All language subtitles for MANDAADI.(02.32.36).BSUB.by.Zahid.Hasan

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic Download
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English Download
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

মুগাভাইপট্টিনাম, রামনাথপুরম

মুগাভাইপট্টিনামের অবিসংবাদিত সাগররাজ,

সেম্মাত্তি বংশের নাম যে সিংহ উঁচু করেছে।

সাট্টাই পুলির সাগর-উত্তরাধিকারের যোগ্য ওয়ারিশ কিট্টান...

সাগরঘেরা মারিয়াম্মন মন্দিরের বার্ষিক উৎসবে এসে পৌঁছেছে।

আসন্ন দেশি পালতোলা নৌকাবাইচে...

ঠিক বাপের মতোই...

জয়ের ধারা ধরে রাখতে

সুনামি রাইডার্সের নেতা রাজার মতো ঘোড়ায় চড়ে আসছে।

নতুন সাম্রাজ্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে

জমকালো শোভাযাত্রা নিয়ে আসছে,

সবচেয়ে কমবয়সী মাঝি।

খাঁটি তেজি সিংহশাবক রথে চড়ে আসছে।

ওইতো আসছে!

সবার প্রিয় কিট্টান!

এসো, বাপ আমার!

কিট্টান!

- এই! - মামা!

বাবা!

এই!

এই, মারিকে খোঁজ।

ঐ মান্দাদি ছেলেটা যেন পালাতে না পারে।

ধর ওকে!

-- অনুবাদ ও সম্পাদনায় -- ~জাহিদ হাসান~

মা, আমাকে পানিতে নিয়ে চলো না। প্লিজ মা!

মা, প্লিজ!

মা, প্লিজ!

স্যার, প্লিজ। বাচ্চারা একটু খেলতে চায়।

প্লিজ!

দোস্ত!

ওদেরকে আমার বেতনটা বাড়িয়ে দিতে বল না।

বারো হাজারে সংসার চলে না।

তুই জানিস, সাগরে গেলে এতদিনে কত টাকা কামাতাম?

-যা না, বলে দেখ‌। -ও ঠিকই বলছে, ভাই!

-তুই কত পাস? -বারো হাজার।

অলরেডি তিন হাজারে কাজ করার জন্য বাইরে লোকেরা লাইন দিচ্ছে!

খাওয়া-থাকা ফ্রি দিয়ে।

- তোকে বলাটাই বৃথা! - তাই নাকি?

কালি, তোমার গাঁ থেকে কারও আসার কথা আছে?

একটা ছেলে তোমার নাম ভাঙিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে।

ঠাকুমা, মনে হয় ওর কাছে আসেনি।

সম্ভবত হুইলার কালির কাছে এসেছে।

- নিশ্চয়ই ফ্রি টিকিটের জন্য এসেছে। - আরে বোকা!

ছেলেটা স্পষ্ট বলেছে মুগাভাইপট্টিনামের কালি।

সকাল থেকে কালিকে খুঁজছে, আর গেটে ঝামেলা করছে।

ঘুরতে আসার মতো তো মনে হয় না।

হ্যালো সবাই!

আজকের বড় খবর, ভারত-শ্রীলঙ্কার সমুদ্রসীমা বিরোধ নিয়ে

রামেশ্বরমে আলোচনা বসছে। সিনিয়র কর্মকর্তারা সেখানে অংশ নিচ্ছেন।

দেখা যাক, এতে আমাদের জন্য কোনো স্বস্তির খবর আসে কি না!?

এই আশা নিয়েই গানটি শুনুন।

সাগরের ঢেউয়ের তালে তাল মেলানো রেডিওতে আপনারা শুনছেন

আলাই ওসাই এফএম ৯০.৪,

বিদায় নিচ্ছি, আমি আপনাদের বাগমপ্রিয়াল।

হ্যালো! মামা, কতবার ফোন করতে হবে তোমাকে?

ডিউটিতে ছিলাম, মা।

আমার কাছে কাউকে পাঠিয়েছিলি?

হ্যাঁ, মামা।

আমার বন্ধু মারি বাইরে অপেক্ষা করছে।

আমার সাথে পলিটেকনিকে পড়ছে।

ওকে কি কয়েকটা দিন নিজের কাছে লুকিয়ে রাখতে পারবে?

লুকিয়ে রাখব মানে?

মজা করছিস নাকি?

ছেলেটা কে?

তোর মা জানতে পারলে এখানে এসে তুলকালাম করবে।

তোর প্রেমিক নাকি?

ব্যাপারটা অন্য, মামা।

ও আমাদের গাঁয়ের নৌকার মাঝিকে মারতে চেয়েছিল।

এখন ব্যাপারটা অনেক বড় হয়ে গেছে।

ওর বাবা সাট্টাইপুল্লি খেপে গিয়ে ওকে মারার জন্য খুঁজছে!

মুগাভাইপট্টিনামের লোকজন, ভালো করে শোনো।

পলাতক মারি আমাদের শত্রু, যারা ওকে আশ্রয় দেবে তারাও।

পালতোলা নৌকার দল যদি থাকে, তো একটাই, সুনামি রাইডার্স।

এটা কেউ বদলাতে পারবে না।

পরিচিত জায়গায় আশ্রয় নিলে ওরা খুঁজে বের করবেই।

তাই চেন্নাই পৌঁছে ও আমাকে ফোন করল।

সেজন্যই তোমার কাছে পাঠালাম।

আচ্ছা, ছেলেটা কে?

ওর বাড়ির লোক কি জানে ও এখানে?

বেলাইমানু গলির সিংগারামকে মনে আছে?

ওনার ছেলে।

মামা, প্লিজ ওকে দেখে রেখো।

আমার লাইভ চলছে।

শেষ হলে ফোন করব।

ছেলেটা কে?

বললাম, ছেলেটা কে?

বাবা!

-একটা ঘটনা ঘটে গেছে— -আমি জানি।

আমার সাথে এসো।

বাবা, বেশি ভেবো না।

তোমার গায়ে ঠিকই হবে।

এগুলো আমার জামাকাপড়। তোমার গায়ে ঠিকই হবে।

গোসল সেরে জামা পাল্টে নাও।

দয়া করে খেয়ে নাও।

দোস্ত, ওর সাথে তো পরিচয় করালি না।

ও আমার রুমমেট, কাথির।

সুইমিং পুলের বাচ্চাদের বিভাগে কাজ করে।

পরিচয় শেষ!

আমি ওর পরিচয় চাইলাম, আর তুই আমারটা দিয়ে দিলি!

এই!

- হতচ্ছাড়ার দল! - এগুলো একটু ধরো।

রাক্কাম্মার দোকান ভেঙে দিয়েছে ওরা।

এই পরিবারটা যতই দূরে সরে থাকুক,

তবু এই পাপীরা ওদের শান্তিতে থাকতে দেয় না।

-আলতাফ, এই, এটা ধরো। -ভাই, মালাগুলো ভেতরে রাখো।

কথা বলো।

কালি!

দোস্ত!

তোর ছেলে আমার কাছে নিরাপদে আছে।

তবে ঘটনাটায় ও একটু ঘাবড়ে গেছে মনে হয়।

ওখানকার অবস্থা কেমন?

আমার বউ আর আমি সারা রাত জান হাতে নিয়ে কাটিয়েছি।

বিষয়টা মিটমাট করার অনেক চেষ্টা করেছি!

কিন্তু গ্রামের মোড়ল থেকে শুরু করে পুলিশ পর্যন্ত,

সবাই সাট্টাই পুলির ইশারায় নাচে।

তোমাকে বলছি, সে ওরই চামচাদের একজন।

আমাদের আর্জি শুনবেই বা কেন?

আমরা শুধু সময় নষ্ট করছি।

আমি দিশেহারা, অসহায় ছিলাম।

মারি তোর কাছে আছে এই খবর পাওয়ার পরই

একটু শান্তি পেয়েছি।

লেখাপড়ার পাশাপাশি ওর নৌকাবাইচেও খুব আগ্রহ ছিল।

সেই টানেই ও সাট্টাই পুলির ছেলের কাছে গেল দলে ঢুকতে।

তোদের আমার দলে নিতে পারব না।

এখান থেকে বিদায় হ!

এত খারাপ ব্যবহার করছ কেন? আমরা তো একই গাঁয়ের!

গাঁয়ের হয়ে খেলা তো গর্বের বিষয়।

আমার সাথে কথা বলিস না, ভাগ এখান থেকে।

তুই চলে যাওয়ার পর এই বিশ বছরে সাট্টাই পুলি বহুত নাম কামিয়েছে,

টাকার জোরে প্রভাব কিনে ক্ষমতাবান হয়ে উঠেছে।

এক সময় নৌকাবাইচ মান্দাদির হাতে ছিল,

এখন সেটা সেম্মাত্তিদের দখলে।

কোনো স্থানীয় খেলোয়াড়কে ও অংশ নিতে দেয় না।

নামকাওয়াস্তে একে গাঁয়ের দল বলা হয়।

কিন্তু মারি হাল ছাড়েনি।

সে কয়েকজন স্থানীয় খেলোয়াড় জড়ো করল

আর ভাইকে কোচ হতে বললো।

সে মুগাভাই মাইন্থানের দলে নতুন প্রাণ ফোটাল।

কিট্টান এই চাল মেনে নিতে পারল না।

তাই এক রাতে, আমাদের ছেলেদের অনুশীলনের সময় সে সাগরে নামল,

মাছ ধরার বোমা ছুঁড়ে নৌকাটা পুড়িয়ে দিল।

-মর! -সবাই সাগরে ঝাঁপ দাও।

-এই, মারি! -মারি, বাঁচা আমাকে।

হায় হায়, মারি!

এতে খেপে গিয়ে মারি উৎসবের সময় কিট্টানকে মারতে চেয়েছিল।

ভেবেছিলাম তুই যাওয়ার পর সব ঝগড়া মিটে গেছে।

কিন্তু পুরো চক্কর ঘুরে আবার তোর কাছেই ফিরে এল।

ভাই!

দয়া করে সব মিটিয়ে তোমার ছেলেকে নিয়ে যা।

তোর বউ যদি জানতে পারে ও আমার কাছে আছে...

এখন আমি অন্য কারও কথা ভাবার অবস্থায় নেই।

এই মুহূর্তে আমার ছেলের নিরাপত্তাই আসল।

আমি যেভাবেই হোক সালিশ ডাকার চেষ্টা করছি।

ততক্ষণ দয়া করে ধৈর্য ধর।

আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করব, দোস্ত।

রাখছি তাহলে।

আমরা চেয়েছিলাম আমাদের নৌকাবাইচ জাল্লিকাট্টুর মতোই স্বীকৃতি পাক।

আমরা কর্তৃপক্ষের সাথে কাজ করছি যাতে এটা সম্ভব হয়।

সবই জেনেও তুমি কীভাবে হিংসার পথে গেলে?

চলো, মারিকে ডেকে ব্যাপারটা মিটিয়ে ফেলি।

জ্ঞানম, আমি কাস্তে ধরেছি শুধু আমার ছেলের জন্য।

এই কাস্তে বন্ধু আর শত্রুতে ভেদ করে না।

যে-ই পথে আসবে তাকেই কেটে ফেলা হবে।

আমি শুধু একজনকেই মারতে চাই।

মন্দিরের উৎসব সামনে। এসব কথা বলা তোমার সাজে না।

ভুলো না, এই গাঁ সালিশ-পঞ্চায়েতের রক্ষিত রীতিনীতি মেনে চলে।

যে-ই মরুক, উৎসব আর নৌকাবাইচ চলবেই।

যাও, পঞ্চায়েত ডাকো।

কিন্তু মারি সে পর্যন্ত টিকবে না।

আপসের নাম করে

দয়া করে আমার শত্রুকে এখান থেকে পালানোর সময় দেওয়া বন্ধ করো।

তুমি যেতে পারো!

মা, ওখানে কী হলো?

ও একরোখা, পিছু হটছে না।

ওর বাবা পক্ষাঘাতে পড়ে থেকেও এখনো ওকে উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে!

এখন কী করবো?

ওকে বাঁচাতে হলে একটাই পথ বাকি, বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া।

চেন্নাইয়ের পেরিয়ামেটে আমার চেনাজানা আছে, কথা বলব।

তত দিন দয়া করে ছেলেটাকে নিরাপদে রেখো।

ঠিক আছে, মা।

অডিটোরিয়াম থেকে শুরু করে সেতু পর্যন্ত সবজায়গায় ওকে খুঁজে দেখো।

দুলাভাই! -মা, মামা এসেছে।

- দিদি! - কী হয়েছে?

-কী ব্যাপার, ভাই? -তোর জামাই কোথায়?

কী হয়েছে?

তোর জামাই কোথায়?

খুনি ছেলেটার কোনো খবর পেলে?

কিট্টান!

আমার ছেলেকে যে মারতে এসেছিল তাকে তুমি ছেড়ে দিলে কীভাবে?

মামা, কী হয়েছে? ওকে পেয়েছেন?

-এই, তোর বাবা কোথায়? -জ্ঞানম!

কী ব্যাপার?

ছেলেটা নীলা সীফুডের গাড়িতে পালিয়েছে

আর সকালে চেন্নাইয়ের ভিজিপিতে পৌঁছেছে।

চেন্নাই?

আমাদের গাঁয়ের কে সেখানে ওকে আশ্রয় দিতে বসে আছে?

মুথু কালি!

কালি কে?

এই, চুপ কর। দেখছিস না আমরা কথা বলছি?

এখানে কী হচ্ছে?

কালির সাথে ওর যোগ হলো কীভাবে?

ওরা নিশ্চয়ই কোন পরিকল্পনা সাজাচ্ছে।

এত দিন ভেবেছিলাম এসব মারিই করছে।

এখন মনে হচ্ছে কালিই ওদের উসকে নতুন দল গড়াচ্ছে।

দেরি হওয়ার আগেই সামলাও।

বাবা, তোমাকে জিজ্ঞেস করছি। বলো বাবা, কালি কে?

(১০) মুথুকালি (১১) মারি

তোর বাবার একমাত্র বন্ধু ছিল সে।

এই, তুই ওদিকে যা। তুই দেখ ও কোয়ার্টারে আছে কি না।

এই!

পালাও এখান থেকে, বাবা।

-পালাও! -এই, জলদি পালাও!

ও পালিয়ে যাচ্ছে।

ধরো ওকে!

আরও লোক আসছে। জোরে দৌড়াও।

মেইন গেটের দিকে দৌড়াও!

অ্যালার্ম বাজল কেন?

-জলদি করো। -এখানে কী হচ্ছে?

-কালি, এরা কারা? -ভাই, অনুপ্রবেশকারী ঢুকেছে।

ধরো ওদের!

-তোমরা কারা? -চলো!

ওদের ঢুকতে দিও না। বাইরে অনেক লোক।

আমরা শেষ! সাট্টাই পুলি ওকে ছাড়বে না!

কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না, কালি।

ওকে বল, যেখানে খুশি পালিয়ে যেতে।

ও বেঁচে থাকলেই আমার চলবে।

তোমার পাসপোর্ট আছে?

না।

-ফোনটা দাও তো। -কেন?

ওদের জুলুমের বিরুদ্ধে আমরা চুপ করে থাকবো কেন?

আওয়াজ তুললেই কি ওরা মারতে আসবে? এটাই কি নিয়ম?

প্রতিযোগিতা বা অন্য কিছু নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই।

আমি পালিয়ে কোথাও লুকিয়ে থাকব

মাকে বলে দিও, আমি আর বাড়ি ফিরব না।

এই, মারি!

আমার কথা শোন। এখানকার অবস্থা খুব খারাপ।

আমাকে কিছু টাকা দেবেন, প্লিজ?

-বলো, জ্ঞানম। -ওরা পালিয়েছে, দুলাভাই।

আমাদের লোকেরা জান লাগিয়ে ওকে খুঁজছে।

একবার হাতে পেলে কুপিয়ে মেরে ফেলব।

যাও!

ওর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।

যেখানেই পালাক, আমাদের লোকের হাত থেকে রক্ষা নেই।

ও পালাচ্ছে না।

ও এদিকেই আসছে।

উৎসবের ঘটনা নিয়ে জরুরি সভা বসছে গাঁয়ের দরগায়।

গ্রাম পঞ্চায়েত মান্দাদি ও সেম্মাত্তি বংশকে অনুরোধ করছে

সভায় অবশ্যই হাজির হতে।

জ্ঞানাম, অবশ্যই আসবে কিন্তু।

চলো!

সে সবাইকে জড়ো করে আপসে বাধ্য করতে চাইছে।

সভায় যাব না আমরা!

সভা এড়িয়ে গেলে

লোকে ভাববে কালি ফিরে আসার পর সাট্টাই পুলির বুকের পাটা কমে গেছে।

এই সভায় আমাদের যেতেই হবে।

মারি ওখানেই খুন হয়েছে এই খবর ছড়িয়ে পড়তে হবে।

কী ঘটবে আমার আগেই জানা আছে।

তাই পুরো গাঁয়ে আমাদের লোক বসিয়ে রেখেছি।

আমাদের লোকেরা ওদের খুঁজছে।

যেভাবেই গাঁয়ে ঢুকুক, ধরা পড়বেই।

এই, বাস থামাও! এই, থামাও! থামাও!

এই, বাস থামাও!

এই, বাসে ওঠো! ওঠো!

এই, তোমরা কারা?

এই, ওরা ওখানে আছে কি না দেখো।

হ্যাঁ, দোস্ত!

দোস্ত, আমরা নিরাপদে পৌঁছে গেছি।

আমি এখনই আসছি।

আমাকেও নিয়ে যাও।

ছেলেকে না দেখা পর্যন্ত আমার শান্তি হবে না।

দরকার নেই, রাক্কাম্মা। তুমি থাকো।

কেন?

দরকার নেই—

অনেক দেরি হয়ে গেছে।

আগেই তোমাকে বলা উচিত ছিল।

বলেছিলাম না, মারি চেন্নাইয়ে একজনের কাছে আছে?

মারি কালির কাছে ছিল।

কালিই ওকে নিরাপদে পঞ্চায়েতের সভায় নিয়ে এসেছে।

তুমি ছেলেকে শত্রুর হাত থেকে বাঁচিয়ে এক বিশ্বাসঘাতকের হাতে তুলে দিয়েছ।

রাক্কু, বোঝানোর সময় নেই।

পঞ্চায়েতের সভার দেরি হয়ে গেছে।

পরে দেখা হবে।

বাবা!

- এই, সবাই পথ ছাড়ো। - সরে দাঁড়াও।

-দয়া করে সরে দাঁড়ান। -সবাই সরো।

ভাইয়েরা, পথ ছাড়ো। একপাশে সরো।

ও পারবে না। আমি সামলাচ্ছি।

ভাই, কালি এসে গেছে।

দেখি আমি।

সরুন, পথ দিন।

এই, আয় দেখি!

এই, ওকে আটকাও।

আমাকে ছাড়ো। এখানেই ওকে খতম করব।

বললাম না, পিছিয়ে যাও।

পিছিয়ে যাও। শান্ত হও।

ধৈর্য ধরো, বাবা।

সবাই শুনুন।

আমি আমার ছেলেকে আটকেছি কারণ আমরা পবিত্র জায়গায় আছি।

সে আমার ছেলেকে মারতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই

গাঁ ছেড়ে পালিয়ে এখন রক্ষাকবচ হিসেবে একজনকে নিয়ে এসেছে।

তাই বলে কি আমরা ভয়ে মাথা নোয়াব?

