Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bengali
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
English
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
এটা আমার করা ৫ম বাংলা সাবটাইটেল আর প্রথম মালায়লাম মুভির সাবটাইটেল আশা করি ভালো লাগবে!
আশা করি ভুল গুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপী ওয়াচিং♥
'মধুরা রাজা'
অল ইন্ডিয়া রেডিও...আকাশবাণী!!
আঞ্চলিক খবর পড়ছেন গোপাল
এরাকুলামের অন্তর্গত ভাইপিনে মদ্যপানের দূর্ঘটনায়...
মৃত্যের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭ এ।
ভাইপিনের কাছে পুথিনারুথু থেকে এই নকল মদ এসেছে বলে পুলিশ সন্দেহ করছে।
থিরুভানাম অনুষ্ঠানের দিন এই দূর্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে
মুখ্যমন্ত্রী কঠোর ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।
বালু...
তোর কি মনে হয় আমরা যা করেছি তা কি ঠিক?
একে অপরের প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া,
একসাথে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া,
সবাইকে পিছনে ফেলে...
ডাইজি,আমরা এখনো কাউকে ছাড়ি নি।
সবাই আমাদেরকে একঘরে করে দিয়েছে,তাই তো?
কিন্ত,যদি আমাদের কিছু হয়ে যায়…
আমাদের বাচ্চা যেন এতিম না হয়,বালু?
হেই!
যারা আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেছে তারা আমাদের কাছে শীঘ্রই ফিরে আসবে।
কান্নিরথাডাম এমন একটা এলাকা যেটার চারপাশ অগভীর পানি দিয়ে ঘেরা থাকে,
অন্তত ৬ মাস ধরে।
ভাসান্তি,এটা কান্নিরথাডাম না,সোনা!
এটা থান্নিরথাডাম।
থান্নিরথাডাম এমন একটা এলাকা যেটার চারপাশ অগভীর পানি দিয়ে ঘেরা থাকে,
অন্তত ৬ মাস ধরে।
- থান্নিরথাডাম - ভাসান্তি...
বাবার আজ রাতে ডিউটি আছে।
আমার আসতে রাত হবে।
তুমি তোমার মা আর বোনকে খাবার খেতে দিও,ঠিক আছে?
আর হ্যা,তোমার মাকে সময়মত ঔষুধ খেতে দিও।
আর নিশ্চিত হয়ো যেন সে এটা খায়।
সে ওইগুলো খাবে না,আব্বা!
আমি ঘোরার সাথে সাথে,মা সে গুলো বমি করে ফেলে দেবে।
এটা কি,ডেইজি?
আমি আর কতবার এক কথা বলব?
কেন,বালু?
আমি এগুলো তো কতদিন ধরে খেতেই আছি।
কোন উন্নতি কি হচ্ছে?
শুধু শুধু আমার সন্তানদের জ্বালাতন করা।
স্যার,
চন্দ্রান,সব কিছু তৈরি আছে,তাই তো? - হ্যা স্যার।
তুমি জানো তাই না? ৭৭ জন লোক ভাইপিনে মারা গেছে।
তাও আবার,মদ্যপান করতে গিয়ে।
আমাদের নাকের ডগা দিয়ে পোম্বিনথুরুথু থেকে বে-আইনি ভাবে মাদকের চোরাচালান ভাইপিনে হচ্ছে।
এটাই আমাদের শেষ সুযোগ।
নাদেশান এখন শুধু কোন বে-আইনিভাবে মাদক চোরাচালানকারী নই,
সে একটা অপরাধী যে ৭৭জন মানুষকে হত্যার জন্য দায়ী।
যদি আমরা তাকে ধরতে সক্ষম হই,
সেটা আমাদের পুরো ডিপার্টমেন্টের জন্য গর্বের অর্জন হবে।
আমি নিশ্চিত করেছি,স্যার। তথ্য একদম পাকা আছে।
কিছু জেলেকে আমি চিনি যারা আমাকে এই তথ্যগুলো দিয়েছে।
এখান থেকে সেই স্থানের দূরুত্ব ৪ ফার্লং কি.মি হবে।
এই মাঙ্গালাভানাম পরিত্যক্ত নিরাপদ দ্বীপ।
নাদেশান এর মাঝখানে বসেই সকল ফন্দি আটে।
হাই!
এসো,ভাসান্তি।
পলাশ স্যার... -স্যার
তুমি ইলচি চিচিকে সাথে নিয়ে এসে আজ রাতটা বাসায় থেকে যেও!
যদি আমার দেরী হয়ে যায়,তাহলে বাচ্চারা ভয় পাবে।
আমি স্ত্রী ভালো নেই,তাই! - আমি তার সেবাযত্ন করব,স্যার।
কোন চিন্তা না করে যান।
আমার সোনা।
বাবা জলদি বাসায় ফিরে আসবে।
কাল আমার জন্মদিন উপলক্ষে তুমি ওয়াদা করেছিলে আমাকে কোচিতে সার্কাস দেখাতে নিয়ে যাবে।
আমি নিয়ে যাব,সোনা। আমাকে আগে বাড়ি ফিরতে দাও।
সোনা...
ঠিক আছে স্যার।
বাবা!
এস আই বালাচন্দ্রান স্যার,তাই তো?
এটা সেই জায়গা যেখানে আমি মাদক চোরাচালানের ছক কষি।
শুল্ক বিভাগের কাজ হলো আমাদের ধরা,তাই না?
পুলিশও সেই কাজ শুরু করেছে নাকি?
৭৭জন লোক তোমার মদ খেয়ে মারা গেছে।
তুমিই ওইসব মৃত্যুগুলোর জন্য দায়ী!
তোমার বিরুদ্ধে প্রমাণও আছে।
কোন ঝামেলা না করে আমাদের সাথে আসো।
একজন আসবে।
কিন্তু বালু স্যার…
একটা খেলনা পিস্তল আর ৪ জন দূর্বল পুলিশ নিয়ে ধরতে এসেছেন…
আমি বলব হালকা অভিযান করেই এসেছেন।
চন্দ্রমোহন স্যার আমার লোক।
শুধু সে না।
সবাই।
পুরো বিভাগে অনেক বড় আর ছোট অফিসার আছে...
আমাকে সাহায্য করার জন্য!
বালু স্যার...
নাদেশানকে ধরার কথা চিন্তা করে অনেক প্রথম ভুল করে ফেলেছেন।
নাদেশানের ব্যাপারে তদন্ত করে দ্বিতীয় ভুল করেছেন।
আমাকে হাজতে পুরার সিন্ধান্ত নিয়ে…
আপনি সবচেয়ে বড় ভুল করে ফেলেছেন।
কোন ব্যাপার না।
উঠে পড়ুন এবং যান,স্যার।
আপনার পরিবার আর বাচ্চাকাচ্চা আছে না?
আমি ভালোভাবেই বলছি চলে যান।
অনুবাদ ও সম্পাদনায় হাবিবুল্লাহ কায়সার
(২৫ বছর পর) কোচি থেকে ১৫ কি.মি পূর্বে…
একটা ছোট দ্বীপ আছে,নাম পোম্বিনথুরুথু…
৪৫,০০০ জন লোকের বাস সেখানে।
আপনারা হয়ত জানেন, আমাদের এনসিএস'র একটা স্কুল আছে সেখানে।
ওই স্কুলের হেড ম্যাডাম একটা অভিযোগ পাঠিয়েছেন।
একটা মদের দোকান স্কুলের আঙিনায় খোলা হয়েছে,
আর ওইসব মাতাল,লম্পট,বেসামাজিকদের জন্য,
স্কুল চালানো মুশকিল হয়ে উঠেছে। তাই অভিযোগ এসেছে।
হেড ম্যাডাম পুলিশে অভিযোগ করে নি?
পুলিশ ওই মদের দোকানের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।
প্রথমত,আমাদের এই অভিযোগের সত্যতা খুঁজে বের করতে হবে
এবং যদি সত্যি হয় তবে জানাতে হবে।
এনসিএস'র প্রতিনিধি হিসেবে তাহলে মাধাবন মাস্টারকে এই কেসটা সামলাতে দিন।
দয়া করে মাফ করবেন...আমার শরীর ভালো না…
এটা ১৫০০ ছাত্রের ভবিষ্যতের ব্যাপার।
এই কাজ করতে,মাধাবন মাস্টারের চেয়ে যোগ্য আর কেউ নেই....
যিনি হেডমাস্টারী থেকে অবসর নিয়েছেন।
দুই কাপ চা দাও।
কী হয়েছে? -মনে হচ্ছে তোমাকে এখানে আগেও দেখেছি!
আমরা এখানে প্রথমবার আসছি। - না! সে!!
তুমি না মারা গিয়েছিলে?... - মারা গেছি?
- আমি? - হ্যা!
দূর হ!
আমি এই ছবিতে ফুলের মালা ঝুলতে দেখেছি।
মাধাবন মাস্টার,যিনি এনসিএস'র পক্ষ থেকে এসেছেন।
ইনি!
নমস্কার, মাস্টার।
নমস্কার!
তোমরা কারা? - নাদেশান স্যার আমাদের পাঠিয়েছেন।
কেন? আমি তোমার কথা বুঝতে পারছি না।
নাদেশান স্যার আপনার সাথে ব্যাক্তিগতভাবে দেখা করতে চান।
নাদেশান নিজেই স্কুলের পাশের মদের দোকানটা চালায়,তাই না?
হ্যা,স্যার। - সে আমাদের সাথে কেন দেখা করতে চায়?
আমরা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত করতে এসেছি।
একটা অভিযোগের উল্টো দিক অবশ্যই থাকে,তাই না?
আপনারা সেটা কেন শুনলেন না?
আমরা… - কৃষ্ণানান...
সে যা বলছে তাও সত্যি।
আমাদের তাদের কথাও শোনা উচিত,তাই না? - হ্যা।
তাহলে,চলুন শুরু করি?
সাবধানে।
নাদেশান স্যারের এক এবং একমাত্র ছেলে,ঋষি। সে একজন ডাক্তার।
তুমি কোথায় অনুশীলন করো? - আমাদের নিজস্ব একটা প্রতিষ্ঠান আছে।
"নাদেশান চ্যারিটি হাসপাতাল"
এই দ্বীপে সেটাই একমাত্র ক্লিনিক।
এটা কোন লাভজনক ব্যাবসা না।
ঔষুধ এবং চিকিৎসা এখানে বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
গ্রামবাসীর জন্য একটা সাহায্যে। এটা আমাদের ভাইয়ের একমাত্র উদ্দেশ্য!
আমি ২৫ বছরের পূর্বে এখানে এসেছিলাম।
এখানে একটা ঘন কাটাপূর্ন গাছের বন ছিল,বিষধর সাপ দিয়ে পুরো জলাশয় ভরে ছিল।
তখন!!
আমিই ছিলাম প্রথম যে সেই বন পরিষ্কার করে চাষাবাদ করেছিলাম।
আমি সেই কাজের জন্য বাইরে থেকে লোকজন নিয়ে এসেছিলাম।
পরে,সেটা তাদেরও দ্বীপ হয়ে গেল।
তার মাঝেই,কিছু লোক বাইরে থেকে এসে এখানে মদের ব্যাবসা শুরু করে দিলো।
যখন লোকজনেরা মদ্যপানের মরণযন্ত্রনায় ভুগতে লাগলো,
তাদের ভালো জন্য আমি এখানে একটা ভালো মদের দোকান দিলাম।
কিন্তু মদের দোকান থেকে যে টাকা আসে তা স্যার নেন না।
মানুষদের শিক্ষা আর চিকিৎসা সবই নাদেশান চ্যারিটেবল থেকে দেওয়া হয়।
গ্লাস ফ্যাক্টরি,ফিশিং বোট,তেলের কারখানা,হাসপাতাল এখানে যত প্রতিষ্ঠান আছে,
নাদেশান স্যার শ্রমিকদের জন্যই শুরু করেছিলেন।
অনেক লোক তাদের চাকরি হারাতো,
তা না হলে তিনি নিজেই দোকান বন্ধ করে দিতেন।
এই যে স্কুলটা কার জমির উপর দাঁড়িয়ে আছে?
সেটাও নাদেশান স্যার নামমাত্র মূল্যে এনসিএস'র কাছে বিক্রি করেছিলেন।
এই এলাকার ছেলেমেয়েদের একটা স্কুলে পড়া উচিত।
এটাও আমি চাই।
এখন এই অভিযোগের কারণ কী?
নাদেশান স্কুলে ঘটা কিছু অপ্রতিকর ঘটনা সম্পর্কে হেড ম্যাডামকে প্রশ্ন করেন।
তাই তিনি ব্যাক্তিগত আক্রোশ মিটানোর জন্য এমনটা করেছেন।
আমরা এখানে এমনিতেও কয়েকদিন থাকব,আবার আসবো।
ঠিক আছে,মাস্টার।
এখানকার মানুষ নাদেশান স্যারকে তাদের জীবনের থেকে বেশি ভালোবাসে।
সে ই এই দ্বীপের আর আমাদের রক্ষাকারী!
যে কেউ তার কাছে সম্মানের সাথে কিছু চাইতে যায়,তিনি কখনো তাদেরকে খালি হাতে ফেরান না।
বালেট্টা,একটা চা!
সুরু,তুমি এখনো তাকে যেতে দাও নি?
না!
সে যতটা খাবার খেয়েছে ততটা কাজও এখনো করে নি।
যদি আমি পুরো ভাড়াটা পাই,
আমি তাকে এইভাবে ৬ মাস ধরে কাজ করাবো।
এই ঘটনার পিছনে কাহিনীটা কী?
এই বিদেশী ভদ্রলোক তাদের রিসোর্টে এক মাসের জন্য থাকতে এসেছিলো।
যখন সে চলে যাবে তখন,
কিছু চোর তার সবকিছু চুরি করে নিয়ে যায় তার পাসপোর্টসহ!
তাই তার কাছে টাকা না থাকায় সে কাজ করে পাওনা পরিশোধ করছে।
সে এখন আমাদের গোলাম!
আমার জীবনের ইচ্ছা ছিল একটা ইংরেজকে আমার গোলাম বানাবো!
কেন? -আমার দাদা একজন স্বাধীনতা বিপ্লবী ছিল,
তখনকার দিনে একজন ইংরেজ তাকে গুলি করেছিল।
কেন? -একটা ক্ষুদ্র কারণে,
স্বাধীনতা সংগ্রামের অংশ হিসেবে,
আমার দাদা ওই ইংরেজের বউকে ধর্ষণ করে এবং তাকে হত্যা করে।
এটা কী? - বন্ডা! (জলখাবার)
বন্ড? - হ্যা।
ওহ! জেমস বন্ড!
এটা বন্ড না রে!
অনেক আগে বন্ড তোমাদের দেশে জন্মগ্রহণ করেছিল,
কিন্তু বন্ডা আমাদের দেশে উৎপাদিত। বন্ডা!
- ওহ ভালো! - খাও!!
আমরা কি এখানে এক সপ্তাহের জন্য ভাড়ায় থাকতে পারব?
এখানে??… - একটা জায়গা আছে,
কোথায়? - একটা মনোরম জায়গা,প্রকৃতির খুব কাছে!
একটা রিসোর্ট! 'চিভানালা কায়ালোরাম'.
না,মাস্টার।আপনি সেখানে থাকতে পারেন না। থাকলে আপনার নাম খারাপ হবে।
যদি তারা "ভাসান্তি চেসি" রিসোর্টে থাকে তাহলে কি খারাপ হবে?
এখানকার সবাই "ভাসান্তি" দ্বীপ সম্পর্কে জানে।
তুমি কি কিছু দেখেছো নাকি? - না!
কিন্তু নারিকেল গাছী ভাসু আমাকে বলেছিল,
ওহ! গল্প ভাসূ? - হ্যা! -আমি এক্ষুণি তার ব্যাবস্থা নিচ্ছি।
সে মিথ্যা বলেছে। মাস্টার।
ভাসান্তি চেসি একজন নিষ্পাপ মহিলা যিনি ওই দ্বীপে একা কোন পুরুষ সঙ্গী ছাড়া বাস করতেন!
এসো কোন ভয় নেই!
আপনি এই দ্বীপে থাকার জন্য ভালো জায়গা পাবেন না।
আমরা এজন্য এটাকে 'অভয়াশ্রম' বলি না।
আপনার নিজের বাসায় থাকাও সেটা আরও আরামদায়ক।
সবকিছুর এখানে দাম অনেক।
মাছ,বাগদা চিংড়ী,গলদা চিংড়ী
আমরা বিপদে আছি। - কেন?
যদি চেসি'র হাতে কুড়াল থাকে তারমানে সে রেগে আছে।
আমি শীঘ্রই আসছি।
হেই চাকর!এদিকে আয়! - হ্যা,মালিক!
ওহ না!
তুমি এসব কেন করছো,চেসি?
তুই এতক্ষণ কোন নরকে ছিলি?
চেসি,বাজার সত্যিই অনেক লোক ছিল,
ফেরার পথে,আমাদের এই বিদেশি একটা বন্ডা চেয়েছিল..তাই...
হেই! ওই লেখক সকাল থেকে মদপান করছে।
যদি সে এভাবেই চালাতে থাকে,আমি তাকে লাথি মেরে তাড়িয়ে দেবো।
শান্তু হও,চেসি!
আমি তাকে দেখছি!
ওহ না! আমার বুক কাটবে না।
আমি কাটবো! আমাকে কুড়ালটা দাও!
কুড়াল কেন? - তুমি কাঠ কাটবে তাই। আমি এক্ষুণি আসছি।
চেসি! চেসি! - নমস্কার।
তারা কারা?
আমি তাদেরকে রাস্তায় পেলাম
তারা একটা ঘর ভাড়ার জন্য খুজছিল!
আমি বিনা পরিচয় জেনে তাদেরকে ঘরভাড়া দিতে পারবো না।
কে জানে তারা হয় চোর অথবা খুনী?
তারা ভালো লোক,চেসি!
তাদেরকে দেখে বুঝতে পারছো না? ভালো করে দেখ,
আমি এনসিএস'র একজন শিক্ষক,
এবং এই দ্বীপে স্কুলের পাশে গড়ে উঠা মদের দোকানের সম্পর্কে তদন্ত করতে এসেছি।
নাদেশানের দোকান কি বন্ধ হয়ে যাবে?
যাই হোক,আমাকে স্কুলে গিয়ে সবকিছু বিস্তারিত ভাবে দেখতে হবে।
আমি তারপরই সব বলতে পারবো।
তার দোকান বন্ধ হওয়াই উচিত।
আপনাদের সাহায্যের দরকার হলে আমাকে বলবেন,
সুরু,তাদেরকে ঘর দেখিয়ে দে। - ঠিক আছে।
সুরু,ওই লেখক অনেকক্ষণ আগে একটা অমলেট চেয়েছিল।
বানিয়ে তাকে দিয়ে দে! - আচ্ছা।
গোলামটার কাঠ কাটা শেষ হলে আমি তাকে করতে বলব। তুমি যাও!
হেই!
তুই কোথায় যাচ্ছিস? - লেখককে অমলেট দিতে,
আমি কি তোকে ওইখানে পড়তে বসতে বলি নি?
আমার পড়া শেষ,চেসি!
আমি ভেবেছিলাম আমি তোমাকে সাহায্য করব।
আমি বলছি,ভেতরে যাও।
পড়ালেখা করে এই দ্বীপ থেকে পালাবি তা না,
তুই একটা মাতালকে তরকারী পরিবেশন করতে চাস!
ভেতরে যা!
-সুরু! - হ্যা!
এখানে আয়! - হেই!
আমি একটু পরেই আসছি।
আমাকে লেখক সাহেবের জন্য অমলেট বানাতে হবে।
না হলে অনেক বড় সমস্যা হয়ে যাবে। - ভালো…
তুমি লেখকের জন্য বলতে কী বুঝাতে চাচ্ছো? -হেই! চিন্তা করবেন না!
সে মালায়লাম ভাষার জাতির পিতা না।
এই লোকটা স্থানীয়!
একজন স্থানীয় পনির ঔপন্যাসিক।
এই দ্বীপের আত্মা।
আপনি এখানে আপনার স্নেহাপরায়ন পদবী নিয়ে থাকুন!
এটা মনে করে যে,ভাসান্তি এই দ্বীপের আত্মা!
তুমি এখানে এক মাস যাবত নিজের লেখালেখির জন্য পড়ে আছো।
তুমি কি এটা দেখেছো?
তাকে ভাসান্তির জীবনকাহিনী বর্ননা করার জন্য আনা হয়েছে।
সে দুই বোতল মদ শেষ করে ফেলেছে।
ভাসু…
দ্বিতীয় বোতলও প্রায় শেষ!
এটাও প্রায় শেষ!
কিন্তু অমলেট এখনো আসে নি।
ওহ না! এসে যাবে!
তার আগে,এটা বলো…
ভাসান্তি, যার বয়স ১৭...
তার অকল্পনীয় সৌন্দর্য তখনই ফুটে উঠে যখন সে রাতের গোসল শেষ করে ভেজা চুলে সামনে আসে..
