All language subtitles for Yeto Vellipoyindhi Manasu

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali Download
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English Download
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian Download
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese Download
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

সবাইকে স্বাগতম বাংলা সাব দিয়ে মুভি দেখার জন্য

এটি আমার পঞ্চম বাংলা সাবটাইটেল।

আর হার্ডকডেড সাব থেকে দ্বিতীয়। জানেন নিশ্চয়ই, এতে কষ্টের পরিমান কতটুকু। তাই আশা রাখি ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

মুভি দেখার আগে কিছু কথা অবশ্যই জেনে নিন।

এই মুভিটির আলাদা কোন ইসাব নাই। ভালো প্রিন্ট ও ছিল না এত দিন। কয়েকদিন আগে একটা ভালো প্রিন্ট আসে। মুভির টাইমিং ২ ঘণ্টা ২৪ মিনিট ৬ সেকেন্ড।

কিন্তু সমস্যা আছে। শেষের দিকে একটা যায়গাই গিয়ে অরিজিনাল মুভির ২ মিনিটের মত কেটে ফেলে। আর একদম শেষে এক মিনিট। যদিও আমি ১ম অংশের সারমর্ম আর শেষের অংশের সাব করে দিয়েছি আপনাদের বুঝার জন্য।

তাহলে উপভোগ করুন মুভিটি। আর মুভি দেখার আগে অবশ্যই টিস্যু বক্সটি সাথে রাখুন। কাজে দিবে। ☺☺

মুভির নামঃ Yeto Vellipoyindhi Manasu রিলিজঃ ডিসেম্বর ১৪, ২০১২ অভিনয়েঃ নানি, সামান্থা

পরিচালকঃ গৌতম মেনন আই এম ডি বি রেটিংঃ ৭.৩ আমার রেটিংঃ ৮.০ মুভি ধরনঃ লাভ স্টোরি। 💛💚💙💜

বা

বাং

বাংলা

বাংলা সা

বাংলা সাব

বাংলা সাব মে

বাংলা সাব মেকা

বাংলা সাব মেকার

বাংলা সাব মেকার-

বাংলা সাব মেকার- A

বাংলা সাব মেকার- AI

বাংলা সাব মেকার- AIM

বাংলা সাব মেকার- AIM Yasir

বাংলা সাব মেকার- AIM Yasir Efaz

মুভিটা এমন ভাবে শেষ হবে বিদায় বলার সময় পাবো না। সাব কেমন হয়েছে কমেন্ট করে জানাবেন।

আর অবশ্যই রেটিং দিবেন।

মুভি দেখে কেমন লাগল, সেটা শেয়ার করবেন আমাদের ১ লক্ষাধিক সদস্যের পরিবার "সাউথ ইন্ডিয়ান মুভি ফ্রিক" গ্রুপে। জয়েন করুন আমাদের সাথে- https://www.facebook.com/groups/SouthFreak

ধন্যবাদ সবাকে। উপভোগ করুন ন্যাচারাল স্টার নানি আর বিউটি কুইন উইথ কলিজা কাটা হাঁসির অধিকারী☺ সামান্থা।

ধূমপান ও মদ্যপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর! এটা ক্যান্সারের অন্যতম কারণ।

সমস্যাটা কি এখানে?

তোমাদের লিডার (দলনেতা) কে?

তোমার কি কোন লজ্জা-শরম নাই নাকি?

তোমার তো এখনো পুরো কোর্সই কমপ্লিট করা বাকি আছে। (সব সাবজেক্টে ফেইল)

আমি ট্যুরে (পিকনিকে) যাওয়ার জন্য সবাইকে অনুমতি দিচ্ছি। শুধু তোমাকে ছাড়া। ☺☺☺☺☺☺☺☺☺

আয়... আয়...

হাই, বাবা... হাই, মা...

অনেক ক্লান্ত আমি...

কলেজের কারণে নাকি ক্রিকেট খেলে!!! ☺

অবশ্যই "কলেজ", বাবা।

☺☺ ক্রিকেট কখনোই ক্লান্তিকর না!!! ☺☺

ওই, তোর ক্ষুধা লাগে নাই?

তাড়াতাড়ি হাত-মুখ ধুয়ে আয়।

কিছুক্ষণের মধ্যেই রান্না শেষ হয়ে যাবে।

ইন্টার্ভিউ কেমন হলো???

অনেক হয়েছে... ১৮ তম বার আর যেতে পারব না। (এর আগে ১৭ বার ইন্টার্ভিউ দেয়া শেষ ☹)

এটা কোন ব্যাপার না রে। আশা হারাবি না। (হারিশ- তাঁর বড় ছেলেকে বলছে)

বরং, আবার চেষ্টা কর। ১৭ বার ইন্টার্ভিউতে ফেইল করলে কি হয়েছে?

১৮ তম ইন্টার্ভিউটা, হয়ত তোর জন্যই...

না বাবা...

আর কোন ইন্টার্ভিউ দিবো না।

চাকরিটা পেয়ে যাওয়ার পরও আবার ইন্টার্ভিউ দিতে যাওয়া, ভালো দেখায় না। ☺☺☺☺

আমি চাকরিটা পেয়ে গেছি।

আমি জানতাম, তুই চাকরিটা পাবি। -ধন্যবাদ, মা।

অস্থির অভিনয় করলি, ভাই।

......অনেক অভিনন্দন..... - পেয়ে গেলাম চাকরিটা। ☺☺☺

ধন্যবাদ।

সাবাশ... অনেক ভালো করেছিস...

চাকরিটা খুবই সহজ, ভালো বেতনও দিবে।

আম্মা, শনিবার আর রবিবার; দুইদিন বন্ধ।

বাবা, আমি বলেছিলাম না, এম বি এ (MBA) করার কোন দরকার নেই।

তুই MBA করতে চাস নাই?

MBA করতে হলে, তোকে ৭ বার CAT Exam দিতে হবে। (CAT- Common Admission Test, ইন্ডিয়াতে এমবিএ কোর্সে ভর্তির জন্য, কম্পিউটার বেইজড পরীক্ষা)

আজাইরা কথা এক পাশে রাখতো...

২৫ জন আবেদন করেছিল। সেখান থেকে ৩ জনকে নিল। আমি তাঁর মধ্যে একজন।

এই না হল, আমার ছেলে।

এটাও বিশ্বাস করবো?

ভাইয়া, আমার ট্রিট চাই।

তুই আর কি ট্রিট চাইবি? শকুন্তলা দেবীর কিছু গণিত বই, তাই না?

কোন সমস্যাই নাই।

সেরকম কিছু না, ভাইয়া। সামনে পাবলিক পরীক্ষা। আমি সে জন্য কোচিং সেন্টারে ভর্তি হতে চাই।

কোন দরকার নাই।

মানে, এটাতে সময় আর টাকা দুটোই নষ্ট হবে।

মানুষ পড়াশুনার চেয়ে অকাজেই এসব যায়গায় বেশি ভর্তি হয়।

তুমি কি সেজন্য ভর্তি হয়েছ?

- ওই... - অফ যাও... অফ যাও... ঝগড়া করো না।

ওই, আপ্পু...

তুই চাইলে অবশ্যই ভর্তি হবি।

- হারিশ... - জি বাবা।

আমাকে আর তোর মাকে একবার সিঙ্গাপুর পাঠাবি।

প্রথম প্লেনে উঠবে... সেই মজা হবে তাই না?

অবশ্যই বাবা... ।

- ওই ভারুন। - হুম...

তুই তোর ভাইয়ের মত হতে চাস না?

বাদ দাও তো। আগে ওকে মাস্তি করতে তো দিবে।

তোমার দেয়া প্রতিশ্রুতি গুলা তোমার ছেলেকে দিয়ে পূরণ করো না।

তোমাকেই নিয়ে যেতে হবে।

হুম... আমার শিক্ষকতা চাকরির বেতন দিয়ে, তিনটা খালি পেট পূরণ করার পর .........

সিঙ্গাপুর যেতে হলে, তোমার আরও ১০ বছর লাগবে। ☺

আমাদের চেষ্টা আমরা করব... বাকিটা তো আমাদের হাঁতে না।

হ্যালো, তোমরাই কি সবার আগে পারফর্ম করবে?

না, আমরা ২ নম্বরে...

আধা ঘণ্টা একটু অপেক্ষা করতে পারবে?

কেন?????

আমার বন্ধুদের পাঠাবো লরি ভরে পচা টমেটো আনার জন্য।

তোমাদের মুখের উপর মারতে হবে তো। ☺☺☺☺☺

ফালতু কোথাকার... - আমি তোমাদের অনুশীলন দেখেছি... পুরাই আজাইরা...

ওই তুই কি দেখেছিস তাঁদের আজাইরা অনুশীলন...

ওই চল... ও তো চলে গেল ভিতরে...।

নিথিয়া এলাভারথিয়া...

কোথায়???? কে ও ?????

আমার নিথিয়া এলাভারথিয়া...

সে আমায় বাঁচতে শিখিয়েছে আর তারপর ছেড়েও চলে গেছে।

আমি তোকে বলেছিলাম না?

অস্থির...

পুরাই অস্থির... ☺☺☺☺

কিন্তু আমি যেই মেয়েটাকে চিনি, সে কিন্তু এই মেয়েটা না।

সে তখন অনেক ছোট ছিল।

ওই ব্যাটা, তুইও তো তখন বুইড়া ছিলি না।

সে যদি তখন ছোট্ট মেয়ে থাকে, তাহলে তো তুইও ছোট্ট ছেলে ছিলি।

সেরকম কিছু না রে।

অনেক প্রতিক্ষার পর সে পরী হয়ে আমার জন্য এসেছে...

ওই, সবকিছুই কি স্লো মোশানে চলছে নাকি?

ব্যাটা, সবাই ওসাইন বোল্ট গতিতে মজা করছে,

শুধু তুই ই স্লো মোশানে আছিস...।

আমি প্রত্যেকটা জিনিস খুবই স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি।

সে মাথা ঘুরালো...

তুই এসব দেখতে পাচ্ছিস??

সে চোখের পলক ফেলল...

তুই এসব কিছুই দেখতে পাচ্ছিস না?

আমিও দেখতে পাচ্ছি দোস্ত...

কিন্তু ছোট্ট একটা কনফিউশানে আছি...

এখানকার ৫ টা মেয়ের মধ্যে, তোরটা কোনটা?

তুই ই ধারণা কর...

ওরে, আমার টেস্ট কেকা আপার মত খারাপ।

সে হাসল...

তুই দেখেছিস?

তাঁর হাঁসি ঠোঁটের বাম কোনা থেকে শুরু হয়...

আর সেটা বেঁয়ে বেঁয়ে চোখের কোনে চলে আসে।

বেঁয়ে বেঁয়ে উঠবে?? এটা কি টিকটিকি নাকি?

তুই কার চোখের কথা বলছিস?

ওর চোখের কথা বলছি।

দেখ, সে খুঁজছে... আমার দুচোখকে খুঁজছে...

তাইলে যা তোর চোখগুলো দিয়ে আয়...

নিথিয়া...

সবাইকে শুভ সন্ধ্যা...।

আমরাই আয়োজক দল।

তোমরা যারা আমাদের চিনো না...

আর আমরা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছি না।

কারণ, আমরা অংশগ্রহন করলে, আমরা এক চুটকীতেই জিতে যেতাম।

আমার নাম স্নেহা, আমার ডানপাশে ভোকালে আছে "ভারুন কৃষ্ণা"।

বেইজ গীটারে আছে আশোক, কীবোর্ডে মানু...

আমার পিছনে, খঞ্জনীতে আছে প্রাভিন,

ড্রামসে সুরিয়া আর লিড গীটারে আরুন।

আমরা এখন গান শুরু করবো...

ভারুন, তুই কি করছিস এসব?

- আমি দুঃখিত। এক মিনিট। প্লিজ, আমি ম্যানেজ করছি।

ওই, মামা। শুরু কর না। দেখিয়ে দে, মামা।

গানটা অসাধারণ ছিল, মাম্মা। -তোর সাথে কথা আছে, এদিকে আয়।

কোথায় নিয়ে যাচ্ছিস?

তুই এত সুন্দর গান গাইলি কেমনে?

তোর সাথের মিউজিসিয়ানরাও দ্রুতই গানটা ধরতে পেরেছিল।

তুই কি এর আগে এই গানটা প্র্যাকটিস করেছিস?

আরে ধুর, কোন প্র্যাকটিস নাই রে লাস্ট কবে গান গেয়েছিলাম নিজেরই মনে নাই।

অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে, দোস্ত।

ভারুন, তুমি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে এসেছো?

আমাদের যদি এক হাজার টাকা করেও দেয়, তারপরও ভিতরে ঢুকিস না।

তাঁদের তর্ক দিয়ে আমাদের মেরেই ফেলবে।

এজন্যই আমরা বিনা খরছে ভিতরে ঢুকবো।

চল...

এতটা সুন্দর হবে আশা করি নাই... খারাপ না...।

আমি মিথ্যা বলেছিলাম যে আমি একজন প্রতিযোগী। আমি কি এখানে বসতে পারি?

কৃষ্ণা... ও মাই গড... ভারুন ...

হাই, জেনি... কেমন আছো?

স্কুলের পর থেকে তো আর দেখাই হয় নাই।

যাই হোক, ও আমার বন্ধু প্রকাশ...

হাই... - ওর কথা বাদ দাও তো...।

ভারুন, তুমি তো অস্থির গেয়েছো। আমি কখনোই ভাবি নাই তুমি এত ভালো গাইতে পারো।

স্কুলে তো কখনো গান গাইতে দেখি নাই।

স্কুলের শেষে তো তোমার আর কোন খবরই ছিল না।

কপাল......।

আমরা অনেক ঘনিষ্ঠ ছিলাম, তাই না?

তারপর তো তোমার আর কোন খবরই নাই।

বেশি অতিরিক্ত হয়ে গেছে...

জানো, আমি আর নিথিয়া এখনো বেস্ট ফ্রেন্ড।

তাও আবার একই কলেজে...

যদিও ডিপার্টমেন্ট ভিন্ন।

সে "মনোবিজ্ঞান" নিয়ে পড়ছে। ইয়াক থু... ☺

কথা বন্ধ করো সবাই...

সকল প্রতিযোগী নিজ নিজ আসন গ্রহন করো, প্লিজ।

ঠিক আছে, চল বসি।

ওই, আয় না। তুই কি তাঁর কোলে বসবি নাকি?

আজকের বিতর্কের বিষয় হচ্ছে...

"সবকিছু ভুলে গিয়ে, মাপ করে দেয়া... কি আমাদের শক্তি নাকি দুর্বলতা?"

আজকের বিতর্কের প্রথম বক্তা...

ভিল্লা মেরি কলেজ থেকে, নিথিয়া ইলাভারথি।

শুভ সকাল...

"সবকিছু ভুলে গিয়ে, মাপ করে দেয়া... আমাদের শক্তি নাকি দুর্বলতা?"

ইংরেজিতে কথা বলছে, মাম্মা। চল চল। এখনই এখান থেকে পালাই।

বস...।। বস...।।

মানুষ মাত্রই ভুল করবে...

আর আমরা কেউ যদি নিজেকে এই নিয়মের বাইরে ভাবি তবে সেটা হবে আমাদের ভুল।

আর দুঃখজনক হলেও এটাই সত্যি যে...

আমারা যাঁদেরকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি বেশিরভাগ সময়, তাঁদেরই যত্ন নিতে পারি না।

আর এই ধরণের পরিস্থিতে, আমদের কি প্রায়শ্চিত্ত করার কোন উপায় নেই?