কেউ তোমাকে ভয়ে মাথা নোয়াতে বলছে না।

আমি শুধু অনুরোধ করছি, আমার ছেলেকে শান্তিতে বাঁচতে দাও।

শোনো, তোমার ছেলে নৌকা পুড়িয়েছে।

আর মারি প্রতিশোধে ওকে মারতে গিয়েছিল।

তাহলে দুজনেই সবার কাছে ক্ষমা চাক।

ব্যাপারটা চিরতরে মিটিয়ে ফেলি।

আসন্ন প্রতিযোগিতায়

দুই দলই আমাদের গাঁয়ের হয়ে নামুক।

সেরা দলই জিতুক।

শোনো, দল গড়তে হলে কিছু যোগ্যতা আর শর্ত পূরণ করতে হয়।

আমি কেবল পঞ্চায়েতের মান রাখতে এসেছি।

আমি আপসে রাজি নই।

যতক্ষণ ও মাজারের ভেতরে, ততক্ষণই বেঁচে আছে।

দয়া করে বসুন।

বসুন। শান্ত হোন।

জায়গাটার মর্যাদা রাখুন।

রক্তারক্তি করতে এত উতলা হয়ে উঠেছ কেন?

এটা আমাদের গাঁয়ের জন্য ভালো নয়।

স্থানীয় খেলোয়াড় না থাকলে এটা গাঁয়ের দল হয় কীভাবে?

ওরা দলে নিতে রাজি হয়নি বলেই ও নতুন দল গড়েছে।

এই, আইপিএল দেখলেই হয় না।

আগে শেখো এসব কীভাবে চলে

চেন্নাই দলের সব খেলোয়াড় চেন্নাইয়ের লোক নয়।

এসব লোকাল আনাড়ি খেলোয়াড়দের দলে ঢুকতে দিলে...

আমরা প্রতিপক্ষের কাছে হেরে লজ্জায় পড়ব।

আগে আমাকে বলো দেখি, চেন্নাই টিমের অধিনায়ক কে?

চোখ পিটপিট করছ কেন?

এটা ভারতীয় দলের ম্যাচের মতো।

নিজের দেশের খেলোয়াড় নামলেই সম্মান পাওয়া যায়!

অন্য দেশের খেলোয়াড় খেলতে পারবে না।

আমি ভালো করেই জানি, কেন তুমি এসব বুগিচুগি অজুহাত দিচ্ছ।

তোমার দল জিতলে তোমাদের নৌকা বেশি বিক্রি হয়, মুনাফা আসে।

আমাদের দল জিতলে তোমার ব্যবসায় লোকসান হবে।

-তাই তোমার এত অনীহা। -ব্যবসা নিয়ে কথা বোলো না।

-এই, এত সাহস? -সবাই শান্ত হোন, প্লিজ।

এই! আমি মোড়ল। আমাকে বলতে দাও।

সাট্টাই পুলির দলই গাঁয়ের দল

বিশ বছর ধরে ও নিজের টাকা খরচ করে সেরা সেরা খেলোয়াড় খুঁজে এনেছে,

এবং গাঁয়ের জন্য ট্রফি জিতেছে।

শুধু জিতেইনি, বরং রেকর্ড গড়েছে!

আচ্ছা! ওর কাছ থেকে তোমার ঘুষ নেওয়ার রেকর্ডগুলোও বলো।

শোনো, ট্রফি জেতাই যদি গাঁয়ের সম্মান হয়

তাহলে আমি এই ছেলেদের তৈরি করে এ প্রতিযোগিতা জিতব।

বিশ বছর ধরে ওর বহিরাগত খেলোয়াড় দিয়ে জেতা ট্রফিগুলো এই মাজারে রাখা আছে।

ওর আগে আমি স্থানীয় খেলোয়াড় নিয়ে দল চালিয়েছি,

আর আমাদের ট্রফিও একই মাজারে রাখা আছে।

কারও কাছে আমার যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে না।

ওদের শান্ত হয়ে চলে যেতে বলো।

এই, ছুরিটা দে।

দে!

কথা ঘুরিয়ে মারিকে বাঁচাতে পারবে না।

বাইরে এসো!

-দোস্ত? -ভাই, কী করছিস?

-এ কী করছিস তুই? -কালি, করো না।

কালি, দাঁড়াও!

ও মাজারের চারপাশে নিজের লোক বসিয়ে রেখেছে।

আমার কথা শোন। দয়া করে এমন করিস না।

কালি, করো না!

কালি, তুমি এটা করতে পারলে কীভাবে?

তোমরা দুজন মারামারিতে নামলে দিনশেষে গাঁয়েরই ক্ষতি!

মেলা বাতিল হয়ে যাবে!

সরকার ঝামেলার অজুহাতে প্রতিযোগিতাই নিষিদ্ধ করবে।

তখন তোমরা সবাই কী করবে? সেই লজ্জা কোথায় রাখবে?

-ওদের ছেড়ে দেওয়াই লজ্জার। -দুলাভাই, শোনো।

মোড়ল ঠিকই বলছে।

প্রতিযোগিতা বাতিল হলে আমাদেরই ক্ষতি।

তুই কি ওদের ছেড়ে দিতে বলছিস?

কালি দল গড়ুক, ব্যাপারটা এখানেই মিটে যাক।

পরে যে-ই জিতুক, ধরে নেওয়া হবে মুগাভাইপট্টিনামই জিতেছে।

দুলাভাই, আমাদের ব্যবসা ডুববে।

আমার কথা শোনো। ওদের আমরা অন্যভাবে সামলাব।

পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে গেলে মানে গোটা গাঁয়ের বিরুদ্ধে যাওয়া।

প্রতিযোগিতা শুরু হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি।

নতুন দল গড়ে ও জিততে পারবে না

কমিটি আমাদের হাতে। আমরা ওদের সামলে নেব।

ঠিক আছে, আমি রাজি, তবে একটা শর্ত।

ও আমাদের ট্রফি জেতার চ্যালেঞ্জ দিয়েছে।

যদি হেরে যায়,

তাহলে পুরো মান্দাদি বংশ আর কখনো প্রতিযোগিতায় নামবে না।

এই, এ কী কথা? আমরা এতে রাজি না।

-এ প্রস্তাব তুমি দাও কীভাবে? -ও একটা প্রস্তাব দিয়েছে।

এই শর্তে রাজি হলে তোমাকে অংশ নিতে দেব।

না হলে আমি অনুমতি দেব না,

এই!

এখানে কর্তৃত্ব আমার। তোমরা এসেছ শুনতে।

আমাকে বাধ্য করো না এই লোনা হাওয়াকে রক্তের গন্ধে ভরে দিতে।

ঠিক আছে।

আমরা ট্রফি জিতব।

মা, ভাই এসেছে।

পঞ্চায়েতের সভা আপসে শেষ হয়েছে।

ভাই!

আয়, এটা তোর মামা।

মামা!

কিট্টান বোমা মারায় খেলোয়াড়রা ভয় পেয়ে গেছে।

রাতে উৎসবের সময় খেলোয়াড়দের সাথে দেখা করে বুঝিয়ে রাজি করাব।

কালি, বিদেশ থেকে আমার জন্য কুড়ালের তেল আনলে না কেন?

শোনো, ও বিদেশ থেকে ফেরেনি। ও পাশের শহর থেকে ফিরেছে।

বাসস্ট্যান্ডে গেলেও তুমি কুড়ালের তেল চেয়ে বসবে।

- তোর কাছে তো চাইনি রে, হতভাগ! -এই, মহিলা, এদিকে এসো।

তুই কেন এসেছিস, আমরা সবাই জানি।

নিজের বাচ্চাদের সামলাতেই তো এসেছিস অকর্মা কোথাকার?

-অকর্মা বললো? -রবি, ওকে নৌকাটা দেখাও।

হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পেলাম, উপ্পুরে একটা সেকেন্ড হ্যান্ড নৌকা বিক্রি হচ্ছে।

দেখো!

-আর দিও না। যথেষ্ট হয়েছে। -আরেকটু নে?

ভাই, নৌকাটা তো টোল খাওয়া মনে হচ্ছে। তার ওপর পুরোনোও।

একটা নতুন দেখে সেকেন্ডহ্যান্ড নৌকাই কিনি?

অনেক খরচ পড়বে।

কত পড়বে?

-সাড়ে তিন লাখের মতো হবে। -ও-ই টাকা দেবে।

এই!

যাই হোক, প্রতিযোগিতার জন্য তো?

তাড়াতাড়ি ঠিক করে এখনই কিনে ফেলো।

চলো, নিজে গিয়ে দেখে আসি।

ভাইয়া, মা তোমাকে ডাকছে।

- তোমরা আগাও। - চল।

-কী হলো, মা? -এসো তো।

তোর বাবার আশীর্বাদ নিয়ে এটা নিয়ে যা।

এটা কী, মা?

এটা বেচে যা পাবি, তা দিয়ে নতুন নৌকা কিনে আন।

কচি ছেলেরা আমাদের ভরসায় সাগরে নামছে।

ওদের কোনো বিপদে ফেলা যাবে না।

পুরোনো নৌকা কেনার দরকার নেই।

নতুনই একটা নিয়ে আয়।

এটা বেচার দরকার নেই। আমি সামলে নেব।

এ বাড়ি বেচলে তোমার হাতে কিছুই থাকবে না

সময়মতো যদি কাজেই না লাগে, তবে এসব দিয়ে কী করবো?

তা ছাড়া, একদিন তো এটা তরই হবে।

আজই হোক।

তুই ছেলেদের তৈরি করার দিকে মন দে।

কী হয়েছে?

বাবা, যে নৌকাগুলো আমাদের ট্রফি এনে দিয়েছে সেগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে।

জেদ ধরে বসে আছে, ভেতরে যেতে চাইছে না।

দাঁড়াও!

বাতি নিভিয়ে চলে এসো।

মনে যা-ই থাকুক, আপাতত মেনে নাও।

গাঁয়ে ফেরার আগেই সে সব ঠিক করে রেখেছিল।

আমাদের কোম্পানি রক্তের ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

সুনামি আছড়ে পড়তে পারে, কিন্তু আমাদের ভিত এক ইঞ্চিও নড়বে না

গাঁয়ের দল জিতলেই লোকে আমাদের নৌকা কিনবে।

পঞ্চায়েতের কথা মানছি বলেই

মান্দাদিদের জিততে দেব, তা নয়।

বাবা, আমার ওপর ভরসা রাখো।

আমি সামলে নেব।

মামা! মামা!

মামা, এক মিনিট।

মামা, আমি নাচব।

-প্লিজ একটা ভিডিও করে দাও -আমি ব্যস্ত, খেলোয়াড়দের সাথে মিটিং আছে।

রিল বানাতে লাগবে। প্লিজ একটা করে দাও। ব্যস!

দিদি, প্লিজ সরে দাঁড়াও ব্যস।

মামা, এদিকে।

এই পরিস্থিতিতে সাট্টাই পুলিকে চ্যালেঞ্জ করা সহজ হবে না।

এ তো মরণের সমান।

দয়া করে আমাদের ছেলেদের রেহাই দিন।

এই আলতাফ, তুই না সবকিছুর মুখোমুখি হতে রাজি ছিলি?

এখন পিছিয়ে গেলে নতুন খেলোয়াড় পাব কোথায়?

ভাইয়েরা, সাট্টাই পুলি নিজেই প্রতিযোগিতায় রাজি হয়েছে।

সাট্টাই পুলি নিজেই প্রতিযোগিতায় রাজি হয়েছে।

আপনারা এত ভয় পাচ্ছেন কেন?

এই কাতার, তোর মতো আমার অনেক সন্তান নেই।

আমার একটাই ছেলে।

তুই এত সন্তান দিয়ে কী করবি?

এই, তুই কি বেডিমানুষ নাকি?

শালা কাপুরুষ!

-ছাড়ুন আমাকে, মামা। -আমার কথা শোনো।

আমি ওদের সবাইকে কেটে সাগরে ফেলে দেব।

- এই, পিছিয়ে যা! - ছেড়ে দে।

- শান্ত হ! - এখান থেকে সর।

দল গড়াটা আসল কথা নয়।

আসল কথা, যা-ই ঘটুক নিজের দলের পাশে দাঁড়ানো।

খোল আর গলুইয়ের মেরামতের জন্য আরও দুই মিটার কাপড় ধরে রেখো।

-ঠিক আছে! -তবেই মজবুত হবে

নতুন দল গড়তে মারির কতদিন লেগেছিল?

এক মাসেরও বেশি লেগেছে।

আমার ধারণা, খেলার সুযোগ না পেয়ে স্থানীয় খেলোয়াড়দের আগ্রহ মরে গেছে।

এখন খেলোয়াড় খুঁজলে কাউকে পাব না।

তক্তা মেরামত করে নৌকা চালাতে জানলেই আমাদের চলবে।

যারা মাছ ধরতে যায় তারা সবাই এটা জানে।

কিন্তু প্রতিযোগির জন্য যোগ্য কে, তা বুঝব কীভাবে?

সেটা আমার ওপর ছেড়ে দাও।

এই, কাতার!

কাতা...

-শালা কুঁড়ের বাদশা! -আসসালামু আলাইকুম, শেখ!

আরে, কালি শেখ যে!

টিয়ে-সবুজ নৌকায় ওই ছেলেগুলোকে দেখ।

হাওয়া বদলের সাথে সাথে কেমন নিখুঁতভাবে পাল বদলাচ্ছে।

ওরা কারা খোঁজ নে, আর দলে টেনে নে।

-হ্যালো? -তুই কি ঘাটে?

না, মামা, আপনার পুত্রবধূর সাথে দেখা করতে এসেছি।

তোকে ছিঁড়ে ফেলব।

আমি কী বলেছিলাম তোকে?

টিয়ে-সবুজ একটা নৌকা আসছে। গিয়ে ওদের সাথে দেখা কর।

ঠিক আছে, যাচ্ছি।

তুমিও তো জানো। তাহলে চোখ রাঙাচ্ছ কেন?

সে এদিকেই আসছে।

-ভাই! -আমাদেরই ডাকছে নাকি?

আমরা নতুন দল গড়ছি। আমাদের হয়ে খেলো!

আমি শুধু মাছ ধরতেই জানি।

শেখানোর জন্য কোচ আছে আমাদের।

এই, ওদের নম্বর নে।

এই, নীল নৌকার ছেলেটা পাল সামাতে পারে। ওর সাথে দেখা কর!

হ্যাঁ, আমিও দেখেছি। দেখা করব।

এই, ওকে দেখ, খোলটা কেমন সামলাচ্ছে।

ওকে দলে নে!

দয়া করে আমাদের হয়ে খেল।

আমাদের গাঁয়ের সম্মানের ব্যাপার।

আমরা আপনার ওপর ভরসা করি।

আমরা গাঁয়ের মান রাখতে খেলছি।

আরও জোরে টান!

শেষ পর্যন্ত তার মাথার ওপর ঝুলে থাকা দুর্ভাগ্য তাকে রেহাই দিয়েছে।

তুমি একবার ঘুরে না আসলে ভালো দেখায় না।

দুর্ভাগ্য এখনো তাকে রেহাই দেয়নি।

কিন্তু সে সঙ্গে করে অশুভ লক্ষণ এনেছে।

এই, ছেলেপুলে জন্ম দিয়ে নিজের কাজ সামলাও, পথ দেখো।

উল্টোপাল্টা কথা বলে আমাকে গালি দিতে বাধ্য করো না।

এই, আমরা কী নিয়ে কথা বলছি বোঝো কিছু?

বাড়ি যাও, খোকা।

আমাকে নিয়ে হাসছে!

কালি, এখন থেকে এটাই গোত্রের অফিস।

আমরা আমাদের উল্লিমুনাই গাঁয়ে একটা প্রস্তুতি ম্যাচ করাচ্ছি।

মুগাভাই মাইন্থান অংশ নিলে সেটা আমাদের জন্য গর্বের ব্যাপার...

না। আমরা রাজি না।

নতুনদের প্রস্তুতি ম্যাচে খেলতে দিলেই না ওরা খেলার ধাঁচ বুঝবে!

তোমার কি কাণ্ডজ্ঞান নেই?

এখন কিসের প্রস্তুতি ম্যাচ!? আমি আগামীকাল থেকে অনুশীলন শুরু করবো।

সরাসরি আসল ম্যাচেই নামব।

আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করলাম। কালি নড়ল না।

ও সাট্টাই পুলির লোক ছিল।

ওরা আমাদের ডাকছে, দেখতে প্রতিযোগিতায় আমরা কোন কৌশল নিচ্ছি।

এদের এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

প্রস্তুতি ম্যাচে ওদের ভুল বুঝিয়ে পরে কৌশল পাল্টালে কেমন হয়?

প্রস্তুতি ম্যাচে না নামাই ভালো।

ঠিক বলেছ!

-আসসালামু আলাইকুম। -ওয়া আলাইকুম আসসালাম।

আমি ওপরে গিয়ে তোমাকে ফোন করছি।

এই! এই! এই, দাঁড়া!

এখানে আয়।

ভালো করে ভেবে দেখ। বাগমপ্রিয়ার ব্যাপারে তুই নিশ্চিত তো?

অবশ্যই!

শোন, আগে অবস্থা ভিন্ন ছিল।

কিন্তু এখন ও তোর কোচের পরিবারের মেয়ে।

ঝামেলা হতে পারে।

কোচের পরিবারের মেয়ের প্রেমে পড়া নিষেধ- এমন কোনো নিয়ম আছে?

যাই হোক, সে কাল থেকে অনুশীলন শুরু করছে।

এটা হাতছাড়া হলে আর সুযোগ পাব না।

পাঁচ মিনিট পর সাক্ষাৎকারের জন্য তৈরি থেকো।

ততক্ষণে আমি ওর সাথে কথা বলে নিই।

একটু পরেই আমাদের আলাই ওসাই এফএমের সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে

তরুণদের চাকরির সুযোগ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার প্রচার হবে।

কাতারের মতো উন্নয়নশীল দেশে

চাকরির সুযোগ কেমন, তা নিয়ে আমাদের এফএমে আলাপ হবে।

শুনতে থাকুন, আলাই ওসাই এফএম ৯০.৪।

বিদায় নিচ্ছি, আমি আপনাদের বাগমপ্রিয়াল।

এমনভাবে তাকিয়ে আছ যেন প্রথমবার দেখছ।

তোমার জন্যই সব ঠিকঠাক হচ্ছে।

তুমিই আমাকে সঠিক মানুষের কাছে পাঠিয়েছ।

ধন্যবাদ!

আসলে আমারই তোমাকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত।

ফিরতে নারাজ আমার মামাকে এখানে নিয়ে আসার জন্য।

তোমার মামা কি আমাদের সম্পর্ক মেনে নেবেন?

আরে, উনি প্রেমের বিরোধী নন।

উনি নিজেই বেশ রোমান্টিক মানুষ।

আমি তো সাহায্য চাইতে ওর কাছেই যাওয়ার ভাবছি।

তাহলে সে বিয়ে করল না কেন? চেন্নাইয়ে একা পড়ে আছে কেন?

আমার মনে হয়, উনি নিজের ভালোবাসাকে বিয়ে করতে পারেননি।

কিন্তু ওনার হাতে তার নাম উল্কি করা আছে।

খেয়াল করোনি?

নামটা কী?

অ্যাঞ্জেল মনে হয়।

অ্যাঞ্জেল, কোথাকার?

মনে হয় এই গাঁয়েরই মেয়ে।

মারি, তুমি আমার নাম উল্কি করে রাখবে?

মারি! মারি, থামো!

ওর কী হলো?

ঠাকুমা, ওদের প্রেমে যে পাহারা দেই, এটা আবার ফাঁস করে দিও না।

-ঠিক আছে, বাবা, -এই, মারি!

এই!

ওর কী হয়েছে?

এই, ওকে চুমু-টুমু খেয়েছ নাকি?

