All language subtitles for KA BSUB BY SUDIP CHAKRAVARTY

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian Download
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

সিনেমা : KA(2024) ভাষা : তেলেগু রানটাইম : 02:28:48

যেভাবেই হোক না কেন, তাদের এখানে নিয়ে এসো।

জীবনে ভালো বা মন্দ যা কিছু করা হয়... সেগুলো সবসময় আমাদের তাড়া করে।

ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।

কে?

ওখানে কেউ আছে?

দরজা খোলো।

তুমি কে?

তুমি কে?

অন্ধকার...

অন্ধকার, যা তোমাকে গিলে খাবে।

বুঝেছো?

ব্যাখ্যা চাও?

আমি তোমাকে সেটা দেবো না...

এটা কী... ?

চিৎকার করে লাভ নেই।

আমি কোথায়?

তুমি ঠিক এখানেই আছো, ঠিক এখানে।

ঠিক এখানে?

কী বলতে চাইছো?

অত্যন্ত গোপনীয় জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে।

আমি এখানে কেন? - শশশ...

এখানে আমিই শুধু প্রশ্ন করবো,

এবং তুমি উত্তর দেবে।

দেখে মনে হচ্ছে, আমাদের লোক তোমাকে ভালোই জোরে আঘাত করেছে।

এই।

তোমাকে বলেছিলাম, তাকে সাবধানে নিয়ে আসতে, তাই না?

ব্যথা করছে নাকি?

জানি না।

কিছু মনে পড়ছে না।

তোমার কিছুই মনে থাকবে না।

তোমার জীবনের কোন ঘটনাই মনে থাকবে না, এমনকি তোমার নামও নয়।

আমার নাম...?

তোমার নাম, অভিনয় বাসুদেব।

অভিনয় বাসুদেব!

আমার কী হয়েছিল? তোমরা কারা?

আমার নাম...

"সিনিয়র অফিসার।"

তোমরা আমার কাছে কী চাও?

এই অন্ধকার ঘরে আমাকে আটকে রেখেছো কেন?

বাসুদেব... বাসুদেব... উত্তেজিত হয়ো না।

তোমার কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু জানার আছে।

আমাদের যা জানার দরকার, তা একবার বলে দিলে,

একবার তথ্য পেয়ে গেলে, তোমাকে এখান থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

হাসছো নাকি?

"দ্য ডার্ক সার্কেল," "ক্যাওস," এবং "ভয়" তোমার সামনে অপেক্ষা করছে।

নিজের নামই মনে করতে পারছি না। তোমাদের কী বলবো?

আমাদের বলতে পারো।

প্রত্যেক সমস্যার একটা সমাধান আছে। আর, তোমার সমস্যার সমাধান এটাই।

কী? তুমি কি এটাকে সাধারণ ঘড়ি ভাবছো নাকি, যেটা টেবিলে বসে খালি টিক, টিক করে?

না।

এটা একটা অত্যাধুনিক হিপনোসিস মেশিন।

এটা তোমাকে অবচেতনে নিয়ে যাবে...

এবং তোমার মস্তিষ্ককে আমার কন্ঠের কাছে সমর্পণ করাবে,

তোমার সব লুকোনো স্মৃতি বার করে আনবে।

সহজ কথায়,

এটা তোমাকে তোমার জীবনের সেইসব ঘটনাগুলোই মনে করিয়ে দেবে,

যা আমি জানতে চাই, আর সেগুলোই তুমি আমাদের বলবে।

তুমি সেই তথ্যগুলোকে আমাদের সাথে শেয়ার করবে।

তাহলে, দেরী করে লাভ কী?

আমার থেকে কী জানতে চান, বার করো। আর আমাকে ছেড়ে দাও।

আমি আর এই অন্ধকার ঘরে থাকতে পারছি না।

২২ এপ্রিল, ১৯৭৯।

আবিদ শেখের নামে আসা একটি চিঠি, তুমি খুলে পড়েছিলে।

তাতে কী ছিল?

ওই চিঠিতে কী ছিল?

ওই চিঠিতে কী ছিল?

বুঝতে পারি নি...

এটা এমন ভাষায় লেখা ছিল, যা আমার বোধগম্য হয় নি।

বুঝতে পারি নি…

এটা আমার কাছে দুর্বোধ্য ছিল।

এটা এমন ভাষায় লেখা ছিল, যা আমার বোধগম্য হয় নি।।

বুঝতে পারি নি…

তাতে কী ছিল?

এটা কী?

ঠিক আছে... ঠিক আছে...

মাথায় বেশি চাপ দিও না।

এটা ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চিঠির প্রসঙ্গে পরে আসবো।

কিন্তু আগে বলো, অন্যের চিঠি পড়ার বদ অভ্যাস তোমার হলো কেন?

তুমি কে?

তোমার বাবা-মা কারা?

কোথা থেকে এসেছো?

মাথা ঠাণ্ডা করে উত্তর দাও।

আমি একজন অনাথ। এই আশ্রমই আমার বাড়ি।

চারপাশে অনেক বাচ্ছা থাকলেও, সবসময় একা অনুভব করতাম।

আমার বাবা-মা কোথায়, এই প্রশ্ন সবসময় মনে ঘুরতো।

ভালো ছেলে।

সম্পর্কের অর্থ যখন কিছুই জানতাম না, একটা চিঠিই আমাকে মায়ের ভালোবাসার স্বাদ দিয়েছিল।

প্রিয় বাবু, তোর মা এটা জিজ্ঞাসা করতে এই চিঠি লিখছে..

কেমন আছিস? ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করছিস তো?

শুধু পড়াশোনায় ডুবে থেকে স্বাস্থ্য নষ্ট করিস না।

ঠিক সময়ে ঘুমাস।

এখানে তোর বোন তোকে বারবার মনে করছে।

তোর ফিরে আসার জন্য আমরা সবাই অপেক্ষায় আছি।

তোর মা।

মা!

মনে হয়েছিল, চিঠিটা আমার মা-ই আমাকে লিখেছেন।

যে কোনো চিঠি পেলেই পড়ার তীব্র ইচ্ছা হতো।

তখন থেকেই চিঠির মধ্যে সম্পর্ক খুঁজতে শুরু করি।

প্রিয় স্বামী, তুমি কেমন আছো?

বুজ্জি আর আমি এখানে ভালো আছি।

বুজ্জি তোমাকে খুব মিস করে, বারবার জিজ্ঞাসা করে, কবে বাড়ি আসবে।

সে দিন দিন আরো দুষ্টু হচ্ছে!

আশা করি মেয়ের দেখভাল ও প্রয়োজন মেটানোর মতো যথেষ্ট উপার্জন করছো।

মাস্টারমশাই!

কী হয়েছে?

আমার বাবা-মা কোথায়, বলতে পারেন?

তোমার কোনো বাবা-মা নেই।

কিন্তু বাবা-মা ছাড়া কেউ জন্মায় না, তাই না গুরুজি?

আমার পরিবার নিশ্চয়ই কোথাও আছে।

বিরক্ত কোরো না।

বলছি, তোমার বাবা-মা নেই— কেন বিশ্বাস করছো না?

অন্তত এটা বলুন, কে আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে!

বললাম তো, তোমার বাবা-মা নেই। তাই না!

এখন বেরিয়ে যাও!

চলে যাও।

সোনা, কেমন আছো? বুজ্জি আর আমি এখানে ভালো আছি।

এই, বাসুদেব, এখানে কী করছিস?

কিছু নয়, স্যার।

বাসুদেব, দাঁড়া।

এখানে কী করছিলিস?

কিছু নয়, স্যার।

অন্যের চিঠি পড়তে একটুও লজ্জা করে না?

আমি পড়ি নি, স্যার।

এখনই পড়ছিলিস, আবার মিথ্যা কথা বলছিস!

সম্ভবত তোর বাবা-মা জানতেন, তুই কত জঘন্য হয়ে উঠবি, তাই ত্যাগ করেছিলেন।

এই আশ্রমই তোর মতো ছেলেকে আশ্রয় দিয়েছে।

আশ্রম না থাকলে তোর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকতো না।

সম্ভবত তোর বাবা-মা জানতেন, তুই কত জঘন্য হয়ে উঠবি, তাই ত্যাগ করেছিলেন।

আশ্রম না থাকলে তোর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকতো না।

সেদিন মাস্টারমশাই-এর কথা শুনে রাগে আমি সেখান থেকে টাকা নিয়ে পালিয়েছিলাম।

টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলে?

সেটাকে চুরি বলে।

তোমার চুরি কারোর মৃত্যুর কারণ হয়েছিল।

সে তার মেয়ের অপারেশনের জন্য টাকা জমিয়েছিল।

তোমার জন্য, মেয়েটা মারা গেছে।

না, এটা হতে পারে না।

তার মেয়ে আমার জন্য মরতে পারে না।

হ্যাঁ, তুমি। তুমিই তার মৃত্যুর কারণ।

জ্ঞানত বা অজান্তে, তুমিই তার মৃত্যুর জন্য দায়ী।

আজকের জন্য যথেষ্ট!

দাঁড়াও! যেও না।

চলে যেও না।

আমি মেয়েটার মৃত্যুর জন্য দায়ী নই।

দরজা খোলো!

কেউ আছো?

কেউ আছো?

ওখানে কেউ আছো? কথা বলো।

কী ব্যাপার, ডাক্তার? কী হয়েছে?

সে ক্লান্ত,

মনে হয়, ঠিকমতো খাচ্ছে না।

এইরকম এক পাগল মহিলা তার পরার কাপড় গলায় বেঁধে ঝুলে পড়েছিল।

তার অবস্থা একইরকম…

শান্ত হয়ে বসে খাওয়াটা খুব কঠিন কি?

আপনি কে?

আপনি কে?

খাওয়া না খাওয়া তোমার ইচ্ছা, পরিবেশনের দায়িত্ব আমার।

বাবা, কফি খাও।

তুই আনতে গেছিস কেন? তুই গর্ভবতী। বিশ্রাম নে।

ঠিক আছে, বাবা। কাজ করলে আমি ভালো থাকি।

ঠিক আছে, সোনা।

এই!

প্রতিদিন তাকে ডেকে তোলা কি আমাদের দায়িত্ব?

সে কি আমাদের তার চাকরবাকর ভাবছে?

উঠে পড়ো!

বৃদ্ধা মহিলা... কোথায় গেলেন?

কোথায় তিনি?

কোন বৃদ্ধা মহিলা?

একজন বৃদ্ধা সহ, দুজন লোক এই ঘরে এসেছিল,

বৃদ্ধা খুব স্নেহের সাথে কথা বলছিলেন, যেন আমার উপর তার জোর আছে।

ওই বৃদ্ধা মহিলা কে?

আবার বলছি,

এখানে আমিই শুধু প্রশ্ন করবো, তুমি কেবল উত্তর দেবে।

যাইহোক, বন্ধনহীনভাবে জন্মেছিলে।

এখন নতুন সম্পর্ক খুঁজে কী করবে?