ওই, আমি কোথায় যেন শুনেছি, মানুষ প্রেমে পড়লে ভাবে যে, আমরা যে মুভি দেখি বা যে গান শুনি, তা আমাদের জন্যই স্পেশালী বানিয়েছে। ☺☺☺

♪ আমি তো প্রেমে পড়ি নি... ♪ ♪ প্রেম আমার উপরে পড়েছে... ♪

গানটা শুনেছিস তো?

যেহেতু, সে বলছে যে সবকিছু ভুলে যাও আর মাপ করে দাও...

তোর কি মনে হয়, সে সবকিছু ভুলে যাবে?

অবশ্যই...

ও অনেক সুন্দর... তাই না?

আমি কখনোই ভাবি নাই যে সে এত সুন্দর হবে... ☺☺☺

ও রে ভাই, আমার এই মেয়েটাকে ভালো লেগেছে, ওই মেয়েটাকেও ভালো লেগেছে.........

মাইয়াটা সেই হট, দেখ মামা।

আমার মনে হয়, আমার সবকটা মেয়েকেই ভালো লেগেছে।

ক্লাস টেন পর্যন্ত আমি বয়েজ স্কুলে ছিলাম।

মাঝে মাঝে "দ্বিতীয় সুযোগ" ই সবচেয়ে বড় উপহার যেটা আপনি আপনার প্রিয় মানুষটিকে দিতে পারেন।

আর আপনি যদি কাউকে ভালবাসেন...

মাঝে মাঝে "দ্বিতীয় সুযোগ" ই সবচেয়ে বড় উপহার যেটা আপনি আপনাকে দিতে পারেন।

অনেক ভালো হয়েছে...

ধন্যবাদ।

যা...। যা গিয়ে কথা বল...।

গিয়ে কি কথা বলবো?

"হাই..." "কেমন আছো" দিয়ে শুরু করবি। "চলো বিয়ে করে ফেলি" দিয়ে শেষ করবি।

এটা এত পান্তা ভাত না...

ওই, আমি কি বলি শোন না, এই ধরণের পরিস্থিতিতে মেয়েরা অনেকটা গ্যাস ব্যালুনের মত।

একবার ছেড়ে দিলেই উড়ে যাবে... যা... ........All The Best... দোস্ত।

এই ভারুন, তুই এখানে কি করছিস?

কিছু না...

তুই কি আমাদের সাথে খেলবি নাকি নিথিয়ার সাথে খেলবি?

তুই কি লেডিস নাকি রে?

তোমাদের সাথেই খেলতে চাই, ভাইয়া।

তাহলে আয়...

বাবা...। বাবা...। - কি হয়েছে, মা?

আমি ভারুনের সাথে কথা বলতে চাই না।

ওই, পিছনের দিকে তাকাবি না।

গতকাল যে কিউট ছেলেটাকে দেখেছিলাম, সে এইমাত্র ক্লাসে এসেছে। ☺

সে কি পরেছে আজকে?

ইউনিফর্ম পরে, নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।

চুপ কর, এরকম করে ওর দিকে তাকিয়ে থাকবি না।

উম্ম, আইডিয়া...

এই মেয়েরা... মেয়েরা... নিথিয়া......

আমার পদার্থবিজ্ঞান বইটা কি দেখেছিস?

বাল, একটা মাইয়াও ঠিক মত ন্যাচারাল এক্টিং করতে পারে না।

নিথিয়া...। নিথিয়া...।

"B" Row (বি সারির) এর নিথিয়া...

নিথিয়া...। নিথিয়া...।

আমি তোর গাড়ীতে আমার বই ফেলে এসেছি, নিথিয়া।

(ভারুন আর নিথিয়ার স্কুলের সময়)

এই... নিথিয়া...

সরি, দোস্ত... এটা শুধু একটা মজা ছিল...

ও কিন্তু দেখে নি, সত্যি বলছি।।

প্লিজ, দোস্ত... রাগ করিস না...।

নিথিয়া...

এই, নিথিয়া...

আমি তোকে বলেছিলাম না, ও অনেক কিউট......

চুপ ... চুপ...

রিল্যাক্স (শান্ত হও)... সে তোদের কাছে, কিউট, হ্যান্ডসাম হতে পারে...

কিন্তু আমার কাছে সে একটা গর্দভ।

আমাদের মায়েরা সবসময় যাদের থেকে ১০০ হাত দূরে থাকতে বলে থাকে...

সে ওই কাতারেরই লোক।

আর তুই কি জানিস,

যে সব ছেলেরা আমাদের মেয়েদের দিয়ে কফি আনিয়ে আমাদেরকেই তাঁর জন্য অপেক্ষায় রাখে...

সে ওই ধরণের লোক

তার মানে, তুই তাঁকে চিনিস!! -তুই চিনিস তাঁকে? -তুই চিনিস তাঁকে?

ওই... ওর নাম কি রে? ☺☺☺☺

মেয়েটা তো পুরাই কেটি (হট), মামা। তাই না??

আচ্ছা... আচ্ছা... ঠিক আছে...।

আমি মেয়েটাকে চিনি।

সুপার... কি নাম ওর???

তুই যদি তাঁকে চিনিস, তবে তাঁর সাথে গিয়ে কথা বলিস না কেন?

এক্সকিউজ মি... (মাপ করবেন...)

বাই... দেখা হবে...। -বাই...।

হ্যাঁ, বল...।

তুমি নিথিয়া না?

"ছিক্কাড পল্লী অলক নান্দা এপার্টমেন্ট"... তুমি সি ব্লকে (C- Block) থাকতে।

ওহ... সরি... আমি ভারুন... ভারুন কৃষ্ণা। আমরা একসাথে খেলাধুলা করতাম।

আমাকে চিনতে পারো নাই?

আমরা বন্ধু ছিলাম তখন, আমি প্রায় সবসময় তোমাদের বাসায় যেতাম।

তোমার মায়ের হাতের বানানো ঝোল দিয়ে পুরি খেতে অনেক পছন্দ করতাম;

আর আমরা একটা ছবি দুইজন মিলে আঁকতাম।

তারপর কি হয়েছিল???

এরপর আমাদের আর কথা হয় নাই কেন?

তুমি নতুন ফ্রেন্ডস পেয়ে গিয়েছিলে বুঝি?

আরে সেরকম কিছু না... তোমার পরিবার সেখান থেকে চলে গিয়েছিল।

আমাদের কথা না বলার এটাই কি কারণ ছিল?

না, এজন্য না...

কিন্তু আমি মনে করি তুমি জানো কারণটা...

যাই হোক, পরে কথা হবে...

এটা কি ছিল??????? - কি?

এসব কি শুনলাম?

তুই কি ১০ বছর আগে যা ঘটেছিল, সেটার প্রতিশোধ নিচ্ছিস নাকি?

এরকম কেন করলি?? আহারে... ☹☹☹☹

সাত বছর... তোরা কি জানিস?

মানুষের আসল রুপ কখনো বদলায় না।

সে আগেও ইডিয়ট ছিল আর এখনো ইডিয়টই আছে।

তাহলে তোর ক্যারেক্টার টা কি শুনি?

মুখের উপর যা ইচ্ছা বলে দেয়া???

সাত বছর আগেও কি তুই এরকমই ছিলি???

ওওওও... ও কিউট দেখে এখন তাঁর পক্ষ নিয়ে কথা বলা হচ্ছে, তাই না?

তুই তো আমকে ৫ বছর ধরে চিনিস...

কিন্তু তুই তাঁর সম্পর্কে কিছুই জানিস না।

নিথিয়া, আমরা তোকে কোন ধরণের জিজ্ঞাসাবাদ করছি না......

আমরা জানি, তুই তাঁকে ঘৃণা করিস।

আর আমরা জানি, সেতো আমাদের জন্য কফি কিনে এনে খাওয়ানোর মত ছেলেও না।- চল চল...

সেটাই তো... সে কফি কিনার মত ছেলেই না।

ওই তুই কি করছিস?

প্রশ্নতো অনেক সোজা ছিল, জেনি।। - তুই কি আমাকে কপি করতে দিয়েছিস?

ওই, নিথিয়া কই রে?

- তুমি এরকম করলে কেন? তুমি তো স্যারকে সত্যি কথা বলতে পারতে।

আমি বলতে পারতাম, কিন্তু কিভাবে বলবো সেটা ভেবে উঠতে পারছিলাম না।

আসলে আমি মিথ্যা বলি নাই...

আমি চেয়েছিলাম তোমাকে সাহায্য করতে, আমি সেটাই চেষ্টা করছিলাম।

স্যার দেখে ফেলেছিল।

না তুমি মিথ্যা বলেছিলে।

তুমি তো আমাকে জিজ্ঞাসাই করো নাই।...

তুমি স্যারকে তো বলতে পারতে, আমি তোমাকে প্রশ্ন করেছিলাম।

ব্যাপার না।

ঐদিন আমি আমার ভাইয়ের সাথে মিথ্যা বলেছিলাম।

আমার সত্যি বলা উচিত ছিল যে, "আমার তোমাকে চাই"।

ঠিক আছে, পরে কথা হবে...।

ঘটনা কি? হুম? - সে একটা কিউটের ডিব্বা।

তুই বলছিস?

এক মিনিট......

তারপর, শেষ দিন... "Same Pinch"...

দেখ দেখ... নিথিয়ে ঐখানে চলে গিয়েছে।

পরীক্ষার জন্য অনেক শুভকামনা...

তোমাকেও...

ধন্যবাদ...।

পরীক্ষা শেষে এটা সেলিব্রেট করার জন্য দেখা করা যাক?

তার মানে, তুমি খুবই কনফিডেন্ট যে তুমি সবকটা সাব্জেক্টে পাশ করবে।

আমাদেরকে তো আর ইতিহাস আর ভূগোলের প্যারায় পড়তে হচ্ছে না...

এজন্য আমাদের সেলিব্রেট করা উচিত।

(জান্টুস আর হাসিস না রে...। কলিজায় পিন মারে... ☺☺☺)

চলো আমরা চা/কফি খেয়ে আসি..??

আমি বিল দিব আজকে...।

ঠিক আছে...

অপেক্ষা কর। সে বলেছে কফি খেতে যাবে।

কফি!!!!!!!!

ভাইয়া, একটা হরলিক্স

কফি...

পরীক্ষা শেষে তাহলে দেখা হচ্ছে?

আসলে, ছুটির দিনগুলোতে আমি বাইরে যাবো, এখানে থাকবো না।

আসলে, আমিও বাড়ি যাচ্ছি...।

এক সপ্তাহ পর ফিরে আসবো।

আন্নাভারাম, আমার গ্রাম।

সবুজ গাছপালা.. দিগন্ত মাঠ.. অনেক সুন্দর.. আমি অনেক পছন্দ করি।

তুমি কখনো গিয়েছো?

তাই নাকি? একবার এসো... অনেক সুন্দর গ্রাম। ছুটির দিনে তুমি কোথায় যাবে?

অস্ট্রেলিয়া......

তারপর... কখন ফিরবে সেখান থেকে?

আসলে আমি ছুটির দিনে এখানে থাকবো না...

পরীক্ষা যেদিন শেষ হবে সেদিন রাতেই আমরা চলে যাচ্ছি।

আগামী বছরের একাডেমিক সময় সম্পর্কে, মা প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলে নিয়েছেন। (কখন ক্লাস শুরু হবে এই ব্যাপারে)

স্কুল খুললে আমরা আবার ফিরে আসবো।

সোজা ইন্টারমেডিয়েট...

তোমরা অস্ট্রেলিয়ার কোথায় যাচ্ছ?

পুরা অস্ট্রেলিয়াতেই ঘুরে বেড়াবো।

মেলবোর্ন???!!!!

হুম... আমার আঙ্কেল ঐখানেই থাকে।

আমরা তো প্রথমে ঐখানেই যাবো। কেন?

আমি ঐখানে একটা মেয়েকে চিনি। তুমি তাঁর সাথে দেখা করতে পারবে?

অনেক ভালো মেয়ে, আমার খুব ভালো ফেইসবুক ফ্রেন্ড।

কিন্তু আমি জানি না যে, সে মেলবোর্নের একজ্যাক্ট কোথায় থাকে।

তাঁকে খুঁজে বের করা এত কষ্টকর হবে না।

কারণ, সে যখন কিছু নিয়ে চিন্তা করে... তখন কলম চাবাতে শুরু করে...। ☺☺

সে যখন হাসবে, মনে হবে কেউ এস্কারাপ মোটর সাইকেল নিয়ে ক্লসের ভিতর ঢুকে যাচ্ছে।

(কিঞ্চিত গ্রাম্য ভাষা এস্কারাপ- মানে Scrap- ভাঙাচুরা/ ভাংরি) (আমরা নোয়াখালিতে বেশি ব্যাবহার করি এই শব্দটা)

তাঁর সাথে ঝগড়া করলে...

সে কখনোই আমাদের মাপ করে না... যতক্ষণ না, আমরা তাঁর পায়ে জড়িয়ে ধরি। ☺☺

আমার মনে হয়, আমি তাঁকে চিনি।।

একদম খাপের খাপ।

তুমি কি তাঁকে একটু বলে দিবে...

হায়েদ্রাবাদে তাঁকে কেউ একজন অনে...............ক মিস করছে।

আমি তাঁর ফিরে আসার জন্য অপেক্ষা করবো।

তাঁকে বলবে, একটু উল্কার বেগে একটু চলে আসতে।

ঠিক আছে।। আমার ক্ষুদা লেগেছে।

ভাইয়া, ২ টা চমুসা... ৪ টা বাটার বিস্কিট...

আমি অর্ডার দিয়েছি, সুতরাং আমি টাকা দিব...

শোন, যখনই আমরা দেখা করব, আমিই টাকা দিব। ঠিক আছে?

আরে, তুমি এখানে কি করছো?

কি????

ভয় পেয়ো না।

আমি কাউকে বলব না যে, আমি তোমার জন্যই এখানে ভর্তি হয়েছি।

তুমিও কাউকে বলবা না। হুম?

নিথিয়া......

তারপর......

অভিনন্দন... স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের লিডার..। (ক্লাস ক্যাপ্টেন)

থ্যাংক ইউ...।

দীপক স্কুলে তোমার চেয়ে সিনিয়র বলে তাঁরা দীপকে নির্বাচিত করেছে।

তাঁরা বলল বলল তুমি ফ্রেশার। আমি প্রিন্সিপ্যালকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম।

হেই, প্লিজ......

আমার এসব প্রতিযোগিতায় কোন আগ্রহই নাই।

তাঁরা আমাকে ফ্রি দিলেও আমি রাজি হতাম না।

যারা "খান হেলালের" মত মানুষের নজরে আসতে চায়, এটা তাঁদের জন্য।

আমার এই ধরণের প্রতিভার দরকার নাই।

শুনো, আমি দীপক সম্পর্কেই বলছি, তোমার সম্পর্কে না কিন্তু।

তোমার মনের কথা তুমি বলেছো।

অন্তত, আমার জন্য হলেও, তুমি খুশি হবার ভান করতে পারতে না ?? ☹☹☹

ক্লাস ক্যাপ্টেন হওয়া কি বিশাল কিছু নাকি? এটা জাস্ট একটা ব্যাজ মাত্র।(প্রতিক/টাইটেল)

সে আমাকে একেবারে ভুলেই গেছে।

আমাকে বাসায় নামিয়ে দেয়া; একসাথে লাঞ্চ করা...

এমনকি, তাঁকে সারাদিনে একবারও দেখতে পাচ্ছি না...

আমি আমার স্কুল পরিবর্তন করে ফেলেছি।

এই জন্যই কি?

হয়েছে তোমার?

আমি ভেবেছি তুমি চলে গেছো।

আমি চলে গেছি ভেবেছ, নাকি আমি চলে গেলেই ভাল হতো ভেবেছ।

যাবে এখন?

