Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Indonesian
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
[বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির কুফলগুলোকে সামনে তুলে ধরে চেষ্টায় একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র।]
ব
বা
বাং
বাংল
বাংলা
বাংলা
বাংলা অ
বাংলা অন
বাংলা অনু
বাংলা অনুব
বাংলা অনুবা
বাংলা অনুবাদ
বাংলা অনুবাদে
বাংলা অনুবাদে:
বাংলা অনুবাদে:
বাংলা অনুবাদে:
বাংলা অনুবাদে: অ
বাংলা অনুবাদে: অন
বাংলা অনুবাদে: অনন
বাংলা অনুবাদে: অনন্
বাংলা অনুবাদে: অনন্য
বাংলা অনুবাদে: অনন্য
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দ
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দে
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেব
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবন
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনা
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (S
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh.
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh.A
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh.AD
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh.ADN
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh.ADN)
'আমি কি আপনাকে শুধু চা এনে দিই? মাঝে মাঝে ২-১ টা কাস্টমারও এনে দিই।'
'আমাকে একটা চান্স দিন, ভাই'
আচ্ছা, দেখি।
'এভাবে কেন বলছেন? পরিষ্কার একটা উত্তর দিন, ভাই।'
কি আজব! লেখা ছাড়া খালি মেসেজ পাঠায়।
'কে করে এসব?'
'আমাকে মনে হয় মেয়ে মনে করেছে, ফাঁকা মেসেজ পাঠাচ্ছে শুধু।'
- হ্যালো, নাগরাজ। - গুড মর্নিং, শেখর।
'- এই ছেলেটা কে? - ও, গুরুমূর্তি, আপনাকে বলেছিলাম ওর কথা।'
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার?
আমি জাভা, আইক্যাট ভালোই পারি।
শোনো, তোমার ভাষা দক্ষতার চেয়েও তোমার ডিগ্রি আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বসো।
শোনো, আমার একটা কাজ করে দিতে হবে।
আমার সব কালো টাকাকে আমি সাদা টাকা বানাতে চাচ্ছি।
তোমাকে যেটা করতে হবে...
...একটা নতুন অ্যাকাউন্ট খুলবে।
'এই শুক্রবার সন্ধ্যায়...'
'...তুমি নির্ধারিত স্থানে তোমার সফটওয়্যার বিক্রি করবে।'
...তোমার অ্যাকাউন্টে তখন ৫০ লাখ টাকা ডিপোজিট করে দেওয়া হবে।
কেননা, সফটওয়্যার কেনাবেচার ক্ষেত্রে, কেউ তেমন একটা মাথা ঘামায় না।
যেই পরিমাণ টাকাই তুলি না কেন।
'২ সপ্তাহ পরে তুমি ৪৫ লাখ টাকা'
আমার ঠিক করা একটা অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দিবে।
বাকি ৫ লাখ টাকা তুমি নিয়ে নিও।
ওটা আর ফেরত দেওয়া লাগবে না।
'কিন্তু বলে রাখছি, কোনোরকম হুঁশিয়ারি করা চলবে না।'
বুঝতে পেরেছো?
নিজের কাজের বাইরে কিছুতে নাক গলাতে যেও না!
বউ-বাচ্চার ভালো করে খেয়াল রেখো।
ওকে নিয়ে যাও।
'আচ্ছা, শেখর, এবার যাওয়া যাক।'
♪ "O' mind, chant the name of Lord Rama" ♪
'আমার সোনামণি কে কামড়াতে হাঁস আসছে'
'কামড়ে দিলো'
'ডিপোজিট করার ৫ মিনিটের মধ্যেই পুরো ৫০ লক্ষ টাকা তুলে ফেলেছে এই হারামি'
টাকা কোথায়, বল?
সত্যি, আমি জানি না।
তুই জানিস না?
আজ রাত ৯টা পর্যন্ত সময় দিচ্ছি তোকে।
যদি আমার টাকা ফেরত না পাই...
...তোর বউ-বাচ্চার কথা ভুলে যা।
রাত ৯টা।
'শোন, গুরু'
'তোর টাকা চুরি হয়েছে নাকি ডাকাতি হয়েছে'
'...আমি জানিনা এতকিছু'
'যদি তুই টাকাটা ফেরত দিতে না পারিস, তবে তোর বউ-বাচ্চাকে আর বাঁচাতে পারবি না।'
কি ব্যাপার? এমন ঘামাচ্ছো কেন?
লিফট কাজ করছিলো না।
'এক্ষুণি খাবে?'
'তোমার পছন্দের টমেটো চাটনি বানিয়েছি।'
'আজ রাত ৯টা পর্যন্ত সময় দিচ্ছি তোকে।'
'বউ-বাচ্চার ভালো করে খেয়াল রেখো।'
Irumbu Thirai 'লোহার জাল'
শুধু একটা অ্যাপ ব্যবহার করেই...'
'...আমাদের অজান্তেই'
'...আমাদেরই মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে কতকিছু রেকর্ড করা যেতে পারে!'
'আরে এটা চান্দ্রু-র গার্লফ্রেন্ড না?'
হ্যাঁ, বন্ধু। ও তো খুলছে।
আজকের আধুনিক দুনিয়ায়...
...'গোপনীয়তা' নামক শব্দের কোনো স্থানই নেই।
আমাদের দৈনিক সকল কর্মকাণ্ড রেকর্ড হয়ে যাচ্ছে।
'গতকাল আমার ফেসবুকে গোয়া তে যাওয়ার অনেকগুলো লিংক দেখিয়েছে'
আমরা হোয়াটসঅ্যাপে কি নিয়ে কথা বলেছি সেটা ফেসবুক কীভাবে জানলো?
ম্যাডাম, আমি আপনার এলাকায় আসছি।
ঠিক কোথায় আসতে হবে?
'আমি তোমাকে হোয়াটসঅ্যাপে লাইভ লোকেশন শেয়ার করে দিচ্ছি।'
'আমাদের বর্তমান অবস্থান খুব সহজেই স্মার্টফোনের জিপিএস দ্বারা খুঁজে বের করা সম্ভব।'
'তোমার মোবাইলে কয়টা নাম্বার সেইভ করা আছে জানো?'
'আনুমানিক ৩০০ টা।'
'আর তোমারই অজান্তে তোমার নাম্বার ৩০ লাখ জায়গায় রেজিস্টার কাছে আছে।'
'কি বলছেন?'
''অ্যান্ড্রয়েড ব্যাংকার' নামক ভাইরাস আক্রমণের ফলে...'
'...২৩২ টি ব্যাংকের সফটওয়্যার ক্র্যাশ করেছে।'
'একটা এটিএম কার্ডে ১৬ টা ডিজিট থাকে।
'তুমি নাম্বার দিলেই তবেই সেটা রিনিউ হতে পারে।'
'বর্তমানে, মাত্র ৫০০ টাকার বদলে'
...১০ হাজারটা আধার কার্ডের তথ্য পাওয়া যায়।
'জানিনা কোন দেশ থেকে এসেছে।!'
- আমি, কাথিরাভান, এর অর্থ সূর্য
- মারিয়া ইগানটিয়াস। - আমি, জ্ঞানবেল।
'আমারই নাকের ডগা দিয়ে খেলছে!'
আমি তামিলেও কথা বলতে পারি।
তাহলে তো আরও দারুণ হয়!
কিন্তু আমার জন্য সেটা খুব খারাপ হয়।
আমি উঠি তাহলে? তোমাদের জন্য আরও সুবিধা করে দিই।
দোস্ত, শোন, আজ রাতে ইচ্ছামত যা পারি খেয়ে নিতে হবে।
কেননা কাল থেকে, ১ বছরের জন্য আমদের কপালে শুধু মিলিটারি ক্যান্টিন লিখা আছে।
আরে এখানে মন খারাপ করার কি আছে?
প্রত্যেক বৃহস্পতিবারে একটু করে সুযোগ পাবো, তাই না?
এই বার টা দেখছিস? দারুণ সব 'ফিগার'?
হেই! মেয়েদের ওভাবে দেখতে নেই!
ওরা এখানে ট্যুরিস্ট হিসেবে এসেছে। একটু হলেও সম্মান দিস ওদের।
ওই ছেলেটাকে দেখ ওখানে, আমাদের দেশের মান ইজ্জত কীভাবে ডুবাচ্ছে!
ওই যে ফুলের ডিজাইন করা শার্টের ছেলেটা?
হ্যাঁ, ওই।
যে কোনো একটা চার্চে গিয়ে বিয়ে করে ফেলবো।
বিয়ে করে ফেলি?
তা না করে, তোমার সংস্কৃতি অনুযায়ী...
...মুনিশ্বরন মন্দিরে গিয়ে
...বিয়ে করে তারপর যদি ম্যায়লাপুরে থাকি, দারুণ হবে সেটা।
- ম্যায়লাপুরে? - হ্যাঁ।
দারুণ হবে...?
আমার মাথা হবে!
'কেমন বোকা আমি!'
এখানে স্যাটেল হতে গেলে, তোমাকে বিয়ে করার কি দরকার আমার?
হেই, আমার বিলটাও ওকে দাও। তুমি ম্যায়লাপুরেই থাকো!
- আমি জ্ঞানবেল। - তাতে আমার কি!
ভাই, বসেন। আপনার সাথে ২ মিনিট কথা আছে।
আমার নাকের ডগা দিয়ে সুযোগ করে নিয়ে
...এতো দারুণ একটা মেয়েকে ফেলে এভাবে চলে যাচ্ছেন কেন?
মি. জ্ঞানবেল, ও ফর্সা বা সুন্দর, এই কারণে ওকে লাইন মারিনি।
ও হচ্ছে বিদেশিনী।
ও, আচ্ছা, আপনার বিদেশ যাওয়ার শখ আছে?
শখ নয়, আমার লক্ষ্য।
ও, বিদেশে থাকা এত পছন্দ আপনার?
আমি এখানে থাকতেই চাই না।
শুধু জনসংখ্যাই 'মেইড ইন ইন্ডিয়া' হয়ে থাকে। বাকি সবই 'মেইড ইন বিদেশ'।
বিদেশ থেকে লোক এসে এখানে থাকতে চায়।
কিন্তু আমি সারাজীবন বিদেশ থাকতে চাই।
এটাই আসল লক্ষ্য
ওটা আমি- আচ্ছা, ব্যাপার না।
- আপনার বিয়ে হয়ে গেছে? - না, ভাই।
তাহলে ও আপনার জন্য ঠিকাছে।
আমি চালিয়ে যাই।
মারিয়া, আমি জ্ঞানবেল। আমার বাড়ি ম্যায়লাপুরে!
আমার নাম শুনে সব মেয়ে এমন পালিয়ে যায় কেন?
ও আবার শুরু করেছে, দেখ!
তারা মনে হয় বন্ধু।
- আমি উঠছি। - পাগলামি করিস না।
খা...খা
এবার দেখ ওকে।
বস বলছি!
আচ্ছা, আর একটা মেয়েকে শুধু ডিস্টার্ব করুক।
আমি নিজে ওকে দেখে নেবো, ঠিকাছে?
- শিউর...? - শিউর, আমি দেখে নেবো।
তুই কি জানিস, তুই মিলিটারির লোকদের সাথে কথা বলছিস?
ও, ভেলু মিলিটারি হোটেলের লোক?
তোর সাহস কত!
উঠে দাঁড়া।
হেই! কি সমস্যা আপনার?
যেখানে যায়, শুরু করে দেয়!
মার ওকে।
ও এখনো মেয়েটার পিছনে দৌড়ানোর চিন্তা করছে।
- তোর সমস্যা কি? - ওর ঠিক মুখ বরাবর মার।
আর যদি বিদেশীদের লাইন মারার চেষ্টা করিস-
অতিথি দেবঃ ভবঃ।
'কি খাওয়া খেয়েছে? এক কোণায় পড়ে আছে'
কাথির...?
ভাগিনা।
কি এসব, ভাগিনা?
কি মারটাই না মেরেছে?
চিৎকার করবি না।
যদি এই বারের মালিক, দুবাই শেখর, জানতে পারে যে এখানে কি হচ্ছে...
...মেরে বালিচাপা দিয়ে দেবে!
সবসময় এমন 'বিদেশ' নিয়ে মজে থাকিস কেন!
মামা...?
আমি পাসপোর্ট ছাড়া বিদেশ কীভাবে যাবো, বলো?
তাই বিদেশী মেয়ের সাথে প্রেম করা ছাড়া, আর কোনো উপায় নেই।
আমি জানি, এখানকার মেয়েদের সাথে প্রেম করা কষ্টকর হলেও
তাদের বিয়ে করা অনেক সোজা।
আবার বিদেশী মেয়েদের সাথে, প্রেম করা অনেক সোজা।
কিন্তু বিয়ে করা অনেক কষ্ট।
আমি তোমাকে আর বাবাকে জবাব দেওয়ার জন্য...
...দেখবে একদিন, 'অ্যামি জ্যাকশন' কে বিয়ে করে-
তার জন্য তোকে, 'মাইকেল জ্যাকশন'-এর মতো হতে হবে।
তোর যেই বদমেজাজ। ওরা তো তোর নাক ফাটাবেই।
তোর বাবা ফোন করেছে, কথা বল।
- বলো। - শোন।
তোর বোন, 'সেলভি'-র অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। পায়ে আঘাত পেয়েছে।
এক্ষুণি ৫০০০ টাকা লাগবে।
তাই বুঝি?
সেলভি কে মোবাইলটা দাও তো।
ও...ও তো ওষুধ নিচ্ছে।
ও তাই?
ডাক্তার কে ফোন দাও তাহলে।
উনি ওষুধ দিচ্ছে এখন।
নার্স, কম্পাউন্ডার, দারোয়ান যে কেউ একজনকে মোবাইলটা দাও।
তুই আমাকে বিশ্বাস করিস না?
এই দুনিয়াতে একমাত্র তোমাকেই আমি বিশ্বাস করি না।
ফোন রাখো।
ও বিশ্বাস করেছে তোমার কথা?
তোর ভাই তোকে একটুও ভালোবাসে না।
'আমি চাইছিলাম যাতে ও কিছু টাকা পাঠায় আমাদের'
তোর বাবার সাথে আরেকটু ভালো করে কথা বললে কি হয়?
সারা দুনিয়ার মানুষের কাছ থেকে টাকা নিলে, আমি কেন, কেউই সম্মান করবে না উনাকে।
আমি এই মাসের টাকা উনাকে অনেক আগেই পাঠিয়ে দিয়েছি।
শুধু টাকা দিলেই কি যথেষ্ট হয়?
শেষ কবে উনাকে দেখতে গিয়েছিলি তুই?
আরে ওটা তোর বাড়ি। তোর ছোট বোন আছে ওখানে।
বাড়ি!
তোমার দিদি, মানে আমার, মা।
উনি মারা যাবার পর, ওই বাড়িতে আমার জন্য আর কিছু নেই।
আছে শুধু বাড়ির ঠিকানাটা।
যদি আমাকে এতটাই চান উনি, তখন আমাকে ভালোবাসলেই পারতেন।
আমাকে মিলিটারি স্কুলে ভর্তি করানোর কোনো প্রয়োজন ছিলো না।
আমাকে নিয়ে একটুও ভাবেন না তিনি।
আরে, উনি তোকে ভালোবাসে।
মামা, উনার গুন গাওয়া বন্ধ করে
- আমাকে আরেকটা গ্লাস দাও। - পারবো না।
আমার ঘুম আসছে।
ওরা যখন তোকে মারছিলো, তুই বলিসনি কেন, তোর বাড়িও মাধুরাই তে?
আমাকে সেই সুযোগটা তো দিতে হবে।
যেভাবে আমার উপরে ঝাপিয়ে পড়লো।
এইজন্য বলি, কম করে খা।
কাল শুধু হ্যাংওভার টা না হোক...
...সব ভুলে যাবি তখন।
ওদের চেহারা তখন ঝাপসা মনে হবে।
রাতের বেলায় চশমা পড়ছে! ও মনে হয় পরিচালক, 'মাইস্কিন' এর ভক্ত?
"He is a detective"
তোমাদের আরও দক্ষ করে তোলার উদ্দেশ্যে...
...এখানে একত্রিত করা হয়েছে।
১ বছরের মধ্যেই।
তোমাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য...
মেজর কাথিরাভান!
♪ "He's out to grab you by your collar" ♪
♪ "He is coming to threaten you, holler" ♪
এই এক বছর তোমরা উনার তত্ত্বাবধানে থাকবে।
জয় হিন্দ!
♪ "He's out to get you ♪ ♪ Aiyaiyaiyo!" ♪
২য় সারির
৩য় জন
বের হয়ে এসো।
৩য় সারির ১ম জন, এদিকে এসো।
'যাক বাবা! আমাকে কেউ চিনেনি'
৩য় সারির ৪র্থ জন, আপনি ওকে ভুলে যাচ্ছেন।
' - বিশ্বাসঘাতক! - বের হয়ে এসো, সোনা'
তখন মানা করেছিলাম না?
বারবার বলেছিলাম, আমাকে না মারার জন্য।
আচ্ছা,
আমার পায়ে কে মেরেছিলো?
- ওর পায়ে মার - অনেক বড় পা ওর।
এদিকে এসো।
পা উঠাও।
এভাবে ১০০ রাউন্ড শেষ করো।
চলতে থাক।
আমার কাঁধে কে মেরেছিলো?
এই কালোমানিকের সাদা সঙ্গী দরকার?!
বসে পড়ো।
১০০ রাউন্ড।
তখন ভালো করে দেখতে পাই নি।
কে একজন যেন আমাকে ডিগবাজি খাইয়েছিলো।
'ভাই, ওকে ঘুরিয়ে দে'
ওই যে।
এসো।
একইরকম ডিগবাজি
১০০ রাউন্ড।
যা রে!
আমি আপনাকে একদমই ছুই নি, স্যার।
তুমি তো দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলে, তাই না?
হ্যাঁ, ওকে ভালো করে মার।
আজ তো তোকে দেখে নেবো?
তোমার কাজ হচ্ছে
এই ক্যাম্পে মোট ২০০০ লোক আছে
সবাইকে আলাদা করে গিয়ে
সকালে 'গুডনাইট'
দুপুরে 'গুড ইভিনিং'
আর রাতে 'গুড মর্নিং' বলতে হবে।
সব তো উল্টা বললেন, স্যার।
তুমি পাল্টে নিও।
শুধু এক দিন নয়।
৩৬৫ দিন!
যা রে।
♪ "Hey! Ready ♪ ♪ Rapid action, buddy" ♪
♪ "Like thunder, his grip so steady" ♪
♪ "Salute daily" ♪
♪ "To badger, browbeat, bully ♪ ♪ He's out to get you only" ♪
♪ "Hey! Retaliate immediately" ♪
♪ "Act, close his chapter duly" ♪
♪ "Or else die inevitably" ♪
♪ "He's out to get you, buddy ♪ ♪ Aiyaiyo! He's here, already" ♪
♪ "A bullet he'll hand you ♪ ♪ to brush your teeth, dude" ♪
♪ "If hungry, landmine he'll serve anew" ♪
♪ "Not iffy, in a jiffy ♪ ♪ he'll make you tizzy" ♪
♪ "In a split second ruthlessly ♪ ♪ he'll detonate a bomb recklessly" ♪
♪ "He'll size you up in his mind clearly" ♪
♪ "He'll change half your habits cleverly" ♪
♪ "He will resemble Yama, lord of death ♪ ♪ He'll give you a new birth on this earth" ♪
♪ "Hey! Ready ♪ ♪ Power play, buddy" ♪
♪ "Like thunder, his grip so steady" ♪
♪ Salute daily" ♪
♪ "To talk, stalk, threaten you truly ♪ ♪ He's out to get you only" ♪
♪ "If you're a brave soldier ♪ ♪ he'll give you an armor" ♪
♪ "If you get cold feet ♪ ♪ he'll torture you complete" ♪
♪ "Shoot a border around your heart neat" ♪
♪ "Wild and wired, he'll swirl you ♪ ♪ Watch you spin dizzy, dude" ♪
♪ "When you get tired ♪ ♪ and about to slide" ♪
♪ "He'll switch on the timer, woe betide!" ♪
♪ "When numb with pain and calloused" ♪
♪ "Till then we'll be abused ♪ ♪ He'll be ever so amused" ♪
♪ "With utmost concern, dude ♪ ♪ into a tanker he'll lift you" ♪
♪ "On your mark and that's it" ♪
♪ "He'll make death pay you a sudden visit" ♪
♪ "Hey! Ready ♪ ♪ Rapid fire, buddy" ♪
♪ "Like thunder, his grip so steady" ♪
♪ "Salute daily" ♪
♪ "To badger, browbeat, bully ♪ ♪ He's out to get you only" ♪
♪ "Hey! Retaliate immediately" ♪
♪ "Act, close his chapter duly" ♪
♪ "Or else die inevitably" ♪
হেই, মামা। এই বাচ্চাটা কার?
- নার্সারি খুলে বসলে নাকি? - আরে না।
প্রতিবেশির মেয়ে।
আমাকে বললো একটু দেখে রাখতে।
আর পুরো দুনিয়ার মানুষ বলে, তুমি নাকি কোনো কাজ করো না?
আর বলিস না!
ওর বাবা গত সপ্তাহে আত্মহত্যা করেছে।
কি বলছো?
চেন্নাইয়ে সব ঘরে খুঁজলে টিভি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন সবই পাওয়া যাবে।
কিন্তু ঘরে কারও একটা পয়সা নগদ পাওয়া যায় না।
এখন সব কিছু ক্রেডিট কার্ডে হয়ে যায়।
ওর বাবার সাথেও এমনটা হয়েছে।
টাকা পরিশোধ করতে না পেরে ছাদ থেকে লাফ দিয়ে দেয়।
ওর মা এখন লোন পরিশোধ করতে হচ্ছে।
ওকে একটু ধর। আমি চুলাটা নিভিয়ে আসি।
এক্ষুণি আসছি।
- মা...? - তোমার মা এক্ষুণি চলে আসবে।
যদি বিয়ে করতাম, আজ এসব কাজ বউ সামলাতো!
কেঁদো না, সোনা। তোমার মা এক্ষুণি চলে আসবে।
গুরু-এর অ্যাপার্টমেন্ট কোনটা?
সামনের বাসা টা।
তালা মারা কেন? ঘরে কেউ নেই?
এক্ষুণি এসে যাবে।
স্যার, ওই যে আত্মহত্যার কেইস, গুরু।
'লাফ দিয়ে তো পার হয়ে গেছে। আমাদের মারছে এখন।'
হ্যাঁ, আমি অফিস এসে কথা বলছি।
স্যার, পরে কথা হবে।
- আপনিই মিসেস গুরুমূর্তী? - হ্যাঁ, স্যার।
কয়বার ফোন করেছি আপনাকে?
- ফোন ধরতে পারেন না আপনি? - না, স্যার।
আপনার স্বামী লাফ দেওয়ার সময় কি ফোন নিয়ে লাফ দিয়েছিলো?
টাকা নেওয়ার সময় তো ভালোই আনন্দে ছিলেন?
- এমন নয়, স্যার। - কি বোঝাতে চাচ্ছেন?
'আগে আমাদের টাকা পরিশোধ করুন।'
ঘর ঋণে কেনা।
গাড়িও ঋণে কেনা।
আপনাদের নিজের সম্পত্তি বলে কিছু আছে?
না, স্যার।
তাহলে ঋণ নিতে আসেনি বা কেন?
- স্যার, সবাই দেখছে। - দেখতে দিন
২ টা মাস যদি সময় দিতেন-
আপনার স্বামী একবার সময় চেয়ে মারা গেছে।
এখন আপনিও সময় চাচ্ছেন।
'আপনিও মরে বসে থাকলে, আমি টাকা কীভাবে ফেরত পাবো?'
দরজা খুলুন।
এখনো মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে আছে?
'এভাবে কান্না করলে ঋণের কথা ভুলে যাবো ভেবেছেন?'
'দরজা খুলুন, বলছি।'
'ভালোয় ভালোয় দরজা খুলুন, নয়তো অন্যকিছু করতে বাধ্য হবো।'
আমাকে মারছেন কেন?