ভাসু,ওইটা কে যে এই দৃশ্যটা নারিকেল গাছ থেকে উপভোগ করছে।
তারপর? আমাকে বাকিটা বল,
আমার কি বাকিটা বলা উচিত? -হ্যা বলা উচিত।
ভাসুট্টা…
কোথাও যাস না,,,আমি এক্ষুনি আসছি।
মি.ভাসু,
নারিকেল গাছের উপরে বসে,
তুমি কি দেখলে?
সে একটা বেশ্যা!
ভাসান্তি একটা বেশ্যা!
ভাসান্তি একটা বড় বেশ্যা! - হেই! তুই এইমাত্র কি বললি?
এখান থেকে চলে যা,হারামজাদা! আমি তোকে আজই খুন করব।
শালা কুত্তার বাচ্চা!
আমি তোর জিহ্বা কেটে ফেলবো।
আমার বুকে মারিস না। আমার বুকের ব্যাথার রোগ আছে।
সে কি করছে?
ভাসান্তি একটা বেশ্যা,হাহ? - আমার হাত ছাড়,
হেই!দাড়া!শালা হারামজাদা!!
যদি তুই আরেকবার আমার আমার বেড়ার ভেতরে পা দিয়েছিস,
আমি তোকে কুচি কুচি করে কেটে খালে ভাসিয়ে দেব!
শুয়োরের বাচ্চা! - দূর হ,শয়তান মহিলা!
ধ্যাত...
দূর হ.. - সরে যাও
মানুষকে এইভাবে দেখলে সে পাগল হয়ে যায়
হেই লেখক!
কি হয়েছে,বোন?
যদি আমি আবার এই লোকটাকে দেখি,
তুমি আর তোমার বউ এই দ্বীপ থেকে উধাও হয়ে যাবে
আমি ভুলবশত একটা ভুল করে ফেলেছি। - নির্লজ্জ!
তুমি কি দেখছো?
আমার গল্পটা পরিবর্তন করতে হবে। - ওটা মনোহারান না?
ওই নায়িকা সঠিক হবে না।
একটা টুইস্ট খুবই জরুরি এখন!
মনোহারান!
মাধাবন মাস্টার!
কৃষ্ণানান চাচা,
তুমি এখানে কি করছো?
আমরা এখানে একটা মিশনে এসেছি। - নমস্কার, মাস্টার।
তুমি এখানে কি করছো,মনোহারান?
আমি আমার নতুন উপন্যাসের জন্য গল্প খুঁজছিলাম।
কোন উন্নতি ছাড়ায় আমার গল্প আটকে গেছে।
এখন আমি শান্তি পেলাম,
আপনি এসেছেন, তাই।
এখন টুইস্টের পর টুইস্ট হবে।
আমরা এখানে কোন ঝামেলা পাকাতে আসি নি।
তার প্রয়োজন নেই।
আপনাকে শুধু চারিদিকে হাটতে হবে,,
সমস্যা নিজে নিজেই তৈরি হয়ে যাবে।
সমস্যা তৈরী করা আর সেই তৈরিকৃত সমস্যার সমাধান করা,
কেরালার যতগুলো পরিবার আছে তার মধ্যে মাস্টারের পরিবার বেশি ভালো পারে,তাই না?
যেহেতু আমরা চুক্তিতে পৌঁছে গেছি,
এরপর থেকে আপনিও যেখানে যাবেন আমিও সেখানে যাব।
দু:খিত। হেডম্যাডাম আপনার সাথে দেখা করার জন্য সকাল থেকে বসে আছে।
অতিরিক্ত সূর্যের তাপের কারণে তার মাথা ঘুরে গেছে হয়তো।
এটা কিছুই না। শুধুমাত্র একটু ক্লান্তির জন্য এমন হয়েছে।
এটা চলে যাবে যদি তিনি একটু বিশ্রাম নেন তো!
তুমি?? - আমলা!
আমি হেডম্যাডামের মেয়ে।
আমি এখানে এইচ.এস.সি পড়ায়।
ঠিক আছে। আমরা এখন যাচ্ছি পরে আবার আসবো।
কোন ব্যাপার না।
আমি আপনাকে এখানকার বিস্তারিত ধারনা দিচ্ছি।
সরকার কর্তৃক প্রদত্ত জমি নাদেশান কিছু বছর আগে অবৈধ ভাবে দখল করেছিল,
এবং এনসিএস'র কাছে ১৩ বছর আগে চড়া দামে সেটা বিক্রি করে
অসভ্য!
সে ৫ বছর আগে মদের ব্যাবস্যা শুরু করে।
স্কুলের সমস্যা তখন থেকেই শুরু হয়।
মাতালরা মদ খেয়ে স্কুলের ভেতরে ঢুকে পড়ে বাচ্চাদের ভয় পাইয়ে দেয়।
অসামাজিক লম্পটগুলো তাদের মদ স্কুল আঙিনায় বসে শেষ করতো,
ছেলেমেয়েরা যারা সকালে স্কুলে আসতো, তাদেরকে মদের বোতল,খাবারের উচ্ছিষ্ট পরিষ্কার করতে হতো,
তাদের ক্লাস শুরুর আগে!
এখন যা কিছু হচ্ছে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাচ্চাদের উপর যেন প্রভাব না ফেলে,
সে জন্য,আপনি এখন আমাকে যা বললেন...তার একটা বিস্তারিত রিপোর্ট লিখে আমাকে দিন।
আমি সেটা এনসিএসকে আমার রিপোর্টের সাথে জমা দেব।
আমি আমার কাছে থাকা তথ্যের সাথে যত পারি তত তথ্য যোগ করে জমা দেব।
কৃষ্ণানান,
তোমার কি হয়েছে?
আমাকে না বলে কোথায় গিয়েছিলে?
এটা কি?
তুমি জানো আমার এই পা কিভাবে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে,তাই না?
হ্যা। অনেক বছর আগে যখন তুমি টিটিসি পড়তে গিয়েছিলে,
এটা সে,মাস্টার।
লিলিকুট্টি!!
হায় ঈশ্বর!
এই হেডম্যাডাম তোমার লিলিকুট্টি,কৃষ্ণানান?
কি ব্যাপারা,মাস্টার?
এটা ২০ বছর আগে ঘটেছিল,মনোহারাম!
অনেক বছর আগে যখন কৃষ্ণানান টিটিসি পড়তে গিয়েছিল,
সে তার এক খ্রিষ্টান সহপাঠিনীর প্রেমে পড়ে।
কাউকে কিছু না বলে,তারা একত্রে বসবাস শুরু করে।
একত্রে বসবাস?
কেরালার প্রথম বর্তমান প্রজন্মের জনক!
তারপর? - তারপর কী?
যখন মেয়েটার পরিবার এটা জানতে পারলো,
তারা কৃষ্ণানানের পা ভেঙে মেয়েটাকে নিয়ে চলে যায়।
আমি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবার পর,
মাস্টার এবং আমি তাকে সব জায়গায় খুঁজেছিলাম।
কিন্তু তারপর শুনলাম,লিলিকুট্টির পরিবার সবকিছু বিক্রি করে দিয়ে অন্যত্র চলে গেছে।
তারপর থেকে... - এটা বেশ দারুন!
কিন্তু,যখন থেকে এই নতুন প্রজন্মের ট্রেন্ড শুরু হলো,
আমি এসব গল্প সচরাচর লিখি নি।
তাই যুবকেরা আমাকে মোটেও পছন্দ করে না।
তারা আমাকে ফেসবুকে সমালোচনা করে কবরে পাঠিয়ে দেবে।
তারা আমাকে গালি পর্যন্ত দেয়।
মি.রোমিও {অবিবাহিত}…
তো তুমিই আমলা শিক্ষিকার পিতা?
হ্যা। সেটা এই রোমিও!
আমি তার ছবি তাদের বাসায় ফুলের মালায় সুসজ্জিতভাবে দেখেছিলাম।
দারুন!
কি সুন্দর নিত্য পরিবর্তনশীল এবং চৌম্বুকীয় প্রেম কাহিনী!
মাস্টার,
আমাদের উচিত কৃষ্ণানান চাচাকে দ্রুত লিলিকুট্টি ম্যাডামের বাসায় নিয়ে যাওয়া।
এখনই সেই স্বর্ণযুগের সময় যখন পুরনো প্রেমিকরা আবার একত্রিত হবে।
গল্পের হৃদয় কাপানো মূহুর্ত!
সে দেয়ালে ঝুলে থাকা তার পিতার ছবি থেকে মালা খুলে ফেলে দেবে,
সে ছবিটাকে জড়িয়ে ধরবে।
তার চোখ দিয়ে অশ্রুজল ঝরে পড়বে… - কি সব হিজিবিজি লিখছো?
তুমি কাঁদো নি? সেও কাদে নি।
তার হৃদয় ইস্পাতের মত মজবুত।
একটা কালো ধাতুর হৃদয়!
জনাব.কৃষ্ণানান চাচা…
তুমি কি করছো?
যে প্রেমিক তার প্রেমিকারা সাথে ২০ বছর পর দেখা করে…
সে সাম্বার খাবারের মত নড়াচড়া করছে?
আজ তোমার বাসররাত,তাই না? - অভদ্রতা না করে বাইরে যাও!
একজন কেন?
একজন বলবে।
আমার দরকার মাসালা!
না হলে আমার উপন্যাস বিক্রি হবে না।
সোনা,রিপোর্টটার কি হলো? - ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন।
রাসুলকে আসতে দিন। - পোককুট্টি!
রাসুল পোককুট্টি! যে সাউন্ড মিক্স করে? - না।
সে আমার সাথে মহারাজা কলেজে পড়াশোনা করেছে।
সে একজন সাংবাদিক।
সে মদের দোকান-স্কুল দ্বন্দ নিয়ে অনেক কিছুই জানে।
যদি সে এটার খসড়া দিয়ে দেয়,তাহলে আমাদের ভুল সংশোধনের দরকার পড়বে না।
কৃষ্ণানান...
যত দ্রুত আমি রিপোর্টটা পাবো,আমি চলে যাবে।
তোমাকে লিলিকুট্টি আর তোমার মেয়েকে আমাদের পূর্বপুরুষদের বাসায় আসতে হবে।
চল সেখানে ছুটির দিনগুলো কাটাবো আমরা!
আপনি কিভাবে যেতে পারেন,মাস্টার?
আমার গল্পের চমক লাগবে।
তাই? - পকিরি (গুন্ডা) রাজা!
তাকে এই দ্বীপে আসতে হবে।
একমাত্র তবেই আমার গল্প মজাদার হয়ে উঠবে। - হ্যা, সঠিক।
মনে হচ্ছে যেন তুমি ডাকার সাথে সাথে সে চলে আসবে।
আমি তাকে ফোনে পর্যন্ত পাই না। সে খুব ব্যাস্ত।
তাহলে আমরা কেন ছোট গুন্ডাকে ডাকছি না?
সে আসবে না।
সে একটা মুভি পরিচালনা করছে,তাই না?
অ মোর শয়তান! মুভি??
যদি সে আমাকে একবার বলতো আমি তাকে একটা ক্রিপ্ট লিখে দিতাম।
আমার স্ক্রিপ্ট "সুন্দরী যে শয়তানের প্রেমে পড়েছে" পুরোপুরি তৈরী!
এই যে সে। - কে? রাজা??
না। রাসুল।
ইনি মাধাবন মাস্টার।
উনি... - আমি চিনেছি।
আমলা আমাকে ফোন করে বলেছিল যে তার মৃত বাবা ফিরে এসেছে।
এই নিন,মাস্টার।
আমি এখানে যতটা পেরেছি তথ্য দিয়েছি।
আমার মনে হয় তা যথেষ্ট।
আমি পরে আসব।আমার একটু তাড়া আছে। - ঠিক আছে।
এক মিনিট!
আমি এখানে কিছুদিন থাকবো না।
আমি ফিরে এসেই তোমাকে বিস্তারিতভাবে বলবো।
তারা যে পথে হাটছে সে পথে আমি টুইস্টের গন্ধ পাচ্ছি।
তুমি ঠিক আছো,কৃষ্ণানান?
এটা কি,এম.এল.এ?
তুমি শেষবার এসেছিলে তারও অনেক বছর হয়ে গেছে।
অ্যাসেম্বলি চলছে,ভাই। সেজন্য,,
এখন বিশেষ কী?
আমি শুনলাম যে এনসিএস কিছু লোক পাঠিয়েছে আমাদের মদের দোকান সম্পর্কে তদন্ত করাতে?
যারা এসেছে তারা নাকি এইচ.এম'র বাড়ি বসতি গেড়েছে?
এখন এমন কোন রিপোর্ট যেন না আসে যেটা আমাদের জন্য বিপদ ডেকে নিয়ে আসে।
আচ্ছা,যদি আপনি চান তবে আমি মন্ত্রীকে ফোন করবো!
একদিন না একদিন তো আমার বাইরের সাহায্য লাগবেই।
সেদিন আমি তোমাকে জানিয়ে দেব,ক্লিটাস!
ঠিক আছে,ক্লিট্টা!
কৃষ্ণানান নায়ার কোথায়?
সেটা আমিই। কি হয়েছে?
এটা কি সে? - হ্যা,স্যার।
তাকে ভেতরে ঢুকাও। - কি জন্য,স্যার?
কারন কী,স্যার? - জলদি!
এই উদাম্বু ভাসু কাল রাসুল নামের এক যুবকের উপরে গাড়ি চালিয়ে দিয়েছে।
চুক্তি মোতাবেক সে তার মেয়ের গোপন প্রেমিককে সরিয়ে দিয়েছে।
তুমি তোমার পুরনো স্বামীকে এজন্য ফিরিয়ে এনেছিলে?
এটা একটা বানোয়াট মিথ্যা।
আমি কিছুই জানি না।
হেই ভাসু,আমাকে বল, সে তোকে এইজন্য কত দিয়েছে?
সে আমাকে ৫০,০০০টাকা অগ্রিম দিয়েছিল
সে বলেছিল বাকিটা কাজ শেষ হওয়ার পর দেবে।
স্যার,এটা ধোঁকাবাজি।
কেউ আপনাকে ভুল পথে চালিত করছে।
তাকে জিপে ঢোকা!
চল,হাটা শুরু কর।
চল!
স্যার,আপনি তাকে এভাবে মারলে সে মারা যাবে।
আমরা তখন কীভাবে জবাবদিহি করব? - তাকে মরতে দাও।
আমি এফ.আই.আর অভিযোগ করব যে সে আত্মহত্যা করেছিলো!
অন্যথায়, তাকে অপরাধ স্বীকার করতে বলো।
আমি কিছুই জানি না।
থামো!
তাকে এভাবে মারছো কেন? সে কি করেছে?
তুই কে? - আমি…
আমি মাধাবন মাস্টার!
কৃষ্ণানানের বোনের স্বামী!
মাধাবন মাস্টার!
আমি কবে থেকে আপনার সাথে দেখা করতে চাচ্ছি,
আপনারও কি এই ষড়যন্ত্রে কোন হাত আছে?
কি ষড়যন্ত্র?
Honour-killing. (স্বেচ্ছায় হত্যা)
একজন বাবা যে তার মেয়ের সম্পর্ক দেখতে পারেন নি,
...অন্য ধর্মের ছেলের সাথে,
একটা লোক ভাড়া করে তাকে খুন করালো,
আপনি নিজেই জানেন আপনি যা বলছেন তা মিথ্যা,স্যার।
কিছু তো দয়া দেখান।
দয়া করে কৃষ্ণানানকে এটা থেকে মুক্তি দিন।
হ্যা। এটা মিথ্যা।
তো তুই কি করবি?
দূর হ!
হায় ঈশ্বর!
মাস্টার!
আপনি এটা নিজে নিজে সামলাতে পারবেন না,মাস্টার।
নাদেশান স্যার এর পিছনে রয়েছে।
সে কোন সাধারণ মানুষের বকবক শোনে না।
আপনাদের বড় মাপের কাউকে ধরতে হবে
বড় মাপের?
মাধাবন মাস্টারের দুইটা প্রথম শ্রেণির গুন্ডা ছেলে আছে।
বড় মাপের না…
তারা দুজনে অন্য লেভেলের!!
বড়জনের নাম গুন্ডা রাজা!
ছোটজনের নাম গুন্ডা সুরিয়া!
আমাকে বল তুমি কাকে চাও?
নাদেশান স্যার তেমন না যেমনটা তুমি ভাবছো।
অনেক লোকই গত ২৫ বছর ধরে চেষ্টা করেছে..
তারা তার একটা চুলও স্পর্শ করতে পারে নি।
জেতার জন্য সে যে কোন নোংরা খেলতে পারে।
সে একটা নোংরা লোক?
যদি প্রতিপক্ষ নোংরা লোক তাহলে ছোট কেউ জিততে পারবে না।
একজন বড় কাউকে দরকার পড়ে।
রাজা!
তাকে বলা হয় গুন্ডা রাজা,মাস্টার।
আমি তাকে ডাকতে চাই না,মনোহারাম।
যদি আমার হৃদয় একটুও প্রকম্পিত হয় সেটা রাজা জানতে পারবে।
সে আসবে। আমার ছেলে!
রাজা!
টিকিট!টিকিট!!
রাজা আন্না(বড় ভাই) আমি বুঝেছি।
আমি কোন গোলমাল করতে যাচ্ছি না।
কোন মারামারি না। কোন সমস্যা না। ঠিক আছে?
আমি তোমাকে বলছি আমি খুবই ভালোভাবে এটা সামলাতে পারব!
আন্না,একই কথা বারবার বলো না তো।
আমি বললাম,আমি সামলাতে পারব তাই তো? চিন্তা কর না এখন।
এটা কি? -আমার চেইন খুঁজে পাচ্ছি না।
দু:খিত! আমি সেটা খেয়ে ফেলেছি।
তোমার লাগবে নাকি?
চোর! তুমি আমার চেইন গিলে ফেলেছো!
- চোর! চোর!! - সমস্যা কিসের?
চেট্টা,সে আমার চেইন গিলে ফেলেছে।
আমি দেখেছি! - কি হয়েছে,মিনু!
এই চোর আমার চেইন গিলে ফেলেছে।
হেই! তুই এই মেয়েটার চেইন গিলে ফেলেছিস?
আমি বুঝতে পারছি না,ভাই। সে কি আমার সম্পর্কে কিছু বলছে?
তার মানে,তুই এই মেয়েটা চেইন গিলে ফেলেছিস?
আমি গিলেছি। আমি সেটা গিলে ফেলেছি।
কেন? তার সেটা দরকার ছিল না?
হেই ভাই। এই লোকটা মালায়লি না সে বাঙালী।
তাই আমরা যা বলছি সে তা বুঝতে পারছে না।
বাঙালী না। সে তামিলিয়ান।
হেই!তুই এই মেয়েটার চেইন চুরি করেছিস? তুই চেইন চুরি করেছিস কী?
চুরি করেছি? আমি?
আমি তাকে গিলতে দেখেছিলাম।
তুমি কি "মাল চুরি এবং প্রত্যক্ষদর্শী" মুভিটা দেখো নি? - ৩ বার দেখেছি।
ওই মুভির প্রসাদ চরিত্রের মতো,
যখন আমি পিছনে ঘুরলাম তাকে চেইনটা গিলতে দেখলাম
ওহ! তুমি কি চুরিকৃত মাল সব গিলে ফেলো নাকি?
'চুরিকৃত মাল' মানে?
তুই জানিস না 'চুরিকৃত মাল' কি? আমি তোকে দেখাচ্ছি।
পাইলই,বোটটাকে পুলিশ স্টেশনে নাও।
পুলিশ স্টেশন?
পুলিশ স্টেশন কেন?
তার চেহারা দেখে বুঝতে পারছো না? সে খুবই দক্ষ চোর!
আপু,আমি আপনার জিনিস চুরি করি নি। দয়া করে আমাকে যেতে দিন।
ভাই,আমি স্কুল থেকে এখনো পর্যন্ত একটা বালব পর্যন্ত চুরি করি নি।
হেই প্রসাদ …
অন্য প্রসাদ তোর থেকে আরও নিখুঁতভাবে অভিনয় করেছিল।
আমেরিকান মালায়লিরা বিশ্বাস করতে পারে নি। আর তুই চাস আমরা তোর কথায় বিশ্বাস করি?
চল যাই আর তার এক্স-রে করিয়ে নিয়ে আসি। চলো।
এক্স-রে? এক্স-রে কেন?? - এখানে আসো।
আমি এক্ষুনি চেইনটা বের করে আনবো।
এখানে আয়
হেই!
কি?
চেসি
হেই! বমি কর!!
এখন কি করব?
হেই চোর! আরে এখানে বমি কর!
হেই! তাকে যেতে দিন!
আমাদের কোন অভিযোগ নেই।
আমাদের কী পুলিশ থানায় যাওয়া উচিত না?
আমরা পুলিশ থানায় চক্কর কাটতে পারব না। - এটা হলে কিভাবে চলবে?
এটা ঠিক না।
ওই মেয়েটার কোন অভিযোগ নেই। তাহলে তোমার সমস্যাটা কী?
যাত্রায় ব্যাঘাত ঘটানো। চেট্টা!
বোটটাকে জেটিতে নিয়ে যাও।
হেই! হেই! আমি ভাগ্যবান ছিলাম!
যদি তুমি সেখানে না থাকতে তাহলে আমাকে থানায় যেতে হতো। ধন্যবাদ!
হেই! তোমার নাম কী?
কী?
তোমার নাম?
