Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
অনুবাদে: হাসান শুভ https://www.facebook.com/BlackSpiderHS71 সাবসিন © https://subscene.com/u/1193809
দাদু, মেঘা সম্পর্কে কিছু বলো।
সে শুধু আমার নাতনি না, আমার মাও।
দাদীমা, তোমার...
আমার অনেক আগেই মরে যাওয়ার কথা, শুধু তার ডাক্তার হওয়া দেখার জন্যে এখনো বেঁচে আছি।
আংকেল, একজন বাবা হিসেবে আপনি কী বলবেন?
সে আমার ভাগ্য প্রিয়, তার জন্মের পরই আমার উন্নতি হয়েছিলো।
আন্টি, তোমার...
সে আমাদের দীর্ঘ ২০ বছরের আবেগ।
বাচ্চারা.... -সে একটা রাক্ষস, একটা গুন্ডি... -সে আমাদের সব চকলেট খেয়ে নেয়।
আমি আমার বাকি জীবনটা তোমার সাথে থাকবো।
মেঘা, মেঘা মা!
এতোটাই বোকা কেনো তোমরা?
এনগেজমেন্ট এর চাপে সে কিছুই খায়নি।
মনে হয় সে একারণেই দুর্বল হয়ে পড়েছে।
না, সে দুর্বল হয়ে পড়েনি।
কী? কী বলছেন আপনি?
হ্যাঁ, সে আমাদের মধ্যে আর বেশিদিন থাকবে না।
কী?
এটা একটা দুর্লভ বংশগত অসুখ। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটাকে স্পিঙ্গোহাইব্রোসিস বলা হয়।
আমরা ওর বিয়েটাও ঠিক করে ফেলেছি। আর এখনি সব ঘটছে।
কিভাবে..?
আমি এটা কিভাবে বলবো?
বুঝতে পারছি না আমি তাকে কিভাবে বলবো।
একজন ডাক্তার হিসেবে, সে সব বুঝতে পারবে।
প্রথমে আপনাকে বুঝতে হবে, তাহলেই হবে।
শোনো
তুমিও মারা যাবে।
এই চিত্রাও মারা যাবে।
ওই সারদাও মারা যাবে।
দেখো...ওই ছোট্ট মেয়েটা, সেও মারা যাবে।
এই গাছগুলো মারা যাবে আর আমিও।
কিন্তু... আমি কিছুটা আগে মারা যাবো। এতটুকুই।
মা,
এখনো কেনো বাতি জ্বালাও নি?
সে ফুলের জীবনকে তিনদিনের স্থায়িত্ব দিয়েছেন আর পাথরকে ১০০০ বছরের। তার সামনে বাতি জ্বালিয়ে কী হবে মা?
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, আজ তোর বিয়েটা হয়ে যেতো।
ইশ্বর এরই মধ্যে আমার জন্যে নিমন্ত্রণের কার্ড তৈরি করে রেখেছে, আংকেল।
কিন্তু আমরা আমার বিয়ের আয়োজনটা করে বোকামি করছিলাম।
কিন্তু অন্যদের সাথে তুলনা করলে আমি এখনো অনেক ভাগ্যবতী, বাবা।
অনেক মেয়ে তো মাতৃগর্ভেই মারা যায়।
অনেককে মেরে ফেলা হয় জন্মের পরপরই।
এমনকি কী কারণে মারা যাচ্ছে, এটা না জেনেও অনেকেই মারা যায়।
এই সবকিছুর সাথে তুলনা করলে, আমি ২২ বছর ধরে বেঁচে আছি।
একজন মেয়ে হিসেবে, এই সবকিছুই আমার জন্যে বোনাস বাবা।
তুমি ছোটোবেলা থেকেই আমাকে সবচেয়ে ভালো জিনিসটা দিয়েছো।
সবচেয়ে ভালো স্কুল, সবচেয়ে ভালো কলেজ, সবচেয়ে ভালো জামা-কাপড় আর সবচেয়ে ভালো পরিবার।
আর এখন আমার সবচেয়ে ভালো মৃত্যুর জন্যে,
তোমাদের সবার হাসি-খুশি থাকা উচিত।
দীর্ঘজীবী হও!
মা, তুমি ইশ্বরের কাছে কী চাইলে?
বাদ দিন, পুরোহিত মশাই। দীর্ঘ ৩৬৫ দিনের প্রার্থনাকে ইশ্বর পাত্তাই দিচ্ছে না।
আমার তার উপর বিশ্বাস নেই।
তুই কী চাইলি? তুই কী তার কাছ থেকে ১০০ বছর বেঁচে থাকার আশীর্বাদ চেয়েছিস?
নারে, আমাকে জীবনের মাঝামাঝি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, ঠিক?
কেনো আমার জন্ম হয়েছিলো?
আমি তার কাছে একটা কারণ জানতে চাইলাম।
আমি তার কাছে আমার জীবনের অর্থ জানতে চাইলাম।
হুমম?
হ্যাঁ! - তারা বলে জন্মের পর, একজন মানুষের অন্তত একটা গাছ লাগানো উচিত।
আমরা চলে যাওয়ার পরও এটা অনেককেই ছায়া দেবে।
আমি তাও করিনি।
জন্মের উদ্দেশ্য জানাটা আমার দুশ্চিন্তার কারণ না।
কিসব উদ্দেশ্য আর যা তা নিয়ে কথা বলছিস তুই?
আমার আংকেলের বাড়িতে গত সপ্তাহে কি ঘটে গেছে তুই জানিস, ঠিক?
জন্মের সাথে সাথেই তাদের বাচ্চা মারা যায়।
তারা এখনো বিলাপ করছে।
তাহলে ওই বাচ্চাটার জীবনের উদ্দেশ্যটা কী?
বাচ্চাটা আসার আগে তাদের জীবনটা কেমন ছিলো?
তারা বিচ্ছেদের চিন্তা করছিলো।
আর এখন তারা এক হয়েছে, ঠিক?
তাদের এক করাটাই বাচ্চাটার উদ্দেশ্য ছিলো।
একইভাবে, আমার জীবনের একটা উদ্দেশ্য থাকা উচিত।
মা। - হ্যাঁ।
হনুমানের প্রসাদটা নাও। সবকিছুই ভালো হবে।
কী ভালো হবে? - আপনার দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক।
তিনি যেই দৃষ্টিতে দেখেন তাতেও অনেক তফাৎ আছে।
ওর কথায় কিছু মনে করবেন না। ধন্যবাদ!
সুখী হও!
ধরণী,
এটাই আমার পড়া প্রথম কবিতা।
কী এটা? মনে হচ্ছে কারো ডায়েরির ছেড়া পাতা।
ক্ষমা করবেন! আপনি কি আমাকে ওই কাগজগুলো দিতে পারেন?
তাকে দেখার আগেই আমি তার লেখা পড়েছি, তাকে দেখার আগেই তাকে অনুভব করেছি, সে ছিলো আমাদের শাইনিকপুড়ির চাঁদ।
লাইনগুলো মজার তো। - হুম!
আমি কি এই ডায়েরিটা নিতে পারি? - ধন্যবাদ।
তোর কী মনে হয়, ডায়েরি পড়াটা কি ঠিক হবে?
তিনি আমাদের অনুমতি দিয়ে দিয়েছেন।
আমার নাম রবি। আমি একজন খবরের কাগজ বিক্রেতা!
এই, কতোবার আমি তোকে বলেছি এইসব খবরের কাগজ বিক্রি বন্ধ করতে?
তুই আবার এসে এই খবরের কাগজ নিয়ে বসেছিস। -কী হয়েছে ভাই?
অন্তত তুমি তাকে বোঝাও, ইয়াদাগিরি ভাই।
যতদিন সে খবরের কাগজ বিক্রি করবে, কেউই তাকে মেয়ে দেবে না।
অন্তত তার কম্পিউটার অফিসে চাকরি করার মিথ্যে কথা বলেও আমি তার বিয়ে দিতে পারতাম।
যদি বিয়ের জন্যে আজ আপনি মিথ্যে বলেন... বিয়েটাই আগামীকাল মিথ্যে হয়ে যাবে, আংকেল।
এই খবরের কাগজ বিক্রি করেই সে বাড়ি ভাড়া আর তার পরীক্ষার খরচ জোগায় আংকেল!
সে আপনার মদ আর ঔষধও এই খবরের কাগজ বিক্রি করেই আনে।
আংকেল, যারা ভেগাবন্ডের মতো ঘুরে বেড়ায় আমরা তাদের চেয়ে অনেক ভালো, আপনি এটা মানতে পারছেন না ঠিক আছে, কিন্তু দয়া করে অসম্মান করবেন না।
মা...
কতোবার আমি তোমাকে বলেছি পানি না আনার জন্য? ওটা আমাকে দাও।
আমি ভেবেছিলাম পানির লোকটা চলে যাবেরে, বাবা। - আমি আসা অব্দি অপেক্ষা করতে পারলে না।
এই মাসে আমার অটো থেকে ৩০০০ টাকা আয় হয়েছে।
ই-পেপার আসার পর থেকে এসব খবরের কাগজের মূল্য কমতে শুরু করেছে।
আমার রান্নার কাজ তোমাদের চেয়ে ভালো। আমি তোমাদের চেয়ে ২০০০ টাকা বেশি আয় করেছি।
হুম, ঠিক আছে।
এই সমস্ত অ্যাপ সমৃদ্ধ গাড়িগুলো আসার পর থেকেই অলসতা বেড়েছে আর রান্নার কাজের চাহিদা বেড়েছে।
আমাদের পানিটাও নিতে দিবি না? মূর্খের দল।
বুঝতেই পারছি না কিসব খেলছে, রাস্তায় হাঁটা পর্যন্ত যাচ্ছে না। বদমাশ।
এই রবি, তৈরি হ। - ঠিক আছে, ঠিক আছে!
তুই বল কর।
ঠিক আছে। প্রস্তুত হ।
সহজ, সহজ, সহজ। দৌড়া, ভাই।
আমি তোকে দৌড়াতে বললাম, আর তুই দাঁড়িয়ে রইলি কেনো? - যা।
শেষ বলে তোকে কে সিংগেল নিতে বলেছে?
বদমাশ।
এই আমাকে আউট করিস না, মিস কর।
এই আউট! শুধু তুই খেল এখন, মূর্খ। - হ্যাঁ, আমি খেলবো।
ব্যাটিং করার জন্য এতো পাগল কেনো? তাহলে আমাদের কেনো খেলতে ডাকলি?
এই, কোথায় যাচ্ছিস?
ওহ ইশ্বর,
যদি এই নারীটা খাঁটি হয়ে থাকে, তাহলে রবির পরবর্তী বলেই বোল্ড হওয়া উচিত।
মাথা ভেঙে টুকরো টুকরো করে দেবো, আমাকে কেনো এসব খেলায় জড়াচ্ছিস?
এই রবি, ধরণী মনে হয় হোস্টেল থেকে ফিরে এসেছে।
ইয়েস!!
এই বুড়ি, তুমি আসলেই খাঁটি।
এটা আমার পুরোনো চটি, বদমাশ।
ধরণী...
বইয়ের মাধ্যমে পরিচয়।
আর লেখার মাধ্যমে কাছে আসা।
তার চিন্তা ভাবনাগুলো আমার মতোই।
কে হতে পারে?
ধরণী, গাদওয়াল রেড্ডির মেয়ে।
৪ বছর পর, আমি আজ তার সাথে দেখা করতে যাচ্ছি।
তুমি এই সময়ে কেনো আসলে?
খবরের কাগজের টাকা নিতে।
আমাদের কি মাসে দুইবার টাকা দেয়ার কথা? ম্যাডাম সম্প্রতি টাকা দিয়ে দিয়েছে।
আমার পাশের বাড়িতে যাওয়া উচিত ছিলো, ভুলে এখানে চলে এসেছি। দুঃখিত!
আপনি এখানে কেনো এসেছেন ম্যাডাম?
আমি ঘোলের জন্যে এসেছি।
আমিও কোম্পানির জন্যে এসেছি।
আমাদেরকে খবরের কাগজ দেয়ার জন্যে তোমার বেল বাজানো উচিত?