না, আমার আরও আধা ঘণ্টা সময় লাগবে।

এমনিতেই, ৪ টা ৩০ বেজে গিয়েছে।

তোমরা তো বলেছ, তোমাদের একটা ডেডলাইন আছে।

তোমার যদি মাস্তি করার জন্য আরও কিছুর সময় দরকার হয়ে থাকে, আমাকে বলতে পারো।

আমি আধাঘণ্টা অপেক্ষা করবো।

- ভারুন!!! - নিথিয়া, আমি একটু ক্লাসরুম থেকে আসছি।

-হ্যালো...

এত ভদ্র সাজার কোন দরকার নাই,

নিথিয়ার সাথে এখানে বসে কথা বলতে পারো।

তোমার যাওয়ার দরকার নাই।

এটা কি করলে তুমি?

বুঝো নাইইইইই...

তুমিই বলো...

তুমি একটা ইডিয়টের মত আচরণ করলে ☹☹

তুমি এরকম আচরণ করতে পারলে কিভাবে?

আর, আমি যেখানে কাজ করছি সেখান থেকে চলে আসার আদেশ দাও কিভাবে?

তার মানে, তুমি আমাকে তোমার দাসি হিসাবে প্রমাণ করতে চাও?

ওওওওওওও......

এটাই তাহলে আসল কাহিনী, না?

আমি তোমাকে ওসব কথা না বলে, দীপক কে কেন বললাম...

দীপক...

অনেক বড়লোক... অনেক বড় বড় গাড়ী... নামি দামি যায়গায় ছুটি উদযাপন...

এক মিনিট...

তুমি যেমন, সেও কিন্তু তেমনই।

তুমি ছাত্রীদের ক্যাপ্টেন, ও ছাত্রদের ক্যাপ্টেন।

যখন তোমরা দুজন এরকম পারফেক্ট ম্যাচ কর...

আমার মত বোকাছোদার সাথে, বালের সময় নষ্ট করছ কেন?

তাই নাকি...

তুমি এরকমটা বলতে পারলে কিভাবে? আমি তোমার থেকে এটা আশা করিনি।

তার মানে, তুমি বলতে চাচ্ছো, আমি আর দীপক...

অভিনয় করার দরকার নাই।

আমি বলছি না... স্কুলের সবাই বলছে...

তুমি কিভাবে তাঁর সাথে সময় কাটাচ্ছ, আর তাঁর বস্তা পচা জোকসে মজা পাচ্ছ।

তুমি দিব্যিয়ার সাথে কেমন ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করছ, সে সব কিছু জেনেও...

আমি তো তোমাকে কিছু বলি নাই। -ওহ... প্লিজ...

এসব গাঁজাখুরি গল্প বলে পাস কাটানোর চেষ্টা করো না।

আমাদের মধ্যে এমন কিছুই নাই...

সেটাই তো, আমি জানি তোমাদের মধ্যে কিছু নাই।

তুমি যখন দিব্যিয়ার সাথে ছিলে, আমি কখনোই ভাবি নাই, তোমাদের দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক আছে।

তাহলে তুমি এরকম ফালতু ভাবে চিন্তা করতে পারলে কিভাবে?

যখন কোন মেয়ে তোমার দিকে তাকিয়ে একটু হাঁসে, তখন তুমি কি ধরে নাও, সে তোমাকে ভালোবাসে?

আর ঠিক তেমনি করে, আমি কথা বললে, তোমার অন্যরকম ফিল হচ্ছে বুঝি?

ঠিক আছে... আমি মেনে নিচ্ছি.........

আমরা কথা বলে এটার সমাধান করব। এরকম পরিস্থিতি আর যাতে না হয়, আসো......

তুমি কেন বুঝতে পারছো না, আমি এখন আসতে পারবো না।

আমার এখন কাজ আছে।

বার বার একই কথা আর কতবার বলবো তোমাকে...

আমার অনেক কাজ আছে...

কাজটা কি এতই বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

দীপক তোমার দেখাশুনা করার জন্য আছে, তাই না?

তোমাকে না এইমাত্র বললাম যে, আমরা একসাথে বাড়ি যাবো। শুনতে পাচ্ছো না?

নিথিয়া...

এখনই সিদ্ধান্ত নাও...

আমি তোমার জন্য আর অপেক্ষা করতে পারবো না।

তুমি যদি এখন ভিতরে যাও......

তাহলে আমাদের সম্পর্ক এখানেই শেষ।

তাঁকে চাও, নাকি আমাকে?

তুমিই ঠিক করো,...

আমি কোথায় যাবো তাতে তোমার কি?

তুমি তোমার সীমা অতিক্রম করে ফেলেছ?

সহজ কথায় বলতে গেলে...

আমি ভিতরে যাই বা তোমার সাথেই থাকি না কেন, তোমার আর আমার মধ্যে আর কোন সম্পর্ক নেই।

আমাদের সম্পর্ক এখানেই শেষ...☹☹

ঠিক আছে..................।।

কিন্তু মনে রাখবা............

... তুমিই সম্পর্কটা ভেঙ্গে দিচ্ছো।

(ভারুন নিথিয়ার বয়স যখন ২০ বছর)

শেষ পর্যন্ত তোমার উন্নতি হল তাহলে...

হরলিক্স থেকে এখন কফিতে এসেছ?

তুমিওতো পাল্টে গেছো...।

সুন্দরী রমণী হয়ে গেছ। ☺☺

তুমি এখন একজন "রমণী", নিথিয়া।

গতকাল, জেনি আমাকে খুঁজে পাওয়াতে বেশ ভালই হল।

সে যেভাবে আমার দিকে দৌড়ে এসেছিল, আমার তো কলিজার পানি শুকিয়ে গিয়েছিল।

যেভাবে নাম ধরে চিৎকার করল; ভেবেছিলাম, তুমি তাঁকে পাঠিয়েছে আমাকে খুন করতে...

ঠিকই বলেছ, সে সবসময় আমাকে মাইনকা চিপায় ফেলে দেয়। ☺☺

কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি...

আমি তোমাকে আমার নাম্বার পাঠিয়েছি জানতে পেরে, আমার বন্ধুরা চরম শক খেয়েছে।

অনেক বক বক করছিলো।

কিন্তু এক্ষেত্রে আমি মনে করছি না যে আমি কোন অপরিচিত লোকের সাথে কথা বলছি।

মনে হচ্ছে, আমি আমার কোন পুরনো বন্ধুকে খুঁজে পেলাম।

এজন্যই বুঝি আমাকে কোচিং এ যেতে মানা করেছ? ☺

প্রতিদিন এখানে মিটিং হচ্ছে, তাই না?

গার্ল ফ্রেন্ড নাকি? -ভাগ এখান থেকে।

হাই, আমি অপূর্ব। ভারুনের ছোট ভাই। আপনি আমাকে আপ্পু ডাকতে পারেন।

- হাই, আমি নিথিয়া। - হাই।

রাস্তা মাপ.........

কয়েক বছর পর আমাদের দেখা হল, আর তুমি ধরা খেয়ে গেলে!!!!

খারাপ সময় যাচ্ছে আমার...... ☺☺☺

ওই, ভাগ তো...।

- তার মানে, তুই তাঁকে কল করেছিস? - হুম।

- তার মানে, সে তোকে তাঁর নাম্বার দিয়েছিল? - হুমমমমমম... ☺☺☺☺☺☺

তার মানে, তুই পকেটে কয়েক'শ কয়েন নিয়ে পাবলিক টেলিফোন বুথের সামনে গিয়ে প্রেম করছিলি নাকি?

অনেকটা ওরকমই......

ওই, তুই আবার প্রতিদিনের মত একই জামা পরে চলে যাস নাই তো আবার?

আসলে, আমি আমাদের উৎসবের জন্য যে জামাটা কিনেছি, সেটাই পরে গিয়েছিলাম।

- তুই তাঁর কলেজে গিয়েছিস নাকি? - হুমমমমম... ☺☺☺☺

- ভিল্লা মেরি? - হুমমমমম... ☺☺☺☺

মহিলা কলেজ? - হুমমমমম... ☺☺☺☺

কলেজের ভিতরে???????

কলেজের ভিতরে বলতে...

কলেজের গেইট...... ☺☺

বলতে গেলে... অনেকটা কলেজের বাইরেই বলা যায়..

তার মানে, সবকিছু আগের মত হয়ে গেছে, কোন পরিবর্তন নাই, তাই না???

এই তিন বছরে, সে আমেরিকা গিয়েছে...

আফ্রিকা গিয়েছে, আর মাল্টা নামে কি যেন একটা দেশ আছে না? ঐখানে গিয়েছে।

কিন্তু আমি কই গেলাম? আন্নাভারাম, সিমহাচালাম...

তুই এত চিন্তা করছিস কেন? সে তো এখনো কাউকে বিয়ে করে নাই। তাই না?

- ওই...। - ব্যাটা, ঠাণ্ডা হ...

আচ্ছা, মাল্টা তো বিজয়ওয়াডার পাশে, তাই না?

না না না না না.........

তুই কেন কল করবি?

নিথিয়া, তাঁকে কল করতে দে...

গার্লস, আমি বলছি... বিশ্বাস কর...

তাঁর বন্ধুরা তাঁকে বলে দিবে যাতে তোকে কল না করে...।

এভাবে তাঁকে কনফিউজ করে তুলবে। কিন্তু আমি তেমনটা করবো না।

তুই ফোন কর...

তার মানে, তুমি পিছনের সব কথা ভুলে গেছো?

মানে হল, আমার প্রতি তোমার আর কোন রাগ নাই?

একদমই না।

আমার মনে হয় স্কুল জীবন আর সেখানে যা ঘটেছিল সেটা নিয়ে কথা না বলাই উত্তম।

- আমরা দুজনই এখন প্রাপ্ত বয়স্ক না? - হুম, ঠিক...।

আমরা দুজনই প্রাপ্ত বয়স্ক।

আমাদের অতীতের কোন বিষয় নিয়ে আর কথা বলারই দরকার নাই।

আচ্ছা, দীপক কেমন আছে?

দীপক ভালই আছে...

কার (গাড়ী) টা অস্থির, নিথিয়া।

কলেজ বাসের চেয়ে অর্ধেক সময়ের মধ্যে আমি বাড়ি পৌঁছে যাবো।

কিন্তু প্রতিদিন আসা যাবে না।

প্রতিদিন তোমাকে পিক আপ করতে আসলে, প্রকাশ শালায় আবার জ্বালাই মারবো।

"তুই শালা লং ড্রাইভে গেছোস??"

আর, তোমার বাবা কিন্তু অবাক হবে যদি জানতে পারে তুমি পকেট মানি থেকে ডিজেলের দাম দিচ্ছ।

প্লিজ, ভারুন... এটা আমার খুবই ভাল লাগে। আমরা দুজন কিছু সময় একসাথে কাটাচ্ছি। এটা কোন সমস্যাই না।

আর দেখো না...

জীবনে প্রথমবারের মত রেড সিগন্যাল আর ট্রাফিক জ্যাম দেখতে ভালই লাগছে।

সরি, আমার মনে ছিল না যে আজ রবিবার, আর এখানে এতটা ভিড় থাকবে।

সমস্যা নাই,

আমরা একসাথে খেতে বসলাম এটাই মুখ্য। কোথায় খেতে বলসাম, সেটা মুখ্য। আমার কোন সমস্যা হচ্ছে না।

আরও বেশি ভিড় থাকলেও সমস্যা ছিল না।

মনে হচ্ছে, ফুল ফর্মে আছো?

ভিড় চাচ্ছ, তাই না? ঐখানে একটা ফ্যামিলি অপেক্ষা করছে, তাঁদের ডেকে আনবো নাকি?

এখানে??

ডাকো তাঁদের। তাঁরা ওপাশে বসবে। ☺☺

আপ্পু, ঘুমের ভান করে শুয়ে আছে।

ভারুন...

- কি হয়েছে? - আমি বাথরুম থেকে কথা বলছি। ☺☺

নিথিয়া...

তোমার বাবা কি ফোন সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করেছে?

চিন্তা করো না তো। সে নতুন একটা কিনে নিবে।

বিল তো আসবে, তাই না?

ভারুন... ব্যপারটা আমি দেখব তখন...

এই মুহূর্তে, তোমার সাথে কথা বলাই এখন মুখ্য বিষয়।

আমি বলেছি কেউ একজন নিয়ে গেছে। আমি তো আর মিথ্যা কথা বলি নাই।

- নিথিয়া... - কি?...

কিছু না...

আমাদের গ্যাংটা অনেক বড়। সবসময় একসাথে মজা করি।

ভারুন, তোমার শুধুমাত্র একজন ফ্রেন্ড কেন? তুমি কি আর কোন ফ্রেন্ড খুঁজে পাও নাই?

আমি একাই সবার টা করে দিতে পারি।

আরে... না... না... আমি ওটা বুঝাতে চাই নাই। এমনকি সাইজের কথাও বলি নাই।

বন্ধুত্বের কথা বলতে চেয়েছি।

আসলে আমি বলতে চাচ্ছিলাম যে...

আমি বুঝাতে চাচ্ছিলাম... তোমার জিনিস মানে আমার জিনিস... আমার জিনিস মানে...

ঠিক আছে, দোস্ত। মনে হচ্ছে আমার সময় খারপ যাচ্ছে। আমি যাচ্ছি...

প্রকাশ বসো... আরে তাঁরা মজা করছে... প্লিজ...

ঠিক আছে, সমস্যা কি?

আজ জেনির জন্মদিন। তাঁর উপর সবাই ফোকাস করো।

- আমার জন্মদিন? সুপার... - আমাকে ছেড়ে দাও। প্লিজ...।

আমার... আমার জন্মদিন... থ্যাংক ইউ... ☺☺☺☺

সেরকম অস্থির বন্ধু... আর সেরকম অস্থির জোকস।

ওই, তুমি বন্ডাতেই মনোযোগ দাও। মাইসোর বন্ডা (একটু পর ব্যাখ্যা করা হবে)

মাইসোর বন্ডা একটা তেলুগু স্নেকস জাতীয় খাবার। এটা উপর দিয়ে অনেকটা ক্রিস্পি/মচমচে কিন্তু ভিতরটা অনেক নরম আর ফাঁফা।

এটি তৈরি করতে ব্যাবহার করা উপাদান গুলো হলঃ ময়দা, আদা, মরিচ, তেল, বাটার মিল্ক ইত্যাদি।

সেরাম বৃষ্টি হচ্ছে তো...

ওয়াও...এক কথায় গেলে, তোমাকে অস্থির লাগছে, নিথিয়া।

- তোমাকেও অনেক হ্যন্ডসাম লাগছে, তুমি জানো? - থ্যাংক ইউ।

এর কৃতিত্ব তোমারই!!!

আমার বাবা এত দামি ও সুন্দর জামাটা আমার মত ছেলের কোন বন্ধু দিতে পারে সেটা ভেবেই অবাক হয়েছে।

আপ্পু তো সারাক্ষন কাশি দিচ্ছিল এটা শুনে।

আমি তাঁকে একটা শিক্ষা দিয়ে ছাড়ব। ☺

তাহলে, তুমি তোমার বাবাকে বল নাই যে এটা আমি দিয়েছি।

গাড়ীতে নিশ্চয়ই ছাতা আছে, তাই না?

রোহিণীকে ফোন করো আর বল ছাতা নিয়ে আসতে। মনে হচ্ছে না, বৃষ্টি থামবে।

না থামালেই ভালো।

নিথিয়া, তোমার জন্মদিনে রোহিনি এই পার্টিটা দিচ্ছে।

সেটাই তো, আমার জন্মদিনটা আমার ইচ্ছা মতই কাটানো উচিত।

ঠিক আছে, তোমার ইচ্ছা। মনে যা আসে বলে ফেল...

