All language subtitles for Dies Irae 2025 JHS Dual Audio Hindi (ORG 5.1) 1080p WEB-DL

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic Download
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali Download
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
da Danish
nl Dutch
en English Download
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German Download
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hmn Hmong
hu Hungarian Download
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian Download
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese Download
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean Download
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian Download
mg Malagasy
ml Malayalam Download
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian Download
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian Download
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil) Download
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian Download
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese Download
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish Download
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu Download
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

স্যার, এই বিল।

এই দুটো?

- এজন্যই। - আচ্ছা।

আচ্ছা।

হ্যালো?

আমি সাইটে।

কখন?

হ্যাঁ, হয়েছে।

এখন, আস্তে করে টানো।

হুম, আরেকটু।

থামো। থামো।

- স্যার, টানবো? - হুম।

স্যার, সাবধানে টানুন।

হয়েছে! হয়েছে!

হ্যাঁ! হ্যাঁ!

ধীরে... ধীরে...

টানো...

ছেড়ে দিয়ো না... হুম, ধরো...

- আরেকটু। - এখানে রাখো।

এদিকে ঘুরাও।

অনুবাদ ও সম্পাদনায় সুশান্ত চক্রবর্ত্তী সৌমিক

Diés Iraé (বিচারের দিন)

থামো, ফোনটা ধরতে হবে।

এসবের তোয়াক্কা করি না।

হুম, সোনা।

আমার বন্ধুর বাসায়।

জরুরী কিছু?

তাহলে পরে ফোন করি?

আচ্ছা, বাই।

আরে দোস্ত!

কার্পেটে না।

চিল ভাই, ঠিক আছে।

- অ্যাশট্রে ব্যবহার কর। - আচ্ছা।

পেয়েছিস?

হ্যাঁ।

বাইরে কে দাঁড়িয়ে আছে?

ভিক্টর।

ওকে ভিতরে আসতে বল। কেই বাইরে যাবিনা, ভাইলোগ।

এই...

হেই, কী অবস্থা?

- কেমন আছিস? - ভালো।

- আসার জন্য ধন্যবাদ। - অবশ্যই, যেকোনো সময়।

- দীপক কোথায়? - ওকে দেখিসনি?

- না। - খুঁজে দেখি তাকে। - আচ্ছা।

তারপর আসে অবচেতন মন।

যখন আমরা অবচেতন মনকে স্পর্শ করতে পারি,

তখনই মহাবিশ্বের সাথে সংযোগ স্থাপন করি।

মহাবিশ্ব আমাদের সবকিছুই দেয়, যেমন...

- বরফ। - হ্যাঁ।

আমরা যা-ই কামনা করি, মহাবিশ্ব আমাদের তা-ই দেয়।

এটা পুরোপুরি ইতিবাচক বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে।

আমরা সবকিছুই পাই ইতিবাচক বক্তব্যের মাধ্যমে।

মাঝেমধ্যে আমরা মনে করি...

তোমার নাম কী?

টিনা।

এখানে কার পরিচিত?

আমি নিখিলের বন্ধবী।

আমাদের এগুলো বারবার বলতে হবে।

- চিয়ার্স। - চিয়ার্স।

হ্যাঁ, আমি ওকে বলব।

আচ্ছা।

ঠিক আছে। ফোন করব।

এই, কানির ব্যপারে শুনেছিস?

কোন কানি?

- আমাদের সহপাঠী, কানি। - হুম।

ও আত্মহত্যা করেছে।

কী?

হুম, সবাই গ্রুপে ম্যাসেজ দিচ্ছে।

আকাশ মাত্রই ফোন করে বললো।

- আসলেই? - হ্যাঁ, দোস্ত। আসলেই।

দুই দিন কেটে গেছে মারা যাওয়ার।

অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া গতকাল ছিল।

ধ্যাৎ শালা।

কেন করেছে জানিস?

জানিনা।

কোনো আত্মহত্যার নোট?

কিছু ছিলনা বললো।

হুমম...

আমাদের যাওয়া উচিত না?

আগামীকাল গেলে কীরকম হয়, বল?

হ্যাঁ, দেখতে যাবো।

- এখানে রাখো। - আচ্ছা। আমি আসছি এখনই।

দশটি চেয়ার রেখে বাকিগুলো নিয়ে যাও।

আচ্ছা।

আমি এখনও যাইনি, আধা ঘন্টা পরে যাব।

পরে ফোন করছি, ঠিক আছে?

ভাই, এটা কানির...

হ্যাঁ, তাই।

তোমরা ওর সাথে পড়তে?

- হ্যাঁ, আমরা সহপাঠী ছিলাম। - আচ্ছা।

কী করো তুমি?

আমি ব্যবসায় আছি।

আমি একজন আর্কিটেক্ট।

শংকর আসোসিয়েটস।

শংকর স্যার?

ওনার ছেলে।

- আমিও একই কাজে আছি। কনট্রাক্টর। - আচ্ছা।

তোমার বাবার সাথে কয়েকবার দেখা হয়েছে।

উনি এখন শহরে আছেন?

- না, আমেরিকাতে। - ওহ, আচ্ছা।

আপনি তার আত্মীয়?

না, প্রতিবেশী।

ওহ।

ভিতরে আসো।

আসো।

তারা কানির বন্ধু।

- বসো। - মধু স্যার!

না, ঠিক আছে।

- বসো। - আহ, আচ্ছা।

আমরা যাই এখন?

আচ্ছা যাও তোমরা। আমি বলে দিবো তাদের।

আচ্ছা, স্যার।

এক সেকেন্ড।

হ্যালো?

কাকু... কিরন?

উপরে আছে।

আচ্ছা।

চা।

ধন্যবাদ।

- আরে দাদা, কখন আসলে? - হেই!

এইমাত্র।

সিগারেট আছে?

হ্যাঁ। অনেকদিন হলো সিগারেট খেয়েছি।

আচ্ছা।

আহ...

কী খবর?

সব ভালো।

কেমন আছো, কিরন?

হ্যাঁ, ঠিক আছি।

ওদের মনে আছে? আমার কাজিন, হরি আর শংকর...

