Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Indonesian
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
অনুবাদ ও সম্পাদনা মোহাম্মদ ইউসুফ
ম্যাক্স।
ম্যাক্স। ম্যাক্স, তুমি কি শুনতে পাচ্ছো আমায়? ম্যাক্স।
প্লিজ, চোখ খোলো। হ্যাঁ! এই তো, ম্যাক্স!
আমার কথা কি শুনতে পাচ্ছো?
ম্যাক্স!
হ্যাঁ! সজাগ থাকো, একদম চোখ বুজবে না কিন্তু।
হাল ছেড়ো না, ম্যাক্স।
হ্যাঁ! এই তো হচ্ছে, তুমি পারছো!
হ্যালো, লুকাস।
হ্যাঁ ম্যাক্স, সাড়া দাও। আমি লুকাস, তোমার পাশেই আছি।
তুমি কি... তুমি কি ঠিক আছো? শরীরের কোথাও কি ব্যথা হচ্ছে?
আমার শরীরটা কেমন অবশ লাগছে।
তুমি কি... এটা টের পাচ্ছো? আমার হাতের স্পর্শ কি টের পাচ্ছো?
একটু একটু।
তুমি কি... তুমি কি... দেখতে পাচ্ছ?
আলোটা বড্ড বেশি উজ্জ্বল লাগছে।
হেই!
তুমি অনেক দিন তোমার চোখ বা পেশিগুলো ব্যবহার করোনি।
ঘাবড়িয়ো না, তোমার শরীরটা এখন খুব ক্লান্ত ও দুর্বল।
শুধু মানিয়ে নেওয়ার জন্য একটু সময় দরকার।
তুমি খুব তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যাবে।
আগের মতো সুস্থ হয়ে যাবে। । আমি জানতাম তুমি ছিলে।
অন্তরে সবসময় অনুভব করেছি যে তুমি এখানেই আছো।
আমি তোমায় দেখেছি।
আমার জন্য তুমি অপেক্ষা করছিলে,
আমার প্রিয় গানটা বাজিয়ে তুমি অপেক্ষা করছিলে।
তুমি কি গানটা শুনতে শুনতে বিরক্ত হয়ে গেছো?
সত্যি কি তাই?
দেখা গেল…
এই পুরো সময় জুড়ে,
ওই গানটার আমার কোনো প্রয়োজনই ছিল না।
আমার শুধু তোমাকেই দরকার ছিল।
শুধু তোমাকে।
- ওহ খোদা! - ম্যাক্স।
তুমি এসেছো। তুমি সত্যিই এসেছো।
আমি আছি।
স্বাগতম বাছা!
অনেক সময় নিলে, তাই না?
চুলোয় যাও, হুইলার।
আমি কোথায়?
ওহ।
হ্যাঁ, একটু গোলমেলে ঠেকছে নিশ্চয়ই।
ডেমো-ডগরা তোমার পিছু নিয়েছিল।
আর আমরা সবাই তাদের খাবার হওয়া থেকে মাত্র কয়েক সেকেন্ড দূরে ছিলাম,
ঠিক সে সময় মিসেস হুইলার এসে...
কাপড় কাচার কাজটা সেরে ফেললেন।
হে ঈশ্বর! মা!
ভেকনা।
সে রাগে ফেটে পড়বে।
সে আমাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে।
ও বুঝে ফেলবে আমরা পালিয়েছি।
হলি কোথায়?
ও কোথায়?
জোনাথন।
জোনাথন।
জোনাথন, থামো।
কী?
আমাদের কিছু হয়ে গেলে সব শেষ হয়ে যাবে।
হ্যাঁ, আমারও মনে হয় তুমি ঠিক বলছো।
হে ঈশ্বর।
ঠিক আছে, এখন কী করব?
আর কিছু কি বলার আছে তোমার?
পিছিয়ে যাও।
দেরি হয়ে গেল, কিছু মনে কোরো না।
তুমি কি ঠিক আছো?
হ্যাঁ, আমরা ঠিক আছি।
ধন্যবাদ।
এটা কি অস্বাভাবিক ছিল? দুঃখিত, অস্বাভাবিকই ছিল।
আমি… আমরা শুধু… আমরা দুজনেই ভেবেছিলাম…
- আমাদের জানটা বুঝি গেল! হ্যাঁ, আমাদেরও তাই মনে হয়েছিল। - হ্যাঁ।
শেষে দেখা গেল তোমার শিল্ড জেনারেটরটা…
ওটা আসলে শিল্ড জেনারেটর নয়। আমরা জানি ওটা।
এই কথাটা তো আমাদের আগে জানালে ভালো হতো।
আমরা কিন্তু চেষ্টা করেছিলাম জানানোর।
অ্যান্টেনাটা ভেঙে গিয়েছিল।
দোষটা ওরই।
আচ্ছা, তাহলে আমি ওটা কীসের ওপর গুলি ছুড়েছিলাম?
এক্সোটিক ম্যাটার।
আর আমাদের কি সেটা জানার কথা যে ওটা কী?
এই তো এখানে সব লেখা আছে। দেখলেই বুঝবে।
এটা হলো ১৯৮৩ সালের ডক্টর ব্রেনারের নোটবুক।
এই জিনিসটা তথ্যের এক বিশাল ভাণ্ডার।
গেট নিয়ে তার সব গবেষণা, কিভাবে বানানো হলো, প্রকৃত স্বরূপ।
আমি এখনো এটা বোঝার চেষ্টা করছি, কিন্তু…
হ্যাঁ, এটা তোমার মাথা গরম করে দেবে।
মূল কথা হলো, হলি দেয়ালের ওপাশে নেই।
তাহলে ও কোথায় আছে?
আমি নিশ্চিত নই… ঠিক কোথায়।
তবে ও যেখানেই থাকুক, ওটা আপসাইড ডাউন নয়।
যখন ও আমাকে ধরে নিয়ে যায়, তখন সে চতুর্থ এবং শেষ গেটটি খুলে দিয়েছিল,
যেটা পুরো হকিন্স শহরকে দুভাগে ভাগ করে দিয়েছিল।
তুমি পারবে।
- ওটা কী ছিল? - কোনটি কী ছিল?
হলি।
ভয়েজার বেটা।
কোনো সিগন্যাল পাওয়া যাচ্ছে?
না, কিছু নেই, ভয়েজার আলফা। ভয়েজার গামা?
লবডঙ্কা! কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না।
তোমার বেলুন এক্সপেরিমেন্টটা পণ্ডশ্রম মাত্র, বাল।
বাদ দাও ওসব, বরং ভ্যানে অ্যান্টেনা লাগিয়ে বেরিয়ে পড়ি।
আমি তো আগেই বলেছি, এই উঁচু-নিচু জায়গার জন্য...
আর হকিন্সের এই জঙ্গলময় পরিবেশের কথা চিন্তা করলে,
স্রেফ একটা গাড়ি নিয়ে বের হওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না
টেলিমেট্রি ট্যাগ নিখুঁতভাবে শনাক্ত করার জন্য।
"বুদ্ধিমানের কাজ" মানে? ছয় ঘণ্টা ধরে তোমার এই ছাইপাঁশ বেলুনের এক্সপেরিমেন্ট চলছে!
হ্যাঁ, কিন্তু একবার যদি আমরা এই তিন সিগন্যালকে এক বিন্দুতে আনতে পারি,
আমি ডাস্টিনের সঠিক অবস্থান নিখুঁতভাবে নির্ণয় করতে পারব।
সিগন্যাল না মিললে তোমার ওই ছাইপাঁশ পদ্ধতি কোনো কাজেই আসবে না,
তাই এখন এসব বন্ধ করো
তোমার ওই প্রিয় ছাত্রটা মরে যাওয়ার আগেই।
""বন্ধ করা...""
ভাগ্য সবসময় সাহসীদের পক্ষেই থাকে।
আমি ডাস্টিনের অবস্থান শনাক্ত করেছি।
ভয়েজাররা, বেলুনগুলো ওড়াও এবার।
- কী বললেন? - একটু দাঁড়াও। কী বললে?