মিনাক্ষী - ওয়াও!!
মিনাক্ষী?
তুমি সাধারণ মিনাক্ষী নও তুমি মধুরার মিনাক্ষী(দেবী)
হেই! যদি তোমার তাকে দরকার না পড়ে আমি তাকে নিয়ে গেলাম?
কেন?
চেইন তার পেটে তাই না? সেটা ফিরে পেতে হবে না?
আমি ২ কেজি কলা কিনে নিয়ে তাকে খাইয়ে আমার মাঠে নিয়ে যাবো।
যদি আমি পাই,তবে ৫০-৫০ ভাগাভাগি, রাজি?
চেট্টা! - হ্যা।
যেটা সে গিলে ফেলেছে সে খাটি সোনার।
হেই! রঙের পার্থক্য বুঝতে না পারার কারণে,তোর জন্য আমার আশা শেষ হয়ে গেলো!
কী? আমি বুঝতে পারলাম না।
ধ্যাত! দূর হ!!
আশাটাও হারিয়ে গেলো।
মিনুট্টী!
আমরা যাই? আসো
যেহেতু কৃষ্ণানান চাচাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে,
আমাদের কী তার জন্য ভালো উকিলের ব্যাবস্থা করা উচিত না,মাস্টার?
রাজা আমাকে কিছু না করতে নিষেধ করেছে।
তার মনে কিছু পরিকল্পনা আছে।
মধুরার কেউ বাইরে অপেক্ষা করছে।
এটা কি মধুরার 'গুন্ডা রাজা'?
আমি সেটা জানি না।
তাহলে কে?
মাধাবন মাস্টার?
আমি
আমার নাম চিন্না!
আমি রাজার ছোট ভাইয়ের মতো।
মনি আন্নান? - আমি তার ছেলে!
মনোহারান,তুমি চিনতে পেরেছো তাকে? সে আমাদের মনি আন্নানের ছেলে।
মনি আন্নানই আমাদের রাজাকে বানিয়েছে 'গুন্ডা রাজা"
সে ছিল বড় ডন।
আমার প্রিয় মাস্টার,আমি জানি।
এটা আমি ছিলাম যে 'গুন্ডা রাজা' পার্ট-১ বানিয়েছিলাম
তাই আমাকে বাহাদুরি করে বলতে হবে না।
তো জনাব ছোট রাজা… - হ্যালো!
চিন্না রাজা। আমার ভাই এভাবে আমাকে ডাকে,
এটাই! রাজা কখন আসবে?
ভাই আমাকে বল তার আসতে এক সপ্তাহ লাগবে।
ততক্ষণ পর্যন্ত আমাকে ব্যাপারটা সামলাতে বলেছে।
আমার নায়কের এই গল্পে প্রবেশ একটু দেরীতে হবে
দর্শকেরা অধৈর্য হয়ে পড়বে তো!
তুমি সেটা কেন বুঝতে পারছো না?
যদিও আমার ভাই দেরিতে আসলেও সে ই পর্দায় ছাপিয়ে যাবে♥
এটাই মধুরার রাজার স্টাইল!
তুমি ওইখানে কি দেখছো?
"মালামাল চুরি"
মালামাল চুরি? এই মালামাল চুরিটা আবার কী?
আমি তোমাকে সেটা বলতে পারবো না। তোমাকে সবকিছু কেন বলতে হবে?
চেসি,সে কে?
ওইটা?
আমার একটা চাচাতো ভাই আছে।
সে মধুরাতে থাকে। রাজা!
সে খুবই বড় গুন্ডা!
এই ছেলেটা তার সাথে কাজ করে।
সে এখন আমাদের দেহরক্ষী!
দেহরক্ষী? - হ্যা।
এই ছেলেটা?
দেখ, তোমাদের রক্ষা করতে গিয়ে ক্ষতি না করে ফেলে! - কোনভাবেই না।
বেশি বকবক করা ছাড়া তার আর কোন সমস্যা নেই।
আমি এই বোতলটাকে মিস করবো। আমাকে যেতে দাও। সন্ধ্যায় দেখা হবে।
হেই!
যদি অবসরে থাক,তাহলে আমার সাথে আসো দুজনে একসাথে মাছ ধরব।
হেই!কাঠের ব্রিজটা ভেঙে গেছে।
তুমি পড়ে যাবে।
খালটা বেশ গভীর কিন্তু! - আমি পড়ে যাব?
হেই! আমি অ্যাকুয়াম্যান (জলমানব)
এটা আমার জন্য অনেক সহজ ব্যাপার!
এটা কেমন?
কেউ আমাকে টানছে - তাড়াতাড়ি আসো অ্যাকুয়াম্যান লবণাক্ত পানিতে ডুবে যাবে।
সে কোথায় গেলো?
সে সাতার জানে না। তাকে বাচাও।
তুমি সাতার জানো না?
আমি সাতার জানি কিন্তু পানিতে সাতার কাটতে পারি না।
আমরা এখন কি করব? - তুমি সাতার জানো?
হ্যা! কিন্তু... - কোন কিন্তু না,লাফ দাও
একজন বেরিয়ে এসেছে।
তাকে দ্রুত ধরে আনো
আমাকে উঠতে সাহায্য করো।
ওহ না! সে অনেক পানি খেয়ে ফেলেছে।
জলপ্রপাত! হেই অ্যাকুয়াম্যান!!
মি.অ্যাকুয়াম্যান!
হায় খোদা! সে বেহুঁশ হয়ে গেছে।
সে তার সব অক্সিজেন হারিয়েছে।
তোমাকে তাকে কৃত্রিমভাবে শ্বাস দিতে হবে। দাও তাকে। - অক্সিজেন?
হ্যা। - নিজে দাও।
আমার ব্রংকাইটিস আছে।
দাও মা! - আমি পারবো না।
হেই মেয়ে! একটা ছেলে এখানে মরার মতো পড়ে আছে,
আর একটা মেয়ে তাকে শ্বাস দিতে পারবে না! দাও তাকে!
তুমি দাও! - আমি ভদ্রভাবে বলছি। দাও তাকে।
আমি দিতে বলছি।
সে উঠছে না। - না?
দাও! এটা তার জন্য যথেষ্ট।
সে অক্সিজেনের ব্যাপারে পাগল।
সে তাই উঠছে না।
আমরা কি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবো? -না!
হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য তার অক্সিজেন লাগবে,তাই না?
তুমি থামলে কেন?
দাও! ভালো করছিলে!
দূর হও!
তুমি ভালোই চালাক!
অপেক্ষা কর এবং দেখ চেট্টা!
আমি তাকে ছাড়া মধুরাতে ফিরে যাব না।
তার এ্যাপেনডিক্সে একটা সমস্যা হয়েছে তবে চিন্তার কিছু নাই।
একটা ছোট সার্জারি করতে হবে! - ওহ না! সার্জারি?
এটা খুবই ছোট সার্জারি।
আচ্ছা স্যার,সার্জারিতে তো অনেক টাকা লাগবে তাই না?
আমার কাছে তো অত নাই… - এটা কি?
কী হয়েছে? - বাবা…
বসে পড়।
লীলা চেসি'র মেয়ের এ্যাপেনডিক্সের সমস্যা হয়েছে।
এটা কোন সমস্যা না এটা নির্মূল করা সম্ভব।
তাই কী? - আমি এইগুলো টাকা সঞ্চয় করেছি।
আমি এখানে অনেক সুবিধা দিয়ে একটা হাসপাতাল তৈরী করেছি,
এভাবে টাকা নিয়ে বড়লোক হওয়ার জন্য না।
আমার কোন ভাইবোন যাতে টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ না করে।
ঋষি...
যদি এই বাচ্চাটার সার্জারির দরকার হয় তবে সেটা করাতেই হবে।
যত টাকা লাগবে তত টাকা আমার চ্যারিটি তহবিল থেকে নিয়ে খরচ করো।
ঠিক আছে।
তোমার নাম কী,সোনা? - কার্থীয়ানী!
তুমি কোথাও যাচ্ছো? - সাব জেলে যাচ্ছি।
আমি বাবার সাথে দেখা করা প্রয়োজন।
আমিও আসছি।
ওয়াও! 'চুরিকৃত মাল'
২ মিনিট দাঁড়াও আমি এক্ষুণি আসছি।
যদি সে এভাবে যায় তাহলে ভাসান্তি তাকে কাচি দিয়ে কুচিকুচি করে কেটে ফেলবে।
জেসমিন ফুল? পরে নাও! তোমাকে দারুণ মানাবে।
তুমি আর কি চাও?
আমার শ্বাসকষ্ট আছে।
আমি কী কিছু অক্সিজেন পেতে পারি?
ভাগো এখান থেকে!
আমি এস.আই রবীন্দ্ররান!
সি.আই স্যার তোমাকে ডেকেছেন।
আমি সাবজেলে আমার বাবার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি।
এখানে এস এবং যাও।
আসো! - ওহ না।
চুপ কর! - আসো!! - আমাকে ছাড়ুন!
এটা কী ধরনের গুন্ডামী? - চল,হাটো! - ছাড়ুন আমাকে!
আসো!
মেয়েদের গায়ে হাত দিচ্ছেন কেন?
তাকে বেধে ফেলা!
তুমি ভেতরে যাও।
তুমি কী এটা দেখেছো? - দূর হও
এটা খুবই ভালো!
আসুন স্যার! আসুন!
আমি তোকে পরে দেখে নেব!
দূর হও - চলেন যাই স্যার!
তুমি এটা কি করলে,ছোকরা?
পুলিশকে মারলে?
পুলিশ? - হ্যা! তারা পুলিশ ছিল?
যদি রাজা আন্না এটা জানতে পারে তাহলে সে আমাকে শেষ করে ফেলবে।
সে আমাকে এখানে পাঠিয়েছিল যাতে আমরা কোন ঝামেলা না তৈরী করি,
সোনা ছেলে আমার! সি.আই স্যার আসার পূর্বে বাসায় চলে যাও।
যদি তুমি তার মার খাও তাহলে তোমার হাড় ভেঙে গুড়া হয়ে যাবে।
তুই কী পুলিশকে মেরেছিস?
হ্যা,স্যার!
তুই তাদেরকে কেন মেরেছিস?
দু:খিত,স্যার। আমি না জেনে ভুল করে ফেলেছি। আমি জানতাম না যে তারা পুলিশ।
তাই তুই তাদেরকে মারলি,
কারণ তুই তাদেরকে চিনতিস না তাই তো?
এটা কী,মনোহারান?
মাস্টার,
সে কি করছে?
কেউ তাকে আটকাও!
মনোহারান,
সে কেন তাকে এভাবে মারছে?
আমার কথা শুনুন, স্যার! এমনটা করবেন না।
আমাকে আদেশ দেওয়ার সাহস হয় কিভাবে তোর?
ব্যাথা লাগছে?
তুই গ্রামবাসীর সামনে পুলিশকে মেরেছিস,তাই তো? - হ্যা।
তাকে আর মারবেন না। সে মারা যাবে।
সে তো ক্ষমা চেয়েছে,তাই না? তাহলে আর কী চাই?
আমি কী তোকে আমার ব্যাক্তিগত বিষয়ে নাক গলাতে নিষেধ করি নি?
মাস্টার!
আমি তোকে স্টেশনে নিয়ে গিয়ে দেখছি,চল!
কৃষ্ণানান চাচার মতো তাকেও ভুয়া কেসে ফাঁসিয়ে জেলে ঢুকাবে,তো?
অন্ধকারের ব্যাপ্তি সূর্যোদয় পর্যন্তই থাকে,বুঝেছো মনোহারান?
আমার ছেলের নৌবহর মধুরা থেকে ছেড়ে দিয়েছে,
এটা এখন তার খেলা!
ধ্বংসের নৃত্য!
ওয়াও!
মাস্টার,এবার আমার উপন্যাসের মূল কাহিনী এখান থেকে নতুন মোড় নেবে।
রাজা ফিরছে!
খালের পানির বুক চিরে রাজার রণতরী আসছে।
সামনের রনতরী থেকে,
মহিমান্বিত, মহান এবং জাঁকজমকপূর্ন নায়ক হিসেবে,
কমান্ডার বাইরে বেরিয়ে তার ডান মাটিতে রাখলো,
মধুরাই রাজা
বাবা!
[ম্যামুথির আগমন]
তুমি অনেক চিকন হয়ে গেছো,বাবা। - চিন্তা নাই,বাবা!
আমি খুবই নাখোশ, অসুখী! - কেন?
আমি খুশি হই যখন তুমি কোন সমস্যা সৃষ্টি করো,
কিন্তু এসব জঙ্গলে সমস্যার তৈরী করো না যেখানে গাড়ি আসতে পারে না,বাবা!
কেন? - তুমি জানো না?
৪০টা ইনোভা গাড়ি আমার সাথে মধুরা থেকে এসেছে
আমি খালের পাশে একটা জায়গা ভাড়া নিয়েছি গাড়িগুলো সেখানে পার্ক করবো বলে,
কোন ব্রিজ নাই,কোন রাস্তা নাই! আমি চুরমার হয়ে গেলাম,বাবা! চুরমার!!
কিন্তু আন্নান সেটা হতে দেবে না,
সে এখানে ৪ বছর ধরে অপেক্ষা করছে,
কেরালার সব স্পিড বোট ভাড়া করে আন্নানের সাথে এখানে নিয়ে এসেছে।
খুব খুব টাকার অপচয়!
টাকা আজ যাবে কাল আসবে!
কিন্তু গাড়ি! গাড়ি! গাড়ি!
তো গাড়ি না থাকলে কি হবে?
তোমার কাছে যুদ্ধের জাহাজ আছে তাই না?
জনাব.ঔপন্যাসিক, এটা কি ধরনের গল্প?
কি অবাক করা বিষয়। তুমি এখানে কি করছো?
আমি তাদের সাথে যোগ দিয়েছি
আমার গল্পের উন্নতি কতদূর সেটা জানতে
বাবা,আমরা এখনো তোমার কৃষ্ণানান চাচাকে ছাড়াতে পারি নি,
এটা কী বাবা?
তোমার কী মনে হয় আমি মধুরাতে ১ সপ্তাহ ধরে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম,বাবা?
উকিল!
মাস্টার …
কৃষ্ণানান!
তুমি এটা কিভাবে করলে,বাবা?
যখন আমি কেসটা পড়লাম তখন দেখলাম ব্যাপারটা বেশ জটিল
যখন আমি ভাবছিলাম আমার কী করা উচিত তখনই আমার সৎ উপদেষ্টা আমাকে বলল,
দিল্লীতে একটা সিংহ আছে।
দ্রুত আমি তাকে ডাকলাম।
কাকে? - উকিল নন্দগোপাল মারার!
প্রথমে,সে কিছু ঢং দেখালো,
সে বলল সে আসতে পারবে না
তারপর আমি বেশি অপেক্ষা করলাম না
আমি তাকে আমার ইংরেজিতে ইচ্ছেমত গালিগালাজ করলাম,
মি. মারার …
আমি,রাজা,
সাহায্য লাগবে। আমার চাচা আছে সেন্ট্রাল জেলে।
আপনি কোচিতে এসেছেন,খুনের মামলাটা হাতে নিন আর আমার চাচাকে ছাড়িয়ে দিন
আমার ইংরেজি শুনে,মারার অবাক হয়ে গেল
সে পরের ফ্লাইট ধরেই চলে আসলো
তাকে আসতেই হতো,তাই না?
সে সোজা কোর্টে গেলো,
এবং আদালতে মামলায় ছাপিয়ে গেল
যখন মারার প্রশ্ন করছিল সে একটা জিনিস বুঝলো,
উদাম্বু ভাসু জানেই না যে কিভাবে গাড়ি চালাতে হয়,
এবং তার ড্রাইভিং লাইসেন্স পর্যন্ত নাই।
কেউ গাড়ি না চালানো জেনে কিভাবে কাউকে মারতে পারে?
মারার তাকে জিজ্ঞাসা করলো, কেউ গাড়ি না চালানো জেনে কিভাবে কাউকে মারতে পারে?
বিচারক অজ্ঞান!
এবং জামিনও ততক্ষনাৎ মঞ্জুর হয়ে গেল।
সেটা তো সঠিক। এখন সে মুক্তি পেয়েছে,তাই তো?
ভালো, কিন্তু চিন্না কোথায়?
কোথায়, চিন্না?
সি.আই তাকে ভূয়া কেসে ফাঁসিয়ে তাকে জেলে ঢুকিয়ে দিয়েছে।
বাব,তুমি এসব কি বলছো?
একজন ভেতরে আসলো আর একজন ভেতরে ঢুকে গেলো?
ওই সি.আই তাকে অনেক মেরেছে,
সে তাকে মেরেছে? আন্না আমরা কী সি.আই সহ পুলিশ থানা বোমা মেরে উড়িয়ে দেবো?
শালা বোকা! চিন্না ভেতরে!
যদি আমরা বোমা মারি,তাহলে সে কি মরবে না? - না।
নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোন ঝামেলার সৃষ্টি করব না।
নির্বাচন? - রাজা আন্না মধুরার এম.এল.এ পদে দাঁড়াতে চলেছে।
সত্যি, বাবা?
আসলে বাবা,,,,
আম্মা মারা যাওয়া পর… - কার মা?
কারো না আম্ মা…
বিপ্লবী নেত্রী জয়ালতিকা
আম্মা মারা যাওয়ার পর,তামিলনাড়ুর শক্ত নেত্রীর দরকার ছিল
আমি অনেক অনেক অনেক ভাবলাম,
কি করা যায়! কি করা যায়! কি করা যায়!
তখন আমি একটা সিদ্ধান্ত নিলাম,
একটা নতুন রাজনৈতিক দল শুরু করব,
দলটার নাম হবে "সাউথ ইন্ডিয়ান পিপলস ফেডারেশন!"
আমিই প্রেসিডেন্ট আর আমিই সেক্রেটারি।
তাই আমাদের সৎ উপদেষ্টা আমাকে বলল যেহেতু এখন নির্বাচনের সময়,
কোন মারামারি না,কোন ঝামেলা না,
শুধুই সমঝোতা!
তাই,মারামারিতে কাজ হবে না।
আমরা একটা সমঝোতামূলক কথাবার্তা বলতে পারি।
পোথান,গাড়ি বের কর,আমাদের পুলিশ স্টেশনে যেতে হবে।
ভাই,এখানে কোন গাড়ি নেই।
ওহ না! এই জায়গায় তো কোন গাড়ি নাই,
নমস্কার স্যার
আমি রাজা,মধুরা রাজা!
তিনি "সাউথ ইন্ডিয়ান পিপলস ফেডারেশন দলের" প্রেসিডেন্ট!
আমিই স্থায়ী সেক্রেটারিও।
আমি এখানে এসেছি কারণ আপনি আমার ছোট ভাই চিন্না রাজাকে জেলে ঢুকিয়ে রেখেছেন।
হেই! এদেরকে ভেতরে ঢুকতে কে দিয়েছে রে?
কেউ ঢুকতে দেয় নি। আমরা নিজে নিজেই এসেছি।
আমি আমার ভাইকে আমার সাথে নিয়ে যেতে ইচ্ছুক,
সেটা হবে না! রাস্তা মাপো!
তুমি এদের সাথে কথা বলতে চাও কেন,আন্না?
চলেন পুলিশ থানা ভেঙে চুরমার করে চিন্নাকে নিয়ে চলে যাই।
শান্ত হ! শান্তু হ!!
স্যার একজন সার্কেল অফিসার,
আমরা সম্মান দি।
তুই কী তার চেহারা দেখে বুঝতে পারছিস না সে কোমল হৃদয়ের মানুষ?
তিনি বুঝে যাবেন আমরা তাকে কী বোঝানোর চেষ্টা করছি। তিনি বুঝে যাবেন।
রাজা আন্না'র দল কেন্দ্র পর্যন্ত কাপিয়েছে,
আন্না,আমিতাভ বচ্চনকে কল দাও!
আমি আমার ফোন নিয়ে আসি নি।
এই কেস পুলিশের উপর হামলা করার জন্য দায়ের করা হয়েছে।
আমরা দোষীকে সোমবার আদালতে পেশ করব।
যদি তোমরা জামিন করাতে পারো তাহলে সে ছাড়া পাবে,
অথবা যদি এস.আই রবীন্দ্ররান কেসটা প্রত্যাহার করে নেয় তো!
এটাই মূল পয়েন্ট!
এস.আই রবীন্দ্ররান স্যার এখন কোথায়?
সে মার খেয়ে এখন হাসপাতালে আছে।
এটা এখনমাত্র শুধু একটা হামলার কেস।
যদি সে হাসপাতালে মারা যায়,
তাহলে এটা হত্যার কেস হয়ে যাবে! - হেই!
এটা কী,স্যার?
সে তো সামান্য একটা কারণে একটা বেচারা পুলিশকে মেরেছে!
যাই হোক,উকিল সাহেব...
চলুন সি.আই স্যারের কথা মতো রবীন্দ্ররান স্যারের সাথে হাসপাতালে দেখা করে আসি।
আমরা এর কোন না কোন সমাধান ঠিকই পাবো।
এই ব্যাপারটা লম্বা যাবে!
আমি,রাজা। মধুরা রাজা!
