All language subtitles for 02h47Rumi.2024.MLSBD.Shop-S01.Bengali.AMZN.WEB-DL.720p

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English Download
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

পুরানো সেই দিনের কথা

ভুলবি কীরে হায় ও সেই

চোখের দেখা প্রাণের কথা

সে কি ভোলা যায়?

আয় আরেকটিবার আয় রে সখা

প্রাণের...

বাবু...

কী হয়েছে তোর?

আয়। আমার কাছে আয়।

আয়।

হল কী?

আমার খুব একা লাগে, মা।

ওরে আমার বাবু।

তুই তো একা নোস।

তোর ভেতর একটা আস্ত বিশ্ব আছে।

একটা গোটা বিশ্ব।

মা!

আজকে আবার একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলাম।

অদ্ভুত না।

ভয়াবহ।

ভয়ঙ্কর স্বপ্ন।

যে মানুষটাকে তুমি নিজের অংশ ভাবতে...

সেই মানুষটাই একদিন অচেনা হয়ে যায়।

এমনকী, বন্ধুও শত্রুতে পরিণত হয়।

আর শত্রুও খানিক সময় পরে পরিণত হয় বন্ধুতে।

যে মানুষটাকে নিজের জীবনের চেয়েও ভালবাসতে

সেও প্রতারণা করে।

তবে তুমি কেন স্রষ্টা-বিমুখ হয়ে মানুষকে ভরসা করো?

"রুমি"

গ্যান্ডেরিয়ার ব্যবসায়ী আব্দুল মোতিনের পরিবার হল

একান্নবর্তী পরিবারের আদর্শ উদাহরণ।

রক্ত জল করা টাকায় তিনি এলাকায় সবচেয়ে বড় বাড়িটা বানিয়েছেন।

স্ত্রী এবং তিন বিবাহিত ছেলে নিয়ে সুখের সংসার তাঁর।

ছেলেরাও নিজ ব্যবসায়ে প্রতিষ্ঠিত।

কিন্তু এই পরিবারের সুখ বিলীন হয়ে যায়।

গত ৩০ জানুয়ারি বড় ছেলের পাঁচ বছরের বাচ্চা

ইশরাক মোতিন বাড়ি থেকে গায়েব হওয়ার পর।

ব্যাপারটা ভোজবাজির মতো ঘটে।

বাড়ি তন্ন তন করে খুঁজেও কোথাও তাকে পাওয়া যায়নি।

পরদিন বাড়ির সদরের নীচ দিয়ে একটা চিঠি আসে।

হাতে লেখা সেই চিঠিতে পাঁচ কোটি টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়।

নাতির নিরাপত্তার কথা ভেবে মোতিন সাহেব পুলিশে খবর দেন না।

তিনি টাকা জোগাড় করা শুরু করেন।

পরিবারের সবাই কিছু না কিছু দেয়।

কিন্তু অপহরণকারীদের টাকা দেওয়ার আগেরদিন...

ইশরাকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় বুড়ি গঙ্গা নদীর কেরানীগঞ্জ থেকে।

সন্দেহের তীর পড়ে পরিচারিকা, সালেহা ও দারোয়ান, মিলনের উপর।

কিন্তু কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সালেহা বাড়ি থেকে পালায়।

এই মুহূর্তে, আমাদের দুই সন্দেহভাজন হল...

দারোয়ান, মিলন।

আর কাজের লোক, সালেহা।

হুম।

রুমি।

তোমার কী মত?

"আমি পাগলামো নামের একটি পাহাড়ের চূড়ায় বাস করি।

আমি সকল কারণের কারণ জানতে চাই।

আমি ক্রমাগত দরজায় কড়া নাড়ি।

কিন্তু যখন দরজা খোলে তখন বুঝতে পারি

বাইরে থেকে নয়, আমি দরজার ভেতর থেকেই কড়া নাড়ছিলাম।"

রুমি, প্লিজ।

সরল বাংলায় বলো।

সরি, স্যার।

রুমি-- মানে, আমি না।

মৌলানা জালালউদ্দিন রুমি।

ওঁর কবিতা পড়ার পর আমার একটা জিনিস মনে হয়।

পৃথিবীর সমস্ত সমস্যার সমাধান ওঁর কবিতার মধ্যে রয়েছে।

আরিয়ান যখন কেসটার ব্যাপারে বলছিল

তখন একটা কথা মনে হচ্ছিল।

এই মামলার অপরাধী

মোতিন সাহেবের দরজার বাইরে নয়, ভেতরেই আছে।

পরিবারের মানুষদের সন্দেহ করার কারণই নেই।

রুমি হয়ত জানেই না

এই পরিবারে সবার সঙ্গে সবার একাত্মতা।

সে হয়ত এও জানে না, এই পরিবারের প্রত্যেকে আর্থিকভাবে সচ্ছল।

তবু জানতাম এই ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে।

তাই পরিবারের সকলের হাতের লেখার নমুনা এনেছি।

কিন্তু কারুর নমুনা মেলেনি।

আচ্ছা।

হাতের লেখা তো মিলনের সঙ্গেও মেলেনি।

তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করেছ কেন?

অপরাধী খুবই চালাক।

সে ভাল করেই জানে...

ও বাড়িতে সিসি ক্যামেরা নেই।

এ ছাড়া হাতে লেখ চিঠি প্রমাণ করে...

এটা গরিব শ্রেণীর কোনও মানুষের কাজ।

পরিবারের কেউ করলে অবশ্যই...

হাতে লেখা চিঠি দিত না।

কম্পিউটারে লিখে পাঠাত, যাতে হাতের লেখা না মেলে।

ঠিক কোন কারণে তুমি বাড়ির লোকেদের সন্দেহ করছ?

আমি যেহেতু এখনও জিজ্ঞাসাবাদ করিনি...

আমি কারণটা বলতে পারব না।

তবে এটা একটা মনে হওয়া।

খন্দকার রুমির বিখ্যাত মনে হওয়া।

সরি, স্যার।

সবসময়...

ঝড়ে বক মরে না।

-আরিয়ান। -স্যার।

-সালেহাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করো। -আজ্ঞে।

-আর, রুমি। -স্যার?

মোতিন পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করো।

আজ্ঞে।

কিন্তু ওঁদের দয়া করে ওই চায়ের দোকানে নিয়ে যেও না।

অবশ্য, তোমাকে বলেও লাভ নেই।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় এশা তোমার সঙ্গে থাকবে।

নিশ্চয়ই, স্যার।

স্যার।

আপনার সঙ্গে আমার জরুরি কথা আছে।

আমার ঘরে এসো।

স্যার।

আমার মা প্রায় এক বছর হল মারা গেছেন।

কিন্তু এখনও তাঁর মৃত্যু রহস্যের কিনারা হয়নি।

রহস্য থাকলে তো কিনারা হবে।

তোমাকে তো বারবার বলেছি ওনার মৃত্যুটা দুর্ঘটনা।

প্রাথমিক তদন্তে সেটা প্রমাণিত হয়েছিল।

তোমার অনুরোধে পুনরায় তদন্ত করলাম।

ফলাফল এক এলো।

তাও তুমি মানলে না।

এখন সেই কেসের তৃতীয় দফার তদন্ত চলছে।

কিন্তু আমার একটা কথা লিখে রাখতে পার, রুমি।

আরও একশোবার তদন্ত করলেও

দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই থাকবে।

খুন হবে না।

আসতে পার।

সরি, স্যার। আমি আসি।

"আশরফ খান"

ও, আরেকটা কথা।

আরিয়ানের কেসের ব্যাপারে তদন্ত কমিশন তোমার সঙ্গে কথা বলবে।

তারপর তাঁরা রিপোর্ট জমা দেবে।

কাজেই, তাঁদের সঙ্গে একটু ভেবেচিন্তে কথা বোলো।

অবশ্যই, স্যার।

ইশরাক নিখোঁজ হওয়ার সময় আপনি কোথায় ছিলেন?

শুনুন, আপনার জিজ্ঞাসাবাদ শেষ।

শুধু চা খেতে এখানে এনেছি।

আপনার বড় বৌয়ের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন ছিল?

আমাদের একটা নিয়ম আছে।

জিজ্ঞাসাবাদের পর আমরা চা খাওয়াই।

ধন্যবাদ, বাবা।

ইশরাক নিখোঁজ হওয়ার সময় আপনি কোথায় ছিলেন?

ইন্টার কত সালে?

আজ্ঞে ২০১৮।

-খুচরো হবে? -আজ্ঞে।

-সব বড় নোট। -দিচ্ছি।

সম্প্রতি আপনার বাড়িতে টাকাপয়সার ঝামেলা ছিল?

গ্যান্ডেরিয়ার আসল নাম গ্র্যান্ড এরিয়া।

এই সুন্দর নামটাকে কী বানিয়ে ফেলেছে।

কাকা।

এই অল্প সময়ে আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু জানতে পারলাম।

-খুচরো আছে নাকি? -হ্যাঁ, দিই।

আপনি কী করেন?

আজ্ঞে, ব্যবসা।

মাহমুদুল্লা রিয়াদ যদি আর একটা ঘণ্টা ক্রিজে থাকত...

তাহলেই জিততাম। তাই না?

খেলা দেখা এ জন্যই ছেড়েছি।

কষ্ট বাড়ে।

কষ্ট খালি আপনার একার নয়।

আমাদের সকলের।

খুচরো আছে? আমার কাছে সব বড় নোট।

হ্যাঁ, হ্যাঁ।

কত?

দুটো চায়ের ২০ টাকা।

বাকের ভাই।

সরি।

গ্যাস।

চা'টা বেশি খাওয়া হয়ে গেছে।

স্যার।

আপনার এই চায়ের দোকানের দর্শনটা আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে।

তুমি তো জিজ্ঞাসাবাদ করো।

তারপর ওরা একটু সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।

তারপর ওদের আমি একটু চা খাওয়াই, গল্প-গুজব করি।

ওসব করলে ওদের স্নায়ু ঠাণ্ডা হয়।

তখন একজন অপরাধীর ভুল করার সম্ভবনাটা বাড়ে।

কেউ কি ভুল করল?

একজন ডানহাতি কি...

মানি ব্যাগটা বাঁ পকেটে রাখবে?

সম্ভবনা খুবই কম।

ডানহাতি মানিব্যাগ রাখবে ডান পকেটে।

আর বাঁ হাতি রাখবে বাঁ পকেটে।

এটাই হয়ে থাকে।

ঠিক!

কিন্তু...

মোতিন সাহেবের মেজো ছেলে...

সে নিয়মের ব্যতিক্রম।

সে ডান হাত দিয়ে পেছনের ডান পকেট থেকে

...মানিব্যাগ বের করল।

তারপর বাঁ হাত দিয়ে অত্যন্ত নিপুণভাবে...

...পেছনের বাঁ পকেটে রাখল।

তার মানে, দু হাতই ভাল চলে।

ঠিক।

সব্যসাচী।

যাদের ডান এবং বাঁ হাত সমান তালে চলে।

আমার বিশ্বাস...

মুক্তিপণের চিঠিটা ওরই বাঁ হাতে লেখা।

আপনার ধারণা কি আবারও সত্যি প্রমাণিত হল, স্যার?

এটা ধারণার ব্যপার না।

বিশ্বাস এবং সুযোগের ব্যাপার।

বিশ্বাস এবং সুযোগ...

যমজ বোনের মতো।

একজন আরেকজনের দ্বারা প্রভাবিত হয়।

হয়ত কোনও কিছুর উপর তোমার অনেক বিশ্বাস।

এবং তার কারণে...

প্রকৃতি তোমায় একটা সুযোগ দেবে সেটা সত্যি করার।

যাই। শরীর খারাপ লাগছে।

-ইয়ে-- -হুম?

-আপনাকে একটা অনুরোধ করতে চাই। -কী?

পরশু আমার জন্মদিন।

আমি আমার কিছু বন্ধু আর সহকর্মীদের নিয়ে একটা পার্টি রেখেছি।

আপনি সম্ভব হলে সেখানে আসবেন?

তুমি মকর রাশি?

আমার মাও তাই ছিলেন।

সিআইবি-র জিজ্ঞাসাবাদে...

আব্দুল মোতিনের মেজো ছেলে...

...আখতার মোতিন তাঁর অপরাধ স্বীকার করেছেন।

জুয়ায় প্রচুর দেনা হওয়ায় তিনি টাকা জোগাড়ের এই ভয়ঙ্কর প্ল্যান করেন।

-অপহরণের দ্বিতীয় দিন... -ভাইয়া।

...ইশরাক তার মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য কান্নাকাটি শুরু করে।

-তখন তার মুখ চেপে ধরা হয়। -এই যে।

ফলে তার মৃত্যু হয়।

বাহ!

এই তো।

তরিকুলের অমৃত চাউমিন চলে এসেছে।

একবার যে খাবে, বারবার সে চাইবে।

দাদা, আজ একটু বেশি খাচ্ছেন।

আজ আমার দ্বিগুণ আনন্দ।

তাই আজকে দ্বিগুণ ঝাচ্ছি।

কেন?

আজকে...

আমার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটার জন্মদিন।

ও! আজ আম্মাজানের জন্মদিন?

ভুলেই গেছিলাম । সরি!

আরে কীসের সরি? ওসব রাখ।

শোন।

জন্মদিন হচ্ছে জীবিত মানুষের জন্য।

মৃত মানুষের জন্মদিন পালন করা বা না করায় তার কিচ্ছু যায় আসে না।

জানেন, ভাইয়া?

আমার আম্মা মরার আগে একটা কথা বলেছিল।

যা কিছু হারাবে তার জন্য দুঃখ করবে না।

সব আবার ফেরত পাবে।

আরেক রুপে।

আরেকভাবে।

আমার জীবনে সেটা সত্যি হয়েছে।

দশ বছর বয়সে যখন আম্মাকে হারিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছি...

