All language subtitles for Stranger.Things.S05E08.Bangla Subtitle by MOHSIN

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic Download
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali Download
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English Download
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

অনুবাদ ও সম্পাদনা মোহাম্মদ ইউসুফ

খোদার কসম, আমি কোনো কিছুতেই হাত দিইনি।

তাহলে কি গেটটি জাদুর মতো একা একাই খুলে গেল?

নিশ্চয়ই কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি হয়েছিল।

বিষয়টি আমাকে স্পষ্ট করে বুঝতে দাও।

ঠিক যে মুহূর্তে ট্রাকটার আগমন ঘটলো, তখনই কি যান্ত্রিক ত্রুটি হলো?

তুমি কি সত্যিই আশা করছ আমি এটা বিশ্বাস করব, সোলজার?

কসম করে বলছি, আমি কিছুই জানি না।

যদি আসলেও যান্ত্রিক কোনো গণ্ডগোল হয়ে থাকে?

তবে সেই ত্রুটি আমাদের কারণে হয়নি।

ঠিক আছে, ল্যাবের ইঁদুরেরা, এবার তাড়াতাড়ি নড়াচড়া করো।

আস্ত একটা দুনিয়া আমাদের মাথার ওপর ভেঙে পড়তে যাচ্ছে।

হ্যালো।

সব ঠিক আছে তো?

শোনো,

জানি প্ল্যানটা বোকামি, আর এখানে হাজারো কাজ নিখুঁতভাবে হওয়া দরকার,

আবার অনেক কিছু ভুল হতে পারে এবং সম্ভবত ভুলই হবে।

তবে আমরা সফল হবই, আমি নিশ্চিত।

শুধু একটা শেষ লড়াই, তারপর এই দুঃস্বপ্ন চিরতরে শেষ হবে।

অবশেষে এর পরিসমাপ্তি ঘটবে।

বাহ, দেখা হয়ে গেল তাহলে।

ম্যাক, উলফপ্যাক বলছি। আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন?

- এটা করছ তুমি? - ডাক্তারকে অ্যালার্ট করছি।

ওই মেয়েটা নিজেকে ঈশ্বর মনে করে।

সে শুধু আমাদের কাজে দেরি করিয়ে দেবে।

না।

আমরা একাই এই অদ্ভুত জিনিসটাকে ধরবো।

- তোমার কি মনে হয় তারা ঠিক আছে? - ট্রাকটা হামভির চেয়েও বেশি জোরে চলে।

কম করে ধরলেও পাঁচ মাইল বেশি গতিতে চলছে।

ওরা তো ছয় মিনিট কুড়ি সেকেন্ড আগেই রওনা দিয়েছে,

তার মানে ওরা আধা মাইলের মতো এগিয়ে আছে।

আপাতত ওদের নিয়ে ভয়ের কিছু নেই,

কিন্তু আসল চোদনামো তো এখনো শুরুই হয়নি।

এরিকা, মার্জিত ভাষা ব্যবহার করো।

এটা বিজ্ঞানের কোনো ক্লাস না। পরিস্থিতিই এমন ভাষা দাবি করে।

- তা, কেমন লাগছে? - কীসের কথা বলছ?

দুনিয়াকে বাঁচানোর ব্যাপারটা নিয়ে বলছি।

বেশ ভালোই লাগছে।

জাস্ট দারুণ লাগছে।

যাও! যাও! যাও!

ভেতরে ঢোকো! তাড়াতাড়ি চলো!

এই রবিন, শুনছো।

দয়া করে বলো তো, ওটা কি তোমরাই ছিলে?

আর ওই মিউট্যান্ট কুকুরগুলোর মতো কিছু ছিল না?

আমরাই, ভিক, এখনই ঘাবড়ে যেও না। পরে ঘাবড়ানোর অনেক সুযোগ পাবে।

আচ্ছা ঠিক আছে, আবেগগুলো তালা মেরে রাখছি।

কোনো দুষ্ট, চলমান গ্রহের চিহ্ন নেই।

ভালোই হলো, কারণ এতে কিছুটা সময় লাগবে।

ঠিক আছে, আমাদের আলাদা হয়ে যাওয়া উচিত।

দুটো মইই ব্যবহার করো।

তাড়াহুড়ো করো না। নিজেদের গতি নিয়ন্ত্রণ করবে।

যাওয়ার পথে জিরোনোর জায়গা পাবে, চাইলে সেখানে জিরিয়ে নিতে পারো।

ঠিক আছে তাহলে।

এবার কাজে নামা যাক।

তুমি ঠিক আছ তো?

ভয় পেও না।

এরা সবাই বন্ধু।

ওরা শুধু দেখতে এসেছে।

ওদের দিকে তাকিও না।

আচ্ছা, পাপা।

চারপাশটা আলোয় ভরে উঠুক।

শাবাশ ন্যাড়া ঈগল, ফাটিয়ে দিয়েছ।

এবার ছাদে উঠে যাও।

ওই সি-ফোর বিস্ফোরক নিয়ে সাবধান থেকো।

আমাদের সুদ্ধ এই জায়গাটা উড়িয়ে দিতে চাই না।

ওহ, আমি তো অবহেলা করার কথা ভাবছিলাম।

তবে তুমি ঠিক বলেছ, জিম। এখানে সতর্ক থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ঠিক আছে।

এখন মনে রেখো,

দুবার আস্তে টোকা দেওয়ার মানে...

- অ্যাবিস নড়তে শুরু করেছে। - ঠিক ধরেছ।

তুমি আর তোমার বোন পজিশন নাও, কিন্তু অপেক্ষা করো। খবরদার, আগে আক্রমণ করবে না।

যখনই বুঝবো গ্রহটা টাওয়ারের কাছে এসেছে,

তখন আমি জলদি তিনবার টোকা দেবো।

তৎক্ষণাৎ আমরা আঘাত হানবো। হেনরিকে মেরে ফেলবো।

এবং আমরা কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করবো যেন ডাস্টিনের অনুমান সত্য হয় এবং ওই গ্রহটি থেমে যায়।

খারাপ আর কী হতে পারে, বলো?

যদি কোনো অঘটন ঘটে,

আমাকে কথা দাও, মাঝপথে আমায় টেনে আনবে না।

তক্ষণ না আমি নিশ্চিত হচ্ছি যে সে মারা গেছে।

ঠিক আছে, তাহলে,

তবে তোমাকেও আমায় একটা কথা দিতে হবে।

যদি কপালগুণে বেঁচে যাই, আমরা এই জাহান্নাম ছেড়ে পালাব।

ডক্টর কে এবং তার ফন্দিফিকির ভবিষ্যতের জন্য তুলে রাখা যাক।

রাজি?

চলো এর শেষ দেখে ছাড়ি, বাছা।

- নেবে নাকি? - হ্যাঁ।

শোনো, উম্...

স্কোয়াকে তুমি যা বলেছিলে...

আমি দুঃখিত।

মানে, তোমার কথার জন্য বলছি না, আমার বলাটা ভুল হয়ে গেছে।

অথবা ভুল বলিনি। জেসাস ক্রাইস্ট!

সমস্যা নেই।

না, এটা মোটেও ঠিক নয়।

আমার তোমার পাশে থাকা উচিত ছিল, কিন্তু আমি ছিলাম না।

আসলে আমি নিজেকে নিয়েই এত ব্যস্ত ছিলাম যে সেটা বুঝতেই পারিনি।

নিজেকে একদম আবাল মনে হচ্ছে এখন।

সরি।

তোমার সরি বলার দরকার নেই। আর তুমি একদমই আবাল নও।

আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে...

দীর্ঘ সময় ব্যাপারটা আমার নিজের কাছেও স্পষ্ট ছিল না।

আমার মনে হয় পুরো ব্যাপারটা যেভাবে ঘটার কথা ছিল, সেভাবেই ঘটেছে।

আমাকে নিজের পথটা নিজেকেই খুঁজে নিতে হতো।

কিন্তু আসল কথা হলো, তুমি এখনো এখানে আছো।

আর এখনো আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বটা টিকে আছে।

শুধু বন্ধু? ধুর না!

জানের দোস্ত।

আচ্ছা, চলো।

আমাদের একটা গ্রহকে বাগে আনতে হবে।

ওদের এতো দেরি হচ্ছে কেন?

কে জানে! ৫০০ ফুটের টাওয়ার তো, তাই হয়তো দেরি হচ্ছে।

কোনো বিপদ হলে ওরা ঠিকই সিগন্যাল দেবে।

হ্যাঁ, যদি না ওরা ইতোমধ্যে মরে ভূত হয়ে যায়।

টেনশনে আমার খিদে বেড়ে যায়, তাই আমি ভাবছিলাম…

তোমার কিছু লাগবে?

না।

ওকে।

আসলে, আমি কি একটা…

ভিকি?

ভিকি!

হায় ঈশ্বর।

খোদার কসম, টেনশন কমানোর জন্য জাস্ট এক বাটি খাবারই যথেষ্ট...

অদ্ভুত লাগছে, তাই না?

হ্যালো।

ধন্যবাদ ভাই।

ঠিক আছে।

বলতেই হবে, দৃশ্যটা অসাধারণ।

দুঃখজনক যে আস্ত এই জিনিসটা আমাদের উড়িয়ে দিতে হবে।

হে খোদা!

জিম, তুমি কি শুনতে পাচ্ছ?

হ্যাঁ, শুনতে পাচ্ছি বলো।

একটা ভালো আর একটা খারাপ খবর আছে।

খুশির খবর হলো আমাদের থিওরিটা সঠিক ছিল।

একটি বিশাল গ্রহ আমাদের মাথার ওপর নেমে আসছে।

খারাপ খবর হলো আমাদের থিওরিটা সঠিক ছিল।

একটি বিশাল গ্রহ আমাদের মাথার ওপর নেমে আসছে।

- আমাদের হাতে আর কত সময় আছে? - - সামান্যই।

সুপারগার্লের এখন ওখানে থাকা দরকার।

এল, এবার কিছু একটা করো।

এই তাহলে ভেকনা, যে এখন অ্যাবিসে আছে?

ফিসফিস করে কথা বলার দরকার নেই, কিন্তু হ্যাঁ এটা সে-ই।

আচ্ছা, তাহলে এখানেই একে খতম করছি না কেন?

ওকে তো এখন বেশ দুর্বল লাগছে।

এখানে আমরা ওর কিছু করতে পারবো না।

আমাদের ওর মনের ভেতরে ঢুকতে হবে।

- এটা কি ওর মন না? - না।

- এটা আমার মন। - কী?

দাঁড়াও।

তুমি ঠিক আছো?

বাহ, দারুন তো।

এটা খুব মিস করছিলাম।

হপ।

নরকটা নড়ছে।

- হেনরির বাড়ি আর কতদূর? - অনেক দূর।

- কতটা দূরে? - আমি নিশ্চিত নই।

তুমি না বললে ওর মনের সব খবর জানো?