আমি বলছি যে, যারা আমাদের কাছ থেকে নিয়মিত খবরের কাগজ নেয়, তাদেরকে সৌজন্যসূচক সাপ্তাহিক চতুরা আর বিপুলা দেয়া হচ্ছে।
জানা দরকার, যদি আপনাদের প্রয়োজন হয়।
আমাদের চতুরা'র প্রয়োজন নেই।
আমাদের ঘরের মানুষ পড়ে বেশি, কথা বলে কম।
যাও।
শালার জীবন...
ওই বাড়ির প্রত্যেকটা নারীর সাথেই দেখা হয়, শুধু ওই মেয়েটা ছাড়া।
হ্যাঁ দোস্ত, তুই ঠিক বলেছিস।
আমার আনিথা, দোস্ত
আনিথা, ও ভানিথা, আমার সুন্দরী আনিথা।
তার ধরণীর আগে, আমি আমার আনিথাকে দেখে আসি।
গ্লাসটা ধর।
তুই...
এখন তোরা দেখবি, আমার ভেতরের কবি তাকে বিব্রত করবে।
সাবধান, সে আবার তোকে থাপ্পর না মেরে বসে।
এই আনিথা, এটা তোর জন্যে, পড়।
এটা কী মূর্খ?
লোকজন ফেসবুক আর হোয়াটস অ্যাপ নিয়ে হতাশ।
আমার মনে হলো, আগের যুগে ফিরে গিয়ে মনের সমস্ত অনুভূতিগুলো তোকে লিখে জানাই। পড়ে দেখ।
নোংরা মূর্খ, তোর লজ্জা শরম নেই?
না, নেই। যদি তোর দোকানে তা থেকে থাকে তাহলে আমি ১ কেজি কিনবো।
যদি এখানে আবার আসিস, আমি তোকে খুন করে অন্য কারো সাথে উদযাপন করবো।
নিরামিষ নাকি না?
বদমাশ, দূর হ।
এই, পেপার বয়?
কী এটা?
আমাদের খবরের কাগজ দিচ্ছো, নাকি পুস্তিকা?
প্রতিদিন এইসব কী ধরণের অত্যাচার আমাদের সাথে?
আমি তোমার সাথে কথা বলছি।
দুঃখিত ম্যাডাম। আমি দেখবো যাতে আপনাকে আর পুস্তিকা দেয়া না হয়।
তুমি আসবে না যদি তারা খবরের কাগজ নিয়ে আসে।
ঠিক আছে, ম্যাডাম।
ইয়েসস!
এই সূর্য, শুভ সকাল!
হেই দোস্ত, মনে হচ্ছে রবি গাদওয়াল রেড্ডির মেয়ের দেখা পেয়েছে।
তুই কী বলছিস ভাই?
দেখো সে কতোটা খুশি মনে আসছে। - এই এটা সাবধানে ধর।
বাহ, তার চেহারার মুগ্ধতাটা দেখো।
যে কেউই শুনবে, যখন আমরা ধরণীকে বলবো।
দক্ষিণ আফ্রিকার 'ফায়ার বর্ন' ভারতে আসতে ২০০০ বছর লেগেছিলো...
আইজ্যাক নিউটনের গ্র্যাভিটি বুঝতে ২০০ বছর লেগেছিলো।
আমাদের এই ছেলেটার ভালোবাসাটা বুঝতে মেয়েটার আর কতো বছর লাগবে?
ওহে প্রিয়, তার চোখ আর পা দেখতে কেমন?
তার শরীরের রঙ আর গঠন কেমন?
সে কি বস্তিতে থাকবে অথবা ঘুমাবে, নাকি টেবিলের উপর বসবে?
সে কি মোটা চালের ভাত খাবে?
এই, এর থেকে রক্ত বেরুচ্ছে।
আমার খুশি তোকে সমস্যায় ফেলছে?
এই, একটা বন নিয়ে আয়।
এই নে।
আজ থেকে তুই আর এই রাস্তায় থাকবি না, আমার সাথে আমার বাড়িতে থাকবি।
ভাইয়া, হাই, কেমন আছিস? - সবকিছু ভালো।
আমাদের কতোদিন আর এভাবে ভিডিও কলে কথা বলতে হবে? তুই ইন্ডিয়া আসছিস কবে?
আমি ইন্ডিয়া যাচ্ছি না.. তুই এখানে আসছিস।
আমি? - হ্যাঁ, ধরু।
আমি তোর এম. এস এর জন্যে এখানকার একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেছিলাম।
কয়েকদিনের মধ্যেই তুই অনুমতি পেয়ে যাবি।
বাহ, এটা দারুণ খবর।
যাই হোক, ছোটো ভাইয়া কই?
আজ সপ্তাহের শেষ দিন, তাই সে জমিয়ে পার্টি দিচ্ছে।
বাবা কী করছে? তাকে একবার ফোনটা দে তো।
উনি আর কী করবে? ওনার বই নিয়ে ব্যস্ত। ১ মিনিট।
বাবা, ভাইয়ার ফোন।
হাই ব্যাটা, কেমন আছিস? - কী বাবা, রোববারেও?
আমি একজন প্রফেসর, ছেলে। ছাত্রদের পড়ানোর আগে আমার নিজের পড়া উচিত। ঠিক?
মনে হয় কেটে গেছেরে মা।
আমাদের বাসার ইন্টারনেট সবসময়ই এমন, বাবা। প্লিজ জলদি এটা পাল্টাও।
আচ্ছা, আমি এই লাইনটা পাল্টাবো।
ঠিক আছে, চা এসে গেছে।
এই বুড্ডি, তুই উপরে বসে কেনো পড়ছিস না?
দাদীমা আমাকে বসতে নিষেধ করেছে। - তাকে তোর মাথায় বসতে দে।
সে কাজের লোকের মেয়ে।
ও একটা বাচ্চা, দাদীমা!
ছোটো-খাটো ব্যাপারে, এসব কী শ্বাশুড়ি-মা?
হ্যাঁ, আমি শীঘ্রই মারা যাবো, কেনো আমার এইসব নিয়ে মাথা ঘামাতে হবে?
এটা ডাহা মিথ্যে, যখন আমি ছোটো ছিলাম তখন থেকেই দাদীমা এই কথাটা বলে আসছে।
এই, তুই চুপ কর।
হাই রবি। - হাই স্যার। তুমি এই পুরোনো বইগুলো কোত্থেকে পেয়েছো?
রাস্তার আবর্জনায় পড়ে থাকতে দেখে কিছু ছেলে এগুলো বিক্রি করছিলো, আমি দেখে এগুলো কিনে ফেললাম।
যদি এগুলো এখানে থাকে তাহলে আমাদের কলোনির লোকজন আমাদের সাথে পড়তে পারবে।
তুমি খুব ভালো একটা কাজ করেছো।
একদিক দিয়ে তুমি আমার সাহায্যই করছো।
সাহায্যের কী আছে স্যার। যাদের হাত আছে প্রত্যেকেই করতে পারে।
কিন্তু নিজের বাড়িকে লাইব্রেরি বানিয়ে সমাজসেবা করতে যে কারোই আপনার মতো হৃদয় থাকা চাই।
একদম ঠিক বলেছো। - সন্ধ্যায় দেখা হবে, স্যার। - ঠিক আছে, চালিয়ে যাও।
হাই ধরণী, কেমন আছো? - হাই আংকেল, আমি ভালো আছি। - হাই আংকেল, দেখুন আমিও এসেছি।
বেশ, তোমরা যে বইগুলো চেয়েছিলে সেগুলো এখানে আছে।
ইয়ে, খাবারের বই। - সে সবসময় খাবারের জন্য পাগল।
এগুলো দেখে পুরোনো সংগ্রহ মনে হচ্ছে। এগুলো আপনি কোত্থেকে পেয়েছেন, আংকেল?
এইমাত্র একটা ছেলে এগুলো দিয়ে গেলো।
অদ্ভুত! আজকালকার ছেলেদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যেসও আছে?
তুমি জানো? সে একদম তোমার মতো।
যেখানেই লেখা দেখবে সেখানেই থমকে যাবে।
তাহলে তার সাথে আমার একবার দেখা করা উচিত।
আংকেল, আমি তিলক এর আম্রুথাম কুরিসিনা রাত্রি বইটা আরেকবার পড়তে চাই।
নিশ্চয়ই, এই খাতায় লিখে বাড়িতে নিয়ে যাও মা। - ঠিক আছে আংকেল।
আম্রুথাম কুরিসিনা রাত্রি। সে কি ভারশাম কুরিসিনা রাত্রির মতো কিছু লিখেছে?
তুই কি এটা পড়বি? - না।
একারণেই সে লেখেনি।
আমাদের খুশি মনে হাঁটা উচিত। একই কলোনির ভেতর বাইক নিয়ে যাওয়ার কী প্রয়োজন?
আমি কী করতে পারি? আমার রাশি অনুযায়ী, হেঁটে যাতায়াত করাটা আমার জন্যে ঝুঁকিপূর্ণ।
ওহ নো.. আমাকে মাফ কর আর যা।
এই, কলাগুলো দেখ! তারা আমাকে তাদের খেতে ডাকছে।
তোর চোখ যখন ক্ষুধার্ত হয় তখন তোর খাওয়া উচিত না। তোর খাওয়া উচিত তখন, যখন তোর পেট ক্ষুধার্ত থাকে।
বেশ, চল কথাটা বন্ধুদের হোয়াটস অ্যাপে ম্যাসেজ করে পাঠিয়ে দেই।
হ্যালো। - ম্যাডাম।
আমাকে ১ ডজন দাও। - পার্সেল ম্যাডাম?
খাওয়ার জন্য, পার্সেল করে আমার বাবাকে পাঠিও।
এগুলো ১০০ টাকা, ম্যাডাম।
আমার বাবা একজন খাদ্য ইন্সপেক্টর।
আরে না, আপনি খান ম্যাডাম।
ম্যাডাম, বিল।
কেনো আমি তোমাকে টাকা দেবো?
কতোবার আমি তোমাকে বলেছি ওই সমস্ত পুস্তিকা গুলো খবরের কাগজের ভেতরে না দিতে?
এই সমস্ত পুস্তিকা গুলো দিয়ে আমরা কিছুটা টাকা বাঁচাই।
আমরা শুধু খবরের কাগজ বিক্রি করে কী পাবো?
তো? তুমি কি চাও আমার স্বামী হোঁচট খেয়ে বাথরুমে পড়ুক?
ইচ্ছে হলে খবরের কাগজটা নেন, নইলে আমি দেয়া বন্ধ করে দেবো।
কে তাকে বাথরুমে গিয়ে খবরের কাগজ পড়তে বলেছে?
শুভ সকাল বাবা... শুভ সকাল দাদীমা...
শুভ সকাল।
কেনো তোমরা এতো সকাল সকাল তাকে খবরের কাগজ দাও? দেখো সে পুরোটা কাগজে কিসব আজেবাজে লিখে রেখেছে।
আচ্ছা, আমি যাচ্ছি।
মা। - হুম।
এই, বুড্ডি, তোর খেলার জন্য কাগজ লাগলে আমার কাছে খুঁজিস। বাবার পড়ার কাগজগুলো নষ্ট করিস না।
এই কারণেই, আমি এই কাজের লোকগুলোকে দূরে রাখতে বলেছিলাম।
আমি খবরের কাগজ নিয়ে খেলছি না, দিদি। - সত্যি করে বল। - সত্যি দিদি, দাদীমার শপথ।
আমার উপর কেনো শপথ করছিস? বদমাশ।
আমি জলদি মরার জন্য এরই মধ্যে প্রস্তুত।
তুই...
বাড়ির প্রত্যেকের উচিত তোর কান মলে দেয়া।
আমি এই ধরণীকে অনেক বেশি পছন্দ করি। - আমাকে নিয়ে লেখা?
সাড়ে পাঁচ ফিট উচ্চতা তার,
পঞ্চাশ কেজি...
ওজনের মেয়ে সে।
৫৬ বর্ণের তেলুগু শব্দের গর্ব ধরণী।
আমার বাড়ি থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে একটা রামধনু উঠেছে।
একারণেই আমি প্রতিদিন ভোর সাড়ে পাঁচটায় ওই বাড়িতে যাই তাকে শুভ সকাল জানাতে।
হোস্টেল থেকে ফিরে আসা সুন্দরীটা আমাদের পুরো কলোনিতে সৌন্দর্য্য নিয়ে এসেছে।
কে আমার ব্যাপারে জানে? কে হতে পারে?
