All language subtitles for Rekhachithram BSUB BY SUDIP CHAKRAVARTY

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali Download
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English Download
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian Download
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil) Download
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

ভাই... ভাই!

ভাই!

গতকাল বাবা একটা সিনেমায় অভিনয় করেছে।

ফালতু কথা বলিস না!

সত্যি বলছি! আমি দেখেছি!

কী দেখেছিস?

সিনেমা : রেখাচিত্রম ভাষা : মালয়ালম সময় : 02:16:56

এই!

উঠে পড়।

চুপচাপ শুয়ে থাকিস না।

যতই হোক, বরখাস্ত হয়েছিস।

চল। একটু ঘুরে আসি।

চল!

" কর্তব্যরত অবস্থায় অনলাইনে রামি খেলার জন্য সিআই বরখাস্ত হয়েছেন"

দারুণ। তোর খবর প্রথম পাতায় জায়গা পেয়েছে।

পনেরো লাখ টাকা জিতেছিস?

- থমাচান। - হ্যাঁ?

প্রাইজ মানির ব্যাপারে সে কী বললো?

এটা অনেক কম ছিল।

হয়তো এর কারণ হলো, জেতার পর, আমাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো নি।

দেখো, ছোটবেলায় তুমি আমাকে কী সব খারাপ অভ্যাস শিখিয়েছো!

ঠিক আছে। তোমাকে পরে ফোন করবো।

- যোগ দেবো? - না!

- হুহ? কেন? - সবেমাত্র খেলাটা দেখেছো।

- ওয়াও! নতুন ব্যাচ তৈরি করলে নাকি?

এটা হল 'সাসপেনশন' ব্যাচ।

খবরটা তোমার ডেস্ক থেকেই ছড়িয়েছে, তাই না?

হ্যাঁ।

আমিই খবরটা দিয়েছিলাম।

যতই হোক, ভুল খবর তো নয়।

তুমি সেলিব্রেটি হয়ে গেছো!

"একজন পুলিশ অনলাইন রামি খেলে পনেরো লাখ টাকা জিতেছে"

একই খবর শুনতে বিরক্ত লাগে না?

কিভাবে হবো? তোর সম্পর্কেই খবর তো?

ছাড় না। কোনো টাকা তো হারাস নি। বরং পেয়েছিস কিছু।

শুনুন, রাজেন্দ্রন।

এই বাড়িতে এমন কোনো ঘর আছে কি, যেখানে খালি মদের বোতল নেই?

আপনার ইতিমধ্যেই ট্রান্সপ্লান্টেশন সার্জারি হয়েছে।

তুমি কি এটা বলার চেষ্টা করছো,

আমার হাতে আর বেশি সময় নেই, এবং এখন আর কিছু করারও তেমন নেই।

সেটা ভালোভাবেই জানি, ডাক্তার।

আমার হাতে বেশি সময় নেই।

স্যার, বিবেকের পোস্টিংয়ের কি খবর?

মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই মামলায় মাথা গলিয়েছেন।

তার জন্য এটা সহজ করে দেওয়া উচিৎ হবে না।

তাকে মালাক্কাপ্পারায় পাঠাবো, স্যার?

ওই থানার এসএইচও ট্রান্সফার হয়েছেন।

- ওই থানায় কোনো সংবেদনশীল সমস্যা নেই তো? - না।

কিছুদিন কষ্ট সহ্য করতে দাও। সিধা হয়ে যাবে।

ঠিক আছে, স্যার।

বাবা, আসছি।

শুভকামনা থাকলো।

কোথায় যাবো, রাজেট্টান?

ছালাকুডি।

এই নিন।

বিকাল চারটের মধ্যে পৌঁছে যাবো।

রাজেট্টান...

আমরা ছালাকুডিতে পৌঁছে গেছি।

অ্যাঁ?

ছালাকুডিতে পৌঁছে গেছি।

মালাক্কাপ্পারা...

চলো।

মালাক্কাপ্পারা?

এই জঙ্গলে কোথায় যাচ্ছেন? আমাকেও সাথে যেতে দিন।

না। এখানেই অপেক্ষা করো।

ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।

এখানে এসে এবং বসে...

আমি যা বলতে যাচ্ছি,

তা শুনে আপনারা অবাক হবেন।

বেশি কিছু নয়।

এটা আমার ব্যাপারে।

আমার জীবন সম্পর্কে।

যেখানে টাকার পিছনে ধাওয়া করতে গিয়ে...

আমার স্বাস্থ্য, মানসিক শান্তি এবং সবকিছুই হারিয়ে ফেলেছি।

প্রচুর টাকা উপার্জন করেছি।

কিন্তু সবকিছুই ব্যর্থ হয়েছে।

তার একটা কারণ আছে।

এর সবকিছুই শুরু হয়েছিল অন্যের রক্তে রাঙানো টাকা দিয়ে।

একটা জীবনের দাম...

হয়তো প্রত্যাখ্যান করতে পারতাম।

কিন্তু মেনে নিয়েছিলাম।

মেনে নিয়েছিলাম।

১৯৮৫ সাল।

আমি, অ্যালিস জুয়েলার্সের মালিক ভিনসেন্ট,

এবং ফ্রান্সিস থাডাথিল...

এখানে এসেছিলাম।

আমরা, মাদুরে মোড়ানো একটি মেয়ের মৃতদেহ...

বহন করছিলাম।

মেয়েটির বয়স বড়জোর আঠারো বছর,

তার সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো তথ্য ছিল না।

কোনো একজন, কোনো জায়গা থেকে এসেছিল।

শেষ নিঃশ্বাস ফেলার আগেই,

তার উপর মাটি চাপা দেওয়ায়,

তার মৃত্যু হয়।

কিন্তু এর ফলে আমাদের জীবন শুরু হয়।

আর এখন,

সময় আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে,

যেখানে সবকিছু শুরু হয়েছিল।

এই গাছের তলায়,

আমার ঠিক নীচে মাটির তলায়...

যে মাটির উপর আমি বসে আছি, তার নীচে... সে শুয়ে আছে।

আশা করেছিলাম, মানুষ কখনো না কখনো এই ব্যাপারে জানতে পারবে।

কিন্তু না।

এখনো কেউ জানতে পারে নি।

কিন্তু এবার জানবে।

রাজেট্টান!

রাজেট্টান!

রাজেট্টান!

হ্যালো, মালাক্কাপ্পারা থানা।

- ম্যাডাম, এটা এখানে পড়ে ছিল। - ঠিক আছে।

ওল্টাও। দেখতে দাও।

ঠিক আছে।

- এটা কভারের মধ্যে রাখো। - ঠিক আছে, ম্যাডাম।

তুমি বাকি সব নমুনা সংগ্রহ করেছো তো?

হ্যাঁ। সব রক্তের নমুনা নিয়েছি।

ঠিক এখানেই ছিল।

[সংবাদ প্রতিবেদন] মালাক্কাপ্পারায়, অ্যাথোলির স্থানীয় বাসিন্দা রাজেন্দ্রন,

ফেসবুক লাইভ চলাকালীন নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করেন।

আত্মহত্যা করার আগে, তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য উদ্ঘাটন করেছেন।

তিনি বলেছেন, ১৯৮৪ সালে...

তিনি এবং তার দুই বন্ধু, এখানে একটি মেয়েকে পুঁতে দিয়েছিলেন।

তাদের মধ্যে একজন, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।

স্যার।

স্যার।

কী খবর?

প্রায় হয়ে গেছে, স্যার।

তদন্ত কোথায় পরিচালনা করা হবে?

কাছাকাছি একটি হাসপাতালে ব্যবস্থা করেছি।

কখন ডিউটিতে যোগ দিয়েছো?

সবে আজই।

- এর পরেই আমি এই কল পাই। - স্যার।

তুমি তাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু।

এখন কেবলমাত্র তুমি কেরালাতেই বিখ্যাত।

যদি এখানে কঙ্কাল পাওয়া যায়,

এটা দেশব্যাপী আলোড়ন ফেলবে।

তিনি অ্যালিস ভিনসেন্টের নাম বলেছেন।

পুলিশের এই বিষয়ে মতামত কী?

সরে যান।

মন্তব্য নেই।

দয়া করে পিছনে সরে যান, সবাই।

- পরিস্থিতি কী? - শীঘ্রই এখান থেকে লাশ নিয়ে যাওয়া হবে।

আমরা খননের অনুমতি পেয়েছি। আগামীকাল থেকে শুরু করতে পারো।

যদি কঙ্কাল পাওয়া যায়,

আমাদের হাতে একটা মামলা আসবে।

স্যার।

- বাবা! - হ্যাঁ?

এটা দেখো।

[রাজেন্দ্রন] আমি, অ্যালিস জুয়েলার্সের মালিক ভিনসেন্ট...

সব নিউজ চ্যানেলে এটা চলছে!

ইনি কে, বাবা?

আমি, অ্যালিস জুয়েলার্সের মালিক ভিনসেন্ট...

আর ফ্রান্সিস থাডাথিল এখানে এসেছিলাম।

আমরা একটি মেয়েকে একটি কাপড়ে জড়িয়ে নিয়ে আসছিলাম...

ঠিক আছে।

বাবা...

নীচে যা।

একটু পরে আসছি।

[সংবাদ প্রতিবেদন] ভিনীশ, পুলিশ ইতিমধ্যেই মৃতদেহ উদ্ধারের...

কাজ শুরু করেছে।

কাজের আগে মিডিয়াকে সাইট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

[মহিলা] যদি রাজেন্দ্রনের স্বীকারোক্তির সাথে মিলে যাওয়া কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়,

এটি কেসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

তাকে বেশ উত্তেজিত লাগছে।

এটা তার উত্তেজনা নয়, স্যার।

এটা তার অস্তিত্বের প্রশ্ন।

জানেন তো, তার সুনাম এখন কলঙ্কিত।

গভীরে যাও।

পুলিশ খনন প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘণ্টার পর ঘণ্টা খোঁজার পরেও,

রাজেন্দ্রনের স্বীকারোক্তির সাথে মিল আছে, এমন কিছুই এখনো পাওয়া যায়নি।

এই ধরনের জায়গায়, তারা চার বা পাঁচ ফুটের বেশি...

গভীরে যেতে পারে না।

হাত দাও।

এখন, ভিতরে গিয়ে খুঁড়তে হবে।

সুপ্রভাত, স্যার।

- সুপ্রভাত, ভিনসেন্ট। - সুপ্রভাত।

পুলিশ জায়গাটা খনন করতে শুরু করেছে।

কিছু হলুদ মিডিয়া, (যারা ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশন করে)

তোমার নাম ও ছবি দিয়ে, খবরটা সম্প্রচারণ করছে।

তাদের রেটিং বাড়ানোর জন্য।

তবে, মেনলাইন মিডিয়া এখনো এর উপর নজর দেয় নি।

পুলিশকে তাদের কাজ করতে দাও।

এইসব নিয়ে চিন্তা কোরো না।

এটা এখানে নিয়ে এসো।

দয়া করে, কেউ সাহায্য করুন।

সম্পূর্ন ফোর্সকে কাজে লাগানো হয়েছে।

স্যার...

কি বুঝলেন, স্যার?

ইনি একজন মহিলা।

বয়স এবং অন্যান্য বিবরণ জানতে, আরো কিছু সময় লাগবে।

এই নিন...

নুপুর।

আমি এই তদন্তের দায়িত্বে আছি।

ধন্যবাদ।

আজ তোমার পারফরম্যান্স দেখে,

এসপি চান, তোমাকে আমার টীমে নিই।

আগামীকাল অফিসে এসো।

- ঠিক আছে। - স্যার।

সে সবসময় ব্যস্ত।

যখন কোরাথির সিআই ছিলাম,

সে তার ট্রেনিং সম্পূর্ণ করেছিল।

প্রতিভাবান।

এই মুহূর্তে, আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ অথচ সূক্ষ্ম পরিস্থিতিতে আছি।

আমাদের কাছে একটা কঙ্কাল আছে, কিন্তু সেটা কার, তা জানা নেই।

কঙ্কালের সম্পর্কে আরো তথ্য পেতে, আরো কিছুদিন সময় লাগবে।

তার মধ্যে, বিবেক অ্যাথোলিতে গিয়ে...

রাজেন্দ্রনের প্রেক্ষাপট চেক করবে এবং তার বাড়িতে যাবে।

স্যার।

সাইবার সেল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে রাজেন্দ্রন এবং ভিনসেন্টের সিডিআর বিশ্লেষণ করবে।

স্যার।

আমাদের জন্য ফ্রান্সিস থাডাথিল একজন গুরুত্বপূর্ণ মিসিং লিঙ্ক।

বিভিন্ন জেলায় সেই নামের বেশ কিছু লোকের তালিকা বানানো হয়েছে,

যাদের বয়সের সাথে, অনুমিত বয়সের মিল আছে।

তোমরা প্রত্যেকের সাথে দেখা করবে।

স্যার।

যেহেতু আমরা মালাক্কাপ্পার এখতিয়ারের অধীনে কঙ্কালটা পেয়েছি,

আমাদের দলের ঘাঁটি সেখানেই থাকবে।

গত বেশ কয়েক বছর ধরেই,

রাজেন্দ্রনের গুরুতর শারীরিক সমস্যা ছিল।

যদিও তার একবার লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন হয়েছিল,

তিনি খুবই অসাবধানী ছিলেন, স্যার।

রাজেন্দ্রনের ব্যক্তিগত জীবন কেমন ছিল?

বিশেষত পারিবারিক জীবন?

তার সাথে তার স্ত্রীর সম্পর্ক ছিল না।

একটা ছেলে ছিল।

গুরুতর পরিস্থিতিতেও, তাকে কখনো দেখি নি।

তার সম্পত্তি দেখে,

আমার বাবা প্রস্তাব দেন এবং তার সাথে আমার বিবাহ হয়।

১৯৮৫ সালে রাজেন্দ্রন কোথায় ছিলেন, কখনো উল্লেখ করেছিলেন কি?