আপনি আমাকে আশ্রয় দিলেন।

আপনি আর আম্মাজান মিলে...

আমার আম্মার কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছেন।

এই!

তুমি বড্ড ফাজিল।

সবসময় খালি মায়ের কথা বলিস।

আব্বাকে তো দেখিইনি কোনওদিন।

তার কথা কীভাবে বলব?

আচ্ছা, ভাইয়া...

আপনার আব্বা কেমন ছিল?

খুব একটা সুবিধের মানুষ মনে হয় ছিল না।

কারণ...

এই বাড়িতে তার ব্যাপারে কথা বলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল।

আমার মা আর নানা আমার বাবাকে প্রচণ্ড ঘৃণা করত।

আমার বয়স তখন দু বছর।

বাবা-মার ডিভোর্স হয়ে গেল।

তারপর আমার মা আমাকে নিয়ে এ বাড়িতে এলো।

এ বাড়িতে...

আমার নানা ছিল, নানি ছিল।

মা ছিল।

আর এখন খালি আমি আর তুই।

ভাইয়া।

-বেশি হয়ে যাচ্ছে। -এটা শেষ।

-আরেকটা... -না, আজ আম্মাজানের জন্মদিন।

কে ফোন করে? ধ্যাত!

ভাইয়া...

অভিনন্দন, রুমি।

তোমার সাফল্যের মুকুটে আরেকটা পালক যুক্ত হল।

ধন্যবাদ।

কিন্তু আমার কাছে...

তোমার সাফল্যের মুকুটটা অর্থহীন মনে হয়।

মানে?

সত্যিই তাই।

সাফল্যের মুকুটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পালকটা...

এখনও পর্যন্ত তুমি যুক্তই করতে পারনি।

তোমার মায়ের কথা বলছি।

তোমার সবচেয়ে আপনজনের মৃত্যুরহস্য এখনও সমাধান করতে পারনি।

আরিয়ান।

আমার মায়ের কেস নিয়ে না ভেবে নিজের কেসটা নিয়ে ভাবো।

শুনলাম আগামী মাসের মধ্যে

তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট চলে আসবে।

আমার কী মনে হয় জানো?

আশরফ স্যার বললেন

কাকিমার মৃত্যুটা দুর্ঘটনা।

ওটা আসলে দুর্ঘটনা ছিল না।

আত্মহত্যা ছিল।

ইশ!

কী ভয়াবহ ছিল লাশটা।

মাথার মগজ, ঘিলু...

সব বেরিয়ে এসেছিল।

হবে নাই বা কেন?

এত উপর থেকে...

...কেউ লাফিয়ে পড়লে এটাই তো হবে।

পোস্টমর্টেম রিপোর্টেও নাকি--

-শুভ জন্মদিন। -ধন্যবাদ।

কী ব্যাপার? আর সবাই কই?

আমি কি বেশি আগে চলে এলাম?

আর কাউকে বলিনি।

কারণ...

আমার বিশেষ দিনটায় আপনার সঙ্গে সময় কাটাতে চেয়েছি।

সত্যি বললে আপনি তো আসতেন না।

তাই মিথ্যে বললাম।

সরি।

ঠিকাছে।

রেস্তরাটা খুব সুন্দর।

গিফটটা খুলে দেখো।

তোমাকে শাড়িতে প্রথম দেখলাম।

খুব সুন্দর লাগছে।

হুম।

একজন গোয়েন্দার কাজ অবজার্ভ করা।

আপনি কখনও করেছেন?

আপনি যখন আমার আশেপাশে থাকেন...

আমি কতটা খুশি হয়ে যাই?

শি*!

আমার...

ভুল হয়ে গেছে। আমার জরুরি একটা কাজ আছে।

আমি এখন উঠি।

আবারও, শুভ জন্মদিন।

তোমার একটা খাওয়া পাওনা থাকল।

আসি।

মনে রাখবেন।

আপনার প্রতি সবচেয়ে বেশি অধিকার আমার।

কারণ আপনার প্রতি আমার কোনও দাবি নেই।

দেখা হবে।

আসি।

"মা কীভাবে মরেছে জানতে চাও?

তাহলে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীর দিন আমার সঙ্গে দেখা করো।

ঠিকানা, ২৫ আব্দুস সালাম রোড, কেরানীগঞ্জ।

সময়, দুপুর তিনটে।"

(অস্পষ্ট)

এই নিয়ে আমি তিনবার...

নাচের মেয়েটার দুঃস্বপ্ন দেখলাম।

কে মেয়েটা?

কেন সে বারবার আমার স্বপ্নে আসে?

ভাইয়া।

ভাইয়া।

ভাইয়া।

ভাইয়া।

ভাইয়া, কী হয়েছে?

খারাপ স্বপ্ন দেখেছেন?

চা এনেছি।

তাড়াতাড়ি খেয়ে নিন, নইলে ঠাণ্ডা হয়ে যাবে।

আপনি ঠিকাছেন?

এশা আপা এসেছে।

আপনার সঙ্গে আবার দেখা করতে।

দেখা করবেন?

স্যার, দুঃস্বপ্নগুলো আপনার ট্রমার কারণেও হতে পারে।

দুর্ঘটনার পর থেকে আপনার জীবন যাপন অনেক বদলে গেছে।

এর প্রভাব মানুষের স্বপ্নের উপর পড়ে।

আপনার চেহারা কতটা খারাপ হয়েছে সেটা আয়নায় দেখলেই বুঝতে পারবেন--

আয়না।

সবাই বলে...

মৃত্যু নাকি দুঃখজনক।

কিন্তু কোনও কোনও ক্ষেত্রে...

মৃত্যুর চেয়ে জীবন দুঃখজনক।

ভাগ্য ভাল যে আপনি স্বপ্নগুলো দেখেছেন।

নাহলে কি আমার সঙ্গে দেখা করতে চাইতেন?

আমি...

তোমার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে...

অনুভব করেছি, যে কোনও কেস তুমি খুব খুঁটিয়ে দেখো।

তাই ভাবলাম তোমাকেই বিষয়টা বলা দরকার।

আচ্ছা, রাজু। পাঠিয়ে দাও।

নতুন কেস?

আজ্ঞে। বিস্তারে লিখে পাঠাচ্ছে।

কী ধরনের কেস?

খুন?

কী?

স্যার, আপনি যে মেয়েটাকে স্বপ্নে দেখেন...

তার গালের কোনদিকে জন্মদাগ আছে?

বাম গালে। কেন?

জন্মদাগটা ঠিক কেমন, স্যার?

কালো, টিপের মতো।

কালো।

তার গায়ের রং?

ফর্সা।

কেন, কী হয়েছে?

সে স্বপ্নে কী ধরনের নাচ করছিল?

ক্লাসিকাল।

অসম্ভব।

স্রষ্টা বলেছেন

'তুমি যাকেই আমার চেয়ে বেশি ভালবাসবে

আমি তাকেই তোমার কাছ থেকে দূরে নিয়ে যাব।

এবং তোমাকে একা করে রাখব।'

তিনি আরও বলেছেন

'কখনও বলবে না, আমি তাকে ছাড়া বাঁচব না।

তবে আমি তাকে ছাড়াই তোমাকে বাঁচাব।

এবং পেছনের অনুগত সব আবেগ কেড়ে নিয়ে

তোমাকে দিব্যি সামনে নিয়ে যাব।'

ভাইয়া।

ভাইয়া?

হুম?

সারাদিন তো কিছু খাননি।

চলুন, কিছু খাবেন।

গরম গরম চাউমিন বানিয়েছি।

খাব না...

-তরিকুল? -হ্যাঁ?

এই পৃথিবীতে...

আমি আমার মাকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসতাম।

সেই জন্য...

সৃষ্টিকর্তা তাকে আমার কাছে থেকে কেড়ে নিল।

আমার মার যখন মনখারাপ হত...

ছাদের রেলিংয়ে বসে থাকত।

আবৃত্তি করত।

গান গাইত।

যা...

যা।

যে মানুষটাকে নিজের চেয়েও বেশি ভালবাসতে

সেও প্রতারণা করে।

তবে তুমি কেন স্রষ্টাবিমুখ হয়ে মানুষকে ভরসা করো?

অদ্ভুত এই পৃথিবী।

যখন তুমি ভাবো এটা হবে না কখনও

পরক্ষণে সেটাই হয়।

সেটাই হওয়ার নয় কি?

তুমি বলো আমি পড়ব না।

অথচ তুমি পড়ো।

তুমিই বলো আমি বিস্মিত হব না।

অথচ তুমি রোজ বিস্মিত হও।

এবং সবচেয়ে বিচিত্র বিষয় হচ্ছে...

তুমি বলতে থাকো আমি মরে গেছি।

অথচ তুমি বাঁচো।

অথচ তুমি বেঁচে থাকো।

তোমার স্রষ্টা তোমাকে বাঁচায়।

তোমার স্রষ্টা তোমাকে বাঁচিয়ে রাখে।

"রুমি"

নেহা আখতার।

বয়স প্রায় ২১ বছর।

প্রায় বলছি কারণ...

জন্মদিনের মাত্র দুদিন আগে সে মারা যায়।

মেয়েটি গতবছর বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৃত্য প্রতিযোগিতায়

প্রথম পুরস্কার অর্জন করেছিল।

তার সবচেয়ে বড় পরিচয় হল...

সে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, মরহুম রশিদ আখতারের একমাত্র মেয়ে।

আর সে পরিচয়ের কারণেই এই কেসটা সিআইবিতে এসেছে।

আমাদের আইজি স্যার এবং রশিদ আখতার

খুব ভাল বন্ধু ছিলেন।

এশা।

এশা!

কী হল?

তুমি কি শুনছ?

হ্যাঁ, স্যার।

ও মনে হয় দিবাস্বপ্ন দেখছে, স্যার।

আইজি স্যার খুব আফসোস করছিলেন।

বলছিলেন, আজ রুমি সুস্থ থাকলে

সে-ই নেহার খুনের কেসের দায়িত্ব নিত।

এটা যে আমাদের বিভাগের জন্য কতবড় ক্ষতি

সেটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

স্যার, একটা বিষয় বুঝতে পারছি না।

রুমি কি সত্যিই আর কখনও চোখে দেখতে পাবে না?

সেটা আল্লাই ভাল জানেন।

-ও! -কিন্তু...

কাজ থামলে চলবে না।

রুমির সব কেস আজ থেকে...

আরিয়ান সামলাবে।

স্যার।

এশা।

আরিয়ানকে তুমি সমস্তভাবে সাহায্য করবে।

আচ্ছা, স্যার।

-আর, আরিয়ান। -আজ্ঞে?

রুমির দুর্ঘটনার তদন্ত তুমি করবে।

আজ্ঞে, স্যার।

আরেকটা বিষয়, স্যার।

রিপোর্টে নাকি এসেছে দুর্ঘটনার সময়...

রুমির রক্তে নাকি মাদক ছিল।

আর রাস্তার মাঝখানে বাচ্চার দাঁড়িয়ে থাকাকে কীভাবে দেখবে?

রুমি তার জবানবন্দীতে বলেছে

বাচ্চাটাকে নাকি সেখানে বেঁধে রাখা হয়েছিল।

আমি শিগগির সব খোঁজ লাগাচ্ছি, স্যার।

পুরানো সেই দিনের কথা

ভুলবি কীরে হায় ও সেই

চোখের দেখা প্রাণের কথা

বাহ!

আপনার গলা তো খুব সুন্দর।

আমার মায়ের দেওয়া।

এবং দোয়া।

ও!

আমি তোমাকে স্বপ্নের যে গল্পটা শোনালাম...

সেটা থেকে তুমি কী বুঝলে?

যে মানুষকে আপনি কখনওই দেখেননি, সে কীভাবে আপনার স্বপ্নে আসছে?

আমি জানি না।

এর কোনও কার্যকারণ সম্পর্ক পাচ্ছি না।

সৃষ্টিকর্তা আমার চোখে দেখার ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছেন।

কিন্তু অন্য কোনও ক্ষমতা হয়ত দান করেছেন।

তবে একটা মজার ব্যাপার হল...

এই দুঃস্বপ্নগুলো এখন আমার ভাল লাগতে আরম্ভ করেছে।

এগুলো দেখলে মনে হয়...

আমার সামনে নতুন কেস আসতে চলেছে।

এবং তার সুরাহা আমায় করতে হবে।

সৃষ্টিকর্তা প্রত্যেক মানুষকে একটা নির্দিষ্ট কাজের জন্য তৈরি করেছেন।

এবং সেই কাজের স্পৃহা তার হৃদয়ে গেঁথে দিয়েছেন।

আর আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, যাই করুন না কেন

রহস্যের সমাধান করাই আপনার কাজ।

তুমি রুমি পড়তে শুরু করেছ?

ওই আপনাকে দেখে শুরু করলাম।

আর আমি করেছিলাম আমার মাকে দেখে।

আমার মা রুমির খুব বড় ভক্ত ছিলেন।

সে জন্যই নিজের ছেলের নাম রেখেছিলেন রুমি।

চা খাবেন?

ও!

তুমি চা খাবে?

আমি তরিকুলকে বলছি--

আজকে আমি আপনাকে চা বানিয়ে খাওয়াব।

আমরা এখনও তেমন এগোতে পারিনি।

নেহা আখতার যে বাড়িতে মারা গেছেন তার মালিক উনি নিজেই।

সে বাড়ি এখনও তৈরি হচ্ছে।

মাত্র দুটো ফ্ল্যাটে লোক থাকে।

তাই এখনও সিসি ক্যামেরা দেওয়া হয়নি।

ঠিক একই এলাকায়...

