Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Indonesian
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
•.•.•.অনুবাদ ও সম্পাদনায়.•.•.• সুশান্ত চক্রবর্তী সৌমিক
স্যার...স্যার।
আমার স্ত্রী...সে নিখোঁজ।
সে আমার সাথে কারের মধ্যেই ছিলো।
এখন আর খুঁজে পাচ্ছি না!
আপনার নাম কী, স্যার? আমাকে বলুন তো।
লুক...লুক এন্টোনি।
ঠিক আছে।
আসলে হয়েছিলোটা কী?
যখন আমরা পাহাড়ের দিকে যাচ্ছিলাম...
আমি ভুল পথ নিয়ে নিই।
নিশ্চিত না আসলে কী হয়েছিলো, কিন্তু আমদের কারের দূর্ঘটনা ঘটে।
আমার মাথা কিছু একটার সাথে আঘাত পায় এবং...
আমি...
আমি কিছু সময়ের জন্য অজ্ঞান ছিলাম।
যখন আমার জ্ঞান আসে,
সোফি... কারের মধ্যে ছিলো না।
আমি চারদিক খুঁজলাম,
কিন্তু খুঁজে পেলাম না।
সোফি...
সোফিয়া লুক।
এটাই তার নাম।
স্যার...
এই জায়গায় চিতা আছে এরকম শোনা যায়, তাই না?
সে গর্ভবতী ছিলো।
ওই পাথরের মধ্যে দেখো।
আর জলের মধ্যেও।
স্যার, আমরা বনের মধ্যেও দেখবো নাকি?
হ্যাঁ, সামনে এগোও।
সোফি... সোফি!
আশরাফ, এদিকে একবার দেখো তো।
- এটা কী... - একটা জুতা!
- কোথায়? - এখানে।
ওনার এখানেই কোথাও থাকা উচিত।
আরো একটু যাও আর খুঁজে দেখো।
স্যার, কী বললেন আপনি?
- এখানে আসো... আমরা একটা জুতা পেয়েছি। - আচ্ছা, আসছি।
কখনো কখনো শুধু ঈশ্বরই জানেন কোন উপায়ে ভাগ্য আসবে।
হেই...উনি এখানেই কাছে কোথাও হবেন।
হেই বালু... এখানে আসো।
তুমি এদিকে দেখো।
খুঁজতে থাকো... তাড়াতাড়ি!
সবাই! সামনো এগোতে থাকো।
সেদিন, পুলিশ এবং গ্রামের মানুষ সবাই পুরো বন খুঁজে দেখলো।
ওনাকে খুঁজে পাওয়া গেলো না।
পরের দিন, গ্রামের অনেকেই আর আসলো না।
দুইদিন পর, আর কেউই বনে খুঁজতে আসলো না।
পুলিশও হাঁপিয়ে গেলো।
একটাই প্রশ্ন মনে আসতে থাকে হয়তো কোনো বাঘ বা চিতা ওনাকে খেয়ে ফেলেছে।
সবাই নিশ্চিত ছিলো ওনাকে আর পাওয়া যাবে না।
কিন্তু কে কী বললো না বললো ওনার কোনো কিছুতেই যায় আসতো না।
উনি কাউকেই বিশ্বাস করতেন না।
তিনি নিশ্চিত ছিলেন ওনাকে খুঁজে পাবেন।
এবং ওনাকে খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত জায়গা ছেড়ে যাবেন না।
RORSCHACH
সত্যি করে একটা কথা বলবো, স্যার?
যেহেতু কয়েক মাসের বেশি হয়ে গেছে,
আমার মনে হয় না আর ওনাকে আমরা খুঁজে পাবো।
আপনার এখন এই নদীর তীরের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত।
আমরা আপনার জন্য একটা ভালো বাসা খুঁজে দিবো।
আর আপনি সেখানে মশা-মাছি ছাড়া আরামে ঘুমামাতেও পারবেন।
ব্যাপারটা দেখতে এরকম মনে হচ্ছে যেনো আপনি আমাদের বিদ্রুপ করছেন।
লোকজন ইতিমধ্যেই অনেক কিছু বলা শুরু করে দিয়েছে...
যেমন বলছে পুলিশ ভালোভাবে কাজ করতে পারে না।
তাই, দয়াকরে আমাদের আর ঝামেলার মধ্যে ফেলবে না।
স্যার, আপনি সিগারেট বা মদ খান না?
এখন আর খাই না।
তাহলে... আগে খেয়েছেন!
এখন আবার শুরু করার সঠিক সময়।
কয়েক পেগ খেয়ে নিন আর শান্তিভরে ঘুমিয়ে পড়ুন।
আমি জানি বালান... এজন্যই তো মদ খাওয়া ছাড়লাম।
তুমি যেমনটা বললে যদি বেশি খেয়ে ফেলি আর কিছু বলতে না পারি?
এবং তখনই যদি সে চলে আসে?
তাহলে সে খুব দুঃখ পাবে।
একবার তো সেরকম হয়েই গেলো।
আর এরকমটা হওয়া উচিত হবে না।
স্যার আপনি হতাশ হবেন না। উনি নিশ্চয়ই ফিরে আসবেন।
আমরা প্রায়ই এরকম খবর শুনে থাকি।
"একজন পাঁচ বছর নিখুঁজ থাকার পর ফিরে এসেছে।"
"নিখুঁজ ব্যাক্তিকে ১০ বছর পর অন্য জায়গায় খুঁজে পাওয়া গেছে।"
এটাও সেরকমই। উনি ফিরে আসবেন।
বাপরে!
স্যার...
আপনারা ওনাকে কেনো আটক করলেন?
- আমি মদ খাচ্ছিলাম। এই স্যার খাননি! - বস!
তাঁবু টাঙিয়ে বসে মদ খাওয়া, থাকা... এ জায়গাকে নিজের বাড়ি বানিয়ে ফেলেছেন!
এটা জনগণের জায়গা। কারো নিজস্ব সম্পত্তি নয়!
আমরা যদি আপনাকে আবার সেখানে দেখি...
আশরাফ... দেখবে, তারা যেনো এখানেই বসে থাকে। সকাল হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের যেতে দেবে না।
কখনো কখনো শুধু ঈশ্বরই জানেন কোন উপায়ে ভাগ্য আসবে।
শুধু সঠিক সময়া সঠিক জায়গায় থাকা প্রয়োজন।
স্যার... আসুন।
গাড়ি চালু করো।
আমি ওনার মেয়ের জামাই, স্যার। শশাঙ্ক।
যদিও আমাদের আগে দেখা হয়নি। উনি আমাকে নিয়ে লজ্জা করেন।
- হ্যালো! - গাড়ি চালানোর সময় সামনে তাকাবে!
আমরা যাচ্ছিটা কোথায়? অনেকক্ষণ ধরে আমি সামনে তাকিয়েই আছি।
পুলিশদের বলার পয়েন্ট আছে, স্যার।
যদি এটা আপনার নিজের জায়গা হতো, কেউ আপনাকে এখান থেকে বের করে দিতো না।
গতকাল সন্ধ্যায় যা ঘটলো তা হতো না।
এটা আমার ছেলের বাড়ি।
আমার বড় ছেলে দিলীপের বাড়ি...
ঘড়ের কাজ শেষ করার আগেই সে দূর্ঘটনায় মারা যায়।
আমিও এরপর আর কিছু করতে পারিনি।
অনেকের এই জায়গার উপর নজর আছে। কিন্তু আমি বলেছি বিক্রি করবো না।
আপনি এটা নিয়ে নিন।
আপনার যা মন চায় আমাকে তা দিয়ে দেন।
আমার জন্য আপনি জেলে রাত কাটিয়েছেন।
এতে আমার খুব খারাপ লেগেছে।
আপনি এটা বিক্রি করে দিচ্ছেন? আর এর সিদ্ধান্তও আপনি নিজেই নিয়ে নিচ্ছেন?
আর কে সিদ্ধান্ত নিবে? এটা আমার সম্পত্তি।
এটা আমার নামে আছে।
- নিজের সন্তানদের জিজ্ঞেস করতে চান না? - আমার কোনো বালকে জিজ্ঞেস করার দরকার নেই!
আমি তাদের নিজেদের সব ভাগ দিয়ে দিয়েছি।
তুমি নিজের চরকায় তেল দাও।
চলুন ভিতরে গিয়ে দেখা যাক।
অনিল বাবা, তোর খাবার দিয়ে দিবো?
হ্যাঁ, মা। এক মিনিট, আসছি।
এটাই আমদের শেষ দেখা।
আমি আর এখানে ফিরে আসবো না। আমার কথা মিলিয়ে নিবি।
আপনাকে দেখে একজন নির্দোষ ব্যাক্তি মনে হয়।
সবাই আপনার বিরুদ্ধে।
যখন থেকে দিলীপ এই ঘরের কাজ শুরু করেছিলো...
একটা না একটা ঝামেলা লেগেই থাকতো।
সে সব কিছুতেই একটা না একটা বাধা পেতোই, তা সে যা কিছুই করুক না কেনো।
শেষ পর্যন্ত একদিন বাড়িতে ফিরে আসার সময় তার দূর্ঘটনা ঘটে যায়।
সত্যি!
এখানকার সবাই জানে।
যখন থেকেই আমার শালা মারা যায় এই লোক এই জায়গা বিক্রি করার চেষ্টা করেছিলো।
বলুন তো যে মানুষ বুদ্ধিমান সে কী বাড়িটা কিনতে চাইবে?
আমি জানি না আপনি আমার উপর বিশ্বাস করবেন কি না...
ওই বাড়িটা আমার শালার অনেক লালিত স্বপ্নের ছিলো।
আপনি কি মনে করেন যে সে মারা যাওয়ার সাথে সাথেই বাড়ি ছেড়ে দিবে?
মানুষরা তাকে আশেপাশেই দেখেছে।
এমনকি আমিও রাতের বেলা কিছু শব্দ শুনেছি।
ওহ... স্যার... আমি মিথ্যা বলছি না!
সত্যি!
ও এখানে কী করছে?
স্যার... সব ডকুমেন্ট এখানে আছে।
ওহ। এটা তোমার জন্য বালান।
- ঠিক আছে। - এটা খোলো তো, শশাঙ্ক।
হিসাব করবে না, বালান?
প্রয়োজন নেই। আপনার উপর আমার বিশ্বাস আছে।
স্যার, আমি গেলাম। পরে দেখা হবে!
দেখা করবে তো?
আর কেনো আমাদের দেখা হবে ? বালান ভালোর জন্য চললো।
বিদায়!
আর আমার এখানে আছেই বা কে?
যারা ছিলো তারা মারা গিয়েছে।
যখন আমার বড় ছেলে দুবাই থেকে ফিরে এসেছে,
তখন থেকে কেউ আমার কোনো খবর রাখে না।
কেউ আমাকে চায় না। না আমার স্ত্রী আর না আমার বাচ্চারা।
আমি তাদের জন্য কুকুরের মতো ছিলাম!
আমি তো এসব বলতে চাচ্ছিলাম না।
তবুও কি আর করবো, বলছি।
আমি আমার পুরো জীবন যা আয় করেছিলাম সবকিছু আমার ছেলে এবং মেয়ের উপর খরচ করে দিয়েছি।
কিন্তু এখান থেকে... তাদের একটা কড়িও দিবো না।
এগুলো হলো আমার অবসর গ্রহনের টাকা।
এই পরিবার থেকে অবসর গ্রহনের টাকা।
যারা আমকে গ্রাহ্য করে না আমিও তাদের গ্রাহ্য করি না।
আমি বলছি না যে তীর্থযাত্রায় চলে যাবো।
আমি ভালো এবং মহৎ ভাবে জীবন কাটাবো।
সত্যি বলতে, আমি যে লুক এর সাথে বেঈমানী করলাম এজন্য খারাপই লাগছে।
লুক খুবই ভালো মানুষ।
তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিবেন।
যদি আমি আগে জানতাম যে তিনি টাকা আনতে যাচ্ছেন,
আমি ওনাকে একা পাঠাতামই না।
কত টাকা ছিলো?