হ্যাঁ, জানি, তবে এখানে স্মৃতির পাহাড় জমে আছে।

আমরা গোলকধাঁধায় আটকে গেছি, কোনো চেনা পথ নেই।

সব কিছুই যুক্ত, তবে এখানে লম্বা আর ছোট রাস্তা আছে।

- আমাদের একটা ছোট রাস্তা দরকার। - হ্যাঁ, সেটাই তো।

এখন একটু চুপ করবে, আমি ভাবতে চাই।

- জয়েস, এটাই তোমার সেই ফালতু নাটক? - হ্যারিংটন, ওখানে যেন তোমাকে দেখি।

শুক্রবার রাতে? ভুলে যাও।

এসো, একটা বুদ্ধি পেয়েছি।

- জয়েস নাকি ওটা? - হুম।

আর ওই দরজার ওপাশে হপ লুকিয়ে টান দিচ্ছে।

আর ওদিকে মিস্টার হুইলার মিসেস হুইলারের সাথে প্রেম করছে।

হাতে সময় থাকলে এসব দেখতাম, কিন্তু এখন নাটক দেখতে হবে।

তিন, দুই, এক, শুরু!

হ্যাঁ, আমরা পেছন দিক দিয়ে ঘুরে আসবো।

পশ্চিমের ঘরে কেউ নেই।

দক্ষিণ দিকে!

আমরা লোকেশনে পৌঁছেছি। কিন্তু...

না, এটা মিলছে না।

কী বলছো?

দেখো, টাওয়ারের চূড়া ফাটলের সঙ্গে মিলছে না।

শিট।

- অ্যাবিস যদি চূড়াটায় আঘাত করে… - এই টাওয়ারটা ভেঙে পড়বে।

খুব ভালো হলো। জাস্ট দারুণ।

চিফ, এই গ্রহটা থামাতে আমাদের এলকে লাগবে।

- যত তাড়াতাড়ি সম্ভব। - - কত জলদি?

ত্রিশ সেকেন্ডের মধ্যে?

কী করছি আমরা?

- অপেক্ষা করছি। - কিসের জন্য?

তিন। এবার মারতে হবে।

চিফ, ভেতরে খবর কী?

জানি না। কথা বলতে পারছি না। সিগন্যাল দিয়ে দিয়েছি।

কিন্তু এখানে তো কোনো সাড়া নেই,

ওই গ্রহ আমাদের চ্যাপ্টা করে দেবে। আবার নক করো!

- আমাদের যেতে হবে। - এটাই একমাত্র পথ। আমাকে বিশ্বাস করো।

শিট!

সাবধান! সাবধান! সাবধান!

এখনই!

স্টিভ!

স্টিভ!

শক্ত করে ধরো! আমি আছি। ঘাবড়িও না!

আমরা বেঁচে আছি! আমরা বেঁচে আছি!

বাপরে, আমি তো ভেবেছিলাম তুমি কয়লা হয়ে গেছ।

অ্যাবিস থেমে গেছে। এল ওকে ধরেছে। এল ওই হারামজাদাটাকে সাইজ করেছে!

হ্যাঁ! চমৎকার! সাবাস!

তুমি ফিরে এসেছো। আমার জন্য ফিরে এসেছো।

আর কখনও তোমার পাশ ছেড়ে যাচ্ছি না।

আমরা সবাই নিরাপদে বের না হওয়া পর্যন্ত আমি নড়ছি না।

ওই যে ও! এটাই সেই দানব!

- ওঠো বলছি! - আরে না, আমি কোনো দানব নই।

এবং আমি সেটা প্রমাণ করতে পারবো।

সব ক্লিয়ার!

এটা ধরো তো।

- আরে! - অস্থির হয়ো না!

- রেডি? - রেডি?

হ্যাঁ।

ঠিক আছে, সাবধানে। আমি ধরছি তোমাকে।

যা থাকে কপালে, শুরু করি।

অবিশ্বাস্য।

এটা কি আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে মহাকাশচারী বানিয়ে দিল?

অন্য জগতের মহাকাশযাত্রী।

আর্মস্ট্রং, দেখে যাও এবার।

সব শেষ।

ওরা কোথায়?

ম্যাক্সের সাথেই আছে।

নিরাপদে আছে।

ওরা কোথায়?

বললাম তো।

ম্যাক্সের সাথেই আছে।

এখান থেকে বহু দূরে।

বিশ্বাস করতে পারছ না, তাই তো?

যে ওরা তোমার মিথ্যা ধরে ফেলবে।

সে আমাদের দেখতে পাচ্ছে না কেন?

কারণ জাদুর ক্ষমতা শুধু উনার একারই নেই।

এই কারণেই তুমি শিশুদের টার্গেট করো।

কারণ তুমি ভাবো ওদের মন খুব দুর্বল।

কিন্তু তারা তোমার ধারণার চেয়েও অধিক বুদ্ধিমান।

আর তুমি?

তুমি কি বুদ্ধিমান?

তুমি স্বেচ্ছায় ধরা দিয়েছ।

আর এখানে...

আমার যা জানার সব এখান থেকেই জানব।

একি!

ওই তো সে। ও-ই ব্ল্যাক থিং।

হলি যা বলেছিল সবই সত্য। সে আমাদের পৃথিবী ধ্বংস করতে চায়।

কিন্তু তোমাদের ছাড়া ও কিচ্ছু করতে পারবে না।

আমাদের এখনই এখান থেকে পালাতে হবে।

গায়ে বেশ জোর হয়েছে, না?

আমিও কম না।

হলি!

আমি ওর পিছু নিয়ে ওর মনের ভেতরে ঢুকতে পারি।

আমরা দুজনে মিলে আমাদের ভাইকে শেষ করবো।

কাম অন!

চলো!

হ্যালো, ভাই।

তোমাদের কী অবস্থা জানি না,

কিন্তু আমি আরও কিছু আশা করেছিলাম…

- সেই ভয়ানক লতাগুলো? - নাকি দানব-টানব কিছু?

আমার ধারণা ‘হাইভ মাইন্ড’ এখানেও সক্রিয়। তাই হেনরি মারা গেলে,

- তাহলে ওর ওই শয়তান সাঙ্গপাঙ্গগুলোও মরবে। - "যদি" মানে?

ওর মাথায় কী চলছে আমরা জানি না।

আমি জানি এল মায়াজাল ছিন্ন করে অ্যাবিসকে থামিয়েছে,

কিন্তু সে এখনও তার সঙ্গে লড়ছে হতে পারে।

শোনো, সে এর জন্যই নিজেকে প্রস্তুত করেছে।

ও একা না। ওর সাথে কালি আর ম্যাক্স আছে।

হেনরি নির্ঘাত মরেছে। আর না মরলে এবার মরবে।

হুম।

মনোবল অটুট রাখার জন্য সাধুবাদ জানাই।

হ্যালো।

হেই!

ভেবেছিলাম আমি বোধহয় আর বাঁচবো না।

তোমার কাছে ঋণী হয়ে রইলাম।

হুম।

শোনো, আমি তোমাকে পছন্দ করি না,

তার মানে এই নয় যে আমি তোমার মৃত্যু চাই।

আমার মনে হচ্ছে তোমাকে এখানে দরকার হবে।

না না, আমি তোমাকে দোষ দিচ্ছি না।

আমাকে না পছন্দ করাটাই স্বাভাবিক।

জানোই তো, আমি মাঝে মাঝে একটু বেশিই শয়তান হয়ে যাই।

তা ঠিক।

বলতে গেলে, আমিও তাই।

শোনো স্টিভ,

আমি যখন ক্যালিফোর্নিয়ায় ছিলাম,

আমার অনুপস্থিতিতে তুমিই ন্যান্সির খেয়াল রেখেছিলে।

আর আমি ভেবেছিলাম যে এই কারণেই আমাদের মাঝে বনিবনা হচ্ছিল না।

তবে সত্যি বলতে কি

আমাদের সমস্যার জন্য তুমি দায়ী ছিলে না।

এই কথাটা বুঝতেই আমার অনেকটা সময় লেগেছে।

এবং...

তাকে মুক্তি দিতে।

আমরা যদি এই রেষারেষিতে ব্যস্ত না থাকতাম,

তাহলে তোমার এতো সময় নষ্ট হতো না, কারণ...

আমি বেশ আগে থেকেই জানি যে ন্যান্সির সাথে আমার কিছু হবে না।

জানো তো, সে স্বাধীনচেতা। ও পৃথিবী ঘুরতে চায়, আর...

- জানি না। আমি চাই... - ছয়-ছয়টা পুঁচকে বাচ্চার বাবা হতে?

ও তোমাকে বলেছে এই কথা?

চারজন বললে কি বেশি ভালো হতো?

হয়তো তাদের পুঁচকে না ডাকলেই হতো।

একদম।

শোনো, দিনশেষে মোদ্দা কথা হলো, আমি...

ওকে চিরতরে হারানোর চেয়ে বন্ধু হিসেবে পাওয়াও শ্রেয়।

জানোই তো, ও না মেয়ে হিসেবে বড্ড...

- অনন্য। - হ্যাঁ।

যাক, অন্তত একটা বিষয়ে তো আমাদের মিল হলো।

হ্যাঁ, আমারও তাই মনে হয়।

- যদিও আমি এখনো তোমাকে অপছন্দ করি। - আমি অন্য কিছুই প্রত্যাশা করিনি।

এই যে প্রেমিকের দল!

তোমরা এটা দেখতেই চাইবে।

জেসাস ক্রাইস্ট!

এই তো সেই জায়গা।

আমার কল্পনায় আমি ঠিক এটাই দেখেছিলাম।

বাচ্চারা ওখানেই আছে।

তাহলে আমরা কিসের জন্য অপেক্ষা করছি?

ডেরেক? না! ডেরেক, থেমো না।

- আর পারছি না। - ডেরেক, একি পাগলামি! চলো!

আমাকে ছেড়ে দাও! তোমরা পালাও, গাধার দল!

না, বোকামি করো না!

- আমি বোকামি করছি না! - হ্যাঁ করছো! না, তুমি—

- সবাই ঠিক আছো তো? - হ্যাঁ, আমরা ঠিক আছি।

- ওকে পেয়েছ? বলো যে পেয়েছ। - ও জাস্ট ভোজবাজির মতো মিলিয়ে গেল।

সে বাস্তব জগতে ফিরে গেছে।

সে ফিরে আসতে পারে। ফিরে আসবেই।

গুহাটা কত দূর?

বেশি দূর না। চলো।

ডেরেক, আমাদের যেতে হবে। এখনই।

যাও! দৌড় দাও!

ডাস্টিন! লুকাস! কী হচ্ছে ওখানে? কথা বলো!

তুমি তো আগে থেকেই জানতে এমনটা হবে।

যেমন তুমি জানো ওর কী হবে।

জেন, দেখতে পাচ্ছ না?

এটা একটা চক্র। এক ভয়াবহ, নিষ্ঠুর চক্র।

কিন্তু আমরা এটা থামাতে পারি। আজ রাতেই।

কীভাবে?