কে আপনি?
আমি শুধু নিজের কাজ করছি।
এটাকে কাজ বলিস তুই?
৫-৬ টা ব্যাংক থেকে ৯০০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে...
...বিজয় মাল্লিয়া যে সারা দুনিয়া ঘুরে বেড়াচ্ছে।
উনাকে তো কেউ এমন পরিশোধের জন্য ডাকে না।
আর যেসব লোকদের জীবন কৃষির উপর নির্ভর, যারা ভাড়া বাসায় থাকে
অটোর ড্রাইভার সহ
ছাত্রদের পড়ালেখার টাকাতেও তোরা সুদ খেতে বসে থাকিস।
উঠ
ধমক দিয়ে টাকা পরিশোধ করিয়ে নিবি?
টাকা পরিশোধ করতে বলা দোষের কিছু না।
কিন্তু এভাবে বারবার ফোন করে বিরক্ত করে
বড় অন্যায় করেছিস।
হেই, শোন, আমি মিলিটারির লোক।
যদি আরেকবার এই এলাকায় দেখি তো...
...সোজা মুখের ভিতর বন্দুক ঢুকিয়ে সব ঝাঁঝরা করে দেবো।
আমার বাইক?
বাইক চাস তুই, তাই না?
আমার বাইক!
- দূর হ! - বাঁচাও আমায়।
তোমার নামে ফ্যাক্স এসেছে।
কি হচ্ছে এসব?
নিজের উপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই?
তুমি যে একজন মিলিটারি প্রশিক্ষক, এ কথা কি একদমই ভুলে গেলে?
তাও ভালো যে ওই লোকটাকে মারার সময় কেউ তোমাকে ভিডিও করেনি।
এভাবে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলো কেন?
একটা সাধারণ সাব-ইন্সপেক্টর আজ আমাকে এতগুলো প্রশ্ন করার সাহস পাচ্ছে।
তোমার ছবির সাথে একটা কমপ্ল্যান পাঠিয়েছে।
এই নিয়ে ৬ষ্ঠ বারের মতো মাফ চাইছো তুমি!
তোমাকে ৬ সপ্তাহ সময় দিচ্ছি।
এই সময়ের মধ্যে, কোনো সরকার অনুমোদিত সাইকোলজিস্ট কে দেখাও।
রাগ নিয়ন্ত্রণের একটা সেশন শেষ করে এসে আমাকে সার্টিফিকেট দেখাবে।
তবেই আমি তোমাকে এই অ্যাকাডেমিতে আসার অনুমতি দেবো।
'আমার জন্য কবে একটা মেয়ে খুঁজে বের করবি? তোর কি কাউকে মামী ডাকতে ইচ্ছা করে না?'
'আমি যখনই এই কথা বলি, তুই ব্রেক চেপে ধরিস'
ওর নাম কাথির। ও ডাক্তার দেখাতে এসেছে।
একটু অপেক্ষা করুন।
ডাক্তার রথীদেবী আপনাদের ডাকবেন, ওখানে বসুন।
রথীদেবী...?
নাম তো খুব ঐতিহাসিক। মনে হয় বয়স্ক কেউ হবেন!
আরে বসো তো, মামা।
'কিসের আওয়াজ হচ্ছে মনে হয়?'
'ওত্তেরি!'
আপনার কি কোনো সমস্যা হচ্ছে?
বলুন, স্যার।
কিছু হয়নি।
আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারি।
আমি অল্পতে রেগে যাই।
কত দারুণ করে শ্বাস নিচ্ছেন আপনি।
আর বলছেন আপনার নাকি রাগ উঠে যায়!
দেখে তো শ্বাসকষ্টের রোগী মনে হচ্ছে।
আর আমাকে বলে কি না, অল্পতে রাগ উঠে যায়?
আমাকে বিশ্বাস করিস না তুই, আমাকে?
কেন রাগ করবো না আমি?
কেন শরীরকে কষ্ট দিচ্ছেন? শান্ত থাকুন।
তুই কি নিজেকে অনেক সুস্থ মনে করিস?
আমাকে অসুস্থ বলতে চাস!
তুই অনেকদিন বাঁচবি, আর আমি তাড়াতাড়ি মরে যাবো?
এটাই বলতে চাস তুই?
আপনি তো অগ্নি অবতার নিয়ে ফেলেছেন দেখছি। কেন খামোখা কষ্ট করছেন?
- আমাকে দয়া দেখাবার তুই কে? - হ্যাঁ।
আমাকে কি অসহায় মনে করিস?
আমার গালাগালির ভান্ডার খুলতে চাস তুই?
লাগবে না, স্যার।
[অশ্রাব্য গালাগালি]
'এ তো গালাগালির পুরো দোকান নিয়ে বসে আছে!'
এখানে আমি ১ ঘন্টাও তো টিকতে পারছি না।
তুই ৬ সপ্তাহ কীভাবে কাটাবি?
কোন পাগল এখানে ৬ সপ্তাহ থাকবে?
তুমি গিয়ে ৬ সপ্তাহের জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র নিয়ে এসো।
আমরা সব কাগজে সাইন করিয়ে নিয়ে বিদায় নেবো
- কি বলতে চাচ্ছিস? - ৬ সপ্তাহের ছুটি!
দারুণ বুদ্ধি, ভাগিনা।
- এটা কে? - রথীদেবী।
আমাদের ঐতিহাসিক ডাক্তার!
ডাক্তার, ওর নাম কাথির।
ওর রাগের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
ওকে একটু দেখুন।
উনি কি কথা বুঝতে পারেন নি?
ডাক্তার, ওর নাম কাথির।
ওর সহজে রাগ উঠে যায়। ওকে একটু দেখুন।
ডাক্তার, ওর রাগ উঠে যায়।
- দেখুন ওকে। - দূরে যান, আমি ব্যস্ত আছি।
আরে এটা তো কাজের লোক।
আর আমি তাকে এমবিবিএস পাস করা ডাক্তার ভাবছিলাম!
ম্যাডাম, ২টা পাগল আমাকে বিরক্ত করছে, এসে দেখুন।
নাম শুনে তো আমি ভেবেছিলাম, ডাক্তার বোধহয় পুরানো দিনের 'টেলিগ্রাম' হবেন।
কিন্তু এ তো দেখছি, আধুনিক যুগের 'ইন্সটাগ্রাম'!
সাধারণের অভিমত আরকি, ভাগিনা!
'এই যে সে'
আপনাদের মধ্যে কাথিরাভান কে?
আমার পাশে যে বসে আছে, ও।
৬ ফুট লম্বা।
ওই কাথির।
তোমার রিপোর্ট দেখেছো?
ও নিজের রিপোর্ট ভালোই দেখেছে।
তোমার কি সহজে রাগ উঠে যায়?
খুব সহজেই!
স্যার, একটু।
হ্যাঁ, বলো, রথী।
আমার মনে হয় আপনার নার্ভাস প্রবলেম আছে।
কীভাবে বুঝলে?
আপনার মুখ কীভাবে বন্ধ রাখতে হয়, এখনো জানেন না আপনি!
আমি কি আপনার জন্যও একটা ভালো ডাক্তার ডাকবো?
আমি শুনেছি।
তুই থাক তাহলে?
'রথী, কি ষড়যন্ত্রই না রচিলে!'
হ্যাঁ, কাথির।
তুমি রাগের উপর নিয়ন্ত্রণ কীভাবে হারাও?
কোনো অন্যায় দেখে রাগ করা হচ্ছে, সাধারণ মানুষের আচরণ।
কিন্তু তা দেখেও যারা মৃত আর আবেগহীনের মতো দাঁড়িয়ে থাকে
তাদেরকে কোমা রোগী বলা যায়!
আপনি আমাকে কোমার রোগী বানাতে চাচ্ছেন।
আমি মানুষই ভালো আছি!
অন্যায় দেখে রাগ করাটা দোষের কিছু নয়।
কিন্তু মারামারি করাটা দোষের।
আপনাকে ঠিক ভুল দেখিয়ে দিতে হবে না।
আমি তা বলছি না।
তোমার সিনিয়র অফিসার বলাতে আমি তোমাকে দেখছি
সিনিয়র অফিসার এমন অনেক কথাই বলবে।
কারণ সেটা উনার ফর্মালিটি।
আমিও কোথাও না গিয়ে এখানে বসে থাকতে হবে, কারণ সেটা আমার ফর্মালিটি।
এই যে ৬ সপ্তাহের ফর্ম।
এটাও একটা ফর্মালিটি!
যদি আপনি সেগুলো সাইন করেন...
...আমি সব ফর্মালিটি শেষ করে আপনাকে বিদায় জানাবো!
সবকিছুরই একটা ফর্মালিটি আছে, কাথির।
আমি তোমার মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ না করে সাইন করতে পারি না।
আমি কি পাগল?
আমাকে কি মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হয়?
আমি তেমন কিছু বোঝাতে চাচ্ছি না।
তুমি নিজেই তা বোঝাচ্ছো।
এই অল্পবয়সে, কি এমন অভিজ্ঞতা হয়েছে তোমার?
জীবনে কতটুকু দেখেছো?
২-৩ টা বই পড়ে ভাবছো সব বুঝে গেছো?
আমি জীবনে কতটা কষ্ট সহ্য করেছি জানো?
আমি কেমন সব অভিজ্ঞতা লাভ করেছি জানো?
আমাকে তুমি বুঝবে না।
এসব কথা বাদ দিয়ে এখন কাগজগুলোতে সাইন করো।
তুমি ভালো একজন প্রশিক্ষক।
ফলে তুমি সৈনিকদের মধ্যে ভালো মনোভাবের সৃষ্টি করতে পারবে।
তুমি একজন ভালো মানুষ।
এইজন্য চারপাশের অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করো।
তোমার এখনও মেজাজ খুব চড়ে আছে।
কিন্তু আমি কি ধৈর্য হারিয়েছি?
তোমার কথা শুনে চলাটা
...আমার কাজ নয়।
৬ সপ্তাহ।
এখানে খুশিমনে একজন কলেজ ছাত্রের মতো চলে এসো।
'তারপরেই আমি সাইন করবো'
যেদিন তুমি আমার সাথে মেজাজ গরম না করে পুরো ১ ঘণ্টা কথা বলতে পারবে...
'...সেদিনই আমি তোমার ফর্মে সাইন করবো।'
ততক্ষণ পর্যন্ত তোমার হাজিরা দিয়ে যেতে হবে।
এটা তোমার জন্য।
যখনই তোমার মেজাজ খারাপ হবে, এই বলটা চাপতে থাকবে আর
... ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গুনতে থাকবে। তোমার রাগ কমে যাবে।
নমস্কার, স্যার।
'টাকা রেডি করেছো?'
স্যার, যত টাকার কথা বলছেন, এতটা দেওয়া সম্ভব না।
এর চেয়ে কম করা সম্ভব না।
'একটু দেখুন না, স্যার।'
মাত্র ৪টা পৃষ্টার জন্য এত টাকা, অনেক বেশি, স্যার।
এই কেইসটা ৫ জন সাব-ইন্সপেক্টর মিলে দেখভাল করছে।
এজন্য আপনার কোনোপ্রকার সমস্যা হবে না, স্যার।
কি হলো, স্যার?
অন্যায় করতে ভয় পাচ্ছেন?
আরে আমি ভাবছি এটাকে ঠিকভাবে কীভাবে করা যায়।
তারমানে আপনি এতে রাজী?
'তোমার ভাইকে বলো, শুক্রবার দুপুর ১২টার আগে আমার অ্যাকাউন্টে টাকাটা পাঠিয়ে দিতে।'
'আচ্ছা, স্যার।'
'নয়তো-'
'আমি দেখছি, স্যার'
আজ একদম ১ম সেশন।
তোমার পছন্দের বিষয় নিয়ে কিছু বলো।
কাথির, তোমাকে বলছি।
এমন চুপচাপ করে আছো কেন?
তুমি বলেছিলে না, আমি যদি ১ ঘণ্টা রাগ না করে থাকতে পারি...
...তবেই তুমি ফর্মে সাইন করবে।
তুমিই কথা বলতে থাকো।
সেটাই বেশি নিরাপদ হবে।
আচ্ছা, আমি বলতে থাকি, তুমি শুনতে থাকো।
শোনো, কাথির।
আমরা আমাদের চারপাশের ঘটনা দেখে, খুব দ্রুতই নিজেদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে ফেলি।
একই ঘটনা যদি তোমার এমন বয়সে ঘটতো, যখন তুমি প্রতিক্রিয়া জানাতে পারতে না?
'একটা অদম্য ভয় আমাদের সবার ভেতরেই কাজ করে।'
'একে 'ক্ষমার বিপরীতে ফাঁদ' বলা হয়।'
'ক্ষমা করতে না পেরে, ভয় আমাদের অন্তঃস্থলে জায়গা করে নেয়...'
'...এবং তা ফাঁদে পরিণীত হয়।'
ওই ফাঁদ থেকে পরিত্রাণলাভের একমাত্র উপায় হচ্ছে...
...রাগ ভুলে যাওয়া।
'আর ক্ষমা করতে শেখা'
তুমি প্যারিস গিয়েছিলে?
হ্যাঁ।
কেন...?
দিদি-কে দেখতে।
এটা তোমার দিদি?
তোমার দিদি কি করে?
ও একজন দাঁতের ডাক্তার।
তোমার দিদি-র নাম কি?
সরোজা দেবী!
তোমার দিদি-র কি বিয়ে হয়ে গেছে?
এত তথ্যের কি দরকার?
আরে এমনি, বলোই না।
- ও কি বিয়ে করে ফেলেছে? - এখনও করে নি।
তোমার কাজ হচ্ছে এটা নিশ্চিত করা যে, আমি যেন আর রেগে না যাই।
আমার শখ হচ্ছে, এই দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া।
আমাদের দুইজনেরই ইচ্ছা পূরণ হতে পারে।
ধরো, তোমার বাড়ি কিলপোক-এ
যদি তুমি কিলপোক থেকে মান্ধাবেলি গাড়ি করে আসো...
...এটা কি সম্ভব যে, তুমি ৫ সেকেন্ডের জন্যও রাগ করবে না?
অসম্ভব!
অটো ড্রাইভার একপাশে কাটতে চাইবে, বাস ড্রাইভার ওভারটেক করবে।
পথচারী এসে রাস্তার মাঝে দাঁড়াবে।
রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে বেকার পর্যন্ত সবাই দুর্নীতি, হিংসা আর বিচারের কথা বলতে থাকবে।
কীভাবে নিজের রাগকে দমিয়ে রাখবো, তুমিই বলো?
কিন্তু আমি যদি এই দেশ ছেড়ে চলে যাই, তবে আমি ১ সেকেন্ডের জন্যও রাগবো না আর।
আমাদের দুইজনেরই আশা পূরণ করার লক্ষ্যে...
...একটামাত্রই পথ খোলা আছে।
আমাকে সরোজা দেবী-র সাথে সেট করে দাও।
কি বলছো এসব? আমি এখানে তোমার কাউন্সেলিং করতে এসেছি।
আমার বোনের সাথে সেটিং করতে আসিনি।
তুমি কীভাবে নিজের রাগের নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারো?
তোমার উচিৎ-
একে অ্যাংরি বল বলে।
এটা হাতে নিয়ে ধরো।
এটাকে চাপতে চাপতে যদি ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গুনো, তোমার রাগ দেখবে, হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে।
আমাকে এক ডাক্তার বলেছে এটা!
পরের সেশনে দেখা হচ্ছে তাহলে।
সরোজা দেবী কে আমার ভালোবাসা জানিয়ো।
টাকা এসে গেছে।
ওই! দরজা বন্ধ করো।
আজকের খাবারের ঘ্রাণ খুব দারুণ আসছে। কোথা থেকে এনেছো?
আমাদের আকিম এর দোকান থেকে, স্যার।
ও দৈনিক কত আয় করে?
প্রায় ৪০ হাজারের মতো।
ও এতো আয় করে। অথচ আমাদের পকেটে কিছুই ভরাতে পারে না?
ও শুধু আমাদের পেটই ভরায়, স্যার।
স্যার, একটু টাইট দিলে ঠিকই আমাদের দুয়ারে এসে হাজির হবে।
বাইরে যাও একটু
- স্যার, টাকা পৌঁছে গেছে তো? - হেই! আমার সাথে চিটিং শুরু করেছিস?
টাকা না দিয়ে আমাকে বোকা বানাচ্ছিস?
স্যার, আমরা আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি।
- আপনার কাছে মেসেজ যাওয়ার কথা। - হ্যাঁ, মেসেজ এসেছে।
মেসেজ পাওয়ার ৫ মিনিট পর অ্যাকাউন্ট চেক করতে গিয়ে দেখি, টাকাটা আর নেই!
মজা করবেন না, স্যার।
আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কীভাবে গায়েব হতে পারে?
আমরা সব টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি।
আপনি আবার চেক করে দেখুন।
বলুন, স্যার।
আরিভু, আমার অ্যাকাউন্ট থেকে ২৫ লাখ টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে।
কি বলছেন, স্যার?
একজন পুলিশ অফিসারের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে?
স্যার, একটা কমপ্ল্যান করে ফেলুন।
আমি খোঁজার চেষ্টা করছি টাকাটা।
আরে আমি কমপ্ল্যান করে পারবো না।
এই টাকা ভিন্ন পথ থেকে পেয়েছি।
ভিন্ন অ্যাকাউন্ট! বোঝার চেষ্টা করো।
আপনার অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য পাঠিয়ে দিন।
আমি ব্যাপারটা কি হয়েছে দেখে আপনাকে কল করছি।
- পেয়েছো? - আমরা তাকে ধরে ফেলেছি, স্যার।
এটা ওর ফোন নাম্বার। আমরা ওর আইপি অ্যাড্রেসও পেয়ে গেছি।
ও শহরের কাছেই থাকে।
কল করো ওকে।
তোর সাহস কি করে হয় পুলিশ অফিসারের অ্যাকাউন্টে হাত দেওয়ার?
আমি তোকে ২৪ ঘণ্টার সময় দিচ্ছি।
আমার অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া ২৫ লাখ টাকা ফিরিয়ে দে।
'আপনি না পুলিশ অফিসার?'
'তো আমাকে গ্রেফতার না করে খামোখা ধমকাচ্ছেন কেন?'
অনেক সাহস তোর, তাই না?
আমি জানি তুই 'পাল্লাভারাম'-এ থাকিস।
আমি আসছি তোকে ধরার জন্য।
সোজা জেলে ঢোকাবো তোকে।
'আমি পাল্লাভারাম-এ তাই না?'
'আপনার সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞ-কে বলুন তো, স্ক্রিন টা রিফ্রেশ করতে।'
'এবার আমি কোথায়?'
পোন্ডিচেরি...?
'ওদেরকে আবার রিফ্রেশ করতে বলুন।'
'এবার আমি কোথায়?'
ক্যাড্ডালোর...!
'আমি কি পোন্ডিচেরি থেকে ক্যাড্ডালোর এই আধা সেকেন্ডের মধ্যে যেতে পারি?'
'আপনার যেই টাকা আমি নিয়েছি, তা অবৈধ পথে আসা টাকা।'
'এখন আপনার বেতনের পরিমাণ হচ্ছে'
'২ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩৫ টাকা ২৫ পয়সা।'
'এই মুহূর্ত থেকে যতক্ষণ আপনি কল কাটবেন না...'
'...আমি আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ হাজার টাকা প্রত্যেক সেকেন্ডে কাটতে থাকবো, দেখতে চান?'
হেই, আমাকে বোকা বানাচ্ছো?
'রাখুন এবার!'
আজকে সেশনে এলে না যে?
'কমা তে লাগু?'
- কি...? - ফ্রেঞ্চ শিখছি।
- আমি ফ্রেঞ্চ ক্লাসে ভর্তি হয়েছি। - এটাই কি তোমার নিয়মানুবর্তিতা?
এটা কি সেশন করার মতো জায়গা হলো?
এখানে অনেক কোলাহল।
আমি সামলাতে পারবো না।
তুমি তো শুধু সেশনেই কথা বলো, তাই না?
একটা পরিবর্তন করে...
...আমরা হাঁটতে হাঁটতে না হয় কথা বলি?
তো...কি খবর?
তোমার দিদি কেমন আছে?
ওকে আমার কথা বলেছো?
চলো একটা গেম খেলি।
- গেম...? - কুইড প্রো কু।
কি...?
তুমি আমাকে যেই প্রশ্ন করো না কেন, আমি সেসবের উত্তর দেবো।
একইভাবে তুমিও করবে।
আমি কিছু জিজ্ঞেস করি?
হুম, বলো।
কিন্তু উত্তরে সত্য কথা বলতে হবে
তুমি মিথ্যা বললে আমি বুঝে যাবো।
আচ্ছা, ঠিকাছে।
আচ্ছা, ১ম প্রশ্নটা আমি করছি।
তুমি কখনো প্রেম করেছো?
গেমের সাথে এটার কি সম্পর্ক?
তুমি নিজেই বলেছো যে, আমি যেকোনো প্রশ্নই করতে পারবো।
সত্য করে বলবে।
মোটামুটি...
...১২ জনের সাথে প্রেম করেছি আমি।
কি...?
তুমি...?
১২ জন।
যেন আমি ছোট বাচ্চা...
...তোমার মিথ্যাটাকে সত্য মনে করবো।
তুমি ওদের ছ্যাঁকা দিয়েছো?
যদি বলো ওরা তোমাকে ছ্যাঁকা দিয়েছে...
...তাহলে বলবো যে, ওরা অনেক বড় বোকা!
যা ইচ্ছা বলছো।
আমি যতদূর জানি, তুমি কখনো কারও প্রেমে পড় নি।
তুমি একজন সাইকিয়াট্রিস্ট।
তোমার মিথ্যা বলা উচিৎ নয়।
তোমার এই রাগ করার কারণটা কি?
তুমি রাগবি খেলা দেখেছো?
আমি ছোটবেলা থেকেই রাগবি খেলতাম।
সেখান থেকেই এই রাগ করা শিখেছি।
যা আজ মেজাজে পরিণত হয়েছে।
আমি এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।
রাগবি টিমে কয়জন খেলোয়াড় থাকে?
গোল কিপার
ব্যাটসম্যান সহ মোট ১১ জন।
যদি কাবাডি খেলা বলতে, তাও না হায় বিশ্বাস করতাম।
- যদি আমি... - 'কে ওখানে?'
১ মিনিট।
চলো।
তোমার দিদি-র কি শান্তশিষ্ট লোক পছন্দ?
নাকি আমার মতো ফিটফাট লোক পছন্দ করে?
আমার মতে, তোমার আগামী ৬ সপ্তাহ এসি রুমে আরাম করে কাটিয়ে দেওয়া উচিৎ
ও একজন মানবাধিকার কর্মী।
ও তোমাকে শৃঙ্খলা হীনতার দায়ে ৬ বছরের জন্য জেলে ঢুকিয়ে দেবে।
তোমার দিদি তাহলে মানবাধিকার কর্মী?
তুমি মানুষের কাছ থেকে টাকা ধার নেওয়া বা কাউকে টাকা ধার দেওয়া পছন্দ করো না কেন?
তুমি কখনো কারও কাছ থেকে ১০০০ টাকাও ধার নিয়েছো?
যখন কেউ টাকা ধার দেয়, যদি সে বন্ধুও হয়...
...সে এটার একটা অংশ হয়ে যায়। যেন তার জীবনের একটা অংশ সে তুলে দিয়েছে।
এটা কতটা কষ্টকর হয়, জানো?
টাকা মানুষের সম্মানের জায়গাটাকে নাড়িয়ে দেয়।
যদি একজন ফকিরও ১০ টাকা রিচার্জ করে...