আমি আসলে ঠিক জানি না, স্যার।
তিনি আমাদের এসব বলেননি।
৪৫... শশাঙ্ক বললো আমাদের। লাখ।
ওহ... তাহলে তো অনেক।
হুম।
কিন্তু আপনি তো বালান বাবুকে জানেনই... কিছুক্ষন ঘুরাঘুরি করবে তারপর ঠিকই চলে আসবেন।
বাবা সেগুলো সাথে করেই নিয়ে গেছেন, স্যার।
সত্যি?
তুমি সেরকম মনে করছো কেনো?
আরেকজন মহিলা ছিলো...
ওনার... তার সাথে সম্পর্ক ছিলো।
এমনকি আমার মা'ও সেটা জানতেন।
এই টাকায় আমার ছেলের অধিকার আছে, স্যার।
স্যার! আপনি কেনো বুঝতে পারছেন না?
সে এখানে কিছুই রাখেনি।
স্যার...
আমি বালানের লাশ পেয়েছি।
কিন্তু তার টাকা গোল্লায় গেছে। সেগুলো এখানে নেই।
মা, তুমি সবাইকে এই সমস্যার মধ্যে ফেলছো।
তারা তাদের মজুরীর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করছে।
প্রত্যেকেরই এটার প্রয়োজন।
কয়েক মাসই তো হয়ে গেলো তারা তাদের মজুরী পেয়েছিলো।
বাবু ভাই, মাত্র একটা লোডই বাকি ডেলিভারির।
সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ।
আমি যতটুকু পারবো পরিশোধ করে দিবো। বাকি গুলো...
একটা লোড দিয়ে আর কী হয়ে যাবে?
শোনো, তোমার দ্বারা যদি না হয় ঠিক আছে, ভালো। করো না।
অন্যদের এভাবে অসুবিধায় ফেলো না।
যখন দিলীপ এই ব্যবসায় ছিলো তখন এটা খুব ভালো চলছিলো।
আমি আপনার সাথে একা কথা বলতে চাই বাবু ভাই।
মুরালি, আমাদের একটু সময় দে।
শোনো মা... আমি বুঝতে পারছি তোমার উপর দিয়ে কী যাচ্ছে।
কিন্তু এখন আর আমি মানষের রাগ উঠা আটকাতে পারবো না।
আমরা এতোদিন ধৈর্য্য ধরে আছি কারণ আমাদের দিলীপের জন্য খারাপ লাগছে।
তুমিও সেটা জানো।
তাই... কোনোভাবে কোনো কিছু টাকার ব্যবস্থা করো।
বিদেশে দাফন এভাবেই হয়।
আমি ইংলিশ সিনেমায় দেখেছি।
তার আত্মীয় কেউ কি এসেছে?
উনি এখানে কী করছেন?
গ্রামের বাইরে যাস না বাবা। মানুষজন বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা বলবে।
তার ভাই তাকে এই বাইক উপহার দিয়েছিলো।
তারা সত্যি খুব কাছের ছিলো।
দিলীপ তার ভাইয়ের জন্য প্রাণও দিতে পারতো।
অনিল'ই এখন আমার সবকিছু।
ধুর!
আমার আরও সাবধান হওয়া উচিত ছিলো।
আমার তাকে এত্তোসব টাকা নিয়ে যেতে দেওয়াটা উচিত হয়নি।
এটা হওয়ারই কথা ছিলো, স্যার।
এই জিনিসগুলি উপভোগ করার জন্য আপনাকে ভাগ্যবান হতে হবে।
এখানের সবাই ওনাকে শ্রদ্ধা করতো না?
হুম... উনি এই পরিবারের জন্য কিছুই করেননি।
প্রতিদিনই কোনো না কোনো ঝগড়া হতো।
সত্যি বলতে, আমি কিছুটা মুক্তি'ই পেলাম।
আমি অনেক কিছুই সহ্য করেছি।
ছেলেরা তার ব্যাপারে কী ভাবতো?
দুই ছেলেই ওনাকে ঘৃণা করতো।
আমার আরও সাবধান হওয়া উচিত ছিলো।
হেই!
সুজাতার ফোন তুললি না কেনো?
সে বলেছে কারখানায় নাকি কিছু কাজ ছিলো।
এটা টাকা ছাড়া কাজ! সে টাকাও পরিশোধ করে না, মা।
আরে এটা তো খারাপ!
তুই ওর হয়ে কাজটা করছিস না কেনো?
তার বিয়ে হয়ে গেছে, তার চিন্তা এখনো তোমার মাথা থেকে যায়নি?
- কিন্তু সে তো এখনো সিঙ্গেল, তাই না? - ছাড়ো তো।
আমি শুধুমাত্র তোকে বলতে পারি।
যাইহোক, সে হলো ভালো মেয়ে।
যার একবার বিয়ে হয়ে গেছে তার সাথে আমি ঠিক থাকবো।
কিন্তু আমি পারবো না।
হুম!
আমি জানি তুই প্রত্যেকদিন কোথায় যাস, এরকম কাপড় পড়ে।
ঠিক আছে! গিয়ে মামলা করো।
তুমি ওই শব্দ শুনেছো?
কীসের, স্যার?
স্যার! আমি কিছুই শুনিনি।
আপনি হয়তো ভুল শুনেছেন।
স্যার...
আমি তাহলে গেলাম।
দেরি হয়ে যাচ্ছে।
আমার ওয়ালেট টেবিলে রাখা আছে।
আগামীকাল আসবো নাকি, স্যার!
ওহ্! আগামীকাল বোধহয় কাজের লোকেরা আসবে এখানে, তাই না?
যখন বাড়ির কাজ শেষ হয়ে যাবে তখন খুব সুন্দর বাড়ি হবে!
আমি তো কেবল আজই এখানে আসলাম।
দিলীপ আমাকে সবসময় ঘৃণা করতো।
ওহ, আসলেই খুব দেরি হয়ে গেছে, আমি গেলাম!
আম্মু!
আগামীকাল পর্যন্ত তুমি এখানে থাকতে পারবে?
পারবো তো। আর ঘরেও তো কেউ নেই।
আমি কি খাবারের জন্য কিছু রান্না করবো?
"স্ত্রী নিখুঁজ" বলা লোকের সাথে তোর কীসের সম্পর্ক?
আমিও প্রথমে এতো চিন্তা করতাম না।
তারপর আমি ভাবলাম, অবশেষে তো তিনি একজন পুরুষই।
উনি আমাকে ভালোই টাকা দেন।
কিন্তু থামো!
তোর সমস্যাটা কী?
তুই সেখানে কী করছিলি?
উনি পুরোরাত ঘুমাননি, বলছিলেন কিসের জানি শব্দ শুনছেন।
একজন মানুষ কীভাবে এতো ভয় হতে পারে?
শব্দ?
আমি তো পুরো সময় শান্ত'ই ছিলাম।
আমি ঠিকই বলেছিলাম...
- নিশ্চই সে কোনো প্রতারণা করেছে। - ওহ, আবার শুরু করে দিলি!
তাহলে কেনো সে এতো ভয় পাচ্ছিলো?
কাউকে খুনের পর কি সে এখানে এসে লুকিয়ে আছে?
তোরও তাই মনে হচ্ছে, তাই না?
তোরও তাই এখন মনে হচ্ছে, তাই না?
আমার তো প্রথম যেদিন এই লোককে দেখেছিলাম তখনই মনে হয়েছিলো।
সে এখানে আসলো আর সিনেমার মতো গল্প বলা শুরু করলো।
আর সবাই সেটা বিশ্বাসও করলো!
সে একটা চরম জালিয়াৎ!
আমার তো মনে হয় সে বেশ ভালো লোক।
তাহলে ওনার স্ত্রী'র ব্যাপারে কী?
সেটাও কী মিথ্যা হতে পারে না?
একজনও কি এই গ্রামে তার স্ত্রীকে দেখেছে? বাদ দাও।
ওই মহিলার কী কোনো পরিবার নেই?
ওই মহিলার কী একমাত্র সেই লোকই ছিলো?
হঠাৎ করে একজন লোক গ্রামে থাকা শুরু করলে...
লোকেরা কতো কথা বলা শুরু করে!
গ্রামে এখন যা ঘটনা ঘটবে সেই এজন্য দোষী হবে।
তাহলে এই গল্পটা তাকে সাহায্য করছে, তাই না?
স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার অনুভূতি।
কিন্তু কেনো? এরকমটা করে তিনি কী পাবেন?
কিন্তু বুঝতে পারছি না সে এখানে এসে এসব সিন কেনো তৈরি করছে?
সেটার উত্তর তো একমাত্র সেই দিতে পারবে।
কিন্তু একটা ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।
সে এখানে কোনো উদ্দ্যেশ্য নিয়ে এসেছে।
কিন্তু তার সব কাগজপত্র তো ঠিকই।
যুক্তরাজ্যের নাগরিক। দুবাইয়ে ব্যবসা।
কিন্তু সে একটা ফ্লাইট যোগাড় করতে পারে না!
আর কার নিয়ে সরাসরি এখানে চলে এসেছে।
তাও আবার নেপালের মধ্যে দিয়ে!
সে শুধুমাত্র আমাদের বোকা বানাচ্ছে, স্যার!
না, এখনকার সময় অনেক লোকই এরকম করে থাকে।
তোমার ঘরে আর কেউ নেই নাকি?
না, স্যার। আমার স্ত্রী আর বাচ্চা বাবার বাড়ি গেছে,
যখন থেকে তার বাবা মারা গেছে।
তাই ভাবলাম কিছুদিন তাদের সেখানেই থাকা উচিত।
হ্যাঁ, খুবই আকষ্মিক দূর্ঘটনা ছিলো এটা।
আমাদের সামনেই তো টাকা নিয়ে গেলো!
হ্যাঁ।
আমি ভাবিইনি যে তোমরা এতো উগ্র।
কী, স্যার?
- না, আমার মানে এই গ্রামের লোকজন। - ওহ, হাহ।
কী সহজে একজন লোককে মেরে ফেললো!
আমাদের গ্রামেরই কেউ, তা বলা যাবে না, স্যার।
বাইরের কেউও হতে পারে।
তোমার কারো উপর সন্দেহ আছে নাকি, শশাঙ্ক?
না, স্যার।
আপনার কি...?
আমাকে যদি জিজ্ঞেস করো...
আপনার কি কারো উপর সন্দেহ আছে, স্যার?
আমার শুধু এটা ভেবেই মন খারাপ হচ্ছে যে আমি যে টাকা দিলাম তা বালান বা তার পরিবারের কারোরই কাজে আসলো না।
কিন্তু এটা তো স্যার আর আপনার ভুল নয়, তাই না? তাদেরই সময়টা খারাপ।
তবুও...
যা করার তা আমাদেরই করতে হবে।
পুলিশ সবগুলা বেকার।
আমাদেরই তার খুনিকে খুঁজে বের করতে হবে।
আর সেই টাকাটা ফিরিয়ে এনে আমি তোমাকে দিয়ে দিবো, শশাঙ্ক।
ঘরের বড় জামাই হওয়ার কারণে এটা তোমারই পাওয়া উচিত।
আমি তাদের টাকা চাই না, স্যার!
- চাও না? - না।
- না তো? - না, স্যার।
তাহলে, ছেড়ে দাও।
স্যার, আপনি বললেন না যে কীজন্যে আমার সাথে দেখা করতে আসলেন?
- বলিনি? - না।
বললামই তো।
কেউ আছো! সাহায্য করো! আগুন লেগে গেছে!
বোন! বোন!
দয়া করে জলদি আসো!
আরো জল নিয়ে আসো!
বোন!
কেউ আমাদের সাহায্য করো!
হেই!
আমার মনে হয় তোর দুলাভাই ওখানে কিছু লুকিয়ে রেখেছিলেন যা পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে।
গতকাল রাত থেকেই এভাবে এখানে বসে আছে।
ওটা কী এখানেই ছিলো?