আমাদের ভাইকে মারার পর, আর বাচ্চাদের বাঁচানোর পর,

আমরা অন্যদের সাথে যাব না। আমরা ব্রিজেই থাকব।

যখন আপসাইড ডাউন বিলীন হয়ে যাবে...

আমরাও বিলীন হয়ে যাব।

এছাড়া আর কোনো পথ নেই, জেন।

একমাত্র পথ।

ও এটা করতে যাচ্ছে, জিম। ও আত্মহত্যা করবে।

সামনে আয়!

হিম্মত থাকলে সামনে আয়, হারামি মিথ্যাবাদী!

আমি যাই হই না কেন, অন্তত মিথ্যাবাদী নই।

আমি ওর মনের ভেতরটা দেখেছি,

আর এখন তোমার মনের ভেতরেও দেখছি।

কত রাগ পুষে রেখেছ তোমার মনে!

তোমার কারণে এক মেয়ে মরেছে, শীঘ্রই আরেকজন মরবে।

সামনে আয় বলছি!

তুমি আসলে তোমার ভয়েরই প্রতিচ্ছবি।

তুমিই সেই অভিশাপ।

না!

সে সিগন্যাল দিচ্ছে কেন?

- এটা সিগন্যাল নয়। - তাহলে এটা কী?

ওহ খোদা।

হলি!

জলদি গুহায় ঢোকো!

ভয় নেই, আমি আছি। হাত ছাড়বে না।

শক্ত করে ধরো!

ধরে রাখো। ধরে রাখো।

কী করেছ?

হ্যালো।

হ্যালো ডক্টর।

বাচ্চারা তাদের হোমওয়ার্ক রেখে গেছে।

- ম্যাক্স! - কী হয়েছে?

সে ভূতের মতো হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে গেল!

এটা কি ব্ল্যাক থিং ছিল? ব্ল্যাক থিং কি তাদের নিয়ে গেছে?

সবাই শোনো!

আমরা প্ল্যান মতোই চলবো। গুহায় চলো। ওখানে ব্ল্যাক থিং আমাদের কিছু করতে পারবে না।

আমাকে ফলো করো, একদম চুপচাপ থাকবে আর সাথে থাকবে।

- চলো! জলদি। - চলো সবাই।

জলদি পা চালাও!

বাচ্চারা ওখানে একা। আমাদের ওদের কাছে নিয়ে চলো।

পারছি না, ওই বাথ ছাড়া সম্ভব না। ও আমাদের লক করে দিয়েছে।

আমাদের অ্যাবিসে গিয়ে অন্যদের সাথে যোগ দিতে হবে। ওখানেই তাকে মারা যাবে।

সময় ফুরিয়ে আসছে। আমরা পৌঁছানোর আগেই সব তছনছ হয়ে যাবে।

যদি হলি আর বাচ্চারা গুহায় পৌঁছাতে পারে, তবে এটা হবে না।

ডাস্টিনের কথা ঠিক হলে, বাচ্চাদের ছাড়া হেনরি অচল।

পুরোটাই তো 'যদি'র ওপর।

তুমি কী করবে?

আমরা হাল ছাড়তে পারি না, অন্তত এখন নয়।

তুমি কি এখন সেটাই করছো না? হাল ছেড়ে দিচ্ছ।

আমি সত্যিটা জানি।

হেনরি আমাকে তোমার প্ল্যানটা দেখিয়েছে।

হেনরি তোমাকে মিথ্যা বলেছে।

ও তোমাকে ধোঁকা দিয়েছে।।

সে তোমাকে ব্যবহার করেছে এবং তুমি তার জালে ধরা পড়েছ।

তাহলে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলো।

বলো।

বলো যে আজ রাতে তুমি মরার প্ল্যান করছো না।

এখন এসব আলোচনার সময় না। চলো যাই।

আমি বিস্ফোরণ ঘটাবো না।

- আমি করবো না। - কী?

আমি সি-ফোর ব্লাস্ট করবো না,

যতক্ষণ না আমি নিশ্চিত হচ্ছি যে তুমি অন্যদের সাথে হকিন্সে নিরাপদে আছো।

হেনরিকে মারার পর আপসাইড ডাউন না ওড়ালে সব বিফলে যাবে।

আমি এটা ধ্বংস করব, যতক্ষণ না নিশ্চিত হচ্ছি যে তুমি নিরাপদে আছ।

কেন এমন করছো তুমি?

কারণ হেনরি ওর মাথা খেয়েছে আর ও পাগল হয়ে গেছে।

- কালি, দাঁড়াও। - না জেন, এটা ওর একার বিষয় নয়।

- আমাদের সবার চেয়েও বড় ব্যাপার। - হ্যাঁ, মারো। মারো আমায়।

আমি বেঁচে থাকলে হেনরিও বেঁচে থাকবে।

আমাকে এই চক্র শেষ করতে হবে।

তুমি তা পারবে। অবশ্যই পারবে। কিন্তু এভাবে না।

আরও সহিংসতা বা যন্ত্রণার মাধ্যমে নয়।

ইতিমধ্যেই অনেক কষ্ট পেয়েছ..

তোমার জন্মের পর থেকেই।

তোমার মাকে ওরা কেড়ে নিয়েছে। তোমার শৈশবটাও কেড়ে নিয়েছে ওরা।

তোমাকে আঘাত করা হয়েছে, ব্যবহার করা হয়েছে আর কষ্ট দেওয়া হয়েছে—

পিশাচগুলোর হাতে পড়েছিলে তুমি।

জীবন তোমার প্রতি বড্ড অবিচার করেছে,

বড্ড নির্মম ছিল সব।

তবু তুমি কখনো ভেঙে পড়োনি।

আর এখন তোমাকে লড়তেই হবে, বাছা।

শেষবারের মতো একটা লড়াই চাই আমি।

সামনের ভালো দিনগুলোর জন্য যুদ্ধ করো।

লড়ো শুধু...

হকিন্সের বাইরের ওই সুন্দর পৃথিবীর জন্য।

লড়াই করো সেই ভবিষ্যতের জন্য, যখন তোমার কোলজুড়ে সন্তান আসবে,

আর তুমি তাকে সেই জীবন উপহার দেবে যা তুমি পাওনি।

সেই দিনের কথা ভাবো যখন ও কোনো ছেলেকে বাড়িতে ডাকলে তুমি রেগে যাবে,

আর সে দরজা তিন ইঞ্চি খোলা রাখবে না।

আমি জানি।

আমি জানি এসব তোমার কাছে রূপকথার মতো লাগছে।

তবে আমি তোমায় কথা দিচ্ছি—

আমরা এটাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার উপায় বের করব।

তুমি এটাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার উপায় বের করবে।

কারণ এছাড়া তোমার কোনো উপায় নেই।

কারণ এটা তোমার প্রাপ্য।

জিম!

জিম! তুমি কি শুনতে পাচ্ছ, জিম?

আমি উৎকণ্ঠা বাড়াতে চাই না, তবে মেহমান হাজির হয়েছে।

চলো! আর একটু! চলো চলো!

এই ফাঁকটা দিয়ে ঢোকো! একে একে এসো সবাই!

চলো! চলো! চলো!

ডেবি, দাঁড়াও!

ডেরেককে দেখেছ?

- ডেরেক! - দাঁড়াও! হলি!

- ডেরেক! - হলি!

জলদি এসো! আমরা পারব! সময় নেই, জলদি করো!

থামবে না, দৌড়াও! ডেরেক জলদি আসো!

দৌড়াও! চলো ডেরেক! চলো!

চলো!

হলি!

পালাও!

- আয়, আমার বাড়া চোষ! - কাম অন!

হলি!

- ঠিক আছো তো? - আমরা ঠিক আছি।

ওটা কি হেনরি ছিল?

হ্যাঁ, কিন্তু সে আমাদের ধরতে পারবে না। এখানে আমরা নিরাপদ।

- যাক। - আমরা বেঁচে গেছি।

- তুমি আমার দিকে ওভাবে তাকিয়ে আছো কেন? - কই, না তো!

আমরা খুব কাছে চলে এসেছি। আর জানি না ভেতরে কী আছে,

তাই আমার মনে হয় তোমার কিছু অস্ত্র আমাকে শেয়ার করা উচিত।

তোমার কাছে তো অস্ত্র আছেই।

এই তিনটা ককটেল? ফাজলামি করো না তো!

আমার মৃত্যুর অপরাধবোধ নিয়ে বেঁচে থাকতে যদি আমার সমস্যা না থাকে,

তবে আমার একটা বন্দুক লাগবেই!

ওরে বাবা!

ধন্যবাদ!

ওগুলো সিগন্যাল ফ্লেয়ার।

কী?

ফ্লেয়ার। সে তোমাকে ফ্লেয়ার গান দিয়েছে, ভাই।

কী?

ফ্লেয়ার গান?

ন্যান্সি! ন্যান্সি, এটা কী? তুমি কি সিরিয়াস?

এটাকে কি তোমার কাছে তামাশা মনে হচ্ছে?

এই ফ্লেয়ার গান দিয়ে আমি কী উদ্ধার করবো?

এই উইল!

- উইল! - উইল!

এই! কী হয়েছে? কোনো সমস্যা?

এটা হেনরি।

ও বেঁচে আছে।

প্রতিহত করো।

আমাকে খুঁজে পেলে কীভাবে?

ওরা তোমাকে পাঠিয়েছে।

প্রতিহত করো।

উইল!

কী ছিল ওটা?

হলি?

এখানে থাকো।

কী হচ্ছে? তুমি কী দেখছ?

এটা হেনরি। ও গুহার ভেতর ঢুকে পড়েছে।

ও আসছে! পালাও! চলো! উপরে এসো সবাই! জলদি! পালাও সব!

জলদি করো! চলো চলো! যাও!

ও ওদের পেয়ে গেছে। ও হলি আর বাচ্চাদের খুঁজে পেয়েছে।

আচ্ছা, এল কোথায়?

তুমি কি এল, কালি বা ম্যাক্সকে দেখতে পাচ্ছো?

ওরা একা। ওরা সবাই একা।

- যাও! দ্রুত! - কাম অন, গায়েস!

তুমি কি তাকে থামাতে পারবে? তোমার শক্তি দিয়ে?

আমি চেষ্টা করতে পারি। তোমরা এগোতে থাকো।

যাও! যাও!

চলো! চলো! চলো!

চলো! চলো!

হে ঈশ্বর।

জলদি করো! চলো!

জলদি! এই যে এই ফোকরটা দিয়ে!

জশুয়া, নিচে যাও! সাবধান থেকো। থামবে না! থমাস, এবার তোমার পালা!

জিম, তুমি কি শুনতে পাচ্ছ?

জিম, শুনতে পাচ্ছো?

ধুর ছাই!

কালি।

বাহ, বাহ। দেখুন এখানে আমরা কাকে পেয়েছি।

তোমার বন্ধুরা তোমাকে এখানে ফেলে চলে গেছে, তাই না?

কাজটা তো একদম ভালো হলো না, কী মনে হয়?

হুম।

ওকে এখান থেকে বের করো।

হেই, হেই!

