Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bengali
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
English
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Indonesian
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
এটি আমার করা ৩য় বাংলা সাবটাইটেল।
ভুলত্রুটি হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার দরকার নাই কারন সময় নষ্ট করে আপনাদের জন্য বানিয়েছি । হাহা
অনুবাদ ও সম্পাদনা: Moshiur Rahman Facebook ID: facebook.com/moshclusive
♪ মর্যাদা আর রূপের আলো ছড়িয়ে সে এসেছে ♪
♪ বিয়ের স্বপ্নের আঙিনায় ♪
♪ তার মুখ জ্বলজ্বল করে নতুন চাঁদের মতো ♪
♪ সঙ্গে এনেছে ভালোবাসার অমূল্য উপহার ♪
♪ মর্যাদা আর রূপের আলো ছড়িয়ে সে এসেছে ♪
♪ বিয়ের স্বপ্নের আঙিনায় ♪
♪ তার মুখ জ্বলজ্বল করে নতুন চাঁদের মতো ♪
♪ সঙ্গে এনেছে ভালোবাসার অমূল্য উপহার ♪
♪ স্বপ্নিল লজ্জা সোনালি রেখার মতো ফুটে ওঠে ♪
♪ কোমল কিশোরী, হৃদয়ের গোপন কোণে জাগে আকাঙ্ক্ষা ♪
♪ কোন আকুলতায় তোমার নূপুর বেজে ওঠে? ♪
♪ সুন্দরী, বলো তো, তোমার মন কী গান গায়? ♪
♪ রঙিন সুগন্ধি জুঁইফুলের মতো ♪
♪ আশায় ভরা তার হৃদয় আবার ফুটে ওঠে ♪
♪ আজকের রাত ভোরের মতো উজ্জ্বল ♪
♪ হে স্রষ্টা, আজ এখানে যারা মিলেছে, সবাইকে আশীর্বাদ করো ♪
♪ সেজে ওঠো, সুন্দরী কনে ♪
♪ নূর, তুমি যেন সারা পৃথিবীর আলো ♪
♪ তোমার রূপের তুলনা নেই ♪
♪ আবুবকরের অমূল্য রত্ন তুমি ♪
♪ তোমার সৌন্দর্য আকাশের চেয়েও উজ্জ্বল ♪
♪ ভালোবাসায় ঝলমল করে তোমার বিয়ের গয়না ♪
♪ আজ তোমার সব স্বপ্ন পূরণ হোক ♪
♪ তোমার ভাই এসেছে, নেমে আসুক আশীর্বাদ ♪
♪ মিষ্টি এই রাত, ভালোবাসা আর সুখে ভরা ♪
♪ বর যেন তোমার হৃদয়ের আনন্দের প্রতিচ্ছবি ♪
♪ আকুলতায় তুমি ঝলমল করো, ঘুরে ঘুরে নাচো ♪
♪ তোমার আশা পাহাড় ছুঁয়ে যায় ♪
♪ পবিত্র রাতের বৃষ্টির মতো সুবাস ছড়িয়ে সে আসে ♪
♪ কী অপূর্ব এই বিয়ে! ♪
♪ স্বর্গীয় এক নতুন আলো ♪
♪ মধুর কথায় আর আনন্দে ভরে ওঠে চারদিক ♪
♪ প্রেমিকের কথায় কনে সম্মতি জানায় ♪
♪ তার হৃদয় ভরে যায় নতুন সত্যিকারের অনুভবে ♪
♪ সেজে ওঠো ♪
♪ সেজে ওঠো ♪
♪ সেজে ওঠো, সুন্দরী কনে ♪
♪ নূর, তুমি যেন সারা পৃথিবীর আলো ♪
♪ তোমার রূপের তুলনা নেই ♪
♪ আবুবকরের অমূল্য রত্ন তুমি ♪
♪ তোমার সৌন্দর্য আকাশের চেয়েও উজ্জ্বল ♪
♪ ভালোবাসায় ঝলমল করে তোমার বিয়ের গয়না ♪
♪ আজ তোমার সব স্বপ্ন পূরণ হোক ♪
♪ তোমার ভাই এসেছে, নেমে আসুক আশীর্বাদ ♪
♪ দুলতে থাকা দুলে জ্বলে ভালোবাসার আগুন ♪
♪ হৃদয়ে জ্বলে আকুলতার আগুন ♪
♪ পর্দা সরাও! ♪
♪ পথে যেন কোনো বাধা না থাকে! ♪
♪ সোনালি চাঁদ এসেছে, আকাশ তার পথ করে দিয়েছে! ♪
♪ পর্দা সরাও! ♪
♪ পথে যেন কোনো বাধা না থাকে! ♪
♪ আজ সোনালি চাঁদ এসেছে! ♪
♪ সেজে ওঠো, সুন্দরী কনে ♪
♪ নূর, তুমি যেন সারা পৃথিবীর আলো ♪
♪ তোমার রূপের তুলনা নেই ♪
♪ আবুবকরের অমূল্য রত্ন তুমি ♪
♪ এই পবিত্র রাতে চাঁদের সবচেয়ে মধুর আলো চুমু খায় ♪
♪ এই পবিত্র রাতে চাঁদের সবচেয়ে মধুর আলো চুমু খায় ♪
♪ সেজে ওঠো, সুন্দরী কনে ♪
♪ নূর, তুমি যেন সারা পৃথিবীর আলো ♪
♪ তোমার রূপের তুলনা নেই ♪
♪ স্বপ্নিল লজ্জা সোনালি রেখার মতো ফুটে ওঠে ♪
এত তাড়াতাড়ি এলে যে, সামাদ?
ভাই, আর দুটো দিন থাকতে পারলে না?
যেতেই হবে, বোন। ওখানে অনেক কাজ পড়ে আছে।
সামাদ, আমরা রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদপ্তর থেকে এসেছি।
আপনাকে এখনই হেফাজতে নেওয়া হবে।
তাহলে, সামাদ...
সকালের খবরে তোমার গ্রেপ্তারের খবর এসেছে?
না, আমার গ্রেপ্তারের কোনো খবর নেই।
তোমার ছবিও তো শোকসংবাদে দেখলাম না।
সামাদ...
তুমি আর আমি দুজনেই জানি, আমরা আসলে তোমাকে খুঁজছি না।
আমরা ওকে খুঁজছি।
তোমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুকে।
তার চেয়ে একটা সমঝোতায় আসা ভালো নয়?
এভাবে ঠাট্টা কোরো না, সামাদ।
১৩-বি...
ল্যান্ডমার্ক পিনাকল অ্যাপার্টমেন্ট...
লন্ডনের ক্যানারি ওয়ার্ফ।
এটা কি...
তার বর্তমান ঠিকানা নয়?
ওদের কথা নিশ্চয়ই শুনেছ।
ইংল্যান্ডের ভয়ংকর মাফিয়া দল, “বেকহ্যাম বয়েজ”।
ওদের বার্কলেজ ব্যাংকের হিসাবে ৮০ হাজার পাউন্ড পাঠালে...
আর ঠিকানাটা দিলে...
আমার ইচ্ছেমতো ওকে শেষ করে দেবে।
টুকরো করবে, ছুরি মারবে, গুলি করবে, কিংবা জীবন্ত পুড়িয়ে মারবে...
যেভাবে বলব, সেভাবেই কাজটা করবে।
কিন্তু আমি তা করব না, সামাদ।
আমি ওকে এখানে চাই।
আমার চোখের সামনে।
জ্যান্ত।
আচ্ছা, মিস্টার রাঘবন...
ছয় মাস আগে...
বেকহ্যাম বয়েজ এমনই একটা কাজের বরাত পেয়েছিল।
আপনি বলছেন, সে কথা জানতেন না?
কিন্তু দরটা এক ছিল না।
আপনার প্রস্তাবের চেয়ে ২০ হাজার পাউন্ড বেশি পুরস্কার ছিল।
কারণ খুনের আদেশদাতা চাইছিল...
আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুকে সারা রাত রক্তাক্ত অবস্থায় রেখে ধীরে ধীরে যন্ত্রণায় মরতে দিতে।
তার নাম কী?
- দাঁড়াও! - বাবা! বাবা!
তুমি কি ভাবছ, এখন আমাকে আদেশ দেবে?!
ওকে এখানে নিয়ে আসা পর্যন্ত আমি আর অপেক্ষা করতে পারছিলাম না!
চুপ কর!
হারামজাদা কুকুর, তোকে মেরে ফেলব!
স্যার, দয়া করে!
হাসি বন্ধ কর!
তোর মুখের হাসি মুছে দেব!
মিস্টার পানিকর!
এই নিন।
এটা আপনার ফোন।
মিস্টার পানিকর আপনাকে একটা নম্বর দেবেন।
নিজের ফোন থেকে নম্বরটায় কল করুন।
+44...
কল কর, শুধু কল কর!
তারপর দেখা যাক কী হয়।
+44...
৭৪৪...
৮৬৩১...
৭৯৮।
দেখাও তো!
মিস্টার পানিকর!
আমরা যেমনটা ভেবেছিলাম, ঠিক তাই।
দেখলেন?
এই নম্বরটা ওর ফোনে সেভ করা আছে।
আলি, UK ।
আর আলি হলো...
ওর বন্ধু আমির আলির ডাকনাম।
তাই তো?
এই নিন।
সামাদ, রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদপ্তর তোমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ পেয়েছে,
সেটা এই নম্বর থেকেই এসেছে।
সামাদ, ও চায় না তুমি দুবাই ফিরে যাও।
তোমরা দুজন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই সম্পদ গড়েছ...
সবকিছুই তো ওখানে, তাই না?
তুমি যদি এখানে আটকে থাকো, তাহলে সবকিছু...
ওর হয়ে যাবে।
ওর ওপর তোমার বিশ্বাসটা আমার ভালো লাগল...
কিন্তু এতে কোনো লাভ হবে না।
ফোন তো তোমার কাছেই আছে, তাই না?
ওকে কল করো।
ও নিজেই তোমাকে বলুক...
যে সে তোমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেনি।
স্যার, ও কখনো আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না!
সেটা প্রমাণ করতে ওকে ফোন করারও দরকার নেই।
আর ফোনে যা দেখালেন...
সব জালিয়াতি!
বিশ্বাসঘাতকতা!
বেশ!
বুঝলাম, ওর ওপর তোমার অন্ধ বিশ্বাস।
তবু আমাদের জন্য একবার ফোন করো।
সামাদ, ওর নিরাপত্তার কথা ভেবে দ্বিধা কোরো না।
ভারত আর ব্রিটেনের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি কার্যকর না থাকায়,
ওখানে সে নিরাপদ।
তাই ফোন করো।
আলি!
আমি কোঝিকোডে, রাজস্ব গোয়েন্দা অধিদপ্তরের অফিসে আছি।
মিস্টার রাঘবনও এখানে আছেন।
ওরা নাটক করছে, আর আমাকে একটা চিঠি দেখাচ্ছে, দাবি করছে সেটা তুই পাঠিয়েছিস।
ওরা বলছে, তুই নাকি আমার খবর দিয়েছিস।
স্পিকারে দেওয়া হয়েছে।
নিজেই ওদের বল।
আমরা মৃত্যুর মুখোমুখি হলেও...
কেউ কারও সাথে কখনো বিশ্বাসঘাতকতা করব না, এটা বল।
আমার কথা শুনতে পাচ্ছিস না?
হ্যালো, আলি!
শুনতে পাচ্ছিস?
আলি!
হ্যালো?
ওরা সত্যি বলছে, সামাদ।
আমিই তোর খবর দিয়েছি।
হ্যালো? আলি?
আলি! দাঁড়া!
হ্যালো?!
ছি! কী লজ্জা!
কুয়াবা এভার রোলিংয়ের একাদশ ট্রফি কে জিতবে?
সবকিছু নির্ধারণের জন্য বাকি মাত্র একটি বল!
এক বলে জিততে মোকাম স্টারসের দরকার তিন রান, কিংস অব কুট্টিপুরের বিপক্ষে।
কিংস অব কুট্টিপুরের হয়ে শেষ বলটি করবেন...
তাদের তারকা, মালাবারের ম্যাকগ্রা...
আমির আলি!
♪ খাঁটি রত্নের মতো, যার আলো ছড়িয়ে পড়ে সবখানে ♪
♪ আজ এই মাটিতে বোনা হচ্ছে এক মহিমান্বিত উত্তরাধিকারের বীজ ♪
♪ হাজার যোদ্ধার শক্তি, কিংবদন্তির অজেয় তরবারি ♪
♪ তার কীর্তি দেখতে স্বয়ং ঈশ্বরও থমকে যান বিস্ময়ে ♪
♪ মালাবারের নেতা ♪
♪ চারদিকে উত্তেজনার ঢেউ ♪
♪ মালাবারের নেতা ♪
আলি!
উইকেট ফেলে দে!
কেন?
♪ মালাবারের নেতা ♪
♪ বিপদের দিনে আমাদের ত্রাণকর্তা! ♪
সামাদ!
সামাদ বলটা ফেলে দিয়েছে!
বলটা সীমানার বাইরে গড়াচ্ছে... চার রান!