হ্যাঁ।
কী?
আমরা গিয়ে চা খেয়ে আসি।
এটা সেই ছিলো!
সেই এটা করেছে!
কে?
আপনিই বালানকে সর্বশেষ দেখেছিলেন, তাই না?
আপনি কি আমার উপর তদন্ত করছেন?
যদি আমি বলি আমিই শেষ ব্যাক্তি যে তাকে দেখেছিলো,
তাহলে কি খুনি আমাকেই বলবেন?
আপনি কি সেদিন বালানের সাথে দেখা করেছিলেন?
এই আওয়াজটা ভালো লাগছে।
হ্যাঁ, আমি দেখা করেছিলাম।
কোথায়?
- হিসাব করবে না, বালান? - না, আমার আপনার উপর ভরসা আছে।
যাই স্যার! পরে দেখা হবে!
দেখা করবে তো?
সে বালানের জামাই না?
হ্যাঁ, স্যার! শশাঙ্ক।
আমি জানতামই না যে এরকম কোনো লেনদেন হবে, স্যার।
কিন্তু আমি দেখেছি যে উনি সেখান থেকে টাকা নিয়ে বেড়িয়েছেন।
শশাঙ্ক তোমারও তো কাজে যেতে হবে, তাই না? তাহলে যাও।
হ্যাঁ।
আমি তখনই সেখান থেকে চলে আসি, স্যার।
কাজের সময় ছিলো তাই...
অনিল! কোথায় তুমি?
বাবা!
বাবা!
বাবা, থামো!
বাবা, থামো!
বাবা! এটা নিয়ে কোথায় যাচ্ছো?
তোমার এতো লাগছে কেনো? ছাড়ো আমায়!
বাবা, মাকে এটা দিয়ে দাও!
আমি তাকে অনেক দিয়েছি! তুমি সেটা ভালো করে জানো! এটা আমার ছেলের টাকা!
- এটা শুধু তোমার ছেলের নয়! - ধুর, যা!
- আমাকে দাও, বাবা! - ব্যাগ থেকে হাত সরা।
বাবা! আমাকে এটা দিয়ে দাও!
এরকম করোনা, বাবা! ছাড়ো!
দূর হো!
হেই!
- হেই আমাকে ছেড়ে দে! - হেই! কিছু করবি না গর্ধভ!
হেই!
উনি তোর বাবা!
দুলাভাই!
আমার ভুল হয়ে গেছে!
এখন আমার মাকে দেখার মতো আর কেউ নেই!
দুলাভাই!
এটা আপনিই রাখুন।
আমার এই টাকা নিয়ে কতো কিছু পরিকল্পনা ছিলো!
সে টাকা নিয়ে চলে গেছে, তাই না?
আপনি কীরকম বোকা?
প্রথমে আমি বালানকে টাকা দিয়ে ঘর কিনলাম।
তারপর তাকে খুন করে আবার টাকা গুলো নিয়ে এলাম।
খুব মজার।
মজার গল্প লাগছে।
যদি আমরা এ ব্যাপারে চিন্তা করি,
এরকমটা হতেও পারে। তাই না, স্যার?
দুলাভাই! এগুলো আমাদের টাকা!
আমাদের সেগুলো ফিরিয়ে আনতে হবে!
আমি চাই না যাতে এই লোক আমাদের বোকা ভাবে!
আমি পারবো না।
আমার শরীর এখনই কাঁপছে!
যদি টাক নিয়ে যাই, তাহলে সে আবার সবাইকে বলবে না তো?
আরে বলবে না।
চলুন।
সে আমাদের থেকেও বড় চোর।
সে এটা জানে না যে আমি বাবার মামলার সাথে জড়িত।
এটা আমাদের একটা সুবিধা।
তুমি প্রথমে যাও। আমি সময়মতো এসে যাবো।
লুক!
এখানে থাকো। আমি গিয়ে দেখে আসি।
লুক!
লুক!
এসময় সে কোথায় চলে গেলো?
ওহ... সাধারণত সে তো তার ফোনের সাথেই লেগে থাকে।
এই ছেলেরা যা করে!
হ্যালো!
ট্রাকটা টিপ দেওয়ার ছিলো। আমি নিজের চোখে দেখেছি।
কর্ণাটক রাজ্যের নিবন্ধন প্লেট ছিলো।
ডাক্তার বললো সে খুব ভাগ্যবান ছিলো!
সবই ঈশ্বরের আশীর্বাদ, স্যার।
হুম... জানি।
এখন সেই তো আপনার সবকিছু।
কয়দিন ধরেই তাকে চিন্তিত লাগছিলো।
সময়মতো স্নান করতো না, খেতোও না।
আমাদের সময়টা খারাপ যাচ্ছে, স্যার।
চাচি! এই বিলটা আপনাকে দিতে হবে।
- মা, ওখানে বসা মহিলাকে দেখছো? - হ্যাঁ।
এটা তাকে দাও।
- সে আমার ছেলের বউ। - আচ্ছা, ঠিক আছে।
সে দিলীপের স্ত্রী, স্যার!
সেই তার কারখানা চালাচ্ছে।
সেখান থেকে রুজিও করছে কিছু। তাই সেই টাকা দিক।
আপনার পরিবারে তাকে দেখেছি বলে তো মনে হচ্ছে না।
আমি তাকে আমাদের সামনে বেশি আসতে দিইনি।
সে তার পরিবারের সাথেই থাকে।
উনি বললেন এই বিল আপনিই দিতে।
- শুরু থেকেই তাকে আমার ভালো লাগতো না। - আপনি এটা কাউন্টারে দিতে পারবেন।
সে দুবাইয়ে গিয়ে পরিশ্রম করে বাংলোটা বানালো।
তার জন্যই বানিয়েছিলো।
কার্ড দিন।
বাকি টাকা গুলোও একটু তাড়াতাড়ি দিয়ে দিবেন।
নাহলে এখান থেকে বের হওয়াটা কিছুটা মুশকিল হবে।
কফি?
হ্যাঁ, আমাদের এর আগে আলাপ হয়নি।
আমি হলাম লুক এন্টোনি।
আমিই দিলীপের বাড়িটা কিনেছি।
জানি।
তাহলে তো আপনি কফি নিতে বিরক্ত হবেন না?
প্লিজ!
এই ধরনের ছেলেদের উপর কোনো অনুমাণ করা যায় না।
- হাহ? - মানে অনিল...
আমার তো প্রথমে বড্ড ধাক্কা লেগেছিলো।
সুজাতা... আপনিই কারখানাটা দেখাশোনা করেন, তাই না?
আপনাদের পন্য কি?
হিজলি বাদাম। [ হিজলি বাদাম → এক ধরনের বাদাম ]
সুন্দর।
কফি প্রেমী নন বোধহয়? খাচ্ছেন না।
ভালো নয়, তাই না?
কফির পরিকল্পনা তো শেষ হয়ে গেলো,
আমরা কি অন্যকিছুর ব্যপারে ভাবতে পারি?
ব্রেকফাস্টটা আমরা একসাথে করি।
খুব শীঘ্র।
শুধু আমরা দুইজন...
আমার ঘরে।
ঠিক আছে!
কিছু মনে করবেন না।
আবার দেখা হবে।
- শ্রমিক ঐক্য! - জিন্দাবাদ!
- শ্রমিক ঐক্য! - জিন্দাবাদ!
ট্রেড ইউনিয়ন কমিটি দীর্ঘজীবী হোক!
অনির্দিষ্টকালের অনশন দীর্ঘজীবী হোক!
বিষয়টা আমার নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে।
ন্যায্য হলে, তাদের দোষ দেওয়া যাবে না।
কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, স্যার।
তারা সেখানে আন্দোলনও শুরু করে দিয়েছে।
মাঝে মাঝে এর থেকে কিছু টাকা চলে আসতো।
সেটাও এখন বন্ধ হয়ে গেছে।
হাসপাতালের বিল পরিশোধ করার মতোও টাকা নেই আমার কাছে।
দিন দিন ঔষধের দামও আকাশছোঁয়া হচ্ছে।
আমি ইতিমধ্যেই আমার সব গহনাও বিক্রি করে দিয়েছি।
টাকা যে ধার দিবে সেরকমও কেউ নেই।
কিন্তু বিল তো আপনাকে পরিশোধ করতেই হবে!
তা না হলে, তারা চিকিৎসা বন্ধ করে দিবে!
ঠিক একইরকম দূর্ঘটনায় আমি আমার বড় ছেলেকেও হারিয়েছি।
সেই যন্ত্রনা এখনও সহ্য করে যাচ্ছি।
আমি আপনার কাছে সাহায্য শুধু এজন্যই চাচ্ছি কারণ...
আমি অন্ততপক্ষে আমার অনিলকে সুস্থ্য দেখতে চাই।
দয়া করে আমার কাছ থেকে কারখানাটা কিনে নিন আর আমাকে টাকা দিয়ে দিন।
দয়া করে এরকম বলবেন না! সব কথার পরে আপনি হলেন দিলীপের মা।
আমি এখানে তো কোনো দরাদরি করতে আসিনি।
যখন আমার কাজ শেষ হয়ে যাবে, আমি চলে যাবো। আপনি তো জানেনই।
অন্যসবকিছু দেখা শোনা করাটা আমার জন্য চাপের হয়ে যাবে।
আমি তো আর অন্য কাজের জন্য টাকা চাচ্ছি না। এটা বিক্রি করতে আমারও কষ্ট হচ্ছে।
এই কারখানাটা দিলীপের স্বপ্ন ছিলো।
যদি আমি এটা বিক্রি করে দিই...
আমি জানি এতে তার কষ্ট লাগবে।
ওহ, তাই নাকি?
তাহলে আমি এ ব্যপারে ভেবে দেখবো।
তাকে প্রথমে রাজি হতে হবে।
দিলীপ আমাদের দুজনের নামেই নিবন্ধন করিয়েছিলো।
আমি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি।
সে কারখানাটা ভেঙ্গে পড়তে দেখবে তবুও তা বিক্রি করবে না।
আপনি তার সাথে একটু কথা বলার চেষ্টা করবেন।
আপনার উদ্দ্যেশ্যটা কী, স্যার?
শুধুই ভালো উদ্দ্যেশ্য।
দান... শুধুমাত্র দান!
হাসপাতালের ব্যপার তো। এতে কী আমরা না বলতে পারি?
আমি পারবো। আপনি যেতে পারেন।
ঠিক আছে, কোনো সমস্যা নেই!
উনি আমার সামনে কেঁদে জোর করলেন, তাই আমি আসলাম।
আপনি যদি আগ্রহী না থাকেন তাহলে আমি চলে যাচ্ছি।
আমার এটা বিক্রি করতে কোনো আগ্রহ নেই, দুঃখিত!
আপনার এটা বিক্রি করতে হবে না। আমি ওনার ভাগ কিনে নিবো।
আপনার শুধু তাতে মত থাকতে হবে।
আমরা দুজন অংশীদার হতে পারবো।
তাহলে এখানে কাজ কীরকম করা হয়?
ইনভেস্ট করার আগে একটু নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
আসুন।
"এই ছবিতে থাকা মহিলা সুফিয়া লুক'কে যদি কেউ মৃত অথবা জীবিত অবস্থায় খুঁজে পান..."
"তাহলে আপনার কাছের পুলিশ থানাতে জানাবেন"
"অথবা নিচের এই নাম্বারে যোগাযোগ করবেন।"
"যারা যোগাযোগ করবেন তাদের উপযুক্ত পুরুষ্কার দেওয়া হবে।"
"লুকের সাথে যোগাযোগ করুন।"
এই লোকটা খুব ঝামেলার!
তোর সমস্যা কী?
আমি শুধু তার একটা উপকার করলাম!
উনি কারখানা আর ওই বাড়ি কিনে বেশ ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন...
আর নিজের স্ত্রীর সম্পর্কেও ভুলে গেছেন। খারাপ বিষয়।
ওনাকে একটু মনে করাতে হবে!