সত্যি কথা বলতে...

তিনি কোনো সময়ই আমার সাথে অতীত নিয়ে কথা বলতে চাইতেন না।

এই, ফ্রান্সিস কোথায়?

বিক্রির স্বার্থে মজুত করার জন্য কাঠ আনতে আথিরাপলি এবং মালাক্কাপ্পারা গিয়েছিলাম।

এছাড়া আপনার উল্লিখিত মামলার সাথে আমার কোনোরকম যোগাযোগ নেই।

আমিই তাকে পুঁতেছিলাম, স্যার।

শুধুমাত্র সেখানে নয়। আরো অনেক জায়গাতেও পুঁতেছিলাম।

থাডাথিল ফ্রান্সিস নাম হওয়া কি আমার অপরাধ, স্যার?

শুনুন... যদি আপনি আমাকে এখান থেকে বার করতে পারেন,

আপনাকে সব কিছু দেখাবো।

পুলিশ কয়েকবার আমার সাথে দেখা করতে এসেছিল।

আমাকে ডেকেও পাঠিয়েছিল।

এখন, প্রতিবেশীরাও আমাকে অপরাধী ভাবছেন।

আমরা এখন নিখোঁজ মামলায় মনোযোগ দিয়েছি, স্যার।

কাছের থানা থেকেও ক্রাইম মেমো রেজিস্টার সংগ্রহ করছি।

অবশ্যই।

ঠিক আছে, স্যার।

এগুলো আশির দশকের নিউজ কাটিং, যা আপনি চেয়েছিলেন।

যতটা পেরেছি, সংগ্রহ করেছি।

নুপুরটা আমাদের মেয়ের নয়, স্যার।

এটা তার নয়, বাবু।

যদি নুপুরটা লাশের সাথে পেয়ে থাকেন, তাহলে এটা লিলিকুট্টি নয়, স্যার।

আমরা পেন্টিকোস্ট।

আমাদের লোকেরা এমনকি কাঁচের চুড়িও পরেনা।

- এটা কি ফ্রান্সিস থাডাথিলের বাড়ি? - হ্যাঁ।

- বাড়িতে আছেন? - না, নেই।

কোথায় গেছেন?

আঙ্গামলির লিটল ফ্লাওয়ার হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।

স্যার...

প্রতারণা করে মেয়েরা পালিয়ে গেলে...

সেগুলো কি নিখোঁজ মামলা হিসাবে পরিগণিত হবে?

না।

আপনার কন্যার নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তো?

এটা আমাকে দাও।

এটা কি মিনির নুপুর?

আমার মেয়ে...

আমার মেয়ে...

আমার সোনা...

একটা মেয়ের বাবা নুপুরটাকে সনাক্ত করেছেন।

তার নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ ম্যাচিঙের জন্য পাঠানো হয়েছে।

আর রাজেন্দ্রন,

তার উত্থান দ্রুত হয়েছিল।

যে সময়ে তিনি মেয়েটিকে পুঁতেছেন, বলেছিলেন...

তখন, তিনি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন কাজে নিযুক্ত থাকতেন।

এবং স্যার, আমি গিয়ে অধিকাংশ ফ্রান্সিস নামক লোকদের সাথে দেখা করেছি।

স্থানীয় পুলিশকে খবর পেয়েছে যে ,

সেই সময়ে তাদের মধ্যে কয়েকজন আঙ্গামালি এলাকায় অবস্থান করেছিল।

আগত দিনগুলোতে, ভিনসেন্ট সম্পর্কে খোঁজখবর করো।

স্যার।

তার পরিবারের একজন সদস্যের সন্ধান পাওয়া গেছে।

তার সাথে কথা বলো।

১৯৮৪ বা ১৯৮৫ সালে সে মুম্বাই যায়।

কিন্তু...

তার প্রায় এক দশক আগেই, সে এই শহর ছেড়েছিল।

তার বাবা, যিনি আমার মামাও ছিলেন,

তাকে এবং তার মাকে ছেড়ে...

ঈশ্বর সাধক ভেবে একজন ভূতাবিষ্ট মানুষকে অনুসরণ করেন।

তারপর থেকে, সে এবং তার মা...

সেতু নির্মাণ শ্রমিকদের খাবার পরিবেশন করে বেঁচে ছিল।

এমনকি তখনও, সে একজন দক্ষ বিক্রেতা ছিল।

অল্টার বয় হিসাবে তার কার্যকালে...

সে চার্চে আগত এক বিশপের ছাতা চুরি করে...

হাতেনাতে ধরা পড়ে।

যখন বিশপ তাকে ছাতা চুরির কারণ জিজ্ঞাসা করেন, সে বলে...

স্কুলে যাবার জন্য তার কোনো ছাতা নেই।

সে পড়াশোনায় ভালো ছিল।

তার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর...

বিশপ তাকে একটি ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠান।

সেখানে পড়াশোনা সমাপ্ত করার পর,

কিছুদিন ঘোরাফেরা করার পর মুম্বাইয়ে পৌছায়।

সেখানে তার সাথে এলিসের সাক্ষাৎ হয়।

তাকে বিবাহ করে সে ব্যবসা শুরু করে।

আমরা, মালয়ালিরা, তখন থেকেই ভিনসেন্টকে চিনি।

ভিনসেন্ট কি কখনো আথিরাপ্পিলি -মালিক্কাপ্পারা এলাকায় ছিলেন?

পড়াশোনা চলাকালীন সে ছালাকুডি এবং অঙ্গমালি এলাকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছিল।

এবং, তোমার উল্লেখ করা বছরগুলিতে, সে এক ধরণের লাইফলাইন পেয়েছিল।

এটাকে আঁকড়ে ধরে সে উন্নতি লাভ করেছিল।

যদিও জানি না, সেটা কি ছিল।

প্লিজ।

আমরা এই তথ্য পেয়েছি যে...

রাজেন্দ্রনের উল্লেখ করা সময়ে...

আপনি মালাক্কাপ্পারা এলাকায় বিশপের সাথে থাকতেন।

যে জায়গাটিতে আমরা কঙ্কালটি পেয়েছি...

সেই জায়গাটি আপনার তৎকালীন বাড়ি থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে স্থিত।

এই ব্যাপারে কি বলবেন?

বিশপই আমাকে শিক্ষা দেওয়ার...

উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

যেহেতু তার বয়স হচ্ছিল,

তার সহকারী হিসেবে সাথে ছিলাম।

নির্জনবাসের পর মালাক্কাপরা থেকে তিনি না ফিরে আসা পর্যন্ত,

আমি তার সাথে ছিলাম।

প্রকৃতপক্ষে... তার ফেরা পর্যন্ত নয়,

তার মৃত্যু পর্যন্ত।

রাজেন্দ্রনের মৃত্যুর দুই দিন আগে...

তিনি আপনার কোম্পানীর ফ্রন্ট অফিসে ফোন করে...

প্রায় পনেরো সেকেন্ড কথা বলেছিলেন।

কেন ফোন করেছিলেন?

দেখুন।

ফ্রন্ট অফিসের প্রতিটা কল স্যার ধরার আগে,

আমার কাছে পৌঁছানোর আগেই তাদের দ্বারা ফিল্টার হয়ে যায়।

কলকারী যদি স্পষ্টভাবে উদ্দেশ্যটি উল্লেখ করে,

তবেই ফোন কলটি এমনকি আমার পর্যায়েই পৌঁছতে পারে।

সর্বোপরি, সব কলের রেকর্ড থাকে।

আপনি সেটা চেক করছেন না কেন?

এমন কোন নিয়ম আছে কি, যেখানে বলা আছে যে...

যখন কারোর বিবৃতি নেবো, তখন তার পরিবার বা উকিল তার সাথে থাকবেন?

সিআরপিসি ৪১ডি।

আপনি তো আইনজীবী?

নিশ্চয়ই এটা জানেন।

প্রশ্ন শুনতে পাবার দূরত্বের মধ্যে আপনার থাকা উচিৎ নয়,

শুধুমাত্র আমাদের দেখতে পেলেই যথেষ্ট।

সেখানেই উকিলের থাকা উচিৎ।

দেখুন...

আমি এখানে সহযোগিতা করছি‌।

যার সম্পর্কে আপনাদের তদন্ত চলছে,

সেটা কার কঙ্কাল, কেউ জানে না।

তাসত্ত্বেও, আপনাদের ডাকে আমি এখানে এসেছি।

শুধুমাত্র তারাই নয়,

এমনকি রাজেন্দ্রন, যে তাকে পুঁতেছিল, তার পরিচয় জানতো না।

বরবাদ হয়ে যাওয়া একজন মানুষ,

কিছু ফালতু কথা বলেছিল,

আর শুধুমাত্র সেই কারণে, স্যার আজ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।

যাই হোক, কঙ্কাল পাওয়ায়, এটা তো স্পষ্ট...

যে তার অর্ধেক কথা সত্য ছিল?

দেখা যাক, বাকি অর্ধেকটাও সত্যি কিনা।

না, গ্রেপ্তার হবার কোনো সম্ভাবনা নেই।

এই অভিযোগ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি, স্যার?

দায়িত্বশীল নাগরিক হিসাবে, পুলিশের ডাকে এখানে এসেছি।

তাদের সব প্রশ্নের উত্তর -ও দিয়েছি। এইটুকুই।

গ্রেপ্তার হবার আশঙ্কা করছেন কি?

দেখুন, আমরা সর্বতোভাবে তদন্তের কাজে...

সহযোগিতা করেছি। ঠিক আছে?

কিছু পুলিশ কর্মকর্তা সম্পূর্ণভাবে পক্ষপাতদুষ্ট...

এবং এর রামি খেলোয়াড়রা এখন মামলার তদন্ত করছে।

এখন আমাদের যেতে দিন, প্লিজ।

- স্যার, বর্তমান পরিস্থিতি... - স্যার, স্যার...

প্লিজ, স্যার। আরেকটা প্রশ্ন।

মিনু।

সাবধানে।

এই পদ্ধতিতে কেন, স্যার?

আমি এইভাবেই কাজ করি।

যতই হোক, সে একসময় নিজের দুই পায়ে চলাফেরা করতো।

ভাগ্যে ছিল, এটা একদিন উন্মোচিত হবে, স্যার।

মনে হয়, চূড়ান্ত ফলাফল পেতে পারি?

নিশ্চিতভাবেই, ফলাফল পাবো।

বুক, হাড় এবং দাঁত থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

এক সেকেন্ড। এটা ধরতে পারবে?

ঠিকভাবে ধরো।

হ্যালো?

হ্যাঁ। ঠিক আছে।

ঠিক আছে।

ফলাফল প্রস্তুত।

নমুনা মেলে নি।

শিন্টো,

তাদের ফোন করে জানিয়ে দাও।

ঠিক আছে, স্যার।

হ্যালো।

মালাক্কাপ্পারা থানা থেকে বলছি।

তাই নাকি?

আমার যখন ষোলো বছর বয়স, আমার বোন নিখোঁজ হয়।

তার পর, গত চল্লিশ বছরের মধ্যে,

আমার বাবাকে কখনো হাসতে দেখি নি।

বাবা নিশ্চিত ছিলেন, সেই আমার বোন।

তিনি এই ভেবে আশ্বস্ত হয়েছিলেন, অন্ততপক্ষে আমরা তার অবশিষ্টাংশ পেয়েছি।

জানেন, স্যার?

মৃত্যু হল নিশ্চিতকরণ।

অপেক্ষাই বেশি কষ্ট দেয়।

জানেন, স্যার?

মৃত্যু হল নিশ্চিতকরণ।

অপেক্ষাই বেশি কষ্ট দেয়।

স্যার...

প্রতারণা করে মেয়েরা পালিয়ে গেলে...

সেগুলো কি নিখোঁজ মামলা হিসাবে পরিগণিত হবে?

- এটা লিপিকারকে দাও। - হ্যাঁ, স্যার।

বসো, বিবেক।

- বসো, জন। - স্যার।

বসো।

- ঠিক আছে, স্যার।

বিবেক, গতকাল মেমো সম্পর্কে কী বলেছিলে, তা ঠিক বুঝতে পারিনি।

গতকাল, যখন আমরা ১৯৮৩-১৯৮৫ সালের...

ক্রাইম মেমো রেজিস্টার চেক করছিলাম,

তখন, একটি নিখোঁজ মামলা সম্পর্কে...

ত্রিশুর সিটি থানা থেকে পাঠানো মেমো দেখেছি।

এটা এখান থেকে পাঠানো হয়েছিল। ১৯৮৫ সালে...

এফআইআর-এ অভিযুক্ত ধারায় সামান্য পরিবর্তন করা হয়েছিল।

এই মামলায় অভিযুক্ত মেয়েটিই, নিখোঁজ হয়েছিল।

তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

তাহলে, এটা খোঁজা যাক‌।

- স্যার... - হ্যাঁ?

এটা দেখেছেন?

এটা একটা মেয়ের বিরুদ্ধে জনৈক চন্দ্রাপ্পনের দায়ের করা একটা মামলা।

কিন্তু...

এফআইআর-এর বিস্তারিত বিবরণ পড়তে পারছি না।

চন্দ্রাপ্পন...

পালাথারা...

পুছাক্কাল।

পুছাক্কাল?