...নেহার আরও একটা বাড়ি আছে।

সেখানে উনি তাঁর মা, সোনিয়া আখতারের সঙ্গে থাকতেন।

তিনদিন আগে উনি তাঁর সঙ্গে ঝগড়া করে নিজের ফ্ল্যাটে গিয়ে ওঠেন।

সোনিয়া ঝগড়া করেছিলেন মেয়ের উশৃঙ্খল জীবন যাপনের জন্য।

আসলে নেহার বাবা ছোটবেলায় মারা যায়।

তারপর থেকে তিনি তাঁর মায়ের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন।

বাবার মৃত্যুর পর তারা আমেরিকা চলে যায়।

কারণ নেহা জন্মের পর থেকেই

পোলিওতে আক্রান্ত ছিলেন।

উন্নত চিকিৎসার জন্য তারা প্রায় ১২ বছর আমেরিকায় থাকে।

চার বছর আগে তারা বাংলাদেশে এসে থাকা শুরু করে।

নেহার মৃত্যু হয়েছিল বাথটবের জলে ডুবে।

তাঁকে কড়া ঘুমের ওষুধ খাইয়ে প্রথমে অজ্ঞান করা হয়।

তারপর বাথটবে চুবিয়ে মারা হয়।

প্রথমে তার লাশ কাজের লোক দেখতে পায়।

এখনও পর্যন্ত তার এবং নেহার ছাড়া কারুর আঙুলের ছাপ পাওয়া যায়নি।

হ্যাঁ?

কী ব্যাপার? আপনি চা খাছেন না?

ও!

দুধ চা।

হ্যাঁ, তাই তো দিয়েছি।

কেন? খাবেন না?

দুধ চায়ের রং যেন কেমন হয়?

কেন, জানেন না? ঘিয়ে রং হয়।

আপনি চা নিয়ে এত প্রশ্ন করছেন কেন?

চা কি ভাল হয়নি?

না, না।

সেটা নয়।

আমি কিছুক্ষণ আগে তোমাকে যে স্বপ্নের কথা বলছিলাম?

সে স্বপ্নের মধ্যে আমার উপর...

...গরম দুধ চা পড়ছিল।

আরেকটা স্বপ্নে দেখলাম নেহা আমার সামনে...

...চায়ের কাপ হাতে দাঁড়িয়ে।

আচ্ছা, এশা।

নেহার বাড়ির কাপগুলো ফরেন্সিকে পাঠানো হয়েছিল?

হ্যাঁ, স্যার। হয়েছে তো।

কিন্তু রিপোর্টে তেমন কিছু আসেনি।

এক কাজ করো।

ওর বাড়ির প্রত্যেকটা চায়ের কাপ আবার ভাল করে পরীক্ষা করো।

সেখান থেকে হয়ত কোনও সূত্র পাওয়া যেতে পারে।

নেহার বাড়ি থেকে যে চায়ের কাপগুলো...

...আবার ল্যাবে পাঠানো হয়ছিল, সেখান থেকে একটা কাপ দেখুন।

নেহা এবং কাজের লোক ছাড়াও এতে আরেকজনের আঙুলের ছাপ উদ্ধার হয়েছে।

কারুর সঙ্গে সেটা মিলেছে?

সেটা এখন দেখব।

মানুষটার এনআইডি কার্ড থেকে থাকলে

তার আঙুলের ছাপ আমাদের ডেটাবেসে পাওয়া যাবে।

একটু দেখুন।

বশীর আখতার।

ইনি তো নেহার চাচা।

এশা, যত দ্রুত সম্ভব নেহার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করবে।

তারপর বশীর আখতার সম্পর্কে সব তথ্য আমাকে দেবে।

-আচ্ছা, স্যার। -হুম।

আরেকটা প্রশ্ন।

এতকিছু থাকতে তুমি কাপটাকে আবার ফরেন্সিকে পাঠালে কেন?

-খটকা থেকে। -হুম?

রুমি স্যারের সঙ্গে কাজ করতে করতে হয়ত আমার খটকা আজকাল বেশি লাগে।

বশীর আমার...

...দেওর।

ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুব একটা ভাল না।

সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে...

প্রায়েই সে ঝামেলা করত।

রাজনীতি করত তো।

তাই সম্পত্তি ভাগের ব্যাপারে লোক দিয়ে আমাকে হুমকি দিত।

গত সপ্তাহেও করেছে।

দশ লাখ টাকার জন্য খুব চাপ দিল আমার উপর।

চরিত্রও খুব একটা ভাল ছিল না।

মাঝেমধ্যে আমাকে আজেবাজে টেক্সট করত।

আপনি চাইলে দেখতে পারেন।

ওর নেহার বাড়িতে যাওয়ার...

কোনও কারণ আমি খুঁজে পাচ্ছি না।

নেহা ওকে একদম পছন্দ করত না।

ঠিক আছেন আপনি?

জল দিতে বলব?

আমার ফুলের মতো বাচ্চাটাকে কী বীভৎসভাবে ওরা মেরে ফেলল।

আমি ভাবতে পারছি না...

হ্যাঁ, বল।

হুম।

রাখ।

তাড়াতাড়ি চালাও।

বাঁদিকে নাও।

কই গেল?

সোজা তো ট্র্যাফিক পড়বে। ডানদিকটা ধরুন না।

ওখানে রাস্তা ফাঁকা।

ওই রাস্তায় যাও।

ব্যাকআপ টিম তৈরি রাখো।

বাঁয়ে রাখো।

-সবাই তৈরি? -(সবাই) হ্যাঁ, স্যার!

এগোও।

টিম।

হ্যাঁ, স্যার।

তিনজন উপরে যাও।

এগোও।

দুজন ওদিকে।

স্যার।

গাঁজা ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায়নি।

সবকটা চেকপোস্টকে জানাও।

বশীরের যে ছবি আছে

সেগুলো এক্ষুনি থানায় দাও।

ঠিকাছে, স্যার।

হারামজাদা!

টের পেল কীভাবে?

স্যার, একটা ল্যাপটপ পাওয়া গেছে।

পাসওয়ার্ড দেওয়া, স্যার।

-এশা। -হ্যাঁ, স্যার?

কেমন আছো?

ভাল আছি, স্যার।

ল্যাপটপে কিছু পাওয়া গেল?

স্যার আমরা চেষ্টা করছি তথ্য উদ্ধার করার।

কিন্তু ল্যাপটপে পাসওয়ার্ড দেওয়া ছিল, তাই কিছুটা সময় লাগবে।

ও।

আসুন।

যাক।

আমার ধারণা কিছুটা সঠিক হয়েছে এটা জেনে ভাল লাগছে।

কিন্তু আরিয়ান স্যার যদি জানতে পারেন আপনি এর পেছনে

তাহলে তো আমায় কেস থেকে সরিয়ে দেবে।

আরিয়ান।

সে নাকি প্রমাণ করার চেষ্টা করছে...

যে আমি দুর্ঘটনার সময় মদ খেয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলাম?

উনি তো কেসটা চেপে দিতে চাইছেন, স্যার।

তাই?

হ্যাঁ।

বেশ।

আপনি কেরানীগঞ্জের যে জায়গাটার কথা আমাকে বলেছিলেন না?

সেখানে তো আমি গিয়েছিলাম।

কিন্তু তেমন কিছু পাওয়া যায়নি।

ওখানে শুধু একটা স্কুল আছে।

আমার তেমন সন্দেহজনক কিছু মনে হয়নি।

হুম।

বিভাগ থেকে নাকি আমার বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন হচ্ছে?

আপনি কীভাবে জানলেন, স্যার?

বিনা তারে আমার কাছে খবর আসে।

আপনি কি যাবেন সেখানে?

কেন যাব না?

আমার বিদায় অনুষ্ঠান। আর আমিই যাব না?

আপনি সত্যিই যাবেন, স্যার?

"আমি যখন আমার চাওয়ার পেছনে ছুটি

আমার দিন কাটে অস্বস্তিতে।

যখন আমি স্থির বসে থাকি

তখন আমার চাওয়াগুলো আমার কাছে চলে আসে।

আমি বুঝে গেছি

আমি যা চাই সেটাও আমারে চায়।"

অপরাধী মাত্রই একজন শিল্পী।

আর গোয়েন্দা হলেন সমালোচক।

একজন সমালোচক শিল্পকর্মের ত্রুটিগুলো বের করেন।

অপরাধ অসাধারণ হতে পারে।

কিন্তু আমরা গোয়েন্দারা সমালোচকের মতো করেই

তার ভুলগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিই।

খন্দকার রুমি এদের মধ্যে একজন সেরা সমালোচক।

ধন্যবাদ।

স্যার।

রুমি সাহেব।

আসুন।

-ধন্যবাদ, স্যার। -ওয়েলকাম।

স্যার।

এই ঘড়ি কথা বলে।

আপনি যখন সময় জানতে চাইবেন, শুধু বললেই হবে।

সময় কত?

দুপুর আড়াইটে।

তরিকুল।

-এই, তরিকুল। -আজ্ঞে?

বইগুলো নিয়ে নে।

ব্লেজার আর সিআইবির জ্যাকেটটাও নিয়ে নিস।

নিচ্ছি, ভাইয়া।

আরেবাবা!

প্রচুর উপহার দেখছি।

এতগুলো দিন একসঙ্গে কাজ করলাম।

খুব মিস করব তোমায়, রুমি।

ধন্যবাদ, আরিয়ান।

তাই একটা ছোট্ট উপহার নিয়ে এসেছি তোমার জন্য।

কী উপহার? দাও।

এত অস্থির হওয়ার কী আছে?

ধৈর্য ধরো।

উপহারটা নিজে খুলে তোমার হাতে দিচ্ছি।

কই?

এই যে।

কী এটা?

একটা মিনিয়েচার।

সিআইবি অফিসারের পুতুল।

ওর গায়ে একটা জ্যাকেট আছে, তাতে লেখা সিআইবি।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল...

ওটার চোখে একটা চশমা আছে।

কালো চশমা।

অন্ধদের।

আর হাতে আছে লাঠি।

বন্দুকের পরিবর্তে।

অন্ধদের লাঠি।

এতদিন তো বন্দুক নিয়ে কতকিছু করলে।

এবার শত্রুদের ধরাশায়ী করতে তো কিছু না কিছু লাগবেই।

তাই বন্দুকের পরিবর্তে লাঠি।

অন্ধদের লাঠি।

কাজটা ঠিক হল না, স্যার।

এশা।

আরিয়ান।

তোমার উপহার আমার খুব পছন্দ হয়েছে।

এটাই বোধহয় আজকের সেরা উপহার।

ধন্যবাদ।

ওয়েলকাম।

চাবি... চাবি...

"খন্দকার রুমি"

আমি আমার নানাবাড়ির দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি।

অদ্ভুত ব্যাপার।

দরজার বাইরের নেমপ্লেটে লেখা, "স্নিগ্ধা"।

কিন্তু কেন?

আমি বিভ্রান্তভাবে দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলাম।

এই দুটোর ভেতর একটা যোগাযোগের ব্যবস্থা করো--

তোমার আসতে এত দেরি হয় কেন?

সরি, স্যার?

টেবিলে কিছু ফাইল রাখা। দেখে জানাও।

ওকে, স্যার।

বশীর কোথায় আছে জানা গেল?

এখনও যায়নি, স্যার।

-এখানে-- -ল্যাপটপের তথ্য পাওয়া গেছে?

এখনও যায়নি।

যাবে নিশ্চয়ই।

-অগ্রগতি জানাও। -ওকে, স্যার।

(অস্পষ্ট)

আমার মনে হচ্ছে আপনার স্বপ্নে দেখা...

...ধোঁয়ার অর্থ নেশা।

এই কেসের সঙ্গে জড়িত কেউ না কেউ নেশায় আসক্ত ছিল।

কে সেটা?

মৃত ব্যক্তি না আততায়ী?

আততায়ী হতে পারে, স্যার।

এশা।

আমার স্বপ্নগুলো আসলে ধাঁধার মতো।

একশো শতাংশ নিশ্চিত হয়ে কিছু বলতে পারবে না।

তবে তোমার অনুমানটা আমার পছন্দ হয়েছে।

তুমি বরং এক কাজ করো।

প্রথমে মৃতের তদন্ত করো।

এবং নিশ্চিত হও যে নেহা সত্যি মাদকাসক্ত ছিল কিনা।

তবে একটা হিসেব আমি কোনওভাবেই মেলাতে পারছি না।

-স্বপ্নে তো একটা বাড়ি দেখলাম। -হুম?

সেটা আমার নানার বাড়ি।

-মানে, আমার বর্তমান বাড়ি। -হুম।

তুমি নিশ্চয়ই খেয়াল করেছ।

গেটের বাইরের নেমপ্লেটে আমার নানির নাম লেখা।

-হ্যাঁ, স্যার। -"আয়েশা"।

কিন্তু স্বপ্নের ওই বাড়িটার...

নেমপ্লেটে লেখা আছে "স্নিগ্ধা"।

আর ওই বাড়ির দেওয়ালে কাদের ছবি টাঙানো আছে?

আরেকটা অদ্ভুত ব্যাপার আছে।

একটা ছবিতে...

আমি স্পষ্ট আমার মায়ের মুখ দেখতে পেয়েছি।

সেটা কী করে সম্ভব?

তুমি আজ অফিস যাবে না?

না, স্যার। আজকে ছুটি নিয়েছি।

ও।

বলুন তো আজ আমি কী পরেছি।

কীভাবে বলব?

আমি তো তোমাকে দেখতে পাছি না।

আপনার পছন্দ তো শাড়ি?

শাড়ি?

এবার না দেখতে পেলেও আমি বলতে পারি...