...তাকে ৪ টাকা ট্যাক্স দিতে হয়।
কিন্তু কোনো ধনীব্যক্তি রিচার্জ করলে, সাথে ফুল টকটাইমও বোনাস পায়।
এটাই আমাদের দেশের বর্তমান অবস্থা।
পাওনাদারের অসভ্য ব্যবহার যা কি না
দেনাদারের অন্তরে গিয়ে আঘাত করায়, সেটাতেই আমার বেশি কষ্ট লাগে।
যদি তুমি কখনো টাকা ধার নিয়ে থাকো, তবেই এই ব্যথাটা বুঝবে।
আমার বাবার কারণে...
...আমার পরিবারও তেমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়েছে।
'প্রত্যেক ছেলেই তার বাবার কাঁধে মাথা রাখতে চায়।'
'আমিও সেটাই চাইতাম।'
'কিন্তু যখনই আমার বাবা পাওনাদারদের দেখা পেতো...'
'...উনি এসে আমার পেছনে লুকাতো।'
কাথির, উনাকে বলিস না যে, আমি এখানে আছি।
'রাঙ্গাস্বামী দাদা?'
'ঘরে আছেন, রাঙ্গাস্বামী দাদা?'
কাথির, তোমার বাবাকে ডেকে দাও।
বাবা কোথায় জানি না, আংকেল
'তোমার মাকে ডাকো তাহলে'
আপনার স্বামী ঘরে নেই?
৫-৬ মাস আগে উনি আমার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার করেছিলেন।
'কিন্তু আমাকে দেখলেই এখন লুকিয়ে কেটে পড়ে কোথাও'
'আমাকে মনে হয় টাকা দেওয়ার ইচ্ছে নেই উনার'
দেখুন, আপনার বিয়ের চেইন আমি নিজে নিয়ে পাপ করতে চাই না।
'আপনি নিজেই আমাকে সেটা খুলে দিলে ভালো হয়।'
শুধু তাই নয়।
তিনি এখনও এমনই আছেন।
আজ পর্যন্ত এই কথা আমি আর কাউকে বলিনি।
কিন্তু তোমার এই গেমটা আসলেই সুপার
কত দারুণ করে আমার মুখ থেকে সত্যটা বের করিয়ে নিলে।
কাথির, এদিকে এসো।
- কি? - শশশ!
কি?
দারুণ না? এই পাখি, বৃক্ষ, সূর্য।
প্রকৃতি আমাদের চারপাশটা কত সুন্দর করেই না সাজিয়েছে।
কিন্তু আমরা তার প্রশংসা না করে, নিজেদের সমস্যা নিয়ে পড়ে থাকি।
তুমি যেটা দেখছ, সেটা তোমার সমস্যা না, কাথির।
তুমি কীভাবে সেটা গ্রহণ করছো, সেটাই আসল সমস্যা।
তুমি কখনো তোমার ফ্যামিলিকে মিস করেছো?
আমার ফ্যামিলি আমাকে চায় না।
আমি প্রত্যেক মাসে মাসে টাকা পাঠালেই তারা খুশি।
আমি ওদের সাথে তেমন কোনো সময়ই কাটাইনি যে, তাদের মিস করবো।
ঠিকাছে।
এই পর্যন্ত কত টাকা আয় করেছো তুমি?
চাইলে কি তোমার মায়ের চেইনটা তুমি ফিরিয়ে আনতে পারতে না?
তোমাকে একটা কথা বলি?
তুমি তোমার বাবার মতই একজন কাপুরুষ।
তোমার বাবা পাওনাদারদের কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াতো।
আর তুমি তোমার ব্যক্তিজীবনের দায়িত্ববোধগুলো থেকে পালাতে চাইছো।
তোমার সেখানে গিয়েই কোনোকিছু খোঁজা উচিৎ যেখানে তুমি সেটা হারিয়েছো, কাথির।
বাড়ি যাও। তোমার বাবাকে গিয়ে বলো,
'আর পালানোর দরকার নেই, বাবা'
'আমি আছি তোমার পাশে।' উনাকে এসব বলে আশ্বস্ত করো।
তোমার বোনের সাথে কিছু সময় কাটাও।
এটা কোনো অনুরোধ নয়। আমার আদেশ।
তুমি ৩০ দিনের জন্য বাড়ি যাও। আর পরিবারের সাথে কিছু সময় কাটাও।
তবেই আমি তোমাকে সার্টিফিকেট দেবো।
বাড়ি যেতে বলছো তো? গেলাম না হয়।
আমি জানি তুমি কত বড় সেয়ানা
তুমি প্রত্যেকদিন তোমার পরিবারের সাথে ছবি তুলে সেগুলো ফেসবুকে পোস্ট করবে।
আমি সেগুলো দেখে লাইক করবো।
তারপরেই তোমার ফর্মে সাইন করবো আমি।
আচ্ছা, তুমি যা বলবে তাই হবে।
কিন্তু শুধু তুমি না, তোমার দিদিকেও বলবে আমার ছবিতে লাইক দিতে।
তবেই তো আমরা একটা সুখি পরিবার হয়ে উঠবো!
Aiyo!
কাথির, এখানে সাইকোলজিস্ট তো আমি, তাই না?
শুধু আমিই ধরতে পারি কেউ মিথ্যে বলছে কি না।
তাই...আমার আসলে কোনো দিদি নেই।
সরোজা দেবী নামে কেউ নেই?
আমি আমার বুকে সরোজা নামের ট্যাটুও বানিয়ে ফেলেছি!
কই, দেখছি না তো।
আমার শরীরের রঙ এর সাথে মিশে গেছে তো, তাই।
আচ্ছা, দিদি নেই মানলাম। তোমার কি কোনো ছোট বোন আছে?
কাথির, আমার দিদি কিংবা ছোট বোন, কেউই নেই?
আমার কোনো পরিবার নেই।
যাদের পরিবারে কেউ নেই, তারাই শুধু আপনজনের মূল্য বোঝে।
তুমি বললে যে তোমার পরিবারের লোকেরা তোমাকে চায় না।
কি হবে যদি তারা হঠাৎ করে তোমাকে ছেড়ে চলে যায়? তখন কি করবে?
যখন ওরা তোমার জীবনের অংশ, তখন যদি তুমি তাদের মূল্য না দাও...
...তাদের অনুপস্থিতিতে তাদের মিস করার তাহলে আর কোনো মানে হয় না।
'তোমার বাড়ি যাও'
থামো, কি হচ্ছে এসব?
ওরা সবাই গ্রামের বয়স্ক লোক।
যখন শুনেছে যে তুই আর্মি অফিসার-
আমি 'আর্মি' বলার সাথে সাথে গান গাওয়ার কি আছে?
চুপ থাকো।
কেমন আছিস তুই? আমি ভালোই আছি।
জিজ্ঞেস কর...জিজ্ঞেস কর।
- জিজ্ঞেস কর - কি জিজ্ঞেস করবো?
দাঁড়াও, ও নিজেই বের করবে।
কি?
তারা বলছে তুই নাকি সাথে করে আর্মি 'পেট্রোল' নিয়ে এসেছিস?
- তারা খেতে চাচ্ছে একটু। - হ্যাঁ, বাবা।
ওরা নাকি গ্রামের বয়স্ক লোক?
ওরা সবাই বয়স্ক।
উনার বয়স ৭৩ উনার ৭২
এখানে সবাই ৭০+
- মনে হয় বড় বোতল এনেছে। - চুপ থাকো
'ধৈর্য ধরো।'
রাঙ্গাস্বামী, তুমি তো বলেছিলে, ও আর্মি তে কাজ করে...
...কিন্তু ও তো দেখছি বাচ্চা ছেলের মতো, বল নিয়ে খেলছে।
এটা আসলে ও...র-
- যাও...ঘরে যাও - লিকার?
আরে ধরে মারবে।
পতাকা নিয়ে চলে এসেছে।
কি মনে করো।
বুড়ো!
এদিকে এসো
আমি তাদের বলেছি যে, তুই লিকার আনিস নি।
দরকার নেই।
- এই পাশে দাঁড়াও। - কোথায়?
বলেছিলাম- কি?
হাসো।
এদিকে নয়, ওদিকে তাকিয়ে হাসো।
অনেক দুঃসাহস দেখিয়ে আমি তোমার মায়ের চেইন নিয়ে চলে এসেছিলাম।
কিন্তু এটা বিক্রি করার মতো সাহস আমার হয়নি।
তাই আমি স্বর্ণটা গলিয়ে নতুন একটা চেইন বানিয়েছি।
- আমি এর বদলে ৩০ হাজার টাকা দিচ্ছি। - ধন্যবাদ।
♪ "Like a child bowled over ♪ ♪ gazing at the 1st raindrop ever" ♪
♪ "In wide-eyed wonder" ♪
♪ "I fell into her world of splendor" ♪
♪ "In my life till now I was oblivious ♪ ♪ I missed those moments precious" ♪
♪ "I bloomed when she reformed my ways" ♪
♪ "New senses fell in place" ♪
♪ "I walked past a flower pot daily ♪ ♪ Discarded as junk justly" ♪
♪ "But this pot cast aside however ♪ ♪ nurtured a bud to bloom into a flower" ♪
♪ "Bewitching eyes cast a spell ♪ ♪ in my mind and heart as well" ♪
♪ "Feet waiting to walk beside me proudly" ♪
♪ "Hands patting my shoulder fondly" ♪
♪ "With mini-moments many ♪ ♪ a new meaning she gave me" ♪
♪ "A future ever so rosy ♪ ♪ assured me, this lassie" ♪
♪ "From a mere shadow ♪ ♪ she chiselled a statue" ♪
♪ "She endorsed my tears of joy as true" ♪
♪ "Why am I alive? ♪ ♪ I was so indecisive" ♪
♪ "Not taking time to analyze ♪ ♪ I ran away from my own life" ♪
♪ "Why did you plan ♪ ♪ to make me a new man?" ♪
♪ "My repressed rage ♪ ♪ Scars in storage" ♪
♪ "She flung into the middle of nowhere ♪ ♪ She healed my heart with love and care" ♪
♪ "She dusted the cobwebs away ♪ ♪ Made me a humane being today" ♪
♪ "An eternal wave of bliss ♪ ♪ in a niche of my life she is" ♪
♪ "In a wind that blows night and day ♪ ♪ her love is a 'live' relay" ♪
♪ "With mini-moments many ♪ ♪ a new meaning she gave me" ♪
♪ "This lovely lassie of mine ♪ ♪ blessed me with a life sublime" ♪
♪ "From a mere shadow ♪ ♪ she chiselled a statue" ♪
♪ "She affirmed my tears of joy as true" ♪
♪ "A brook singing so spontaneously" ♪
♪ "Bees buzzing in a meadow simultaneously" ♪
♪ "The playful sun spreads its rays to reflect ♪ ♪ on the moon in the sky like a basket" ♪
♪ "My mind in a delightful daze ♪ ♪ watches nature's grandeur and grace" ♪
♪ "It soaks up every pleasure ♪ ♪ to cherish life as a treasure" ♪
♪ "Like a child bowled over ♪ ♪ gazing at the 1st raindrop ever" ♪
♪ "In dewy-eyed wonder" ♪
♪ "I fell into her world of splendor" ♪
♪ "In my life till now I was oblivious ♪ ♪ I missed those moments rapturous" ♪
♪ "When she reformed me ♪ ♪ I blossomed gradually" ♪
♪ "I revelled in new senses repeatedly" ♪
এই সেই আর্মি লিকার, যার কথা আপনারা বলছিলেন।
আর্মির লোকেরাই শুধু এই জিনিস পায়।
আমিও আর্মিতে ছিলাম। কিন্তু কখনো পাই নি কেন?
আপনিও আর্মি তে ছিলেন?
'ওভিয়া আর্মি' তে!
থামুন। গ্লাস নিন।
ওভিয়া আর্মি।
কি হলো?
প্রাণ ভরে খান। আজ আমি খুব খুশি।
আশীর্বাদ করি যেন সর্বদা এমন খুশি থাকো।
ও মাত্র ৩০ টাকার একটা বল দিয়ে ৩০ দিনে আমার জীবন পাল্টে দিয়েছে।
ও বলেছিলো, 'আমার সমস্যা আমার দেখার ভঙ্গিতেই লুকিয়ে আছে'
তোমার দেখতে সমস্যা হয়?
দূরের জিনিস দেখো না, নাকি কাছের জিনিস?
চশমা পড়লে ঠিক হয়ে যাবে।
'আমরা জীবনকে কীভাবে গ্রহণ করি, ভালোমন্দ তাতেই লুকিয়ে থাকে', এমনটাই ও বলেছিলো।
আমি এমন একজন কঠোর আর্মি ছিলাম...
...ও আমার ভিতরের দয়াটাকে বের করে এনেছে।
কত দারুণভাবেই না ঘটছে সব!
কিন্তু তাতে-
ওই! মাত্র এক পেগ খেয়ে কীভাবে ঘুমিয়ে পড়তে পারেন?
ডাব খান, স্যার।
আমি কোথায়?
এটা আমার খামার, স্যার।
আপনি ফুল টাইট হয়ে নদীর ধারে শুয়েছিলেন।
আমি তাই আপনাকে এখানে নিয়ে এসেছি।
বাকিরা কোথায়?
ওরা সকালেই উঠে চলে গেছে।
আমি আপনাকে চিনি, স্যার।
আপনি সেলভি-র বড় ভাই না?
হ্যাঁ।
সেলভি আর আমি ৫ বছর যাবত একে অপরকে ভালোবাসি-
আমি ওকে বিয়ে করতে চাই, স্যার।
আপনার বাবাও ব্যাপারটা জানেন। উনি আমার মা-বাবার সাথে কথা বলেছেন।
আমি জানি না হঠাৎ কি হয়েছিলো
তারপর থেকেই সেলভি আর আগের মতো নেই।
ও বলছে যে, আমাদের মিল নাকি সম্ভব না।
এমনকি কলেজে যাওয়ার সময় আমি ভয়ে থাকতাম যে, কেউ না দেখে ফেলে।
কিন্তু সে খুব সাহসী ছিলো।
'আমরা বিয়েতো করবোই, এত ভয় পাওয়ার কি আছে?' ও এমনটা বলতো।
কিন্তু আপনার বাবা আমার মা-বাবার সাথে কথা বলার পর থেকেই।
...সেলভি কেমন যেন পাল্টে গেছে।
আমি বুঝতে পারছি না কি করবো।
এইজন্য ভাবলাম, আপনার সাথে কথা বলে দেখি।
আমাকে সাহায্য করুন, প্লীজ, স্যার।
- তোমার নাম কি? - কেশব, স্যার।
সেলভি, আমি কেশবের সাথে কথা বললাম।
শুনলাম তোদের সম্পর্ক নাকি ৫ বছর ধরে চলছে!
হঠাৎ করে নাকি কি সমস্যা হয়েছে।
আমাকে ওর কথা বলিস নি কেন?
হেই! আমি তোর সাথে কথা বলছি।
তোমাকে কেন বলতে যাবো আমি?
আমি তোর দাদা।
দাদা? কার?
শুধুমাত্র এখানে এখন আছো আর আমার রান্না করা খাবার খাচ্ছো, এইজন্য তুমি আমার দাদা হয়ে যাবে?
আমার ব্যাপারে কতটুকু জানো তুমি?
আমি কি নিয়ে পড়ালেখা করছি, সেটা জানো?
আমার পছন্দ, অপছন্দ, কিছুই কি জানো?
'আমার ১২ বছর বয়স ছিলো, যখন আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছিলে'
আমার সাথে এর মধ্যে একদিন অন্তত ফোন করে কথা বলেছো?
একটা মা হারা মেয়েকে কতকিছুর ভেতর দিয়ে যেতে হয়, জানো তুমি?
তোমার বাবা আর বোন- কেন বলবো না আমি?
তুমি নিজে কিছু বলবে না বলে, আমাকেও বলতে দিবে না।
তুমি হয়তো তোমার ছেলেকে ভয় পাও।
আমার ওকে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।
ও ভাবে যে, আমরা ওর জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছি।
ওর প্রতি মাসে পাঠানো টাকায়...
...ও ভেবেছে যে আমরা রাজপ্রাসাদ তুলে বসে আছি?
কেমন স্বার্থপর তুমি?
সেলভি, আমার উপর রাগ করে তুই নিজের জীবনটা বরবাদ করিস না।
কি সমস্যা হয়েছিলো?
কেশবের মা-ই সমস্যাটা সৃষ্টি করেছে।
উনি আমাকে তাদের বাড়িতে ডেকে পাঠায়।
বড় ঘর। ভালো পরিবার।
প্রথমে তিনি বিয়ের জন্য রাজী হচ্ছিলেন না।
আমি পরে অনেক কাকুতিমিনতি করে উনাকে রাজী করিয়েছি।
এখন তিনি বলছেন বিয়েতে ৪০ গ্রাম স্বর্ণের গয়না দেওয়ার জন্য।
আমি যখন বললাম যে, আমাদের পক্ষে এতবড় আয়োজন সম্ভব নয়, উনি আমাকে বললেন,
'তাহলে কোন যোগ্যতায় আপনার মেয়ে আমার ছেলেকে বিয়ে করতে চায়?'
কথাটা আমার মুখের উপর চড়ের মতো পড়েছিলো।
'আমার পক্ষে তোর বিয়ে দেওয়া সম্ভব না'
'তোরা পারলে পালিয়ে বিয়ে করে ফেল', এমনটা বলেছিলাম ওকে।
কিন্তু ও তা চাইছে না।
আচ্ছা, ওর মা-বাবা না হয় কঠোর মানলাম।
কেশব তো রাজী আছে, তাই না?
তাহলে আপত্তি কোথায়?
যদি আমি শুধু কেশবের সাথে থাকতে চাইতাম...
...তাহলে বাবা যেমনটা বললো, সেটাই করতাম।
কিন্তু আমি পরিবার নিয়ে থাকতে চাই।
ছোটবেলা থেকেই আমি, মা ছাড়া ছিলাম।
আর ভাই থেকেও ছিলো না।
এতগুলো বছর আমার জীবনটা শুধু বাবার সাথেই এই চার দেয়ালের মাঝে কেটে গিয়েছে।
আমার জীবন এই পর্যন্ত পরিবার ছাড়াই কেটেছে।
যদি বিয়ে করি, তবে পরিবার থাকলেই বিয়ে করবো।
তুমি বললে যে কেশব ভালো ছেলে। আর সেলভি ও তাকে ভালোবাসে।
আমরা যদি তার এই ইচ্ছে টা পূরণ করতে না পারি...
...আমাদের ওর জীবনে থাকার আর কি মানে হয়?
আরে ও ছোট মানুষ, কি না কি বলেছে-
ও ঠিকই বলেছে, এ ব্যাপারে ভালো করে ভেবেচিন্তে তারপরেই বলেছে।
তুমি সেলভির বাবা। আমি সেলভির দাদা।
কিন্তু সে আমাদেরই সামনে বলেছে যে, তার কোনো পরিবার নেই।
তুমি আমার জন্য ভালো বাবা হতে পারো নি।
আমিও তোমার যোগ্য ছেলে হতে পারি নি।
কিন্তু অন্তত সেলভির জন্য ভালো একজন দাদা হয় তো দেখাতে পারি, তাই না?
ঠিকাছে।
ওর বিয়ের জন্য কত খরচ পড়বে?
তাদের চাহিদা অনুসারে, প্রায় ১০ লাখের মতো।
১০ লাখ, না?
মায়ের জমিটা বিক্রি করলে কত পাওয়া যাবে?
প্রায় ৪ লাখ।
আচ্ছা, তুমি জমিটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিক্রির ব্যবস্থা করো।
বাকিটা আমি ব্যবস্থা করছি।
তুই তো ঋণ নেওয়া পছন্দ করিস না।
করি না। কিন্তু এখনো যদি হাত গুটিয়ে বসে থাকি...
...আমার এই জীবনযাপনের আর কোনো মানে থাকবে না।
আমার কাছে এখন সেলভির খুশিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তার দাদা সেটা যেকোনো কিছু করে হলেও সম্ভব করবে।
আমার বোনকে গিয়ে জানিয়ে দাও।
প্রস্তুতির জন্য-
দাঁড়িয়ে না থেকে যাও।
এখানে সব তোমার নামের কমপ্ল্যান জমা আছে।
সব সিনিয়র অফিসারদের সাথে দেখা করে এসব মিটিয়ে এসো।
তারপরে তোমার লোনের কথা চিন্তা করা যাবে।
স্যার এইসব অফিসারেরা মেঘালয়া, তেলেঙ্গানা, কেরালা এমন বিভিন্ন রাজ্যে চাকরি করছেন।
এদের সবার কাছ থেকে সাইন নিয়ে আসতে আমার ২-৩ বছর লেগে যাবে।
স্যার, প্লীজ, আমার এখুনি লোন নেওয়া দরকার।
আর্মির নিয়ম তোমার জন্য তো আর পাল্টানো যাবে না।
বেশি জরুরী হলে, কোনো সাধারণ ব্যাংকে গিয়ে আবেদন করতে পারো।
ভিতরে ঢুকে তারপরে অনুমতি চাচ্ছো?
কাগজ কোথায়, কলম কোথায়? আমার সাইন?
দাঁড়াও...দাঁড়াও।
খারাপ না, কাথির।
তোমার মধ্যে অনেক পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি।
- তোমারও মনে হচ্ছে? - নয়তো কি?
তুমি তোমার বোনের বিয়ের জন্য লোন নিতে এসেছো না?
মাথায় আসছেনা কীভাবে লোন নেবো।
পারবে তুমি।
তো, সব ফর্মালিটি শেষ।
তুমি আর তো এখানে আসবে না?
সেটা কীভাবে হয়?
সবে তো লোনের জন্য আবেদন করেছি।
জানি না সামনে আরও কত ব্যাংকে যেতে হবে।
আরও কত ম্যানেজারের সাথে মাথা গরম করতে হবে।
১ ম্যানেজারের জন্য ৩ মাস করে...
আমাকে তো সারাবছরই তোমার এখানে চক্কর কাটতে হবে!
তেমন কিছু হলে, আমার সব ট্রেনিং সময়ের অপচয় ছিলো বলে মনে করবো।
আসি তাহলে।
একটা কথা জিজ্ঞেস করার ছিলো।
আমি এই জায়গায় ১ দিন থাকতেও দম বের হয়ে যাচ্ছিলো।
তুমি কীভাবে এতো লোককে সামাল দাও...
...তাও মাথা গরম না করে?
কি?
তোমাকে একটা বুদ্ধি শিখিয়ে দিই?
তোমাকে যারা অপমান করে বা বিরক্ত করে...
...তাদেরকে বাচ্চার নজরে দেখো।
তোমার আর রাগ আসবে না ওদের উপর।
উল্টো আশ্চর্য লাগবে।
৬ লাখ।
আমি তোমার লোনটা রেডি করছি। কিন্তু এতে কিছু নিরাপত্তার দরকার।
যেই আর্মি আমাদের নিরাপত্তা দেয়।
সেই আর্মির কাছে আপনি নিরাপত্তা দেখতে চাইছেন?
আপনি ঠিক বলেছেন, অস্বীকার করছি না।
ধরুন, লোনটা আমি দিয়েও দিলাম...
...কাল যদি আপনি কোনো সীমানায় যুদ্ধে গিয়ে বোমা-বিস্ফোরণে নিহত হন।
আমি কার কাছে গিয়ে টাকাটা ফেরত চাইবো?
আমি বুঝলাম না ব্যাপার টা।
আর্মি অফিসারদের পাসপোর্ট থাকে না।
তাদের ভালো একটা রেশন কার্ডও থাকে না।
এখন লোন চাইতে এসেছি, তাতেও এতো কথা।
তাহলে আর কোথাও যাবো, স্যার?
আমি আপনাকে লোন দিতে প্রস্তুত স্যার।
আমাকে শুধু জামানত দেখান, আমি সব রেডি করে দিচ্ছি।
এখনো বসে আছিস কেন? এখানে আর হবে না।
দূরে গিয়ে মরেন, ফকির কোথাকার!
ফেসবুকে একজন শহীদ আর্মি দেখলে আপনারা শ্রদ্ধা প্রকাশ করে লাইক দিয়ে থাকেন।
কিন্তু সাহায্যের হাত চাইলে, তখন আর কেউ বাড়িয়ে দেয় না।
আপনার নিরাপত্তা লাগবে, তাই তো?