একটা মেয়ে পালিয়ে গেলেও, সেটা নিখোঁজ মামলাই থাকে, জন স্যার। - হ্যাঁ, স্যার।

হ্যাঁ, স্যার।

এটার আরও তদন্ত করতে হবে।

ঠিক আছে, অবশ্যই করবো, স্যার।

আজকাল এই ঠিকানায় চিঠি পাই না, স্যার।

শেষবার এই ঠিকানায় একটা রেজিষ্টারড মেল গিয়েছিল।

গ্রহন করার কেউ না থাকায়, এটা প্রেরকের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছিল।

কোনো ফিল্ম ইউনিয়ন থেকে পাঠানো হয়েছিল।

ফেফকা বা ওইরকম কিছু।

চন্দ্রাপ্পন, তাই না?

তিনি সেই সময় কয়েকটি চলচ্চিত্রের প্রযোজনা নিয়ন্ত্রক ছিলেন।

কিছু বিরোধ দেখা দেয়...

এবং তাকে একটা রেজিস্টারড মেইল পাঠানো হয়।

এটা তাকে ইউনিয়ন থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে ছিল।

কিন্তু সেই মেইল ফিরত আসে।

তার নতুন ঠিকানা খুঁজে বার করে আবার মেইল পাঠানো হয়।

আমাদের কাছে সেই ঠিকানা আছে।

যদি তার কাছ থেকে কোনোরকম অনুগ্রহ চান,

এক বোতল মদ কিনে সেখানে যান, স্যার।

নিজেকে পুলিশ বলে পরিচয় দিলে, কোনো লাভ হবে না।

ঠিকানা-টা আপনাকে পাঠিয়ে দিচ্ছি।

- আচ্ছা। - ঠিক আছে।

- এই জায়গা তো? - তাই তো মনে হচ্ছে।

- কি ব্যাপার? - আপনি কি চন্দ্রাপ্পন?

হ্যাঁ।

ভিতরে আসুন।

সেই সময়ে, মালয়ালম সিনেমা চন্দ্রাপ্পনকে ছাড়া কাজ করতেই পারতো না।

আমি জুনিয়র আর্টিস্ট সরবরাহ করতাম...

যাতে পদ্মরাজন, ভারাথন, এবং আইভি শশী-র মতো পরিচালকরা তাদের শুটিং করতে পারেন।

আপনার সাথে প্রতারণা করে নিখোঁজ হবার কারণে, আপনি কি...

১৯৮৫ সালে ছালাকুডি থানায় একটি মেয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন?

মনে পড়ছে কি?

স্মৃতিশক্তির সমস্যা নেই, স্যার।

আমাকে যারা সমস্যায় ফেলে, তাদের ভুলি না।

সবকিছু পরিষ্কার মনে আছে, যেন গতকাল-ই ঘটেছিল।

তাহলে গল্পটা বলতে পারেন?

আমাদের এই ব্যাপারে কিছু তথ্য প্রয়োজন।

এই নিন।

- না, সকালবেলায় পান করি না। - সত্যি? রাত্রে সময় পাই না।

এটা আমার দুর্ভাগ্য ছিল, স্যার।

একদিন একটা মেয়ে আমার কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলো...

তাকে মামুট্টির নায়িকা বানাতে পারবো কিনা।

তাকে বুঝিয়ে বললাম,

এই ব্যাপারে আমার করার কিছুই নেই।

সেই সময়ে, আথিরাপল্লী-মালাক্কাপ্পারা এলাকায়...

ভারাথন স্যারের 'কাঠোডু কাঠোরাম'-এর শুটিং চলছিল।

- এই, কমল। সুপ্রভাত। - হাই, স্যার। সুপ্রভাত।

- এখনো হয় নি? - এক সেকেন্ড, স্যার।

ভারাথন স্যার আমাকে বললেন, নাচের দৃশ্যে মামুট্টির পিছনে দাঁড়াবার জন্য...

তাদের কিছু সুন্দরী মেয়ের প্রয়োজন।

একদল মেয়েকে নিয়ে আমি সেখানে গেলাম।

সেই মেয়েটিও ওই দলে ছিল, স্যার।

একদিন শুটিঙের পরেই সে পালিয়ে যায়।

তাও, গানের অর্ধেক শুটিঙের পর।

তখন বিষয়গুলো অন্যরকম ছিল।

জুনিয়র আর্টিস্ট প্রয়োজন হলে, আমাদের চেন্নাই বা কোচিং যেতে হতো।

তার অনুপস্থিতির কারণে, পরের দিন শুটিং স্থগিত হয়ে গেল।

ভারাথন স্যার আমাকে বিশ্রীভাবে বকাবকি করলেন।

তুমি শুধুমাত্র উল্টোপাল্টা লোক ধরে আনো, যারা মাঝপথে উধাও হয়ে যায়।

তখনকার দিনে, যদি একদিনও শুটিং বন্ধ থাকতো,

ফাইন্যান্স ম্যানেজার আমাকে চেন্নাই থেকে ফোন করতেন।

প্রোডাকশন কন্ট্রোলার উপদেশ দিলেন, অডিটর জিজ্ঞাসা করলে...

প্রমাণ হিসেবে দেখানোর জন্য যেন আমি নিখোঁজ মেয়েটির বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করি।

আমি ছালাকুডি থানায় গিয়ে তার নামে অভিযোগ দায়ের করি।

সেই দিন, যে পুলিশ সদস্য এই অভিযোগ লিপিবদ্ধ করেছিলেন,

মনে হয়, সে তাকে জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিল।

তার পর, বিভিন্ন সিনেমায় আমি তার খোঁজ করেছি, স্যার।

যাতে তাকে দেখতে পেলে ভালো করে কথা শোনাতে পারি।

কিন্তু আর কখনো দেখতে পাই নি।

কিন্তু তার নাম কখনোই ভুলতে পারবো না।

রেখা।

কাকা...

তার সম্পর্কে কোনো কিছু জানেন কি?

না।

শুধুমাত্র তার নামটাই মনে আছে।

রেখার সাথে এসেছিল, এমন কোনো জুনিয়র আর্টিস্টের কথা মনে আছে কি?

যাতে সেই সূত্র ধরে আমরা তদন্ত করতে পারি।

রেখার মুখটা মনে করতে পারেন?

এটা কোনো বড় ব্যাপার নয়।

গত সপ্তাহেও তার মুখ দেখেছি।

হুহ?

- গত সপ্তাহে? - হ্যাঁ।

ওই গানের একটা অংশে তাকে এখনো চিহ্নিত করা যায়।

কোন গান?

এই দেখুন...

ওই মেয়েটা।

লিস্সির পিছনের জন।

- এইজন? - হ্যাঁ।

যে পিছনে আছে।

এসো।

যারা নানের ভূমিকায় অভিনয় করছো, তাড়াতাড়ি প্রস্তুত হয়ে নাও।

চন্দ্রাপ্পন...

আমার চরিত্রে কি কোনো সংলাপ আছে?

সংলাপ নেই,

কিন্তু গানের মধ্যে তোমার ক্লোজ শট থাকবে। মামুট্টির সাথে...

গান এবং অভিনয় করতে পারবে, যথেষ্ট নয় কি?

মামুট্টির সাথে?

কিন্তু...

সংলাপ থাকলে, আরো ভালো হতো।

এখানে সবাই এই কাজ নিয়েছে, যাতে সংলাপ বলতে পারে।

সিনেমা সবার জন্য ভবিষ্যতে কিছু রেখেছে।

একবার সিনেমায় মুখ দেখালে,

বাকিটা ইতিহাস হয়ে যাবে।

সিনেমা তোমার জন্য ভবিষ্যতে যা রেখেছে,

যতই সময় চলে যাক না কেন,

তোমার অপেক্ষায় থাকবে।

- স্যার, সুপ্রভাত। - সুপ্রভাত।

কমল, এসো।

এই মেয়েগুলো নানের ভূমিকায় অভিনয় করবে। তারা এখন কস্টিউম পরবে কি?

হ্যাঁ। দেখে নাও, তাদের পোশাক মানানসই হচ্ছে কিনা।

এসো।

এসো, মেয়েরা!

গিয়ে তাড়াতাড়ি পোশাক পরিবর্তন করে এসো।

এই, এগোও।

ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।

"রেখাচিত্রম"

অন্যান্য যে ঘটনাগুলো দেখেছি...

তার সাথে এই ঘটনার পার্থক্য কি?

যে ঘটনাগুলো দেখেছি তার মধ্যে,

যেখানে আমরা কঙ্কাল পেয়েছি,

তার সবচেয়ে কাছ থেকে এই মেয়েটি নিখোঁজ হয়েছে।

ছবিটা থেকে ঘোমটা সরিয়ে , পুনরায় রিলিজ করবো কি?

ভাবছি।

যাই হোক, কাজটা করেই ফেলো।

তবে, এখনই রিলিজ কোরো না।

আমাদের ক্ষমতার মধ্যে সমস্ত সম্ভাবনা...

খতিয়ে দেখার পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

এখন রিলিজ করলে, কি হতে পারে, তোমরা জানো, তাই না?

মামুট্টির সাথে অভিনয়ের দিন...

মেয়েটি নিখোঁজ হয়েছিল।

খুবই সংবেদনশীল বিষয়।

স্যার, আরেকটা বিষয় আছে।

মৃত্যুর আগে বেশ কিছুদিন ধরে, রাজেন্দ্রন একটা নম্বর থেকে ফোন পাচ্ছিল।

সেটা এখনো বন্ধ আছে।

সাইবার সেল থেকে আমরা আজ ওই নম্বরের বিস্তারিত বিবরণ পেয়েছি।

গত এক বছর ধরে, ওই সিমটা কেবলমাত্র রাজেন্দ্রনকেই ফোন করতে ব্যবহৃত হয়েছে।

ওই সিম কার্ডটা একটা পূরাতন নোকিয়া এন৭৩ ফোনে ব্যবহৃত হয়েছে।

আইএমইআই নম্বর চেক করে...

আমরা তখন পর্যন্ত ফোনে ব্যবহৃত সিমকার্ডের বিস্তারিত তথ্য পেয়েছি।

অধিকাংশ লোকের ঠিকানা আলাপ্পুঝা এলাকায়।

যদি সেকেন্ড হ্যান্ড ফোনের দোকানে খোঁজ করো, লোকটার সন্ধান পেয়ে যাবে।

স্যার।

মৃদুলা, জুনিয়র আর্টিস্ট, 'কাঠোডু কাঠোরাম'

আমি এখানে, স্যার।

রেখার সম্পর্কে বেশি কিছু জানি না।

কিন্তু, শুটিঙের পরেই যে গাড়িতে করে আমরা ঘরে ফিরেছিলাম, তাতে সে ছিল না।

আমি এই ব্যাপারে নিশ্চিত।

হ্যাঁ। ঠিক আছে।

এখানে।

এখন এই মেয়েটির বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

সাইবার সেল থেকে পেয়েছি।

হ্যালো?

- ফোনটা যে কিনেছে, তাকে সনাক্ত করা হয়েছে। - খুব ভালো।

তার নাম সজীবন।

রাজেন্দ্রনের মৃত্যুর দুই সপ্তাহ আগে,

সে এলাঞ্জিথারার একটা দোকান থেকে ফোনটা কেনে।

কোনো প্রমাণ পেয়েছো?

সিসিটিভি ফুটেজ পাঠাচ্ছি।

ঠিক আছে। আমি চেক করে নেবো।

সেভেন আর্টস অফিস, কোচি

'কাথোডু কাঠোরাম' ছিল সেভেন আর্টস-এর প্রথম প্রযোজনা উদ্যোগ।

সেভেন আর্টস মহান, প্রোডাকশন কন্ট্রোলার, 'কাথোডু কাঠোরাম'

আপনার উল্লেখ করা গানটির লোকেশনের অনুমতি...

এবং ভিড়ের বন্দোবস্ত করতে, আমি সত্যিই ব্যস্ত ছিলাম।

মনে আছে, শুটিং স্থগিত হয়েছিল।

কারণ তখনকার দিনে, এটা বিরাট ব্যাপার ছিল।

ওই সিনেমার আর্টিস্টদের চিনতে পারবে, এমন কারোর সাথে দেখা করতে পারি?

সেই সময়ে ভারাথন স্যারের সহযোগী পরিচালক ছিল কমল।

তাকে জিজ্ঞাসা করলে, আপনি কিছু তথ্য পেতে পারেন।

জন পল স্যার-ও আপনাকে কিছু তথ্য দিতে পারতেন।

কিন্তু তিনি বেঁচে নেই।

তার স্মরণশক্তি অসাধারণ ছিল।

পানিকার স্যার স্টিল ফটোগ্রাফি করেছিলেন।

ফটো বা নেগেটিভ পেলে,

আপনাকে সেগুলো দিয়ে দেবো।

জন পল : যখন আমি আর ভারাথন এক জায়গায় যাচ্ছিলাম,

টেপ রেকর্ডারে একটা গান শুনতে পাই।

যেটা বিছু থিরুমালা লিখেছেন বলে ভেবেছিলাম।

'মিঝিয়োরাম' (চোখের কাছাকাছি)।

সেই ক্ষেত্রে, 'কাঠোরাম'-ও এখানেই থাকতে পারে। (কানের কাছাকাছি)

প্রেমের মন্ত্রগুলো কানের কাছে গুনগুন করছিল।

'কাথোডু কাঠোরাম'।

এক কান থেকে অন্য কানে...

তিনি অত্যন্ত পরিস্কারভাবে কথা বলেন।

কিন্তু এর কোনোকিছুই আমাদের কোনো কাজে লাগবে না।

তার নাম এবং মুখ জানার পরেও,

তদন্ত এগোচ্ছে না, স্যার।

রেখার মামলায়,

মনে হয়, মোহনদাস স্যার...

পুরোপুরি নিশ্চিত নন।

[জন পল] বিখ্যাত সিনেমাটোগ্রাফার...

মাফ করবেন, স্যার।

বালু মহেন্দ্র...

- এই, শিন্টো। - মোহন স্যার কিছু বলেছেন কি?

