুনের কারণেই সে ঝামেলায় পরে।

বলেছিলো গল্ফে চাকরী পেয়েছে কিন্তু যেতে পারেনি...

ওই ক্রিমানাল কেসের কারণে।

আমি শুধু ধৈর্য নিয়ে শুনেছি।

- সিন্টো কোথায় থাকে জানেন? - না, স্যার।

এখানেই আশেপাশে কাজ করতো... কিন্তু বছরখানেক ধরে দেখছি না।

আচ্ছা, স্যার। সে আবার আসলে বা ফোন দিলে জানাবেন।

- অবশ্যই, স্যার। - আচ্ছা।

একদিকে কার্তিক তার তদন্ত করছিলো,

সাথে জয়শংকরও তার নিজস্ব তদন্ত করছিলো।

কারণ ওর জামিন শেষ হতে...

মাত্র কয়েকদিন বাকি ছিলো।

স্যার, ভাবুন তো।

এই কাজটা বাইরের কেউ না করে...

বাসার ভিতরে কেউ করে?

সেদিন উৎসবের শেষ দিন ছিলো।

সন্দেহভাজন কেউ সেদিন বাসায় এসেছিলো?

আমি উৎসব ছিলো বলে চলে যাই।

- আপনার স্ত্রীকে জানিয়েছি। - আমি থানায় চলে যাবো।

আচ্ছা, স্যার। কাজ শেষ হলে চাবি রেখে যাবো।

গতকালও সেরকম করেছি। দিদি বলে দিয়েছেন কী করবো।

- সঞ্জীবন কোথায়? - সঞ্জীবন... উপরে আছে।

হেই!

হেই! সঞ্জীবন।

সঞ্জীবন!

এই!

- এই! থাম! - সঞ্জীবন!

স্যার!

উনি বললো দেখা করতে চায়। কিন্তু...

আচ্ছা... সমস্যা নেই। নিয়ে যাচ্ছি।

- চলুন। - ঠিক আছে।

কী, ভাই?

আমি এখনে এনওসি'র জন্য এসেছি। নো অবজেকশন সার্টিফিকেট।

- এনওসি কীসের? - স্যার, শুধু...

- মানে... - সোজা সাপ্টা কথা বলুন। কাজ আছে।

গতদিন বলেছিলাম না যে সিআই'র স্ত্রী সুনীতা...

ইরাম্বিল রামেয়াকে মেরেছে?

সেটা ভুলে যান।

আচ্ছা... আর?

যখন এটা নিয়ে আরো ভাবলাম...

বুঝলাম যে কাউকে খুন করে ছাদে তুলার...

মতো শারিরীক ক্ষমতা তো ওর নেই।

তারপর কে হতে পারে সেটার আরো তদন্ত করলাম।

আমার বেনামী খোচর থেকে...

কিছু তথ্য পেয়েছি।

রামেয়ার লাশ পাওয়ার আগের রাতে...

ওই ছাদে মদ্যপান হয়েছিলো।

ডিসিপি উদয়ভানু, থানার বিনু...

সেই রাতে ওখানে উপস্থিত ছিলো।

ডিসিপি এবং সিআই জয়শংকর খুব কাছের বন্ধু।

যখন দুই কাছের বন্ধু একসাথে থাকে তখন...

কী চলে আমরা সেটা জানি।

যদি খুনটা বাসার ভিতরে হতো...

তাহলে খুনি উদয়ভানু এবং...

সাকরেদ জয়শংকর হতো।

কিন্তু যদি এটা বাইরে ঘটে, যদিও তা অসম্ভব...

যে দর্শক যা পছন্দ করে তাই হবে।

কী বলেন?

তো বাইরে কী হয়েছিলো? কে ছিলো?

আপনি! মানে...

আপনিও সেই রাতে গিয়ছিলেন, তাই না?

সিআইয়ের সাথে ভালো সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও...

আপনি সেখানে গিয়েছিলেন।

তাই না? আপনারা সবাই নেশায় বিভোর ছিলেন।

আপনি জানতেন ওনার বউ বাচ্চা বাসায় নেই।

কে জানে হতে পারে খুনটা আপনিই করেছেন।

সেই বুদ্ধিমান এবং গণনাকারী একমুখী...

রাবন আসলে আপনিই, তাই না স্যার?

- হ্যাঁ, আমি। - মানে...

আমি যদি এই গল্পে সিনেমা বানাই তাহলে আপনার...

কোনো আপত্তি নেই। সেই সার্টিফিকেটের জন্যই এসেছি।

- এই এনওসি'র কথাই বলছিলাম। - এজন্য? - হ্যাঁ।

- তুমি আমার এনওসি চাও। - হ্যাঁ। - অবশ্যই।

- এখনই সেই অধিকার দিচ্ছি। - সমস্যা নেই। আপনি হয়তো ব্যস্ত আছেন।

- কী? এখানে? - ভিতরে ঢুকো। - স্যার।

- স্যার, কী করছেন? - তোমার পুরো গল্পটা পড়তে দাও।

- ওটা পড়তে হবে কেন? - আমি তো সব বলে দিলাম। - হারিস।

- আমি না বলা পর্যন্ত বের করবে না। - আপনি মদ খাচ্ছিলেন না।

- স্যার... আমি শুধু... - চুপ! - ওকে চুপ করাও হারিস।

- আমার সার্টিফিকেট লাগবে না! - শুনেছিস!

- শুভ সকাল, স্যার। - একটা খবর আছে।

রামেয়া যে অটোতে ছিলো, আমরা সেটা...

- সিসিটিভি থেকে চিহ্নিত করেছি। - কে ছিলো?

স্যার, রামেয়ার বাসার সামনের রাস্তায়...

কয়েকটা ছোট দোকান শুধু।

তাদের সিসিটিভি নেই। এই ভিডিওটা...

একজন স্বাস্থ্য পরিদর্শকের বাসার গেইটে থাকা ক্যামেরার।

ওই বাসায় যারা থাকেন তারা দুই মাস শহরের বাইরে ছিলেন।

- সেজন্যই আমরা ভিডিওটা পূর্বে পাইনি। - অটোতে...