"I Love You", ভারুন।

আমি তোমাকে সত্যি অনেক ভালোবাসি।

তোমার কি বলার কিছুই নাই?

- বলেছি তো তোমাকে, তাই না? এটা... - কি???

বলেছিনা এভাবে... ☺☺☺

আমি তো এখন মনোবিজ্ঞানে, একজন স্নাতক ডিগ্রিধারী হতে যাচ্ছি।

প্লিজ, ভারুন...

শুনো না, আমি কি বলছি। তুমি কি আসলেই জানো ভবিষ্যতে কি করতে চাচ্ছ?

ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়ার এটাই তো সুবিধা...

বাকি জীবনটা কিভাবে কাটাতে চাও সেটা জানতে, তোমাকে একটা অতিরিক্ত বছর দিবে।

তোমারও তো পড়াশুনা শেষ, আর তুমিও তো জানো না কি করবে?

আমি এই ব্যাপারে এখনো ভাবি নাই, ভারুন।

আমি আসলে জানি না যে, কোন পেশাটাকে আমি উপভোগ করব।

সত্যি বলতে কি, আমি জানি...

একটাই জিনিস...

সেটা তুমি...

তোমার সাথে কখন দেখা করব, কখন সময় কাটাবো, এইসব চিন্তাতেই আমার প্রত্যেকটা দিন কেটে যায়।

তুমিই আমার সারা জীবনের সুখের একমাত্র উৎস।

ওহ, এডিনবার্গ???

এ... ডিম... বা... রা...

আবার বলো......

এ... ডিম... বা... রা...

স্কটল্যান্ড ...

ওহ, লন্ডন...

তোমার বাবা তাঁর তিন মেয়ের জন্য কি কোন বডিগার্ড দরকার হয় না? আমি এপ্লাই করবো?

তাহলে তো ভালই হতো...

আমার বোন আমার আমার সাথে না আসলে, আমি তোমাকে নিয়েই যেতাম, সত্যি বলছি।

সে যতক্ষণ এখানে আছে, এটা কোনভাবেই সম্ভব না।

আমরা দেখা করতে পারবো না।

অনেক মিস করবো রে...

আমিও অনেক মিস করবো...।

আমি বুঝতে পারছি না কি করবো।

তাহলে আমার সাথে চলে এসো...

উমম... এক কাজ করতে পারো...

মানে, এ... ডিম... বা... রা... তে একটা মেয়ে থাকে।

তাঁকে বলে দিও, একটা ছেলে তাঁর জন্য পাগল হয়ে যাচ্ছে।

তুমি কি তাঁকে বলবে, একটু তাড়াতাড়ি চলে আসতে।

- বলবো...

আমি তাঁকে জানিয়ে দিব আর বলব যাতে তাড়াতাড়ি চলে আসে।

তিনটা মাস তাঁকে ছাড়া থাকতে হবে...

৫ম দিনেই আমার এই অবস্থা, তাহলে ৭৫ তম দিনে আমার কি অবস্থা হবে?

সবকিছুই আগের মত আছে, শুধু তাঁর উপস্থিতি ছাড়া।

কিন্তু আমার কাছে মনে হচ্ছে, সবকিছুই কেমন যেন পাল্টে গেছে।

আমি তাঁকে মিস করার যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করলাম কিন্তু পারলাম না।

যখন, স্যালোয়ার, কামিজ কে মিস করিস, তখনই ট্রাউজার আর প্যান্টের কথা মনে পড়ে বুঝি?

মানে কি?

যখন তোর পাথি শহরে থাকে না, তখন তোর বন্ধুর কাছে আসিস, তাই না?

ওই ব্যাটা, ভালোবাসা তো আর তোকে খাওয়াবে না। কিন্তু আমি খাওয়াবো।

দেখ, খাসীর বিরিয়ানি... ঠিক সময়ে চলে এসেছে। খাওয়া শুরু কর...

সে যেদিন আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল,

এই যায়গাটাতে (পাকস্থলীতে) কেমন খালি খালি অনুভব হচ্ছে।

আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি, এরকম লাগছে কেন।

পরে বুঝতে পারলাম, সে আমার পাশে নেই বলেই এমন লাগছে।

আমার সাথে এরকমটা আর কখনো ঘটে নি।

এটা ভালোবাসার অনুভুতি না রে পাগলা, এটা গ্যাস অনুভুতি...

আমাদের কলেজের বাইরের "বাবা হোটেল" থেকে প্রতিদিন খেলে তো এমনই হবে।

শুধু যে তোরই এই অনুভুতি হচ্ছে তা না কিন্তু। সবাই একই জিনিস অনুভব করছে।

"বাবা হোটেল স্পেশাল"

স্যার তাহলে ঘুম থেকে উঠলো...।

গীতা, আমাদের নবাবজাদার জন্য এক কাপ গরম গরম কফি দাও তো।

আজ এত তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে গেলি? ঘটনাটা কি, স্যার।

- পুস্পা অ্যান্টি...। - পুস্পা অ্যান্টি???

সুপ্রভাত... সকাল বেলার চিল্লাচিল্লি...

তাঁর জন্য দুপুর হয়ে গেছে। কিন্তু আমার জন্য তো ভোর রাত রে...

তারমানে, আজকের দিনটা তোর ভালো যাবে।

ওই, ব্রাশ করেছিস তো? -আমার গোসল করাও শেষ। কফি দাও তো মা।

দিচ্ছি দাঁড়া...

- বাবা, ঘটনাটা কি বলতো... - ইন্টার্ভিউ...।

ইন্টার্ভিউ...? আজ রবিবার না?

চাকরিটা গেলো নাকি?

"295 সলিউশান" থেকে কি এর মধ্যেই বের করে দিল নাকি?

আচ্ছা যাই হোক, কোন চাকরির ইন্টার্ভিউ দিবে এখন।

একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তির জন্য...

গুরুত্ব...পূর্ণ...

আম্মা, তুমি এটা কি করলে?......

চাকরির ব্যাপার হবার কোন সম্ভাবনাই নাই। সেরকম কিছু হলে তাঁরা তাঁকে এত সহজে নিত না।

তাঁরা তাঁকে চাকরিতে নিতে হলে, অন্তত ১৭ বার ইন্টার্ভিউ নিতে হবে। কনফার্ম।

- তাঁর মানে হল... - ওই, তুই যাবি আমাদের সাথে?

- আমি মাপ চাই, দোয়াও চাই......, মা।

তোমরা যখন তাঁর নামে মিথ্যা গুণগান গাইবা, আমি সেখানে আর বসে থাকতে পারব না।

- আমার ছেলেটা আল্লু অর্জুনের মত সুদর্শন। - সেটাই তো।

আমার ছেলে অনেক স্মার্ট। আমার ছেলে অনেক পরিশ্রমী।

আমার ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দিতে কত বাবা মা ই না পিছনে পিছনে ঘুরছে।

সেটাই তো... পিছন পিছন ঘুরছে তো...

সমস্যাটা সেখানে না আম্মা। সমস্যা হল, মেয়ে যদি আমাকেই পছন্দ করে বসে???

মহদয়ের দিকে একবার তাকিয়ে দেখ... এর মধ্যেই চেহেরার ১২টা বাজিয়ে রেখেছে।

পাকামো হচ্ছে না????

ওই, বাড়ির সবাই কই রে? বাবার স্কুটারটা নীচতলায় রাখা দেখলাম।

তাঁরা অনেক আগেই চলে এসেছে। কোন সমস্যা হয়েছে মনে হচ্ছে।

কি হল?

সে তোকে পছন্দ করে নাই?

তুই ভালো জামাকাপড় ধুইতে পারিস আর ভালো পাতিলও পরিষ্কার করতে পারিস। তোর তাঁদের বলা উচিত ছিল এটা।

কি ভাই, ফেল করছো নাকি?

তোর কাছে তো আরও ১৬টা সুযোগ আছে।

সম্পূরক পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে রে পাগলা, টেনশান নিস না। ☺☺☺☺☺☺

আমি ভেবেছিলাম তুই মেয়েটাকে ভালোভাবে চিনিস।

ভুলটা আমারই রে...

আমি এই মেয়েটাকে পছন্দ করেছিলাম। সে আমার সাথেই কাজ করতো।

আমি তাঁকে পছন্দ করতাম আর সেও আমাকে পছন্দ করত।

আম্মাকে বললাম ব্যাপারটা আর বাবাকে বললাম, তাঁর বাবা-মায়ের সাথে কথা বলতে।

আমি ভেবেছিলাম, কোন সমস্যা হবে না।

আমি কখনোই ভাবি নাই যে, তাঁরা আমার কাছ থেকে কিছু আশা করে।

আমি তাঁর চেয়ে ২০,০০০ টাকা বেশি বেতন পাই।

কিন্তু, তাঁর বাবা যখন আমাদের ফ্যামিলি স্ট্যাটাস নিয়ে অপমান করছিল...

সে একটা কথাও বলল না।

আমি ওইধরনের মেয়েকেই বিয়ে করব, যে আমাদের ঘর, তোকে আর আপ্পুকে মেনে নিবে।

এই মেয়েটা চলে গেলেও আমি আর এসবের ধার ধারী না।

কিন্তু আমি বাবাকে কষ্ট দিয়ে ফেললাম। ☹☹ সে জন্যই খারাপ লাগছে। ☹☹☹☹☹☹☹

আমি জানি রে, আমি বুদ্ধিমান ছেলে না।

আর আমি এটাও জানি, আমি এই চাকরিটার চেয়ে আর ভালো চাকরি পাবোও না।

আমিতো আর এই বাড়ীটাকেও পাল্টে ফেলতে পারব না।

কিন্তু অন্তত এটুকু চেয়েছি যে, তাঁরা যেন আমার কারণে কোন কষ্ট না পায়।

আর আজকে আমি সেটাও করতে পারলাম না।

এই... তুই জানিস, আমাদের সবার চেয়ে বাবা তোকে অনেক বেশি ভালোবাসে।

- ওই... - এই শুন...

অন্তত, তুই আর আপ্পু বাবাকে খুশি রাখার চেষ্টা করিস।

ওই...

তোর মাথা নষ্ট হয়ে গেছে নাকি? কি হয়েছে তোর? আমি আম্মার সাথে কথা বলছি...

আম্মা...

তোমরা সবাই এমন ঘোমড়া মুখ করে আছো কেন?

হারিশের সাথে কথা বলেছিস?

তাঁকে কি বলবো, কিছুই বুঝতেই পারছি না।

সে নিশ্চয়ই অনেক টেনশান করছে।

আমরাই সব সমস্যার মূলে... ☹☹☹

তোর বাবা কখনো কাউকে অপমান করে কিছু বলে নাই। কিন্তু আজ সবাই, তাঁর দিকেই আঙ্গুল তুলছে...☹

তাঁরা বলছিল, আমাদের আর্থিক অবস্থা আরও ভালো হতে হবে।

তোর বাবার সাথে গিয়ে একটু বস না রে। ☹☹

তোর বাবকে নিয়ে খুব ভয়ে আছি...

কেউ তাঁকে অপমান করলে, আমার খুব কষ্ট হয় রে। ☹☹

যা, গিয়ে তোর বাবার সাথে একবার কথা বল।

আয়, বরুন...

তোর আম্মা পাঠিয়েছে বুঝি?

একটা কথা জেনে রাখ...

তোদের দেখাশুনা করার জন্য, তোদের বাবা এখনও বেঁচে আছে।

তোরা আমাকে নিয়ে চিন্তা করার দরকার নাই।

এই বাবা, ভুলে যাও তো এসব...

তাঁরা তোমার সাথে এমন করে কথা বলার কে?

আজ আবার কি হয়েছে রে?

তাঁরা বলল, তাঁদের মেয়ে বিয়ে দেয়ার মত উপযুক্ত পরিবার আমরা নই।

এটাই তো...।

তাঁদেরও মতামত প্রকাশের অধিকার আছে।

একটা ভালো চাকরি আছে, এমন একটা ছেলে আশা করা...

তিন ভাইয়ের জন্য তিনটা ফ্লাট আছে, এরকম একটা পরিবার আশা করার জন্য...

আমি তো আর তাঁদের উপর রাগ করতে পারি না...

কিন্তু তাই বলে, আমার কাছে আমার নিজকে কোন অংশে কম মনে হচ্ছে না।

আমি আমি ই আছি...

আমার তাঁদের মত হবার কোন দরকার নাই।

আমার তিন ছেলেকে মানুষের মত মানুষ করেছি, এতেই আমার অনেক গর্ব হয় রে।

আমার আর কি চাই?

আসো, সবাই খেতে আসো। (রাতের খাবার)

আমি তো এখনো তোর মাকেই সিঙ্গাপুর নিয়ে যেতে পারলাম না রে...।

সিঙ্গাপুর আবার কে যেতে চায়?

তুমিই তো চাও!

এই শর্তেই তোর মা আমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছিল!

সব মিথ্যা কথা...

ওই...

হারিশ অনেক কষ্ট পেয়েছে। যা, তাঁর সাথে গিয়ে একটু কথা বল।

আমি গোসল করে আসছি...

আম্মা কষ্ট পেয়েছে তাই ভাইয়া কষ্ট পাচ্ছে।

বাবা কষ্ট পেয়েছে তাই আম্মা কষ্ট পাচ্ছে।

ভাইয়া কষ্ট পেয়েছে তাই বাবা কষ্ট পাচ্ছে।

প্রত্যেকে নিজের যায়গা থেকে চেষ্টা করছে, একে অন্যকে খুশি করার জন্য।

আমি কি করলাম?

এতদিন পর্যন্ত আমি কি কিছু করেছি?

বাবা...

গত ১০ বছরে আমাদের ঘরের কোন কিছুই পরিবর্তন হয়েছে কিনা, আমি সেটাই খেয়াল করি নাই।

এর কারণ- "তুমি"!

সেই স্কুটার, সেই সোফা...

খুঁটির নীচে পেপার দিয়ে কোনোভাবে ম্যানেজ করা ভাঙ্গা ডাইনিং টেবিলটাকেও খেয়াল করিনি এতদিন।

এত ভালোভাবেই ম্যানেজ করলে, আমি খেয়ালই করলাম না।

তুমি আমাদের জন্য অনেক করেছ বাবা।

আমি তোমার আর আম্মার জন্য কিছু করতে চাই।

তোমার প্রথম প্লাইটে উঠার অভিজ্ঞতার পিছনের কারণটা আমি হতে চাই।

*** ২ মাস পর ***

সমস্যা কি?

- হেই, হ্যান্ডসাম... - নিথিয়া!!!

তোমার কি লিফট লাগবে?

সারপ্রাইজ...

কেমন হল আমার বাবার নতুন উপহারটা?

আমার জন্য...

যার মানে, এটা অবশ্যই তোমার জন্য...

তুমি একবার চালিয়ে দেখবে না? তুমি এখানে বসে আছো কেন?

অবশ্যই ... কিন্তু আজকে না...।

তোমার বাবা এটা তোমার জন্য কিনে দিয়েছে।

আমি চালালে ভালো দেখাবে না।

সে কিনে দিয়েছে কারণ আমি তাঁর কাছে এটা চেয়েছি।

কি হয়েছে, ভারুন?

যাই হোক, তুমি কি আমার মাঝে কোন পরিবর্তন খেয়াল করেছ?

না তো...

নতুন কিছু???

আমি আমার চুল কেটেছি!

ওহ!! তুমি তোমার চুল ছোট করে ফেলেছ?

না না... আমি চুল আরও বড় করে ফেলেছি...।

কাম অন, ভারুন!!