আমাদের আরও ওপরে যেতে হবে। বেলুনগুলো ছেড়ে দাও এখনই।
নেগেটিভ ৮০!
নেগেটিভ ৪৪।
আমি আমার কথা ফিরিয়ে নিচ্ছি, গুরু! তুমি আসলেই এক জিনিয়াস!
ধন্যবাদ ভয়েজার। আমি হিসাবটা বের করছি। একটু অপেক্ষা করো।
তুমি আমার জন্য গুপ্তচরের কাজ করবে।
শেষবারের মতো।
উইল।
হপার এইমাত্র রেডিওতে জানাল।
ম্যাক্স নিরাপদ আছে। সে বেরিয়ে আসতে পেরেছে।
আরে, এতো দারুণ খবর!
তুমি না থাকলে হয়তো এর কিছুই সম্ভব হতো না।
সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।
কিন্তু কতক্ষণ পর্যন্ত, মা?
লুকাস যদি ঠিক বলে থাকে, তবে আজই সেই দিন,
যেদিন ভেকনা তার চাল চালবে।
আমি ভেবেছিলাম আমি তাকে পরাস্ত করেছি। কিন্তু আসল সত্যিটা হলো...
সত্যি বলতে আমার জেতার কোনো সুযোগই ছিল না।
আর ও সেটা জানত। ও বরাবরই এটা জানত।
এর জন্যই হকিন্সের সবার মধ্যে সে আমাকে বেছে নিয়েছে।
কারণ সে জানত আমি দুর্বল, আর সে আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
না, এটা সত্যি না।
এটাই সত্যি মা। এটাই হচ্ছে আসল সত্যি।
আমি ছিলাম তার বাহন।
তার শক্তি প্রবাহিত করার এবং গুপ্তচরবৃত্তির একটা মাধ্যম,
এবং... আরও কিছু গড়ে তোলার জন্য।
"গড়ে তোলা" মানে?
সেই সুড়ঙ্গগুলোর কথা বলছি।
ওগুলো নিজে নিজে গেট থেকে ছড়ায়নি।
প্রতি রাতে আমি হাইভে যুক্ত হয়ে লতাগুলো নিয়ন্ত্রণ করতাম।
ওগুলো দিয়ে আমি সুড়ঙ্গ বানাতাম আর আমাদের পৃথিবীতে আপসাইড ডাউন ছড়িয়ে দিতাম।
আমার কারণে কত প্রাণ ঝরে গেল।
আমি যদি একাই এত কিছু করতে পারি,
তাহলে আমার মতো আরও ১২ জন থাকলে ও কী করবে?
কথা শোনো আমার।
যা কিছু হয়েছে তার কোনোটার জন্যই তুমি দায়ী নও।
শুনছো আমার কথা?
আর ওর ওই মহা-পরিকল্পনার কথা ভাবছো?
সে সেই বারোজন বাহনকে বা যে নামে অভিহিত করুক, কোনোদিনই কব্জা করতে পারবে না।
কারণ হলি ওর নাগালের বাইরে চলে গেছে, আর ও জানে বাকিরা কোথায়।
শোনো সোনা, এটা এখনো শেষ হয়নি, খেলা এখনো অনেক বাকি।
তোমার ধারণা ভুল।
তোমার ধারণা ভুল, মা।
সব আমার জন্যই হয়েছে।
কক্ষনো না।
না বাবা।
যাও! যাও!
হলি কোথায় জেগে উঠবে, সেটা আমি জানতাম না।
কিন্তু আমি ধারণা করেছিলাম
ভেকনা ওকে যেখানেই আটকে রাখুক না কেন,
সেটা নিশ্চিতভাবেই এই আপসাইড ডাউনই হবে।
তাই...
আমি ওকে বাড়ির দিকে রওনা হতে বললাম।
বাড়ি? মানে আমাদের নিজেদের বাড়িতে?
যার অর্থ আমাদের আবার আপসাইড ডাউনে যেতে হবে।
- কাছেপিঠে কোনো ফাটল আছে? - মনে হয় কর্নওয়ালিসের ওদিকে।
প্রায় দেড় মাইলের মতো হবে।
লুকাস, তুমি কি শুনতে পাচ্ছো?
- ওহ, রবিন। - হ্যাঁ।
লুকাস!
এরিকা, এখন কথা বলতে পারব না।
ভেকনা তো ওই সৈন্যদের শেষ করে দিয়েছে,
তাই এখন ম্যাকে ঢোকা অনেক সহজ হবে।
না। এতক্ষণে সেখানে অতিরিক্ত বাহিনী পৌঁছে গেছে।
আমি প্লেটটা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে পারি।
তুমি বলতে চাইছো হলি একটা স্টিলের পাতের নিচে আটকে আছে?
আসল ঘটনা না জানলে কথাটা শুনে ভয় লাগতে পারে,
কিন্তু সে কোনো বড় স্টিলের নিচে চাপা পড়ে নেই। ও আসলে...
কী করে যে বোঝাই সবটা!
- আমাদের পৃথিবীর নিচে আরেকটা পৃথিবী আছে... - ওই পাতগুলোর নিচে।
আপসাইড ডাউন।
হ্যাঁ, ওটা হুবহু হকিন্সের মতোই দেখতে, কিন্তু অনেক বেশি বিদঘুটে।
শোনো, শোনো। এটা বিশ্বাস করা কঠিন।
এরিকা আর মিস্টার ক্লার্ক সফল হয়েছে। তারা ডাস্টিন ও বাকিদের খুঁজে পেয়েছে।
ঠিক আছে, তাহলে ওরা আমাদের চেয়ে অনেক সহজেই হলিকে খুঁজে পাবে।
আমাদের জলদি করতে হবে। কেউ আসছে।
হেই, হেই, তুমি কি ঠিক আছো?
আমি একদম ঠিক আছি মাইকেল।
মাফ করবেন মিসেস হুইলার, আপনি মোটেও ঠিক নেই।
আপনার ইনফেকশন হতে পারে, রক্তক্ষরণ হতে পারে, এমনকি শ্বাসরোধও হতে পারে।
আমার মেয়ের বিপদের দিনে আমি শয্যাশায়ী থাকব, এমনটা যদি ভেবে থাকো,
তাহলে তুমি পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছ। চলো।
মা, মা, শোনো। উনি ঠিক কথাই বলেছেন।
সব ঠিক আছে। চলতে থাকো।
শোনো, তুমি আমাদের প্রাণ বাঁচিয়েছো।
তুমি আমাদের উদ্ধার করেছো।
আর কোনো এক অলৌকিক উপায়ে তুমি এখনো বেঁচে আছো।
এখন একটু ভরসা রাখো, বাকিটা আমরাই সামলে নেব।
বাইরে ওই জানোয়ারগুলো ওত পেতে থাকতে পারে।
ওগুলোকে ডেমোগরগন বলে। আমি জানি।
এই আপসাইড ডাউন আর এল নিয়ে তোমাকে অনেক কিছু বলার আছে,
তবে এই মুহূর্তে তোমার কেবল এটুকু জানলেই চলবে যে—
যখন সবাই হাল ছেড়ে দিয়েছিল, এই দলটাই তখন উইলকে ফিরিয়ে এনেছিল।
আমরাই অসাধ্য সাধন করেছিলাম।
হলিকেও আমরা একইভাবে ফিরিয়ে আনব।
মা, আমি কথা দিচ্ছি, ওকে তোমার কাছে ফিরিয়ে আনব। ঠিক আছে?
ঠিক আছে?
মিস্টার ক্লার্ক, সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ।
এখনই ধন্যবাদ দেওয়ার দরকার নেই।
আমরা ডাস্টিন ঠিক কোথায় আছে তা নিখুঁতভাবে বের করেছি,
ঠিক সেখানেই যেখানে আমি এখন দাঁড়িয়ে আছি।
কিন্তু আসার পর তাকে আর পেলাম না।
আসলে ও তো ঠিক এইখানে থাকবে না। ও থাকবে নিচে।
মানে?
তোমরা ওনাকে কিছু বলোনি?
- আমি আসলে... - আমাকে কী বলবে?