বাইরে ৪ জন নিরাপত্তা রক্ষী আছে। তাদের পাঠিয়ে দিচ্ছি।
এই ব্যাংক থেকে তো ঘরে রাখা মাটির ব্যাংকও অনেক ভালো!
একজন আর্মি অফিসার কে কীভাবে লোন দিতে অস্বীকার করতে পারেন উনি?
আরে সেটা আর নতুন কি!
তোর বাবাকে ডাক। উনি লোন নিতে এক্সপার্ট, ঠিক নিয়ে ফেলতে পারবে।
উনি সব জায়গা থেকে লোন নিয়ে রেখেছেন। কেউ উনাকে সম্মান জানাবে না।
আমার কথা শোন, আমাদের নিজের নামে তো কিছুই নেই।
বাড়ি তো তোর বাবার নামেই রেজিস্ট্রেশন করা।
উনাকে ডেকে আন। কাগজপত্র গুলো ব্যবহার করতে হবে।
- এমনটা কি ঠিক হবে? - হবে, আমি বলছি।
হ্যালো, দুলাভাই।
তোর বাবাকে একবার দেখ।
'সিন্ধু ভৈরবী'-র গুরুমূর্তীর মতো লাগছে আপনাকে।
মৃদঙ্গ এক্সপার্ট।
'তোমাকে কি বলিনি? আমার মৃদঙ্গ কোথায় রেখেছি?'
একদম তার মতো লাগছে।
ব্যাগ খালি কেন? রাস্তায় ডাকাতি হয়েছিলো নাকি'?
আমাকে কি পাগল মনে হয়!
তুই তোর বাবার নামে কত ভালো ভালো কথা বলছিলি।
আর উনি দেখ, খালি ব্যাগ নিয়ে এসেছেন। সব টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য।
যা মনে আসে, তাই বলে!
কাথির, কেমন আছিস? আমার ড্রেস কেমন লাগছে?
কিছু টাকা ব্যবস্থা করে নিয়েছি।
আমি চুলে কলপ করে এই গেটআপ নিয়ে এসেছি।
চালচলন পাল্টিয়ে, রাজার হালে এসেছি।
এই গেটআপ নিয়ে ছেলেদের বাড়িতে গিয়ে কথা বলে এসেছি।
তারা আমার কথা শুনে হা করে আছে।
আমি বললাম, '১০ লাখ কেন? আমার ছেলে দরকার হলে ২০ লাখ টাকা খরচ করবে।'
তাদের মুখে তো আর কথা সরে না।
তোর কথা মতো, তোর মায়ের জমি বিক্রি করে দিয়েছি।
৪ লাখ টাকা আমার অ্যাকাউন্টে ডিপোজিট করে এসেছি। এই হচ্ছে পাশবই।
তুই বলেছিস ৬ লাখ টাকা ব্যবস্থা করবি।
ওই টাকাগুলোও দিলে, সব একসাথে ডিপোজিট করে রাখবো।
- আপনাকে নিয়ে গিয়ে সমুদ্রে ডিপোজিট করে আসবো। - টাকা কোথায়? এখনো লোন নেওয়া হয় নি
সেটারই চেষ্টা চালাচ্ছি, এখনো কিছুই করতে পারিনি।
- চশমা খুলে ফেলুন। - আচ্ছা।
বয়স?
লোনের জন্য উনি আবেদন করেছেন, ঠিক? আপনার বয়স কত?
- ৪০...! - আপনাকে দেখে তো ৪০ বছর মনে হয় না।
আমি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে কলপ করেছি।
আপনি বিশ্বাস করবেন, যদি বলি যে, আমার বয়স ৬০ বছর?
ফাইলটা দিন আমাকে।
গোল্ড লোন নিলে অনেক লাভ আছে।
স্যার, নয়তো কার লোন নিন।
নয়তো ফ্রিজ, টিভি কিংবা ওয়াশিং মেশিনের জন্য লোন নিতে পারেন।
মনে হচ্ছে গৃহস্থালি সামগ্রীর দোকান নিয়ে বসেছে?
আমরা পার্সোনাল লোনের জন্য এসেছি।
আমাদের ব্যাংকের নীতি অনুযায়ী, ৫০ বছরের চেয়ে বয়স বেশির কাউকে তো লোন দেওয়ার নিষেধ আছে।
মানে আপনার নিজেরও নেওয়া মানা, তাই না?
দেখছেন না, উনি এখনো কত জোয়ান? সবে বয়ঃসন্ধিকাল চলছে উনার।
আপনার পেনশন কত করে?
কিসের পেনশন। ইনি থাকলে ঘরে শুধু টেনশন পাওয়া যায়। উনি একজন কৃষক।
আমরা কৃষকদের লোন দিই না।
আপনারা কৃষকদের অসম্মান করছেন।
আরে সেটা বোঝাতে চাই নি।
এটা একটা প্রাইভেট ব্যাংক।
আপনারা সরকারী ব্যাংকে চেষ্টা করছেন না কেন?
ওখানে গেলে নিশ্চিত লোন পাবেন।
তোমার ফোন নাম্বারটা পাওয়া যাবে?
শুধু প্রাইভেট ব্যাংকেই এমন লোন পাওয়া যাবে।
সরকারী ব্যাংকে চেষ্টা করুন।
আপনার স্টেটমেন্ট অনুযায়ী কোনো লেনদেনই দেখতে পাচ্ছি না।
'কোনো নির্ভরযোগ্য কাগজপত্রই দেখতে পাচ্ছি না'
'কিসের ভিত্তিতে লোন নিতে এসেছেন?'
শুধু এখানে না
আপনারা কোথাও লোন নিতে পারবেন না।
['বস এঙ্গিরা ভাসকারান' মুভির দৃশ্য]
একটা সিগারেট দাও তো।
সামান্য লোনের জন্য কি কষ্টই না-
আচ্ছা, আমি অপেক্ষা করছি-
কেউই লোন দেবে না।
মামা, তুমি বারে যাবে বলছিলে না।
- যাও এবার। - তোর বাবার খেয়াল রাখিস।
উনাকে একা ছাড়িস না।
আসি তাহলে।
স্যার, লোন, হাঁহ্?
- হ্যাঁ - কত?
- ৬ লাখ - ৬ লাখ, হাঁহ্?
বাড়ি না গাড়ির জন্য?
পার্সোনাল লোন।
স্যার, কেই বা পার্সোনাল লোন হিসেবে ৬ লাখ টাকা দেবে?
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনাদের ধারণা নেই।
কেন খামোখা বিরক্ত করছেন?
- আপনার কাজে যান। - এটাই আমার কাজ, স্যার।
আমি আপনাদের ব্যবস্থা করে দেবো।
আমাদের পরামর্শদাতার দরকার নেই।
এই ব্যাংক থেকেই আপনাদের লোন পাইয়ে দেবো।
- কীভাবে? - এদিকে আসুন।
'স্যার, এখনকার দিনে কে দেয় পার্সোনাল লোন?'
'পার্সোনাল লোন ভিত্তি করে পাওনাদার আর দেনাদারের মধ্যকার বিশ্বাসের উপর।'
'এখনকার দিনে, কেউই কাউকে আর বিশ্বাস করে না।'
স্যার, আপনার গাড়ি থাকলে, সেটা দেখিয়ে আপনি লোন নিতে পারবেন।
অথবা যদি আপনার নিজের ঘর থাকে তো।
এসি, ফ্রিজ, টেলিভিশন।
এইসব কিছুর জন্য লোন পাবেন। কিন্তু মানুষের জন্য না!
টাকা শুধু তাদেরই দেওয়া হয়, যাদের আগে থেকেই টাকা আছে।
ব্যাংক ম্যানেজার কে গিয়ে বলুন যে, আপনার আম্বাত্তুর-এ একটা ফটোকপির দোকান আছে।
আপনি সেটাকে অনলাইন সেন্টার বানাতে চাচ্ছেন।
আর আপনি ৪০-৫০ টা কম্পিউটার কিনবেন।
৬ লাখ টাকা ব্যবসা ঋণ হিসেবে নিয়ে নিন।
আপনার সব ইচ্ছা পূরণ করতে পারবেন!
আমাদের আম্বাত্তুর-এ কোনো দোকান নেই।
অবশ্যই, নেই তো।
সেটা আমি আর আপনি জানি, ব্যাংক ম্যানেজার তো জানে না?
উনার দরকার শুধু কাগজপত্র।
কফির কথা কে বলেছে?
২টা সমুচা নিয়ে এসো।
- অন্য কাপ টা? - এই যে।
আমি কাগজপত্র সব তৈরি করে দেবো।
উনারা হয়তো দোকান টা দেখতে চাইবেন।
আমরা আম্বাত্তুরের কোনো দোকানদারের সাথে কথা বলে নেবো।
তারা তদন্ত শেষ করে সাইন করলেই, আপনারা আপনাদের লোন পেয়ে যাবেন।
তারপর, ঘরে বসে বসে আরামসে মাসে মাসে টাকাগুলো পরিশোধ করলেই হবে।
ওদের আর কিছু চাই না!
এটা ভালো হবে মনে হচ্ছে না, স্যার।
মিথ্যা বলতে অস্বস্তি বোধ করছেন?
আচ্ছা, মানলাম আপনি খুব সৎ
কে আপনাকে কোনো লোন দেবে?
স্যার, বিয়ে করা থেকে শুরু করে, চাকরি পাওয়া...
...ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করানো
সবকিছুতেই মিথ্যে বলা লাগে।
আপনার বাবাকে দেখুন। দিন দিন বয়স বাড়ছে উনার।
আর কত ব্যাংক ঘুরাবেন উনাকে?
- ভালো করে ভেবে দেখুন। - না, স্যার।
- আমার মনে হয় না, এটা ঠিক হবে। - বসুন।
কা...কাথির।
১ মিনিট
এদিকে আয়।
কি, বাবা?
ওর প্রস্তাবে না করে দিচ্ছিস কেন?
আরে ও আমাদের প্রতারণা করতে বলছে।
যদি মাঝপথে পালিয়ে যাই, সেটা হয়তো প্রতারণা হতো।
আমিরা সুদসহ টাকাটা ফেরত দেবো।
যাইহোক, আমার এটা ঠিক মনে হচ্ছে না, বাবা।
কথায় আছে, 'একটা বিয়ে বাঁচানোর জন্য হাজারটা মিথ্যে বললেও দোষ হয় না।'
তুই কি একটা মিথ্যে বলতে পারবি না?
আর কত বছর এভাবে মিথ্যে বলতে থাকবে?
আমরা এতগুলো ব্যাংকে গিয়েছি, কিন্তু কাজ তো কিছুই হয়নি
ও এখন একটা পথ দেখাচ্ছে আমাদের। সেলভির বিয়েটা যে করেই হোক বাঁচাতে হবে।
তোর মায়েরও এটা ইচ্ছে ছিলো।
তো, যদি এই লোনটা পাওয়া যায়-
এত ভাবিস না, ভেতরে আয়।
আয়।
বস।
কি, স্যার?
আচ্ছা, আমরা রাজী।
- কার নামে? - আমার বাবা
রাঙ্গাস্বামী।
আপনার ২০১৪, ২০১২ আর ২০১০ এর ৩ টা পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে।
আমি বাকি কাগজপত্র ব্যবস্থা করছি। লোন আপনারা পাবেনই, ১০১% গ্যারান্টি।
ধন্যবাদ লাগবে না আমার।
১০%
- কি? - তো কি?
আমি এতকিছু করছি, আপনাদের ৬ লাখ টাকা নিয়ে দিচ্ছি।
বিনিময়ে চাচ্ছি তো ১০% মাত্র ৬০ হাজার।
- ভেবে দেখুন। - এখন, হাঁহ্?
এখন দেওয়া লাগবে না।
আপনার অ্যাকাউন্টে ৬ লাখ টাকা জমা হওয়ার পর...
...আমাকে ৬০ হাজার টাকার একটা চেক দিলেই হবে।
আচ্ছা, স্যার।
স্যার, আমাকে শেষ মুহূর্তে আবার ভুলবেন না যেন!
- আরে কি যে বলেন। - আচ্ছা।
'যাক বাবা! শেষপর্যন্ত লোনটা পাওয়া গেলো'
এটা ধরো। আমি জিজ্ঞেস করে দেখি মেসেজ কবে আসবে।
- খুশি তো? - খুবই।
- 'আপনার আইডি কার্ডটা দিন।' - অনেক কষ্টে লোনটা পাওয়া গেলো।
আসুন, স্যার, সব ঠিকঠাক তো?
- সবকিছুই ঠিকঠাক মতো হয়েছে। - ভুল হওয়ার চান্সই নেই!
যেমনটা বলেছিলাম, আমার ধন্যবাদের প্রয়োজন নেই।
আমাকে ১০% দিন। সেটাই যথেষ্ট।
আপনাকে নগদ দেবো?
চেক দিলে সবচেয়ে ভালো হয়।
হরি কৃষ্ণন।
- আপনি আমাদের দারুণ উপকার করলেন। - আপনাদের খুশিতেই আমার খুশি।
- এই নিন। - ধন্যবাদ।
আচ্ছা, আসি তাহলে এবার?
দুলাভাই, ভালো করে দেখুন।
এটা হচ্ছে এটিএম মেশিন।
'এখানে তো অনেকগুলো বোতাম দেখছি'
এটিএম মেশিন আর ভোটিং মেশিনের মধ্যে একটা পার্থক্য আছে।
এটিএম মেশিনে আপনি বোতাম টেপার পর টাকা পাওয়া যায়।
- আর ভোটিং মেশিনে? - প্রথমে টাকা পাওয়া যায়।
- তারপরে বোতাম চাপতে হয়। - অভিজ্ঞতা আছে, হাঁহ্?
'আমি অনেক পুরানো ভোটার।!'
হেই! চলে যাচ্ছে, চলে যাচ্ছে। ধরো ওটা!
আরে অপেক্ষা করুন। আবার আসবে!
- এবার আপনাকে একটা নাম্বার মনে রাখতে হবে। - কিসের নাম্বার?
চার ছয় চার আট
এই নাম্বারটা কাউকে বলবেন না।
বুঝেছেন? চাপুন ৪৬৪৮
৪ - ৬?
প্রথম ৬
দ্বিতীয় ৬
তৃতীয়-
হ্যাঁ, এরপর ৮ ও ৪ বার দিয়ে ফেলেন।
- আমি কি করলাম? - এটা কাটেন।
শুধু ৪৬৪৮ চাপেন।
- মানে ছেচল্লিশ আটচল্লিশ? - হ্যাঁ।
এইভাবে বললেই তো হয়। খামোখা কথা ঘুরায়।
৪
৬-৪-৮
- ওকে চাপুন - সবুজ বোতাম টা?
- ওই যে, আপনার নাম দেখুন। - হ্যাঁ, রাঙ্গাস্বামী।
এবার বলুন, কত টাকা লাগবে আপনার?
- ২৫,০০০ - স্ক্রিনে দেখেন।
'২ তারপরে ৫'
'শেষে তিনটা ০'
ওই শুনুন, টাকা গোনা হচ্ছে?
ভেতরে কেউ বসে আছে মনে হয়?
আপনার টাকা নিন
ইয়ায়! টাকা পেয়ে গেছি।
এভাবে লাফাতে থাকলে টাকা আবার ফেরত চলে যাবে।
আবার চলে যাবে?
টাকা পেয়ে গেছি।
দাঁড়াও
এতো রাতে কে আবার কল করলো?
ও, মেসেজ? পড়ে দেখো তো।
আপনি যে টাকা তুললেন, সেটা মেসেজ দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে।
- সাথে সাথে? - হ্যাঁ।
বাপরে! কি স্পিড?
এখানকার বাবুর্চিগুলো তেমন ভালো না।
আর আমাদের ওখানে হলে টাকার একটা ব্যাপার আছে।
যদি তাদের ৫০০০ টাকা অগ্রিম দেওয়া যায়...
...তাহলে মোটামুটি ভালো আশা করা যায়। কি বলিস?
আচ্ছা, মামা।
- বাবা। - হ্যাঁ, বাবা?
এটিএম-এ গিয়ে ৫০০০ টাকা নিয়ে এসো।
- অগ্রিম টাকা দিতে হবে। - আচ্ছা।
আমি আসতে হবে, নাকি নিজেই পারবেন?
আমাকে কি সবসময় পিন নাম্বার বলে দেওয়া লাগবে?
তুমি তো বলেছ যে, পিন নাম্বারটা কাউকে না বলতে।
৪৬৪৮। আমি কাউকেই কিছু বলবো না।
তোর বাবা পারেও বটে!
চশমা পরে দেখো আবার কোথায় চলে যাবে!
'এই বয়সেও কি গেটআপ তার!'
- হুম, বলো। - কোথায় তুমি?
- এখনো বের হওনি? - আমার বাবা আজ চলে যাবে।
আমি কাল যাবো।
আমাকে বিয়েতে নিমন্ত্রণ করবে না?
তুমি বিয়েতে থাকার দরকার নেই।
- বিয়ের রিসিপশনে থাকলে হবে। - কেন?
- তুমি অনেক সুন্দর তো। - 'ওরে বাপরে!'
'আমার পরিবারও তোমাকে হয়তো পছন্দ করে ফেলবে'
তারা তখন বলবে এরপর আমারও বিয়ে করা উচিৎ।
আমার পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব সবাই তখন তোমাকে জোর করবে আমাকে বিয়ে করার জন্য।
তুমি তখন-
না রে ভাগিনা, অতিথিরা তার চেয়ে বেশি আগ্রহ দেখাবে খাবার কোনদিকে দিচ্ছে, তার উপর।
'তোর জন্য মেয়ে খুঁজবে, তাদের যেন দায় পড়েছে।'
তারা যদি এত ভালো মানুষ হতো, আমাকে এতদিন বিয়ে না করে থাকতে হতো?
আর কতদিন এভাবে চুলা সামলাবো?
উনি কে?
'আর কতদিন একা থাকবো?'
আমার রোগী এসে গেছে, পরে কথা হবে।
কত বড় পা, ভাগিনার। জুতার সাইজ কত তার!
তোর পা, পা, পায়ের কথা বলছি।
'তোর চেয়ে বেশি বুদ্ধি তো আমার, তাই হিংসা করছিস!'
♪ "Gold earring belonging to my mother ♪ ♪ Flicked away by my father" ♪
♪ "Liquor bottle saved by my father ♪ ♪ In 1 gulp guzzled by my mother" ♪
[বিখ্যাত মালায়ালাম গান]
মামা, ছিঃ!
এটা কি পড়েছো?
আমি কিছু করার জন্য, শরীরে শক্তি জাগাচ্ছি!
বাবা এখনো এলো না কেন, বলো তো।
এখনো এটিএম থেকে আসেনি?
আমি বলেছিলাম একসাথে যাই। শুনেছে আমার কথা?
হয়তো কোনো ড্রেনে পড়ে গেছে, এখন পরিষ্কার হচ্ছে।
- তোমার প্যান্ট পরে নাও। - আচ্ছা, তুই যা।
মোবাইলটাও এখানে রেখে গেছে
- ফোন কেন ফেলে এসেছো? - দাঁড়া, আমি আসছি।
টাকা তুলেছো?
- না - কেন?
কার্ডটা পঁচে গেছে। কি যেন বলছে।
- পঁচে গেছে? - হ্যাঁ
এটা কি কলা, যে পঁচে যাবে?
হয়তো তুমি ঠিকভাবে করো নি।
আমাকে ও যেভাবে দেখিয়েছিলো, সেভাবেই করেছি।
- টাকা আসতেই চাইছে না। - এবার আসবে।
'আমিও এভাবেই করেছি।'
- এরপরে কি করে? - পিন নাম্বার দিতে হয়।
দাও।
৪৬
৪৮
- রাঙ্গাস্বামী কার নাম? - আমার।
- এরপরে কি করবে? - টাকার পরিমাণ।
- কত? - ৫০০০
লিখো।
৫, ৫০, ৫০০, ৫০০০
আগেও যখন এসেছি, এ কথাই বলছিলো।
আমাকে দাও তো কার্ডটা।
৪৬৪৮
আমাকেও এমন একটা কাগজের সাথে কার্ডটা ফেরত দিয়ে দিয়েছে।
'কার্ডটাতে মনে হয় কোনো সমস্যা হয়েছে'
'আমাদের কার্ডটা পাল্টিয়ে নিতে হবে'
'কি যেন হয়েছে'
টাকা কেন বের হয় না।
- বাবা, ব্যাংকে চলো। - ঠিক বলেছিস।
বেকার মেশিন!
আজ রাতে চেক করে দেখবেন। তখন অ্যাক্টিভেট করে দেবো
- স্যার, বলুন। - উনি আমার বাবা।
উনার অ্যাকাউন্ট থেকে ১০ লাখ টাকা পাওয়া যাচ্ছে না।
কি বলছিস?
- টাকা নেই? - টাকা পাচ্ছেন না?
আপনারা টাকা তোলার পর কেউ ডাকাতি করে নেয় নি তো?
না, স্যার, সরাসরি অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হয়ে গেছে।
সেটা কীভাবে সম্ভব, স্যার?
- আপনার অ্যাকাউন্ট নাম্বারটা বলুন তো। - ৮৭৪৭২৯৮৪৭২
দাঁড়ান, আমাকে দেখতে দিন।
আপনারা নিজেরাই টাকাটা তুলেছেন।
এই দেখুন, হিসাব।
আমরা কোনো টাকা তুলি নি।
টাকা আপনার অ্যাকাউন্ট থেকেই তোলা হয়েছে, স্যার।
আপনারাই শুধু এখান থেকে টাকা তুলতে পারবেন।
না, স্যার, আমি একদম নিশ্চিত।
এত পরিমাণ টাকা, আমরা একসাথে কীভাবে তুলতে পারি?
সব অনলাইনেই হয়েছে।
আর কেই বা করতে পারে?
সত্যি বলছি, আমার বাবা অনলাইন বা ইন্টারনেট সম্বন্ধে কিছুই জানে না।
আপনি আপনার ইউজার আইডি বা পাসওয়ার্ড কাউকে বলেছেন?
আমি এতকিছু জানি না, স্যার।
৪৬৪৮। আমি শুধু এতটুকুই জানি, স্যার।
উনি এর বেশি কিছু জানেন না, স্যার।
এখানে সবকিছু দ্বিগুণ নিরাপত্তা দিয়ে ঠিক করা।
আপনি ছাড়া অন্য কেউ আপনার অ্যাকাউন্টে হাতও দিতে পারবে না।
সত্যি বলছি, স্যার। এগুলো সম্পর্কে আমরা কিছুই জানি না।
আমার কথা শুনুন।
থানায় গিয়ে একটা কমপ্ল্যান করে আসুন। আমাকে সেটার ১ কপি দিন।
আমরা আমাদের যথাসাধ্য আপনাকে সাহায্য করার চেষ্টা করবো।
আমরা তো কোনো টাকাই তুলি নি।
আর উনি বলছেন, অ্যাকাউন্টে টাকা নেই। এটা কেমন কথা।
আরে দোকানটাও যে নেই।
কি হচ্ছে এসব?
ওখানে দোকানটার কি হয়েছে?
'১ মাস ধরেই দোকানটা খোলা ছিলো। গত ২ দিন ধরে বন্ধ আছে।'
চল তাহলে থানায় গিয়ে কমপ্ল্যান করি।
বাবা, চুপ থাকো।
তুমি ২৯সি বাস ধরে যাও। আমি এদিকে দেখছি।
আমিও যাই-
কাথির, বল
- একটু উপকার কর - কি হয়েছে রে?
কেউ আমার টাকা তুলে ফেলেছে
কি?
তোর টাকা পাওয়া যাচ্ছে না?
আমাকে অ্যাকাউন্ট নাম্বারটা বল তো?