♪ সে যেন প্রভুর ঝলমলে ধনুক ♪
♪ মহামহিমের আলো বয়ে নেয় সাগর পেরিয়ে ♪
♪ কী দুর্দান্ত তার খেলা! ♪
♪ কী দাপুটে এই মাঠ! ♪
সত্যি বলছি, আলি...
আজ তোর বোলিং একদম বাজে ছিল।
সেই জন্যই তো আমরা হেরেছি।
নিজে এমন সহজ বলটা মিস করে আমাকে দোষ দিস না।
এভাবে চোখে রোদ পড়লে যে কেউ বলটা মিস করত!
তোর বাজে বোলিংয়ের জন্যই হার!
বোলিং খারাপ ছিল, আর আমি সবার সামনেই বলব।
আচ্ছা! এবার নাম।
ঠিক আছে, সন্ধ্যায় দেখা হবে।
সন্ধ্যায় ক্লাবে রানার্স-আপের কাপটা আনতে ভুলিস না।
ভেবে দেখব।
- আলি, ভেতরে আসবে না? - না, আয়েশা আম্মা।
বাড়ি ফিরে আম্মাকে পালুসেরিতে নিয়ে যেতে হবে।
নূরজাহানকে আমার সালাম দিও।
দেব।
এটা জিতেছ?
আমাকে কী মনে হয় তোমার, আম্মা?
এবার খাবার দাও, ক্ষুধায় পেট জ্বলছে!
- এটা ধরো। - এসো।
এটার কি আর শেষ নেই?
খাও!
আম্মা, সবই তো কার্বোহাইড্রেট!
সালাদ খেয়েই থাকতাম, তুমি জোর করে এখানে আনলে।
মাঝেমধ্যে একটু ভাত খেলে শরীর নষ্ট হবে না।
তা ছাড়া...
কাপড়ের দোকান চালাতে যতটা পেশি লাগে, তোমার তার চেয়েও বেশি আছে।
আম্মা, এ নিয়ে আমরা কতবার কথা বলেছি।
ওটা “এক্সক্লুসিভ মেনস ফ্যাশন সেন্টার”।
কাপড়ের দোকান বলে ওটার অপমান কোরো না।
আচ্ছা, ঠিক আছে।
আরও একটু নাও।
পেট ভরে গেছে!
- এত চেঁচামেচি কিসের? - কিছু না!
এই যে!
আর কতবার বলতে হবে?
আমি আছি বলে খাওয়ার মাঝখানে উঠে দাঁড়ানোর দরকার নেই।
শান্ত হও, বাবা। তোমার সম্মানে উঠিনি।
খাওয়া শেষ, এবার হাত ধুতে যেতে পারি?
তোমারও ডায়েট করা উচিত।
চুপ কর!
- তুমি কি বেরোবে? - হ্যাঁ, যেতে হবে।
ঝামেলা একটু কমলে তোমার বাবার সঙ্গে দেখা করব, তাঁকে বোলো।
আচ্ছা, তাহলে।
হ্যাঁ, আপা।
আজকাল ও সব সময় কী যেন ভাবে।
কী হয়েছে জিজ্ঞেস করলেও কিছু বলে না।
কী ব্যাপার, আব্বা?
কিছুদিন আমার সঙ্গে কোডুভাল্লিতে এসে থাকো।
- কী বলো? - দারুণ হবে, আম্মা!
অন্তত আমার সঙ্গ তো হবে।
দাদু, আজ আমরা গেলে তোমাকেও সঙ্গে যেতে হবে, ঠিক আছে?
যাব।
তবে একটা কথা...
ইশ, যদি সেই দিনটা দেখে যেতে পারতাম, তাতে অংশও নিতে পারতাম।
তোমার বিয়ে।
আমার এই ইচ্ছেটা পূরণ করলে...
আমি আনন্দের সঙ্গেই যাব।
আব্বা...
আপনার মেয়ে নূরজাহান কথা দিচ্ছে...
রমজানের আগেই আলির বিয়ে দেব।
এ আমার প্রতিশ্রুতি!
আম্মা, কী হয়েছে তোমার?
দাদু দুশ্চিন্তায় কথাটা বলেছে বলে...
তুমি এত সিরিয়াসলি নিলে?
রমজানের আগে বিয়ে? সত্যি নাকি?
এটা শুধু দুশ্চিন্তার ব্যাপার নয়, আলি।
আমি জানি, বাবার শেষ ইচ্ছা তোমাকে বিয়ে করতে দেখা।
আচ্ছা, বিয়ের কথা উঠলেই তুমি অস্বস্তিতে পড়ো কেন?
সত্যিটা বলো।
তোমার কোনো সমস্যা আছে?
তোমাকে গাড়ি থেকে ফেলে দেব।
যথেষ্ট হয়েছে!
শোনো, আলি।
তোমার জন্য কেমন মেয়ে চাই, সেটা আমার একদম পরিষ্কার জানা আছে।
তাই নাকি?
হ্যাঁ!
চুন্ডাইলের বাথুর মেয়ের বাগদানে গিয়েছিলাম...
একটা মেয়েকে দেখলাম, একেবারে আমার মনের মতো!
ভীষণ ভদ্র!
সুন্দরীও বটে, তোমার জন্য একদম উপযুক্ত।
তবে ওদের আর্থিক অবস্থার কথা ভাবলে...
আহা, সেটাও ভেবে রেখেছ?
অবশ্যই! আমাদের সমমর্যাদার হওয়া উচিত নয়?
অবশ্যই।
আচ্ছা...
মেয়েটা কে?
বাথুর নতুন প্রতিবেশী।
পোস্ট অফিসের উল্টো দিকের বাড়িটা মনে আছে?
আন্থরুক্কার বাড়ি? ওরা নতুন ভাড়া নিয়েছে।
একজন শিক্ষিকা আর তাঁর দুই মেয়ে।
মেয়েটা বড়।
দশটা বেজে গেছে, হয়তো চলে গেছে।
তৈরি হতে ওর এত দেরি হলো!
ওই যে! বাথুমার মেয়ে রাজিয়া।
- তাতে কী? - তুমি বুঝছ না।
ওরা একসঙ্গে হেঁটে কম্পিউটার ক্লাসে যায়।
ফিজা!
ও এখনই এসে পড়বে।
চলো, ওদের পিছু নিই।
দাঁড়াও!
রাজিয়া!
আলি ভাই!
তোমার বাগদানে আসতে পারিনি, দুঃখিত...
তবে বিয়েতে অবশ্যই আসব।
তুমি ফিজা, তাই তো?
তুমি ওকে চেনো?
বলতে গেলে...
আম্মা ওর কথা বলেছেন।
আম্মার কল্পনায় আমার হবু বউয়ের যে চেহারা...
সেটা নাকি তোমার মুখের মতোই।
♪ আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি মহান ♪
তাহলে আমি যাই?
♪ আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি মহান ♪
♪ আমার হৃদয়ে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই ♪
ভাই, তাহলে আম্মার পছন্দ তোমার ভালো লেগেছে?
♪ হে পূর্ণিমার চাঁদ, তার সামনে তুমি যেন একফালি চাঁদ ♪
♪ সে আমার হৃদয় ভরিয়ে দিয়েছে, ভাষায় যা বলা যায় না ♪
♪ পরিপূর্ণ সৌন্দর্যের অধিকারিণী ♪
♪ পবিত্র গ্রন্থ আমার প্রার্থনায় সাড়া দিয়েছে ♪
♪ আর দিয়েছে আমার দুর্লভ ধন ♪
♪ পবিত্র অঙ্গীকার নিয়ে এসেছি, সঙ্গে এনেছি মূল্যবান দেনমোহর ♪
♪ রেশমি পর্দার মতো কোমল হয়ে, নিয়তির লেখা জায়গাতেই থেকো ♪
♪ মালাবার তোমাকে নিয়ে গর্ব করে ♪
♪ এ তোমার ডাল, এ তোমার আশ্রয়, কাছে এসো হরিণী ♪
♪ তুমি পূরণ হওয়া এক মোহন স্বপ্ন, শিশিরভেজা মধুর ফুল ♪
♪ প্রভুর কৃপায় তোমার কাছে পৌঁছেছি ♪
♪ তুমি আমার সব প্রার্থনার উত্তর ♪
♪ স্বর্গে গড়া এক প্রাণ ♪
♪ আমার হৃদয়ের গাওয়া সবচেয়ে মধুর গান ♪
♪ কাজলকালো চোখে সত্যিকারের ভালোবাসার আভা ♪
♪ তোমার প্রেমে গলে গিয়ে শুধু তোমার সম্মতিই চাই ♪
♪ গভীর হৃদয়ের সাগরে ঢেউ হয়ে জেগে উঠেছ ♪
♪ আমার অন্তরে লুকোনো আলো ♪
♪ আকাশে জ্বলে, সবাই যেন দেখতে পায় ♪
♪ হৃদয়ের গভীরে থাকো, দিনরাতের সবচেয়ে সুন্দর প্রার্থনা হয়ে ♪
আমরা যদি একটু বিনিয়োগ করে জায়গাটা নতুন করে সাজাই...
তাহলে আগের মতো আবার জমজমাট হয়ে উঠতে পারে।
তখন প্রতি মাসে তোমার কাছ থেকে টাকা নিতে হবে না।
কোনো সমস্যা নেই।
আলি বাবা...
তুমি কি বরং এই দোকানটা চালাতে পারো না?
দুঃখিত, হামজা দাদু।
এসব আমার ভালো লাগে না।
আমার পথ একেবারেই আলাদা।
♪ আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি মহান ♪
♪ আমার হৃদয়ে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই ♪
♪ পবিত্র নবী মুহাম্মদের আলো ছড়িয়ে পড়ুক ♪
♪ আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি মহান ♪
♪ আমার হৃদয়ে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই ♪
♪ পবিত্র নবী মুহাম্মদের আলো ছড়িয়ে পড়ুক ♪
♪ রাতের নীরবতায় আসমানি লওহে লেখা নিয়তি ধরে তুমি এলে ♪
দাদুর অবস্থা খুব সংকটজনক।
শেষ ইচ্ছা, আমাকে বিয়ে করতে দেখে যাবেন।
♪ আমার তীরে এসে, হে প্রাণের প্রাণ... ♪
♪ স্বর্গের ফুল হয়ে আমার জীবনে ফুটে উঠেছ ♪
♪ তোমার কোমল চোখ দুটো মৃদু আলোয় জ্বলে ♪
♪ স্বপ্নের মতো কাছে এসে ফিসফিস করে ♪
আম্মা...
আমরা ওই রকম মেয়ে চাই না।
আমরা ঠিক ওকেই চাই।
♪ প্রার্থনা করি, তুমি আমার অন্তরে চিরকাল থেকে যাও ♪
♪ ওই আলোর দিকে একবার তাকালেই প্রেমে মুগ্ধ হয়ে যাই ♪
♪ তার কারণে পুরো পৃথিবী সুন্দর হয়ে ওঠে ♪
♪ প্রভু আমার জন্য যা লিখেছেন, হাতে ছুঁয়ে দেখেছি ♪
♪ ভালোবাসা তীরে পৌঁছে আমার হৃদয়কে আবার বাঁচিয়েছে ♪
♪ নিয়তির আঁকা পথ চিনেছে আমার হাত, প্রেমের নোঙরে মিলেছে দুই প্রাণ ♪
♪ স্বর্গে গড়া এক প্রাণ ♪
♪ আমার হৃদয়ের গাওয়া সবচেয়ে মধুর গান ♪
♪ কাজলকালো চোখে সত্যিকারের ভালোবাসার আভা ♪
♪ গভীর হৃদয়ের সাগরে ঢেউ হয়ে জেগে উঠেছ ♪
♪ আমার অন্তরে লুকোনো আলো ♪
♪ আকাশে জ্বলে, সবাই যেন দেখতে পায় ♪
♪ হৃদয়ের গভীরে থাকো, দিনরাতের সবচেয়ে সুন্দর প্রার্থনা হয়ে ♪
মাননীয় মন্ত্রী, আর ছাড় দিতে বলবেন না, দয়া করে।
আমি আর পারছি না।
আমার অবস্থা এটাই।
স্যার, ৮ কোটি রুপির অত্যাধুনিক নির্মাণযন্ত্র অর্ডার দিয়েছি
ছয় মাস আগে জার্মানির লিবহের কোম্পানি থেকে...
ভেবেছিলাম, পাওনা টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে।
কনটেইনারটা কাল কোচি বন্দরে পৌঁছাবে।
এমনকি আমাদের থাকার পারিবারিক বাড়িটাও বন্ধক রেখেছি...
সাময়িকভাবে টাকা জোগাড় করার জন্য।
তোমার অবস্থা বুঝতে পারছি, ইউনুস।
কিন্তু তুমি তো জানো...
এটা একা আমার ক্ষমতায় মঞ্জুর করা সম্ভব নয়।
তবু আমাকে আরও কয়েকটা দিন দাও।
আরেকবার চেষ্টা করতে দাও।
আর একটা কথা...
দলীয় সম্পাদক মিস্টার রাঘবনের সঙ্গে দেখা করো।
জোট কীভাবে চলে, তা তো জানো।
তিনি একবার বললেই...
তোমার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে...