উনি কী মন খারাপ করেছেন?
আপনি তো একটা ফোন করলেই হতো, স্যার।
তোমার পরিবার সম্পর্কে কিছু বলো, আম্মু।
কেনো মনটা খারাপ করছেন, স্যার?
আমি একদম একা, স্যার।
আমার কেউ নেই।
আপনারই মতো, স্যার।
এরপর যদি আর কিছু বলি তাহলে আপনি আবার বিরক্ত হয়ে পরবেন।
তোমাকে কে বললো যে আমি একদম একা?
আমি জানি, আপনি একা।
স্যার, ওই ছবিটা তো আমিই দিয়েছিলাম।
কিন্তু পোস্টারটা সতিশ লাগিয়ে ছিলো।
সবকিছুতেই সে একটা ঝামেলা পাকায়।
প্রত্যেকের উপর সন্দেহ করে।
সে ভাবছে যে আপনি এখানে বড় একটা কিছু পরিকল্পনা করছেন।
আর আপনি ওই সুজাতার পিছনে কেনো পড়েছেন সেটাও সে জানে না।
হয়তো এটাও নিয়ে সে চিন্তা করছে।
স্যার, প্রথমে আপনি ওই দিলীপের বাড়ি কিনলেন।
আর পড়ে তার কোম্পানিও।
এখন শুধু ওর স্ত্রী বাকি।
সত্যি বলেন, স্যার।
আপনি কি দিলীপকে আগে থেকেই চিনতেন?
তুমি এসব জিজ্ঞাসা করছো কেনো, আম্মু?
এই ফুল নিন আর প্রার্থনা করুন।
২ বছর কেটে গেলো, স্যার।
এরকম কম বয়সেই সে আমাদের ছেড়ে তাড়াতাড়ি চলে গেলো।
সত্যি বলেছেন। বেশি তাড়াতাড়ি।
আমি তার মুখ থেকে আর কখনো ''মা'' ডাক শুনতে পারবো না।
কিন্তু যে মারা যাবার সে তো আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে।
মন খারাপ করে কি লাভ হবে?
আমিও আপনাকে একই পরামর্শ দিতে চাই।
এটাই ওনার ভাগ্য ছিলো।
যখন উনি বেঁচে ছিলেন তখন তাকে যত্নে রেখেছিলেন।
এতেই শান্তি খুঁজে নিন।
হ্যাঁ, তোমার সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত, লুক।
জীবনে আমরা কিছু জিনিসের মূল্য বুঝতে পারি না...
যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা সেগুলোকে হারিয়েছি...
বা ততোক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষন না আমরা বুঝতে পারি তাদের আমরা আর ফিরে পাবো না।
কখনো কখনো আমার মনে হয় সে এখনো আমাদের সাথেই আছে, স্যার।
যা কিছু সে বানিয়েছে সবকিছুই...
অসম্পূর্ণ।
ওই বাড়ি, ফ্যাক্টরি এবং তার বিয়ে।
না, না! তার কথা শুনবে না।
সে আর বেঁচে নেই।
তারা বলে, নিজের আশা পূরণ না করেই যদি মারা যায়,
তাহলে তারা পৃথিবী ছেড়ে যায় না।
যদি তাই সত্যি হয়,
তাহলে আপনার স্ত্রী আপনার আশেপাশেই আছে।
তুমি জানো আমি সত্যি না?
আমি হলাম তোমার কল্পনা। আমি শুধু তোমার মাথাতেই থাকবো।
সেটা আমি তোমাকে আর কতবার বলবো?
যদি সে আমার সাথে আছে,
তাহলে দিলীপেরই কী এখানে থাকা উচিত নয়?
সে এখানেই আছে, স্যার। যারা তাকে ভালোবাসে সবাই এখানে আছে, তাই না?
ঠিক।
সে আর কোথায় যাবে?
আমি ওখানে একটা কাক দেখছি, কিন্তু সেটা নেমে আসছে না।
এটা এখনো যায়নি, এটা একটু আশ্চর্য্যজনক।
ও নিচে আসবে না। সে ভীত।
এখানে ঝামেলা করো না।
পিছনে যাও আর অনুষ্ঠানটা শেষ করো।
আম্মু কোথায়?
আম্মু চলে গিয়েছে।
তোমাকে সেটা বলেনি?
কোথায়?
তার যা প্রয়োজন ছিলো সেটা আমি তাকে দিয়ে দিয়েছি।
তাই সে চলে গিয়েছে।
আমি তোমার জন্যেও কিছু নিয়ে এসেছি।
আমার সাথে ঝামেলা করবেন না! আপনি আম্মুর সাথে কী করেছেন?
তুমিই এটা শুরু করেছো... তাই শুধু তোমাকেই এটা প্রথমে শেষ করতে হবে।
তারপর আমি বলছি আমি তার সাথে কী করেছি।
- হ্যালো? - ওই!
একটা জরুরী কাজের জন্য আমাকে আমার শহরে আসতে হয়েছে।
আমি দেখা হলে তোকে সবকিছু বলছি।
আমি একদম ঠিক আছি।
ওই লুককে একা ছেড়ে দে।
আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই একটা গোপন সত্য আছে, তাই না?
ওনাকে ওনার কাজ করতে দে।
ওনাকে বিরক্ত করবি না।
শোন...
ওহ!
বাবা... এসে দেখ!
হায় ভগবান! এইমাত্র আমি কী দেখলাম!
অনিল!
বাবা!
মা!
স্যারের শরীর এখন কেমন?
কোন স্যার?
লুক স্যার!
তুমি জানো না?
কেউ গতকাল ওনাকে রাস্তায় আক্রমণ করেছে।
গতকাল রাতে, মা!
এখন উনি ডাক্তার চন্দনের হাসপাতালে।
ডা. চন্দন
মা...
ময়লা গর্তে ঢুকে পরেছে,
আর দূর্গন্ধও আছে।
আমরা কী দাদাকে অন্য কোথাও রাখবো...
আর গর্ত পরিষ্কার করবো?
মা!
আমরা যা করার সব করবো যা আমাদের রীতিতে আছে, মা।
শুধু তাকে এই ময়লায় ছেড়ে দিও না।
তাহলে আপনি আততায়ীকে দেখেন নি?
আমি কি সেটা রিপোর্টে লেখবো?
স্যার... আমি...
আমি দেখিনি, স্যার।
খুব অন্ধকার ছিলো।
ওহ... আপনি এখানে আপনার স্কুটার দিয়ে এসেছেন, তাই না?
আমি ওনাকে সকালে ছেড়ে দিয়েছি।
কিন্তু পরিচিত কাউকে পাইনি যে ওনাকে বাড়ি পাঠাবো।
ছোট একটা ক্ষত। কিন্তু এখনই একা ছেড়ে দেওয়াটা ঠিক হবে না।
যখন নার্স কথাটা বলে তখনই আপনার কথা আমার মনে পড়ে।
- আপনি কিছু মনে করেননি তো? - না।
একটু চা খাও।
ধরো এটা।
সকাল থেকে তুমি কিছুই খাও নি।
ওখানে।
আরেকটু ময়লা খুঁড়ে দেখতো।
এটা এখানে নেই?
আশা!
- শোনো... - হ্যাঁ।
গর্তে থাকা হাড়ের মধ্যে থেকে,
দিলীপের মাথার খুলিটা উধাও।
মা!
গর্ত থেকে দিলীপের মাথা নিঁখুজ।
ওহ... দুঃখিত।
আমি এর ব্যপারে ভুলে গিয়েছিলাম।
ধন্যবাদ!
আপনার আর কোনো সাহায্যের প্রয়োজন?
যদি আপনি কিছু মনে না করেন...
আমার জন্য একটু পানি গরম করে দিন।
সরুন!
শেষ পর্যন্ত তুই আসলি।
মাদারী!
এই সময়ের জন্যে আমি খুব কষ্ট করেছি!
লুক... প্লিজ! দয়া করে শুনো!
আমাদের গল্পটা তারা মানবে না।
চুরি হয়েছে সেটা তো তারা বুঝেছে।
অস্ত্র থেকে যে আঙ্গুলের ছাপ পাওয়া গিয়েছে সেটা হলো সমস্যা।
যে লোকটা পালিয়ে গিয়েছে তার ব্যপারে কিছু বলো।
শুধুমাত্র একজনই লোক ছিলো।
আর আমিই তাকে মেরেছি!
আমরা প্রমাণ করতে পারবো যে সেটা তুমি আত্মরক্ষার জন্য করেছো।
কিন্তু ডাকাতি... সেটা ঘটেছে বলে আমরা প্রমাণ করতে পারবো না।
মামলা মাসের উপরে চলবে।
তুমি সেটা জানো?
তারা মনে করে যে তুমি সুফিয়াকে মেরেছো।
দেখো... আমরা তাদের দোষারোপ করতে পারবো না।
শুনো!
শান্ত হয়ে বসো!
হ্যালো! আপনি উঠে পড়েছেন?
আজ কীরকম লাগছে? কোনো ব্যাথা করছে?
- ডাক্তারকে ফোন করবো নাকি? - আমি মারা যাবো নাকি, সিস্টার?
এখনের জন্য তো নয়। তবে বেশ ভালোই আঘাত পেয়েছেন!
আপনার মজা লাগছে?
আপনি এমন কী করেছিলেন যে একজন আপনাকে এভাবে মেরেছে।
যে আমাকে মেরেছে তাকে আপনার দেখা উচিত ছিলো।
হাসা বন্ধ করুন!
শরীরকে এভাবে নাড়াবেন না।
সে আমাকে মারার চেষ্টা করেছিলো।
সে...
দয়া করে শান্ত হোন।
আমি দেখি কোন ডাক্তার ডিউটিতে আছেন। আমি এখনই আসছি।
কোথায় তুই?
যখন সুযোগ পেয়েছিলি তখন আমাকে তোর মেরে দেওয়া উচিত ছিলো।
কী একটা ভুল!
তাহলে সেই হলো তোর দূর্বলতা।
যদি সে ব্যাথা পায় তাহলে তুই রাগ করিস।
ঠিক আছে। তাহলে তাকে আঘাত দেওয়া যাক।
আমি তাকে এখানে নিয়ে আসবো...
আর তুই যখন দেখবি তখনই আঘাত দিবো!
কে বাবা, তুমি?
সে কিছুক্ষণের মধ্যেই এসে পড়বে, স্যার।
ও বাথরুমে আছে।
আমি আপনার জন্যে চা নিয়ে আসবো?
আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম কেনো সে কাজে গেলো না।
তাই সে রাগ দেখাতে লাগলো!
মাঝেমধ্যেই সে এভাবে রাগ করে থাকে।
বললো যে শরীর খারাপ তাই পুরো সময় ঘরেই ছিলো।
ওই তার স্বামী মারা যাবায়...
এখনো সেই শোকেই আছে। বের হতেই পারছে না।
মারা যাবার পরেও তাকে রক্ষা করছিস?
কী বললেন, স্যার?
তুমি কে?
ওনার উপর রাগ করবেন না। উনি একটু অসুস্থ।
যদি ওনাকে কিছু বলেনও, উনি সেটা রাখতে পারেন না।
আরে... তুমি কি শুনতে পাওনা?
আমাদের এতো বিরক্ত করছো।
ভেবেছিলাম ওনার বয়স হলে একটু শান্তি পাবো।
কিন্তু না!
আগেও উনি খুবই বিরক্ত ছিলেন, স্যার!
প্রত্যেকটা দিন ঝগড়া করতেন।
খুব পরিচিত ছিলেন এই বদমাশির জন্য!
উনি মিথ্যে বলে আমাকে বিয়ে করেন।
আমার আপনজনও বলতেও কেউ ছিলো না।
আমিই বা কী করতাম?
ডিবোর্সের চেষ্টা?