ঠিক আছে, তাড়াতাড়ি বল; কোথায় ডিনার করতে চাও?

ডিনার করবা????

কতক্ষন লাগতে পারে? কারণ... আমাকে নয়টার মধ্যে বাসায় ফিরতে হবে।

তোমার কি হয়েছে বলতো!!!!!

এই ৯ টা বাজে রিপোর্টিং এর মানে টা কি?

চলো যাওয়া যাক..

ঠিক আছে, আমি তোমাকে ৯ টায় বাড়িতে নামিয়ে দিব।

তোমাকে কিভাবে বলি, নিথিয়া? ☹

যদিও বা বলি; তাহলে কি ই বা বলবো তোমায়?

আমি কি তোমাকে বলে দিব, আমি তোমার যোগ্য না।

আমি কি বলে দিব; আমার কর্তব্য আর কষ্টগুলো তোমার সাথে ভাগাভাগি করতে পারবো না।

আমি খুবই দুঃখিত, নিথিয়া।

আমি আটকা পড়ে গিয়েছিলাম...

একটা জরুরী কাজে...

ব্যাপার না...

নিথিয়া, আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই।

এই নভেম্বরে, আমি CAT পরীক্ষা দিতে যাচ্ছি।

ইতিমধ্যে, আমি কোচিং এ ভর্তি হয়ে গেছি। আর আমি ঠিক করেছি, আমি MBA করবো।

আমার ব্যাচের অন্য বন্ধুরা এক মাস আগেই শুরু করেছিল। আমিই দেরি করে ফেলেছি।

এজন্যই আমি আসতে দেরি করেছি, আর মানে হচ্ছে, আমি সময়ের ফ্রেমে বন্ধী।

ওহ! এই ব্যাপার? তুমিতো আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিলে।

আমি ভেবেছি তুমি সিরিয়াস কিছু নিয়ে আলোচনা করতে চাও।

এটা সিরিয়াস বিষয়, নিথিয়া।

আরে, আমি ওটা বুঝাতে চাই নাই। তুমি বুঝতে পেরেছ, তাই না?

কিন্তু তুমি সিদ্ধান্তটা কখন নিলে?

তুমি MBA করতে চাও, এ ব্যাপারে তুমিতো আগে কখনো কিছু বলো নাই,

আমাকে বললে তো, হয়তোবা আমিও তোমার সাথে এম বি এ ক্লাসে ভর্তি হয়ে যেতাম।

না, নিথিয়া। যতক্ষণ না পর্যন্ত এটা তোমার দরকার হয়।

তুমি তো সেখানে থাকবে, তাই না?

চলো যাই...

সবই ভালো...

তোমার বাবা মা চিন্তা করছে না তো?

দুঃখজনক হলেও সত্যি, এরকম কোন ধরণের আচমকা খবর আমার কাছে আসে নাই। ☺☺

আমার বাবা-মা যদি চিন্তা করে, তবে আমার বিয়ে নিয়ে চিন্তা করবে।

সৌভাগ্যবশত, আমি এই ব্যাপারটা দেখছি। তাই না, ভারুন?

তোমার তো এখনো বিয়ের সময়ই হয় নাই।

আর, তোমার আগে তো... বিদ্যিয়ার বিয়ে হতে হবে, তাই না।

আমাদের অনেক দিন পর দেখা হলো, আর তুমি বলছ, এক ঘণ্টা পর চলে যাবে।

খাবার খেতে এসেছ, তাই না??

আমি ভেবেছি, তুমি যায়গাটা খুব পছন্দ করো।

আজও দেরি, আসতে না চাইলে আমাকে বলবে তো...

এত কষ্ট করে এই টিকেট নেয়ার কোন দরকারই ছিল না। ☹

পুরা মাসের মধ্যে, এই প্রথম আমি মুভি দেখতে আসলাম।

তাও শুধুমাত্র তোমার জন্য...

আমার জন্য??!!!! আমার জন্য এত কষ্ট করার কোন দরকার নাই।

ভারুন...

তুমি আর আগের মত আমার সাথে কথা বলো না...

কার নিয়ে আমি একা একা এদিক ওদিক পাগলের মত ঘুরে বেড়াচ্ছি।

তুমি ফোন করবে... মেসেজ দিবে... দেখা করবে... সেই প্রতীক্ষায় আছি আমি।

তাঁর উপর নির্ভর হয়ে বসে থাকিস না।

সে তোর বয়-ফ্রেন্ড হতে পারে... সে তোর ভালোবাসার মানুষ হতে পারে...

কিন্তু সে তো আর তোর জীবনের চেয়ে বেশি কিছু না।

শুভ জন্মদিন :)

ধন্যবাদ...

অনেক সুন্দর লাগছে... সবসময়ের মত...

আমি সত্যি তোমাকে অনেক মিস করছি...

- তোমাকে অনেক ক্লান্ত মনে হচ্ছে... - সেরকম কিছু না...

আসলে......

আমি যা বলতে যাচ্ছি, তাতে তোমার মন খারাপ হয়ে যেতে পারে।

কিন্তু আমাকে এক ঘণ্টার মধ্যে চলে যেতে হবে। তুমিতো জানো পরশু আমার CAT পরীক্ষা।

প্লিজ, রাগ করো না...

তুমি CAT পরীক্ষায় পাশ করেছ।

আমি সত্যিই অনেক খুশি...

কাল থেকে সবকিছুই নরমাল হয়ে যাবে, তাই না?

আমি চাই, আমরা আগের মত হাঁসিখুশি থাকবো...

একটা সময় ছিল, আমি যা ই করতাম তুমি সেটা পছন্দ করতে।

এখন আমি যা ই করি তোমার পছন্দ হয় না।

তোমার মত করে আমি বাঁচতে পারবো না, নিথিয়া...

কাউকে আজ অনেক খুশি মনে হচ্ছে! ☺☺☺☺

মনে হচ্ছে, আমাকে কোন সুখবর দেয়ার জন্যই ডেকেছ।

আমার সব বাধা কেটে গেছে, নিথিয়া।

অবশেষে IIM এ সিট পেয়ে গেলাম। (IIM: Indian Insitute of Management) (প্রতি বছর ২০ টি স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই সংস্থার অধীনে তাঁদের ১৫৫০+ ছাত্র অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক CAT পরীক্ষার মাধ্যমে সংগ্রহ করে থাকে। গত বছর এই পরীক্ষায় ২ লক্ষের ও বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।)

সবগুলা রাউন্ডেই পাশ করেছি।

আমি এটা করে দেখিয়েছি, নিথিয়া। কোজিকোড- কেরেলা... আমি আসছি...

কেরেলা!!!!!

হুম...

কেরেলা।

আগামী তিন মাসের মধ্যে...

জানি, উপরের সারির কলেজ গুলোতে হয় নি, কিন্তু তারপরও এটা আই আই এম (IIM) বলে কথা।

তুমি তো জানো, আমি কোচিং সেন্টারে অনেক দেরিতে ভর্তি হয়েছিলাম।

ওই, আমরা দুজনেইতো জানতাম এমনটা হবে, তাই না?

সত্যি কথা বলতে কি, আমি আসলে এটা নিয়ে ভাবিই নাই।

মানে কি? তুমি ভেবেছো আমি সিলেক্ট হবো না, তাই তো?

আরে সেটা না, আমি জানতাম তুমি সিলেক্ট হবে।

কিন্তু, তুমি এত দূরে চলে যাবে আমি সেটা কখনোই ভাবি নি। ☹☹

ভারুন, আমি তোমার সাথেই আছি।

আমি চাই, তুমি জীবনে যা করতে চাও, তাই করো।

ভারুন, আমিতো তোমার সাথে আসতে পারি। তাই না?

কেরেলা...

আমার মাথায় এতক্ষন আসলো না কেন?

আমি সেখানে কোন চাকরি নিয়ে কিংবা একটা কোর্স নিয়ে চলে আসতে পারি।

আমি বাবাকে খুব সহজেই মানাতে পারব।

তাছাড়া, বিদ্যিয়া আপুকেও তো বাইরে পড়তে দিচ্ছে।

তুমি খুশি হয়েছ, তাই না?

তারমানে, তুমি কি চাও, প্রতিদিন রাতে তোমাকে লিটনের ফ্লাটের মত আমার হোস্টেলে নিয়ে যাই।

তুমি হোস্টেলে থাকবে নাকি?

কারণ এতটুকুই আমার সাধ্যের মধ্যে আছে।

প্লিজ ভারুন...

আমরা একটা এপার্টমেন্ট ভাড়া নিব।

আমি দুজনের ভাড়াই দিব। ঠিক আছে?

না, ঠিক নাই, নিথিয়া। তুমি কেন আমার ভাড়া... (দিবে)...

তুমি আমার ভাড়া দিবে?????

আর, এখানে ব্যপারটা শুধুমাত্র আমার সাধ্যের (বাজেটের) না।

সমস্যাটা সেখানে না, নিথিয়া। আমি সেখানে পড়াশুনা করতে যাচ্ছি।

সবাই ক্যাম্পাসের ভিতরে থাকতে হবে। কেউ বাইরে থাকতে পারবে না।

তুমি কি চাও না আমি যাই?

হায়রে খোদা...!!!

তারমানে, তুমি আমাকেও চাও না?

আমি তোমাকে চাই, নিথিয়া।

কিন্তু কোন আজাইরা উদ্দেশে আমি চাই না তুমি সেখানে যাও।

তুমিও যদি এপ্লাই (আবেদন) করতে, আর পাশ করতে, তবে আমি অনেক খুশি হতাম।

অনেক হইসে.........

আমি যখন এপ্লাই করতে চাইলাম, তখন তুমিই মানা করেছিলে।

কারণ তোমার লক্ষ সেটা ছিল না। তুমি আমার জন্য ভর্তি হতে চেয়েছিলে।

কারণ আমি তোমাকেই চাই!! এখানে, আমার অপরাধটা কি?

অপরাধ?!!!

এত বড় দায়িত্ব নেয়ার যোগ্যতা আমার নেই, নিথিয়া।

তুমি যদি তোমার জীবনের প্রত্যেকটা সিদ্ধান্ত আমার ভিত্তিতে নাও তাহলে একদিন আমাকে ঘৃণা করবে তুমি।

আমি সেটা হতে দিতে পারি না।

আমি তোমাকে সবসময় বলে আসছি কিছু একটা করো।

যেটা তোমাকে ব্যাস্ত রাখবে আর আনন্দ দিবে...।

তুমি কি এটা আমার জন্য চেয়েছ?

নাকি তোমার নিজের জন্য চেয়েছ?

আমি আমার জীবন নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে গেলে,

তুমি যে এভাবে পাল্টে যাচ্ছ, সেটার পিছনে নিজের ঘাড়ের দোষ কমানোর চেষ্টা করবা, তাই তো?

আমি পাল্টাই নি, নিথিয়া।

শুধুমাত্র বন্ধ চোখটা খুলেছি।

আমি আমার দায়িত্ববোধটা বুঝতে শিখেছি।

নিজের পায়ের নিচের খুঁটির করুন দশা দেখে একটা ধাক্কা খেয়েছি।

- আমার ভুলটা কোথায় এখানে? - ভুল কোথায়???

তুমি তোমার চোখ খুলে ফেলেছ, ভারুন।

কিন্তু আমাকে ঠিক আগের জায়গাতেই রেখে এসেছ।

আমি এসব আমার পরিবারের জন্য করছি।

তুমিতো জানো, এটা আমার জন্য কতটুকু জরুরী। আমি এটা তাঁদের (পরিবারের) জন্যই করতে চাই।

তুমি অনেক ভাগ্যবতী, নিথিয়া!

তুমি তোমার স্বপ্নকে অনুসরণ করতে পারো।

তোমার আর কি চাই বলো?

আমার উপর অনেক চাপ আছে, অনেক দায়িত্ব আছে। প্লিজ.........

উফ... থামো তো...

এমনভাবে বলছ, যেন আমি একটা বাজে ছাত্রী ছিলাম, যাকে পড়া পানিতে চুবিয়ে দিলেও গিলতে পারবে না।

তুমি আমাকে অপমান করেছ...

আমি জানি আমি কে। অনেক অনেক ধন্যবাদ।

আমি সবসময় ক্লাসে প্রথম হতাম , তুমি কি ভুলে গেছো?

প্রত্যেকটা বিতর্ক প্রতিযোগিতায় আমিই প্রথম হতাম।

তুমি কি ভুলে গেছ সেটা?

আমার জীবন কত্তো সুখের ছিল!

"আমার" শব্দটা থেকে যখন "আমাদের" শব্দটাতে আসলো, সবকিছুই পাল্টে গেল!!!

তুমি যখন ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলে, আমি তখন একা হয়ে যাই।

আর তোমার জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে করতে...

আমি আমার পরিবার, আত্মীয়স্বজন সবার থেকে দূরে সরে গিয়েছি।

শুধুমাত্র তোমার জন্য...

তুমি কি একটা বিষয় জানো?

আমার মুখে "না" "না" শব্দ শুনতে শুনতে আমার বন্ধুরা আমাকে কল করাই বন্ধ করে দিসে।

সম্পরকটা টিকিয়ে রাখার জন্য আমাদের দুজনের মধ্যে একজনকেতো ত্যাগ স্বীকার করতে হবে...

তাই আমিই ত্যাগ স্বীকার করলাম।

- আমি তোমাকে কোনদিনই কিছু বলি নাই কারণ... - তাহলে তুমি এখন আমাকে বলছ কেন? কেন?

আমি তো তোমাকে এসব করতে বলি নাই...

আমিই তোমাকে সবসময় বলতাম বাইরে যেতে আর নিজে কিছু একটা করতে।

সত্যি বলতে, জেনি যেমন তোমার ফ্রেন্ড, তেমনি আমারও ফ্রেন্ড ...।

বন্ধুদের সময় দিতে না পারার দোষ আমার উপর চাপাচ্ছ?

আমি তোমার উপর দোষ চাপাচ্ছি না, ভারুন।

আমি তোমাকে কারণ দেখাচ্ছিলাম।

আমি শুধু বলতে চেয়েছি... "তুমি ছাড়া আমার আর কেউ নাই" ☹

আমাকে তোমার সাথে আসতে দাও না! ☹☹☹

সম্ভব না।

আজকে তুমি যে কষ্টটা পাচ্ছ, সেটাই একদিন আমার প্রতি তোমার অভিমানের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

তোমার ভালো জন্য, আমার ভালো জন্য, আমাদের ভালোর জন্য বলছি...

তোমার আসার দরকার নাই।

প্লিজ...

আরে, আমি তোমাকে বুঝাতে পারছিনা, এই আজাইরা প্যাঁচাল আমার কাছে বিষের মত লাগছে।

আসলে আমি এম বি এ কোর্স কেন নিলাম, এজন্য আমার নিজেকে অপরাধী ভাবতে বাধ্য করো না।

প্লিজ, এতে সত্যিই কষ্ট লাগছে।

তুমি আমার জীবনের সিদ্ধান্ত গুলো নিচ্ছ, এটা আমাকে কষ্ট দিচ্ছে... । ☹☹☹☹

নিথিয়া...

নিথিয়া...

তোমার ভালোর জন্য আমাদের ভালোর জন্য

তোমাকে আরও একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আমাকে ছেড়ে চলে যাও... এখনই...

কারণ, আমি আর সহ্য করতে পারছি না!

[ তিন বছর পর]

"ভালোবাসার খোঁজ করা ঠিক না।"...

"কারণ, আপনি ভালোবাসা পেয়ে গেলেও সেটা বেশি দিন ধরে রাখতে পারবেন না।"

"এজন্যই, এতে দৈব কিছু থাকতে হবে, যেটা আপনার মনে রংধনুর ছোঁয়া দিবে।"

"আর অবশ্যই এই রংধনু সারা জীবনের জন্য থাকতে হবে।"

এটাই হলো, আসল প্রেম।

আমার সাথেও এমনটা হয়েছিল।

হ্যালো...