কয়েক মিনিটের মধ্যেই।
আলি...
তোমার মনে কী চলছে, আমি জানি।
এর আগেও এমন অনেক সংকটের মুখোমুখি হয়েছি।
সব সমস্যারই সমাধান করেছি।
সেই কারণেই...
এসবের কিছুই তোমাকে বা তোমার মাকে বলিনি।
কিন্তু এবার বুঝতে পারছি না...
ভয় হচ্ছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
শুধু চেয়েছিলাম তুমি ঘটনাটা জানো।
তাই আজ তোমাকে সঙ্গে এনেছি।
আর মন্ত্রীর পরামর্শমতো...
দলীয় সম্পাদক মিস্টার রাঘবনের সঙ্গে দেখা করব?
হ্যাঁ, দেখা করা উচিত।
তবে আগে কাল চালানটা বুঝে নিই।
- নমস্কার, স্যার। - নমস্কার।
- ওরা শুরু করেছে? - হ্যাঁ।
ইনি গোপাকুমার, আমাদের কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্ট।
তাড়াতাড়ি এসো, ভেতরে সবাই অপেক্ষা করছে।
গোপাকুমার, উনিই চালানের মালিক?
- হ্যাঁ, স্যার। - নমস্কার।
- খুলুন। - ঠিক আছে, স্যার।
হিসাব ঠিক আছে, স্যার।
শুল্কযোগ্য কোনো পণ্যও পাওয়া যায়নি।
তাহলে চালান ছাড়ের অনুমতি দিন।
স্যার!
এই পণ্যটা তালিকায় নেই।
আপনি নিশ্চিত, তালিকায় নেই?
হ্যাঁ, স্যার।
এটার ওপর শুল্ক দিতে হবে।
স্যার, একটা ঘড়ি মাত্র। এটা কি ছেড়ে দেওয়া যায় না?
আমাকে দেখতে দিন।
স্যার, এটা...
স্যার, কসম করে বলছি, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। আমি নির্দোষ।
আপনার কথা সত্যিও হতে পারে।
কিন্তু এ ধরনের ক্ষেত্রে প্রাপককেই দায় নিতে হয়।
তাই এখন আপনাকে আমাদের সঙ্গে যেতে হবে, মিস্টার ইউনুস।
- আপনি ওর ছেলে, তাই তো? - হ্যাঁ।
আপনার বাবাকে এখন আমাদের সঙ্গে যেতে দিন।
চিন্তা করবেন না।
কাস্টমস অফিসে আমাদের সঙ্গে দেখা করবেন।
সেখানে কথা হবে।
স্যার, আমার বাবা নির্দোষ।
বলেছি তো, সেখানে কথা হবে।
না, ওরা তাঁকে অফিসে নিয়ে গেছে।
এখন ভেতরেই আছেন।
সত্যি?
আচ্ছা।
- ম্যাডাম... - বলুন?
আমার বাবা অনেকক্ষণ ধরে ভেতরে আছেন।
অপেক্ষা করো, কর্মকর্তা তোমাকে ডাকবেন।
সম্প্রতি কাস্টমসের জব্দ করা সবচেয়ে বড় সোনার চালানগুলোর একটি এটি।
এর মূল্য আনুমানিক দুই কোটি রুপি।
আর এই লোকই অভিযুক্ত।
- বাবা! - আলি!
কোডুভাল্লি, কোঝিকোডের বাসিন্দা।
ইউনুস আলি।
আপনারা হয়তো তাকে চেনেন না...
কিন্তু মিস্টার ইউনুসের কাঁধে আছে এক ভারী উত্তরাধিকার।
এমন এক উত্তরাধিকার, যা কাস্টমস কিংবা এই রাজ্যের সংবাদমাধ্যম...
সহজে ভুলতে পারবে না।
মামব্রাক্কাল আহমেদ আলি।
কফেপোসার মতো কঠোর আইন [ভারতে বৈদেশিক মুদ্রা ও চোরাচালান প্রতিরোধ আইন]...
বিশেষভাবে তৈরি হয়েছিল এই কুখ্যাত সোনা পাচার সম্রাটকে দমাতে।
আর আহমেদ আলির একমাত্র ছেলে...
এই লোকটি, ইউনুস আলি।
বাবার মতো প্রকাশ্যে পাচারকারী হিসেবে পরিচিত হতে চাননি ইউনুস।
তাই অত্যন্ত গোপনে নিজের ব্যবসা চালাতেন।
ইউনুস গণপূর্ত বিভাগের ঠিকাদার।
তবে আহমেদ আলির প্রতিষ্ঠিত কোডুভাল্লির গয়নার দোকানটি
এখনো তিনিই চালান।
নিজের ওই দোকানকেই তিনি আড়াল হিসেবে ব্যবহার করতেন...
সব অবৈধ কর্মকাণ্ডের জন্য।
ঠিক আছে, স্যার। পরে আপনাকে ফোন করছি।
ধন্যবাদ।
ব্যাপারটা কঠিন হবে, কফেপোসা আইন প্রয়োগ করা হয়েছে।
মানে, এক বছর পর্যন্ত প্রতিরোধমূলক আটক হতে পারে।
জব্দ করা সোনার মূল্যের ৩০ শতাংশ জমা দিতে হবে...
তবেই আপিল করার সুযোগ পাব।
- মূল্য দুই কোটি রুপি ধরেছে, তাই তো? - হ্যাঁ, স্যার।
তাহলে দুই কোটির ৩০ শতাংশ...
মানে ৬০ লাখ রুপি জোগাড় করতে হবে।
টাকাটা অবিলম্বে জোগাড় করো।
তবেই আমরা পরের পদক্ষেপ নিতে পারব।
জোগাড় করব, স্যার।
এখনই ব্যবস্থা করছি।
তবে তার আগে...
আমি কি বাবার সঙ্গে দেখা করতে পারি?
হ্যাঁ, ব্যবস্থা করছি। চিন্তা কোরো না।
[জেলা কারাগার, এরনাকুলাম]
তোমার মা আর ফিজা কেমন আছে?
কিছুক্ষণ আগেই ওরা ফোন করেছিল।
কাস্টমস বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে।
বাবা...
কাজের জায়গায় কি আপনার কোনো শত্রু আছে?
অনেক আছে।
তবে আমার মনে হয় না, ওদের কেউ এর পেছনে আছে।
তাহলে কে?
প্রায় দুই মাস আগে...
দলের সহকারী সম্পাদক পোনাভেল রাঘবন আমাকে ফোন করেছিলেন।
বললেন, জরুরি ভিত্তিতে আমার সঙ্গে দেখা করতে চান।
তাই দেখা করতে গিয়েছিলাম।
হ্যালো, ইউনুস।
- মিস্টার রাঘবন। - কেমন আছ?
ওকে চেনো তো? হ্যারিস বশির।
হ্যাঁ, চিনি।
কালিকট গ্লোবালের...
হ্যাঁ, সে-ই ম্যানেজিং ডিরেক্টর।
স্বাস্থ্যসেবা, হোটেল আর নির্মাণ ব্যবসার পাশাপাশি...
দেশে-বিদেশে তার প্রায় একশটি গয়নার শোরুম আছে।
সে আমার ছোট ভাইয়ের মতো।
দুঃখিত, একটা মিটিংয়ে আটকে গিয়েছিলাম।
- বসুন। - ধন্যবাদ।
তোমার বাবার কথা অনেক শুনেছি, ইউনুস।
তিনি আমার বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন।
বেশ মজার কথা।
শোনো, হ্যারিস...
ইউনুস এসব নিয়ে মাথা ঘামায় না।
নইলে বাবার গড়ে দেওয়া এত প্রভাব আর সম্পদ হাতে থাকা সত্ত্বেও
সরকারি ঠিকাদারির কাজ করবে কেন?
ইউনুস...
তোমার সাহায্য দরকার।
জার্মানি থেকে যে নির্মাণযন্ত্রের কনটেইনার অর্ডার করেছ...
সেটা আগামী সপ্তাহে দুবাই বন্দরে ট্রানজিটের জন্য পৌঁছাবে, তাই তো?
অনুমতি দিলে...
ইউনুস...
বন্দরে আমাদের লোকজন খুব গোপনে কনটেইনারের মাল বদলে দেবে।
দুবাইয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা হ্যারিস করে রেখেছে।
বদলে দেওয়া কনটেইনারটা কোচি পৌঁছালে...
তার ভেতরে আমাদের প্রায় একশ কেজি মাল থাকবে।
এত ভয় পেয়ো না।
সোনা।
কোচি বন্দরেও যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেটাও আমরা দেখব।
তোমার কাজ শুধু মালটা গ্রহণ করে নিরাপদে আমাদের হাতে তুলে দেওয়া।
বিনিময়ে...
সরকারের কাছে তোমার যে কোটি কোটি রুপি পাওনা পড়ে আছে...
মাসের পর মাস ধুলো জমছে যেগুলোর ওপর...
আমি সেগুলো ছাড় করিয়ে দেব।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই।
তারপর আপনি কী বলেছিলেন, বাবা?
মিস্টার রাঘবন...
জ্ঞান হওয়ার পর থেকে...
আমি শপথ করেছি, বাবার পথে হাঁটব না।
কবর পর্যন্ত সেই শপথ রেখেই যাব।
আপনাদের সরকার অন্যায়ভাবে আটকে রেখেছে আমার টাকা...
যা সৎভাবে পরিশ্রম করে উপার্জন করেছি।
সেটা ফেরত পেতে এমন নোংরা চুক্তির প্রয়োজন নেই।
এরপর কী হয়েছিল, জানি না, আলি।
এখন সত্যি বললেও আমাকে কে বিশ্বাস করবে?
কফেপোসা...
তাহলে এটাই ওদের সাজানো গল্প?
জানো, আলি?
উত্তর ভারতে...
সুকুর নারিন বাখিয়া আর হাজি মস্তান রাজত্ব করত।
আর দক্ষিণে ছিল মুদালিয়ার...
তোমার দাদু।
মামব্রাক্কাল আহমেদ আলি।
এই চারজনই ছিলেন ইন্দিরা গান্ধীর দুঃস্বপ্ন।
তাই ১৯৭৪ সালে সংসদে কফেপোসা আইন পাস করান তিনি।
মিসা [ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা আইন]...
ডিআইআর...
আর জরুরি অবস্থা জারিরও আগে-পরে।
এসব আইনে বাখিয়া, মস্তান আর মুদালিয়ারকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
কফেপোসার এত কঠোরতার পরও...
আহমেদ আলিকে আধঘণ্টাও জেলে আটকে রাখা যায়নি।
আর আজ আমাদের নির্দোষ ছেলে ইউনুসকে ফাঁসানো হচ্ছে...
আলি, ইনি সেবাস্টিয়ান। যে কর্মকর্তার কথা বলেছিলাম।
সাবেক কাস্টমস কমিশনার।
ভেতরে আসুন।
- পৌঁছেছে? - হ্যাঁ।
অল্প একটু নড়াচড়া করছে শুধু।
হামজা সাহেব যখন কোনো সাহায্য চান...
তা উপেক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
তখনও নয়...
এখনও নয়।
আমির, তোমার নাম তাই তো?
হ্যাঁ।
বাবা বলেছেন বলে শুধু এ কাজ করছি না।
তোমার বাবার মামলাটা সত্যিই সন্দেহজনক মনে হয়েছে বলেই দেখা করতে রাজি হয়েছি।
আর আমাদের মধ্যে কথা হচ্ছে, তাই খোলাখুলি বলছি।
বহু বছর ধরে আমাদের রাজ্যে কাস্টমস আর চোরাকারবারিরা
পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে কাজ করে আসছে।
জনগণ আর সংবাদমাধ্যমকে দেখানোর জন্য...
মাঝেমধ্যে পাচারকারীরা নিজেরাই একজন বাহককে কাস্টমসের হাতে তুলে দেয়।
সাধারণত সে হয় দরিদ্র, মরিয়া কোনো প্রবাসী...
সামান্য কমিশনের বিনিময়ে যাকে ভাড়া করা হয়...
আধা কেজি বা এক কেজি সোনা বহন করতে...
গুঁড়ো দুধের কৌটায় কিংবা অন্তর্বাসে লুকিয়ে।
এই ধরপাকড়কেই সংবাদমাধ্যমে “বড় সোনার চালান উদ্ধার” বলে চালানো হয়।
কিন্তু এবার পুরোনো কৌশল আর কাজে লাগছিল না।
প্রায় দুই মাস আগে মাতৃভূমি পত্রিকায় বড় প্রতিবেদন বেরোয়, শিরোনাম “সোনা পাচারের আড়ালের সত্য”...
প্রায় দুই মাস আগে।
তারপর আধা কেজি বা এক কেজি সোনা ধরলেই আর চলছিল না।
এবার ওদের দরকার ছিল নির্দিষ্ট একজনকে...
যাকে দেখিয়ে দোষ চাপানো যায়।
তাই তোমার বাবাকেই বেছে নিয়েছে।
কারা...
“ওরা” বলতে কাদের বোঝাচ্ছেন?
নাম বলতে পারব না।
তবে যতটুকু তথ্য পেয়েছি...
কিছুদিন আগে তারা তোমার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে...