একজন মহিলা এবং বাচ্চাকে দেখা গেছে। আমরা নিশ্চিত যে...

- এটা রামেয়া এবং তার মেয়ে... - অটো ড্রাইভারের...

- ঠিকানা পেয়েছো? - পেয়েছি, স্যার। কাছেই ঠিকানাটা।

- আমি আপনাকে ঠিকানাটা পাঠাচ্ছি। - দারুন!

- হারিস! - হ্যাঁ।

- স্যার! - এটা তোমার বাসা, রঘু?

হ্যাঁ, আমার।

এই গুরুভায়ূর? এটাই ছুটির আবেদনে লিখেছিলে না?

- ওটা... আমি... - আপনাকে কোথায় দেখেছি?

থানাতে। আমি অবসরপ্রাপ্ত এএসআই।

- আপনার নাম? - ভার্গিস। আমাদের...

একসাথে কিছু লেনদেন আছে। সে বিষয়ে কথা বলতে এসেছিলাম।

মনে হচ্ছে চাকরীর পাশাপাশি অনেক লেনদেন করো, রঘু।

আমারও সংসার চালাতে হয়।

অটো নাম্বার KL13M9089 কার?

এটা তো... এখানে।

- এখন কোথায়? - পিছন দিকে।

দেখাও তো।

আমার বাবার ছিলো এটা। উনি দুই বছর পূর্বে মারা গেছেন।

ভয়ঙ্কর অবস্থা করে রেখেছো এটার।

বুঝতে পারিনি, স্যার।

সিন্টোকে একদিনের জন্য এটা ভাড়া দিয়েছিলে।

- তাই না? - সিন্টো?

আর যখন কাজ শেষ তখন এই অবস্থা করে দিলে।

পুলিশের বুদ্ধি!

- হারিস। - স্যার?

- ছবি তুলো। - আচ্ছা।

খুলোতো।

বস্তা সরাও।

- কী এসব? - ওই মোড়ে আমার ভাইয়ের দোকান আছে।

মুরগীর দোকান। এগুলো ওখানেরই।

- হারিস। - স্যার? - ভিতরে গিয়ে দেখো তো।

- আচ্ছা। - আপনার কাছে ওয়ারেন্ট আছে?

আমার বাসায় বেশি চালাকি করবেন না।

রঘু "স্যার" এভাবেই কথা বলেন? আপনার অনেক কিছু শেখার আছে।

- কী করেছি? কী বলছেন আপনি? - রঘু।

ছাড়ুন না, স্যার। দিনশেষে সেও পুলিশ।

রামেয়ার হত্যায় জড়িত অটোটা এখানে রাখা।

আর এই ড্রামগুলোতে রক্ত...

এসব আপনার কাছে তুচ্ছ মনে হচ্ছে?

এদিকে চলো।

ভিতরে সন্দেহজনক কিছু নেই, স্যার।

- রামেয়ার মৃত্যুর দিন কোথায় ছিলে? - মাত্তান্নুরে।

উত্তর একদম তৈরি। রামেয়া আত্মীয় ছিলো নাকি?

উপর মহল থেকে আদেশ এসেছে নাকি?

সিআইকে ছেড়ে দিয়ে অন্য কোনো পুলিশের ওপর দোষ চাপানোর!

- আমার উপর দোষ চাপাবেন না! - শুটিয়ে লাল করে দিবো!

গাড়িতে উঠে বস! তারপর বলছি...

- কী বলেছে আর কী বলেনি! - হারিস! স্যার!

- গাড়িতে তুলো ওকে। - স্যার?

রঘুকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

মনে হচ্ছিলো রঘু মিথ্যা বলছে যে...

এই কেসে তার সম্পর্কে নেই। অথবা সে কাউকে...

ভয় পেয়ে আছে।

কারণ সেই রাতেই...

অপরাধী খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

মা... মা।

মা!

মা! মা!

মা?

মা...

রামেয়ার মৃত্যুর দিন থেকেই পুলিশ...

- বাচ্চাটাকে খুঁজছিলো। - অনেক পুলিশেরই...

- ওকে খুঁজা প্রয়োজন ছিলো। - একটা কেস যেটা পুরো প্রদেশকে ধাক্কা...

- পুলিশ মেয়েটির বাসায় এসেছে। - তদন্তের মোড়...

- এবার ঘুরে যাবে। - যেতে দিন ওনাকে। সরুন।

- সবাই সরুন। - আমরা তাদের প্রতিবেশী।

- যাইহোক... সরুন। - উনি বললো না সরতে?

- বাচ্চাটা কোথায়? - সবাই যা বলছে...

তা শুনে বিছানয় শুয়ে কাঁদছে।

বাচ্চা ফিরে আসায় রামেয়ার পরিবার আসেনি?

পথিমধ্যেই আছেন তারা। ফোনও করেছেন কয়েকবার।

বাচ্চার সাথে কথাও বলেছেন।

- তাকে ডাকবো নাকি? - হ্যাঁ।

- হারিস। - হ্যাঁ? - বসো।

- হুম... এদিকে আসো। - যাও।

এই দেখো।

এই লোকই তোমকে আটকে রেখেছিলো?

হ্যাঁ।

তুমি আর মা কী তার অটোতে করে...

মন্দিরের কাছের বাসায় গিয়েছিলে?

- হ্যাঁ। - সেখান থেকে কোথায় গিয়েছিলে?

আমাদের অন্য বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ওই বাসা থেকে পরবর্তী বাসা...

- দূরে ছিলো নাকি? - তেমন না।

বাসাটা কীরকম দেখতে? সেখানে কীভবে গেলে?

তেমন কিছু মনে আছে?

কেঁদো না, মামণি...

কাঁদছো কেন?

তারপর আমার মাকে আর দেখিনি, আঙ্কেল...

মা কোথায়, আঙ্কেল? আমি ওনাকে দেখতে চাই!

ওই ক্যামেরা হাতের লোকটা বললো...

মা মারা গেছেন।

সত্য নাকি, আঙ্কেল?