ওই মহিলা কে না বললে, আমি আর কিছুই বলবো না।

তুমি শর্ত দেবার অবস্থায় নেই…

কৃষ্ণগিরি গিয়েছিলে কেন? সেখানে কী করেছিলে?

অনাথ আশ্রম ছাড়ার পর…

আমি নানা জায়গায় গেছি এবং কাজ করেছি।

যেখানেই যাই না কেন, চিঠি পড়ার নেশা ছাড়লো না।

তাই যেভাবেই হোক, ডাকপিওনের চাকরি চেয়েছিলাম।

সুব্বু নামে একজন, যার সাথে পরিচিতদের মাধ্যমে আলাপ হয়েছিল,

আমাকে কথা দিয়েছিল, সহকারী পিওনের কাজ দেবে।

এই কারণেই, প্রথমবার কৃষ্ণগিরি যাত্রা করি।

এই, তিনটে বাজে, আলো জ্বালাও।

কৃষ্ণগিরি… এই গ্রাম যেন আমার বাড়ির মত মনে হয়েছিল।

মনে হয়েছিল, আমি যার খোঁজে আছি,

সেই বন্ধন, সম্পর্ক এবং ভালোবাসা, এখানেই পেয়ে যাবো।

কাকা,

হ্যাঁ বলো, কী করতে পারি?

গ্রামটা খুব অদ্ভুত লাগছে।

বিকেল তিনটেতেই অন্ধকার নেমে আসে?

ওহ, আমাদের গ্রামে নতুন এসেছো? - হ্যাঁ।

ব্যাপারটা হল, আমাদের গ্রাম পাহাড়ে ঘেরা।

দুপুরেই সূর্য পাহাড়ের আড়ালে চলে যায় এবং গ্রাম ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায়।

ওহ, তাই... আপনাদের গ্রাম বেশ অনন্য।

যাইহোক, এখানে একটা ছোটো ঘর ভাড়া পাওয়া যাবে?

একটা ছোটো ঘর, তাই না?

হ্যাঁ, আমার শ্যালকের বাড়ি আছে। তাকে জিজ্ঞাসা করবো কি?

দারুণ হবে।

এই সুব্বু, কোনো খবর আছে?

কী খবর?

কে ভালো আছে, কে অসুস্থ, কে মারা গেছে, এবং কে কষ্ট পাচ্ছে... এগুলোই আমার কাছে খবর।

যাই হোক, গ্রামের নতুন দুঃখের ব্যাপারে শুনেছো?

কী হয়েছে?

গ্রাম থেকে মেয়েরা নিখোঁজ হচ্ছে।

হ্যাঁ। এমনকি, ভেঙ্কান্নার মেয়েও নিখোঁজ হয়েছে।

হ্যাঁ, তাদের কী হয়েছে?

আমার সন্দেহ, লালা এর পিছনে আছে।

সে এই গ্রামের সবচেয়ে জঘন্য মানুষ— মাগীবাজ, বিকৃতমনস্ক এবং অহংকারী।

চুপ! চুপ করো।

রামু!

সুব্বু দাদা...

সুব্বু দাদা...

সুব্বু এখনো আসেনি, বসুন... এসে পড়বে।

আমাকে সকাল ৯টায় আসতে বলেছিল। এখনো আসে নি কেন?

আরেকবার আমার এসএসসি সার্টিফিকেট চেক করা যাক।

এম অভিনয় বাসুদেব।

ওহো না! সেখানে কত চিঠি আছে!

ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।

সত্যভামা!

সত্যভামা!

সুব্বু দাদা...

দাদা! আমি, অভিনয় বাসুদেব!

আরে, ছোটো ভাই, সত্যিই এসেছো? ভেবেছিলাম, তুমি মজা করছো…

তা করবো কেন, দাদা?

দেখো...

এমনকি আমার এসএসসি সার্টিফিকেটও এনেছি।

একটা সাইকেল কিনেছি, ভেবেছিলাম তুমি আমাকে একটা চাকরি দেবে,

এমনকি পিওনের পোশাকও বানিয়েছি।

তুমি রকেটের মতো উড়ছো।

ভাই, তুমি কি অনাথ?

হ্যাঁ, দাদা।

বাবা-মা নেই?

শীতের ভুল বর্ষায় ভাসিয়ে দিয়েছে নাকি?

কোনো সমস্যা নেই। এখন থেকে আমি তোমার সুব্বু দাদা।

সুব্বু দাদা।

এই, কি করছো? - ভগবান তোমাকে আমার দাদা হিসেবে পাঠিয়েছেন।

এই কারণেই সবাই তোমাকে ‘লেট রঙ্গারাও’ বলে ডাকে।

মেয়ের বিয়ে হয়ে গর্ভবতী হবার পর, তুমি বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দিয়েছিলে!

লেট রঙ্গারাও?

চুপ!

মাস্টার...

এসেছো শেষপর্যন্ত।

চিঠির ব্যাগ খোলো। আজই সব বিলি করতে হবে।

আপনার কাজটা সোজা, মাস্টার...

আমাকেই রোদে ঘোরাঘুরি করতে হয়।

বিয়ের করতে তৈরি আছি, কিন্তু শক্তি হারাচ্ছি।

কী হারাচ্ছো?

আমার শক্তি।

ওহ, থামো!

এই বোকাটা কে?

আমার নাম বাসুদেব, মাস্টার।

তো?

আপনি সম্মত হলে, এই গ্রামের পিওন হিসাবে যোগ দিয়ে গ্রামের সব চিঠি দ্রুত পৌঁছে দেবো।

তখন গ্রামের লোক আর আপনাকে লেট রঙ্গারাও বলবে না।

এবং বাসারলাপুডি রঙ্গরাও বলা শুরু করবে।

বাঃ!

বাসারলাপুডি রঙ্গরাও!

কতদিন পর আমার পুরো নাম শুনলাম!

এত সহজ নয়।

পরীক্ষা দিয়ে পাস করতে হবে।

সোনা, একটু এদিকে আসো।

ওহ, আমাকে কাজ করতে দাও।

সুব্বু, আমি সত্যিই ‘লেট রঙ্গারাও’ হয়ে গেলে, আমার সমাধিতে লিখো—

“কোনো পরিস্থিতিতেই যেন কোনো পুরুষ বাড়িতে কাজ না করে, না এখন, না ভবিষ্যতে।”

লিখে দেবো, মাস্টার।

আমি প্রস্তুত, আপনার মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকলাম।

কিন্তু প্রথমে, তার অবস্থাটা দেখো।

যা ইচ্ছা, তাই করো।

খুব খুশি, মাস্টার।

আজই আমার কাজ শুরু করবো।

সুব্বু দাদা, যাওয়া যাক।!

তার নাম রামু, মাস্টার।

রামু, মাস্টারকে প্রনাম করো।

আরে, প্রণাম, প্রণাম। প্রণাম মিস্টার রামু।

সরো...

রামু!

বোকা!

তোমার চাকরি স্থায়ী নয়, অস্থায়ী।

সুব্বু...

বোকাটাকে বলে দিও, চিঠি পৌঁছাতে দেরী হলে, এই স্ট্যাম্প তোমাদের মাথায় ভাঙবো।

যাও।

গিয়ে এই চিঠিগুলো লোকদের মধ্যে বিলি করে এসো।

এইবার ফসল ভালো হয়েছে...

কেউ তোমাকে মনে করছে।

কাকা, ভাবার মত আমার কেউ নেই।

একথা বলছো কেন?

তুমি এই গ্রামের সুখ-দুঃখের বার্তাবাহক।

আমরা সবাই তোমার পরিবার।

খাও... এখনই খেয়ে নাও...

যেভাবেই হোক, আপনি যে পন চেয়েছেন, তাই দেবো, স্যার।

দয়া করে, টাকাটা যোগাড় করার জন্য আমাকে কিছু সময় দিন।

যদি এটা আমার বাবা লিখতো, আর এটা আমার বোনের জীবন হতো...?

নিষ্ঠুর শ্বশুরমশাই,

যৌতুক চাইবার সাহস হল কি করে আর পুত্রবধূকে নিজের মেয়ের মতো না দেখে বিরক্ত করছেন!

যদি আপনি এই ব্যবহার চালিয়ে যান, আপনার ছেলের সাথে বন্ধুত্ব করবো।

জানতে চান, আমার বন্ধুত্ব কেমন হবে?

আমি আপনার ছেলের কাঁধে হাত রাখলেও, আমার কাঁধে রাখার জন্য তার হাতই থাকবে না।

আপনার প্রিয়...

কার নাম লেখা উচিৎ?

৬৯ নম্বর বাড়ির জন্য কোনো চিঠি থাকলে, সাবধানে থেকো।

কেন? ওই বাড়িতে ভূত আছে নাকি?

ভূতের চেয়েও ভয়ানক।

ওটা লালার বাড়ি।

যে তার পথ আটকায়, গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়।

হে করুণাময়ী দেবী!

দয়া করে, গ্রামের নিখোঁজ মেয়েদের খুঁজে বার করতে আমাদের সাহায্য করুন।

হে করুণাময়ী দেবী!

নমস্কার!

হ্যাঁ, স্যার... মেয়েরা নিখোঁজ হচ্ছে।

হ্যালো, স্যার।

কিভাবে নিখোঁজ হচ্ছে, এখনো বুঝতে পারছি না ।

স্যার!

তাদের নিশ্চিতভাবেই ধরবো, স্যার...

স্যার! স্যার!

দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন স্যার..

নমস্কার, স্যার।

দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন স্যার..

কি হয়েছে?

দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন স্যার..

তুমি কে?

দয়া করে আমাদের সাহায্য করুন স্যার.. - পোস্টম্যান, স্যার।

এটা ওখানে রাখো।

স্যার, গতকাল থেকে আমাদের মেয়ে নিখোঁজ হয়েছে।

প্রথমে কান্না থামান এবং আমাকে বিস্তারিতভাবে বলুন...

সে গতকাল খুব সকালে বেরিয়েছিল... এখনও বাড়ি ফেরেনি।

তার নাম কী?

জ্যোতি, স্যার।

দশম শ্রেণীতে পড়ে।

অভিযোগ লিখে দিন।

প্রিয় সত্য... দুই গ্লাস বাটার মিল্ক নিয়ে এসো।

এটা কি কালাম-স্নেহম (কলম - বন্ধুত্ব) গল্প?

তাহলে, এইবার কোথায়?

কলকাতা।

আপনাকে দেখলেই আমার একটু ঈর্ষা হয়।

আপনি মানুষের সেবা করেন, গ্রামের সবার যত্ন নেন,

এটা ওনাকে দাও, বাছা।

আপনিও তো বিরাট কাজ করছেন।

আপনাকে ছাড়া আমি এমন বন্ধুত্ব কিভাবে গড়তাম?