তার চালানকে আড়াল করে বিশাল একটা চালান আনার পরিকল্পনা নিয়ে।
তোমার দাদুর কুখ্যাত অতীতের কারণে...
আর কোডুভাল্লির গয়নার দোকানটার জন্য...
তোমার বাবাই ছিল ওদের খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য বলির পাঁঠা।
আলি।
বাবাকে ছাড়াতে কেন আম্মা আর স্ত্রীর সোনা বিক্রি করব...
কিংবা মানুষের কাছে হাত পাতব?
ওরাই তো তাঁকে ফাঁসিয়েছে।
পোনাভেল রাঘবন আর হ্যারিস বশির।
তাহলে বাবার মুক্তির খরচ ওদের টাকায় মেটাব না কেন?
তোমার মাথায় কী চলছে?
অ্যামবুশ [ওত পেতে হামলা]।
ওদের পরের চালানে...
আমি ওদের ওপর হামলা চালাব।
বাহ, বাছা!
আগুন নেভাতে আগুনই লাগে!
এবার প্রমাণ করলে তুমি মামব্রাক্কাল আহমেদ আলির সত্যিকারের নাতি।
আর যে সোনা দখল করবে, সেটা বিক্রি করা নিয়ে ভাবতে হবে না।
তার অনেক রাস্তা আছে।
শোনো, আলি...
এই বুড়ো পাচারকারীদের কথায় হঠকারী কিছু কোরো না।
ফাঁদ পাতা খুব বিপজ্জনক খেলা।
শেষ পর্যন্ত আমাদেরই বিপদ হবে।
তাহলে আমার আর কী উপায় আছে?
পাওনা টাকা আটকে আছে, বাড়ির দলিলও বন্ধক।
এমনকি কাপড়ের দোকান বিক্রি করতে চাইলেও...
এত তাড়াতাড়ি ক্রেতা পাব কোথায়?
আমার আর কোনো পথ নেই, সামাদ।
তুমি কিছু বললে না।
যেটা ঠিক মনে হয়, সেটাই করো, প্রিয়।
যা-ই হোক, তোমার বাবাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনতে হবে।
ওদের সোনা পাচারের প্রধান পথ...
রাঘবনের রাজনৈতিক প্রভাবে তিরুবনন্তপুরম বিমানবন্দর দিয়ে যায়।
কালিকট বিমানবন্দর দিয়ে খুব কমই সোনা আনে।
তবে আমি যা জেনেছি...
আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কালিকট দিয়ে দশ কেজি সোনা আনার পরিকল্পনা আছে।
দুই সপ্তাহের মধ্যে।
বাহক হিসেবে তিনজনের একটি পরিবারকে ব্যবহার করবে।
এখনকার হিসাবে তারিখ ২৮।
তবে তারিখ পিছিয়েও যেতে পারে।
আরেকটা চালান সড়কপথে যাবে।
আগামীকাল সন্ধ্যায় এখান থেকে মহীশূরে ছয় কেজি সোনা নিয়ে যাবে।
তবে সেটাতে হামলা চালানো খুব ঝুঁকির।
সব ঠিক আছে তো?
কী মতলব তোর, হারামজাদা? ফাঁদ পাততে এসেছিস?
তুই কে?
তোকে আগে এখানে দেখিনি।
আমার নাম আমির আলি।
ইউনুস আলির ছেলে। কয়েক দিন আগে কাস্টমস তাকে সোনা পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে।
বাবার হয়ে মামলা লড়তে আমার এক কোটি রুপি দরকার।
তাই...
তিনটা নিয়ে যাব।
মাত্র তিনটি কেন?
পারলে সবটাই নিয়ে যা।
আমি পারব।
কিন্তু আমার সবটা দরকার নেই।
আমি জানি, আমার রক্তে একজন পাকা চোরাকারবারির সব গুণ আছে।
তোর নেতাকে গিয়ে বলিস...
এই আগুনে যেন আর ঘি না ঢালে।
হামজা!
অনেক দিন পর!
- কেমন আছ? - ভালো আছি।
সাইতুজি, এ আমির।
আমির...
মহান আহমেদ আলির নাতি...
তুমি তো জানো...
আমরা বন্ধু ছিলাম...
ব্যবসার অংশীদার...
আর ভাইয়ের মতো।
এসো, আমার সঙ্গে এসো।
কোচিতে নগদ টাকা চাই, ঠিক তো? - হ্যাঁ।
তোমার বলা সময়েই তৈরি থাকবে।
কোনো সাহায্য লাগলে আমাকে বলবে।
আশা করি, এই মামলাটা মিটে যাবে...
আর ইউনুস যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মুক্তি পাবে।
সাইতুজি।
এখন হয়তো আমাদের আর ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই...
তবু অতীতে আমরা কিছু নিয়ম ঠিক করেছিলাম।
সুবিধামতো সেগুলো ভুলে গেছ বলে মনে হচ্ছে।
যেমন এই নিয়মটা।
আমাদের মধ্যে অলিখিত নিয়ম ছিল, আমরা কখনো কারবার করব না...
অ্যামবুশে লুট করা সোনা বেচে বেড়ানো বেওয়ারিশ কুকুরদের সঙ্গে।
হ্যারিস।
ওসব বলার আগে...
আমাদের ব্যবসায় যে আরও কিছু নিয়ম ছিল, সেগুলো মনে করিয়ে দিই।
যেমন...
নিজেদের বাঁচাতে নির্দোষদের বলি দেওয়া যাবে না...
এটাই ছিল নিয়ম।
কিন্তু তবু...
তুমি ঠিক সেটাই করেছ।
সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার...
তুমি সেটা করেছ আহমেদ আলির পরিবারের সঙ্গে।
আমির যত দিন আমার সাহায্য চাইবে...
আমি ওর পাশেই থাকব।
তাহলে ব্যাপারটা পরিষ্কার।
তুমি নিজের পক্ষ বেছে নিয়েছ, সাইতুজি।
বেশ, বেশ!
আমির।
যে সোনা তুমি দখল করেছ, সেই টাকায়...
বাবাকে জামিনে ছাড়াতে পারবে হয়তো।
কিন্তু...
ব্যাপারটা তো সেখানেই শেষ হচ্ছে না, তাই তো?
তোমার বাবার কোটি কোটি রুপি পাওনা...
কেরালা সরকারের দপ্তরে এখনো ধুলো জমাচ্ছে।
আমার সোনা লুট করেছ, সেটা আমি মেনে নিতে পারি।
কিন্তু...
ওই নোংরা হাত দিয়ে আমার পাওনায় হাত দিয়েছ...
দেখা যাবে!
বাবা!
♪ সূর্যগ্রহণে ঢেকে যায় আকাশ ♪
♪ দিনের আলো নিভে আসে ♪
♪ রাতের ভৌতিক অরণ্য থেকে জেগে ওঠে ভয়ংকর বিদ্রোহ ♪
সুদসহ এখন পাওনা প্রায় নয় কোটি রুপি।
এক মাসের মধ্যে অন্তত অর্ধেক শোধ করুন, তাহলে মামলা স্থগিত রাখা যাবে।
নইলে...
♪ ঝোড়ো হাওয়ায় শুকনো পাতা দিশাহারা হয়ে ঘুরে বেড়ায় ♪
♪ উত্তাল ঢেউয়ের মাঝেও কাগজের নৌকাটি ভেসে চলে ♪
♪ নেই কোনো তীর, সমুদ্রেরও নেই শেষ ♪
♪ নেই দাঁড় টানার বৈঠা, নেই বাঁচার পথ ♪
♪ হাজার রাত কেটে যায়, গল্পের শেষ জানা যায় না ♪
♪ দিনের আলো ছায়ায় হারালে নিয়তি চলে আঁধার পথে ♪
বাবা!
- স্যার, আমার পাওনার কী হবে? - কী করছ, ইউনুস?
তোমার মামলা চলছে, তার মধ্যে আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছ?
একদিকে সংবাদমাধ্যম, অন্যদিকে বিরোধীরা আমাকে ছাড়ছে না...
তার ওপর নিজের দলের ভেতরেও বিশ্বাসঘাতক সাপ আছে।
তারপর এখন তুমি হাজির!
স্যার, অনুরোধ করছি! আমার পাওনাটা ছাড় করে দিন...
তোমার পাওনা?
ইউনুস, তুমি টাকা পাবে না।
তোমার কোম্পানিকে আনুষ্ঠানিকভাবে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
এ নিয়ে আর কখনো এখানে আসবে না।
স্যার...
♪ উজ্জ্বল দিনের পাতার ওপর তুমি এক ছায়া... ♪
♪ কোন অর্থহীন কালো ক্ষত লিখে চলেছ? ♪
♪ প্রতিটি পঙ্ক্তিতে তুমি অন্ধকার ঢেলে দিচ্ছ ♪
বাবা!
বাবা...
আমি শুধু... বাবার পুরোনো পিস্তলটা দেখছিলাম।
বাবাকে বলেছি, রহিম দুবাইয়ের সালিক [দুবাইয়ের স্বয়ংক্রিয় টোল ব্যবস্থা] ব্যবস্থার সঙ্গে আমাকে একটা চুক্তি পাইয়ে দিয়েছে।
রহিমের সেখানে অনেক পরিচিত লোক আছে।
বাবাকে সত্যিটা বলতে পারব না।
বললে তিনি কখনোই রাজি হবেন না।
তাহলে আগামী সপ্তাহে দুবাইয়ে ডলারে টাকা চাই, ঠিক তো?
- হ্যাঁ। - আচ্ছা।
♪ মধ্যরাতের অন্ধকারে... ♪
মধ্যপ্রাচ্য
♪ দৃঢ় সংকল্প ডানা মেলে ♪
♪ নিঃশব্দে শক্তি ছড়িয়ে দেয় পৃথিবীজুড়ে ♪
- আলি! - রহিম!
সামাদ!
এ আমার বন্ধু সুদীপ।
- হ্যালো। - হ্যালো।
♪ ছায়া বা শিকলকে ভয় করি না ♪
♪ সিংহাসনে সোনা ঝলমল করুক, শুধু মুকুট পরে রাজত্ব করি না ♪
♪ সোনা কিংবা পাহাড়, কোনোটাই আমাকে টানে না বা পথ বদলায় না ♪
♪ নিয়তি যে পথ এঁকেছে, আমি সেটাই লিখি ♪
রহিম শুধু সোনা বেচে না।
দামি ঘড়ি, রুপা, হীরাও আছে তার কাছে।
এর আগে কয়েকবার তার সঙ্গে ব্যবসা করেছি।
ঠিক আছে।
বস, এই লোকটাই আমার লোক।
সব ঠিক আছে।
♪ হে অসম্ভব, তুমি শুধু এক গল্প, সত্যিকারের ইচ্ছার কাছে হার মানবে ♪
ফোন রাখো, আমি খবরটা ওকে দিচ্ছি।
ভাই...
খবর পেয়েছি, আমির পুরোনো বাজারে এক ইরানির কাছ থেকে সোনা কিনেছে।
সত্যি?
খুব ভালো।
ফুজেইরায় আমাদের লোকদের ফোন করো।
হ্যালো, আমির।
তোমরা কি রওনা হয়েছ?
এখনও ব্যাগ গোছাচ্ছি।
আধঘণ্টা পর বেরোব।
ফোন করেছি একটা খবর দিতে...
কোয়েম্বাটুর বিমানবন্দরে ভিরাসামি নামে এক কাস্টমস কর্মকর্তা আছে।
সে আমার লোক।
কোনো সমস্যা হলে...
সে তোমাকে সাহায্য করবে।
ধন্যবাদ, সাইতুজি।
সামাদ!
ফ্লাইট ঠিক সময়েই, তাই তো?
আরে ভাই, আমরা...
আলি।
পেছনের লোকগুলোকে আমাদের ছাড়িয়ে যেতে দিও না।
ওরা হ্যারিস বশিরের লোক।
যা-ই হোক, ওদের আমাদের পথ কাটতে দেবে না!
গতি বাড়াও!
আমাদের সাহায্য দরকার!
তাড়াতাড়ি লোক পাঠাও!
ধুর! ওরা পালিয়ে গেছে!
- ঠিক আছে, ভাই। - রহিম!
কোয়েম্বাটুর
হ্যাঁ, সুদর্শন, বলো।
স্যার, ওরা কোয়েম্বাটুর বিমানবন্দরে পৌঁছে গেছে।
চিন্তা করবেন না, স্যার।
সব আমি সামলে নেব।
ঠিক আছে, স্যার।
এইদিকে আসুন, স্যার।
আপনার পাসপোর্ট?
পরের জন!
ছবিটা বড় করো!
জি, স্যার।
টয়লেট থেকে যে দুজন বের হচ্ছে, ওদের তল্লাশি করো।
জি, স্যার। আপনারা এদিকে আসুন।
একটু সরে দাঁড়ান, স্যার।
- দয়া করে সহযোগিতা করুন। - আপনিও, স্যার।
এইদিকে আসুন।
সবাই দয়া করে বাইরে চলে যান।
- বাইরে যান। - সহযোগিতা করুন।
সবাই বাইরে যান।
- কোন ফ্লাইট? - ওমান এয়ার, স্যার।
ঠিক আছে।
ওটা আমাকে দাও।
ওই যে, ওই মনিটরটা!