ওরাও টার্ফে খেলতে আসে।

তোমার ক্ষতির জন্য সত্যিই দুঃখিত, ভাই।

দুঃখজনক।

ঠিক আছে।

আমি ঠিক আছি।

কানি তোমাকে কিছু বলেছিল?

না।

মানে...

ব্যক্তিগত কিছু বলেছে?

আমরা বেশি কথা বলতাম না।

যদি তোমার কিছু প্রয়োজন হয়,

সবসময় আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারো।

বর্তমানে... আমার কিছু দরকার নেই।

আপাতত সমস্যা হলো, আমি ভালো করে ঘুমাতে পারিনা।

এটাই।

কারণ হয়তো...

যখন জানালা খুলি, তখন কুয়োটা ঠিক আমার সামনে থাকে।

তাই...

আসলে আমিই প্রথমে এটা দেখেছি।

সেদিন সকালে, যখন তাকালাম...

ভেবেছিলাম শুধু একটা কাপড় পানিতে ভাসছে।

উপর থেকে দেখে সত্যিই বোঝা যেত না।

তারপর আমি বাবা আর সবাইকে কল করে...

বাকি সবকিছু করলাম।

একমাত্র...

সমস্যা হলো...

আমার মনে আছে...

ওর...

মুখটা...

যখন আমরা তাকে সেই কুয়ো থেকে বের করি,

সেই মুখাবয়বটা।

এটুকুই।

এটুকুই...

স্যার, আপনার খাবার দিয়ে দিবো?

না।

আর, স্যার...

আপনার মা ফোন করেছিলেন।

বললেন আপনার ফোন লাগছে না।

- কী বলেছো? - বলেছি সাইট দেখতে গিয়েছেন।

আমি ফোন করব ওনাকে।

- এখন যেতে পারো। - আচ্ছা, স্যার।

তোমার চা।

মা, এটাই নাকি?

হ্যাঁ...

এই কাশির জন্য ডাক্তার দেখাতে পারিস না?

এসব ধুলা আর সিমেন্টের জন্য কাশি।

কমে যাবে।

অন্ততপক্ষে মাস্ক পর...

সেটাও করবি না।

এই ঝামেলার কাজ ছেড়ে অন্য কিছু করিসনা কেন?

কী করতে পারি?

তোর বাবার মতো কিছু?

ওনার মতো পূজা-পার্বণ করলে আমাদের ভাত জুটবে না।

যদি উনি একটা সরকারি চাকরি করতেন,

আমরা এখন একটা সুন্দর ফ্ল্যাটে থাকতাম, ওনার পেনশন দিয়ে চলতে পারতাম।

তোমাকে দেখার জন্যও কাউকে রাখতে পারতাম।

আমার কারো সাহায্যের দরকার নেই।

এটাই আসল সমস্যা।

তুমি কখনো কথা শুনোনা।

তুইও কথা শুনিসনা।

কখন কথা শুনিনি?

ওই মেয়েটা নিয়ে তোর সন্দেহ হয়েছিল যখন, তখনই কথা বলা উচিত ছিল।

তাতে হয়তো মেয়েটা বেঁচে যেতো।

আমি যাই অনুভব করি, সেটা কীভাবে সবার কাছে গিয়ে বলব?

লোকে কী ভাববে?

আর এখন, সেই অনুভূতিটাই সত্যি হয়ে গেল না?

এমন প্রতিভা সবার ভাগ্যে থাকে না।

এটা তোর বাবার আশীর্বাদ।

আহ, সেরা!

আশীর্বাদ দিয়ে বিল পরিশোধ হয় না।

টাকার বিকল্প কিছুই নেই।

দেখেছো? কল আসা শুরু হয়ে গেছে।

দোসা বানিয়েছি। সময়মতো খেয়ে নিয়ো।

আমি যাচ্ছি।

যাওয়ার সময় অন্তত মাস্ক লাগিয়ে যা।

মিডফিল্ডে দে।

ধীরে, ধীরে!

পাস কর।

আয়।

এখানে।

আমি আছি।

খুব ভালো! খুব ভালো!

ভালো শট।

আগামী সপ্তাহে ব্যাঙ্গালোরে যাচ্ছি।

কিছু কাজ আছে।

আমেরিকায় কবে ফিরছিস?

এখনো ঠিক করিনি।

হয়তো আগামী সপ্তাহে।

- এখনো টিকিট কাটিসনি? - না।

আসলে ঠিক করছিলাম আমাদের পার্টির পরদিন যাবো।

কিন্তু কানির কেচ্ছা শুনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।

বিষয়টা আমাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে রে, ভাই।

মেয়েটা মারা যাওয়ার প্রায় ১ সপ্তাহ হয় গেছে।

বিশ্বাসই হচ্ছেনা, তাইনা?

আরে বাড়া, ছাড়তো।

এটা নিয়ে চিন্তা বাদ দে।

কাহিনী খতম।

এমনিই বলছিলাম আরকি।

তো, এখন প্ল্যান কী?

গাঁজা আছে?

চল।

আমরা কোথায় ভুল করেছি?

মেয়েটা...

এতবড় একটা কান্ড করলো...

নিশ্চই খুব দুঃখ পাচ্ছিলো।

আমরা আমাদের সবকিছু উজাড় করে দিইনি?

না...

তেমন কিছুই করিনি।

এখন এসব কথা কী লাভ?

মেয়েটা তো চলে গেছে...

না...

ও কোথাও যায়নি...

আমাদের মেয়ে এখনো আমাদের সাথেই আছে...

- স্যার... - আহ!

কী হয়েছে, স্যার?

এ কী বাল...

এই...

আহ!

রোহান...

রোহান...

স্যার...

স্যার...

সাবধানে...

আমি এসে দেখলাম আপনি সিঁড়ি থেকে পড়ে গেছেন।

কী হয়েছে, স্যার?

আপনি পড়ে গেলেন কীভাবে?

স্যার, রক্ত বের হচ্ছে।

- টিস্যু দাও তো। - আচ্ছা।

চোখের নিচে কালশিটে দাগও আছে, স্যার।

স্যার, হাসপাতালে চলুন।

আমরা আপনার বাবাকে জানিয়েছি।

বাবাকে কেন ফোন দিলে?