হনহন করে বেরিয়ে যাচ্ছে।

এই আচরণ আমি মানব না!

আরে ধুর! আমিও জানি না, কেন রেগে গেল।

আর তুমি জ্বালাচ্ছ!

রেগে গেছে? ওর সমস্যাটা কী?

আমার মামা, আর কে!

উনার প্রেমিকা অ্যাঞ্জেলের নাম হাতে উল্কি করেছে।

তাই আমি জিজ্ঞেস করলাম, আমার নামও উল্কি করবে কি না?

ও কিছু না বলে দৌড় দিল।

ধুর, মেয়ে!

ছেলেকে যদি বলো যে তোমার মামা ওর মায়ের নাম উল্কি করেছে

তাহলে তো রাগবেই।

ওর মায়ের নাম রাক্কাম্মা না?

অ্যাঞ্জেল রাক্কাম্মা!

মারি, এ বছর সাট্টাই পুলি সেরা সেরা খেলোয়াড় জোগাড় করেছে।

এ প্রতিযোগিতা জিততে হলে

কালির মতো কড়ড়া খেলোয়াড় লাগবে আমাদের।

জেদের বশে দলের জয় নষ্ট করিস না।

সোজা কথায় বলতে গেলে,

সাট্টাই পুলি যদি শেবাগ হয়, তবে কালি শচিন।

জেদ করিস না। ওর কাছে শিখলে প্রতিযোগিতাইয় জিতবি।

আমার দোষটা কোথায়?

সাধারণত মেয়ের বাবা বা ভাই টের পাবে বলেই লোকে ভয় পায়।

আর তোমার বেলায় ভয়, প্রেমিকার ছেলে জেনে গেছে।

কী কঠিন সময়ে বাস করছি।

কাল অনুশীলন শুরু হচ্ছে। বাড়তি চাপ বাড়াচ্ছ কেন?

প্রেমে পড়ার মতো আর কাউকে পেলে না?

- এখন কী করব, রবি? - ও শুধু ওর মাকে ভয় পায়।

সে রাজি হলেই কেবল সমস্যাটা মিটতে পারে।

কিন্তু সে রাজি হবে না!

এই গল্পের আসল ট্যুইস্ট এটা।

আমি কি ওর সাথে কথা বলব?

যথেষ্ট করেছ। ধন্যবাদ।

মারি ফোন করছে।

এই, বাগমপ্রিয়া, আমরা প্রেম করি বলেই চুপ আছি।

অন্য কেউ হলে আচ্ছা করে ধোলাই দিতাম।

আমাকে শেখানোর সাহস হয় কীভাবে ওর?

এ প্রতিযোগিতা জিততে ওর কাছে শিখতে হবে না আমার।

এত রাগ হচ্ছে যে ছুরি নিয়ে ওকে ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে

হ্যালো?

ম্যাচের ফল বেরিয়ে গেছে।

আমার পরামর্শ, তুমি সুইমিং পুলের ডিউটিতে ফিরে যাও।

মুগাভাই মাইন্থানের ভক্তদের জন্য,

অনেক দিনের অনুরোধের একটা গান

"রাক্কাম্মা, হাততালি দাও।"

যারা সারা জীবন সঙ্গে থাকার প্রতিশ্রুতি দেয়

এক রাতেই তাদের মন বদলে যায়,

আর তোমাকে একেবারে অচেনা ভেবে নিজের পথে এগিয়ে যায়।

কিন্তু আঘাত পায় শুধু...

মারি, খাবার খেয়ে নে।

- তোর জন্য বানিয়ে রেখেছি। - আমি খাব না।

রাক্কু!

তোমার কাছে একটা উপকার চাই।

আমাদের ছেলে তোমার অতীত জানে।

ওর সাথে কথা বলে অনুশীলনে ফিরতে রাজি করাতে হবে।

অবাক হচ্ছি না!

তোমরা পুরুষেরা কোনো মেয়েকে বিপদে না ফেলে শান্তি পাও না।

কী হয়েছে? মুখ ভার কেন?

কিছু হয়নি।

কিছু না হলে তোর বাবা কেন অনুশীলনে না যাওয়ার আফসোস করছে?

আমি সব জানি।

ওসব তুলো না। বিশ্রী লাগে।

এই, দাঁড়া!

আমার দিকে তাকা।

তাকা এদিকে!

বিশ্রী কী?

মায়ের জীবনে কি কোনো প্রেমের গল্প থাকতে নেই?

হ্যাঁ, আমি একজনকে ভালোবেসেছিলাম, বিয়ে করেছি আরেকজনকে।

এর হাজারটা কারণ আছে।

নিজের সাফাই গাইতে চাই না, তোকে বোঝানোরও ঠেকা পড়েনি আমার।

তার মানে এই নয় যে, আমি অতীতে আটকে আছি

-মা, আমি ওভাবে বলিনি... - কিন্তু ওটাই তো মনে হয়!

আমার অতীত নিয়ে তোর এত মাথাব্যাথা কেন?

এখন তোর বাবাই আমার সব।

আমি তার প্রতি বিশ্বস্ত। ব্যস, এটুকুই।

আর কিছু বলতে চাই না।

চুপচাপ নিজের কাজে মন দে।

বিশ্রী নাকি। বিশ্রী!

তোকে খুন করব!

আমি জানি, তুই ওই রেডিওর মেয়েটার প্রেমে পড়েছিস।

ও যে তোকেই বিয়ে করবে তার গ্যারান্টি কী?

তোমাকে আমার একদম পছন্দ নয়।

তবু আমি তোমার কথা শুনতে রাজি।

ট্রেনিং শুরু করো।

ষাঁড় সামলাতে নাকে দড়ি লাগে।

কিন্তু পালতোলা নৌকার চলন সামলাতে সব দড়িই দরকার।

প্রতিটি গিঁট দেওয়ার সময় খুব সাবধান থাকতে হবে।

একটুও যদি খুলে যায়...

সব ভেঙে পড়বে।

এই খেলায় তোমার অবস্থানই আসল।

নৌকা যদি উল্টে দিতে না চাও

দাঁড়ের খোপে যে গিঁট দেবে তা মজবুত হওয়া চাই।

নৌকায় ব্রেক আর অ্যাক্সিলারেটর একই।

নোঙরের দড়ি!

নৌকার জন্য পাল যতটা জরুরি..

তার নিচের কিল-ও ততটাই।

এটাই নৌকাকে স্থির রাখে

তাই মন দিয়ে শোনো, মাঝি,

কেউ নৌকার কাছে চেপে এলে ঘাবড়ে যেও না।

ধৈর্য জরুরি।

মান্দাদির ছেলে, মাথায় জ্ঞানের ভাণ্ডার নিয়ে তুমি

সব খেলোয়াড় আর নৌকার দায়িত্ব নেবে।

হ্যালো, সবাই!

আরে, ওটা কি মুগাভাই মাইন্থানের নৌকা না?

আজ আপনাদের দুটো সুখবর দেব।

প্রথম সুখবর, আমাদের মাইন্থানরা অনুশীলনে দারুণ করছে।

ওদের অনুশীলন দেখে আমাদের লোকেরা বেশ আত্মবিশ্বাসী

এ বছর ওরা ট্রফি জিতবেই!

দ্বিতীয় সুখবর;

আগেই বলেছিলাম, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা

শ্রীলঙ্কার জলসীমা বিরোধ নিয়ে আলোচনায় বসছেন।

এই সভায় সভাপতিত্ব করতে আমাদের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

প্রতিযোগিতার দিনই রামেশ্বরমে আসবেন।

খবরটি নিশ্চিত হয়েছে,

সব প্রধান পত্রিকায় খবরটা ছাপা হয়েছে।

জেলেদের দীর্ঘদিনের জলসীমার সমস্যা নিয়ে,

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিজেই আলোচনায় আসছেন

এতে আশা করা যায় ভালো দিন আসছে।

নৌকাবাইচের দিনেই এই সভা পড়ে যাওয়ায়

নিরাপত্তা বিধির কারণে

জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিযোগিতা এক সপ্তাহ এগিয়ে আনার।

সবসময়ের মত আপনারা সবাই যদি এ সিদ্ধান্তে সায় দেন,

তাহলে আমরা সফলভাবে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারব।

-এ অনুযায়ী... -স্যার, এগিয়ে আনছেন কেন?

আমরা রাজি না।

-এ অধিকার আপনাদের কে দিল? -চেঁচিও না। শান্ত থাকো।

উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে এভাবে অসম্মান করবে?

এই কালি, অন্য দলগুলো তো চুপ।

মুগাভাই মাইন্থানের কী সমস্যা?

কারণ আমরা এ বছর নতুন দল হয়ে নামছি।

হঠাৎ প্রতিযোগিতা এগিয়ে আনলে আমরা অনুশীলনের সময় পাব না।

মন্ত্রী তো রামেশ্বরমে আসছেন।

তাতে এই গাঁয়ে হওয়া প্রতিযোগিতা এগিয়ে আনবেন কেন?

এই শালারা নিয়মের মারপ্যাঁচে ফেলে আমাদের হারাতে চাইছে।

আর আপনারা চান আমরা দর্শক হয়ে থাকি।

-দোস্ত, ওকে শান্ত হতে বল। -এই, মারি!

সিংগারাম, তোমার ছেলেকে পঞ্চায়েতের অসম্মান করার শিক্ষা দিয়েছ?

স্যার যদি অপমানিত হয়ে অনুমতি বাতিল করে দেন,

আমরা প্রতিযোগিতা চালাব কীভাবে?

তুমি যদি একটু ইনসাফ নিয়ে চলতে,

-চুপ কর, দোস্ত। -...ও কথা বলবে কেন?

স্যার প্রতিযোগিতার ব্যাপারে কিছুই জানেন না।

এখানকার ভেতরের কথা কিছুই জানেন না।

গ্রামের মোড়ল হিসেবে তাকে সবকিছু জানানো কি তোমার দায়িত্ব নয়?

কিন্তু তুমি কর্তব্য পালন করছো না।

তুমি ব্যর্থ হলে আমাদেরই নিজের কথা বলতে হবে।

এ প্রতিযোগিতার অনুমতি দেওয়াটাই বড় ব্যাপার ছিল।

সরকারি কর্মকর্তার অসম্মান করার সাহস পাও কীভাবে?

অনুমোদনের জন্য অফিসে এলে আমি তখন তোমাদের দেখে নেব।

সাট্টাই পুলি কর্তৃপক্ষকে এ খেলায় বশে আনতে চাইছে?

- তাতে তোর কী? - ভয় পাচ্ছ?

-আমি ভয় পাই না! -দোস্ত, ছেড়ে দা!

-আয় দেখি! -ভাই, শান্ত হ, প্লিজ।

তোকে ছাড়ব না, শালা!

ভাই, নিজেকে সামলা। এই, ওকে নিয়ে যাও।

- সময়মতো তোকে দেখে নেব। -কালি, ওকে ছাড়বি না!

সবাই নৌকায় ফিরে যাও।

-এই অত্যাচার আর কতদিন সইব? -চল।

-মান্দাদি বংশ চুলোয় যাক। - সবকটাকে ধোলাই দেব।

-আমি তোদের চ্যালেঞ্জ করছি! -এই ভিখারীদের পাত্তা দিও না।

বাবা!

আসল ম্যাচের আর মাত্র ছয় দিন বাকি,

কোন প্র্যাকটিসই হয়নি!

এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এসব আনাড়িদের নামালে

বিষয়টা বড় জাহাজের নিচে নৌকা পিষে যাওয়ার মতোই হবে।

ওদের গুঁড়িয়ে দেবে!

তারচে বরং দল ভেঙে দিয়ে সরে দাঁড়াই।

এত কষ্টে দল গড়লাম, এখন ভেঙে দেওয়ার জন্য?

সাট্টাই পুলি আমাদের নাচাচ্ছে আর বসে বসে মজা দেখছে।

ওকে ছাড়া যাবে না।

ও ঠিকই বলছে।

উল্টোপাল্টা কিছু হলে? প্রস্তুতি ম্যাচে নামার দরকার নেই।

ভাই, মানছি এরা নতুন।

কিন্তু এরা খেলা না বোঝার মতো কেউ নয়

এখন তো জানি, প্রতিপক্ষ আমাদের ভয় দেখাতে চাইছে

ওর কথা সত্যি করতে আমরা ভয়ে লুকিয়ে থাকব?

ওর মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে না?

ও একটা তারিখ দিয়ে সব উল্টে দিয়েছে।

এখন আমরা কী করব?

মনে আছে, মুল্লিমুনাইয়ের লোকটা আমাদের অনুশীলন ম্যাচে ডেকেছিল।

চলো, তাতে নেমে নিজেদের প্রমাণ করি।

অনুশীলন ম্যাচটাকে শেখার সুযোগ বানিয়ে নিই

এটা আসল ম্যাচ জেতার মতোই।

প্রতিপক্ষ দল কি এখন আমাদের কৌশল জেনে যাবে না?

আমাদের কৌশল ওর ছন্দ ভেঙে দেওয়া।

ওদের খেলতে দাও, বাবা। আমরা এটাই চেয়েছিলাম।

সবাই মন দিয়ে শোনো। নৌকার রুটটা বুঝিয়ে দিচ্ছি

বোমা ফাটলে এই তীর থেকে রওনা দেবে।

হালকা হাওয়ার মধ্যে দিয়ে চার নটিক্যাল মাইল গেলে

লাল পতাকা লাগানো একটা নৌকা পাবে।

নৌকাটাকে ঘুরে, ঝোড়ো হাওয়ার জন্য পাল বদলে

শুরুর জায়গায় ফিরবে।

গোটা বিশ্ব ভারতের দিকে বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে!

কারণ মুগাভাইপট্টিনামে মর্যাদার নৌকাবাইচ হচ্ছে।

একে যুদ্ধের চেয়ে কম কিছু বলা যায় না

এই অনুশীলন ম্যাচ আসল যুদ্ধের জন্য নিজেদের ধার বাড়ানোর উপায় মাত্র।

আসছি!

কেপ্পাস, সব নিয়েছিস তো?

- এই! - এই, সাবধান, খোকা।

এই, তোর চোখ কি মাথার পেছনে? দেখে চলতে পারিস না?

পানিতে আমি এগিয়ে গেলে বুঝবি,

- কার চোখ মাথার পেছনে! - কথা বলো না।

এই জলে তোরা একদম আনাড়ি দল!

পিঠ সামলে চলিস।

এই দুই দলে আবার কী সমস্যা হলো?

-এই কিট্টান! -আমরা জানতাম তোমরা ঝামেলা বাধাবে।

কমিটির নৌকা তোমাদের ওপর নজর রাখবে।

যত তাড়াতাড়ি পারো এ দৌড় জেতো।

সেম্মাত্তিদের দেখিয়ে দাও এই তীর কাদের।

এ প্রতিযোগিতায় কোনো পুরস্কার নেই।

কারণ এই ম্যাচে হার-জিতের মাধ্যমে,

যে অভিজ্ঞতা পাবে, সেটা আসল ম্যাচে কাজে লাগবে!

এ অনুশীলন ম্যাচের মূল আকর্ষণ হলো,

প্রশিক্ষিত খেলোয়াড়দের সক্ষমতা যাচাই করা।

সাত দলের কোচরা মোটরবোটে চড়ে যাবেন,

নিজেদের দলের খেলা দেখতে আর যাচাই করবেন।

নৌকায় একজন হালধারী,

একজন গলুইয়ের মাঝি,

আর শুধু একজন পিছনের মাঝি থাকতে পারবে।

মান্দাদি দলে একজন হালধারীসহ

নৌকায় মাত্র ছয়জন খেলোয়াড় থাকবে

যে দল এ নিয়ম মানবে না, তাদের বাদ দেওয়া হবে।

বোমা ফাটাও!

মুল্লিমুনাইয়ের আঠারো দেবতার একজন কারুপ্পার আশীর্বাদে দৌড় শুরু হলো।

কারুপ্পা সাগরে তোমাদের রক্ষক হবেন।

আরও জোরে টানো!

-আরও জোরে টানো! - মারি, দেখ, ওরা কত দ্রুত খাটছে!

কিরে মাইন্থানরা! পাল তুলতেও জানিস না?

-তোদের নৌকা টেনে নিয়ে যাব নাকি? -মারি!

খেলায় মন দাও।

হাঁ করে না থেকে হালের দড়ি ধর।

এ জন্যই বলি, অভিজ্ঞতা জরুরি।

এ জন্যই এত বছরেও কেউ আমাদের কোম্পানির দলকে হারাতে পারেনি।

এই মারি, তোর মন কোথায়?

মুগাভাই মাইন্থান প্রতিপক্ষের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে আছে

এদিকে পাসিপট্টিনাম তাদের পার করে এগোলো,

আর অন্যদিকে নাম্বুনালাই এগিয়ে গেল।

অনুশীলন ম্যাচে লোক কম, তার ওপর এদের অভিজ্ঞতাও কম!

মনে হয় কালি ভাই ওদের ভালো করে খেলা শেখায়নি।

ওদের সামনে

সাট্টাই পুলির নৌকা, নাম্বুনালাই, পাসিপট্টিনামের নৌকার ছেলেরা,

আর আম্মান সেভেনস সীমানার দিকে ছুটে চলেছে!

এই, পাল অর্ধেক তোলা। তাই হাওয়া ধরছে না।

আরও উঁচু কর।

-এই, থন্দারাসা, জোরে! -আরও উঁচুতে তোল!

মুগাভাই মাইন্থানরা এতক্ষণে বুঝল যে, পাল অর্ধেক তোলা ছিল!

মন্দ নয়, হাওয়ার গতি ধরে ফেলেছে, আর দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

ওদের সামনে নাম্বুথালাই দল।

মুগাভাই মাইন্থান এগিয়ে গেলে এক ধাপ উপরে উঠবে।

-এই, চালিয়ে যাও! -ওরা এগিয়ে গেছে।

এই, পিছে পড়িস না!

-এই, তুই তক্তায় যা! -যাচ্ছি!

এতক্ষণে মুগাভাই মাইন্থান খেলায় এল মনে হচ্ছে!

কিন্তু সমস্যা হলো...

অন্য নৌকাগুলো আর সাট্টাই পুলির নৌকার মধ্যে

সাত লেনের হাইওয়ের মতো বিশাল ফাঁক।

সাট্টাই পুলি এতটাই এগিয়ে গেছে।

নৌকা ডুবছে মনে হচ্ছে কেন?

তোমরা দুজন নৌকার সামনের দিকে উঠে চাপ দাও।

ভাই, গড়বড়! স্রোতের সাথে হাওয়া ঘুরে গেছে।

নৌকা একপাশে সরে যাচ্ছে।

জোরে চালালে আম্মান সেভেনসের থেকে এগিয়ে যেতে পারি।

মারি!

এই, গলুই সোজা কর!

মুগাভাই মাইন্থান হাওয়ার দিক বুঝে দারুণ চালে গতিপথ বদলে ফেলল!

ভেবেছিলাম আমাদের চ্যাম্পিয়নরা এই চাল দেবে।

এই, ওদের কৌশল ধরে চলো।

এই কৌশলে ওরা মসৃণভাবে ভেসে চলেছে।

অন্য দল ধরার আগেই ওরা দৌড়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

এই, মুরুগেসা, নৌকা সরে যাচ্ছে। হাল শক্ত করে ধর।

ওরা কাছে এলে হাওয়া আটকে দিবি। এই সুযোগে আমরা এগিয়ে যাব।

দোস্ত, ছাড়িস না!