তোমায় খুব সুন্দর লাগছে।

ধন্যবাদ, স্যার।

ভাইয়া, নম্বর বন্ধ বলছে।

কেটে দে।

-তরিকুল। -ভাইয়া?

এখান থেকে আমরা তাহলে কী বুঝলাম?

বুঝলাম, আপনার আত্মীয়দের মধ্যে কেউ কেউ মারা গেছে।

-কারও কারও নম্বর বন্ধ। -হুম।

এবং বেশিরভাগই আপনাকে চেনে না।

ভাল।

খুব ভাল।

চিনবে কী করে বল।

এত বছর হয়ে গেল কারুর সঙ্গে যোগাযোগ নেই।

চিনতে না পারারই তো কথা। তাই না?

ভাইয়া।

আপনি তো আত্মীয়দের সঙ্গে তেমন মেশেননি।

আম্মাজানও একরকম ছিল।

এখন হঠাৎ করে তাদের খুঁজছেন কেন?

আম্মাজানের নোটবুক খুঁজে বের করতে জীবন বেরিয়ে গেছে।

আমার স্বপ্নের বাড়ির দেওয়ালে যে ছবিগুলো টাঙানো ছিল...

সেগুলো একটা পরিবারের।

তার ভেতর থেকে আমি আমার মায়ের মুখটা স্পষ্ট দেখতে পেয়েছিলাম।

অন্য ছবিগুলো অস্পষ্ট ছিল।

কেনই বা আমি আমার মায়ের মুখটা দেখতে পেলাম?

বাবার সঙ্গে আমার মায়ের ডিভোর্স হওয়ার পর...

মা সমস্ত আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

তারপর থেকে আমারও আর কোনওদিন ইচ্ছে হয়নি...

তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার।

কিন্তু এখন যোগাযোগ করতে ইচ্ছে করে।

বাবার কথা জানতে খুব ইচ্ছে করে।

ভাইয়া।

নীলা আন্টির ছেলে ফোন করেছে।

তার সঙ্গে সকালে কথা বলেছিলাম।

দে।

হ্যালো।

-হ্যালো। -আমি রুমি।

আমার ছোটভাই আজ সকালে আপনাকে ফোন করেছিল।

হ্যাঁ, তরিকুল নামে একজন ফোন করেছিল।

আমি আম্মার সঙ্গে কথা বলেছি।

তিনি আপনাকে চিনতে পেরেছেন।

আমার আম্মা আর আপনার আম্মা নাকি একসময় খুব ভাল বন্ধু ছিল?

হ্যাঁ, ওনারা একসঙ্গে কলকাতায় চাকরি করতেন।

আম্মা আপনার দুর্ঘটনার কথা শুনে খুব কষ্ট পেয়েছেন।

উনি আমেরিকা গেছেন আমার বোনের বাড়িতে বেড়াতে।

সপ্তাহখানেক পরে দেশে ফিরবেন।

বলেছেন দেশে ফিরেই আপনার সঙ্গে দেখা করবেন।

উনি দেশে ফিরলে আমায় একবার ফোন করে জানাবেন।

অবশ্যই। ভাল থাকবেন।

ধন্যবাদ।

ভাইয়া।

আম্মাজান যে ভারতে থাকত সেটা তো আগে জানতাম না।

আমার মা চাকরির জন্য তিন বছর কলকাতায় ছিলেন।

সেখানে আমার বাবার সঙ্গে পরিচয়।

প্রেম। বিয়ে।

আমার বাবা ছিলেন একজন ভারতীয়।

নেহার সঙ্গে আমার ঝগড়ার প্রধান কারণ ছিল...

তার নেশা।

সে কি কখনও রিহ্যাবে ছিল?

সে সুযোগ আমি পাইনি।

ওর নেশার ব্যাপারটা ও সুন্দরভাবে আমার থেকে লুকিয়ে রেখেছিল।

তিনমাস আগে আমি...

...অর্ণবের কাছ থেকে ব্যাপারটা জানতে পারি।

অর্ণব কে?

নেহার বন্ধু।

ভাল ছেলে।

নেহাকে পছন্দও করত।

কিন্তু নেহা...

নিজের সর্বনাশ করল।

সজীব নামে একজনের সঙ্গে প্রেম করে।

সেই ওকে মাদকাসক্ত করে।

সজীব, নেহা, অর্ণব...

এরা কি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ত?

হ্যাঁ।

অর্ণব আর নেহা একই ক্লাসে পড়ত।

সজীব ছিল ওদের চেয়ে এক বছরের বড়।

যেভাবে পারেন...

বশীরকে খুঁজে বের করুন।

আমার কেন যেন মনে হচ্ছে...

এই খুনের সঙ্গে ও জড়িত।

কোনও না কোনওভাবে।

-আমরা কি ঠিক জায়গায় এসেছি? -হ্যাঁ, ভাইয়া।

সব জায়গায় বশীর আখতারের পোস্টার লাগানো।

কাকা। বশীর স্যারের সঙ্গে দেখা করা যাবে?

স্যার নেই। যান।

কখন আসবেন?

বললাম তো, নেই।

আর স্যারের সঙ্গে আপনার কীসের দরকার?

ভাইজান, আমার কথাটা শুনবেন?

আমি অন্ধমানুষ।

সার অধমের জান বাঁচিয়েছেন।

চক্ষু দুটো তো গেছে।

জানটাও যেত।

হাসপাতালে যেতে না পারলে প্রাণপাখি বেরিয়েই যেত।

চিকিৎসার সব খরচাপানি দিয়েছে সার।

সার মনিষ্যি নয়।

ফেরেস্তা।

আরে, ভাইজান।

আপনার কথায় বুঝলাম, আপনি আমার দেশ, বরিশালের মানুষ।

আপনার ঘর কই বলুন দেখি?

গৌরনদী।

আমি যে আপনার পড়শি হই। আমার ঘর আগৈলঝাড়া।

আমাদের ঘর তো পাশাপাশি।

মাঝখানে শুধু একহাতি খাল একখানা।

আপনি হলেন গিয়ে আমার দেশওয়ালি।

পরিচয় নেই।

ভাইজান দেখছি অধমকে ভাই বলে স্বীকার করেছেন।

এটা খুব ভাল ঠেকছে।

আপনার কাছে একটা আর্জি আছে। একটু দেখেশুনে দেবেন।

কী আর্জি? ধরে সব বলে ফেলুন দেখি।

ওই যে বললাম না।

সার চিকিৎসা দিয়ে এ অধমকে জান দিয়েছেন।

তাই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েই ওনার পায়ের ধুলো নিতে এসেছি।

ওনাকে একটা ধন্যবাদ দেব।

আমাকে একবার ওনার দর্শন করিয়ে দিন।

এতবার বলতে আছে? আপনি আমার দেশের মানুষ।

বললাম না, স্যার তিন-চারদিন অফিস আসছে না।

ফোন বন্ধ।

আপনি বরং নম্বরটা দিয়ে যান।

যোগাযোগ হলেই

আপনাকে ফোন দিয়ে ডেকে নেব, পেন্নাম নিয়ে যাবেন।

ও!

আরেকটা কথা, ভাইজান।

স্যারের ভাতিজা মরে গেছে জানেন?

খবরটা শোনার পর

মনে বড় কষ্ট পেয়েছি।

সে কষ্ট আমারও লাগছে।

শুনেছি খুন হয়েছে।

মধ্যে মধ্যে স্যারের সঙ্গে দেখা করতে আসত।

ঘরে বসে গল্পগুজব করত।

শেষদিন সঙ্গে করে একটা ছ্যামড়া এনেছিল।

ব্যাপারটা ভাল ঠেকেনি।

কেন?

বিদেশী রকম-সকম কি এখানে চলে?

সে দেখি কাটা কাটা জামা।

হাঁটুর উপর প্যান্টুল।

কীরম যেন সব।

মোটে ভাল ঠেকে না।

উগ্র ঢঙের জামাকাপড়।

নেশাপানিও করত মনে হয়।

নেহার সঙ্গে তোমার সম্পর্ক কেমন ছিল?

হ্যাঁ? আজ্ঞে?

নেহার সঙ্গে তোমার সম্পর্ক কেমন ছিল?

নেহা আর আমি খুব ভাল বন্ধু ছিলাম।

শুধুই ভাল বন্ধু?

তুমি ওকে পছন্দ করতে না?

আসলে নেহার সঙ্গে আমার যেভাবে পরিচয় হয়েছিল...

আমার ওর প্রেমে না পড়ে কোনও উপায় ছিল না।

সময়টা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ।

(গান গাইছে)

-হ্যাঁ? -এই!

কে রে তুই?

হারামি!

কী দেখছিলি?

কিছু দেখিনি।

কী দেখছিলি?

মহলা দেখছিলাম--

মেয়েদের বিরক্ত করিস, না?

করিস তো?

হারামজাদা কোথাকার!

-এই! -আমি তো কিছু করিনি।

-তুই কোন ইয়ার? -চল তো।

-কোন ইয়ার? -ফ-ফার্স্ট ইয়ার...

ফার্স্ট ইয়ারেই শুরু করে দিয়েছ না?

-ঘরে নিয়ে আয় একে। -ন-না!

-তোকে আজ এমন র‍্যাগ দেব... -না!

-সিধে হয়ে যাবি। -এই!

-কী হচ্ছে এখানে? -না, না...

ওকে ছাড়ুন!

মিথ্যে অপবাদ কেন দিচ্ছেন ওর নামে?

নিয়ে আয় ওকে ঘরে!

না! না!

-আমি যাব না। -ওকে ছাড়ুন!

নইলে এক্ষুনি প্রোক্টরের অফিসে যাব।

আচ্ছা, ছেড়ে দিলাম।

এই, ছাড়।

ছেড়ে দিয়েছি।

তুমি ঠিকাছ?

হুম?

ভাইয়া, ওই লোকের দেশের ভাষা এত ভাল পারলেন কীভাবে?

আমি তো জানতাম, আপনার বাড়ি রাজবাড়ি।

তরিকুল।

আমি অনেক কিছুই জানি যেটা তুমি জানো না।

সারাজীবন আমি অভিনয় দিয়ে মানুষের পেটের কথা বের করেছি।

অভিনয়ের জন্য চোখ খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।

একজন অভিনেতা তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে যত ভালই অভিনয় করুক।

তার চোখ দুটো যদি অভিনয় না করে...

কোনও লাভ নেই।

আর আমি আমার সেই দুটো চোখ হারিয়েছি।

এখন থেকে তুমিই আমার চোখ।

তাই অভিনয় শেখা তোমার জন্য খুব জরুরি।

কি? বোঝা গেছে ব্যাপারটা?

হুম?

হ্যাঁ, ভাইয়া। বুঝেছি।

-তরিকুল। -হ্যাঁ, ভাইয়া?

হুইস্কি দে।

এখনই খাবেন?

দিতে বলছি দে।

ভাইয়া।

তুই যা, কাজ কর।

ঠিকাছে।

তরিকুল!

কী হয়েছে, ভাইয়া--

সবকটা হুইস্কির বোতলে সায়ানাইড মেশানো হয়েছে।

রুমি ভাগ্যবান যে এক চুমুক মদও সে খায়নি।

যে ব্যক্তি বিষ মিশিয়েছে

সে ভাল করে জানে রুমি অন্ধ।

কারণ হুইস্কির সঙ্গে অল্প সায়ানাইড মেশালে গন্ধ বদলায় না।

কিন্তু হুইস্কির রং সামান্য পাল্টায়।

হালকা বাদামী রংয়ের হুইস্কি গাঢ় বাদামী হয়ে যায়।

সাধারণ মানুষ এর পরিবর্তন বোঝে না।

কিন্তু যে নিয়মিত খায় সে বুঝতে পারবে।

রুমি যেহেতু অন্ধ, সেহেতু তার বোঝার কথা ছিল না।

কিন্তু ও কীভাবে ধরে ফেলল সেটা ভেবে আশ্চর্য হচ্ছি।

আপনাকে যে হত্যা করার চেষ্টা হচ্ছে

এতে আর কোনও সন্দেহ নেই।

আচ্ছা, স্যার।

আপনার কেন মনে হল হুইস্কিতে বিষ আছে?

এটাও কি অনুমান ছিল?

আমার কী মনে হয় জানো?

আমাকে যারা হত্যা করতে চায়

আমার মায়ের হত্যার সঙ্গেও তারাই জড়িত।

কিন্তু, স্যার...

অনেক তদন্তের পরেও তো প্রমাণিত হয়েছে ওঁর মৃত্যুটা দুর্ঘটনা।

প্রমাণ?

সত্য আর প্রমাণের পার্থক্য কী সেটা তুমি জানো?

সত্য হচ্ছে বাস্তব।

আর প্রমাণ...

সেটা বাস্তবও হতে পারে, অবাস্তবও হতে পারে।

সোনিয়াই তো বলেছিল।

বশীরের নেহার বাড়িতে যাওয়ার তেমন কোনও কারণ নেই।

কিন্তু আমার তদন্ত বলে

বশীরের সঙ্গে নেহার অনেক আগে থেকেই বন্ধুত্ব ছিল।

তারা প্রায়ই দেখাও করত।

এবং এই সম্ভবনাই বেশি...

যে নেহার সম্মতিতেই সেদিন বশীর তার বাড়িতে গিয়েছিল।

আপনার তদন্ত মানে?

গোয়েন্দার চোখ থাকুক বা না থাকুক...

তদন্ত তো লাগবেই।

যাক গে।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজে কিছু পেলে?

আপনার বাড়ির আশেপাশের ফুটেজ দেখে...