"সাউথ ইন্ডিয়ান পিপলস ফেডারেশন" দলের প্রেসিডেন্ট।
এটা আমার তরফ থেকে ছোট একটা উপহার!
সি.আই আমাকে সব বলেছে,
তোমার সময় এখানে বসে অপচয় করো না,যাও এখান থেকে!
আমি কোন সমঝোতা করার জন্য প্রস্তুত না।
সোজা শুন্যে ঝাপ দিলে,চালাক!
কী? - অতিঅভিনয় নিতান্তই বোকামী!
তুমি আরেকভাবে ভাবছো না কেন?
আর কিছুই ভাবার নেই!
চলে যাও,দ্রুত!
এই রাজ্যের এটাই বড় সমস্যা!
চল আমাকে এটাই করতে হোক!
তারা একজন লোককে সৎ পথে চলতে দেয় না,
হেই!
কোন ধরনের গুন্ডামী দেখাস না,এটা তোর মধুরা না।
এটা কোচি। কোচি!!
ছাড়ুন তো,পুলিশ!
কোচি,কোথি,কোয়েম্বাতুর রাজার জন্য একই।
কিন্তু এখন এটা মূল বিষয় না,উকিল!
চিন্না রাজা,যাকে আপনি কারাগারে রেখেছেন…
সে আমার ছোট ভাই!
আমার ভাই!
শুধু আমার ভাই না…
আমার প্রিয় ভাই।
আমার জীবন!
যদি আপনার মনে হয় সে পুলিশের প্রতি কোন অসম্মান দেখিয়েছে,
আমি তার হয়ে আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি!
আমি শুনলাম আপনি তাকে একটু মেরেছেন তার পরিবর্তে এটা।
যদি এখন আপনি তাকে ক্ষমা করেন…
আমিও আপনাকে ক্ষমা করে দেব।
কি হবে যদি আমি না করি?
যদি কেউ আমার ভাইয়ের গায়ে হাত দেয়,
তার শরীর থাকে…
কিন্তু…
জান থাকে না।
আমি তোকে মেরে ফেলবো।
আমরা এখন যাচ্ছি।
আমি জানি না আমাদের আর দেখা হবে কি না,
তাই আমি এগুলো বললাম।
আমি চিন্নাকে ছাড়াবার ব্যাবস্থা করছি
২৪ঘন্টার মধ্যে
আমি তাকে বের করে আনবো
হেই!
আগে থেকেই একটা কথা বলে দি,ভাসান্তি চেসি'র অনুমতি ছাড়া তোমরা এখানে থাকছো,
যদি চেসি রেগে যায় আমি কিন্তু দল পাল্টাবো।
যদি তুমি সেটা করো তাহলে আমি তোমার পা কেটে নেবো।
হেই! আমি যখন থেকে এসেছি ভাসান্তির নাম শুনে আসছি,
সে কখন আসবে?
কারণ আমি সারা পথে তার কথা শোনার পর তাকে দেখার লোভ সামলাতে পারছি না।
এই লোভ তাকে দেখার পরই চলে যাবে।
সে এরানাকুলাম গেছে তার রিসোর্টের লাইসেন্স হালনাগাদ করাতে।
মি. রাজা কার সাথে কথা বলছে?
আমি গিয়ে দেখে আসছি।
তুমি কচি ডাবটা কেটে ফেললে,
মিষ্টি পানি আসবে,
তুমি সেটা খাবে!
বুঝেছো?
না,স্যার! আমি কিছুই বুঝি নি।
আপনি কোন ভাষায় কথা বলছেন,স্যার?
হ্যালো,তুমি হাসছো কেন,মেয়ে?
সব বিদেশীদের ইংরেজি জানার প্রয়োজন হয় না।
তুমি চিন্তা কর না। আমার সাথে কিছুক্ষণ কথা বলো
ইংরেজি শেখো। যথেষ্ট!
হেই! রাজা আন্নানের ইংরেজির উপরে ডক্টরেট করা আছে।
কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে?
উগান্ডা বিশ্ববিদ্যালয়!
হ্যা। - আমি উগান্ডাতে একবার গিয়েছিলাম।
রাস্তায় হাটছিলাম আর ইংরেজি বলছিলাম।
প্রফেসর এসে,
আমার ইংরেজি শুনে নিচে বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলো।
যখন তার জ্ঞান ফিরলো সে আমাকে ডক্টরেট পদবী দিয়ে আমাকে যেতে বলল।
তার মানে?
তার মানে হলো,আমি উগান্ডাতে গিয়ে রাস্তায় হাটতে হাটতে ইংরেজিতে কথা বলছিলাম,
সেটা শুনে একজন ইংরেজি প্রফেসর আসলো,
আমার ইংরেজি শুনে নিচে বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলো।
যখন তার জ্ঞান ফিরলো সে আমাকে ডক্টরেট পদবী দিয়ে আমাকে যেতে বলল।
যখন আমরা একবার ইংরেজি শিখতে পারি…
আমাদের সুখ,দু:খ সবকিছু ইংরেজিতে প্রকাশ করতে পারি।
তোমার রাগ হলে কি করো?
শালা গাধা! অকর্মার ঢেঁকি!!
বোকা! বেয়াদব!!
এগুলোই যথেষ্ট।
থ্যাংকস ইউ! যদি যেকোন ভাষায় আমার প্রশংসা করো তাহলে এটা বলো,
হেই সুরু!
সে আমার প্রশংসা করার জন্য ডাকছে।
চেসি!
ওইটা আমাকে দাও।
এরা কারা? - রাজার লোক!
তারা রাজার লোকজন!
কোন রাজা?
পুরো ভারতে কেউ নাই যে রাজাকে চেনে না।
তুমি কী রাজা?
শেষ!
এটা রাজা না!
এই হলো রাজা!
তারা হলো রাজার সাঙ্গ-পাঙ্গরা!
আর হ্যা,রাজা হলো মাধাবন মাস্টারের বড় ছেলে।
এই চালাক মেয়েটা কে?
ওই স্পষ্টভাষী মেয়েটা কে?
আন্না,ও হলো ভাসান্তি চেসি!
মালিক!
এটাই ভাসান্তি?
যখন আমি ভাসান্তি নামটা শুনলাম তখন আমি মনে করেছিলাম,
…একটা পুরনো এ্যাম্বেসেডর গাড়ি হবে হয়তো!
এটা তো দেখছি র্যালি সাইকেল।
আমি নিজের পরিচয় দিতে ভুলে গিয়েছিলাম।
আমি একজন রাজা!
মধুরাই রাজা।
তুমি যা দেখছো আমি তেমন না আমি আকর্ষণীয়।
আমরা মোট ৩০জনের আশেপাশে আছি।
এখানে তেমন কোন সুবিধা নেই।
কিন্তু তবুও,আমরা মানিয়ে নেব।
চল তোমার মত হতদরিদ্রকে কিছু সাহায্য করে যাই।
গান থামাও,
আমি বললাম না গান থামাতে।
তুমি এখানে এসব করতে পারো না।
কেন থামবে?
বাসিন্দাদের সুখের ব্যাবস্থা করা তো রিসোর্ট মালিকের কর্তব্য।
আমার বোনের কাল একটা পরীক্ষা আছে… - ইংরেজি পরীক্ষা?
আমি তাকে পড়াবো!
যদি আমি তাকে পড়ায়, সে পাস করবে। (মধুরা রাজার ইংরেজিতে "মারা যাবে")
কিছু করতে হবে না। তুমি শুধু এখনই তোমার পোলাপানদের নিয়ে এখান থেকে চলে যাও।
তুমি কার সাথে কথা বলছো জানো?
একজন মহিলাকে জ্বালাতন করো না! যাও!!
সুরু,এই দাম্ভিক মেশিনকে আর তার লোকজনকে বেড়ার বাইরে যেতে বল।
থামো!
তোমার বেড়া কোথায়?
আমাকে পরিবর্তনের জন্য এক মিনিট সময় দাও।
আমাকে বল,বেড়া কোথায়?
আমি তোমাকে বেড়া দেখাচ্ছি! - ওই মেয়ে আমাকে বল, বেড়া কোথায়?
আমি তোমাকে চেসি'র বেড়া দেখাচ্ছি।
জিনিসপাতি গুছিয়ে আমাকে অনুসরন করো,
সব নিয়ে নাও। - তুমি তার সাথে ঝগড়া কেন করলে?
হ্যালো! আমি… বেড়ার বাইরে!
ঠিক আছে?
সুরু,তুমি এই বিদেশিকে আমাকে দেবে?
আমি কারও তো সাথে কথা বলতে পারব।
আমি তোমাকে যে কোন দাম দেব।
৫ লাখ?
পাঁচ? -১০ লাখ
দশ? - ১৫ লাখ?
এটাতেই ঠিক হলো। আর কোন দরাদরি না।
আসো,বালক! - ধন্যবাদ,বস।
ভারতীয় সরকার আর মধুরাই সরকারের কাছে...
বিদেশিদের ভালো চাহিদা আছে দেখছি?
তাদের মধ্যে অনেকে কোচির দূর্গে ছিল।
আমার তাদের মধ্যে থেকে ১০-১৫ জনকে উঠিয়ে আনা উচিত ছিল।
হেই!
আমার রাতে ফিরতে দেরি হবে।
ওই হারামজাদাগুলো আমি ১০০ বার চক্কর না দেওয়া পর্যন্তই লাইসেন্স নবায়ন করবে না।
এটা কী?
ওই ঔপন্যাসিক বলেছিল এটা ওই মধুরা রাজার রণতরী।
এটা দেখতে আমাদের রিসোর্টের থেকেও সুন্দর,তাই না?
যাও এবং ওই দাম্ভিক মেশিনকে নিয়ে আসো।
আজ কোন না কোন সিদ্ধান্ত করেই ছাড়বো।
এটা কী? পোনামাছগুলোকে এভাবে শুকানোর জন্য ফেলে রেখেছো?
এটা কী মাছ ধরার সময়?
তাদের কাছে ছুরি-কাটারি সবকিছুই তো আছে।
উঠে পড়!
আমাকে মেরো না!
আমি এখানে তোমাদের রাজার সাথে দেখা করতে এসেছি।
সে এখন কোথায়? - আমি এখানে!
সবাই বসে যাও।
কি ব্যাপার? - ভাসান্তি চেসি তোমাকে ডাকছে।
কি জন্য?
মনে হয় তোমাকে দেখতে ইচ্ছা হয়েছে তার।
দয়া করে আসো।
তুমি যাও আমি আসছি।
আমাকে বল,ভাসান্তি।
আমি তোমার জন্য সবকিছু করবো।
তোমার জাহাজ এখান থেকে দ্রুত সরাও!
আমার জাহাজ তোমার বেড়ার বাইরে পার্ক করা আছে
কিন্তু তুমি এটা এই পাটাতন জেটিতে ভেড়াতে পারবে না।
আমার জাহাজ এই জেটিতে ভিড়বে।
যা ঘটে ঘটতে দাও।
কি এমন ভূল হয়ে যাবে যদি আমরা কিছুক্ষণের জন্য জেটি ভাগাভাগি করি?
সম্ভব না!. - আমার কী হস্তক্ষেপ করা উচিত?
সমস্যা কিসের এখানে? - জেটি নিয়ে সমস্যা!
রাজা আন্না ভাসান্তি চেসি'র জেটি ভাগাভাগি করতে চায়,
কোন মতেই না।
চেসি কিছুতেই তা দেবে না। - মি. রাজা…
এটা কী?
তুমি না ভদ্রলোক?
এই বেচারি মেয়েটাকে তার জেটি ব্যাবহার করতে দাও।
তোমার এতে নাক গলানোর প্রয়োজন নেই
তোমার মাথা এসবের ভেতরে টেনে এনো না!
দেখুন,মিস ভাসান্তি …
জেটি সরকারের সম্পত্তি
যখন সরকারের রাজকোষে কোন টাকা ছিল না তখনও সরকার এসব জেটি বানিয়েছিল,
জনসাধারণের ব্যাবহারের জন্য।
আমি তোমার বোটের জন্য কিছু জায়গা সরিয়ে দিয়েছি।
আমি তোমাকে আরো জায়গা দেব।
যখন আমি ফিরে যাবো সেই সময়ে,
কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত যেন তোমার জাহাজ এখানে না দেখি।
যদি আমি দেখি,
আমি কিন্তু জ্বালিয়ে দেব।
হেই! - আমি সেটা বলি নি।
সে একজন মহিলা।
তোমার চাদর নড়ানো,ধুতি আর ভাঙা ভাঙা ইংরেজি আমার উপর কাজ করবে না।
যদি তুমি এটা না সরাও পরে তোমাকে ভোগান্তিতে পরতে হবে।
আমাকে কতদূর সরাতে হবে?
মানে,কত কি.মি?
রাজা আন্না…
সে এখানে মাধাবন মাস্টারের খোঁজে এসেছে।
কিন্তু মাস্টার তো এখানে নাই।
এনি মাধাবন মাস্টারের বড় ছেলে,রাজা!
কি ব্যাপার?
এস.রবীন্দ্ররান যে চিন্না রাজা কর্তৃক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল,
কাল রাতে মারা গেছে।
চিন্না'র নামে এখন মার্ডার কেস দায়ের করা হয়েছে।
চিন্না এবার আর বের হতে পারবে না,
কখনোই না!
মধুরাই রাজা… স্বাগতম! স্বাগতম!
আপনার ভাই তো এবার সেই বড় সমস্যায় ফেসে গেলো।
সমস্যা কিসের,স্যার? - আপনি জানেন না?
এস.আই রবীন্দ্ররান কাল রাতে মারা গেছে।
আপনার ভাই যে এই কেসে ভেতরে ছিল এখন খুনের কেসে অভিযুক্ত।
আমি শুনেছিলাম নাকি যে মধুরাই রাজা তার ভাইকে ২৪ঘন্টার মধ্যে ছাড়িয়ে আনবে?
শুধু ২৪ঘন্টায় না…
২৪বছর পরও আপনার ভাই আর মুক্তি পাবে না,
আমি তাকে এমন মরণচক্রে ফেলাবো।
আমি তাকে সারাজীবনের জন্য আটকে রাখবো।
কমিশনার এখানে আসছে।
ব্যাক্তিগতভাবে এই তদন্তটা করতে,
এবং আপনার ভাইকে এখান থেকে নিয়ে যেতে।
আমি আপনাকে এখন ২৪ঘন্টা সময় দিচ্ছি,
আপনার লোকজন আর আপনার বাবাকে নিয়ে…
যদি আপনি ২৪ঘন্টার মধ্যে এই দ্বীপ না ছাড়েন,
আমি আপনাদের সবাইকে ভেতরে ঢুকাবো,
আর জেলের ভাত খাওয়াবো। - আগে কমিশনারকে আসতে দিন,স্যার।
আমাদের যা বলার আমরা তাকেই সবকিছু বলব।
কমিশনারকে শুধু আসতে দিন।
আমরা দেখে নেবো।
রাজেন্দ্র বাবু।
হেই!
আমরা বিপদে আছি
গ্রামের পুরনো আর নতুন ভিলেন একসাথে আসছে,
এফ.আই.আর এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট তৈরি,স্যার। - ভালো।
মাথায় জোড়ালো আঘাত লাগার কারণে মৃত্যু হয়েছে,
প্রত্যক্ষদর্শীদের চিন্না'র বিরুদ্ধে বয়ান রেকর্ড করা আছে,
যে সে'ই এস.আই রবীন্দ্ররান আর জয়াচন্দ্রানকে জংশনে মেরেছে।
স্যার, পুলিশ একটা মেয়েকে লাঞ্ছিত করেছিল তার পরিপ্রেক্ষিতে এসব কিছু হয়েছে।
একজন বিখ্যাত সাংস্কৃতিক নেতা হিসেবে,
এই ঘটনার কারণে আন্দোলন হিসেবে, আমি ফেসবুকে পুলিশের বিরুদ্ধে একটা পোস্ট করেছি,
তাহলে তুমিই সে যে ওই পোস্টটা করেছিলে? - হ্যা।
ওইটা ৬৫k লাইক আর ১২ শেয়ারও পেয়েছে,
ওইখানে আসা একটা কমেন্ট আমাকে অভিভূত করেছে,
RTTFP. (আর.টি.টি.এফ.পি)
তার মানে? - Run through the fields, Police. (মাঠ দিয়ে পালাও,পুলিশ)
থামাও এটা!
এদিকে সরে যাও।
ওইখানে? - সরো!
স্যার,এসব কিছু মিথ্যা। - আমি জানি ডেভিড।
এই ঘটনা ২ দিন আগে ঘটেছে তাই না? - হ্যা,স্যার।
তোমরা মনে হয় নিশ্চিত ছিলে যে এস.আই রবীন্দ্ররান মারা যেতে পারে,
তাই তোমরা অপরাধীকে আদালতে হাজির করার পরিবর্তে জেলে পুরে রেখেছিলে,
এটাই সত্যি তো? - হ্যা,স্যার।
আঘাতগুলো মারাত্মক ছিল!
কন্সট্যাবল,জয়াচন্দ্রান?
তাকে গতকাল সন্ধ্যায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তাই সে চলে গেছে।
সি.আই ডেভিডের তালা দেওয়া মানে মরণতালা পড়ে যাওয়া,রাজা!
খুবই শক্ত এবং শক্তিশালী।
তুমি এখন কি করবে?
হেই!
তুমি কি জানো সে কে?
তোমার কোন ধারণা আছে এই লোকটা কে?
তার সাথে ঝগড়া করার পূর্বে,
তুমি কি মধুরা স্টেশনে তদন্ত করো নি?
এই মধুরাই রাজাটা কে?
টুইস্ট! টুইস্ট!!
অপ্রত্যাশিত টুইস্ট!
বলুন,স্যার।
হেই! যদি রাজা কিছু করার কথা বলে,
তাহলে সে সেটার শেষ দেখেই ছাড়ে।
কমিশনারও তাকে কিচ্ছু করতে পারবে না।
সে বলছে এটা তার অভিজ্ঞতার বাইরে।
স্যার এককালে ব্যাপক অপচয়কারী ছিলেন।
সে'ই আমাকে আমার জীবনের বোকামীগুলী বুঝিয়েছিল এবং দ্বিতীয় জীবন দান করেছিল।
এই রাজা!
স্যার,শুধু আপনি বললেই আমি আমার মুখ খুলবো!
২টা শব্দ আমি বলব।
মঞ্জুর! - ধন্যবাদ, স্যার।
ধরো এটা।
তোমার বরখাস্তের চিঠি!
কমিশনার স্যার নিজে এসে তোমাকে এটা দিয়েছে।
বরখাস্ত?
কি জন্য?
পলাশ স্যার,টিভিটা চালু করুন।
কন্সট্যাবেল জয়াচন্দ্রান এস.আই রবীচন্দ্রানকে খুনের জন্য দায়ী,
এই বিশেষ ধারণকৃত দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে যে জয়াচন্দ্রান কিভাবে নৃশংসভাবে রবীচন্দ্রানকে হত্যা করছে,
সেটা শুধুমাত্র নিউজ ১৮ তে সম্প্রচার করা হচ্ছে।
এই ঘটনা গতকাল রাত ১১টায় নাদেশান চ্যারিটেবল হাসপাতালে ঘটেছে।
এই হত্যার পর কন্সট্যাবেল জয়াচন্দ্রান নিখোঁজ হয়ে গেছে
পুলিশ এখনো তাকে পায় নি।
তুমি অবাক? তুমি ভাবছো এটা কিভাবে হলো?
তুমিই ধারণাটা দিয়েছিলে!
তুমিই না বলেছিলে,চিন্না'র কেস একটা খুনের কেস হতে পারে,
যদি এস.আই রবীন্দ্ররান হাসপাতালে মারা যায় তো!
আমি তখন সেটা ভাবলাম!
ভাবলাম সে একটা নোংরা খেলা খেলবেই,
তুমি কি ভেবেছিলে যে আমি এস.আই রবীন্দ্ররানের সাথে হাসপাতালে একটা ফুলের তোড়া নিয়ে দেখতে গিয়েছিলাম,
মালা পড়াতে?
কোচি,কোথাডু,কোয়েম্বাতুর সব জায়গা রাজার জন্য সমান।
কিন্তু এখন এটা মূল কথা না,উকিল।
এই ক্যামেরা ২৪x৭ কাজ করে আর তার ভিডিও আমি আমার মোবাইল ফোনেই দেখতে পারি,
আমি সেটা রেকর্ড করে কমিশনারের কাছে পাঠিয়ে দিলাম।
সে আমার বন্ধু।
রাজা ফিরে এসেছে!
সার্কেল মহাশয়…
তোমার পুরো মধুরাতে যাওয়া দরকার নেই,
এখানে…
এমন কী যদি তুমি কেরালার ছোট বাচ্চাকেও জিজ্ঞাসা কর সে বলবে…
তখন,আজ এবং সারাজীবন…
রাজা এবং তার ছেলেরা শক্তিধর!
কোন ডাবল শক্তিধর না...
ট্রিপল শক্তিধর!!
আন্না…
এই যে সে… - রাজা।
আমার চিন্না রাজা…
তুই কি ভয় পেয়েছিলি? - আমি কেন ভয় পাবো যখন তুমি আমার পাশে ছিলে?
ভাইয়েরা এখন কি করবে?