চালিয়ে যাও।

চলতে থাক, এতক্ষণে আমরা ভালো করছি।

ওদের দেখিয়ে দে, মুগাভাই মাইন্থানদের তেজ।

এই, মুগাভাই মাইন্থানরা এগিয়ে গেছে। ওদের এগোতে দিস না।

ওরা এগিয়ে যাচ্ছে। ওরা এগিয়ে যাচ্ছে।

মুগাভাই মাইন্থান পাসিপট্টিনামের দলকে টপকে এখন তিনে পৌঁছে গেছে।

এই কালি, তুমি ঠিকই বলেছিলে।

আমাদের ছেলেরা কড়া লড়াই দিচ্ছে

এবার ট্রফি আমাদের জিততেই হবে

লাল পতাকায় পৌঁছানোর আগেই খেলা জমে উঠেছে।

আমাদের কোম্পানির নৌকা দৌড়ে এগিয়ে আছে ঠিকই,

কিন্তু দ্বিতীয় স্থানে থাকা আম্মান সেভেনস

আর তৃতীয়তে মুগাভাই মাইন্থান তুমুল লড়ছে।

হয়তো পিছন থেকে একটা এগিয়ে আসবে

আমার চোখ মুগাভাই মাইন্থানদের ওপর স্থির।

লাল পতাকা ঘোরার সময় গতি যতই থাকুক, পাল বদলাতেই হবে!

দেখা যাক সীমানার নৌকা ঘুরে আম্মান সেভেনস এগোতে পারে কি না।

এই, নৌকা একটু সরছে। এই, এবার চাপ দাও।

- এই, মাইন্থানরা এগিয়ে যাচ্ছে! - তাইতো দেখছি।

চলো, ঘোরাও। ঘোরাও। চলো, ঘোরাতে থাকো।

পাল বদলে ঘোরাও।

আমরা পাল বদলাব। গলুইয়ে উঠে পড়ো।

চলো, আরও জোরে গতিপথ বদলাও।

এই, মারি, সীমানার নৌকার আগেই ওদেরকে টপকাতে হবে।

চলো! আম্মান সেভেনসকে টপকাও। আম্মান সেভেনসকে টপকাও।

শুরু থেকে সীমানার নৌকায় পৌঁছানো পর্যন্ত

সুনামি রাইডার্স একটানা চলেছে।

পাল বদলে ওরা ওস্তাদ।

ওরা দক্ষতার সাথে এগোচ্ছে।

আম্মান সেভেনস বাঁক নিতে হালের দড়ি ঢিলে করেছে।

কিন্তু মুগাভাই মাইন্থান হাওয়ার পিঠে চড়ে এগিয়ে যাচ্ছে,

জানি না, ওরা যা করছে বুঝেশুনে করছে কি না!

অবিশ্বাস্য! মুগাভাই মাইন্থান আম্মান সেভেনসকে টপকে গেছে।

এখন বুঝলাম, ওরা কেন হালের দড়ি ঢিল করেনি।

আরও জোরে টানো! দড়ি শক্ত করো।

সীমানা ঘোরার সময় এগিয়ে যাওয়া সহজ কাজ নয়।

পাল বদলানোর সময় নৌকার গতি কমে যায়।

কিন্তু বাঁক নেওয়ার সময় এগিয়ে গিয়ে ছেলেরা কালির প্রশিক্ষণের মান রেখেছে।

চলতে থাকো!

অংশ নেওয়া কোনো দলই বিশ্বাস করতে পারছে না যে,

একদম নতুন মুগাভাই মাইন্থানরা...

- দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবে। - থন্দারাসা!

নৌকা একপাশে সরে যাচ্ছে। গলুইয়ে উঠে পড়।

সাট্টাই পুলির দলই জিতবে, এই ধারণা ভেঙে গেছে।

তীরের হাওয়ায় পাল বদলানোর আগেই মনে হয় মুগাভাই মাইন্থান ওদের হারিয়ে দেবে।

ওরা সত্যিই অপ্রত্যাশিত দল।

একেই বলে খেলা!

নৌকা সরে যাচ্ছে। গলুইয়ে যাও।

এই, ওরা আমাদের দিকে ছুটে আসছে।

সুনামি রাইডার্সই সেরা!

তীরের হাওয়া ধরে পথ বদলে ফেলল।

ইতিহাস সাক্ষী,

সুনামি রাইডার্স একবার তীরের হাওয়া ধরলে ওদের হারানো অসম্ভব।

তাড়াতাড়ি তক্তা সরিয়ে গতিপথ বদলা।

জলদি বদলা!

এই কিট্টান, দড়িটা ধরো।

হায় হায়, সুনামি রাইডার্স হালের দড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।

মুগাভাই মাইন্থান এর সুযোগ নিলে

অনুশীলন ম্যাচে ওরা দারুণ নাম কামাবে!

এই, হালের দড়ি টানো!

এই, পালের দড়ি সামলাও। চলো!

পাল তোলো!

নৌকা সরে যাচ্ছে। ওপরের পাল খোলো। এই সুযোগটা কাজে লাগাও, ভাইরা।

এই, ওটা আমাকে দাও!

অবিশ্বাস্য!

মুগাভাই মাইন্থান তীরের হাওয়া ধরে ফেলেছে

আর তুমুল গতিতে জল কেটে এগিয়ে যাচ্ছে!

সুনামি রাইডার্সের একটা ছোট ভুল

বহু বছরের জয়ের ধারা ভেঙে দিতে পারে,

নতুন একটা দলের কাছে এই প্র্যাকটিস ম্যাচ হারার ঝুঁকিতে আছে ওরা।

এই! ঠিকমতো চালা, ওরা এগিয়ে যাচ্ছে!

মাইন্থানরা, দারুণ!

জীবনে প্রথমবারের মত কোন দলকে দেখলাম,

তীরের হাওয়া ধরে সুনামি রাইডার্সকে টপকে যেতে!

হায় হায়, ওরা হালের দড়ি ছেড়ে দিয়েছে।

সামলে নেওয়ার চেষ্টা করো। নইলে নৌকা উল্টে যাবে।

এই!

আমাদের সাথে পাল্লা দেওয়ার সাহস কীভাবে হয়? মর শালারা!

নৌকা উল্টে যেতে বসেছে। পাল থেকে সরে যাও।

এই!

এই, সাবধান!

দড়িতে জড়িয়ে যেও না।

শোনো, নৌকা উল্টে গেছে।

কোচদের সব নৌকা ঘুরে ঘটনাস্থলে আসছে।

সিংগারাম, নৌকা উল্টে গেছে।

- সত্যি বলছো? - অ্যাম্বুলেন্স ডাকো!

এই কালি, পাল ওদের জড়িয়ে ধরতে দিও না।

নৌকায় উঠে পড়ো।

এই! সবাই এদিকে এসো!

এই, ওকে ধরো।

এই, চলো!

কালির দল হালের দড়ি সামলাতে জানে না। এজন্যই ডুবে গেল!

বিশ বছর হয়ে গেছে। অভ্যাস নিশ্চয়ই চলে গেছে।

অভ্যাস চলে গেছে তুমি জানলে কীভাবে?

ভাগ্যিস এটা অনুশীলন ম্যাচ ছিল।

- তুমি পারতে না... - এই!

এই, এত সাহস তোর?

হায় হায়, আমরা সব হারালাম!

এসো!

জলদি এসো!

আমি তোমাদের সাবধান করেছিলাম, প্রতিযোগিতার মতো অনুশীলন হয়নি।

ওদের অ্যাম্বুলেন্সে তোলো।

-চলো, ভাইরা! -গাড়ি স্টার্ট দাও।

ওকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলতে সাহায্য করো।

দয়া করে ওকে সাহায্য করুন, তুলে দিন।

সরে দাঁড়াও।

নিজের অহংকারের জন্য আমাদের বলি দিলে কেন?

এখন দায়িত্ব নেবে কে?

আমি বলেছিলাম ঠিকমতো অনুশীলন না করে নামার দরকার নেই!

-ওর কিছু হলে তোকে খুন করব! -এই! এই!

গলা নামিয়ে কথা বল!

কার সাথে কথা বলছিস, খবর আছে? কানের নীচে দেব একটা!

ভাগো! সরে যাও!

হায় ভগবান!

আমি ছেলেকে পাঠিয়েছিলাম গাঁয়ের জন্য ভালো কিছু করতে।

এখন মনে হচ্ছে ছেলেকে চিরতরে হারাবো!

কেঁদো না, দিদি।

হায় ভগবান!

চিন্তা করো না, দিদি। সব ঠিক হয়ে যাবে।

আর কতজনকে বলি দেবে?

রাক্কু!

এভাবে পাপ করে শান্তিতে বাঁচতে পারবে?

রাক্কু, এখন এসবের সময় বা জায়গা নয়।

দয়া করে আমার কথা শোনো।

যারা তোমাকে বিশ্বাস করেছে তারা বদলে মৃত্যু আর দুঃখই পেয়েছে।

দয়া করে আমাদের রেহাই দাও!

আমি কী বলছি বুঝতে পারছ না?

দিদি, চিন্তা করো না। তোমার ছেলের কিছু হবে না।

এক ম্যাচেই ওরা মান্দাদিদের মাছির ঝাঁকের মতো সাফ করে দিয়েছে।

এখন থেকে ওরা আর আমাদের ঘাঁটাতে আসবে না

শুনলাম, তোমরা সবাই ভালো খেলেছ।

এবার আসল প্রতিযোগিতাতেও জিতে এসো।

বাবা, আমার মনে হয় মারির মতো ধোলাই না খেলে কালি যাবে না।

ওরা বাড়াবাড়ি করছিল।

অকর্মার দল!

ওরা মরে গেলে আমি আরও খুশি হতাম।

এই হার থেকে ওরা আর উঠতে পারবে না।

এখানে কালি কে?

দয়া করে ওয়ার্ডে আসুন।

দয়া করে তাড়াতাড়ি শেষ করুন।

-ভাই! -থন্দারাসা!

কিরে!

ভাই, আমি কিল শক্ত করে বেঁধেছিলাম।

নিশ্চিত করেছিলাম ওটা কখনো ছিঁড়বে না।

আমি এই ভুল করার ছেলে না!

দয়া করে বিশ্বাস করুন!

গিঁট খুলে যাওয়ার কোনো সুযোগই নেই।

এর পেছনে নিশ্চয়ই অন্য কিছু আছে!

-বাইকের চাবিটা দাও। -ওরা কী বলল?

কোথায় যাচ্ছিস, কালি? এই, বলে যা!

ঠেলো! আরও জোরে!

ভাইয়েরা, সরে দাঁড়ান।

নৌকায় পানি জমে আছে। নৌকা ওপরে উঠবে কীভাবে?

দোস্ত, দড়ির শুধু একটা সুতা কাটা কেন?

তোদের দলটা একদম নতুন!

পানিতে সাবধানে থাকিস!

এই, কালি, কোথায় তুই?

আমরা ছেলেদের শহরের হাসপাতালে সরাচ্ছি।

কিট্টান আমাদের দড়ি কেটেছে, দোস্ত!

কী?!

এই, সেম্মাত্তিদের আর ছাড়া চলবে না।

প্রশাসনের কাছে নালিশ করে ওদের প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেবো।

ওদের সরানোর এটাই সময়।

তবে শুধু রেস থেকে নয়।

বাবা, থপ্পানি ফোন করছে। মনে হয় মাতাল হয়ে ফোন করেছে।

ফোনটা ধর।

হ্যালো, কোম্পানি!

ভাই, আমি কিট্টান। কী হয়েছে?

এই কিট্টান, তুই কি ওদের কিলের দড়ি কেটেছিস?

তোর বাবাকে ফোনটা দে।

ওকে ফোনটা দে।

এখানে ব্যাপারটা অনেক বড় হয়ে গেছে।

কালি সব জেনে গেছে। সোজা তোদের ওখানে যাচ্ছে।

এই, তোর মামাকে বল, গিয়ে দেখুক কী হচ্ছে?

দাঁড়িয়ে থাকিস না!

শোনো, কালি এদিকেই আসছে।

এই, আমাকে খেতে দাও।

-তুমি শুনেছ কিছু? -বললাম খেতে দাও।

তুই চিন্তা করিস না, আমি গাঁয়ের লোকদের জড়ো করতে বলছি।

দোস্ত, ওদের অবস্থা যদি দেখতি।

ওখানে কে?

খারাপ খবর দিতে এসেছ নাকি?

কয়টা ছেলে মরেছে?

ওখানে যেও না।

ভগবানের দোহাই, আমার কথা শোনো।

বাবা, আমাদের লোকেরা পরিস্থিতি সামলাবে।

- তুমি তো সবসময় আমার কথা শোনো, তাই না? - বাবা, তুমি ওখানে যেও না।

দেখো, বাচ্চারা ভয়ে কাঠ হয়ে আছে।

ঠিক আছে, আমি তোমার সাথে আসছি।

যা করার একসাথে করব।

এই!

ঘরের খেয়াল রাখ!

- এই, মারি, বাইক থামা! - না!

এই, কালি!

এই!

-ওকে ছেড়ে দে। -এই, কালি!

-এই কালি, আমার কথা শোন। -ওকে ছেড়ে দে।

-এই! - এই, সাট্টাই পুলি!

-আয় দেখি! -এই পাগলামি থামাও!

আয়! আয় দেখি!

এই কিট্টান, তোর বাবাকে বাড়ি নিয়ে যা।

-বাবা, ওটা নামাও। -বাবা, শান্ত হও।

এমন করো না।

এই, থিকোলাথি, ওই লোকটাকে এখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাও।

আমরা প্রতিযোগিতাতেই এর ফয়সালা করব।

প্রতিযোগিতার কারণে যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে।

আমরা প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়াব।

শোনো, এটা আমার দল।

এখনই বলে দিচ্ছি, ওরাই জিতুক!

কী? তোর দল?

এটা আমার দল, শালা!

মুগাভাই মাইন্থান দলটা গড়েছেন কিংবদন্তি আদি মান্দাদি মুনি স্যার।

এর কী হবে, তা ঠিক করার অধিকার একমাত্র আমারই।

তুই তো এই সেদিন গজিয়েছিস, তুই এর মধ্যে নাক গলাবি না!

চুপ করে দেখ।

আমি মীমাংসা না করা পর্যন্ত কেউ আমাকে সরাতে পারবে না।

আমিও তা-ই চাই!

ভোর হলে আমাদের মধ্যে একজনই বেঁচে থাকবে।

তোকে খুন করলেই কেবল আমি শান্তি পাব।

ভাগ!

কিট্টা, তুই যা। এ আমাদের নিজেদের হিসাব।

কালি, এ লড়াই সাগরে নিয়ে যাও, তীরে নয়।

বাবা, আমার কথা শোনো।

হয়তো আসন্ন প্রতিযোগিতা জীবনের চেয়েও বড়।

কিন্তু আসল প্রতিযোগিতা তোমার আর আমার মধ্যে।

যে দল ট্রফি জিতবে...

সেই হবে এই গাঁয়ের দল।

তোর জন্যও শর্ত একই থাকছে।

যে দল হারবে, তার বংশ ভবিষ্যতে রেস থেকে সরে দাঁড়াবে।

এই, এটা সম্ভব নয়।

পঞ্চায়েতে যা আলোচনা হয়েছে, তাই হবে।

-তুমি পারো না... -এই, গাধা!

এখন আমি হুকুম দেওয়ার অবস্থানে।

আর তোরা হুকুম মানার অবস্থানে।

জ্যান্ত বাড়ি ফিরতে চাস না?

এই, সাট্টাই পুলি!

তোর মতো আমার পরিবার বা ছেলেমেয়ে নেই।

আমার হারানোর কিছুই নেই!

আমি তোকে আর তোর ছেলেকে নির্মমভাবে খুন করব।

এই, কথা বলার সাহস পাস কোথায়?

তোদের কোচ মুনি আমারও গুরু।

এটা ভুলিস না!

চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম!

তোমাদের শত্রুতার কথা আমি জানি না

কিন্তু আমার অপরাধবোধ হচ্ছে, মাটিচাপা পুরোনো শত্রুতা আমি জাগিয়ে তুলেছি।

আমি এই বোঝা বইতে পারছি না যে,

মান্দাদি বংশ আমার জন্য শেষ হয়ে গেল।

সাগরের দিকে তাকিয়ে এমন অশুভ কথা বলো না।

এটা ভালো লক্ষণ নয়।

আজ তোমাদের সবাইকে একটা দল বানিয়েছি আমি।

কিন্তু স্থানীয় খেলোয়াড়রা সুযোগ না পাওয়ায় কারণও আমিই।

দোষের বোঝা বয়ে বাঁচা, নরকের চেয়েও যন্ত্রণাদায়ক।

তোমার জন্য আমি তা চাই না।

তুমি শুধু এই সমাজের বিশ্বাসঘাতকতা আর ক্রোধই দেখেছ।

কিন্তু এই সমাজটা আগে বিদ্বেষে কলুষিত ছিল না।

এখন হয়তো সাট্টাই পুলি আর আমি পরম শত্রু।

এক সময় আমরা এক ছিলাম, একই গাঁয়ের হয়ে খেলতাম।

সেই সময়ে আমাদের নৌকা পুরোটাই কাঠের তৈরি ছিল।

আমরা ছিলাম অপ্রতিরোধ্য কেউ আমাদের ঘাঁটাতে সাহস করত না।

এক মানুষই ছিল আমাদের অপ্রতিরোধ্য হওয়ার কারণ।

দক্ষ ও ওস্তাদ মাঝি।

ভেলা-বাইচের জগতের গুরু!

আমাদের মাচ্চামুনি আইয়া!

আশপাশের গোটা উপকূল জুড়ে

এমন একজন নৌকাশিল্পীও নেই

যে হাওয়া, সাগর আর কাঠে আইয়ার দক্ষতার সমান হতে পারে।

এই, সাগরের অন্তহীন বিস্তার অন্য সব বিপদের চেয়ে ভয়ংকর।

কিন্তু সবাই মনে রেখো।

খেলোয়াড়রা প্রতিযোগিতার প্রতি সৎ থাকলে

হাওয়া আর সাগর তাদের কখনো ছেড়ে যাবে না

যখন বাঁচার কোনো অবলম্বন থাকবে না...

কোনো না কোনো রূপে তা সাহায্য করতে আসবে।

হাল দিয়ে তুমি কী করবে?

স্রোত অনুভব করে সেই অনুযায়ী ঘোরাতে হবে।

খোলের তক্তা কী করবে?

হাওয়া বুঝে ওপরে বা নিচে সরাতে হবে।

কীলক?

হাওয়া যখন তেরছা আসে,

আমরা কীলকে উঠে ভেলা সামলাই।

চমৎকার! তোমরা তো দারুণ!

এই, সাট্টাই পুলি, কীলক গুঁজে দে!

মামা, ওরা এখন গভীর জলে।

মুল্লিমুনাইয়ের ঈশ্বরণ এগিয়ে গেছে মনে হচ্ছে।

যেমনটা ভেবেছিলাম তেমন হচ্ছে না। খেলা কঠিন হয়ে উঠছে।

এখন সাট্টাই পুলি কীলক গুঁজে নৌকা ঘুরিয়ে

ওদের নৌকা উল্টে দেবে।

আইয়া, এতে কি আমাদের দুই সমাজের মধ্যে সংঘাত বাধতে পারে?

তবে আমাদের মান্দাদি এ চালে রাজি হবে না।

এই, হাল দূরে রাখো। কাছে এনো না।

এখন হাওয়াটা কেমন

হাওয়া ঝড়ের মতো জোরে বইছে।

আগে হাওয়ার ঝাপটা চিনে নাও

আর ঠিক সময়ে সবাইকে ইশারা দাও...