আবিদ শেখ স্যার, লক্ষ্য করেছি, এটাতে 'প্রেরকের ঠিকানা' নেই।

ওহ, নিশ্চয়ই ভুলে গেছি। দিন, আমি লিখে দিচ্ছি।

বাসুদেব...

ঠিক আছে।

ছেলেটা কে? বেশ চালাক তো।

সে সবেমাত্র ডাকপিয়ন হিসেবে যোগ দিয়েছে।

ভালো।

সত্যভামা!

বাবা, মা আমাকে ডাকছে। যেতে হবে।

এখন, এটা দেখতে ভালো লাগছে।

আমার ছেলে ক্লার্কের কাজ করে...

আমার প্রতিবেশী সুব্বু একজন ডাকপিওন।

তার এখনো বিয়ে হয় নি। কখনো হবেও না।

ঠিক বলেছি তো?

এক মিনিট...

ওহ না...

তাকে মারলে কেন?

ওটা চিন্তামণি! যদি সে আমাদের ধরে ফেলে, বারোটা বেজে যাবে। পালাও..

এই সুব্বু...

তুমি...

সে কোথায়?

দয়া করে আমাকে ক্ষমা করবেন।

ওইভাবে তাকিয়ে আছো কেন?

এই প্রথম এত কাছ থেকে আমি এইরকম সৌন্দর্য দেখছি।

তোমার উপর থেকে চোখ সরাতেই পারছি না।

এই কথা আর কতজনকে বলেছো?

দেবদাস দেখার সময় আমি এটা সাবিত্রী গারুকে বলতে চেয়েছিলাম,

আর তার পর তুমিই একমাত্র ব্যক্তি...

এটা নাও ঠাকুমা, তোমার জন্য কিছু খাবার এনেছি।

ঠাকুমা। ও কি তোমার নাতনি?

হ্যাঁ, বাবু।

তোমার ছেলে আর বউমা কোথায়?

তারা দুজনেই মারা গেছে।

আমি একাই নাতনির দেখাশোনা করি।

আমি তোমার সাথে আছি।

চলো বাবা, বাড়ি যাওয়া যাক।

দাঁড়া, রাম এখনো সীতার সাথে দেখা করেনি...

চলো, বাবা।

বাসুদেব... - মাস্টার!

তাকে বাড়ি ছেড়ে দিয়ে এসো।

অবশ্যই, মাস্টার।

তো, তোমার জাত কি?

জানোই তো, আমি অনাথ...

যেটা লিখি, সেটাই আমার জাত হয়ে যায়।

আমার প্রেমিকা যে জাতের, আমিও সেই জাতের মানুষ।

তুমি খুব ভালো কথা বলতে পারো।

তা যদি হয়, তোমার হৃদয়কে বলো, আমার হৃদয়ের সাথে কিছুক্ষণ কথা বলতে।

এতো বাকপটু লোকের সাথে আমার হৃদয় কথা বলে না।

এমন বলছো কেন?

দেখে পা ফেলো, ভাই।

এসো, হাতটা ধরো।

একটা মেয়ে পাশে আছে বলে কি কানা হয়ে গেছো?

এই, এই, তার সাথে আগামীকাল বোঝাপড়া করবো।

এই...

তাদের সাথে মারামারি করলে কেন?

তারা উল্টোপাল্টা বলছিল, তাই মেরেছি।

তারা কারা, জানো কি? লালার লোক।

তাতে কী হয়েছে?

যা বলবে, সবকিছু সহ্য করতে হবে নাকি?

তুমি একেবারে অসহ্য!

ওরা ফিরে আসতে পারে।

সত্যাভামাকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে তুমিও চলে যাও।

যাও!

ওর জন্যই আমার মানসিক শান্তি লোপ পেয়েছে।

একটা কথা জিজ্ঞাসা করতে পারি?

জিজ্ঞাসা করো, সত্য।

তুমি অনাথ, তাই না?

তাহলে তাদের কথায় তোমার এত রাগ হল কেন?

আমি অনাথ হলেও, মা ছাড়া কি জন্মেছি?

আমার লোকজন নিশ্চয়ই কোথাও আছে।

কেউ তাদের নিন্দা করলে আমি সহ্য করতে পারি না...

তুমি কি মনে করো তোমার বাবা-মা কোথাও বেঁচে আছেন?

ঠিক আছে!

আবার দেখা হবে।

সে কে?

এখানে কি চলছে?

দরজা খোলো।

গুর্নাথম মাস্টারের সাথে দেখা করতে চাই।

সত্যভামার সাথে দেখা করতে চাই।

রঙ্গারাও মাস্টার।

রামু!

আবিদ শেখ।

লালা!

জানো, ওরা কারা? ওরা লালার লোক।

ওর সাথে যারা বিবাদে জড়িয়েছে, গ্রামে তাদের আর দেখা যায়নি...

সে!

সে!

তার এবং আমার মধ্যে কিছু হয়েছিল।

ঘোরালেই আমার মনে পড়বে।

ঘোরাও...

তার আর আমার মধ্যে কি হয়েছিল, দেখাও...

ঘোরাও...

ওখানে কেউ আছো...?

হ্যাঁ, আমি আছি।

তুমি কে?

কেউ আমাকে এই অন্ধকার ঘরে বন্দী করে রেখেছে। দয়া করে উদ্ধার করো।

তুমিও?

তুমিও...?

হ্যাঁ, আমার নাম অভিনয় বাসুদেব।

জানি না, কেন তারা আমাকে এখানে এনেছে, বা কে আমাকে বন্দী করেছে।

চিন্তা কোরো না।

তোমার ঘরটা কেমন, বলো?

খুব বেশি আলো নেই।

পুরানো পরিত্যক্ত ঘরের মতো লাগছে,

মাঝখানে একটা ছোটো টেবিল,

দুটি চেয়ার...

আর তার উপর একটা চাকা।

নতুন কিছু নয়,

আমার ঘরও একই রকম।

ঠিক আছে, তোমার ঘরে কি লোক এসে তোমাকে প্রশ্ন করে?

কাউকে দেখতে পাই না, কিন্তু তাদের কণ্ঠ শুনতে পাই।

প্রশ্ন করলে চাকাটা ঘোরে।

এটা নতুন, এটা নিশ্চয়ই তোমার অতীতের স্মৃতিগুলোকে উস্কে দিয়েছে, তাই না?

হ্যাঁ।

তুমি কে?

আমার নাম রাধা,

আমি একজন স্কুল শিক্ষক।

চৌদ্দ বছর বয়সে, আমি আমার বাবা-মাকে হারাই।

আমার দুজন দাদা আছে।

দুই ভাই থাকলেও আমার জীবন একাকী।

স্কুল আর বাড়ির বাইরে কিছু জানি না।

এই একাকীত্ব আমাকে ভয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।

এসব কী, বোন?

এভাবে তোর দাদাকে ফেলে রেখে চলে গেছিস?

তাকে সময়মত খাওয়ানো উচিৎ ছিল, তাই না?

মদের প্রভাব কাটতে শুরু করেছে,

আর আমি ভীষণ ক্ষুধার্ত।

বোন!

এটা খাও। খেয়ে-দেয়ে মরে যাও।

তুমি মদ খাচ্ছো অথচ তোমার ছোট বোন কষ্ট করে রোজগার করছে।

লোকে তোমার বোনকে কী চোখে দেখে, সেই ব্যাপারে তোমার কোনো খেয়াল নেই।

দয়া করে শোন...

তুই আমার ছোট্ট মিষ্টি বোন, তাই না?

বোন...

বোন...

তুই আমার ছোট্ট মিষ্টি বোন, তাই না?

এসবই আমার কপালের দোষ।

পূর্বজন্মের পাপের ফলেই এইভাবে ভুগছি।

ভালো হয়, যদি আমি সেইসব মেয়েদের একজন হতাম, যারা চিহ্ন ছাড়াই অদৃশ্য হয়ে গেছে।

সবসময় মনে হয়, কেউ একজন আমাকে অনুসরণ করছে।

এই নাও, আমি সব লিখে রেখেছি।

এটা তহসিলদারের অফিসে নিয়ে যাও, তোমার কাজ হয়ে যাবে।

আবিদ শেখ, স্যার।

ওহ, রাধা, কেমন আছো, বাছা? এখানে এসেছো কেন?

কিছু নয়, স্যার।

আমার ভাইয়ের চাকরির ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে এসেছিলাম...

আহ, মনে পড়েছে বাছা।

তুমি এখনও ওদের নিয়ে কত চিন্তা করো।

যারা তোমার খেয়াল রাখে না, তাদের জন্য এত চিন্তা কিসের?

তুমি তো সব সময় ওদের পেছনেই ছুটছো।

স্যার, ওরা ছাড়া আমার কেউ নেই।

যদি ওদের সঠিক পথে আনতে পারি, আমার জন্য সেটাই যথেষ্ট।

এখনকার দিনে তোমার মতো মানুষ খুঁজে পাওয়া দুর্লভ।

আমি কিছু করার চেষ্টা করবো।

আহ, স্যার।

হ্যাঁ, বলো।

আমার স্কুলের জ্যোতি নামের একটা মেয়ে, নিখোঁজ হয়েছে।

আপনি যদি আপনার যোগাযোগ ব্যবহার করে উপর থেকে এই কেসে চাপ সৃষ্টি করেন,

তাহলে তার সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

আমি এই ক্ষেত্রে আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

ধন্যবাদ, স্যার। এখন আমি আসছি।

রাধা... রাধা... রাধা...

রাধা! রাধা! রাধা!

রাধা কে? সে কে?

এখানে তো কেউ নেই...

ভেবেছিলাম, কিছু মনে পড়েছে।

তুমি কিছু জীবন নষ্ট করেছো,

অন্যদের চিঠি পড়েছো,

আর পেশাগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছো।

এটাই যথেষ্ট হওয়া উচিৎ ছিল।

তুমি আরও এগিয়ে গিয়ে চিঠি পরিবর্তন আর পুনর্লিখন করেছো কেন?

বীররাজু, আমাদের গরুটার কি বাচ্চা হয়েছে?

আরে, তোমার চিৎকারে গ্রামের সব গরু অস্থির হয়ে যাচ্ছে। আস্তে কথা বলো।

দাদা, আমার মায়ের জন্য মানি অর্ডার পাঠাতে হবে। তুমি কি চিঠিটা লিখে দেবে?

আমি কেন তোমার মাকে চিঠি লিখবো? আর কোনো কাজ নেই নাকি? যাও তো।

সে সারাক্ষণ অন্যদের উপর চিৎকার করে।

দাদা... আমাকে লিখতে দাও।

কি লিখবো?

মা তুমি টাকা চেয়েছিলে।

আমি টাকা পাঠাচ্ছি। হাসপাতালে যাও।

কি? চিঠি এভাবে লিখতে হয় না।

তোমার হয়ে আমি লিখে দিচ্ছি।

প্রিয় মা,

আমি এখানে ভালো আছি।

আশা করি, তুমিও ভালো আছো।

তোমার স্বাস্থ্য কেমন আছে?