আমি আছি, ভয় নেই।

আমি আছি তোমার পাশে।

শোনো, এখানে যা দেখবে সব মায়া, কিচ্ছু সত্যি না।

এগুলো তোমার কিছু করবে না। শুধু আমার দিকে তাকিয়ে থাকো।

- ঠিক আছে। - ঠিক আছে।

চলো এবার।

থামবে না। একদম গা ঘেঁষে চলো।

চোখ সরিও না, আমার দিকে তাকাও।

হাঁটতে থাকো।

ওরে মোর খোদা!

ডেরেক, আমার দিকে তাকাও!

এদিক দিয়ে যাও। ওপাশে গিয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করো।

ডেবি, তুমি আগে যাও।

থমাস, এবার তোমার পালা।

- চলো সবাই। জলদি করো! - চলো!

- চলো! আমরা পারবো। - গ্লেন, জলদি করো।

যাও!

অন্যজন কোথায় বলো, নাহলে একে এখনই মেরে ফেলব।

কী বলছ ছাইপাশ জানি না। আমরা ছাড়া কেউ নেই এখানে।

আমি কি এখানে রসিকতা করছি? মেয়েটা কোথায় বল!

আচ্ছা। মারে, কী করছো? এটা কোনো ভালো বুদ্ধি না।

এ তো পাগলামি।

আচ্ছা। দেখা যাক কী কপালে আছে।

শেষবারের মতো বলছি।

সে কোথায়?

জাহান্নামে যা।

তবে তাই হোক।

কালি।

না না না!

কালি। কালি।

- ব্যান্ডেজ নিয়ে এসো। - ক্ষতের উপর চাপ দাও।

কালি, আমার দিকে তাকাও। আমার দিকে তাকাও।

ধৈর্য ধরো। আমি আছি। সব ঠিক হয়ে যাবে।

আমার সময় শেষ।

না, এমন কথা বলো না। তুমি বেঁচে থাকবে, ঠিক আছে?

জেন, কেঁদো না।

আমার গল্পটা...

সবসময়ই এখানেই শেষ হওয়ার ছিল।

না।

না, না।

হলি।

হলি?

আমাকে খুঁজে পেলে কীভাবে?

প্লিজ।

দয়া করে গুলি করবেন না।

তুমি কে?

হেনরি। হেনরি ক্রিল। আমি কাছেই থাকি।

কে পাঠিয়েছে তোমাকে?

আমাকে কেউ পাঠায়নি। আমি গুহায় ছিলাম। চিৎকার শুনলাম।

ওরাই তোমাকে পাঠিয়েছে। ওরাই পাঠিয়েছে!

আপনি ভুল করছেন। আপনার ডাক্তার দেখানো দরকার।

হচ্ছেটা কী এখানে?

ও এখন পুরনো স্মৃতির ভেতর আছে।

আর ও বড্ড ভয় পাচ্ছে।

ও খুব বেশি ভয় পাচ্ছে।

হে ঈশ্বর। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। ঈশ্বরকে অশেষ ধন্যবাদ।

এক মুহূর্তের জন্য ভেবেছিলাম তোমরা দুজন আর নেই।

ওহ, কী বললে?

এই বিশালদেহী মানুষটিকে কেউ জড়িয়ে ধরবে না?

এটা বললে কেমন হয়, "হিউই ধ্বংস করার জন্য ধন্যবাদ, মারে।"

"বড্ড সাহসের কাজ ছিল ওটা, আর..."

কী হয়েছে?

দাঁড়াও।

কালি। কালি কোথায়?

হায় ঈশ্বর।

এল, আমি...

আমি অত্যন্ত দুঃখিত।

আমি লাফ দিতে পারি।

আমি ওই পাথরগুলো টপকে অ্যাবিসে যেতে পারবো।

আমি ঠিক ওই গাছের কাছে থাকবো। এটা শর্টকাট।

হেনরি এখনো সেখানে অবস্থান করছে।

- যদি পড়ে যাও... - পড়বো না।

যদি তুমি সফল হও...

আমি ওকে খতম করবো।

আচ্ছা?

তারপর কী করবে?

মনে আছে, আমি যখন বাচ্চা ছিলাম আর তুমি আমায় ওই জঙ্গল থেকে কুড়িয়ে আনলে...

আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম।

মারাত্মক ভয় পাচ্ছিলাম।

আমি এই জগত সম্পর্কে অজ্ঞাত ছিলাম।

মানুষজনকেও আমি চিনতাম না।

তুমি আমাকে আশ্রয় দিয়েছ।

আমাকে লালন-পালন করেছ।

আগলে রেখেছ সব বিপদ থেকে।

হুম।

তুমি আমার বাবা হয়েছিলে।

কিন্তু আমি আর বাচ্চা নেই।

আর আমি সারাও নই।

তার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ ছিল না।

কিন্তু আমার আছে।

আর আমার তোমাকে প্রয়োজন—

আমার উপর ভরসা করতে যাতে আমি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি।

আমি চাই তুমি আমার প্রতি বিশ্বাস রাখো।

আমায় খুঁজে নিও।

তোমাকে অবশ্যই এটা প্রতিহত করতে হবে।

এটা তোমাকে গ্রাস করবে।

এটা সব ছারখার করে দেবে।

এটা তোমার দোষ ছিল না।

দোষটা কখনোই তোমার ছিল না।

আমাকে একা থাকতে দাও।

এই জন্যই মাইন্ড ফ্লেয়ার তোমায় গুহায় ঢুকতে দিতে চায়নি।

ও ভয় পাচ্ছিল যদি তোমার সব মনে পড়ে যায়।

বললাম তো আমাকে একা থাকতে দাও।

তুমি স্রেফ একটা বাচ্চা ছিলে, একদম আমার মতো।

আর ও তোমায় স্রেফ দাবার ঘুঁটি বানিয়েছিল।

ও তোমাকে ব্যবহার করে এখানে এসেছে।

হেনরি, তুমি ঠিক আমার মতোই।

একটি মাধ্যম।

কিন্তু তুমি একে প্রতিহত করতে পারো। এর বিরুদ্ধে লড়তে আমাদের সাহায্য করো।

হেনরি, হার মানবে না। প্লিজ ওকে জিততে দিও না।

না।

ও আমাকে সত্যিটা দেখিয়েছে।

সে আমাকে দেখিয়েছে যে এই পৃথিবীটা ত্রুটিপূর্ণ।

মানুষটা ভেঙে পড়েছে।

ওর কথা শুনো না, হেনরি। এখন ও তোমাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

সে কখনোই আমাকে নিয়ন্ত্রণ করেনি।

এবং আমিও কখনোই তাকে নিয়ন্ত্রণ করিনি।

উইলিয়াম, তুমি কি বুঝতে পারছ না?

আমি চাইলেই তাকে প্রতিহত করতে পারতাম।

কিন্তু আমি বেছে নিয়েছি—

এর সাথে যোগ দেওয়ার।

ওহ মাই গড!

ওর... আমাকে লাগবে।

আর আমারও ওকে লাগবে।

আমরা...

এখন...

অবিচ্ছেদ্য।

পালাও!

পালাও! পালাও! পালাও!

ডাস্টিন!

- চলো! চলো! - চলো যাই!

চলো!

শিট!

চলো, পালাও!

দৌড় দাও! জলদি!

- সে তাকে আঘাত করছে। - কীভাবে?

সে ভেকনার সাথে লড়াই করছে।

হাইভ মাইন্ড।

তাহলে...

তুমি কি আসলেও মরতে চাও?

- আমাদের ওকে সাহায্য করতে হবে। - কীভাবে?

হাইভ মাইন্ড দুভাবেই কাজ করে। মাইন্ড ফ্লেয়ারকে মারলে ভেকনাও আঘাত পাবে।

কী, ওই পাহাড় সমান গডজিলাটাকে মারব?

ওই পাহাড়ের মতো জিনিসটাকে মারতে হলে চারদিকে ছড়িয়ে যেতে হবে।

সব দিক থেকে ঘিরে ধরো। ওর হিট পয়েন্ট লক্ষ্য করে আঘাত হানতে হবে।

“হিট পয়েন্ট” বলতে তুমি কী বোঝাচ্ছ?

ওই তো দেখা যাচ্ছে।

একজন ওটাকে খাদের দিকে টেনে আনবে, আর বাকিরা পাহাড়ের ওপর ওত পেতে থাকবে।

ওপর থেকে অতর্কিত হামলা করতে হবে।

শুধু একটা কথা জানার আছে।

আমাদের মধ্যে কে টোপ হবে?

আমি হবো।

যাও!

কাম অন!

না!

না না!

হাত পা বাঁধা আমাদের, কিচ্ছু করার নেই! চলো এখন!

বুম!

সাবধান! সাবধান!

- এডির জন্য এটা, হারামজাদা! - এডির জন্য!

আমি আর ভয় পাই না।

আমরা এখন আর...

ডরাই না...

তোকে।

ইয়েস!

পালাতে হবে!

ভাগো জলদি! সব গেল!

এল!

সবাই ঠিক আছে তো?

হলি।

হলি? তুমি কি শুনতে পাচ্ছ?

হলি? হলি, সাড়া দাও। কাম অন!

ন্যান্সি?

হ্যাঁ। হ্যাঁ, আমি। আমি এখানেই আছি।

আমি আছি এখানে।

হলি?

হেই!

হেই!

ঠিক আছে, যা আছে সব উগড়ে দাও। তুমি পারবে। তুমি ঠিক হয়ে যাবে।

আমি... আমি কোথায়?

তুমি নিরাপদ। তুমি নিরাপদ, ঠিক আছে? আমরা তোমাকে বাড়ি নিয়ে যেতে এসেছি।

হ্যাঁ। ওহ!

আমি আছি। ভয় পেও না।

প্লিজ ফিরে এসো আমার কাছে!

না!

তুই ভুল পরিবারের সঙ্গে ঝামেলা করেছিস।

মা, তুমি ওকে মেরে ফেলছো!

বাঁচাও!

তুমি এখন বাড়ি চলে যাও না কেন?

এবার আমি লেজ গুটিয়ে পালাইনি।

এডি!

তোমায় অনেক ভালোবাসি বন্ধু।

বিদায়, মাইক।

এল! এল, তুমি কোথায়?

ও আমাকে এমন বানায়নি।

তুমিই করেছো।

উইল, ওঠো!

চলে যাও!

আমি চাই এসব থামুক।

- চিফ, শুনতে পাচ্ছো? - হ্যাঁ পাচ্ছি। কী অবস্থা ওখানে?

ওই নাক-বোঁচা হারামিটা শেষ।

আমরা আপসাইড ডাউনে ফিরেছি আর বাচ্চারা আমাদের সাথেই আছে।

সবাই কেমন আছে? কারো কোনো চোট লাগেনি তো?

সবাই খুব ধকল সয়েছে, তবে আমরা ঠিক আছি।

এলের কী অবস্থা?

সবাই ঠিক আছি।

তো মুরুব্বি, গানটা কি এখন বাজাবে?