একজন কালো হুডি পরা লোককে আমাদের সন্দেহজনক মনে হয়েছে।

কিন্তু তার মুখ ঢাকা থাকায় তাকে চেনা যায়নি।

ভাইয়া।

সে লোককে আমিও বেশ কয়েকবার সামনের গলিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি।

স্যার।

এক্ষুনি আপনার বাড়িতে ফোর্স মোতায়েন করতে হবে।

এই হুডি পরা লোকটাকে আমার বিপজ্জনক মনে হচ্ছে।

ঝুঁকি নেওয়া যাবে না।

আসতে পারি, স্যার?

এসো।

বশীরের ল্যাপটপের সন্ধান পাওয়া গেছে।

হ্যাঁ, যা দেখছ তাই।

বশীর পর্নোগ্রাফির সঙ্গে যুক্ত ছিল।

কিন্তু এটাই সবচেয়ে বিস্ময়কর না।

এর চাইতেও বিস্ময়কর হচ্ছে...

এক্সকিউজ মি।

ভাইয়া, কী করছেন?

আর তো কোনওদিন বই পড়তে পারব না।

তাই একটু অনুভব করছি।

স্যার, সজীবের ঠিকানা পাওয়া গেছে।

ও এখন নিজের গ্রামের বাড়িতে আছে।

নেহার মৃত্যুর পর সজীব তার গ্রামের বাড়িতে চলে যায়।

আমার কেন জানি না ছেলেটাকে একটু ঝামেলার মনে হচ্ছে।

তাহলে ধরে নিয়ে এসো।

এশা।

সজীবের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ব্যবস্থা করো।

আচ্ছা, স্যার।

বশীরের খবর কী?

ধরে ফেলব, স্যার।

এটা চলতে পারে না, আরিয়ান।

এতদিনেও আমরা বশীরকে ধরতে পারলাম না?

আইজি স্যার আমায় কেসটার দ্রুত সুরাহা করতে চাপ দিচ্ছেন।

রুমি বড্ড অভাব বোধ করছি।

স্যার।

রুমি স্যারের বাড়িতে আমাদের পুলিশ মোতায়েন করতে হবে।

আপনাকে জনিয়েছিলাম।

-আরিয়ান। -আজ্ঞে?

আমাদের কিছু সেরা অফিসারকে রুমির বাড়ির সামনে মোতায়েন করো।

আর এখন কিন্তু এটা প্রমাণিত

রুমির অ্যাকসিডেন্ট মদ্যপানের কারণে ঘটেনি।

কাজটা ঘটানো হয়েছিল।

নেহার কেসের পাশাপাশি

এই কেসেরও দ্রুত সমাধান চাই।

আরিয়ান।

তোমার উপর কিন্তু ভরসা করছি।

হ্যাঁ, স্যার।

অজস্র আরিয়ান এবং এশা।

একে অপরকে...

...প্রচণ্ড ভালবাসায় সিক্ত করতে লাগল।

তাদের ভালবাসার তীব্রতা ছিল একইসঙ্গে বিস্ময়কর এবং কুৎসিত।

-এশা। -হুম?

এই স্বপ্নটা বিশ্বাসঘাতকতা

বা ধোঁকার কথা বলছে।

যাকে তুমি ভালবাসো, তাকে ঠকিয়ে, চালাকি করে...

অন্য কারুর সঙ্গে সম্পর্ক স্থপন করা বিশ্বাসঘাতকতার সংকেত।

এক কাজ করো।

নেহা, অর্ণব আর সজীবের গল্পটা

ভাল করে জানার চেষ্টা করো।

-কী ব্যাপার? -হুম?

নেহার ভিডিওর কথা শুনে তোমায় তো বিশেষ অবাক মনে হচ্ছে না।

প্রেমিক প্রেমিকার ঘনিষ্ঠ ভিডিও বানিয়েছে।

এখানে অবাক হওয়ার কী আছে?

আর ওরা দুজন নেশার যে স্তরে পৌঁছেছিল...

তাতে এটা কোনও ব্যাপারই না।

সজীব আর নেহার উপর তোমার খুব রাগ।

তাই না?

আমি নোটসগুলো সব গুছিয়ে দিয়েছি।

ওগুলো পড়লে তুই পাশ করে যাবি কাল।

বুঝেছিস?

হ্যাঁ।

আচ্ছা...

তুই এত মিষ্টি কেন?

তুই না থাকলে আমার কী হত?

আমি যে এতদূর এসেছি, সেটা একমাত্র

তোর অনুপ্রেরণা আর সাহায্যের ফল।

তুই সবসময় এরকম থাকিস।

আচ্ছা, হয়েছে।

চল, তোকে বাড়ি ছেড়ে দিই।

ইয়ে...

আজ না, ভাই।

আম্মু নিতে আসছে।

হাসপাতাল নিয়ে যাব।

ঠিকাছে তাহলে। আসি আজকে।

-পড়িস কেমন? -হ্যাঁ।

-চলি। -সাবধানে যাস।

"নেহা আখতার"

ভালবসা কি অন্ধ?

অন্ধ।

এবং বেহায়া।

বেহায়া বলেই এতকিছুর পরেও...

নেহার সঙ্গ ছাড়তে পারিনি।

চল। চল।

-বাড়ি চল। -আরে ছাড়!

-চল! -উফ!

-কাল পরীক্ষা আছে, চল। -ছাড় আমাকে!

ব্যাগ দে।

তোর কোনও লজ্জা শরম নেই?

কতবার বলেছি আমার জীবনে নাক না গলাতে?

আমার মা হবার চেষ্টা করিস না।

ওর কী আছে যেটা আমার নেই?

হ্যাঁ?

সাহস বোধহয়।

-চল। -আরে!

চল।

থাক তো।

এবার বুঝেছিস আমি কেন তোর সঙ্গে না থেকে সজীবের সঙ্গে আছি?

পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জিনিস কী জানেন?

নেশা।

সে মাদকের নেশা হোক।

বা গোয়েন্দাগিরির।

একবার যদি কেউ এই নেশায় আসক্ত হয়ে যায়...

সেখান থেকে ফেরার উপায় নেই।

ভাইয়া।

এশা আপা কিন্তু আপনাকে একা একা বেরোতে বারণ করেছিল।

আমি তো একা একা বেরোইনি। তুই তো আমার সঙ্গেই আছিস।

আপনার সঙ্গে কথা বলে পারা যাবে না।

-আর কতদূর? -এসে পড়েছি।

-এই! -বল কী হয়েছে।

বাইরে কোথায় যাচ্ছ? কিছু খেয়ে যাও।

ভাই এয়েছে। চা বসাও।

-সালামালেইকুম, ভাই। -ওয়ালেইকুম আসসালাম।

খবর কী?

এতদিন পর এসেছেন খবর নিতে?

আমার খবর তো ভাল না, মুজিবুর।

কানা হয়ে গেছি।

কানা হয়ে গেছেন?

হ্যাঁ?

বলেন কী?

তাহলে তো আমরা সমান সমান।

আমি নুলো, আপনি কানা।

ভাল একখানা কথা বলেছ।

আমরা দুজন সমান সমান।

মুজিবুর...

নোংরা ভিডিওর ব্যবসা এখনও তোমার আছে?

না! তওবা তওবা!

ভাল হয়ে গেছি না?

ভাল হয়ে গেছ?

কোনওদিন শুনেছ...

কুত্তার ল্যাজ সোজা হয়?

আমার যে খবর চাই সেটা তোমার কাছেই আছে।

বশীরকে এখনও মাল সাপ্লাই করো?

সেসব জেনে আপনি কী করবেন?

পুলিশের দিন কি এতই খারাপ যে কানা পুলিশ ডিউটি করবে?

পুলিশের দিন খারাপ হয়নি।

তোর দিন খারাপ হয়েছে।

ভাই! ভাই! ভাই!

একটা কথা মনে রাখবি।

পুলিশ কানা হলেও পুলিশ।

-বাঘে ছুঁলে ১৮ ঘা। -ভাই...

পুলিশ ছুঁলে ৩৬ ঘা।

আর কানা পুলিশ ছুঁলে ৭২ ঘা।

-ভাই... -তোমার টেনিস বল সামলে।

-আমার কাছে মাস্তানি করো না? -ভাই...

যা যা জিগ্যেস করব হেসে হেসে উত্তর দিবি।

-বুঝেছিস? -ঠিকাছে, ভাই!

ঠিকাছে, ভাই।

ও, ভাই...

-তরিকুল। -ভাইয়া?

-ও, ভাই... -জল নিয়ে আয়।

-জলের ব্যবস্থা করুন। -হ্যাঁ।

-স্যার। -স্যার।

আপনার কথা মতো, আগামীকাল সকাল থেকে

আমি, সোহেল আর ফৈসল রুমি স্যারের বাড়িতে ডিউটিতে থাকব।

তার আগে তোমরা সজীবকে ধরে নিয়ে এসো।

কাল সকালে ওর নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হবে।

ওটা নিয়ে তোমরা...

ওর গ্রামের বাড়ি, কুশিয়ারাতে চলে যাবে।

তাহলে কি রুমি স্যারের বাড়িতে অন্য কেউ থাকবে?

তোমরাই যাবে।

মাত্র ২৪ ঘণ্টার বিষয়।

তার মধ্যে সজীবকে গ্রেপ্তার করে রুমির বাড়ি চলে যাবে।

আশা করছি তার মধ্যে রুমির কোনও সমস্যা হবে না।

আর সজীবের বিষয়টা খুব স্পর্শকাতর।

-স্যর। -আমার সেরা লোকেদের ওখানে চাই।

ঠিকাছে, স্যার।

ভাইয়া, আপনি যে এত খতরনাক

আপনার সঙ্গে এতদিন থেকেও বুঝিনি।

আমার অনেকগুলো রুপ।

আমি বাড়িতে একরকম, অফিসে একরকম

আবার বাইরে আরেকরকম।

ভাইয়া, আমায় আঞ্চলিক ভাষাটা শেখাবেন?

ব্যাপারটা আমার খুব ভাল লেগেছে।

শেখা দরকার রে, তরিকুল।

আমাদের মধ্যে অঞ্চলপ্রীতিটা প্রবল।

একই অঞ্চলে যদি বাড়ি হয়, ভাষা যদি এক হয়

আমরা একজন আরেকজনের প্রতি আবেগি হয়ে যাই।

তেমন আবার একে অপরকে ভয়ও পাই।

এই বিদ্যেটা জানা থাকলে...

যে কোনও বাঙালিকে নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবি।

কি?

বোঝোনি ব্যাপারটা?

বুঝেছি, ভাইয়া।

হারামজাদা পালিয়েছে।

ঠিক জানিস?

-এই ব্যাটা? -হ্যাঁ।

কোনও ইন্ডাস্ট্রি তো একদিনে গড়ে ওঠে না।

এতবড় একটা ইন্ডাস্ট্রি।

সারা পৃথিবী জুড়ে যোগাযোগ।

এর মধ্যে থেকে একটা দেশকে ভিডিও দেখা থেকে আটকেছে।

এটা তো কম কথা না।

এই ভিডিওটা বাংলাদেশে কেউ দেখবে না।

আমার কাছে যখন আসবে, নিরাপত্তার ব্যাপারটা থাকবে প্রথমে।

তোমার নিরাপত্তা, ওর নিরাপত্তা, আমার নিরাপত্তা।

কে দেবে সেটা?

এই কাগজটা।

লিখিত কাগজ ছাড়া কেউ কাউকে নিরাপত্তা দিতে পারে না।

তোমরা দুজন যে কী সুন্দর! কী মিষ্টি!

তোমাদের মধ্যে যে মিষ্টি সম্পর্কটা...

এসব তো তোমরা ক্যামেরার পেছনে করোই।

এবার শুধু...

ক্যামেরার সামনে করবে।

-টাকা দেবেন এখন? -অবশ্যই দেব।

টাকা তো দেবই।

এত টাকা আসলে কোনওভাবেই তোমরা ম্যানেজ করতে পারবে না।

আমিই পারি না।

কে দেবে এত টাকা এত অল্প সময়ে?

দাম কিছুতেই ঠেকানো যাচ্ছে না।

দিনে দিনে মাদকের দাম বাড়ছে।

নাও তো, বাবা।

প্রত্যেক পৃষ্ঠায় সই করো।

আর শেষে নামের উপরে।

-দাও। -হ্যাঁ।

বাহ!

সোনা ছেলে।

করো। কিচ্ছু হবে না।

করো করো।

নেহা মাদকাসক্ত জানার পর আমি ওর...

ব্যাঙ্ক আকাউন্ট সিজ করে ফেলি।

ভেবেছিলাম টাকাপয়সা না পেলে

ও নেশা করা ছেড়ে দেবে।

কিন্তু...

কিন্তু ও তো আরও বড় সমস্যায় জড়িয়ে গেল।

তবে একটা কথা স্পষ্ট।

নেহা নেশার টাকা জোগাড় করতেই বশীরের সঙ্গে কাজ করতে রাজি হয়।

সঙ্গে নিজের প্রেমিককেও জড়ায়।

আমরা সজীবের খোঁজ পেয়ে গেছি।

ও আজকালের মধ্যেই ধরা পড়ে যাবে।

বাকিটা ওকে জিজ্ঞসাবাদ করলে--

এই!

কী হল আপনার?

দিদি, এদিকে আসুন!

আপনি ঠিকাছেন?

দিদি।

আসুন। দেখুন তো।

মা!

তরিকুল...

তরিকুল!

এই, তরিকুল!

তরিকুল!

এই! তরিকুল!

এই!

তরিকুল!

এখানে অনেকগুলো কবর, তাই না?

আমার মাও এখানে ঘুমিয়ে।

এতদিন পর মনে হচ্ছে...

...অন্ধ হয়ে ভালই হয়েছে।

তরিকুলের...

মৃত মুখটা আমাকে আর দেখতে হল না।

ও হাসত...

কথা বলত...