-...সে নৌকার হাল ধরবে! এই, এদিকে এসো।

এই, স্পেসারে উঠে পড়ো।

থিকোলাথি ভাই, সামনে যাও।

চরম মুহূর্তে,

কালি তলোয়ারের মতো ধারালো চালে নৌকা চালিয়ে এগিয়ে যাবে।

চালিয়ে যাও!

বাচ্চারা, পথ ছাড়ো।

আমার সাথে এসো, মামা।

ওরা পেরেছে

এই সুযোগ হাতছাড়া করো না। ওর সাথে কথা বলো।

এই, সবাই মনের সুখে খাও।

কালি, দলের জয়ের পর বাবা ভালো মেজাজে আছে।

কোনো ফালতু অজুহাত দিও না।

অন্তত আজ আমাদের সম্পর্কের কথা ওকে বলো।

এই, সে আমাকে দলের অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বাস করবে, মেয়ের জন্য নয়।

মেয়ের ব্যাপারে দুনিয়ার সব বাবা এক রকম।

তোমার হাত চাওয়ার যোগ্য এমন কিছু ওকে দেখানোর নেই আমার।

তোমার একটা নৌকা হওয়া পর্যন্ত কতদিন অপেক্ষা করতে হবে আমাকে?

তোমার হাত চাইলে সে যাতে ফেরাতে না পারে, তেমন কেউ আমাকে হতে হবে।

তবেই ওকে বলব। বুঝেছ?

-কিছু বলো -বুঝেছি।

তবু এখনই ওকে জিজ্ঞেস করো!

ধুর, শালা! অনেক গরম।

মনোযোগ হারালে চলবে না।

সত্যিকারের খেলোয়াড়রা এভাবেই খেলে।

-ও কি বাবার সাথে কথা বলবে? -বলবে। এখন যাও।

সে ছেলেমানুষি করছে। আর তুমি উসকে দিচ্ছ।

বোঝো না কিছু?

খেলোয়াড়রা, ভালো করে খাও!

এই ভোজ উপভোগ করো, এটাই তোমাদের শেষ ভোজ।

মামা, বলতে চাইছিলাম, এরপর আমি মরুভূমির পথে রওনা দেব।

আমি কাতারে যাচ্ছি। এরপর থেকে আমি দলের স্পনসর।

আর কাতার থেকে রাক্কাম্মার জন্য একটা উপযুক্ত পাত্রও খুঁজে আনব,

বিয়ে দিয়ে ওকেও সাথে নিয়ে যাব।

এই ভাঁড় কোন সাহসে তোকে নিয়ে ঠাট্টা করে?

-শান্ত হ, দোস্ত। -তুই না বললে আমিই ওর সাথে কথা বলব।

আইয়া আমাদের দেখে ফেলতে পারে।

-শান্ত হ। -এই, ওর সাথে কথা বল।

- জলদি বল, শালা! - শান্ত হ, দোস্ত।

বল!

ফিসফিস করছ কেন?

যা জিজ্ঞেস করার, সোজাসুজি আমাকে করো।

এই, বলে ফেল!

- আইয়া... - বল!

উনি নিজেই জিজ্ঞেস করছে। এখনই সুযোগ!

আইয়া, আরেকটু মাংস লাগবে।

মাংস! মাংস!

এই জন্যই ভিতু বেড়ালের মতো আচরণ করছিলে?

কালিকে আরও মাংস দাও।

রাক্কাম্মা দিদি, ও সাহস করে মাংস চেয়েছে।

দিয়ে দাও!

তো ওরা ভালো ভোজ খাইয়ে খালি হাতে বিদায় করে দিল?

এই, ওরা বংশানুক্রমে প্রতিযোগিতা আয়োজন করছে।

কিন্তু আমরা তাদেরও লেখাপড়া শেখানো লোকদের বংশধর!

আমরা ম্যাচ খেলে জিতেছি। তোমার এত মাথাব্যথা কেন?

মাথাব্যথা কেন জিজ্ঞেস করছিস?

এক সময় আমরা এই শহরে সচ্ছলভাবে থাকতাম

এখন সংসার চালাতে শুঁটকি মাছ বেচছি।

বাবা!

কিন্তু তুই মুনির চামচামি করে বেড়াচ্ছিস!

বাবা, দয়া করে আমার নিন্দে করো না।

আমিও ব্যবসা শুরু করতে চাই...

লোকে বলে ছেলেরা বাপের মতোই হয়।

কিন্তু আফসোস! আমার ছেলে হয়নি!

যেদিন প্রথম মৎস্য দপ্তরের অফিসে ফাইবারের নৌকা এল,

ভাবিনি এই নৌকাই একদিন আমাদের গড়া ঐক্য ছিঁড়ে ফেলবে।

আমরা বিস্ময়ে তাকিয়ে ছিলাম।

- অফিসার! - কী ব্যাপার?

স্যার, নৌকাটা প্লাস্টিকের তৈরি মনে হচ্ছে।

টিকবে তো?

টিকবে মানে? বিদেশে এটাই ব্যবহার করে।

মাদ্রাজ থেকে দক্ষিণ বেল্টের অন্য অঞ্চলে...

সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এই নৌকা বিনামূল্যে দিচ্ছে।

নিশ্চয়ই সাধারণ কাজের জন্য

বিদেশি কেউ বিনামূল্যে কিছু দিলে

এই বদমাশ বাজারে এনে সেটা বেচবেই!

আমার কথা মিলিয়ে নিও।

কয়েক দিনের মধ্যেই এই ফাইবার নৌকা তীরে সারি বেঁধে থাকবে।

প্রতিযোগিতাতেও এই নৌকাই ব্যবহার করবে।

চলো, নিজের কাজে যাই।

- কীভাবে সাহায্য করতে পারি? - প্রতিযোগিতায় এই টাকা জিতেছি।

সুনামি ত্রাণ তহবিলে সমিতির পক্ষ থেকে দান করছি।

-এই নিন। আসছি, স্যার। -ঠিক আছে।

দোস্ত, অনেক দিন ধরে তুই ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবছিস।

আইয়াও বলেছেন, ফাইবার নৌকাই হবে ভবিষ্যৎ।

ফাইবার নৌকা বানানোর একটা কোম্পানি খুলে ফেল!

অন্য কেউ শুরু করার আগে তুই করে ফেল।

কালি, ওকে বেহুদা উসকানি দিও না।

এতে কোনো লাভ হবে না।

ওর বাবা ব্যবসায় যথেষ্ট খুইয়েছে।

ভাই, লাভ হবে না মানে কী?

ঠিকঠাক চালাতে পারলে

ওর বাবা বার্মায় যা খুইয়েছে, ও মুগাভাইপট্টিনামে তা তুলে নেবে।

এই, তুই কর।

ঠিকই বলেছ!

ওর বাবা ওখানে যা বুনেছে, এখানে সে তা উড়াচ্ছে।

-এই, বীরামাল্লি, মুখ সামলে। -এই, চুপ কর।

এই, বকবক করছ কেন?

উল্টাপাল্টা কথা বলবি না। আমি সাবধান করছি।

ভাই, ও বার্মিজদের ঠকিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছিল,

জানো না, তাকে চাবুক মেরে জেলে পোরা হয়েছিল?

পুরো শহর এটা জানে।

বীরামাল্লি, চুপ কর।

এই, থামতে বললাম, বোঝো না?

আমি সত্যি কথা বলছি!

- তোকে ধোলাই দেব! - বললাম চুপ কর।

ছাড়ো, ভাই!

ভাই, পিছিয়ে যাও!

-এই, সাট্টাই পুলি। -ওকে নিয়ে যাও।

-আমার কথা শোনো। -ছুরিটা সরাও!

এই, ওকে নিয়ে যাও এখান থেকে নিয়ে যাও।

তোর মুখ ছিঁড়ে ফেলব।

এই, ওকে নিয়ে যাও।

এখান থেকে যাও।

আমাকে কথা দে, তুই আমার পাশে থাকবি।

আমি জান বাজি রেখে এই ব্যবসা শুরু করব।

অবশ্যই, আমি তোর পাশে আছি।

তুই শুরু কর।

ভাই, নিশানায় সাবধানে ছুঁড়ো।

সবাই শুয়ে পড়ো!

যেমন বললাম, বাবা। কালিকে দিয়ে আমরা সম্মান ফিরিয়ে আনব।

সে-ই হবে ব্যবসার মুখ।

তোর কথা ঠিক আছে।

কিন্তু এটা মাথায় রাখিস।

সচিন টেন্ডুলকার প্রতিবার সেঞ্চুরি করলে ব্যাট আকাশে তোলে।

তখন লোকে সেই ব্যাটের স্টিকারটাও দেখে।

এভাবেই ব্র্যান্ড বাজার দখল করেছে।

ব্যবসার জন্য প্রতিটি প্রতিযোগিতায় কালিই আমাদের মুখ হবে।

কিন্তু প্রতিযোগিতায় হারতে শুরু করলে ব্যবসাও মার খেতে থাকবে।

আমি হারব না, বাবা।

ভাবছি, টাকা জোগাড় করব কীভাবে।

তুই চিন্তা করিস না।

আমরা ব্যবস্থা করব।

যে ফাইবার নৌকা আমরা এডি অফিসে দেখেছিলাম, সেটার কথা বলছ?

হ্যাঁ, আইয়া!

-শুনে খুশি হলাম, সাট্টাই পুলি। -ধন্যবাদ, আইয়া।

তোমার বাবা নিশ্চয়ই আরও খুশি।

ভালো করো!

কালি, তুমি কি ওর ব্যবসায় যোগ দিচ্ছ?

হ্যাঁ, আইয়া।

তুমি এটা বলার পর, আমিই ওকে এই ব্যাবসার পরামর্শ দিয়েছিলাম!

মূলধন জোগাড় করবে কীভাবে ঠিক করেছ?

আইয়া, বউয়ের গয়না কাজে লাগাব।

বন্ধক রেখে শুভদিনে ব্যবসা শুরু করব।

- বাবা - কী হলো, মা?

বাবা, চা তৈরি। কাউকে বলো নিয়ে যেতে‌।

-কেউ চা নিয়ে এসো। -আমি যাচ্ছি, মামা।

এই!

আমার ভুল হয়েছে। তুমিই যাও।

সে প্রেম করতে যাচ্ছে।

অ্যাঞ্জেল রাক্কাম্মা, চা-টা হাতে তুলে দিলে কৃতজ্ঞ থাকব।

অজানা পথে পা বাড়িয়ে ঝুঁকি নিচ্ছ কেন?

এই, ব্যবসায় ওকে সাহায্য করলে

সাট্টাই পুলি আমাকে একটা ফাইবার নৌকা দেবে বলেছে।

এখন কি তোমার বাবার সাথে কথা বলব?

এই! এই! কেউ দেখে ফেলতে পারে।

মনে হয় চা পাব না। চলো বাড়ি গিয়ে খাই।

-এই, চায়ের কী হলো? -অ্যাঞ্জেল, কেউ দেখে ফেলবে না তো?

আইয়া, সে এক এক করে গ্লাসে ঢালছে।

অবশেষে ঢালা শেষ।

-এবার যাও! -ধন্যবাদ।

উল্কি করে তোমাকে চিরদিনের জন্য পার্মানেন্ট করে নিয়েছি।

এখন থেকে প্রতিযোগিতায় যখন মাছের জালের মাথার দড়ি ধরব,

তুমি সবসময় আমার চোখের সামনে থাকবে।

- এই, চলো। - এই, ওখানে কে?

-হায় হায়! -এই, তোদের সাথে কথা বলছি!

-চলো! চলো! -দাঁড়াও!

তোরা কি মানুষ?

ত্রাণের টাকা চুরি করিস কীভাবে?

কোনো প্রমাণ রেখে যেও না। বিদ্যুতের বাক্সটা পুড়িয়ে দাও।

ওকে ভেতরে ফেলে টাকা নিয়ে পালাব।

কালি আমার জন্য অপেক্ষায় আছে। আমাকে নাচে যোগ দিতে হবে।

চেঁচিও না, ভাই!

আশপাশের অঞ্চলে আমরাই প্রথম শুরু করায়

যে-ই নতুন নৌকা কেনার কথা ভাবত আমাদের কাছেই আসত।

ব্যবসায় আমাদের টেক্কা দেওয়ার মতো কেউ ছিল না।

কারণ আমরা কম দামে, মানসম্মত নৌকা বানাতাম।

তার ওপর প্রতিযোগিতায় আমরা সবসময় জিততাম।

লোকে আমাদের ভাগ্যবান মনে করে আমাদের ওপর ভরসা করতে শুরু করল।

যথারীতি, মুনি আইয়ার কথাই ফলল,

ফাইবারের নৌকা কাঠের নৌকাকে ছাড়িয়ে গেল।

শুধু ওরাই নয়, ওদের গড়া পণ্যেরও মূল্য বেশি।

তাই অন্য কাউকে না দিয়ে দশটা নৌকার অর্ডার তোমাকে দিচ্ছি।

আমার নৌকা পৌঁছে দেওয়ার সময়

তোমাদের নৌকাবাইচের বিজয়ী হতে হবে, কালি।

তাতে আমার ভাগ্য খুলবে।

সেই আসন্ন নৌকাবাইচই

আমাদের শহরের সব সংঘাতের সূচনা ছিল।

তখন আমি তা জানতাম না।

আমার জীবন এমনভাবে বদলে যাবে যে আর কখনো নৌকায় পা রাখতে পারবো না।

লঙ্কান সৈন্যদের গুলিতে ওদের জলসীমায় দুই জেলে নিহত।

আরও অনেক জেলেকে গ্রেপ্তার করে লঙ্কার জেলে ভরা হয়েছে।

অনেক রাজনীতিক এই ঘটনার নিন্দায় সরব হয়েছেন।

ওই সম্প্রদায়ের লোকেরা প্রতীক হিসেবে কালো পতাকা তুলে বিক্ষোভ করেছে।

মামা, নৌকাবাইচের আর মাত্র দুই দিন বাকি।

আমাদের সেরা দুই খেলোয়াড়কে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী ধরে নিয়ে গেছে।

কবে ছাড়বে, তার কোন ঠিকঠিকানা নেই।

বদলি পাব কোথায়?

না, সিংগারাম, আমার মনে হয়, এখন প্রতিযোগিতায় নামা ঠিক হবে না।

আমি আপনার সাথে একমত।

কিন্তু জিতলে ওই টাকা দিয়ে ওদের পরিবারগুলোকে সাহায্য করা যাবে।

আইয়া... আইয়া, আমার শালা জ্ঞানম ভালো খেলে।

ও অনেক দিন ধরে সুযোগের অপেক্ষায়

আইয়া, মাছ ধরার জায়গা খুঁজে বের করায় আমি ওস্তাদ।

জায়গা বুঝে নোঙর ফেলতেও জানি।

-ঠিক বলছে, আইয়া। -আইয়া, আমি পারব।

ও কি সত্যিকারের মাঝি?

তুই মাছ ধরতে বোমা ব্যবহার করিস না?

তোদের ওই অভিশপ্ত জিনিস সাগর বিষাক্ত করছে

মাছ মারছে আর প্রবাল-শৈবাল নষ্ট করছে।

বাইচের নৌকায় পা রাখার কোন যোগ্যতা তোর নেই।

ভাগ!

- চলো, যাই। - শুনলে তো। এবার বিদায় হও।

এখান থেকে ভাগো, চোখ রাঙিও না বলে দিলাম।

মাছের খামারের শ্রীনির ছেলেদের কেমন হয়...

মায়াবন আর বীরামাল্লি?

ওদের বদলি হিসেবে আনব।

ওরা অনেক দিন ধরে বদলি হয়ে আছে।

আইয়া, এই দুটো ঝামেলার লোক।

ওদের দলে আনলে আমাদের সমন্বয় নষ্ট হবে।

এই ম্যাচের জন্য ওরা মানানসই না।

আমরা হেরে যাব।

এই, আমরা সবসময় জিততে পারি না।

মাঝে মাঝে হারা উচিত, তবেই তা থেকে শিখব।

ওদের আনতে পারলে আমরা প্রতিযোগিতায় নামব

নইলে আসল সঙ্গীরা ছাড়া পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করি

শুনলাম তোমরা নাকি প্রতিযোগিতায় নামছ না।

- মিথ্যা খবর। - জেতার আশা থাকলে তবেই আমার অর্ডার নাও

না পারলে অগ্রিম টাকা ফেরত দাও।

ক্ষমতা বদলালে অপদার্থও তোর ওপর খবরদারি করে।

আমরা ব্যবসা শুরু করার পর থেকে মুনির আচরণ বদলে গেছে।

ভুলিস না, কালি আগে মান্দাদি, তারপর তোর বন্ধু।

ওকে বেহুদা এতে টেনো না।

ব্যবসা বাঁচাতে যা লাগে আমি করব।

কালি আমার সাথে আছে। আমি সামলাব।

তুই ওকে বন্ধু বলে বুক ফোলাচ্ছিস।

তোর আর মুনির মধ্যে বেছে নিতে হলে ও কাকে বেছে নেবে?

তোমার সমস্যা কী?

তুমি কি...

-কী ব্যাপার? -এদিকে আয়, তোর সাথে কথা আছে।

আইয়া!

অন্য গাঁয়ের খেলোয়াড়রা আমাদের দলে খেলতে মুখিয়ে আছে।

ওদের দলে নিই।

কারণ বড় ম্যাচ সামনে।

কালি, এবার কথা থামাও।

পেছনের হাওয়ার জন্য কি এভাবেই পাল তোলে?

আমি বলতে চেয়েছিলাম...

যে-ই দলে খেলুক, ট্রফি তো গাঁয়েরই হবে।

নতুন খেলোয়াড় ভাড়ার খরচ নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না।

সাট্টাই পুলি নিজের কোম্পানির মাধ্যমে স্পনসর করার প্রস্তাব দিয়েছে।

ওঠ।

এই! ওঠ, চুলোয় যা!

ওঠ!

লাশ যেখানেই শোয়াক না কেন, সেটা লাশই থাকে

তোর ধারণা আর পরামর্শ ওর জন্য তুলে রাখ।

এটা আমার দল!

আমি বেঁচে থাকতে দলে কে থাকবে আর কে না, আমিই ঠিক করব।

-বদমাশ! -আপনাকে আঘাত দিতে চাইনি।

-আরও খেলোয়াড় নিলে.. -দলের মান্দাদির মতো কথা বল।

ওদের চামচার মতো আচরণ করছিস কেন, ওদের ব্যবসার প্রচার করছিস কেন?

তোর ওপর হাত তুলতে চাই না।

অ্যাঞ্জেল, তুই ভেতরে যা।

আমরা নতুন দল হয়ে নামছি, গাঁয়ের পক্ষ থেকে সুনামি রাইডার্স।

সকালে এসে নতুন দলের নাম লেখাব।

একদিনেই নতুন দল গড়ে ফেলার মতো এত রাগ কেন তোমার?

তাড়াহুড়ো করে পরে আফসোস করো না, কালি।

এই, তুমিই ওকে সব কিছুতে উসকে দিয়েছ।

তবু এমন ভান করছ যেন জানোই না।

সিংগারাম, দয়া করে ওকে নিয়ে যাও।

নয়তো আমি ওকে কেটে ফেলবো!

- হেডম থাকলে আয় দেখি! - এই ভাই!

ভাই, শান্ত হও।

এই, আমাকে ছাড়ো। ভাই, তুমি থামাচ্ছ না কেন??

-কী? -চলো!

কালির কথা ভুলে যাও।

ও বখে গেছে!

কালি, রাগে অন্ধ হয়ো না।

অহংকারে আমাদের জীবন নষ্ট করো না।

অন্তত এখন আমার কথা শোনো।

আমার সাথে এসো, বাবার সাথে কথা বলো।

মা, ওকে বলো আমার বাবার সাথে কথা বলতে।

- ওর কথায় যুক্তি আছে - মা!