কি অদ্ভুত।
কি অদ্ভুত।
এই যে এদিকে! এদিকে!
আমি ওকে পেয়েছি! পেয়েছি ওকে!
ডাস্টিনকে পেয়েছি!
- কোনো সাড়াশব্দ তো নেই। - সবুর করো।
কেউ কি শুনতে পাচ্ছো? হ্যালো, আমি ডাস্টিন।
ডাস্টিন, আমি মাইক। হলি ভেকনার কবল থেকে পালিয়েছে,
আর ও আপসাইড ডাউনে আমাদের বাড়ির দিকে যাচ্ছে।
যত জলদি পারো ওখানে যাও আর হলিকে খুঁজে বের করো। শুনছো?
হলি বাড়িতে নেই। আমরা ওকে পেয়েছি। হলিকে পেয়েছি। আবার বলছি—
ডাস্টিন, তোমার কথা কেটে কেটে আসছে।
ডাস্টিন?
আমি কি পাগল হয়ে যাচ্ছি, নাকি ও সত্যিই বলল যে হলিকে পাওয়া গেছে?
ঠিক আছে, চলো এই দেয়ালটা ধরে এগোই।
ও ল্যাবে কেন থাকবে?
ও যেখান থেকেই পালাক না কেন, ল্যাবটা নিশ্চয়ই আমাদের বাড়ির পথেই ছিল।
ওর সাথে ডাস্টিনের হুট করে দেখা হয়ে গেল? এটা কি হতে পারে?
সম্ভাবনা একদমই কম,
কিন্তু আমার মনে হয় অবশেষে ভাগ্য আমাদের সহায় হয়েছে।
ঈশ্বর সহায় হোন।
দুঃখিত, আমি এখনো ঠিক বুঝতে পারছি না। ডাস্টিন কি ওই প্লেটগুলোর নিচে?
- হ্যাঁ। - কিন্তু চাপা পড়েনি।
একটু দাঁড়াও। ধরে থাকো।
হ্যাঁ, ওই ফাটলটির চারদিকে আমাদের ক্যামেরা বসানো আছে।
ক্লাবে আমার একটা পুরোনো স্পেকট্রাম অ্যানালাইজার আছে। [স্পেকট্রাম অ্যানালাইজার- সিগন্যাল মাপার যন্ত্র]
যদি ওদের আরএফ সিগন্যালটা পাই, তবে সিগন্যাল জ্যাম করে দেব।
বেশ ভালো হবে।
আমার মনে হয় তুমি বিষয়টা নিয়ে অতিরিক্ত ভাবছ।
তোমার কি মনে হয় অ্যালফোর্ড এই স্কোর দ্বিগুণ করতে পারত না?
ছয় বারের মধ্যে চার বার।
রেজি বিশেষ কিছু করে দেখাবে, আমার কথা মিলিয়ে নিও।
ওয়ালশ কিছুই করতে...
তুমি এখনো কিছুই দেখোনি।
তুমি কি আসছো, ব্রো?
আমরা কি ভেতরে যাচ্ছি?
আমরা ভেতরেই প্রবেশ করছি।
স্টিভ!
ডাস্টিন!
স্টিভ!
ন্যান্সি! হলি!
জোনাথন!
এখানে কি নিঃশ্বাস নেওয়া নিরাপদ?
নিশ্চিত না।
ঠিক আছে।
মাইক, ওখানে কি কিছু পেলে?
মাইক? মাইক!
ওকে পেয়েছি।
জেসাস, তোমাদের দেখে খুব ভালো লাগছে।
ন্যান্সি?
ও কোথায়?
হলি কোথায়?
- ওটা কী ছিল? - কিসের কথা বলছো?
হলি।
ন্যান্সি! ন্যান্সি!
- হলি! হলি! - ন্যান্সি, আমায় সাহায্য করো!
- ন্যান্সি আপু, সাহায্য করো! আমাকে নিচে নামাও প্লিজ! - হলি!
ন্যান্সি! ন্যান্সি আপু প্লিজ!
হলি!
ন্যান্সি!
মনে হচ্ছিল কিছু একটা ওকে ধরে রেখেছে, কিন্তু কাউকে দেখা যাচ্ছিল না।
ওই ছিল।
নির্ঘাত ভেকনার কাজ ওটা।
মাইক?
হলি ঠিক আছে তো মাইক? মাইক, শুনতে পাচ্ছো?
আবার বলছি, হলি কি ঠিক আছে?
ভয় পেয়ো না হলি।
খুব তাড়াতাড়ি সব শেষ হয়ে যাবে।
সব কিছুর ইতি ঘটবে।
ওটা এক ধরণের দানব ছিল, অন্য দুনিয়ার এক দানব।
ও দানবদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে,
বিশালাকার যান নাড়াতে পারে,
আগুন নিভিয়ে দিতে পারে।
বুলেট তাকে স্পর্শ করতে পারেনি।
একেবারেই কিছু করার ছিল না।
ওটা মোটেও কোনো লড়াই ছিল না।
ওটা ছিল স্রেফ এক বীভৎস গণহত্যা।
প্রথমে হাসপাতালে সেই অদ্ভুত দর্শন কুকুরগুলো এল।
আর এখন ম্যাকে এক অভিশপ্ত দানব?
ওই নরকের গর্ত থেকে আরও কী কী বের হবে বলবেন কি?
নাকি আমরা সেটাকে চমক হিসেবেই ধরে নেব?
জানি না খেয়াল করেছেন কি না, কিন্তু আমাদের হাতে জনবল এখন খুব কম।
আরও অতিরিক্ত সৈন্য পাঠানো হচ্ছে।
আর কিছু লাগলে তোমার ইউনিট কমান্ডারের সাথে কথা বলে নাও।
আমি কার বিরুদ্ধে লড়ছি তাই যদি না জানি, তবে কী দরকার তা বুঝব কীভাবে?
তুমি এখানে লড়তে আসোনি। এটা যুদ্ধ নয়, স্রেফ তল্লাশি।
পথে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালে খতম করে দাও।
তবে মূল লক্ষ্য থাকবে মেয়েটিকে খুঁজে বের করা।
হ্যাঁ, মেয়েটাকে খুঁজো। ক্রাইস্ট, এটাই শুধু বলার আছে?
আপনার জ্যাকেটের নিচে কি কলের পুতুলের মতো কোনো ফিতে টিতে আছে নাকি?
এখানে যা কিছু ঘটেছে তার মূলে রয়েছে ওই মেয়েটি।
তুমি যদি নিজের দায়িত্ব পালন করে ওকে খুঁজে বের করতে,
তবে আমাকে বারংবার একই কথা বলতে হতো না, আর ওই দানবগুলো এখন মস্কোতে থাকত—
যেখানে ওরা আমেরিকানদের বদলে রাশিয়ানদের মারত।
যারা মারা গেছে, ওই বাচ্চাগুলো,
তাদের রক্তে তোমার হাত রঞ্জিত লেফট্যানেন্ট, আমার নয়।
আর তাদের তালিকায় নাম লেখাতে না চাইলে নিজের জিহ্বাকে সংযত রাখো।
লেফট্যানেন্ট একার্স, ব্রাভো ওয়ান বলছি। শুনতে পাচ্ছেন?
হ্যাঁ, কী হয়েছে?
পুরনো ল্যাবে একটা ফাটল দেখা গেছে।
আমি আসছি।
তুমি কি ঠিক আছো?
ম্যাক্স।
তোমাকে এক সেকেন্ডের জন্য একা ছাড়লাম আর তুমি জাদুকর হয়ে গেলে?
ওটা এক সেকেন্ডের চেয়ে বেশি ছিল, আর আমি আসলে জাদুকর নই।
হুম, আমার কাছে তো তাই মনে হলো।
হেই, একটু ঘুরে দেখবে নাকি?