দ্বিতীয় মনিটরটা!
এদিকে এসো।
ওখানে তল্লাশি করো।
ওদিকেও দেখো।
ওটা পরীক্ষা করো, খুলে দেখো।
তল্লাশি শেষ, স্যার। কিছুই নেই।
আমাদের কাছে পাকা খবর আছে!
সোনা কোথায় লুকিয়েছ?
স্যার, এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।
সত্যি?
কালিকটে তো বিমানবন্দর আছে, তাই না?
তাহলে কোয়েম্বাটুরে এলে কেন?
স্যার, আমরা...
বন্ধুর বিয়েতে এসেছি।
পালাক্কাডে, আর এটাই সবচেয়ে কাছের বিমানবন্দর।
আচ্ছা।
তাহলে বন্ধুর ঠিকানাটা দাও।
ওর দিকে তাকাচ্ছ কেন?
পালাক্কাডে তোমাদের বন্ধুর ঠিকানা এখনই দাও।
স্যার, টয়লেটের পুরো জায়গাটা আমরা তল্লাশি করেছি।
খুঁটিয়ে দেখেছি, কিছুই নেই।
মনে হচ্ছে খবরটা ভুল ছিল, স্যার।
তাই নাকি?
স্যার, ওই ঠিকানায় বিঘ্নেশ নামে সত্যিই একজন থাকে।
কাল তার বিয়েও হচ্ছে।
সে নিশ্চিত করেছে, এরা তার পুরোনো বন্ধু।
এই তুমি!
বল, সোনা কোথায় লুকিয়েছ?
না বলা পর্যন্ত তোমাকে ছাড়ব না।
স্যার, আমরা সত্যি বলছি।
আমাদের সব জিনিস তল্লাশি করেছেন, কিছুই লুকানো নেই।
আপনার খবর ভুল ছিল।
স্যার!
টয়লেটের পুরো জায়গা দেখেছি, কিছুই পাইনি।
দূর হও এখান থেকে!
স্যার, এই ফোনগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে ভারী।
পরীক্ষা করা দরকার।
আমাকে বোকা বানাতে পারবি ভেবেছিস, হারামজাদা?!
তোকে টুকরো টুকরো করে ফেলব!
এই নাও, ওজন আর বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করো।
- স্যার! - কী হয়েছে, সুদর্শন?
ওদের ধরে ফেলেছি, স্যার।
সোনা পেয়ে গেছি, স্যার।
- এরপর কী? - স্যার...
চিন্তা করবেন না, স্যার।
আমি আছি আপনার পাশে।
ওরা এত সহজে বেরোতে পারবে না!
কী?
কী হয়েছে?
স্যার, এটা সোনা নয়, আসল ব্যাটারি।
সে আমার লোক।
কোনো সমস্যা হলে...
- সে সাহায্য করবে। - ধন্যবাদ, সাইতুজি।
সামাদ!
এটা কী?
সামনে কী অপেক্ষা করছে, সেটা জানা দরকার, তাই না?
স্যার, এগুলো গরিবদের সস্তা চীনা ফোন।
তাই একটু ভারী হওয়াই স্বাভাবিক।
আর খুব গরমও হয়।
সুদর্শন, স্যার! বিশ্বাস করুন!
সকাল ৯টা ৪০-এর ইন্ডিয়ান এয়ারওয়েজ ফ্লাইট থেকে কেউ সোনা নিয়ে বেরোয়নি।
দুঃখিত, আমির।
আমার মনে রাখা উচিত ছিল...
চন্দন সাইতের সুদিন অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে।
কোনো সমস্যা নেই।
নিজের ছেলেরাই যদি আমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে...
তাহলে ভিরাসামির মতো কারও কাছে বিশ্বস্ততা আশা করব কেন?
তবু...
এত সহজে হার মেনে নেব নাকি, সাইতুজি?
আমির?
আমরা দুবাই থেকে ইন্ডিয়ান এয়ারওয়েজে রওনা হব...
২৭ তারিখ সকাল ৯টা ৪০-এ কোয়েম্বাটুর পৌঁছাব।
তার ঠিক দশ মিনিট আগে...
সকাল ৯টা ৩০-এ মাসকাট থেকে ওমান এয়ারের ফ্লাইট আসবে।
দুই ফ্লাইটের যাত্রীদের ইমিগ্রেশন আর লাগেজ পরীক্ষা একই সময়ে হবে।
কোয়েম্বাটুর বিমানবন্দরে সাধারণত আগমনী হলে তল্লাশি হয় না।
যদি হয়, তার মানে কেউ খবর দিয়েছে।
তবু তারা কেবল সন্দেহভাজন ফ্লাইটের যাত্রীদেরই তল্লাশি করবে।
তারপর?
তারপর...
২৭ তারিখ সকাল ৯টা ৩০-এ আসা ওমান এয়ারের ফ্লাইটে...
আমাদের চারজন বিশ্বস্ত লোককে যাত্রী হিসেবে থাকতে হবে।
যদি আমাদের বিরুদ্ধে খবর পেয়ে যায়...
তাহলে এই চারজন হবে আমাদের বিকল্প পরিকল্পনা।
♪ একাকী যোদ্ধা রথ ছুটিয়ে ঢোকে যুদ্ধের কেন্দ্রে ♪
♪ যুদ্ধক্ষেত্রের নরক শত্রুর বুকে ভয় জাগায় ♪
♪ প্রভু, দেখো, সে অবশেষে এসেছে, তার শরীর যেন আগুনের সেনা! ♪
♪ নির্ভীক সাহসে সে পথ ভেঙে এগিয়ে যায় ♪
♪ জ্বলন্ত অঙ্গারের মতো একাই দাঁড়িয়ে থাকে ♪
♪ হারিয়ে যাওয়া শিকড়ের খোঁজে দূরে দূরে ঘুরে বেড়াও ♪
♪ সমুদ্রতীরে সরু সুতোর খোঁজে থাকা মানুষের মতো ♪
♪ আলি, মহাপলায়নের ওস্তাদ ♪
♪ আলি, মহাপলায়নের ওস্তাদ ♪
♪ আলি, মহাপলায়নের ওস্তাদ ♪
♪ আলি, মহাপলায়নের ওস্তাদ ♪
- কোন ফ্লাইট? - ওমান এয়ার, স্যার।
ঠিক আছে।
ওটা আমাকে দাও।
♪ আগামীকাল লেখা হবে নতুন এক কাহিনি ♪
♪ ওরা বারবার মৃত্যুর দরজায় কড়া নাড়ে ♪
♪ শিকারকে তাড়া করাই তাদের রোজকার অভ্যাস ♪
♪ উজ্জ্বল তারকা, দৃষ্টির আড়ালে যেও না ♪
♪ শত্রুর মনের গোপন কথা পড়ে নাও ♪
♪ তারপর প্রাণঘাতী সব শক্তি দিয়ে আঘাত করো ♪
♪ তোমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল বাহিনী, তুমি সবার ভয়ের নায়ক ♪
♪ নিজের হাতে সম্পদ জড়ো করে দেশ পেরিয়ে চলে সে ♪
♪ নিজের গুহায় পৌঁছাতে ঝড় তোলে, ফেরে দাউদাউ আগুন হয়ে ♪
♪ আমাদের কাহিনি এখনো না-বলা এক কিংবদন্তি ♪
♪ হে পরম করুণাময়, দয়া করো, আমাদের পথ খুলে দাও ♪
এভাবেই সাইতু আবার ফিরে আসার সুযোগের অপেক্ষায় ছিল।
এই ব্যবসায় আগাম যত টাকা লাগে, সে দিতে প্রস্তুত ছিল।
আর সেদিন...
চন্দন সাইতের চোখের সামনেই...
আরেকজন আহমেদ আলির জন্ম হলো।
তুমিই খলিফা, আমির!
প্রকৃত উত্তরাধিকারী...
আহমেদ আলির।
সিংহাসনের উত্তরসূরি।
আর তখনই তোমরা দেখবে...
মামবারাম মসজিদ উৎসবের দুর্দান্ত দৃশ্য!
♪ গর্জন শুনছ? আলির সিংহ শিকারে নেমেছে! ♪
♪ কুখ্যাত, ক্ষমতাবানদের শত্রু ♪
♪ চতুর যোদ্ধা, পিছু হটতে জানে না ♪
♪ গর্জন শুনছ? আলির সিংহ শিকারে নেমেছে! ♪
♪ কুখ্যাত, ক্ষমতাবানদের শত্রু ♪
♪ চতুর যোদ্ধা, পিছু হটতে জানে না ♪
একদিকে, সে সবকিছুর বিরুদ্ধে জিতে গিয়েছিল...
কিন্তু অন্যদিকে...
বর্তমান সময়
বাবা, দাদুর তোয়ালেটা এনে দাও।
প্রিয়, এবার আরামে শুয়ে পড়তে পারো।
তুমি ঠিক আছ?
কী দেখছ?
তোমার এই অতিরিক্ত পাহারাদারি দেখছি।
একদিন তোমাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করব।
চলো।
আহ!
তল্লাশি চলছে।
এবার আবার কী, স্যার?
গত সপ্তাহেই তো বাড়ি ওলটপালট করে ফেলেছেন।
এভাবেই কাজ চলে।
পাচারকারী আর খুনিদের বাড়িতে...
প্রয়োজনে প্রতিদিন তল্লাশি চালাব।
এভাবে দাঁড়িয়ে থেকো না, পুরো জায়গাটা তল্লাশি করো!
আচ্ছা, আচ্ছা!
কোথায় যাচ্ছ বলে মনে করছ?
নড়বে না!
যেখানে আছ, সেখানেই থাকো!
ফিজা!
কম্পিউটারে কী করছ?
সিনেমা দেখছ?
শোনো, ফিজা...
গত সপ্তাহে বাড়ি তছনছ করার পর আবার কেন এলাম, তা তোমার শাশুড়ি ভাবছেন।
বেচারি জানেন না...
এক সপ্তাহ তোমাকে না দেখে আমার কত কষ্ট হয়েছে।
ভীষণ কষ্ট হয়েছে, ফিজা।
অসম্ভব কষ্ট।
মিস্টার সেলিম!
মিস্টার সেলিম, আমি আমির বলছি।
আপনার কাছে আমার ছোট্ট একটা অনুরোধ আছে।
স্যার, আমাকে আপনার মতো নিচে নামতে বাধ্য করবেন না।
তাতে আমারই কষ্ট হবে।
আমি তিন মাইলেরও কম দূরে আছি...
লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি থেকে, যেখানে আপনার ছেলে জিমশি মাস্টার্স করছে।
আবার আমার বাড়িতে পা দিয়ে এই কাণ্ড করলে...
আমি নিজে গিয়ে আপনার ছেলেকে সেখান থেকে টেনে বের করব।
এমন মার দেব যে শরীরের কোথাও আস্ত থাকবে না...
পাসপোর্ট ছিঁড়ে, মাদকের মামলা দিয়ে ব্রিটিশ জেলে পচতে ছেড়ে দেব।
এই তুমি!
স্যার, এটা ফাঁকা হুমকি নয়।
মায়ের কসম, আমি সত্যিই করব।
আর যদি মনে করেন আমি পারব না...
আপনার যা ইচ্ছা করুন
যুদ্ধে সৈন্যদের একটাই পরিকল্পনা থাকে।
রাজার আদেশ পালন করা।
কিন্তু প্রকৃত রাজা সে-ই...
যে পরিকল্পনা ব্যর্থ হলেও প্রস্তুত থাকে।
কয়েক বছর আগে
♪ গোটা ময়দান আগুনে জ্বালিয়ে দেয় ♪
♪ প্রকৃত রাজা সব সময় নিজের জাদু দেখায় ♪
♪ দিগন্ত জুড়ে গর্জে ওঠা আগুন, ঝড়ের শিখা / কোনো শক্তিই তাকে ঢাকতে পারে না ♪
আলি, এ হচ্ছে কুমার আর তার পরিবার।
শহরের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বাহক।
♪ আচারধ্বনি তোলো, দুনিয়াজুড়ে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ুক! ♪
♪ আচারধ্বনি তোলো, বিশৃঙ্খলাই রাজত্ব করুক! ♪
♪ কুট্টু রাথিবের ছন্দ বাজাও [কেরালার সুফি ধারার এক ধরনের ধর্মীয় আচার], হৃদয় ভরাও নির্ভীক সাহসে! ♪
♪ কুট্টু রাথিবের ছন্দ বাজাও! ♪
♪ শক্ত পাহারার আড়ালে লুকিয়ে আছে সোনার স্তূপ ♪
♪ যত চাপই আসুক, দৃঢ় পায়ে এগিয়ে চলো ♪
আলি, এই সেই মেয়েটির কথা বলছিলাম।
বৈষ্ণবী রামচন্দ্রন।
- অর্ধেক তামিল, অর্ধেক মালয়ালি। - হ্যালো।
স্কাই লিমিট এয়ারলাইন্সে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কাজ করে।
আমাদের কোম্পানি বড় সংকটে আছে।
ছয় মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না।
আমাদেরও তো বেঁচে থাকতে হবে।
♪ গোটা ময়দান আগুনে জ্বালিয়ে দেয় ♪
♪ প্রকৃত রাজা সব সময় নিজের জাদু দেখায় ♪
♪ দিগন্ত জুড়ে গর্জে ওঠা আগুন, ঝড়ের শিখা / কোনো শক্তিই তাকে ঢাকতে পারে না ♪
♪ কুট্টু রাথিবের ছন্দ বাজাও! ♪
♪ কুট্টু রাথিবের ছন্দ বাজাও! ♪
♪ কুট্টু রাথিবের ছন্দ বাজাও! ♪
♪ কুট্টু রাথিবের ছন্দ বাজাও! ♪
♪ কুট্টু রাথিবের ছন্দ বাজাও! ♪
- নমস্কার। - কুশি, কখন এলে?