তুমি উপরের তলায় থাকো বুঝি?

ওই, এটা আমি রে পাগলা, জেনি... আমি তোমাদের পাশের বাসায় থাকি।

এজন্যই তোমার সাথে কথা বলতে আসলাম।

জেনি!!!!!!!!!

আমার সাথে মজা করছো না তো?

ওয়াও!!!

মাইন্ড করো না, আম্মা ডাকছে, তোমার সাথে পরে কথা হবে।

বাই... বাই... বাই...

জেনি...

- "আই লাভ ইউ, জেনি" - "আই লাভ ইউ, প্রকাশ"

কি হয়েছে রে...

কিছু না...

তোরা তো দুজন দুজনের শত্রু ছিলি, এটা কেমনে কি হলো?

তোরা কিভাবে প্রেমে পড়লি???

আমার বিশ্বাস হয় না। কিন্তু তোদের দুজনকে একসাথে দেখে খুব ভালো লাগছে।

প্রমিস...। ☺☺☺

বাদ দে তো... আর বলতো এটা কিভাবে শুরু হলো?

আমারে জিগাইস না রে।

জিগাইস না আমারে!

সমস্যায় আছি রে...

ছয় মাসের মধ্যে আমি ওকে নিয়ে কোথাও পালিয়ে যেতে হবে।

তাঁর বাব আমাকে দুচোখেও দেখতে পারে না।

তাঁর ভাইও আমাকে পছন্দ করে না। আমরা একবার মারামারিও লেগেছিলাম।

তাছাড়া, ও তো পুরাই "এরশাদ", আমি তাঁকে বুঝতেই পারি না!!

তার উপর, সে আবার আমার এক বছরের বড়! ☺☺

বোনাস হিসাবে আরেক ঝামেলা হচ্ছে, তাঁর বিয়ে আগামী মাসে একটা চার্চে ঠিক হয়েছে।

ওরে ভাই, দুনিয়াতে এত মেয়ে থাকতে আমি জেনির প্রেমে পড়লাম কেন?

আমি এই ডায়ালগটা কোথায় যেন শুনেছি।

ওই ভারুন...

অতিরিক্ত হয়ে যাচ্ছে বললাম।

সে তাঁদের সারাইনুডু স্টাইলে ঘুসি মেরে সবকটার হাড় ভেঙ্গে দিয়েছে।

এই পাগলা??? - হুম... সত্যি...

- ও ? - সত্যি...

- আমাদের প্রকাশ? - হুম

- বক্সিং করেছে? - হুম...

কোন দিনই সম্ভব না।

তাঁরা উল্টা ওকে রামধোলাই দিবে...

হাই... সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।। আমাদের একটু দেরি হয়ে গেল...

আমরা মুভি দেখতে যাচ্ছি...

আমি কি আসার সময় তোমাদের জন্য ড্রিঙ্কস নিয়ে আসবো?

- না... না... না... সমস্যা নাই। - আমাদের হাঁতে সময় থাকবে... সিরিয়াসলি...

- আরে না। লাগবে না। ধন্যবাদ। - বাদ দাও আপু (ভাবি)...

আমি ওদের নিয়ে বাইরে বের হবো।

ভারুন, তালার চাবি কিন্তু আমার কাছে। কারণ আমরা তোর আগেই বাসায় ফিরব।

তাই......... না..কি... ☺♥☺

চলো যাই...

- বাই...... - ভারুন...

বাবা (শ্বশুর) ফোন করেছিল আর বলল তাঁরা মেলবোর্ন থেকে সিডনিতে আপাতত আর যাচ্ছে না।

বাবা বলল টিকেট কেটে ফেলছে। ঠিক আছে?

আর উনি বলেছেন রাতে ফোন করবে।

- ঠিক আছে? - ঠিক আছে।

- বাই... - বাই...

ওয়াও... প্রথমে সিঙ্গাপুর তারপর অ্যামেরিকা? তোর বাবা-মা তো সেই মজা করছে রে, মামা।

মেলবোর্ন অস্ট্রেলিয়াতে রে বুদ্ধু, অ্যামেরিকাতে না।

কোন বালও জানে না।

জেনি...

আমি নিথিয়ার সাথে একবার দেখা করতে চাই।

এক্সকিউজ মি...

আমার তোমার সাহায্য দরকার।

সে কি আমার সাথে কথা বলবে?

আচ্ছা, সে এখন আছে কোথায়?

ক্যামব্রিজ এ বুঝি?

ক্যামব্রিজ এর কোথায় আছে জানো?

ক্যামব্রিজ না?

♪ প্রিয়তমা, আমি তো আছি নিরাপদে ♪ ♪ তুমি কি নিরাপদে......। ♪

প্রথমে আসবে, ♪ তুমি কি নিরাপদে......। ♪ তারপর হবে, ♪আমি তো আছি নিরাপদে। ♪

তুমি যখন গাইতে শুরু করেছিলে, আমি পুরাই ফিদা হয়ে গিয়েছিলাম।

... ইলায়ারাজা; তুমি আসলেই অস্থির ... ☺☺

[সুনামি কলোনি, মানাপদ, তামিলনাড়ু]

ভারুন এবং নিথিয়া

ভারুন এবং নিথিয়া - ২৪ বছর বয়সে...

না, আমি ঠিক নাই। তুই কি আমার ফ্রেন্ড নাকি ওর ফ্রেন্ড?

শুধু একটা প্রশ্নের উত্তর দে...

সে তোমার ফ্রেন্ড, নিথিয়া।

এখানে তাঁর কোন দোষ নাই।

আমিই তাঁকে বলেছিলাম তোমাকে না জানিয়ে আসতে।

জানিয়ে আসলে, তুমি কখনোই আমাদের আসতে দিতে না।

আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করবো।

তোমার রাগ ঠাণ্ডা হওয়া পর্যন্ত আমি অপেক্ষা করবো।

শুধু আজকে না...

আমি এখন থেকে প্রতিদিনই এখানে অপেক্ষা করবো।

আমি তোমার সাথে কথা বলতে চাই নিথিয়া।

কথা বলা ছাড়া আমি এখান থেকে যাচ্ছি না।

- প্রকাশ... - কি রে...

চল...

ওই... ওই... ওই... এই দিকে...

কিরে ব্যাটা, সে তো বলল জাহান্নামে যাইতে।

অনেকটা সেরকমই।

নির্লজ্জের মত তো বলে দিলি, কথা বলা ছাড়া যাবি না।

আমার জিনিসটা ভালো লাগে নাই রে।

তুই ও তাঁর মত ভাব ধরে বলে দিতি, "দূরে গিয়ে মর, গন্ধ ছুটছে।"

আমি যদি, "দূরে গিয়ে মর" বলে বাড়ি চলে যেতাম তাইলে...

নিজের বা... ছিঁড়া ছাড়া আমার আর কোন কাজই থাকতো না।

ওরে...

কলেজে তোদের দেখা হয়েছিল ৩ বছর পর...

তোরা একে অপরকে দেখার পর ফেবিকলের মত আঁটকে কথা বলা শুরু করলি তারপর আবার প্রেমেও পড়লি।

আমি ভেবেছিলাম এবারো সেরকম কিছুই হবে।

সত্যি বলতে কি, এই মেয়ে জাতিটাকে বুঝা বড়ই কঠিন রে।

আচ্ছা বলতো, কতদিন তুই এখানে অপেক্ষা করবি? ১০ দিন?

২০ দিনও হলেও আমি অপেক্ষা করবো...

আমিও অপেক্ষা করতে হবে?

আমার জীবনের ব্যাপার এটা। অপেক্ষা করতে পারবি না?

ব্যাপারটা হল...

ওই শুন, একজন হিরো "টলি প্রেমা"র মত একটা কিউট লাভ স্টোরি শুনতে অনুরোধ করেছিল।

তাঁকে গল্পটা শুনানোর জন্য আমাকে যেতে হবে।

হিরোটা কে?

আর. নারায়ণ মূর্তি।

(আর. নারায়ণ মূর্তি ভারতের একজন অভিনেতা, পরিচালক, সুরকার, গায়ক, আর প্রোডিউসার)

নিথিয়া, সবকিছু ছেড়ে দিয়ে এখানে চলে এসেছে। *** সেই একখান মেয়ে রে দোস্ত***

জেনি গতকাল রাতে তাঁর সম্পর্কে আমাকে বললো।

নিথিয়া গত ৬ মাস ধরেই এখানে আছে।

সুনামির ঠিক ২ মাস পর সে এখানে আসে।

তারপর থেকেই সে এখানে সেট হয়ে যায়।

এই সময়ের মধ্যে, সে শুধু একবার বাড়ি গিয়েছিল।

সে এখানে এক বছর থেকে...

স্কুলটা ঠিকমতো সেট করার পরই সে বাড়ি যাবে বলে ঠিক করেছে।

ওই, আমার মনে হয় তাঁকে মানাতে আরও এক বছর লেগে যাবে। ☹।

সে পর্যন্ত তোকে এখানেই অপেক্ষা করতে হবে। আমি মাঝে মাঝে এসে তোকে দেখে যাব।

জেনি, তুই এখানে থাকতে পারিস।

আসলে, কয়েকটা রুমই খালি আছে।

আমি এই যায়গাটা শিক্ষকদের থাকার কোয়ার্টার হিসাবে ঠিক করেছি।

চাবি আমার সাথেই আছে। আয় আমি তোকে দিচ্ছি।

আয়... আয়...

ভুতের বাংলোর মত লাগছে রে দোস্ত।

এই বাংলোটা, এই দুই ভুত্নির জন্য পুরাই খাপের খাপ। ☺☺☺☺

ঠিক আছে, চল ভিতরে যাই। আয় না ব্যাটা...

লাইট? ওহ ওকে। ব্যপার না...।

খারাপ না তো যায়গাটা।

ওকে মানানো এত সহজ হবে না রে।

সে পর্যন্ত তুই এখানে থাকাই উত্তম।

অন্যথায় আজাইরা অভিজ্ঞতায় পড়বি বললাম।

কি হয়েছে, ভারুন?

সবকিছু ঠিক আছে তো?

ঠিকই আছে। তাঁর কি অবস্তা?

সে তো ভালই আছে। সারাক্ষণ শুধু কম্পিউটারের সামনে বসে থাকে।

আচ্ছা তাঁর ই-মেইল আই ডি তো nithya88@hotmail.com, তাই না?

হ্যাঁ, সেটাই তো।

- আর ৫ মিনিট...। - ওকে।

এই সবগুলা মেইল আমি ৩ বছর আগে লিখেছি, নিথিয়া।

কিন্তু আজ সাহস হল তোমাকে পাঠানোর।

পড়ে দেখো এগুলা।

"আমি তোমাকে ভালোবাসি"

আমি এই লিখাগুলো আগে পাঠিয়ে কোন লাভ হবে বলে মনে হয়নি।

কারণ, আমি জানতাম তুমি এগুলা পড়বে না।

এজন্যই, আমি এই মেইলগুলো তোমাকে পাঠাইনি।

কিন্তু আজ পাঠালাম, কারণ... একদিন না একদিন তুমি নিশ্চয়ই এটা পড়বে।

(বরুন মেসেজ দিচ্চে) - সেদিন আমি তোমার সাথেই থাকবো।

একটা ছোট্ট সুন্দর রুম...

পাশে একটা জানালা।।

মন চাচ্ছে জানালার ভিতর দিয়ে তোমাকে টেনে নিয়ে আসি...। (হোস্টেল লাইফের কথা বলছে)

তোমাকে আসতে মানা করে আমি বোকার মত কাজ করেছি, নিথিয়া।

আমি একটা গর্দভ! একটা উন্মাদ!

কাল আমাদের কলেজের প্রথম দিন।

আমার ভাল লাগছে না।

তুমি এখানে থাকলে অনেক ভালো হতো।

অনেক ভালো লাগতো।

সত্যি বলতে কি...

এখানে তোমারই থাকার কথা। আমার থাকার কথা না।

তুমি এখন আমার উপর রেগে আছো। সেই কারনেই কি, আমি আমার একটা মেইলেরও রিপ্লাই দাওনি।

আমি বুঝতে পেরেছি, তুমি আমাকে ভুলে গেছো, তাই না?

মনে হয়, জীবনে আমার অস্তিত্ব আর নেই।

শুধু একবার সাড়া দাও, নিথিয়া।

আমি চলে আসবো... যতদূরেই তুমি থাকোনা কেন...

তুমি আমাকে অনেক ভালবাসতে। আমার জন্য অনেক করেছ...

আমাকে ভালোবেসে পরম আদরে জড়িয়ে ধরে রাখা সময়টুকুর মূল্য পরিমাপ করা অসম্ভব।

এখানে আমি সবার "লাভ গুরু"। আমার রান্নাঘরের নাম রেখেছি "লাভার"।

আমার সব বন্ধুরাই তোমার সম্পর্কে জানে।

হাসছো নিশ্চয়ই? হাসো...

আমি হয়ত তোমাকে ছাড়াই বেঁচে থাকতে পারব, নিথিয়া। কিন্তু অনেক কষ্ট হবে...। ☹☹

তোমাকে একটা কথা বলবো? বলেই ফেলি... ☺☺☺☺

♥তুমি আমার কল্পনার চেয়েও বেশি সুন্দর।♥

আমাকে শাস্তি দাও, তারপরও আমাকে মাপ করে দাও। ☹☹

- গুড মর্নিং... - গুড মর্নিং...

ওই... চল না... আরে চল... তুই এখানে দাড়িয়ে আছিস কেন?

তুমি আমার ইমেইল গুলো পড়েছ?

৪৭৩ টা ইমেইল পড়েছি আমি। রাতে ঘুমাতে পারিনি।

এমনকি সকাল বেলাও ঘুমাতে পারি নাই।

সরি... তোমার ঘুম নষ্ট করার জন্য।

আর, ধন্যবাদ। ই-মেইল গুলো পড়ার জন্য।

তারপর...

কিছু না...

মানে...

ই-মেইল গুলো পড়ার পর...

আমি কি বলবো?

"আমি তোমাকে বুঝতে পেরেছি" এ কথাটা শুনতে চাচ্ছ?

আমি তোমাকে খুব ভালো করেই চিনি, ভারুন। এখানে বলার মত কিছুই নেই।

যদি তুমি এগুলো (ই-মেইল) আমাকে তখন পাঠাতে...

আমি ধরে নিতাম, এগুলো সরাসরি তোমার মন থেকে এসেছে।

আমি এগুলো মন থেকেই বলেছি, নিথিয়া।

আমার শুধু মনে হয়েছিল, আমি একটা সুন্দর বই পড়ছি।

যেদিন আমি তোমাকে ছেড়ে চলে গিয়াছিলাম...

সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত প্রত্যেকটা সেকেন্ড তুমি আমার মনের মাঝে তুমিই ছিলে, নিথিয়া।

শুধু তুমি ছিলে...। ☹

তুমি কি ভেবেছ তোমার মেইল গুলো পড়ে আমি তোমার কাছে চলে আসবো আর ক্ষমা চাইবো?

জানি...

তুমি এত তাড়াতাড়ি চলে আসার মত লোক না...

কিন্তু চলে আসলে ভালই হতো। ☺☺☺

আমি আর প্রকাশ এখানেই অপেক্ষা করবো...