সেই হাসি মুখটাই আমার...

স্মৃতিতে থেকে যাবে।

একের পর এক...

সবাই আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে।

একা হয়ে গেলাম আমি।

ভাল থাকিস, তরিকুল।

আখতার গোষ্ঠীর সমস্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকার

আমার মেয়ে, নেহা।

আজ সে আমাদের মাঝে নেই।

তাই আমি একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

তার সমস্ত সম্পত্তি

আমি সুবিধে বঞ্চিত মানুষের কল্যাণে দান করব।

আমার বিশ্বাস...

এতে তার আত্মা শান্তি পাবে।

আপনারা ওর জন্য দোয়া করবেন।

আরে এশা যে।

কী হল? দাঁড়িয়ে আছো কেন?

বসো, বসো। বসো না।

আর বোলো না!

চারিদিকে যা হচ্ছে...

ইয়ে...

কী অবস্থা ওদিকের?

দফন ঠিকঠাক হয়েছে?

রুমি... ইশ!

ও যে কীভাবে কী করবে কে জানে।

এমনিতেই চোখে...

নিতেই পারছি না আমি একদম।

কাল আবার এক জায়গায় এমন ফেঁসেছি, কোনোভাবে বেরোতেই পারিনি।

অনেক চেষ্টা করেছি।

মর্গ থেকে লাশটা ঠিকঠাক বের করতে পেরেছিল তো?

কিছুই তো বলছ না।

আমি নিজে থেকে ফোন করেছিলাম।

ওদের বলেছিলাম পোস্টমর্টেমের পর লাশটা ভালভাবে হস্তান্তর করতে।

মানে, আমি--

কাকু।

আমার টাকা লাগবে।

টাকা তো দেব।

দিতেই তো চাই।

আমি তো আগে থেকেই ভেবে রেখেছি...

তোমাদের টাকাটা বাড়িয়ে দেব।

এই প্রোজেক্টটা আগেরটার চেয়ে আরও বড়।

টাকা দেব তো।

আমি ওই ভিডিওগুলো আর করতে চাই না।

আপনি আমাকে আরও কিছু টাকা দিন।

আমি কিছুদিন পর অনেক টাকার মালিক হব।

আরে...

আমি আপনাকে দু গুণ টাকা ফেরত দেব।

আচ্ছা, দিও, দিও।

আমি তো চাই তোমার অনেক টাকা হোক।

আর অনেক টাকা করতে গেলে তো তোমায় অনেক কাজ করতে হবে।

শুটের তারিখটা বলো।

এই প্রোজেক্টগুলো কী সুন্দর বলো?

তাড়াতাড়ি শুটের তারিখ দাও।

একটা চমৎকার কাজের সম্পর্ক হয়েছে আমাদের।

সম্পর্কগুলো ভাল রাখাই ভাল।

ভিডিওগুলো কখন কোত্থেকে ছড়িয়ে যায়

সবসময় তো আটকে রাখতে পারব না আমি।

এ এক ঝামেলা!

তুমি বরং শুটের তারিখটা বলো।

তুমি তো সরাসরি আমার অফিসেও আসতে পার।

আমার দরজা তোমার জন্য সবসময় খোলা।

ওকে, সোনা।

ভাল থেকো।

আসি।

সন্ধের পর পরই আমাকে বেরিয়ে যেতে হবে।

পুলিশ যে কোনও মুহূর্তে এখানে আসতে পারে।

তোর ভেতর কী আছে রে

যেটা আমার ভেতর ছিল না?

হুম?

অবশেষে তুমি এলে।

একটা ভুলের জবাব কখনওই আরেকটা ভুল হতে পারে না।

নিজের ঊর্ধ্বতন অফিসারের গায়ে থুতু!

বিরাট অপরাধ!

কিন্তু ওনার অপরাধের জন্য যে একটা ছেলে মারা গেল?

এভাবে কেন বলছ?

আরিয়ান তো ইচ্ছে করে ব্যাপারটা ঘটায়নি।

সজীবকে গ্রেপ্তার করাটাও জরুরি ছিল।

কে জানত রুমির কাজের লোকের সঙ্গে সেদিনই এই ঘটনা ঘটবে?

আরিয়ান আইজি স্যারের কাছে অভিযোগ জানাবে ভেবেছিল।

আমি অনেক বুঝিয়ে ওকে ফিরিয়েছি।

একবার অভিযোগ জমা পড়লে...

বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী অন্তত এক বছর তোমায় সাসপেন্ড থাকতে হত।

-উনি আমায় এমনি এমনি ক্ষমা করেছেন? -না।

তোমায় ওর কাছে ক্ষমা চিতে হবে।

আর নেহা হত্যা মামলা থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।

এটাই আরিয়ানের শর্ত।

জানেন, স্যার?

আমি নিজের কাজকে খুব ভালবাসি।

নইলে আজকেই ছাড়তাম।

তুমি এখন এসো।

হ্যাঁ, স্যার।

স্যার।

আমি ক্ষমাপ্রার্থী।

"আরিয়ান হক"

কুকুরটা যেন সাক্ষাৎ পিশাচের রুপ ধারণ করল।

বাচ্চাটার লাশটা বীভৎসভাবে খেতে লাগল।

ধারালো এবং হিংস্র দাঁতের আঘাতে লাশটা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল।

সুন্দরি মহিলা দূরে দাঁড়িয়ে হাসতে লাগলেন।

সে হাসি ভয়ঙ্কর।

জানো, এশা?

স্বপ্নের যে সুন্দরি মহিলা...

সে ছিল আমার মা।

আর কাফনে মোড়ানো বাচ্চাটা ছিলাম আমি।

চিন্হটা জটিল, স্যার।

কাকিমা তো আপনাকে ভালবাসতেন।

উনি কেন আপানাকে কুকুরের খাবার হতে দেবেন?

আমি আমার মায়ের মৃত্যুরহস্য উদ্ঘাটন করতে পারিনি।

সে জন্য হয়ত আমার উপির তার রাগ ছিল।

একটা বিষয় নিয়ে আমি খুব ঘেঁটে আছি।

এই যে স্বপ্ন...

এর সঙ্গে কি নেহা জড়িত?

নাকি আমার মা?

বা তরিকুল?

বা আমিও জড়িত?

জানি না, স্যার...

আপনাকে আর কতটুকু আমি সাহায্য করতে পারব।

এশা।

কেসের ভেতরে থাকার চেয়ে বাইরে থেকে সমাধান করা...

...অনেক বেশি সুবিধের।

ডিপার্টমেন্ট হয়ত জানে তুমি এই কেসের সঙ্গে নেই।

কিন্তু এতদিন যাদের নিয়ে তদন্ত করেছ তারা তো জানে না।

তুমি তদন্ত চালিয়ে যাও।

শোভান ভাই বাড়ি কেমন সামলাচ্ছে?

ভালই।

শুধুমাত্র...

তরিকুলের মতো চাউমিন বানাতে পারে না।

ও!

তুমি কি বশীরকে গ্রেপ্তার করার কাজ শুরু করেছ?

হ্যাঁ, স্যার।

আপনি মুজিবুরের কাছ থেকে যে তথ্যগুলো আমাকে দিয়েছিলেন...

আমি সরাসরি আশরাফ স্যারকে সেটা জানিয়েছি।

তার ভিত্তিতেই আমরা বশীরের খোঁজ চালাচ্ছি।

আচ্ছা।

মালটা কোত্থেকে এনেছ?

-চল। -ভাল।

-এই, এই বাড়িটা? -হ্যাঁ।

নিশ্চিত হলি কীভাবে?

আগে এসেছিস এখানে?

আমার আর নেহার ভিডিওটা এখানেই হয়েছে।

বশীর সব ভিডিও এখানে বানায়।

জায়গাটা পুলিশের নাগালের বাইরে।

তাই নিরাপদ।

খুব চলাক।

সজীব।

সজীব!

চল, চল।

-চল। -ধ্যাত!

চল!

সজীব, চল!

চল!

টেবিলে খাবার দেওয়া আছে, মা।

খাবি না? ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে তো।

খাব, মা।

-তুমি খেয়েছ? -খেয়েছি।

টিভি তো দেখছিস না। বন্ধ করে দিই?

আমি করে দেব। তুমি গিয়ে শুয়ে পড়ো।

ঠিকাছে।

খাবারটা খেয়ে নিস।

বাঁচাও!

বাঁচাও!

বাঁচাও!

চা বা কিছু খাবেন?

না, স্যার।

আমি কিছু খাব না।

সার, আমি কি ন্যায়বিচার পাব?

একমাত্র আপনার উপর ভরসা করে ছিলাম।

কিন্তু এখন তো আপনিও...

সমস্যা নেই।

আমার অন্ধ হওয়ার সঙ্গে আপনার ন্যায়বিচারের সম্পর্ক নেই।

আপনি বিচার পাবেন।

তদন্ত কমিশন রিপোর্ট দিলেই বিচার শুরু হয়ে যাবে।

স্যার।

আমি জানি আমার বর খারাপ মানুষ ছিল।

কিন্তু ও মানুষ খুন করেনি।

ও যা করেছে তার জন্য ওর জেল হত।

আবার ছাড়াও পেয়ে যেত।

কিন্তু ওরা ওর উপর অত্যাচ্র করে ওকে মেরে ফেলেছে।

ওই আরিয়ানের বিচার আপনি না করলেও আল্লা একদিন ঠিকই করবে।

আপনি ধৈর্য ধরুন।

এতদিন ধরেছেন। আর কিছুদিন অপেক্ষা করুন।

আপনি অবশ্যই ন্যায়বিচার পাবেন।

আপনার ছেলেটার কী খবর?

আর খবর।

বাপ-মা পাপ করলে সন্তানের উপরেই পড়ে।

ওকে পেটে নিয়ে নেশা করতাম আমি।

এখন আমি নেশা ছেড়ে দিয়েছি।

কিন্তু ও ধরেছে।

ওর বাপটা বেঁচে থাকলে শাসন করতে পারত।

কী ব্যাপার, এশা?

আজ এত সকাল সকাল?

অফিস যাওনি?

নাকি নতুন কিছু ঘটেছে?

বশীর মারা গেছে, স্যার।

কীভাবে?

নেহার মতো করেই বশীরকে খুন করা হয়েছে।

পুলিশ আসিবার পূর্বেই

আসামিটি মরিয়া গেল।

এই দুজনকে একইভাবে খুন করা হয়েছে।

তাই আমার বিশ্বাস...

দুজনের খুনি একই ব্যক্তি।

তবে আমি বশীরের কথা বলার জন্য আসিনি।

তাহলে?

আচ্ছা, আপনি যে স্বপ্নগুলো দেখেন...

সেগুলো কি আপনি কোনও সিনেমার দৃশ্যে দেখে থাকতে পারেন?

তারপর আপনার হুইস্কির গ্লাস ফেলার ব্যাপারটা...

আপনি বুঝলেন কীভাবে হুইস্কির রং বদলেছে?

কেন?

তুমি নিজেই তো বলো...

আমার ইউএসপি প্রখর।

"যাপন কোরো না অর্ধেক জীবন।

গ্রহণ কোরো না অর্ধেক মরণ।

যদি নীরবতা বেছে নাও তাহলে নীরব থাকো।

আর যদি কথা বলো, শেষ পর্যন্ত কথা বলে যাও।"

এই যে তোমার মনের মধ্যে এত প্রশ্ন।

উত্তরগুলো তোমার মধ্যেই আছে।

একটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই পেয়ে যাবে।

বুঝলাম না, স্যার।

আমার বিশ্বাস...

নেহার মাদকাসক্তি বংশগত।

ও যখন মায়ের পেটে তখন নিশ্চয়ই তিনি ড্রাগ নিতেন।

গর্ভাবস্থায় কোনও মা ড্রাগ নিলে

তার সন্তানের মাদকাসক্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে ৬০ শতাংশ।

সোনিয়া আখাতারকে দেখে কখনও মনে হয়নি নি ড্রাগ নিয়েছেন।

এশা।

একটা কথা ম্নে রাখবে।

এই পৃথিবীতে প্রত্যেক মানুষের একটা অতীত থাকে।

এবার আমাদের বের করতে হবে স্নিগ্ধা নামটার সঙ্গে নেহার সম্পর্ক।

আমার ধারণা, এটা শুধুমাত্র সোনিয়াই জানতে পারে।

তুমি ওর সঙ্গে আমার দেখা করানোর ব্যবস্থা করো।

আমি আরেকবার চা খেতে খেতে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাই।

বশীর কীভাবে মারা গেল সেটা কি জানা গেছে?

অটোপসির রিপোর্ট এখনও আসেনি।

তবে খুব শিগগিরই আমরা জানতে পারব।

প্রকৃতি তার বিচারটা নিজের হাতে করেছে।

আপনি ঠিকই বলেছেন।

বশীর সম্পর্কে আমি যা শুনলাম

তাতে মনে হয় এই ধরনের মানুষের বেঁচে থাকার কোনও অধিকার নেই।

আপনাকে এভাবে দেখে আমার খুব খারাপ লাগছে।

অনেক আগে একটা পত্রিকায় পড়েছিলাম।

অনেক দক্ষতার সঙ্গে আপনি একটা কেসের সুরাহা করেছিলেন।

সে সব এখন স্মৃতি।

পুরনো অতীত।

এখন আমি শুধুমাত্র একজন অবসরপ্রাপ্ত গোয়েন্দা।

যাক গে।

আপনার গ্রামের বাড়ি তো টাঙ্গাইলে, না?

আজ্ঞে না।

মৈমনসিংহ।

ও, আচ্ছা।

বাবা-মার কাছে তাদের সন্তানের মৃত্যুর চাইতে

বেদনার আর কিছু নেই।

আমি অবশ্য এশার কাছে শুনেছি।

নেহা যখন খুব ছোট...