সকালে খবর পেয়েই রওনা দিয়েছি।
ওহ।
- আর রাঘবন স্যার.. - বলো?
দুদিন আগে মহীশূর থেকে সাইতু ফোন করেছিল।
সে বলল...
আপনার চেয়ে পাঁচ শতাংশ কম দামে মাল দেবে।
আমার উত্তর তো আপনি জাননই।
বলেছি, আমি বিশ্বাসঘাতকের পরিবার থেকে আসিনি।
এ কথা শুনে সে বলল, ব্লাড প্রেসারের ওষুধ খেতে ভুলে গেছে...
তারপর ফোন রেখে পালাল!
সাইতু ওই ছেলেটাকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে...
আবার ব্যবসায় ফিরতে চাইছে, রাঘবন স্যার।
সাবধানে থাকবেন ।
রবিপ্রসাদ, কালিকটের কাস্টমস কমিশনার।
সোজা কথায় আসি।
কাস্টমসের পূর্ণ সহায়তায় প্রতিদিন কালিকট বিমানবন্দর দিয়ে ৩০ কেজি সোনা আনতে পারবে।
কেউ কোনো প্রশ্ন করবে না।
কোনো জিজ্ঞাসাবাদও হবে না।
প্রতি কেজিতে আমাদের ভাগ ৬০ হাজার রুপি।
অর্থাৎ...
প্রতিদিন ৩০ কেজির জন্য...
১৮ লাখ রুপি।
তবে আমাদের নাম যেন জনগণ বা সংবাদমাধ্যমের সামনে না আসে...
তাই প্রতি মাসে দশ কেজি সোনা আমাদের দিতে হবে...
আর দিতে হবে তোমার দুজন বাহককে।
রাজি থাকলে...
দুই কোটি রুপি অগ্রিম দাও, তারপর কাজ শুরু হবে।
আমি রাজি নই।
আমার একজন লোককেও দেব না, এক গ্রাম সোনাও না।
বরং আপনাদের দৈনিক ভাগে আরও দুই লাখ রুপি যোগ করব।
প্রতিদিন ২০ লাখ রুপি দেব।
রাজি হলে...
এখানে, এখনই...
পাঁচ কোটি রুপি অগ্রিম দেব।
আপনাদের সাহায্য ছাড়াও...
আমি ইচ্ছেমতো সোনা পাচার করছি, স্যার।
কীভাবে চালিয়ে যেতে হয়, সেটাও ভালো জানি।
তাই...
এখানে শর্ত আমিই ঠিক করব।
চুক্তি হলো?
♪ গর্জন শুনছ? আলির সিংহ শিকারে নেমেছে! ♪
♪ কুখ্যাত, ক্ষমতাবানদের শত্রু ♪
আমির গতকাল এসে পুরো টাকা শোধ করে ঋণ মিটিয়ে দিয়েছে।
আর নিজে এসে আপনাদের জামানতের কাগজপত্র ফেরত দিতে বলেছে।
আমার বয়স তখন ষোলো...
বাবাকে শেষবার দেখেছিলাম সেই সময়।
তাঁর জন্য দুশ্চিন্তায় কষ্ট পেতে পেতে আমার মা মারা যান।
যে জায়গায় তোমার কখনোই শেষ হওয়া উচিত ছিল না...
আজ তুমি সেখানেই দাঁড়িয়ে আছ।
তোমাকে এখানে আনার জন্য যে অপরাধবোধ...
কবর পর্যন্ত আমাকে তাড়া করবে, আলি।
বাবার কারণে আমি যা সহ্য করেছি...
এই শিশুটিকে যেন তা কখনো সহ্য করতে না হয়।
রাঘবন স্যার, আপনার ওপর পুরো আস্থা রেখেই ব্র্যান্ডটা বড় করার পরিকল্পনা করেছিলাম।
সেই বিশ্বাসেই সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়াই।
আর এখন বলছেন, মোট বিক্রি ২০ শতাংশ কমেছে?
এভাবে ব্যবসা চালাব কী করে?
ভাই, আমি তো আগেই বলেছি, তাই না?
কেপিএম গ্রুপের মতো কোম্পানি, যারা বছরের পর বছর শুধু আমাদের সঙ্গেই ব্যবসা করেছে...
অন্যান্য অনেক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তারাও এখন ওদের কাছ থেকে সোনা কিনছে।
সাইতু আর আমিরের কাছ থেকে।
বিক্রি কমার প্রধান কারণ এটাই।
আসলে...
ব্যবসায়ীদের দোষও দেওয়া যায় না।
আমাদের দামের সঙ্গে তুলনা করলে...
সাইতু বিপুল ছাড়ে সোনা বিক্রি করছে।
শুরুতে পাঁচ শতাংশ কম।
এখন ছাড় বাড়িয়ে দশ শতাংশ করেছে।
আর এই কারণে ওই হারামজাদা...
কুশিও ওদের দলে গেছে।
বেশ।
সাইতুর সঙ্গে কথা বলা যাক।
মনে হয়, এখনই ঠিক সময়।
সাইতুজি, এই দাম তো আমরা সবাই মিলে ঠিক করেছিলাম, তাই না?
আর এখন...
না!
দামটা আপনারাই ঠিক করেছিলেন।
আমি এতে ছিলাম না।
শোনো, সাইতুজি...
আমাদের ধৈর্যেরও একটা সীমা আছে।
সেটা ভুলে যেও না।
আচ্ছা, আচ্ছা।
সাইতুজি, আপনার সঙ্গে সংঘাত এড়াতে...
আমরাও দাম দশ শতাংশ কমাতে রাজি।
তবে আমরা আপনার দামে নামলে...
আপনাকেও কথা দিতে হবে যে আর দাম কমাবেন না...
আমাদের ব্যবসা নষ্ট করতে, সাইতুজি।
হ্যারিস, ব্যবসা কীভাবে চলে, তা জানো না?
তোমরা দাম কমালে...
আমরা আরও কমাব...
নিজেদের ক্রেতা ধরে রাখতে।
এটা একান্তই আমাদের সিদ্ধান্ত।
আর কিছু বলার থাকলে...
বলো।
সুপ্রভাত, স্যার।
সুপ্রভাত।
স্যার!
স্যার...
গার্ড!
গার্ড!
দাঁড়াও! ওকে আটকাবে না।
ও আমাদের লোক।
দুঃখিত, স্যার।
আসুন।
স্যার।
আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বা জনসমক্ষে ভাবমূর্তি নিয়ে ভাববেন না।
আপনার কারণেই আজ আমার সবকিছু, সাইতুজি।
শুধু বলুন, আমাকে কী করতে হবে।
রত্নম, শান্ত হও।
এই মুহূর্তে আমার আর কিছু দরকার নেই।
আমির! এসো, এসো।
এই সেই আমির, যার কথা বলেছিলাম।
নমস্কার, ভাই।
রত্নাভেল মারান।
কেন্দ্রীয় বিমান পরিবহনমন্ত্রী...
আর আমার বন্ধু।
না, নিজেকে তাঁর বন্ধু বলার সাহস আমার নেই।
তিনি আমার কাছে দেবতার মতো।
তাঁর জন্যই আমি...
স্যার...
নিজেকে এত কষ্ট দেবেন না।
নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নিন।
আমাকে একটা জনসভায় যেতে হবে।
তাই এখনই বেরোতে হবে।
আবার দেখা হবে।
আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে ভালো লাগল, ভাই।
সে ছিল ভাড়াটে পেশাদার খুনি।
হ্যারিস আর রাঘবন তোমাকে খুন করার আদেশ দিয়েছিল।
সব খুঁটিনাটি তথ্য আমার কাছে আছে।
গোয়ার এক লোক।
এখন সে মৃত।
হ্যারিস আর রাঘবন।
আপনি আমাকে কী করতে বলছেন?
প্রতিশোধ নেওয়া সহজ, আমির।
কিন্তু...
এখন আমাদের সেটা দরকার নেই।
ব্যবসার মধ্যে যুদ্ধ বাধানো চলবে না।
বিশেষ করে এখন।
এখন আমাদের লড়তে হবে...
বুদ্ধি দিয়ে।
যেভাবে...
আমির আলি লড়ে।
এমন কিছু দরকার, যাতে ওরা আমাদের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে।
এইমাত্র যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চলে গেলেন...
তাঁর সঙ্গে কি আমার একটা সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে পারবেন?
মাত্র দশ মিনিটের জন্য।
কেন পারব না?
আমি তাঁকে এখনই ফিরতে বলছি।
না, দরকার নেই।
আমি নিজেই তাঁর সঙ্গে দেখা করব।
ঠিক আছে।
স্যার।
আমরা নয়াদিল্লির রাজস্ব গোয়েন্দা সদর দপ্তর থেকে এসেছি।
আপত্তি না থাকলে আপনার লাগেজ তল্লাশি করতে চাই।
কী? আমার লাগেজ তল্লাশি করবেন?
আমি একজন কূটনীতিক।
আমার জানা মতে, এই দেশে কূটনীতিকদের...
কিছু বিশেষ ছাড় আছে, তাই না?
অবশ্যই, স্যার।
তবে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে এই নির্দেশ এসেছে।
তাই অনুগ্রহ করে সহযোগিতা করুন।
- এই লোকটা আমাকে বিরক্ত করছে। - দুঃখিত, স্যার।
আপনাকে আর বিরক্ত করতে চাই না।
আপনি যেতে পারেন।
তবে...
আপনার কর্মীদের আমাদের সঙ্গে যেতে হবে।
ভেতরটা তল্লাশি করো।
ওটাও পরীক্ষা করো।
স্যার...
দলীয় সম্পাদক রাঘবনের নির্দেশেই আমরা এটা করেছি।
সোনাটা...
কালিকট গ্লোবালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হ্যারিস বশিরের।
যথেষ্ট।
জি?
রাঘবন সোনা চোর! রাঘবন সোনা চোর!
পদত্যাগ করুন, মিস্টার রাঘবন! চলে যান!
তিরুবনন্তপুরম বিমানবন্দরে সোনা ধরা পড়েছে!
বড় অপরাধী চক্রের ষড়যন্ত্র ফাঁস!
রাজস্ব গোয়েন্দারা এক চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে...
কূটনৈতিক চ্যানেলে সোনা পাচারের...
বিরোধীরা রাজ্যজুড়ে ধারাবাহিক বিক্ষোভ শুরু করেছে...
ইন্ডিয়ান লেবার পার্টির সম্পাদক পোনাভেল রাঘবনের পদত্যাগের দাবিতে...
পোনাভেল রাঘবনের পদত্যাগের দাবিতে।
রাঘবন সোনা চোর! রাঘবন সোনা চোর!
দলীয় সম্পাদকের পদ থেকে...
আমি পদত্যাগ করছি।
কিন্তু এখানেই সব শেষ হতে হবে।
আমার বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত চাই না...
আমার কিংবা হ্যারিসের বিরুদ্ধে।
নির্বাচনে হারো, ভোট নিয়ে দরকষাকষি করো, যা দরকার করো...
কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখো।
স্যার, বিক্ষোভ এখনো বাড়ছে।
আপনার মন্তব্য কী?
নতুন সম্পাদক কে হবেন?
সোনা পাচার কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ার পর...
কেরালাজুড়ে বিক্ষোভের মুখে...
দলীয় সম্পাদক পোনাভেল রাঘবন পদত্যাগ করেছেন।
এই পদত্যাগ বড় ধাক্কা...
দলের ভেতরে পোনাভেল রাঘবনের একচ্ছত্র আধিপত্যের জন্য...
এতে দলের ভেতর ব্যাপক বিভক্তি তৈরি হয়েছে।
দলীয় সম্পাদক পোনাভেল রাঘবন পদত্যাগ করেছেন।
কাল দেখা হবে। বিদায়।
- হ্যালো, আলি। - পৌঁছে গেছ?
জিনিসটা সঙ্গে এনেছি।
- তুমি একা নও, তাই তো? - চিন্তা কোরো না, বিষ্ণু আর তার দল...
একদম পেছনেই আছে।
- আগের রাস্তা ধরো। - ঠিক আছে।
রহিম, তুমি কি দুবাই ফিরে যাচ্ছ না?
যাচ্ছি।
আগামী সপ্তাহে যাব...
- আর সামাদ এখানে আসবে। - আচ্ছা!
তোমরা কি পালা করে কাজ করছ?