আপসাইড ডাউন চিরতরে উড়িয়ে দাও।

চলো এই জাহান্নাম থেকে পালাই।

হ্যাঁ, বুঝেছি।

রেডি হও। কাউন্টডাউন শুরু।

এই থামো! সব আমার গায়ে পড়ছে!

আরে, আমিও নোংরা হয়ে গেছি।

বড্ড বিচ্ছিরি গন্ধ।

একা এখানে আমায় ফেলে রাখলে কেমন করে

এই পাথুরে দুনিয়ায় একলা করে দিলে?

বড্ড ঠান্ডা এই দুনিয়া

হয়তো আমার চাওয়াই বেশি

হয়তো বাবার মতোই বেশি জেদি আমি

হয়তো তুমি ঠিক মায়ের মতোই হয়েছ

যে কোনো কিছুতেই খুশি নয়

কেন আমরা সারাক্ষণ চেঁচামেচি করি?

কী করছো এসব? আরও নোংরা ভেতরে আসবে তো।

এটা না করলে দম বন্ধ হয়ে মরে যাবো।

কারণ তোমার গা থেকে...

কিসের গন্ধ জানি না, তবে সহ্য করার মতো না।

হতভাগার দল।

বেশ ভালো।

এই তো বাড়ি ফিরে এলাম অবশেষে।

তো, জিম্বো, জিজ্ঞেস করতেই হয়। কেমন লাগছে?

মনে হচ্ছে একটা জম্পেশ ঘুম আর একটা সিগারেট দরকার।

- ভেবেছিলাম তুমি সিগারেট ছেড়ে দিয়েছো। - হ্যাঁ।

সেই জন্যই তো খেতে বেশি মজা লাগবে।

সাবধান!

সবাই ঠিক আছে?

সবাই হাত ওপরে তোলো!

হাত তোলো বলছি!

- নড়ো না! - আরে! হাত ছাড়ো আমার!

মাথা নিচু করো! হাত ওপরে তোলো!

- হাত তোলো বলছি! - আরে বাহ!

ঠিক আছে, ঠিক আছে।

না না! ওটা আমার বোন! ছাড়ো আমাকে!

হ্যাঁ হ্যাঁ!

চলো! জলদি!

- ডাস্টিন! - হলি, কী হচ্ছে এসব?

সবাই ওঠো! সবাই ওঠো!

এল? তোমরা কি এল-কে দেখতে পাচ্ছ?

সার্জেন্ট! মেয়েটি কোথায়?

এই তো এক সেকেন্ড আগেও সে এখানেই ছিল।

ও নির্ঘাত পালিয়েছে।

হে ঈশ্বর।

- মাইক... - ছাড়ো আমাকে! ছাড়ো!

তুমি...

তোমাকে ওখান থেকে বের হতে হবে! বেরিয়ে এসো!

আমি এখানে থাকলে এসব কখনো শেষ হবে না।

না না। আমরা একটা পথ বের করবো। আমরা লড়বো, যেমন সবসময় লড়ি।

তোমায় অন্যদের সাথে কথা বলতে হবে।

- না না। - ওদের আমার হয়ে ধন্যবাদ জানিও।

আমার প্রতি এতটা সদয় থাকার জন্য।

আর বন্ধুত্বের মানে শেখানোর জন্য।

না! প্লিজ এমন করো না।

মাইক, তুমি ওদের আমার সিদ্ধান্তটা বুঝিয়ে দিও।

কিন্তু আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।

আমি জানি।

কিন্তু তুমি ভবিষ্যতে বুঝবে।

কোনো একদিন সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।

তুমি আমাকে বোঝো।

অন্য সবার চেয়ে ভালোভাবে।

তুমি সবসময়ই আমাকে বুঝেছ।

যেদিন প্রথম দেখা হলো আমাদের...

...তুমি আমাকে দেখেছ।

শোনো, আমার নাম মাইক। মাইকেলের সংক্ষিপ্ত রূপ।

তাহলে হয়তো তোমাকে এল বলে ডাকতে পারি। ইলেভেনের সংক্ষিপ্ত রূপ।

আমার আসল পরিচয়কে।

আমি তোমাকে কোনোদিন দুঃখ দিতে চাইনি

আমি তোমাকে কোনোদিন কষ্ট দিতে চাইনি

আমি শুধু একবার তোমাকে হাসতে দেখতে চেয়েছিলাম

আমি তোমাকে ভালোবাসি।

তুমি যেমন, আমি তোমাকেই সেভাবেই ভালোবাসি।

চেয়েছিলাম ওই বেগুনি বৃষ্টিতে তুমি হাসিমুখে ভিজবে

এল, প্লিজ আমাকে ছেড়ে যেও না।

প্লিজ এমন করো না।

আমি সবসময় তোমার পাশে থাকব।

তোমাকে ভালোবাসি।

বেগুনি বৃষ্টি, বেগুনি বৃষ্টি

বিদায় মাইক।

বেগুনি বৃষ্টি

এল! এল! এল! এল! এল!

- এল! - মাইক!

- এই, ওকে ছোঁবেন না! - মাইক!

ছাড়ো আমাকে! ছাড়ো বলছি!

এল! এল! এল!

এল!

এল, না!

ইলেভেন!

এল!

এল! এল!

না!

এল!

এল! এল!

- দেখবে নাকি? - হ্যাঁ।

হ্যালো অচেনা বন্ধুরা। অনেক দিন পর দেখা।

আমি ভাবছি... আসলে...

তোমরা কি... আমাকে মনে রেখেছো?

ঠিক আছে, হয়তো আমি বেশি বিনয় দেখাচ্ছি। সত্যি বলতে,

ডেবরা উইঙ্গারের মতো এই মিষ্টি গলার স্বর কেউ ভুলতে পারে?

ঠিক ধরেছ। আমিই সেই রবিন বাকলি, যাকে তোমরা রকিং রবিন নামে চেনো।

জিমি ভাই দয়া করে আমাকে আবার মাইক্রোফোনের সামনে বসার সুযোগ করে দিলেন

গেস্ট হিসেবে দু-চার কথা বলার জন্য,

কিন্তু আমাকে একটু সময় দাও, আমি সব ভুলে গেছি।

মানে, কী নিয়ে যে কথা বলবো? বুঝতে পারছি না।

আমার প্রিয় বিষয়গুলো এখন সেকেলে হয়ে পড়েছে, ঠিক আমার বন্ধুর চুলের ছাঁটের মতো।

এখন তো আর কোনো বন্দুকধারী সৈন্য নেই,

নেই কোনো কাঁটাতারের বেড়া,

কোনো নজরদারি ক্যামেরা নেই,

আর বিগ ম্যাক বলতে কেবল ওই মিকি ডি'স-এর বার্গারটাই টিকে আছে।

সবাই এখন বেশ হাসিখুশি, ঘুরে বেড়াচ্ছে, সিনেমা দেখছে।

কিন্তু ইন্ডিয়ানার নতুন অভিযান কে না দেখতে চায়?

ধ্যাত তেরিকা! ইয়ে...

এই তো হয়েছে।

দুঃখিত। আমার পার্টনার আমাকে ছেড়ে চলে গেছে।

তবে ওকে দোষ দেওয়া যায় না,

ওর কাছে জুতসই একটা কারণ ছিল।

চলো জোয়ানরা! বেসবলের জন্য তৈরি তো?

- এখন... - খেলায় কোনো গাফিলতি চলবে না!

…কথাটা বলতে গিয়ে কেমন জানি কু ডাকছে মনে,

আর অমঙ্গল কাটাতে কাঠে টোকা দিচ্ছি,

তবে আমার মনে হয় হকিন্সের অভিশাপ অবশেষে ঘুচেছে।

ঠিক আছে থমাস। চলো এবার, কোমর বেঁধে নামো!

কিন্তু সেই সাথে...

…এটা আমার চেনা হকিন্স না।

সবকিছু কেমন জানি অচেনা লাগছে।

তবে হয়তো শহরটা একই আছে।

সম্ভবত বদলে গেছি আমি নিজেই।

আমরা সবাই বোধহয় কিছুটা পাল্টে গেছি।

অন্তত আমার বন্ধুদের দেখলে তো তাই মনে হয়।

যারা আজ কলেজ থেকে পাস করে বেরোচ্ছে।

ঠিক ধরেছ, হকিন্স হাই স্কুলের ৮৯ ব্যাচ আজ সমাবর্তনে অংশ নিচ্ছে।

আশা করি তোমরা সবাই ওদের পাশে থাকবে। আমি তো থাকবোই।

কারণ ওরা একরাশ হাততালি পাওয়ার যোগ্য।

তাই ওদের আনন্দটা শুরু করতে একটা জম্পেশ গান শোনানো যাক।

যদি তুমি পুনরায় হাড় ভাঙো, তবে আমি আর নেই।

কারণ হাসপাতালে যেতে যেতে আমার জীবন তিতা হয়ে গেছে।

হয়তো আমার একাই থাকা দরকার।

মানে বলছি যে...

এখানে কী চলছে?

কী বলছ? আজই তো আমাদের সমাবর্তন।

দুই ঘণ্টা বাকি। তুমি একটু বেশিই তাড়াহুড়ো করছো।

হুম।

এবার কিন্তু তুমি আসলেই বড্ড বেশি বাড়াবাড়ি করছ।

কিছু মনে করো না, তোমাকে না এখন মারাত্মক হট লাগছে।

আর তোমাকে আস্ত একটা গাধার মতো লাগছে।

এই যে তোমার স্বপ্নের রাজকুমার আসছে

এই যে তোমার হিরো আসছে

ধুর, এসব দেখলে গা গুলিয়ে ওঠে।

এই যে তোমার স্বপ্নের রাজকুমার আসছে

ছবিটা তুলবে নাকি?

এখনই? প্লিজ তোলো না?

মা, অত ভেবো না তো।

- আমি তো মাত্র এক দিনের পথের দূরত্বে থাকবো। - জানি।

সুযোগ পেলেই আমি দৌড়ে বাড়ি চলে আসব।

আচ্ছা।

আমি তোমায় এতো ফোন করে জ্বালাব যে তুমি নম্বরই বদলে ফেলবে।

- ঠিক আছে। - ঠিক আছে?

ঠিক আছে।

- আমি তোমাকে ভালোবাসি। - আমিও তোমাকে ভালোবাসি।

আরও কয়েকটা ছবি তুলবে?

- হ্যাঁ। - বেশ।

উম, কতো সুন্দর লাগছে। আমার মেধাবী ছেলে।

সুপারম্যান!

- রেডি, শুরু করলাম। - সমাবর্তনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

অভিনন্দন গ্র্যাজুয়েটদের।

- দারুন! - ৮৯ ব্যাচ রকস!

হ্যাঁ।

ধুর। দাঁড়াও। না না।

- ওহ খোদা। না। - ওকে ওটা আবার সেট করতে দাও।

- বিছানার চাদরটা থাকুক। - না, না, না।

আলো বেশি হয়ে গেছে। একটু ছায়া দরকার।

- এটা 'দ্য গডফাদার' সিনেমা না। - আমি জানি এটা নয়।

- ওকে ওটা টাঙাতে দাও। - তুমি আর একবার ট্রাই করতে পারবে।

এই আর্টিস্টের জন্য সারাদিন শেষ...