তখন একবার সে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে।

কিন্তু এবার আর শেষ রক্ষা হল না।

জন্ম থেকে নেহার প্যারালিটিক পোলিও ছিল।

একটা সময় ওর নীচের অংশ প্যারালাইজড হয়ে যায়।

আমি পোলিওর ব্যাপারটা জানি।

কিন্তু প্যারালিটিক পোলিও মানে?

পোলিওর মধ্যে এটা সবচেয়ে দুর্লভ এবং ভয়ঙ্কর।

ওর জন্যই...

মি ইউএসএ চলে গিয়েছিলাম।

বারো বছর ওখানে চিকিৎসা করিয়ে

ওকে সুস্থ করে আমরা দেশে ফিরি।

এখন মনে হচ্ছে না আসাটাই ভাল ছিল।

ওখানে থাকলে অন্তত আমার সন্তানকে হারাতে হত না।

দেখুন।

আমি আশা করি

আসামীর এমন করুণ পরিণতি আপনাকে খানিক হলেও স্বস্তি দিয়েছে।

তাই না, স্নিগ্ধা আপা?

আমি স্নিগ্ধা ন।

ও।

-সোনিয়া। -সরি।

আমি দুঃখিত।

আসলে দুর্ঘটনার পর থেকে স্যার অন্যমনস্ক হয়ে গেছেন।

আজকাল কিছুই মনে থাকে না।

আপনার একটা সাহায্য লাগবে আমার।

মাদের আইজি স্যার

নেহার উদ্দেশ্যে একটা ভিডিও বানাতে চান।

আপনি তো জানেন তিনি রশিদ সাহেবের ভাল বন্ধু ছিলেন।

এই ভিডিওর জন্য নেহার ছোটবেলার কিছু ছবি লাগবে আমাদের।

ঠিকাছে। আপনারা বসুন।

আমি ছবি নিয়ে আসছি।

ধন্যবাদ।

ধন্যবাদ।

এশা।

হ্যাঁ, স্যার?

অ্যালবামে নেহার ছোটবেলার যে ছবি দেখেছিলে...

সেখানে ওর সবচেয়ে কমবয়সের ছবি ছিল কত বছরের?

পাঁচ বছর।

পাঁচ বছর।

এবং সেগুলো ও বিদেশে থাকতে তোলা, তাই তো?

হ্যাঁ।

কিন্তু পাঁচ বছরের আগের ছবি উনি খুঁজে পাননি।

বলেছেন খুঁজে রাখবেন।

আমি যেন পরে এসে নিয়ে যাই।

হুম।

-আমি যখন স্নিগ্ধার কথা বলব... -হুম।

তখন সোনিয়ার অভিব্যক্তি লক্ষ করছিলাম।

তার চেহারায় কোনও পরিবর্তন দেখা যায় কিনা।

খেয়াল করেছিলে?

হ্যাঁ, স্যার।

কিন্তু উনি তো স্বাভাবিক ছিলেন।

কী হয়েছে, স্যার?

আপনি কি কিছু নিয়ে চিন্তিত?

এই গানটা শোনো।

আমরা যখন কোনও বাড়ি বানাই

তখন সেই বাড়ির তো একটা নাম দিতে হয়, না?

হুম।

কিন্তু যখন একটা শিশু তার মায়ের পেটে থাকে

তখন তার বাড়ি কোনটা?

স্যার।

মায়ের শরীরেই তো সন্তানের বাড়ি।

হ্যাঁ।

মায়ের নামই সন্তানের বাড়ির নাম।

আমার কেন যেন মনে হচ্ছে

স্নিগ্ধাই নেহার আসল মা।

এবং নেহা যখন স্নিগ্ধার পেটে...

তখন স্নিগ্ধা ড্রাগ নিত।

তোমাকে স্বপ্নের কথা বলেছিলাম না?

আমি নবজাতকের মতো একটা ঘরের মেঝেতে শুয়ে।

চারিদিক থেকে ধোঁয়া আমাকে আচ্ছন্ন করছে।

সেই বাড়িটার নাম কী ছিল?

স্নিগ্ধা।

স্নিগ্ধা।

আমার বিশ্বাস...

সোনিয়ার আরেক নাম স্নিগ্ধা না হলে সে নেহার আসল মা নয়।

আমার মনে হয়...

...পুলিশের কাছে গেলেই ভাল হত।

বা* হত!

পুলিশ এমনিই আমায় সন্দেহ করছে।

গ্রামের বাড়িতেও গেছে।

এখন গেলে জেলে ভরবে।

ভরলে তোকে ভরবে।

আমার কী?

আমি কিছু করেছি?

খা**র ছেলে!

-পুলিশ-- -আরে চুপ থাক না!

স্যার।

দুটোকেই পাওয়া গেছে।

দুটোকে মানে?

আমি কী করেছি?

আমি কিছু করিনি।

বল!

বল!

বল, শুয়োরের ব**!

মুখ খোল!

বলবি না?

বলবি না?

বলবি না শালা?

বল! বল!

বলবি?

বলবি?

বলবি?

বলবি না?

বল। বলবি না?

বলবি না তোরা?

শুয়োরের ব**, বল!

বল, কু**র বাচ্চা!

মুখ খোল!

-স্যার! -কী?

স্যার, মরে যাবে তো।

নেহার মা ওকে টাকা দিত না।

ওর ব্যাঙ্ক একাউন্টও বন্ধ ছিল।

আমার কাছেও কোনও টাকা ছিল না।

কিন্তু...

আমাদের খুব নেশার বাই উঠত।

পরে...

নেহা ওর চাচা, বশীরের কাছে যায়।

যাওয়ার পর...

উনি আমাদের দিয়ে একটা ভিডিও শুট করান।

টাকার জন্য কাজটা করেছি, স্যার।

নইলে করতাম না।

তাই তুমি আর অর্ণব, দুই বন্ধুতে

বশীরের জঙ্গলের বাড়িতে গেলে ওকে খুন করতে।

কারণ বশীর নেহাকে খুন করেছে।

বশীরের মোটিভ কী?

একটা ভিডিও করার পর থেকে...

ও বারবার নেহাকে বিরক্ত করত।

খালি ডাকত আবার ভিডিও করতে।

খুব বিরক্ত করেছে।

আর বশীর নেহাকে খুন না করলে

পুলিশের কথা শুনে পালাল কেন এখান থেকে?

অর্ণব।

ও তোমায় সাহায্য করেছে কেন?

অর্ণবও নেহাকে পছন্দ করত।

আমি ওকে বলি বশীর নেহাকে খুন করেছে।

পরে ও আমার সঙ্গে বশীরের কাছে যায়।

তাছাড়া ওর কোনও দোষ নেই।

গাধা নাকি তোমরা?

মাথায় এতটুকু বুদ্ধি নেই?

সময় মতো পুলিশের কাছে আসতে।

বশীরকে জীবিত ধরতে পারতাম আমরা।

জল খাও।

(প্রার্থনা করছে)

এশা!

সোনিয়া কি নেহার ছোটবেলার ছবি পেয়েছেন?

না, স্যার। এখনও পাননি।

আর জীবনে কোনওদিন পাবেন বলে মনে হয় না।

মানে?

আপনি কি আবার কোনও স্বপ্ন দেখেছেন?

দেখেছি। কিন্তু...

তার সঙ্গে এই কেসের কোনও মিল নেই।

কী স্বপ্ন, স্যার?

আচ্ছা...

আমরা কি ব্রিজের উপর উঠে গেছি?

হ্যাঁ, স্যার।

আমাকে একটু রেলিংয়ের পাশে দাঁড় করাও।

এই যে। এদিকে।

এই ব্রিজটা আমার খুব প্রিয়।

মনে হয় যেন পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে আছি।

আচ্ছা, এশা।

হ্যাঁ, স্যার?

ডাক্তারিতে কত ধরনের পোলিওর বর্ণনা আছে?

তুমি কি জানো

প্যারালিটিক পোলিও হচ্ছে সবচেয়ে মারাত্মক?

না, স্যার।

নেহা কী ধরনের নাচ করত যেন?

ক্লাসিকাল।

-ক্লাসিকাল? -হ্যাঁ।

ছোটবেলায় কারুর প্যারালিটিক পোলিও হলে তার পক্ষে তো ক্লাসিকাল নাচা সম্ভব না।

পুরস্কার পাওয়া তো দূরের কথা।

বুঝলাম না, স্যার।

তোমাকে একটা কথা বলেছিলাম।

ভুলে গেছ বোধহয়।

বিশ্বাস আর সুযোগ।

মনে আছে?

হ্যাঁ, স্যার।

আমার বিশ্বাস ছিল সোনিয়া মিথ্যে কথা বলবে।

তাই প্রকৃতি সেটা প্রমাণ করতে আমাদের একটা সুযোগ করে দিল।

সোনিয়া ভাবল কেস বন্ধ হয়ে গেছে।

সে নিশ্চিন্ত হয়ে পড়ল।

তারপর ভুল বলা শুরু করল।

সে প্যারালিটিক পোলিওর কথা না বলে

অন্য কোনও পোলিওর কথা বললে তাকে আর সন্দেহ করতে পারতাম না।

কিন্তু সোনিয়া কেন মিথ্যে কথা বলবেন?

আইজি স্যারের ভিডিও বানানোর কথা...

হুম।

-তোমায় সোনিয়াকে বলতে বলেছিলাম। -হুম।

এই মিথ্যেটা বলার পেছনে একটা কারণ ছিল।

সোনিয়া যাতে তোমাকে নেহার ছোটবেলার ছবিগুলো দেয়।

কিন্তু সে পাঁচ বছরের নীচের কোনও ছবি তোমাকে দেখাতে পারেনি।

এখানে পাঁচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আমি স্বপ্নে যে দুটো বাচ্চাকে দেখেছি

তাদের দুজনের বয়সই পাঁচ।

একজন একটা মেয়ে।

অন্যজন আমি।

তুমি এক কাজ করো।

-মৈমনসিংহ যাও। -হুম।

ওখানে গিয়ে সবকটা রিহ্যাব সেন্টারে খোঁজ নাও

দু হাজার আট সালে স্নিগ্ধা নামে কত রোগী সেখানে ভর্তি ছিল।

বুঝেছ?

স্যার।

মৈমনসিংহে সব মিলিয়ে চারটে নিরাময় কেন্দ্র আছে।

একটায় ২০০৮ এ স্নিগ্ধা আলম নামে একজনের কথা জানা গেছে।

উনি নাকি ২০০৫ এ এখানে ভর্তি হন।

তারপর ২০১০ এর দিকে তিনি মারা যান।

স্নিগ্ধার যে ঠিকানা আপনারা দিয়েছিলেন

সেখানে গিয়ে তো কিছুই পাওয়া যায়নি।

কোনও বাড়িঘর নেই। ধুধু মাঠ।

যে ফোন নম্বর দিয়েছেন সেটাও এখন আর ব্যবহার হচ্ছে না।

ষোলো বছর কি কম কথা, আপা?

হয়ত সেখানে বাড়ি ছিল। এখন আর নেই।

আসলে এখানে যারা চিকিৎসা নিতে আসে তারা কেউই আসল ঠিকানা দেয় না।

ফোন নম্বরও আসল দেয় না।

যাতে তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে না পারি।

তাদের বোঝা আমাদের কাঁধে চাপিয়ে পালিয়ে যায়।

ম্যাডাম।

আমায় একটু সুযোগ দিলে আমি কয়টা কথা বলতাম।

উনি আমার বড় বোন লাগতেন।

সৎ বোন।

কিন্তু কোনওদিন বুঝিনি।

আপন বোনের মতোই পিরিত ছিল।

আমি তিরিশ বছর বিদেশে থাকি।

কোরিয়ায়।

তাই জানতেও পারিনি বোনটা কবে মরে গেছে।

কেউ খবরও দেয়নি।

দেশে এসে শুধু জানতে পারলাম বোনটা আর নেই।

আর আমার নাকি একটা ভাগ্নিও ছিল।

কিন্তু সে মেয়ে কোথায় আছে, কেমন আছে, তাও জানি না।

আপনি একটু সাহায্য করলে খুব উপকার হয়।

হ্যাঁ, খুব উপকার হয়।

আমি তো এখানে আছি ২০১৪ থেকে।

তার আগেই মনে হয় উনি মরে গেছেন।

আর ওই মেয়ের কথা বললেন না?

তাড় ব্যাপারে আমি কিছু বলতে পারব না।

একটা মেয়ে ছিল।

মাঝেমধ্যে মায়ের সঙ্গে দেখা করতে আসত।

আমাদের এখানকার তো অ্যালবাম আছে।

তাতে স্নিগ্ধা আর ওর মায়ের ছবি থাকলে থাকতেও পারে।

আপনি ওঁদের দেখান।

পেলেন কিছু?

ভাই, আপনার বাড়ি কোথায়?

আমার বাড়ি পাবনা, সুজানগর।

হ্যাঁ!

আপনার কথা শুনেই বুঝেছি আপনি আমার এলাকার মানুষ।

আমার বাড়ি তো সাতবাড়িয়া।

বিয়ে হয়েছে নাটোরে।

আমি অবশ্য আপনার কথা শুনে বুঝিনি।

নাটোরে বিয়ে হয়ে মনে করুন, কথা ঢং বদলেছে, না, আপা?

আচ্ছা, ভাই...

আপনি কানা হলেন কীভাবে?

কপাল, কপাল।

স্যার, আপনিই ঠিক ছিলেন।

সোনিয়া নেহার আসল মা না।

আমি আমার দুঃস্বপ্নের কথা কী বলেছিলাম?

সেখানে আমি দেখেছি, আমার মা আমাকে কুকুর দিয়ে খাওয়াচ্ছে।

এর অর্থ হল...