- হ্যালো? - হ্যাঁ। - স্যার, বেন্নি বলছি।

- পাট্টাডি স্পেশাল স্কোয়াডের। - হ্যাঁ, বলো।

- সিন্টোর সম্পর্কে। - হ্যাঁ? ওর জায়গার খবর পেয়ে গেছি।

- স্থির আছে নাকি? - গত ২০ দিন ধরে সে গুদামের একটা...

ক্রেন চালাচ্ছে।

আমি এখন থানায় নেই। চেঙ্গান্নুরে আছি।

কিন্তু ৩ ঘন্টার মধ্যে পৌঁছাতে পারবো।

কাউকে বলবে না। বিষয়টা গোপনীয়। আমি শীঘ্রই আসছি।

আচ্ছা। আচ্ছা, স্যার।

- কী? কে আপনি? - সিন্টো কোথায়?

তাকে সবাই কেন খুঁজছে?

একটু আগে, দুজন তাকে নিতে এসেছিলো।

সে একজনের মাথায় প্লেট দিয়ে মেরে...

- পালিয়ে গেছে। - পালিয়ে গেছে? - হ্যাঁ! - কে ছিলো?

নাম ঠিকানা জিজ্ঞেস করতে পারিনি! একজন ছিলো...

বন্য মহিষ আর অন্যজন একটা চেক শার্ট পরেছিল।

- কখন ঘটেছে এসব? - কিছুক্ষন আগে।

আমি তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে,

- একজন আমার মুখে চড় মারে! - সিন্টো তোমার আত্মীয় লাগে নাকি?

না... আত্মীয় না।

সে গুদামের নতুন ড্রাইভার।

ও কোচির বাসিন্দা, কিন্তু আপনারা এসব কেন জিজ্ঞেস করছেন?

এইযে! আমাদের চিনতে পারোনি? দিবো নাকি একটা?

শুনুন... আপনারা যদি তা কাছে টাকা পান...

- তাহলে ওর সাথেই কথা বলুন! - হেই, থাম!

- আমরা পুলিশের লোক। - পুলিশ!

আরে বলবেন তো সেটা।

সিন্টো এখানে কোনো বাচ্চা রেখেছিলো?

হ্যাঁ, ওর মৃত বোনের বাচ্চা।

সেটাই বলেছিলো। আসুন স্যার...

সাথে আসুন... এই দেখুন। ওকে রুমের বাইরে যেতে দিতো না।

যখন কাজে যেতো তখন রুমে তালা দিয়ে যেতো।

আমি বাচ্চার সাথে কথা বললে রাগ করতো।

গতকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে...

সে বাচ্চাটাকে এখান থেকে নিয়ে চলে যায়।

সিন্টোকে নিতে ইনিই এসেছিলো নাকি?

হ্যাঁ, উনিই। সিন্টো ওনার মাথায়...

খুব জোরে আঘাত করে।

সঞ্জীবন! এই, সঞ্জীবন!

দরজাটা খুল!

সঞ্জীবন!

- কে? - আমি সিন্টো রে ভাই।

- কে! - সিন্টো, পাট্টাডির সিন্টো।

তোর কাছে কিছু টাকা রাখতে চাই।

- কী হয়েছে? চুপ থাকো! - সঞ্জীবন। দরজা খুল। - ওরা কারা?

- চুপ থাকো! - খুল না ভাই!

- ওগো! কী হচ্ছে? - স্যার।

- আমাকে ছাড়ুন! - ছাড়ুন ওকে, স্যার! - চুপ!

- বিনু, ভিতরে দেখো! - স্যার।

- সিন্টোর সাথে তোর কীসের সম্পর্ক? - কোন সিন্টো?

জানিস না, তাই না?

- ওর সাথে কীসের সম্পর্ক? - আমাকে ছাড়ুন, স্যার প্লিজ।

ছাড়ুন আমাকে!

আমি জানতাম সব আমার উপর চাপানো হবে।

আপনি পুলিস মানুষ... আর জানি আপনার অনেক হাত আছে।

যদি সেদিন আমার কাজটা করে চলে যেতাম...

- তাহলে এই ভেজালে পরতাম না। - থাম।

তুই চাবি দিয়ে দরজা খুলেছিলি?

আর কাজ শেষে চাবি রেখে গেলি।

- বিশ্বাস করুন, এসব মনে নেই। - পিছনের দরজা তুই খুলেছিলি?

- হ্যাঁ। - তারপর লাগিয়েছিলি সেটা?

আমার... মনে নেই, স্যার।

আমার বউয়ের গর্ভে থাকা বাচ্চার দিব্যি দিয়ে বলছি।

স্যার, রঘুর বাসায় থাকা অটোটা সিন্টো ব্যবহার করেনি।

তাহলে দুটোরই একই নাম্বার কীভাবে?

ল্যাব রিপোর্ট বলছে রঘুর বাসায় পাওয়া রক্ত মানুষের না।

কিন্তু, রঘু যা বলছে তাতে...

- কিছু একটা গড়বড় আছে। - আমার এখনো সন্দেহ আছে। - তারপর।

মনু দাস, এখনো ভারতের কোথাও আছে...

কিন্তু কোথায় আছে সেটা ওর পরিবারও জানে না।

সিন্টো সান্নিচান। এই খুনে ১০০% যার সম্পর্ক আছে...

বলে নিশ্চিত,

সে হলো সিন্টো। স্যার...

ও হলো গুদামের ক্রেন চালক।

তাই... আমার মনে হচ্ছে যে উৎসব শেষ হয়...

ভোরবেলায় তাই সে...

এরকম সাইলেন্ট কোনো হাইড্রোলিক ক্রেন দিয়ে...

লাশটা ছাদে রেখে দেয়। এটাই সম্ভব।

- হুম। - এতদিন তো ক্রেনের গল্প ছিলো না।

এখনই গল্পটা বানালে নাকি?

নাকি জয়শংকর বলেছে এসব বলতে?

- না, স্যার। - এই সিন্টো সান্নিচান যে এখনো ধরা পরেনি বলছো,

তাকেই কী গতকাল তোমার বাসায় অত্যাচার করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছো?