এই, পেপার বয়।
কী ম্যাডাম?
আমিও তোমাকে একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে চাই। এসব কী?
আমি তোমাকে জিজ্ঞেস করছি! - আমি দুঃখিত ম্যাডাম।
আসলে, বইয়ের যে কোনো কিছু পছন্দ হলে তার নিচে দাগ দেয়া আমার বদ অভ্যেস।
আমি বলতে চেয়েছিলাম যে আপনি সুন্দর।
কী?
আমি ভেবেছিলাম আমার দৈহিক উচ্চতা যথেষ্ট না আর এভাবে লেখাগুলোর নিচে দাগ দিয়ে আমি তা প্রকাশ করেছি।
ওহহ।
তুমি যদি এভাবে লেখার নিচে দাগ দিয়ে প্রকাশ করতে চাও, তাহলে কি অন্য কেউ বুঝবে?
আরে না.. - এখনো কি আমি সেই মেয়েটার মতোই যে যত দ্রুত সম্ভব ঘুম থেকে উঠে নিজের সামনে খবরের কাগজ ধরে রাখে।
আরে না.. - কী হবে যদি আমার বাবা এ ব্যাপারে জানতে পারে?
ম্যাম।
সত্যি দুঃখিত ম্যাম।
আমি দেখবো, এমনটা যেনো আর না হয়।
আর তুমি কি পুস্তিকা দিয়ে টাকা পাও?
জ্বী, ম্যাডাম।
ঠিক আছে তাহলে, আগামীকাল থেকে আমাকে পুস্তিকা দিও।
আমার মনে হয়, এটা আপনার জন্যে অস্বস্তিকর হবে। - ঠিক আছে।
ঠিক আছে ম্যাডাম।
হ্যালো, পেপার বয়, নাম কী তোমার?
রবি, ম্যাডাম।
রবি, তোমার শখটা খুবই ভালো, এটা চালিয়ে যাও।
৪ টা স্পেশাল চা।
আমাকে কড়া দিওনা। - ঠিক আছে।
তোর কথা শুনে মনে হচ্ছে যেনো ওয়াই-ফাই ছাড়া হোয়াটস অ্যাপ চলছে।
কোনোভাবে কি ধরণীর সাথে তোর কথা হয়েছে?
শুধু কথা না বন্ধু, খবরের কাগজের ভেতরে পুস্তিকা দিয়ে আমরা আরো টাকা পাবো, ঠিক?
সে বলেছে, আগামীকাল থেকে তাকে পুস্তিকা দেয়া চালিয়ে যেতে।
আরে না, দুঃখ নিয়ে তার তোকে বলা উচিত ছিলো আর ভালো না বাসতে।
বিরক্তিকর বদমাশ।
এই পতঞ্জলী, সে (ধরণী) অনুভূতি নিয়ে কিছু বলেছে, ঠিক তো?
আমার জন্যে এটাই যথেষ্ট।
তুই শুধু একটা কফি পার্টি দিলি দোস্ত, আজ রাতে আমি একটা ককটেল পার্টি দেবো। অপেক্ষা কর।
ককটেল পার্টি? কিন্তু কেনো?
আমি আনিথা'র পরিবারকে খবরের কাগজ দেই, ঠিক? - হুম।
পুস্তিকা দেয়ার পরিবর্তে, আমি ভেতরে প্রেমপত্র দেই।
শালা নিগ্রো।
আজ সে আমার চিঠিটা পড়ে দাসী হবে, আর তোরা সব হবি আমার মদের দাস।
কী? তোর দেয়া এক-চতুর্থাংশের জন্য?
ডার্লিং আজ আমার জন্য ফলের ডায়েট করছে।
কী এটা?
সব ঠিক আছে, সব ঠিক আছে।
সে হেসেছে।
আমি প্রত্যুত্তর দেবো।
সে কিছু লিখছে।
সে কিছু লিখেছে বন্ধুরা, ধর!
হ্যাঁ, কেউ দেখেনি।
আমি তোদের সবার সামনে আমার ভালোবাসাকে সফল করবো।
তোরা আমাকে নিগ্রো বলিস।
আমি তোদের সবাইকে কাঁদিয়ে ছাড়বো।
ওহ ইশ্বর।
কাগজটা যথেষ্ট দেখেছিস, এবার খুলে দেখ।
এটা দেখে কি তোরা শক্ত থাকতে পারবি?
আগে খোল এটা।
সাবধান, তোর হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
ওর হাত ধরে রাখ আর খোল ওটা দোস্ত। - আমাকে ছেড়ে দে, এটা আমার ব্যক্তিগত।
ওহ, সে ফলের ডায়েট করছে। - হাহাহা।
এই কষ্ট পাসনা। সে তোকে দেখিয়েছে যে তোর ভালোবাসা কতোটা দুর্বল।
নে, এটার সুগন্ধ নিতে থাক।
হ্যাঁ বাবা, হঠাৎ করেই গাড়িটা কাজ করছে না। আমি ভাড়ার গাড়িতে করে যাবো।
আমি লোকেশন জানিয়ে, মেকানিককে পাঠিয়ে দেবো। - ঠিক আছে মা। সাবধানে।
ধ্যাত, ব্যাটারি শেষ...
ধরণী ম্যাডাম। - এই, পেপার বয়।
কী এসব? সকালে কাগজ, দুপুরে অটো, বিকেলে কি পার্কিং এর কাজ করো?
তেমন কিছু না, ম্যাডাম। আজ আমার বাবার শরীর ভালো না। তাই আমি তার অটোটা চালাচ্ছি।
আপনার গাড়ির কী হয়েছে? ঠিক করাতে হবে?
আমার মেডছাল রেজিস্টার অফিসে যাওয়াটা জরুরি।
আসুন, আমি আপনাকে নামিয়ে দিচ্ছি।
অটোতে করে এতো দূরে যাওয়া ঠিক হবে?
আপনার জন্যে যে কোনো কিছুই করতে পারি, ম্যাডাম।
এসে বসুন। - ঠিক আছে। - ১ সেকেন্ড।
তোমার জ্বরটা আমার অনেক উপকার করেছে, বাবা।
রবি। - হ্যাঁ।
রবি, পথে যে কোনো একটা ফুলের দোকানের সামনে দাঁড়াবে। - ঠিক আছে, ম্যাডাম।
কিন্তু আপনি একা কেনো রেজিস্টার অফিসে যাচ্ছেন ম্যাডাম?
আমার বন্ধুর বিয়ে। - ওহ।
ভালোবেসে বিয়ে? - হুম, তারা আমার খড়গপুরের আইআইটি'র ক্লাসমেট।
মেয়ে কেরালার আর ছেলে হায়দ্রাবাদের।
ছেলেটা ভীষণ ভাগ্যবান, তার প্রেম কাহিনী সফল হয়েছে।
৪ বছর ধরে কাউকে বলতে থাকো, তোমার ভালোবাসাও সফল হবে।
ওহ, দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের এখন কী করা উচিত?
সমস্যা নেই, আমরা সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখি।
এর আবার হঠাৎ করে কী হলো?
যখন অটোতে ভাগ্য এসে উঠলো, আমার উপরে কেনো দুর্ভাগ্য এসে পড়লো?
তুই... প্লিজ চালু হ।
কী হয়েছে?
মনে হয় আমার খারাপ সময় তোমার গাড়িতেও এসে পড়েছে। আমি আরেকটা অটোতে করে চলে যাবো।
বিদায়।
না, ম্যাডাম ১ মিনিট অপেক্ষা করেন।
আমরা কী বাইকে করে যাবো?
এই সময়ে তুমি বাইক কোথায় পাবে? - ১ মিনিট।
গণেশ ভাই, হ্যালো। হ্যালো ভালো, ভালো আছো?
আমি ভালো আছি ভাই। আমার ছোট্ট একটা সাহায্য প্রয়োজন ভাই। - বলো রবি।
এক ঘণ্টার জন্য আপনার বাইকটা আমার প্রয়োজন। - নাও ভাই।
রোদ-বৃষ্টির মধ্যে তুমি আমাদের খবরের কাগজ পৌঁছে দাও। আমি কেনো তোমাকে আমার বাইক দেবো না? ধরো।
ধন্যবাদ ভাই।
আমি তোমাকে একটা ফুলের দোকানে নিয়ে যেতে বলেছিলাম, তুমি আমাকে নার্সারিতে কেনো নিয়ে এলে রবি? -দুই মিনিট।
হাই, দিদি। - কী রবি, কী মনে করে এখানে এলি?
তোর মায়ের শাক-সবজির পাশাপাশি ফুল উৎপাদনের শখ হয়েছে নাকি?
তেমনটা না দিদি।
দিদি, ও আমার বন্ধু। আমাদের জরুরি কিছু ফুলের দরকার।
তোর যা ইচ্ছে তাই নে ভাই, পুরো নার্সারিটাই তোর। - ধন্যবাদ দিদি।
কিরে ছোটু? স্কুলে না গিয়ে এখানে কী করছিস?
এই যে আপনার ফুলের তোড়া।
দারুণ রবি, এটা অসাধারণ, আসলগুলোর চেয়েও ভালো।
রবি, ভিন্ন ভিন্ন গাছে যদি ভিন্ন ভিন্ন ফুল না ফুটে একটি গাছেই সব ফুল ফুটতো তাহলে দারুণ হতো।
তাহলে প্রত্যেকটা চারাগাছই একটি আস্ত ফুলের তোড়া হতো।
ওহ, চলো যাওয়া যাক। আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে। বিদায় আন্টি, অনেক অনেক ধন্যবাদ!
চলি দিদি, আবার দেখা হবে। - ঠিক আছে, রবি।
ধরণী এসে গেছে। আয়, আয়।
হাই। - এতো দেরি করলি কেনো ধরণী?
লম্বা ইতিহাস, তোদের পরে বলবো।
প্রথমে আলাপ করিয়ে দেই, মিঃ রবি। - হাই। - হাই ব্রো।
দেখে মনে হচ্ছে আমাদের বন্ধুদের কেউই আসেনি।
সবাই মিস করে ফেলেছে, এমনকি সন্দ্বীপও, যার সাক্ষী হিসেবে সই করার কথা।
মনে হচ্ছে সাক্ষী হিসেবে সই করার জন্যে তুই তাকে নিয়ে এসেছিস।
প্লিজ আসেন ভাই।
ঠিক আছে। আসো।
জলদি করো মা। আমি সুগারের রোগী আর আমার দুপুরের খাবারের দেরি হয়ে যাচ্ছে।
দুঃখিত স্যার।
মালা বদল করো।
অভিনন্দন 🎊 - ধন্যবাদ।
প্লিজ কাগজগুলোতে সই করো।
সই করো রবি।
কী সমস্যা রবি?
আমি দুঃখিত।
বাবা-মাকে ছাড়া বিয়ে আর তাদের সম্পর্কে না জেনে আমি সাক্ষী হিসেবে সই করছি। এসব আমার পছন্দ না।
আমাকে ভুল বুঝবেন না ভাই।
বিয়ে মানে এভাবে মালা বদল আর সই করা না।
এর মানে পরিবার আর স্মৃতি।
যেই স্মৃতিগুলো সারাজীবন মনে রাখা উচিত।
আমাদেরও একই অনুভূতি হচ্ছে, কিন্তু কী করবো যদি আমাদের পরিবার মেনে না নেয়?
আমি শুনেছি, ভালোবাসাকে রাজী করাতে আপনার ৪ বছর লেগেছে।
আর পরিবারের মেনে নেয়ার জন্য কয় বছর চেষ্টা করেছেন?
৪ মাস, না ৪ দিন?
নাকি অন্তত ৪ ঘণ্টা?