কোয়ারেন্টাইনের আগেই জিমি “ফাস্ট হ্যান্ডস” শহর ছেড়ে পালিয়েছে,
তাই আমরা এখানে চলে এসেছি।
বেসমেন্টটা ওই বুকশেলফের পেছনে লুকানো আছে।
এটা পুরোপুরি ব্যাটকেভ নয়, কিন্তু বেশ ভালো। [ব্যাটক্যাভ-ব্যাটম্যানের আস্তানা]
চোখ এড়াতে স্টেশনটা চালু রেখেছি। রবিন আমাদের ডিজে।
- রকিং রবিন। - রকিং রবিন, সরি।
আর স্টিভ হলো ওর সাউন্ড ম্যান।
এটা দেখো।
হেই...
আমরা হলিকে ফিরিয়ে আনবোই।
ও সেখানে বড্ড একা, লুকাস।
একা ওই দানবটার সাথে।
আর আমি নিশ্চিত ছিলাম যে সে বেরিয়ে আসতে পারবে।
আমি সত্যিই নির্বোধ ছিলাম।
তোমাকে তো চেষ্টা করতেই হতো।
আমার ওখানেই থাকা উচিত ছিল।
আর ওকে আগলে রাখা আমার উচিত ছিল।
তাহলে আমরা সবাই চরম বিপদে পড়তাম।
তুমি ভেকনার মনের খবর জানো। তুমি তাকে হারাতে সাহায্য করতে পারো।
না। আমি পারব না।
ভেকনা হলিকে কোথায় লুকিয়ে রেখেছে, আমি তো সেটাও জানি না।
ভাগ্যিস, আমি জানি।
আমি জানি সে কোথায়, তবে সেখানে পৌঁছানোই আসল চ্যলেঞ্জ।
তোমাদের একটা জিনিস দেখাতে চাই।
আচ্ছা।
দেখো, এটা হলো হকিন্স, আর এটা হলো আপসাইড ডাউন।
আমরা সবসময় ভেবে এসেছি যে আপসাইড ডাউন ব্রেনারের খোলা অন্য এক জগত,
কিন্তু এটা আসলে একটা সেতু।
সোজা কথায়, এক জগত থেকে অন্য জগতে যাওয়ার রাস্তা
যা মহাকাশ আর সময়কে দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছে।
এটা খুব নড়বড়ে, কিন্তু একটা অদ্ভুত জিনিস ওটাকে ধরে রেখেছে,
যেটা আমরা ল্যাবের ঠিক উপরে মাঝখানটায় পেয়েছি।
পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় বললে,
- এ ধরণের সেতুকে বলা হয়... - ওয়ার্মহোল।
আর এই ওয়ার্মহোলটা হকিন্সকে এটার সাথে যুক্ত করেছে,
অন্য এক জগত যেটার নাম দিয়েছি অ্যাবিস।
- বিশেষ কোনো কারণ? - কারণ এটা শয়তানি আর বিশৃঙ্খলার আড্ডাখানা।
- কী বললে? - D&D. [D&D-গেমের নাম]
- জেসাস ক্রাইস্ট! - ওয়াও!
আমার বিশ্বাস এই অ্যাবিসই হলো ডেমোগরগনদের আসল আবাসস্থল,
লতা, মাইন্ড ফ্লেয়ারও।
সব নোংরা, ভয়ংকর জিনিস যা আমরা আপসাইড ডাউনে দেখেছি।
এখানেই বহু বছর আগে তুমি হেনরিকে নির্বাসিত করেছিলে।
সে বছরের পর বছর নিখোঁজ ছিল,
আর ব্রেনার না থাকলে ও সারাজীবন সেখানেই থাকত।
সে আমাকে দিয়ে হেনরিকে খুঁজে বের করিয়েছিল।
আর যখন তুমি দূর থেকে অ্যাবিসের সাথে যোগাযোগ করলে, তখনই সেতুটা তৈরি হলো।
তারপর থেকে হেনরি আর ওর দানব দল এটা ব্যবহার করছে
হকিন্সে ঢুকতে।
গত বছর আমরা ভেকনাকে চরম শিক্ষা দিয়েছিলাম,
কিন্তু সে এই সেতু দিয়ে পালিয়ে অ্যাবিসে ফিরে গেছে তার ক্ষতে প্রলেপ দিতে।
কী কাপুরুষ।
তার মানে এত ভেকনা শয়তানটা আকাশে গা ঢাকা দিয়েছিল?
এর জন্যই সে এতোদিন ধরা পড়েনি।
– আর তাই ওকে বাথটাবে খুঁজে পাইনি। - আর এই জন্যই হলি আকাশ থেকে পড়েছিল।
হ্যাঁ, কিন্তু ও বাচ্চাদের কেন ওখানে নিয়ে যাচ্ছে?
ঠিক যে কারণে ও আমাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল।
বাচ্চাদের মন দুর্বল থাকে, তাই না? ওদের সহজেই বাগে আনা যায়।
তাই ও ওর সব চিন্তা আর শক্তি আমার ভেতর দিয়ে পাঠিয়ে নিজের ক্ষমতা বাড়িয়েছিল,
আর এখন সে ওই শিশুদের সাথেও ঠিক একই কাজ করবে।
নিজের ক্ষমতা বাড়ানো মানে?
কী করার জন্য?
দুনিয়াটাকে নাড়িয়ে দিতে।
হলি বলেছিল যে হেনরি বাচ্চাদের বলেছে—
ওরা নাকি ওকে জগতগুলোকে একসাথে জুড়ে দিতে সাহায্য করবে।
সেই মুহূর্তে আমি এর অর্থ বুঝতে পারিনি, তবে...
সে অ্যাবিসকে হকিন্সের ওপর আছড়ে ফেলতে চায়।
না, আছড়ে পড়া নয়।
এক হয়ে যাওয়া।
হেনরি অ্যাবিসে বসে তার ক্ষত উপশম করছিল না। সে ফাটল সৃষ্টি করছিল,
অ্যাবিসকে দুর্বল করছিল, ঠিক যেভাবে সে হকিন্সকে দুর্বল করেছিল।
সুতরাং যখন অ্যাবিস এবং হকিন্সের সংঘর্ষ হবে...
তারা এক হয়ে যাবে।
ও পুরো জগতটাকেই পাল্টে দিচ্ছে।
কত সময় লাগতে পারে? পৃথিবী সরাতে?
ওটা কি জলদি হবে... নাকি দেরি হবে?
আশা করি হাতে সময় আছে। কারণ যদি সব ঠিক হয়,
তবে আমাদের ২,০০০ ফুট ওপরে উঠে অ্যাবিসে যেতে হবে,
হলি আর বাচ্চাদের ছাড়িয়ে ভেকনাকে মারতে হবে সব এক হওয়ার আগে।
আর যদি আমার ধারণা ঠিক হয়,
তবে ও আজ রাতেই পৃথিবীটা সরাবে।
আমি কি বলেছি যে তোমার ধারণাটা আমার একটুও পছন্দ না?
- আমারও একই কথা। - আমিও তা-ই বলি।
আমার এসবের কোনো কিছুই ভালো লাগছে না।
কিন্তু অন্তত এখন আমরা জানি আমরা কার বিরুদ্ধে লড়াই করছি
এবং আমাদের কী করা উচিত।
আমাদের শুধু একটা প্ল্যানের দরকার।
আমি দুঃখিত।
আমি ঠিক নাক গলাতে চাইছি না, তবে...
সবাই খুব টেনশন করছে।
ও কি ঠিক হয়ে যাবে?
কিন্তু তুমি তো ওকে বলেছো, তাই না—
যে এই ম্যাক্স আসলে একটা ছদ্মবেশী শয়তান ছিল?
ও যে ওকে ঠকাচ্ছিল, মিথ্যা বলছিল।
অবশ্যই বলেছি।
অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু ও কথা শুনছে না।
আজ রাতে আমাদের ওকে লাগবেই, নইলে আমরা হেরে যাব।
ওই ম্যাক্স ওকে ঠিক কী বলেছে?