উহ... কারণ...

আপনাকে ডাকলাম কিন্তু সাড়া দেননি।

আপনাকে এ অবস্থায় দেখে ঘাবড়ে গিয়েছিলাম।

তো, বাবাকে কল করতে বলেছি?

বোকা!

- হাই, বাবা। - রোহান...

কী হচ্ছে ওখানে?

কিছুনা, বাবা।

আমি মাত্রই উঠলাম।

তুমি অফিসে যাওনি কেন?

আজ যাচ্ছি।

কতদিন হয়ে গেলো, হাহ?

- ডিজাইন পাঠিয়েছো? - এখনো পাঠাইনি, বাবা। আজ রাতে বানাবো।

শোনো, তুমি ওখানে কী করছো তাতে কিচ্ছু যায় আসেনা।

শুধু নিজেকে সামলে নাও।

আর আমাকে ঝামেলায় ফেলবে না, বুঝেছো?

হ্যাঁ, বাবা। ঠিক আছে।

- তোমাকে পরে ফোন করব। - হুম।

আমার থেকে কোন ধোন চাও, কানি?

ভাবছো আমার সাথে পাঙ্গা নিবে?

মাগী!

আমার চুল নিয়ে খেলতে ভালো লাগে, হাহ?

কী হয়েছে? বলো।

পূর্বে আমাদের মাত্র একবার দেখা হয়েছে।

জানিনা বিষয়টা কীভাবে বুঝাবো।

কী সমস্যা?

বলো।

প্রায় সাত বা আট মাস আগে,

স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিটআপ হয়েছিল।

তখনই কানির সাথে আমার দীর্ঘদিন পর দেখা হয়।

আমরা কথা বলা শুরু করলাম...

এবং আমাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হলো।

অনেক ঘনিষ্ঠ হয়ে গেলাম আমরা।

এটা খুব ছোট একটা প্রেম ছিল।

প্রথমে, সবকিছু ঠিক ছিল।

কিন্তু পরে ও একদম পাল্টে গেলো।

হঠাৎ করে, বিয়ে নিয়ে কথা বলতে শুরু করলো।

লাগাতার আমাকে কল আর ম্যাসেজ দেওয়া শুরু করলো।

খুব বিরক্তিকর ছিল ব্যাপারটা।

তাকে বোঝানোর চেষ্টা করি।

কিন্তু কাজ হয়নি।

তাই, আমি তার থেকে কিছু সময় দূরে থাকলাম।

একদম হাওয়া হয়ে যাই।

আশ্চর্যজনকভাবে, এটা কাজ করলো।

কল আর ম্যাসেজ বন্ধ হয়ে যায়।

সে চুপ হয়ে গেলো।

তারপর শুনলাম...

ও আত্মহত্যা করেছে।

কী বলতে চাচ্ছো?

আমার আপনার সাহায্য দরকার।

কানি আমাকে আক্রমণ করছে।

কিছুই বুঝতে পারছি না।

আমি তার বাড়ি থেকে ফেরার পর থেকে,

আমার উপর একপ্রকার অত্যাচার করছে।

জানি অদ্ভুত শোনাচ্ছে,

কিন্তু এটাই ঘটছে।

আমি তার পায়ের শব্দ শুনতে পাচ্ছি।

উপস্থিতিও টের পাচ্ছি।

ও আমাকে ঘুমোতে দেয়না।

এমনকি আমি এখান থেকে চলে গেলেও,

ঘটনাটা চলমান থাকবে। সেটা জানি।

আমার আপনার সাহায্য প্রয়োজন।

আমাকে সাহায্য করবেন?

আমাকে ঠিক কী করতে বলছো?

আপনার কানির ফ্যামিলির সাথে কথা বলতে হবে।

ওর পরিবারকে কী-ই বা বলতে পারি?

জানিনা রে , ভাই।

কোনো ক্রিয়াকলাপ...

কোনোকিছু, যাতে সে শান্তি পায়।

আমার মনে হয় সেটা একমাত্র ওর পরিবারই করতে পারে।

আর কোনো সমাধান দেখিনা।

আর এসব অন্য কাউকে বললে, ওরা আমাকে বিশ্বাস করবে?

কেউ না।

আমি আসলেই জানিনা...

এই বিষয়ে কীভাবে সাহায্য করতে পারি।

ওরা আমার প্রতিবেশী সেটা জানি।

কিন্তু তাদের এই অবস্থায়, আমি এভাবে কিছু বলার সাহস পাচ্ছি না।

দেখুন, আপনি বলেছিলেন আমার বাবাকে চিনেন, তাইনা?

আমার আসলেই এই বিষয়ে আপনার সাহায্য লাগবে।

প্লিজ।

যদি তোমার কথা সত্যি হয়, তবে আমি এক বিষয়ে সহমত।

তার আত্মার শান্তি পাওয়া প্রয়োজন।

আমাদের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী বলা হয় যে,

যখন কেউ মারা যায়...

তখন তার আত্মা...

পৃথিবীতে কিছু সময়ের জন্য তাদের প্রিয়জনের কাছে থাকে।

বিশ্বাস করা হয়,

১৬তম দিনের ক্রিয়াকলাপের পরেই,

আত্মা মুক্তি পায়।

এটা জানা তো, আমরা সেটাকে ১৬তম দিনের ক্রিয়াকলাপ বলি।

হুম।

এজন্যেই এই সময়কালকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বিশেষ করে অপমৃত্যুর ক্ষেত্রে।

সত্যি বলতে, আমি এখনই তোমাকে সান্ত্বনা দিতে কী বলব তা জানি না।

কানির ১৬তম দিনের ক্রিয়াকলাপ কদিনের মধ্যে, তাই তো?

সেই অব্দি, অপেক্ষা করো।

দেখা যাক আমরা কী করতে পারি।

এখন থেকে বাড়ির সব লাইট জ্বালিয়ে রাখবে।

- আর সব পর্দাও খুলা রাখবে। বুঝলে? - হ্যাঁ, স্যার।

এই, কিরন!

- হাই, দাদা। - হাই, দাদা।

চুল কেটেছো?