আপনারা অন্তত ৪ বার তাদের জিজ্ঞেস করতে পারতেন, তারপরেও তারা মেনে না নিলে, এই সিদ্ধান্তটা নিতে পারতেন।
শৈশবে আমরা যা চেয়েছি বাবা-মা আমাদের সব দিয়েছেন, আর আমাদের যেমন জীবন সঙ্গী পছন্দ, ওনারা আমাদের তাও দেবেন।
কিন্তু আমাদের ভালোবাসা সম্পর্কে তাদের সাথে ধৈর্য সহকারে কথা বলা প্রয়োজন।
ওকে স্যার, মনে হয় আপনাদের ধৈর্য নেই। ধরণী ম্যাডাম আপনাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান দিয়েছে, তাই আমি ওনাকে সম্মানটা দেবো।
না রবি।
আমি আমাদের সিদ্ধান্তের চেয়ে আপনার কথাগুলোর সম্মান দিতে চাই।
হ্যাঁ ভাই।
আমাদের বিয়ে হবে আমাদের পরিবারের সম্মতিতে।
আমার সার্ভিস জীবনে আমি অনেক ছেলেকে দেখেছি, কিন্তু তোমার মতো এমন বিনয়ী ছেলে আমি আগে দেখিনি।
ধরণী, গান শুনে শুনে তুই বই কিভাবে পড়িস?
যখন আমরা মুভি দেখি তখন আবহ সঙ্গীত প্রয়োজন, ঠিক? আমার জন্যে এটাও ঠিক তেমন।
অনেক পড়া হয়েছে। এমনভাবে পড়ছিস যেনো পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিস, ঠিক তোর বাবার মতো।
হ্যালো, বলো সাম্বু!
ওহ, তোমার মেয়ের বিয়ে! অভিনন্দন বন্ধু!
ছেলে কে? - মা, বাবাকে দেখার সাথে সাথেই তোমার পছন্দ হয়ে গিয়েছিলো?
আমাদের বিয়ের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগে আমি তার চেহারা স্পষ্টভাবে চিনতামও না।
তার মানে, কোনো অনুভূতি ছাড়াই তুমি তাকে বিয়ে করেছিলে?
আসলে, তোর বড়ো ভাইয়ের জন্মের পর তার প্রতি আমার সত্যিকারের অনুভূতিটা জন্মেছিলো।
আর বয়সের সাথে সাথে সেটা বেড়েছে।
মনে হয় অনুভূতিটা আমার ভেতরেই ছিলো, কিন্তু আমার বুঝতে একটু সময় লেগেছিলো। এই যা।
ঠিক আছে, ঠিক আছে। ঘুমা এখন। - ঠিক আছে।
শুভ রাত্রি মা। - শুভ রাত্রি।
এই রবি, হাই। - ধরণী ম্যাডাম, আপনি!
হাই ম্যাডাম, - তুমি এখানে খবরের কাগজ দাও?
না ম্যাডাম, - তাহলে, এখানে টাকা নিতে এসেছো?
না ম্যাডাম। আমি এখানে ইন্টারভিউ দিতে এসেছিলাম, কিন্তু পারিনি।
তোমার যোগ্যতা ঠিক কী?
আমি বি-টেক করেছি, ম্যাম। - বি-টেক? সত্যি?
হ্যাঁ।
তুমি বি-টেক করেছো, অথচ খবরের কাগজ বিলি করো?
ওহ, ওইটা জীবিকার জন্যে। আর এটা ভবিষ্যতের।
ঠিক আছে ভাই, আমি যাচ্ছি, অনেককেই কার্ড দিতে হবে।
ঠিক আছে বন্ধু। - বিয়েতে ধরণীকে নিয়ে আসতে ভুলোনা যেনো।
নিশ্চয়ই। সে চলে এসেছে, তাকে সরাসরিই বলে দাও।
হাই সাম্বু আংকেল। - হাই ধরণী।
হাই গীতা। - হাই। - বিয়ের জন্যে অভিনন্দন...ধন্যবাদ।
ধরণী মা, সঙ্গীত থেকে শুরু করে বিয়ে পর্যন্ত কিন্তু তোমাকে আমাদের বাড়িতে গিয়ে থাকতে হবে। - ঠিক আছে আংকেল।
ঠিক আছে বন্ধু। - বিদায়। দেখা হবে ভাই। বিদায় মা.. বিদায় আংকেল।
এই বই প্রেমী।
এই! - তুই বলেছিলি তুই আমার জন্মদিনের জন্যে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলি, কী কিনেছিস?
এটা কেনার সামর্থ্য আমাদের নেই। এই জামাগুলো ধরণী আমাকে উপহার দিয়েছে।
কী? ধরণী তোকে উপহার দিয়েছে? আমাদের দেখা।
অনেক ভালো। এই দোস্ত, আমাদের কলোনির দর্জি থেকে তুই টমি হিলফিগার এর সারিতে পৌঁছে গেছিস।
এই সে তোর লেখাগুলো দেখে প্রশংসা করেছে,
তার চিন্তাধারাকে পছন্দ করে তুই পাঁচ বছর অপেক্ষা করছিস,
সে তোকে এই মোবাইলটা দিয়েছে, এই জামাগুলো দিয়েছে, তুই কখন তাকে তোর অনুভূতির কথা জানাবি?
কী বলছিস তুই? তুই ওই পেপার বয়ের প্রেমে পড়েছিস?
হুম, হতে পারে আর্থিক দিক থেকে সে গরীব, কিন্তু চরিত্রের দিক দিয়ে সে অন্য যে কারো চেয়ে অনেক ধনী।
কখন থেকে তুই তার সাথে এতোটা ঘনিষ্ঠ হলি?
অনেকটাই আমার চিন্তাধারার কাছাকাছি।
আংকেল। - বলো মা।
এটা তো নতুন বই, তাই না? এতো তাড়াতাড়ি এই বইটা কে নিয়েছিলো?
ওহ, ওই বইটা? পেপার বয় রবি ওটা নিয়েছিলো।
পেপার বয় রবি?
বলা হয়, পৃথিবীতে একইরকম দুইটা জিনিস কখনো হয় না।
কিন্তু এই লেখাগুলো দেখে, আমার মনে হলো আমাদের পৃথিবী একই।
ওইদিনের ভ্রমণের পর, আমি বুঝতে পারলাম তার মূল্য কতোটা আর কী তার মূল্য?
এটুকুই, আমি তার সাথে আমার জীবন ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিলাম।
সত্যি? কিন্তু কখন তুই এটা তাকে বলছিস?
আগামী পরশু তার বান্ধবী পূর্ণার জন্মদিন। ভাবছি পার্টিতে আমি তাকে আমার ভালোবাসার কথা বলবো।
পুরো আয়োজনটা দারুণ। ঠিক বেবি? - হ্যাঁ।
বুফেটাও।
এই, ওই খাদ্য ইন্সপেক্টরটা আমাদের অনেকবার বিরক্ত করেছে।
প্রতিশোধ নেয়ার এটাই উপযুক্ত সময়।
একারণেই আমি অনেক বড়ো বাটি আর ছোটো চামচ রেখেছি। আমি ভাতের মধ্যে চুন আর তরকারির মধ্যে রং মিশিয়ে দিয়েছি।
দারুণ...
সম্ভব হলে তার স্যুপে মানসিক উত্তেজনার ঔষধ মিশিয়ে দে।
ডার্লিং, আমরা কি কেকটা কাটবো?
২ মিনিট বাবা, আগে একজন গুরুত্বপূর্ণ বন্ধুর আসা উচিত। - কে সে?
কোথায় সে?
কী সার্পাম? - পার্টি কোথায় হচ্ছে?
ওহ ইশ্বর, এমনকি আমাদের বাড়ির বিয়েগুলোও এভাবে হয় না।
সত্যি? - যাই হোক, তুই ধরণীর সাথে কথা বলেছিস?
তাকে এটা বলতে আমার টেনশন হচ্ছে। ভালো হতো যদি তোরা সবাই এখানে থাকতি।
ওই মোটা মেয়েটা নিমন্ত্রণ না করলে আমরা কিভাবে যাই?
প্রথমে তুই গিয়ে ধরণীর সাথে কথা বল। শক্ত হ।
ঠিক আছে, ফোনটা ধরে থাক।
এইতো সে!
হাই...
আসো, আসো, আসো।
হাহ? এই ছেলেটা?
যখন তুই বললি গুরুত্বপূর্ণ কেউ আসছে, আমি প্রেসিডেন্ট এর সারির কাউকে আশা করেছিলাম। এটা আমাদের পেপার বয় না?
আরে না...ধ্যাত্তিরি।
আসো!
আসার জন্যে ধন্যবাদ। - শুভ জন্মদিন ম্যাম।
এই পোষাকে তোমাকে খুবই হ্যান্ডসাম লাগছে, রবি।
তুমি কিনেছো তো, তাই না?
বন্ধুরা,
আমি জানি আপনারা সবাই ককটেলের জন্য অপেক্ষা করছেন।
কিন্তু,
এই ধরণের জন্মদিনের অনুষ্ঠানেই শুধু আমরা সবাই একসাথে হই।
তাই, আমি আপনাদের কিছু কথা বলতে চাই।
আকর্ষণ এবং ভালোবাসা এই বয়সে স্বাভাবিক।
একজন খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে আমি আপনাদের সবাইকে একটা কথা বলতে চাই,
খাদ্য হোক বা ভালোবাসা, মান নিয়ন্ত্রক খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
যে কারো প্রেমে পড়বেন না।
যাচাই করে দেখুন - কী তাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা, কী তাদের অপমিশ্রণ আর কী তাদের দূষিতকরণ?
শুধু তখনই খাবার হজম হবে এবং ভালোবাসা অনেক বেশি সফল হবে।
ধন্যবাদ....ধন্যবাদ...
আসো ডার্লিং, কেকটা কাটি। - ঠিক আছে, বাবা।
শুভ জন্মদিন তোমাকে...
শুভ জন্মদিন পূর্ণা।
শুভ জন্মদিন, পূর্ণা।
কিরে পূর্ণা, তুই কি প্রেমে পড়েছিস? তোর বাবা ভালোবাসা নিয়ে লেকচার দিচ্ছিলো?
খাবার ছাড়া আমি ভালোবাসার সম্পর্কে কিছুই জানি না।
আরভ, ভালোবাসা আসলে কী? - এটার মানে পরিবর্তন হতে ভালোবাসা।
এসব তোদের মতো ছেলেদের জন্য। রবি, তুমি ভালোবাসার সম্পর্কে বলো।
ভালোবাসা অক্সিজেনের মতো। অদৃশ্য কিন্তু জীবন দান করে।
বাহ, চমৎকার।
যাই হোক, তুই আমাদের সাথে ওর পরিচয় করিয়ে দিসনি।
ও রবি, আমার বয়ফ্রেন্ড।
হাই, আমি ঈশানি। - হাই।
হাই, আমি আরভ। - হ্যালো।
হাই, আমি তেজা। - হাই, ভাই।
তাহলে, চল তোর বয়ফ্রেন্ড এর একটা মান নিয়ন্ত্রক টেস্ট করা যাক।
ঠিক আছে। - তুমি কী করো?
সে একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। - ওহ দারুণ।
তোমার সম্পূর্ণ আয় কতো? - ১২... ১২ প্রতি বছর।
তুমি কোন কোম্পানিতে আছো?
আইবিএম।
বাহ, অভিনন্দন!
ধরণী, তুই ভীষণ ভাগ্যবতী!
এটুকুই... ১ মিনিট... আমি আসছি।
রবি।
তুমি মাঝপথে চলে যাচ্ছো কেনো রবি?
যখন আমরা জানিই যে শেষ পর্যন্ত একসাথে হাঁটতে পারবো না, তাহলে মাঝপথে চলে যাওয়াই ভালো।
আমি তাদের সাথে মিথ্যে বলায় আমার সাথে রাগ করেছো?
না।
সত্যিটা লুকানোয় আমার খারাপ লেগেছে।
আমি তোমাকে ভালোবাসিনি কারণ তুমি কোনো এক গাদওয়াল রেড্ডির মেয়ে, ধরণী।
আমি তোমাকে সরাসরি দেখার আগে থেকেই তোমার চিন্তা-ভাবনা আর অনুভূতিকে ভালোবাসতাম।
তুমি অনেক ভালো একটা মেয়ে, ধরণী।
ধরণী, শুরুতেই আমি অনেক চেষ্টা করেছি তোমাকে দেখার, তোমার সাথে কথা বলার, কিন্তু কোনোভাবেই হয়নি।
কিন্তু তুমি নিজে থেকে আমার সাথে বন্ধুত্ব করেছিলে।
তুমি আমাকে ৩০০ টাকা দামের চা খাইয়েছো, যা আমার পুরো মাসের চা খাওয়ার খরচ, ধরণী।
তুমি আমাকে কোথাও একটা নিয়ে গিয়েছিলে, জায়গাটা কোথায়?