ওহ! এসব তো বড়লোকদের কাজ, স্যার।
এখানে একজন মহিলা মানেই বোঝা।
মানুষ শুধু এসব থেকে দূরে থাকতে চায়।
একবার একজন মহিলার বিয়ে হয়ে গেলে তার করুণা হয়েই থাকতে হয়।
পুরো জীবণ আপনাকে সেখানেই থাকতে হবে।
আপনার উপর দিয়ে যাই বয়ে যাক না কেনো...
বাইরের কেউই এসে দেখবে না।
কিন্তু আমার কথা ছাড়ুন।
আমার মেয়ের অবস্থা... এটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।
আমি যদি সুজাতাকে বিয়ে করি কীরকম হবে?
হাহ? কী বললেন, স্যার?
এ ব্যপারে ভালো করে ভাব আর তারপর বল।
চিৎকার বন্ধ করো।
আমার মনে হয়, এটা একটা ভালো জোট হবে।
ওই ফ্যাক্টরি আর বাড়ি তোর হবে...
আর সেখানে ওনার উপর প্রভাব খাটাতেও পারবি!
তুমি কি ওনাকে চলে যেতে বলবে? নাকি আমি?
ওহ! তাহলে তুইও আমার মতো পুরো জীবন নরকে থাকবি। আমার কথা মিলিয়ে নিস!
একটা সুযোগ এসেছিলো এসব থেকে বের হবার। কিন্তু তুই অহংকারী হয়েই থাকতে চাস!
মনে হচ্ছে তুমি আমার কথা মানবে না।
কিন্তু দেখি একজন মাকে কীভাবে না করো!
স্যার... কিছু না বলেই যে আপনি আসলেন?
আমি সুজাতা কে বিয়ে করতে যাচ্ছি।
আশাকরি আপনার আশীর্বাদ আমাদের সাথেই থাকবে।
বাইরের লোকেরা বিভিন্ন ধরনের কথা বলছে!
সুজাতা কি আবার বিয়ে করতে যাচ্ছে?
আমারা এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি, সীতা।
আমরা একটা প্রস্তাব পেয়েছি আর সে ব্যপারে ভাবছি...
এখানে ভাবার কী আছে? তখনই না করলে না কেনো?
কিন্তু... এটা তো তার জীবন। তাকেই সিদ্ধান্ত নিতে দাও।
তারমানে কী বলতে চাচ্ছো?
যদি সে হ্যাঁ বলে দেয়, তাহলে তোমরা তার বিয়ে দিয়ে দিবে?
এটা কী ধরনের কথা?
আমার ছেলের আত্মা এটা কীভাবে সহ্য করবে?
আমার ছেলের যা কিছু ছিলো সব তার জন্যে রেখে গিয়েছে।
কিন্তু সীতা... তার বয়স এখনো অনেক কম!
আর কতোদিন পর্যন্তই বা সে একা থাকবে তুমি মনে করো...
ঈশ্বর করেছেন এটাই ভেবে নাও।
আমার ছেলের বিধবা স্ত্রী হয়ে সে থাকছে না কেনো?
ভালো পরিবারের মেয়ে হিসেবে কি এটাই করা উচিত নয়?
নাকি স্বামী মারা গেলেই সবাই আবার বিয়ে করে?
আমাদের পূর্বপুরুষ হলে স্বামীর চিতায় ঝাঁপিয়ে পড়লেন!
তুমি কি এসব জানতে?
যদি এরকমই হতো তাহলে...
আমি এবং তার অসুস্থ বাবা
প্রথমেই চিতায় ঝাপ দিয়ে মারা যেতাম।
সে এখনো খাবার এনে টেবিলে রাখে বলেই আমরা এতোদিন বেঁচে আছি।
তার এই পরিশ্রম থেকে যা কিছু পায় তার এক ভাগ তো আপনাকেও দেয়।
আপনি আর কী চান?
এই সব বোঝা সে আর একা সামলাতে পারবে না।
যদি সে মনে করে তার একজন সাথী প্রয়োজন তাহলে আমরা তাকেই সমর্থন দিবো।
আমরা এসব পরিবার আর মান-সম্মান নিয়ে ঝুলে থাকবো না।
তুই বিয়ে করতে যাচ্ছিস, মা?
প্রত্যেকদিনই দেখি আপনি মার খান,
এটা কী কোনো ধরনের ধর্মীয় কাজ?
আমি জানি আমাকে কে মেড়েছে, স্যার।
আমি তাকে পরিষ্কার দেখেছি।
ওই সতিশ ছিলো।
- তাই নাকি? - হ্যাঁ।
যদি তুই কোনো ভেজাল করে থাকিস, তাহলে স্বীকার করে নিবি।
অযথা মার খাবি না।
- স্যার, আমিই তাকে মেরেছি। - ওহ!
তা কেনো মারলেন বলতে পারবেন, স্যার?
এর কোনো কারণ নেই। ভুল হয়ে গেছে, মেরে দিয়েছি।
কী?
একজনের ঘড়ে ঢুকে তাকে মৃতপ্রায় করেছিস...
আর বলছিস ''ভুল হয়ে গিয়েছে''?
- ঘড়ে ঢুকে? - হেই! কেউ তাকে নিয়ে যা আমি কিছু ক...
যা।
কী সমস্যা ছিলো তার সাথে?
আমারই দোষ ছিলো, স্যার।
আমি ভুলে গিয়েছিলাম যে কার সাথে খেলছি।
তুমি তাকে মারলে কেনো?
আমি তাকে মেরেছি!
সেই কী আসল সমস্যাকারী?
তোমার কী তার সম্পর্কে আর কোনো বিস্তারিত জানা আছে?
আপনি যা চান সেরকম কিছুই নেই আমার কাছে!
জানিনা কী ভেবে মেরেছিলাম আর আপনিও...
আমি শুনলাম তোমার পুরাতন বান্ধবীর সাথে তার বিয়ে ঠিক হয়েছে...
সুজাতা।
দুপুর হয়ে গেলো। বিছানা থেকে উঠবে না নাকি?
ক্ষুধা লাগেনি, মা?
আজকে আমি কিছু খাবো না।
আমার উপবাস আছে আজকে।
মা, এতো সময় লাগছে কেনো?
জামাই আধাঘন্টা আগে রুমে চলে গিয়েছে।
এখন বাইরে আয়।
ভিতরে যা আর গিয়ে কিছু গল্প কর।
উনি এখনই রুমে চলে গেলেন কেনো?
এখন তো মাত্র সন্ধ্যা ৭টা বাজে।
আমি জানি না। নিজেই গিয়ে জিজ্ঞেস কর।
আমি গেলাম।
তোর বাবা এতোক্ষনে হয়তো ঘড়ে ভেজাল শুরু করে দিয়েছেন।
ভিতরে এসো। অনেক দেরি করে ফেললে।
- তোমার মা চলে গেছেন? - হ্যাঁ, চলে গেছেন।
বাবা যখন একা থাকেন তখন একটু পাগলামি করেন।
দরজাটা বরং খোলাই রাখি।
আমাদের এখানে কে আর দেখবে?
কোথায় তুই?
দেখেছিস নাকি?
আমি যে তার সাথে ঘুমিয়েছি তুই তা দেখেছিস নাকি?
আমাকে মারতে চাস না?
চাস না?
আমাদের কি এই বাড়ি গুছিয়ে রাখা উচিত নয়?
সুজাতা, এই বিয়েতে তুমি খুশি আছো তো?
হ্যাঁ।
কেউ জোর করেনি তো?
না, এটা আমরই সিদ্ধান্ত ছিলো।
আমি শুধু জিজ্ঞেস করছিলাম।
শুভ সকাল!
চা খাবে নাকি?
স্যার, দুজনেই বিয়ের সাথে সাথেই এখানে চলে আসলেন।
কোথাও হানিমুনে গেলেন না?
যখন এসেছিলে আমাকে বলে আসতে পারতে। আমি সব জায়গায় তোমাকে খুঁজছিলাম।
আমার কিছু জরুরী কাজ ছিলো এখানে।
কোনো সমস্যা নেই, চালিয়ে যাও। কিছু মনে করো না।
এক মিনিট আসছি।
কাজে আসার আগে আমরা কিছুদিন ঘুরে আসতে পারতাম।
মাত্র আমরা বিয়ে করলাম।
এখানে সবসময়ই আশেপাশে মানুষ ঘোরা ফেরা করে। এখানে আমাদের কোনো গোপনীয়তা নেই।
তাহলে বাড়ি চলে যাও। আমি জলদি চলে আসবো।
ঠিক আছে।
আমি এখানেই অপেক্ষা করি।
একা একা ঘরে বসে থাকাটা খুব বিরক্তিকর।
কোথায় লুকিয়ে আছিস তুই?
তুমি এগুলোর খোসা ছাড়াচ্ছো, তাই না?
এই দুই সেট দুইটা আলাদা আলাদা কাভারে প্যাক করো।
চালিয়ে যাও!
উনি তাকে ওনার কাছ থেকে দূরে যেতেই দিচ্ছেন না।
তারা মাত্র বিয়ে করেছে, এজন্যেই।
স্যার!
ভিতরে গিয়ে বসছেন না কেনো? বাইরে তো অনেক গরম।
যখন থেকে বিয়ে করেছেন প্রতিদিনই এখানে আসছেন, তাই না?
খুব ভালো। ভালো হচ্ছে যে আপনি সবকিছুর উপর নজর রাখছেন।
এই কোম্পানি আবার কীভাবে আমরা বন্ধ করা যায় বলুন তো, বাবু ভাই?
ছাড়ুন তো, স্যার!
আপনার মনটা বোধহয় আজ ভালো নেই।
বাবা, অনিল...!
- অনিল, বাবা? - হ্যাঁ, মা... উঠে পড়েছো তুমি?
কী হয়েছে, মা?
যা গিয়ে তাড়াতাড়ি জোসেফ উকিলকে নিয়ে আয়। দ্রুত।
আমার স্নানের জন্য একটু পানি গরম কর।
- কী হয়েছে, মা? - প্রশ্ন করা বন্ধ কর। জলদি।
আপনি সরাসরি সেখানে চলে আসুন?
ঠিক আছে।
হ্যালো?
শোন, রাজেশ আর আমাদের বাকি ছেলেদের নিয়ে ফ্যাক্টরিতে চলে আয়।
কিছু একটা হয়েছে। আমি তোকে বলছি।
আপনি যখন দিলীপের স্ত্রী ছিলেন তখন এই ফ্যাক্টরি আপনার নামে করে দিয়েছিলো।
ঠিক?
কিন্তু এখন থেকে আপনি যখন অন্য পুরুষকে বিয়ে করেছেন...
নীতিসম্মত ভাবে এই ফ্যাক্টরির উপর আপনার আর কোনো অধিকার নেই।
আমরা গিয়ে আদালতে যুক্তি দেখাতে পারবো।
আমরা কী এরকম করবো?
এখানেই নিষ্পতি করে ফেলা উচিত, তাই না?
আমরা কি আইনি ঝামেলার মধ্যে পড়ে সবার সময় নষ্ট করবো?
আপনি কে?
দেখতে পারছেন না আমরা এখানে কথা বলছি?
কিছুক্ষণ পরে আসুন।
এটা আমারও সম্পত্তি।
ওহ, ইনিই আপনার দ্বিতীয় স্বামী।
ঠিক আছে, যাই হোক।
তাহলে, সুজাতা আপনাকে ফ্যাক্টরিটা...
আমার মক্কেল মানে...
দিলীপের মায়ের নামে করতে হবে।
তার মা তো এখনো তার মা'ই আছেন। এটা তো আর কখনো বদল হবে না, তাই না?
পারবো না।
দিলীপ মারা গেছে দুই বছর হয়ে গেছে।
অনিল অথবা আপনি এসে দেখেছেন এখানে কী চলছে?
শুধু মুনাফার ভাগ নেওয়া ছাড়া এখানে আর কেউ আসেনি।
এই জায়গা সবসময় আমিই চালিয়েছি।
আগেও... এবং এখনও।
এটা আমারই সম্পত্তি।
আর...