- গতকাল? - না, স্যার।

তাহলে এসব খবর কীভাবে বের হচ্ছে?

নার্ভাস হয়ো না। আমরা শুধু জিজ্ঞেস করছিলাম।

না, স্যার। আমি নার্ভাস না।

- হুম। পরশু তো জয়শংকরের জামিন শেষ হচ্ছে। - হ্যাঁ, স্যার।

তাহলে তোমার কাছে পরশু পর্যন্ত সময় আছে।

যদি সমাধান করতে না পারো,

তাহলে তোমাকে কেস থেকে বের করা হবে।

স্যার।

- হ্যালো। - হ্যালো, স্যার।

আমার নাম বলতে পারবো না আপনাকে।

এজন্যই প্রাইভেট নাম্বার থেকে ফোন করছি।

যে সিন্টোকে আপনি খুঁজছেন...

সে এখন এসআই কার্তিকের বাসায় আছে।

কাল কোর্টে হাজির করা হবে তাকে।

আপনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে সে।

কী বলতে হবে সেটাই শিখিয়ে দেয়া হচ্ছে ওকে।

সিন্টো এসআই কার্তিকের বাসায় আছে।

ওকে কাল কোর্টে হাজির করা হবে... আপনাকে ফাঁসানো হবে...

স্যার, বেন্নি বলছি, কল করেছিলাম, একটা জরুরি খবর পেয়েছি।

- হ্যাঁ, মা? - বুধবার ফ্রী আছিস?

সোসাইটি থেকে কিছু কাগজপত্র ফেরত নিতে আসতে হবে।

- সেই কখন থেকে কল করছি তোকে। - যাব আমি।

শুধু বলেই ক্ষান্ত হোস না। আসতেও হবে। শেষ মুহুর্তে গিয়ে আবার বলিস না...

ছুটি নিতে পারিনি, ব্যস্ততা ছিল, হ্যানত্যান।

- শুনছিস কি? - মা, পরে কল করছি।

সিন্টো না?

ওকে মেরে এখানে ফেলে দিয়ে এখন আমাকে জিজ্ঞেস করছেন?

- থাম! - ছাড়ুন! হাত ছাড়ুন আমার!

- হাত ছাড়ুন বলছি। - কার সাথে লেগেছিস জানিস?

- হ্যালো? - হ্যালো...পুলিশ কন্ট্রোল রুম?

- জি, বলুন... - একটা তথ্য আছে আমার কাছে।

- হ্যালো? - ডিএসপি স্যারের সাথে কথা বলছি?

শান্ত হ রে ভাই।

লাশটা এখানে রাখার আগে ঐ ব্যক্তি...

তোর বিরুদ্ধে অনেক প্রমাণ জড়ো করেছে নিশ্চিত। আমি কি পাগল না কি যে...

একটা মহিলাকে মেরে বস্তায় ভরে নিজেরই বাড়ির ছাদে রেখে দিব?

তারপর আরও একজনকে মেরে তাকেও এখানে নিয়ে আসব?

বোঝার চেষ্টা কর।

সবাই আমাদের ফাঁসাতে চায়।

ওরা চায় আমরা আর আমাদের পরিবার বাকিটা জীবন যাতে...

লজ্জায় নত হয়েই কাটিয়ে দিই।

আমাদের দুজনকেই ভালোভাবে চেনে এমন কেউ...

এই খেলাটা খেলছে আমাদের সাথে।

সিন্টো মারা যাওয়াতে তদন্তও বাকি রইলো না।

আর এর দায় তোর উপর চাপিয়ে...

তোকেও তদন্ত থেকে বের করে দেয়া হবে।

ডিএসপি... হ্যালো?

এই! এখনও ঘুমাওনি?

তোমার ওদিকেই যাচ্ছিলাম।

ভাবলাম একটু গলা ভিজাই তোমার সাথে।

অনেকদিনই তো হয়ে গেলো, কী বলো?

বাসায় আছ না?

- হ্যালো? - হ্যাঁ।

আচ্ছা...দশ মিনিটের মধ্যে আসছি।

গেট খোলা রেখো।

কথা শুনে মুড অফ মনে হচ্ছে কেন জানি?

যাহোক, আমি আসছি এক্ষুনি।

কী মনে হয়, ও সত্যিই আসবে?

একজন পুলিশের জন্য, নিজের টিকে থাকাটাই সব।

বন্ধুত্বের কোনো দাম নেই এসবে।

যে অপরাধ করোনি, সেটার দায় থেকে বাঁচতে...

সাহসের দরকার আছে।

যদি সেটা থাকে, তাহলে চলো সাথে।

আমাদের দুজনকে খুব ভালো করে চেনে এমন কেউ এই ভয়ানক খেলায় মেতে উঠেছে।

এই সিন্টো সুন্নিচানের কথা যে বললে ও কখনোই ধরা পড়েনি-

বাসায় কি মারধর করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছ?

আর কীভাবে এই তথ্য বাইরে যাবে?

এই লাশ এখানে রেখে যাওয়ার আগে নিশ্চিত...

তোর বিরুদ্ধে অনেক প্রমাণ জড়ো করেছে সে।

সিন্টো আমাদের কাছে সেতুর মতো ছিল।

এখন কোত্থেকে শুরু করব জানা নেই।

স্যার, বেন্নি বলছি, কল দিচ্ছিলাম...

আমার কাছে কিছু পোক্ত প্রমাণ আছে।

আধা ঘন্টার মধ্যে নিশ্চিত করতে পারব।

আমি যা ভাবছি তাই যদি হয়, তাহলে সিআই জয়শঙ্করের কেসটা সমাধান করা যাবে।

এটা শোনামাত্র আমাকে কল করবেন।

ইদুক্কি স্পেশাল স্কোয়াডের বেন্নি।

অকারণে পোক্ত প্রমাণের কথা বলবে না সে।

কল দাও।

আপনি যে নম্বরে কল করেছেন তাতে এই মুহুর্তে সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

ও কোথায় থাকে জানো।

ইদুক্কির কোথাও, সঠিক জানা নেই।

হারিসকে জিজ্ঞেস করতে পারি।

আর তারপর, সিম কার্ড ফেলে দিতে হবে।

আর এই গাড়িতেও থাকা যাবে না, নয়তো সহজেই খুঁজে পাবে আমাদের।

কয়েক ঘন্টার সফর।

বাস বা লরিতে করে।

বেন্নি, এটা কি বেন্নির বাড়ি?