বল, আমি লিখছি।
আমাকে অ্যাকাউন্ট নাম্বারটা বল।
কাথির, এই টাকাটা তো ব্রাজিলের একটা অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।
- ব্রাজিল? - হ্যাঁ।
কোনো কম্পিউটার ডিলার কোম্পানির নামে।
আচ্ছা, আমাকে ওই কোম্পানির ফোন নাম্বারটা দে।
- দাঁড়া, তোকে মেসেজে পাঠাচ্ছি। - তাড়াতাড়ি।
[পর্তুগীজ ভাষা]
কি বলছিস? টাকা গায়েব হয়ে গেছে?
[পর্তুগীজ ভাষা]
এটা ব্রাজিলের অ্যাকাউন্ট, মেজর।
আমাদের সেখানে কিছু করার ক্ষমতা নেই।
[পর্তুগীজ ভাষা]
পুলিশের সাথে কথা বলে কোনো লাভ হবে না, মেজর।
[পর্তুগীজ ভাষা]
কাথির, আমার বান্ধবীর বাবা পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার।
উনার সাথে দেখা করলে, কোনো সমাধান অবশ্যই হবে।
তুমি ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছিলে যাতে একটা অনলাইন সেন্টার খুলে তার জন্য কম্পিউটার কিনতে পারো।
- ঠিক তো? - হ্যাঁ, স্যার।
'এই স্টেটমেন্টটা-র ব্যাপারে কি বলবে?'
এখানে দেখাচ্ছে যে, কম্পিউটার কেনা হয়ে গেছে।
স্যার, এই স্টেটমেন্ট অনুযায়ী, এই অ্যাকাউন্টের সবকিছু ব্রাজিলের।
ওদের ফোন করলে কি একটা অপরিচিত ভাষার কথা শুনতে পাওয়া যায়।
আমি কোথায় যাবো বুঝতে পারছি না। তাই আপনার কাছে এসেছি।
আচ্ছা।
কম্পিউটারের অর্ডার আর গায়েব হওয়া টাকা, সব বুঝলাম যে ব্রাজিলে আছে।
তুমি ডেলিভারি ফর্মে কি ঠিকানা দিয়েছিলে?
আম্বাত্তুর, স্যার।
আম্বাত্তুর-এ কি সত্যিই তোমাদের দোকান আছে?
না, স্যার।
তাহলে এই কেইসে সর্বপ্রথম প্রতারক হচ্ছো তুমি নিজে।
তুমি সরকারী কাগজ নকল করেছো।
এর মানে সরকারের সঙ্গে প্রতারণা করা।
একটা প্রাইভেট ব্যাংক-কে মিথ্যে বলেছো।
আর এখন মিথ্যে কমপ্ল্যান লেখাতে এসেছো?
এই সব কিছুর জন্য তোমাকে সোজা জেলে পাঠানো হবে।
দেড় বছরের জন্য জরিমানা সহ জেল।
ঠিক হবে সেটা?
নয় তো কি?
একজন অপরিচিত লোককে বিশ্বাস করে তুমি তোমার সব তথ্য দিয়ে দেবে?
ও তোমাদের ধোঁকা দিয়েছে।
তুমি তার সাথে এসেছো, এইজন্য শুধু তোমার সাথে বসে কথা বলছি।
আমার ডিউটির সময় যদি আসতে...
তোমাকে সোজা নিয়ে জেলে ঢোকাতাম।
আমি এমন হাজারো কেইস পাই প্রত্যেকদিন।
তারা সবাই সাধারণ লোক।
কিন্তু তুমি তো একজন মিলিটারি অফিসার। তোমার কাছে কি এই আক্কেল টা নেই?
কথা শোনো।
অফিসিয়ালি কিছুই করা সম্ভব না।
ব্যক্তিগতভাবে চাইলে কিছু করতে পারো।
যাও এখন।
হেই, কথা শোনো, মাসে মাসে সুদসহ টাকা দিতে ভুলিয়ো না।
'নয়তো ব্যাংক অফিসার সোজা দোকানের খোঁজে চলে যাবে।'
'যখন খুঁজে পাবে যে তোমাদের কোনো দোকানই নেই, তোমার জায়গা হবে সোজা জেলে!'
এই অবস্থায় সেলভির বিয়েও দিতে পারবো না।
আমরা পুলিশের কাছেও কোনো কমপ্ল্যান করতে পারবো না।
বুঝতে পারছি না যে, কি করবো।
টাকা কি আর ফিরে পাবো?
নিমন্ত্রণ পত্রও ছাপানো হয়ে গেছে।
মনে হচ্ছে বিরাট একটা ভুল করে ফেলেছি, মামা।
কাথির, এভাবে ভেঙ্গে পড়ো না।
এখন তুমি ভেঙ্গে পড়লে তোমার পরিবারকে কে সামলাবে?
'সব ঠিক হয়ে যাবে, চিন্তা করো না'
কাথির
আমরা অন্য কোনো ব্যাংক থেকে না হয় আবার ১০ লাখ টাকা লোন নিই?
শুধু ১০ লাখ কেন?
৩০ লাখ?
৫০ লাখও নেওয়া যায়।
তোমার কাছে লজ্জা, শরম, ঘৃণা, আত্মসম্মান বলতে কিছুই নেই।
তোমার তো ঋণ শোধ করার মতো মানসিকতাও আজ পর্যন্ত ছিলো না।
কিন্তু আমাকে সেই টাকা ফিরিয়ে দিতে হয়।
তুমি তো নির্লজ্জের মতো মানুষের কাছে হাত পাততে পারো।
এদিক ওদিকে সবার কাছ থেকে টাকা নিতে নিতে আমার জীবনটাই বরবাদ করে দিয়েছো।
টাকা নেওয়ার সময় খেয়াল থাকে না।
পাওনাদার টাকা চাইতে এলে তখন গিয়ে নিজের মুখ লুকাও।
নয়তো লজ্জায় একটু মাথা ঝোঁকাও।
আমি বলেছিলাম না তোমাকে?
কোনো দরকার নেই এসব ঝামেলার।
সব হয়েছে তোমার জন্য।
আমি এতো কষ্ট করে আজ এই পর্যায়ে এসেছি।
আর ওই পুলিশ অফিসার আজ আমাকে প্রতারক বলে দিলো।
আমি তোমার জন্য অনেক কষ্ট সহ্য করেছি।
কিন্তু আজ...
আমাকে অপমানিত হতে হলো।
শেষ পর্যন্ত আজ আমাকেও তুমি নিজের মতো অন্যদের সামনে মাথা ঝোঁকাতে বাধ্য করলে।
না, ভাগিনা।
তুমি ধারদেনা করতে করতে আমার মা-টা কে মেরে ফেলেছো।
আর এবার আমাকেও মারতে বসেছো।
এরপর আমার বোন-টা কে মারবে।
এভাবে বলিস না-
কিন্তু তুমি ধারদেনা করেই সবসময় সুখী থাকবে।
দূর হও সামনে থেকে!
বাবা
আমি তোমার উপর হাত-পা কিছু চালিয়ে দিবো।
কাথির!
যাও, বাবা।
যেতে বলছিনা!
ওই ৬ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে পেয়েছি, স্বীকার করছি।
কিন্তু বাকি ৪ লাখ টাকা আমার মায়ের রক্ত ঘামানো সেলাই মেশিন চালিয়ে জমানো টাকা।
ওই টাকা আমি ফেরত চাই।
আমি এতো সহজে তা ছাড়বো না।
ভাগিনা।
'তোর কথামত, লোন অ্যাজেন্ট, হরি, নামের কারও নাম্বার এখানে রেজিস্ট্রেশন করা নেই'
'এখানে একটা সিইউজি কোম্পানির নাম আছে।'
'কোন কোম্পানি?'
'এটা একটা আমদানি-রপ্তানি কারক কোম্পানি'
'ভাদাপালানি-তে'
এখানে 'অফশোর ইন্টারন্যাশনাল' নামে কোম্পানিটা কোথায়?
এমন নাম তো আগে শুনিনি।
গত ৫ বছর যাবত আমি এখানে কাজ করছি।
'এমন কোনো কোম্পানিই তো নেই'
আলবার্ট, সেখানে ওই নামের কোনো কোম্পানিই নেই।
তুই কোনো সিইউজি নাম্বারের কথা বলেছিলি।
ওই গ্রুপে অন্য কোনো নাম্বার আছে কিনা দেখ তো
১ মিনিট, আমাকে দেখতে দে।
মোট ২৩টা নাম্বার রেজিস্টার করা আছে।
'হেই! একটা নাম্বার অ্যাকটিভ করা আছে'
- আছে? - 'হ্যাঁ।'
আমাকে কোন জায়গায় আছে নাম্বারটা, সেটা বল।?
'ধন্যবাদ লাগবে না, স্যার। শুধু ১০%'
'৮ লাখ টাকা লোন নেবেন, আমাকে ৮০ হাজার টাকা দিলেই চলবে।'
নগদ না, আমাকে চেকে দেবেন'
আপনার ২০১০, ২০১১, ২০১২ সালের মোট ৩ টা পাসপোর্ট সাইজ ছবি আনবেন।
আমি বাকি কাগজপত্র তৈরি করছি। আপনারা চিন্তা করবেন না। যাই তাহলে।
আমাকে মারবেন না, স্যার।
আমার টাকা কোথায়, বল।
স্যার, এই বাচ্চাটাকে দেখুন। এটা আমার মেয়ে।
আমার ছোট বাচ্চা আছে, স্যার।
খুব ভালো করেই জানি আমার দুর্বলতার সুযোগ নিতে চাইছিস।
আমাকে ভালোয় ভালোয় সব বল।
বল, বলছি।
আমি বলছি, স্যার।
আপনি পুলিশের কাছে যাবেন না তো?
ফোন রিসিভ কর।
ধর বলছি।
কথা বল।
স্যার, এটা আপনার কল।
'তোমার দাদা তোমার সাথে কথা বলেছে?'
'বলেছে'
'ও আমাদের বিয়ের জন্য সব টাকা জোগাড় করছে।'
'এতদিন তোমাকে নিয়ে কত স্বপ্ন দেখেছি'
'বিয়ে পর্যন্ত আর তর সইছে না'
'কি মতলব তোমার?'
'কেন? তুমি জানো না!'
এই দুইজনকে ক্ষমা করে দিও।
'কেউ যে তাদের কথা শুনছে, এ ব্যাপারে তাদের বিন্দুমাত্র ধারনা ছিলো না।'
কোনো ভুল করেনি।
'ওদের বলাতে কোনো ভুল ছিলো না, আর আমার শোনা তে ও কোনো ভুল ছিলো না।'
কিন্তু তুমি যে ওখানে দাঁড়িয়ে আছো।
'সেটা অনেক বড় ভুল'
হাতটা সরাও!
যদি আর ১ কদম সামনে আগাও
...তোমার বোনের এই ফোন রেকর্ড ভাইরাল হয়ে যাবে।
আর তার পরের কদম নেওয়ার সাথে সাথে...
'...আমি তোমার বোনের ফেসবুক ওয়ালে তা পোস্ট করে দেবো'
তোমার মনে হয় তুমি আমাকে ওর মাধ্যমে ধরতে পারবে?
'আমার কাছে'
...তোমরা সবাই একটা সাধারণ নাম্বার ছাড়া আর কিছুই না।
'যতক্ষণ পর্যন্ত নাম্বার হিসেবেই থাকবে, সব ঠিক থাকবে'
কিন্তু প্রতিপক্ষ সাজার চেষ্টা করলে, ধুলোয় মিশিয়ে দেবো।
ঠিক.....
এইভাবে
ব
বা
বাং
বাংল
বাংলা
বাংলা
বাংলা অ
বাংলা অন
বাংলা অনু
বাংলা অনুব
বাংলা অনুবা
বাংলা অনুবাদ
বাংলা অনুবাদে
বাংলা অনুবাদে:
বাংলা অনুবাদে:
বাংলা অনুবাদে:
বাংলা অনুবাদে: অ
বাংলা অনুবাদে: অন
বাংলা অনুবাদে: অনন
বাংলা অনুবাদে: অনন্
বাংলা অনুবাদে: অনন্য
বাংলা অনুবাদে: অনন্য
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দ
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দে
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেব
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবন
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনা
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (S
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh.
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh.A
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh.AD
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh.ADN
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh.ADN)
- 'ভাগিনা?' - হুম, মামা।
- 'বাসায় গিয়েছিস?' - হুম। তুমি কোথায়?
'আমি এখনো বারে আছি।'
'ভাগিনা, কাল তোর বাবাকে এভাবে বলতে গেলি কেন?'
'আমরা ছাড়া উনার আর কে আছে'
'বেচারা! উনি মনে অনেক দুঃখ পেয়েছেন'
বাবা
খেতে চলো, বাবা।
বাবা।
খেতে চলো।
এখন কাঁদছো কেন?
আমার কালকে মেজাজ খারাপ ছিলো।
এখনো সেটা নিয়ে পরে থাকবে?
আমি তোমার উপরে রাগ করেছিলাম শুধু, বাবা।
আমি তোমাকে ঘৃণা করি না। আমার রাগ নেই এখন আর।
শুধু কয়েকটা টাকাই তো?
বাদ দাও।
কিন্তু তোমাকে আর এভাবে দেখতে পারবো না।
আমাকে মাফ করে দে।
কি বলছো এসব?
এসো, খেতে এসো।
কেন, বাবা?
বিষ-
কি...?
আমি বিষ খেয়েছি, কাথির।
- কি বলছো, বাবা? - হঠাৎ অপমানের ঝোঁকে...
বাবা, রক্ত বেরোচ্ছে।
বাবা।
কাথির।
তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিলো?
সবসময় কি এভাবে নিজের মর্জি মতো চলবে?
আমাকে তুই প্রায়শই এটা বলিস।
'আমার লজ্জা, শরম, ঘৃণা, আত্মসম্মান, অপমানবোধ এসব কিছুই নেই?'
সত্যি আমার এসব কিছুই নেই।
তোর মা খুব অসুস্থ ছিলো।
ডাক্তার বলেছিলো যে, ও শুধু আর এক বচর বাঁচবে।
তুই আর তোর বোন তখন খুব ছোট ছিলি।
তোদের আমি কীভাবে এ কথা বলতাম যে, 'তোদের মা আর এক বছর বাঁচবে'?
আমি যেখান থেকে হোক, যেভাবে হোক, শুধু টাকা ধার করতাম।
আমি জানি
...আমি সেসব কখনোই শোধ করতে পারবো না।
তোদের মা, যার কি না শুধুমাত্র আর এক বছর বাঁচার কথা
...৩ বছর।
তোদের জন্য আমি তার মৃত্যুকে ৩ বছর পর্যন্ত আঁটকে রেখেছিলাম।
এই কারণেই আমি সবার কাছ থেকে টাকা ধার করতাম।
তোকে আজ বলছি
আমার সন্তানদের খুশির জন্য...
...আমি যে কারও পায়ে পড়তে রাজী আছি।
'যে কোনো পরিমাণ টাকা ধার করতে রাজী আছি'
তুই সাহস রাখ।
আমি তোদের সাথে আছি।
তোর বোনের বিয়ে খুব ধুমধাম আর-
'স্যার, আপনার এত কথা বলা ঠিক নয়'
'আপনি বিশ্রাম করুন'
আমি তো আমার ছেলের সাথে-
'রোগীকে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে দিন। আপনি বাইরে অপেক্ষা করুন, স্যার।'
'চিন্তা করিস না, সেলভি, তোর বাবা ঠিক হয়ে যাবে।'
'উনার অবস্থা খারাপ দেখে এখানে ভর্তি করিয়েছি।'
দাদা, বাবা কেমন আছে?
অনেকটা সুস্থ
দেখা করতে পারবো?
উনি এখন ঘুমাচ্ছে।
কাল সকালে উনাকে ছেড়ে দেবে।
সেলভি-কে এ কথা ভুলেও জানানো যাবে না যে, তার বাবা বিষ খেয়েছে।
তুমিও বলবে না।
'এই দুইজনকে ক্ষমা করে দিও'
'কেউ যে তাদের কথা শুনছে, এ ব্যাপারে তাদের বিন্দুমাত্র ধারনা ছিলো না।'
১ মিনিট।
সেলভি, তোর মোবাইলটা দে তো।
আমি পরে কথা বলবো।
মেজর, এই ফোনটা বন্ধ করেছি ১০ মিনিট হয়ে গেছে।
কিন্তু ব্যাটারি এখনো গরম হয়ে আছে।
ভিতরে এখনো কোনো সফটওয়্যার চলছে।
মেজর, মোবাইলটার সুইচ অন করে আমাকে দিন।
মোবাইল নাম্বারটা বলুন।
আমি কলটা এক্ষুণি কেটে দেবো।
এদিকে দেখুন, কেটে দেওয়ার ৩ সেকেন্ড পরেও কলটা চলতে থাকে।
'এই সিমটা-ও হ্যাক হয়েছে, মেজর'
শুধু তাই নয়, ও চাইলে আপনার সাধারণ ফোনকল-ও শুনতে পারে।
হ্যাকার কে কি সনাক্ত করা সম্ভব না?
তাকে হ্যাকার এই কারণেই বলা হয়, তাকে কখনো সনাক্ত করা যায় না!
আমরা সবাই এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করি।
যখন কোনো অ্যাপ ইন্সটল করি, লেখাগুলো ভালো করে না পড়েই...
...সব ধরনের পারমিশনে অ্যালাউ, অ্যালাউ, অ্যালাউ দিতে থাকি।
এতে করে শুধু অ্যাপটা-কে নয়, আমরা হ্যাকারদের আমাদের ব্যক্তিগতজীবনে প্রবেশ করার অনুমতি দিয়ে দিই।
মেজর, আপনি হয়তো কখনো লেখা ছাড়া খালি মেসেজ পেয়েছিলেন।
'আপনার হয়তো মনেও নেই'
কিন্তু যেই মুহূর্তে আপনি সেটা ওপেন করেছেন। আপনার সব তথ্য হ্যাকার এর কাছে চলে গেছে।
এই সবকিছু কেউ হ্যাক করে ফেলেছে।
এর থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই?
শুধু ১ টাই উপায় আছে।
স্মার্টফোন একদমই ব্যবহার করবেন না।
ও আপনার মোবাইলের জিপিএস দিয়ে আপনার অবস্থান সনাক্ত করতে পারে।
'আপনার বাবার সাধারণ মোবাইলটা ব্যবহার করুন, মেজর। যেটাতে একদমই কোনো অ্যাপ নেই।'
'ও আপনার অবস্থান জানা তো দূর, আপনার আর কোনো তথ্যই জানতে পারবে না।'
সেলভির ফোন হ্যাক করেছে না হয় বুঝলাম।
কিন্তু সেলভি যে আমার বোন, ও সেটা কীভাবে জানলো?
আমার মাথায় কিছুই আসছে না।
ও কিছুই বের করেনি। তুই নিজে থেকেই ওকে জানিয়েছিস সব।
আমি...?
হ্যাঁ, তুই নিজের সম্বন্ধে সব তথ্য ওকে দিয়েছিস।
এই দেখ।
গত মাসেই তুই ৩০ টা ছবি আপলোড করেছিস।
তুই নিজের ব্যক্তিগতজীবন ওর সামনে তুলে ধরেছিস।
শোন তাহলে।
গত মাসে এক লোক 'কোদাম্বাক্কাম'-এ একটা মেয়েকে কিডন্যাপ করেছিলো।
মেয়েটার ব্যাপারে সে তথ্য পেলো কীভাবে?
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে হাই তোলার সাথে সাথে...
...তার মা তার সাথে সেলফি নিতো।
'তারপর গোসল থেকে শুরু করে নাস্তা করা, সব কাজে সেলফি'
'যখন স্কুল ছুটি হতো, একেবারে টাইমিং সহ সেলফি দিতো।!'
ওর পছন্দের রঙের আইসক্রিম সহ সেলফি দিতো।
কিডন্যাপার ফেসবুক থেকেই জেনে গিয়েছিলো যে, দুপুর ১২টায় হচ্ছে মেয়েটার আইসক্রিম টাইম।
মেয়েটার পছন্দের রঙের আইসক্রিম কিনে, মেয়েটাকে কিডন্যাপ করে।
'অপরাধীকে যত দোষ দিই আমরা!'
'অথচ সব তথ্য ওদের আমরাই দিয়ে থাকি'
কাথির, ও তোমার সাথে কথা বলবে
- এই যে। - স্যার, আমার নাম, বসন্ত।
এক বছর আগে আমার মায়ের চিকিৎসার জন্য আমার টাকার প্রয়োজন ছিলো।
আমাদের ওখানে কোনো মেডিকেল লোন দেওয়া হয় না।
তাছাড়া ৫০ বছরের উর্দ্ধের কাউকে ইনস্যুরেন্স এর টাকাও দেওয়া হয় না!
আমাকে নকল কাগজপত্র বানিয়ে লোন নিতে হয়েছিলো।
কিন্তু মায়ের হাসপাতালে ভর্তির একদিন পরেই...
...কেউ পুরো অ্যাকাউন্টের টাকাটা চুরি করে ফেলে।
আমি পরে তা নিয়ে আর মাথা ঘামাই নি।
কিন্তু আমি আমার মা-কে আর বাঁচাতে পারিনি।
কিই বা করার ছিলো?
আমি উনার কাছে আসায়
উনি বললেন যে, আপনিও নাকি আমার মতো একই সমস্যায় পড়েছেন।
জানিনা আরও কত সাধারণ লোক এই ধোঁকার শিকার হবে।
ওর মায়ের মৃত্যুর জন্য কে দায়ী, তা না বের করে...
...সে নিজেকেই নিজে দোষ দিচ্ছে।
তুমি তার মতো কোনো সাধারণ লোক নয়।
তুমি একজন সৈনিক।
প্রথমে তুমি শুধু নিজেকে নিয়েই ভাবতে।
এরপর তুমি পরিবারের সাথে বন্ধন ঠিক করেছো।
যখন তারা একটা সমস্যায় পড়েছে...
...তুমি প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছো।
তোমার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য, এটা কোনো ব্যক্তিগত ব্যাপার নয়।
এখানে সর্বসাধারণের বিষয় জড়িয়ে আছে।
এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নাও।
খুঁজে বের করো।
কিন্তু প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য নয়।
ন্যায্য বিচারের আশায় করো।
'স্যার, আমি ইমেইল পেয়েছিলাম যে, আমি ৫ লাখ টাকা লটারি-তে জিতেছি।'
'আমি যখন ওই লিংকে ক্লিক করি, কিছু লোক আমাকে ফোন করে।'
'ওরা বললো, আমার পুরষ্কার আমার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হবে, আমাকে যেটা করতে হবে...'
'...এয়ারপোর্টে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা জমা করে আসতে হবে।'
'আমি টাকা নিয়ে গিয়ে তা দিয়ে আসি'
'তারপরে আমি জানতে পারি, কাস্টম অফিস এয়ারপোর্টে ছিলোই না!'
'আমি বাজেভাবে প্রতারিত হয়েছিলাম, স্যার'
আমাকে পিওন এসে মাসে মাসে পেনশনের টাকা দিয়ে যেতো।
এক বছর আগে, 'ডিজিটাল এইজ' শুরু হওয়ার পর
আমাকে সাইন করতে বলে বলা হয় যে, আমার সব টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
ব্যস, স্যার।
আমি যখন পেনশন অফিসে যাই, তারা বলে যে সব টাকা তারা ব্যাংকে পাঠিয়ে দিয়েছে।
আমি ব্যাংকে গিয়ে জিজ্ঞেস করায় তারা বলে, টাকা একদমই আসেনি তাদের কাছে।
স্যার, টাকাটা তাহলে গেলো কোথায়?
আমার ছেলের লেখাপড়ার জন্য...
...দিনরাত পরিশ্রম করে আমি ব্যাংকে ২ লাখ টাকা জমা করেছিলাম।
কয়েক সপ্তাহ পর আমি যখন ব্যাংকে যাই, টাকাটা তোলার জন্য
...আমাকে বলা হয় যে, আমি নাকি সব টাকা নিজেই উঠিয়ে ফেলেছি, এটিএম কার্ড দিয়ে।
ঘরে টাকা রাখাটা নিরাপদ নয় ভেবে আমি টাকাটা ব্যাংকে রেখেছিলাম।
সবগুলো এটিএম সার্ভার মেশিনে...