আমি এটা আপনার মক্কেলের নামে করে দিতে চাই না।
সুজাতা ভাবী... এই ব্যপারে কোনো কথা বলবেন না।
ভাই মারা যাবার পর থেকে কয়বার আমাদের ভাগ দিয়েছেন?
আপনি বলেছেন, ফ্যাক্টরি ক্ষতির মাঝে আছে,
অবরোধ চলছে ইত্যাদি বলে আমাদের ঠকিয়েছেন, আর সব ভাগ চুরি করে নিয়ে গেছেন।
আমার ভাইয়ের বউ ছিলেন বলে ছেড়ে দিয়েছি।
আর এখন আপনি আশা করছেন যে... চুপ থাকতে?
আমি জানি তুই এখানেই আছিস।
এখনই বেড়িয়ে আয়।
তোর ভালো চেহারাটা তো দেখি।
আপনি বড়লোক একজনকে খুঁজে পেলেন আর তাকে বিয়ে করে ফেললেন।
এটা আপনার ব্যক্তিগত বিষয়। এ নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।
কিন্তু যদি আপনি আমার ভাইয়েরও সম্পত্তি চান।
তা হবে না!
দয়া করে উত্তেজিত হবেন না। আমরা এটা কথা বলে শেষ করতে পারি।
না ওনার অন্য কোনো উদ্দ্যেশ্য আছে। তাই না,?
স্বাগতম!
কিছু করবে না নাকি?
তারা তোমর স্ত্রীর উপর চাপ সৃষ্টি করছে।
ওহ... তারা তো তোর রক্তের মা আর ভাই হয়।
রক্ত পানির থেকেও অনেক ঘন।
তাহলে তো তোর হাত নিশ্চই কাঁপবে।
তাই না?
দেখুন... আপনার এখানে ঢুকার প্রয়োজন নেই।
আমরা কথার মধ্যে দিয়ে এসব শেষ করতে পারি।
আমি হলাম দ্বিতীয় স্বামী, উকিল বাবু।
যে মারা গেছে সে না।
মারবেন না আমাকে।
আমি আবার বলছি, মারবেন না আমাকে।
দয়া করে মারবেন না।
কিছু করবেন না, প্লিজ।
আমি ফ্যাক্টরি বন্ধ করিয়েই ছাড়বো, সুজাতা। দেখে নিও!
এখন এটা ব্যক্তিগত হয়ে গেলো!
সে জানেনা কার উপরে হাত তুলেছে।
বাল গর্ধভ!
আমি এটা বন্ধ করিয়েই ছাড়বো!
এখানের লোকেরা দেখা যায় মারামারি অনেক পছন্দ করে, হাহ?
মেয়েটা অনেক কিছু সহ্য করেছে।
দায়িত্ব, ঋণ, আর একজন অসুস্থ বাবা।
তুই এর মধ্যে যোগ দিয়ে আর সমস্যা বাড়াবি না।
আমি এখন থেকে আর কারো ঝামেলার মধ্যে নাক গলাবো না।
তাদেরই সহ্য করতে দাও।
ভালো হয়েছে এটা ঘটেছে।
এই ছেলে আর মায়ের এটা অনেক আগেই পাওয়া উচিত ছিলো!
আমার জামাই তো স্টিলের তৈরি মানুষ।
হুম?
তুমি ঘুমাচ্ছিলেনা?
নাটক করছিলে?
কিছু তো গড়বড় আছে, বাবা।
হতে পারে শুধু এটা আমার অনুভূতি।
কিন্তু কিছু একটা গড়বড় আছে।
মা, দেখতো ঠিক মতো মিষ্টি হয়েছে কি না।
- আমি একটু মিষ্টি তৈরি করেছি। - আপনি খুশি তো?
মিষ্টি?
দিলীপ অনেক কষ্ট করে ফ্যাক্টরিটা তৈরি করেছিলো।
তার নিজের মা সেটা বন্ধ করিয়ে দিলো।
আর এখন মিষ্টি দিচ্ছে সবাইকে।
কী ধরণের পরিবার এটা?
শালাবাবু নিশ্চই অনেক "খুশি"!
পুডিং অনেক ভালো হয়েছে! [ পুডিং → দুধ ও ডিম দিয়ে তৈরি একধরণের খাবার]
তাহলে... আমরা কি বাড়ি যেতে পারি?
হুম?
মন খারাপ করো না।
অন্ততপক্ষে, আমরা এখন কিছু ব্যক্তিগত সময় পাবো।
চলো কিছুদিনের জন্য বাড়িতেই থাকি।
হুম?
অনেক মজা হবে।
ঠিক আছে, আমিই খুলি।
উনি যা বলেন এবং যা করেন সেটা ওনার ভিতরে যা আছে তার থেকে ভিন্ন।
যতই চেষ্টা করি না কেনো খুঁজে বের করার, তা বের করা অসম্ভব।
আমি শুধু ভাবি উনি কি আমাদের মতোই একই পৃথিবীতে বাস করেন।
মনে হচ্ছে উনি আমার বিরুদ্ধে কিছু ধরে রেখেছেন।
আমি সেটা আমাদের বিয়ের আগেও মনে করেছিলাম।
শুধু নিজেকে বলেছি যে এটা একটা সন্দেহমাত্র আর মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি।
কিন্তু আমি আর পারছি না!
ধুর! ও কখনোই তার ফোন তোলে না।
এই রকম জায়গায় থাকা আপনাকেই মানায়, তাই না স্যার?
স্যার... আমি ফ্রিতে কিছু তথ্য জানতে চাইছিলাম।
কারণ আমার কাছে কোনো টাকা নেই, স্যার!
আপনি অনেকদিন ধরেই লুকের পিছনে পরে আছেন, স্যার।
কিছু পেয়েছেন?
হঠাৎ করে তুমি তার সম্পর্কে আগ্রহী হলে কেনো?
কিছু জরুরী কাজ আছে। দয়া করে বলবেন?
আমি কিছুই জানি না, ভাই!
বালানের মামলায়, সে সন্দেহের তালিকায় ছিলো।
তাছাড়া... সে একজন ভালো মানুষ।
কোনো সমস্যাকারী নয়।
ঠিক আছে তাহলে আমি...
শালারা কখনই একজন মানুষকে ভালভাবে কাজ শেষ করে কিছু টাকা কামাতে দেয় না!
কিন্তু ও ঠিকই বলেছে।
আমি অনেক সময় লুকের পিছনে নষ্ট করেছি।
এখন লুক নিজেই বলবে কোথায় দেখতে হবে।
ওহ... এসে পড়েছো।
রাতের খাবার তৈরি, ম্যাডাম।
কাপড় পাল্টে এসো। আমার একটু বাকী।
কি খুঁজছো তুমি? কিছু হারিয়ে ফেলেছো?
হাহ?
এসো।
খাবার ঠান্ডা হয়ে যাবে।
এটা আসলে...
একটা ইংলিশ ব্রেকফাস্ট।
আমি ভালো করে জানি, তাই বানিয়েছি।
কীসের আনন্দ করছো?
বিনা কারণে একটা সমস্যা সৃষ্টি করে আমার কোম্পানি বন্ধ করলে?
নাকি আমাকে বেকার করে ঘরে বসিয়েছো করে?
এখানে সম্পূর্ণ খাবার নেই। আরো কিছু যোগ করার বাকি আছে।
এখনের মতো, যা আমাদের আছে তাই খেয়ে নাও।
বলো।
তোমার ভিতরে কী চলছে, বলো?
তুমি চাও তোমার জন্যে রান্না করি, তোমার যত্ন নিই...
বাচ্চার জন্ম দিই আর ঘরে বসে থাকি?
এটা করলে তুমি খুশি হবে?
আরেকটা কাজ করলে কেমন হয়...
একটা পূজার রুম খুলে তোমার পুতুল বসিয়ে দিই।
আমি তোমাকে ঈশ্বর ভাববো আর প্রতিদিন প্রার্থনা করবো!
আমার কথা শুনছো তুমি?
কিছুই বলার নেই তোমার?
তার রাগ উঠলে...
তখনই তুই দেখা দিবি, এটাই তোর চাবি।
তাই না?
কোনো কাজ করছেন বোধহয়, স্যার।
আমরা কি বাইরে গিয়ে একটু কথা বলতে পারি?
যদি সুজাতা আমাদের শুনে ফেলে, আমার সব পরিশ্রম ময়লার নালায় চলে যাবে।
দিলীপ দুই বছর দুবাইয়ে কাজ করে।
কিন্তু এখানে যদি তার টাকা উড়ানো দেখেন বাড়ি আর ফ্যাক্টরির পিছনে...
সেটা দেখে মনে হবে হয় সে দুবাইয়ে লটারি পেয়েছে...
আর না হয় নিশ্চই ডাকাতি করেছে।
আর সে কখনোই লটারি জিতেনি।
দিলীপ ছিলো ধূর্ত চোর।
যতোদিন পর্যন্ত আপনি এখানে আসেননি স্যার, আমি তাকে কখনোই সন্দেহ করিনি।
এই খবর হলো কোল্লামের সাফি নামের একজনের।
তাকে একটা ডাকাতি করার সময় মারা হয়।
যখন সে পালাচ্ছিলো,
সে একজন মহিলাকে তার মাথায় মেরে হত্যা করে।
সেই মহিলার স্বামী তাকে ধরে ফেলে এবং তার ঘাড় ভেঙ্গে ফেলে।
ও ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
পত্রিকায় তো শুধু এতোটুকুই আছে।
সেই বাড়ি কার ছিলো? যে মহিলা মারা গেছে সেই মহিলা কে ছিলো?
তার স্বামী'ই বা কে ছিলো?
কোনো খবর নেই।
সেগুলোও খোঁজার কোনো মানে হয় না। আমি শফির বাসায় যাই।
সে একা ছিলো না।
তার সাথে আরেকজন মানুষ ছিলো।
যেটা সেখানের পুলিশ বলে।
সেই লোক ওই মহিলাকে হত্যা করে কিন্তু দোষ এসে পড়ে আমাদের ছেলের উপর।
যদি আপনি ধনী থাকেন, আপনি যা কিছু করতে পারবেন।
কিন্তু...
সেই বাড়ির মালিকও পর্যন্ত বলেছে,
যে সাফি একাই ওই ঘরে ঢুকে ছিলো।
আর যখন আমি আরো জিজ্ঞাসাবাদ করি তখন মনে হলো তারা দিলীপকে জানে।
সাফি তার দুবাইয়ের বন্ধুর ব্যপারে তাদের বলেছিলো।
আর আপনি মেনে নিলেন যে সেটা আমি?
দ্বিতীয় ভুল যেটা আপনি করেছেন...
নিশ্চিত নই কে সে,
কিন্তু আমি তাকে দেখেছি।
ওহ হ্যাঁ, সে একদিন এখানে এসেছিলো।
কিন্তু কিছু না বলেই চলে গেলো।
স্যার, আমি আপনাকে দোষারোপ করছি না।
আপনি কিছু করার আগেই যদি আপনার শত্রু মারা যায় তাহলে আপনি কী করবেন?
তার কাছের মানুষকে যন্ত্রনা দেই।
এটাই!
কিন্তু আমি এর পিছনে অনেক পরিশ্রম করেছি!
মুখ বন্ধ রেখে পাশ থেকে দেখার জন্য,
আপনার আমাকে কিছু টাকা দিতে হবে।
কিন্তু... এর পরিমাণ আমি ঠিক করবো।
- আর যদি না দিই? - এগুলো ফাঁস হয়ে যাবে।
সুজাতাও তো সন্দেহ করা শুরু করেছে, তাই না?
এখানেও একটা অমীমাংসিত মামলা রয়েছে। বালানের খুনের মামলা।
অপরাধ আপনি করেন বা না করেন...