সাধারণত,এই ধরনের পরিপ্রেক্ষিতে আমার উপন্যাসে,
সাধারণত একটা আইটেম সং হয় যেখানে ভাইয়েরা মিলে নাচে,
কিন্তু এবার প্রোগ্রামে কিছু পরিবর্তন আছে।
কোন আইটেম সং নেই।
কৃষ্ণানান চাচা আর লিলি শিক্ষিকার বিয়ের পার্টি রাজার তরফ থেকে।
'দেবী মধুরাই মীনাক্ষী পাহারায় দাঁড়িয়ে আছেন'
'রাজা মাধুরাই করছেন একটি জমকালো বিবাহের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন।'
'কুটিল শেয়াল কী দেখেনি, কালো শিয়াল যিনি তীর্থযাত্রায় যায়'
'তিনি তীর্থযাত্রা ত্যাগ করলেন, এবং তাঁর পবিত্র পোশাক দান করলেন'
'আপনিও জানতেন, আমিও জানতাম .. যে শুনেছে বা দেখেছিল সে জোরে গেয়েছে '
'সে দুষ্টু সহচর যে চোখ বন্ধ করে দুধ পান করতো '
'আজ সেই কুটিল শিয়ালের বিয়ে'
'নীল শেয়াল তার বিয়েতে লজ্জা পেয়েছে'
'আজ সেই কুটিল শিয়ালের বিয়ে'
'নীল শেয়াল তার বিয়েতে লজ্জা পেয়েছে'
'হরিণ, আমি এবং বন জানতাম না'
'স্রোতে মাছ, তুমি এবং ধারাটি জানত না '
'যে শিয়াল সন্ধানে গেছে মিষ্টি একটি ক্ষেতে '
'তার উপর একটি হরিণের প্রেমে পড়েছে বিপরীত তীরে, প্রথম দর্শনে '
'ফুল এবং তূরীগুলির তীর পান, চারপাশে গান আছে '
'ড্রাম আছে, এবং পঞ্চাশটি হাতিও '
'আসুন এবং বিয়েতে যোগ দিন, হে ফুলের বাতাস! '
' ও সুন্দরী চোখের রানী"
'মেঘে রঙ লেগেছে কৃষ্ণ কী তোর পাশে এসেছে? "
'ও কথা বলা তোতা কী মিষ্টি গান গায় '
'তুমি কি জানো না সেই ইচ্ছা? ফুল ফোটে গাছে? "
'তিনি তোমারর পাশে এসেছিল, গল্পগুলি বর্ণনা করা এবং তোমার সাথে হাসতে হাসতে '
'তার গালে সুন্দর ঠোঁট দেখেছিল, যেটা অর্ধচন্দ্রের মতো সুন্দর '
'আসুন এবং বিয়েতে যোগ দিন, হে ফুলের বাতাস! '
'কুটিল শেয়াল কী দেখেনি, কালো শিয়াল যে তীর্থযাত্রায় যায়'
'তিনি তীর্থযাত্রা ত্যাগ করলেন, এবং তাঁর পবিত্র পোশাক দান করলেন'
'আপনিও জানতেন, আমিও জানতাম .. যে শুনেছে বা দেখেছিল সে জোরে গেয়েছে '
'সে দুষ্টু সহচর যে চোখ বন্ধ করে দুধ পান করতো '
'আজ সেই কুটিল শিয়ালের বিয়ে'
'The pretty blue fox is blushing on her wedding'
'আজ সেই কুটিল শিয়ালের বিয়ে'
'নীল শেয়াল তার বিয়েতে লজ্জা পেয়েছে'
'আজ সেই কুটিল শিয়ালের বিয়ে'
'নীল শেয়াল তার বিয়েতে লজ্জা পেয়েছে'
'আজ সেই কুটিল শিয়ালের বিয়ে'
'নীল শেয়াল তার বিয়েতে লজ্জা পেয়েছে'
যাইহোক,তুমি তোমার মিশন শেষ করে ফেলেছো,মাস্টার!
এখন,চলো এনসিএসকে রিপোর্টটা জমা দিয়ে এই ঝামেলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নাও।
এখানে!
সোনা… - কি হয়েছে,বাবা?
তোমার ব্যাস্ত রুটিন থেকে একটু সময় কী পাও না,
আমাদের সাথে এখানে এসে কিছু সময় কাটানোর জন্য।
আমি দু:খিত,বাবা!
এরপর থেকে,আমার সারাজীবন…
ভারতমাতাকে উৎসর্গিত করেছি,
আমার জীবন ভারতমাতার কাছে জমা দিয়ে দিয়েছি।
তোমার কী আমাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে ইচ্ছে করে না,বাবা?
প্রধানমন্ত্রী?
হ্যা। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী!
তামিলনাড়ুর খুবই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী!
ইংরেজি থেকে মালায়লামে অনুবাদ করতে গিয়ে আমাকে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়!
ঠিক আছে। আমি এর উপায় খুঁজে নেবো। - চিন্না…
তোমার তাকে দেখাশোনা করা উচিত!
তাকে দেখতে লম্বা-চড়া,হাট্টাগাট্টা লাগলেও সে খুবই ভোলা!
এবং সে খুবই আবেগপ্রবণও!
আমার ভাই আমার জীবনের মতোই মূল্যবান, স্যার!
আমি কী জানি না তাকে কিভাবে দেখাশোনা করতে হয়?
যেহেতু সে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যতক্ষণ না এটা শেষ হচ্ছে আমরা নিরাপদে থাকবো।
সেখানে কোন সহিংসতা থাকবে না আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি।
আমার উকিল আর আমি নিজেই এটার গ্যারান্টি দিচ্ছি।
তাহলে চিন্তা কিসের,বাবা? - এগিয়ে যাও।
আমি আসব,মাস্টার।
আমরা এখনো কৃষ্ণানান চাচার কেসে জড়িত আছি।
আমরা এখন শুধু জামিন পেয়েছি!
এটা থেকে নিষ্কৃতি পাবার পর আমি আবার আসবো।
আমি আসবো!
আমরা কি এখন চলে যাবো?
আমি এখানে বেশিদিন থাকতে পারবো না।
এটা আগে যেমন ছিল এখনো ঠিক তেমন হয়ে যাবে।
আমি আমার বাবাকে আমার থেকে দূরে চলে যাওয়া দেখতে পারবো না।
খুবই কষ্টকর!
আমি কি সেটা জানি না?
বাপ-ছেলে দুজনেই একই রকম।
তোমার ভেতর যে ভালোবাসা আছে সেটা কিভাবে প্রকাশ করতে হয় সেটা তুমি জানো না!
সোনা!
তারা… - মাস্টার…!
তারা ছিল…
যদি তুই ভেবে থাকিস সামান্য একটা কমিশনারকে দিয়ে আমাকে বরখাস্ত করালেই,
আমি শেষ হয়ে যাবো ভেবেছিলি?
কমিশনারের উপরে আইজি,ডি.আই.জি এরাই আসল লোক!
আমাকে রক্ষা করার জন্য তাদেরকে সরকারি বেতনের ৪ গুন দি আমি
আমার অনুমতি ছাড়া কেউ এই দ্বীপ ছাড়বে না।
বোট চালক ভাই…
শুধুমাত্র ৫ মিনিট,ভাই।
মাধাবন মাস্টার এখনই আসবে। - আচ্ছা ভাই।
হেই চিন্না…
আন্না,নির্বাচন ঝামেলার মধ্যে দিয়ে যাবে
কোন সমস্যা খাড়া করিস না।
যে নিজের বাবাকে বাঁচাতে পারে না সে পুরো দেশকে কিভাবে বাঁচাবে?
রাজা আন্না…আমি…
মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত মার তাকে
হেই!
ভেতরে যাও,একটা চা খাও আর মারামারি দেখো,বাবা!
আমি জানিনা এর পিছনে কে আছে?
যেই হোক না কেন…
যে শালায় হোক না কেন…
তাকে উপড়ে না ফেলা পর্যন্ত আমি দ্বীপ ছাড়বো না।
এটা রাজার কথা!!
এটা একজন রাজার কথা!
তুই জানিস তাই তো?
রাজা যা বলে তাই করে,
এবং সেটাই বলে যেটা করে!
এখানে,কোন ইংরেজি'র কাগজ নাই,
রাজা স্যার,
আসো! আসো!
২ দিন!
আমি ভাবছি,ভাবছি,ভাবছি!
আমার মাথায় ধোয়া ঢুকালাম!
২টা প্রশ্ন। কোন উত্তর নেই!
আমার একটা সাহায্য প্রয়োজন।
এজন্য আমি তোমাকে এখানে ডেকেছি,
রাসূলের মার্ডার কেসে কৃষ্ণানান চাচাকে অভিযুক্ত করতে,
নাদেশান পুলিশকে ব্যাবহার করেছে। কিন্তু সে যে কেন এটা করলো সেটাই বুঝছি না।
মাধাবন মাস্টারের মদের দোকানের রিপোর্টের জন্য?
কিন্তু…
কিন্তু রাসুলকে কেন?
কিন্তু নাদেশান আর রাসুলের ভেতর যোগাযোগটা কোথায়?
আমি রাসুলের ব্যাপারে বেশি কিছু জানি না।
আমার ডিগ্রি কোর্সের সময় রাসুল আমার সহপাঠী ছিল
সে ছিল তদন্তমূলক সাংবাদিক।
পুলিশের কথা মতো,তাদের ভেতর কোন প্রেম,ভালোবাসা ছিল না।
শুধু বন্ধুত্ব ছিল। এটাই সত্য!
কিন্তু আমি শুনেছি সে প্রায়ই এই দ্বীপে আসতো! কি জন্য?
আমিও তাকে একদিন এই প্রশ্নটা জিজ্ঞাসা করেছিলাম।
তখন সে বলেছে সে নাদেশানের পিছনে লেগেছে…
এবং যদি তার তদন্ত সঠিক হয় তাহলে পুরো কেরালা অবাক হয়ে যাবে।
যদি কেরালাকে অবাক হতেই হয়,
তাহলে তো #আমিও_হবো!
আর কারা হবে,সোলার।
তার কী কোন মেয়েদের প্রতি দূর্বলতা ছিল? - মনোহারান!
সে আমার চাচাতো বোন!
রাজা স্যার…
এই দ্বীপে নাদেশান সম্পর্কে একজন সাংবাদিক শুধু একটা বিষয় তদন্ত করতে পারে সেটা হলো…
নকল মদ!
নকল মদ?
তুমি বোঝাচ্ছো,নকল মদ?
নাদেশান গত ২৫ বছর ধরে এই ব্যাবসা চালিয়ে আসছে।
অনেক পুলিশও এটা সম্পর্কে জানে।
অনেক মদের কারণে ঘটা দূর্ঘটনাও এই দ্বীপে ঘটেছে।
প্রমাণ করার যে সুযোগই আসুক না কেন,নাদেশান সহজেই সেটা থেকে পার পেয়ে যেতো,
একটা গ্লাস কারখানা দখল করে,
নাদেশান এই ভাটিখানা চালায় পোম্বিনথুরুথুতে!
এই ভাঁটিখানায় দেশি বিদেশি ব্রান্ডের সকল মদ তৈরী করা হয়,
নাদেশানের একটা পোতাশ্রয় আর ১০০টা মাছ ধরা নৌকার উপরে পূর্ন নিয়ন্ত্রন আছে।
সে এসব নৌকাকে কেরালার বিভিন্ন প্রান্তে নকল মদ সরবরাহের জন্য ব্যাবহার করে থাকে।
নাদেশানের নকল মদ যেটা বিভিন্ন রাজ্যে পৌছায়,
সেগুলো ৫০:৫০ অনুপাতে বিক্রি করা হয়,
সবজায়গায়,বড় বড় হোটেল থেকে পাচতারা হোটেলও!
তুমি এসব কি বলছো?
তাহলে সরকার এ ব্যাপারে জানে না?
সরকারের এসব দেখার সময় কোথায়?
তাদের চারপাশে তো তিনটা বিরোধী দল রয়েছে।
২টা বিরোধী পক্ষ আর ১টা মিডিয়া পক্ষ
কিন্তু রাজার এ ব্যাপারে সময় আছে।
রাজা এটা সরকারকে জানাবে!
স্যামসন,মন্ত্রী মহাশয় আমাকে দ্রুত ডাকলেন কেন?
আমি জানি না। ভেতরে চান। মন্ত্রী সাহেব অপেক্ষা করছেন।
ক্লীটাস…
আসো,তোমার নির্বাচনী এলাকা থেকে একটা অভিযোগ এসেছে।
ইনি মধুরা রাজা!
তার অভিযোগ এই যে,নকল মদ পুরো কেরালাতে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে
পোমবিন্থুরুথু থেকে।
এটা কোন অভিযোগ না,স্যার।
এটা পুরোপুরিভাবে সত্য!
পুরোপুরি সত্য!
নকল মদ?
কি বোকামির মত কথা বলছো?
ভালো মদের অভাব পড়লে নকল মদের ব্যাবসা জমজমাট হয়ে পড়ে,তাই না?
তুমি সেটা জানো তো?
আসল মদের দাম বোতল প্রতি ২০০ থেকে ৫০০০ হয়…
সরকার নিজেই এটা প্রক্রিয়াজাত করছে।
আর পঞ্চায়েত কর্তৃক এই মদের দোকানগুলোকে মাতালদের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়।
এমনকি যখন এখানে রেশনের চালের স্বল্পতা ছিল,
আমরা কখনো মদের অপর্যাপ্ততা হতে দেয় নি,কখনোই না।
এটাই আমাদের সরকারের নীতি!
তাহলে আমাদের নকল মদের কী দরকার স্যার?
এটা সত্যি!
কারণ,যখনই সরকারী রাজকোষে ঘাটতি দেখা যায়,
অথবা কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ আঘাত হানে তখনই মদের দাম সর্বপ্রথম বেড়ে যায়।
কিন্তু,তার থেকে ১০ শতাংশ সরকারী খাতে যায় না।
যে নকল মদ ৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়,
যেটা বারে আসল মদ বলে ৫০০০ টাকায় বিক্রি করা হয়,
তার জন্য,না কোন ট্যাক্স লাগে! না কোন কোন বিল লাগে!!
তুমি জানো? - না! না!
সে অনেক কিছুই জানে না,স্যার।
কেরালাতে তেমন কোন ভাটিখানা নেই,স্যার।
এম.এল.এ স্যার…
তাহলে কেরালাতে এত মানুষ মরছে কেন?
আমার মনে হয় রাজা যা বলছে তা সত্যি …
যদি আপনি একটা তদন্তের অনুমতি দেন তো,
কেন,স্যার?
তারা আমাদের নাদেশান স্যারকে লক্ষ্য বানিয়েছে।
রাজার ব্যাক্তিগত শত্রুতা রয়েছে নাদেশানের সাথে।
আমার ব্যাক্তিগত শত্রুতা নেই! - কিন্তু এটা আমার জন্য ব্যাক্তিগত।
তুমি তো জানো,তাই না?
পাম্বিনথুরুথু থেকে নাদেশানই আমাকে ২৫০০০ ভোট পাইয়ে দেয়।
তার জনগনের বদৌলতে আমি আজ এম.এল.এ হতে পেরেছি।
আমাদের দল এবং তার উপর আনিত অভিযোগ…
আমি এ ব্যাপারে তোমার সাথে কোন কথায় বলতে চাই না,বুঝেছো?
হেই রাজা…
আমি নাদেশানকে খুব ভালো করেই চিনি।
সে আমাদের দলের স্টেট সেক্রেটারি যার অনেক লোকবলের সমর্থন রয়েছে।
আর এগুলো শুধু তুমি বললেই যথেষ্ট হবে না…
তার প্রমাণও লাগবে,বুঝেছো?
তোমার অভিযোগ সম্পর্কে,
কখনো কী ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো জানতে পেরেছে,
প্রমাণ কর যে এটা সত্য!
যদি তুমি প্রমাণ করতে পারো,
এই মন্ত্রী কোসী তোমার সাথে গিয়ে দেখা করবে।
এবং,আমি তোমার সম্মানার্থে তোমার কাঁধে সোনালি সিল্কের একটা চাদর দেব,
এটা যথেষ্ট হবে?
সে কোন সাধারণ লোক না।
সে রাজা…
সে শিভাকাশিতে আমাদের তৈরিকৃত নকল লেবেল,সিলমোহর সম্পর্কে খুঁজে বের করবে,
এবং সেগুলোকে মন্ত্রীকে দেখাবে।
আমি যে ব্যাপারটার কথা বলেছিলাম সেটা কতদূর?
কি সুন্দর প্রশ্ন,ভাই!
মন্ত্রীর বাড়ির গেইট থেকে বের হওয়ার পূর্বে,
আমি ওই রাজাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে আমার পকেটে রাখবো।
কিভাবে?
আমি কি এম.এল.এ কিছু না করার জন্য হয়েছি নাকি?
আমার মনে হয় সে সব প্রমাণাদি জোগাড় করে মন্ত্রীর কাছে যাবে,
কোন মিডিয়া বা পত্রিকাকে না দিয়ে,
সে এমনটা করবে টাকার জন্য!
আমি তার মুখে তখন টাকা ছুড়ে মারবো!
কোন গুন্ডা কী টাকার জন্য যে কোন নিচু কাজ করা থেকে বিরত থাকবে নাকি?
সে ভয়ানক!
আমরা শত্রুতা বজায় রাখতে পারব না…
এমনকি যদি তাকে মারতেও হয় অথবা তাকে ব্যাবহার করতে হয়…
তবুও আমাদের উচিত তাকে আমাদের লোক হিসেবে কাছে টেনে আনা।
সে বাইরে অপেক্ষা করছে!
যদি তুমি সেখানে যাও তার কাধে হাত রেখে কিছু মিষ্টি মিষ্টি কথা বলো,
তাহলে রাজা তোমার পায়ের নিচে থাকবে।
এটা একটা পানির প্রাসাদ!
মধুরাই, কোন পানি নেই,কোন প্রাসাদও নাই।
চিন্না - আন্না…
কেমন হবে যদি আমরা একটা ট্যাংক তৈরী করে তার ভেতরে প্রাসাদ বানায়?
দারুন চিন্তা,আন্না!
তাই না? - দুইজনেরই একই বুদ্ধি!
নাদেশান! নাদেশান!
নমস্কার!
নমস্কার! - আমি রাজা
মধুরাই রাজা!
ভি.আর নাদেশান
এটা ভুল,স্যার।
এটা '{ভি.আর}আমরা' না নাদেশান!
"আমি নাদেশান"
এটা একটা ব্যাকরণগত ভুল!
"ভি.আর" হলো নাদেশান স্যারের পদবী!
দু:খিত! দু:খিত!
যদি আমি ইংরেজিতে ভুল দেখি তাহলে আমি লাফিয়ে উঠে সেই ভুলটা আগে শুধরে দি।
এটাই আমার…..দূর্বলতা!
সমস্ত ইংরেজির শিক্ষকদের মধ্যে,
তাকে 'গ্রামার রাজাও" বলা হয়।
অনেক এটা জানে না।
মি. রাজা…
আমি ভাইকে সব বলেছি।
খুব খুশি,স্যার।
সত্যি বলতে,
আমি আমার সমান কারো সাথে পার্টনারশিপ করি,
তুমি আমার জন্য যোগ্য পার্টনার।
কিন্তু আমার একটা নীতি আছে,
আমার ব্যাবসাতে কোন ধোঁকাবাজি চলবে না।
ধোঁকাবাজির মধ্যেও ব্যাবসা থাকতে পারে।
রাজা…এমনটা ভাবছো কারন তুমি ভাইকে পুরোপুরিভাবে জানো না।
আমার বস নিজের লোকেদের জন্য নিজের বুক চিরে হৃদয় পর্যন্ত দিয়ে দিতে পারে।
এইটা হলো সেই ভাটিখানা যেখানে নকল মদ তৈরী করা হয় আর এই জমিতে এটা স্থাপন করা হয়েছে..
কার নামে এটা ভাই কিনেছে? - কার নামে কিনেছে?
আমার নামে!
ব্যাপার কী? -ব্যাপার কী?
বিশ্বস্ততা এবং ভরসা!
ভরসা সব ব্যাবসার গোড়াপত্তনের জন্য অধিক দরকারি, তাই না?
চিন্না! - আন্না…
আমরা কী করমর্দন করবো?
সে বিশ্বস্ত!
অবশ্যই,ভাই!
তো, নাদেশান স্যার…
কোচি আর কোজীকুডু মদের ব্যাবসার জন্য উপযুক্ত না।
মধুরাতে করো!
আমরা পুরো তামিলনাড়ু রাজ্য আক্রমন করবো।
শ্রমিকদের ভরণ-পোষণ থেকে শুরু করে,
ফ্যাক্টরি,জনশক্তি, টাকা…তুমি যা বলবে আমি তোমাকে তাই দেব
যত বলবে তত দেব।
কিন্তু তোমাকে তোমার মিক্সিং ফর্মুলাটা আমাকে বলতে হবে।
যদি আমরা হাত একত্রিত করি…
৫টা রাজ্য আমাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
আন্ধারা,তেলেঙ্গানা,তামিলনাড়ু,কর্ণাটক,কেরালা।
আমরা কোটি কোটি টাকা আয় করতে পারব। মূলধন ৫০-৫০ ভাগাভাগি করে নেব।
আমার জন্য?