কোনো নতুন খবর?

আমরা আবার 'কাথোডু কাঠোরাম' এপিসোডটা দেখছি।

সেভেন আর্টস-এর থেকে কিছু ছবি ও নেগেটিভ পেয়েছি।

- সেগুলো চেক করেছি। - কোন আশা আছে, স্যার?

বেশি কিছু নেই।

জন পল : যদিও দর্শকরা অধীর আগ্রহে এর জন্য অপেক্ষা করছিলেন,

কিছু ভক্ত এটা সেরকম পছন্দ করেন নি।

এইমাত্র কিছু মনে পড়লো, যা এর সাথে জড়িত ..

রাজেন্দ্রনকে যে ফোন করতো, তার সম্পর্কে কোনো খবর আছে?

আলাপ্পুঝার কাছে থাকা বার গুলোকে কেন্দ্র করে আমরা তদন্ত চালাচ্ছি।

হয়তো সে ওইসব জায়গায় গেছে।

ঠিক আছে। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে করো।

জন পল : ... ঠিক তখনই একজন নান নুপুর পরে...

আমার দিকে হেঁটে এলো।

সে আমাকে জিজ্ঞাসা করলো, আমি জন পল কিনা।

আমার উত্তরের অপেক্ষা না করেই...

- পরে ফোন করছি। - ঠিক আছে।

...সে আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, কেন আমি মামুট্টিকে মাথা কামাতে বাধ্য করেছি?

উত্তর দেবার আগেই...

'কাথোডু কাঠোরাম' শুটিঙের সময়...

যে দৃশ্যের শুটিং হতে চলেছে,

তার চূড়ান্ত বিন্যাসের দিকে মনোনিবেশ করছিলাম।

... ঠিক তখনই একজন নান নুপুর পরে আমার দিকে হেঁটে এলো।

সে আমাকে জিজ্ঞাসা করলো, আমি জন পল কিনা।

আমার উত্তরের অপেক্ষা না করেই...

...আমাকে জিজ্ঞাসা করলো, কেন আমি মামুট্টিকে মাথা কামাতে বাধ্য করেছি?

স্যার, আপনি কি জন পল?

হ্যাঁ।

আপনিই কি মামুট্টিকে মাথা কামাতে বাধ্য করেছেন?

হ্যাঁ। আমিই করেছি।

খুবই দুঃখজনক, স্যার।

[জন পল] চলে যাবার সময়,

তার পা ঢেকে রাখা টিউনিকটা একটু সরে যাওয়ায়,

নুপুরগুলো আবার আমার চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে উঠল।

নুপুরগুলো আবার আমার চোখের সামনে ভেসে উঠলো...

- ভাই... - হ্যাঁ।

- শুটিং কোথায় হচ্ছে? - ওখানে, ওই বাড়িতে।

- ওটা? - হ্যাঁ।

ঠিক আছে।

- ওহ না! এটা কি একটাই শট? - হ্যাঁ।

-[মহিলা] পাল্টা সংলাপ বলবে না ? -[পুরুষ] হ্যাঁ।

[কমল] কাটো।

- জয়শ্রী, শট ঠিক আছে।

স্যার, পুলিশের একজন লোক আপনার সাথে দেখা করতে এসেছেন।

ট্রলি শটের প্রস্তুতি নাও, ভিনেশ। ঠিক আছে?

ঠিক আছে, স্যার।

'কাথোডু কাঠোরাম'-এর সাথে আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে।

আমার হেয়ার স্টাইল দেখে, ভারাথান স্যার...

মামুট্টির জন্য, একটা পরচুলা বানিয়েছিলেন।

স্যার...

সেদিন যে মেয়েটির কথা বলেছিলাম, মনে আছে?

হ্যাঁ।

এটি রেখার ছবি, যা সাইবার সেল তৈরি করেছে।

এবং এটি একটি সিনেমার শট থেকে নেওয়া হয়েছে।

ছবিটা দেখার পর, তার কথা আবছাভাবে মনে পড়ছে।

তবে আপনি উল্লেখ করার পরেই, রেখা নামটা, মনে করতে পারলাম।

তখন, শুটিঙে তার অনুপস্থিতি, ধারাবাহিকতার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে...

বড় অসুবিধার সৃষ্টি করেছিল।

যেখানেই ক্যামেরা রাখি না কেন, তার অনুপস্থিতি ঢাকতে পারছিলাম না।

যেহেতু আমি সহযোগী পরিচালক ছিলাম,

ভারাথন স্যার আমাকে যাচ্ছেতাইভাবে বকাবকি করেছিলেন।

স্যার...

সেদিন জন পল স্যারের প্রোগ্রাম দেখার পর থেকেই মনে হচ্ছে...

যে সেটা রেখা-ই ছিল।

এমনকি আমরা যে কঙ্কাল পেয়েছি,

সেখানেও নুপুর ছিল।

জন পল আঙ্কেল আমাকেও নুপুর পরা একজন নানের কথা বলেছিলেন।

তখন আমরা 'উন্নিকাধে ওরু কাধা পরায়ম' বানানোর পরিকল্পনা করছিলাম।

তার মত একটা মেয়েকে আঙ্কেল নায়িকা বানাতে চেয়েছিলেন।

তার সম্পর্কে আপনার আর কিছু মনে আছে কি?

জানি, তার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

তবুও, জিজ্ঞাসা করছি।

না।

- আসছি তাহলে, স্যার? - ঠিক আছে।

- ধন্যবাদ। - ঠিক আছে।

স্যার...

কৌতুহলের বশে একটা প্রশ্ন করছি।

'উন্নিকাধে ওরু কাধা পরায়ম' আমার অন্যতম প্রিয় সিনেমা।

যদি আপনার সাথে রেখার আবার দেখা হত,

আপনি কি তাকে নায়িকা হিসাবে সুযোগ দিতেন?

নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।

তবে, একটা কথা বলতে পারি।

মেয়েটির বেশ আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য ছিল।

বেশ অভিব্যক্তিপূর্ণ মুখ।

'শালিনী এন্তে কত্তুয়াকরি'- সিনেমার প্রয়াত শোবাকে চেনেন?

তার মত দেখতে ছিল।

[কমল] চলচ্চিত্রে রেখার ভবিষ্যত উজ্জ্বল হতে পারতো।

অসম্পূর্ণ পরিচিতি।

তাও মুখ্যমন্ত্রী সহ...

শাসক দলের মুরুব্বিদের সাথে...

যুক্ত কোম্পানি থেকে।

এগুলি সেই অনৈতিক চুক্তির রেকর্ড।

কিন্তু...

এগুলো দিয়ে আমি কী করবো?

পুলিশ যদি আমাদের পিছনে লাগে,

আপনার পিছনেও কেউ নিশ্চিতভাবেই লাগবে।

তদন্ত যেন কোনোভাবেই আর না এগোয়।

চোখ বন্ধ করে রাখুন।

[চন্দ্রাপ্পন] তোমাদের চিনতে পারছি না।

- তোমরা কারা, ভাই? - বলছি। আসুন।

- কোন ব্র্যান্ডের মদ খান? - যে কোনো কিছু হলেই চলবে।

- ব্র্যান্ডে কিছু যায় আসে না। - এখানে বসুন।

এই নিন।

জল না সোডা?

আমি নিট পান করবো। জলের দরকার নেই।

বড় চুমুক মারুন।

এস পি আমাকে ফোন করেছিলেন।

বললেন, কেসটা ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

তুমি আর থানার ডিউটিতে থাকবে না।

যতদূর সম্ভব, তোমাকে ট্রাফিক বিভাগে পাঠানো হবে।

দেখা যাক, কি হয়।

- স্যার। - তোমাকে ফোন করবো।

তাদের থামতে বলো।

এগিয়ে যান।

- এখনই হাসপাতালে যেতে হবে। - ফাঁকা করুন।

সরে যান।

তাড়াতাড়ি করুন। যান। এগিয়ে চলুন।

আহ, বিবেক!

চন্দ্রাপ্পনের ফুসফুস, সেই ড্রেনের নোংরা জলে পূর্ন ছিল।

ফলে সে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়।

প্রচণ্ড মদ পান করেছিল।

তার শরীরে অন্য কোনো সন্দেহজনক আঘাতের চিহ্ন ছিল না।

সবকিছু হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে, স্যার।

মোহন কী বলছে?

তিনি এখন কী বলতে পারেন?

আমাকে ট্রাফিক ডিউটিতে পুনরায় নিয়োগ করা হয়েছে,

এবং কেসটা ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সাজন স্যার,

অনেকদিন পরে দেখলাম।

ওহ না, সিবিআই এখানে ছিল নাকি? দুঃখিত, দেখতে পাই নি।

আমরা এখানে ১১২৩/২৪ নম্বর কেসের জন্য কঙ্কালটা নিয়ে যেতে এসেছি।

এখন, আমি এই মামলার দায়িত্বে আছি।

হায়দ্রাবাদের কেন্দ্রীয় ল্যাবে কঙ্কালটি পরীক্ষা করা দরকার।

আশা করি, সমস্যা হবে না স্যার?

তাকে চিনতে পেরেছো? দুর্দান্ত খেলোয়াড়।

মানে, রাম্মি! রাম্মি!

- কঙ্কালটা এখানেই আছে। যাওয়া যাক। - অবশ্যই।

এখানেই অপেক্ষা করো।

আহা!

ঠেকনা দেওয়া কঙ্কাল!

দুর্দান্ত!

আপনার কাছে একটা স্ট্যান্ড থাকলে,

এটাকে বাতি আর ফুল দিয়ে সাজাতে পারতেন।

তাই না, স্যার?

সবকটা হাড় আদৌ আছে তো?

সেলিম,

শুধুমাত্র কিছু পুলিশ নিজেকে বিক্রি করতে ইচ্ছুক থাকার জন্য,

ধরে নিও না, সবাই একইরকম হবে।

আমি...

আমাকে একবার কন্ট্রোল নমুনা সংরক্ষণ রেজিস্টার দেখতে হবে।

তোমাকে কোনো রেকর্ড দেখাতে বাধ্য নই।

তোমার আনা আদেশ পত্রে যাকিছু তালিকাভুক্ত আছে, শুধু সেগুলো নাও...

এবং কেটে পড়ো। বুঝতে পেরেছো?

যখন হাড়গুলো ঘাঁটাঘাটি করছো, তখন দস্তানা ব্যবহার করো।

ঠিক আছে।

রাম্মি খেলা থামিয়েছো?

এখানে কী করতে এসেছো?

ট্রাফিকে ডিউটি করছো, ওখানেই আটকে থাকো।

আমার কাজে নাক গলানোর চেষ্টা কোরো না।

তাকিয়ে আছো কেন?

বিরক্ত হলে নাকি?

যে নোংরা জিভ দিয়ে মালিককে চাটিস, তা নাড়িয়ে আমার সাথে কথা বলিস না।

নয়তো, তোর জীবন নিয়ে রাম্মি খেলবো।

- বুঝেছিস? - হ্যাঁ।

সবকিছু গোছানো হয়েছে? যাওয়া যাক।

ঠিক আছে।

খুব ভিজে গেছেন। কি হয়েছে, স্যার?

ওহ, ভালো করে মুখ ধুয়েছি। সমস্যা আছে কোনো?

রেখার সম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছিল, সেই চন্দ্রাপ্পন মারা গেছে।

তারা আমাদের তদন্ত থেকে বার করে দিয়েছে।

একমাত্র প্রমাণ হিসাবে যেটা ছিল...

সেটাও তারা নিয়ে গেল!

এখন কী করবো, স্যার?

যা পারো, তাই করো।

একমাত্র তুমিই রাস্তা বার করতে পারবে।

ইতিমধ্যে যা পেয়েছি, কেবল সেটাই তারা কেড়ে নিতে পারে,

কিন্তু নতুন কিছু উন্মোচন করা থেকে, আমাদের থামাতে পারবে না।

খোঁড়া শুরু করো।

- কমল স্যার? - বিবেক...

তোমাকে একটা কথা বলবো বলে ফোন করলাম।

বেশি কিছু নয়।

তখন, পাল্লাসেরি নামে একজন সাংবাদিক ছিলেন।

এখন তিনি একটা ইউটিউব চ্যানেল চালাচ্ছেন।

সেদিন, যখন তিনি আমার সাক্ষাৎকার নিতে আসেন,

তাকে 'দেভাদূথার পাডি' গানটার ভিজুয়াল দেখিয়েছিলাম।

এবং মেয়েটির কথা বলেছিলাম।

তখন তিনি বললেন,

একসময় তিনি 'কাথোডু কাথোরাম' সিনেমার লোকেশনে শুটিং কভার করতে গিয়েছিলেন।

লোকটা একটা চরিত্র বটে!

একবার তার সাথে দেখা কোরো। তোমার কাজে লাগতে পারে।

ঠিক আছে, স্যার। তাই করবো।

ধন্যবাদ।

'চিত্রম'-এর নেপথ্যের নাটক এখানেই শেষ হয় নি।

পরের সপ্তাহে, আমরা...

প্রিয়দর্শন ও মোহনলালের মধ্যে মারধরের ঘটনা জানবো।

ততক্ষণের জন্য, বিদায় নিচ্ছি।

ওহ, ভিতরে আসুন, স্যার।

প্রিয়দর্শনের বিরুদ্ধে মোহনলাল?

কী সমস্যা হয়েছিল?