- জি। - ডেকে দিবেন ওকে? - এখনও বাসায় আসেনি।

আমি কার্তিক... এসআই।

এবং বেন্নির বন্ধু...উনি...

সিআই জয়শঙ্করকে চিনি আমি।

বেনি যখন কল করেছিল, বলেছিল আপনার কেসের কাজে...

- ও পাসপোর্ট অফিসে আছে। - পাসপোর্ট অফিস?

হ্যাঁ...এও বলেছিল যে, ওর ফোন বন্ধ থাকবে আর আসতেও দেরী হবে।

একটা উপকার করবেন?

বাসায় যদি কোনো অব্যবহৃত ফোন পড়ে থাকে,

আমাদের দিতে পারবেন? আর একদিনের জন্য গাড়িটা দিতে পারবেন?

বেন্নিকে জানিয়ে দিব আমি।

গতকাল বিকেল ৫টার দিকে এসেছিল সে।

- পুলিশের লোক আমরা। - স্যার...

৬ জনের একটা তালিকা নিয়ে এসেছিলেন উনি।

তাদের পাসপোর্ট ডিটেইল আর ট্রাভেল হিস্ট্রি জানতে।

কর্কশ গলায় কথা বলছিলেন। আমাদের এখানে ট্রাভেল হিস্ট্রি নেই।

- এটা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস। - আর শেষে কী হলো?

বলেছিলাম যে, পাসপোর্টের তথ্য দিতে পারব।

আর তালিকায় থাকা সবার পাসপোর্টের তথ্য দিয়েছিলাম।

- এটাই না? - হ্যাঁ। - নিন, স্যার।

উনার নিয়ে আসা সেই লিস্ট।

- এদের মধ্যে কার কার পাসপোর্ট আছে? - টিক দেয়া দুজনের।

সিন্টো সুন্নিচান, অরুন শিবদাস।

- বাকিদের কারও পাসপোর্ট নেই? - না। - এরপরই উনি চলে গিয়েছিলেন।

ওকে।

- স্যার, বিনু। - ওকে।

স্যার, গণমাধ্যমে এখনও ছড়ায়নি।

কিন্তু আমাদের গ্রুপগুলোতে ছড়াছড়ি হয়ে গেছে।

আপনার কথামতো সাইবার সেলে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলাম।

কাল রাত সাড়ে ৭টার দিকে বেন্নির ফোন বন্ধ ছিল বলে...

জানতে পেরেছি।

ওর লাস্ট টাওয়ার লোকেশন পাঠাব?

জলদি পাঠাও।

আগেও এই রাস্তা দিয়ে এসেছিলাম, স্যার।

স্যার, এটা তো অরুণ শিবদাস।

পরপারে ভালো থেকো, অরুণ শিবদাস< b>

- স্যার... - কী হয়েছিল?

সঠিক জানি না। আয়ারল্যান্ডে হয়েছে।

- ওখানে কে আছে? - অরুণ ওর হবু স্ত্রীর সাথে...

থাকছিল।

সে-ই কল করেছিল।

আসুন, স্যার।

- বাপ আমার... - আজ্ঞে...

একটু শুনুন।

- এ কি কাল এসেছিল এখানে? - জি।

অরুণের মৃত্যুর খবর জানাজানি হওয়ার পর...

যখন পাড়া-প্রতিবেশী আসতে শুরু করলো তখনই এসেছিল।

- কেন এসেছিল? - জিজ্ঞেস করাতে বলেছিল...

এখন আর বলে কোনো লাভ নেই।

তারপর চলে গেলো।

- আচ্ছা ঠিক আছে। - জি, স্যার।

স্যার, বিনু।

- হ্যালো। - স্যার, সব চ্যানেলে খবরটা দেখাচ্ছে।

- স্যার, আপনি বললে, কোনোভাবে কি... - আর কল করো না বিনু।

- গা ঢাকা দিয়ে থাকব। - স্যার, সারেন্ডার করাটাই ভালো হবে।

বেন্নিকে খুঁজে বের করতে হবে।

সে পর্যন্ত থাকার জন্য একটা নিরাপদ জায়গা খুঁজতে হবে।

একেবারে সাদামাটা রুম। উনি জানেন।

এই যে...এটা রুম।

- হয়েছে? - হ্যাঁ।

অশোকের দোকানে গিয়ে দুজনের লাঞ্চ পার্সেল নিয়ে আয়।

যা।

বসুন, স্যার।

আপনিও বসুন না।

কেসের ঝামেলা গেছে না আপনার?

আপনাকে ডিউটিতে ফিরতে দেখে ভালো লাগছে।

কাউকে ধরতে এসেছেন। বুঝতে পেরেছি!

- আমি কাজে যাই তাহলে। - জি।

তদন্তরত এসআই এবং অভিযুক্ত একজন ব্যক্তি মিলে...

অপর একজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হত্যা করেছেন।

কেরালার ইতিহাসে হয়তো এই ঘটনা প্রথম।

উদয়, তোমার ঢিলেমি না থাকলে ওরা পালাতেই পারত না।

ওর জামিন কালকেই শেষ হতো।

আর তুমিই ওর জামিন করিয়েছিলে।

জেদী লোকজনকে বিশ্বাস করবে না আর।

তুমি সব পরিকল্পনা করো।

কিন্তু ওকে আমার আজই চাই।

- যে কোনো উপায়ে! - স্যার, আমার ঢিলেমি মানে?

উদয়, আমার কথা শোনো, বুঝলে?

বলেছিল, উনি পুলিশ, দুই দিন গাড়ি রাখতে চায়।

তেমন সন্দেহ জাগেনি বলে কিছুই জিজ্ঞেস করিনি।

পুলিশি বর্বরতা যে আজও কমেনি...

তা একদম সুস্পষ্ট।

দুই দিন আগে, সিন্টো সুন্নিচানকে...