হাসপাতালে যাওয়া এড়িয়ে যেও না।

তারা আমাকে ভালো মাইনে দেয়।

আমি তোমাকে কিছু টাকা পাঠাচ্ছি।

দয়া করে হাসপাতালে যাও।

শীঘ্রই তোমাকে এখানে এনে ভালোভাবে দেখাশোনা করবো।

আমার জন্য চিন্তা কোরো না।

তোমার ছেলে...

তোমার নাম কী?

আমার নাম রামবাবু।

রামবাবু!

মায়ের কাছে এভাবেই চিঠি লিখতে হয়।

ধন্যবাদ, ভাই।

আমার মায়ের ক্যান্সার হয়েছে।

তাকে ভালোভাবে চিকিৎসা করানোর জন্য আমাকে ভালো রোজগার করতেই হবে।

তোমার জীবন মায়ের ভালোবাসায় সমৃদ্ধ হচ্ছে।

তা থেকে দূরে সরে যেও না।

এই নাও... - ঠিক আছে।

মাঠে হারিয়ে যাওয়া মোষের মতো সে কান্নাকাটি করছে কেন?

কি হয়েছে, সুব্বু? কাঁদছো কেন?

এটা একটা জরাজীর্ণ ঘর, খালি এবং পরিত্যক্ত।

প্রতি মাসে একটি চিঠি আসে...

চিঠি কোথা থেকে আসে বা কে কাকে লেখে, কেউ জানে না।

এখন আরেকটা চিঠি এসেছে।

আমি তাকে বলছি, ওই বাড়িতে চিঠি দিয়ে কোন লাভ নেই।

কিন্তু মাস্টার বিলি করা বাদ দিতে বারণ করেছেন।

যদি আমার ভাগ্যে না থাকে, তাহলে আমার সাথেই কেন এসব ঘটছে?

সুব্বু, নিজের জন্য সবকিছু কঠিন করে তুলো না।

চিঠিটা আমাকে দাও। আমি বিলি করে দেবো।

তুমি বিলি করবে? তোমাকে বিশ্বাস করা উচিৎ হবে?

নিশ্চিতভাবেই বিলি করে দেবো, সুব্বু।

তুমি আমাদের গ্রামের একমাত্র সুপুরুষ।

দেখো, তোমার ত্বক কতটা কালো হয়ে গেছে। যাও, আমি সামলে নেবো।

পূর্ব গলি... ৪ নম্বর বাড়ি

পূর্ব গলি... ৪ নম্বর বাড়ি

দেখা যাক, কে আসে।

এখানে এত অন্ধকার কেন?

দাদু। আপনার চিঠি এসেছে। বাড়িতে কেউ আছেন?

আমি আছি। দেখতে পাচ্ছো না?

হ্যাঁ, দেখতে পাচ্ছি।

তবে আপনি চিঠিতে কী লেখা আছে, বুঝতে পারবেন কিনা সন্দেহ আছে।

কেন পারবো না? আমি তোমার ভাগ্যও পড়তে পারি।

আপনি আর ব্রহ্মা কি একই টেবিলে পড়াশোনা করেছেন নাকি?

কি বিড়বিড় করছো?

কিছু না।

এই ঠিকানার ব্যাপারে ওই বৃদ্ধকে জিজ্ঞাসা করা যাক।

আপনি কি এই গ্রামের সব কিছু চেনেন?

এই গ্রামের জন্ম থেকে আমি এখানে আছি।

এখানকার প্রতিটি জায়গাকে আমার মনের মতো চিনি।

তাহলে আমাদের গ্রামে পূর্ব গলি কোথায়?

তুমি তো চিঠি বিলি করো। জায়গা চেনো না?

না, চিনি না। বলুন প্লিজ।

মুনুসুবের বাড়ি... করণমের বাড়ি...

তোমার পোস্ট অফিস যেখানে, সেটাই পূর্ব গলি।

পোস্ট অফিস?

এক!

দুই!

তিন!

চার!

পোস্ট অফিসটাই চার নম্বর বাড়ি।

তোমার হৃদয়ে কেউ আছে, বাছা।

সে খুবই দয়ালু।

যদি কেবল সে কাছে থাকতো…

আমার ভয়, সে তোমার সাথে বেশি দিন থাকবে না।

চিন্তা কোরো না, বাছা।

যদি তাকে নিজের করে পেতে চাও, তাহলে একটি উপায় আছে।

সেটা কী?

আমাদের গ্রামের উত্তর দিকে একজন যোগী আছেন।

তিনি যোগীর কুয়োর পাশে থাকবেন।

সকাল ৫টায় তোমাকে সেই কুয়োতে তিনবার ডুব দিতে হবে এবং যোগীর চারপাশে ঘুরতে হবে।

তোমার ইচ্ছা তার কানে ফিসফিস করে বোলো।

তোমার স্বপ্নের রাজপুত্র তোমার হয়ে যাবে।

অপেক্ষা করো, আমি এখনই আসছি।

সত্য আমাকে ভালোবাসে।

হ্যাঁ! সত্য আমাকে ভালোবাসে।

আমি আর অনাথ নই। সত্যাভামা আমার জন্য আছে।

সত্য আমাকে ভালোবাসে।

প্রতি মাসে একটি চিঠি আসতো।

পোস্ট অফিস যেই গলিতে, সেটাই পূর্ব গলি।

যোগীর কাছে তোমার যাবার কথা কাউকে বোলো না।

ভোরবেলায়....

সে ভোরবেলায় বেরিয়েছে।

কাউকে এই ব্যাপারে বোলো না।

সে এখনো বাড়ি ফেরে নি।

রামু...

মনে হচ্ছে, সত্যভামা বিপদে পড়েছে।

বাসুদেব আমার হৃদয়ে আছে। আমি তাকে চাই।

রামু, তোকে বলেছিলাম, সত্যভামা আমাকে ভালোবাসে।

কী হয়েছে?

সত্য!

সত্য!

সত্য!

সত্য!

সত্য!

বাসুদেব!

তুমি ঠিক আছো? - ঠিক আছি।

গ্রামে যেসব মেয়েরা নিখোঁজ হয়েছে, তারা নিশ্চয়ই এভাবেই নিখোঁজ হয়েছে।

চলো, থানায় গিয়ে অভিযোগ করি।

না, বাসুদেব।

অবিবাহিতা মেয়ের থানায় যাওয়া নিয়ে বিভিন্ন লোকে গুজব রটাবে।

আমার বাবা সেটা সামলাতে পারবেন না।

এখানেই বিষয়টার ইতি টানা যাক।

আমাদের গ্রামে কিছু অপরাধ ঘটছে।

এই বিষয়টা উপেক্ষা করবো না। আমাকেই কিছু করতে হবে।

নমস্কার, এসআই স্যার,

মেয়েদের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সাথে আমাদের গ্রামে ঘুরে বেড়ানো ভবিষ্যদ্বক্তার যোগসূত্র আছে।

আপনি যদি সেই জোগাম্মাকে ধরতে পারেন, তাহলে মামলাগুলো সমাধান করতে পারবেন।

আপনার বিশ্বস্ত...

বিগ স্যার।

হাবিলদাররা!

এখানে কি করতে এসেছেন?

বাড়িতে ফোন করতে এসেছি।

দয়া করে করুন।

আরে, তুমি জানো, কী হয়েছে?

কী হয়েছে?

জানোই তো, গ্রামের মেয়েরা নিখোঁজ হচ্ছে, তাই না?

এখানে ঘুরে বেড়ানো ওই ভবিষ্যৎ বক্তা মহিলাই এর জন্য দায়ী।

পুলিশ তাকে ধরেছে।

সত্যি? ভালোই হয়েছে।

কিন্তু কোনো লাভ নেই।

মহিলাটি জানে না, এর পিছনে কে আছে।

পুলিশের কাছে কোনো সূত্র নেই।

কিন্তু, বিশ্বাস করো। এইসবই লালার কাজ।

সে সবকিছু পরিচালনা করছে।

লালা কি এখনও গ্রামে আছে?

এইসব বদমাশরা কি এক জায়গায় বেশি দিন থাকে?

না। এক সপ্তাহ ধরে তাকে গ্রামে দেখা যায়নি। সে পালিয়ে গেছে।

বাসুদেব, এই বিষয়টা ছেড়ে দাও।

আমি তো ঠিক আছি, তাই না?

এবং এখন পুলিশ তাকে ধরেছে, তারাই সামলাবে।

তোমার পার্সেল পেয়েছি, তুমি শীঘ্রই তোমার ভাগের টাকা পাবে।

পরের বৃহস্পতিবার, তোমার কোনো লোককে একা পুরানো কাঠের গুদামে পাঠাও।

আমার লোকেরা সেই জায়গায় আসবে এবং তাদের এই কোড বলতে হবে...

অম্মোরি গুড়ি ('দেবীর মন্দির')।

যদিও সত্য এই বিষয়টা ছেড়ে দিতে বলেছিল, আমি গ্রামে কী ঘটছে জানতে চেয়েছিলাম।

সেইজন্য লালার জন্য আসা চিঠিটি নিই, সময় বদলাই, এবং এক ঘণ্টা আগে সেই জায়গায় যাই।

কোন মন্দির?

দেবীর মন্দির।

এত টাকা?

দেখা যাক, এই টাকার লোভে কেউ নিজের আসল চেহারা দেখায় কিনা।

আমি গ্রামের ভালো চেয়েছিলাম। আমি কি অন্যায় করেছি?

নিজের মনের মতো কাজ করলেই ভালো হয় না।

তুমি কী জানো, ওই দিন টাকা নিতে কার আসার কথা ছিল?

দাদা, আমি সত্যিই জানি না, টাকা কোথায় গেছে!

আপনি যেখানে বলেছিলেন, সেখানে গিয়েছিলাম, কিন্তু কেউ আসেনি!

সে নিশ্চয়ই সেই টাকা তার মায়ের কাছে পাঠিয়েছে।

তাকে মেরে টাকা নিয়ে আসা যাক।

দাদা!

তোমার জন্য, একজন নিরীহ মানুষ মারা গেল।

শুধু তাই নয়...

তুমি একটা খুনও করেছো।

না, না... না, না...

আমি সত্যিই জানি না, এসব করেছি কিনা।

তুমি যেটা শুনতে চাইছো, সেটাই আমাকে দিয়ে বলাচ্ছো।

ঠিক আছে, আজ এটুকুই যথেষ্ট।

আবার দেখা হবে।

আমি বুঝতে পারছি না কোনটা সত্যি, কোনটা মিথ্যা।

আমি সত্যিই জানি না, এসব করেছি কি না।

কোনটা লুকাবো, কোনটা প্রকাশ করবো, তার উপরেও আমার নিয়ন্ত্রণ নেই।

আমি খুন করতে যাবো কেন?

বাসুদেব, তুমি কী ওখানে আছো?

বাসুদেব!

বাসুদেব, তুমি কী ওখানে আছো?

বাসুদেব...