একজন মা তার সন্তানকে হত্যা করেছে।

এবার তুমি এক কাজ করো।

সোনিয়াকে গ্রেপ্তার করো।

তাহলে দেখবে সমস্ত ঘটনা আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসবে।

পরিষ্কার?

সুজানগর?

সুজানগর।

টাকার জন্য আমি...

আমার চেয়ে ৩০ বছরের বড়, রশিদ আখতারকে বিয়ে করি।

বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি...

আরামদায়ক জীবন...

এসবের প্রতি আমার খুব আকর্ষণ ছিল।

আমাদের দুকনের সম্পর্কে...

কোনও ভালবাসা ছিল না।

ছিল শুধু অপেক্ষা।

রশিদের মৃত্যুর অপেক্ষা।

আমি ইচ্ছে করে গর্ভবতী হই।

কারণ আমি একটা কথা জানতাম।

তার সমস্ত সম্পত্তি...

তার সন্তানের মাধ্যমে আমি পেতে পারি।

কিন্তু নেহা ভয়ানক অসুস্থ হয়ে জন্মায়।

ওর জন্মে ভালবাসার ভূমিকা ছিল না।

তাই প্রথম থেকেই ওর প্রতি ছিল আমার বিতৃষ্ণা।

ওর জন্মের পর সেটা আরও বেড়ে যায়।

জরাজীর্ণ ওই বাচ্চাটাকে আমার সারাক্ষণ মেরে ফেলতে ইচ্ছে করত।

রশিদ বোধহয় সেটা টের পেয়েছিল।

তাই সে মেয়ের নিরাপত্তার জন্য সমস্ত সম্পত্তি ওর নামে উইল করল।

কিন্তু ওর ২১ হওয়ার আগে পর্যন্ত সব সম্পত্তি বাবা-মা দেখাশুনো করবে।

আর ২১ হয়ে গেলেই সব সম্পত্তির মালিক হবে নেহা।

এর মাঝে ও মারা গেলে...

সব সম্পত্তি অনাথ আশ্রমের ট্রাস্টে চলে যাবে।

যে আশা নিয়ে আমি রশিদকে বিয়ে করলাম, সেটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল।

নেহা যত বড় হচ্ছিল...

তত তার অসুস্থতা বাড়ছিল।

আমার সমস্ত আশা শেষ হয়ে যাচ্ছিল।

ঠিক এমন সময়...

...একটা সুযোগ এলো আমার হাতে।

রশিদের মৃত্যু।

মারা গেল রশিদ।

সবকিছু আমার দিকে চলে এলো।

আমি যা খুশি করতে পারব।

নেহা এত অসুস্থ ছিল...

আমি আর ঝুঁকি নিতে চাইনি।

কারণ ও মরে গেলে আমি আর ওই সম্পত্তি পেতাম না।

তাই...

আমি নিজে হাতে আমার পাঁচ বছরের মেয়ে, নেহাকে মেরে ফেলি।

বাড়ির পেছনে বাগানে ওর ছোট্ট বডিটাকে লুকিয়ে ফেলতে

আমার খুব একটা কষ্ট হয়নি।

তারপর আমি আমার শহর মৈমনসিংহে যাই।

গোপনে ওর বয়সী একটা বাচ্চা দত্তক নিই।

বাচ্চাটার বাবা-মা ছিল মাদকাসক্ত।

খুব অল্প টাকার বিনিময়ে বাচ্চাটাকে বিক্রি করে দেয়।

আমি মেয়েটাকে নিয়ে ইউএসএ চলে যাই।

সেখানে বসে আমার সম্পত্তি আর ব্যবসা দেখাশুনো করতাম।

মাঝেমধ্যে দেশে ফিরতাম।

কিন্তু নেহাকে আনতাম না।

তারপর নিশ্চিত হলাম, ওর ছোটবেলার চেহারা কারুর মনে নেই।

তখন নেহাকে নিয়ে দেশে এলাম।

নকল নেহার বয়স ২১ হলে

তার কাছ থেকে সম্পত্তি বুঝে নেওয়ার প্ল্যান ছিল আমার।

কিন্তু সে আমায় ধোঁকা দিল।

আমাকে সম্পত্তি দিতে অস্বীকার করে।

সে ভেবেছিল ওই সম্পত্তি দিয়ে বাকি জীবন নেশা করে কাটাবে।

আমার আসল চেহারা ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেয় সে।

আমি তাকে ৫০ লক্ষ টাকা দিতে চাই।

কিন্তু সে রাজি হয় না।

তার পুরো টাকাই চাই।

আমি তাকে কোণঠাসা করতে তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দিই।

কিন্তু তাতে কী লাভ?

একুশ হলে এমনিতেই সবকিছু তার হয়ে যাবে।

আমি বশীরের সাহায্য নিই।

ও আমাকে পছন্দ করত।

তার মাধ্যমে আমি নেহাকে দিয়ে পর্ন ভিডিওতে অভিনয় করাই।

ভিডিওগুলো কখন ফাঁস হয়ে যায়...

সবসময় তো আটকে রাখতে পারব না আমি।

আমি ওই দিয়ে নেহাকে ব্ল্যাকমেল করতে চেয়েছিলাম।

কিন্তু সে নিজের মানসম্মান নিয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত ছিল না।

তার দরকার ছিল শুধু টাকা আর টাকা।

সে আমার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিল।

কে এসেছিল?

বশীর আঙ্কেল।

তুমি এখানে কেন এসেছ?

আমি ভেবে দেখলাম তুমিই ঠিক।

তোমার টাকা আমার তোমাকে বুঝিয়ে দেওয়া উচিত।

তোমার জন্য আমার একটা অফার আছে।

আশা করি তোমার ভাল লাগবে।

খুব ক্লান্ত দেখাচ্ছে তোমাকে।

কফি খাবে?

ঠিক যেভাবে ছোট্ট নেহাকে হত্যা করেছিলাম...

সেভাবে আমি নেহাকে হত্যা করলাম।

আমি আমার সব কাজে বশীরকে ব্যবহার করি।

শেষবারের জন্য আবারও ওকে ব্যবহার করলাম।

বাড়ি থেকে সব আঙুলের ছাপ মুছে ফেললাম।

বশীরেরগুলো ছাড়া।

বশীর ধূর্ত ছিল।

পুলিশ আসার কথা শুনে পালিয়ে গেল।

সবটাই আমার কথায় বিশ্বাস করে

ভুল করল।

নিজের ঠিকানা আমাকে বলে দিল।

অবশেষে তুমি এলে?

বশীরের হাঁফানির সমস্যা আমাকে সাহায্য করল।

আমার একটা কথা মনে হল।

বশীর এই কেসের মূল সন্দেহভাজন।

তাই ও মরে গেলে কেস দুর্বল হয়ে যাবে।

কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।

ঠিক।

অপরাধীরা সবসময় ভুল করে।

স্যার, সোনিয়া সন্দেহ এড়াতে

সমস্ত সম্পত্তি ট্রাস্টকে দান করার নাটক করেছে।

এই ট্রাস্ট তার নিজেরই।

এবং সে আড়ালে থেকে একে পরিচালনা করে।

সোনিয়াকে গ্রেপ্তার করার কথা আমরা কখনওই ভাবতাম না।

কিন্ত্রু সেটা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র এশার কারণে।

এই কেস থেকে ওকে সরিয়ে দেওয়ার পরও সে তদন্ত চালিয়ে যায়।

অত্যন্ত সাহসী কাজ।

আগামী পরশু তদন্ত কমিশন রুমির সাক্ষ্য নেবে।

আমি চাই তুমি ওর সঙ্গে কথা বলে ওকে বোঝাও।

নিজেদের ভুল বোঝাবুঝিটা দূর করে ফেলো।

রুমি খারাপ কিছু বললে...

তুমি বিপদে পড়বে।

সেটা বোঝো আশা করি।

আমাকে নিয়ে চিন্তা করবেন না, স্যার।

আপনি কাজ সেরে আসুন, ড্রাইভার সাহেব।

আমাদের একটু সময় লাগবে।

স্যার, নীলা আন্টি দেশে ফিরেছেন কবে?

উনি গতকালই ফিরেছেন।

ওঁর ছেলে আমাকে কাল রাতে ফোন করে জানিয়েছে।

একটু সাবধানে। এখানে একটা আইল্যান্ড আছে।

স্যার, একটু...

স্যার, একটু।

কী হয়েছে?

কী হয়েছে?

নীলা আন্টি মারা গেছেন।

ওনার ছেলে, , ছেলের বৌ বাড়ির বাইরে গিয়েছিলেন।

এসে দেখেন মেঝেতে পড়ে আছেন।

তাঁদের কান্নার শব্দ শুনে আমরা পাশের ফ্ল্যাট থেকে এসেছি।

-এশা। -এসে দেখি এই অবস্থা।

এশা।

মানুষটা খুব ভাল ছিল।

স্যার আপনি ঠিক আছেন?

চলো।

চলুন।

আমার শরীরটা ভাল লাগছে না।

তুমি আমায় একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দাও।

আমি আপনাকে পৌঁছে দিচ্ছি চলুন।

তুমি এখানে থাকো।

সবটা জানো।

যাও।

বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ো এক্ষুনি।

এবার শেষ করে দিও।

প্লিজ।

সিকিউরিটি।

সিকিউরিটি।

এই, সিকিউরিটি।

সিকিউরিটি।

দরজা খোলা কেন?

সোভান।

এই, সোভান।

সোভান।

সোভান!

সোভান।

এই, সোভান।

সোভান।

কীরে?

কতক্ষণ ধরে তোকে ডাকছি।

কানে শুনিস না? কোথায় ছিলি তুই?

কথা বলছিস না কেন?

কীরে?

এই।

চুপ।

সোভান কে বে?

আমি বিদেশী অতিথি।

তোর যমজ ভাই।

একই মায়ের পেটে আমাদের জন্ম।

আমাদের বাপও সেম সেম।

তোরা যেটাকে পুটকি বলিস...

আমরা সেটাকে বলি পোঁ*।

বুঝেছিস?

কে আপনি?

কী উল্টোপাল্টা বলছেন?

আমার বাড়িতে ঢুকলেন কীভাবে?

এই!

বোকা*দা নাকি রে?

ছাদের উপর কি হেলিপ্যাড বসিয়েছিস?

সেখানে হেলিকপ্টারে নেমে সিঁড়ি বেয়ে বেয়ে নীচে নামব?

হেঁটে হেঁটে ঢুকেছি তোর বাড়িতে।

বাইরে পুলিশ দাঁড়িয়ে ছিল।

আমাকে দেখা মাত্র তুই ভেবে দু ফাঁক করে স্যালুট মারল।

বুঝেছিস?

-স্যার। -স্যার।

ব্যাস।

গটগট করে ঢুকে পড়লাম তোর বাড়িতে।

এই, সোভান!

সোভান!

ইঃ!

ডেকে লাভ নেই।

সোভান আর তরিকুলকে এক জায়গায় পাঠিয়ে দিয়েছি।

ওরা সেখানে বসে বসে গাঁজা টানছে।

বুঝেছিস?

এই।

তোর মা তোকে বলেনি

কলকাতায় তোর একটা যমজ ভাই আছে?

আমিই সেই মাল।

শালা!

তোর মাটা কী হারামি রে!

দু বছরের...

...বাচ্চাকে ফেলে...

একটা দুধের শিশুকে ফেলে তোকে সঙ্গে নিয়ে এই দেশে চলে এলো।

রেখে আসলো কার কাছে?

খচ্চরের মতো একটা বাপের কাছে।

প্রত্যেক রাতে সোনাগাছিতে যেত। আমাকে পেটাত শালা!

খরচা দিত না।

শালা দু নম্বরি করে বড় হয়েছি।

কুড়ি বছর জেল খেটেছি, মাদারচ*দ!

তোর মায়ের জন্য।

জেলে বসে প্রতিজ্ঞা করেছি প্রতিশোধ নেব।

নিয়েছি।

ছাদের উপর থেকে তোর মমতাময়ী মাকে ধাক্কা মেরে

সোজা পরপারে পাঠিয়ে দিয়েছি।

মজার কথা কী জানিস?

তোর মা আমাকে তুই ভেবে কত আদর করছিল।

তুই বল তো।

তুই তো আইনের লোক।

এটা কোন আইন রে?

তুই আমি দেখতে সেম সেম, না?

তোকে নিয়ে চলে এলো।

আর আমি বোকা*দা সেখানে আঙুল চুষছি।

শালা!

পুলিশ হয়েছিস বলে কী ভেবেছিস?

তোর পিস্তল একদম পোঁ* ঢুকিয়ে দেব!

এতদিন তক্কে তক্কে ছিলাম।

বাগে পেয়েও তোকে শেষ করতে পারিনি।

তোর তো কই মাছের প্রাণ রে।

এই যে।

এই দেখ।

সঙ্গে মাল এনেছি।

তুই তো কানা*দা।

দেখবি কীভাবে?

চল।

বেডরুমে চল।

আজ তোর চোখ অপারেশন করব।

চল!

চল।

কী ব্যাপার? কোথায় ছিলেন আপনারা?

এই তো, পাশেই ছিলাম।

আপনাদের তো এখানে থাকার কথা।

ম্যাম, রুমি স্যার তো অনেক আগেই উঠে গেছেন।

উনি আসুক না না আসুক।

নিজেদের কাজটা ঠিক করে করুন।

-সরি, ম্যাম। -সরি, ম্যাম।

হুম।

সোভান ভাই।

স্যার।

সোভান ভাই।

স্যার।

এখনও পর্যন্ত মনে হচ্ছে নীলা আন্টি হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে।

পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট এলে--

স্যার।

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.