স্টারবাক্স।
এক কাপ চায়ের দাম ৩০০ টাকা। এটা কি পাগলামী নাকি শখ?
আমাদের গলিতে চুল কাটাতে নেয় ৫০ টাকা।
আর তুমি আমাকে ১০০০ টাকা দিয়ে কুকুনে চুল কাটিয়েছো।
তারপর, আমায় শুধু টাকার মূল্যে বিচার করা হতো।
এখন, আমি মানুষের মধ্যে পার্থক্যটা দেখতে পাই।
রবি, তাদেরকে এসব বলার কারণটা আমায় খুলে বলতে দাও।
তোমার নিজস্ব কিছু কারণ আছে, ধরণী।
আমি শিক্ষিত এবং বি-টেক করেছি জানার পরই তুমি আমার কাছে এসেছিলে।
কিন্তু আমি তা খেয়াল করিনি।
ঠিক।
আমি অনেক খুশি হয়েছিলাম যখন তুমি আমায় মোবাইলটা উপহার দিয়েছিলে।
যোগ্যতা!
হ্যাঁ।
আমি বুঝতে পারিনি।
যখন তুমি আমাকে এই শার্টটা কিনে দিলে আর বললে পড়ে আসতে, আমি ভেবেছিলাম এটা সত্যিকারের ভালোবাসা, ধরণী।
তুমি আমাকে এর জন্যে তৈরি করেছিলে?
কি বাজে বকছো, রবি? পাগল হয়ে গেছো?
ধরণী।
খারাপ লাগার বিষয় এই যে, অন্য সবার মতো তুমিও ভেবেছো যে খবরের কাগজ বিলি করা ছোটো কাজ, কিন্তু এটা ভুল না।
তোমার মর্যাদা ভিন্ন, ধরণী।
তোমার পারিপার্শ্বিক অবস্থাই দেখো না। কতোটা উজ্জ্বল আর মহান।
আর আমার পেছনে, পুরোটাই অন্ধকার।
এই উজ্জ্বলতা ছেড়ে অন্ধকারে এসোনা, ধরণী।
রবি, তুমি বুঝতে পারছো, কিসব বলছো?
হ্যাঁ ধরণী, আমি বুঝতে পারছি।
ভেবেছিলাম আমি সেই শাহজাহান যে তাজমহল বানিয়েছিলো।
আমি কি শুধুই শ্রমিক ছিলাম?
রবি...
আয়, বস।
বাড়িতে গিয়ে পড়িস মেঘা। মা, এরই মধ্যে ৩ বার ফোন করেছে।
পড়ার পর যাবো।
এই, শুনতে পাচ্ছিস না তোর ফোন বাজছে?
ছেড়ে দে বন্ধু, হতে পারে কোনো ভক্ত।
ওহ, তোর ফ্যানও (ভক্ত) আছে নিগ্রো?
শুধু যারা খবরের কাগজে আসে তারাই না, যারা খবরের কাগজ বিলি করে তাদেরও ফ্যান থাকে।
কোনো ফ্যান বা এসি না। আপ্পু নামের কেউ। - তুই কি চাস ফোনটা আমি তুলি?
এই, না না। আপ্পু হচ্ছে সেই লোক যে আমাকে টাকা ধার দিয়েছিলো, তুই ফোন তুললে আমি গেছি।
দোস্ত, তোকে এমন লাগছে কেনো?
কিছু না দোস্ত।
না ভাই, কিছু গড়বড় আছে। মনে হচ্ছে সে ঠিকঠাক খবরের কাগজ বিলি করছে না।
আমি শুনেছি, যারা দোকানে খবরের কাগজ নেয়, তারা তার নামে নালিশ দিয়েছে।
খবরের কাগজ বদলে গেলে কী হয়, সবগুলোতে তো একই খবরই থাকে। ঠিক? এই ছোটো ব্যাপারে তারা নালিশ করবে?
তুই চুপ কর মূর্খ। আমরা তাদের নিয়ে কথা বলছি না, আমরা আমাদের বন্ধুকে নিয়ে চিন্তিত।
আমার মন ভালো নেই, আমাকে ছেড়ে দে!
মনের কী হয়েছে দোস্ত, সন্ধ্যায় কয়েক পেগ খা, সব ঠিক হয়ে যাবে।
মদ খেয়ে না, কথা বলে আমার কিছু বিষয় পরিষ্কার করতে হবে। তাই আমি পূর্ণার সাথে কথা বলতে যাচ্ছি।
কী? বিল নিতে এসেছো? দাঁড়াও, আমি নিয়ে আসছি।
পূর্ণা ম্যাডাম...
আমি অনেকবার ধরণীকে ফোন করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে ফোন তোলেনি। আপনি কী দয়া করে...
হাহ! যদি আমি হতাম, তাহলে তোমার নাম্বার ব্লক করে দিতাম।
আমি একটা ভুল করে ফেলেছি ম্যাম। - তাকে না কাঁদানো পর্যন্ত বুঝতে পারোনি?
সে শুধু একদিন তোমার সাথে কাটিয়ে বুঝতে পেরেছে।
কিন্তু এতোদিন ধরে মিশেও তুমি তাকে বুঝতে পারোনি।
দুঃখিত ম্যাডাম। খুবই দুঃখিত!
যা ঘটেছিলো তা একটা আকস্মিক ব্যাপার ছিলো, কিন্তু আমি তার উদ্দেশ্যটা বুঝতে পারিনি।
পরে যখন চিন্তা করলাম, আমি যা বলেছি তার জন্যে খারাপ লাগলো।
রবি, একমাত্র সেই তোমার সম্মানের কথা ভাবে, যে তোমায় অসম্মান করতে চায় না।
বই থেকে বেরিয়ে এসে দেখো, আজকালকার মেয়েরা কেমন হয়।
তাদের হাতে অনেক অপশন থাকে।
একটা কথা মনে রেখো,
ধরণীর মতো মেয়ে পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
আমি এক্ষুনি ধরণীর সাথে দেখা করতে চাই। - সে এখানে নেই, আলেপ্পে-তে বন্ধুর বিয়েতে গেছে।
অনেক অনেক দুঃখিত, ধরণী।
আর কতোবার বলবে?
তুমি কি জানো, আমাদের আঙুলের মাঝখানের দূরত্বগুলো কেনো?
না।
জীবন সঙ্গী এটা পূরণ করবে।
আমরা এই হাত কখনোই ছাড়বো না।
এই দূরত্ব আমাদের মধ্যে আর আসবে না।
এটা কী ছিলো রবি?
চুমু খাওয়া মানে ঠোঁটের আদান-প্রদান নয়, নিঃশ্বাসের আদান-প্রদান।
আজ আমি ফয়সালা করবোই।
কী সার্পাম? তোর কী প্রয়োজন?
তোর পায়ে চটি নেই, ঠিক?
নারে, এটা কাজের সময়। জলদি বল, তুই কী চাস?
বোকা আনিথা, তুই সবজির খোসা বা আবর্জনা যা-ই ছুঁড়ে দিস না কেনো
আমি সোজাসুজি একটা কথা বলতে চাই, আমি তোকে ভালোবাসি।
তুই হ্যাঁ বললে আমরা বিয়ে করবো। আমরা হবো নাগা চৈতন্য আর সামান্থার পর সবচেয়ে ভালো জুটি।
তুই কী বলিস?
আরে না, সে হাতা কেনো ভাজ করছে?
আমিও সোজাসাপ্টা বলছি, আমার বিয়ের কোনো উদ্দেশ্য নেই।
আমার অনুভূতিও এক। বিয়ের কাথা পুড়ি।
চল এই প্রথা ফলো না করে একটা ব্যবস্থা করি।
পুরোনো শহরে একটা ঘর নিয়ে একসাথে থাকি।
যদি আমরা ক্লান্তও হয়ে পড়ি, তাও আমরা হাল ছাড়বো না।
যদি প্রয়োজন হয়, ৬ মাস পর বিরক্ত হয়ে গেলে, আমরা ব্রেক আপ করে যার যার বাড়িতে ফিরে যাবো।
কী বলিস সোনা?
আমি বলেছি, আমি তোকে বিয়ে করতে চাই না বদমাশ।
তুই যদি আবার এইসব নাটক করেছিস, আমি তোকে কেটে টুকরো টুকরো করে উনুনে ফেলে দেবো।
সে আমার ফোন তুলছে না, মা।
আরেকবার দেখ প্লিজ। - ঠিক আছে।
তোর বাবা তো না জানিয়ে কখনোই বাইরে থাকে না। - চিন্তা করো না, মা।
আমরা বাড়িতে ভীষণ চিন্তায় ছিলাম, তুমি কি একটু ফোন করে জানাতে পারলে না?
কী হয়েছে বাবা?
তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেনো বাবা? কী হয়েছে?
তুই সাম্বাশিভা আংকেলকে চিনিস, ঠিক?
কী হয়েছে ওনার?
সে তো সম্প্রতি আমাদেরকে তার মেয়ের বিয়ের দাওয়াত দিয়ে গেলো।
তার কিছুই হয়নি।
তার মেয়ে গীতা আত্মহত্যা করেছে।
না...
এক সপ্তাহের মধ্যে বিয়ে, সে এমন কেনো করলো বাবা?
এমনকি আজ অফিসেও, সে বলছিলো যে তার মেয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে লন্ডনে চলে যাচ্ছে,
বলেছিলো সেও সামনের গ্রীষ্মের ছুটিতে লন্ডনে যাচ্ছে।
কিন্তু সন্ধ্যায় সবকিছু ঘটে গেলো।
পাগলিটা এতো বড়ো পদক্ষেপটা কেনো নিলো?
ভালোবাসা...
মনে হচ্ছে সে কাউকে পছন্দ করতো, কিন্তু ভয়ে বাড়িতে জানাতে পারেনি।
এদিকে বিয়েটাও কাছে চলে এসেছিলো, এই যা।
কিন্তু তোদের প্রজন্মের প্রত্যেকটা বাচ্চাই এমন কেনোরে মা?
প্রত্যেকটা ছোটো বিষয়ই বাড়িতে বলিস,
কিন্তু এতো বড়ো বিষয়টা কেনো লুকিয়ে যাস?
তারা হয়তো ধমকাবে বা আঘাত করবে, কিন্তু মেরে তো ফেলবে না, ঠিক?
তারা তাদের সন্তানদের ভালোবাসা মেনে নেবে, যদি তারা সঠিকভাবে তাদের বোঝাতে পারে।
তাহলে, প্লিজ রাজি হয়ে যাও বাবা।
এই, তুই কী বলছিস?
হ্যাঁ মা, আমি একটা ছেলেকে ভালোবাসি।
কে মা?
যে আমাদের বাড়িতে খবরের কাগজ দিয়ে যায় সে।
পেপার বয়?
আমি ধারণা করেছিলাম...
আমি ধারণা করেছিলাম এমন কিছুই ঘটবে যখন তাকে আমাদের বাড়ির আশেপাশে ঘুরঘুর করতে দেখেছিলাম।
তুমি কী ভাবছো বাবা?
গীতা হয়তো ভেবেছিলো, সন্তানদের তাদের ভালোবাসার ব্যাপারে বলার স্বাধীনতা থাকলেও,
বাবা-মায়ের তা মেনে নেয়ার সাহস থাকে না বাবা।
এখন রাত ২ টা বাজে, তুমি মাকে নিয়ে তোমার ঘরে যাও, আর এ ঘরে আমি একা থাকবো,
সাম্বাশিভা আংকেলের বাড়ি আর আমাদের বাড়ির মধ্যে পার্থক্য কী বাবা?
একমাত্র পার্থক্য হলো গীতা আর নেই, আমি আছি! এইটুকুই।
তুই একটা পেপার বয়কে পছন্দ করেছিস...
যখন আমরা উৎসবের জন্য গাদওয়াল ভ্রমণে যেতাম, তুমি বলতে যতদূর চোখ যায় সব আমাদের জমি,
তুমি কি এখন অন্তত একবার চোখের পলকে সেগুলো মনে করতে পারবে?