...একটা সুইচ থাকে।
আপনি এটিএম মেশিনে কার্ড দিয়ে পিন নাম্বার চাপেন, তাই তো?
ওই সময়ে আপনার ব্যাংকার...
...ওই সুইচটা খুলে আপনার অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য চেক করে।
মাঝখানের এ সময়টাতে...
...এই চোরেরা
...সামান্য কিছু টাকা চুরি করে ফেলে।
আর আমরা ভাবি ব্যাংক হয়তো টাকাটা কমিশন হিসেবে নিয়েছে।
আমরা ব্যাংক-কে গালাগালি করে সব মেনে নিই।
আগে টাকা চুরি করার জন্য মানুষকে ধোঁকা দিতে হতো।
কিন্তু আজকাল মানুষের বিশ্বস্ত কম্পিউটারকে তারা ধোঁকা দিয়ে টাকা চুরি করছে।
উপরওয়ালাই জানে, কোন রাজ্যে বা দেশে এরা বসে আছে।
আপনি চেষ্টা ছেড়ে দিন ওদের ধরা অসম্ভব।
আমার কাছে এটা ভালো ঠেকছে না।
চল অন্যখানে চেষ্টা করে দেখি।
ভাই, ভাবলাম আপনি এতোদিনে হয়তো বার্সেলোনায় সেটেল হয়ে গেছেন।
- এখনো দেখি উনার সাথে আছেন। - উটকো ঝামেলা!
আমি একটু সমস্যায় আছি।
- কি হয়েছে, ভাই? - আমার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা গায়েব হয়ে গেছে!
কত টাকা, ভাই?
১০ লাখ।
১০ লাখ?
উনাকে কেন বলছিস? চল যাই।
ভাই, একটা ছোট্ট আইডিয়া আছে।
আসুন কথা বলা যাক।
আসুন, আমি বলছি।
আমি এই ব্যাংকের একজন কর্মচারী
আমি এই জিনিস সবাইকে বলি না।
খুব কম লোককেই আমি এটা বলে থাকি।
অনেক লোকেরই আমাদের ব্যাংকে এমন ৪০ হাজার, ৫০ হাজার টাকা চুরি হয়ে যায়।
আমাদের ব্যাংকে তারা সেটা জানাতে আসে। কিন্তু কোনো কাজই হয় না।
আমাদের ব্যাংকের সিস্টেম ঠিক করার জন্য রিটছি স্ট্রিট এর সালমান নামে একটা ছেলে আসে।
সে সামান্য কমিশন নিয়ে আপনার টাকা ফিরিয়ে দিতে পারবে।
তাকে ১০ লাখের কথা বলবেন না।
'ভয় পেয়ে যেতে পারে'
ওকে বলবেন ৫০ হাজার টাকা। আর বলবেন তুলে দিতে।
'রিটছি স্ট্রিটের ৩নং দোকানটা'
'সালমান সিস্টেম রিপেয়ার অ্যান্ড সার্ভিস'
'ওকে গিয়ে আমার নাম বলবেন।'
এই যে দোকানটা
এখানে সালমান খান কে?
আমিই সালমান। বলুন
জ্ঞানবেল আমাকে পাঠিয়েছে
আমার অ্যাকাউন্ট থেকে-
এক মিনিট, এক মিনিট ছোটু, দোকানের খেয়াল রাখ।
'আচ্ছা, ভাই'
আপনি সোজা দোকানে ঢুকে অ্যাকাউন্টের কথা বলা শুরু করলেন।
এসব কথা সবখানে বলা যায় না।
- কত টাকা? - ৫০ হাজার।
৫০ হাজার? অনেক টাকা।
আমাদের ছেলেদের মধ্যে কেউ নিয়ে থাকলে, আপনাকে ৩৫ হাজার টাকা ফিরিয়ে দিতে পারবো।
কি বলছেন?
এত টাকার মধ্যে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা ফেরত পাবো!
তো কি বলতে চান?
যদি আপনি কোর্ট বা পুলিশের কাছে যেতেন তারা পুরো টাকাটাই খেয়ে বসে থাকতো।
আপনি টাকা ফেরত চান না?
সামনে মোড়ে গিয়ে বামদিকে একটা দোকান দেখবেন, 'মিথু মোবাইল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস'
ওখানে রবার্ট নামে আমার একজন লোক আছে।
আমি ওর নাম্বার দিচ্ছি, নোট করে নিন।
'ওকে দোকানের বাইরে দাঁড়িয়ে কল করবেন।'
হ্যালো...তাই নাকি?
আচ্ছা
তোর বাবাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিচ্ছে।
তুমি যাও তাহলে। আমি এদিকে দেখছি।
- সাবধানে থাকিস তাহলে। - আচ্ছা।
'ভাই, মাত্র ১ সপ্তাহ আগে কিনলাম, ডিসপ্লে টা নষ্ট হয়ে গেছে'
'ঠিক করে দেন, ভাই, কি মোবাইল-'
আপনি এতো চেঁচাচ্ছেন কেন?
'কোনো গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি নেই, ঠিক করবো?'
আমি যা বলেছি, তার কম হবে না।
ভাই, আপনি হলেন নিজের মানুষের মতো।
'এভাবে বললে কেমনে হবে। একটু দেখুন না।'
আমি কত কাস্টমারকে এখানে নিয়ে আসি। আমার বন্ধুদেরও এখানে নিয়ে আসি।
আপনি কাল আসুন।
'- আমি এটা ঠিক করে রাখবো। - ধন্যবাদ, ভাই'
- স্যার, রবার্ট? - হ্যাঁ, আমিই রবার্ট
সালমান আমাকে পাঠিয়েছে
সালমান-
এই কমপ্লেক্সের ভিতরের দোকান
ও আমাকে আপনার নাম্বার দিয়ে বললো, আপনাকে আমার অ্যাকাউন্টের ব্যাপারে বলতে।
আমি আপনাকে এক্ষুণি কল করলাম।
আপনি আমার কল কেটে দিলেন।
না, আমার কাছে তো কোনো কল আসে নি।
স্যার, আমি আপনাকে এইমাত্র কল করেছি। আপনি কলটা কেটে দিয়েছেন।
আমি সকাল থেকে এখানে আছি, কিন্তু কোনো কল পাইনি।
স্যার, বলছে তো?
শুধু শুধু ঝামেলা কেন পাকাচ্ছেন।
- আমাকে একটা স্যামসাং এর চার্জার দাও। - ও কি চাইছে দেখ।
আপনি কার কথা বলছেন, আমি চিনি না।
সকাল সকাল কি সব সালমান, অ্যাকাউন্ট বলা শুরু করেছেন!
ফালতু লোক কোথাকার!
- কে রে ও? - জানি না।
'মনে হয়, ভুল দোকানে এসে পড়েছে'
'মডেল নাম্বার কত?'
'ভাই, আমি তোমাকে মেসেজ পাঠিয়েছিলাম'
'হেই, আমি আজ কোনো মেসেজই পাইনি'
- তুমি টাকা তুলেছো? - হ্যাঁ।
'সেটা জানিয়ে তোমার মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়েছে।'
'স্যার, এইসবগুলো অনলাইনের লেনদেন'
'আপনার মেসেজ পাওয়ার কথা, স্যার'
- আপনি এই মোবাইলে মেসেজ ব্লক করতে পারবেন? - কি...?
- আপনি মেসেজ ব্লক করতে পারবেন এই ফোনে? - পারবো না, স্যার।
আপনি কি কোনো নাম্বার থেকে এই মোবাইলে মেসেজ আসা ব্লক করতে পারবেন?
- ভাই, চা। - স্যার, আমরা এসব করি না।
- স্যার, আমাদের দোকানে আসুন। - যেতে পারেন, স্যার।
'রাস্তার মোড়ের চায়ের দোকানটাতে আসুন, স্যার।'
ভাই, একটা আদা চা।
বলুন, স্যার।
এটা কি আপনার নাম্বার না কি আপনার বউয়ের নাম্বার?
- বুঝলাম না। - আমাদের কাছে যেসব কাস্টমার আসে
...বেশিরভাগের বউয়ের সাথে জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট করা থাকে।
তারা তাদের বউয়ের অজান্তে টাকা নিতে গিয়ে ধরা খেয়ে যায়।
- আপনার কি কাহিনী, স্যার? - এটা আমার নিজের নাম্বার।
প্রায় ১৫ হাজার টাকা লাগবে, ঠিকাছে?
১৫ হাজার?
১৫ হাজার শুনে ভয় পাচ্ছেন কেন?
- এর কমে কেউ করে দেবে না। - তুমি ঠিকঠাক করে দিতে পারবে তো?
বাঁ হাতের খেল, স্যার।
ভাইকে এক কাপ চা দাও, আমি এক্ষুণি আসছি।
এক লোক ব্যাংক থেকে আসা মেসেজ ব্লক করতে চাইছে, নিয়ে আসবো?
আজ নয়, অন্য একদিন আসতে বল।
দেখতে তো সুবিধার মনে হচ্ছে।
১৫ হাজার টাকা খরচ করতে রাজি আছে।
আমি তাকে বসতে বলেছি।
এটা তার নিজের অ্যাকাউন্ট। ভালো করে জিজ্ঞেস করে দেখেছি।
কোনো সমস্যা হবে না।
- ওকে কোথায় বসতে বলেছিস? - আমাদের দোকানের সামনে।
আরে ওকে কেন নিয়ে এসেছিস?
আমি এক্ষুণি ওকে দূর করেছি।
তোকে ভালো করে চেক না করে, কাস্টমার আনতে নিষেধ করেছিলাম না?
কেন ঝামেলা পাকাস?
- যাকে তাকে নিয়ে আসবি? - কেন, ভাই?
- হ্যাঁ, স্যার? - মেসেজ ব্লক করা যাবে?
এখানে তেমন কিছুই হয় না, স্যার
ও যে বললো।
স্যার, ও চা বিক্রি করে। ও কীভাবে মোবাইলের ব্যাপারে জানবে?
হেই, যা তুই।
আচ্ছা,
আরেকজনের মোবাইলের কথা শোনা সম্ভব হবে?
স্যার, আপনি কোথায় কি বলছেন, জানেন?
আমরা এখানে এসব করি না।
- করেন না? - বলছি তো করি না।
যান, স্যার।
এক লোক নিজেকে অনেক বড় হিরো মনে করেছে।
৫ জন ছেলে নিয়ে চলে আয় তো।
আজ দারুণ করে ধোলাই হবে।
শোন, ১০ জন লোক নিয়ে আয় তুই।
আজ তার হাত-পা সব গুঁড়ো করবো।
বেশি বাড় বেড়েছে ওর।
গোপাল, তুই আসছিস তো?
'ও আমার পেছন পেছন আসছে'
শেখর-কে ও তোর সাথে নিয়ে আয়।
আজ তাকে জ্যান্ত ছাড়বো না।
'আজ ওকে এখানেই পুঁতে রেখে দেবো।'
হেই, জানিস না, এইদিকে আসতে মানা আছে?
যা...যা...যেতে থাক।
হেই, গোপাল...?
কোন জাহান্নামে ছিলি রে তোরা?
এতক্ষণ ধরে ডাকা লাগে?
বললাম না, আসতেছি, কি হয়েছে তোর?
শুধু ২ জন এসেছিস, বাকিরা কোথায়?
দাঁড়া, তো, বাকিরাও এসে যাবে।
কোথায় সে?
আসার সময়টা তো দেবে, এতবার কল করে?
হেই! দেখলি তো? শখ পূরণ হয়েছে?
আমরা এখানে ১৫ জন আছি, তোকে এখানেই জ্যান্ত পুঁতে দেবো।
কি আজব! এতো কিছু বলছি, অথচ একটু ভয়ও পাচ্ছে না।
এতো কথা বললে, ভয় কিভাবে পাবে?
মুখের উপর দুইটা পড়লে-
'কি রে, দোস্ত?'
'হেই, তোকে শেষবার সাবধান করছি'
'এ হচ্ছে, শেখর। গেঁড়ে দেবে।'
মার ওকে।
আমার টাকা কোথায়?
আমার টাকা কোথায়?
উত্তর দে।
- আমার টাকা কোথায়? - স্যার, কসম, আমি জানি না।
স্যার, বিশ্বাস করুন।
আমার টাকা কোথায়? বল
স্যার, আমি আপনার টাকা নিই নি।
কসম, আমি এই ব্যাপারে জানি না।
তাহলে আমার নাম্বার দেখে ভয় পেয়েছিলি কেন?
- বল। - বলছি, স্যার।
আমিই আপনার মোবাইলে ব্যাংক থেকে আসা সকল মেসেজ ব্লক করে দিয়েছি।
কীভাবে ব্লক করেছিস?
ডার্কনেট দিয়ে ব্লক করেছি, স্যার।
ডার্কনেট...?
- মানে...? - আমরা সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহার করে।
...অবৈধ কর্মকাণ্ড করতে পারি না।
কিন্তু আমরা ডার্কনেট দিয়ে তা করতে পারি।
একটা 'টর' নামক ব্রাউজার দিয়ে।
দ্য অনিয়ন(পেঁয়াজ) রিং!
'অনেকটা পেঁয়াজের মতোই'
'এর লেয়ার খুলতে খুলতে আপনি যতই ভেতরে যান না কেন, কিছুই পাবেন না!'
'আপনি যতই চেষ্টা করুন, কারও অবস্থান সনাক্ত করতে পারবেন না'
ডার্কনেট হচ্ছে সব অবৈধ কাজের ভান্ডার।
'কালোবাজারি অস্ত্র, শিশু পাচার'
'সন্ত্রাসবাদী, ড্রাগস'
এমনকি সিনেমা পাইরেসিও এখানে হয়ে থাকে।
এর পেছনের মূল হোতা টা কে?
তিনি কে তা আমি জানি না, স্যার।
আমি শুধু প্রত্যেক ইউজার আইডির জন্য, একটা করে ফোন নাম্বার পাই।
প্রথমে আমি সেটা হ্যাক করি, স্যার।
আমি ওই মোবাইল থেকে সব তথ্য বের করে আনি।
আপনার কথাবার্তা
আপনার মেসেজ, ওটিপি, সব বের করে আনি, স্যার।
এরপর আমাকে একটা তারিখ জানানো হয়, স্যার।
ওই তারিখে আমি আপনার মোবাইলে ব্যাংক থেকে আসা সকল মেসেজ ব্লক করে দিই।
এই সময়ের মধ্যেই আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা হয়।
আপনার ফোন কল।
সেভ করা ভিডিও
ব্যক্তিগত ছবি
আমি সবকিছু উনাকে জমা দিয়ে দিই।
উনি আমাকে এই কাজের জন্য কিছু পরিমাণ টাকা দিয়ে থাকেন।
ইউজার আইডিটার নাম কি?
হোয়াইট ডেভিল, স্যার।
ডার্কনেটের কিং পিন আইডি।
আমি এটাও জানি না যে, উনি কোন দেশ থেকে এসব পরিচালনা করছেন।
আমি উনার চেহারা কখনো দেখিনি।
উনার কণ্ঠও কখনো শুনিনি।
আমরা কখনো উনার কাছে পৌঁছাতে পারবো না।
উনি বর্তমান ডিজিটাল দুনিয়ার ডন!
ভয়
ছোটবেলায় বাবা-মা আমাদের খাবারের চেয়ে এটা বেশি করে খাওয়াতো...
...আমাদের অনুভূতির সাথে এই ভয়টা মিশিয়ে দিতো।
ভয়।
খাবার খাও, নয়তো এক চোখওয়ালা দৈত্য এসে তোমায় খেয়ে ফেলবে।
তাদের দেওয়া এই ভুল তথ্য নিয়েই..
...আমরা বড় হয়ে উঠেছি।
'১৯৬৯ সালে...'
...নাসা চাঁদে রকেট পাঠানোর জন্য যে সুপার কম্পিউটারটা ব্যবহার করেছিলো
...আজকে আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনটি
...তার চেয়েও লাখগুণ বেশি ক্ষমতাশালী ডিভাইস।
আগের যুগে যুদ্ধ হতো...
...অস্ত্র দিয়ে।
তারপরে শুরু হয়েছিলো, স্নায়ুযুদ্ধ।
আর এখন চলছে, সাইবার যুদ্ধ।
যেই ব্যক্তি তথ্যের সঠিক ব্যবহার জানে
...তার কাছে তখন আর সেটা সামান্য তথ্য নয়।
সেটা একটা অস্ত্র!
যদি সে চায়...
...যে কারও অবস্থান সে অনেক নিচে নামিয়ে দিতে পারে।
অথবা কারও অবস্থান...
...অনেক উঁচুতে নিয়ে যেতে পারে।
কি বুঝলেন, স্যার?
'ক্ষুদার কারণে খাদ্যের অনুসন্ধান'
'হেই! আমি লোনটা পাচ্ছি। আগামীকাল আমার অ্যাকাউন্টে জমা হবে'
'ছোট, ছোট গল্প কথন'
'এনকাউন্টার অর্ডার পেয়ে গেছি, ২ দিনের ভিতর তাকে মেরে দেবো, ভাই।'
'অন্যকে কষ্টদায়ক কাজ করা'
'আমার গাড়িতে একজন ধাক্কা খেয়েছে'
'ও ওই জায়গাতেই মারা গেছে'
'বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হও, আর কোনো প্রমাণ না রেখে চলে যাও'
'তোমাকে হোয়াটসঅ্যাপে যে ভিডিওটা পাঠিয়েছি, কেমন হয়েছে?'
জীবনে অন্য কাউকে অনুসরণ না করে নিজের মতো চলার কথা তামিলিয়ান কবি, ভারতী বলেছিলেন।
'এর মানে হচ্ছে...'
'...আমাদের অবশ্যই কিছু অর্জন করতে হবে'
জয় হিন্দ!
হেই! তুমি আমার অ্যাকাউন্ট এর ব্যাপারে কীভাবে জানো?
শুধু তাই নয়, স্যার।
আপনার অন্য গোপন অ্যাকাউন্ট।
৬০০ কোটি টাকা।
আপনার সেই অ্যাকাউন্টটা আঁটকে আছে। আপনি এই দেশে কোনো টাকা আনতে পারছেন না।
আমি আপনার ওই অ্যাকাউন্টের সবগুলো টাকা এই দেশে নিয়ে আসতে পারি
সেখানে আমাদের সরকার চলে না।
কত সরকার সেখানে নিযুক্ত আছে, জানো সেটা?
বিনিময়ে কি চাও তুমি?
আমি আপনার নিয়ন্ত্রণাধীন সকল স্যাটেলাইটের লিংক কোড চাই।
কি দরকার তা দিয়ে তোমার?
আমি হাজার চোখবিশিষ্ট মানুষ হতে চাই।
একটা ক্ষুদ্র ডাটাও যেন আমার নজর এড়িয়ে না যেতে পারে।
ইয়ারকি করছো তুমি?
তুমি জানো তার জন্য কত বড় সার্ভার ফার্ম থাকা লাগবে তোমার?
আমার ২ একর জুড়ে একটা বড় সার্ভার ফার্ম আছে।
সরকার জানে?
যেমন আপনার ৬০০ কোটির কথা সরকার জানে না?
একইভাবে।
'স্যার, ১ কোটি টাকার একটা লোন'
'যেভাবে হোক, ব্যবস্থা করুন, স্যার।'
কত নিরীহ লোকের জীবন তোরা এসব করেই শেষ করে দিচ্ছিস।
'এনার নাম, শিবকুমার'
ইনি এদের পরবর্তী শিকার।
তাহলে বসে আছো কেন? উনাকে ফোন করে সতর্ক করে দাও।
সেটা এখন গুরুত্বপূর্ণ নয়।
যদি আমরা তাকে অনুসরণ করি...
...আমরা তাহলে ঘটনার পেছনে থাকা, হোয়াইট ডেভিল-কে ধরার কোনো উপায় পেতে পারি।
সেটা কিভাবে সম্ভব হবে?
শিবকুমার ১ কোটি টাকা লোন নিচ্ছে।
'এটা অনেক বড় অ্যামাউন্ট।'
'তো যথাসম্ভব, হোয়াইট ডেভিল এই টাকাতে হাত দিতে চাইবে।'
আমরা শিবকুমারের ঠিকানা এই নাম্বার দিয়ে বের করেছি।
যদি আমার হিসাব সঠিক হয়...
'...শিবকুমারের টাকা আগামী ২ দিনের মধ্যেই 'কাপুট' থেকে নেওয়া হবে।'
'উনাকে আজকের মধ্যেই সব কাগজপত্র জমা দিয়ে অনুমোদন নিতে হবে।'
'আমরা যদি উনাকে অনুসরণ করতে থাকি, হোয়াইট ডেভিলের কাছে পোঁছানোর লিংকও পেয়ে যাবো'
শিবকুমার।
তুমি পালাতে কিংবা লুকোতে পারবে না।
'থামুন এবার। আমরা উনাকে ফলো করছি, মেজর।'
ওলা ক্যাব। টিএন ৮৫ সি ২১১৮
আপনি লালবাতি দেখতে পাচ্ছেন না?
'এত তাড়াহুড়ো কেন করছেন?'
এখানে কোনো পুলিশ নেই তো। আমাকে একটু যায়গা দিন, আমার তাড়া আছে।
আরে সিসিটিভি চালু আছে, তাই না?
তারা খুব সহজেই আপনাকে দেখে ফেলবে।
'আমি একবার এমন করতে গিয়ে'
'...ধরা খেয়ে জরিমানা দিতে হয়েছিলো'
'মেজর কাথিরাভান'
'হাত সরাও'
শিবকুমারের মোবাইলের সিগন্যাল এখন তাম্বারাম রেলস্টেশনের কাছ থেকে আসছে।
'শিবকুমার ১ নং প্লার্টফর্মে ঢুকেছে'
স্ক্রিনের কি হলো
সিগন্যালে সমস্যা বোধহয়।
পরের ক্যামেরাতে যা।
এখানে সাইন করুন।
স্যার, এদিকে আসুন।
আপনার কাগজপত্রগুলো আমাকে দিন।
আপনি কে, স্যার?
আপনি শিবকুমার তো?
- আপনার কাগজপত্র দিন। - আমার তো উনাকে দেওয়ার কথা।
- আপনি লোন চান, না কি না? - হ্যাঁ, চাই।
তাহলে আপনার কাগজপত্রগুলো দিন। তাড়াতাড়ি করুন, স্যার।
শিবকুমার কারও সাথে কথা বলছে।
ওর মুখ দেখা যাচ্ছে না, স্যার।
পরের ক্যামেরা
স্যার, ও ব্লাইন্ড স্পট(অন্ধবিন্দু)-তে দাঁড়িতে আছে।
'ওর চেহারা দেখা যাচ্ছে না'
'ও একটু সরে দাঁড়ালে ওকে দেখা যাবে, স্যার।'
আমাদের এজেন্ট-কে ফোন করো।
হরি, শিবকুমার কারও সাথে কথা বলছে।
'লোকটা কে দেখো তো'
ডানে, তোমার ডানে।
'উনাকে দেখতে পেয়েছি, স্যার। আমি যাচ্ছি ওইদিকে'
- ইনস্যুরেন্স পলিসি? - এই যে, স্যার।
জানি না, উনি কার সাথে কথা বলছেন।
সবকিছু ঠিকাছে।
'হ্যালো...স্যার, ওয়েট'
আপনি কার সাথে কথা বলছিলেন?
ও যে বললো, ও আপনার লোক?
- কাগজপত্র সব কোথায়? - ও সব নিয়ে গেছে।
ওই লাল ছাতার মানুষটাকে খোঁজো।
'লাল ছাতা দেখো।'
আমি শুধু ছাতাই দেখতে পাচ্ছি।
শিবকুমার এর ফাইল, স্যার।
আপনি কে, স্যার?
আমাকে ছেড়ে দেবেন না, স্যার।
না, স্যার!
কে তুই? বল।
'তোর সাথে আর কয়জন আছে?'
'এই পর্যন্ত কয়জনের সর্বনাশ করেছিস?'