- হ্যালো? - জয়েস। আমি ক্যারেন। মাইককে দেখেছো?

না তো, দেখিনি ওকে।

কাল রাত থেকে ওর কোনো পাত্তা নেই।

ক্যারেন। ও মাইককে খুঁজে পাচ্ছে না।

এল! এল!

এল!

এই যে বাছা।

জানতাম তোমায় এখানেই পাবো।

তোমার মা খুব টেনশন করছে।

ওনাকে দোষ দেওয়া যায় না। মানে...

তোমার মনে আছে কি না জানি না, কিন্তু আমাদের একটা ইতিহাস আছে

এই শহরে মাঝেমধ্যেই বাচ্চারা নিখোঁজ হয়ে যায়।

সে বুঝবে না।

কেন আমি এটা করতে পারছি না, কেন আমি স্টেজে উঠতে পারছি না সেটা ও কখনো বুঝবে না।

এটা তো মিথ্যা বলা হবে।

যেন আমি সব ভুলে এগিয়ে যেতে রাজি।

আসলে আমি তা নই।

আমি এটা মেনে নিতে পারছি না।

আমার একটা প্ল্যান ছিল।

আমি আর এল অনেক দূরে কোথাও চলে যাবো,

যেখানে কেউ আমাদের নাগাল পেত না।

আমি তিনটা ঝর্ণা আছে এমন কোথাও যাওয়ার কথা বলেছিলাম।

সে আমার কথা বিশ্বাস করেছিল কি না জানি না।

কে করবে? তিনটা জলপ্রপাত? এটা খুব বোকামি আর ছেলেমানুষি।

ওটা ছিল স্রেফ কল্পনা। আমার কোনো বাস্তব পরিকল্পনা থাকা উচিত ছিল।

আমি শুধু...

আমি ভাবিনি যে ও হুট করে...

এই শোনো। এটা...

এটা তোমার... তোমার কোনো দোষ না।

যা হয়েছে তার জন্য নিজেকে দোষ দিও না।

এল ওর নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিয়েছে।

এবার তোমার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়।

আমি দেখতে পাচ্ছি, তোমার সামনে এখন দুটো পথ খোলা।

প্রথম পথটা হলো—

যেখানে তুমি সবকিছুর জন্য নিজেকে দোষ দেবে।

মাথার ভেতর একই কথা ঘুরতে থাকবে, আর কী কী করা যেত।

সবাইকে দূরে ঠেলে দিয়ে কষ্ট পাবে কারণ তুমি ভাবছো তোমার এটাই প্রাপ্য।

আবার অন্য একটা পথও আছে...

যেখানে তুমি সত্যকে মেনে নিতে শিখবে।

তার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার একটা পথ খুঁজে নাও।

তার মানে এই না যে ওটা তোমায় হাসিমুখে মেনে নিতে হবে।

আর ওসব নিয়ে সারাক্ষণ ভেবেও কাজ নেই।

তুমি শুধু মেনে নাও।

আর নিজের মতো করে ভালো একটা জীবন কাটাও।

ওই প্রথম পথে আমি আগেও একবার হেঁটেছি।

এবং আমি সেটা সুপারিশ করি না।

আর এলের কথা যদি বলি…

সে তোমার কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করত, তুমি জানো।

– আমি নিশ্চিত নই। আমি? – হ্যাঁ।

- কোনোদিন যাইনি। - আমিও না। তবে মনে হয় ওটা ওর ভালো লাগত।

শুভ অপরাহ্ণ সবাইকে,

'৮৯ ব্যাচের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম।

মা! মা!

মাইক।

সরি মা। আমি ঘাবড়ে গিয়েছিলাম।

তোমাকে কোনো কৈফিয়ত দিতে হবে না।

বাহ! নিজেকে একবার দেখো তো।

কত বড় হয়ে গেছ তুমি।

আমি তোমাকে নিয়ে খুব গর্ব করি।

আমি সত্যিই অনেক গর্বিত।

তোমাকে ভালোবাসি মা।

তোমাকেও খুব ভালোবাসি রে বাবা।

এবার অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে আমি পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি

যে এই প্রতিষ্ঠানে থাকাকালীন অসামান্য মেধার পরিচয় দিয়েছে।

ভদ্রমহিলা ও ভদ্রমহোদয়গণ, মঞ্চে আসছে ডাস্টিন হেন্ডারসন, সবাই জোরে হাততালি দিন।

সাবাস দোস্ত!

ডাস্টিন!

ও তো আমার বন্ধু!

আমি শুধু একটা স্বাভাবিক শৈশব চেয়েছিলাম।

কিন্তু সেই শৈশব আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সেটা আমাদের সবার কাছ থেকেই কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

আর গত এক বছরে, সত্যি বলতে গেলে,

আমি ভেতরে ভেতরে ভীষণ রেগে ছিলাম এটা নিয়ে।

ভাষা সামলাও।

তবে আমি যখন বিগত ছয় বছরের স্মৃতি রোমন্থন করলাম,

তখন উপলব্ধি করলাম, খারাপ অনেক কিছু থাকলেও,

ভালো স্মৃতিও কিন্তু কম ছিল না।

একটা গেম আছে যেটা আমি খেলতে পছন্দ করি।

সেটার নাম হলো ডানজন্স অ্যান্ড ড্রাগনস।

- ঠিক! - জেসাস ক্রাইস্ট!

এই খেলায় বিশৃঙ্খলার দুটি ধরন রয়েছে,

একটা ভালো অশান্তি আর একটা খারাপ অশান্তি।

বিশৃঙ্খল ভালো এবং বিশৃঙ্খল পাপ।

মন্দ বিশৃঙ্খলা আনে নৈরাজ্য, ধ্বংস আর যুদ্ধ।

নতুনত্ব।

আর এই স্কুলের,

সত্যি বলতে, পরিবর্তনের দরকার ছিল।

আমরা অ্যাথলেট, পড়ুয়া আর অদ্ভুত দলে বিভক্ত হয়ে থাকতাম।

এবং এই বিশৃঙ্খলার মাঝে,

সব বিভেদের দেয়াল ভেঙে গেছে,

আর আমার অনেক নতুন বন্ধু হয়েছে।

এমন সব বন্ধু জুটেছে যাদের সাথে বন্ধুত্ব হওয়ার কথা ছিল না।

এটা স্রেফ আমার একার গল্প নয়, অনেকের সাথেই হয়েছে।

যখন তোমার থেকে আলাদা মানুষদের সাথে মিশবে,

তখন নিজের সম্পর্কে আরও নিবিড়ভাবে জানা সম্ভব হয়।

তুমি বদলে যাও।

তুমি পরিণত হও।

আমি এখন একজন উত্তম মানুষ।

ওদের কারণেই আমি ভালো মানুষ হয়েছি।

স্রেফ বন্ধুদের জন্যই।

এখন আর আমার ভেতরে সেই রাগ নেই।

তবে আমি চিন্তিত।

চিন্তিত,

কারণ অশান্তি তো শেষ হলো,

প্রিন্সিপাল হিগিন্স আর উনার মতো বাকিরা

সবকিছুকে নিয়মের শেকলে বাঁধতে আদাজল খেয়ে নামবে।

কিন্তু আমি সেই শৃঙ্খলা চাই না,

এই বিদঘুটে পোশাক পরে থাকাটা আমার কাছে ভণ্ডামি লাগছে।

আমাদের দেখতে কেমন লাগছে! মনে হচ্ছে রোমান সিনেটর।

এটা তো আমি না। এটা আমাদের কারোরই পরিচয় না।

তাই আসলে, চুলোয় যাক এসব।

- হেন্ডারসন। - হ্যাঁ!

- স্কুল গোল্লায় যাক। - হেন্ডারসন! হেন্ডারসন!

- সিস্টেম গোল্লায় যাক। - অনেক হয়েছে!

ভেড়ার পালের মতো চলব না।

- সবকিছু গোল্লায় যাক... - একদম!

...যারা আমাদের দমিয়ে রাখতে আর আলাদা করতে চায়,

কারণ এই বছরটা শুধু আমাদের!

- হ্যাঁ! - হ্যাঁ!

সাবাস!

রণদামামা বেজে উঠল, এবার যুদ্ধের পালা

এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কেউ জেতে না

ঝাঁঝালো ধোঁয়া আর তেজি ঘোড়ার নিশ্বাস চারদিকে

জান হাতে নিয়ে মরতে চলেছি আমি

শান্ত হও সব!

যে যার জায়গায় গিয়ে বসো এখন!

তোমাদের সবার এবার সামার স্কুল হবে!

আর শাস্তি হবে!

- ডাস্টিন! - ডাস্টিন!

ডাস্টিন!

তুমি একটা পাগল। তুমি আস্ত একটা পাগল।

- হিগিন্সের তো অবস্থা খারাপ। - কী আর করবে ও, আমায় টিসি দিয়ে দেবে?

- তুমি পাগল। - হেই।

কী খবর স্টেসি।

ওখানে তুমি যা করলে, সেটা সত্যিই দারুণ ফাটাফাটি ছিল।

ওহ থ্যাংকস। আমি বেলুশির মতো একটু ভাব নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম।

কিন্তু স্টাইলটা হিউজ ফিল্মের মতো হলে ভালো হতো।

কিন্তু জানি না। কথাটা কি ঠিক হলো?

হ্যাঁ।

- ঠিক আছে যদি তুমি... - না, ঠিক আছে।

- সত্যি? - হুম।

আচ্ছা। খুব ভালো।

- আমি কেন ওটা বললাম? - বন্ধু...

শোনো, আজ রাতে আমার একটা পার্টি আছে।

তোমাদের সকলের আমন্ত্রণ রইল।

- দাঁড়াও। - এটা কি হলো?

আমাদের যাওয়া কি ঠিক হবে?

এটা আবার কেমন কথা?

না। ওসব বাদ দাও।

আমার কাছে একটা জবরদস্ত বুদ্ধি আছে।

অনেক বেশি ভালো।

আমি বলছি কি, নিউইয়র্ক তোমাদের খুব ভালো লাগবে।

- হ্যাঁ। - ভাড়া কত?

- শহর ছাড়ার প্ল্যান করছ? - তুমি কি আমার সাথে থাকতে চাও?

তুমি সিরিয়াস তো? চলো।

এই জায়গাটা একবার দেখ। সূর্যাস্তটা জাস্ট দেখার মতো।

তোমরা কি আসলেও এটা মিস করো না?

হুম।

না।

সেই অরণ্য, পাথর খাদান, ফ্যামিলি ভিডিও, কিংবা দ্য হক?