আমাদের কতোটা আছে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ না বাবা।
কিন্তু কে আমাদের পাশে আছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
বলা হয়, একটা মেয়ের সামনে তার বাবা, পেছনে তার ভাই আর পাশে তার স্বামীর থাকা উচিত, বাবা।
যদিও সে একজন পেপার বয়, কিন্তু সে ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়েছে, সে বাড়ির দেখাশোনা করছে।
সে দায়িত্ব বোঝে, বাবা।
ভবিষ্যৎ ভালো হবে।
ঠিক আছে মা। একদিন তাকে আমাদের বাড়িতে আসতে বল।
ধন্যবাদ বাবা। অনেক অনেক ধন্যবাদ!
আমার ভয় করছে বাবা। - ভয়ের কিচ্ছু নেই মা, আসো।
নমস্কার। - নমস্কার।
কেমন আছেন? - ভালো স্যার।
বাবা, অটোর লোকটাকে বিদেয় করে ভেতরে চলো।
উনি আমার বাবা, স্যার।
ছেলে যখন পেপার বয়, বাবা অটো চালক না হয়ে আর কী হবে?
আমার এতো কী এসে যায়? - শ্বাশুড়ি-মা।
ওহ, আমি দুঃখিত। প্লিজ আমাকে ভুল বুঝবেন না।
প্লিজ ভেতরে আসুন। - ঠিক আছে স্যার। - প্লিজ!
প্লিজ বসুন আংকেল।
প্লিজ বসুন।
আরে আরে, কী করছেন?
প্লিজ উপরে বসুন। আপনারা কি কোনো রকম অস্বস্তি বোধ করছেন?
এটাকে নিজের বাড়ি মনে করে স্বচ্ছন্দ বোধ করুন।
ঠিক আছে স্যার। নিচেই...
আরে সোফায় বসুন। প্লিজ ওনাদের বলো বাবা।
বসুন... প্লিজ।
স্যার, আমি একজন সামান্য অটো চালক যে আপনার বাড়ির গেট পর্যন্ত আসতে পারি, আমার ছেলে একজন সাধারণ পেপার বয়, যে আপনার দরজা অব্দি আসতে পারে।
আমার স্ত্রী একজন রাঁধুনি যে আপনার রান্নাঘর পর্যন্ত আসতে পারে।
কিন্তু আপনি আমাদের বাড়িতে ডেকেছেন, পাশে বসতে দিয়েছেন, আর সম্মান দিয়ে আমাদের সাথে কথা বলছেন...
তাতে কী হয়েছে?
আমার বাড়িতে আপনার চেয়ে মাত্র দুটো ঘর আর চারটে দেয়াল বেশি আছে।
কিন্তু যখন জানতে পেরেছিলাম যে আমার মেয়ে একজন পেপার বয়কে ভালোবাসে, তখন কিছুটা মর্মাহত হয়েছিলাম।
কিন্তু যখন আমার মেয়ে আমাদের সাথে কথা বললো আমরা বুঝতে পারলাম...
ছেলেরা যখন ইচ্ছে হয় ভালোবাসে আর মেয়েরা তখনই ভালোবাসে যখন তারা বিশ্বাস করে।
একারণেই আমরা এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছি।
না না, বসুন। - প্লিজ নিন...
প্লিজ নাও বাবা। - ধন্যবাদ আন্টি।
শ্বাশুড়ি-মা।
তুমি তাদের রূপার গ্লাসে কফি দিয়েছো, দেখো তারা আবার চুরি না করে।
আমাদের তিন ছেলে-মেয়ে। আমার যা উপার্জন তা তিনজনই সমান ভাবে পাবে।
আপনাদের আর কিছু জানার থাকলে, আমাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।
না স্যার, আপনি আমাদের এমন একটা সোনা মেয়ে দিচ্ছেন, যাকে আপনারা ২০ বছর ধরে গড়ে তুলেছেন। আমাদের আর কী চাই?
তাকে আমাদের বাড়িতে পাঠান, আমরা তাকে মূল্যবান রত্নের মতো যত্নে রাখবো।
আমার দুই ছেলেই আমেরিকায় থাকে।
আমরা একটা ভালো দিন দেখে তাদের আসতে বলবো, আর তাদের বাগদানটা সেড়ে ফেলবো।
খুবই খুশি স্যার।
এখন আমরা যাবো স্যার। - দেখা হবে।
নমস্কার। - নমস্কার।
যদি সমস্ত ধনীরা আপনাদের মতো করে ভাবে, তাহলে সব ভালো হবে ম্যাডাম।
কী ভালো?
সাইকেল চালানো যে কেউই গাড়িতে চড়ার ইচ্ছে করতো, কিন্তু এই লোকেরা গাড়িতে চড়া মেয়েকে টেনে নামিয়ে সাইকেলে বসিয়েছে।
তুমি ভেতরে যাও।
আমি যে কোনো সময় মারা যেতে পারি। আমার কী এসে যায়?
আমার নাতিদের আসতে দাও, আমি কথা বলবো।
এটা কি নতুন জামা?
তুমি কী চিন্তা করছো যে তোমার ছেলেরা আমার প্রেমে পড়ে যাবে, আন্টি?
চিন্তা করোনা! আমি অতো সহজে প্রেমে পড়বো না। ( তুই এতো চিন্তা করছিস কেনো মা?
তারা অবশ্যই রাজি হবে। চিন্তা করিস না!
ওই তো ওরা আসছে।
হাই... - হাই ভাইয়া।
বাবা... - কেমন আছো?
এই... - হাই ভাইয়া।
হাই বাবা... কেমন আছো? - হাই মা, কেমন আছো? আমি ভালো মা।
এই... - স্বাগতম। - হাই...
দেখে মনে হচ্ছে বিয়ের আকর্ষণীয়তা এরই মধ্যে এসে পড়েছে।
এই...লজ্জাবতী...
এই পূর্ণা, মনে হচ্ছে তোর ওজন কমেছে। - হ্যাঁ।
দেখো আন্টি,
অন্য দেশ থেকে আসা লোকেরা ধরতে পারে কিন্তু প্রতিবেশীরা পারে না।
তোদের লাগেজ কোথায় বাবা, বোনের জন্যে কিছু আনিস নি?
তুমি কিভাবে এটা বললে বাবা?
দেখো, সাত্তি ওগুলো নিয়ে আসছে।
কে সে? বিমানবন্দরের আইসক্রিম বিক্রেতার মতো দেখতে।
সে আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের রাঁধুনি। - রাঁধুনি? - হুম।
বাবা তাকে গাদওয়াল থেকে পাঠিয়েছিলো।
হাই জনাব।
হাই ছেলেরা, আশা করি সব ঠিক আছে।
তোরা তাকে এমন কেনো বানিয়েছিস? - চলো মা।
ছেলেরা, আমরা কি এখন যাবো? - চলো।
হাই। আমি পূর্ণা, অন্নপূর্ণা।
আমি সাত্তি, আন্নাভারাম সাত্তি।
এই, তোমার নামের মধ্যেই চাল আছে।
একারণেই আমি রাঁধুনি হয়েছি।
আমি খাবার অনেক বেশি পছন্দ করি।
আমি লাড্ডু অনেক পছন্দ করি।
আমি অনেক বেশি খাই। - আমি দারুণ রান্না করি।
দেখা হয়ে ভালো লাগলো। - ভালো তো আমার পুরোটাই লেগেছে।
কী সমস্যা, বাবা?
এসব কী বাবা? তোমরা কিভাবে এটা মেনে নিলে?
না বাবা... - মা তুমি কথা বলো না।
তাদের এভাবে সিরিয়াসলি বল।
গাদওয়াল রেড্ডির মেয়ে বিয়ের পর এমন একটা ঘরে যাবে?
শ্বাশুড়ি-মা...
সবকিছুর পর কেনো কাঁদছিস?
আমি আসলে... - তাকে ভালোবেসে ফেলেছিলি?
আমাকে বল। তুই কি তাকে ভালোবেসেছিলি?
হ্যাঁ।
তাহলে, তাকে বিয়ে করে ফেল...
এই, এই, এই... তুই ভয় পেয়েছিলি, ঠিক?
ভেবেছিলি, শুধু তুই আমাদের সারপ্রাইজ দিতে পারিস? দেখ, আমরা কেমন চমকে দিতে পারি।
তোরা সত্যি রাজী ভাইয়া?
১০০% বোন।
ধরু, তুই কোন বাড়িতে যাচ্ছিস সেটা গুরুত্বপূর্ণ না। কার জীবনে যাচ্ছিস সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
সে পেপার বয়, তাতে কী হয়েছে?
সে বি-টেক করেছে, আমরা তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাবো।
ধন্যবাদ ভাইয়া।
ধন্যবাদ রে।
আমি চিন্তায় ছিলাম যে, তোদের আমার সিদ্ধান্তটা পছন্দ হবে না।
শান্ত হও বাবা। তুমি সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকো।
যা, ফ্রেশ হয়ে আয়, কিছু খাবি।
এই চল!
আপনি দাঁড়ান ম্যাডাম, চাপ নেবেন না। আমি আপনার হয়ে বলে দিচ্ছি।
আমি যে কোনো সময় মারা যেতে পারি।আমার কী এসে যায়? এটাই তো, ঠিক ম্যাডাম?
কী ধরণী , সত্যি?
হ্যাঁ, এটা সত্যি! তারা সত্যিই অনেক খুশি। আমিও অনেক খুশি রবি।
তুমি আমাকে এমন একটা খুশির খবর দিয়েছো। আমাদের এটা সাধারণ ভাবে উদযাপন করা উচিত না।
হ্যাঁ! আমি আসছি।
কী হচ্ছে এসব? সিগারেট খাচ্ছিস নাকি নিজেকে পোড়াচ্ছিস?
তুই মরবি। - বাড়ির এই অবস্থা দেখার চেয়ে এটাই ভালো।
এতোটা হতাশা কিসের?
নিজেকে সামলা। - সামলাবো? জঘন্য!
আমি তোমার মতো অভিনয় করতে পারি না।
আমাদের অন্য কোনো উপায় নেই... এইসব কিছুই বোনের জন্য।
চলো বোনের জন্য একটা ভুল করি।
বুঝতে পারছিস তুই কী বলছিস?
তুমি বুঝতে পারছো, তোমরা কী করছো?
এসব কী? কী এসব?
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা উপহারগুলো কেনো দুলাভাইকে দাওনি?
এই ঘড়িতে তাকে মানাবে?
এই জুতোর ভার সে বইতে পারবে?
এই আরমানি পোষাকটা দিলে, সে আমৃত্যু এটা কাপড়ের তাকে তুলে রাখবে।
যদি তুমি তাকে এই আইফোনটা দাও, তাহলে সে ভাবতে পারে, এর চেয়ে একটা অটো দিলে আরো ভালো হতো।
আমি পেপার বয় শব্দটা শুনে হতাশ হয়ে পড়ছি।
তার নাম ধরণী হলেও, সে বড়ো হয়েছে একটা রাজকুমারীর মতো।
আমরা কিভাবে ওকে তার হাতে তুলে দেবো?
এই,
আমি তোর আগে জন্মেছি,
এই কষ্ট, রাগ আর জ্বালা, তোর চেয়ে বেশি আমার হচ্ছে।
তুই ভাবছিলি যে কি করবি, আর আমি ভাবছিলাম কিভাবে করবো।
চল করি।
দৃঢ় ভাবে কিছু করি।
অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে।
হাই আন্টি... হাই রবি।
হাই।
আন্টি, আমার মনে হয় আপনি চারাগাছ অনেক ভালোবাসেন।
আপনি বাড়িতে নিজেই শাক-সবজি উৎপাদন করছেন।
হ্যাঁ মা। তাদের আমরা ভালো পানি দেই বা খারাপ পানি, তারা বেড়ে উঠবে।
বাড়িতে এগুলোর চাষ করে আমি কিছু টাকা বাঁচাই।
টাকা বাঁচানোর কাজে সবাই তোমার আন্টির শেষে।
কী সমস্যা আংকেল? একই শাক-সবজি তারা অর্গানিকের নামে বিক্রি করে।
আর এগুলো স্বাস্থ্যসম্মতও।
ভেতরে এসো মা, প্লিজ এসো।
সমস্যা নেই আন্টি।
প্লিজ বসো মা।
আমি চা বানিয়ে আনছি।
বিয়ের পর তাকে প্রতিদিনই বানিয়ে খাওয়াতে পারবে।
আমাকে ওর সাথে কথা বলতে দাও।
আমি ভেবেছি আগামীকাল থেকে খবরের কাগজ দেয়া বন্ধ করে দেবো।
কেনো?