বাসুদেব, তুমি কী ওখানে আছো?

হ্যাঁ, এখানেই আছি।

কী হয়েছে? তোমাকে এইরকম লাগছে কেন?

জানি না।

কিছুই জানি না।

জানি না, এই লোকগুলো কারা,

কে আমাদের এখানে রেখেছে, আমরা কোথায় আছি।

কিছুই বুঝতে পারছি না।

যতই চেষ্টা করি না কেন, এই জট খোলা অসম্ভব।

তোমার রুমেও কি একটা ছোটো জানালা আছে?

হ্যাঁ, আছে।

এটা দিয়ে উঁকি দিলে হয়তো বাইরে কী বা কে আছে দেখা যাবে।

আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছি না, রাধা।

আরেকটু চেষ্টা করো। এটাই আমাদের একমাত্র সুযোগ।

এটা একটা বাড়ির মতো দেখাচ্ছে।

আমি গুরুনাথম মাস্টারমশাইকে দেখেছি।

গুরুনাথম মাস্টারমশাই?

তিনি কে?

বাসুদেব, কী হয়েছে?

বাসুদেব!

তুমি কি ওখানে আছো?

তোকে সবসময় তোর স্বামীকে চিঠি লিখতে দেখেছি, কিন্তু সে কখনো উত্তর দেয় না।

ওর চিঠি লেখার সময় নেই, বাবা।

তোর স্বামীকে ভালোই সমর্থন করছিস!

ভালো, লিখতে থাক।

আজ ওর কি হয়েছে? এইরকম গম্ভীর হয়ে তো থাকে না।

তুমি...?

আমি কিছুই বলবো না।

যতক্ষণ না তুমি বলছো, আমি কোথায় আছি।

আমি আপনাকে কিছুই বলবো না।

তোমাকে আগেই বলেছি...

এটা অত্যন্ত গোপনীয় জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ।

মিথ্যা! মিথ্যা! মিথ্যা!

এটা জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ নয়। এটা একটা বাড়ি।

তাই নাকি?

আমি গুরুনাথম মাস্টারমশাইকে দেখেছি।

এটা কি তার বাড়ি?

তো, তুমি জানতে পেরেছো?

জানতে পেরে ভালো করেছো।

এবার বলো, আমি কে?

চলো, রহস্য ভেদ করা যাক।

তাকে আমার মতো দেখতে কেন?

আমাদের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি?

আমাকে অপহরণ করে এখানে রেখেছে কেন?

গুরুনাথম মাস্টারমশাই...

আমি আপনাকে দেখেছি!

দরজা খুলুন, মাস্টারমশাই!

দয়া করে দরজা খুলুন!

এমন করছেন কেন, মাস্টারমশাই?

মাস্টারমশাই! দয়া করে দরজা খুলুন।

আগুনে পড়ে যাওয়া বিছাকে বাঁচাতে গেলে, সে তার স্বভাব মতো আমাদের হুল ফুটাবে।

ঠিক তেমনি, দুষ্ট লোককে সাহায্য করলে ক্ষতিই হবে।

তুমি কে?

তোমাকে আমার মতো দেখতে কেন?

তুমি কি আমার ভাই?

আমাদের মধ্যে যোগসূত্র কী?

আমি... তোমাকে বলবো না।

তুমি একটা খুন করেছো।

এটা করলে কেন?

তুমি কে তা না বলা পর্যন্ত, তোমাকে কিছুই বলবো না।

তোমার মস্তিষ্ক কুঁচকে যাওয়া তেঁতুলের মতো।

আমি জানি, আমার পরিচয়, এসবের পিছনের রহস্য কী, এবং গুরুনাথম মাস্টারমশাই...

কেন জড়িত, তা জানার জন্য, তুমি সবকিছু করবে।

আমি জানি, এইসব খুঁজে বার করার জন্য, তুমি যেকোনো মূল্য দিতে পারো।

তোমার জন্য আমার একটা প্রস্তাব আছে।

আমাদের সাথে মাত্র দুদিন সহযোগিতা করো, তারপর তোমাকে ছেড়ে দেব।

না হলে, আমি আর কখনো এখানে ফিরবো না,

আর তুমি চিরকাল এখানে আটকে থাকবে, কিছু না জেনেই নির্যাতিত হবে।

তুমি কী বলো?

কিভাবে তোমাকে বিশ্বাস করবো?

তোমার কাছে আর কোনো বিকল্প নেই।

আমাকে বিশ্বাস করো।

মাত্র দুই দিন।

যাইহোক, তুমি যথেষ্ট চালাক।

তাড়া নেই... সময় নাও।

হ্যালো! - হ্যালো!

জামাই বাবাজীবন, তোমার শ্বশুরমশাই বলছি।

হ্যালো, কাকা। কেমন আছেন? জানকী কেমন আছে?

আমার পাশেই আছে। নাও, কথা বলো।

হ্যালো।

জানকী, কেমন আছো?

ভালো আছি।

নমস্কার, মাস্টারমশাই।

হ্যালো। তোমরা কারা?

আমার নাম ভেঙ্কটেশ্বরলু, স্যার।

আমার নাম পরমেশাম, স্যার। আমরা অনাথরক্ষক অনাথাশ্রমে পড়াশোনা করেছি।

ওহ। এখন কী করো?

আমার সবেমাত্র বিয়ে হয়েছে, স্যার। একটা মুদিখানার দোকান আছে।

ভালো।

আমি বিদ্যুৎ বিভাগে লাইনম্যানের কাজ করি, স্যার।

খুব ভালো।

কখন আসছো?

আমার খুব দুশ্চিন্তা হচ্ছে।

চিন্তা কোরো না, জানকী।

আর দুদিনের মধ্যে চলে আসবো।

ঠিক আছে।

বাবা, আমরা যাবো কি?

ঠিক আছে, যাওয়া যাক।

আসছি, বাছা।

এই, স্যারের মেয়ে ছোটবেলায় বাসুদেবের কারণে মারা গেছিল তো?

হ্যাঁ। তাহলে এটা কে? তাঁর আরেকটা মেয়ে?

জিজ্ঞাসা করবো? হ্যাঁ, জিজ্ঞাসা করা যাক।

না! এটা অস্বস্তিকর হবে। - আরে, জিজ্ঞাসা করি, এসো।

মাস্টারমশাই...

তুমি জিজ্ঞাসা করো...

স্যার, আপনার মেয়ে তো বাসুদেবের কারণে মারা গেছিল। এটা কি আপনার দ্বিতীয় মেয়ে?

না, বাছা।

মেয়ের মৃত্যুর পর আমি ওকে দত্তক নিয়েছি।

সুরি আপনাকে অপূরণীয় ক্ষতি করেছে, স্যার।

অতীতকে অতীতেই থাকতে দাও। প্রতিটি কাজের কর্মফল আছে।

আসছি, বাছা।

ঠিক আছে, স্যার।

যাওয়া যাক।

দরজা বন্ধ থাকলেও এই ধুলো কোথা থেকে আসে, ভগবানই জানেন!

এত ধুলো যেন আমার ধৈর্য্যের পরীক্ষা নিতেই আমার বাড়িতে আসে।

কি যন্ত্রণা! ঝাড়ু দিতে দিতে আমার পিঠই ভেঙে পড়েছে...

দিদিমা... দিদিমা... দিদিমা..

কি হয়েছে?

তোমাকে একটা ভালো খবর দেবো? - বল।

আমার স্বামী দুদিনের মধ্যে এখানে আসছে...

ওহ, সত্যিই?

শেষপর্যন্ত, কিছু আনন্দ করা যাবে!

এই উৎসাহ পরবর্তীকালের জন্য জমিয়ে রাখ...

যখন সে ফিরে আসবে, তখন আনন্দ করিস।

১৯৭৭ সালের ৭ই মার্চ তোমার কি হয়েছিল?

তো, তুমি কী সিদ্ধান্ত নিলে?

মাত্র দুদিন, এইটুকুই।

ভালো। তুমি বুদ্ধিমানের মত সিদ্ধান্ত নিয়েছো।

আর সময় নষ্ট করবো না।

তুমি খুন করলে কেন?

খুন করবো কেন?

হুম... দেখা যাক তুমি করেছো কি না।

সত্য! তুমি.... - সরো... সরো.. সরো...

এই পথ দিয়ে এলো কেন? যদি কেউ দেখে ফেলতো...

চিন্তা কোরো না!

এটা কী?

তোমার জন্য ক্ষীর এনেছি।

আমার চাই না।

তোমার জন্য ক্ষীর করতে অনেক কষ্ট করেছি।

তোমার চাই না তো?

আমি চাই।

কেমন হয়েছে?

কী সর্বনাশ!

আমাদের বাড়িও চিঠিতে ভরে গেছে।

তোমার বাড়িটাও একই রকম মনে হচ্ছে।

এক রাজুকে আরেক রাজুর চিঠি...

এক রেড্ডিকে আরেক রেড্ডির চিঠি...

এটা কি? কোথা থেকে পাঠানো হয়েছে, তা লেখা নেই...

কি? এভাবে তাকিয়ে আছো কেন?

শুধু খাবারই দেবে? আর কিছু?

আর কী চাও?

আরে, তুমি তাকে এখনও মারলে না কেন?

ওই নচ্ছারটাকে টুকরো টুকরো করে মারা উচিৎ!

কিছু লোক কাউকে হত্যার চেষ্টা করছে।

২৩ তারিখে সে আদালতে আসবে, সেখানে আমরা তাকে টুকরো টুকরো করে মারবো।

আমি সরাসরি আদালতে যাবো, তুমিও একা এসো।

ঠিক সময়ে আমি সংকেত দেবো। দুজনে একসাথে তাকে আক্রমণ করে মেরে ফেলবো।

আমার পুলিশকে জানানো উচিৎ।

পুলিশকে বললে তারা জিজ্ঞাসা করবে, এই তথ্য কীভাবে পেয়েছি।

যদি আমি আগের মতো বেনামি চিঠি লিখি?

না, এটা কাজ করবে না।

আমাকে তাদের চিহ্নিত করতে হবে।

চিঠি!

চিঠি!

কেউ আছেন কী?

এই! তুমি কে?

তুমি এখানে কী করছো?

এখানে এসেছো কেন? - এই, গা থেকে হাত সরাও।

আমি পোস্টম্যান।

এখান থেকে বেরিয়ে যাও!

এই, তুমি কি আমাকে মারবে? - না, মারবো না।

সুব্বু, একটা পরামর্শ চাই।

এটা কী?

এটা কোর্ট(আদালত)।

কোন কোর্ট? কবাডি কোর্ট?

জেলা আদালত।

আদালতে একটা ছাগল আছে।

আদালতে ছাগল কী করছে?

আগে আমার কথা শোনো।

দুটি বাঘ গোপনে এই ছাগলটাকে শিকার করার চেষ্টা করছে।

হে ভগবান, ওরা কি ছাগলটাকে মেরে ফেলবে?