দোষ আপনার উপরেই আসবে।
যখন টাকা তৈরি হয়ে যাবে আমাকে জানিয়ে দিবেন।
আশাকরি ততোক্ষন পর্যন্ত মাথায় আর কোনো অন্য বুদ্ধি আসবে না।
আসা উচিতও না।
আমি হলাম একজন পুলিশ।
ভাববেন না যে আমি এখানে কোনো পরিকল্পনা ছাড়া এসেছি।
লএকটা আন্দাজ করতে পারেন এই প্রমাণের একটা কপি কোথায় আছে।
যদি আমি কিছুদিনের জন্য নিঁখুজ হয়ে যাই,
সেগুলো নিজে থেকেই বের হয়ে চলে আসবে।
শুধু একটাই বিষয় আমি বুঝতে পারিনি যে আপনি সুজাতাকে কেনো বিয়ে করলেন?
আপনি এখানে প্রতিশোধ নিতে আসলেন, কিন্তু পড়ে গেলেন তার প্রেমে, তাই না?
ছি!
এসবই তুমি বের করেছো, আশরাফ?
কি ধরনের পুলিশ তুমি!
তোমার কোনো ধারণা আছে সে আমার থেকে কতো টাকা চুরি করেছে?
এখানে একটা বাড়ি তৈরি আর একটা কারখানা কেনার পিছনে...
সে টাকার চার ভাগের এক ভাগও খরচ করেনি।
আমি তো তাকে পেলাম না।
কিন্তু আমি আমার টাকা চাই।
সেগুলো পাওয়ার পরই আমি ফিরে যাবো।
আমি ভেবেছিলাম হয়তো সে জানে কোথায় টাকাগুলো আছে। তাই তাকে বিয়েটা করেছিলাম।
সেটাতেও কোনো লাভ হলো না।
ও কথাটা আমাকে বললো কেনো?
সে জানে আমি এটার পিছনে পরবো।
স্যার... আশরাফ স্যার আমাকে পাঠিয়েছেন।
উনি ওনার ড্রয়ারের চাবি হারিয়ে ফেলেছেন।
ওটা ওনার রুমে আছে।
জিজ্ঞেস করো।
কী জানতে চাও তুমি? বলো!
আমি তোমার কোম্পানি খুলিয়েছিলাম। আর সেটা বন্ধও আমি করিয়েছি!
এটাই ধরে নাও।
আমি তোমাকে বলেছিলাম প্রত্যেকদিন সেখানে যাবে না, তাই না?
আমার কথা শুনেছিলে তুমি?
হ্যাঁ, ঘর চালানোর জন্য আমি তোমাকে বিয়ে করেছি।
আমি মানছি।
কিন্তু আমাকে বলো তো, তোমার পরিকল্পনা কী ছিলো?
তোমার চোখ আমার টাকা, বাড়ি আর ফ্যাক্টরির উপরেই ছিলো, তাই না?
হ্যাঁ।
আমি এসবই চেয়েছিলাম।
আর আমি?
তুমি আমাকে চাও নি?
আমি জানি না।
এসব পাগলামো বন্ধ করো!
বন্ধ যদি না করি তাহলে কী করবে?
আমাকে মারবে তুমি?
তাহলে সে যদি আঘাত পায় তাহলেই তুই দেখা দিবি।
তাই না?
কোথায় যাচ্ছো তুমি? আমার এখনো শেষ হয়নি।
ছাড়ো আমাকে!
ছাড়ো আমায়!
ছাড়ো আমাকে!
ছাড়ো আমাকে!
স্যারি, আমারই দোষ ছিলো।
স্যারি!
ঘরে এসে এসব কথা বলার সাহস কী করে হয় আপনার? বেড়িয়ে যান!
- কী করছো তুমি? - এদিকে এসো!
মা কথা বলবে। সরে আসো।
আমি জানতাম এরকমই হবে।
সে তার ভাইকে খুব ভালোবাসে।
যখন আপনি এসব বললেন...
সে সহ্য করতে পারেনি।
দিলীপ বাকি টাকাগুলো কোথায় রেখেছে?
কী বললেন, স্যার?
আমার মানে...
আমি জানি সে যতোগুলো টাকা নিয়ে এসেছিলো সব খরচ হয়নি।
সুরক্ষার জন্য কিছু টাকা হয়তো এখানে রেখেছে।
আপনাকে সে কিছু বলেছিলো?
স্যার... আপনি এসব বলছেনটা কী?
যদি সেরকম কিছু থাকতো, তাহলে আমরা এরকম ভাবে জীবণ কাটাতাম কেনো?
দিলীপও ঠিক এরকমই ছিলো।
যা কিছু আমি তাকে জিজ্ঞেস করতাম, সে বলতো, "আমার কাছে কোনো টাকাই নেই, স্যার"
"আমার ঋণ আছে" "খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে"।
আমি আমার বাচ্চাদের কসম খেয়ে বলছি।
শুনুন... আমি এসব কিছু চাই না।
- শুধু ভাগ চাই! - আপনি বুঝতে পারছেন না কেনো?
ঠিক আছে।
সব আপনার উপর।
আমি কিছু তথ্য পেয়েছিলাম আর সেটা এসে বললাম।
যদি আপনি এর দাম না দিতে চান, তাহলে সেসব ফাঁস হতে পারে।
যদিও দিলীপ মারে গেছে...
তবুও, আপনি কিন্তু জানেন এগুলো কী করতে পারে।
পরিবারের মানসম্মান পুরোতরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
কেউ মাথা উঁচু করে আর চলতে পারবেন না।
জানেনই তো আমাদের শহরের লোক কীরকম।
যাহোক, সে মৃত।
তাকে একটু লজ্জা দিলে ক্ষতি নেই।
স্যার! দয়া করে বসুন।
আমাকে একটু শ্বাস নেওয়ার সময় দিন, স্যার। জানেনই তো আমার বয়স হচ্ছে।
আমি এসব সামলাতে পারবো না।
আমাকে দেখতে দিন। দয়া করে বসুন।
মা, স্যারের জন্য ঠান্ডা নিয়ে আয়।
না থাম... আমি নিয়ে আসি।
- মা! তুমি এই লোকের আথিতেয়তা কররে চাও... - তুই মুখ বন্ধ কর!
আমি যখন বলবো তখনই মুখ খুলবি...
বুঝেছিস?
আপনি বসুন, স্যার। বসুন, স্যার।
আপনি ঠিকই বলেছেন, স্যার।
একবার পরিবারের সম্মান ছারখার হলে, শেষ।
এরপর সবার আত্মহত্যা করাই শ্রেয়।
তাদের বাবার...
একজন তামিল মহিলার সাথে সম্পর্ক ছিলো।
আমার মনে হয় আপনি সেটা জানেন।
অনিল সবসময় বলতো...
"বাবা আমাদের ছেড়ে চলে যাবে, মা।
"উনি ওই মহিলার জন্য আমাদের ছেড়ে চলে যাবে।।"
আমারও সেটা মনে হতো।
যদি উনি এসব আমি জীবিত অবস্থায় করতেন,
মানুষ ভাবতো যে আমার মধ্যে দোষ ছিলো।
মানুষ আমাকে কী ভাবতো?
আমি কি মানুষকে মুখ দেখানোর অবস্থায় থাকতাম?
যদি উনি আমাদের এভাবে ছেড়ে চলে যেতেন,
আমি ওনাকে মারার জন্যে বিষও কিনে রেখেছিলাম।
ধন্যবাদ ঈশ্বরকে। আমার এরকম করা লাগেনি।
যদি আপনি একবার নিজেকে শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন,
তাহলে আপনার ভিতর একটা অজানা সাহস পাবেন।
সেটা আপনাকে ভাবাবে যে আপনি সবকিছু করতে পারবেন।
আমি তার মা।
আমি তাকে এভাবে শেষ হতে দিতে পারি না।
হয়তো সে অপরাধ করেছে।
কিন্তু আমরা কী শাস্তি দিতে পারি?
ঈশ্বর সেটা করবেন।
এছাড়া...
আমি কাউকে তার ক্ষতি করতে দিবো না।
আমাকে ক্ষমা করবেন, স্যার!
স্যার!
অনিল! কার বের কর।
স্যার!
হেউ... উনি মারা যাচ্ছেন!
কার বের কর, ফুলবাবু!
ওহ, না!
স্যার!
মা, উনি একজন পুলিশ ছিলেন!
অনিল...
কী হয়েছে, মা? হাহ?
কী হয়েছে?
আমার জামাই কোথায়?
"জামাই"! আমাকে আর শুরু করিয়ে দিও না!
আমি তাকে আর সহ্য করতে পারবো না।
সব শেষ!
সে আমাকে লড়তেই দেয় না।
যখনই আমি বের হই, তার ব্যবহার বদলে যায়।
সে প্রত্যেক জায়গায় আমার সাথে ছায়া হয়ে থাকে।
আমাকে তার পকেটে রাখতে চায়!
মনে হয় কারো রাগ আমার উপরে ছাড়ার জন্যে আমাকে বিয়ে করেছে!
মা, আপনি তাকে মানানোর চেষ্টা করুন।
আমি দেখবো যাতে সে আর এভাবে না আসে।
সে আর আমার কথা শুনবে না।
এখন সে আলাদা হয়ে যেতে চায়।
কিন্তু আপনি বলেছিলেন এখানে ডিবোর্স বলতে কিছু হয় না।
এটা তো ছিলো পুরোনো দিনের কথা!
আজকের মেয়েরা আপনাকে এসব শুনলে ঝাড়ু দিয়ে মারবে।
সে বলছে যে আর ওই ঘরে ফিরবে না।
ঠিক আছে।
কিন্তু সে তো আমার সাথে দুবাই আসতে পারে, তাই না?
আমি এই সিদ্ধান্ত গত রাতেই নিয়েছি।
আমি এখানে আর থাকতে চাই না।
আমি ঘুম থেকে উঠে ভাবলাম তাকে বলবো, কিন্তু তাকে খুঁজে পেলাম না।
আপনি বলছেন...দুবাইয়ের গলফে?
হ্যাঁ, কিন্তু এটা একটু তাড়াতাড়ি হওয়া প্রয়োজন।
আমার কিছু জরুরি কাজ আছে।
ওহ।
আমার মনে হয় না যে সে যাবে।
সুজাতা কি আসছে এখানে? আমি তার সাথে কথা বলতে পারি।
জানি না আমি সে কোথায়।
একজন যে কাউকে মেরেছে এবং আরেকজন মারতে এসেছে,
দুজনেই তার জীবন নিয়ে খেলছে! কী অবস্থা!
তার দোষটা কী ছিলো?
যে দেখতে সুন্দর আর বড়লোক তার উপর কখনো বিশ্বাস করবে না।
ভিতরে তারা সবাই খারাপ।
- আরে... একটু বাইরে আসো তো। - হুম?
- আমার সাথে আসো। - আমি এখনই আসছি, মা।
- কী? - কী?
তুমি তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছো নাকি তাকে মারার চেষ্টা করছো?
থামো তো। তাকে একটু একা থাকতে দাও।
আমি কি তোকে কখনো জিজ্ঞেস করেছি ওনাকে কেনো মারলি!
একটা ভালো কাজই করেছিস।
সে তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
কিন্তু আরেক বদমাশ... দিলীপ... তাকে দিলো দুঃখ।
এসব তার সহ্য করাটা কঠিন হবে।
সে এবার থামার নয়।
আমাদের কিছু করতেই হবে।
দিলীপ আর সাফি আমাদেরই বাচ্চা ছিলো, বোন।
যদি তারা ভুল করে থাকে,
তাহলে প্রথমেই আমাদের উচিত নয় কি তাদের ক্ষমা করে দেওয়া?
ওই লোক আমার স্বামীকে মেরেছে। আমার পরিবার ধ্বংস করেছে।
এখন অনিলই আমার সবকিছু।
সে তাকেও মেরে ফেলবে।
দয়া করে আমাদের সাহায্য করুণ!