তোমার বাবা-মা আমাদের ভালোবাসার ব্যাপারটা বুঝেছেন, আমাদের বিয়ে দিতে রাজী হয়েছেন।
কলোনিতে খবরের কাগজ বিলি করে আমি আর তাদের অসম্মান করতে পারি না।
ভালো বাবা, আমরা এটা ভাবতেও পারিনি।
আরেকটা ছোট্ট অনুরোধ।
যদি তোমার পছন্দ হয়ে থাকে।
আমরা কি এনগেজমেন্টটা খুব বেশি মানুষকে না ডেকে, অল্প কয়েকজনকে নিয়ে ছোটো পরিসরে করতে পারি?
হ্যাঁ মা, আমরা চাই না আমাদের কারণে তোমার পরিবারের কারোর অসম্মান হোক।
ঠিক আছে আংকেল, আমি বাবার সাথে কথা বলবো।
শুনলাম ছেলেটা নাকি পেপার বয়? সে কি আমাদের জাতের?
হাহ, রং দেখে বুঝতে পারছো না? তারা ওটা।
টিভিতে দেখানো হচ্ছে... মনে হলো পেপার বয়।
এসবের জন্যে কি আমরা আপনাদের দাওয়াত করেছি? শব্দ না করে চুপচাপ বসুন।
জনাব, সবাই এসে গেছে, আমাদের এখন শুরু করা উচিত? - আপনি কি ২ মিনিট অপেক্ষা করতে পারবেন, আমার শালা আসছে।
এই, সাবধানে হাঁট সবাই।
তোদের আমার পাশে হাঁটা উচিত না।
মূর্খ।
দেখো, সে এসে গেছে!
দুঃখিত দুঃখিত। আমার দেরি হয়ে গেছে, আমাকে ক্ষমা করো।
বসুন ভাই, বসুন।
নমস্কার... - ভালো আছো?
অভিনন্দন মা। - ধন্যবাদ।
দুলাভাই,
জামাই কি সে? - হ্যাঁ।
দারুণ দেখতে।
দেরি করে আসায় প্লিজ ক্ষমা করে দিও।
পুরোহিত মশাই, শুরু করুন।
ইশ্বরের আশীর্বাদে এটাই ঠিক হয়েছে যে, গাদওয়াল রেড্ডির মেয়ে ধরণী এবং মাদাসি নারায়ণের একমাত্র পুত্র রবি
বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে আগামী মাসের ৪ তারিখ রাত ১২ টা ০১ মিনিটে।
উভয় পরিবার দয়া করে শুভেচ্ছা বিনিময় করুন।
একটু হাসো সবাই।
তোমরা এখানে শুভ অনুষ্ঠানে এসেছো নাকি মৃত বাড়িতে।
দুলাভাই। এটা তাদের দোষ না, তোমার দোষ।
তুমি বলেছিলে তোমার মেয়ের এনগেজমেন্ট, কিন্তু জামাই এর সম্পর্কে কিছু বলোনি।
কতোবার তুমি আমাকে সম্বন্ধের কথা বলেছো, আর আমি তোমাকে এনেও দিয়েছিলাম।
কিন্তু তুমি প্রত্যেকবারই তুমি না করে দিয়েছিলে।
তুমি কী এর চেয়েও ভালো কোনো সম্বন্ধ এনেছো? তুমি তোমার জামাই হিসেবে একটা পেপার বয়কে বাছাই করেছো।
কাল থেকে তোমার মেয়ে আর জামাতা প্রত্যেক বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে খবরের কাগজ বিক্রি করবে?
তোমার মেয়ে খবরের কাগজ বিক্রি করবে?
ধরণী তাকে পছন্দ করে।
যদি সে বলে যে কুয়ায় ঝাঁপ দেবে। তুমি কি তাকে ধাক্কা দেবে?
তুমি কিসব বলছো, দুলাভাই?
যদি তুমি লোহার বাক্সে সোনাও রাখো, সোনা সোনাই থাকবে, আর লোহার বাক্সও লোহার বাক্সই থাকবে।
আমরা কি লোহার শেকল গলায় পড়ে বলি যে এটা মজবুত?
আমরা তা শুধু কুকুরের গলাতেই পড়াই।
আর তুমি এটা তুমি নিজের গলায় পড়তে চাইছো আর আমাকে সব দেখেও বলছো শান্ত থাকতে?
আংকেল! - হ্যাঁ, আমি এসব বলছি কারণ আমি তোদের আংকেল।
এটা গাদওয়াল রেড্ডির বাড়ির বিয়ে আর আমি তোর মতামত জানতে চাইছি।
আমরা সব ভেবেই তারপর বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আংকেল।
আপনার পছন্দ হলে বিয়েতে থাকেন নয়তো না।
অনেক ধন্যবাদ...
তুই কাঁদছিস কেনো?
এই সবকিছুই হয়েছে আমার কারণে।
দেখ ধরু, আমাদের একটাই জীবন আর এটা নিজের মতো করে বাঁচা উচিত।
আমাদের বিশ্বাস আছে যে রবি তোকে রানীর মতো যত্নে রাখবে।
এখনো মনমরা হয়ে আছিস কেনো?
রবিকে ফোন কর।
চল একসাথে বিয়ের কার্ড বাছাই করি তারপর সবাই মিলে বাহুবলি দেখে আসি।
আমরা আমেরিকায় এটা মিস করে ফেলেছি।
এখন খুশি তো? - হুম।
স্যার, আমাদের সাথে বেবিকেও নিয়ে যাই। - বেবি?
সে কিলিকিলি ভাষা শিখবে।
আয় ধরু, যা তৈরি হয়ে নে।
তোর বিয়ের কার্ড বাছতে বাছতে আমি ১০০০ ক্যালরি হারিয়েছি।
আমরা কি কিছু খাবো?
এই, আমরা এখন সিনেমা দেখতে যাচ্ছি, ঠিক? তোরা কি এর মধ্যেই খাবি?
এখন খেলে কি ট্রাফিক পুলিশ আমাদের জরিমানা করবে?
দারুণ দিয়েছো বেবি!
ধন্যবাদ বেবি।
এই ভুট্টা...ওগুলো খেতে দারুণ।
তুমি খেতে চাও, বেবি? - তুমি কি নিয়ে আসবে, বেবি?
জনাব...
জনাব, সিনেমা কাছেই তাই তো? আমি কিনেই দৌড়ে আসছি, আপনি যান।
আমার ভালোবাসার জন্যে ভুট্টা...
আংকেল, ভুট্টার দাম কতো?
ওহ, আপনি তো আবার ইংরেজি জানেন না। ঠিক?
সিনেমাটা বিশাল হিট হয়েছে, ঠিক?
শান্ত হ! শান্ত হ ভাই।
এই চীনেবাদাম... আরে না, তুই দেখা মানেই পাপ।
এটা পাপ, যদি তুই না খাস।
ধরু, দেরি হয়ে যাচ্ছে।
তারা আসবে... আমরা যাই। - চল, চল।
দেখো ভাই, সম পরিমাণ লবণ, মশলা, আর ভালো করে লেবুর রস দিয়ে আমাকে এক প্যাকেট দাও।
সে গোলাকার সবজির মতো দেখতে।
জলদি করুন। - সে অনেক বেশি গোলকন্ডার সমাধির মতো গোলগাল দেখতে।
কী বললি তুই?
ওহ...ইংলিশ মিডিয়াম?
তোরা কে ভাই?
এই... তার উচ্চারণই যদি এতো ভালো হয়, তাহলে ওটা কতোটা দারুণ হবে?
নোংরা নির্বোধ...
এই ধর তাকে। এই, আমাকে ছাড়...
আমি তোমাকে চীনেবাদাম কিনে দেবো। তুমি কি আমার সাথে শোবে?
বেবি...
কে সেই মূর্খ যে আমার বেবিকে, বেবি ডাকতে বাধ্য করেছে? - আমি বন্ধু।
তো... তো কি হয়েছে?
কী করবি তুই?
বেবি, বসো।
বসো!
বাটারস্কচ। - দুইটা।
আমি জানি তুমি এভাবে অলস হয়ে বসে থাকতে পারবে না। তুমি এগুলো খেতে থাকো আর আমি ওগুলোকে লাইত্থাতে থাকি।
শান্ত হয়ে বসে খাও। যখন তোমার ওগুলো খাওয়া শেষ হবে, আমি তাদের শেষ করবো।
আয়।
কিভাবে নিজেকে গড়ে তুলেছিস ভাই?
ক্ষমা করবেন!
আমাকে মেরো না ভাই, আমি অসুস্থ আর আমি ঔষধও নিচ্ছি।
তুই বলেছিলি যে, তুই আমার বেবিকে পছন্দ করিস? বেবিকে দুঃখিত বল।
দুঃখিত, দুঃখিত, দুঃখিত...
সুপার বেবি!
একটা বিয়ের জন্যে এসে, নিজের বিয়েই ঠিক করে ফেলেছে... চলো যাই।
এই রবি...আমি আগেই বলেছিলাম,
আমার এক মাসের আয় দিয়ে ধরণীর বিয়ের শাড়িটা কিনবো ।
কেনো আমার সাথে প্রতিযোগিতা করছো? বলেছিলাম, আমি শাড়িটা নেবো। ঠিক?
ঠিক আছে বাবা, ছাড়ো তো...আমরা দু'জনে মিলে রিসিপশনের জন্যে একটা কিনবো।
নমস্কার। - স্যার আপনারা... প্লিজ ভেতরে আসুন।
হাই আংকেল। - প্লিজ ভেতরে আসুন।
প্লিজ আসুন, বসুন।
এই সময়ে আপনারা কী কারণে এসেছেন, স্যার?
সকাল থেকেই আমরা বিয়ের কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।
আসলে বাবা এটা আপনাদের সকালেই দিতে বলেছিলো।
এটা কী স্যার? - টাকা।
আমাদের প্রথা অনুযায়ী, মেয়ের পরিবার বরের পরিবারকে বিয়ের পোষাকের জন্যে টাকা দেয়।
এসব কী বাবা? কেনো আপনারা আমাদের টাকা দিচ্ছেন? আমাদের যা আছে তাই দিয়েই আমরা কিনবো।
ঠিক আছে আন্টি। এটা রাখেন!
আমাদের উপর এতো বোঝা চাপিয়ে দিয়েন না, আমরা এটা বইতে পারবো না।
আপনি শুধু ৫ লাখের জন্য এটা বলছেন? - কয়েকদিনের মধ্যে আমাদের পরিবারের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদটা আপনার ঘরে আসছে।
আপনারা কিভাবে তাকে বহন করবেন?
আমি তাকে আমার মেয়ের মতো যত্ন করবো।
আমরা পরে কথা বলতে পারবো, আগে গিয়ে চা নিয়ে এসো।
প্রায় ১০ টা বাজে আংকেল, এই সময়ে চা কেনো?
আন্টি, খাবার থাকলে আমাদের খেতে দিন। কেনাকাটার কারণে সকাল থেকে আমরা কিছুই খাইনি।
আমরা খুবই ক্ষুধার্ত।
দাঁড়ান, আমি দুই মিনিটে খাবার নিয়ে আসছি। - আন্টি, যা আছে তাই আমাদের দিন।
বিয়ের পর তো আর প্রতিদিন আমার বোনের জন্য বিশেষ খাবার রান্না করবেন না। ঠিক?
আংকেল, পানি..
কী ভাই, ওভাবে মাখাচ্ছিস কেনো,
আন্টি বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করে, তোর কি মনে হয় ওনারা প্রতিদিন ৪ পদের তরকারি রান্না করে?
আয়, খা।
কী হয়েছে? অনেক ঝাল?
হুম।
তারা অনেক বেশি ঝাল দেয় যেনো তরকারি বেশি খেতে না হয়।
তুই কী খুঁজছিস?
যখন কাঁচা মরিচের তরকারি খাচ্ছিস তখন তোর এখানে ঘি আশা করা উচিত না। আয়, খা।
খাবার পেটে যাচ্ছে না? - না।
আমারও না...