এখানে নিয়ে এসে মারধর করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তরুণ এসআই কার্তিক রবীন্দ্র চাকরিতে আসার...

দেড় বছরেই বদলি হয়েছেন চারবার।

নিঃসন্দেহে একজন বর্বর পুলিশ তিনি।

দুই দিন আগে...

সুন্নিচানকে মারধর করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

কী? তালা মেরে দিয়েছে?

দেখো তো একটু।

- কী? - স্যার...

ওনারা আসেনি এখানে।

এমন করছেন কেন? উনারা আবার এখানে এসে কেন রুম ভাড়া নিবে?

- কী করছ এখানে? - কিছু না, স্যার।

দাঁড়িয়ে আছ কেন? গিয়ে দেখো।

আপনার খবরদাতারা হয়তো এনাদেরকে দেখেছে।

কেউ নেই স্যার।

- কী হয়েছে, স্যার? - সামনের মন্দিরটাতে উনি ঘুরতে এসেছেন।

যদি ও এখানে থাকে, তাহলে তোমার লজে তালা মেরে দিবো।

কিন্তু স্যার, এখানে তো নাই-ই।

মিথ্যে কেন বলব?

- দরজা খোলো তো। - আহা! দে তো!

চাবি দে।

জয়শঙ্কর যখন এখানে ছিল তখন আমাকে অনেক হেনস্তা করেছিল।

ও কি খালাতো ভাই নাকি যে আমার এখানে আশ্রয় দিব?

শোন! স্যারদেকে নিয়ে বাকি রুমগুলো দেখিয়ে দে।

- ঠিক আছে। - গিয়ে দেখো। - আসুন, স্যার।

স্যার, পরিবারকে নিয়ে মুভি দেখতে...

যাওয়ার কথা ছিল। সব গেলো।

কী পেরেশানি মাইরি!

আসুন...দেখে নিন।

এখানে আরও ছয়টা রুম আছে।

সবগুলো দেখতে পারেন।

আচ্ছা... চলো।

বেশ তাহলে।

আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে...

আমি কিছুই করব না, স্যার!

আপনার কাঙ্ক্ষিত নম্বরটিতে এই মুহুর্তে সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

দরজা খুলুন।

আমি।

আমাকে বলেননি কেন?

সবাইকে ডেকে বলার মতো কিছু না এটা।

- শীঘ্রই চলে যাব আমরা। - হুম।

- হ্যালো, স্যার... হারিস বলছি। - বলো, হারিস।

স্যার...আপনার বলামতো ঐ পাসপোর্টধারীদের...

ট্রাভেল হিস্ট্রি পেয়েছি।

আয়ারল্যান্ডে মারা গেছে বলে প্রচার হওয়া অরুণ শিবদাস...

ভারতের বাইরেই কখনো যায়নি।

এমব্যাসিতেও কথা বলেছিলাম।

এমন কোনো মৃত্যুর খবর রিপোর্ট করা হয়নি।

ক্রস চেক করাতে দেরী হয়ে গেলো।

আমার মনে হয় আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি।

অরুণ শিবদাস... সে-ই নাটের গুরু।

- ঠিক আছে, হারিস। - স্যার!

- স্যার...এটা... - জানতে হবে আমাদের।

ওর মুখ থেকেই বের করতে হবে।

বেন্নি ঠিকই বলেছিল... জরুরি তথ্য আছে ওর কাছে।

কেসটা ক্লোজ করার জন্য এখন সেটারই দরকার।

আর বেন্নি সবশেষ তার...

বাড়িতেই গিয়েছিল।

না পারছি বসে থাকতে, না পারছি শুতে।

অনেক কষ্ট হচ্ছে।

কারও কাঁধে যে মাথাটা রেখে কাঁদব...

সেটাও নেই আমার কাছে।

চিন্তা করবে না শিবদাস। ওকে ফিরিয়ে আনব আমরা।

- তোমার কাছে ফিরিয়ে দিব ওকে। - এসব কী বলছেন, স্যার?

ও তো মারা গেছে, না? মারা গেছে না?

- আমার ছেলে তো আর ফিরবে না। - চুপ কর শালা।

নাটক কম কর!

কীসের নাটক?

নাটক বললেন কেন? কী বলতে চান, স্যার?

শিবদাস... ও আয়ারল্যান্ড যাক আর আমেরিকা যাক...

ওর ফ্লাইটের বা শীপের রেকর্ড থাকবে।

এমন কোনো রেকর্ডই নেই। অন্য উপায় হলো...

আরব সাগর সাঁতরে পাড়ি দেয়া।

আর ও তো কোনো পৌরাণিক চরিত্র নয় যে,

- এই কাজ করতে পারবে, কী বলিস? - কী বলছেন, স্যার?

সাথে আসুন...দেখাচ্ছি।

এগুলো দেখুন, স্যার। ওখান থেকে এগুলো পাঠিয়েছে।

ওখানে যদি না গিয়ে থাকে, এগুলো আসলো কোত্থেকে?

হেই, অনেক নাটক করেছিস! বলে দে কোথায় আছে ও।

- হেই...! - আমরা ভালো করেই জানি এসব...

তোর আর তোর ছেলের সাজানো নাটক। এজন্যই আবার এসেছি আমরা।

সত্যিটা বল, নয়তো মেরে চেহারার আকার বদলে দিব।

- বল। - এখানেই আছে না?

ডাক ওকে!

ডাক বলছি!

- ছাড়ো! - এই হারামি আমাদের সাথে এসব শুরু করেছে।

যতক্ষণ না থামতে বলছি, মারতে থাক।

- মার ওকে! - না, মেরো না!

- শালা! - মারতে থাক!

- অরুণ...থামো! - কুত্তার বাচ্চা!

- কী বলেছিলি আরেকবার বল! - এই! থাম!

- সবাইকে নিয়ে আসো! - এই! থাম!

- এই! - এই!

- সবাইকে নিয়ে আসো! - ঐ শূয়োরটা...

শিবদাসের ছেলে, স্যার!

- স্যার, থামুন... - বল আবার করবি?