তাহলে ৫০-৫০-৫০!!
এটা ঠিক আছে। - আচ্ছা।
মি.রাজা এটা কিভাবে সম্ভব?
কী?
যদি নায়ক আর ভিলেন একসাথে মিলে যায়,তাহলে আমার গল্পের উন্নতি কিভাবে হবে!
যাই হোক,
যদি তুমি ভিলেনের সাথে যোগ দাও…
এটা আমার নিষ্পাপ নায়কের উপর প্রভাব ফেলবে না!
আমার প্রিয় মনোহারান…
নায়ক আর ভিলেনের মারামারি সব মুভিতেই তো থাক,তাই না?
যদি তারা একসাথে হয়ে যায় তাহলে এটা তো আলাদা,তাই না?
তা ঠিক…
কিন্তু এটা কী কাজ করবে?
আমরা কাজ করিয়ে নেব।
দয়া করে আসুন।
এটা হলো আমাদের ভাটিখানা!
মধুরাতে,এইটুকু লাগালে হবে না,
সেখান থেকে আমাদেরকে ৫টা রাজ্যে বিক্রি করতে হবে।
চিন্তা নাই,এম.এল.এ।
হয়ে যাবে। - তাহলে যথেষ্ট।
শুধু এটা তৈরি করাও।
আমাদের কাছে সব জনপ্রিয় ব্রান্ডের লেবেল একত্রে আছে।
তবুও,স্বাদে ভিন্নতা হয় না?
তার জন্য,স্বাদে ভিন্নতা দরকার তাই তো?
আমরা সে জন্য সব কোম্পানি থেকে ফ্লেভার মিক্সিংয়ের জন্য নিয়ে আসি।
উপকরণগুলো আনার জন্য আমাদের এজেন্ট রয়েছে।
দেখ! এইগুলো সবই পানীয় দোকানে যাচ্ছে।
পানীয় দোকানে?
হ্যা! সরকারী পানীয় বাজার কর্মচারীদের সাথে আমাদের মধ্যস্থতা হয়েছে।
আর তুমি মন্ত্রীকে যা বলেছিলে তাও সত্য,রাজা।
যখন আমরা পুরনো বোতলে মদ ভর্তি করি,
সেটাতে নতুন স্টিকার লাগিয়ে বাজারে চালান করে দি।
সর্বমোট খরচ হয় ৫০ রুপি।
আর লাভ?
২০০ থেকে ৫০০%!
বিবর্তনের নেতা,দেখছি!
আমরা কী চলে যাব? - কোথায়?
তুমি নাদেশান স্যারের খাতিরদারি সম্পর্কে জানো না।
একটা বড় আয়োজন করা হয়েছে।
তুমি জানো কে নাচবে?
কে?
"চাঁদের পাখি এসে গেছে"
" আসো,আমার সাথে এসো"
এবার আসলো আমাদের 'সানি_আপুর_আইটেম_সং♥"
"বিদেশি আঙুরের সাথে দেশি আঙুর মেশানোর একটা রাত"
"একটা ভালোবাসার মাতাল রাত"
'একটা প্রজাপতি তার ডানায় সুরের মধু নিয়ে আসছে!"
"হেই ছেলে! সব সৌন্দর্য আমার উপর ছড়িয়ে দাও"
"কে ছিল সে,যে আমাকে ছুঁয়ে আমাকে উতলা করে চুম্বন করেছিল"
'আমার প্রেমিক আমার দিকে এক নজর তাকিয়ে আমার লুকিয়ে রাখা সম্পদ নিয়ে নিলো"
"বিদেশি আঙুরের সাথে দেশি আঙুর মেশানোর একটা রাত"
"একটা ভালোবাসার মাতাল রাত"
'আমাকে রাতে খাটে জড়িয়ে ধরো,আমি তোমার রাত বানিয়ে দেব"
"সকাল না হওয়া পর্যন্ত তোমার শরীরে হলে পড়বো,সোনা।"
"আমার জানু,যে পৃথিবীতে তারার মত আলোর ঝলক ছড়ায়"
"তুমি কী আমার পাশে আমাকে আদর করতে আসবে না?"
"হেই ছেলে! সব সৌন্দর্য আমার উপর ছড়িয়ে দাও"
"কে ছিল সে,যে আমাকে ছুঁয়ে আমাকে উতলা করে চুম্বন করেছিল"
'আমার প্রেমিক আমার দিকে এক নজর তাকিয়ে আমার লুকিয়ে রাখা সম্পদ নিয়ে নিলো"
"বিদেশি আঙুরের সাথে দেশি আঙুর মেশানোর একটা রাত"
"একটা ভালোবাসার মাতাল রাত"
'একটা প্রজাপতি তার ডানায় সুরের মধু নিয়ে আসছে!"
"হেই ছেলে! সব সৌন্দর্য আমার উপর ছড়িয়ে দাও"
"কে ছিল সে,যে আমাকে ছুঁয়ে আমাকে উতলা করে চুম্বন করেছিল"
'আমার প্রেমিক আমার দিকে এক নজর তাকিয়ে আমার লুকিয়ে রাখা সম্পদ নিয়ে নিলো"
"কে ছিল সে,যে আমাকে ছুঁয়ে আমাকে উতলা করে চুম্বন করেছিল"
'আমার প্রেমিক আমার দিকে এক নজর তাকিয়ে আমার লুকিয়ে রাখা সম্পদ নিয়ে নিলো"
রাম! রাম! রাম!
ওহ না! মিডিয়া!
আমার মুন্ডু?
ওহ না!
"বিদেশি আঙুরের সাথে দেশি আঙুর মেশানোর একটা রাত"
এই শালা কাঠঠোকরার আওয়াজ কোথা থেকে আসছে? - এখান থেকে!
গণ্ডগোল কিসের? - একটা দারুন রেইড পড়েছে।
রেইড?
সেই ড্যান্সার চলে গেছে,তাই না?
নওশাদ,পিছনের দরজাও তালা মারা,তাই না? - হ্য,স্যার।
হায় ঈশ্বর! কমিশনারও এখানে এসে গেছে।
ভাসুট্টা,আমাকে তোমার লুঙ্গিটা দে,না
হ্যা ঠিক আছে। আমি আপনার মতো না স্যার। আমারও কিছু লজ্জাবোধ আছে।
অন্ততপক্ষে দরজাটা তো খোলো।
আপনি কি সেটাও জানেন না?
পুলিশ বাইরে থেকে তালা দিয়ে গেছে।
কি জন্য?
যাও তাকে বাইরে ধরে আনো। - স্যার, আসুন।
ছাড়ুন তো,স্যার। - আপনারা কি আমাকে একটা লুঙ্গি জোগাড় করে দিতে পারবেন?
চল তুই তোর জাঙিয়া খুলে মাথার উপর পড়ে যেতে পারিস!
এই মিডিয়ার শালাদের কে ডেকেছে?
আমি বলছি,আমাকে ছাড়ুন।
জনাব.কমিশনার, আপনি কী এটা দেখতে পান নি?
তোমার পুলিশের লোক আমার জামাকাপড় ছিনতাই করে জোরপূর্বক আমাকে এখানে ধরে এনেছে।
এটা কী? - এটা কী?
এটা কী?
এটাই এখন সমস্ত মিডিয়া আর চ্যানেলে ভাইরাল হয়ে গেছে।
তাই নাকি?
তাহলে আমি কী তোমাকে সত্যিটা বলবো?
ওইটা আমি না।
ওইটা মর্ফিং করা। ( মর্ফিং কম্পিউটার কতৃক নকল প্রতিলিপি বানাতে ব্যবহৃত হয়)
কম্পিউটার গ্রাফিক্স! পুরোপুরি গ্রাফিক্স দিয়ে বানানো হয়েছে।
ভালো করে দেখুন,স্যার।
তুমি এখনও সেই অন্তর্বাসটাই পড়ে আছো সেটা পর্যন্ত পাল্টাও নি।
মর্ফিং, দেখে মনে হচ্ছে?!
স্যার,আপনি কী দ্রুত এম.এল.এ কে গ্রেফতার করবেন?
আমি কেন গ্রেফতার হবো,বোন?
ভাই! পুলিশ আমাদের ভাটিখানা তালাবন্ধ করে সিলমোহর মেরে দিয়েছে।
আমাদের না…
তোমার!
ওই ভাটিখানাটা পুরোপুরি একচ্ছত্রভাবে তোমার নামে।
ভাই!
মালায়লী কংগ্রেস স্টেট সেক্রেটারি হিসেবে,
এটাই আমার সরকারী বক্তব্য।
অবৈধ ভাবে মদ বানানোর কারখানা চালানোর অভিযোগে,
ক্লীটাসকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ওহ না!
আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে?
যেহেতু ক্লিটাস এম.এল.এ পদ থেকে পদত্যাগ করেছে,
পুলিশ দ্রুত তাকে গ্রেফতার করবে।
আমি পদত্যাগও করে নিয়েছি?
আমি নির্দোষ, স্যার
ওই কারখানা সম্পর্কে আপনাকে এত যথাযথ তথ্য কে দিয়েছে?
কেউ একজন কাল সূর্য উঠার আগেই সঠিক তথ্য খুঁজে বের করার চ্যালেঞ্জ দিয়েছিল,
যেটা সে গ্রহণ করেছিল।
সে এখানেই আছে।
দেখুন,স্যার।
"রাজা! রাজা! রাজা! মধুরার নায়ক,রাজা!"
"রাজা! রাজা! রাজা! জনগনের রাজা!"
"সে ইংরেজি বলে,সে তামিল বলে কিন্তু মালায়লাম তার মাতৃভাষা"
"রাজা! আমাদের আন্না আগুনের গোলা"
ধোকা,হ্যা?
হ্যা। বিশ্বাসঘাতক!
আমি না তুমি!
এখানাকার সব মানুষকে
যে মানুষকে ধোকা দেয় সে কোন এম.এল.এ অথবা মন্ত্রীই হোক না কেন,
এক না একদিন তাকে এভাবে টেনে হিচড়ে জনগনের সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
তাই সবাইকে নিজেদের ধুতি সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত!
মি. প্রাক্তন এম.এল.এ,একটা সুখবর আছে,
ওই নাচুনি মেয়েটা আপনাকে নিয়ে ফেসবুকে একটা পোস্ট করেছে।
একটা দারুণ পোস্ট!
#MeToo. - ওহ না! {#MeToo আন্দোলনের হ্যাশট্যাগ)
আমি এটা মানি না।
অভিযোগ হলো,যে ব্যক্তি খালি দরজা দেখে লাফ দেয় সে আদালতে দাঁড়াতে পারবে না।
বসে থাকবেন নাকি দাঁড়াবেন, কোর্ট সিদ্ধান্ত নেবে।
গতকাল সকালে,
আপনি আমাকে কেরালার কোথায় ভাটিখানা আছে তার প্রমাণ জোগাড় করতে বলেছিলেন,স্যার?
আমি চ্যালেঞ্জটা নিয়েছিলাম।
রাজা যা বলে তাই করে…
এবং শুধু সেই করে যেটা বলে।
আমি আমার কথা রেখেছি।
এখন আপনাকে আপনার কথা রাখার পালা,স্যার।
কথা? কিসের কথা?
আপনি ভুলে গেছেন,তাই না?
মন্ত্রী,তো? তারা তো ভুলবেই!
সব মন্ত্রীদের ভুলে যাওয়ার রোগ আছে।
চিন্তা করবেন না,স্যার।
আমি জিনিসপাতি নিয়ে এসেছি,স্যার।
চিন্না… - তৈরী আছে,ভাই।
আনো সেটা।
প্রথমে একটা ভালোমানের সিল্কের চাদর।
এখানে। - পড়িয়ে দেন।
আমার সম্পর্কে দুইটা ভালো কথা বলুন দয়া করে।
এই মধুরা রাজা…
আমাদের দেশের গর্ব!
আমাদের দেশের তার মতো দেশপ্রেমিকের দরকার।
হ্যালো! আমি তোমাকে অনেকক্ষণ ধরে জিজ্ঞাসা করছি।
তুমি ২ দিন ধরে হোয়াটসওয়াপে উত্তর দাও নি কেন?
আমার বোন আমার ফোন কেড়ে নিয়েছে।
আমার পরীক্ষা চলছে। কাল শেষ হয়ে যাবে।
তাহলে আমকে দ্রুত কিছু একটা দাও। আমি চলে যাচ্ছি।
কী?
ঢং করো না। যাও।
যদি আমার বোন দেখে ফেলে,সে আমাদের মেরে ফেলবে। - তুমি কোথায় যাচ্ছো?
যখন আমি খালে পড়ে গেছিলাম তুমি আমাকে ৩বার দিয়েছিলে,তাই না? - আরে যাও তো!
আমি তো শুধু একটা চাইছি। - আমার কথাটা শোনো,
তুমি কেন আমাকে সেদিনের মতো কিস করছো না? - হেই!
দাড়াও! - তার হাত ধরেছিস...?
এক সেকেন্ডের জন্য আমার কথা শোনো,
আমার কথা শোন,প্লিজ। - চুপ কর!
হেই!
আমি যদি তোমাকে এখানে আর একবার দেখেছি,
চলে যাও।
আসো।
না, আন্না! থামো।
আমি আজ তাকে খুন করে তার রক্ত পান করবো,
আন্না! মি. রাজা … - আমাকে ছাড়বে না?
মি.রাজা,আমাদের ছেলেরও দোষ আছে।
তুমি কী দেখো নি সে আমার ছেলেকে থাপ্পড় মেরেছে?
সে তার প্রেমে পড়েছে।
চিন্না!
হ্যা,আন্না!
আমি সত্যিই ওই মেয়েটাকে ভালোবাসি,আন্না!
মনোহারান … - হ্যা।
যদি সে বলতো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মেয়েকে ভালোবাসে,
আমি তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করতাম।
আমি এই শাঁকচুন্নির সাথে কিভাবে কথা বলবো?
আমি তাকে চাই,আন্না।
তুমি তাকে চাও?!!
আমার দিকে তাকিয়ে না থেকে উকিলকে বলো মনি আন্নানকে ডেকে দিতে।
বাবাকে কেন ডাকছো? - তুই কি চাস না তোর বাবা তোর বউকে দেখতে যাক??
আমরা কিভাবে ওই রাক্ষুসীকে বলব এবং তার হাত চাইবো?
আমি তাকে জানাবো।
তুমি শুধু মেয়ে দেখাতে যাওয়ার অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি হও।
আমি চেসিকে বলবো।
আসো।
তাহলে,মি.সুরু…
আপনি কিভাবে ভাসান্তিকে এটা জানাবেন?
যদি আমি এটা তার মুখোমুখি বলি,তাহলে সে আমার গালে থাপ্পড় মারবে।
তাই আমি তাকে একটা ভয়েস নোট পাঠাবো।
আমার প্রিয় ভাসান্তু চেসি…
আমাদের মধুরাই রাজা…
কাল তোমার বাসায় মেয়ে দেখতে আসবে।
সে গভীর প্রেমে আছে। সে জন্যই।
দয়া করে সহযোগীতা করো।
আমি পাঠিয়ে দিয়েছি। কেমন ছিল? - ভালো…
এটা একটা দূর্যোগের মতো শেষ হওয়ার কোন সম্ভাবনায় তো দেখছি না।
আমি ওটা উত্তেজনার বশত বলে ফেলেছিলাম।
তারা আমাকে সমস্যায় ফেলে দিতে আসছে,হায় খোদা!
তুমি চিন্তিত কেন?
আমি তোমার সাথেই আছি, তো?
হঠাৎ আয়োজন!
তেমন ভালো না।
আপনারা যেমনটা ভেবেছিলাম তেমন বড়সর করে ব্যাবস্থা করতে পারি নি।
দয়া করে মানিয়ে নেবেন।
তোমার মুখে হাসি নেই কেন?
সুরু তোমাকে সবকিছু বলেছে,তো?
হায় ঈশ্বর! তুমি এখনো এসবে কেন আছো?
তুমি একটা শাড়ি পড়তে পারতে,
ইনি মনি আন্নান।
নমস্কার। - বুড়ো রাজা! প্রাক্তন গুন্ডা!!
আমার বাবার মতো,
যদি তুমি ধনী আর বংশের দিক বিবেচনা করো,
তাহলে মধুরার ১০০ জন যোগ্য মেয়ে লাইনে,লাইনে,লাইনে দাঁড়িয়ে যাবে।
কিন্তু কি আর করার?
প্রেম কাহিনী!
কিছু ভাষাগত পার্থক্য আছে,
কিন্তু সেটা নিয়ে ভাবার কোন কারণেই নাই।
কিছু সময় পরে,আমরা ব্যাবস্থা করে নেবো।
চিন্তা কেন?
চল এটা ঠিক করে ফেলি!
তুমি কি ভাবো?
ভাসান্তি বিয়ে করার জন্য পাগল?
যদি তুমি ভাসান্তিকে বিয়ে করতে চাও তাহলে তোমাকে আরও একবার জন্ম নিতে হবে।
ওহ না!
আমি?
তুমি?
ওহ না!
তুমি ভুল ভাবছো!
আমি বর না!
আমি এখনো বিয়ে করার মতো বয়সে পৌছায় নি। কখনোই না।
অনেকদিন আগে,যখন আমি ইংরেজি পড়ছিলাম তখন থেকেই আমি একটা ইংরেজ ম্যামকে বিয়ে করতে চেয়েছিলাম।
তখন সেটা হয় নি।
এখন যদি আমি ব্রিটেনের রানীর মেয়ের থেকে প্রস্তাব পায়,তাহলে সেটা নিয়ে ভাববো।
কিন্তু আমি এখানে এখন এসেছি…
মিনাক্ষীর হাত আমার ভাই চিন্নার হাতে দেওয়ার জন্য।
হেই!
যদি তুমি আমার আঙিনায় এসব ফালতু কথা বলার জন্য এসে থাকো,
আমি তোমাকে কেটে টুকরো টুকরো করে খালে ফেলে দেব।
মিস ভাসান্তি …
আমি কে,তুমি জানো না।
আমার একটা ছোট ভাই আছে,সুরিয়া!!
আমার নিজের রক্ত।
সে একটা রাক্ষসের মেয়ের প্রেমে পড়েছিল,
এই রাজা তাকে চ্যালেঞ্জ করেছিল এবং তাদের বিয়ে দিয়েছিল…
সঠিক সময়,জায়গায় এবং শুভ মহরতে যেমনটা আমি ওয়াদা করেছিলাম।
তুমি কী আমার সাথে জেদ দেখাচ্ছো?
আমাকে মান্য করা ভালো হয় না?
এখান থেকে দূরে চলে যাও।
চল যাই!
ছিঃ!ছিঃ!ছিঃ!
তার বাড়িতে অতিথি আসলে তার কি এইভাবে আচরণ করা উচিত?
এটা কী কোন মেয়ের করা শোভা দেয়?
ছিঃ!ছিঃ!ছিঃ!
আমি এটা মোটেও আশা করি নি।
খুব খুব প্রচলিত কথা!
চিন্না…
এটা আমাদের জন্য ঠিক হবে না। আমাদের এটার প্রয়োজন নেই।
এমনভাবে বলবেন না,রাজা স্যার।
তুমি এটা ভাবছো কারণ তুমি হয়ত জানো না যে মেয়েটা কী আর কে!
তাকে কেউ চেনে না।
সে কাউকে সে সুযোগটা দেয় নি।
৭ বছর বয়সে যখন তার হেসেখেলে বেড়ানোর কথা ছিল তখন তার জীবন নষ্ট হয়ে যায়।
তারপর দ্রুতই,তার মা সব সন্তানদের পিছনে ফেলে চলে যায়,
আমি আমার সাধ্যমত তাদেরকে শিক্ষিত করেছি এবং লালনপালন করেছি।
ভাসান্তি ছিল অনমনীয়।
কারো সাহায্যের উপরে বাচতে চাই নি।
কৈশোরকাল থেকে এমন কোন কাজ নেই যেটা সে করে নি,
বাড়িঘরের কাজ থেকে শুরু করে দিনমজুর,
জীবন তার জন্য প্রতিবাদমুখর ছিল।
সে যা পেতো গুছিয়ে রাখতো,
এবং সবকিছু নিজে নিজে অর্জন করেছিল।
একজন মানুষের জন্য সবচেয়ে সুখের দিন হয় সেদিনটা যেদিন সে জন্মগ্রহণ করেছিল,তাই না?
কিন্তু প্রতি জন্মদিনে,
ভাসন্তী কেবল ভাবতে পারে তার বাবার দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পচে ছিঁড়ে গেছে।
একটা মেয়ে যে প্রত্যেকটা বছর একই স্মৃতি নিয়ে দিন শুরু করে,
সে আর কেমন আচরণ করবে,স্যার?
চিন্না…
ভাসান্তির জীবনে একটাই লক্ষ্য আছে।
তার শুধুমাত্র একটায় স্বপ্ন আছে।
সেটা হলো মিনাক্ষী!
যদি সে ভুল কিছু বলে থাকে,
সেটা কেবল উদ্বেগের বাইরে মিনুট্টির সুরক্ষিত ভবিষ্যতের জন্য।
আমি একটা ভুল করেছি।
সেটা একটা ভুল ছিল।
খুব,খুব,খুব বড় ভুল।
হ্যা,আন্না!