- হ্যাঁ। - সুন্দর।

ভাইলোগ, কিরনের সাথে পরিচিত হও।

হাই, কিরন।

- হাই, কিরন। - হাই।

পার্টি হচ্ছে?

আরে, কিছু বন্ধুরা শুধু।

- ড্রিঙ্ক? - হ্যাঁ।

আসো।

ব্র‍্যান্ডি? হুইস্কি? ফ্রিজে বিয়ার আছে।

যেকোনো কিছুই চলবে।

হুইস্কি তাহলে।

ব্যবস্থা তো দারুণ হয়েছে!

বরফ?

হ্যাঁ... হ্যাঁ...

পিজ্জা খাবে?

না, এখন না।

- এই নাও। - ধন্যবাদ।

- চিয়ার্স। - চিয়ার্স।

খাসা বাড়ি।

তুমি এখন ঠিক আছো?

ভালো।

ভাবলাম এতে তোমার জন্য ভালো হবে,

তাই খবর দিলাম।

তুমি ওখানে যাও? টার্ফে?

হ্যাঁ, মাঝেমধ্যে।

আগের দলই, তাইনা?

হ্যাঁ, সেই একই ছেলেরা।

চমৎকার।

তোমার কলেজ শেষ, তাইনা?

হ্যাঁ।

তো, এখন পরিকল্পনা কী?

আমি...

ভাবছি কোনো কাজ খুঁজব।

যেমনটা বলেছিলাম,

কোনো দরকার হলে কল দিও।

ঠিক আছি।

জানো তো কী?

আমি তোমার জন্য কিছু টাকা পাঠাব।

- না, আমার টাকা লাগবে না। - হ্যাঁ, আমি জোর করছি।

কিন্তু টাকা কেন?

তোমার হয়তো কোনো কাজে দরকার হবে।

কোনোকিছু কিনতে বা...

হয়তো তুমি কিছু সাহায্য চাও।

আমার কি...

সাহায্যের দরকার এমন দেখায়?

কী?

বাইরে থেকে...

আমার সাহায্যের দরকার এমন দেখায়?

এই, আমি সেটা বুঝাতে চাইনি।

তাহলে কী বুঝিয়েছো?

আমার কোনো বালের সাহায্যের দরকার নেই!

শুধু... ব্রো, শান্ত হও...

আমি শান্ত আছি!

আমাকে ভিক্ষা দেওয়ার জন্য এখানে এনেছো?

আরে না, শান্ত হও!

আমি শান্ত আছি!

তোমাকে কতবার বলতে হবে?

সেই সকাল থেকে, সবাই আমাকে নিয়ে আছে।

ঘুম থেকে উঠতে না উঠতেই বলছে- "বসো, খাও, শুয়ে পড়ো...

হাসবে না, কাঁদো!" আরো কীসব বালছাল!

আরে শালার সমস্যাটা কী?

ও আত্মহত্যা করেছে বিধায় আমি এসব প্যারা নিবো কেন?

আসলে আমার এখানে আসাই উচিত হয়নি।

- আরে যেয়ো না। ঠান্ডা হও। - আমাকে যেতে দাও, দাদা।

তোমার মন চাঙ্গা করার জন্য এখানে এনেছি।

আমি চাঙ্গা আছি, ব্রো...

আরে, ঠান্ডা হও না!

আমি ঠান্ডা আছি, দাদা। যেতে দাও না আমাকে!

না... আচ্ছা...

আচ্ছা, তুমি ঠিক আছো।

আচ্ছা?

আমার হাত ছাড়ো।

রিল্যাক্স, কিরন।

কিরন...

কিরন, কাঁদবে না।

ফাক!

বা কোন সমস্যা নেই। এটা ভালো।

বের হতে দাও, বের হতে দাও।

কিরন...

শান্ত হও।

শান্ত আছি! শান্ত আছি!

শান্ত আছি!

এই...

তোমার জন্য কিছু নিয়ে আসি?

ভাই...

ডিঙ্ক নিয়ে আসি।

ফাক! ফাক! ফাক!

কিরন!

আমরা এই মূহুর্তে কিছু বলতে পারছি না।

স্যার, এই ওষুধগুলো দ্রুত নিয়ে আসুন।

ফার্মেসী কোথায়?

নিচে আছে।

তুমি এখনো এখানে কেন?

কী হয়েছে সেটা খুলে বলি।

না, তোমার কিছু বলতে হবে না।

বেচারা ছেলেটা মৃত্যুমুখে আছে।

তোমাদের সমস্যাটা কী?

আর এসব পার্টিতে তাকে ডাকলেই কেন?

পুলিশ বলছে, সে মদ খাওয়ার পর ছাদ থেকে পিছলে পড়েছে।

তারা মামলা করলেও,

তোমরা খোলা হাওয়ায় ঘুরে বেড়াবে।

দিনশেষে তোমরা তো বড়লোক মানুষ।

ভাই, একবার আমার কথাটা শুনুন।

- কী হয়েছে সেটা বলতে দিন। - এখন, তুমি যাও।

পরে ফোন করব আমি।

ঠিক আছে?

অনুবাদ ও সম্পাদনায় সুশান্ত চক্রবর্ত্তী সৌমিক

ও কানি না।

একটা ছেলে।

আর কে থাকে এখানে?

ইদানীং আমি একাই থাকি।

রাতে একা থাকি।

সিকিউরিটি গার্ড বাইরে থাকে।

কাজের লোকেরা সকালে আসে আর রাতে যায়।

বাড়িটা বানিয়েছো নাকি কিনেছো?

বাবা বানিয়েছেন।

সম্প্রতি তোমার পরিবার বা এই বাড়িতে কেউ...

মৃত্যুবরণ করেছে?

না।

এমন কোনো বাড়িতে গিয়েছ যেখানে কেউ মারা গেছে,

বা মর্গ, শ্মশান...

বা এ ধরনের কোনো স্থানে?

না।

শুধুমাত্র কিরনের বাড়িতে।

ওখানে ঠিক কী হয়েছিল?