যা ঘটেছে সবই তুমি দেখেছ।

তবু তুমি বাবার পক্ষ নিয়ে আমাকে মানিয়ে নিতে বলছ।

আমি তোমাকে মানিয়ে নিতে বলছি না।

আমি বলতে চাইছি, হয়তো তার কোনো কারণ আছে।

আমার কাছে আত্মসম্মানই বড়।

যা-ই ঘটুক..

আমরা খেলার জন্য নতুন দল গড়ছি।

- তুমি বাড়ি ফিরে যাও। - বাবা।

মুনি ভাই এসেছেন।

ভাই, ভেতরে আসুন। দয়া করে ভেতরে আসুন।

সেরা বন্ধুকে হারালে..

নিজের একটা অংশও হারিয়ে যায়।

আমার প্রাণ বাঁচিয়ে তোমার বাবা

ঘূর্ণির ফাঁদে আটকে মারা গেল।

তার মৃত্যুর পর আমার তা-ই মনে হয়েছিল।

আমি চাইনি তার ছেলে বখে যাক।

তাই আমি যা জানতাম সবই তোমাকে শেখালাম।

আর তোমাকে বাপের চেয়েও বড় মান্দাদি হতে দেখে খুশি হতাম।

পরিস্থিতি না বুঝেই

তুমি যখন আমার বিরুদ্ধে দাঁড়ালে আমি সইতে পারিনি, বাবা।

তাই তোমার ওপর হাত তুলেছি।

এই প্রতিযোগিতা কে সেরা মাঝি, তা ঠিক করার জন্য নয়।

প্রতিযোগিতাটা হলো প্রজ্ঞা।

এ যেন আমাদের পূর্বপুরুষেরা বারবার আমাদের জ্ঞান দিয়ে চলেছেন।

কিন্তু সাট্টাই পুলির মতো লোকেরা একে ব্যবসা বানিয়ে নষ্ট করে দেয়,

প্রথমে বাইরে থেকে কয়েকজন খেলোয়াড় আনবে।

পরে পুরো দল ভরে ফেলবে অন্য গাঁয়ের খেলোয়াড় দিয়ে।

তাহলে আমাদের ছেলেদের কী হবে?

নিজের গাঁয়ের দলে খেলতে না পারার হতাশায়..

ওরা ধীরে ধীরে পুরোপুরি প্রতিযোগিতা থেকে সরে যাবে।

এটা মনে রেখো, কালি।

প্রতিযোগিতাই আমাদের প্রাণবন্ত রাখে।

আমরা প্রতিযোগিতাকে প্রাণবন্ত রাখছি না।

ভবিষ্যতে ডিজেল ফুরিয়ে গেলে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলে

হাওয়া আর পাল আমাদের ছেড়ে যাবে না,

সেজন্য, কালি, প্রতিযোগিতা আমাদের বাঁচিয়ে রাখতেই হবে।

নিজের লাভের জন্য এটা নষ্ট করো না।

আইয়া!

আমি বুড়ো হয়েছি, জানি না আর কতদিন চালিয়ে যেতে পারব।

তুমিই আমার উত্তরসূরি, কালি।

আইয়া, কী বলছেন এসব!?

আমি কি শান্তিতে ফিরে যেতে পারি?

শেষ পর্যন্ত কি আমার পাশে থাকবে?

-এই! এই! -ওগো!

-দয়া করে করো না। -এই, ফেলে দাও!

-হায় হায়! -ছাড়ো!

ছাড়ো আমাকে!

ওরা যখন বলেছিল, আমি বিশ্বাস করিনি।

ভেবেছিলাম যা-ই হোক, তুই আমার পাশে থাকবি।

কিন্তু সে তোর মাথা বিগড়ে দেওয়ার পর...

তুই আমাকে ছেড়ে দিলি!

সে কি তোর সাথে মেয়ের বিয়ে দেওয়ার কথা দিয়েছে?

এই, মাথা খারাপ হয়েছে নাকি?

তাহলে আমার ছেলের সাথে বেইমানি করলে কেন?

সে তোমাকে বিশ্বাস করে এই ব্যবসা শুরু করেছিল

শোনো, যখন-তখন বেঈমান বলে গালি দিও না।

ওটা আমার স্বভাব নয়!

বাবা, এখন এটা নিয়ে আমরা কী করব?

সব শেষ এখন!

ওর ব্যবসা আমি আর চাই না!

ওকে দাও। আমি নিজেকে আর আমার সন্তানকে মেরে ফেলব।

-এই, বাচ্চাটাকে ফিরিয়ে দাও। -এই, সাট্টাই পুলি!

ছাড়! এই নাও, বাচ্চাটাকে ধরো।

এই নিষ্পাপ শিশুকে এর মধ্যে টানছিস কেন?

ভাই, এই অবস্থায় আমাদের ছেড়ে যেও না।

দিদি, দয়া করে ওঠো।

দয়া করে ওঠো।

ও পাগল হয়ে গেছে। তোমার কী হয়েছে?

- একটু দয়া করো। -দয়া করে এমন বলো না।

আমাদের আর কেউ নেই।

শুধু তুমিই ওর পাশে দাঁড়াতে পারো।

আগে যেমন কথা দিয়েছিলাম, আমি শুধু আসন্ন ম্যাচে খেলব

এরপর নতুন খেলোয়াড় খুঁজে নিস।

কালি নিশ্চয়ই কথা রাখবে।

এরপর আমরা কী করব?

সে একবার আমাদের বাইচের নৌকায় পা রাখলেই যথেষ্ট।

তখন মুনি কালির ছায়া পর্যন্ত তার দল থেকে তাড়িয়ে দেবে।

এরপর আমাকে ছাড়া কালির আর কারও কাছে যাওয়ার থাকবে না।

মনোযোগ দিন, মুগাভাইপট্টিনামের সুনামি রাইডার্স।

এই ঘোষণা আপনাদের দলের জন্য

আপনাদের গাঁয়ের মাচ্চামুনি আইয়া আর চেয়ারম্যান ম্যাডাম

আপনাদের দলকে এই প্রতিযোগিতায় নামতে না দেওয়ার আবেদন করেছেন।

দল নিবন্ধনের আগে যেকোনো বিরোধ মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

ততক্ষণ আপনারা প্রতিযোগিতা থেকে স্থগিত।

সুনামি রাইডার্সের খেলোয়াড়রা নৌকা তীরে ফিরিয়ে আনুন।

চেয়ারম্যান ম্যাডাম, আপনার কাছে শুধু সে-ই গাঁয়ের লোক, আর আমরা আবর্জনা, তাই না?

এটা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। দৌড়ের পর আলোচনা করব।

দাঁড়াও!

আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিও না, মুনি।

তুমি বেহুদা ঝামেলা ডেকে আনছ।

আমি আমার গাঁয়ের হয়ে দাঁড়িয়েছি

তোমার মত এটাকে স্বার্থের জন্য ব্যবহার করছি না।

-এত সাহস তোমার? -এই, জামা থেকে হাত সরাও।

এসব কী করছো!?

-এমন আচরণ করতে পারলে কীভাবে? -ভুলো না কার সাথে লাগছ।

জামা থেকে হাত সরাও।

আমাদের গাঁয়ে এসে আমাদের জ্ঞানী মানুষকে অপমান করার সাহস কোথায় পাও?

-এই! -এই, ওকে টেনে বের করো।

আমাদের আটকানোর সাহস কীভাবে হয়?

-ওকে নিয়ে যাও। -তোকে খুন করে পুঁতে ফেলব।

এই, এমন করছ কেন?

ইদুম্বন আইয়া।

তুমি বাড়াবাড়ি করছ!

পারি, কমিটির সাথে কথা বলে ওদের নৌকা তীরে ফিরিয়ে আনো।

ঠিক আছে, ম্যাডাম।

নিজের গাঁয়েই আমরা আর কতদিন ব্রাত্য হয়ে থাকব?

প্রতিযোগিতার নিয়ন্ত্রণ আমাদের নিতেই হবে, সাট্টাই পুলি।

বাবা!

আমাকে ছাড়!

আইয়ার গায়ে হাত তোলার মুহূর্তেই

আমাদের মধ্যে সব সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেল

আমাদের বন্ধুত্বের জন্যই তুই এখনো বেঁচে আছিস।

একজন ছেলে বাবাকে মার খেতে দেখল।

একদিন না একদিন...

সে নিজের পাপের মাশুল দেবে।

সবার সাবধানবাণী উপেক্ষা করে কালি ওর কাছে গিয়ে তোমাকে অপমান করেছে।

কী অহংকার!

ওর কথা ভুলে যা, মা।

বেইমান!

বাবা, আমরা সম্মানের জীবনের জন্য প্রাণ বাজি রাখছি।

বাকি সব বাদ,

সম্মান হারালে আমি মরে যাব।

মামা!

ওর মেরুদণ্ডের অনেক ক্ষতি হয়েছে।

দুর্ভাগ্যবশত, আগের মতো চলাফেরা করতে পারবে না।

এই, সাট্টাই পুলি!

ওই হতচ্ছাড়া কালি তোর বাবাকে শয্যাশায়ী বানিয়ে ছেড়েছে।

সে কখনো শান্তিতে বাঁচবে না।

-হায় ভগবান! -কালি বিরাট ভুল করেছে।

বাবাকে আঘাত করা ওর উচিত হয়নি।

আজ রাতে আমি যা করতে যাচ্ছি

তা এই গাঁকে মনে করিয়ে দেবে

ভয়, সম্মান আর মর্যাদা

ক্ষমতা আর সম্পদের মালিকদেরই প্রাপ্য।

আজ রাতে আমি চূড়ান্ত আতঙ্ক ছড়াব!

আমি আত্মসমর্পণ করছি। তুমি বাইরে থেকে ব্যবসা সামলাও।

কালিকে রুক্ষ দেখালেও তার মন নির্মল।

সে ভালোবাসা আর বন্ধুত্বের মাঝখানে আটকা পড়েছে।

এই!

তুমি হাসপাতালে যাও আর দেখো যে

সাট্টাই পুলি রাগের মাথায় কোনো বোকামি না করে।

-ঠিক আছে, মামা। -কালিকে কোথায় পাব?

এই, এখানে কী হচ্ছে?

-আইয়া! -বাড়ি চল।

চল।

সবার সামনে আপনার অপমান হয়েছে।

আমি যাব না।

আপনি যেতে পারেন।

আপনার মুখোমুখি হতে পারছি না, আইয়া।

নিজের ওপর লজ্জা লাগছে।

বসে কথা বললে সব ঠিক হয়ে যাবে।

বদমাশ, পুরো পরিবারটা আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে...

আর আমাকে ঠকিয়েছে, আইয়া।

আইয়া, আমাকে ছুরি মেরে খুন করার,

এ অধিকার শুধু আপনারই আছে।

এজন্যই তুমি দোষী।

আমরা আলোচনা করে মিটিয়ে নিতে পারি।

আইয়া, এমন করবেন না।

আপনি মানুষকে বড্ড সহজে ক্ষমা করে দেন।

অ্যাঞ্জেল আর আমি প্রেম করি।

এ নিয়ে আপনার কী বলার আছে?

আমি জানি। এখন চলো।

আপনি সবসময়...

এই, ও সৈকতে আছে।

জলদি করো! ও এখানে!

-এই কালি, ওঠো। -আইয়া!

- আমি খারাপ লোক, আইয়া। -সাট্টাইয়ের লোক এসেছে

চলো!

জলদি!

এই, বাইক থামাও! থামাও!

চলো!

এই, সে ওকে নৌকায় করে সরিয়ে নিচ্ছে।

চলো, জলদি!

টাকার কুমির কোথাকার!

একজন মাঝির গায়ে হাত তোলার সাহস কীভাবে হয়?

ভবিষ্যতে ডিজেল ফুরিয়ে গেলে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলে

হাওয়া আর পাল আমাদের ছেড়ে যাবে না

নৌকাবাইচ সমিতি আমাদের গাঁয়ের রাষ্ট্রনায়কের মৃত্যুতে শোকাহত

কালি! এই, কালি!

মুনি আইয়াকে কুপিয়ে মেরেছে।

আমি তোমাকে সাবধান করেছিলাম, ওকে সমর্থন করো না।

তুমি কখনো শোনোনি!

ওকে ছাড়া আমি বাঁচব কীভাবে?

কালি, দেখো, সব শেষ।

ওকে চলে যেতে বলো।

এটা আমার বাবার লাশ।

কে শ্রদ্ধা জানাতে পারবে আর কে পারবে না, আমি ঠিক করব।

বাবাকে শ্রদ্ধা জানাতে হলে আগে আমাকে পেরোতে হবে।

আমি তোকে খুন করব!

আমি ওদের একটাকেও ছাড়বো না।

শেষবারের মতো ওর মুখ দেখার একটা সুযোগ দাও।

আমি বলে দিয়েছি!

আমার বাবার সাথে যা করেছিস, তারপর এখানে আসার সাহস কীভাবে হয়?

এখান থেকে বেরিয়ে যা, বেইমান!

যা! যা!

যা! যা!

রাক্কু, ও শ্রদ্ধা জানাতে পারবে না কেন?

শুধু ছুরি মারলেই কেউ খুনি হয় না

যে পিঠে ছুরি মারে সে-ই সবচেয়ে বড় খুনি!

তুমি যখন অহংকার আঁকড়ে ছিলে, সে বাড়ি এসে তোমার পায়ে ধরেছে।

তাকে ঠকালে কেন?

তুমি তাকে মেরেছ, তুমিই ওর খুনি।

সে তোমাকে নৌকা চালানো শিখিয়েছে, আর তুমি তাকে খাটিয়ায় তুলেছ।

তার শেখানো বিদ্যা তোমার আর কী কাজে লাগবে?

তুমি যদি আত্মসম্মানী পুরুষ হও, আর কখনো নৌকা চালাবে না।

আমার বাবা যে গাঁয়ে থাকতেন, সে গাঁয়ে তোমার থাকা চলবে না।

এখান থেকে বিদায় হও!

আর কখনো আমাকে মুখ দেখিও না।

রাক্কু, এটা করছ কেন?

রাক্কু!

সে বাবাকে হারিয়েছে, কালি।

তার রাগ ন্যায্য, কালি।

ওর জায়গায় নিজেকে বসিয়ে ভাবো।

বিরাট ভুল হয়ে গেছে।

চল, কালী! এদিকে আয়।

তুমি চলে গেলে আমাদের দলে কেউ থাকবে না

গুরুর মৃত্যুর প্রতিশোধের চেয়েও

রাক্কাম্মার কথাগুলোই

আমাকে খুনি বলে দোষারোপ করাই আমাকে গাঁ ছাড়া করেছিল।

একটা মৃত্যুর পর আমি গাঁ ছেড়ে গিয়েছিলাম

আরও মৃত্যু ঠেকাতে আমি তোমাকে ফিরিয়ে এনেছি।

এ বছর একশোর বেশি পালতোলা নৌকা অংশ নিচ্ছে।

এক বিশাল নৌকাবাইচ হতে যাচ্ছে।

সাধারণত মুগাভাইপট্টিনাম থেকে একটাই দল নামত।

কিন্তু এ বছর সেম্মাত্তি বংশের সুনামি রাইডার্স

আর মান্দাদি বংশের মুগাভাই মাইন্থানরা লড়বে।

যে দল ট্রফি জিতবে

সে-ই মুগাভাইপট্টিনামের অফিশিয়াল দল হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।

তোমার সর্দির জন্য ওষুধ এনেছি।

কথা না শুনলে, তার পরিণতি ভালো হয় না।

এই ছেলেরা নিজের কাজেই ব্যস্ত ছিল।

এখন ওদের এসবে টেনে এনে

সবাইকে রাগে অন্ধ করে দিয়েছে।

ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে বলা বন্ধ করো।

যা-ই বলার, সরাসরি আমাকে বলো

আমরা সবাই প্রচণ্ড চাপে আছি!

তুমি কি আমাদের একমাত্র ছেলেকে বলি দিতে চাও?

তোমার কি দুশ্চিন্তা হচ্ছে না?

তুমি দেখছি, বন্ধুর পক্ষে সবার আগে।

শোনো, তোমার সাথে আমি অনেক ধৈর্য ধরেছি,

তুমি পরিস্থিতি বুঝছ না।

কখন যে ধৈর্য হারাব জানি না।

কে মানা করেছে? হারাও! হারাও!

বেইমানকে নিজের সঙ্গে রাখতে লজ্জা করে না তোমার?

সে সবাইকে তামাশা দেখতে উসকে দিয়েছে।

তুমিও ওর জন্য হাততালি দিচ্ছ

তোমার সমস্যাটা কী! তোমার সমস্যা কী?

তুমি সবসময় ওর বিরুদ্ধে বিষ ঢালো!

ঠিকই বলেছ!

পুরুষেরা যত দিনই দূরে থাকুক,

একটা বিপদ এলেই আমরা অভিমান ভুলে

হাতে হাত রেখে এক হয়ে দাঁড়াই।

কিন্তু মেয়েরা...

তোমরা রাগ পুষে রাখো আর সারাক্ষণ তা নিয়ে বকবক করো।

- চুপ করো বলছি। - আমি থামব না।

এটাও শোনো।

তোমার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আত্মীয়রা যখন আমার কাছে এল...

জানো আমি প্রথমে কার সাথে কথা বলেছিলাম?

কালীর সাথে!

সে এক মুহূর্তও ভাবেনি।

বলেছিল- "দোস্ত, শুধু তুইই ওর যত্ন নিতে পারবি।"

এখন বিশ বছর হয়ে গেল।

আমি কথা বলতে চাইলেও সে কখনো আমার সাথে কথা বলেনি।

রাক্কু।

কালি আমাদের মারির পাশে না দাঁড়ালে আমরা অনেক আগেই ছেলেকে হারাতাম।

ভুলো না, আমাদের ছেলে সাহায্য চাইতে ওর কাছেই গিয়েছিল।

মারি এখানে কেন?

প্র্যাকটিস ম্যাচে তিনজন খেলোয়াড় আহত হয়েছে।

তাই সে আমাদের দলে নিতে এসেছে।

দয়া করে আমাদের দলে আয়।

তুই ভালোই জানিস, আমার আর কারও কাছে যাওয়ার নেই।

তোর দলে নেমে হারলে সারা জীবন নৌকায় পা রাখতে পারব না।

আমাদের এতে জড়াস না।

এই, আমাদের ছোট করে কথা বলিস না। ধোলাই দেব!

তোরা তো তীরে পৌঁছানোর আগেই হেরে গিয়েছিলি।

তাই বলিস না যে আমি হারব।

মান্দাদি বংশকে বাঁচাতে আমি তোদের সাহায্য চাইছি।

শুনতে পাচ্ছিস না? বদমাশ কোথাকার!

তোর জন্যই আমি এক দল থেকে অন্য দলে বহিরাগত খেলোয়াড় হয়ে ঘুরছি।

তোর জন্যই!

- এত রাগ হচ্ছে যে...! - ভাই, ছেড়ে দে!

বাবা, আমার কথা শোনো

-আমাকে ছাড়ো। -দয়া করে আমার কথা শোনো।

বীরা, ওকে ছেড়ে দে!

নে!

দয়া করে ওটা ফেলে দাও।

বললাম ধর!

আমাকে ছুরি মেরে খুন কর।

বাবা, খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারে।

মার!

তোমরা এখনো কাঁচা।

আগের বার আমাদের কথা শোনোনি? আবার এখানে এসেছ কেন?