না, ব্যাপারটা তা নয়।
রহিম হলে ফোনটা আমাকে দাও।
হ্যালো?
আমি হ্যারিস বলছি, আমির।
হ্যারিস বশির।
হয়তো খবরটা এখনো জানো না।
ঘটনাটা মাত্রই ঘটেছে।
কালিকট দিয়ে যে ৩০ কেজি সোনা এনেছিলে...
আমাদের লোকেরা সেটার দখল নিয়েছে।
আমি রাঘবন!
দলের সাবেক সম্পাদক!
আজ থেকে, আমির...
ভারতে যে পথেই সোনা ঢুকুক না কেন...
সবই আমাদের।
আর তোমাকে বা সাইতুকে...
এক দানাও...
ছুঁতে দেব না।
আমির...
পারলে আমাদের থামাও!
বৈষ্ণবী!
বৈশ...
বৈষ্ণবী...
বৈষ্ণবী আমার প্রতিবেশী।
ছোটবেলা থেকে ওকে চিনি।
আর বিয়ের পর...
আমি এই কাজ চিরতরে ছেড়ে দেব।
শান্ত, নিরিবিলি একটা জীবন।
এটাই আমার স্বপ্ন।
আমি জানি...
তুমিও শুধু পরিবারের সঙ্গে থাকতে চাও।
সব সমস্যা মিটে গেলে...
এসব থেকে দূরে সরে যেয়ো, আমির।
প্লিজ।
যা ইচ্ছা করো!
কিন্তু ঘটনাটা যেন সাধারণ হিট-অ্যান্ড-রান দুর্ঘটনা বলে মনে হয়।
আগামীকাল পত্রিকায় খবরটা এভাবেই আসতে হবে।
- ঠিক আছে। - তোমাকে ফোন করব।
ওটা ছিল পুলিশের উপকমিশনার।
- আব্বা। - কী?
কাস্টমসের মিস্টার উইলিয়াম একটু আগে ফোন করেছিলেন।
বললেন, কালকের চালান সকাল ১০টা ১০ মিনিটে ইন্ডিয়ান এয়ারওয়েজে আসবে।
যাত্রীদের তথ্য আছে?
হ্যাঁ।
তবে টিকিটটা বুক করা হয়েছে...
আমিরের নামে।
মনে হচ্ছে, কাল সে নিজেই সোনা নিয়ে আসবে।
সুপ্রভাত, ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ। অনুগ্রহ করে সিটবেল্ট বেঁধে নিন।
♪ হে ক্রোধের যোদ্ধা, এগিয়ে এসে আজ দুনিয়ায় আগুন জ্বালাও ♪
♪ নিখুঁত দক্ষতায় আকাশের রায় কার্যকর করো ♪
♪ শক্তিতে চূর্ণ করো, পেছনে ধ্বংসস্তূপ ফেলে যাও ♪
♪ এই যুদ্ধে কে সাহস করে তোমার আগুন আর শক্তির মুখোমুখি হবে? ♪
♪ দুর্দমনীয় গর্জন, আগুনের মুঠোয় নরক জ্বলে ওঠে ♪
♪ সাহসের শেষ সীমায় পৌঁছে যাও, দেখো কী ধ্বংস নামবে ♪
♪ দেশ পেরিয়ে দূর-দূরান্তে ছুটে যাও, দুনিয়াকে আগুনের সাগর বানাও ♪
♪ এই যুদ্ধে কে সাহস করে তোমার আগুন আর শক্তির মুখোমুখি হবে? ♪
দাঁড়াও! দাঁড়াও!
এটা একটা পুরোনো ফাঁদ, দাদুর সোনালি সময়ে তৈরি হয়েছিল।
কিংবদন্তি বলে...
ফাঁদটা তিনিই বানিয়েছিলেন।
একবার এতে পড়লে আর বেরোনোর পথ নেই।
তুই কি করবি?
আমাদের মেরে ফেলবি নাকি?!
সাহস থাকলে কাছে আয়!
হ্যারিস...
ওদিকে দেখো!
হ্যালো?
ঠিক আছে, মিস্টার রাঘবন, ব্যাপারটা হলো...
আপনার ছেলে ফাঁদে পড়েছে।
আমার লোকেরা কিছুক্ষণের মধ্যে আপনার অফিসে পৌঁছে যাবে।
ঠিক দশ মিনিট অপেক্ষা করবে।
এই সময়ের মধ্যে যদি ফিরিয়ে না দেন...
গতকাল আপনারা যে সোনার প্রতিটি গ্রাম দখল করেছেন...
তাহলে পরের বোমাটা এখানেই ফাটবে...
ঠিক ওর বুকের ওপর।
তোর মরাই উচিত, বিনায়কন।
বৈষ্ণবীর বিয়ে ছিল আর মাত্র দুদিন পর।
বিয়ের খরচ জোগাতেই সে কাজ করছিল।
এখন আমার সামনে থেকে সরে যা।
আর এক মুহূর্ত থাকলে...
হয়তো ভয়ংকর কিছু করে বসব।
গোবিন্দন!
গোবিন্দন!
গোবিন্দন!
আহ! ঘুরে দাঁড়াও!
ফিজা!
সামাদ, ওই দুর্ঘটনায়...
বিনায়কন মারা গেছে।
বাকিরা...
গুরুতর আহত হয়েছে।
সাইতুর জোরাজুরিতে...
আমির গোয়া থেকে যাত্রীবাহী জাহাজে রওনা হয়েছিল...
দুবাই হয়ে...
ইংল্যান্ডের পথে।
তারপর আর কখনো সোনা পাচার করেনি।
আবাসন ব্যবসা...
আর সফটওয়্যার ব্যবসা...
গত চার বছর ইংল্যান্ডে থেকে এসবই সামলেছে সে।
এই নাও, এখানে সই করতে হবে।
চিন্তা কর না।
ওর বিরুদ্ধে সব মামলায় তোমাকে সহযোগী সাক্ষী হিসেবে দেখানো হবে।
সই কর!
হ্যারিস...
আমিরই যে সামাদের খবর রাজস্ব গোয়েন্দাদের দিয়েছিল, সেটা জানার পর থেকে...
আমি আর ওকে খুঁজে বেড়াচ্ছি।
কিন্তু তোমার ফোন বন্ধ ছিল।
স্পষ্ট করে বলো, কী হয়েছে।
এবারও জিততে পারিনি, রাঘবন স্যার।
জিতেছে সে।
আমির!
আলি, আমি বুঝতে পারছি না।
সামাদের খবর তুমি কেন দিয়েছিলে?
রহিম, তোমাকে সব কথা বলিনি।
দুবাইয়ে সামাদের জীবন, তোমাকে আর আমাকে ছাড়া...
একেবারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।
যৌথ অ্যাকাউন্টে অনেক টাকা, ইচ্ছেমতো খরচ করত।
ডাউনটাউনে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, দুষ্প্রাপ্য গাড়ি...
তার ওপর মদ, মাদক আর নতুন বন্ধুদের দল।
অনেকবার ওকে বুঝিয়েছি, কখনো নরমভাবে, কখনো কড়া করে।
শেষে যখন বুঝলাম আর কোনো উপায় নেই...
দুবাইয়ে আমাদের যৌথ অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দিলাম।
তারপর থেকেই সে আমার অগোচরে একা সোনা পাচার করতে শুরু করে।
বাকিটা তো জানোই।
প্রথম চালানেই কালিকট বিমানবন্দরে কাস্টমস তার সোনা জব্দ করে।
দেশে ফেরার পর তার বিরুদ্ধে কফেপোসা আইন প্রয়োগ করা হয়।
ধুর!
সামাদ যখন পুরোপুরি দেউলিয়া হয়ে একেবারে তলানিতে পৌঁছাল...
আমার লোকেরা তাকে বড় অঙ্কের দেশীয় মাদক ব্যবসার প্রস্তাব দিল।
বোনের বিয়ের পর দুবাই ফেরার পরদিন...
সামাদের কাজ শুরু করার কথা ছিল।
তার পরদিনই...
মাদকসহ তাকে দুবাই পুলিশ গ্রেপ্তার করত।
কিন্তু ওই দেশের সবচেয়ে গুরুতর অপরাধে...
প্রধান অভিযুক্ত সে হতো না।
হতো আমির।
সবকিছু আমি নিজেই...
পরিকল্পনা করেছিলাম।
মামলাটা আমিরকে দুবাই যেতে বাধ্য করত...
তারপর ধীরে ধীরে দেশে ফিরিয়ে আনত।
এটাই ছিল আমার পরিকল্পনা, রাঘবন স্যার...
যেটা ভেস্তে দিয়েছে আমির, রাজস্ব গোয়েন্দাদের খবর দিয়ে।
ওর সঙ্গে যে অপেক্ষার খেলা খেলছিলাম...
এবার সেই খেলা শেষ করার সময় হয়েছে, রাঘবন স্যার।
আমার সেটাই মনে হয়।
গণেশ!
কেউ ভেতরে ঢুকে পড়েছে।
তাড়াতাড়ি গিয়ে অন্য দিকটা দেখো!
কানচি! কী হয়েছে? ওদিকে কী হচ্ছে?
প্রিয়!
কী হয়েছে?
ওদিকে কী হচ্ছে?
ফিজা! দরজা বন্ধ করো!
- আম্মা! - বাবা!
আম্মা!
আম্মা!
আম্মা!
সড়ে যান, সড়েন!
সড়ে যান!
তাড়াতাড়ি!
আরও দ্রুত!
তাড়াতাড়ি এসো!
এদিকে!
তাড়াতাড়ি কর!
আম্মা!
এদিকে এসো!
তাড়াতাড়ি!
প্রিয়!
- যাও! - না! না!
বাচ্চাটাকে নিয়ে বেরিয়ে যাও!
প্রিয়!
প্রিয়!
দরজা খোলো!
রাখো!
রাখো!
প্রিয়!
আমি হ্যারিস বলছি, আমির।
হ্যারিস বশির।
তোমার ক্ষতির জন্য সমবেদনা জানাই।
কেরালায় পৌঁছালে পুলিশ নানা গল্প বানাবে...
তোমার বাবার খুন নিয়ে।
কোরাভা গ্যাং কিংবা উত্তর ভারতের ডাকাতদের দোষ দেবে...
কিন্তু ওদের একটা কথাও বিশ্বাস কোরো না।
আমার লোকেরাই তোমার বাবাকে খুন করেছে।
তোমার বাড়ির দোরগোড়ায় রক্তপাত আনতে চাইনি।
কিন্তু আর কোনো উপায় ছিল না...
তোমাকে কেরালায় ফিরিয়ে আনার জন্য।
যাই হোক...
আগেই যেমন বলেছি...
তোমার ক্ষতির জন্য সমবেদনা জানাই।
রেশমা, নিশ্চিত খবর পেয়েছি আমির আলি...
দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে এমিরেটসের ফ্লাইটে পৌঁছাবে।
কাস্টমস, পুলিশ ও রাজস্ব গোয়েন্দাদের যৌথ বাহিনী মোতায়েন আছে...
বিমানবন্দর ও তার আশপাশে।
পুলিশ এইমাত্র আমির আলিকে আটক করেছে...
বিনায়কনকে হত্যার অভিযোগে...
যিনি সাবেক অর্থমন্ত্রী ও দলীয় সম্পাদক পোনাভেল রাঘবনের ছেলে।
ওদের সরাও!
সরে যান! পেছনে যান!
অঞ্জনা, এখনই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী?
আমার ধারণা, এরপর তাকে আদালতে তোলা হবে।
পুলিশ কি নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করবে?
পুলিশের পরিকল্পনা কী...
চলো!
হাশমি, যেমনটা ধারণা করা হয়েছিল, আদালত আমির আলির জামিন নামঞ্জুর করেছে।
পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন না করায়...
অভিযুক্তকে দুই সপ্তাহের বিচার-পূর্ব আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে আমির আলির আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত...
বাবার জানাজায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে।
♪ দূরের আলো থেকে জন্ম নেওয়া প্রাণ, তাঁর দয়ায় সঠিক পথ পেয়েছে ♪
♪ সবকিছুই একমাত্র তাঁর ♪
♪ হে পরম দয়ালু ♪
♪ হে মহান দাতা ♪
♪ পৃথিবীর সবকিছুরই কি একদিন শেষ হবে না? ♪
দাঁড়াও!
♪ হে প্রার্থনার জবাবদাতা, সবই তোমার আদেশে চলে ♪
♪ ভাগ্য ও নিয়তি তোমার হাতে, তুমিই পবিত্র সম্রাট ♪
♪ হে সেই রাজা, যিনি অন্ধকারে ডোবা জগতে প্রাণের আলো জ্বেলেছেন ♪
♪ হে নিয়তির প্রভু, আমাদের রক্ষক, সব সৃষ্টিই তোমার ♪
যে জায়গায় তোমার কখনোই শেষ হওয়া উচিত ছিল না...
আজ তুমি সেখানেই দাঁড়িয়ে আছ।
তোমাকে সেখানে আনার অপরাধবোধ...
কবর পর্যন্ত আমাকে তাড়া করবে, আলি।
বাবা, আমার ওপর বিশ্বাস রাখুন।
সব সমস্যা মিটে গেলে...