কি সমস্যা? কোনো কিছুই হয় নি।

যেটা মনে আসে, সেটাই বলে দিই। এই টুকুই।

যারা এই এপিসোড দেখবেন,

নিশ্চিতভাবে পরের সপ্তাহে লিঙ্কে ক্লিক করবেন।

একটাই পরিকল্পনা, আরো সাবস্ক্রাইবার যোগাড় করা।

বসুন, স্যার।

তখনকার দিনে,

কাউকে তৈরি বা ধ্বংস করার জন্য আমার কলম যথেষ্ট ছিল।

আজকাল, কলম খুব একটা কাজ করে না,

কিন্তু জিহ্বা নিশ্চিতভাবে করে।

এবং বলতে পারি,

আমার জিহ্বা বেশ তীক্ষ্ণ।

তখন ছিল এবং এখনও আছে।

একটা সময় ছিল,

যখন মামুট্টিও আমার সামনে নার্ভাস বোধ করতেন।

তখনো তিনি বিরাট তারকা ছিলেন।

'কাথোডু কাথোরাম'-এর সেটে, ক্যামেরাম্যান রবিকে নিয়ে...

তার সাক্ষাৎকার নিতে গিয়েছিলাম।

তিনি কি শীঘ্রই আসবেন?

যেকোনো মুহুর্তে আসতে পারেন।

অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছিলাম। তিনি যেই হোন, এর সাথে আমার কি সম্পর্ক?

তার মনোভাব এবং অহংকার সহ্য করতে পারি নি।

তারপর, যৌবনের উত্তাপে, তাকে একটা সাহসী প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছিলাম।

তিনি এটা পছন্দ করেন নি।

মিঃ মামুট্টি, সাক্ষাৎকার শেষ হয় নি।

তার ছবি নাও, ভাই।

তখন এমন সময় ছিল, যখন মালয়ালম সিনেমার কেউ...

আমার বিরুদ্ধে গলা তুলতে সাহস করতো না।

ভীষণ উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম।

সেই ছবি 'নানা' পত্রিকার পরের সংস্করণে প্রকাশ করি,

তাকে এমন শিক্ষা দেবো বলে ঠিক করেছিলাম, যা কোনোদিন ভুলতে পারবেন না।

এই মেয়েটার-ই খোঁজ করছেন তো?

এটা আমার তিন বা চারটে এপিসোডের বিষয়বস্তু হতে পারে।

ওহ! কিছু মনে করবেন না।

"চলচ্চিত্র নায়কের ঔদ্ধত্য"

হ্যালো।

হোয়াটসঅ্যাপে একটা ছবি পাঠিয়েছি।

শুটিংয়ের সময় রেখার সাথে...

এই সন্ন্যাসিনীকে কখনো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছেন কিনা, মনে আছে?

না, এই সন্ন্যাসিনী ওই সিনেমায় ছিলেন না।

- নিশ্চিত বলছেন? - হ্যাঁ।

ঠিক আছে।

[কমল] সেটে এরকম কাউকে দেখেছি বলে মনে করতে পারছি না।

এছাড়া, যদি তারা জুনিয়র আর্টিস্ট হত,

তাদের কি কোনো শুটিং লোকেশনে...

দেখতে পেতাম না?

থমাচান আর আমি, পুরো সিনেমাটা দেখেছি।

যে সন্ন্যাসিনীর কথা তুই বলছিস, সে ওই সিনেমায় ছিল না।

সে সেখানে সিনেমায় অভিনয় করার জন্য ছিল না।

তাহলে?

তার পোশাক অন্যরকম ছিল।

তিনি সত্যিকারের সন্ন্যাসিনী ছিলেন।

মাদার...

"চলচ্চিত্র নায়কের ঔদ্ধত্য"

রেখা...

যে মেয়েটি সিনেমায় অভিনয় করতে মালাক্কাপ্পারায় এসেছিল!

পর্দার সামনে এবং পিছনে...

অত্যন্ত প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী ছিল।

আমরা একটা কঙ্কাল পেয়েছি।

এবং সন্দেহ করছি, এটা রেখার হতে পারে।

আপনার মনে আছে, এমন কোনো তথ্য দিতে পারেন কি?

কি প্রচন্ড ভিড় হয়েছে!

মামুট্টির সিনেমা বলে কথা।

সিস্টার...

আমরাও যাবো কি?

আমি যাবো না। মাদার জানতে পারলে, বারোটা বেজে যাবে।

যথেষ্ট।

মাদার কি উঠেছেন?

- যীশুর জয় হোক। - সর্বদা এবং চিরকাল, যীশুর জয় হোক।

আমরা বেরোচ্ছি।

ঠিক আছে।

নিশ্চিত কোরো, সবকিছু যেন ঠিকঠাক হয়।

ঠিক আছে, মাদার।

তারা সিনেমার লোকদের হাতে চার্চ তুলে দেয় কেন?

ভাই, তাড়াতাড়ি চলো। দেরী হয়ে যাচ্ছে।

- তাড়া কিসের? - বিরতির ঠিক পরেই প্রথম শট হবে।

- প্রথমবার করছো নাকি? - হ্যাঁ।

নবাগতা।

এই! মামুট্টি এসে গেছেন।

মামুট্টি এসে গেছেন। চলো, গিয়ে তাকে দেখে আসি।

মামুট্টি! মামুট্টি! মামুট্টি!

মামুট্টি! মামুট্টি! মামুট্টি!

কানা নাকি?

দেখে চলো!

দাদা, আমার কস্টিউম ছিঁড়ে গেছে।

তো?

সেলাই করে দিতে পারেন?

আমার কিছু যায় আসে না। ছেঁড়া কস্টিউম পরেই সামলে নাও।

প্রচুর কাজ জমে আছে।

বেপরোয়াভাবে দৌড়ালে, এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

একটু সেলাই করে দিন না, প্লিজ?

লম্বা লাইন দেখতে পাচ্ছো না? এখন যাও।

সিস্টার...

তুমি কে?

সিস্টার, আমি রেখা।

সাহায্য করতে পারেন, প্লিজ?

কি সাহায্য?

তোমাকে পোশাক দিতে পারি।

কিন্তু পরিবর্তে, আমার একটা উপকার করবে?

মামুট্টির সাথে দেখা করতে চাই।

তার সাথে আমার আলাপ করাতে পারবে?

উম..হ... হ্যাঁ। ব্যাস, এইটুকুই?

আপনি চাইলে, তার স্বাক্ষর-ও নিতে পারেন।

দুপুরবেলায় সেখানে যাবো। তুমি থাকবে তো?

হ্যাঁ, থাকবো।

এত তাড়াতাড়ি আসবেন, ভাবতে পারি নি।

কি ব্যাপার? ব্যস্ত আছো?

না, তা কেন থাকবো?

কিন্তু, মামুট্টি এখন একটা শটের মাঝপথে আছেন।

তারপর, তিনি লাঞ্চে যাবেন।

তাই...

ঠিক আছে। আমার কোনো তাড়া নেই।

এখানেই অপেক্ষা করছি।

এই, এটা কিধরনের পোশাক?

বলেছিলেন তো, আমার পোশাক সেলাই করতে পারবেন না?

তাই আমি আরেকটা পোশাকের ব্যবস্থা করেছি।

তো, তোমার যা খুশি তাই করবে। তাহলে আমরা এখানে কিসের জন্য আছি?

এই পোশাকটা সাদা হলেও, সেলাইটা সম্পূর্ণ অন্যরকম।

এখানে এসো!

ভয় পেও না। তোমার পোশাক সেলাই করে দেবো।

এটা কি এখন এখানে রেখে যাবো?

- এখন পোশাকটা ঠিক আছে? - হ্যাঁ।

ঠিক আছে।

সন্ন্যাসিনীর পোশাকে তোমাকে সত্যিই সুন্দর লাগছে।

অবশ্যই। সব পোশাকেই আমাকে মানায়।

এটা নায়িকা হবার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

নায়িকা হতে পারবে বলে মনে করো?

হ্যাঁ, সিস্টার। এই কারণেই এত খাটছি।

আমি মামুট্টি চেট্টানের নায়িকা হতে চাই।

হুহ! মামুট্টি চেট্টান? অত্যাধিক আত্মবিশ্বাস?

মামুট্টিকে চেট্টান(বড় দাদা) বলে ভাবো নাকি?

আমার কাছে, দাদার মত।

এমনকি, তাকে চিঠিও লিখেছি।

তার ঠিকানা জানো?

হ্যাঁ, উডল্যান্ড হোটেলের ঠিকানায় চিঠি লিখেছি।

সাধারণত, সেখানেই তিনি থাকেন।

কখনো উত্তর পেয়েছো?

এই, মেয়েটা!

তুমি গানের দলের আছো তো?

যখন থেকে এসেছো, চারদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছো।

গলার চেনটা খোলো। এটা পরে নাও।

নিজেকে নায়িকা ভাবছে।

ভুলবশতঃ অন্য চেন পরার জন্যই কি তোমাকে ধমক দিচ্ছিল?

সকালে সেই আমাকে ওই চেনটা দিয়েছিল।

সিস্টার, আমি একজন জুনিয়র আর্টিস্ট মাত্র।

মানুষ এখানে আমাদের সাথে এইভাবেই ব্যবহার করে।

আপনার কাছ থেকে পোশাকটা পাবার জন্য...

মিথ্যা কথা বলেছিলাম, যে মামুট্টিকে চিনি...

এবং তার অটোগ্রাফ এনে দেবো।

তার ধারেকাছেও আমরা যেতে পারি না।

মামুট্টি চেট্টানের সাথে দেখা করতে চাও?

আমার সাথে এসো।

হুহ? কিন্তু কোথায়?

বললাম তো, আমার সাথে এসো।

শুরু করা যাক তাহলে?

মিঃ মামুট্টি,

আপনার সাম্প্রতিক সিনেমাগুলো সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

এটা কি স্ক্রিপ্টের খামতি,

নাকি তারকা হয়ে ওঠার জন্য আপনার অত্যাধিক চেষ্টার ফল?

মিঃ মামুট্টি, সাক্ষাৎকার এখনো শেষ হয় নি।

ছবি তোলো!

রেখা কি কখনো তার বাড়ি কোথায়...

অথবা পরিবার সম্পর্কে আপনার কাছে কিছু উল্লেখ করেছিল?

পরিবার সম্পর্কে কথা বলতে তাকে উৎসাহী দেখি নি।

কিন্তু, মনে হয়...

সে বলেছিল, দক্ষিণের কোথাও থেকে এসেছে।

আমরা আর মামুট্টির সাথে দেখা করতে যাই নি।

লাঞ্চের পর, আমি কনভেন্টে ফিরে যাই।

কিন্তু যত দিন যেতে লাগল,

তাকে আরও ভালোভাবে জানলাম।

আরো ঘনিষ্ঠ হলাম।

জন পল স্যার এবং ভারাথন স্যার আগামীকাল গির্জায় একটা দৃশ্যের পরিকল্পনা করছেন।

এবং তখন?

হয়তো ওই দৃশ্যে আমি একটা সংলাপ পেলেও পেতে পারি।

মামুট্টির সাথে?

যতদূর সম্ভব।

তৈরি হও!

- এখনই আসছি। - ঠিক আছে।

সব আলো জ্বালাও।

শুরু করবো, পাডি? মামুট্টিকে ডাকো।

সাউন্ড।

একশন!

কাট!

টেক নিতে যাচ্ছি। ক্ল্যাপ ইন।

সাউন্ড...

- ক্যামেরা? - রোলিং, স্যার।

বাইক ৫২, টেক ১।

একশন!

লাইট বন্ধ করো!

ওহ, এই বৃষ্টি সবকিছু নষ্ট করে দিল, পাডি।

রেখা...

পরবর্তী সিনেমা কী?

সিনেমার অনেক অফার পেয়েছি।

কিন্তু,

জুনিয়র আর্টিস্ট হতে আসি নি।

নায়িকা হতে চাই।

পরিশ্রমের দাম নিশ্চয়ই পাবে।

জনপ্রিয় নায়িকা হবে একদিন।

স্যার, পরিবেশটা একেবারে হারিয়ে ফেলেছি।

এখন কি করবো?

কি আর করবো? বাড়ির ভিতরে কাজ করতে হবে।

তাহলে, এখন গির্জার মধ্যে শুটিং হবে, তাই না?

কনভেন্টে যাবো কি আমরা?

তোমার তো আর কোনো দৃশ্য বাকি নেই, তাই না?

আমি কিভাবে কনভেন্টে আসতে পারি?

আমার কনভেন্ট কাছাকাছি আছে তো।

জনাকীর্ণ ঘরে কষ্ট করে শোবে কেন?

চলো, কনভেন্টে যাওয়া যাক।

আজ কনভেন্টে আমিই সিনিয়র।

এই জুনিয়র আর্টিস্ট-টি কে? আগে দেখি নি তো।

এই মেয়ে, এখানে তোমাকে কে নিয়ে এসেছে তো?

কেউ নিয়ে আসে নি। নিজেই এসেছি।

যখন বৃষ্টি শুরু হল,

আরেকটা গানের শুটিং করতে, তারা গির্জার ভিতরে গেলেন।

রেখাকে নিয়ে কনভেন্টে ফিরে এসেছিলাম।

এখানে ব্যাগ রাখো।

পুত্র এবং পবিত্র আত্মার নামে, আমেন।

- যীশাস ক্রাইষ্টের জয় হোক। - যীশাস ক্রাইষ্টের জয় হোক।

- যীশাস ক্রাইষ্টের জয় হোক। - যীশাস ক্রাইষ্টের জয় হোক।

রেখা, ইনি সিস্টার মারিয়েট্টা।

সিস্টার এলিজাবেথ এবং আমাদের জুনিয়র সিস্টাররা।

এবং ইনি হলেন থাঙ্কাম্মা।

পুষ্পম কোথায়, থাঙ্কাম্মা?

উপরের একটা ঘর প্রস্তুত করছে।

আচ্ছা, তাই!

রেখা, উপরে যাওয়া যাক।

- সেখানে নিজেকে তরতাজা করে নিতে পারবে। - ঠিক আছে।

চাটনি?