মনে হয় তোমার নানার মতো ছুরি খেলেই শিখবে।

বাবা, আমি ধৈর্য ধরে আছি বলে ওকে হুমকি দেওয়া চলে না।

ভালো হবে না কিন্তু।

ওর সাথে গেলে তোর সর্বনাশ হবে।

ভিতু বাবার ছেলে হওয়ার চেয়ে

বন্ধুর পাশে দাঁড়িয়ে সর্বনাশ হওয়াই ভালো।

আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখতে পারব না।

অন্যদের কথা জানি না কিন্তু আমি আছি।

তোমাদের যা ইচ্ছে করো।

-এই, সর‌ -দোস্ত, আমরা ব্যবস্থা করে নেব।

তোমরা আমার ওপর রাগ মিটিয়েছ।

সাট্টাই পুলির ওপর রাগের কী হবে?

তোমরা নিজেরাই যদি আমাদের দলে খেলতে রাজি না হও...

তাহলে তোমাদের ছেলেমেয়েদেরও একই দশা হবে।

আর অন্য গাঁয়ে গিয়ে বহিরাগত খেলোয়াড় হয়ে খেলবে।

সে বীরামালি আর মায়াবনের সাথে পাগলের মতো অনুশীলন করছে।

আর তোমরা অলসের মতো বসে আছো।

তোমাদের মনে হয় আমাদের প্রতি সুবিচার করছ?

আমাদের সবসময় বংশের পাশে থাকতে হবে।

চারটা দল আর চব্বিশজন খেলোয়াড়।

কেউ আমাদের টপকে এগিয়ে যেতে পারবে না।

আমরা ছক কষে ওর অধ্যায় শেষ করব।

দোস্ত!

ভেতরে আয়।

ওর সাথে কথা বলতে চাই।

দয়া করে ওকে নিয়ে আয়।

দোস্ত, ভোরে প্রতিযোগিতা।

ও উলটাপালটা বললে পরে কস্ট পাবি।

প্রতিযোগিতার জন্যই এটা করতে চাই।

আমি ওর সাথে কথা বলতে চাই। দয়া করে ওকে ডাক দে।

দয়া করে আমার কথা শোন। এমন করিস না।

দয়া করে একটি কথাও বলো না। এখান থেকে বেরিয়ে যাও।

সেদিন তুমি আমাকে কথা বলতে দাওনি।

এখনো শুনতে চাইছ না।

দয়া করে একটু আমার কথা শোনো।

ম্যাচের পর আমি চলে যাব।

মুনি আইয়া বলেছিলেন, নিজের দুঃখকষ্ট ছেড়ে

নৌকায় পা রাখলেই কেবল প্রতিযোগিতার প্রতি সৎ থাকব।

তাই তোমার সাথে কথা বলতে এসেছি।

আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছিলাম

তাই সব ঠিক করতে তীরে ফিরেছিলাম

কিন্তু সবকিছু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল

আমরা মুনি আইয়াকে হারালাম।

আর আমি নিজেকে হারালাম।

ভেবেছিলাম বুকের ভেতর বিশ বছরের ব্যথা নিয়েই মরব।

তখনই মারি আমার মুক্তির পথ হয়ে এল।

আমি তাতে বোঝা হালকা করার সুযোগ দেখলাম।

আমি নিজের জন্যই এসেছি।

সাট্টাই পুলি হয়তো মুনি আইয়াকে খুন করেছে।

কিন্তু তুমি আমাকে তার শরীরে বিধা ছুরি ভাবছো!

দয়া করে আমাকে ক্ষমা করো!

আমি কখনো ইচ্ছে করে কিছু করিনি।

তোমার ক্ষমা ছাড়া

এই দুনিয়ায় আমার আর কিছু চাওয়ার নেই।

দয়া করে আমাকে ক্ষমা করো।

আমি দিনে দিনে শেষ হয়ে যাচ্ছি।

-দোস্ত! -স্যার! স্যার!

- ওঠ। - ওঠ!

-বাবা, ওকে তোলো। -দোস্ত!

এই, দোস্ত!

চুপ কর!

আমি আমাদের বংশের সম্মান ফিরিয়ে আনব।

আমি আর এভাবে বাঁচতে পারছি না।

আমিও তো মানুষ।

কালি!

বঙ্গোপসাগরের তীরের

এই সনাতন সমুদ্রযাত্রার ঐতিহ্যে

আমাদের অদম্য যোদ্ধারা,

প্রবল ঢেউয়ের সাথে লড়ে, জোয়ারের মতো হাওয়া চিরে,

সাগরে নিজেদের ছাপ রাখার জন্য

অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছে।

আমাদের পূর্বপুরুষদের খেলা পালতোলা নৌকার এই মহাবাইচ দেখতে,

মুগাভাইপট্টিনামে আপনাদের স্বাগতম।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে আন্তরিক স্বাগত জানাচ্ছি।

শিগগিরই প্রতিযোগিতা শুরু হতে যাচ্ছে।

সব খেলোয়াড়কে অনুরোধ, নৌকা প্রস্তুত করা বন্ধ করুন

এবং নিজ নিজ ঘাটে গিয়ে নৌকা পরীক্ষা করিয়ে নিন।

তোমরা তো বিয়ের মালা বাঁধার সময়ও গিঁট দেখো না।

তোমরা যত গিঁট আর দড়ি বাঁধো সবই তোমাদের মতোই শক্ত দেখায়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথিরাও এসে গেছেন।

দয়া করে তাড়াতাড়ি করো!

প্রথম প্রধান অতিথি হিসেবে এসেছেন আমাদের প্রাক্তন সভাপতি জ্ঞানম্মা ম্যাডাম।

তাঁর পেছনে আমাদের বিধায়ক রঙ্গন রাজারাম

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে

রেশমের শাল পরিয়ে তাদের আন্তরিক স্বাগত জানানো হচ্ছে।

এই, এখানে মোরগ বলি দিচ্ছে কে?

ভাই, ওরা প্রতিপক্ষ।

ওহ, সে-ই কোট্টা পুলি?

এই, সে কোট্টা পুলি নয়, সাট্টাই পুলি।

চলো!

জলদি করো! দেরি হলে মারি আমাকে বকবে।

তোমার মুখে শুনতে খুব মিষ্টি লাগে।

হাসিমুখে বলতে পারো না কেন?

এই, মামা এসে গেছে!

মারি, স্যার, খেলোয়াড়দের ডাকছে।

তোমরা এখানে কী করছ?

-ম্যাচের জন্য মোটিভেশন নিচ্ছো? -হ্যাঁ!

ছিঃ! ওখান থেকে বেরোও।

জোড়ায় জোড়ায় বেরোচ্ছ কেন?

ওকে নৌকায় নিয়ে যাবে নাকি?

তুমি এখান থেকে যাও।

কাদালারিসি, ওকে সাথে নিয়ে এসো

যেন তোমরা দুজন তারকা দম্পতি।

ম্যাচের আগে প্রেম করছে।

শোনো! হাওয়া স্থির নয়। বারবার দিক বদলাচ্ছে।

তোমরা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছ।

মৎস্য দপ্তর থেকে কোনো আপডেট পাইনি।

সব মিলিয়ে দুটো চেকপয়েন্ট থাকবে।

প্রথম চেকপয়েন্ট তীর থেকে চার মাইল দূরে।

ওটা ঘুরে দক্ষিণে আট মাইল গেলে দ্বিতীয় চেকপয়েন্টে পৌঁছাবে।

দ্বিতীয় চেকপয়েন্ট ঘুরে শুরুর জায়গায় ফিরবে।

ব্যস!

সবাই বুঝেছ?

-এই, কালি! - কী হলো?

সাট্টাই পুলি আসল রূপ দেখিয়েছে।

- এই বীরামালি, এসব কী? -আমি নৌকায় উঠবো না।

আমাকে হুকুম দেওয়ার তুই কে? আমি নিজেরও কথা শুনি না।

-তোমরা ঝগড়া করছ কেন? -বেইমান!

তুই দল ভেঙেছিস, বাইনচোদ!

অতীত ভুলে ওকে সমর্থন করতে নৌকায় উঠব কীভাবে?

আমি হাত মিলিয়েছিলাম শুধু পিঠে ছুরি মারতে।

ওকে এমনভাবে শেষ করতে হবে যেন আর উঠতে না পারে।

সব বাদ দিয়ে তুই ষষ্ঠ খেলোয়াড় হয়ে নৌকায় ওঠ।

আমি অভ্যাস হারিয়ে ফেলেছি!

কোচিং করা আর খেলা দুটো আলাদা জিনিস।

আমি এখন খেলোয়াড় হতে পারব না।

তুমি এই ছেলেদের এত ভালো শিখিয়েছ।

তবু বলছ অভ্যাস হারিয়েছ।

পারব না, ভাই।

আমরা সবাই অনুরোধ করছি কিন্তু তুই খেলতে চাইছিস না।

শেষ মুহূর্তে ছেড়ে যাওয়া তোর জন্য নতুন কিছু নয়।

ভাগ!

থামো!

সাট্টাই পুলি এমন না করলে বরং অবাক হওয়ার মতো বিষয় হতো।

কূলে সে অনেক বড় নাউরি হতে পারে।

কিন্তু সাগরে যে আমরাই সেরা, সেটা প্রমাণ করে ছাড়তে হবে।

বীরামল্লিকে সরিয়ে দিতে পারলেই আমাদের হারিয়ে দেবে, এমনটা সে ভেবেছিল।

তোমাকে নৌকায় দেখার সাথে সাথেই ও ব্যাটার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাবে।

যে মানুষটা তোমাকে এই গাঁ ছেড়ে যেতে বাধ্য করেছিল আর তোমার সব কেড়ে নিয়েছিল,

শুধু গোত্রের মান বাঁচিয়ে নয়, নিজের সম্মানও ফিরিয়ে এনে তাকে ভুল প্রমাণ করে দাও।

আমার বাবা বলতেন...

একজন মান্দাদি

মরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো কিছুই ভোলে না।

বাগমপ্রিয়া, মামার জার্সিটা নিয়ে এসো।

সরো তুমি টাকা দাও।

এই, টাকাটা নাও।

তোমাদের ষষ্ঠ খেলোয়াড় আছে?

-এই! -ভাই, ঠিকমতো রওনা দাও!

মারিয়াম্মন দেবীর আশীর্বাদে।

দল: মুগাভাইপট্টিনামের মুগাভাই মাইন্থান।

অধিনায়ক, কালি!

বিশ বছর আগে মুগাভাইপট্টিনামের নৌকাবাইচের মুখ আর তারকা খেলোয়াড়

কালি প্রতিযোগিতা করতে সাগরে ফিরছে।

সে বজ্রের মতো গর্জে ট্রফি জিতবে।

সাগরেই হোক বা তীরে...

হাওয়া কখনো তার তেজ হারায় না।

ঠিক তেমনি মুগাভাই মাইন্থানরা

তাদের চিরায়ত তেজ নিয়ে গর্বভরে এগিয়ে চলেছে

তাদের মান্দাদি কালির নেতৃত্বে।

ঢাক বাজুক দূর-দূরান্ত জুড়ে।

বর্মের মতো জার্সি পরে।

কালি সাগরে নেমেছে যুদ্ধের যোদ্ধার মতো

এই, বাড়ি গিয়ে আমার জার্সিটা নিয়ে আয়।

এই, থামো!

কোম্পানি, ওদের আমরা সহজেই হারাব।

তুমি নৌকায় উঠছ কেন?

ও ঠিকই বলছে, বাবা। আমরা ওদের সামলে নেব।

কালি নৌকায় পা রেখেছে!

বাবা, আমরা জিতব।

হারলে আমি তীরে ফেরার আগেই সাগর কালিকে টেনে নেবে।

হাওয়া এখন সবচেয়ে বিপজ্জনক রূপে

আবহাওয়া দপ্তর অনিশ্চিত হাওয়া নিয়ে সতর্ক করেছে।

কর্মকর্তা বলছেন ম্যাচ বাতিল করতে।

নৌকা ডুবে গেলে আমি ঝামেলায় পড়ব।

ঝুঁকি নিতে পারব না।

তোকে খুন করা উচিত, বাইনচোদ।

ঘুষখোর, তোর পেট চিরে ভূড়ি বের করে ফেলবো আমি!

ওর কথা ছাড়ো। শান্ত হও।

খেলোয়াড়রা হাওয়ার সাথে লড়তে না পারলে তারা বাঁচল না মরল, কিছু আসে-যায় না।

- দয়া করে আমার কথা শুনুন - এই!

আজকের দিনেই এই সাগরের ভাগ্য বদলাবে

প্রতিযোগিতা হতেই হবে।

কিন্তু মানুষের নজর শুধু দুটো দলের দিকে

এক: অপরাজিত

ও বঙ্গোপসাগরজয়ী সাট্টাই পুলির সুনামি রাইডার্স।

দুই: নৌকাবাইচের এককালের গর্জনশীল সিংহ

বহুদিন পর সাগরে ফেরা মহান মাচ্চামুনির উত্তরসূরি।

কালির নেতৃত্বে মুগাভাই মাইন্থান!

আজ যে দল ট্রফি জিতবে

সে-ই হবে মুগাভাইপট্টিনামের অফিশিয়াল দল।

অন্য দলগুলোর কাছে এটা কেবল একটা প্রতিযোগিতা।

কিন্তু এই দুই দলের কাছে এটা জীবন-মরণের লড়াই।

ছেলের মাথায় ট্রফির মুকুট পরানোর সাট্টাই পুলির স্বপ্ন কি সত্যি হবে?

নাকি পূর্ণ ফর্মে থাকা সুনামি রাইডার্সকে হারিয়ে দিতে পারবে কালি?

টানো!

প্রবল আর অনিশ্চিত হাওয়া আমাদের যোদ্ধাদের কাছে কিছুই নয়।

তামিলদের ঐতিহ্যবাহী খেলা দেখুন...

যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম আমাদের রক্তে মাংসে মিশে আছে।

শ্রীহরিকোটা থেকে রকেট ওড়ার মতো,

এই নৌকাগুলো বঙ্গোপসাগরের জল চিরে ছুটছে।

এটা কি জলের ওপর হাওয়ায় ভেসে চলা?

নাকি জলকে ব্যবহার করে আকাশে ওড়া?

এগিয়ে চলো!

আজকের প্রতিযোগিতা আমার গায়ে কাঁটা দিচ্ছে

এটা যদি সাগরের বুকে জ্বলন্ত যুদ্ধ না হয়, তাহলে কী?

প্রতিযোগিতা শেষ হতে দেরি আছে।

রোদে দাঁড়িয়ে শরীর পোড়াবেন না।

দয়া করে ছায়াযুক্ত জায়গায় বিশ্রাম নিন।

এই, বীরামালি আমাদের দিকে চেপে আসছে।

ওদের এড়িয়ে ডানদিকে হেলে চালিয়ে যাও।

খেলোয়াড়রা, হাওয়া প্রবল।

হালের দড়ি সামলাও; নইলে নৌকা উল্টে যাবে।

হালের দড়ি সামলাও নইলে নৌকা উল্টে যাবে

আমার কথা শুনতে পাচ্ছ?

এই, হাওয়া প্রবল।

টানো!

এই, আট নম্বর, হাওয়ায় তোমার পাল ছিঁড়ে গেছে।

সবাই পাল গুটিয়ে নাও।

কমিটির নৌকা, যাতে কিছু না ঘটে, দয়া করে ওদের কাছাকাছি চালান।

ধুর! ওদের নৌকা উল্টে গেছে।

হায় হায়, খেলোয়াড়রা একের পর এক পানিতে ঝাঁপ দিচ্ছে

পেছনের নৌকাগুলো নিশ্চিত করো ওদের সাথে ধাক্কা না লাগে।

ভাই, ফিনিক্স নৌকা উল্টে গেছে।

এই মুহূর্তের হাওয়া মেপে মনে হচ্ছে যেন ওটা শত্রুর মতো আচরণ করছে।

দয়া করে সতর্ক থেকে ধৈর্য ধরে চালান।

হাওয়া আর সাগর যেন আপনাদের অপ্রস্তুত অবস্থায় ধরতে তৈরি।

সতর্কবার্তা শেষ হওয়ার আগেই আরও দুটো নৌকা উল্টে গেল।

কমিটি সাগর থেকে খবর পেয়েছে

এখন হাওয়া খুবই প্রতিকূল মনে হচ্ছে।

অঞ্জান আলাই ওডিস, পাঁচ নম্বর ফিনিক্স, দেবীপট্টিনাম কুদারাম বয়েজ।

তার পরেই বীরামালির শিবসেবগম

এই চার দলের নৌকা ডুবে গেছে

পরিবারের সদস্যরা, দয়া করে আতঙ্কিত হবেন না।

এই, তুই পেছন থেকে নোঙর আটকে দে, আমি অন্য পাশ থেকে আরেকটা আটকাই।

কালির নৌকা যেন এগোতে না পারে।

চালিয়ে যাও!

এই আলতাফ, সাবধানে। পড়ে যাবি কিন্তু।

এই, কেপ্পাস, ওকে টেনে তোলো!

এই, গলুইয়ে চাপ দাও।

-কিছু একটা আমাদের টেনে ধরে আছে। -ওকে তুলতে সাহায্য করো।

হালের খুঁটিটা ধরো।

নৌকা আটকে গেছে। দয়া করে দেখুন কী হচ্ছে!

চলো! চলো!

- এই, নৌকার সামনের দিকে যাও! - চলো!

ভাই, নৌকা নড়ছে না। আটকে গেছে!

সবাই এগোচ্ছে, আমরা পারছি না কেন?

এই, ঘোরাও। চলো!

যেভাবেই ঘোরাই, নড়ছে না।

হালের দড়ি,

হালের দড়ি টানার চেষ্টা করলাম, তবু কাজ হচ্ছে না।

ভাই, মনে হয় আরেকটা নোঙর আটকে আছে।

নৌকার গতি বাড়াতে পারছি না।

বাবা, এই জোচ্চোরেরা দুই নাম্বারি করছে।

কমিটিকে জানিয়ে মিটিয়ে নাও।

জোচ্চোর কোথাকার!

আর কতদিন এভাবে আমাদের ওপর অত্যাচার চালানোর ইচ্ছা আছে, শুনি?

এখন আবার মাঝদরিয়ায় নোংরা খেলা শুরু করেছ, তাই না?

কতটা নিচে নামতে পারো তোমরা?

এই! তোদের সাথে নোংরামি করতে হবে, এত যোগ্যতাও তোদের নেই!

তোদের হারাতে আমাদের বি-টিমই যথেষ্ট।

- এত সাহস? - এই!

সবাই জানে হাওয়া প্রতিকূল হয়ে গেছে।

নর্দমা পেরোতে না পারা লোক সাগরে নামলে এমনই হয়।

এই সিংগারাম, সাবধান করছি!

ওদের লাশগুলো তোলার জন্য অন্তত তোর বেঁচে থাকা উচিত!

থামো!

হাওয়া সবসময় একই দিকে বয় না

এটা মনে রেখো!

ব্যস! সব শেষ হয়ে গেল!

আমরা আর লিড নিতে পারব না।

আপনারা সবাই অপেক্ষা করছিলেন, কোন নৌকা প্রথম সীমানা প্রদক্ষিণ করবে জানার জন্য।

সেই মুহূর্ত অবশেষে এসে গেছে।

সুনামি রাইডার্স বর্তমানে এগিয়ে রয়েছে।

অন্যান্য নৌকাগুলো সীমানায় পৌঁছাতে দ্রুতগতিতে তাদের অনুসরণ করছে।

কিন্তু সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত 'মুগাভাই মাইনথানস'

প্রথম ১০ জনের মধ্যেও জায়গা করে নিতে পারেনি।

সবসময়ের মতো সাট্টা পুলির নৌকাই প্রথম সীমানা প্রদক্ষিণ করল।

সাট্টা পুলি সবাইকে টেক্কা দিয়ে এই রেসে এগিয়ে আছেন।

বাতাসের গতি কাজে লাগিয়ে পাল তোলো!