তাদের উচিৎ নয়।

আমাদের ছাগলটাকে বাঁচানো উচিৎ।

সেক্ষেত্রে তুমি ছাগলটিকে আদালতে যেতে বারণ করলে না কেন?

ছাগলটাকে কেমন দেখতে, আমি জানি না।

বাঘগুলো দেখতে কেমন, তা জানো কি?

একটি বাঘের কথা আমি জানি, কিন্তু দ্বিতীয় বাঘটি সম্পর্কে জানি না।

তাহলে প্রথম বাঘের সাহায্যে দ্বিতীয় বাঘটি চিহ্নিত করে ছাগলটাকে বাঁচাও।

এমনকি যদি আমি এই দুই বাঘের হাত থেকে ছাগলটাকে বাঁচাই,

চারটে শিয়াল তাকে আক্রমণ করার জন্য অপেক্ষা করছে।

এই বোকা বোকা ছাগল আর বাঘের গল্পটা কী?

থামো। তুমি আমাকে কোনও বিজ্ঞ পরামর্শ দেবে না।

এই, অপেক্ষা করো। ছাগল আর বাঘের পুরো গল্পটা বলো। এই, অপেক্ষা করো!

এটা ছাগল। ওরা দুটো বাঘ।

এবং এগুলো শিয়াল।

এটা কী?

এই, এটা কী? উত্তর দাও।

নেকড়ে।

তুমি মাত্র একজনকেই চেনো।

এমনকি এটাও জানো না, কাকে তুমি বাঁচানোর চেষ্টা করছো।

জানো না, তাকে দেখতে কিরকম।

কিভাবে তাকে চিনতে পারবে?

আমি তার চোখের গতিবিধি ট্র্যাক করবো।

দয়া করে এখান থেকে চলে যাও! কেউ তোমাকে আক্রমণ করতে আসছে!

ভাই, ওই নচ্ছারটাকে টুকরো টুকরো করে দাও।

যেও না।

তোমাকে বলেছিলাম, আমি তাকে মারিনি।

জীবন-মৃত্যুর সীমানায় আটকে থাকা একজনকে বাঁচিয়েছিলাম।

তুমি তাকে বাঁচিয়েছিলে। ভালো কথা।

তাহলে পরে তাকে মেরে ফেললে কেন?

তাকে বাঁচিয়েছিলাম, আবার মেরেও ফেললাম? আমি কেন তাকে মারবো?

রাধা!

রাধা কাঁদছে কেন?

ওহ!

তুমি তার নামও জেনে ফেলেছো?

যেহেতু তোমরা দুজনে গল্প করো, নিজেই জিজ্ঞাসা করো না?

রাধা...

রাধা, কী হয়েছে?

রাধা, কাঁদছো কেন?

রাধা...

আমাকে বলো, রাধা। যাতে আমি সাহায্য করতে পারি।

কী হয়েছে, বলো।

যদিও আমরা একে অপরকে চিনি না, তবুও তোমার কান্না দেখে আমারও কষ্ট হচ্ছে।

আমি এখানে আর মাত্র দুই দিন আছি।

কী? তুমি চলে যাচ্ছো?

আমার কী হবে?

আমাকেও তোমার সাথে নিয়ে যাও, প্লিজ।

তোমাকে আমার সাথে নিয়ে যাবো, রাধা।

কিন্তু আমাকে বলো, কী হয়েছে...

বলো, কেন কাঁদছো?

হে ভগবান...

এই যন্ত্রনা থেকে বেরোনোর কি কোনো উপায় নেই?

হয়তো এই গ্রামের পাপের ফল, নয়তো এই জমির উপর কোনো অভিশাপের কারণে,

এই গ্রামের মেয়েরা একের পর এক নিখোঁজ হচ্ছে।

এই বিপর্যয় থেকে আমাদের বাঁচান।

যখন সূর্য দেবতা রুদ্র গ্রহণের পর প্রখর তাপে এই ভূমি পুড়িয়ে দিচ্ছিলেন,

দেবী দুর্গা কন্ডালাম্মার রূপে নেমে এসে সমস্ত তাপ শুষে নিয়ে এই ভূমিকে বাঁচালেন।

এই ভূমি তার শীতল ও আরামদায়ক ছায়া দ্বারা আশীর্বাদপ্রাপ্ত।

যেখানে আমরা সমগ্র বিশ্বের আগে অন্ধকার দেখি, তাই এর নাম হয়েছে কৃষ্ণগিরি।.

এখানে প্রতিটি বাড়িই কন্যা সন্তানের উপস্থিতির আশীর্বাদধন্য।

ও কন্যা-সন্তানরা তাদের পরিবারের জন্য এক ধরণের সৌভাগ্যের প্রতীক।

সেই ভাগ্য অর্জন করার জন্য, বহু অশুভ শক্তি ওই মেয়েদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করবে।

আমাদের মেয়েদের ঐ অশুভ শক্তির হাত থেকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।

দুই দশক ধরে দেবীর জন্য যথাযথ কার্নিভাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

এবার একটা জমকালো আয়োজন করো।

দেবী কোন্ডালাম্মা তোমাদের সকলকে আশীর্বাদ করবেন।

এর মধ্যে, আমি আমার ক্ষমতার মধ্যে যা করতে পারি, তাই করবো।

ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।

তোমাকে খুব হট শাগছে! আমার সাথে নাচবে?

ছিঃ... আবার মাল খাচ্ছো?

দাদাকে 'ছিঃ' বলতে নেই... এটা উচিৎ নয়, বোন।

যাইহোক, ভাইয়ের কোনো খবর আছে?

না, কারণ সে তোকে আমার মতো খেয়াল রাখে না, বোন...

বোন! বোন!

মদ খাবার জন্য একটু টাকা দিবি?

ছিঃ, তুমি কখনোই বদলাবে না...

ওহ... এই একগুঁয়ে মেয়েটা...

তোমরা কারা?

কেন...?

বোকা মাতাল, আবার অজ্ঞান হয়ে গেছিলিস, তাই না?

বোন!

তুমি?

তুমি এখানে কেন…?

দাদা!

দাদা!

দাদা!

দাদা!

দাদা!

আমাকে মারার সাহস হয় কি করে...

দাদা!

তাকে টুকরো টুকরো করে ফেলতে হবে।

যে তোমাকে কষ্ট দিয়েছে, রাধা, তাকে ক্ষমা করলে চলবে না।

তাকে ছেড়ে দিলে চলবে না।

আমি শয়তানটাকে মারবোই...

তাকে ছেড়ে দেওয়া উচিৎ নয়...

তুমি কে?

আমাকে বাঁচানোর জন্য ধন্যবাদ।

তোমার সাহায্য সবসময় মনে থাকবে।

সে কথা ছেড়ে দাও।

প্রতিশোধ নিতে তারা তোমাকে মারতে চায় কেন?

দারুণ মজা হয়েছে।

ওই বদমাশদের একটা সুন্দর বোন আছে।

আমি তার সুযোগ নিয়েছি।

তাদের আমাকে মারতে আসার সাহস হয় কি করে?

তাদের ছাড়বো না।

সে কতটা কষ্ট সহ্য করেছে!

কে জানে, সে কষ্ট পেয়েছে নাকি আনন্দ পেয়েছে?

আমার একটা বোন থাকলে, তোমাকে এভাবেই শাস্তি দিতাম।

আমাকে ছুরি মারার সাহস হয় কি করে?

লালাকে ছুরি মারার সাহস হয় কি করে?

ওই লালার কারণেই এইসব ঘটেছে।

আমার মায়ের ক্যান্সার হয়েছে।

প্রচুর টাকা রোজগার করে তার ভালোভাবে চিকিৎসা করাবো।

মনে হয়, লালা তাকে খুন করেছে।

গ্রামের জন্য, আমি এই ভালো কাজ করেছি।

আমি তাকে মেরেছি, রাধা।

আমি তাকে মেরেছি।

আমি ওই শয়তানটাকে মেরেছি, রাধা।

আমি এটাই বলছি...

তুমি খুন করেছো।

হ্যাঁ!

গর্বের সাথে বলছি, এক নিরীহ মেয়ের নির্যাতনকারীকে আমি হত্যা করেছি।

এতে দোষের কী আছে?

কিন্তু তুমি কি করেছো?

তাকে এখানে এনে নির্যাতন করছো কেন? সে কি অপরাধ করেছিল?

তোমার জন্য...

আমার জন্য?

তার সাথে আমার সম্পর্ক কী?

তাকে আগে কখনোই দেখি নি।

ওর সাথে আমার সাথে কী সম্পর্ক? সে এখানে কেন?

আবিদ শেখ।

নামটা চেনা লাগছে?

আবিদ শেখের নামে লেখা চিঠি নিয়েই, তোমাকে প্রথম প্রশ্ন করেছিলাম।

তোমাকে সেটা খুলতে কে বলেছিল?

তোমাকে জিজ্ঞাসা করছি...

লালাকে খুনের কথা স্বীকার করছি...

কিন্তু ভয় পেয়েছিলাম, পুলিশ জানতে পারলে, সত্যাভামা আমার কাছ থেকে দূরে চলে যাবে...

তাই, রক্তমাখা শার্টটা পুড়িয়ে ফেলেছি।

গ্রামের মঙ্গলের জন্য আমি এইসব কাজ করেছি।

তার মুখ এত ফ্যাকাশে দেখাচ্ছে কেন?

আরে, এই চিঠিগুলো এক সপ্তাহ আগেই পাঠানো উচিত ছিল।

এখনো পাঠাও নি কেন?

যাও, এখনই কাজটা করো!

বাসুদেব!

কী ব্যাপার, বাসুদেব? শুকনো দেখাচ্ছে... কী হয়েছে?

কিছু না... কয়েকটা কাজে ব্যস্ত আছি।

পরে কথা বলবো...

এই, লালা খুন হয়েছে।

হ্যাঁ।

ওদের গ্রামের শিক্ষিকার ভাইরা তাকে খুন করেছে।

খুনের মামলায় দুই ভাইকে জেলে ঢোকানো হয়েছে।

তারা শিক্ষিকাকে একা ফেলে গেছে।

খুব দুঃখের বিষয়! ওই একা মেয়েটাকে এখন কে সামলাবে?

এসো, এসো!

তারা গ্রামে একটা স্বাস্থ্য শিবির আয়োজন করেছে...

রোগ প্রতিরোধ করার ওষুধ দিচ্ছে...

সকালে ও সন্ধ্যায় এই ওষুধ খাবে।

এসো, এসো...

এই, ছেলে...

এখানে এসো।

তুমি গ্রামে চিঠি বিলি করো, তাই না?

সবাইকে বলবে, ওষুধ নিতে এখানে আসতে।

সবাইকে নিশ্চিত করে বোলো...

ঠিক আছে।

প্রসঙ্গত,

লালার হত্যাকারীর খবর কী?

তারা তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

তাদের আদালতে হস্তান্তরিত করা হলে, জানি না, তাদের কী শাস্তি হবে।

শুনেছি খুনিদের একটি বোন আছে, তাই না? ওই মেয়েটার কী অবস্থা?