শুধু কিরনের সাথে কথা বলেছিলাম।

তারপর কিছুক্ষণের জন্য কানির রুমে যাই।

কোনো অস্বাভাবিক কিছু ছিল সেখানে?

আমি তার একটা চুলের ক্লিপ এনেছিলাম।

হুম...

হয়তো এটাই কারণ।

হয়তো সেখান থেকেই...

সবকিছুর সূত্রপাত হয়েছে।

মানে কী বলতে চাচ্ছেন?

যদি কেউ গভীর ঘৃণা...

বা অসম্পূর্ণ ইচ্ছা নিয়ে মারা যায়,

তবে তার আত্মা...

একেবারে এই পৃথিবী ছেড়ে যায় না।

যে জিনিসগুলো তাদের সংস্পর্শে এসেছে, সেগুলোতে তাদের উপস্থিতি থেকে যায়।

উদাহরণস্বরুপ...

হতে পারে সেটা তাদের প্রিয় কাপড়...

বা কোনো জুয়েলারি।

অথবা তাদের প্রিয় স্মৃতিচিহ্নে।

এসব জিনিসই ওদের এই জগতে আটকে রাখতে পারে।

কিন্তু তোমার ভাষ্যমতে...

ওটা যদি কানি না হয়...

তাহলে অন্য কারও অবশ্যই তার জিনিসের ওপর দাবি থাকতে পারে।

হয়তো, সেদিন ওই ব্যক্তি রুমেই ছিল, সবকিছু দেখেছে…

তোমাকে দেখেছে যে,

চুলের ক্লিপটা নিয়ে আসতে।

এবং তারপর...

নিশ্চই তোমার পিছু নিয়েছে।

ঘুমাতে দেখেছে তোমাকে...

ঘুম থেকে উঠতেও দেখেছে...

এমনকি এখন যে আমরা কথা বলছি সেটাও নিশ্চই দেখছে।

এর কোনো যুক্তি নেই!

কে ও?

আমাকেই কেন কষ্ট দিচ্ছে?

সেটা আমরা জানিনা।

সে আসলে কে?

কানির সাথে তার সম্পর্ক কী?

তোমাকে কেন তাড়া করছে?

এই উত্তরগুলো খুঁজে পেতে...

আমাদের যেতে হবে যেখানে সবকিছু শুরু হয়েছিল।

কানির বাড়িতে।

কানির নূপুরজোড়া...

নিঁখোজ।

হয়তো যে এটা নিয়েছে...

সেই তোমার পেছনে ঘুরছে।

আমার মনে হয়না কানির জীবনে অন্য কেউ ছিল।

মেয়েটা খুব সংযত ছিল।

তুমি যদি ভুল হও?

ওর জীবনে যদি কেউ থাকে যার সম্পর্কে আমরা কেউ জানিনা?

কেউ যে তাকে ঘৃণা করতো,

বা ঈর্ষা করত।

হয়তো তাকে ভালোও বাসতো।

তবে যদি সে তোমাকে মারছে,

তাহলে সেটার পেছনে অবশ্যই কোনো বড় কারণ আছে।

কাকে জিজ্ঞেস করি এখন?

কোথা থেকে শুরু করব?

এখানে এলসাম্মার ঘর আছে।

এরকম বিষয়ের ক্ষেত্রে...

মাঝে মাঝে কাজের লোক পরিবার থেকে বেশি কিছু জানে।

খা।

এলসাম্মা...

ওহ, মধু স্যার।

কাজে ব্যস্ত?

মহিষ বেঁধে...

খামার পরিষ্কার করতে যাচ্ছিলাম।

তোমার আরো মহিষ ছিলনা? বাকিগুলো কোথায়?

ওদের দেখার মতো কেউ নেই, স্যার।

তাই, দুটো বিক্রি করে দিয়েছি।

একা সামাল দিতে পারিনা।

- মনু কেমন আছে? - ভালো আছে। আসুন।

না, এলসাম্মা, তোমাকে কিছু জিজ্ঞেস করতে এসেছিলাম।

কানির সাথে তোমার সম্পর্ক কীরকম ছিল?

তোমরা প্রায় সময় কথা বলতে?

সে কালেভদ্রে কারো সাথে কথা বলতো, স্যার।

মেয়েটা খুব নাজুক ছিল।

সবসময় নিজের পৃথিবীর চিন্তায় ব্যস্ত থাকতো।

ওর কোনো বন্ধু বাড়িতে আসতো?

মাঝেমধ্যে কয়েকজন বন্ধু আসতো।

কিন্তু কেউই নিয়মিত আসতো না, স্যার।

কিরণের বন্ধুরা মাঝে মাঝে আসত।

আমি বোঝাতে চাচ্ছি...

ওর কোনো ছেলে বন্ধু ছিল?

আমি যতটা জানি, এমন কিছু নয়, স্যার।

শুধুমাত্র সে আর তার ড্যান্স ক্লাস ছিল।

এই পরিবারটা অভিশপ্ত লাগছে, স্যার।

তাদের একমাত্র ছেলেটা...

দেখুন কী অবস্থায় আছে।

কানি তোমার সাথে পড়তো, তাইনা?

সেই রাস্তা ধরব নাকি?

আমার কারো সাথে যোগাযোগ নেই।

জিজ্ঞেস করার মতো কেউ নেই।

শোনো... চিন্তা করোনা।

আমরা আরেকটা রাস্তা বের করব।

যাইহোক, আজ রাত বাড়িতে থাকবে না।

বাইরে কোথাও থাকো।

আমার বিষয়টা সমাধান করতেই হবে।

দেখা যাক কী করতে পারি।

তোমাকে আগামীকাল ফোন করব।

ভিতরে আসবেন না, স্যার?

না।

আমি কয়েক দিনের জন্য বাইরে থাকব।

তোমরা সবাই এখন বাড়ি যাও।

আমি ফোন করলে তবেই আসবে।

আচ্ছা, স্যার।

এইযে...

স্যার?

- তুমি থাকো। - আচ্ছা, স্যার।

- সবাই যাওয়ার পর, দরজায় তালা লাগিয়ে দিবে। - আচ্ছা।

- চাবি তোমার কাছে রেখো। - আচ্ছা।

কাউকে ভিতরে ঢুকতে দিবেনা।

ঠিক আছে।

বল, রোহান।

- হাই, মা। - কোথায় তুই?