আমি এই কাজ ছেড়ে দেব।
♪ এই দুনিয়ায় আমাদের রক্ত এক, পথও এক ♪
♪ নশ্বর দেহ চলে গেছে, তবু শেষ পর্যন্ত প্রভুর কাছে প্রিয় ছিলেন তিনি ♪
আম্মা।
♪ হে প্রিয় আত্মা, যাকে প্রভু জীবন দিয়েছেন ♪
♪ তুমি আমাকে আগলে রেখেছ, পৃথিবীতে জীবন দিয়েছ ♪
আম্মা!
♪ তুমি ছিলে সঠিক পথ দেখানো আলোর দিশারি ♪
আলি!
♪ সেই মহান আত্মা আজ চিরবিদায় নিচ্ছে ♪
♪ হে বিশাল বিশ্বজগতের স্রষ্টা ♪
♪ সব গুপ্ত রহস্য যাঁর হাতে ♪
♪ হে অনাদি, দৃশ্যমান সবকিছুর আদি ♪
♪ হে ভাগ্যনির্ধারক, বিচার ও নিয়তির অধিপতি ♪
♪ হে বিশাল বিশ্বজগতের স্রষ্টা ♪
♪ সব গুপ্ত রহস্য যাঁর হাতে ♪
♪ হে অনাদি, দৃশ্যমান সবকিছুর আদি ♪
♪ হে ভাগ্যনির্ধারক, বিচার ও নিয়তির অধিপতি ♪
♪ হে আল্লাহ, তাঁর ওপর রহমত ও বরকত নাজিল করো ♪
♪ হে আল্লাহ, তাঁর কবর প্রশস্ত করো, তাঁকে শান্তি দাও ♪
♪ হে আল্লাহ, দুনিয়ায় করা তাঁর গুনাহ মাফ করো ♪
ওরা তোমার ছেলে রোশিনকে খুঁজতে এসেছিল।
আর যখন ওকে পায়নি...
♪ হে আল্লাহ, জান্নাতে আমাদের সঙ্গে তাঁকে চিরকাল মিলিয়ে দিও ♪
কান্নুর জেলে রাঘবনের পক্ষে অসম্ভব বলে কিছু নেই।
জেলের ভেতরেই হোক...
অথবা কাউকে না জানিয়ে গোপনে তোমাকে বের করে এনে...
দুই ক্ষেত্রেই, সবার চোখের সামনেই তা করবে।
সে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।
জানাজা শেষ হলেই এখান থেকে পালাবে।
সাইতুজি তোমার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করেছে।
তোমাকে শুধু চলা শুরু করতে হবে।
বাকিটা সাইতুজির লোকজন সামলে নেবে।
♪ হে আল্লাহ, তাঁর কবর প্রশস্ত করো, তাঁকে শান্তি দাও ♪
♪ হে আল্লাহ, প্রশ্নের সময় তাঁকে দৃঢ় রেখো, সঠিক উত্তর দাও ♪
♪ হে আল্লাহ, তোমার আলোয় তাঁর কবরের অন্ধকার দূর করো ♪
♪ হে আল্লাহ, চিরকাল তোমার রহমত তাঁর সঙ্গী হোক ♪
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
♪ হে বিশাল বিশ্বজগতের স্রষ্টা ♪
♪ সব গুপ্ত রহস্য যাঁর হাতে ♪
♪ হে অনাদি, দৃশ্যমান সবকিছুর আদি ♪
♪ হে ভাগ্যনির্ধারক, বিচার ও নিয়তির অধিপতি ♪
বাইরে একটা ছোট ট্রাক আর চালক অপেক্ষা করছে।
ওঠো...
সোজা নৌকার ঘাটে চলে যাও।
বাকি সব...
সেখানে ব্যবস্থা করা আছে।
কান্নুর জেলে রাঘবনের পক্ষে অসম্ভব বলে কিছু নেই।
জেলের ভেতরেই হোক...
অথবা কাউকে না জানিয়ে গোপনে তোমাকে বের করে এনে...
ঠিক আছে।
ঠিক আছে।
আচ্ছা।
- গোপী কৃষ্ণন... - স্যার!
আলি!
তুই আসার ঠিক আগেই...
আমাকে এই সেলে সরিয়ে এনেছে।
ওরা নিশ্চয়ই কিছু একটা করছে...
আমি নিশ্চিত।
তুই যা করেছিস, সেটা বোকামি!
কবরস্থান থেকেই পালাতে পারতিস, তাই না?
কোথায় পালাব, সামাদ?
বাবা যখন জানতে পারলেন, বিনায়কনের মৃত্যুর জন্য আমি দায়ী, তখন ভেঙে পড়েছিলেন।
তাঁকে আর কষ্ট দিতে চাইনি।
তাই সব ছেড়ে লুকিয়ে পড়েছিলাম।
এখন আর কীসের ভয়?
কোথাও না কোথাও এসবের শেষ হতেই হবে।
অন্তত আম্মা, ফিজা আর আমার ছেলেটা নিরাপদ থাকুক।
এই তুমি! কী হচ্ছে?
তোমাদের কেউ ঘুমাওনি নাকি?
আমির, আমার সঙ্গে এসো।
- একটা ব্যাপার আছে। - কী হয়েছে, স্যার?
তোমার জানার দরকার নেই!
নিজের কোণে ফিরে গিয়ে ঘুমাও!
চলো, আমির, বের হও।
আমার সঙ্গে এসো।
♪ রক্ত ঝরবে, চারদিকে ভয় ছড়িয়ে পড়বে ♪
♪ যুদ্ধ বেধে যাবে, সে হত্যার জন্য প্রস্তুত ♪
♪ কবর থেকে উঠে আসা আত্মারা... ♪
♪ প্রতিশোধের তৃষ্ণায় অপেক্ষা করে ♪
♪ মৃত্যুর পিপাসা কাছেই ওত পেতে আছে ♪
♪ কে কাকে হত্যা করছে, তাতে কিছু যায় আসে না ♪
♪ অন্ধকারে জড়ো করা অস্ত্র, জ্বলে ওঠার জন্য ধার দেওয়া হয়েছে কি? ♪
♪ তোমার মৃত্যুর ক্ষণ এগিয়ে আসছে ♪
ভেতরে এসো!
♪ আগুনের নরকে একদল লোক তোমার অপেক্ষায় ♪
♪ বহুদূর থেকে শিকারে এসেছ... ♪
♪ এবার সত্যিকারের প্রাণঘাতী যুদ্ধ ♪
♪ তার ভেতর আগুন জ্বলে, দূরে দূরে ছড়িয়ে পড়ে ♪
আমির!
ত্রিশ মিনিট।
জেল সুপার আমাদের এতটুকু সময়ই দিয়েছেন।
তার আগেই কাজ শেষ করে বেরিয়ে যেতে হবে।
দেখো!
এই লোকগুলোই...
তোমার বাড়িতে হামলা করেছিল।
পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় আমরা তোমাকে শেষ করতে পারতাম...
যেকোনো সময়।
তবু তা করিনি কেন?
একবারও কি কারণটা ভেবে দেখোনি, আমির?
এটাই!
এটাই একমাত্র কারণ ছিল!
দুঃখিত, স্যার।
তার শরীরের ৬০ শতাংশেরও বেশি পুড়ে গেছে।
হয়তো প্রাণটা বাঁচাতে পারব...
কিন্তু...
ভাই!
কেউ যেন আমাকে এ অবস্থায় না দেখে।
কেউ যেন আমাকে এ অবস্থায় না দেখে।
তাহলে তুমি ওকে মরতে দেখতে চাও না?
আমি চাই তুমি সেটা নিজের চোখে দেখো।
তুমি শুধু একটাই কারণে বেঁচে আছ।
ওর মৃত্যু দেখার জন্য।
বিনায়কন!
কী দুর্ভাগা তুমি!
আর কে তোমার কথা শুনত...
এত ভয়ংকর যন্ত্রণা সহ্য করত...
শুধু আমার মৃত্যু দেখার অপেক্ষায়?
তুমি কী ভেবেছিলে?
আমি কি তোমাকে প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ দিতে আত্মসমর্পণ করেছি?
আমি এসেছি...
বাবার জীবনের ঋণ শোধ করতে!
আমির...
ওদিকে দেখো!
ওর পায়ের নিচে চাপা পড়ে...
দম বন্ধ হয়ে হাঁসফাঁস করছিল, একটু বাতাসের জন্য কাকুতি-মিনতি করছিল...
তোমার বাবার শেষ মুহূর্তও এমনই ছিল।
তাহলে সেই ঋণ...
এখন যদি তোমাকে এই ঘরে আটকে...
কুকুরের মতো জবাই করে মেরে ফেলি, তবে শোধ হবে কীভাবে, আমির?
হ্যাঁ?
♪ গর্জন শুনছ? আলির সিংহ শিকারে নেমেছে! ♪
♪ কুখ্যাত, ক্ষমতাবানদের শত্রু ♪
ওঠো! জেগে ওঠো!
জি, স্যার।
সারা জীবনের জন্য যথেষ্ট নরক তুমি ভোগ করেছিস।
আবার যদি আমাকে অনুসরণ করার কথা ভাবিস...
জেলের ভেতরে যা-ই ঘটুক...
তার সরাসরি দায় জেল সুপারের ওপর বর্তাবে।
তাই তো, স্যার?
তাহলে বাকি দায়িত্ব আপনার ওপর ছেড়ে দিলাম, স্যার।
গোথাম, কান্নুর থেকে মাত্র দশ কিলোমিটার দূরে...
প্রখ্যাত ব্যবসায়ী হ্যারিস বশিরের গাড়িটি পাওয়া গেছে...
কাট্টাপল্লি বাঁধে ডুবে থাকা অবস্থায়।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলা হলেও...
পুলিশ জোরালোভাবে অপরাধের সন্দেহ করছে।
পুলিশপ্রধানের বক্তব্য থেকেও তেমনটাই বোঝা যাচ্ছে।
ফোনটা!
বিনায়কন হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আমির আলি জামিনে মুক্ত।
গতকাল বিনায়কনকে পাওয়া গেছে, যাকে মৃত বলে মনে করা হয়েছিল...
আদালত ভবনের কাছে পড়ে থাকা অবস্থায়...
তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ভয়াবহ দগ্ধ ক্ষত ছিল...
এরপরই আমির আলিকে জামিন দেওয়া হয়।
ছয় মাস পর, নেপাল
উত্তর নেপালে ভারী তুষারপাতের কারণে বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
জমে থাকা বরফের মধ্যে গাড়িগুলো দীর্ঘ সারিতে আটকে পড়েছে।
একটানা ২২ বছর নির্জন কারাবাসের পর...
ভারতীয় পাচারকারী আহমেদ আলি এই মাসের ১২ তারিখে মুক্তি পাবেন।
২০০২ সালে ১৭ জনকে হত্যার দায়ে আহমেদ আলিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
নেপালের কুখ্যাত সেলিম মির্জা গ্যাংয়ের সদস্যদের।
এই আলোচিত মুক্তি...
- ওজনটা যখন... - ভাই!
তোমার ফোন এসেছে।
দাও, আম্মা।
সুদীপ।
কোনো অবস্থাতেই “এ” শ্রেণির বন্দিকে...
শিকল না পরিয়ে নির্জন সেল থেকে বের করা যাবে না।
এটাই নিয়ম, ম্যাডাম।
চার্লস শোভরাজের ক্ষেত্রেও আমরা একই নিয়ম মেনেছি।
মিস্টার পানিকর, আপনি কি জানেন...
এই দেশকে কফেপোসার মতো আইন করতে বাধ্য করেছিল কী?
উত্তরে রাজত্ব করত...
সুকুর নারিন বাখিয়া আর হাজি মস্তান।
আর এখানে দক্ষিণে ছিল মুদালিয়ার আর...
একই ধারার আরেকজন...
এবার পালা আহমেদ আলির।
বাবা...
আব্বা!
আমার রাজপুত্র!
আমার রক্ত!
আলি!
তোমার জন্মের দিন থেকেই এই মুহূর্তের স্বপ্ন দেখে আসছি।
ভাবতাম, এই জীবনে সে স্বপ্ন আর পূরণ হবে না।
শুধু তোমাদের সবাইকে...
আড়াল থেকে দেখে গেছি।
কিন্তু কারাগারের দেয়ালও...
এই সত্য বদলাতে পারে না যে আমির আলি আর ইউনুস আলি আমারই রক্ত, আমি আহমেদ আলি।
আমার রক্তমাংসের কেউ বিপদে পড়লে...
পৃথিবীর গভীরতম কারাগারে থাকলেও তার কম্পন আমি টের পাই।
হাড়কাঁপানো ঠান্ডাতেও রাগে জ্বলে উঠব!
নিজের রক্তের প্রতিশোধ নিতে গেলে...
দয়া যেন কখনো তোমাকে আটকে না দেয়, আলি।
কারণ শোধ না করা কোনো ঋণ...
অভিশাপে পরিণত হয়...
যার বিচার করে সময়।
কয়েক ঘণ্টা আগে
অনুবাদ ও সম্পাদনা: Moshiur Rahman Facebook ID: facebook.com/moshclusive
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.