খুব ভয়ংকর আর বাজে সব কথা।
ও বলেছে আমি নাকি তোমাদের কিডন্যাপ করেছি।
- কী! - তুমি তো আমাদের উদ্ধার করেছো।
আমি জানি।
এটা তো সবচেয়ে খারাপ কথা নয়।
ও ওকে বলেছে যে আমি দুনিয়াটা বাঁচাতে চাই না, আমি এটা শেষ করতে চাই।
- ও এটা বিশ্বাস করল কীভাবে? - কারণ ও একটা আস্ত বোকা, তাই।
না থমাস, ও মোটেও বোকা নয়।
এই শয়তানটা খুব শক্তিশালী আর ও ওই ব্ল্যাক থিং-এর হয়ে কাজ করে।
ও হলির মন বিষিয়ে দিয়েছে
আর ওকে আলোর পথ থেকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে গেছে।
তাহলে কি আমাদের এখন হাল ছেড়ে দিয়ে বাড়ি চলে যাওয়া উচিত?
- বাড়ি চলে যাবে? - আমাদের বাবা-মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য।
আমরা সবাই মারা পড়ব।
তোমার সমস্যাটা কী?
চুপ থাকো তো, গাধা কোথাকার।
দয়া করে আমরা নিজেদের মধ্যে লড়াই না করি।
আমি জানি আমরা সকলেই বিচলিত।
কিন্তু হয়তো ডেরেক ঠিকই বলছে।
হয়তো আমি হেরে গেছি, আর ওই ব্ল্যাক থিং জিতে গেছে।
না, আমরা ওকে কিছুতেই জিততে দেব না।
বুঝলে? আমরা জিততে দেব না।
তোমরা হলিকে চেনো না, মরা যেমন চিনি।
কিন্ডারগার্টেন থেকেই আমি ওর সবচেয়ে ভালো বন্ধু।
ডেবির সাথেও ওর খুব ভাব।
- আর ও জোশকে খুব পছন্দ করে। - না, একদম না।
- ও করে। - একদম ঠিক।
আমার কথা হলো, আমরা সকলে মিলে কথা বললে হয়তো ওর মতিভ্রম ঠিক করা সম্ভব।
আমরা তাকে পুনরায় আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে পারি।
ম্যারি ঠিকই বলেছে। আমরা পারব এটা করতে।
আলোর পথে ফেরো। আলোর পথে ফেরো।
আলোর পথে ফেরো। আলোর পথে ফেরো।
সিকিউরিটি ক্যামেরা আর ওই প্লেটগুলোর কথা বললে...
ওটা বোল্ট কাটার ছিল না।
হ্যাঁ স্যার, আপনি একদম ঠিক বলেছেন।
সে বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
অগোছালো কাজ।
ওই শয়তান দানবগুলোর কোনো একটা হতে পারে।
দানব কি তালা আর ক্যামেরা ভাঙে?
আমার তা মনে হয় না।
এটা ও-ই।
বাকিদের খবর দাও। বলো অস্ত্র নিয়ে তৈরি থাকতে।
আমরা ভেতরে ঢুকছি।
আপসাইড ডাউনের বেসে একটা হেলিকপ্টার একদম তৈরি আছে।
আমরা উড়ে অ্যাবিসে যাব, ওই শয়তানটাকে খতম করে বাচ্চাদের বাঁচাব,
তারপর সটান নিচে নেমে আসব।
ওটা ওড়াবে কে শুনি?
- এটা হেলিকপ্টার। ওদের নিশ্চয়ই পাইলট আছে। - ঠিক।
- আমরা কাউকে দিয়ে জোর করে ওড়াব। - আবার একটা কিডন্যাপের প্ল্যান। দারুণ।
পাইলট ফাটলের ভেতর দিয়ে হেলিকপ্টার ওড়াবে কীভাবে?
মানে কী? আমরা স্রেফ ওটার ভেতর দিয়ে উড়ে যাব।
- কী! - গাধা একটা।
স্রেফ ওটার ভেতর দিয়ে উড়ে যাবে মানে?
পাখাগুলো ৪০ ফুট বড়। ওটা ওখানে ঢুকবে না।
স্টিভ এসব কথা সবসময় শোনে কিন্তু ও ঠিকই ঢুকে যায়। তাই না?
- তোমার সমস্যাটা কী বলবে? - মজা করছি।
সবাই চুপ করো তো।
শোনো, কারও কাছে যদি কোনো আলাদিনের চেরাগ থাকে, তবে ঝটপট বলে ফেলো।
নইলে আমাদের এই ঝুঁকি নিতেই হবে। হয় উড়ব, না হয় মরব।
- হয় উড়ব না হয় মরব। - তাহলে তো মনে হয় মরবই।
আমরা যদি ঠিকমতো একটা প্ল্যান করে এগোই, তবে মরব না।
আমরা কি অন্য কোনো উপায়ের কথা ভাবতে পারি?
হ্যাঁ। মনে হয় আমরা মরব।
- তুমি বললে আমাদের ২,০০০ ফুট ওপরে উঠতে হবে... - ওর বাজে কথা শুনো না, জিম।
- তোমরা কেউ কারও কথা শুনছো না। - শোনো সবাই!
তোমরা এটা করবে কীভাবে?
"আলাদিনের চেরাগ..."
আমরা কি কাজের কথায় ফিরতে পারি?
আমরা কি হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকব?
ওপরে ওঠার জন্য কোনো আলাদিনের চেরাগ লাগবে না।
- ...একটা এরোপ্লেন! - আমি না—
ওসব ফালতু জাদুর কোনো দরকার নেই আমাদের!
সরি। আমাদের ওসব দরকার নেই।
একটা আলাদিনের চেরাগ!
আমাদের হাতের কাছেই একটা মস্ত বড় শিম গাছ আছে।
ধরো এই টর্চটা হলো টাওয়ার, আর এই স্প্রিংটা...
হলো যাতায়াতের সেতু।
আমরা টাওয়ার থেকে কখনোই অ্যাবিসে পৌঁছাতে পারব না, তাই তো?
কিন্তু ম্যাক্স বলেছে ভেকনা আমাদের জগতগুলোকে কাছাকাছি টেনে আনছে।
তাই আমরা ওকে সেটা করতে দেব।
আর আমরা শুধু অপেক্ষা করব
ও যখন জগতগুলোকে একদম নাকের ডগায় আনবে, তখন,
এবং টাওয়ারটা যখন ফাটলের মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হবে,
অমনি! এল ওর জাদু দেখাবে,
ও ধ্যান করে ভেকনার মাথায় ঢুকে যাবে
আর ওকে আচমকা আক্রমণ করবে।
এবার বুঝবি মজা, গাধা কোথাকার।
আর তারপর ওর যাদু বন্ধ করে জগতগুলোর নড়াচড়া থামিয়ে দেবে।
ব্যাস, কেল্লাফতে! আমাদের রাস্তা একদম পরিষ্কার।
আমাদের শুধু ওটা বেয়ে অ্যাবিসে উঠে যেতে হবে।
- ভালো বুদ্ধি। - মন্দ না।
- ধন্যবাদ। - কিন্তু একটা বড় সমস্যা আছে।
আমি ভেকনার মনের নাগাল পাচ্ছি না। সে বড্ড দূরে।
একটু চেষ্টা করে দেখো না? বেশি করে খাবার খেয়ে দেখবে নাকি?
তার চেয়ে বরং এক কাজ করি...
আমরাই তোমাকে ওর একদম কাছে পৌঁছে দেব।
আপসাইড ডাউনের ল্যাবটা তার আস্তানার ঠিক নিচে এবং সেটা এখনো সময়ের প্রভাবমুক্ত অবস্থায় রয়েছে।
যার অর্থ ব্রেনারের গবেষণার যাবতীয় সরঞ্জাম সেখানেই আছে, যার মধ্যে...