গানটা খুব সুন্দর, তাই না?

শীঘ্রই, মামুট্টি চেট্টান এটা অন্য সুরে গাইবেন।

তখন এটা আরো ভালো শোনাবে।

মাংস চাই না।

কখনো কখনো, রাত হয়ে গেলে,

আমরা সেই সুরে মামুটি চেট্টানকে গুনগুন করতে শুনি।

মামুট্টি নয়, রেখা। ওটা যেশুদাস, যিনি এই গান গেয়েছেন।

তোমার মামুট্টি চেট্টান শুধুমাত্র ঠোঁট মিলিয়েছেন।

ওহ, সত্যিই? আচ্ছা, জানি সেটা।

আগামীকালের সংলাপ মুখস্থ হয়ে গেছে?

আগামীকাল লোকেশনে গিয়ে তবেই পাবো।

আজকের দিনটা ভালো মনে হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে, সিনেমায় সুযোগ পাবার জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছি।

এর আগে কেউ কোনোদিন...

আমার সাথে তোমার মত ভালো ব্যবহার করে নি, সিস্টার।

আর এখন, এই প্রথমবার, সিনেমায় সংলাপ বলার সুযোগ পাচ্ছি।

সবকিছু ঠিকঠাক হবে, তাই না, সিস্টার?

নিশ্চিত থাকো।

আগামীকাল সকালে তোমার শুটিং আছে তো?

উপরের ঘরে, তোমার জন্য বিছানা প্রস্থুত করা আছে।

চলো, যাওয়া যাক।

ভালো করে ঘুমিও।

শুভ রাত্রি।

পরের দিন সকালে, পরিস্কার করার জন্য,

থাঙ্কাম্মা মাদারের অফিসে গিয়েছিল...

ওহ, না। মাদার...

সিস্টার!

রেখা সেদিন সোনার পুরানিদর্শন...

এবং গির্জা হাসপাতাল নির্মাণের জন্য অনুদান নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল।

যেহেতু চুরির পরিমাণ যথেষ্ট ছিল,

প্রাদেশিক জেনারেল তদন্তের জন্য কনভেন্টে আসেন।

যেহেতু একটা অপরিচিত মেয়েকে কনভেন্টে থাকতে দিয়েছিলাম,

তাই চুরির পুরো দায় আমার উপর পড়ে।

তারপর থেকে আমি তার সম্পর্কে কোনো কিছু শুনতে পাই নি।

এত বড় চুরির পরেও থানায় অভিযোগ করা হল না কেন?

আমরা, দাতব্য কার্যকলাপের জন্য পরিচিত, একটি ইতালীয় মণ্ডলীর অন্তর্গত।

অনুদানের অর্থ নিয়ে আমাদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার খবর ছড়িয়ে পড়লে,

তা আমাদের ভবিষ্যতের অনুদান পাওয়াকে বাজেভাবে প্রভাবিত করতো।

এই কারণে তৎকালীন এস.আই মাদারকে আশ্বস্ত করেছিলেন, এই খবর বাইরে বেরোবে না।

সেদিন রাতে, কনভেন্টে যারা উপস্থিত ছিল, তাদের ব্যাপারে কিছু জানেন?

তাদের সাথে কোনোভাবে যোগাযোগ করা যায় কি?

হ্যাঁ।

এই ব্যাপারে আপনাকে সাহায্য করতে পারি।

সত্য কি, তা জানি না।

এমনকি আপনার সেই ফটোগ্রাফে থাকা,

ভাগ্যের খেলা বলে মনে হচ্ছে।

নষ্ট হবার জন্য ফেলে দেওয়া একটা কঙ্কাল , আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে।

কিন্তু,

কল্পনাও করতে পারি নি,

এটা এইভাবে শেষ হবে।

- এখানে? - হ্যাঁ, স্যার। এখানে।

জেকব...

হাই। এক মিনিট।

কোনো খবর আছে?

স্যার...

এটা দেখুন।

ফ্রান্সিস থাডাথিল নামক লোকটার...

এই সব ছবি এখনও পর্যন্ত তোলা হয়েছে।

ঠিক আছে।

আগামী দশ দিনের মধ্যে, বাকি ছবি পেয়ে যাবো।

ঠিক আছে?

বিবেক সম্প্রতি এই সন্ন্যাসিনীর সাথে দেখা করেছিল।

ইনি কে?

১৯৮৫ সালে তিনি মালাক্কাপারা কনভেন্টে ছিলেন।

রাজেন্দ্রন স্যার আমাকে নিয়মিত ফোন করতেন,

আমরা খুব ভোরে কোথাও বের হতাম।

রাস্তায় যাদের সাথে দেখা হত, না চিনলেও...

তিনি তাদের সাথে কথা বলতেন।

সাধারণত, যখন পরিস্থিতি খারাপ হয়,

আমি হস্তক্ষেপ করে তাকে বের করে আনি।

এটা একটা নিয়মিত ধারা হয়ে গিয়েছিল...

রাজেন্দ্রন এই লোকটির নামে গাড়িটা লিখে দিয়েছিলেন।

আমি ইচ্ছাপত্রটি দেখেছি।

ইতিমধ্যেই তোমাকে এটা বলেছিলাম, তাই না?

এটি মিডিয়া পরিকল্পনা।

মানুষ সবসময় এমন খবর বিশ্বাস করে।

এই মুহূর্তে, আমাদের মধ্যে মাত্র কয়েকজনই রেখা নামক মেয়েটার সম্পর্কে জানি।

সে অভিনেত্রী হতে পারে,

বা এমনকি চোরও হতে পারে।

সে যা-ই হোক না কেন,

জানতে চাই, রেখা আসলে কে ছিল।

আর তার জন্য, তোমার সাহায্য প্রয়োজন।

আহ... অবশ্যই।

বেশিরভাগ সন্ন্যাসিনী, যারা সেই রাতে ছিলেন, মারা গেছেন।

বাকিরা অন্যত্র চলে গেছেন।

পুষ্পম, থাঙ্কাম্মা এবং তাদের পরিবার থেকে গিয়েছিল।

পুষ্পম মাদারের কঠোর নেতৃত্ব সহ্য করতে না পেরে...

৩-৪ মাস পরে কনভেন্ট ছেড়ে চলে যায়।

থাঙ্কাম্মা আর তার স্বামী বেবি-ও, মারা গেছেন।

তাদের ছেলে আলাপ্পুঝায় থাকে।

এটা তার ঠিকানা।

এটা রেখা কিনা, তা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হল...

তার আত্মীয়দের খুঁজে বার করা এবং ডিএনএ ম্যাচ করানো।

নিখোঁজ হওয়ার দিন যেহেতু তার সাথে আপনিই ছিলেন,

এখন কেবলমাত্র আপনিই আমাকে সাহায্য করতে পারেন, মাদার।

সেদিন আপনি চলে যাবার পর...

সত্যিই তাকে নিয়ে অনেক ভেবেছি।

আমিও জানতে চাই...

তার প্রকৃত পরিচয় কি!

হ্যালো, স্যার।

রাজেন্দ্রনকে যে ফোন করেছিল, সেই সজীবন এখন কোথায় আছে?

... ইলাঞ্জিথারা।

বেবি, মুছুকুন্নু, আরায়ম রোড, মুডাডি, ইলাঞ্জিথারা, আলাপ্পুঝা, ৬৭৩৩০৭

রেখা ছিল গ্রামের একটা সাধারণ মেয়ে,

যে একটা বড় স্বপ্নের পিছনে ছুটছিল,

এবং তার প্রথম ছবিতে এটা পূর্ণ করার আশা করেছিল।

স্যার, সজীবনের লোকেশন ট্র্যাক করা হয়েছে।

ইলাঞ্জিথাড়ার একটি চিংড়ির ভেড়িতে সে লুকিয়ে আছে।

এবং স্যার, তাকে KAAPA আইনে ত্রিশুর থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

ঝামেলাবাজ লোক।

ওখানে কে?

জিভে গিঁট পড়ে গেছে নাকি, বোকাচোদা?

গিয়ে দেখ, ভাই।

যা।

এই!

গত মাসে, চেরুথানা টাওয়ারের কাছে, একই এলাকায়...

তোমার আর রাজেন্দ্রনের ফোন ছিল।

কি চলছিল?

তোমার গোল্ড লোন শোধ করেছো।

এবং সেটা দিয়ে তোমার এনএইচজি লোন পরিশোধ করেছো, তাই না?

এর জন্য টাকা কোথায় পেলে?

রাজেন্দ্রনের কাছ থেকে পেয়েছি, স্যার।

কিসের জন্য?

তার একটা গোপন কথা ফাঁস করার হুমকি দিয়েছিলাম।

কি গোপন কথা?

স্যার,

ছোটবেলায় সে দেখেছিল, তার বাবা এবং রাজেন্দ্রন...

একটা মেয়েকে নিয়ে যাচ্ছে।

পরের দিন...

ভাই... ভাই!

ভাই!

গতকাল আমার বাবা একটা সিনেমায় অভিনয় করেছে!

ফালতু কথা! যত্তসব।

আমি দেখেছি।

কি দেখেছিস?

যখন তাকে মেয়েটার কথা জিজ্ঞাসা করেছিলাম,

তিনি বলেছিলেন, এটা শুধুমাত্র সিনেমার শুটিং ছিল।

এবং তিনি তাতে অভিনয় করেছেন।

কোন সিনেমা?

'কাথোডু কাথোরাম'

প্রথমবার সেই ছবিটি দেখার সময়,

তার বাবাকে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম।

কিন্তু তিনি সেখানে ছিলেন না।

যতবার আমি এটা দেখেছি,

মনে পড়তো, তিনি কি বলেছিলেন।

অবশেষে, বুঝতে পারলাম, এইরকম কোনো দৃশ্যই নেই।

সাম্প্রতিককালে...

সেইসময় আমার বাবা অসুস্থ ছিলেন।

নেশা কেটে গেলে তিনি আমাকে উত্তর দেবেন না,

তাই, তাকে কিছু অ্যালকোহল দিয়েছিলাম।

বাবা...

মালাক্কাপারা গির্জার কাছে, সিনেমার শুটিংয়ের সময়,

তুমি এবং বাকিরা, কাকে আমাদের বাড়ির কাছ দিয়ে বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলে?

বেবি কাকা...

সেদিন মেয়েটিকে কারা তুলে নিয়ে গিয়েছিল?

ওই...

প্রা... প্রাঞ্চি ছিল সেখানে।

আর?

রাজন...

রাজন, আর?

ভাক্কাচন-ও... ভাক্কা... ভাক্কাচন...

সেদিন ঠিক কী হয়েছিল?

সেখানে...আঃ...

কিছু টাকা পেয়েছিলাম।

আর বাবা... বাবা...

সেই টাকার কিছু অবশিষ্ট আছে কি?

তাকে আরেকটু পান করা।

শোনো, সেই টাকার কিছু অবশিষ্ট আছে কি?

না, বাবু। কিছুই নেই। - হুহ? কিছুই নেই?

কিচ্ছু না। কিছুই নেই, বাবু।

- অপদার্থ বাবা। ধুত্তোর।

আরো দে।

স্যার,

আমরা বুঝতে পেরেছিলাম যে সেই রাতে একজন মহিলাকে হত্যা করা হয়েছিল।

এবং তারা এর জন্য অর্থ প্রদান করেছে।

রাজনকে ধরা কঠিন ছিল না।

সে আমাদের বাড়িতে নৈমিত্তিক কাজগুলো করতো।

এখন সে জীবনে অনেক উন্নতি করেছে।

কিন্তু প্রাঞ্চি? তাকে আমরা চিনতে পারিনি।

একটি পুরানো ফোন কিনলাম। নকল সিম ব্যবহার করে...

তাকে ফোন করলাম।

চেরুথানায় সে আমাদের সাথে দেখা করে কিছু টাকা দিলো।

তারপর, তার আত্মহত্যার ভিডিও দেখলাম।

আমাদের বাবা ইতিমধ্যেই মারা গেছেন বলেই হয়তো সে...

তাতে বাবার কথা উল্লেখ করে নি।

শীঘ্রই আবার আসবো।

এসপির সাথে দেখা করার জন্য তোমাদের আমার সাথে ত্রিশুরে আসতে হবে...

এবং এসব ব্যাখ্যা করতে হবে, ঠিক আছে?

এর থেকে বেরিয়ে আসার এটাই তোমাদের র একমাত্র সুযোগ।

ঠিক আছে। আমি আসবো, স্যার।

তাকে সবকিছু অবশ্যই বলবো।

- বিবেক? - স্যার...

যেদিন রেখা উধাও হয়ে গিয়েছিল,

বিনু দেখেছিল, বেবি আর তিনজন লোক একটা মেয়েকে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সেই মেয়েটির পায়েও নুপুর ছিল।

যেহেতু আমাদের কাছে এখন তদন্তকারী ক্ষমতা নেই,

তাই তাদের হেফাজতেও নিতেও পারবো না।

স্যার, এসপি সাহেবের সাথে কথা বলুন।

যাই হোক না কেন, তাদের সেখানে উপস্থাপন করবোই।

তারা কি বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে?

না, স্যার।

আমি নিশ্চিত, সেই দিনের মেয়েটি রেখা-ই ছিল,

এবং এখন আমাদের কাছে সাক্ষীও আছে।

তখনকার ভাক্কাচান এখন ভিনসেন্ট হয়েছেন।

তাদের নিয়ে তবেই আমি ফিরবো।

ঠিক আছে, বিবেক। চালিয়ে যাও।

স্যার।

মালাক্কাপারার কাছে সিনেমার যে শুটিং হয়েছিল, তার দুটো শিডিউল ছিল।

"হৃদয় থেকে হৃদয়"

- এটা কি বিনুর বাড়ি? - হ্যাঁ।

সে কোথায়?