আরে, আমি কেন অপেক্ষা করবো? ওই জেনি... আয় না রে মামা... আয় না।

♪ যত দূরেই চাও না কেন তুমি যেতে... ♪

♪ ততটা কাছেই আমি থাকবো তোমার পাশে। ♪

ওই, তুই এসব কি গান গাচ্ছিস।

সে তোকে বলছে দূরে গিয়ে মরতে। (গেট লস্ট ☺☺)

এধরনের পরিস্থিতিতে...

সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে, সেই আমি কেন তোমাকে দুঃখ দিলেম, কেমন করে এত অচেনা হলে তুমি, কিভাবে এত বদলে গেছি এই আমি,

এই ধরণের গান গাইবি...

ওই... এটা স্যার মাহফুজুর রহমানের সুর করা।

জানিস তাঁর গান শুনে কত মানুষ পাগল হয়ে রাস্তায় ঘুরছে... ☺

ঈদে 'স্মৃতির আল্পনা আঁকি' অনুষ্ঠানে গাইসিলো

সুরটা যেরাম, গানের গলাটাও সেরাম! ☺☺☺☺☺☺☺☺☺☺☺☺☺

♪ যত দূরেই চাও না কেন তুমি যেতে... ♪

♪ ততটা কাছেই আমি থাকবো তোমার পাশে। ♪

তুমি কি চাও, ভারুন?

তোমাকে...

তুমি যে মেয়ের খোঁজে এখানে এসেছ, সেই মেয়ে আমি না...

অডিটোরিয়ামে বসে তোমার গান শুনে ফিদা হয়ে যাওয়ার মেয়ে, সেই কবেই হারিয়ে গেছে।

আমি শুধু তোমার জন্য এসেছি, নিথিয়া। লক্ষবার সরিও বলেছি...।।

ওই মেইল টা...

মেইলের প্রত্যেকটা শব্দ আমার মন থেকে এসেছে।

আর কত বছর তুমি আমার সাথে কথা বলবে না?

সেখানে কাটানো প্রত্যেকটা দিন, প্রত্যেকটা প্রহর, প্রত্যেকটা অনুভুতিতে শুধু তুমিই ছিলে।

- আর কি করবো আমি? - আমি জানি না।

আমার অপরাধটা কি এতই বড়?

আমার পরিবারের জন্য, পড়াশুনার জন্য, একটা চাকরির জন্য একটু সময় নিয়েছিলাম। এটাই তো?

এটা কি অন্যায়?

সবারটা দেয়া শেষ হয়েছে, তাই না?

ও... তারমানে, ইচ্ছাপূরণ বাক্সটা খুলে দেখলে এবার আমার নামটা এসেছে। তাই না?

তুমি এখানে এসে আমাকে ডাকবে, আর আমি রেডি হয়ে বসে থাকবো?

যদি এই কাজ গুলো শেষ করতে তোমার আরও তিন বছর লেগে যেত...

তাহলে তুমি আরও তিন বছর পরেই আসতে, তাই না?

এখন কেন আসলে?

আমার জন্য বুঝি? নাকি তোমার প্লান অনুসারে বিয়ের বয়স হয়েছে তাই।

আমি তোমার রাগটা বুঝতে পারছি।

আমার... তেমনটা... মনে হচ্ছে... না...।

এটা আমার আর তোমার ব্যাপার, নিথিয়া। *****আমাদের****

ভারুন ও নিথিয়া...

এটা চার বছর আগের কথা। এখন আর কিছুই নেই... কোন ভালবাসা নেই।

এর কারণ তুমি... তুমি...

আবার বলো তো...

ব্রেক-আপের কথা প্রথমে তুমিই বলেছিলে।

মানছি আমি...

আমিই ব্রেক-আপ করেছি। কিন্তু তুমিই আমাকে বাধ্য করেছিলে।

তোমার কি মনে নেই সেটা?

অতীত নিয়ে আর কথা বলো না, নিথিয়া।

কথা বলতে হবে...

আমি এখানে তোমার সাথে ঝগড়া করতে আসি নাই, নিথিয়া।

তুমি জানো আমি এখানে কেন এসেছি।

তোমার জন্য।

চলো হায়দ্রাবাদ গিয়ে কথা বলবো।

আমি হায়দ্রাবাদ যাবো না।

আমার এখানে অনেক কাজ আছে।

তুমি হঠাৎ করে এখানে আসলেই, আমি সবকিছু ছেড়ে তোমার সাথে তো আর ভেগে যেতে পারি না।

আমার জন্য চলো না... ☹

এখন এটাই আমার জীবন। এটাই আমার সবকিছু, ভারুন।

আমার মনে হয়, তুমি ব্যাপারটা বুঝতে পারছো।

আরও ৬ মাস এখানে থাকলেও কোন কাজ হবে না, তাই না?

সত্যি বলতে তুমি একটুও ব্যস্ত না।

তুমি প্রতিশোধ নিতে চাচ্ছো, তাই না?

তুমি ভেবেছ খেয়ে-দেয়ে আমার আর কোন কাজ নাই, তাই না?

আসলে, তোমার কথা আমার একবারও মনে পড়ে নাই।

সত্যি বলতে আমার ভাবনায়ই ছিলে না তুমি।

এইযে বাচ্ছা গুলো দেখছ, ওরাই এখন আমার সবকিছু।

অনেক বছর আগে...

আমি তোমাকে আমার পৃথিবী ভেবেছিলাম।

এখন ভাবি না...

তাহলে স্বীকার করলে, একদিন আমি তোমার পৃথিবী ছিলাম

কিন্তু আজ এই বাচ্চাগুলো তোমার সবকিছু।

তাহলে, তুমি জীবনে কিছু একটা করছো।

এই কথাটাই আমি সেদিন বলেছিলাম। কিন্তু তুমি আমাকে অনেক বড় ভিলেন বানিয়ে দিলে।

আচ্ছা, তুমি তো মনোবিজ্ঞানে পড়েছ, তাই না।

একটু লজিকালি ভাবোতো...

আমি তোমাকে কেরেলা আনি নাই, সেজন্য তুমি ব্রেক-আপ করেছ।

তোমার জেদের কারণে আমি যদি তোমাকে নিয়ে যেতাম

তাহলে কি তোমার এই পৃথিবীটা গড়ে উঠতো? কিছুই হতো না...।।

আকাইম্মার মত, আমার বাসায় ফিরার জন্য সারাক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে।

আকাইম্মার মত বসে থাকতাম?

ঠিকই বলেছ।

এই সবকিছুই তোমার কারণে সম্ভব হয়েছে?

তুমি আমার জীবনটা পাল্টে দিয়েছ?

আমি আমাদের স্কুল বিল্ডিংয়ের নাম তোমার নামে রাখবো, ভারুন।

থ্যাঙ্কস...

নিথিয়া...

ই-মেইলে লিখেছিলে না... "আমরা একসাথে থাকার জন্যই এসেছি"- তাই না?

আমাদের আসল রুপ এটাই।

অতীত নিয়ে কথা বলতে চাও না, তাই না? কিন্তু আমি অতীত ভুলতে পারছি না।

"আমরা একসাথে থাকার জন্য আসি নাই।" আমাদের কপালে এটাই লেখা আছে।

বালের কথা কও তুমি?

তুমি নিজেও চাও না, আমরা একসাথে থাকি।

আমি আবারো বলছি, প্রত্যেকবার আমরা আলাদা হয়েছি তোমার কারণে।

আমাদের ব্রেক-আপ হয়েছে তোমার কারণে।

কোন সমস্যা হলেই তুমি দৌড়ে পালাও।

এমনকি এবারও তুমি বলছ, আমাদের এক হওয়া সম্ভব না।

আমাদের এক হওয়া সম্ভব না।

চিল্লাচিল্লি ছাড়া, ঝগড়া ছাড়া, তর্কাতর্কি ছাড়া...

আমরাতো একটা কথাও বলতে পারি না, তাই না?

এজন্যই আমি বলেছি...

তোমার সব আজাইরা কথায় হুজুর হুজুর করা আমার পক্ষে সম্ভব না।

তুমি সবকিছু মীমাংসা করতেই এতদুর এসেছিলে, তাই না?

আর এখন তুমি বলছ, সব দোষ আমার?

সব দোষ আমার ঘাড়ে তুলে দিলে?

মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য...

মাথা ঠাণ্ডা রেখে কথা বলতে পারলে না।

তোমাকে কিভাবে বিশ্বাস করি?

- বিশ্বাস করে কিভাবে চলে আসি? - আসার দরকার নাই...

মাথাই কি ঘিলু নাই?

আমাকে বিশ্বাস করারও দরকার নাই। আর আসারও দরকার নাই।।

এক মিনিট!

- হ্যালো - হাই... নিথিয়া বলছি...

আমি হায়দ্রাবাদে এসেছি।

তোমার সাথে কথা বলতে চাই

বলো শুনছি...

আমরা কি কোন যায়গায় দেখা করতে পারি?

হ্যালো...

আমি একটা বন্ধুর সাথে দেখা করতে এসেছি, তোমাকে পরে কল করছি... বাই...

মানাপদ থেকে যাওয়ার আগে, তুমি আমাকে একবার জানালেও না? ...

যাই হোক, আমি এখানে এটা বলতে আসি নাই।

বিদ্যিয়ার বিয়ে ঠিক হয়েছে।

- আমি এসেছি তোমাকে দাওয়াত দিতে। - কখন?

বিয়ে আগামিকাল।

আমি কালকেই এসেছি।

শেষ মুহূর্তে দাওয়াত দেয়ার জন্য সরি।

তোমার সাথে দেখা করে দাওয়াত দিতে চেয়েছিলাম।

আসবে তো?

ভালই হলো তুমি কল করেছ।

আসলে, আমারও তোমাকে কিছু বলার ছিল।

আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে, নিথিয়া।

আমার ভাবির ছোট বোন।

অনেক দিন ধরেই তাঁরা বলছিল।

এই মাসেই বিয়ে ঠিক হল।

আমিও রাজি হয়ে গেছি।

বিয়ে আগামী মাসেই হবে।

এখন... ছোট করে অনুষ্ঠান করবো।

আমার একটা জব হয়েছে। লন্ডনে...। এটা একটা ব্রোকারেজ ফার্ম।

কোম্পানির নাম; সেইমর পিয়ারস।

তাঁর নাম রাধিকা।

কংগ্রাচুলেশান, ভারুন।

এটা অনেক ভালো খবর।

তুমি কাল আসবে তো?

বিয়ে কিন্তু কাল ভোরে।

তুমি রিসেপশান অনুষ্ঠানে চলে এসো।

সে আমার থেকে অনেক দূরে চলে যাচ্ছে... ☹

সে অন্য একজনকে খুঁজে নিয়েছে। ☹

সে আমাকে ছাড়াই চলে যাচ্ছে। ☺

সে অন্য একজনকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে, তারমানে, তাঁর জীবনে আমার অস্তিত্বই আর নেই।

আমি আর তাঁর জীবনে নেই।

আমি ভুল করেছি, আপু। আমি অনেক বড় ভুল করেছি। আমি জানি...।

আমি কখনোই ভাবি নাই, সে এরকমটা করবে।

আমি কখনোই ভাবি নাই এরকম কিছু ঘটবে।

নিথিয়া...

প্লিজ, কাঁদিস না...।

সেদিন আমি তাঁর সাথে কথা বলি নি।

সে আমার ক্লাস রুমে এসেছিল।

আর সেখানে দাড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল।

আমি বাচ্ছাদের দিকে তাকাতেই, সে কোন কথা না বলে সেখান থেকে চলে গেল। ☹

সে চলে গেছে! ☹☹

সে যদি আমাকে জড়িয়ে ধরে বলতো, "আমি তোমাকে কখনোই ছেড়ে যাবো না"।

আমি তাহলে তাঁকে সেখান থেকে যেতে দিতাম না।

এখানে মুল মুভির কিছু অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। এটাই ভালো প্রিন্ট তাই এটার উপর সাব বানানো হয়েছে। এই কেটে ফেলা অংশে... নিথিয়া ভারুনের বিয়েতে আসে। জেনি এটাতে মোটেও খুশি হয় নি। কারণ সে জানে নিথিয়া কষ্ট পাচ্ছে। নিথিয়া বলল, ভারুন তাঁর ভালো ফ্রেন্ড, তাই এসেছে। যদিও নিজের সবচেয়ে কাছের মানুষের বিয়েতে কারো পক্ষেই সেখানে থেকে অভিনন্দন জানানো কোন দিনও সম্ভব না। সে জন্য নিথিয়াও বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে বের হয়ে আসে। আর গাড়ীতে একাকী বসে থাকে।

নিথিয়া, আমি ভারুন বলছি।

ভারুন......

আমি তোমার সাথে কথা বলতে চাই। আমি কল দিবো দিবো ভাবছিলাম।

কিন্তু বুঝতে পারছি না, এখন কল দেয়া ঠিক হবে কি না।

আমি কল দিব ভাবছিলাম কিন্তু তুমিই কল দিয়ে দিলা।

সত্যি?

তুমি কি ভাবছো, নিথিয়া?

কেন আসলে তুমি আজ?

তুমি কি চাচ্ছ?

সরি, আমি কি করছি, আমি নিজেও জানি না।

তোমার যাওয়ার সময় হয়ে গেলে চলে যাও।

সমস্যা নাই।

৫ টা বাজে বাসা থেকে বের হতে হবে। আম্মা ৪ টা ৩০ এ জাগিয়ে দিবে।

মন্দিরে বিয়ে হবে।

এজন্যই সকাল সকাল যেতে হবে।

তুমি কেন এসেছ, নিথিয়া?

আমি তোমাকে উইশ করতে এসেছি। (উইশঃ অভিবাদন)

আর যা কিছু ঘটেছে, তাঁর জন্য সরি বলতে এসেছি।

আমি চাই না তুমি আমাকে ঘৃণা করো।

এটাই আমার কাছে বেশি জরুরী।

এটা সম্ভব না, নিথিয়া।

আমি তোমাকে ঘৃণা করি, নিথিয়া।

আমাকে... আমার ভালোবাসাকে...

তুমি কখনোই বুঝতে পারো নাই।

তুমি আমার ভালোবাসার যোগ্য না।

এই ছাদের এই যায়গায়...

আমাকে তোমার সাথে নেয়ার জন্য তোমার পায়ে পড়েছিলাম।

সেদিন আমি আমারও ঠিক এমনই লেগেছে।

তুমি আমাকে বুঝো নাই...। আমার ভালোবাসা বুঝতে পারো নাই।

তুমি আমার ভালোবাসার যোগ্য না।

আমিতো মানাপদ গিয়েছিলাম, নিথিয়া।

ভারুন.........

আর এরকম করার দরকার নাই।

আমরা এমনিতেই অনেক করে ফেলেছি।

আর না, প্লিজ।

আমরা দুজনই এখন ভালো আছি।

আমাদের বন্ধুর মত থাকা উচিত।

ঘৃণা না... ঠিক আছে?

ঠিক আছে।

আমি যাচ্ছি...

তুমি কাল মানাপদ যাচ্ছ বুঝি?

তুমি কিভাবে জানলে?

আমাদের মাঝেতো দুইটা ডাক পিয়ন আছে। আমাদের কমন ফ্রেন্ডস। (জেনি ও প্রকাশ)

তোমার সম্পর্কে তো তাঁরা আমাকে কিছু বলে না।

আমি সেটা জানি...

নতুন গাড়ী এটা?

আমার না... আমার বাবার এটা...।

ওয়াও, ভারুন...।

সত্যি খুব সুন্দর...।

আমি সত্যি অনেক খুশি হয়েছি।

চালাবে না?

তুমি ব্যাপারটা অন্য ভাবে নিও না।

আমি তোমাকে অপমান করার জন্য বলছি না।

মানে, তুমি যখন কার নিয়ে আসতে, তখন আমিই চালাতাম।

সুতরাং...