সেই বাথটাবটা।
তুমি যদি ওর মনে ঢুকতে পারো, তবে আমি তোমাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাব,
আমি তার কলুষিত মনের অলিগলি চিনি।
আমারও সেখানে থাকা উচিত।
এই ফন্দিটা খাটবে হেনরিকে রুখতে পারলে, আর জেন এখন একাই লড়ছে ওর সাথে।
এটা এমন হওয়ার প্রয়োজন নেই।
আমি জেনের পিছু পিছু ওর মনের ভেতরে ঢুকে পড়ব।
আমরা দুজনে মিলে আমাদের ভাইকে খতম করতে পারব।
আচ্ছা, বেশ।
দুই বোন মিলে ভাইকে মারবে। আমরা বাচ্চাদের বাঁচাব আর হিরোর মতো ঘরে ফিরব।
আর লুকাস যদি ঠিক বলে থাকে, তবে আমাদের হাতে সময় একদম কম, জলদি করতে হবে।
শেষ একটা কথা আছে।
সোনায় সোহাগা ব্যাপার।
বের হওয়ার সময় আমরা ওই এক্সোটিক ম্যাটারের কাছে একটা বোমা রেখে আসব।
একটা টাইমার সেট করে আপসাইড ডাউন থেকে পালিয়ে আসব।
ব্রিজটা ভেঙে পড়বে, আর তার সাথে সাথে,
অ্যাবিস, ডেমোরা, মাইন্ড ফ্লেয়ার, সবকিছু চিরতরে নিঃশেষ হয়ে যাবে।
খেল খতম।
হলি! হলি!
শান্ত হও। সব ঠিক আছে। তুমি এখন নিরাপদে আছো।
তুমি এখন বিপদমুক্ত। তুমি আমাদের কাছে আছো। বুঝলে?
ফিরে আসায় স্বাগতম, হলি।
স্বাগতম।
উনি কোথায়?
মিস্টার হোয়াটসিট?
উনি নিচতলায় আছেন।
উনি তোমার জন্য খুব চিন্তা করছেন।
বড্ড দুশ্চিন্তায় আছেন।
না, না, না। ম্যারি, আমার কথাটা শোনো।
মিস্টার হোয়াটসিট আসলে ভালো লোক নন। উনি আমাদের বাঁচাননি।
- উনি— - উনি আমাদের অপহরণ করেছেন?
ও পৃথিবী ধ্বংস করতে চায়? হলি, মিস্টার হোয়াটসিট আমাদের সব সত্যি বলেছেন।
ওগুলো সব মিথ্যা কথা। খুব বাজে আর জঘন্য মিথ্যা!
- না, একদম না! - তুমি যে মেয়েটার সাথে দেখা করেছিলে, ওই যে ম্যাক্স।
সে কোনো মানুষ নয়।
ও একটা দানব।
ও তোমার মাথা খারাপ করে দিয়েছে।
এটা সত্যি না।
ম্যাক্স একজন বন্ধু,
আর ও আমাদের সাহায্য করছে।
সে আমাদের বাড়ি এবং পরিবারের কাছে ফিরে যেতে সাহায্য করছে।
আমরা সবাই এখানে বন্দি।
মিস্টার হোয়াটসিটের মনে আমরা আটকে গেছি।
তোমরা যা যা দেখছো, তার কোনো কিছুই সত্যি না!
বিশ্বাস করো, আমি সত্যি বলছি।
প্লিজ।
তোমাদেরকে আমায় বিশ্বাস করতে হবে। তোমাদেরকে আমায় বিশ্বাস করতে হবে।
তোমাদেরকে আমায় বিশ্বাস করতে হবে।
ডেরেক।
ডেরেক, ওদের বলো তো।
তাদের বলো। এখনই বলো!
তারা ঠিকই বলছে, হলি।
ম্যাক্স আমাদের সাথে মিথ্যা কথা বলেছে।
আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।
ও আমাকে যা যা দেখিয়েছে, তা সব...
মনে হচ্ছিল সব সত্যি।
আমি জানতাম যে জঙ্গলে যাওয়া ঠিক হবে না।
কিন্তু তবুও আমি ওখানে গিয়েছিলাম, আর...
আর আমার এখন খুব...
নিজেকে খুব বোকা মনে হচ্ছে।
- তুমি বোকা নও হলি। - এর কোনোটাতেই তোমার দোষ নেই।
হলি।
শোনো, আসল কথা হলো তুমি এখানে আছো। তুমি একদম সঠিক সময়ে—
হলি, থামো!
শয়তান মেয়ে! ধরো ওকে!
ধরো ওকে!
আমি আরও একটু ভালো ল্যান্ডিং আশা করেছিলাম, তবে...
মনে হয় এতেই কাজ চলে যাবে।
স্বাগতম।
এত মানুষের মধ্যে, তার সঙ্গেই যেতে হলো।
এল তাকে বিশ্বাস করে। আমাদেরও হয়তো তা-ই করা উচিত।
না, সে কোনো ফন্দি আঁটছে। আমি সে বিষয়ে নিশ্চিত। আমি কেবল...
এল আমার কথা কানেই তুলবে না।
ওখানে তোমাদের দুজনের মধ্যে কী হয়েছিল আসলে?
ওর ধারণা আমি ওকে বিশ্বাস করি না।
- কিন্তু ওটা সত্যি না। - না, অবশ্যই না।
তা ওকে সেটা বুঝিয়ে বলেছো কি?
ও নিজের ক্ষমতা নিয়ে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী।
কিন্তু বিষয়টি আসলে তা নয়।
আমি কিন্তু তোমার কাছে ওটা জানতে চাইনি।
এই বিপদ কাটলে আমি আমাদের সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টা করতে পারি,
কিন্তু এখন আমাকে নিশ্চিত করতে হবে যে সে যেন জীবিত ফিরে আসে।
কালী যদি একটুও উল্টোপাল্টা কিছু করে, তবে খোদার কসম, আমি ওকে মেরে ফেলব।
আমি ওকে মেরেই ফেলব। হাত একটুও কাঁপবে না আমার।
ওই ট্যাঙ্কের ভেতর এল-এর সামান্যতম ক্ষতি হলেও আমি তাকে বের করে আনব।
ওকে আমি কিছুতেই হারাতে পারব না জয়েস।
পারব না।
শেষবারের মতো একবার তল্লাশি।
শেষবারের মতো একবার তল্লাশি।
এসব মাথামুণ্ডু বুঝতে গেলে আমার মাথা ঝিমঝিম করে।
আমি মনে হয় ফিজিক্সে সি- পেয়েছিলাম, তাই পণ্ডিতদের ওপরই ভরসা রাখছি।
তোমার কি মনে হয় এই পরিকল্পনাটা কাজে দেবে?
মানে ওটা সফল হতেই হবে, তাই না?
ইশ, আমি যদি এখানে ফেঁসে না থাকতাম।
নিজেকে একদম বেকার মনে হচ্ছে।
এল আর কালীর তো তোমাকে লাগবেই। আসলে আমিই কোনো কাজের নই।
তুমি চাইলে এখনো ওখানে যেতে পারো, ওই অ্যাবিসে।
ওটা খুব বিপজ্জনক।
আমি ওদের জালে আটকে যাব, তারপর কী দশা হবে কে জানে।
গতবার খুব কাছে যাওয়ায় ও আমাকে চর হিসেবে ব্যবহার করেছিল আর তাতে তুমি প্রায় মরেই যেতে, ম্যাক্স।
তুমিই তো আমার জীবন বাঁচিয়েছিলে, মনে আছে?
আর ওই শয়তানটার হাতে আমি কতবার মরতে বসেছি তার কোনো ইয়ত্তা নেই,
তাই এখন ওসব আমার গা সওয়া হয়ে গেছে।
এতদিন হেনরির মনের ভেতরে তুমি টিকে ছিলে কীভাবে?
সত্যি বলতে, ভাগ্যের জোরেই বেঁচে ছিলাম।
আমি একটা গুহা খুঁজে পেয়েছিলাম।
এটা তার অতীতের একটি স্মৃতি ছিল।
আর সে সেটাকে ভীষণ ভয় পেত।
সে ভেতরে ঢুকত না।
ওটা দেখলেই ওর আত্মারাম খাঁচাছাড়া হওয়ার দশা হতো।
এই সব দানবীয় চেহারার আড়ালে ওর ভেতরে এখনো একটা মানুষ আছে।
ও এক বিকারগ্রস্ত লোক যে নিজেকে খোদা ভাবে, কিন্তু
আদতে সে মানুষই।
আসলে আমরা সবাই কোনো না কোনো কিছুকে যমের মতো ভয় পাই, তাই না?