মাঠে ষাঁড় বাঁধতে গেছে।

কি হয়েছে?

কিছুই নয়।

সে ফোন তুলছে না।

এই পথ দিয়ে... ওই দিকে।

কিন্তু, ষাঁড়টা তো এখানে রয়েছে।

গেল কোথায়?

বিনু...

বিনু...

গতকাল, তদন্ত এক পা এগিয়েছিল।

কিন্তু আজ, দুই পা পিছিয়ে গেল।

তো, সহকর্মীরা,

গত তিন মাসে, এটা আমাদের পণ্যের পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে।

ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।

তিনি কোথায় গেছেন?

আঙ্গামলির লিটল ফ্লাওয়ার হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।

এটা সে।

- ফ্রান্সিস থাডাথিল। - হ্যাঁ।

এই ছবিটা দেখেছেন, ফ্রান্সিস?

এটা ১৯৮৫ সালের সিনেমা 'কাথোডু কাথোরাম'-এর লোকেশন থেকে তোলা হয়েছিল।

না বুঝেই, আপনি এই ছবির অংশ হয়েছেন।

কখনোই ওই জায়গায় যাই নি।

এমনকি, কোনো সিনেমার শুটিংয়ের জন্যও নয়।

ফ্রান্সিস,

আপনাকে একটা গল্প বলি।

এক রাতে, গির্জার দেয়ালের ওপারে ঘটে যাওয়া একটা গল্প,

যার কাছাকাছি একটা সিনেমার শুটিং চলছিল।

গল্পটা একটা কনভেন্টের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছিল।

রেখা নামক একটি মেয়ে...

নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে...

প্রথমে শুটিং লোকেশনে এবং তারপরে কনভেন্ট এসে পৌঁছায়।

এটা সেই কনভেন্ট থেকে হারিয়ে যাওয়া...

টাকা এবং সোনার পুরানিদর্শনের গল্প-ও বটে।

যে রেখাকে আপনি সেদিন পুঁতে দিয়েছিলেন,

সে আজও আপনাকে তাড়া করে বেড়ায়।

যেখানেই সে গেছে, মানুষ মরেছে,

যার মধ্যে আপনার পুরনো বন্ধুর ছেলে বিনুও আছে।

সম্ভবত, পরবর্তী পতন আমার,

আপনার,

অথবা, আপনার ছেলের হবে।

ফ্রান্সিস,

রেখা আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে।

আপনার ছেলে আপনার মতই অর্ধ-বন্ধ চোখের উত্তরাধিকারী,

তখনই এটি লক্ষ্য করেছিলাম।

এবং এই ছবিটি গত রাতে আমার নজর কেড়েছে...

এই সবকিছুর মধ্যেই যোগাযোগ আছে।

তবুও তুমি এই দরজাটা আমার মুখের উপর বন্ধ করছো,

শুধুমাত্র তোমার খুনির আসার জন্য!

শুভকামনা থাকলো।

হ্যাঁ, আমরা তাকে পুতে দিয়েছিলাম,

কিন্তু...

[ফ্রান্সিস] ভাক্কাচান এবং পুষ্পম,

তারাই এইসব শুরু করেছিল, স্যার।

বিশপকে তার অবসরে সাহায্য করার জন্য,

ভাক্কাচান মালাক্কাপারায় এসেছিল।

পুষ্পম কনভেন্টে বাস করতো।

বিশপ যে বাড়িতে থাকতেন,

তা পরিষ্কার করতে নানরা তাকে সাথে করে নিয়ে যেতেন,

এবং এভাবেই তাদের দেখা হয়েছিল।

ফাদার, আপনার তত্ত্বাবধানে পড়াশুনা করার কারণেই...

সে আজ যা হয়েছে, তা হতে পেরেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রথম বেতন পাওয়ার পর...

এই কাজটাই সে প্রথমে করতে চেয়েছিল।

এটা শিশুদের শিক্ষা তহবিলের জন্য।

নিরাপদে রাখো।

তুমি কি এখানে বাসন মাজো?

তুমি কি ব্রাদার?

- যবে থেকে বিশপের সাথে এসেছো... - আমি ব্রাদার নই।

ছেলেবেলা থেকেই পড়াশোনার জন্য বিশপের সাথে আছি।

পড়াশোনা হয়ে গেছে।

এখন বেঁচে থাকার জন্য টাকাকড়ি দরকার।

তারপর, অন্য কোথাও চলে যাবো।

টাকা পেতে তোমাকে সাহায্য করতে পারি।

কিন্তু বিনিময়ে আমাকে সাথে নিয়ে যেতে হবে।

[ফ্রান্সিস] পুষ্পম ছোটবেলায় তার বাবা-মাকে হারিয়ে কনভেন্টে বড় হয়েছিল।

সেখান থেকে বেরিয়ে নতুন জীবন শুরু করার জন্য তার একজন সঙ্গীর প্রয়োজন ছিল।

ভাক্কাচানের মধ্যে, সে এমন একজনকে পেয়েছিল,

যে সবসময় তার পাশে থাকতে পারে।

হুহ? তুমি?

একদিন রাতে, একজন তৃতীয় ব্যক্তি, তাদের পরিকল্পনায় প্রবেশ করে।

এটা ধরো।

বেবি চেট্টান, কনভেন্টের বাসিন্দা।

- ভাক্কাচান... - হ্যাঁ?

কনভেন্টে শুধু কালো মরিচ, রাবার শীট এবং এলাচ থাকে না।

সেখানে আরও অনেক পণ্য রয়েছে।

আমার পাশে থাকবে কি?

আমি জানতে পেরেছিলাম যে,

ডুপ্লিকেট চাবি বানানোর জন্য,

বেবি এবং ভাক্কাচান ছালাকুডির একজন কামারকে একটা সাবান বার দিয়েছে।

সে আমাকে আরও বলেছিল, এটা কোনো সাধারণ ট্রাঙ্কের চাবি ছিল না।

কিছু দিন পর,

মাদার এবং সিস্টারদের কনভেন্টের গাড়ি করে, কোথাও যেতে দেখি।

বাজারে কারোর কাছ থেকে শুনতে পেলাম,

তারা একটা ধর্মীয় রিট্রিটের জন্য যাচ্ছেন।

ভাবছিলাম, রেখা আজ রাতে এখানে থাকতে পারবে কিনা।

ওহ, না...

মাদার জানতে পারলে বড় সমস্যা হবে।

সে একজন নিষ্পাপ মেয়ে।

জীবনে অনেক সংগ্রাম করেছে।

তাকে এখানে এক রাত থাকতে দিলে, কী আর হবে?

[ফ্রান্সিস] পুষ্পম নিশ্চিত ছিল যে...

যদি তারা জিনিসপত্র চুরি করে পালিয়ে যায়, পুলিশ তাদের অনুসরণ করবে।

যখন শুনতে পেলো, মাত্র একটা রাত থাকবে বলে...

একটা মেয়ে কনভেন্টে আসছে...

সে একটা পরিকল্পনা তৈরি করলো।

সে বেবিকে ভাক্কাচানের কাছে এটা জানাতে পাঠায় যে,

তাকে সেই রাতে কনভেন্টে যেতে হবে।

যেহেতু সিনেমার শুটিং চলছিল,

আমি সারাক্ষণ চার্চের আশেপাশেই থাকতাম।

বিকাল বেলায়,

বেবিকে তার সাইকেল করে কোথাও তাড়াতাড়ি যেতে দেখলাম।

বেবি আর ভাক্কাচান একটা জিপে করে বারবার টহল দিচ্ছে ।

বুঝতে পেরেছিলাম, তারা কিছু করার পরিকল্পনা করছে।

আমি মাংস খাই না।

[ফ্রান্সিস] খাবারে মাদক মিশিয়ে মেয়েটিকে ঘুম পাড়ানোর যে পরিকল্পনা...

পুষ্পম করেছিল, তা কাজ করলো না।

কিন্তু...

এইরকম করছো কেন, দিদি?

চিৎকার বন্ধ করো! এখানে এখন কেউ আসবে না।

এই। এটা তাদের জীপ।

তারা এখানে কী করছে?

- এটা তো কনভেন্টে যাবার রাস্তা? - গিয়ে দেখা যাক।

[ফ্রান্সিস] যখন আমরা সেখানে গেলাম,

দেখলাম, দুজন লোক ভারী কিছু বয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

ভাবলাম, মাদারের অনুপস্থিতিতে...

তারা কিছু চুরি করছে। সেখানে গেলাম।

তোমরা এখন এখানে কি করছো?

মনে হচ্ছে, জ্যাকপট লাগিয়েছো।

- গোলমাল আছে, মনে হচ্ছে। - এই, এগোও।

সরো। কি চলছে?

বললাম তো, কিছুই নয়।

আমরা ভিতরে গিয়ে, নিষ্প্রাণ একটা মেয়েকে শুয়ে থাকতে দেখলাম।

সে কে?

যখন চলে যাচ্ছিলাম,

বেবি আমাদের আটকালো।

সে আমাদের হুমকি দেয় যে, এই খবর ফাঁস হলে...

সে সবাইকে জানাবে, আমরাও এর সাথে জড়িত।

এতে আমাদের কি লাভ হবে?

দাবি করে আমার ভাগ পেয়েছিলাম, স্যার।

তাকে পুঁতে দিতে...

তাদের সহায়তা করেছিলাম।

রাজেন্দ্রন আমাদের সাথে যোগ দিতে রাজি ছিল না।

অন্যদের সাথে মিলে, আমিও তাকে হুমকি দিয়েছিলাম।

তাকে আমরা বলেছিলাম,

যদি সে আমাদের সাথে যোগ না দেয়, সমস্ত দায় তার ঘাড়ে ফেলা হবে।

তখন ভাক্কাচান তাকে বললো,

কনভেন্টের ভিতরে, এমন কেউ আছে...

যে সাক্ষ্য দিতে ইচ্ছুক, রাজেন্দ্রনই মেয়েটিকে হত্যা করেছে।

আর কোনো উপায় না থাকায়, রাজেন্দ্রন আমাদের সাথে যোগ দিলো।

এই...তার পা নড়ছে।

বেঁচে আছে।

চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকো না, পুঁতে ফেলো।

বেবির ছেলে বাড়িতে একা আছে বলে,

আমাদের সাথে পোঁতার কাজে সে যোগ দেয় নি।

তার পর,

সেখানে যা ছিল, তা সবাই ভাগ করে নিয়ে...

চলে গেলাম।

কম বয়সের উত্তেজনায়,

কিছু টাকা পাবার জন্য, আমরা কাজটা করেছিলাম, স্যার।

বহু মাস পরে, বেবি আমাকে বলার পরেই,

জানতে পেরেছিলাম, সেই রাতে কনভেন্টে কি ঘটেছিল।

তখন থেকে,

আর কখনো আমাদের মধ্যে দেখা হয় নি।

রাজেন্দ্রনের মৃত্যুর পর,

জানতে পারি, ভিনসেন্ট-ই ভাক্কাচান।

কখনো জানতে পারি নি, সেই রাতে যে মেয়েটিকে পুঁতেছিলাম, তার পরিচয় কি!

তখনো জানতাম না, এখনো নয়।

কিন্তু তার মুখ কখনোই ভুলবো না।

আপনি আমাকে যে মেয়েটির ছবি দেখালেন,

আমরা তাকেই সেই রাতে পুঁতে দিয়েছিলাম।

অ্যালিস?

অ্যালিস? অ্যালিস?

সিস্টার!

সিস্টার!

অ্যালিস...

ভাক্কাচান...

খুন আমি করেছি।

এখন তোমাকে পোঁতার দায়িত্ব নিতে হবে।

যদি তাকে এখানে ফেলে যাই,

তাহলে আমাদের পক্ষে একসাথে জীবন কাটানো সম্ভব হবে না।

আর যদি তুমি তাকে পুঁতে ফেলো,

এখানকার যাবতীয় টাকা আর সোনা, আমাদের হবে।

আর সবাই জানবে, সে চুরি করেছে।

পুষ্পম।

এমন একজন যাকে কনভেন্টের বাসিন্দারা, আর কখনো দেখে নি।

এবং অ্যালিস,

ভিনসেন্টের স্ত্রী হওয়ার আগে যাকে কেউই চিনতো না।

একজন ব্যক্তি ১৯৮৫ সালে নিখোঁজ হয়।

এবং অন্যজন একই সময়ে হাজির হয়।

পুষ্পম নিজেই অ্যালিস, স্যার।

সিস্টার স্টেফি এবং আমি...

কনভেন্টের পুরানো বাসিন্দাদের ঠিকানা খুঁজছিলাম।

তখন আমাদের নজর পুষ্পমের তৈরি একটা পুরানো সূচিকর্মের কাজের উপর পড়ে।

সেটার উপর তার স্বাক্ষরের মত করে...

একটি ফুল সেলাই করা হয়েছিল।

এই একই ফুল তারা এলিস জুয়েলারির লোগোতেও ব্যবহার করেছে।

কনভেন্টে ডাকাতির বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

কিন্তু ডাকাতির খবর বাইরে বার হওয়া আটকাতে,

পুলিশ কেসটা রেজিস্টার করে নি।

কারণ,

রেখার বিষয়ে তদন্ত করার জন্য তাদের হাতে আরেকটা মামলা ছিল।

ছালাকুডি থানায়,

চন্দ্রাপ্পন রেখার বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের করেছিল।

বিভিন্ন থানায়, রেখার বিষয়ে...