কারণ আমরা এ ধরণের খাবারে অভ্যস্ত না।
কিন্তু আমাদের এখন অভ্যস্ত হতে হবে।
বিয়ের পর, আমাদের বোনও ঠিক একই খাবার খাবে।
গলা ব্যাথা করছে যখন খাবারটা এর ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।
হৃদয় জ্বালাপোড়া করছে।
কিন্তু তার অন্য কোনো উপায় নেই ভাই।
তার সারা জীবন এই খাবারই খাওয়া উচিত।
তার ঠিক এখানে ঘুমানো উচিত।
তুই কী দেখছিস ভাই?
এখানে একটা মাত্র ঘর?
প্রথম রাতটা তারা বাইরে কাটাবে।
তুই কি ভাবতে পারিস এর পর কী হবে?
তারা সবাই একসাথে ঘুমাবে।
একটা দম্পতি এইদিকে তো আরেকটা ওইদিকে।
সে এপোলো হাসপাতালে জন্মেছিলো। - আর তার বাচ্চারা গান্ধী হাসপাতালে জন্ম নেবে।
আমাদের বাচ্চারা ওয়াকরিজে যাবে।
আর তার বাচ্চারা ব্রিজের পাশের সরকারি স্কুলে যাবে।
কোনো সমস্যা নেই।
বাবা তাকে কথা দিয়েছে, আর আমাদের তা মানা উচিত।
কিন্তু রবি, একটা জিনিস...
তুমি শুধুই একজন পেপার বয়,
যদি তোমার বোন থাকতো, আর সে যদি একটা পেপার বয়কে ভালোবাসতো
তারা দুজনেই রাস্তার ধারে কাগজ বিক্রি করতো, তারপর বিয়ে করতে চাইতো, তুমি কি তা মেনে নিতে?
দেখুন আন্টি, ভালোবাসা হচ্ছে দুইটা মানুষের মধ্যেকার শপথ।
কিন্তু বিয়ে হচ্ছে দুইটা পরিবারের ভ্রমণ।
এই ভ্রমণে, যদি আমরা আপনাদের বাড়িতে আসি, তাহলে আমরা জুতো নিয়ে প্রবেশ করবো।
এখনকার জন্য যন্ত্রণাটা এক পক্ষের, কিন্তু ভবিষ্যতে তা দুই পক্ষের জন্যেই হবে।
আপনি ৪ টা বাড়িতে কাজ করেন,
গাদওয়াল রেড্ডির নিমন্ত্রণ আপনার হাতে।
রবি,
আমাদের মধ্যে কেনো এই নিরবতা?
তুই বুঝতে পেরেছিস, বাবা?
তাদের কোনো প্রশ্নের উত্তর আমাদের কাছে নেই।
সে আমাদের জিজ্ঞেস করেছে...
কোনো পেপার বয়ের হাতে তুই কি তোর বোনকে তুলে দিতি?
গাদওয়াল রেড্ডির অবস্থার সাথে আমরা নিজেদের তুলনা করতে পারি না।
আমাদের তাদের কষ্টটা বোঝা উচিত, ঠিক বাবা?
যখন আমরা তাদের বাড়িতে চা খাচ্ছিলাম,
তখন তা আমাদের গলা দিয়ে নামছিলো না।
আজ তাদের,
খাবার তাদের গলা দিয়ে নামলো না।
তুই একটা সুন্দর জীবন পাবি ভেবে আমরা খুশি হয়েছিলাম।
আমরা কখনোই এটা ভাবিনি যে, একটা মেয়ে তার সুন্দর একটা জীবন হারাবে, বাবা।
যদি সত্যিই তারা এই বিয়ের বিরুদ্ধে থাকতো তাহলে হয়তো আমাদের বাড়িতে আগুন জ্বলতো,
আমাদের অটোর দূর্ঘটনা হতো।
কিন্তু তারা এমনটা করেনি।
তারা শুধু চোখের পানি ফেলে চলে গেছে।
আমাদেরকে তাদের চোখের পানির মূল্য দিতে দে, বাবা।
আমার মনে হয় মার কথাই সত্যি।
আমার মনে হয় আজকালকার মিথ্যে ভালোবাসার সাথে অবস্থানের কোনো পার্থক্য নেই।
আমি এটা নিয়ে পুরোটা রাত ভাবলাম।
আমি আবার ওই লেখাগুলো লিখলাম, যা আমাদের কাছে এনেছিলো।
আমার উচিত তার কাছ থেকে চিরদিনের জন্যে দূরে সরে যাওয়া।
হাহ, তারপর কী হলো? এখানে আর কিছুই লেখা নেই।
তারপর কী হতে পারে?
সে কি পাগল নাকি অন্য কিছু?
কেনো সে তাকে সারাজীবনের জন্য ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবলো?
তার লেখা এই ডায়েরিটা এখানে কিভাবে আসলো?
হায় ইশ্বর!
কিছু গড়বড় হয়েছে।
আমাদের জানা উচিত আসলে কী হয়েছিলো।
আমাদের হায়দ্রাবাদে যাওয়া জরুরি।
হ্যালো, গাদওয়াল রেড্ডির বাড়িটা?
সোজা গিয়ে বামদিকে।
আন্টি... - তোমরা কারা মা?
আমি ধরণীর বন্ধু। - প্লিজ ভেতরে এসো।
তোমরা কারা মা?
ধরণীর বন্ধু।
আসো মা, বসো।
আমি পানি নিয়ে আসছি।
আন্টি, আমাদের পানি লাগবে না। আপনি কি একটু ধরণীকে ডেকে দেবেন?
ধরণী এখানে নেই মা।
কী হয়েছে, আন্টি?
তার নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সাথে তার ভাইয়েরা কিছু অনাবশ্যক কাজ করেছিলো।
একারণে সে আমাদের অপ্রত্যাশিত শাস্তি দিয়েছে।
সে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।
সে আর আমাদের সাথে থাকে না।
কাঁদবেন না, আন্টি। আমি এখানে এসে আপনাকে দুঃখ দিলাম।
ঠিক আছে মা। দুঃখ আমাদের জীবনেরই অংশ হয়ে গিয়েছে।
ধরণী এখন কোথায়, আন্টি?
ধরণী...
ধরণী?
হ্যাঁ। তুমি...??
আমার নাম মেঘা।
আমি মুম্বাই থেকে এসেছি।
তুমি এখানে থাকলে...রবি?
আপনি রবিকে চেনেন?
আমি তোমাদের দুজনের সম্পর্কে সবকিছুই জানি... - কিভাবে?
রবির এই লেখাগুলো পড়ে আমি সব জানতে পেরেছি।
এটা রবির ডায়েরি। আপনি এটা কোথায় পেয়েছেন?
প্লিজ আসুন।
এই ডায়েরি মুম্বাইয়ে কিভাবে গেলো?
রবির কী হয়েছে?
রবির বাড়িতে, রবির সাথে তোমার ভাইদের দেখা হওয়ার পর ওই রাতে কী হয়েছিলো?
দিনটা ছিলো ভালোবাসা দিবস আর আমরা রাত ১২ টায় দেখা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।
কিন্তু, রবি আসেনি।
আমি তাকে ফোন করার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু তার ফোনে ঢুকছিলো না।
আমি তার বন্ধুদের মাধ্যমে জানতে পেরেছিলাম যে সে সবকিছু ছেড়ে চিরদিনের জন্যে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
আমি বিশ্বাস করতে পারিনি যখন শুনলাম যে তারা ট্রেন দূর্ঘটনায় মারা গেছে।
কিন্তু,
কেউ শনাক্ত করতে আসেনি এমন দেহগুলো দেখে কলোনির লোকজন বিশ্বাস করলো।
যেই ছেলেটা প্রতিদিন খবরের কাগজ বিলি করতো, সেই পরেরদিন খবরের কাগজে চলে আসলো।
সত্যর মাধ্যমে আমি জানতে পেরেছিলাম যে তাদের শহর ছাড়ার কারণ আমার দুই ভাই।
তোরা কেনো এটা করলি?
বাবা কি তোদের বলেছিলো তাদের টাকা দিতে?
তোরা তাদের আত্ম মর্যাদায় আঘাত করে তাদের খুন করার চেষ্টা করেছিস।
সাধু সেজে তোরা তাদের গলা কেটেছিস, ভাইয়া।
ঘটনাটা তেমন না বোন।
তোরা আমাকে ভালোবাসিস বলে এমনটা করেছিস?
যাকে আমি ভালোবাসি তাকে তোদের পছন্দ করাটাই হলো আমার প্রতি ভালোবাসা।
তাকে দূরে সরিয়ে দেয়া নয়।
তোরা আমাদের আলাদা করলেও, আমাদের আত্মাকে আলাদা করতে পারিসনি।
তোরা দু'জন অনেক বড়ো ভুল করেছিস।
আমি সেই ভুলের সংশোধন করবো।
যেই বাড়িতে আমি রবির সাথে সারাজীবন থাকতে চেয়েছিলাম, এখন রবিকে ছাড়াই সেখানেই থাকছি।
না, তোমার বিশ্বাসই ঠিক।
রবির কিচ্ছু হতে পারে না।
আমরা রবির ডায়েরি পেয়েছি মানে, সে বেঁচে আছে।
যদি রবির কিছু হতো, তাহলে ইশ্বর আমাকে তোমার জীবনে পাঠাতো না।
আমার এখানে আসার একটা অর্থ আছে।
আমাকে বিশ্বাস করো।
আমার জীবন শেষ হয়ে যাওয়ার আগে, আমি তোমাদের দু'জনকে এক করবো। - মেঘা, মেঘা।
তুমি এখানে কিভাবে? - দ্রুত সুস্থ হও, মেঘা!
আমি কারানকে জানিয়েছি।
এই ফুলগুলো তুমি কোথায় পেয়েছো?
বিশেষ ফুল। florist.com
আমি অনলাইনে অর্ডার করি, তারা এসে পৌঁছে দিয়ে যায়।
আপনার কাছে ঠিকানা আছে?
হ্যাঁ, আছে।
এটা সত্যি দারুণ! ভালোবাসি, কারান।
এই মেঘা, না।
আপনারা কি এই ফুলগুলো লিভ লাইফ হাসপাতালে পাঠিয়েছিলেন?
জ্বী ম্যাম।
তার নাম কি রবি?
না ম্যাম। তার নাম আফজাল।
আপনি কি আমাদের বলতে পারবেন এই ফুলগুলো আপনারা কোত্থেকে পান?
এই অর্ডারটা মুম্বাই থেকে করা হয়েছিলো আর ফুলগুলো আমরা গুরগাঁও থেকে পেয়েছি।
আমরা ফুলের অর্ডার করি হায়দ্রাবাদে, কিন্তু ওগুলো আসে গুরগাঁও থেকে।
আর তুমি এই ডায়েরিটা পেয়েছো মুম্বাইয়ে।
আমি এই সব কিছুর সাথে রবির যোগাযোগটা মেলাতে পারছি না।
হয়তো আমরা কিছু তথ্য পেতে পারি যদি আমরা গুরগাঁও অফিসে যাই।
ভাই, এই ফুলগুলো কি শুধু এই ঠিকানা থেকেই হায়দ্রাবাদে পাঠানো হয়?
হ্যাঁ ম্যাম, আমরা এই ধরণের ফুলের বিশেষজ্ঞ।
আপনারা কি এগুলো এখানেই চাষ করেন?
না, আমরা এগুলো পুনে থেকে পাই।
আপনার কাছে কি ঠিকানা আছে?
হ্যাঁ, কেনো নয়? - প্লিজ আমাদের দিন। আপনাদের তাদের কার্ড দিচ্ছি।
ধন্যবাদ!
ভাইয়া, এটা রবির ঘর না?
এটা রবির ঘর না।
তারা ফুল সরবরাহ করে, ঠিক?
হ্যাঁ, রবি নামের কেউ এখানে থাকে না।
আপ্পু...
আপ্পু...
গাড়ি থামাও।
আপ্পু...
ধরণী...
তোমার উদ্দেশ্য সীতা আর রামকে এক করা আর আমার উদ্দেশ্য ছিলো তাদেরকে এক করা যা পূরণ হয়েছে।
পরিবেশনায়: হাসান শুভ 💙 মুভিটি এতক্ষণ বাংলা সাবটাইটেল দিয়ে দেখার জন্যে ধন্যবাদ ♥️
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.