আমাদের আপনার পরিবার ভেবে আমাদের সাথে চলুন।
একটা জিনিসের জন্য আমি তোমার কাছে কৃতজ্ঞ।
দিলীপ কি ছিলো সেটা তুমি আমাকে দেখিয়েছো।
নাহলে জীবনভর সে আমার হৃদয়েই থাকতো।
বিদায়!
সে আর কখনোই সুজাতাকে দেখবে না।
না সে আর তাকে বিপদে ফেলার চেষ্টা করবে।
ঘরটা একটু সুবিধার নয়।
দয়া করে মানিয়ে নিবেন!
স্যার, আপনি তাকে খুন করতে এসেছিলেন... তাই না?
দিলীপের...
হত্যা করা তো এখন পুরনো ফ্যাশন হয়ে গেছে।
রোমাঞ্চটা সাথে সাথেই শেষ হয়ে যায়।
তারপর আমি কি করতাম?
আমি তাকে একটা খাঁচার মধ্যে রাখতাম।
তাকে মাঝে মাঝে একটা বা দুইটা হাড় ছুঁড়ে দিতাম।
আর মাঝে মধ্যে...
সে আমাকে দেখে তার লেজ নাড়াতো।
তাই না, অনিল?
সে জানতো আপনি এখানে তার জন্যে আসবেন।
কোনো শান্তি ছিলো না ছেলেটার মাঝে।
সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকতো।
এমনকি আমরা জিজ্ঞেস করলেও কিছু বলতো না তার মাথায় কী চলছে।
যখন সে মারা গেলো তখন ভাবলাম...
এখন অন্ততপক্ষে আমার ছেলেটা শান্তিতে থাকবে।
কিন্তু না!
আপনি থাকতে দিলেন না।
যখনই আমার মনে হয় আমার জীবন একদম ঠিক,
আমি তখনই ভয় পাই।
সবসমই আমি এরকম।
কিছু অঘটন ঘটতে চলেছে এরকম মনে হয়।
সেরকমই একদিন...
দিলীপ আমার ঘরে ঢুকে।
আমি অনেক ভয় পেয়েছিলাম।
এক আঘাতেই...
সে তিনজন মানুষকে হত্যা করলো।
তার মতো মানুষের শান্তির...
কী প্রয়োজন?
ও সেটার যোগ্য নয়।
তাকে আপনার মাথা থেকে বের করতে পারছেন না স্যার, তাই না?
সেটা তো আমি হতে দিবো না।
সে মাথা থেকে যাবেও না।
এই পুরো শহর এখনো তাকে ভালোবাসে।
অনেক মানুষ এখনো আমাকে "দিলীপের মা" নামেই জানে।
একজন মা হিসেবে সেটাই অনেক বড় আশীর্বাদ।
তাই না?
এখন আপনি আমার খুশিকে...
ধ্বংস করতে চান।
মৃত ব্যক্তির সম্মান! তাই না?
তার সম্পত্তি... খ্যাতি!
যদি এখানের একজনের মাথাও তার ব্যপারে সেসব থাকে...
আমি সেটা ধ্বংস করার পরই এখান থেকে যাবো।
সে তো চলে গেছে, স্যার। মৃত।
এখন ও ছয় ফুট মাটির নিচে।
ঈশ্বর আপনার হয়ে প্রতিশোধ নিয়ে নিয়েছেন।
এটা কি যথেষ্ট নয়? এসব আপনি বন্ধ করছেন না কেনো এখন?
জানিনা ঈশ্বর কী করেছেন।
কিন্তু আমার প্রতিশোধ এখনো বাকি।
আমার একটা সুযোগ লাগবে না?
ঈশ্বরের থেকেও আমার বেশি প্রাপ্য না?
স্যার, আমাকে ক্ষমা করুন। সে আমার ছেলে।
যতদিন আমি বেঁচে আছি। আমি অবশ্যই তার খেয়াল রাখবো।
তারপর এখানে আমার পরিবার...
আমরা এই শহরে কোনো লজ্জা ছাড়াই বাস করতে চাই।
আপনার পরিবার অনেক মজার, তাই না?
একজন মা আর দুইজন বাচ্চা।
আমার স্বামী সবসময় বলতেন আমি আমার ছেলেদের বেশি প্রশ্রয় দিই।
কিছুটা সত্যও ছিলো।
তারা আমারই মতো হয়েছে।
দিলীপও আর অনিলও!
আমার বাচ্চারা আমার ভালো আর শয়তানি দুই স্বভাবই পেয়েছে।
তারা সবকিছু আমারই জন্যে করেছে। আমি মানছি।
আমার বাচ্চা ডাকাতি আর হত্যা আমারই জন্যে করেছে।
আমাকে সুখী রাখার জন্য।
আমার জীবন আরামদায়ক রাখতে।
আমি জানতাম।
তুই আর যাবি'ই কোথায়?
যদি একবার এটা হয়ে যায়,
তুই কোথায় যাবি?
আমিই এসব শুরু করেছিলাম....
আর আমিই এটার শেষ টানবো।
আরে! রশিদ ভাইকে ডাক।
তারাই এটা করবে। আমাদের উপর আসতে দিস না।
- ছাড়ো আমাকে, মা! - রশিদ ভাই।
বাবা! না! অনিল... এসব করিস না।
অনিল... এদিকে আয়! আমার কথা শোন... ছেড়ে দে!
এদিকে আয়... এরকম করিস না!
অনিল! ওহ না...
কিন্তু আমরা আগে থেকেই জানতাম সীতা এই ব্যক্তিকে থামাতে পারবে না।
প্রতিশোধের চিন্তায় আচ্ছন্ন একজন মানুষকে,
কোনোভাবেই নামিয়ে আনা যাবে না।
শেষ?
চলো।
হেই... আশারাফ কোথায়? খোঁজই পাচ্ছি না।
সকাল থেকেই তার স্ত্রী আমাকে ফোন দিয়ে যাচ্ছে।
স্যার... সে একটা অভিযোগ করতে এসেছে।
আমার মনে হয় দিলীপকে খুন করা হয়েছে।
- স্যার, দয়া করে মামলার তদন্তটা আবার চালু করুন। - কী?
তাকে কে খুন করবে?
দিলীপ লুকের স্ত্রীকে খুন করেছিলো।
দুবাইয়ে।
আমাদের যা করতে হবে তা হলো একটা ফাঁদ পাতানো যা তে সে পাড়া দেয়।
তার ক্ষুধা মেটাতে হবে,
এবং এটাও রাখুন!
আমরা এটা লুকের বাড়িতে খুঁজে পেয়েছি।
শশাঙ্ক, যার মন পরিবর্তন হয়,
এবং পুলিশের কাছে বিস্তারিত স্বীকারোক্তি দেয়।
অফিসার আশরাফকে খুন করার জন্যে,
সীতাকে প্রথম অভিযুক্ত করা হয়, আর অনিলকে দ্বিতীয় অভিযুক্ত করা হয়।
বালানের মামলাটিও নতুন গতি পায়।
অনিল সেই মামলাতেও অভিযুক্ত হয়।
শশাঙ্ক মামলার সাক্ষ্য দেয়।
মজার বিষয় হলো... দুই মামলায় অভিযুক্ত হওয়া অনিলকে...
আর কখনো দেখা যায় নি।
সুজাতার অভিযোগ অনুযায়ী লুককেও খোঁজা হচ্ছিলো না।
সীতা চিন্তায় ছিলো যে অনিলকে বালানে হত্যার দায়ে গ্রেফতার করা হবে।
সুতরাং, সে আশরাফকে বিষ দিয়ে হত্যা করে।
এটাই ছিলো পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি।
এসব আমি একাই করেছি, স্যার।
আমিই করেছি... আমার ছেলের জন্যে।
কেউ জিজ্ঞেস করেনি কোন ছেলের জন্য।
না সে বলেছে।
তোমার যখন এরকম বিপথগামী সন্তান থাকবে, তখন মায়েদের এরকমই কষ্ট পেতে হবে।
সত্যি!
কোন পুলিশ যথেষ্ট স্মার্ট ছিল না যে বুঝবে এটার অন্য কারণও হতে পারে।
কিন্তু তবুও, কিছু ধারণা কখনই বদলায় না!
খাবার।
যদিও দেখে মনে হয়...
সুজাতা লুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে...
কিন্তু তার আসল উদ্দেশ্য ছিলো দিলীপ।
খুলে ফেলে দে, মুরালি।
তার নামের একটা বোর্ডেরও এ শহরে দরকার নেই!
আমাদের কী একটা অবস্থায় ফেললো!
তার মতো মানুষেরা টাকার জন্যে যে কাউকেই সহজে খুন করতে পারে।
এরা সীতার বাচ্চা তো! নেকড়ের পেঠ থেকে নেকড়েই জন্মায়!
কিন্তু অবাক করা ব্যপার হলো পুরো পরিবার এরকম বের হলো।
কিন্তু আরেকজন লোক... হলো আসল খেলোয়াড়!
কে?
- হেই দেখ! এটা সে না? - হ্যাঁ... সে!
আয়, তোরা।
- চল দেখি, কী হয়। - হ্যাঁ।
এখন আমি পলাতক থাকার অবসান ঘটাচ্ছি।
সুজাতা যা কিছু বলেছে...
সব আমি স্বীকার করছি।
এবং অবশেষে... আমি তাকে শেষ করে ফেললাম!
এখন সে আর কোথাও থাকবে না!
আমিই হলাম তার মালিক।
স্যার... কে এই লোক এবং কীজন্যে এখানে এসেছে? বলুন আমাদের!
- স্যার, আমারা একজনকে ভিতরে ঢুকতে দেখলাম! - আমরা এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করছি!
মিডিয়ার লোকেরা এখানে কী করছে?
ওই... সবাইকে বাইরে বের করো! গেইট বন্ধ কর!
এখনই কর!
বের হও... সবাই!
বাইরে যাও! বের হও!
বের হও! আমরা গেইট বন্ধ করছি! মেয়েটাকে উঠাও!
বের হও!
বের হও! সবাই!
মিডিয়া মনে হয়!
আরে... তোমরা সবাই বুঝতে পারছো না কেনো?
আমরা বলছি তো... বের হও! দয়া করে বের হও!
বাইরে যাও!
লোকটা মনে হয় আর এই শহরের মানুষের সাথে প্রতারণা করবে বলে মনে হয় না!
যার জন্য সে এখানে এসেছিলো তা পেয়ে গেছে।
সে এমন একজন মানুষকে হত্যা করেছে যে অনেক আগেই মারা গিয়েছে।
শিকড় থেকে তার যা কিছু ছিল তা ছিনিয়ে নিয়েছে,
তার পরিবার এবং সেই পরিবারের যা কিছু ছিলো সব ধ্বংস করে ফেলেছে।
এমনকি একটা কীটও তার বাড়িতে ওর বাসা তৈরি করবে না।
এখানে এরকম আর কোনো দিলীপও আসবে না।
তাহলে...
লুক এখানে কেনো আসলো?
কে বলতে পারে!
একজন এটাকে এমন দাবি করেছে বলে আমরা একটা দূর্ঘটনাকে কিভাবে হত্যা বলতে পারি?
কারণ খুব কম মামলাই আমরা আমাদের ''বুদ্ধিমত্তা'' দিয়ে সমাধান করি।
কিন্তু আমি এ ব্যপারে নিশ্চিত!
দিলীপের মামলাটা দূর্ঘটনাই ছিলো।
তাহলে এই ব্যক্তি এসে স্বীকারোক্তি কেনো দিলো আর গ্রেফতার হলো?
তার মাথায় কী চলছে কে বলতে পারে...
- স্যার! - হ্যাঁ?
ওই সীতা... সে নিজেকে ঝুলিয়ে দিয়েছে!
হায় ঈশ্বর! কী একটা ঝামেলা!
•.•.•.অনুবাদ ও সম্পাদনায়.•.•.• সুশান্ত চক্রবর্তী সৌমিক
স্বাগতম!
সাবটাইটেলটি দিয়ে দেখার জন্য ধন্যবাদ। সাবটি ভালো লাগলে সাবসিবে রেটিং দিবেন।
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.