উত্তর দে।
এইসবের পেছনে মুল হোতা কে?
- আমি বলছি, স্যার। - বল।
এইসবের পেছনে প্রধান কে, তা আমি জানিনা, স্যার।
'আমাকে বলা হয় কোথাও একটা দোকান খুলে বসতে।'
'আমি তাই করি।'
'তারপর আমাকে লোকদের শার্টের কালার বলে, তাদের সাথে দেখা করে কথা বলতে বলা হয়।'
'আমি ওইসব লোকদের গিয়ে তখন জিজ্ঞেস করি যে, তাদের লোন লাগবে, কি না?'
একবার তাদের লোন নেওয়া হলে, তাদের সাথে আমার আর কোনো সম্পর্ক থাকে না।
'টাকাগুলো কোথায় ট্রান্সফার হয়, সে ব্যাপারে আমার কোনো ধারনা নেই'
আমি ওই ১০% এর বেশি কিছু পাই না, স্যার।
'আপনার অ্যাকাউন্টে ৬ লাখ টাকা জমা হওয়ার পর'
'...আমাকে ৬০ হাজার টাকার একটা চেক লিখে দেবেন। তাতেই হবে।'
'তুই আমার চেকটা ব্যাংকে ডিপোজিট করিস নি কেন?'
করিস নি কেন? উত্তর দে।
শুধু আপনার চেক নয়, স্যার।
'আমি কারও চেকই ডিপোজিট করি না।'
তাহলে টাকাটা ট্রান্সফার কীভাবে করিস?
'একজন মানুষ এসে টাকা দিয়ে যায়, যার আমি চেহারা পর্যন্ত দেখি না।'
'উনি আমার কাছ থেকে চেক নিয়ে আমাকে সমপরিমাণ টাকা দিয়ে চলে যায়'
'ও আপনার চেক থেকে আপনার সাইনটা স্ক্যান করে নেয়, স্যার'
'আর এভাবে আপনার টাকা নিয়ে যায়'
আমি এর বেশি কিছু জানি না, স্যার।
একটা সাধারণ ছেলে আমাকে টক্কর দিচ্ছে!
আমরা এই এজেন্টের মাধ্যমে কয়জনের টাকা নিয়েছি?
'১৮ জন, স্যার'
এই ১৮ জনই প্রতারক
'সবাই নকল কাগজ দিয়ে লোন নিয়েছে'
'ব্যাংককে একটা কমপ্ল্যান করে দাও'
ব্যাংকের লোকেরা বাকিটা দেখে নেবে।
বলো।
'আম্বাত্তুর থেকে দোকানদার এক্ষুণি কল করেছে আমাকে।'
'ব্যাংক থেকে লোক গিয়ে সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।'
'তারা জেনে গেছে যে, ওটা আমাদের দোকান নয়।'
'ব্যাংকে গিয়ে দেখতো, কি হয়েছে?'
কে আপনি?
- ১ মিনিট - কি চাই আপনার?
আমার নাম কাথির, রাঙ্গাস্বামীর ছেলে
ওহ্! আপনারা তাহলে নকল কাগজপত্র দিয়ে লোন নিয়ে গেছেন?
জানেন এর পরিণাম কি হবে?
এটা রাখুন, স্যার।
আপনি আমাকে এই স্বর্ণের চেন কেন দিচ্ছেন?
আমি আপনার স্বর্ণ চাই না। আমাকে পারলে টাকা দিন।
এখানে ১৫ হাজার টাকা আছে, স্যার।
এটা রাখুন।
আপনাকে ৩০ দিনের সময় দিচ্ছি।
এর মধ্যে কোনো ব্যবস্থা করুন।
আর যদি তা না করেন, পরিণাম কি হবে বুঝতেই পারছেন।
একটা ছাগল একটা মানুষের বাচ্চা জন্ম দিয়েছে।
দেখ অবস্থা! পত্রিকাওয়ালারা একটা ছাগলকেও ছাড়ে নি।
'নকল কাগজপত্র দিয়ে ব্যাংক প্রতারণা'
শুধু তোর নামটাই আসেনি।
'বাকি ১৭ জন ধরা খেয়েছে।'
শুধু তুই-ই বেঁচে গেছিস।
'তারা আপনার ব্যাপারে সব তথ্য জানে।'
এই সব লোক, যারা লোন নিয়েছে, এখন জেলে যাবে।
'তোর কাছে ওরা এখনো পৌঁছাতে পারে নি'
'এই কয়েকদিন চাইলে নিশ্চিন্তে থাকতে পারিস।'
এই ১৮ জন লোক নকল কাগজপত্র দিয়ে লোন নিয়েছে, যেমনটা আমি করেছিলাম।
আলাদা আলাদা বিভিন্ন প্রাইভেট ব্যাংক থেকে।
কিন্তু এই সকল এজেন্ট, যারা নকল কাগজপত্র আর মিথ্যা কথা দিয়ে আমাদের সাহায্য করে।
...সবাই একই নেটওয়ার্কের আওতায় আছে।
তারা আমাদের গোপনীয়তা ভঙ্গ করে।
'আর আমাদের চাহিদা অনুসারে আমাদের লক্ষ্য করে থাকে।'
আর এভাবেই তারা আমাদের তথ্য সকল টাকার মাধ্যমে কিনে থাকে।
'এনার কথাই তোমাকে বলেছিলাম'
ওর আম্বাত্তুর-এ একটা ফটোকপির দোকান আছে।
ইদানীং তার ব্যবসা খারাপ চলছে।
ওকে কোনো সাহায্য করতে পারবে?
আমরা বর্তমানে একটা অফার চালু করেছি, 'লাকি ড্র প্রাইজ', নামে
'আমরা কাস্টমারদের সকল তথ্য সংগ্রহ করে থাকি।'
আর সেগুলো কোম্পানির কাছে পাঠানোর আগে, এখানকার এক ফটোকপির দোকানদার কে দিই।
'সে এটা দিয়ে টাকা আয় করে।'
'যদিও একটু প্যাঁচালো কাজ এটা।'
তাও উনার সাথে দেখা করে আপনি ব্যবসা সম্বন্ধে কিছু ধারনা পেতে পারেন।
এখনকার দিনে কয়জনই বা ফটোকপি করে স্যার?
সবার হাতে হাতে এখন স্মার্টফোন আছে।
প্রত্যেক পৃষ্টা ১ টাকা করে নিয়েও আমি ঠিকমতো আমার বিদ্যুৎ বিলটাও পরিশোধ করতে পারি না!
আমাদের অন্য পথে টাকা রোজগার করতে হয়।
এটাই হচ্ছে, 'ইনফরমেশন বিজনেস'। বাংলাতে, 'তথ্য ব্যবসা'।
'আমরা 'লাকি ড্র' কিংবা 'বাম্পার প্রাইজ'-এর অফারে নিজেদের সব তথ্য দিই তো?'
যদি আমি সেইসব তথ্য কপি করি, প্রত্যেকটা তথ্যের জন্য আমি ১ টাকা করে পাই।
৫০ হাজারটা কপির জন্য, ৫০ হাজার টাকা।
যদি কেউ তাদের আইডি কার্ড, সনদপত্র, সার্টিফিকেট এসব ফটোকপি করতে আসে।
'তাদের অজান্তেই যদি আমি সেগুলোর এক কপি রেখে দিয়ে পরে বিক্রি করি...'
'...সেটার জন্য আরও ভালো দাম পাওয়া যায়, স্যার।'
আরও ভালো হয় যখন,
'মানুষের প্লেনে উঠার আগে বোর্ডিং পাসের ফেলে দেওয়া অংশ খুঁজে পেলে'
'তাতে একটা কিউ আর কোড থাকে'
'যদি আমরা সেটা স্ক্যান করি...'
'...তার পাসপোর্টের তথ্য, কন্টাক্ট নাম্বার, কোন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে..'
'...এই টিকেট কিনেছে আর তার সাথে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য..'
'...আমরা ওই যাত্রীর সকল নাড়িনক্ষত্র এর মাধ্যমে পেয়ে যেতে পারি।'
এটার জন্য অনেক ভালো পরিমাণ টাকা পাওয়া যায়, স্যার।
এইসব কিনে নেয় কে?
কিছু দালাল ঠিক করা আছে।
'তাদের মাধ্যমে আমরা কল সেন্টারে গিয়ে, এসব তথ্য বিক্রি করতে পারি।'
আমরা বিভিন্ন কল সেন্টার থেকে ফোন কিংবা মেসেজ পাই, তাই না?
'আমাদের বিভিন্ন লোনের অফার দেয়, গাড়ির জন্য লোন, ঘরের জন্য লোন।'
'অ্যাওয়ার্ড, রিওয়ার্ড, অফার, ট্রিপ, থাই ম্যাসাজ'
'এমন বিভিন্ন প্রকার মেসেজ'
ওরা আমাদের নাম্বার পায় কোথা থেকে?
এভাবেই নিয়ে থাকে তারা।
'হয় কোনো কোম্পানি নতুন লোক নিয়োগ করুক'
'...অথবা কেউ মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার পরিকল্পনা করুক'
'...তারা সবাই এসব কল সেন্টার থেকে তথ্য নিয়ে থাকে।'
এভাবেই তাহলে তারা কল করে জিজ্ঞেস করে?
'আপনি কি জমি কিনতে চান? আপনি কি লোন নিতে চান?'
হ্যাঁ।
প্রত্যেক মোড়ে মোড়ে কোনো না কোনো কল সেন্টার থাকে।
কীভাবে বুঝবো যে কোন কল সেন্টার আমাদের তথ্য বিক্রি করেছে?
কাথির, তোমার কাছে শেষ কবে লোনের কল এসেছিলো?
ভালো করে ভেবে দেখো।
আমি লোনের জন্য আবেদন করার পর থেকে আর কোনো কল আসে নি।
তুমি আবেদন করার পরে নয়।
তোমার লোন রিজেক্ট হওয়ার পর থেকে তোমার কল আসা বন্ধ হয়ে গেছে।
তুমি বলেছিলে না, তোমাদের ১৮ জনের সবারই লোন রিজেক্ট করা হয়েছিলো?
এই নেটওয়ার্ক কীভাবে জানলো যে, তোমার লোন রিজেক্ট করা হয়েছে?
কারও লোন যখন কোনো না কোনো কারণে রিজেক্ট হয়...
অন্য ব্যাংকেও তখন আর তাদের লোন দিতে চায় না।
তাই কল করে আর কোনো লাভ হয় না।
তাই আমরা এই রিজেক্টের লিস্টটা আলাদা করে, একটা বিপিও সেন্টারে পাঠিয়ে দিই।
'সেই লিস্টের লোকদের তারপরে আর কল করা হয় না।'
'আপনার লিস্টের এই ১৮ জনও হয়তো বিভিন্ন ব্যাংকে গেছে।'
'কিন্তু শুধু এই ৩ টা ব্যাংক যদি লোন রিজেক্ট করে'
'এই ৩ ব্যাংকেরই একটা কমন কল সেন্টার আছে।'
'ওএমআর এ অবস্থিত টিটিএস।'
'হেই! জগা, কোথায় এখন?'
আমি প্রবেশপথে দাঁড়িয়ে আছি।
শ্যাম, পৌঁছে গিয়েছিস?
'ফার্স্ট ম্যানেজার আসছে।'
আরে বেটা নাম না বলে কিসের ফার্স্ট, সেকেন্ড বলছিস?
গোপিনাথ।
আরে, গোপিনাথ-ও এখানে চাকরি করে?!
আচ্ছা, আমি দেখছি।
'শ্যাম, গোপিনাথ কে দেখছিস?'
'আমার মেসেজ পড়ে কেমন আচরণ করছে?'
- 'ও কি ভয় পেয়েছে?' - আরে ও নয়।
এটা বাদ! পরেরজনকে দেখ।
'শ্যাম, ওকে দেখলি?'
'ওই দেখ, উর্বশী'
'ওকে কিডন্যাপ করে ফেলি চল, কিছু হলেও তাহলে পাওয়া যাবে।'
মেসেজ পাঠা।
'আমি জানি, ও-ই'
'দেখতে থাক, ও এক্ষুণি কেমন করে'
'ও মেসেজটা পড়েছে?'
'ভালো কোনো খবর শোনা'
'নিয়ে আয় তাঁকে'
- শ্যাম...শ্যাম - ও নয়।
ও এ ব্যাপারে কিছুই জানে না।
আমি আরও ভেবেছিলাম ও-ই হবে।
'মোহন-কে মেসেজটা পাঠা'
'আরে ধুর! উনাকে দেখে তেমন কিছু মনে হয় না'
- তোকে পাঠাতে বলছি। - পাঠিয়েছি...পাঠিয়েছি।
কি ঝামেলা!
'উনি কোথায় গেছে?'
উনি নিচতলায়, বাথরুমে গেছে।
আরে বসে না থেকে উনাকে ফলো কর!
বলুন
জানি না, কে যেন আমাকে মেসেজ করে বলছে যে, আমার সাথে আপনার সম্পর্কের ব্যাপারে ও জানে।
ভয় পাওয়ার কিছু নেই, নাম্বারটা বলুন?
জানিনা, কোনো নাম্বার লেখা নেই।
'অনেক বিপদজনক মনে হচ্ছে'
এসব জানাজানি হলে আমার মানসম্মান নিয়ে টানাটানি পড়ে যাবে।
ভয় পাবেন না, আপনি কোথায় এখন?
আমার অফিসের বাথরুমে।
আপনার মোবাইল থেকে সিমটা বের করে ফ্ল্যাশ করে দিন।
একজন লোক পাঠাচ্ছি, তার নির্দেশ অনুসরণ করুন।
এবার নিশ্চিত, উনিই আমাদের টার্গেট।
'উনি পার্কিং এরিয়ার দিকে যাচ্ছেন'
'আরে ভুল গাড়িতে কাজ করে ফেলেছি। তাড়াতাড়ি আয়।'
'শীঘ্রই কিছু কর। নয়তো সব ভেস্তে যাবে'
'কীসব ঝামেলা করিস, দেখ তো?'
'এবার কি করেছিস?'
স্যার, আপনি নীল শার্ট পরে এদিকে যেতে পারবেন না!
ওইদিকে যান।
'কে আপনি? ঝামেলা কেন করছেন?'
'এটা আপনার পার্কিং এরিয়া?'
আপনি ঠিকমতো আয়কর দেন?
'সব ট্যাক্স দেন? আপনি একজন দেশদ্রোহী, স্যার।'
'আমি আপনাকে এর চরম সাজা দেবো'
- সর একপাশে - 'আপনার সময় কোনোভাবে ম্যানেজ করেছি।'
জানি না আর কি বলে উনাকে আটকানো যায়।
মাথা থেকে পা পর্যন্ত নড়ে গেছে, না?
সামনে গিয়ে ডানে
ও চলে গেছে
এখানে, দাঁড়া...দাঁড়া।
তোর তথ্য ঠিক তো?
আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছি না।
দেখতে পাচ্ছিস না?
নড়বি না।
আচ্ছা
মিলিটারি এলাকায় সন্ত্রাসবাদী?
তোরা অনেক বড় সন্ত্রাসবাদী নাকি?
আমরা টেরোরিস্ট নই, স্যার।
তোরা যে কেউই হতে পারিস।
তোদের তাহলে আমাদের মিলিটারির কিছু নিয়ম বলি।
আমরা দেখামাত্র গুলি করি।
তারপর পোস্টমর্টেম শেষ হলে, আমরা মৃতের পরিচয় বের করি।
তো সেজন্য-
কি রে? কেউ মরলো না কেন?
-নকল গুলি ছিলো, স্যার -কি রে?
'আরে এইমাত্র মিলিটারির কত সুনাম করছিলাম'
-বুলেট পাল্টাতে আর কতক্ষণ লাগবে? - ৯০ সেকেন্ড, স্যার।
ও! তোমার তো অভিজ্ঞতা আছে!
'তোদের কাছে ৯০ সেকেন্ড আছে তোদের কাহিনী বলার জন্য'
'আমরা সিবিআই অফিসার হিসেবে ট্রেনিং নিয়েছিলাম'
আমাদের সনাক্তকরণ আর খুঁজে বের করার অসাধারণ দক্ষতা আছে, স্যার।
'আমরা ৪ জন এতিম, স্যার'
আমাদের বেড়ে ওঠা আর পড়ালেখা সব হয়েছে 'অমরাজ্যোতি এডুকেশনাল ট্রাস্ট' এর মাধ্যমে।
আমাদের মুখ্য দায়িত্বে যিনি আছেন, তিনিই আমাদের সিবিআই ট্রেনিং নিতে পাঠিয়েছেন।
আমরা ট্রেনিং শেষ করেই চাকরী ছেড়ে দিয়েছিলাম, স্যার।
আর আমরা উনার জন্যই কাজ করি।
- নাম কি তার? - সত্যমূর্তী
'কাথির, তুমি রিটছি স্ট্রিট থেকে একটা হার্ডড্রাইভ নিয়ে এসেছিলে না?'
'আমি সেখান থেকে সব ফাইল তো উদ্ধার করতে পারিনি'
'আমি শুধু ৪ টা অডিও ফাইল উদ্ধার করতে পেরেছি।'
'তার একটা হচ্ছে অমরাজ্যোতি ট্রাস্টের প্রধানের'
মনে হচ্ছে উনার আর সত্যমূর্তীর মধ্যে কিছু একটা সমস্যা হয়েছে।
আমরা আমাদের এতিমখানাতে ছেলেদের নাম দিয়ে থাকি।
ওর নাম আমরা সত্যমূর্তী রেখেছিলাম।
কিন্তু সে তার নাম কখনো প্রকাশ করতে চায়নি।
তার মতে, তার রোল নাম্বার তার পরিচয় হওয়া উচিৎ।
১৯৯৯ সালে যখন Y2K সমস্যার কথা শুরু হয়।
বিশ্বের সমস্ত ব্যাংকগুলো Y2K নিয়ে ঝামেলায় পড়ে যায়।
তারা তাদের সব তথ্য হার্ডড্রাইভ থেকে বইতে লিখে নেয়।
'লাখ লাখ কম্পিউটার আর হার্ডড্রাইভ আবর্জনায় ফেলে দেওয়া হয়।'
কেউ এর আসল মূল্য বুঝতে পারেনি। সে পেরেছিলো।
সে সব পরিত্যক্ত কম্পিউটার কিনে নিয়েছিলো।
সে চারটি কন্টেইনার পুরে এসব ইলেকট্রিক জিনিস কিনে আনে।
ও হঠাৎ একদিন এসে আমাদের ধমকিয়ে এই ট্রাস্টটা নিজের নামে করে নিতে চায়।
সে এই ট্রাস্টের নামে একটা গুদাম খুলে নেয়।
ওই হার্ডডিস্কগুলোতে যাবতীয় তথ্য জমা রেখে
'...সে নিজের ইউজার নেম 'হোয়াইট ডেভিল' রেখে এক বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে।'
ট্রাস্টটা ওর নিজের নামে হওয়ার পর...
...বিভিন্ন উৎস থেকে টাকা জমা হতে থাকে।
'কিছুদিন পর আমার চিন্তা হতে থাকে'
আমি তাকে এই ট্রাস্টের ব্যাপার নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করি।
'একদিন হঠাৎ সে আমাকে একটা খালি চেক ধরিয়ে দেয়'
'আমি অবাক হতে তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করি'
'আপনার ইচ্ছেমতো টাকার পরিমান বসিয়ে নিন', ও জবাব দেয়।
'আমি বলি যে সে আমাকে কিনতে পারবে না, আর আমি পুলিশকে সব বলে দেবো।'
'সে আমাকে আমার মেয়ের শোবার ঘরের দেয়াল ঘড়িটা চেক করতে বলে'
'আর সেখানে কি আছে দেখতে বলে।'
'ওখানে ভিতরে একটা ক্যামেরা সেট করা ছিলো'
'ও সবকিছু রেকর্ড করে নিয়েছিলো'
ও আমার মেয়ের জীবনটা বরবাদ করে দিয়েছিলো
আমি ওর মতো লম্পট ছেলে আর দেখিনি কোথাও।
'ওর আসল রূপের কথা না জেনে, ইউনিসেফ আজ তাকে সংবর্ধনা জানাচ্ছে।'
[Y2K হলো মূলত, ২০০০ সালে কম্পিউটারে সংঘটিত তারিখের ফরম্যাট জনিত একটি সমস্যা]
[Y2K সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে গুগলে গিয়ে Y2K কি লিখে সার্চ করলে অনেক তথ্য পেয়ে যাবেন।]
আরে, ভয় পাইয়ে দিলে
এতো আয়োজনের কি দরকার ছিলো?
আমি দেখতেছিলাম তোমাকে, আসার সময়।
ভালোই প্ল্যান করেছো।
মেজর কাথিরাভান, আমি তোমার কত টাকা চুরি করেছি?
সম্ভবত ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
তোমার অ্যাকাউন্টে পুরো টাকাটা পাঠিয়ে দিয়েছি।
আচ্ছা, সত্য কথাই বলি।
যদ্দুর মনে পড়ে, আমি মোট ৮০০ কোটি টাকা চুরি করেছি।
আমাদের দেশে তুমি ৮ টাকা, ৮০০০ টাকা, ৮০০ কোটি টাকা যাই চুরি করো, শাস্তি একই হয়।
৪২০(প্রতারক)
আচ্ছা, আমি ৪২০, কিন্তু তুমি?
তুমি সরকারকে ধোঁকা দিয়েছো।
এমনকি তুমিও তাহলে ৪২০।
আমি তোমাকে সহ মোট ১০,০০০ লোককে ধোঁকা দিয়েছি।
কিন্তু তোমরা সবাই সরকারের সাথে প্রতারণা করেছো।
দেড় বছরের জন্য জেল।
আমার কোনো সমস্যা হবে না।
আমি একবার বের হতে পারলেই...
...আমার টাকা আমার ট্রাস্ট অ্যাকাউন্টে নিরাপদেই থাকবে।
সেখানে কেউ হাতও দিতে পারবে না।
কিন্তু বেচারা! এই ১০ হাজার জন লোক,
যদি তাঁরা জেলে যায়...
...লজ্জা, ঘৃণায় হয়তো আত্মহত্যাও করে ফেলতে পারে।
অথবা এমন আরও অনেক কিছুই ঘটতে পারে।
যদি চুরি করার সময় চোরকে বিচ্ছু কামড়ায় চুপচাপ তা হজম করে নিতে হয়...
তোমরা সবাই হচ্ছো, চোর।
আর আমি সেই বিচ্ছু।
যদি আমি কামড়াই...
...তোমাদের চুপ করে সেটা সহ্য করতে হবে।
আমাকে মেরে ফেলার চিন্তা করছো?
যদি আমাকে মেরেও ফেলো...
...আমার পরিবার বলতে কেউই নেই, যে আমার জন্য একফোঁটা চোখের জল ফেলবে।
ভাবছো এমন একজন একলা মানুষের এত টাকা কেন প্রয়োজন?
তুমি জানতে চাও আমি কেন এত লোককে ধোঁকা দিয়েছি
কেননা, আমি করতে পারি, তাই।
তুমি আমার এক এজেন্টকে মেরেছিলে, আমি সেটা ৩ দিন আগে জানতে পেরেছি।
'তুমি সিসিটিভি ক্যামেরার নজর এড়িয়ে ভালোই পাশ কাটিয়ে গিয়েছিলে'
'কিন্তু বোকার মত একটা সেলফিতে ধরা খেয়ে গেছো।!'
এবার কি করবে?
বন্দুক হাতে পাওয়া মাত্রই সেটা কারও কপালে ঠেকিয়ে দেবে?
কারও সামনেপিছনে সবকিছু ভালোভাবে জেনে, তারপরে তাঁকে মারতে হয়।
মেজর, তথ্যই হচ্ছে সবচেয়ে বড় সম্পদ।
আমি তোমার ব্যাপারে তোমার চাইতেও বেশি জানি।
তুমি জানো, তোমার বোন এখন কোথায়?