অনেকদিন হয়ে গেছে।

বাইরে আছি।

কেমন আছিস?

- হুম? - ঠিক আছি, মা।

কবে আসছিস তুই?

- জানিনা, মা। আসব। - আচ্ছা।

- শীঘ্রই এসে যাবো। - এক সেকেন্ড, রোহান।

মা, তুমি ব্যস্ত আছো। পরে ফোন দিই।

না, না। ব্যস্ত না।

কিছু বাজার করতে বেরিয়েছি।

আচ্ছা।

দিদি তোমার সাথে?

না, ও বাসায় আছে।

ওর ডেলিভারির তারিখ তো এলো বলে, তাইনা?

হুম... আচ্ছা।

- কেমন আছে সে? - সব ভালো।

ভালো আছে ও।

- তুই এখনো ফোন করিসনি ওকে? - না।

সকালে সেও তোর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিল।

ফোন দিবি তো?

হ্যাঁ, দিব।

এ সপ্তাহে আসবি না, বাবা?

- আসব, মা। - আচ্ছা।

বাবাকেও জানিয়ে দিও।

হ্যাঁ, বলে দিব।

আচ্ছা, বাবা। পরে কথা হবে।

- দেখা হবে, মা। - আচ্ছা, দেখা হবে।

- বাই। - বাই।

আমি দুঃখিত...

মা...

মা...

মা!

মা...

- মা... - কী হয়েছে, বাবা?

কিছুনা।

কিছুনা...

কিছুনা...

কানি ড্যান্স কেন বন্ধ করে দিলো কিছু বলেছে?

একদিন হঠাৎ করে আসা বন্ধ করে দিলো।

আমি জিজ্ঞেস করায় বলে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

আমি বেশ কিছুক্ষণ বোঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু...

কাজ হয়নি।

এখানে কোনো ছেলে ছাত্র আছে?

না, আসলে...

আমরা শুধু জানতে চেয়েছিলাম এমন কিছু ঘটেছে কি-না...

যা তাকে ক্লাসে আসা বন্ধ করালো।

না, এখানে শুধু মেয়েরা আছে।

কেন জিজ্ঞেস করলেন?

কানি কারোর হয়রানির শিকার হয়েছিল কি-না জানো?

সেটার জন্য হয়তো সুইসাইড করেছে?

না, মনে হয়না সেরকম কিছু ঘটেছে।

কানির...

কারো সাথে প্রেম...

না, ওকে কলেজ থেকে চিনি। যদি কিছু হতো তাহলে আমাকে বলতো।

এমনকি এখানেও আমরা একসাথে আসতাম।

এখন আপনি জিজ্ঞেস করলেন বিধায়,

একটা কথা মাথায় আসলো।

কয়েকমাস আগে এটা ঘটে।

একদিন ক্লাস শেষে, কানি এবং আমি বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলাম।

হঠাৎ করে বৃষ্টি শুরু হয়।

বৃষ্টি থেকে বাঁচতে...

আমরা একটা বিল্ডিং এ ঢুকলাম।

উপরের তলায় একটা প্রিন্টের দোকান ছিল।

সেখানের একটা ছেলে আমাদের দিকে ঘুরঘুর করে তাকিয়ে ছিল।

পরে, আমরা যতবারই ওখান দিয়ে যেতাম,

ও সেখানে থাকতো।

প্রথমে, আমি এতকিছু ভাবিনি।

কিন্তু তারপর একদিন,

সে অনেকক্ষণ এই গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল।

সেদিন...

এখানে কলাগাছের মতো দাঁড়িয়ে ছিল। এক পাও নড়েনি।

যেভাবে ও আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল, তা আমাকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছিল।

যখন বুঝলাম ছেলেটা কানির দিকে তাকিয়ে আছে,

তখন তাকে বলি পুলিশের কাছে যেতে।

কিন্তু ও নাকোচ করে দেয়।

বিষয়টা জলঘোলা করতে মানা করে।

এতটুকুই জানি।

তারপর কী হলো?

ছেলেটা কিছু সময় এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছিল।

তারপর, আমরা ওকে আর দেখিনি।

কতদিন আগে এটা হয়েছে?

প্রায় ৭-৮ মাস পূর্বে।

তখন এটা এতবড় সমস্যা ছিল না।

আপনি জিজ্ঞেস করলেন বিধায় কথাটা মাথায় আসলো।

ও কীরকম ছিল বলতে পারবে?

পাতলা ছিল।

সাথে কোঁকড়া চুলও।

- ভাই। - হ্যাঁ?

এক মিনিট হবে?

কী?

আপনি এই দোকানের মালিক?

হ্যাঁ।

- একটা কথা জিজ্ঞেস করতে চাই। - আচ্ছা।

আগে এখানে একটা কম বয়সী ছেলে কাজ করতো?

পাতলা এবং কোঁকড়া চুলওয়ালা ছেলে...

হ্যাঁ, ফিলিপ।

- তার নাম ফিলিপ? - হ্যাঁ।

এখন ওকে পাবো কীভাবে?

ঠিকানা কিংবা ফোন নাম্বার আছে?

ঠিকানা নেই, তবে ফোন নাম্বার আছে।

এখানে মাত্র কিছুদিন কাজ করেছে।

কেন জিজ্ঞেস করছেন?

ছেলেটা কীরকম ছিল?

ভালোই ছিল।

সত্যি বলতে, তখন আমার কোনো কর্মচারীর প্রয়োজন ছিল না।

চার্চের ফাদার বলেছিলেন বিধায় ওকে রেখেছিলাম।

ও কিছুটা অদ্ভুত ছিল।

ইচ্ছা হলে কাজ করতো।

না হলে, শুধু দাঁড়িয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকত।

এইযে নাম্বার।

আমার কিছু কাগজ আর কালির খরচ করিয়েছে সে।

কখনো সখনো তাকে প্রিন্ট নিতে দেখতাম।

ভেবেছিলাম হয়তো চার্চের জন্য করছে।

কিন্তু সেগুলো কেউ নিতে আসেনি।

আর...