এখন অন্যান্য নৌকাগুলোও প্রথম সীমানা প্রদক্ষিণ করতে শুরু করেছে।

কিন্তু বহুল প্রতীক্ষিত মুগাভাই মাইনথানসকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না।

ওরা কি আদৌ সমুদ্রে আছে, নাকি নেই?

মুগাভাই মাইনথানস বোধহয় সবার শেষে সীমানা পতাকা প্রদক্ষিণ করবে।

পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে এই রেসে তাদের পক্ষে এগিয়ে যাওয়া অসম্ভব।

কেপ্পাস, তাড়াতাড়ি টেনে তোলো সোজা পথে নিয়ে এসো।

নৌকার সামনের অন্য পাশে যাও।

এই, মারি, সাবধানে!

এদিকে দেখো!

এই, ঘুরিয়ে নাও। কালির নৌকার দিকে ঘোরো।

তাড়াতাড়ি করো!

থান্দারাসা, এদিকে এসো।

মনে হয় ওরা আমাদের জন্য পরবর্তী ফাঁদ পাতছে।

ওরা আমাদের কাছে চলে আসছে। আমরা কি গতি কমাব?

গতি কমালে এখন যে সামান্য এগিয়ে আছি, সেটাও হারিয়ে ফেলব।

এই, কেপ্পাস! হালের দড়িটা টানো।

হালের লাঠিটা জোরে চেপে ধরো!

মারি, উপরে ওঠো!

আমাদের এভাবে চিরে বেরিয়ে যেতে দেখে ওদের আতঙ্কে জমে যাওয়া উচিত।

বাবা, ওরা ওদের জন্য আরেকটা ফাঁদ পাতছে।

- এই, ওরা এখন কোথায়? - দ্রুত নৌকা চালাও!

ও গতি না কমিয়ে আমাদের দিকে ধেয়ে আসছে।

দ্বিতীয় সীমানাতেও যেন ওকে অপমানিত হতে হয়।

আমি বিষয়টা দেখছি।

এই! মুথাপ্পা!

নৌকার গতি বাড়াও।

মায়াভা!

এবার ডানদিকে!

- ভাই, মোড় নাও। - ডানদিকে ঘোরো!

ঘোরো!

বামে ঘোরো।

নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত করতে ওরা ঘেষটে আসছে।

আমরা গতি কমিয়ে দিই।

একদমই না!

ওদের দিকেই এগোতে থাকো।

ও দ্রুত এগিয়ে আসছে এবং আমাদের চিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

চিন্তা কোরো না। আমি সামলে নিচ্ছি।

ওদের ওপর গিয়ে ধাক্কা দাও!

এই, ওদের আরও কাছাকাছি যাও।

এসো! মাস্তুলে উঠে পড়ো!

তোমার হাত দাও।

উপরে উঠতে থাকো!

তাড়াতাড়ি!

নৌকা চালিয়ে যাও!

এই, মারি, ছেড়ে দিয়ো না!

এই, সাবধানে!

এত বছর পর, কালি সবাইকে শেখাল কীভাবে সমুদ্রকে জয় করতে হয়।

এটার জন্য আলাদা দক্ষতার প্রয়োজন।

প্রথম সীমানার সময় পিছিয়ে পড়ার ধারণা ভুল প্রমাণিত করে,

তারা এখন সামনের দিকে ধেয়ে চলেছে এবং লিড নিয়ে নিয়েছে।

- তীরের বাতাসের মুখোমুখি হওয়ার আগে… - এই, এটা কি সমুদ্রের জলঘূর্ণি নয়?

সর্বনাশ, এখানে যে জলঘূর্ণি তৈরি হচ্ছে।

সব নৌকা, কান খুলে শুনে নাও!

এখানে সমুদ্রের জলঘূর্ণি তৈরি হচ্ছে। কেউ এই দিকে আসবে না।

সব নৌকার দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে!

সামনে জলঘূর্ণি তৈরি হচ্ছে।

কেউ এই দিকে আসবেন না।

যেহেতু আমাদের পূর্বপরিকল্পিত রুটে একটি জলঘূর্ণি সৃষ্টি হচ্ছে,

তাই দ্বিতীয় সীমানা প্রদক্ষিণ করার পর,

দক্ষিণে যাও, দুই মাইল ঘুরে তারপর ফিরে এসো।

এটা কতটা বড় হবে বা কোন দিকে যাবে, তা কেউ অনুমান করতে পারছে না।

ছোট দেখাচ্ছে বলে এটাকে হালকাভাবে নেবেন না।

জলঘূর্ণিটা বেশ বিপজ্জনক মনে হচ্ছে।

এদিকে আসবে না। তোমাদের পথ বদলে নাও।

ভুলেও এই এলাকার কাছাকাছি আসার ভুল করে কোরো না।

কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কিন্তু কোম্পানি দায়ভার নেবে না।

এই, এটা তো আমাদের দিকেই আসছে।

এই, নৌকা ঘুরিয়ে দূরে নিয়ে যাও।

কিছু একটা শক্ত করে ধরে রাখো। ছেড়ে দিয়ো না।

শক্ত করে ধরো!

এই, নৌকা ঘুরিয়ে দূরে নিয়ে যাও। সামলে!

- এই! এই! - কালি ভাই, একবার দেখো।

জলঘূর্ণিটা ওদের টেনে নামিয়ে নিল!

সবাই শুনুন!

একটা জলঘূর্ণি তৈরি হয়ে আমাদের কমিটির নৌকাটাকে গিলে ফেলেছে।

তবে নৌকায় থাকা লোকগুলো পানিতে লাফিয়ে পড়ে বেঁচে গেছে।

তাই কমিটি রুট বদলে ওদের অন্য পথ দিয়ে পাঠিয়েছে।

আপনারা সবাই হয়তো আগে শুনেছেন,

এমনই এক ঘূর্ণিতে পড়ে আমাদের ৬০ জন লোক মারা গিয়েছিল।

এমনকি আমাদের কালির বাবা, নারকুনামও এমনই এক ঘূর্ণিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন।

জলঘূর্ণি আসলে কী?

ডাঙার সাইক্লোনের মতোই,

চারিদিকের বাতাস একত্রিত হয়ে সমুদ্রে জলঘূর্ণি তৈরি করে।

বড় বড় লঞ্চও এর থেকে রেহাই পায় না।

বাবা, আমরা ওদের পরামর্শ শুনব না।

আমরা আসল পথ দিয়েই যাব।

জলঘূর্ণি কোনো খেলার বিষয় না, বাছা।

এর সাথে টেক্কা দিতে গেলে, আমাদের চিহ্নও খুঁজে পাওয়া যাবে না।

আমরা বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে আছি

চল, কমিটির ঠিক করে দেওয়া পথেই যাওয়া যাক।

কিট্টান, আমরা ঘূর্ণি নিয়ে ভাবছি, আর ওরা আমাদের কাছে চলে আসছে।

এই, নতুন রাস্তাটা ধর। নতুন রাস্তা ধর!

- থামবে না! - এগিয়ে চলো!

নৌকার পেছনের অংশে পা দিয়ো না, সোজা হয়ে দাঁড়াও।

এই, মারি, হাত চালিয়ে কাজ করো।

এভাবে চলতে থাকলে আমরাই জিতে যাব।

সাবধানে!

আজ যদি আমাদের জিততে হয়,

তবে আমাদের সাহস জুগিয়ে ঝুঁকি নিতেই হবে।

জিততে হলে নতুন দুই মাইলের ঘোরাপথে যাওয়া যাবে না।

একমাত্র উপায় হলো দক্ষতার সাথে জলঘূর্ণি পেরিয়ে চলে যাওয়া।

আমরা কমিটির দেওয়া পথেই যাই।

সামুদ্রিক কাঁটার ভয়ে কি কেউ কখনো সমুদ্রে পা রাখা বন্ধ করে?

আমাদের পূর্বপুরুষরা এই সমুদ্র শাসন করেছে!

আজ যদি আমরা না জিতি,

তবে আমাদের আগামী প্রজন্ম এই খেলার দর্শক হয়ে রয়ে যাবে।

অবরুদ্ধ পরাজিত মানুষও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের আগে শেষ সুযোগ পায়।

বাতাস আর সমুদ্র আমাদের কখনোই ছেড়ে যাবে না।

তোমরা কি আমার পাশে থাকবে?

থাকব!

দোস্ত, চল ওদের দেখিয়ে দিই!

- চল, হয়ে যাক! - হয়ে যাক!

- হয়ে যাক! - পাল ঘুরিয়ে সেদিকে মোড় নাও।

খবরটা শুনে আমার তো বুক কাঁপছে।

যখন অন্য দলগুলো ঘূর্ণির ভয়ে বিকল্প পথ বেছে নিচ্ছে,

তখন মুগাভাই মাইনথানসরা ঘুরপথে না গিয়ে ঘূর্ণির পথেই ধেয়ে চলেছে,

একেবারে মৃত্যুকে তুচ্ছ করে সামনে এগোচ্ছে।

শক্ত করে ধরে রাখো!

- ঘূর্ণি আমাদের টেনে নিচ্ছে! - সবাই শক্ত করে ধরে থাকো!

সবাই শক্ত করে ধরে থাকো!

আমাদের টেনে নিচে নামাচ্ছে, ভাই!

- ছাড়বে না! - নৌকার পেছনে উঠে পড়ো!

বাবা, ওরা তো ঘূর্ণির পথেই গেল!

ভাই, আমি নৌকার পেছনটা চেপে রাখতে পারছি না!

- ভাই! - মাস্তুলটা শক্ত করে ধরে থাকো।

- ভাই, ঘূর্ণি আমাদের গিলে খাচ্ছে। - টানটা অনেক বেশি শক্তিশালী!

ঘূর্ণিটা আমাদের ধরে ফেলেছে!

ভাই!

ভাই! ভাই!

- থামবে না! - টেনে নিচ্ছে আমাদের!

আমার খুব ভয় করছে!

এই, শক্ত করে ধরে রাখো।

এই!

এই, হাত ছেড়ে দিয়ো না!

শক্ত করে ধরো!

পালগুলো শক্ত করে বাঁধো!

ধুর ছাই, পালগুলো টানটান করো!

হালের দড়ি ছেড়ো না।

ভাই, আমরা তো ডুবে যাব!

ভাই, ছেড়ে দিয়ো না!

এই, উপরে উঠে এসো!

এখন আমরা কী করব? আমি তো ধরে রাখতে পারছি না।

- ধরে রাখতে পারছি না! - আস্তে আস্তে উপরে উঠে এসো!

সবাই মাঝে এসে জড়ো হও।

ভাই, আমি আর ধরে রাখতে পারছি না।

মারি!

হাত ছেড়ো না!

- এই, মারি, দেখে! - উপরে ওঠো!

- শক্ত করে ধরে থাকো! - মারি!

ছেড়ে দিয়ো না!

এঞ্জেল

তাড়াতাড়ি!

টেনে তোলো!

যাও! মাস্তুলটা শক্ত করে ধরে রাখো!

বাতাস আর সমুদ্র আমাদের কখনোই ছেড়ে যাবে না।

কোনো না কোনো রূপ ধরে সাহায্য করতে আসবেই।

বাতাস আমাদের সহায় হয়েছে, ভাই।

পাল কাত করে যদি সামনে এগিয়ে যাই,

তবে এই ঘূর্ণিই সজোরে আমাদের বাইরে ঠেলে দেবে।

পালগুলো মেলে দাও!

ওটা আমার কাছে দাও!

তাড়াতাড়ি বেঁধে ফেলো!

বাবা, ওরা এটা কীভাবে করছে?

মাইনথানসরা জলঘূর্ণিকে প্রত্যাখ্যান করে জেগে উঠেছে।

ওরা ঘূর্ণির বাতাস আর শক্তিকেই কাজে লাগিয়েছে

- এবং সমুদ্রের বুক চিরে দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসছে। - ওরা আমাদের কাছাকাছি চলে আসছে।

গতি বাড়াও!

তীরের সবাই অধীর আগ্রহে যে নৌকাগুলোর এক পলক দর্শনের অপেক্ষায় ছিল,

সেই নৌকাগুলো এখন তীরের কাছাকাছি আসতে শুরু করেছে।

ফিনিশিং লাইন তৈরি করো।

নৌকাগুলো তীরের কাছাকাছি চলে এসেছে।

তাড়াতাড়ি!

এই, কিট্টান, গতি বাড়াও!

সবগুলো নৌকা আমাদের দিকে আসছে।

আতঙ্কিত হয়ো না। আমরা এটা সামলে নেব।

- ভাই, ওরা ঘেষটে আসছে। - ওরা আমাদের গায়ে এসে ধাক্কা দেবে।

এই!

মায়াভা, পালটা ছেড়ে দাও।

- তাড়াতাড়ি! - ওরা কাছে চলে আসছে।

তাড়াতাড়ি করো, ভাই!

আটকে দাও! আটকে দাও!

ওদের যেন আমাদের সাথে আটকাতে না পারে।

তাড়াতাড়ি! কাউকে ছাড়বে না!

কাউকে ছাড়বে না!

ওদের যেন আমাদের টপকে যেতে না পারে!

নিজের জীবন বাজি রেখে হলেও এই রেস জেতার জন্য,

সাট্টা পুলি প্রতিপক্ষের নৌকা আটকে দেওয়ার তার সিগনেচার কৌশলটি কাজে লাগাল।

কিট্টান, মাস্তুলটা ভেঙে পড়ছে।

সাবধানে, দোস্ত!

সবাই নিচু হয়ে যাও! তাড়াতাড়ি!

সর্বনাশ! সুনামি রাইডার্সের নৌকা ভেঙে যাচ্ছে।

এই, দড়িটা খেয়াল করো!

কেন?

তুমি কেন এমন করছ?

ওকে মারো!

কিট্টান, তাড়াতাড়ি এসো! কিট্টান!

বাবা!

বাবা! বাবা!

এই, আমাদের নৌকায় চলে এসো। আমাদের নৌকায় চলে এসো।

তাড়াতাড়ি করো! নৌকা দুটোর জোড় ছাড়াতে হবে।

বাবা!

দুটো নৌকা একসাথে আসছে কীভাবে?

মনে হচ্ছে দারুণ প্রতিযোগিতা চলছে।

এদিকে দেখুন, সাট্টা পুলি দড়িতে পেঁচিয়ে বাঁচার জন্য ছটফট করছে।

সে আদৌ বেঁচে আছে কি না নিশ্চিত নয়।

দয়া করে একটা অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখুন।

ওদের মানতেই হবে।

ওরা সহজে জয় ছেড়ে দিচ্ছে না…

যে মাইনথানসরা জলঘূর্ণি থেকে বেঁচে ফিরেছে,

তারা নৌকার পিছনটা শক্ত করে আটকে ধরেছে যাতে কোনোভাবেই তা খুলে না যায়।

এর মানেটা কী?

এখন আমাদের নৌকা যদি এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করে, তবে সেটা সাট্টা পুলির নৌকাকেও সাথে টেনে নিয়ে যাবে

এবং ওদের প্রথম ফিনিশিং লাইন স্পর্শ করিয়ে দেবে।

নদীর বাঁধ যেমন প্রলয়ঙ্করী বন্যাকে আটকে দেয়,

সাট্টা পুলির কৌশল এখন তেমনই হুমকির সৃষ্টি করছে

কালির জয়ের সুযোগ ধীরে ধীরে হাতছাড়া হতে চলেছে।

এই, ধাক্কা দাও! ধাক্কা দাও! ধাক্কা দাও!

এই, কালি তো নৌকার পেছনের অংশে উঠে পড়েছে!

ওটা ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে!

লাথি মেরে নৌকার এমন শক্ত কাঠ ভাঙা কীভাবে সম্ভব?

তা সত্ত্বেও সে ভাঙার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আমি প্রার্থনা করি দেবী মারিয়াম্মান

এবং তার প্রয়াত গুরু মুনি আইয়্যার আশীর্বাদ যেন তার ওপর থাকে।

এটা সত্যিই এক অসাধারণ ব্যাপার! কত লড়াই করে তারা আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছে।

মুগাভাইপট্টিনামের মানুষ ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষা করছে এই ৬ জন বীরকে বিজয়ী হতে দেখার জন্য।

দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী ঘটে!

তাদের ভাগ্য নির্ধারণে মাত্র ১০০ মিটার বাকি রয়েছে।

ওহ্‌, খোদা! কালি অবশেষে নৌকার পেছনের অংশটি ভেঙেই ফেলল!

কালি!

কালি!

এই, ওকে সাহায্য করো।

মুগাভাই মাইনথানসরা এক নতুন ইতিহাস রচনা করল।

আজ থেকে ওদের 'মুগাভাই মাইনথানস ২.০' বলাই ঠিক হবে।

সবাই দয়া করে এই চ্যাম্পিয়নদের সালাম জানান।

দোস্ত, তুই সত্যিই অসাধারণ দক্ষ!

অথচ তুই সুইমিং পুলে পড়ে থেকে জীবন পার করছিলি।

এটাই তোর আসল জায়গা, দোস্ত।

চেন্নাইতে আবার ফিরে যাওয়ার ভুল করবি না।

তোদের ট্রফি নিতে ডাকছে।

চল।

- পুরো দল এখনো স্টেজে আসছে না কেন? - দোস্ত!

তুই না আসা পর্যন্ত মারি ট্রফি হাত দিয়ে ছুঁয়েও দেখবে না।

মঞ্চে উঠে আসুন!

মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে আপনাদের হাতে ট্রফি দেখার জন্য।

বাহ্! এই দৃশ্য দেখে...

সত্যিই নস্টালজিক মনে হচ্ছে, যেন আমরা ২০ বছর পেছনে ফিরে গিয়েছি।

মাইনথানসরা মুগাভাইপট্টিনামের মাথা গর্বে উঁচু করে দিল।

এই অনভিজ্ঞ ছেলেদের নিয়ে সে কী করবে, তা নিয়ে যখন সবাই সংশয়ে ছিল,

তখন কালি একাই সবাইকে ভুল প্রমাণিত করে দেখাল।

এতগুলো বছর ধরে এই খেলাটি সেম্মাতি বংশের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

কিন্তু কালি আজ চিরতরে তাদের তাড়িয়ে দিল।

সবাই একযোগে ওদের জন্য জোর করতালি দিন।

বহু বছর কেটে গেলেও,

কালির সমুদ্র দখলের দক্ষতার সামনে সাট্টা পুলি কোনোভাবেই টিকে থাকতে পারল না।

আমরা এই ঐতিহাসিক জয় আমাদের প্রবীণ মান্দাদি মাচামুনি আইয়্যাকে উৎসর্গ করছি।

আজ মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটি খেলোয়াড়ের মাঝেই যেন মুনি আইয়্যা জীবন্ত হয়ে উঠেছেন।

বীরত্বের এই ঐতিহ্যবাহী খেলাটি অবশেষে তার আসল ও প্রকৃত হকের মানুষের কাছে ফিরে এল।

আজকের পর থেকে সমুদ্রের বাতাস শুধু মান্দাদিদের জয়গানই গাইবে।

আর হাওয়া প্রচণ্ড গর্জাবে, এই পরিশ্রমী মানুষদের গুণগান গেয়েই!

-- অনুবাদ ও সম্পাদনায় -- ~জাহিদ হাসান~

সাবটাইটেল ভালো লাগলে রেটিং ও ফিডব্যাক কাম্য চাইলে অনুবাদককে এক কাপ কফি খাওয়াতে পারেন! NAGAD/BKASH : 01322075586

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.