- মারবেন না স্যার! - ও কী করেছে জানো? - জানি!

- বয়সের দোষে করেছে। - বাকিদের চেয়ে দ্বিগুণ হারামি এ।

পুলিশের ছেলে তুই।

- পুলিশের গায়ে হাত তুলিস? - ওকে বুঝিয়ে বলব, স্যার।

কিছু জিনিস বুঝিয়ে সম্ভব না!

জেদ করবেন না, স্যার! ও আমার ছেলে!

- পুলিশের ছেলের জন্য বিশেষ আইন আছে না কি? - স্যার...

- আছে? - মারবেন না, স্যার। - স্যার, থামুন দয়া করে।

বললাম তো ওকে বুঝিয়ে বলব।

- ওর গায়ে কখনো হাত তুলিনি। - তোলা উচিত ছিল।

- তবেই সভ্য হতো...নাও...ধরো - না।

- মারো...মারো! - পারব না, স্যার!

- মারো বলছি। - এমন করবেন না, স্যার! - স্যার, বললাম তো...শুধু একবার...

আরেকটা কথা বললে, ওকে দুই বছরের জন্য জেলে পাঠিয়ে দিব।

পুলিশকে মেরেছে ও! চেহারা দেখেছ?

মারো! যতক্ষণ না থামতে বলব থামবে না।

সেও বাকিদের মতোই।

- না, পায়ে পড়ি... - স্যার পায়ে পড়ি। - মারো!

- মারো! - বাবা! মেরো না!

বাবা...মেরো না! মেরো না বাবা!

বাবা...বাবা...

- হয়েছে শিবদাস, থামো! - সরুন স্যার।

আমার ছেলে ও... একদিনেই শুধরে ফেলব ওকে।

হয়েছে শান্তি?

হয়েছে?

অরুণ! কী করছিস?

উনি তোকে জেলে পাঠিয়ে দিত। তোকে বাঁচানোর জন্য...

মেরেছিলাম আমি...এটার জন্য তুই আমার সাথে রাগ করলি?

- আমি... - ছাড়ো আমাকে! - অরুণ!

থাম, বাবা।

বল, কী করতে হবে? করব আমি।

মারব ওকে? মেরে ফেলব?

বংশ নির্বংশ করে দিব?

কথা বল! মার শুধু তুইই খাসনি।

না! আমাকে আমার বাবা মেরেছিল।

তাও আবার আমার বান্ধবীর সামনে...

বান্ধবীর...?

শিবদাস?

ঘুম ধরলে ছুটি নিয়ে ঘুমাতে যাও।

এটা ঘুমানোর জায়গা না।

অরুণ...

বাবা!

জেলে যাব না আমি! যদি মরতে হয়, মরতেও রাজি আমি।

সকল প্রমাণ তোর বিরুদ্ধে।

ভীত নই আমি। প্রয়োজনে জেলে যাব।

মরার মতো সাহস থাকলে,

ট্রিগারে চাপ দে! চাপ বলছি!

কুত্তার বাচ্চা!

আয়!

বেনি!

তোকে তো!

শূয়রের বাচ্চা! আমার ছেলের সাথে কী করেছিলি...

আজই তোর শেষ দিন!

এজন্যই আজ এখানে এসেছিস তুই!

বেন্নি!

স্যার...স্যার...

স্যার!

- হেই...হেই...স্যার! - ওঠ!

ওঠ!

স্যার!

বানচোত!

তোকে...

আর একটা মার খেলে মরে যাবি তাই থেমে যাচ্ছি।

শিবদাস।

এতোদিন শুধু তুই আর তোর ছেলে কিছু একটা নাটক করছিস।

তোদের চাল ধরতে পেরেছি আমি।

ছেলের মৃত্যুর নিবন্ধন করার চেষ্টায় ছিলি...

তাই না? শালা হারামি...

সে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করত যে জয়শঙ্করই...

তার ছেলের মৃত্যুর কারণ।

৩ বছর ধৈর্যের সহিত অপেক্ষা করেছে।

কোনো প্রকার সন্দেহ না জাগিয়েই সে প্রতিশোধ নিতে শুরু করে।

আমি বের না হওয়া অবধি টাকা দিতে থাকবে।

পুলিশ কিংবা কোর্ট কাউকেই তোমার নাম বলব না।

তাহলে তোমার স্ত্রীকে বলেছ কেন?

যাতে আমার চোখে ধুলো না দিতে পারো।

এজন্যই বলেছি, কাউকে বলবে না ও।

- কাল ওকে টাকা দিয়ে দিও, কেমন? - যখনই জোশী টাকা চেয়েছিল...

ও টাকা দিত ওকে।

কিন্তু সেটা জোশীর চুক্তিভঙ্গ করার ব্যাপারে জানা অবধিই।

ঠিকই বলেছিলে।

ঐ মেয়ে আর ওর মাঝে মনে হয় কোনো সম্পর্ক আছে।

- কী হয়েছে? - সিআই জয়শঙ্কর আমাকে পাঠিয়েছে।

তোমাকে দেখা করতে বললো।

কিন্তু আজ তো দেখা হয়েছেই।

তাই? আমি তো জানি না। তোমাকে নিয়ে যেতে বললো।

এজন্যই এসেছি। টাকার কথাও বললো।

এখানেই থাকবে বলেছিল।

আপা, ফোনটা দিবেন?

- আমার ফোন নষ্ট হয়ে আছে। - জয়শঙ্করের বাড়িতে অনুপস্থিতি নিশ্চিত করেই...

জয়শঙ্করের ফোনে কল করে...

রামিয়াকে তার বাসায় নিয়ে আসে।

সিম কার্ড খুলে ফেলে, যাতে এটা নিশ্চিত হওয়া যায় যে,

সবশেষ টাওয়ার লোকেশন তার বাড়ির কাছেই ছিল। সব প্রমাণ একদম নৈপূণ্যের সাথে...

জয়শঙ্করের বিরুদ্ধে সাজানো হয়।

কাছের পুরনো বাসাটাতে আপনাকে নিয়ে যেতে বলেছে।

এখান থেকে কয়েক কিলো হবে।

চেপ্পানামথোট্টার কাছে শিবদাসের এক আত্মীয়ের...