সে মাস দুয়েক কাজ করেছিল।

তারপর শুনলাম সৌদি চলে গেছে।

সৌদি?

ফাদার তাই বললেন?

কোন ফাদার?

সেন্ট জোসেফস্ চার্চের ফাদার।

কী প্রিন্ট করেছিল মনে আছে আপনার?

এখানেই থাকার কথা।

এর মধ্যে বাইবেলের শ্লোক আর প্রার্থনা ছিল,

তাই সেগুলো ফেলে দিতে মন চায়নি। দেখি তো।

আহ!

এইতো।

এগুলো নিয়ে যেতে পারি?

হ্যাঁ।

ফোন ঢুকছে না।

এগুলো কী জানো?

ধারণা নেই।

আমরা ওকেই খুঁজছি না-কি?

আমাদের শুধু একটা জিনিস জানতে হবে।

ফিলিপ জীবিত নাকি মৃত।

সে সৌদি’র কথা বলতেই মনে পড়ল,

এই এলাকার অনেকেই এক এজেন্টের মাধ্যমে সেখানে গিয়েছিল।

এলসাম্মার ছেলে, মনুও তাদের মধ্যে অন্যতম।

সেই এজেন্টের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

মনুর নাম্বার আছে আপনার কাছে?

না, এলসাম্মাকে জিজ্ঞেস করা লাগবে।

উনি যে চার্চের কথা বললেন সেটা চিনি আমি।

আমি এলসাম্মার থেকে নাম্বারটা নিচ্ছি।

আর আপনি চার্চে গিয়ে ফাদারের সাথে কথা বলুন।

এগুলো খ্রিষ্টান ধর্মীয় শ্লোক...

কিন্তু সরাসরি বাইবেল থেকে নেওয়া নয়।

শুধু বাইবেলের কিছু অংশের উল্লেখ আছে মাত্র।

যেমন...

আহ, এইযে...

"শক্তিশালী শিঙার বিস্ময়কর ধ্বনি...

প্রতিটা সমাধির পাথর ভেদ করে দিবে...

এবং সবাইকে সিংহাসনের সামনে ডেকে আনবে।"

আর এখানে উল্লেখ আছে...

“Dies Irae”

এটা একটা ল্যাটিন শব্দ।

মানে হলো "বিচারের দিন"।

এই সব স্তুতিই এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

সম্ভবত এটা কোনো বই থেকে নেওয়া,

অথবা ইন্টারনেট থেকেও হতে পারে।

যদি ফিলিপ নিজেই এটা লিখে থাকে তবুও অবাক হওয়ার কিছু নেই।

সে এখানের লাইব্রেরির প্রতিটা বই পড়েছে।

আপনি ফিলিপকে কীভাবে চিনেন, ফাদার?

ওর পরিবারের সাথে চার্চের সম্পর্ক খুব ভালো।

ছেলেটা আমাদের গায়কদলে গান করতো।

আমাদের চার্চে শেষকৃত্যের প্রার্থনা অনুষ্ঠানে সেই নেতৃত্ব দিত।

আমি সবসময় তাকে বলতাম,

যদি কখনো ভালো সুযোগ পাও,

তাহলে বিদেশে যাও।

ফাদার...

আপনার কাছে ফিলিপের...

ঠিকানা বা ছবি আছে?

মনে হয় আমার ফোনে,

তার শেষ গান গাওয়ার একটা ছবি আছে।

দেখতে দিন।

ওহ তুমি?

কী, বাবা?

আপনার একটা সাহায্য লাগবে।

আপনার ছেলে মনু সৌদিতে, তাইনা?

হ্যাঁ।

তার নাম্বারটা দিতে পারবেন?

সাধারণত মনুই আমাকে ফোন দেয়।

কী হয়েছে, বাবা?

তাকে যে এজেন্ট সৌদি নিয়ে গিয়েছিল ওকে ফোন দিতে চাচ্ছিলাম।

সে ভিন্ন ভিন্ন নাম্বার থেকে আমাকে ফোন দেয়।

ফোনে তার সাথে যোগাযোগ করা খুবই কঠিন কাজ।

এজেন্টের নম্বর হলেও চলবে।

ফোন করে নিব।

আচ্ছা... দেখতে দাও।

আহ, এইযে।

ওটাই সে, উপরের থেকে দ্বিতীয় জন।

মনু...

মনুর সার্টিফিকেটে নাম ফিলিপ না-কি?

হ্যাঁ। এটাই তার ধার্মিক নাম।

তো, আমি প্রার্থনা কী করব?

যদি ধার্মিকরাও নিরাপদ না থাকে,

তাহলে আমি কোন রক্ষকের প্রার্থনা করব?

আমার আর্তনাদগুলো নিরর্থক মনে হয় আর কেউ তা শুনছে না।

কিন্তু...

হে করুণাময়,

তুমি আমাকে চিরন্তন আগুন থেকে রক্ষা করো।

যেদিন বিচারক তার আসনে বসবেন, সেদিন সব লুকানো কাজ উন্মোচিত হবে।

কোনো অপরাধ দণ্ডহীন থাকবে না।

কান্না ও শোকের সেই দিনে,

যখন মানুষ বিচারের জন্য কবর থেকে উঠবে,

তাদের প্রতি তোমার করুণা বর্ষণ করো।

সবসময়ই জানতাম...

কোনো একদিন...

কেউ আমার ছেলের খুঁজে আসবে।

কিন্তু ভাবিনি সেটা তুমিই হবে।

মারা যাওয়ার পূর্বে,

তার একটাই ইচ্ছা ছিল।

মৃত্যুর পরেও...

তার অভ্যাসগুলো যেনো অপরিবর্তিত থাকে।

প্রার্থনার শ্লোকগুলো শুনা...

আর কানিকে এই জানালা দিয়ে দেখা,

আমি নিশ্চিত করেছি যে, ও এখনো এগুলো করতে পারে।

প্রথমবার যখন তার শ্বাস নিতে সমস্যা শুরু হয়,

আমার এখনো মনে আছে সে কী বলেছিল।

শ্বাস যত দূর্বল হচ্ছিল,

সে অনুভব করতে পারছিল কানি...