না।

না রে ভাই, কোটি টাকা দিলেও আমি আর এই মুখী হচ্ছি না।

হুম। অত টাকা লাগবে না, তার আগেই চলে আসবে।

সবকিছুর দাম এখনো বেশ কম।

ফরেস্ট হিলসে একটা দারুণ জায়গা আছে।

এখনো ওটা কেনার টাকা হয়নি, তবে হয়ে যাবে।

একজন সামান্য কোচের বেতন দিয়ে আর কতটুকু হয়।

- সেক্স এডুকেশন যে পড়াও তা তো বললে না। - একদম ঠিক।

তোমায় দিয়ে ওরা সেক্স এডুকেশন পড়ায়?

এটা কাজেরই একটা অংশ।

যৌন রোগ নিয়ে কিছু জানার থাকলে তোমার কাছেই আসবো।

ধন্যবাদ?

আরে না, কাজটা বেশ এনজয় করি।

বাচ্চাদের পড়াতে আমার দারুণ লাগে বুঝলে?

আমি ওদের জীবনের মানে শেখাতে পারি,

আর অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা থেকে কীভাবে দূরে থাকতে হয়।

আর এবার নম্বর দেওয়ার ক্ষমতাটা আমার হাতে।

আমার কেন জানি মনে হচ্ছে তুমি সবাইকে ভালো নম্বর দাও।

আমি সবাইকে 'এ' দেওয়ার পক্ষপাতী।

- হুম। - বেশি গাধা হলে 'বি' পাবে।

এর চেয়ে কম আমি দেই না।

তুমি কি NYU-তে পড়াতে আসবে?

আমি কি তোমার সিনেমার মূল্যায়ন করব?

পুঁজিবাদ, নরমাংসভোজন বা এসব নিয়ে?

আরে না, ওটা পুঁজিবাদবিরোধী। নাম—'দ্য কনজিউমার'।

এটা একটা রূপক। যে যত খায়, তত বেশি ক্ষুধার্ত হয়।

- একদম। - ঠিক আছে।

- মানে, এটা তো সবে... - অবশ্যই।

- এটা আপাতত একটি খসড়া… - বোঝাই যাচ্ছে।

হুম।

স্মিথ কলেজের কথা কিন্তু ভাবা যেতে পারে।

ওহ, তাই নাকি?

স্টেইনমের লেকচার কি তোমাকে টানে?

নাকি ওখানে অনেক মেয়ে আছে তাই?

কেন, দুইটা কি একসাথে হতে পারে না?

তা ন্যান্স, তোমার দিনকাল কেমন কাটছে?

এমারসনের মেয়েরা কেমন?

আমি তো জানি না।

পড়াশোনায় ইস্তফা দিয়েছি।

অসম্ভব। কী বললে?

আমি জানতাম। তুমি নেভি সিল হয়েছ।

আরে না, অত বড় কিছু না। আমি...

আমি 'হেরাল্ড'-এ একটা চাকরি নিয়েছি।

শুনতে অনেক গালভরা শোনায় ঠিকই, তবে স্রেফ একটা ট্রেইনি পোস্ট।

আসলে হয়েছে কী, স্কুল ভালো লাগছিল না

আর ভাবলাম বাইরে গিয়ে... আসল দুনিয়াটা দেখি।

ন্যান্সি হুইলার।

এখনো বিস্ময়ে পরিপূর্ণ।

জানো তো,

সত্যি বলতে, এই জায়গার একটা জিনিস আমি খুব মিস করি।

আমি এই সময়টা মিস করি।

শুধু...

আমাদের এই সঙ্গ।

একসাথে আড্ডা দেওয়া।

তোমাদের খুব মনে পড়ে।

নতুন বন্ধুদের সাথে আমার ভালোই জমে।

তবে ওটা ঠিক...

ওটা আগের মতো না।

মনে হয় না আর কোনোদিন সেই দিন ফিরবে।

ওহ খোদা, থামো এবার।

তুমি তো আমাকে কাঁদিয়ে ছাড়বে।

চলো কিছু একটা করি।

কী জানি! আমরা চাইলে...

দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারি।

মাসে একদিন এখানে আড্ডা হবে।

হ্যাঁ, অথবা অন্য কোনো সুবিধাজনক জায়গায়।

- যেমন ধরা যাক... - আচ্ছা।

হকিন্স, ম্যাসাচুসেটস আর নিউইয়র্কের মাঝখানের শহর কোনটা?

লুইসভিল।

- ফিলি। - ফিলি। [ফিলি-ফিলডেলফিয়া]

ফিলিতে আমার এক আঙ্কেল থাকে। মানুষটা আজব হলেও বাড়িটা অনেক বড়।

- সেখানে কি বেসমেন্ট আছে? - হ্যাঁ।

- আর বয়লার রুম আছে? - বয়লার রুম?

হ্যাঁ।

ওহ খোদা, এটা পারফেক্ট। লুকানোর জন্য ভালো।

যেখানে সে সব পুরুষকে ফাঁদে ফেলে তারপর দেহ পুড়িয়ে দেয়।

- দ্য কনজিউমার। - দ্য কনজিউমার।

- তুমি কী ভেবেছিলে আমি কী বলছি? - আমি ভাবলাম তুমি আমাদের মারার কথা বলছো।

আরে না।

ঠিক আছে। তাহলে রবিনের সেই খ্যাপাটে আঙ্কেলের বাড়িতেই আমাদের আড্ডা হবে,

আর মদ খেয়ে আমরা পুরনো দিনের গল্প করব

এবং জোনাথনের পুঁজিবাদবিরোধী, নরমাংসভোজী সিনেমাটাও বানিয়ে ফেলব।

পরের মাস থেকেই শুরু হচ্ছে।

হুম, আমি আছি।

আমিও।

কোনো কিছুই যেন আমাদের আলাদা করতে না পারে।

এমনকি আমাদের বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ডরাও না।

স্কুল।

ঋণের বোঝা।

আর বাচ্চাকাচ্চা।

- চিয়ার্স। - চিয়ার্স।

হ্যাঁ স্টিভ। বাচ্চাকাচ্চা?

জানি না বন্ধুরা। সম্ভবত ক্রিস্টেনই আমার সেই কাঙ্ক্ষিত জন।

ডনের ব্যাপারেও তো এমনই বলেছিলে?

- না। - আর মার্গারেট

আর জুলি।

জুলির ব্যাপারে ওসব বলিনি। ও তো শুরু থেকেই বড্ড ন্যাকামি করত।

ন্যাকামি?

ও কি ভালো অ্যাক্টিং করে?

হ্যাঁ, তুমি তো চাও না...

মানে, আমি খুঁজছি।

- না না, ওখানে না। - হ্যাঁ, ওকেও সাথে নিও।

চিফ, মিসেস বায়ার্স। আপনাদের দেখে ভালো লাগলো।

আপনারা কি খাবার অর্ডার করবেন এখন?

হুম, দেব।

হ্যাঁ। আমরা এক বোতল ক্যাবারনেট সো... নেবো।

- সোভিঁও। - হ্যাঁ। ক্যাবারনেট সোভিঁও।

আর স্টার্টার হিসেবে কিছু ক্যাভিয়ার দিন।

আর মেইন ডিশে দুটো স্পেশাল ফিলে দিন,

শেফ যেভাবে রান্না করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

- খুব ভালো স্যার। - আচ্ছা।

- হপ! - কী?

আজ বড় একটা দিন। জীবনে একবারই আসে এমন দিন।

তুমি তোমার দুই ছেলেকে কত সুন্দর মানুষ করে গড়ে তুলেছ।

বয়ঃসন্ধি ছাড়াও তাদের অনেক প্রতিকূলতা জয় করতে হয়েছে।

তোমার খুশি হওয়া উচিত।

গর্বিত হওয়া উচিত।

আমি গর্বিত, কিন্তু...

আসলে ব্যাপারটা…

ওই বাড়িটা এখন একদম ফাঁকা লাগবে।

শুধু আমরা আর ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ।

ধুর, ঝিঁঝিঁ পোকা! আমার ওই ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক এখন আমার অসহ্য লাগে।

ধন্যবাদ।

আমার না ইচ্ছে হয়...

যদি অন্য কোনো কিছুর শব্দ হতো।

হতে পারে গাঙচিলের ডাক,

অথবা বেলাভূমিতে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের কলতান।

বাহ, শুনতে তো বেশ ভালোই লাগছে।

এটা চাইলে সত্যি হতে পারে।

আমি বলছি কি, এখানে আমাদের আর কোনো পিছুটান নেই।

কিন্তু তোমার তো মনে হচ্ছে আমাদের ব্যাংকে অনেক টাকা জমেছে।

হতেই পারে।

নিউইয়র্কের সেই পুরনো এক বন্ধু ফোন করেছিল আমায়।

মন্টক শহরে একজন নতুন পুলিশ চিফ নিয়োগ দেওয়া হবে।

শহরটা বেশ উন্নত হচ্ছে, আর বেতনও ২০% বেশি।

জানি এটা দিয়ে রাজপ্রাসাদ কেনা যাবে না,

তবে টাকাটা... নেহাত মন্দ না।

ছেলেপুলেরা হাতের কাছেই থাকবে, শহরে যাওয়া আসাও সহজ হবে।

তুমি আর আমি?

আমরা নতুন করে শুরু করতে পারি।

একদম নতুন করে।

দুজনে মিলে।

তুমি কি ঠাট্টা করছ?

আজ রাতেই সব ফয়সালা করতে হবে না।

এখনই কিছু ফাইনাল করতে হবে না, তবে...

ওটা কিন্তু ঠিক না।

মানে কী...?

একটা ব্যাপার আমি আজ রাতেই পরিষ্কার করতে চাই।

কে গো...?

অবশেষে

জয়েস বায়ার্স।

মম প্রেম আসিয়াছে দ্বারে

তুমি কি তোমার বাকি জীবনটা কাটাবে

এই ক্লান্ত, খিটখিটে আর জেদি বুড়োটার সাথে যে তোমাকে খুব ভালোবাসে?

হ্যাঁ। আমি রাজি।

আহ, অবশেষে

ঊর্ধ্বাকাশ আজ নীলবর্ণ

আমার হৃদয় সৌভাগ্যে মোড়া ছিল

যে রাতে আমি তোমার দিকে তাকিয়েছিলাম।

অবশেষে

নিস্তব্ধতায় ঢাকা পড়ল আস্ত শহরটা।

ভীত মানুষরা ছাদ ও গলি থেকে তাকিয়ে দেখে,

কী জানি এর শেষ কোথায়!

চত্বরজুড়ে বুট জুতোর শব্দ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে

যখন স্ট্রাড ভন জারোভিচ ডাস্টিন দ্য বার্ডের দিকে এগিয়ে এলো।

- এটা কোরো না। - ভ্যাম্পায়ার লর্ড আক্রমণ করল।

- না! - ওর গলায় দাঁত বসিয়ে দিল।

ওর দেহ লুটিয়ে পড়লে প্রত্যক্ষদর্শীরা আঁতকে উঠল।

ওর বাদ্যযন্ত্রটি পাথরের ওপর আছড়ে পড়ে একটা শেষ করুণ সুর তুলল।

শয়তান কোথাকার!

এখন শুধু একজন বীর বাকি, উইল দ্য ওয়াইজ, বারোভিয়ার শেষ ভরসা।

আগুনের গোলা মারো। ওই জানোয়ারটাকে খতম করো।

- পারছি না। - কেন পারবে না?