হুইলার, তোমার যন্ত্রের কী খবর?
ধরো, এই বাইকের ঘণ্টাটাই বোমার রিমোট ট্রিগার।
তো যখন এই তারটা এখানে লাগবে, তখনই বুম।
জিনিয়াস!
কিন্তু একটা বিষয় আছে, আমরা আপসাইড ডাউন উড়িয়ে দিতে পারব কিনা জানি না..
বাটহোল সার্ফারসের মধুর সুরে।
বোমাটা আমি বানিয়েছি, তাই কোন গান বাজবে সেটা আমিই ঠিক করব।
অবশ্যই তুমিই পছন্দ করবে।
তবে শর্ত একটাই, গানটা যেন জুতসই হয়।
এটা একটি চমৎকার গান!
দুনিয়া বাঁচানোর লড়াইয়ে এই গানটা বড্ড পানসে লাগছে।
তাহলে তোমার পছন্দ কী?
'দ্য রিপ্লেসমেন্টস'। এর চেয়ে ভালো গানের কথা আমি ভাবতেই পারছি না।
বাদ দাও, এত মিউজিক এক্সপার্ট সাজতে হবে না।
হেই, হেই!
তুমি কি এর আগে কখনো এগুলো চালিয়েছো?
ঠিক এটা না, তবে ওই যে বিবি গান, এয়ার রাইফেল আর 'ডাক হান্ট' ভিডিও গেম খেলেছি।
'ডাক হান্ট'।
ও এটা খুব ভালো পারে।
আমার কাছে আরও ভালো বুদ্ধি আছে।
এসো।
দেখতে যতটা নিরীহ, আসলে এর চেয়েও বেশি প্রাণঘাতী।
তুমি কি শিওর?
হুম।
- ডাস্টিন? - বলো?
হেই, আগে আমি যা যা বলেছি... আসলে আমি—
- আরে ছাড়ো তো, ওসব আমি মনে রাখিনি। - না, শোনো একটু...
না রে, কাজটা একদমই ঠিক হয়নি।
এডি...
সে তোমার প্রাণ বাঁচিয়েছিল।
আমাদের সবার প্রাণ বাঁচিয়েছিল ও।
আমি জানি ও তোমার কাছে কী ছিল। তোমার জন্য সময়টা কত কঠিন ছিল আমি বুঝতে পারি।
কিন্তু আমি...
তোমার পাশে থাকার বদলে, আমি শুধু
আসলে আমি রেগে গিয়েছিলাম।
রাগটা হয়েছিল কারণ
সব তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছিল।
কারণ...
আমি সত্যিই তোমাকে খুব মিস করছিলাম।
আমি আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুটাকে মিস করছিলাম।
হ্যাঁ, আমিও আমার বেস্ট ফ্রেন্ডকে মিস করেছি।
সত্যি কথা বলতে কি, রুবিকস কিউব দিয়ে কারো বুদ্ধি মাপা যায় না।
তোমার প্ল্যানটা সত্যিই জিনিয়াসদের মতো।
হ্যাঁ, তবে...
আমি সেরা মানুষের কাছ থেকেই শিখেছি।
ঠিক বলেছ।
এটাই ইতিবাচক দিক।
এটা ব্যর্থ হলে আমরা দুজনেই শেষ।
তুমি মরলে আমিও মরব।
তুমি মরলে আমিও মরব।
গেট খুলতে বাকি পাঁচ, চার, তিন, দুই...
খুল যা সিমসিম।
কেল্লাফতে!
গেটের সিগন্যাল পাওয়া গেছে। আবারও বলছি, সিগন্যাল ওকে।
ব্রো'কে বলো টাইমিংটা একদম জবরদস্ত হয়েছে!
কারণ সান্তার স্লেজ গাড়িটা...
...পুরোপুরি তৈরি।
মাঙ্গের চাচা!
হে ঈশ্বর! হে ঈশ্বর!
কেন?! কেন?! ঠিক এই সময়েই কেন তোমাকে এমন ঝামেলা করতে হচ্ছে?
কী? আমাকে ভালো লাগছে না?
আমি না! আমি ওটা না! আমি ওটা করি নাই...
হ্যালো, বোন।
হ্যালো।
তুমি কি আগে কখনো এটা করেছ?
এভাবে মন শেয়ার করেছো কখনো?
করেছো কি?
আমার অন্য সাইকিক বন্ধুদের সঙ্গে প্রায়ই।
আমি এখানে আসতে পেরে খুব খুশি।
আমিও।
গতকালের অত সব কাণ্ডের পরেও?
মাথায় কিছু খেলছে কি?
এসবের মানে কী?
ভাবছিলাম ব্রিজ ওড়ানোর সাথে ডক্টর কে-র ল্যাবটাও ওড়াব।
ওর সব এক্সপেরিমেন্ট শেষ করব।
কে আবার নতুন একটি ল্যাব বানাবে।
তাহলে ওকে মেরে ফেলব।
সে পাপার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। ও গেলে আবার অন্য কেউ আসবে।
আমরা কোথাও পালিয়ে যেতে পারি। আত্মগোপন থাকতে পারি।
ওহ, এমন জায়গায় যেখানে ঝরনা আছে?
ওসব স্রেফ দিবাস্বপ্ন জেন।
মাইকের সঙ্গে পালালে, হয়তো কিছুদিন নিরাপদ থাকবে।
কিন্তু যখন তারা তোমাকে খুঁজে পাবে, আর তারা অবশ্যই পাবে,
তারা মাইককে মারবে, যেভাবে তারা আমার বন্ধুদের মেরেছে।
তারপর ওরা তোমাকে নিয়ে যাবে আর তোমার রক্ত দিয়ে—
ওরা আরও বাচ্চা বানাবে যারা আমাদের মতো কষ্ট পাবে।
এই শিশুদের ব্যবহার করে তারা আরও গেট ও জগত উন্মুক্ত করবে।
তুমি কি বুঝতে পারছ না, জেন?
এটা একটা চক্র।
এক ভয়াবহ এবং নৃশংস চক্র।
কিন্তু আমরা চাইলেই এটা রুখতে পারি।
আজ রাতেই।
কীভাবে?
আমাদের ভাইকে মারার পর,
শিশুদের উদ্ধারের পর,
আমরা অন্যদের সাথে যাব না।
আমরা ব্রিজেই ঘাপটি মেরে থাকব।।
যখন ওই আপসাইড ডাউনটা ধুলোয় মিশবে...
আমরাও তার সাথে বিলীন হয়ে যাব।
জেন, এটাই একমাত্র উপায়।
একমাত্র পথ।
ধ্যান শেষ হয়েছে, ভদ্রমহিলাবৃন্দ?
কারণ সান্তার গাড়ি এখন ওড়ার জন্য রেডি!
মা?
উম...
আজ একটু আগে তুমি যখন জানতে চেয়েছিলে ভেকনার মনে কী ঘটেছিল,
আমি তখন সবকিছু বলিনি।
যখন ভেকনা আক্রমণ করে,
ও তোমার নিজের মনকেই তোমার শত্রু বানিয়ে তোমাকে দুর্বল করে ফেলে,
তোমার ভেতরের সব যন্ত্রণা বাইরে টেনে এনে।
তাই আমি সব ভালো স্মৃতিগুলো মনে করে ওর সাথে লড়াই করেছি,
শৈশবের সেই মধুর স্মৃতিগুলো,
যখন বুক ভরা সাহস ছিল আমার,
এবং যখন আমি পরম সুখে ছিলাম।
এভাবেই আমি ম্যাক-জি এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলাম
এভাবেই ডেমোগুলোকে মেরেছি।
ভেবেছিলাম ভেকনার ক্ষেত্রেও এটা কাজ করবে।
কিন্তু ও এর থেকেও বাঁচার পথ বের করে ফেলেছে।
মা, সে আমায় অনেক কিছু দেখিয়েছে।
ও আমাকে খুব জঘন্য আর ভয়ংকর সব জিনিস দেখিয়েছে।
না, শোনো।
সে যা-ই দেখাক, তা বাস্তব নয়। সে ছলনা করে, সে মিথ্যে বলে।
না, সে তা করে না।
ও যা দেখিয়েছে...