তার হৃদয় থেকে ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে।

একদিন,

কানির রুমে তার নিজের ছবি পাই।

সেটা এনে তাকে দিই।

আর তারপর, একে একে...

চিরুনি...

কুঁচকানো বাসের টিকিট...

গলার চেইন, কানের দুল।

মেয়েটার যাই পেতাম, তাই এনে দিতাম।

এখন পুরো রুমে কানির জিনিসে ভরপুর।

কানির যা কিছুই ছিল, সব তার হয়ে গেছে।

ছেলেটার শেষ দিনে...

আমি ওর নূপুরজোড়া...

তার পায়ে লাগিয়ে দিলাম।

মুখটা আনন্দে ভরপুর ছিল।

এই সেই আনন্দ...

যা তাকে এখানে রাখছিল।

কিন্তু ছেলেটা শুধু তাকে দেখা ব্যতিত...

মেয়েটার সাথে একবার কথাও বলেনি...

কখনো ভালোবাসার কথা জানায়নি...

আমার ছেলেটা...

তাই পছন্দ করতো।

যদি সে কিছু পছন্দ করতো,

তো সেটাকে দূরে যেতে দিত না।

বিশেষ করে কানির ব্যাপারে তো আরো।

যদি কেউ তাকে কষ্ট দিতো,

ও সেটা সহ্য করতে পারতো না।

একদিন, ঈশ্বর সকল মৃতদের আবার ডেকে আনবেন।

এবং তাঁর বিচার দেবেন।

কিন্তু আমার ছেলে নিজেই তার ভাগ্য গড়ে তুলেছে।

সে আমাকে বলেছিল যে ও কোনোদিন এই জায়গা ছাড়বে না,

আর মৃত্যু তো শুধু শুরু মাত্র।

আমাকে বিশ্বাস করাতে বাধ্য করেছিল সে।

আমি আমার ছেলেকে কারো হাতে তুলে দিব না…

ঈশ্বর নিজে আসলেও না…

তোমার কথা তো...

বাদই দিলাম!

এই...

হেই, রোহান...

এই, এই... রোহান, উঠো!

উঠো!

উঠো! উঠো!

ফিলিপ...

ফিলিপ...

উঠো!

আমার ফোন কোথায়?

আমাদের পুলিশকে ফোন করা উচিত।

এই লাশটা কবর দিতে হবে।

আপনার ফোনটা দিন।

ফোনটা দিন!

থামো...

আমাদের...

নূপুরজোড়া অবশ্যই খুলতে হবে।

এটাই আত্মাকে আটকে রেখেছে এখানে।

সরাতে পারছি না।

পায়ে আটকে আছে।

ধারালো কিছু লাগবে।

আচ্ছা।

আচ্ছা।

রোহান...

ভাই...

ভাই...

মধু ভাই...

বাবা!

হায়রে, বাছা আমার...

মধু ভাই...

এই...

উঠুন!

আসুন।

ঠিক আছেন?

সোনারে...

বাবা আমার...

মধুসূদন পোট্টি বাবু আছেন?

- মধু স্যার? - হ্যাঁ, হ্যাঁ।

স্যার উপরে আছেন।

- উপরে? - হ্যাঁ, উপরে।

আপনার বাবা সম্পর্কে অনেক শুনেছি।

সম্প্রতি ওনার মৃত্যু সম্পর্কে জানলাম।

দেখতে এসেছি, আপনার পরিবার এখনও এসবের সমাধান দেন কি-না!

কী হয়েছে? বলুন।

আমি এক পরিবারকে জানি, যারা বহু বছর ধরে তাদের ঘর ভাড়া দিচ্ছে।

হুম।

সর্বশেষ ভাড়াটে একজন মা আর তার ছেলে ছিল।

ঘরটিতে কিছু সমস্যা আছে বলে মনে হচ্ছে।

এখন তালাবদ্ধ আছে ঘরটা।

সেটা বিক্রি করতে বা ভাড়াও দিতে পারছে না।

মালিকের অবস্থা খারাপ।

সবদিকে জিজ্ঞাসা করে,

শুনলাম আপনিই এসবের জন্য সঠিক ব্যক্তি।

একবার যদি ঘরটা এসে দেখে যান তাহলে ভালো হয়।

যদি আপনার খুব অসুবিধা না হয়,

তাহলে আমরা আগামী কোনো একদিন একসাথে সেখানে যেতে পারি?

অবশ্যই।

রবিবারে একটা ফোন দিবেন।

- আচ্ছা। - আমি আসব।

ঠিক আছে, ধন্যবাদ।

আপনার নামটা কী?

জর্জ।

- আচ্ছা। - যাই তাহলে।

আচ্ছা, জর্জ। দেখা হবে।

ঠিক আছে।

হেই।

আসো।

কিরনকে দেখে আসলাম।

- তার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। - হুম...

ভালো।

এলসাম্মা?

শুনেছি ওনার ভাই এসে নিজ শহরে নিয়ে গেছে।

আসলে, সেই তো একমাত্র ছেলে ছিল।

ছেলেটার মৃত্যু মেনে নিতে খুব কষ্ট হবে।

আর আসল সমস্যা হলো,

সবাই তাদের যত্ন নেওয়া ব্যক্তিদের প্রতি আসক্ত হয়ে যায়।

আমি আগামীকাল সকালে আমেরিকার উদ্দ্যেশ্যে রওনা হচ্ছি।

ভাবলাম যাওয়ার পূর্বে আপনার সাথে দেখা করে যাই।

যাত্রা শুভ হোক।

ধন্যবাদ।

শংকর স্যারকে আমার প্রণাম জানাবে।

অবশ্যই।

হুম, বাবা।

হ্যাঁ, আমার ফ্লাইট ৪.৩০।

১০ মিনিটের মধ্যে বের হচ্ছি।

ড্রাইভার নিচে অপেক্ষা করছে।

আচ্ছা, বাবা। শীঘ্রই দেখা হবে।

বাই।

রোহান...

এসব কী বা...

অনুবাদ ও সম্পাদনায় সুশান্ত চক্রবর্ত্তী সৌমিক

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.