এই ব্যাপারে জানি না, বাছা।

এই, এস.আই তোমার সাথে দেখা করতে চাইছেন।

তিনি আমার সাথে দেখা করতে চাইছেন কেন?

জানি না, কিন্তু তিনি তোমাকে তাড়াতাড়ি আসতে বলেছেন।

অনেক কাজ পড়ে আছে... পরে যাবো।

এই, এটা বোলো না...

ইনস্পেক্টর ডাকলে সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যাপার থাকে।

এখনই যাও... যাও...

সে কে?

স্যার, আমাকে ডেকেছেন?

এই চিঠিটা কোথা থেকে এসেছে, বলতে পারো?

জানি না, স্যার।

প্রেরকের ঠিকানা থাকলে বলতে পারতাম।

স্যার, এগুলো লালার বাড়িতে পাওয়া গেছে।

স্যার, এটা আবিদ শেখের কলম।

এটা তার কলম, কীভাবে জানলে?

তিনি প্রায়ই ডাকঘরে চিঠি পাঠাতে আসেন, স্যার...

বহুবার দেখেছি।

আবিদ শেখ গ্রামের একজন সম্মানিত ব্যক্তি এবং ভালো মানুষ।

ওই দুর্বৃত্ত লালার সাথে তার কী সম্পর্ক?

হয়তো আমাদের গ্রামের নিখোঁজ মেয়েদের সাথে তাদের যোগসূত্র আছে...

এই কেসটা সহজ হবে না।

কে ভালো, আর কে ভালো হওয়ার ভান করছে, কাকে বিশ্বাস করবো জানি না।

আবিদ শেখের কলম লালার বাড়িতে পাওয়া গেছে—এটা সন্দেহজনক।

তাদের এবং এই নিখোঁজ হবার ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে।

একটা কাজ করো....

দূরবর্তী কোনো জায়গা থেকে তার নামে চিঠি এলে,

সেগুলো আগে আমার কাছে নিয়ে আসবে।

চিন্তা কোরো না, তোমার কাজে সমস্যা হবে না। আমি সামলে নেবো।

এটা শুধু আমাদের মধ্যেই থাকবে। বুঝতে পেরেছো?

ঠিক আছে। এখন যেতে পারো।

আবিদ শেখ!

আমার কী করা উচিৎ? এই চিঠিটা এসআই স্যারকে দেবো নাকি দেবো না?

প্রথমে দেখি চিঠিতে কী লেখা আছে।

অভ্যাসের কারণে চিঠি খুলে আমার পড়তে ইচ্ছে হলো। তাই পড়লাম।

কিন্তু চিঠিতে কী লেখা আছে বুঝতে পারলাম না।

চিঠিটা কপি করে আসলটা আবিদ শেখকে দিয়ে দিলাম।

এটা কোন ভাষায় লেখা...?

মাস্টার!

মাস্টার, আপনি এখানে এসেছেন কেন?

রামু!

তুই এই ঘরে থাকিস? এটা তো আমাদের গোয়াল ঘরের মতো!

এখন তুই বড় হয়েছিস,

কোনো মেয়ের পিছনে পড়েছিস নাকি?

তোর জীবন ভালোই কাটছে,

কিন্তু কোথায় জন্মেছিস, কাদের ঘরে জন্মেছিস, কীভাবে বড় হয়েছিস...

সেটা তোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়।

কিন্তু আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মানুষ হয়ে জন্মালে, বাবা-মায়ের সম্পর্কে জানা উচিৎ, তাই না?

শুধু নাম থাকাটাই যথেষ্ট নয়,

এর জন্য একটি সম্মানীয় পরিবারের দ্বারা সম্মানিত হওয়া প্রয়োজন।

তোকে খাবার দিয়ে আমরা করুণা করেছি,

কিন্তু, তার মানে এই নয় যে, তুই নিজেকে আমাদের সমতুল্য ভাববি।

তোমাকে চালাক মনে হয়।

অনুমান করছি, তুমি তোমার জায়গাটা জানো।

তোমার চাকরিটা তো অস্থায়ী, তাই না? তাই ডাকঘর থেকে স্থায়ীভাবে দূরে থাকো।

যদি আমাদের সীমানা অতিক্রম করার চেষ্টা করো, রাঙ্গারাও সত্যিই প্রয়াত রঙ্গারাও হয়ে যাবে।

তোকে খাবার দিয়ে আমরা করুণা করেছি,

কিন্তু, তার মানে এই নয় যে, তুই নিজেকে আমাদের সমতুল্য ভাববি।

মানুষ হয়ে জন্মালে, বাবা-মায়ের সম্পর্কে জানা উচিৎ, তাই না?

হ্যাঁ! তাদেরও একটা পরিবার আছে।

তুই কেন মন খারাপ করছিস?

আমি সবকিছু জানি।

কিছু মানুষ চোখের সামনে থাকা মানুষকে উপেক্ষা করে অদৃশ্য জাতি-গোত্র নিয়ে বেশি মাতামাতি করে।

তাদের বদলানো যাবে না। মন খারাপ করিস না।

তুমি আমাকে সান্ত্বনা দিচ্ছো?

আমি অনাথ হয়ে জন্মেছি।

বন্ধন ভাঙার দুঃখ তোমাদের হওয়া উচিৎ, আমার নয়।

আমি এর সাথে অভ্যস্ত। এই নিঃসঙ্গতা সামলানোর রাস্তা আমি জানি।

একদিন, তুইও আমাকে একা ফেলে গিয়েছিলিস...

এই সব হয়েছে পরের চিঠি চুরি করে পড়ার অভ্যাসের কারণে।

এটা আবিদ শেখের চিঠি, তাই না?

এটার কথা ভুলে গেলাম কিভাবে...? এতে কী লেখা আছে?

এই ভাষা কে বুঝবে?

এটার কথা ভুলে গেলাম কি করে...?

কাকা...

কি হয়েছে, বাছা?

এই চিঠির ভাষা বোঝেন কি? পড়তে পারবেন... দেখুন তো...

এটা আরবি ভাষা।

আরবি ভাষায় লেখা?

কাকা, এতে কী লেখা আছে?

কী বলা হয়েছে?

লেখা আছে, আমাদের গ্রামের কেউ ২৫ তারিখে রাধা নামের একটি মেয়েকে অপহরণের পরিকল্পনা করছে।

২৫ তারিখ…

হ্যাঁ... আজই ২৫ তারিখ...

বাছা, যেভাবেই হোক, ওই মেয়েটাকে বাঁচাও।

আমি এটা হতে দেবো না।

আমার অবহেলা একটা মেয়েকে মিথ্যার জালে ফেলে দিয়েছে, বুঝতে পেরে,

সিদ্ধান্ত নিই, এসআই-কে বলতে হবে এবং যেভাবেই হোক তার মাধ্যমে মেয়েটিকে বাঁচাতে হবে।

এই, কী করছো?

এসআই এখানে আছেন কি?

মন্ত্রী আজ আমাদের এলাকায় আসছেন। সবাই নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে চলে গেছে।

কি হয়েছে?

কাকা, আপনি তো জানেন আমাদের গ্রাম থেকে মেয়েরা নিখোঁজ হচ্ছে।

লালা আর আবিদ শেখ এর জন্য দায়ী।।

কি বলছো তুমি?

তিনি আমাদের গ্রামের সম্মানিত মানুষ... - সত্যি বলছি, কাকা।

প্রমাণ চাইলে, এটা দেখুন।

তারা আজই আরেকটি মেয়েকে অপহরণ করার পরিকল্পনা করছে...

আমাদের তাকে বাঁচাতে হবে।

আমি আবিদ শেখের বাড়ি যাচ্ছি। আপনি গ্রামের সবাইকে নিয়ে আসুন।

বাসুদেব!

সত্য!

এই সময়ে এখানে কী করছো?

আমার পরিবার আমাদের ব্যাপারে জেনে গেছে। আমাদের পালিয়ে যাওয়া উচিৎ।

পালিয়ে যাবো?

না, সত্য।

আমি একজন অনাথ, আর যদি তোমাকে আমার সাথে নিয়ে যাই, তোমাকেও অনাথ করে দেবো।

এখানে থেকেই লড়াই করা যাক।

তোমার পরিবার রাজি না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়াই করবো।

একটা বড় ভুল করেছি। সেটা আমাকে ঠিক করতে হবে।

বাড়ি ফিরে যাও।

আমাকে ছেড়ে দাও, প্লিজ।

কোথায় নিয়ে যাচ্ছো? ছেড়ে দাও।

চিৎকার করছো কেন?

তোমার ভাইয়ের জন্য আমাকে একটা চাকরি খুঁজে দিতে বলেছিলে,

একটা চাকরি খুঁজে পেয়েছি, কিন্তু তোমার ভাইয়ের জন্য নয়, তোমার জন্য।

খুব সহজ কাজ।

যখনই কেউ তোমাকে তার সাথে শুতে বলবে, তোমাকে শুয়ে পড়তে হবে।

চিৎকার করে আমাকে রাগিয়ে দিচ্ছো কেন?

দেখো তোমার সৌন্দর্য কেমন ম্লান হয়ে যাচ্ছে।

আমাকে ছেড়ে দাও… প্লিজ, আমাকে ছেড়ে দাও।

চুপ করো... সে শুনবে না। এই, ইঞ্জেকশনটা আনো।

আবিদ শেখ, স্যার...

দয়া করে আমাকে বাঁচান।

ওখানে কে?

আপনার সাথে কথা বলতে এসেছি, স্যার।

এখন নয়। আগামীকাল সকালে এসো।

দয়া করে দরজা খুলুন।

আবিদ শেখ... দয়া করে দরজা খুলুন।

থামো।

পরে তার ব্যবস্থা নিও।

আগে তাকে ইঞ্জেকশন দাও।

মেয়েটাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?

গ্রামের নিখোঁজ মেয়েদের সাথে আপনি কী করেছেন? বলুন!

বলে ফেলুন!

বলুন!

তুমি!

তুমি সবকিছু নষ্ট করেছো।

জানো কী, এই কাজটা করা কতটা কঠিন?

আমরা গোপনে কাজ করছিলাম, আর তুমি সব নষ্ট করে দিয়েছো!

প্রথমে তুমি সেই ভবিষ্যৎ বক্তা মহিলাকে গ্রেফতার করিয়েছো,

আমাদের টাকা চুরি করেছো...

করেছো, তাই না?

আমি এই বুড়ো বদমাইশটাকে বহুবার সতর্ক থাকতে বলেছিলাম,

কিন্তু সে অন্ধভাবে সেই গুন্ডা লালাকে বিশ্বাস করেছিল।

ধুর! যাও তো।

এখন তাকে নিয়ে যাও আর বাইরে জিপে অপেক্ষা করো।

আমি এখনই আসছি।

তোমার কাজকর্ম ফাঁস হয়ে গেছে!