এখন তোমার পালা...।

কি হলো?।

কিছু না।

রাধিকা কি আমার সম্পর্কে জানে?!

হুম, জানে।

তোমার সম্পর্কে কিছু না বলে, আমার নিজেকে ব্যাখ্যা করা অসম্ভব।

ক্লাস টেনে প্রথম হয়েছি তো তোমার কারনেই।

HSC তে লাস্ট গ্রেড পেয়ে পাশ করেছ, আমার কারণেই।

তুমি বাগদা চিংড়ি খাওয়ার অভ্যাসটা হয়েছিল আমার কারণে

আবার আমার কারণেই খাওয়া বন্ধ করেছ। সে জানে এটা?

তুমি ৪০ টা বাগদা চিংড়ি খেয়ে, পেট চেপে ধরে, যখন ছোট বাচ্ছার মত কান্না করছিলে...

আমার তখন একটুও খারাপ লাগে নাই। বরং অনেক মজা পেয়েছি! ☺☺☺

তুমি ৪০ টা চিংড়ি দেখে কি ভয় পেয়েছিলে?

আমি তোমার থেকে আরও অনেক কিছু শিখেছি।

বন্ধের দিনে কখনো কোন মেয়েকে নিয়ে রেষ্টুরেন্টে খেতে যাওয়া ঠিক না। ☺

সিনেমা দেখতে গেলে, ঠিক সময়ে উপস্থিত থাকতে হবে।

জন্মদিনে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত, গার্লফ্রেন্ডকে সময় দিতে হবে।

ওই...

এসব তোমার সাথে থেকেই শিখেছি। এজন্য তোমাকে ধন্যবাদ জানাতে হবে।

তুমিও অনেক কিছু শিখেছ নিশ্চয়ই!

দুইটা জিনিস শিখেছি।

একটাতো অবশ্যই "ক্রিকেট"।

লেগ স্পিন কি? অফ স্পিন কি? আউট সুইং... ইন-সুইং... ☺☺

বলতো, "অ্যাডাম গিলক্রিস্ট" কে?

ও যে অস্ট্রেলিয়ার উইকেট কিপার, সেটা আমি জানি তো... ☺☺☺

আমি জানি তোমারা মেয়েরা, এই বিদেশী খেলোয়াড়দের খুব ভালো করেই চিনো।

ঠিক আছে, বলতো, "রমেশ পাওয়ার" কে?

দেখছ... ধরা খেয়ে গেছ!

তারপর...

তুমি এরেঞ্জ ম্যারেজ করবা, এটা আসলে আমি কখনোই ভাবি নাই।

আমি তাঁকে অনেক দিন ধরেই চিনি, নিথিয়া।

ভাইয়ার শালি হিসাবে।

সে মাঝে মাঝে আমাদের বাসায় আসতো।

আর ও অনেক ভালো একটা মেয়ে।

আমি আসলে তাঁকেই দেখতে এই অনুষ্ঠানে এসেছি।

দেখতে এসেছি, তুমি কাকে বিয়ে করছ?

তোমার প্লান কি? বিয়ে করছ কখন?

বিয়ে নিয়ে কিছু ভাবি নি।

কি বলছ এসব, নিথিয়া।

তুমিতো সবসময় বিয়ের কথা বলতে।

আমার বিয়ের কথা বলতাম না ভারুন।

তোমাকে বিয়ে করার কথা বলতাম।

" I am Sorry", নিথিয়া।

তুমি কোন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছ, আমাকে একবারও জানালে না কেন, ভারুন?

তোমার বাসা, বাবা, মা, ছোট ভাই... কেন তুমি আমাকে এসব সম্পর্কে জানাও নাই?

তুমি তো জানো, ছেলেরা বেশিরভাগ সময়ই বোকা হয়ে থাকে।

ইগো বেশি থাকে!

সেটাও ঠিক...।

এই যায়গাটা একটুও বদলায় নি।

দোলনাটা ঠিক আগের যায়গায় আছে।

এটা মিডল ক্লাস কলোনি, নিথিয়া।

পাল্টাবে না কিছুই।

এটা আমারও কলোনি ছিল। ভুলে গেছ?

কোন এক সময়...

তুমি ঠিকই বলতে, নিথিয়া।

কোন সমস্যা হলেই, তাৎক্ষণিক "আমি এটা চাই না", বলে দেয়া ঠিক না।

"আমাকে ছেড়ে চলে যাও" একথা বলাও তোমার ঠিক হয় নি সেদিন

কিন্তু, তুমি আমাকে নিয়ে এরকম ইস্যু তৈরি তোমার ঠিক হয় নি।

এমনকি, আমি তোমাকে চলে যেতে বলেছিলাম, তাই বলে কি, তুমি আমাকে ছেড়ে সেখান থেকে চলে আসবে?

তোমার বিয়ের ঠিক তিন ঘণ্টা আগে আমি তোমাকে এটা বললাম, মনে রাখবা।

তুমি আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু, ভারুন।

তুমি আমাকে আমার থেকেও ভালোভাবে জানো। ঠিক তেমনি, আমিও তোমাকে ভালোভাবে জানি।

একথাটাও তোমাকে জানাতে চেয়েছিলাম।

একথা বলতে তুমি এখানে এসেছ?

এসব কিছু বলার জন্য?

আর কিছুই বলবা না? ☹☹☹

বাবা...

তুমি ঘুমাও নাই?

ভারুন...

তুই এত রাতে, ওই মেয়ের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলি, তাই না?

তুই IIM এ MBA করার সময় কেমন ছিলি...

আমার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় কেমন ছিলি... দুটাই আমি দেখেছি।

তোর কিছু একটা তো হয়েছে, আমি জানি।

না হয়, চাকরি যাওয়ার ভয় থাকা সত্ত্বেও, তুই হঠাৎ করে মানাপদ চলে যাইতি না।

প্রকাশের সাথে কথা বলে জানলাম.. সে নাকি মানাপদে একটা স্কুল চালাচ্ছে।

আপ্পুর কাছেও দু-একবার নিথিয়ার কথা শুনেছি।

একবার তো তুই তোর আম্মাকে "আম্মা" বলে ডাকার পরিবর্তে নিথিয়া বলে ডেকেছিলি।

হ্যাঁ, বাবা।

আমি তাঁর খোঁজেই গিয়েছিলাম।

আমি তাঁর সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম আর দেখাও করেছিলাম।

গুড বাই বলে দিয়েছিলাম।

গুড বাই বলতে পারলি?

এখন তুই কি করবি সেটা বুঝতে পারছিস না, তাই তো?

রাধিকার কি হবে...

ব্যপারটা আসলেই টেনশানের বিষয়।

রাধিকা আমাদের মেয়ের মত।

তাঁকে কষ্ট দেয়া ঠিক হবে না।

তুই ভালবাসবি একজনকে, কষ্টও পাবি তাঁর জন্য...

আর রাধিকাকে বিয়ে করবি। এটাও ঠিক না।

তুই তাঁকেও সুখে রাখতে পারবি না।

এটা খুবই অন্যায় রে...।

আমার মনে হয় সেও তোকে ভুলতে পারে নি।

সমস্যাটা যদি এটাই হয়...

তাহলে কি করতে হবে, তুমি নিশ্চয়ই জানো।

ভারুন...

তুমি এখানে কেন?

আপনার বোনকে জিজ্ঞাসা করেন, আমি এখানে কেন এসেছি...

দরজাটা বন্ধ কর, কাভিয়া।

বলো তাঁদের... বলো...

তোমার কথা আমার একবারও মনে পড়ে নাই।

আরে... এটা আমি বলি নাই। তোমার বোন বলছে।

আমি তোমাকে কিভাবে বিশ্বাস করতে পারি?

আমাকে কি বোদাই পেয়েছ, যখনই ডাকবা চলে আসবো?

আমরা কোন দিনই একসাথে থাকতে পারবো না...

আমি বলি নাই কিন্তু...

বলেছে তোমার বোন।

মানাপদে এসব বলেছিলে না?

তারপরই তো আমি চলে এসেছিলাম।

তুমি আমাকে মেনে নাও নাই। আর আমার কাছেও কোন আশা ছিল না।

এখানে চলে আসলাম আর বিয়েতে রাজি হয়ে গেলাম।

তুমি এখন তাহলে কেন আসলে, নিথিয়া?

মানে আমরা একে অপরকে কখনোই ঘৃণা করতে পারবো না, তাই না?

ভারুন, বাবা বাড়িতে আছে। এসব এখন থাক। পরে কথা হবে।

আমি আপনার বাবা-মাকে নিয়ে কেন ভাববো?

সেও তো আমার বাবা-মাকে নিয়ে কখনো ভাবে নাই।

সে আমাকে ঘৃণা করলেও আমার কি আসে যায়?

আমি তোমাকে ঘৃণা করি।

তাতে কি হয়েছে?

আমি সরি, ভারুন।

সরি বলা উচিত আমার।

কাকে বলা উচিত জানো?

রাধিকাকে, তাঁর বাবা-মাকে, আমার ভাবিকে, হারিশ ভাইয়া কে, আমার পরিবারকে...।

বিয়ের দিনেই বিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে...

যারা এটা শুনে তাঁদের পায়ের জুতা খুলে মুজা দিয়ে পিটাবে আমাকে। তাঁদের সরি বলা উচিত।

সরি...

সরি বলছ তুমি এখন? আমি বিশ্বাস করি না।

আমি বিশ্বাস করি না।

ভেবেছিলাম এ জীবনে তোমার মুখও আর দেখব না, নিথিয়া।

কিন্তু কাল যখন তুমি আসলে মনে চাচ্ছে তোমার আরও কাছে যেতে।

এজন্য... এজন্যই... আমি তোমাকে ঘৃণা করি।

কেঁদো না তো, নিথিয়া। কেঁদো না।

মেয়েদের জন্য কান্না করা খুব সহজ। তারমানে এই না যে, সবকিছুতেই কেঁদে দিবা।

বিদ্যিয়া আপু, কি হল? আমি এখানে কি করছি?

আমি যাচ্ছি...।

কে তুমি?

আমি আপনার মেয়ের সাথে দেখা করতে এসেছি।

তিন নাম্বারটা না। দুই নাম্বারটা। নিথিয়া।

নিথিয়া!...

সে কিছুই জানে না। আমিই এসেছি।

নিথিয়া!...

এই মাত্রই আসলাম।

ভারুন... ভারুন কৃষ্ণা।

- বিদ্যিয়া, এখানে কি হচ্ছে এসব? - বাবা, কিছু হয়নি। তোমাকে পরে বলবো।

-শুনো... -আমি এখানে আরও অনেকবার এসেছি।

আমি তাঁকে খুব ভালো করেই চিনি।

স্কুল জীবন থেকেই ... যখন আমাদের বয়স আট ছিল।

আলাকনান্দা এপার্টমেন্টস...

ইন্টারে উঠার পর, ২০ মিনিট আগে কলেজে পৌঁছানোর জন্য আলাদা গাড়ী করে যেত।

সে আমার জন্যই যেত।

অ্যান্টি, আপনি যে অতিরিক্ত লাঞ্চ বক্স পাঠাতেন, সেটাও আমার জন্য ছিল।

কলেজে তাঁর একটা মোবাইল হারিয়ে গিয়েছিলো। মনে আছে?

সেই মোবাইলটা এখনো আমার সাথেই আছে।

আমার জীবনের প্রথম...

ফাইভ স্টার লাঞ......... আপনার ক্রেডিট কার্ডের বদৌলতে, আঙ্কেল।

স্কুলে...

ক্লাস টেন পর্যন্ত সব ফ্রেন্ডকে হারিয়েছি, আপনার মেয়ের স্কুলে জয়েন করতে গিয়ে।

দেড় লাখ টাকার বোনাস মিস করেছি, যখন আপনার মেয়ের সাথে মানাপদ দেখা করতে গেলাম।

চাকরিটা প্রায় চলেই গিয়েছিল।

আর তাঁর সাথে কথা বলার সিরিয়াল পেতে, ১০ দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। ☹☹

আজকে আমার বিয়ে।

একটু পরেই বিয়ের মুহূর্ত। ৫ টা ৩০ এ বিয়ে। আর আমি এখানে দাড়িয়ে আছি।।

মেয়ের নাম রাধিকা... আমার নিকটাত্মীয়।

আপনার মেয়েকেই ভালবেসেছিলাম।

আপনার মেয়েকে ভালোবাসার পর, অন্য কোন মেয়েকে ভালোবাসা কখনোই সম্ভব না।

আমি আপনাকে বলছি কেন এসব?

- নিথিয়া এসব কি হচ্ছে? - বাবা, প্লিজ... বাবা...

- ভারুন। -আমি যাচ্ছি, নিথিয়া।

যেও না... ভারুন, প্লিজ... ☹

আমি এখানে আর এক মুহূর্তও দাঁড়াতে চাই না।

কেন তুমি আমাকে দাঁড়াতে বলছো?

তুমি জানো, ভারুন। তুমি জানো না?

আমি জানি না।

আমি জানি না।

তুমি কাল কেন এসেছিলে, নিথিয়া? বলো...

রাধিকাকে দেখতে গিয়েছিলে, বুঝি?

-আমাদেরকে সারাজীবনের বন্ধু বানাতে গিয়েছিলে? - I Love You, ভারুন।

এখন কেন বলছ, নিথিয়া?

শুধু এখন না...

আমি সবসময় তোমাকে ভালবেসেছি। আর ভালবাসবো; তুমি জানো সেটা।

তুমি কি জানো এর মানে কি?

ভালো সময়ে, খারাপ সময়ে, ইগো ভুলে, সন্দেহ না করে, শত ঝগড়া আর কান্নার মাঝে...

শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত...

বাকি জীবনের জন্য... আমি জানি...

আমি সব সময় তোমাকে অনেক ভালবাসবো। ।☹☹☹☹☹☹☹♥☹☹☹☹☹☹।

ভুল আমারই ছিল।☹☹☹☹

শুধু কাল রাতে না...

৬ মাস আগে... স্কুলে... কলেজে... সবসময়...

আমি পারতাম ব্যাপারটা এত বড় হতে না দিতে।

তাহলে আর আমাদের এতদিন কথা না বলে থাকতে হতো না।

এত দূরে থাকতে হতো না।

এক মিনিটের জন্য আমরা আলাদা হতাম না।

আমি আর পারছি না।

আর কত নিজেদের গুটিয়ে রাখবো আমরা?

আমার বাকিটা জীবন তোমার ছায়ায়, ভালোবাসা দিয়ে ভরিয়ে দিতে চাই।

তোমার সাথে কথা বলে, ৮ বছর আগেই আমার এমনটা বলা উচিত ছিল।

তুমি কিছু বলবে না?

বলেছি তো! ☺☺☺♥♥☺☺☺

কি বলছ তুমি? ৮ বছর আগে এমনটা করলে ভালো হতো?

লাত্থি মেরে বের করে দিতো।

তোমার বাবা তো এসব দেখেল তিনবার হার্ট স্ট্রোক করবে।

আমি তোমার থেকে আরেকটা জিনিস শিখেছি... তোমাকে তো বলি নাই সেটা...

কি সেটা?

১ টা তো ক্রিকেট।

আর ২ নাম্বারটা কি?

♥♥♥♥♥♥ এটা... ♥♥♥♥♥

বাবা...।

ভাবছেন খেল খতম?

আমাদের বিয়ের পরও ৪ বার বিশ্বযুদ্ধ লেগেছে। ☺☺☺☺☺☺☺☺☺☺☺☺☺☺☺ এখন আমাদের ৪ সন্তান। এটাই আসল কাহিনী। যায়গা মত যুদ্ধও ভালো ফল নিয়ে আসে।

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.