আমরা যথাযথ খোঁজখবর না করেই দ্রুত কাজ করে ফেলেছি।
যাইহোক…
আমি আবার গিয়ে ভাসান্তির সাথে দেখা করবো।
না,আন্না!
সেখানে গিয়ে তুমি আবার আমার জন্য মাথা নিচু করবে না।
এটা আমাদের মানায় না,আন্না!
এটা ছেড়ে দাও।
এটা আমার চিন্না'র জন্যই তো,তাই না?
কী সেটা?
রাগ কর না।
আমি কোন ঝামেলা করতে আসি নি।
পলাশ স্যার আমাকে বলার পর আমি সব বুঝতে পেরেছি।
যদি তুমি সহানুভূতি দেখাতে চাও সেটা করো না,
আমি সেটা পছন্দ করি না।
আমিও পছন্দ করি না।
পলাশ স্যার আমাকে বলল তুমি ছোটবেলা থেকেই অনেক দূ:খ কষ্টের ভেতর দিয়ে গিয়েছো!
কিন্তু সেটার জন্য আশেপাশের সবাইকে শত্রু ভাবাটা ঠিক না।
অনেক লোক আছে যারা তোমার ভালো চায়।
আমার সত্যিই তোমার প্রতি অনেক সম্মান আছে।
কেন জানো?
তুমি মারামারি করো,আমিও মারামারি করি,আমরা দুজনেই মারামারি করি,আমি লড়াকুদের পছন্দ করি!
আমি যা বলছি তাই নিয়ে বিচলিত হয়ো না।
আমি একজন গল্পবিহীন মানুষ!
মুখে যা আসে তাই আমি বলে দি। তাছাড়া কিছু না।
যতক্ষণ না গাড়ি কোথাও ধাক্কা খায় গাড়ি চলতেই থাকবে,
বোকামী আর মস্করাতে ভরপুর!
কিন্তু আমার চিন্না তেমন না।
আমি ১৩ বছর বয়সে মধুরাতে গিয়েছিলাম,
আমার রাস্তার কুকুরের মতো মূল্যও ছিল না।
আর সেখানে তখন আমাকে…
মনি আন্নান গ্রহণ করল…
শুধু তার পরিবারে নয়,
তার জীবনেও!
আমি যখন সেখানে ছিলাম তখন চিন্নার বয়স ৪ বছর ছিল।
তখন থেকেই,সে আমার আঙুল ধরে চলতো কখনো ছাড়ে নি,
সে আমাকে কখনো নিজের মুখ দিয়ে "রাজা আন্না" বলে ডাকে নি।
ও নিজের হৃদয় থেকে ডাকে।
যখন ছেলেবেলায় মনি আন্নান ওর জন্য কিছু কিনে আনতো,
সে তখন বলতো "এটা আমার আন্না'র জন্য"
যদি কেউ তাকে কিছু বলতো,
সে বলতো,"আমার ভাই এসে দেখে নেবে!"
তখন থেকে আজ পর্যন্ত সে আমাকে ছায়ার মতো অনুসরন করেছে।
কোন কিছুর ইচ্ছায় না,কোন কিছু না বলে,
আমি একটা গাধা!
আজ পর্যন্ত,আমি তার জন্য কিছু করতে পারি নি।
আমি এখন যা কিছু আয় করছি…
সামনে যা আয় করবো,,,,সবই তার জন্য!
শুধু আমার চিন্নার জন্য,
আমাদের,মধুরাই'র লোকেদের একটা অভ্যাস আছে,
যারা আমাদেরকে সাহায্য করে এবং ভরসা করে তাদের জন্য আমরা জীবন পর্যন্ত দিতে পারি।
আমরা তাদেরকে খালি হাতে যেতে দিতে পারি না।
আসো!
ওরা প্রেমে পড়েছে,তাই তো?
দয়া করে মিনাক্ষী আর চিন্না'র বিয়েটা হতে দাও।
আমরা তার অনেক খেয়াল রাখবো,
এবং তার কোন কিছুর কমতি হবে না।
রাজকুমারীর মতো রাখব!
তুমি কি জামিন পেয়েছ?
আমি কী বলব,ভাই?
কিছু একটা করে ব্যাবস্থা করেছি।
আমি তোমাকে পরে ফোন করবো।
তবে,আমরা কোর্টে প্রমান করতে পেরেছি…
যেখানে নকল মদ তৈরী করা হতো,
সেই ভবনটা আমাদেরকে ভাড়ায় দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু সেই বুদ্ধিটা আমার ছিল না
সেটা আমার উকিলের বুদ্ধিও ছিল না। - তাহলে কার বুদ্ধি ছিল?
ধেড়ে ইঁদুর!!
তার আসল নাম পেরুমাল!
সে আমাদের মত রাজনীতিবিদের কাছে "ধেড়ে ইঁদুর" নামে পরিচিত।
রাজনীতি'র রাজা-তৈরিকারক!
আসুন!
ইনি আমাদের মালিক! - নমস্কার
যদি কোন প্রার্থীর জেতার সম্ভাবনা না থাকে,
রাজনীতি'র চালের মাধ্যমে 'ধেড়ে ইঁদুর' তাকে জিতিয়ে দিয়ে থাকে।
সে বিরোধী পক্ষে ছিল। আমি তাকে অনেক টাকা দিয়ে এখানে এনেছি।
আমাদের পরিকল্পনার বিস্তারিত বিবরণ শোনানোর জন্য।
ঠিক আছে,স্যার।
যেহেতু ক্লীটাস স্যার সামনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না,
তাই আমরা ভাবছি যে আপনার ছোট ভাইকে প্রার্থী হিসেবে দাড় করাবো,
ঠিক আছে, ভাই!
একজন নামমাত্র এম.এল.এ!
সে আমাদের কথা মতো সবকিছু করবে!
তুমি কি বলছো?
ক্লিটাস …
পার্টি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে,
যে পাম্বিন্থুরুথু ওয়ার্ড থেকে যে মনোনীত হয়েছে,
সে হলো আমি!
ভি.আর নাদেশান!
ভাই! - সরে যাও!
নাদেশান স্যার।
তো কেমন লাগলো?
আমার অনেক উপায় আছে ভোটের সংখ্যা বাড়ানোর!
আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত! - ধেড়ে ইঁদুর!
শান্ত থাকো,ক্লিটাস!
তুমি কী আমাকে স্যার বলবে না?
হ্যা! কিন্তু আজ থেকে আমার মাত্র একজনই 'স্যার' আছে।
সেটা হলো নাদেশান,স্যার।
স্যার,আমি যতদূর জানি,
জনগণের সামনে তোমার একটায় দোষ আছে…
আর সেটা হলো মদের দোকান!
আমি দোকানগুলো বন্ধ করে করে প্রার্থীর ঘোষনা দেব!
সে যা বলছে তা সত্য! - সেটাই!
হেই ক্লীটাস!
তোমার সব লোকেদের আর দলের লোকদের…
তোমাদের সবার উচিত নাদেশান স্যারের নিচে কাজ করা।
আমি করব না! হারিয়ে যাও! - ক্লীটাস!
আমি করব।
প্রার্থী ঘোষণার দিন, লোকজনের ঢল নামবে,
তুমি কী জানো না? পাম্বিনথুরুথুতে একটা উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তুমি কী জানো এবার মালায়লি কংগ্রেস থেকে এবার কে মনোনীত হয়েছে?
কে? - ভি.আর নাদেশান!
আরে রে রে! -হুম!!
তাকে এখানে কে ভোট দেবে?
এটা তেমন না,রাজা স্যার!
এই রাজ্যের লোকেদের কাছে তার অনেক প্রতিপত্তি আছে।
সে জিতবেই!
সেটা আমাদের জন্য সমস্যার হবে।
আমার গোয়েন্দা মনে একটা প্রশ্ন জাগছে!
এটা একটা চমক!
এটা নিরেট খাটিও বটে!
কিন্তু তোমার এতে সম্মতি জানানো উচিত,রাজা স্যার।
কী ব্যাপার?
পাম্বিনথুরুথু রাজ্যে,নাদেশানের বিরুদ্ধে,
মধুরা রাজা এই উপ-নির্বাচনে অংশ নেবে।
এটা দারুণ!
যাই হোক,তুমি নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করতে চাইছো,তাই তো?
এটা নিজের রাজ্যে করো। কি বলো? - হ্যা,আন্না!
চলো সাউথ ইন্ডিয়ান ফেডারেশন পার্টির পতাকা কেরালাতেও উঁচু জায়গাটা টাঙিয়ে দি!
এটা বাচ্চাদের খেলা না,চিন্না।
যদি আমরা অংশগ্রহণ করি,তাহলে আমরাই জিতবো!
আমার সন্দেহ হচ্ছে যে আমার সুনামের জন্য তোমাদের যেন আবার…...
সুনাম বলতে? - প্রতিপত্তি!
তুমি কি বলছো,রাজা?
তোমার তো এখানে কোন প্রতিপত্তিই নেই?
আমার মধুরা রাজার প্রতিপত্তি কেরালাতে যা আছে তা অদমনীয়,
সেটা কেউ জানে না।
কেরালার লোকজনদের একটা বদ অভ্যাস আছে।
যার জেতার সম্ভাবনা বেশি তারা তাকেই ভোট দেয়।
যদি আমরা তাদেরকে বোঝায় যে আমরাই জিতবো…
তাহলে হয়ে গেলো!
যেদিন নাদেশান তার প্রার্থী ঘোষনা করবে…
অনেক জনগনের ভিড়ের সামনে…
মধুরাই রাজাও সেদিনই তার প্রার্থীর ঘোষনা দেবে।
এটা কিভাবে সম্ভব?
মালায়লি কংগ্রেস পার্টির আলাদা প্রতিপত্তি আছে।
তারা ডাকলে,সবাই জড় হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা ডাকলে, কে আসবে?
আপনি কোন জগতে আছেন,পলাশ স্যার?
যদি আমরা জনপ্রতি ৩০০ টাকা করে দি তাহলে যত চাই তত অভিবাসী লোক আনতে পারবো।
যদি আমরা টাকা দি,তাহলে আমরা যত পারি তত লোক আনতে পারবো।
কিন্তু তাদের তো ভোটাধিকার নেই।
আমাদের ভোটারের উপস্থিতি দরকার।
তাদের অংশগ্রহণ দরকার! - আমরা তাদের নিয়ে কি করবো?
সেটা নিয়ে,তোমাদেরকে ভাবতে হবে। সেজন্য অনেক, অনেক,অনেক পথ আছে।
হাজারখানেক আসল ভোটারের সামনে,
রাজা অবশ্যই তার প্রার্থীর ঘোষনা দেবে।
গর্বের সাথে ঘোষনা করছি যে,
এই উপ-নির্বাচনে মালায়লি কংগ্রেস থেকে অংশগ্রহণ করবে…
গ্রামের মানুষের প্রিয় ব্যাক্তি… মানুষের মাসিহ…
আপনাদের খুব কাছের মানুষ, ভি.আর নাদেশান!
নমস্কার, স্যার! - নমস্কার!
নমস্কার। - দাও ওটা!
ধন্যবাদ!
দাও আমাকে ওটা। আমি রেখে দিচ্ছি।
আমার প্রিয় ভাই-বোনেরা,
একটা বিষয় আমাকে অনেকদিন ধরে জ্বালাতন করছে,
সেটা হলো আমার মদের দোকান যেটা স্কুলের আঙিনায় রয়েছে।
আজ এই শুভ দিনে,
আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে সেটা সারাজীবনের জন্য বন্ধ করে দেবো।
শুধু সেটা না,
মদের দোকান ছাড়াও,
আমি এবার থেকে এখানে সুপেয় পানির ব্যাবস্থা করব।
সব বাড়িঘরের জন্য,প্রতিদিন ৫ লিটার পানির ব্যাবস্থা করবো।
এটাই আমার স্বপ্ন,
ভি.আর নাদেশান দীর্ঘজীবী হোন!
আমার প্রিয় ভাইয়েরা,
যদি তোমাদের প্রিয় ভি.আর নাদেশানকে হারাতে হয়,
তবে এই পৃথিবীতে নতুন এক অবতারের জন্ম নিতে হবে।
এটা কী?
আমার প্রিয় বন্ধুরা…
সমাজে যখনই পাপে ভরে যায়,তখনই সমাজে অবতারের জন্ম হয়!
নাদেশানের মতো অন্যায়ের প্রতিমূর্তির ধ্বংসের জন্য,
ভগবান কর্তৃক প্রেরিত অবতার…
মধুরাই রাজা!!
মধুরার জান!
হেই! তুমিই শুধু ওই দিকে যাও নি কেন?
এই স্যারদের প্রতি নিষ্ঠার জন্য। - নিষ্ঠার জন্য কত পাও?
প্রতিদিন ১০০০ টাকা!
কেমন হবে যদি রাজা আন্না তোমার পুরো চ্যানেলটা কিনে নেয়?
আসুন! রাস্তা ছাড়ুন! সরকারী ক্যামেরাম্যান আসছে।
শ্যুট করো!
আমার প্রিয় ভাই-বোনেরা,
তোমরা ৪ বার ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে মালায়লি কংগ্রেস বানিয়েছ।
আর তারা গ্রামের জন্য কি করেছে?
এই যে দ্বীপ যার চারপাশেই পানি সেখানে কি কোন ব্রীজ আছে?
আর কোন শিক্ষাগত সুবিধা?
যাতায়াতের সু ব্যাবস্থা?
চিকিৎসার সু-ব্যবস্থা??
তারা তোমাদেরকে কি দিয়েছে?
আমি জিজ্ঞাসা করছি!
আমি এই পাম্বিনথুরুথুতে একটা পাম্বান ব্রীজ তৈরী করব।
একটা ব্রীজ উন্নয়নের সুবাদে.
একটা উন্নয়নের ব্রিজ!
আমি এই জায়গার নকশায় পাল্টে দেবো!
আমি দেশের নকশা পাল্টে দেবো।
আমি শুনছি নাদেশান স্যার বলেছেন,
যে তিনি ঘরপ্রতি ৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি দেবেন।
সেটা কী আমাদের সব সমস্যা নিরসন করবে?
না। আমি তোমাকে যেটার ওয়াদা করছি,
সেটা হলো নিরাপদে পানি প্রস্তুতকরণের কারখানা।
একটা বড় পানি প্রকল্প!
তোমরা সেখানে চাকরী পাবে,আর যত চাও তার থেকে বেশি পানি পাবে…
আমরা অবশিষ্ট পানি বিক্রি করে টাকাও কামাই করতে পারব।
তার পরিবর্তে, আমি শুধু চাইছি…
তোমাদের ভোট,যেটা তোমরা বিগত বছরগুলোতে অপচয় করে আসছো।
এই উপ-নির্বাচনে, আমি নাদেশানের বিরুদ্ধে তোমাদের পক্ষে দাঁড়াচ্ছি,
সে কী করছে?
লোকজনকে অনেক আশা আর ওয়াদা দেওয়ার পর,
আমাদের প্রার্থী যেভাবে উপরে এসেছিলেন সেভাবেই নিচে চলে গেলেন।
জনাব রাজা,আপনি আঘাতপ্রাপ্ত শুকরের মতো চারিদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কেন?
আমি তো সেগুলো উত্তেজনারবশত বলে ফেলেছি যেটা আমার ভন্ডামী ছিল।
যেহেতু আমি এসব ভন্ডামি কথা অনেক শুনেছি,
তাই আমি বুঝতে পারছি না তুমি নির্দিষ্ট করে কোন ভন্ডামির কথা বলছো।
যাই হোক,আপনি এখন বলো তুমি কোন ভন্ডামির কথা এখন বলতে চাইছো,
একটা পানির প্রকল্প চালু করতে যাবো সেটা ওয়াদা করতে,
এখানে ভন্ডামিটা কোথায়?
শালা গাধা ঔপন্যাসিক! - হ্যা?
আমি শুধু শুনেছি পানি প্রকল্প,পানি প্রকল্প,পানি প্রকল্প।
কিন্তু আমি কোন পানির প্রকল্পই আজ পর্যন্ত দেখিই নি।
আমি এখন কিভাবে একটা পানির প্রকল্প শুরু করবো?
ওহ না! যদি সেটা বাস্তবায়ন না করতে পারি তাহলে এখান থেকে পালানোই ভালো হবে।
হেই! কোন রেকর্ড না। গোপন কথাবার্তা।
দু:খিত,স্যার।
রাজা স্যার!
হ্যা? - আমি আপনার সাথে কথা বলতে চাই।
কি ব্যাপারে? - এক মিনিট! আমি শুধু কথা বলতে চাই।
এক মিনিট!
বিদেশিটা বুঝতে পেরেছে যে কোন একটা গণ্ডগোল আছে।
সে পদত্যাগ করতে চলেছে।
তুমি কিভাবে বুঝলে? - তুমি কী তার পদত্যাগ পত্র দেখ নি?
পদত্যাগ পত্র এমন কেন? মনে হচ্ছে কিছু একটা আঁকানো হয়েছে।
তুমি কি সেটা বুঝতে পারো নি?
মালায়লিরা নিজেদের পদত্যাগ পত্র লেখে,
আর বিদেশীরা তাদের পদত্যাগ পত্র আঁকে। - তাই নাকি?
মনোহারান!
উপায় পেয়ে গেছি।
কখন? - এখন!
কিভাবে?
তুমি কী জানো ওই বিদেশীটা কে?
সে যে ই হোক,আমাকে তাকে আর ফিরিয়ে আনবো না।
তুমি আমাকে যা টাকা দিয়েছিলে আমি সব খরচ করে ফেলেছি,আমি কিন্তু ফেরত দিতে পারব না।
এটা তেমন না।
ওই বিদেশি ইংল্যান্ডের বিখ্যাত পয়:নিষ্কাশন ইঞ্জিনিয়ার।
তার মানে যে পানি প্রকল্প তৈরী করে।
সে বলেছিল আমি যা বলেছি সেটা দারুণ বুদ্ধি ছিল।
আমিও তো তোমাকে বলেছিলাম যে সেটা দারুণরকম ছিল?
তাহলে,আমাকে ব্যাপারটা খোলসা করে বলো। - আমি বলছি।
এই পাম্বিনথুরুথু রাজ্যে,
প্রায় ৫০০০ বাড়িতে ছাদ আছে।
প্রতি বর্ষার মৌসুমে,যদি সেখান থেকে পানি সংগ্রহ করা হয়,
তাহলে ৫০০ কোটি লিটার পানি থাকবে আমাদের কাছে।
যদি আমরা এই পানি প্লান্টে এনে শুদ্ধিকরণ করি,
এবং প্রতি লিটারপ্রতি ৪ টাকায় বিক্রি করি,
তাহলেও আমরা ২০০০কোটি আয় করতে পারবো।
ব্যায় নির্বাহের জন্য ১০০০কোটি সরিয়ে রাখো। - করলাম!
কত থাকলো?
১০০০ কোটি!
আমি এই পুরো ১০০০ কোটি এই রাজ্যের উন্নয়নে কাজে লাগাবো।
এটা যথেষ্ট! এটার মাধ্যমেই আমরা আমাদের প্রচারণায় ঝড় তুলবো।
ঠিক আছে!
মালিক, তার আর তার পানির প্রকল্প,ধুর!!
ছোট একটা চালে সে বাজিমাত করে দিয়েছে।
এই প্রথমবার কোন নেতা কোন দলের না হয়েও,
এত মিডিয়ার মনযোগ আকৃষ্ট করছে।
ভাই,কিছু পয়েন্ট আছে যেগুলো সে বলছে,
কী?
সি.এম'র থেকে পর্যন্ত তদন্ত আসছে।
এমনকি সি.এম পর্যন্ত এটাকে 'নতুন কেরালা প্রোগ্রাম' বলে আখ্যায়িত করছে।
দিন দ্রুত চলে যাচ্ছে।
আমাদের এখনো অনেক প্রচারণা করার বাকি আছে।
তার জন্য কিছু বুদ্ধি দাও।
যদি আমাদের কাছে ৩০০০ কোটি থাকে,
আমরা ভাইয়ের বড় একটা মূর্তি তৈরি করে গরীব জনগনের সামনে উন্মুক্ত করতে পারি,
তারা এটা দেখে অবাক হবে আর ভাইকে ভোট দেবে।
হেই! আমাদের রাজ্যটা কোন শহর না এটা একটা গ্রাম!!
তাই আমাদের উচিত এখানকার সাধারণ মানুষের চাহিদা গুলো পূরন করা!
সঠিক! সেক্ষেত্রে…
তাই মানুষের মানসিক প্রশান্তির জন্য,
আমরা কী তাদেরকে চিত্তবিনোদন পার্কে পানিতে খেলাধুলা করার জন্য পাঠাবো?
হেই! আমাকে জেলে পাঠিও না।
আমি পরোয়া করবো না যে তুমি প্রাক্তন মন্ত্রী আমি তোমাকে ধ্বংস করে দেব। যাও এখান থেকে!
স্যার,যদি আপনি মানুষের হৃদয়ের পৌঁছাতে চান,
আমাদের ভিন্ন একটা খেলা খেলতে হবে।
ঘরপ্রতি ১০ কেজি চাল দিতে হবে।
পাঠ্যবই আর স্কুলব্যাগ সব ছেলেমেয়েদের জন্য,
যারা কাজে যায় তাদের সবার জন্য সাইকেল।
কিভাবে?