ক্রাইম মেমো পাঠানো হয়।

এইরকম একটা ক্রাইম মেমো থেকেই, স্যার,

আমরা চন্দ্রাপ্পনের কাছে পৌঁছেছিলাম।

এবং শেষ পর্যন্ত,

এই খানে।

এই মুহূর্তে, আমাদের কাছে যা আছে,

তা আমাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, রেখার কঙ্কাল।

কিন্তু,

একটা কঙ্কালের সাহায্যে, যার কোনো হদিস এখনও নিশ্চিত হয় নি,

পুলিশ বা প্রসিকিউশনের পক্ষে আদালতে কিছু করা সম্ভব হবে না।

আমরা যে জিগ-শ পাজল খেলছি, সেটা মেলাতে গেলে আরো কিছু জিনিষ প্রয়োজন।

পাজলের শেষ টুকরো...

সেই টুকরো, যা অসম্পূর্ণ চিত্র-টাকে সম্পূর্ণ করে দেবে।

রেখার পরিচয়।

ভাক্কাচান...

সে সব জানতে পেরেছে, তাই না?

সেই ক্ষেত্রে,

কোনোমতেই তার আর এখানে থাকা উচিৎ নয়।

যদি তাকে রেখা বলে সামান্য কয়েকজন বিশ্বাস করি, কোনো লাভ হবে না।

এটা প্রমাণ করতে হবে।

- নয়তো, কেস এগোবে না। - চাপ নিও না।

যাই হোক, আমি সেখানে আসছি...

স্ক্যানিং রিপোর্ট দেখেছি।

ভিতরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে না।

শান্ত থাকুন।

- হ্যালো। - হাই।

সুপ্রভাত, ভিনসেন্ট।

পুলিশের লোকটার কি খবর?

অবস্থা গুরুতর।

ফ্রান্সিস থাডাথিল পুলিশী হেফাজতে আছে।

শুনেছি তিনি রাজসাক্ষী হতে ইচ্ছুক।

এখনো পর্যন্ত,

পুলিশ নিশ্চিত করতে পারে নি, এটা কার কঙ্কাল।

এটা আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক বিষয়।

- হ্যালো। - হ্যালো?

খবরের কাগজের প্রতিবেদন টা দেখে ফোন করছি।

আমার বাড়ি মালাক্কাপারার কাছে।

গির্জার গায়কদলের অংশ ছিলাম।

রেখার সম্পর্কে কিছু জানেন কি?

তাকে চিনি না।

কিন্তু তার সাথে যিনি ছিলেন, তাকে চিনতাম।

তার নম্বর পেতে পারি কি? এই কারণেই ফোন করেছিলাম।

ঠিক আছে।

'কাথোডু কাথোরাম' এবং রেখার সম্পর্কে প্রতিবেদন

প্রতিবেদনটা সব সংস্করণেই প্রকাশিত হয়েছিল।

কোনো খবর আছে?

অনেক ফোন পেয়েছি।

কিন্তু এখনো কোনো প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়নি।

এই নাও।

- বিবেক। - হাই, স্যার।

হাই।

এখন কেমন আছো?

এখনো ঠিক হও নি?

ঠিক আছি, স্যার।

ওনাকে চা দাও।

একটা খবর আছে।

এসপি তোমার খুঁজে বার করা বিষয়গুলো ডিজিপিকে জানিয়েছেন।

এখন রাজনৈতিক নেতৃত্বকে পুলিশের কথা শুনতে হবে।

কিন্তু তবুও...

আমাদের রেখার পরিচয় খুঁজে বের করতে হবে।

হ্যালো।

- জগদীশ বলছি। - কে?

চলচ্চিত্র অভিনেতা জগদীশ।

ওহ, হ্যাঁ। বলুন, স্যার।

দেখা করা যেতে পারে?

হ্যাঁ। অবশ্যই।

প্রিয় মামুট্টি চেট্টান,

আমি আপনার ভক্ত।

আচ্ছা!

জানি, এই চিঠি পড়ার সময় আপনার হবে না।

তাহলে চিঠিটা লিখেছে কেন?

শুধুমাত্র... একটা অনুরোধ।

আমাকে শীঘ্রই আপনার একটা ছবি পাঠাবেন।

দয়া করে, ভুলে যাবেন না। দয়া করে, ভুলে যাবেন না।

ভালোবাসা সহ, আপনার ছোটো বোন আম্মিনিকুট্টি।

এই সিনেমাটা দেখেছেন কি?

"মুথারামকুন্নু পিও", তাই না?

সিবি মালয়িলের প্রথম সিনেমা।

এই প্রতিবেদনটা কাকতালীয়ভাবে আমার নজরে পড়ে।

যখন আমি এতে কিছু নির্দিষ্ট বিষয় পড়ি,

বিশেষ করে মামুট্টিকে লেখা চিঠিতে...

রেখা তাকে 'মামুট্টি চেট্টান' বলে সম্বোধন করায়,

মনে কিছু সন্দেহ জাগলো।

মুথারামকুন্নু পিওতেও ঠিক এইরকম একটা মেয়ে ছিল।

মামুট্টির এক উৎসাহী ফ্যানগার্ল।

আম্মিনিকুট্টি, যে মামুট্টিকে উদ্দেশ্য করে চিঠি লিখতো,

তাকে 'মামুট্টি চেট্টান' বলে সম্বোধন করতো।

এই চরিত্র সৃষ্টির পেছনে একটা গল্প আছে।

১৯৮৪ সালে আমার প্রথম ছবি মুক্তি পায়।

'আমার প্রিয় কুট্টিচেট্টান'।

এরপর যখন আরও কিছু ছবিতে কাজ করি,

তখন নানা পত্রিকা, 'শিক্ষকতা থেকে অভিনয়', এই শিরোনামসহ...

আমাকে নিয়ে একটা প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

সম্ভবত, ওটা পড়ার পর,

কয়েক সপ্তাহ বাদে,

রেখা নামক একটা মেয়ের কাছ থেকে একটা চিঠি পেয়েছিলাম।

[রেখা] প্রিয় জগদীশ চেট্টান,

নানা পত্রিকার সাম্প্রতিক সংস্করণে আপনার সাক্ষাৎকার পড়লাম।

'মাই ডিয়ার কুট্টিচেট্টান' সিনেমায় দারুণ শুরু করেছেন।

'ওডারুথাম্মাভা আলারিয়ম' সিনেমায় আপনার পারফরম্যান্স দেখে,

আমি এবং আমার ছোটো বোন হাসি চাপতে পারি নি।

দয়া করে, এইরকম চরিত্র আরো করবেন।

আপনার জন্য শুভ কামনা থাকলো।

ভালোবাসা সহ, আপনার ছোটো বোন রেখা পাথরোজ।

যেহেতু অভিনেতা হিসাবে এটাই আমার প্রথম চিঠি পাওয়া,

তাই কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাকে জবাব দিয়েছিলাম।

ভীষণ খুশি হয়েছিল।

এরপর, সে আমাকে ঘন ঘন চিঠি লিখতে থাকে।

মামুট্টিকে 'মামুটি চেট্টান' বলে সম্বোধন করে...

আমাকে নিউ উডল্যান্ডস হোটেলে চিঠি পাঠানোর বিষয়ে লিখেছিল।

এমনকি একবার একটা চিঠিতে সে জিজ্ঞাসা করেছিল,

তাকে মামুট্টির একটা স্বাক্ষরিত ছবি যোগাড় করে দিতে পারবো কিনা।

যখন সে জানালো, প্রয়োজন পড়লে...

বাবা-মাকে ত্যাগ করেও, সে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে যোগ দেবে,

তাকে একটা চিঠি লিখেছিলাম।

[জগদীশ] প্রিয় রেখা,

অভিনয়ের ইচ্ছার মধ্যে অন্যায় কিছু নেই।

কিন্তু আগামী দিনগুলোতে, শিক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এম.কম শেষ করে, শিক্ষকতা করার পরেই,

আমি অভিনয়ে পা রাখি।

সবকিছুর নির্দিষ্ট সময় আছে।

ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিও।

ভালোবাসা সহ, জগদীশ।

তার পর, আর কোনোদিন তার চিঠি পাই নি।

ভেবেছিলাম, আমার উপদেশ তার ভালো লাগে নি।

কিন্তু, প্রতিবেদনটা পড়ার পর,

মনে হচ্ছে, যে রেখা আমাকে চিঠি লিখতো,

আর, আপনি যাকে খুঁজছেন, একই ব্যক্তি।

নিশ্চিত নই,

সে আদৌ আমার শেষ চিঠি পড়েছে কিনা।

'মুথারামকুন্নু পিও'-এর গল্পের ভিত্তি হিসেবে...

আমার রেডিও নাটক, 'সহৃদয় সমাক্ষম', ব্যবহার করেছি।

এর চিত্রনাট্য এবং সংলাপ লিখেছেন শ্রীনিবাসন।

এটাই হল কেন্দ্রীয় চরিত্র, আম্মিনিকুট্টি গঠনের পিছনের গল্প।

ছবিতে আম্মিনিকুট্টির এবং আমাকে চিঠি লেখা রেখার...

বাড়ির নাম একই।

কে জে হাউস।

হয়তো, অভিনেতা হিসেবে যেহেতু প্রথমবার প্রশংসা পেয়েছিলাম,

এখনও তার ঠিকানায় জায়গার নামটা ভুলি নি।

কন্যাকুমারী।

চেষ্টা করে দেখুন, বিবেক।

ধন্যবাদ, স্যার।

সোজা গিয়ে বামদিকে যাবেন। এটা এখানেই।

আপনারা কারা?

এটা কি রেখার বাড়ি?

মা...

১৯৮২ সালে,

আমরা কন্যাকুমারীতে চলে আসি।

এটা আমার এবং দিদির জন্য একটা নতুন পৃথিবী ছিল।

এখানে আসার পরেই,

সে সিনেমার সাথে যুক্ত হবার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।

সাবটাইটেল ভালো লাগলে সাবসোর্সে রেটিং ও ফিডব্যাক দেবেন। সবাই ভালো থাকবেন।

বাবা...

একটা টিভি আর ভিসিআর ভাড়া করতে পারি কি?

প্লিজ, বাবা! প্লিজ!

এই, দিয়ে দাও।

ঠিক আছে।

দাদা...

এর বদলে মালয়ালম সিনেমা পেতে পারি?

বাবার সাথে তর্ক বিতর্কের পর,

এবং মা আমাদের সমর্থন করায়,

বাবা অবশেষে আমাদের জন্য টিভি এবং ভিসিআর ভাড়া করলেন।

সেই মুভি ক্যাসেটগুলোর মধ্যে একটা ছিল 'তৃষ্ণা'।

দিদি সেটা বারবার দেখতো।

এর সাথে, সে মামুটির কট্টর ভক্ত হয়ে ওঠে।

দিদি সিনেমার বিভিন্ন সংলাপ অভিনয় করে শোনাতো।

বড় অভিনেত্রী হতে চেয়েছিল।

এর মধ্যে, বাবা-মায়ের অজান্তেই,

সে লুকিয়ে ফিল্ম ম্যাগাজিন পড়তে এবং সিনেমা দেখতে শুরু করে।

মামুট্টিকে চিঠি লেখাও শুরু করেছিল।

তারপর, সেই ব্যক্তিদের কাছে চিঠি লিখতো, যাদের ঠিকানা সে পত্রিকায় খুঁজে পেতো।

ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।

সিনেমার লোকেদের চিঠি পাঠিয়েছিলিস বলেই কি তারা উত্তর দিয়েছে?

সেই রাতের পর আমরা তাকে আর কখনোই দেখিনি।

বাবা তাকে খুঁজতে সব জায়গায় গিয়েছিল।

বছর কাটার সাথে সাথে, আমাদের আশাও ম্লান হয়ে গেল।

বাবা-মা মারা যাওয়ার পরও,

দিদি একদিন ফিরে আসবে, এই আশায়...

এই জায়গা ছেড়ে যাইনি।

এখানেই থেকে গেছি।

তাই, এই জায়গাটাই আমার বাড়িতে পরিণত হয়েছে।

দেখো একবার।

মা...

আমি জানতে চাই।

তুমি অ্যালিস...

নাকি পুষ্পম?

তুমি কে, মা?

তোমাদের প্রকৃত পরিচয় কী?

"মালাক্কাপ্পারা কঙ্কাল মামলায় গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার: ভিনসেন্ট জড়িত"

ভাক্কাচান...

এখন পর্যন্ত আমাদের যাত্রা ভালোই ছিল।

এখন, সবাই সবকিছু জেনে গেছে।

পুলিশ এসে আমাকে ধরে নিয়ে যাবে।

বাকি জীবন...

অ্যালিস...

কেউ তোমাকে নিয়ে যাবে না।

কাউকে তোমাকে নিয়ে যেতে দেবো না।

"মুখ্যমন্ত্রীর ছেলের জন্য মাসিক ঘুষ"

ঠিক আছে।

'ফলাফল: ডিএনএ-র মিল পাওয়া গেছে'

[সংবাদ প্রতিবেদন]এসপিসহ ঊর্ধ্বতন অফিসাররা এখন এখানে আসছেন।

বাবা...

তারা এখানে এসেছেন।

মিঃ ভিনসেন্ট।

আমাদের সাথে আসুন, প্লিজ।

- হ্যালো? - স্যার।

ফাঁকা আছেন, বিবেক?

হ্যাঁ।

আপনার সাথে একজন দেখা করতে চান।

কে, স্যার?

সেটা রহস্য-ই থাক।

যেহেতু আমরা এগুলো নিয়ন্ত্রিত সংরক্ষণের নমুনা হিসাবে সরিয়ে রেখেছিলাম,

তার এই অবশিষ্টাংশই শুধু পড়ে আছে।

আশা...

রেখার খুব প্রিয় একজন এটা পাঠিয়েছেন।

আমার প্রিয় রেখা-কে,

ভালোবাসা সহ,

মামুট্টি চেট্টান।

'কেজি জর্জ-মামুট্টি সিনেমার জন্য নবাগতা অভিনেত্রী আবশ্যক'

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.