ও এখন জাদুর আওতার বাইরে। জাদু কাজ করবে না।

তাহলে তোমার লাঠি দিয়েই ওকে বাড়ি দাও।

আর মাত্র ৬ পয়েন্ট কমবে। ওর এখনো ৩০ পয়েন্ট আছে।

আচ্ছা, তাহলে এখন কী করবে?

- এই পর্যন্তই। - কিছু করার নেই।

কিচ্ছু নেই মানে কী?

- কিস্তিমাত। - আমরা হেরে গেছি।

তাহলে এতো কিছুর পর ওই শয়তান স্ট্রাডই জিতে গেল?

- এই গেমটা ফালতু! - আমি একমত।

একদম বেকার সময়ের অপচয়!

স্ট্রাড তোমাদের রাগে খুব মজা পাচ্ছে।

জাদুকর, তোমার বন্ধুদের কাছে যাওয়ার সময় হলো।

তাড়াতাড়ি শেষ করো। আমি ওর ফালতু কথা আর শুনতে চাই না।

ঠিক আছে।

সেই জাদুকরী মেয়েটা। সেন্ট মার্কোভিয়ার। ও বলেছিল বিপদে পড়লে ওকে ডাকতে।

যখন আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাবে।

তাকে ডাকার মন্ত্রটা কী? মন্ত্রটা কী ছিল?

- মন্ত্রটা কী? - উইল! উইল!

"হে জাদুকর! জেগে ওঠো আর আমাদের এই পতন থামাও।"

"সামনে এসো আর তোমার কথা রাখো।"

কিছুই হচ্ছে না।

- করো বন্ধু। - কেন?

তাহলে আমাদের কাছে এই মন্ত্র কেন আছে?

- কী? - দাঁড়াও।

দাঁড়াও, দাঁড়াও।

কুয়াশার মধ্যে থেকে এক বেগুনি আলো ঝলমল করতে শুরু করে।

যা ক্রমশ উজ্জ্বল হতে উজ্জ্বলতর হচ্ছে।

একটা পোর্টাল খুলে গেছে।

আর এই পোর্টাল থেকে বের হয়ে এলেন...

স্বয়ং সেন্ট মার্কোভিয়ার জাদুকর!

জাদুকর হাত বাড়িয়ে দিলেন আর এক শক্তিশালী আলো সামনে ছুটে গেল।

স্ট্রাড এক মরণচিৎকার...

...দিল আর ওর শরীরটা জ্বলেপুড়ে ছাই হয়ে গেল।

খেল খতম!

কেমন দিলাম?

ফাটাফাটি!

বারোভিয়া গ্রামকে ঘিরে রাখা সেই ভুতুড়ে কুয়াশা কেটে গেল,

আর সারা শহরের মানুষ তোমাদের জয়জয়কার করতে লাগল।

তোমাদের অসীম সাহসের পুরস্কার হিসেবে ওরা পদক দিল,

এবং তোমাদের প্রত্যেককে এক সহস্র স্বর্ণমুদ্রা পুরস্কার দেওয়া হলো।

সম্মান আর ধন-দৌলতে ভাসতে ভাসতে,

তোমরা বাকি জীবনটা সুখে-শান্তিতে কাটালে।

এখানেই শেষ।

- দারুণ ক্যাম্পেইন। - ক্যাম্পেইনটা ভালো ছিল বন্ধু।

দারুণ ক্যাম্পেইন।

আরে থামো থামো। স্রেফ এটুকুই?

সুখ আর শান্তি? এর চেয়ে পচা এন্ডিং আর হয় না।

মনে করেছিলাম তুমি ভালো গল্পকার।

ওহ।

আচ্ছা, সুখ আর শান্তির কথা তো সত্যি।

কিন্তু সুখ তো নানা ঢঙে নানা রঙে আসে।

সেই যোদ্ধা আর জুমার মেয়েটা,

তারা যুদ্ধ থেকে অবসর নিয়ে একটা ছোট গ্রামে থাকতে শুরু করল।

দিন যত যাচ্ছিল,

ওদের ভালোবাসা আরও গভীর হচ্ছিলো।

সেই চারণ কবি,

জ্ঞানের তৃষ্ণায় বুঁদ হয়ে,

এনক্লেভের সেই বড় পাঠাগারের দিকে চলল,

যেখানে বইয়ের স্তূপের মাঝে ওর দিন কাটে।

- পড়াশোনায় ডুবে থাকলেও... কী খবর বন্ধু।

...মাঝেমধ্যে নতুন কোনো রোমাঞ্চের খোঁজে সে ঠিকই বেরিয়ে পড়ে।

আর উইল দ্য ওয়াইজের ব্যাপারে বললে,

ও অনেক দূর পাড়ি দিয়ে ভাল্লাকি শহরে গেলো।

শুরুতে একটু খাপ খাইয়ে নিতে কষ্ট হচ্ছিল।

তার ছোটবেলার সেই শান্ত গ্রামের সাথে এর কোনোই মিল নেই।

কিন্তু খুব দ্রুতই সে সেখানে নিজের আপন জগত খুঁজে পেল।

হেই!

আর সেই সাথে এক গভীর আনন্দ

আর প্রশান্তি খুঁজে পেল।

আর সেই গল্পকার? তার কপালে কী জুটল?

সেই গল্পকার এখনো গল্প বলে বেড়ায়,

বন্ধুদের জীবন থেকে নেওয়া সব রোমাঞ্চকর গল্প।

সে বুক বাঁধে এক আশা নিয়ে,

তাদের মহাকাব্যিক সাহসিকতার গল্প সমস্ত দেশে ছড়িয়ে পড়বে

যাতে সকলেই তাদের মহান বীরত্বের কাহিনী জানে।

কিন্তু এমন একটা গল্প আছে যেটা সে কখনোই বলতে পারবে না।

সেই জাদুকরী মেয়েটার কাহিনী।

অন্তত আসল সত্যিটা সে বলতে পারবে না।

আসল গল্পটা কী?

যখন ও ওই আলোর ঝলকটা তৈরি করেছিল।

হাত ছাড় আমার!

বিদায় মাইক।

নিজের সবটুকু শক্তি নিংড়ে দিয়ে ও স্রেফ ভোজবাজির মতো মিলিয়ে গেল।

এল!

কিন্তু কেউ কি একবারও ভেবে দেখেছে, ওই অবস্থায় ও জাদুটা করল কীভাবে?

ওই পাথরটার জাদুকরী ক্ষমতার কথা ভাবো।

ওর তো তখন কোনো পাওয়ারই থাকার কথা নয়।

হুলস্থুলের মধ্যে কেউ আসলে ব্যাপারটা খেয়ালই করেনি।

আসলে মেয়েটা বড্ড সেয়ানা।

বুদ্ধিতে ওর সাথে পাল্লা দেওয়ার মতো কেবল ওর বোনই আছে,

ওই বীরের আকুতি শুনে,

ওর মন গলে গিয়েছিলো।

কেঁদো না জেন।

আমার গল্পটা...

এখানেই শেষ হওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু তোমার বেলাতে এমন হবে না।

দুই বোন মিলে এক ফন্দি আঁটল,

ওই কালো শক্তির হাত থেকে নিজেদের বাঁচানোর এক পরিকল্পনা,

যারা যমদূতের মতো ওর ক্ষমতার পেছনে হন্যে হয়ে ছুটেছিল।

তাই ওদের ধোঁকা দিতে ওকে সবাইকে,

এমনকি বন্ধুদেরও বিশ্বাস করাতে হয়েছিল যে ও মরে গেছে।

আর সেই কারণেই ওর বোন দূর থেকে এক মন্ত্র পড়ল।

ওই জাদুকরী পাথরের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে।

এল! এল-কে দেখছো কেউ?

এক মায়াবী অদৃশ্য হওয়ার মন্ত্র।

জাদুকরী মেয়েটা পালিয়ে আসামাত্র ওর বোন শেষ দানটা চালল।

যাকে মরতে দেখেছ সে তো আদৌ আসল ছিল না।

সে ছিল এক মায়া মাত্র।

ও কোথায় গেলো?

কারো জানা নেই।

কারো কোনোদিন জানার উপায় নেই।

তবে আমি বিশ্বাস করতে চাই যে ও অনেক দূরে কোনো এক স্বপ্নিল দেশে আছে।

সে এক ছোট্ট নিরিবিলি শহরে নিজের ঘর খুঁজে পেল।

ওই কালো হাতের ছায়া থেকে দূরে নিরাপদে।

আর এখানেই,

অবশেষে,

ও প্রশান্তি খুঁজে পেল।

ও অবশেষে নিজের সুখ খুঁজে পেল।

আর এটা স্রেফ একটা ধারণা, তাই না?

এটা যে সত্যি তা আমরা বুঝব কী করে?

আমরা জানি না।

অন্তত হলফ করে বলতে পারছি না।

তবে আমি বিশ্বাস করতে চাই যে এটাই সত্যি।

আমি বিশ্বাস করি।

আমি বিশ্বাস করি।

আমি বিশ্বাস করি।

আমি বিশ্বাস করি।

আমি বিশ্বাস করি।

এই যে শোনো! কী হচ্ছে? খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে!

এই তো শেষ করে আনলাম। আমরা এখনই আসছি।

- হলি, খেলাটা কীভাবে খেলবো? - ওরে বাবা, দেখে!

তুমি তো এক ঘন্টা আগে শেষ করবে বলেছিলে!

এই দেখো, এটা আমাদের ছোট রাজপ্রাসাদ।

আমি নিয়মকানুনগুলো দেখে নিচ্ছি কীভাবে শুরু করা যায়।

তুমি কেন ডানজান মাস্টার হবে?

কারণ আইডিয়াটা আমার আর এটা আমার নিজের বাড়ি!

তুমি বললে না যে এটা অত ফালতু হবে না!

- এটা অনেক বোরিং! - ওকে নামাও!

- তুমি কি পাদ দিলে? - না।

কী এক বিচ্ছিরি গন্ধ! আমার তো বমি আসছে।

ও কিছু না, বাসি পিৎজার গন্ধ।

বাসি পিৎজা কখনো ওমন বিচ্ছিরি পচা গন্ধ দেয় না!

সব দোষ মেয়েদের দাও।

শোনো, মেয়েরা পাদ দেয় না। দিলেও সেটা গোলাপের মতো গন্ধ হয়।

হলির কথা শোনো!

- মন দিয়ে খেললে এগুলো ফেরত পাবে! - আমি চোখে দেখছি না!

আচ্ছা! তুমি একটা বামন হতে পারো!

তুমি কি চাও আমি ওভাবে হেঁটে উপুড় হয়ে পড়ে যাই?

না, তুমি বসবে আর মনোযোগ দেবে!

আমার চশমা ফেরত দাও!

অনুবাদ ভালো লেগে থাকলে কাচ্চি/কফি খাওয়াতে পারেন (Bkash: 01963791985, Nagad/Rocket: 01743097637)

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.