ধেড়ে ইঁদুর, এখানে আসো!
রাজা অনেক টাকা ঢালছে।
আমরা যেখানেই তাকাচ্ছি সেখানে তার মুখ আর সিংহয়ের পায়ের ছাপ দেখছি।
এটা কোন ব্যাপার না।
নমস্কার! - এই হলো আমাদের প্রার্থী।
তুমি তো জান তাই না?
নমস্কার, বোন!
স্যার,আপনার নাচটা সেই ছিল।
নাচ? - হ্যা।
আপনার জাঙিয়া পড়ে নাগিন নাচ? টিভিতে? আমরা সবাই দেখছি।
সেটা দারুণ ছিল। - ওইটা গ্রাফিক্স ছিল।
আমার হাত পাল্টে দেওয়া হয়েছিল। - হ্যা। আমরা জানি।
আসুন,মহাশয়!
তোমার কী লজ্জা নেই? - তোমার কী মনে হয় তারা মজা করছে?
দূর হও!
আসুন। - আসুন,স্যার।
সে এখানে আসবে।
তোমরা সবাই কোথায় যাচ্ছো?
আমরা কোচিতে যাচ্ছি,স্যার। আপনি তো জানেনই?
তোমার প্রিয় বস এখানকার প্রার্থী। - আমরা জানি সেটা।
বস তোমাদের সাথে খালি হাতে দেখা করতে আসেন নি?
তিনি তোমাদের জন্য থলেতে করে ৫ কেজি চাল এনেছে।
ওহ না! তুমি কী সেটা দেখেছো? এখানে ১.৫কেজির থলে রয়েছে। রাজা দিয়েছে।
তাহলে এক কাজ কর। ওটা দাও। - তাদেরকে বই দাও।
তোমাদের বাচ্চাদের পড়াশোনার জন্য বই।
ভাই,রাজা এখানে কয়েক বান্ডেল নোটবুক এনে রেখেছি।
সাইকেল,চিনি,মুদি-দ্রব্যাদি,গ্যাসের চুলা,গ্যাসের সিলিন্ডার…
আমরা যা পেয়েছি সেগুলো আবার নিয়ে রাখার জায়গা নাই।
রাজা তাদেরকে একটা গাড়ি আর বাড়ি বাদে সবকিছুই দিয়েছে।
তুমি এগুলো সব নাও। কিন্তু ভাইকে ভোট দিও,বুঝেছ?
অবশ্যই! সেটা কি বলতে হয় নাকি!
আমরা কী তাহলে যাবো? - ঠিক আছে।
বাচ্চাদের খেয়াল রেখো!
প্রত্যেক ভোট রাজার জন্য।
রাজার সিংহ তো আমাদের ভাইয়ের যুদ্ধের ঘোড়াকে খেয়ে ফেলবে।
দাড়াও! এসব থামাও!এসব থামাও!
ভাই,আমার মনে হয় ওই বাড়িতে কেউ মারা গেছে।
দেখো!
এখানে শুধু সহানুভূতি দিয়ে কাজ হবে।
হেই! তুমি এখানে এসো না। তোমার চেহারা আমাদের সাথে যায় না।
আমি কাঁদবো! - এখানে দাঁড়িয়ে কাঁদো তাহলে!
যাও! বকবক বন্ধ করে এখান থেকে যাও।
সে আমাদের আগে এখানে এসে গেছে।
সে কী সত্যিই সিংহ?
যদি আমি নির্বাচনে দাঁড়াই, তাহলে আমি অবশ্যই হারবো,স্যার।
মানে!
তুমি এসব কথা এখন কেন বলছো?
আমি শুধু তামিলনাড়ু রাজনীতি জানি,তাই তো?
আমি এখানে আসার পরই এই জায়গা সম্পর্কে জানতে পেরেছি।
এটা সর্বোপরি একটা ভোটের ব্যাংক!
পুরো ভোটের অর্ধেক হলো শক্তিশালী রাজনৈতিক ভোট।
আর ৩০%, সম্প্রদায়ভুক্ত ভোট।
আর শুধু ২০% ভোট হলো নিরপেক্ষ ভোট।
নাদেশান,যে এইখানে বছরের পর বছর ধরে রাজ করে আসছে,সে ওইগুলো ভোট পাবে।
আমার কোন আশা নাই!
এখন কী করা উচিত?
এখান একটা মাত্রই উপায় আছে তাহলে?
জনগনের মাঝে নাদেশানের প্রতিপত্তি ধ্বংস করে দাও।
তুমি কি জানো কিভাবে?
একজনই শুধু সাহায্য করতে পারে।
পলাশ স্যার,তাকে চিনতে পারছেন?
কন্সট্যাবেল জয়াচন্দ্রান!
আমার ছেলেরা তাকে ছককষে ধরে এনেছে।
সে ই রাসুলের উপরে ভ্যান চালিয়ে দিয়েছিল।
নাদেশানই তাকে এটা করতে বলেছিল।
কিন্তু…
সে জানে না যে কেন নাদেশান তাকে খুন করতে বলেছিল।
আমরা যদি চাই তাহলে এখনই নাদেশানকে গ্রেফতার করতে পারি।
কিন্তু তুমি তো জান?
কারণ না জানা পর্যন্ত কেস বেশিক্ষণ টিকবে না।
আমাদেরকে শক্তিশালী প্রমাণ খুঁজে বের করতে হবে।
আমরা তার ব্যাবহার করে নাদেশানকে জেলে ঢুকাতে পারি।
আর রাজা সহজেই নির্বাচন জিতে যাবে।
আমরা কী… - আমাদের কী করতে হবে?
আপনি কিছু বলুন,পলাশ স্যার।
তুমি এটা দেখেছো,পলো?
এটা মৃত রাসুলের ফোনের কল হিস্ট্রি।
যে নম্বরে রাসুল প্রায়ই কথা বলতো,সেটা এখানে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আপনি কী এই নম্বরটা চেনেন,পলাশ স্যার?
যেদিন সে মারা গিয়েছিল সেদিনও সে এই নম্বরে কথা বলেছিল।
লিসি!
তোমার মেয়ে!
নাদেশানের হাসাপাতালে নার্সের চাকরি করে।
এটা লিসির নম্বর!
আম নিশ্চিত?
রাজা স্যার…
সে আমার একমাত্র সন্তান।
আমি নাদেশানকে ভালো করেই চিনি।
সে আমার মেয়েকে মেরে ফেলবে।
পলো…
এখানে আর কোন অপশন নাই।
চিন্তা কর না।
লিলিকুট্টি শিক্ষিকার মেয়ে অমলা,লিসি আর রাসুল সহপাঠি ছিল।
একদিন,রাসুল লিসির কর্মক্ষেত্রে গিয়েছিল,
লিসির সাথে দেখা করতে।
রাসুল আমাকে ওইদিন নাদেশান সম্পর্কে বলেছিল।
আসলে,তার সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য তার হাতের মুঠোয় ছিল।
সে খুবই ভয়ানক, স্যার।
তার আসল ব্যাবসা হলো মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রি করা,
নাদেশান চ্যারিটি হাসপাতালের নিচে।
সে এই দ্বীপের গ্রামের অসহায় মানুষকে ফ্রি চিকিৎসা সেবার নাম দিয়ে,
যাদের অঙ্গের দরকার পড়ে তাদের সাথে মিল করিয়ে নিয়ে তাদেরকে নির্বাচন করে।
ডা: ঋষি তাদেরকে চিহ্নিত করে জরুরী ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করেন,
এবং তাদের উপর সার্জারির বাহানা করেন।
ভেতরের অঙ্গগুলো সাবধানে সরিয়ে নেওয়ার পর।
ওই গরীব লোকেদেরকে পঙ্গু বানিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
কোন কোন সময় তারা তাদেরকে মেরেও ফেলে।
রাসুল,যে এসব বুঝতে পেরেছিলো…
একদিন সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে ডা: ঋষির কেবিনে ঢুকে পড়ে,
এবং কিছু গোপনীয় তথ্য কপি করে নেয়।
লিসি,সব তথ্য এর ভেতরে আছে।
যাদের থেকে অঙ্গগুলো নেওয়া হয়েছে আর যাদেরকে দেওয়া হয়েছে…
যাদেরকে সামনে জরুরী ভিত্তিতে অঙ্গ দেওয়া হবে…সমস্ত বিস্তারিত বিবরণ!
যদি সে এই লিস্টের কাউকে পায় তাহলে ড. ঋষি সার্জারি করতে চলে যাবে।
কিন্তু আমি… - হেই! তোমার এটা যেভাবেই হোক শ্যুট করতে হবে। প্লিজ!
এটা একটা ক্যামেরা!
সাবধানে!
ওইটাই শেষবারের মতো আমি রাসুলকে দেখেছিলাম।
সে ওইদিন রাতেই খুন করা হয়েছিল!
কিন্তু আমি তার কথা রেখেছি।
আমি সবকিছু শ্যুট করেছিলাম।
যদিও তাকে অপারেশন করার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল,
কার্থু দ্রুতই মারা গিয়েছিল।
দেখো আমার মেয়ে এখানে মিথ্যা বলছে!
আমার বাচ্চাকে দেখো!
সে তো তোমার সাথেই খেলা করতো,তাই না?
তাই না?
আমার বাচ্চাকে দেখো!
উঠ,মা।
তোর চোখ খোল,মা!
তোর চোখ খোল!
এখানে সব কিছুর বিবরণ আছে যেটার চুক্তি তারা আজ পর্যন্ত করে এসেছে।
ধন্যবাদ!
অনেক হয়েছে,কমিশনার স্যার।
শেষ যুদ্ধের জন্য এটা যথেষ্ট।
তাহলে আমরা কী নাদেশানকে গ্রেফতার করবো?
না। তাকে বাইরে ঘুরতে দাও।
তাকে বাইরে থেকে খেলাটা দেখতে দিন।
রাজার খেলা এখন থেকে শুরু হলো।
আসল খেলা!
কেরালাতে একটা চরম মর্মান্তিক সত্য উদঘাটন হয়েছে,
যেটা পাম্বিনথুরুথু থেকে আসছে।
পাম্বিনথুরুথু'র অনেক গরীব লোক অঙ্গপ্রত্যঙ্গর বিক্রির ব্যাবসায় নিজের জান হারিয়েছে।
নাদেশান চ্যারিটি হাসপাতালের করালগ্রাসের মাধ্যমে,
এই অমানুষিক ঘটনা কেরালার নৈতিক বিবেককে নাড়া দিয়েছে!
সাউথ ইন্ডিয়ান ফেডারেশন পার্টির নেতা এবং পাম্বিনথুরুথু থেকে উপ-নির্বাচনের প্রার্থী,
মধুরাই রাজা কর্তৃক প্রবর্তিত একটা তদন্তে এই সত্য বেরিয়ে এসেছে।
অনেক ভুক্তভোগীরা এখন প্রমাণসহ সামনে আসছে।
আমি মেডিকেল ক্যাম্পে পেটের ব্যাথায় গিয়েছিলাম,
যখন আমি পেটের স্ক্যান করতে যাচ্ছিলাম রাজা স্যার করতে না বললেন,
তারপর আমি বুঝলাম যে আমার একটা কিডনি নিয়ে নিয়েছে।
এখানে যারা এটা করেছে তারা হলো মানুষরুপী কসাই!
ডা: ঋষি যে মানুষকে খুন করে তাকে গ্রেফতার করতে হবে,
নাদেশান চ্যারিটি হাসপাতালের মূল মাথা এখাকার এম.ডি,
ডা,ঋষিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
সিটি পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন তাকে খুনের দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অজামিনযোগ্য কেসে!
তুই আমার মেয়েকে মেরেছিস? - সরুন!
আমি তোকে মেরে ফেলবো,শয়তান।
তুই কী দেখছিস? - তাদেরকে সরিয়ে নাও।
সে আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে,স্যার।
তার ধ্বংস হওয়া উচিত।
পাম্বিনথুরুথু'র নির্বাচন যতই কাছে ঘনিয়ে আসছে,
মালায়লি কংগ্রেসে নেতা এবং ভি.আর নাদেশানের ছেলের উপর আনিত মারাত্মক অভিযোগের কারণে,
নাদেশানের প্রতিপত্তি ও জনপ্রিয়তার যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে,এখন জেতার সম্ভাবনা কার বেশি?
আমাদের এখন অপেক্ষা করে শুধু দেখতে হবে।
কেরালার রাজনীতিতে নাদেশান প্রথম অপরাধী না।
এটা পাম্বিনথুরুথুতে হওয়া প্রথম দূর্যোগও না।
তবুও…
তবুও আমাদের বিশ্লেষণ করতে হবে এই দূর্নীতি পরায়ণ মানুষেরা কেন বারবার জিতছে!
ধর্মের নামে,
জাতের নামে,
রাজনীতির নামে,
আমরা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে গেছি! এই জন্য!
আমরা মালায়লি লোকজনেরা আরো একবার পৃথিবীকে প্রমাণ করে দিয়েছি যে,
আমরা মানবতার খাতিরে একত্রে দাঁড়াতে পারি।
ঘুম, খাওয়া দাওয়া ছাড়া,দিনরাতকে পরোয়া না করে,
আমাদের ছোট একটা হৃদয়কে নিয়ে,একসাথে…এই মহাপ্লাবন প্রতিহত করেছি।
যদি মানবতা আমাদের সাথে এখনো থেকে থাকে,
চল উন্নতির অগ্নি প্রজ্বলন করি।
আমাদেরকে এখনি সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
আমাদেরকে ন্যায়বিচারের সিদ্ধান্ত পাশ করতে হবে।
তুমি কী আমাদের সাথে থাকবে না?
রাজা!রাজা!রাজা!
"রাজা!রাজা!রাজা!"
"মধুরার হিরো,রাজা'
"রাজা!রাজা!রাজা! জনগনের রাজা! "
"সে ইংরেজি বলে,সে তামিল বলে কিন্তু মালায়লাম তার মাতৃভাষা"
"রাজা ভাই,আগুনের গোলা!"
"রাজা,সে একটা সিংহ। সারাবিশ্বে বিখ্যাত"
"রাজা ভাই,আগুনের গোলা!"
' ও নেতা!
"সে বাচ্চাদের মতো হাসলেও! যদি সে আক্রমণ করে সে আগুন!
"মধুরার এই জমি এখন আমাদের ভাইয়ের দখলে"
"সে বাচ্চাদের মতো হাসলেও! যদি সে আক্রমণ করে সে আগুন!
"মধুরার এই ভূমির রক্ষাকারী এখন আমাদের ভাই"
" সে দারুণ যুদ্ধপ্রিয় আর বজ্রের মত ক্ষিপ্ত"
"তার সাথে লাগতে এসো না,সে সিংহ"
"সে যখন শিকারে নামে শত্রুদের কাজ হয়ে যায়"
"রাজা!রাজা!রাজা! মধুরার হিরো,রাজা! "
"রাজা!রাজা!রাজা! জনগনের রাজা! "
"সে ইংরেজি বলে,সে তামিল বলে কিন্তু মালায়লাম তার মাতৃভাষা"
"রাজা ভাই,আগুনের গোলা!"
"রাজা! সে একজন সিংহ যে সারা পৃথিবীতে বিখ্যাত"
"রাজা! আমাদের জীবন!"
'রাজা! ও নেতা!
আমরা এইবার হারবো।
আমরা এবার হারবো,স্যার।
চন্দ্রান …
সে আমাকে এবার এই খেলা থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে
নির্বাচন হওয়ার জন্য,
জয়ী হওয়ার জন্য,
ফলাফল বের হবার পর,
সে আবার আসবে।
রাজা!
আমার কবরে এক মুঠো মাটি দেওয়ার জন্য!
আমি তার আগেই তাকে মেরে ফেলবো।
তাকে এবং যারা তার ইশারায় সাক্ষী দিতে প্রস্তুত তাদেরকেও।
এটা কী - আমি বলছি,
দাও ওটা!
চিন্না…
আমি মিনাক্ষীকে দিয়ে তোমাকে মেসেজ দিয়েছিলাম।
আমি তোমাকে এখানে আশা করি নি।
আমি তাকে আশা করেছিলাম
রাজা!
সে আসবে না?
আমি এখানেই থাকলাম।
আমরা সাথে তুমি যা ইচ্ছা করতে পারো।
কিন্তু তাদেরকে যেতে দাও। - আমি তাদেরকে যেতে দেব।
আমি কাকে আগে যেতে দেবো?
আমি তোকে আগে যেতে দেব।
তুই আমার নুন খেয়ে আমার পিছনে ছুরি বসিয়েছিস তাই তো?
এটা দেখলে?
সে দৌড় দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল।
আমাকে অমান্য করে সে নিজের কপাল নিজেই পুড়িয়েছে,বুঝেছো!
সাজান…
যাও! যাও আর পালাও!!
যাও!যাও!যাও!
যাও!পালাও,
ভাগো!
না!
দৌড়াও! - লিসি পালিয়ে যেও না।
দৌড়াও!
লিসি,আমার কথা শোনো। এটা করো না।
আমি বলছি,দৌড়াও!
না!
স্যার,প্লিজ! প্লিজ, স্যার!! তাদেরকে থামতে বলুন!
স্যার,প্লিজ, এমনটা করবেন না।
স্যার,এসব থামান। আমি আপনার পায়ে পড়ছি
স্যার,দয়া করে এমনটা করবেন না।
স্যার,তাদেরকে থামতে বলুন।
স্যার,দয়া করে এসব থামান!
আয়! চলো যাই!
আয়! চিন্না,চলে আয়!
তাড়াতাড়ি আয়!
তাড়াতাড়ি আয়!
চিন্না!
তাড়াতাড়ি আয়!
আয়!
তাড়াতাড়ি আয়!
যাও!
যাও!
তুই যা!
চিন্না! - তাকে নিয়ে যাও!
চিন্না,চলে আয়!
চিন্না! - আসো!
মিনু!
তাকে নিয়ে যাও. - চিন্না তুই আয়!
আমার কথা শোন!
চিন্না! -আয়!
চিন্না!
আয়, ভেতরে ঢোক!
মিনু,আমার কথা শোনো!
আসো!
ভেতরে যাও!
চিন্না!
আয়! - নৌকাটা নিয়ে যাও।
চিন্না,আয়!
চিন্না!
চিন্না,আয় তো!
চিন্না!
চিন্না!
চিন্না!
চিন্না!
কী?
এটা কী?
তোমরা সবাই এখানে জড় হয়েছো কেন?
কি হয়েছে?
চিন্না কোথায়?
সে কোথায়?
চিন্না!
চিন্না রাজা!
চিন্না রাজা!
কী হয়েছে,মনি আন্না?
চিন্না কোথায়?
তুমি কেন কিছু বলছো না?
সবাই চুপ করে আছো কেন?
আমার ছেলে কোথায়?
রাজা,
রাজা,
তোমার ভাই…
আমি আমার সন্তানকে হারিয়েছি…আমার জীবন!
সে মারা গেছে?
আমরা তার বিয়ে ঠিক করেছিলাম,তাই না?
তাহলে সে কোথায় গেলো?
রাজা আন্না…
তারা চিন্নাকে মেরে দিয়েছে,আন্না!
আমি তাকে বাঁচাতে পারি নি।
সে মারা গেছে!
সে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে,আন্না!
তুমি কাঁদছো কেন?
আমি তোমাকে কী বলি নি?
আমার চিন্না নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে তাদের জীবন বাঁচিয়েছে যারা তার সাথে ছিল।
আমরা,মধুরার লোকেরা আমাদের কথা সবসময় রাখি!
আমরা ওয়াদা পালনকারী!
কিন্তু আমিই একমাত্র যার সত্য কথার জন্য এত বড় মূল্য দিতে হলো।
তবে আমার কথা সত্যি হয়েছে।
চিন্না!
না!
যাও!
যাও!
তুই কেন আমাকে ছেড়ে চলে গেলি?
রাজা…
তোমার কাদা উচিত না।
তোমাকে কাদা শোভা দেয় না।
এটা সে!
এই পৃথিবীতে তার মতো রাক্ষসের দরকার নেই!
এই পৃথিবীর তার দরকার নেই।
এই পৃথিবীর তার দরকার নেই।
রাজা!রাজা! রাজা!
যাও।
যা!
দৌড়া!
সুগানান স্যার…
তুমি এখানে কি করছো,মনোহারান?
আমি এখানে আমার নতুন উপনাসের শেষ অংশটুকু লিখছি।
তোমার নতুন উপন্যাসের নাম কী?
আমার নতুন উপন্যাসের নাম,"মন্ত্রী রাজা"
"রাজা! রাজা! রাজা! মধুরার নায়ক,রাজা!"
"রাজা! রাজা! রাজা! জনগনের রাজা!"
"সে ইংরেজি বলে,সে তামিল বলে কিন্তু মালায়লাম তার মাতৃভাষা"
সাবটাইটেলটি ভাল লাগলে অবশ্যই সাবসিনে গুড রেটিং দেবেন। ধন্যবাদ♥
অনুবাদকঃ- হাবিবুল্লাহ কায়সার
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.