ওগুলো ওর কারসাজি নয়।
ওগুলো আমার থেকেই এসেছে।
মা, সে সবকিছু দেখতে পায়।
ও আমার ভাবনার অলিগলি সব দেখে।
আমার স্মৃতিগুলোতেও ওর নজর আছে।
আর সে আমার সকল গোপন কথা জানে।
কিন্তু ম্যাক্স বলল যে ও নিজেও ভয় পায়, তার মানে আমি চাইলে ওকে হারাতে পারব।
তবে ওটা করতে গেলে,
তোমাকে একটা জিনিস জানতে হবে...
আমার মনে হয় তোমাদের সত্যটা জানা উচিত।
ওহ। উম...
সরি। এইমাত্র হপারের খবর পেলাম।
ও ১৫ মিনিটের মধ্যে চলে আসবে। তাই আমাদের পাঁচ মিনিটের মধ্যে বের হওয়া দরকার।
সব ঠিক আছে তো?
আসছি, মিনিট খানেক সময় দাও।
দাঁড়াও।
আমার মনে হয় তোমারও এটা শোনা দরকার।
সবারই এটা শোনা দরকার।
আমি...
আমি তোমাদের কাউকে এই কথাটা আগে বলিনি
কারণ...
কারণ আমি... আমি চাইনি তোমরা আমাকে অন্য চোখে দেখো।
কিন্তু সত্যিটা হলো...
সত্যিটা হলো আমি আসলেই তেমন।
আমি আলাদা।
আমি শুধু...
আমি শুধু ভান করেছিলাম যে আমি আলাদা নই কারণ আমি ওটা হতে চাইনি।
আমি সকলের মতো হতে চেয়েছিলাম। আমি আমার বন্ধুদের মতো হতে চেয়েছিলাম...
অথচ আমি তোমাদের মতোই।
আমি তোমাদের মতোই... প্রায় সবদিক দিয়েই।
আমরা... আমরা গভীর রাত পর্যন্ত ডিঅ্যান্ডডি খেলতে পছন্দ করি।
আর মাইকের বেসমেন্টের ওই পুরনো গন্ধটাও আমাদের খুব ভালো লাগে।
আর আমরা সাইকেল চালিয়ে মেলভ্যাল্ডে গিয়ে মিল্কশেক খেতে খুব ভালোবাসি।
আর আমাদের ভালো লাগে জঙ্গলের ভেতর হারিয়ে যেতে।
আর ফ্যামিলি ভিডিওতে ঢুকে কোনটা ভাড়া নেব, তা নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়ি।
আর শেষে গিয়ে সেই লক্ষবারের মতো 'হোলি গ্রেইল' সিনেমাটাই নিই।
আর... আর আমরা পপকর্নে অতিরিক্ত বাটারের সাথে মিল্ক ডাডস মিশিয়ে খেতে ভালোবাসি।
আর কোকের সাথে পপ রক্সের চটপটে স্বাদটাও আমাদের প্রিয়।
আমাদের সাইকেল রেস আর কমিকস অদলবদল করতে ভালো লাগে
নাসা, স্টিভ মার্টিন আর লাকি চার্মস পছন্দ করি।
বলতে গেলে সব ব্যাপারেই আমাদের মিল আছে।
আমি শুধু... আমি আসলে...
আমি...
আমি...
আমি...
আমার মেয়েদের প্রতি কোনো টান নেই।
মানে...
পছন্দ তো করিই, তবে তোমাদের মতো করে নয়।
আর আমি... একজনকে খুব পছন্দ করতাম
যদিও জানি ও আমার মতো না।
কিন্তু পরে বুঝলাম ও কেবল আমার ট্যামি।
আসলে ট্যামি দিয়ে বোঝাতে চেয়েছি, ওটা স্রেফ একপাক্ষিক এক ভালো লাগা ছিল।
আসল লড়াইটা ছিল আমার নিজের ভেতরে।
আর আমি ভেবেছিলাম, শেষ পর্যন্ত আমি নিজেকে মেনে নিয়েছি।
কিন্তু আজ...
আজ ভেকনা আমাকে এক বীভৎস পরিণতির কথা শোনাল,
যদি সত্যিটা বলি তোমাদের।
সে আমাকে এক ভবিষ্যৎ দেখাল, আর সেই ভবিষ্যতে,
তোমরা কেউ কেউ আমার জন্য চিন্তিত।
আমার জীবন কঠিন হবে ভেবে তোমরা চিন্তিত।
আর তাতে আমার মনে হয় আমার মধ্যেই কোনো ত্রুটি আছে।
তাই আমি... তাই তোমাদের দূরে ঠেলে দিই।
আর আমাদের মধ্যে সেই বন্ধুত্বের বাঁধন আলগা হতে থাকে
দূরত্ব বাড়তে বাড়তে শেষ পর্যন্ত আমি একা হয়ে যাই।
আমি জানি এসবের কিছুই ঘটেনি, আর ভেকনা ভবিষ্যৎ দেখতে পায় না।
কিন্তু সে আমাদের মনে উঁকি দিতে পারে, আর সে অনেক কিছুই জানে।
ওটা একদম সত্যি মনে হচ্ছিল। সত্যি মনে হচ্ছিল।
উইল শোনো।
আমার কথা শোনো।
এমনটা কখনোই হবে না।
তুমি আমাকে কখনোই হারাবে না।
কোনোদিনই না।
ঠিক আছে। ঠিক আছে।
আর আমাকেও কক্ষনো হারাবে না।
আমাকেও হারাবে না।
আমাকেও না।
আর আমাকেও না।
আমাকেও না।
মনে হয় তোমার কোনো ট্রুথ সিরাম দরকার ছিল না, তাই না?
দুঃখিত। ব্যাপারটা বাজে, কিন্তু তোমাকে আমাকে জড়িয়ে ধরতেই হবে।
ওহ ম্যাক্স।
কেবল কল্পনা করো, আমি তোমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরছি।
বেশ।
এল।
আমি জানি, ভেকনাকে হারানোর মতো শক্তি তোমার আছে।
কিন্তু ও আমাদের পৃথিবীতে পালিয়ে আসতে পারে,
আর সেখানেও তাকে মোকাবিলার জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।
আমাদের গুলি আর আগুন আছে, কিন্তু সেগুলো সৈন্যদের বাঁচাতে পারেনি।
আমাকে সেখানে থাকতেই হবে।
আর আমি প্রস্তুত।
আমি ওকে দেখিয়ে দিতে চাই যে আমি আর ওকে ভয় পাই না।
খবর পাকা। অ্যান্ডারসন ওই পেট্রোলে আছে।
ঠিক আছে ব্রাভো ওয়ান। কড়া নজর রাখো। ওভার।
হেই ম্যাককনেল।
আজ রাতে কি কোনো ডেলিভারি আছে যেটা আমি জানি না?
না প্রাইভেট, তেমন কিছু নেই।
আরে বন্ধু, তুমি করছোটা কী?
এবার শুধু খেলা হবে!
মেলন।.
সর্বনাশ!
সরি!
প্রথম গেট ক্লিয়ার।
ঘড়ির দশটা আর এগারোটার দিকে টাওয়ারে দুই আপদ বসে আছে।
এবার শুরু হবে আসল মজা।
- জলদি এসো! - তাড়াতাড়ি চলো!
যাও! যাও! গাড়ি চালাও!
জেসাস ক্রাইস্ট!
সবাই ঠিক আছো? ঠিক আছো সবাই?
- হ্যাঁ। - তুমি ঠিক আছো? সবাই ঠিক আছো?
হেই, দারুণ শুট করেছো ওখানে।
তুমিও।
আমি তো ভেবেছিলাম এটুকু স্রেফ পানিভাত হবে।
তা তো ছিলই।
রেডি তুমি?
রেডি।
সময় হয়ে গেছে।
অনুবাদ ভালো লেগে থাকলে কাচ্চি/কফি খাওয়াতে পারেন (Bkash: 01963791985, Nagad/Rocket: 01743097637)
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.