একটা বাসা ছিল যেটা বিক্রির জন্য রাখা ছিল।

- কয়েকদিন ওখানে থাকতে চেয়ে অনুরোধ করে। - চলো মা।

আপনি ভেতরে যান। সিআই ভেতরে আছে।

পিছনের পুকুরটাতে ওকে মাছ দেখিয়ে আনি।

- চলো, মা, দেখে আসি। - আসো।

জয়শঙ্কর ভেতরে আছে। টাকা দিলে রাজি হয়ে যাবে।

যাও।

আয়হায়! যেতে দিন আমায়!

কোথায় যাবি?

চিৎকার করলে তোর মেয়েকে মেরে ফেলব।

২ লাখ টাকার চুক্তি করে তোর স্বামীকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিয়েছি।

আর ও ধরার পড়ার বাহানা দেখিয়ে আমার কাছ থেকে...

কতগুলো টাকা হাতিয়ে নিয়েছে! বাইনচোদ শালা!

তোর লোভী স্বামীর কারণে আজ আমাকে এই পথ বেছে নিতে হলো।

আমাকে যেতে হবে!

আমার মেয়ে একা আছে!

- কালেশা! - পায়ে পড়ছি!

ছেড়ে দিন আমায়!

আর কেউ আপনাকে টাকার জন্য কল করবে না।

আমার মেয়েটা একা আছে। যেতে দিন।

কালেশা!

মা!

মা! মা!

মা!

উৎসবের শেষ দিনে খুন করে...

লাশ ক্রেনের মাধ্যমে ছাদে রেখে দেয়ার পরিকল্পনা করে।

এসব একজন পুলিশই পরিকল্পনা করতে পারে...

যার মাথায় অপরাধীর মতো চিন্তাভাবনা ঘুরে।

মা! মা!

মা!

আয় ভাই, আয়!

গত দুইদিন কোথায় ছিলি?

মেয়েটাকে ফেরত পাঠিয়েছিস কেন? কী শুরু করেছিস আমার সাথে?

কী শুরু করেছি মানে? ওর কান্না থামানো যাচ্ছিল না।

- মা মা বলে কাঁদছিল। - ওকে নিয়ে যাওয়ার আগে একবার...

- আমাকে জিজ্ঞেস করলি না কেন, এটা আমার প্রশ্ন। - অনেক হয়েছে, স্যার।

মানসিক শান্তি হারিয়ে গেছে, অনেক কষ্টে এর থেকে বের হয়েছি।

আরও ৫-৬ লাখ লাগবে।

এই এলাকা ছেড়ে বছর দুয়েক বাইরে থাকব।

- কী? আরও টাকা? - দরকার আছে, স্যার!

নয়তো পুলিশকে সব বলে গায়েব হয়ে যাব।

সোনা আছে কিছু, ওগুলো বেচতে পারিস।

- আচ্ছা। - আপাতত...

গোসল সেরে নে নাহয়? শান্ত হতে হবে তোকে।

বাংলা আইটেম আছে কিছু, যা আগে।

যা।

সবসময় ওকে সাহায্য করা সিন্টোকেও...

মেরে ফেলাটা আমাদের অবাক করে দেয়।

ধুর!

জয়শঙ্করের সাথে ঝামেলা থাকা প্রতিটা মানুষকে ভালোভাবে জেনে...

সে হত্যার পরিকল্পনাটা করেছিল।

রধুর বাড়িতে থাকা পুরনো নষ্ট হয়ে যাওয়া...

অটোরিকশার নম্বর ব্যবহার করেছিল।

ছেলের আত্মহত্যার ব্যাপারটা কেন গোপন করেছে, এটা জানতে চাইলে...

তার একমাত্র জবাব ছিল "তখন এটা করাই সঠিক মনে হয়েছিল।"

যখন এ বুঝতে পারলো পুলিশ বেনির ফোন ট্র্যাক করে...

ধরে ফেলতে পারে,

তখনই সে নতুন খেলা শুরু করলো।

সদ্য ছেলের মৃত্যু হয়েছে এটা দেখিয়ে সে...

সবার মনোযোগ সরিয়ে সহানুভূতি পাওয়ার আশা করলো।

ছেলের মৃত্যুর ব্যাপারটা যাতে আরও গ্রহণযোগ্য মনে হয়,

সেজন্য দাবী করলো শেষকৃত্য আয়ারল্যান্ডে হয়েছে।

ওঠ!

আসি?

কী ব্যাপার?

মাঝরাতে যখন গাড়ি চালিয়ে আমার বাসায় আসলেন...

আমাকে না দেখে খারাপ লেগেছে? স্যার?

আমাদের পেশাটাই তো অমন রে ভাই!

- চলো। আসো। - আমি নিজে চলে যাব।

অনুবাদক সুশান্ত চক্রবর্ত্তী সৌমিক হাবীব সিয়াম

সম্পাদক সুশান্ত চক্রবর্ত্তী সৌমিক

পুলিশের মধ্যে থাকা একজন অপরাধী কীভাবে...

তার সহকর্মীর পেছনে লাগে...

এটাই গল্পের মূল বক্তব্য। কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়।

পরবর্তী এপিসোডে আপনাদের বলব...

এমন একজনের ব্যাপারে যে পুরো কেসেই অলক্ষিতই থেকে গেছে।

কিছু গোমরও ফাঁস করব।

অবসরপ্রাপ্ত ডিএসপি উদয়ভানুকে মৃত উদ্ধার করা হয়েছে।

উনার স্ত্রী এবং সন্তান বিদেশে থাকেন...

- ...বলে জানা গেছে। - ইরামবিল রামিয়ার হত্যা মামলা সমাধানে উনি সহযোগিতা করেছিলেন।

টিভিতে বিহাইন্ড দ্য ক্রাইম নামে একটি শো উপস্থাপনা করতেন তিনি।

পুলিশি সোর্স মোতাবেক, প্রথম পর্ব থেকেই...

উনাকে হুমকি দেয়া হচ্ছিল।

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.