আমি জানি।
'কিছুক্ষণ আগেই সে কোয়ামবেদু বাস স্টেশনে বাস থেকে নেমেছে।'
'ও এরপর ৮২০৩ নাম্বারের একটা অটোতে উঠেছে।'
হঠাৎ করে অটোর ড্রাইভার...
'...মাঝরাস্তায় গাড়ি রেখে পালিয়ে যায়'
তোমার বোন ওখানে কি হচ্ছে, তা বুঝে ওঠার আগেই-
সব আমার ছেলেরা
পাঁচ মিনিটের মধ্যে আমি ওখানে না গেলে, ওরা তাঁকে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছাতে দেবে না।
বরং অন্য কোথাও পৌঁছে যাবে!
লিফটটা চালু করি তাহলে?
কাথির, তুমি ফ্ল্যাগড অ্যাকাউন্টের ব্যাপারে জানো?
জঙ্গিরা যেসব অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে।
তাঁরা তাদের কাজ শেষ করার পর, এসব অ্যাকাউন্টে ১০-১৫ লাখ টাকা রেখে চলে যায়।
যদি কেউ সেই অ্যাকাউন্টে হাত দেয়?
তাঁর আর জঙ্গিদের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে বের করা হয়।
অ্যান্টি-টেরোরিস্ট স্কোয়াড, সিবিআই, ভারতীয় মিলিটারিরা মিলে এর তদন্ত করে।
এইমাত্র, আমি তেমনই একটা অ্যাকাউন্ট থেকে তোমাকে টাকা পাঠিয়েছি।
তাছাড়া তুমি আর্মিতে চাকরি করো। সন্দেহটা আরও জোরালো হবে।
আমার যতটুকু মনে হয়,
...আগামী ৪৫ মিনিটের মধ্যে তোমাকে গ্রেফতার করা হবে।
এর মধ্যে পারলে হাসপাতালে গিয়ে তোমার বোনকে দেখে এসো।
ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডটা কোন দিকে?
♪ "Who is this mastermind unmatchable?" ♪
♪ "From a mighty pillar to a minUte particle his hawk-eyes scrutinize every article" ♪
♪ "From azure skies extensive Aquamarine seas expansive" ♪
♪ "To land and minds all pervasive" ♪
- সেলভি কেমন আছে? - এক্ষুণি কিছু বলা যাচ্ছে না।
♪ "He has his ears to the ground intensive" ♪
♪ "Into closed ears discreetly whisper to the wind quietly" ♪
♪ "Even if words spoken in ordinary tone Words get trapped in his black hole zone" ♪
♪ "Wherever you hide, windows have eyes too" ♪
♪ "Walls have ears, whomever you talk to" ♪
♪ "If hands raised to extort violence can be the last resort" ♪
♪ "But greed being the binding tie" ♪
♪ "He has betrayed me; on the sly" ♪
♪ "Who is this man unbeatable?" ♪
♪ "From a mighty pillar to a minUte particle his xray-eyes scan every single article" ♪
♪ "From grey skies to blue seas" ♪
♪ "Latitudes & mental aptitudes, he perceives With his ears to the ground he deceives" ♪
তোমার সাথে জঙ্গিবাদীদের কোনোপ্রকার সম্পর্ক নেই।
কিন্তু তুমি তোমার বোনের বিয়ের জন্য,
'...একটা ফ্ল্যাগ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ব্যবহার করেছো।'
তুমি আর্মিতে চাকরি করার জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছো।
কাল সকাল ৮টায় তোমার উপর কোর্ট মার্শাল জারি হবে।
♪ "Your disguise has been exposed now" ♪
♪ "Look up to the skies; to the Force above" ♪
♪ "Innocent men are a rare species Pay back the loan to the bank please" ♪
♪ "Game played long ago rebounds Crouching in some nook to pounce" ♪
♪ "After you are trac(k)ed, finally Game over, well and truly" ♪
♪ "Only when we hunted high and low to find his hideout somehow" ♪
♪ "We realized the laughter of this abstract monster" ♪
♪ "Who is this man illusive?" ♪
দাদা, আমি কেশবকে আমাদের সমস্যার ব্যাপারে বলেছি।
তাঁরা একদম সাধারণভাবে বিয়ের জন্য রাজী হয়েছে।
যখন থেকে তুমি আমার জন্য কষ্ট করা শুরু করেছো,
...আমি আমার পরিবার আবার ফিরে পেয়েছি
আমার ভাই আমার কাছে থাকলে, সেটাই আমার জন্য অনেক।
আমি টাকার জন্য আমার পরিবারকে এভাবে ভাঙতে দিতে পারবো না।
'আমি তোমার ব্যাপারে তোমার চাইতেও বেশি জানি।'
'কারও সামনেপিছনে সবকিছু ভালোভাবে জেনে, তারপরে তাঁকে মারতে হয়।'
'ওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নাও। খুঁজে বের করো।'
'ওকে সাধারণ মানুষ না জেনে অনেক সম্মান করে থাকে'
ওর অনেক বক্তৃতা ইউটিউবে পাওয়া যায়।
'জয় হিন্দ!'
উনি আমাদের তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রী, মি. বিজয় রাজন।
ইনি তাহলে বলেছিলেন যে, থার্মোকল ব্যবহার করে সূর্যের তাপ আটকাবেন?
আরে আংকেল, ইনি নয়।
এই মন্ত্রী আর হোয়াইট ডেভিলের মধ্যে কোনো ব্যাপার আছে।
চেহারায় ভয়ের ছাপ ফুটে উঠেছে, দেখতে পাচ্ছো?
নিশ্চই মন্ত্রী কিছু করতে গিয়ে ধরা খেয়েছে, হোয়াইট ডেভিলের হাতে।
বিনিময়ে সে কি চায়, তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রীর কাছে?
'ও আপনার চেক থেকে আপনার সাইনটা স্ক্যান করে নেয়, স্যার'
'আপনার টাকা নিয়ে যায়'
'কেউ এর আসল মূল্য বুঝতে পারেনি। সে পেরেছিলো।
'তোমরা সবাই একটা সাধারণ নাম্বার ছাড়া আর কিছুই না।'
রেশন কার্ড।
ও এসব নিয়ে কি করবে?
আমরা যেমনটা ভাবি, রেশন কার্ড কিন্তু কোনো সামান্য আইডি কার্ড নয়।
আমাদের সব ব্যক্তিগত তথ্য, আমাদের আঙ্গুলের ছাপ, আমাদের রেটিনার স্ক্যান সম্বলিত মাস্টার কার্ড এটা!
তোর কথা শুনে তো ভয় লাগছে, ভাগিনা।
আমি ভয় দেখাচ্ছি না।
আমি শুধু বিষয়টা তুলে ধরছি।
'আমাদের সবার তথ্য সংগ্রহ করে রাখা, এটাই হচ্ছে তাঁর আসল পরিকল্পনা'
কি বলছিস এসব? সব আমার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।
এতদিন ও আমাদের মোবাইল হ্যাক করতো।
ও এবার আমাদের জীবন হ্যাক করবে।
আমার আঙ্গুলের ছাপ কেন লাগবে?
পরবর্তীতে কোনোপ্রকার সমস্যা হলে?
স্যার, চিন্তা করবেন না। ৬০০ কোটি টাকার ব্যাপার।
এই মেয়েটা কে?
'তোমরা তো বলেছিলে কোনো সমস্যা হবে না'
ও তাহলে এখানে কীভাবে এলো?
স্যার, আপনি যান
- চলুন, স্যার। - উনাকে নিয়ে যা।
- চলুন, স্যার। - ভয় পাবেন না, স্যার।
'ও মনে হয় মিডিয়া থেকে এসেছে'
কে রে তুই?
সাংবাদিক? ব্যাগটা দেখ তো।
ইনকাম ট্যাক্স, হ্যাঁ?
দেখ তো, ওর জিপিএস অন করা কি না?
- হ্যাঁ, ভাই। - ভাঙ মোবাইলটা।
'তুমি নিশ্চিত তো আমার কোনো বিপদ হবে না?'
আমার ছেলেরা দক্ষ আছে।
ওরা ওকে সামলে নেবে।
কে রে তুই?
তোকে কে পাঠিয়েছে?
মন্ত্রীকে কেন অনুসরণ করছিলি?
কিছু তো বল।
শোন, আমরা তোকে এত ধমকাতে পারবো না।
তোর কোনো ক্ষতি না করে শুধু তোর কাপড়টা খুলে নেবো।
আর শুধু একটা ছবি তুলবো।
তারপর তোকে ছেড়ে দেবো।
যদি আমাদের কথা কোথাও প্রকাশ হয়...
...ঠিক পরের মিনিটেই তোর ছবি অনলাইনে চলে যাবে।
জুম করে, জুম করে প্রত্যেকটা ইঞ্চি দেখবে সবাই।
ভালো করে ভেবে দেখ।
তোর মানসম্মান হারাবি তুই।
কি রে? আমি এত কথা বলছি।
তোর কি একটুও ভয় লাগছে না?
কিছু তো বল।
অন্তত আমাদের কাছে মাফ তো চাইতে পারিস।
তুই মুখ কেন খুলছিস না? মুখে কি হয়েছে তোর?
নমষ্কার, বিগ বস!
বিদেশ থেকে এই 'ভ্লাদিমির' কে ধরে আনার কি দরকার ছিলো?
এর চেয়ে তো পণ্ডিচেরি থেকে কোনো ব্রাহ্মণ-কে নিয়ে এলে ভালো হত, তাই না?
এইজন্য তাকে আমি উপরে পাঠিয়ে দিয়ে
'তার ল্যাপটপটা নিয়ে এসেছি।'
ও, মেজর, স্যরি, প্রাক্তন মেজর।
তোমার পরিবার আর বন্ধুবান্ধবদের কথা ভুলে যাচ্ছো না?
আমি ভুলছি না, বস।
'সাধারণত আমি পরিচিত কাউকে সহজে ভুলি না'
আর তোর সাথে তো আমার ভালো করেই পরিচয় হয়েছে!
কীভাবে ভুলতে পারি বল?
'তুই অনেক বুদ্ধিমান'
'তুই সিস্টেম থেকে তথ্য বের করে আনতে পারিস।'
কিন্তু আমি মিলিটারির লোক।
মানুষের মাথার ভেতর থেকে তথ্য বের করে আনতে পারি।
তুই কিছু বের করার আগেই, তুই যেখানে আছিস, সেখানে,
...আমি আসছি।
তোর স্ক্রিনটাকে একটু রিফ্রেশ করতো।
কপিক্যাট
কপি করিনি, বস।
শিখেছি।
'এই দক্ষতা আমার তোর কাছ থেকেই শেখা'
আরো একটা দক্ষতা শিখেছি তোর কাছ থেকে
নমুনা দেখাবো?
'তোর অ্যাকাউন্টে এক্ষুণি কোথা থেকে টাকা এসেছে, জানিস?'
তামিলনাড়ু পুলিশ।
'তোর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আমি সব তামিলনাড়ু পুলিশের বেতনের টাকা তোর অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দিয়েছি।'
'একদম কনস্টেবল থেকে শুরু করে, ডিজিপি সহ সব পদের পুলিশ'
'...এখন তাদের বেতন নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে রয়েছে।'
'এই পুরো টাকাটা এখন তোর অ্যাকাউন্টে'
'সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞরা হয়তো, এতক্ষণে তোকে খুঁজেও বের করে ফেলেছে।'
তামিলনাড়ু পুলিশ।
'আগামী ৩ ঘন্টার মধ্যে তোকে ধরতে চলে আসবে।'
ওই কালপ্রিটটা কে খুঁজে বের করো।
তারা তোর কাছে আসার আগে পালাতে পারলে পালা।
'আমি তোকে এই পর্যন্ত একটা সামান্য নাম্বার ভেবেছিলাম'
কিন্তু এবার তোকে একটা মানুষ মনে হচ্ছে।
'আমি তোকে দূর্বল ভেবেছিলাম'
কিন্তু তাও, আই লাভ ইউ
'কি ব্যাপার, ওকে ধরতে এতক্ষণ লাগছে কেন?'
মনিটরে তো, 'আই লাভ ইউ' লেখা আসছে।
- পুলিশের পুরো সিস্টেমটা ক্র্যাশ করেছে। - কীভাবে?
'আই লাভ ইউ' ভাইরাস।
পুলিশের টাস্ক ফোর্স আগামী ৪৮ ঘণ্টা কোনো কাজ করতে পারবে না, মেজর।
কিন্তু আজ যদি আমরা ওকে ছেড়ে দিই,
...হোয়াইট ডেবিলকে কেউ আর কোনোদিন খুঁজেও পাবে না।
আমার সব অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হচ্ছে।
সব রেকর্ড নষ্ট করে দাও।
কোনো ছোটখাটো তথ্যও যেন না পাওয়া যায়।
স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি থেকে পাওয়া সব কালো টাকা একত্র করো।
সব এক জায়গায় নিয়ে আসো। ৬০০ কোটির চেয়ে কম যেন না হয়।
আমি এই মুহূর্তের পর থেকে তোমাকে আর চিনি না।
এই গাড়িটা তোমার।
এরপর থেকে তোর রাগ কমাতে এটা দরকার হবে।
এইসব আমাদের কাছ থেকে চুরি করা টাকা, তাই না?
বস, তুমি আমাকে 'আই লাভ ইউ' বলে চলে এলে,
আর এখানে এসে একা একা দাঁড়িয়ে আছো?
আমাকেও তো জবাব দিতে হবে, তাই না?
এমনকি আমি নিজেও ভেবেছিলাম, তোকে খুঁজে বের করা খুব কষ্ট হবে।
কিন্তু, এটা তো বাঁ হাতের খেল ছিলো!
তুই তোর লোককে তোর সব টাকা ট্রাস্টের বাসে করে নিয়ে আসতে বলেছিলি না?
তুই তো পুরো নিশ্চিত ছিলি যে, আমি তোকে খুঁজেই পাবো না।
কিন্তু এখন তুই সব প্রমাণ আর তোর পরিচয়, 'হোয়াইট ডেভিল' সহ ধরা পড়লি!
তুই Y2K এর সময় থেকে এসব নিজের কাছে রেখেছিস, তাই না?
তুই এসব কম্পিউটার ব্যবহার করে আমাদের ধোঁকা দিচ্ছিলি?
তোর অধ্যায় যেখানে শুরু হয়েছিলো, সেখানেই শেষ করে দি, কি বলিস?
আমি এখানকার অবস্থান পুলিশকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিয়েছি। ওরা সময়মত চলে আসবে।
তুই বলেছিলি কাউকে মারতে হলে তার সম্পর্কে...
...সামনেপিছনে সব কিছু জেনে নিতে হয়।
আমি তোর কথা রেখেছি।
আমার মূল্যবান সম্পদ এসব নয়।
সেটা এখানে আছে।
এই টাকা আবার কীভাবে আয় করতে হবে, তা জানা আছে আমার।
তোদের মত লোকদের আঙ্গুলের ছাপ, আমার হাতের মুঠোয় থাকে! তোদের ভাগ্য পাল্টানোর জন্য সেটাই যথেষ্ট।
'মন্ত্রীর আঙ্গুলের ছাপ ব্যবহার করে, আমি অনেক আগেই সব কাজ শেষ করেছি।'
'আমি আগেই তোদের সবার তথ্য হাতিয়ে নিয়েছি।'
এই মুহূর্ত থেকে,
নির্বাচনে কার নামে কয়টা ভোট পড়বে, তা আমি নির্ধারণ করবো!
আমিই হবো সরকার নির্মাতা।
কি, মিলিটারি?
এতটুকুই শুধু ট্রেনিং পেয়েছিলি?
'ওই দেখ'
'তোর সব প্রমাণ জ্বলে ছাই হয়ে গেছে।'
তোর পুলিশকে এবার আসতে বল।
'এবার আসুক ওরা।'
এই ছাইগুলো নিয়ে মুখে মাখতে পারবে।
আমার প্রিয় বস, তুই সবসময় বলিস না 'তথ্যই হচ্ছে সবচেয়ে বড় সম্পদ'?
তুই কি চেক করেও দেখিস না, যেই তথ্য পাস, তা ঠিক না কি ভুল?
পুলিশ খামোখা তোর সাথে কি করবে?
'বেশি হলে ৪২০ এর কেসে জেলে ঢোকাবে।'
তুই যাদের ধোঁকা দিয়েছিস, তাদের কে জবাব দেবে?
এইজন্য আমি পুলিশ ফোর্সের সাথে, সেসব লোকদেরও নিয়ে এসেছি।
'তোর ভাষায়, কিছু নাম্বার।'
তোর সব নাম্বারের ধারনাই আজ পাল্টে যাবে।
'আমি তোর ট্রাস্টের নামে ওদের সবাইকে মেসেজ পঠিয়েছি যে, তাদের টাকা ফেরত এসেছে।'
'সবাই ব্যাংকে গিয়ে ঝামেলা বাধিয়ে দিয়েছে'
'তারপরেই তারা জানতে পেরেছে, তারা শুধু একটা মেসেজই পেয়েছে।'
'তাদের টাকা ফেরত পায়নি।'
'তাদের ক্ষোভ যখন চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেলো।'
'তখনই আমি তাদের হোয়াটসঅ্যাপে এই জায়াগার অবস্থান পাঠিয়ে দিয়েছি।'
তারা অধীর আগ্রহে তোর অপেক্ষা করছে।
কেউই হোয়াইট ডেভিলের পরিচয় জানে না।
কিন্তু সবাই অমরাজ্যোতি ট্রাস্টের মালিক সত্যমূর্তীকে তো চেনে।
কি দেখছিস এভাবে?
হোয়াইট ডেভিল আর সত্যমূর্তী যে একজনই,
আজ সবাই তা জেনে যাবে।
মেজর কাথিরাভান
তুই কি দরজাটা খোলার কথা চিন্তা করছিস?
তারা এখানে এসে করবে টা কি?
'তাদের টাকা তো এমনিতেও ছাই হয়ে গেছে।'
এই ছাই দেখে ক্ষোভে তারা আমাকে মেরেই ফেলবে হয়তো।
তারপরে তাঁরা আমাকে আর তোকে, দুইজনকেই ভুলে যাবে।
তারা শুধু মনে রাখবে মাস শেষে যেই সুদের টাকা পরিশোধ করতে হয়, সেটা।
তাঁরা ব্যাংক কে ধোঁকা দিয়ে লোন নিয়েছে।
তারা চুরি করতেও দ্বিধাবোধ করবে না।
যদি তুই এখন দরজাটা খুলিস...
...তুই হয়তো ১০ হাজারটা চোরের অধ্যায়ের এখানেই সূচনা করে দিবি।
সেটাই কি তুই চাস, বল?
ঠিক বলেছিস তুই
ওখানে প্রত্যেকটা লোক আমার মতোই লোন পরিশোধ নিয়ে কষ্টে আছে।
আমি আমার বোনের বিয়ে যেকোনোভাবে হোক, সামাল দিতে পারবো।
ওদেরও বুঝিয়ে বলতে পারবো যে
কষ্টের কথা ভুলে গিয়ে একমনে পরিশ্রম করো...
...তবেই হয়তো এই দুর্দশা কাটিয়ে উঠতে পারবে।
...তোর মতো লোকদের প্ররোচনায় পড়ে আমরা অন্যায় পথে যেতে বাধ্য হই।
এখন তোদেরই টাকা আত্মসাৎ করে,
আমাদের নিজের কষ্ট লাঘব করতে হবে
তুই যদি এটাকে ডাকাতি বলে থাকিস
...বলবো, সেটা কোনো অপরাধই নয়।
কিন্তু যে করেই হোক, আমরা আমাদের লোন পরিশোধ করবোই।
কেননা এই সমাজে, আমাদের মত লোকের সংখ্যাই বেশি।
যে টাকা তুই জ্বালিয়েছিস,
সেটা তাদের টাকা না।
তুই মিনিস্টারের সাথে একটা ডিল করেছিলি না?
'চিন্তা করবেন না, স্যার। ৬০০ কোটি টাকার ব্যাপার'
সেটা এখন আমার হাতে।
আমার সাইন ছাড়া সেই টাকায় কেউ হাতও লাগাতে পারবে না।
এটার কথা মনে আছে?
'ওই খালি চেকটা এখনো আপনার কাছে আছে?'
হ্যাঁ, আছে।
যেভাবে তুই আমাদের সাইন স্ক্যান করে আমাদের টাকা নিয়েছিস..
...আমিও একইভাবে
'...সব ফিরিয়ে আনবো।
ওইদিন তুই আমাকে বলেছিলি যে, তুই টাকা চুরি করিস কেননা তুই সেটা করতে পারিস
'এবার আমি বলছি তোকে'
আমি এই 'লোহার জাল' খুলে দেবো এবার
কেননা...
...আমি পারি।
জোসেফ, সবাইকে টাকাগুলো পাঠিয়ে দে।
ব
বা
বাং
বাংল
বাংলা
বাংলা
বাংলা অ
বাংলা অন
বাংলা অনু
বাংলা অনুব
বাংলা অনুবা
বাংলা অনুবাদ
বাংলা অনুবাদে
বাংলা অনুবাদে:
বাংলা অনুবাদে:
বাংলা অনুবাদে:
বাংলা অনুবাদে: অ
বাংলা অনুবাদে: অন
বাংলা অনুবাদে: অনন
বাংলা অনুবাদে: অনন্
বাংলা অনুবাদে: অনন্য
বাংলা অনুবাদে: অনন্য
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দ
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দে
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেব
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবন
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনা
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (S
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh.
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh.A
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh.AD
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh.ADN
বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh.ADN)
'এখনকার দিনে চোরের চুরি করার জন্য চাবির দরকার হয় না।'
'আপনার ব্যাপারে সামান্য তথ্যই যথেষ্ট'
'শুনতে ভালো লাগছে?'
'ব্যাংকের কাগজপত্রের ২য় পয়েন্টেরি লিখা থাকে যে,'
'ব্যাংক থেকে কেউ আপনাকে ফোন করে কখনো অ্যাকাউন্টের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করবে না'
'কিন্তু কেউ ফোন করে যখন আপনাদের লোনের কথা জিজ্ঞেস করে, আপনারাই তখন নিজেদের'
'অ্যাকাউন্ট নাম্বার, এটিএম পিন, ওটিপি এমনকি রেশন কার্ডের তথ্যও দিয়ে দেন।'
'...এমনকি তাঁকে আপনি চেনেন ও না।'
'যখনই আপনি কোনো অ্যাপ বা সফটওয়ার ডাউনলোড করে ইন্সটল করেন'
'...ভালো করে না পড়েই তাদের চাওয়া সব অনুমতি দিয়ে ফেলেন।'
'আপনার ফোন দিন দিন স্মার্ট হচ্ছে।'
'আর আপনি হয়ে যাচ্ছেন বোকা!'
'আপনার ফোনে থাকা ক্যামেরা আপনার জন্য'
'...একটা সাধারণ বিষয়।'
'কিন্তু আমাদের মতো হ্যাকারদের জন্য, সেটা তৃতীয় চক্ষুর কাজ করে।'
'আপনার অজান্তেই আমরা আপনার ক্যামেরা দ্বারা আপনার ব্যক্তিগত জীবনে প্রবেশ করি।'
'অনেকটা 'বিগ বিস' শো এর মতো।'
'আপনি চাইলেই পালাতে পারবেন না।'
'পারবেন না কোথাও লুকোতে।'
'আপনার গুগল সার্চের ইতিহাস অনেকটা অবচেতন মনের মতো।'
'আপনি ভাবেন কেউ তা দেখতে পাচ্ছে না, আর আপনি বেঁচে যাচ্ছেন।'
'আমি জানি সেসব'
'আমি আপনার চেতনাপ্রাপ্ত'
'আপনাকে জানিয়ে রাখি'
'কেউই একদম পারফেক্ট হয় না'
'আপনারা ভোট বিক্রি করেন, সেটা বিনামূল্যে জেনে।'
'কিন্তু এভাবে কোনো 'অফার' শুনে নিজেকে বিক্রি করে দেবেন না।'
'জয় হিন্দ!'
..::একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস::..
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.