কী হয়েছে? আমাদের ফাঁস করলে কিভাবে?

পুলিশকে তোমাদের ব্যাপারে বলেছি।

ওহ, না! তুমি পুলিশকে জানিয়েছো?

এই পুলিশের কথাই বলছো, তাই না?

তোমার গ্রামে যাকিছু ঘটছে, কিভাবে আমি জানতে পারি বলে মনে হয়?

সে আমাকে বলেছে।

তুমি যে পোস্ট অফিসে কাজ করো, সেখান থেকে সে আমাকে ফোন করতো।

ভবিষ্যৎ বক্তা মহিলা সম্পর্কে আমরা তথ্য পেয়েছিলাম।

পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল।

আপনার পাঠানো টাকা কারোর কাছে পৌঁছায় নি।

লালাকে মারা হয়েছে, ম্যাডাম।

আমি আসছি।

গ্রামে একটা মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করো।

তারা রোগ প্রতিরোধের জন্য ওষুধ সরবরাহ করছে।

তোমার কি মনে হয়? আমি এখানে কোনো কারণ ছাড়াই এসেছি?

বিকেল তিনটার মধ্যে শহর অন্ধকারে ঢেকে যায়।

জানো এখানে আমাদের ব্যবসা কতটা ফুলেফেঁপে উঠেছে?

এই শহর গড়ে উঠেছে...

এখানে প্রতিটি বাড়িতে একজন নারী আছে!

জানো, এই গ্রাম্য মেয়েদের 'সুখ' কেনার জন্য...

মুম্বাই-কলকাতার লোকেরা কত টাকা দিতে রাজি?

তুমি সব নষ্ট করে দিয়েছো!

বোকাটা নিশ্চয় অনেককে বলেছে।

এখানে আমাদের আর কাজকর্ম চালানো যাবে না।

আজ রাতেই, যতগুলো পারি মেয়েকে নিয়ে চলে যাবো।

এক রাতের মধ্যে সবাইকে নেওয়া কীভাবে সম্ভব?

ইতিমধ্যে অন্ধকার হয়ে গেছে, সবাই বাড়িতেই থাকবে।

পুরো গ্রামটাই জ্বালিয়ে দাও...

পুরো গ্রামটাই জ্বালিয়ে দাও...

কিছু যায়-আসে না!

গ্রামে যখন গন্ডগোল হবে, আমরা যা পাবো তাই কুড়িয়ে নেবো।

কাজ শেষ করে গ্রামের বাইরে আমার সাথে দেখা করো।

চালাও!

ওহ না! বাড়িটায় আগুন ধরে যাচ্ছে!

ওহ না! বাড়িতে আগুন লেগেছে!

ওহ না! বাবু, বাড়িতে আগুন লেগেছে!

ওহ না! বাড়িটা পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে!

আমাকে ছাড়ো।

আমাকে ছাড়ো।

দয়া করে ছেড়ে দাও।

তাড়াতাড়ি চলো...

বাড়িটা পুড়ে যাচ্ছে!

স্যার, বাড়িটা পুড়ে যাচ্ছে!

যাও... তাড়াতাড়ি যাও।

এই, ছাড়ো আমাকে।

তারা কোথায়?

গ্রামের বাইরে।

মিস্টার রঙ্গারাও...

মিস্টার রঙ্গারাও!

কে?

আমি, আবিদ শেখ।

আবিদ শেখ, কী হয়েছে?

পুরো গ্রামটা জ্বলছে। তাড়াতাড়ি করুন! বেরিয়ে যেতে হবে।

তাড়াতাড়ি আসুন।

বাবা, কী হয়েছে?

তুমি কে? সত্য! - কী হয়েছে, মিঃ আবিদ শেখ?

জানি না... তাড়াতাড়ি এসো, প্লিজ...

বাবা!

সত্যভামা!

বাসুদেব!

মনে হচ্ছে, সে আজ আমাদের রেহাই দেবে না। তাড়াতাড়ি গাড়ি চালাও।

সে আমাদের তাড়া করছে।

যথেষ্ট হয়েছে।

তোমার সম্পর্কে আর কিছু জানার বাকি নেই।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, তুমি এখন যেতে পারো।

ওহ! ব্যাথা করছে..

গুরুনাথম, তোমার মেয়ের প্রসব বেদনা শুরু হয়েছে।

আমি আসছি।

রাধাকে আমার সাথে পাঠাও।

রাধাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তাকে আমার সাথে নিয়ে যাবো।

দয়া করে রাধাকে আমার সাথে পাঠাও।

আমি তাকে পাঠাবো, কিন্তু তোমাকে প্রথমে যেতে হবে।

না! তুমি রাধার সাথে কিছু করবে।

তাকে আমার সাথে পাঠাও। আমি তাকে নিয়ে যাবো। এখনই পাঠাও!

সেটা সম্ভব নয়।

আমার অবহেলার কারণেই এত কিছু ঘটেছে।

তোমার কিছু হবে না।

আমি কিছু হতে দেবো না।

ভাই!

তোমার চাকরিটা তো অস্থায়ী, তাই না? তাই ডাকঘর থেকে স্থায়ীভাবে দূরে থাকো।

ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।

সাবটাইটেল ভালো লাগলে সাবসোর্সে রেটিং এবং ফিডব্যাক দেবেন। সবাই ভালো থাকবেন।

তুমি এত মায়ের কষ্ট লাঘব করেছো,

ভাবছি, কোন মা তোমাকে আগামী জন্মে নিজের গর্ভে ধারণ করবে, বাছা!

বার বার জন্ম নেওয়া, এবং বার বার মৃত্যু বরণ করা,

মায়ের গর্ভে ঘুরে ফিরে আসা...

ওহ প্রভু, আমাকে এই অসীম জীবনসাগর পার হতে সাহায্য করো,

যা পার হওয়া অসম্ভব!

ডাক্তার!

ডাক্তার, ছেলেটার কোনো নড়াচড়া দেখা যাচ্ছে না।

ডাক্তার!

জানকীর প্রসব বেদনা আবার শুরু হয়েছে।

ওহে জীব, জীবন নিয়ে এত দ্বিধা কেন?

এই সংগ্রাম সবার জীবনেরই অংশ।

মায়ের গর্ভে এতদিন থাকার পর, তুমি তোমার সব কর্মের কথা আমার সাথে ভাগ করে নিয়েছো।

এই জীবন তারই ফল।

যখন লোকটাকে চিনতেও না, তুমি খুন করেছো।

তাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবনকেই উপেক্ষা করেছো।

জীবনের স্বভাবই হলো, জন্মগ্রহণ এবং মৃত্যুবরণ করা।

সে তোমার যমজ হিসাবে জন্মগ্রহণ করেছিল।

ওহ, আমার গর্ভে থেকে তোমরা আমাকে কত কষ্ট দিয়েছিলে!

ঠাকুমা!

দেখো, বাচ্চাগুলো কিভাবে আমার পেটে লাথি মারছে।

এখানে...

এখানে... - হ্যাঁ, সত্যিই।

তুমি কে? মেয়ে নাকি ছেলে?

ভিতরে কী করছো?

এইরকম চুলকাচ্ছে কেন?

রাধাকে আমার সাথে পাঠাও।

দেখো, তোমার ঠাকুর্দা এসেছেন।

তুমি গর্ভের ভেতরে থাকাকালীন, তিনি তোমাকে যে গল্পগুলো বলতেন, শুনেছো কি?

জ্বলন্ত তেলে পড়ে যাওয়া একটি বিছাকে সাহায্য করার চেষ্টা করলে কী হয়?

এটা তোমাকে তার আসল স্বরূপ দেখাবে।

দেখো, কর্মফল কত শক্তিশালী!

তুমি যেহেতু তার মেয়ের মৃত্যুর কারণ হয়েছিলে,

তার প্রতিশোধস্বরূপ তুমি এখন তার মেয়ের গর্ভে জন্ম নিয়েছো।

এই, দেখো কে এসেছে! এটা আমাদের ঠাকুমা...

তুমি যখন আমার গর্ভে ছিলে, তখন তিনি তোমাদের সব প্রিয় খাবার রান্না করতেন,

আমাদের খেয়াল রাখতেন। ঠাকুমাকে 'হাই' বলো।

তোর মায়ের মতোই তোদেরও খেয়াল রাখবো।

ডাক্তার, কী হয়েছে?

তাকে ক্লান্ত দেখাচ্ছে, সময়মতো খাবার খায়নি হয়তো।

সুস্থ প্রসবের জন্য খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এটা কিভাবে উপেক্ষা করতে পারো? আমি এটা ঘৃণা করি...

কেমন আছো?

কেমন আছো, জানকী?

ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?

ভালো আছি।

এই, সোনার চেইনটা ধরতে চাইছিস কী?

তুমি ভালো বা খারাপ কাজ, যাই করো না কেন,

বিশেষাধিকারপ্রাপ্ত হও বা না হও, যাই হও না কেন, যেমনই হও না কেন,

শেষপর্যন্ত আমার কাছে জবাব দিতেই হবে।

প্রত্যেকের কর্মফলের হিসাব করা হবে।

তুমি নন্দী হলে, আমাকেও নন্দী হিসাবেই দেখতে।

তুমি অন্য কেউ হলে, আমাকেও সেইভাবেই দেখতে।

আমি 'কা', ওরফে তোমার অন্তরাত্মা।

এই, এই... কাঁদছিস কেন, সোনা?

দেখো, বাচ্চাগুলো ঘুমের মধ্যেই হাসছিল, আর হঠাৎ করেই কেঁদে উঠলো!

ওহ!

ছোটবেলায় আমার ঠাকুমা বলতেন, শিশুরা তাদের পূর্বজন্মের স্মৃতি মনে রাখে।

সুখের স্মৃতি মনে পড়লে হাসে, আর দুঃখের স্মৃতি মনে এলে কাঁদে।

এই, এদিকে দেখো...

সত্যিই?

ওহ না, এটা আবার এসেছে...

কী হয়েছে?

দেখো ঠাকুমা,

এটাকে কতবার তাড়িয়ে দিয়েছি, তবু বারবার ফিরে আসে।

থাকতে দে, বাচ্চাদের সাথে এর কি সম্পর্ক, কে জানে! থাকুক।

দেখো এটাকে... কুকুরটার কী নাম দেবো? বলো...

এখন থেকে তোমার শাস্তি শুরু হলো।

কী শাস্তি, জানতে চাও?

এই পৃথিবীতে জন্মানো, জীবন কাটানো, ইচ্ছাগুলোর বোঝা বহন করা...

এর সবকিছুই পরিশেষে অর্থহীন!

এর চেয়ে বড় শাস্তি আর কী হতে পারে?

তোমার চারপাশের লোকেরা তোমার পূর্ববর্তী জীবনের কর্মফলের ফলে...

তোমার জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।

মনে রেখো, হে জীব, তোমার প্রতিটি কাজের জন্য আমাকে জবাব দিতে হবে!

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.